somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এপিফানি ~ কল্পগল্প!
দিনকাল ভালই যাচ্ছিল তামিমের, কিন্তু হঠাৎ করেই বাসায় উপদ্রব শুরু হয়ে গেল। ঠিক যে ভয়টাই সে করে আসছিল এতদিন।

অবশ্য এটা নতুন কিছু না, বাড়ির মানুষগুলা যেন তামিমের একটু শান্তি দেখতে পারবে না। যখনই বেশ উৎসাহ-টুৎসাহ নিয়ে কোন একটা কাজ শুরু করে সে, তখন-ই তার মা একটা না একটা ঝামেলা বের করবেই। যেমন ধরা যাক সে যখন ছোটবেলায় হঠাৎ করে "কবিতা" লেখা শুরু করল। ছন্দটন্দ মিলতো না, তবে তামিমের মতে সেগুলা বেশ উচ্চমার্গীয় ছিল - তামিমের মা তার কবিতার খাতা পাওয়া মাত্রই বিশাল হাউকাউ শুরু করে পাড়া-পড়শি জড়ো করে ফেলল বলতে গেলে। তামিমের বাবা বাসায় এসে কিছু বললেন না, তিনি এমনিতে ঠান্ডা মানুষ। তামিম জানতো পিটুনি পরবে না পিঠে, তবে এমন এক কাজ করবেন তার আব্বাজান যে কবিতা লেখা সারা জীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

পরের দিন তাই হল, তামিমের আব্বাজান তামিমকে শাহবাগের কোন একজায়গায় নিয়ে চলে গেলেন। বিচিত্র ধরণের কয়েকজনের সামনে তামিমকে নিয়ে গিয়ে তাকে বলা হল - তুমি কবিতা লিখতে চাইলে এদের সাথে দিনে কিছুক্ষণ করে থাকতে হবে।

তামিম ঢোক গিলে বলল - এনাদের সাথে কেন?

- কারণ এরা কবি। কবিতা লিখতে হলে এদের কাছ থেকে তোমার ইন্সপায়ারেশন নেওয়া দরকার...।

তারা আসলেই কবি ছিল কিনা জানা যায়নি, তবে তামিমের কবি হওয়ার স্বপ্ন সেদিনই চিরতরে বিদায় নিয়েছে। আজকাল তামিম ভাবে কবি হয়ে গেলে মন্দ হত না। তাইলে তার বিয়ে নিয়ে যে টেনশনে তার দাড়ি লাল হয়ে যেতে শুরু করেছে - এই ঝামেলা টা আর হত না।

ছেলে কি করে? শোনার পর নিবিড় খুব গম্ভীর হয়ে বলল, "চ্যাট করে। সারাদিন কম্পিউটার নিয়ে বসে থেকে কি যে মজা পায়...... টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার তো, তাই সারাদিন চ্যাট মানে কমিউনিকেশনের ওপরে থাকে। হা হা হা"

নিবিড়ের মতে সে প্রায়ই উচ্চমাত্রার প্র্যাক্টিকাল জোক্স করে থাকে, তবে অধিকাংশ সময় এই দেখা যায় মানুষ জন জোকস শোনার পর আমোদিত না হয়ে হাসার জায়গা খুজে না পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। তামিম তাড়াতাড়ি করে বলল, ইয়ে মানে ওসব কিছু না, কাজের জন্য কম্পিউটারে বসতে হয় আরকি... বলে নিবিড় এর দিকে করুণ চোখে তাকালো।

নিবিড় সিগারেট টানতে নিচে নামার পর তামিম বিড়বিড় করে বললো - আরেকটু হলে তো বারোটা বাজতে নিসিলো, মেয়ের বাপ তোর কথা শুনে কেমন জানি আনইউজুয়াল বিহেইভ করতেসে।

নিবিড় একটা কঠিন টান দিল। তামিম বিরক্ত হয়ে ও'র দিকে তাকালে কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গি করে বললো, মাথা কাজ করতেসে না দোস্ত। তুই বিয়াশাদীর নাম শুনলেই দৌড় দেস, এইবার যে এত লাফালাফি করতেছস, কারণ কি? মেয়ে ফাটাফাটি সুন্দরী নাকি... মাম্মা?

তামিম গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বললো, সুন্দরী হতে পারে। আমি এখনো ভালো মত দেখি নাই।

নিবিড় এই কথা শুনে হা করে তাকিয়ে থাকলো, তামিম নিবিড়ের দৃষ্টি পুরোপুরি উপেক্ষা করে বললো, আরে চেহারা যাই হোক - আসল ব্যাপার হল মেয়ে পুরা প্রফেশনাল আর ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড। সারাদিন জবের ওপ্রে থাকে মনে হয়। আমার বেশি সময় দিতে হবে না।

নিবিড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, কেন যে আঙ্কেল তোরে ছোটবেলায় সাইজের ওপর রাখত টা দিছিল...। না হলে এখন একটু রস টস থাকতো তোর মাঝে...

তামিম চোখ টিপে বলল, আমার রস লাগবে না, তোর আছে না? যা বউ দেখে আয়, তুই ওকে বললে পরে আমি দেখতে যামু। নিবিড় খুশি হয়ে গেল মনে হয়, বোতাম টোতাম ঠিক ঠাক করে বেশ গম্ভীর চেহারা নিয়ে ওপরে চলে গেল। তামিম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তার সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধু - যে তাকে আঠারো বছর ধরে দেখছে - যে ভাবে সে তামিমকে যেভাবে চেনে, যেভাবে বুঝে আর কেউ সেভাবে চেনে না ... আসলেই কি সে চিনেছে তামিম কে? উত্তর টা হ্যা হলে তামিম স্বস্তি পেত হয়তো, যে অন্ততঃ একজনকে সে মনের কথাগুলো কোনরকম দ্বিধা না করেই বলে ফেলতে পারে। কিন্তু উত্তর টা হল - না। যেই বেস্ট ফ্রেন্ডের কাছেই সে আজ পর্যন্ত নিজেকে চেনাতে পারেনি - যেই বেস্ট ফ্রেন্ডকে সে নিজের আগ্রহ যে গুলো হাস্যকর নয় সেটি বোঝাবার সাহস পায়নি - চেনা নেই জানা নেই একটা মেয়ের সাথে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে গিয়ে সেই তামিম কি নিজেকে পদে পদে হাস্যকর প্রমাণ করবে না?

একটা উপায় হল তার নিজের মত সঙ্গী খুজে নেওয়া। যে সারাদিন নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকবে - নিজেও বোর ফিল করবে না তামিম কেও জালাবে না! এই সব ভয়ের কারণ হল - তামিম একটু অন্যরকম ছেলে, তার বেশি বন্ধু নেই, বাইরের দেশে থাকলে সে নার্ড বা গীক উপাধি পেয়ে যেত কিন্তু এই কপাল পোড়া দেশে সে বুক ফুলিয়ে বলা তো দূরে থাক, কান্নাকাটি করে বাপ-মা কে বুঝাতেই ব্যর্থ হয়েছে যে তার নিজের আগ্রহেরও মূল্য থাকতে পারে। আর দশটা ভাল রেজাল্ট করা ছেলেমেয়ের মত ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়ে সে কম্পিউটার নিয়ে পরবে - শোনার সাথে সাথেই তার তামিমের মা ভিমড়ি খেলেন। তামিম আগে থেকেই আন্দাজ করে ডাক্তারি পড়া নিবিড়কে এনে রেখেছিল - সে সন্দেহ করেছিল একটা ছোটখাট স্ট্রোক-টিস্ট্রোক হয়ে যাবে। বাবাকে বলার কোন মানেই হয়না! তার চেয়ে তামিম এক অদ্ভূত প্ল্যান করে ফেললো, পরিচিত ওয়ার্ল্ড-টাকে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে নিজের একটা জগৎ বানিয়ে নিলে কেমন হয়! মা যখন দেখছে সে পড়াশোনা করছে, সে তখন ইন্টারনেট ঘেটে ঘেটে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখছে। বাবা'র কাছে থেকে ভার্সিটি যাওয়ার ভাড়া দ্বিগুণ নিয়ে কম্পিউটারের বই-পত্র কিনে সিডির স্তূপ এর পেছনে লুকিয়ে রেখেছে। বন্ধুবান্ধব বেশি নেই তার, অবসর সময়ের ও অভাব তাই নেই, নিবিড় যখন অবাক হল সে দিনরাত চ্যাট করে যাচ্ছে কম্পিউটারে- সে চোখ টিপে বললো বিয়ে করুম তো দোস্ত, মেয়েদের সাথে "সোশ্যালাইজ" হওয়ার চেষ্টা করছি!

নিবিড়-ও বোকা হয়ে গেল। আসলে তামিম বানিয়ে ফেলেছে মজার একটা বস্তু। আসলে এটা একটা সফটওয়ার - দেখতে পরচিত ইন্টারনেট-চ্যাট (নির্ঘন্ট দ্রষ্টব্য) করার সফটওয়ার গুলোর মতই, তবে পার্থক্য হল এটা আসলে কৃত্রিম, অবাস্তব এক চরিত্রের সাথে কথা বলার সফটওয়ার। যেই চরিত্রটি, কথপোকথনকারীর সাথে গল্প করতে করতে কথপোকথনকারীর মতই একটি অস্তিত্ব নিজের ভেতর তৈরি করে নেয়। শখের বশে তামিম যেই কাজ করা শুরু করেছিল, সেটা যে আসলেই সম্ভব হবে এটা সে ভাবতে পারে নি! তামিম এখন দিন-রাত এই ভার্চুয়াল ক্যারেক্টার-টির সাথে গল্প করতে করতে ক্যারেক্টার-টিকে "ট্রেইন" করছে। তামিমের সফটওয়ার এর এই ভার্চুয়াল ক্যারেকটার টি যত বেশি তামিমের সাথে কথা বলবে, সে নিজেকে তত বেশি তামিমের মত তৈরি করে ফেলছে - সফটওয়ার টি এখন জানে তামিম কি পছন্দ করে, কি পছন্দ করে না, কোন পরিস্থিতিতে তামিম কি আচরণ করবে বা কি বলবে - সব! বাইরে থেকে দেখলে যে কেউ মনে করবে তামিম ইন্টারনেটে কারো সাথে চ্যাট করছে - কিন্তু আসলে তামিম সবাইকে বোকা বানিয়ে সফটওয়ারটির ভেতর নিজের আরেকটি সত্ত্বা তৈরি করে ফেলছে! অন্য কেউ যদি এখন এই সফটওয়ার টির কৃত্রিম চরিত্রটির সাথে চ্যাট করে, সে মনে করবে সে তামিমের সাথেই চ্যাট করছে - ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করবে না তামিম নামধারী এই কথপোকথনকারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আড়ালে কোন কম্পিউটার প্রোগ্রাম!



তামিম ওপরে (তার হবু শ্বশুরবাড়ি) গিয়ে দেখলো এখনি উৎসব উৎসব একটা ভাব শুরু হয়ে গিয়েছে, আড়ালে নিবিড় কে টেনে নিয়ে গেলে নিবিড় দাত বের করে বললো, বউ এর নাকি তোরে "ব্যাপক" পছন্দ হইসে!

তামিম বললো, বউ মানে কি? এখনো তো বউ হয় নাই। আর ভালো কথা, "বউ" আমারে দেখে-ই নাই, মিথ্যা বললি কেন?

নিবিড় হাই তুলে বললো, পছন্দ করে নাই মানে, মনে তো হয় তোর প্রেমে পইড়া গেছে। কারণ সেই এই বাড়িতে একমাত্র মানুষ, যে বুঝতে পারসে জামাই আমি না, তুই। বলেই নিবিড় মন খারাপ করে ফেললো। বেচারা আসলেই বেশি ফিটফাট, জোড় করে চুল আচড়ে না দিলে উশকো চুলের তামিমকে এই বাড়িতে ঢুকতে দিতো কিনা সন্দেহ আছে।

নিবিড় এর কথা শুনে তামিম দাত বের করে বললো, "বুঝিস না, ক্যারিয়ার-ওরিয়েন্টেড মেয়ে তো, কম্পিউটার প্রোগ্রামারের চেহারা কেমন হয় বুঝে ফেলসে!"

নিবিড় বললো, কম্পিউটার প্রোগ্রামার মানে? "মানে ওইতো পিসি'র সামনে বসে থাকি না, নিজেরে প্রোগ্রামার মনে হয়।" বলে তাড়াতাড়ি চলে গেল তামিম। তামিমের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নিবিড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ডটার সাথে কি জেনে শুনে এত বড় বেঈমানী করা ঠিক হচ্ছে?

হবু স্ত্রী'র সাথে তামিমের কথোপকথন খুব একটা বেশি হল না। দেখা গেল মেয়েটা যা-ই বলে তামিমের উত্তর সবসময় দু-তিনটে শব্দেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তামিম অবশ্য মোটামোটি একটা প্ল্যান করে এসেছিল কিভাবে, কি নিয়ে কথা বলবে এসবের, কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন ও'র মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছেনা। তামিম অবশ্য এটা নিয়ে খুব একটা বিব্রত-ও নয়। সে মোটামোটি তার হবু স্ত্রী'র যেরকম একটা ছবি কল্পনা করে এসেছিল তা হল - বেশ রাগী রাগী একটা মুখ হবে, অতিরিক্ত রকমের ফর্সা প্রায় রক্তশূণ্যতায় ভোগা রোগীর মত মুখ, সেখানে একটা হালকা সোণালী ফ্রেমের চশমা মুখটাকে আরো থমথমে করে দেবে। দেখাগেল তামিমের কল্পনার সাথে কোন মিল-ই নেই মেয়েটার - একদম ছিপছিপে, বাড়াবাড়ি রকমের স্লিম তবে খারাপ লাগছে না একদমই, মুখটা কঠিন না - সবসময়ই ঠোট চাপা দিয়ে রেখেছে যেন মাত্র হেসে ফেলবে। কালো হালফ্যাশনের চশমা, তবে সেটা চেহারায় বাড়তি সৌন্দর্য দিয়েছে। তামিম আপাতত চুলের দিকে হালকা হা করে তাকিয়ে আছে। যেই জায়গাটায় তার কল্পনার সাথে বাস্তবে অনেক বেশি অমিল - কোনমতে বাধা অযত্নে বড় হয়ে যাওয়া রুক্ষ কতগুলো চুলের বদলে পিঠ পর্যন্ত নেমে আসা কালো চুলের দিকে তাকিয়ে তামিম বোকা হয়ে গেল যেন।

- আপনি তো ইঞ্জিনিয়ার, তাই না?
= হু
- আপনি ক্রিকেট খেলেন?
= না
- ও। আপনাকে দেখে অবশ্য মনেও হয়না। একটু বোকা বোকা লাগে, হি হি
= ও
- আপনি অনেক বেশি পড়াশোনা করেন, তাই না?
= উমম...
- আমিও করি! আমার একমাত্র হবি হল বই পড়া। আমি অনেক ইংরেজী নভেল পড়ি জানেন। আপনার প্রিয় লেখক কে?
= আম...... কি?
- লেখক... প্রিয় লেখক বা লেখিকা
= (খানিকক্ষণ মাথা চুলকে) ইয়ে জানি না তো, মানে বই এর রাইটারের নাম তো কখনো দেখি না... বলে তামিম নিজেই বোকা হয়ে গেল। নিজেকে পুরোপুরি বেকুব মনে হচ্ছে এখন তার।
- বাহ, আপনি বেশ মজার তো! আম... চলুন একদিন বাইরে ঘুরে আসি আমরা।
তামিমের হাতের গ্লাসে পানি ছিল, গলাতেও বোধহয় ছিল কারণ সে বিষম খেয়ে গ্লাস থেকে পানি ফেলে দিল। এবার আসলেই নিজেকে গর্ধভ মনে হচ্ছে তার - সে চলে যাওয়ার পর কিরকম একটা হাসির পাত্র হবে এটা ভেবেই তার গলা শুকিয়ে আসছে। কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, মানে......, ডেইট?
এই প্রথম মনে হল মেয়েটা একটু চিন্তা করছে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো - মানে আমি ভাবছিলাম আরো কিছুক্ষণ কথা বললে মনে হয় আমাদের নিজেদেরই ভাল লাগত। এখানে তো আর ফ্রি হয়ে কথা বলা যায় না, তাই না?
= হ্যা
- তাহলে চলো কালকে বের হই, সারাদিন ঘুরবো আমরা, তুমি সারাদিন আমার চুল নিয়ে গবেষণা করার সময় পাবে।
= ওকে
- আমিও কিন্তু তোমাকে নিয়ে গবেষণা করবো!
= আচ্ছা
- আর ভাল কথা, তুমি ওইদিন কোন কাজ রাখবে না, জব ও না। জব টব আমার একেবারেই ভাল লাগে না, আমি কোনদিন জবে ঢুকব না।
= ব্যাপার না



তামিমের অন্ধকার রুম, হালকা আলো যা আসছে মনিটর থেকে। ব্রাইটনেস কমিয়ে দেওয়ায় সেই আলোটাও তীব্র হতে পারে নি। তামিমের পেছনে দাড়িয়ে আলতো করে কাধে হাত রাখল জেবিন। অন্য যেকোন সময় হলে তামিম চমকে গিয়ে লাফ দিয়ে উঠতো সন্দেহ নেই, কিন্তু জেবিনের এরকম ছোয়ার সাথে তামিম অভ্যস্ত হয়ে গেছে এখন।

"আবার চ্যাট?" জেবিন বেশ নরম গলায় বলল।
হ্যা... এইতো একটু! প্রায় শেষ... এখন সিমুলেট করে দেখছি আসলেই আমার ক্যারেক্টারিস্টিকস এর সাথে কতখানি ম্যাচ করে।
কি বললে? জেবিনকে বেশ বিভ্রান্ত দেখাল। কিছু না, কিছু না! কিন্তু যাই হোক হানি, আজকে আমার মন খুব ভাল জান! এক কাজ করি চল, আজকে আমরা বাইরে ডিনার করি! তুমি ঝটপট রেডি হয়ে নাও তো।

জেবিন চলে গেলে তামিম আবার ঝুকে পড়ল মনিটরের দিকে। প্রায় ৭০% ঠিক ম্যাচ পাওয়া যাচ্ছে - তামিমের তৈরি করা সফটওয়ারের ভেতরে পরাবাস্তব জগতে গড়ে উঠেছে আরো একটি তামিম। যে তামিম রক্ত মাংসে গড়া না, এলুমিনিয়ামের চাকতির ওপর ম্যাগনেটিক ফিল্ডে আটকে পরা একটা প্রোগ্রাম, যে চিন্তা করে তামিমের মতই, কথা বলে তামিমের মতই।

সোজা কথায়, তামিমের চারিত্রিক গুণাবলী প্রোগ্রামটা ধরে ফেলেছে। কোন পরিস্থিতিতে তামিম কি বলবে, এটার মোটামোটি নির্ভুল একটা প্রেডিকশান প্রোগ্রাম টা করতে পারে। তামিমের বেশ খুশি হওয়ার কথা। তার এতদিনের সাধনা - পুরোপুরি নিজের প্রচেষ্টায় সে যে এতদূর এসেছে, এটা কাউকে জানাতে পারছে না সে। এটা তেমন বড় কোন ব্যাপার না, সে চিন্তিত জেবিন কে নিয়ে। চঞ্চল, প্রাণবন্ত একটা মানুষকে সে কি অদৃশ্য খাচায় বন্দী করে রেখেছে? যত দিন যাচ্ছে, সে তত বিষণ্ণ হয়ে যাচ্ছে - সারাদিন তামিম ব্যস্ত থাকে বিরক্তিকর অফিসের কাজে, রাতে বাসায় ফিরে সে তার প্যাশন - প্রোগ্রামিং নিয়ে বসে। জেবিনের সাথে মাঝে যতবার দেখা হয়, কথা হয় ছাড়া ছাড়া।

অথচ আগে এমন টা হত না। জেবিন খুবই উৎফুল্ল ছিল। তামিম অফিসে থাকতে ফোনের পর ফোন করত। বাসায় ফিরে গেলেই ঝাপিয়ে পড়ত তামিমের ওপর। সবকিছুই সুন্দর ছিল... কিন্তু এখন সবকিছুর ওপর-ই ধুলো জমে গেছে। ফু দিলে ধুলো সরে গিয়ে হয়ত অল্প কিছুক্ষণ সুন্দর দেখায়, এরপর আবার সেই মলিন।
আবার ধুলো জমে। এক্সপোটেনশিয়ালি বাড়তে থাকে সে ধুলোর আস্তর।

তামিম বাসায় ফিরে গিয়ে পা টিপে টিপে জেবিনের পেছনে গিয়ে দাড়াল। চমকে দেওয়ার জন্য সে জেবিনের চোখ ঢাকতে হাত তুলতেই জেবিন ঘুরে তাকাল।
তামিম শিউরে উঠল - এই চোখের মেয়েকে সে বউ করে আনে নি।
ইয়ে... তোমাকে সারপ্রাইজ দেবো ভাবছিলাম! একটু অস্বস্তি নিয়ে বলল তামিম। জেবিন তাকাল তামিমের দিকে, কিছু বলল না।
তামিম দাড়িয়ে রইল, জেবিন কি সারপ্রাইজের জন্য অপেক্ষা করছে? কি সারপ্রাইজ দেবে সে? আগে হয়তো এই দুটো কথাতেই ভয়ানক খুশি হত জেবিন। লাফিয়ে উঠতো আনন্দে।

এখন কোনকিছুতেই সে অবাক হয়না।

ইয়ে, জেবিন... ভাবছিলাম তোমাকে আমি আমার সফটওয়ার টা দেখাব... মানে আমি সারারাত চ্যাট করি যেটায়, ওই চ্যাটিং সফটওয়ার টা। মনে হয় তোমার ভাল লাগবে।
জেবিন একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলল। তামিম, আমার চ্যাট এইসব ভাল লাগে না। তুমি জান, কম্পিউটার এইসব থেকে আমি দূরে থাকি।
তামিম বলল, সোনামনি, প্লিজ আমার কথা শুন। একবার দেখ, ভাল না লাগলে বাদ, ওকে?

রাতে জেবিন ঘুমিয়ে পড়ার পর তামিম খুব সন্তর্পনে ল্যাপটপ টা নিয়ে বসল। সে ভেবেছিল কাজ প্রায় শেষ, কিন্তু কাজ কেবল-ই শুরু।



সকাল সাড়ে এগারটা প্রায়। তামিমের বস মাত্র তামিমের রুম পেরিয়ে কফির জন্য চলে গেলেন। তামিমের বসের যদি মানুষের মন পড়ার ক্ষমতা থাকত তিনি জানতে পারতেন ঠিক এই মুহূর্তটার জন্যই তামিম দেড়ঘন্টা ধরে বসে আছে।

হ্যালো।

- হানি, কি করছ?

তেমন কিছু না। কি করা যায় তাই ভাবছি......

- তোমাকে কি বলেছিলাম ভুলে গেছ? আমার রুমে গিয়ে কম্পিউটারের সামনে বস। আমি চ্যাটে বসে আছি, তোমার সাথে চুটিয়ে আড্ডা দেব, বস নেই এখন!

শোন...... তুমি তো জান চ্যাট করতে ভাল লাগে না আমার......

- আরে একবার বসেই দেখ না! বিশ্বাস কর তোমার ভাল লাগবে, প্রমিস......

ফোন রেখে দিয়ে সোজা হয়ে বসল তামিম। বস রুমে ঢোকার আগে ইশারা দিয়ে তামিমকে রুমে ঢোকার জন্য ইঙ্গিত দিলেন।

- তামিম, ডকুমেন্টেশন রেডি হয়েছে?

= এইতো বস, এক ঘন্টার মধ্যেই হয়ে যাবে।

বস আড়চোখে তামিমের দিকে তাকিয়ে বললেন, প্রায়োরিটি ইমারজেন্সি তুমি তো জানই... একঘন্টার মধ্যে কাজ জমা না দিতে পারলে বড় রকম সমস্যায় পড়ে যাবে।

একঘন্টা পরে বস তামিমের রুমে ঢুকে দেখলেন, সে মনযোগ দিয়ে মনিটরের দিকে ঝুকে আছে।

"তামিম?" প্রথমবার ডাকার সময় শুনলই না তামিম। দ্বিতীয় বার বস একটু গলা চড়িয়ে ডাকার পর সম্বিত ফিরে পেল সে।

কাজের অবস্থা কি? বলেই বস সন্দেহের দিকে মনিটরের দিকে তাকালেন।

"কাজ? ও কাজ। কোন কাজ?" যেন আপন মনেই বললো তামিম। এরপর হঠাৎ করেই বলল, "ও আচ্ছা, কাজ!" দাত বের করে ফাইল টা এগিয়ে দিল বসের দিকে।

বস চলে যাওয়ার পর তামিম আবার মনিটরের দিকে ঝুকে পড়ল। নিবিষ্ট মনে লগ রিপোর্ট দেখছে সে। ভ্রু কুচকে রেখেছে সে।

তার স্ক্রিণে কোন চ্যাট-সফটওয়ার খোলা ছিল না।

ফোনের শব্দ আবার তার কাজের ব্যাঘাৎ ঘটাল।

সেলফোনের স্ক্রিণ জুড়ে জেবিনের উচ্ছ্বল ছবি। তামিমের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। কতদিন সে এ হাসি দেখেনি?

ফোন রিসিভ করে ভয়ে ভয়ে তামিম বলল, হ্যালো?



বসুন্ধরা সিটি নামের শপিং কম্পলেক্সের লেভেল ৮ এর খোলা জায়গাটায় নিবিড় দাড়িয়ে সিগারেট টানছিল। তার সামনে কফি হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে তামিম। আশেপাশে তামিম ছাড়া সবাই ধূমপায়ী হলেও তামিমের কোন আপত্তি করেনা এই জায়গাটার ব্যাপারে। খোলা অংশ থেকে শহরের ভিউটা খুবই সুন্দর।

নিবিড় বলল, আর কি আমারে জানাইতে চাস তুই? তুই প্রোগ্রামার (তামিমের কাছ থেকে এ কথা শোনার পর নিবিড়ের মাঝে তেমন কোন ভাবান্তর দেখা যায়নি) মানুষ বুঝলাম, কিন্তু সেইটা বলার জন্য এমনে ডাইকা আনতে হবে? তুই যেমন কইলি ইমারজেন্সি, আমিতো কি না কি হইসে ভাইবা টেনশন করা শুরু করসি। বলেই আধাজ্বলা সিগারেটটা নিভিয়ে রাস্তার দিকে ছুড়ে ফেলল আটতলা থেকে।

দোস্ত, আমি একটা সফটয়ার বানিয়েছি (এখনো নিবিড়ের কোন ভাবান্তর হল না) ......... এটা মানুষের সাথে চ্যাট করতে করতে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নিতে থাকে।

- "তো?" নিবিড়কে বেশ অধৈর্য মনে হল। তামিম বলল, আমি এই সফটওয়ার টার সাথে চ্যাট করেছি অনেক দিন, ফলে সে আমার ব্যক্তিত্বের একটা কপি নিজের মধ্যে তৈরি করে ফেলেছে। আমার মনমানসিকতা, চিন্তা ভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ এসব অবস্থা থেকে নিজেকে ট্রেইন করেছে সফটওয়ার টা। কোন পরিস্থিতিতে আমি কি বলব - এটা প্রোগ্রাম টা ধরে ফেলতে পারে।

নিবিড় তাকিয়েই থাকল। এবার তামিম তামিম অধৈর্য হয়ে বলল, তুই বুঝতে পারছিস না? এখন কেউ যদি এই সফটয়ারের সাথে কমিউনিকেইট করে, মানে চ্যাট করে, সে ধরে নেবে আমার সাথে চ্যাট করছে। কোন একটা পরিস্থিতিতে আমি যা বলব এই সফটওয়ার টাও একই কথা বলবে।

"হুম, ইন্টারেস্টিং।" বলল নিবিড়। তামিম বলে চলল, আমাকে খুশি করার জন্য ইন্টারেস্টিং বলা লাগবে না। আসল কথা হল -

"আবে, তোরে খুশি করার জন্য বলসি মানে?" নিবিড় লাফিয়ে উঠল। "আসলেই ইন্টারেস্টিং, তুই নিজে কোডার দেইখা ভাবস আমি মগা? এরকম সফটয়ার তৈরি করা প্রফেশনাল লেভেলের কাম, অন্ততঃ এইটুক আইডিয়া আছে।" আহত দেখাল নিবিড় কে।

"শোন - " বাধা দিল তামিম। "আসল ঘটনা অন্যখানে। " ইতস্ততঃ করল তামিম। " - যে সিক্রেট বলার জন্য তোকে ডেকে এনেছি, সেটা এইটা না।"

"এইটা না মানে, আরো সিক্রেট আছে?" নিবিড়ের চোখ কপালে। " হ্যা।" কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তামিম বলল, "তোর ভাবির সাথে আমার...... ......... ইন্টিমিসি কমে যাচ্ছে।"

নিবিড় হা করে তাকিয়ে থাকল। "দিন দিন আমার মনে হচ্ছে - আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।"

নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে থাকল তামিম। সিগারেটের খালি প্যাকেটে সে সিগারেট খুজে যাচ্ছে, প্যাকেট খালি সেটা জানার পরও। তামিম শিউরে উঠল একটু, নিবিড়ের এটা "এক্সট্রিম-টেন্সড সিন্ড্রোম"।

তামিম বলল - "একটা উপায় আছে। আমি ভেবে দেখেছি, সমস্যা আমাদের কমিউনেকেশনে। আমি ওকে কত ভালবাসি, সেটা তুই জানস। তোর ভাবিও কম ভালবাসে না আমাকে। কিন্তু আমি যে কতটা পাগল ওর জন্য, সেটা ওর কাছে এক্সপ্রেস করতে পারি না। কারণ ......... কারণ ......... যে কারণেই হোক আমি কথা চালাতে পারি না...... ওর সাথে কথপোকথনের সবটাই জুড়ে থাকে ওর কথা...... আমি তেমন কিছুই বলি না... যেকারণে.........।" থামল তামিম। চোখ গুলো নিচে নামিয়ে রেখেছে সে।

"... যেকারণে কিছুই জানিনা আমি ও'র সম্পর্কে।"

নিবিড় তাকিয়ে থাকল তামিমের দিকে। তামিম চোখ তুলে অন্যমনস্ক ভাবে বলল, "আমার ওকে আরো চেনা দরকার। কিন্তু কি করব, কথাই তো বলতে পারিনা ও'র সাথে। ও আর আমি পুরাপুরি অন্যরকম......... সবসমইয় ভাবতাম যদি আমার হয়ে কেউ জেনে নিত ও'র সম্পর্কে! যদি জানতে পারতাম - আমার জেবিন কেমন!" খুব আসতে আসতে বলল তামিম।

নিবিড় বলল, "কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব? তোকেই জানতে হবে তোর বউ কিরকম। তোর কমিউনিকেট করতে হবে ওর সাথে। তোর সাথে ও যা শেয়ার করে, অন্য কার কাছে তা শেয়ার করবে?"

- "করবে, যদি লোকটা তামিম-ই হয়। যে কিনা মুখ ফুটে সারাদিন কথা বলবে আমার জেবিনের সাথে।"

= "সেটাই তো বলছি...... তোর স্ত্রী'র সাথে তোকেই কথা বলতে হবে -"

- "কিন্তু আমি তো পারি না কথা বলতে - কোনদিন ই পারি নি। বলতে হবে অন্য কাউকে। অন্য তামিম - যার কথা বলায় কোন সমস্যা নেই - কোন জড়তা নেই - যে তামিম আমার হয়ে জানবে জেবিনের সম্পর্কে। জেবিনও নিজেকে খুলে দেবে ও'র কাছে - কারণ সে ভাববে সেই তামিম..."

নিবিড় চট করে ঘুরে দাড়িয়ে বলল, "তোর চ্যাট সফটওয়ার - তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে ......"

তামিম ঠান্ডা গলায় বলল, "আমার সফটওয়ারের প্রথম ফেইজ ছিল কথপোকথনকারীর বৈশিষ্ট্য এনালাইসিস করা । সেটার রেজাল্ট ছিল পজেটিভ। সেকেন্ড ফেইজ - যার চরিত্র এনালাইসিস করে এসেছে এতদিন তার অনুকরণে অন্য কারো সাথে কনভারসেশন চালিয়ে যাওয়া। সফটওয়ার টা এতদিন আমাকে দেখে দেখে শিখেছে আমি কি রকম মানুষ। এখন সে আমার হয়ে কথা বলবে জেবিনের সাথে। খুব ছোট্ট একটা পরিবর্তন যোগ করতে হয়েছে আমায়। সেটা হচ্ছে আলাপচারিতা মুছে যাবে না - যেটা দেখে অনায়াসেই আমি জেবিন সম্পর্কে জানতে পারব সবকিছু।"

নিবিড় বলল, "সেকেন্ড ফেইজ কবে শুরু হয়েছে?" তামিম বলল, "আজকেই। আমি তো ভয় পাচ্ছিলাম কি না কি হবে - কিন্তু তোর ভাবী ধরতেই পারে নি কিছু। অনেক অবাক হয়েছে, আমাকে এভাবে কথা বলতে দেখে - ভেবেছে আসলেই আমি কথা বলছি ওর সাথে চ্যাটে। অনেক খুশি হয়েছে জানিস। - ফোন করে সে কি কান্না!"

নিবিড় কিছু বলল না, মনে হচ্ছিল সে বলার মত কিছু পাচ্ছে না। তামিম বলল, "সন্ধ্যা হয়ে গেছে, বাসায় চল। আজকাল দেখি পাচটার দিকেই সূর্য ডুবে যায়।"



ধানমন্ডির একটা পেস্ট্রিশপের সামনে সিএনজি থামাল তামিম। ফুলের তোরাটা গাড়ির ভেতরেই রেখে নেমে পরছিল সে, শেষ মুহুর্তে আবার গাড়িতে ঢুকে নিয়ে তোরাটা হাতে নিয়েই পেস্ট্রিশপে ঢুকে পড়ল। জেবিনকে নিয়ে আগে একবার এখানে এসেছিল তামিম - প্রায় এগার মাস আগে।

বাসায় পৌছে কলবেল চেপে শার্ট ঠিক করছিল তামিম। গেট খুলে জেবিন দাড়াতেই তামিম হালকা হা হয়ে গেল। এত সুন্দর লাগছে জেবিনকে!

এক বছর আগে তাদের বিয়ের দিনে জেবিনকে চেনা যাচ্চিল না - মেক-আপে মনে হচ্ছিল পুতুল একটা। আজকে জেবিন সেদিনের মত সাজে নি, কিন্তু তামিমের মনে হল এত সুন্দর জেবিনকে আগে কখনও মনে হয়নি।

"হ্যাপি এনিভার্সরি!" বউ এর দিকে কেক এর প্যাকেট টা বাড়িয়ে দিল তামিম।

"শুধুই এটা?" জেবিন ঠোট দিয়ে হাসি চেপে বলল।

তামিম রহস্যের ভঙ্গি করে পেছনে রাখা হাতটা বের করে আনল। হাতে ধরা ফুলের তোরা টা। ফুলগুলো বাড়িয়ে দিয়ে জেবিনকে জড়িয়ে ধরতে গেল সে-

জেবিনের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।

"তুমি আমার কোন কথা শোন না!"

জেবিন চলে গেল ভেতরে - তোরাটা তামিমের হাতেই রয়ে গেল।

"জেবিন - দাড়াও" তামিম সহসা হতবুদ্ধি হয়ে গেল। "তুমিতো গোলাপ -ই চেয়েচিল, তাই না! তুমি সবসময় বল লাল গোলাপ, লাল গোলাপ তোমার সবচেয়ে প্রিয় - "

ভুল হতেই পারে না - কারণ তামিম আজকেই তার সফ্টওয়ার এর লগ দেখে এসেছে ফুল নিয়ে জেবিনের প্রতিটা কথা শুরু ও শেষ হয়েছে লাল গোলাপে।

বেডরুমে বসে ছিল জেবিন। তামিম হাত বাড়িয়ে দিলে সে সরিয়ে দিল।
-- তুমি আমার কোন কথা শোন না তামিম -
- কে বলেছে সোনা - আমি সব শুনি...
-- কোনদিন শোন নি তুমি - আমি এত করে বললাম কালকে সাদা গোলাপ -
- ওহ.. স্যরি সোনা - যাই হোক গোলাপ-ই তো।
-- সাদা কালো নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই - এতা শুধু কালকের কথা না তামিম - তুমি কখনই সময় দাও নি আমাকে। তোমার সব সময় তোমার স্টাডিরুম আর ঐ ল্যাপটপ।

স্তব্ধ হয়ে চুপ করে বসে রইল তামিম। পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে জেবিনের দিকে বাড়িয়ে দিল।

- "কি এটা - "
-- "পড় না, প্লিজ"

জেবিনের হাতে জোড় করে কাগজটা গুজে দিল তামিম। অন্যমনস্কভাবে কিছুক্ষণ কাগজটার দিকে তাকিয়ে রইল জেবিন --- এরপর আস্তে আস্তে বলল "এটা আমাকে নিয়ে লেখা -- তুমি ---"

আগে কবিতা লেখার চেষ্টা করতাম, আব্বুর ধমক খেয়ে আর সাহস হয়নি লেখার -- তোমাকে দেখানোর ও সাহস হয়নি।

জেবিন চুপ করে বসে রইল, তামিম বলল বিশ্বাস কর আমি লিখেছি নিজে -
জেবিন হেসে ফেলল, "ছড়াটা বাচ্চাদের মত হয়ে গেছে!" তামিমকে জড়িয়ে ধরে বলল, "আমাকে দেয়া সবচেয়ে সুন্দর ভালবাসা এটা!"

জেবিনের মাথাটা কাধের ওপর রেখে তামিম চুপচাপ বসে রইল। কম্পিউটার প্রোগ্রামটা কোন কাজেরই না, নিবিড়কে বলতে হবে কোন মক্কেল ধরে ওটা বিক্রি করে দেওয়ার জন্য।

স্বাভাবিক, অঙ্ক কষে কি আর মনের হিসাব বের করা যায়?

অন্যান্য কল্পগল্প









_____________

নির্ঘন্টঃ

সফটওয়ারঃ কম্পিউটারে যেই প্রোগ্রাম গুলো চালানো হয়।

চ্যাট (chat) - ইন্টারনেট বা কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষদের সাথে টেক্সট লিখে গল্প করার সফটওয়ার।


আগে: চতুর্মাতৃকে http://tinyurl.com/23fkdp9]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29295562 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29295562 2010-12-24 23:02:50
সামু ইমেইজ আপলোডার স্ক্রিপ্ট - প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />

সামু ইমেইজ আপ্লোডার - সামহোয়ার ইন ব্লগ এর জন্য কমেন্টে ছবি আপলোড করার একটা ব্রাউজার প্লাগইন - যা অনেকেই ব্যবহার করে আসছেন <img src=" style="border:0;" />

সম্প্রতি সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যার জন্য ইমেইজ আপ্লোডারটি কাজ করছিল না। সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যা ঠিক করে নতুন একটি ভার্সন (১.৫) রিলিজ করা হয়েছে - এখন স্ক্রিপ্ট প্লাগ-ইন টি আগের মতই ঠিক ভাবে কাজ করছে।

যারা সামু ইমেইজ আপ্লোডার ব্যবহার করছেন, তারা এই লিংকে ক্লিক করে নতুন ভার্সনে আপডেট করে নিন, অন্যথায় স্ক্রিপ্ট টি আর কাজ করবে না।

যারা সামু ইমেইজ আপ্লোডার এর নাম ই শুনেন নাই (<img src=" style="border:0;" />) তাদের আজাইরা নষ্ট করার সময় থাকলে এই পোস্টে ঢু মারতে পারেন।



[নোটিফাই করার জন্য ব্লগার মুভি পাগল - কে ধইন্যাপাতা]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29268685 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29268685 2010-11-08 13:21:40
ফাইল আপলোড শেয়ারিং আর ব্যাকাপ এর ফাটাফাটি একটা সার্ভিস - ড্রপবক্স! ফাইল আপ্লোড নিয়ে সবারই কম বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়। ব্রাউজারে ঢুকে ফাইল শেয়ারিং সাইটে যাও, ফাইল ব্রাউজ কর, ক্যাপচা ট্যাপচার ঝামেলা মিটিয়ে পরে তবে ফাইল আপ্লোড। অনেক সাইটেই আবার "ফোল্ডার" আপলোড করতে দেয়না, ফোল্ডার আপ্লোড টা আবার কি! মানে একটা ফোল্ডারে যত কিছু আছে সব ধুমায়ে আপ্লোড করা। অনেকে আবার ফাইলের সাইজের ওপর রেস্ট্রিকশন বেধে দেয়, এতো মেগাবাইট লিমিটের ওপ্রে ফাইল আপ্লোড করা যাবে না, ওমুক দিন ফাইলটা কেউ ডাউনলোড না করলে ডিলিট মারা হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

ফাইল আপ্লোড তো গেলো, এবার আসি ব্যাকাপ প্রসঙ্গে - শান্তিমত ফাইল পত্র ব্যাকাপ রাখার কয়টা সার্ভিস এর নাম জানেন? বাজি ধরি একটাও না - আর যদি থেকেও থাকে, তারা কি আপনাকে বিন্দুমাত্র জ্বালাতন না করে আপনার নির্দিষ্ট ফোল্ডার এর সব কন্টেন্ট অটোমেটিকভাবে সিংক্রোনাইজ করে? মানে আপনি যদি কোন ফাইল/ফোল্ডারে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনেন, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনলাইনে সবকিছু আপনার হার্ডিস্কের মতই হুবুহু একটা কপি করে রেখে দেবে? সেটা আপনি আবার অন্যদের সাথে শেয়ার ও করতে পারবেন! অন্যরা যদি আপ্নাকে কোন ফোল্ডার এক্সেস করার পার্মিশন দেয়, সেই ফোল্ডার টার হুবুহু একটা কপি আপ্নার কম্পিউটারে তৈরি হয়ে যাবে!

ব্রাউজারে গিয়ে ফাইল আপ্লোড এর ঝক্কি আর নাই - পিসিতে বসেই নরমালি কোন ফোল্ডারে ফাইল কপি পেস্ট করবেন, ড্রপবক্সের সার্ভারে অটো সব আপ্লোড হয়ে যাবে। আবার যাদের আপনি ওই ফোল্ডারটা শেয়ার করার অনুমতি দিয়েছেন, তাদের পিসিতেও অটো নতুন ফাইল পত্র গুলো ডাউনলোড হয়ে যাবে!

এতো জট্টিল সব সুবিধা নিয়েই এসেছে ড্রপবক্স । ইতোমধ্যে অনেকেই এটি সম্পর্কে জানেন। যারা জানেন না, তারা আজই ট্রায়াল দিন এপ্লিকেশনটা ইনস্টল করে। আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যাকাপ, ফাইল পত্র অন্যদের সাথে শেয়ারের জন্য এর বিকল্প আমি দেখি নাই। ও আচ্ছা, এটি ফ্রি অবশ্যই! আর উইন্ডোজ-লিনাক্স-ম্যাক সবকিছুতেই চলে।

স্পেস কত?

হ্যা, এই ব্যাপারে প্রথম আমরা একটু রেস্ট্রিকশনের গন্ধ পাচ্ছি। সাইনাপ করলে আপনি পাবেন মাত্র ২ জিবি স্পেস। তবে সেটা বাড়িয়ে 16 জিবি পর্যন্ত করে নেয়া যায়, একটু খাটাখাটনি করতে হবে। সেটা হল - অন্যদের ড্রপবক্স সম্পর্কে জানানো। এতো কিছু ফ্রি আর আরামে পাওয়ার পর এই সামান্য কষ্ট করতে নিশ্চয়ই কারো আপত্তি নেই- এক্সট্রা 14 জিবি স্পেস পেতে! যেই কাজটাই আমি করছি এই পোস্টে <img src=" style="border:0;" /> আমার পোস্টে দেয়া লিংক টা ব্যবহার করে আপনি ড্রপবক্সের জগতে প্রবেশ করলে আমি পাব এক্সট্রা ২৫০ মেগাবাইট স্পেস। এভাবে যত জন আমার লিংক ব্যবহার করে সাইনাপ করবেন প্রত্যেকের জন্যই আমি সেইম এমাউন্টে "বখছিছ" পাব ড্রপবক্সের কাছে থেকে। আর আপ্নারা কি পাবেন? কচু! :-*

নাহ ড্রপবক্স জানে কিছু না দিলে পাব্লিক কিন্তু কিন্তু করে সবসময়, তাই আমার রেফারেল লিংক ব্যবহার করে ড্রপবক্সে সাইনাপ করলে আপনিও পাবেন অতিরিক্ত ২৫০ মেগাবাইট স্পেস! ড্রপবক্স রক্স! <img src=" style="border:0;" />

একবার সাইনাপ করা হলে আপনিও একটি রেফারেল লিংক পাবেন - যেটি অন্যদের দিয়ে আপনিও ড্রপবক্সের কাছ থেকে এক্সট্রা স্পেস বাগিয়ে নিতে পারবেন।

তো আজই শুরু হোক ড্রপবক্সের দুনিয়ায় পদার্পন!

রেফারেল লিংক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29248553 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29248553 2010-10-02 17:15:20
এইডা কি দেখলাম? বাংলাদেশেই নির্মিত সম্পূর্ণ ওয়েস্টার্ন ঘরানার ছবি - "কে আমি" " style="border:0;" /> ) "কে আমি" এইসবের খবর পাই কই থেইকা? খবর আসে হলের মুভিভাণ্ডার থেইকা - ফ্রেন্ডরা মাঝে মাঝেই হামলা চালায়ে এইসব নির্মল বিনোদন মার্কা ছবিগুলার খবর বাইর করে।

ঢাকাইয়া ছবি তো আলোকবর্ষ দূরে, থার্ড পার্সন সিংগুলারের মত অভিজাত বা আধুনিক বাংলা ছবি থেকেও আমি শতহস্ত দূরে থাকি, বাংলা-সিনেমা বিদ্বেষ টাইপ কিছু ভাবার দরকার নাই। আমার থ্রিলার বা পিওর কমেডি না পাইলে ভালা লাগে না, বাংলা সিনেমায় দুইটার একটাও নাই তাই দেখি না। বাংলা নাটকে বরং মাঝেমাঝে পিওর কমেডি পাওয়া যায় ক্লুজাপ ইস্মাইল হলে বইসাই ঐদিন দেখলাম সিটিবাস-২ নামের নাটক, হাসতে হাসতে শেষ। সিটিবাস ১ অনেক খুজলাম পাইলাম না ল্যানে <img src=" style="border:0;" />

আচ্ছা অনেক গেজানো হল, এবার আসুন পড়ি কে-আমি রিভিউ! ;-)

অভিনয়ে: ইলিয়াস কাঞ্চন <img src=" style="border:0;" />
বাকিগুলার নাম জানিনা <img src=" style="border:0;" />

প্রথমেই বলে দেই, বাংলায় দেখা এইটাই আমার একমাত্র ওয়েস্টার্ন ছবি!! হাইসেন না, হাচা কইতাছি। ছবির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে নির্মল বিনোদন। তবে শর্ত হল - একা দেখলে মজা পাবেন না, পরিস্থিতি বুঝে পুলাপান নিয়া দেখলেই এই সিনেমার মজা নিতে পারবেন। উচ্চমার্গীয় ছবি তো, সব পরিস্থিতিতে এই ছবি ভাল লাগবে না।

সিনেমার শুরুতে দেখা গেল ওয়েস্টার্ন আমেজে ওয়েস্টার্ন ড্রেসাপে দুই তিনজন আলাপ করছে। সবার নামের আগে "মি:" লাগানো, মিস্টার ইমরান, মিস্টার গেলমান এরকম। ডায়ালগ তো চরম। এরপর দেখা গেল কারা জানি থ্রেট ট্রেট দিল, এর মাঝেই দেখা গেল ডায়ালোগ দাতাদের মেয়ে আর ছেলে (;-)) কে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি ভাবলাম এই শুরু হইলো ঢাকাইয়া ছবির নাচ। তয় যা ভাবছিলাম তা না, কই থেইকা দুইটা পিচ্চি আইসা ফুলবাগানে হাত ধরে নাচানাচি করতে লাগল (বোঝা গেল এরাই বড় হয়ে বাপ-মা'র মুখোজ্জ্বল করিবেক ( B<img src=" style="border:0;" /> ) )

ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা হাত পা ধরে প্রেমের গানে নাচানাচি করছে - কি নির্মম বাস্তবতা থুক্কু রসিকতা ..... বুঝিনা পাবলিক এইগুলা খায় কেমনে?

সময় এগিয়ে গেল। সিন এবার ভিলেনের ডিস্কো তে <img src=" style="border:0;" />। ঐটা যে "ডিস্কো" প্রথমে বুঝি নাই, ভিলেনের কথায় বুঝলাম। দুইটা মেয়ে অবশ্য "ড্যন্সফ্লোরে" নাচানাচি করছিলো (নাহ, শালীন পোশাকে) হঠাৎ ছোট্ট এইটুকু একটা বিলাতি কুকুর দৌড়ে ঢুকলো ডিস্কোতে, আর মেয়েদুইটা ওহ গড, ডগ ডগ বলে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে লাফাতে লাগল। এই সিনটা এত মজার, পজ কইরা দুইবার দেখলাম আর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিলাম। এর মাঝেই রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ নায়ক ওয়েস্টার্ন মিলন থুক্কু ওয়েস্টার্ন ড্রেসাপে ইলিয়াস কাঞ্চনের। তারপর আর কি। ইয়া ঢিসা ঢিসা।

বাকিটুকু কি দেখছিলাম ভুইলা গেছি, আপনাদের যদি লেখা পইড়া দেখার সাধ জাগে তাইলে ডাউনলোড করেন (!)। লেখাটা আবর্জনা হইছে এইটা আমি নিজেও বুঝতাছি, কি করুম এইটাইপ ছবি মন মেজাজ ভালা নিয়া দেখলে এমনিতেই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাই, কোন কারণ ছাড়াই! weird লেইখা এইডা বুঝামু ক্যামনে, সব বাদ চলেন হেডব্যাং করি



বিদ্র: যতটুকু দেখছি (৩০ মিনিট) তট্টুকে কোন অশ্লীলতা নাই। হের পরে থাকলে আমি কিছু কইবার পারি না, নিজ দায়িত্বে দেখবেন <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29185701 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29185701 2010-06-26 19:05:34
উবুন্টু ব্যবহারকারীদের জন্য All In One নেটওয়ার্ক কানেকশন ম্যানেজার! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />

উবুন্টু ব্যবহারকারীরা, বিশেষ করে যারা অপেক্ষাকৃত নতুন, তারা উবুন্টুতে ঢুকেই প্রথমেই যে জিনিসটা খুজেন সেটা হল ইন্টারনেটে কানেক্ট করবো কিভাবে। যারা মোবাইলের এইজ নেট ব্যবহার করেন, তাদের বিশেষ সমস্যা হয়না কারন ওপরের প্যানেল থেকে অটোমেটিক্যলি নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার সিলেক্ট করে দেওয়া যায়।

সমস্যায় পরেন ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীরা।

আইপি দিমু কোথায়? ডিএনএস এন্ট্রি বসামু কোথায়? ম্যাক চেঞ্জ করুম ক্যামনে? ডায়াল করবো কিভাবে? /<img src=" style="border:0;" />

এত প্রশ্ন!!! উবুন্টুতে বাই-ডিফল্ট সবগুলোরই উত্তর আছে, তবে একটু ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কয়েকটা আবার কনসোলে ঠিকঠাক করতে হয়, যেমন ম্যাক বদলানো/ডায়াল করা। নতুন উবুন্টুতে ঢোকার পরই কনসোল ব্যবহারে একটু আনইজি লাগতেই পারে। প্রতিবার মেশিন রিস্টার্ট দেওয়ার পর ম্যাক সেটিংস ঠিকঠাক করতে হয়।

এই সব সমাধানগুলোকেই একত্রে করার চেষ্টা করে নতুন একটা নেটওয়ার্ক-কানেক্টর বানিয়ে ফেলা হয়েছে, যেটার নাম হল My Network Connector <img src=" style="border:0;" />



এটা গ্রাফিকাল একটা উইন্ডো, যেখানে ইউজার একই উইন্ডো তে সব রকম সেটিংস ঠিকঠাক করে দিতে পারবে। আইপি-নেমসার্ভার-ম্যাক-ডায়ালিং সব!! বেটা ভার্সনের একটা ইজি ইনস্টলার প্যাকেজও তৈরি করা হয়েছে, যেটা একবার ডাউনলোড করে রেখে দিলে উবুন্টু ইনস্টল করার পর সরাসরি ইনস্টলার টা চালিয়েই সফ্টওয়ার টা সেটাপ করে নেওয়া যাবে। ধরেই নেওয়া হয়েছে সফ্টওয়ার টা সেটাপ করার সময় আপনার কম্পিউটারে কোন ইন্টারনেট কানেকশন থাকবে না! সেটাই স্বাভাবিক।




ইনস্টল করে নেওয়ার পর ওপরের ছবির মত সহজেই মেনু থেকে সফ্টওয়ার টা চালিয়ে নিতে পারবেন। একবার সেটিংস ঠিক করে দিলেই স্থায়ীভাবে সেগুলো সেইভ হয়ে যাবে, তাই বারবার এপ্লিকেশনটা চালালে বারবার সেটিংস ঠিক করার ঝামেলা পোহাতে হবে না।

যদি ম্যাক বদলাতে হয়/ডায়াল করতে হয়, প্রতিবার মেশিন রিস্টার্ট করার পর সফ্টওয়ারটা একবার চালিয়ে "কানেক্ট" বাটনে চাপ দিলেই কেল্লা ফতে! <img src=" style="border:0;" />


ডাউনলোড লিংক: Click This Link

সাইট হোম: http://muktosource.com/open/mnc

লাইসেন্স: এটি ফ্রি সফ্টওয়ার। সোর্স শিঘ্রই উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29179922 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29179922 2010-06-18 21:15:32
ভিডিও এডিটিং সফ্টওয়ার এর ব্যাপারে পরামর্শ চাই <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> " style="border:0;" />

কালচারাল প্রোগ্রামের ব্যাপারে মোটামোটি ১৫-২০ মিনিটের নাটক রেকর্ড করবো.... হাতে খুব বেশি সময় নেই। প্রফেশনাল লোকজন না থাকায় নিজেদেরই ভিডিও এডিট করতে হবে <img src=" style="border:0;" /> ভিডিও এডিটিং সফ্টওয়ার এর নাম জানা দরকার এজন্যই।

সফ্টওয়ার ব্যবহার খুব কঠিন হয়ে গেলে আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে যাবে.. তাই মোটামোটি ইউজার-ফ্রেন্ডলি সফ্টওয়ার পেয়ে গেলে বাইচা যাই! কিছু সফ্টওয়ার আছে কোয়ালিটি বা রেজুলেশন এসব খারাপ করে দেয়। আমাদের ভিডিওটা প্রজেক্টরে দেখানো হবে, তাই কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে গেলে সমস্যা। যাই হোক, অনেক প্যাচাল পারলাম - এবার আমারে সফ্টওয়ারের নাম কন দেখি <img src=" style="border:0;" /> ডাউনলোড লিংকু দিতে পারলে তো কথাই নাই <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

হেল্পু প্লিজ!!!!!!!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29168619 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29168619 2010-06-02 18:56:40
আরেকটি মৃত্যু, অতিব্যস্ত আমরা আর কিছু সুশীল গল্প
দু'তিন বছর আগের কথা। মতিঝিলের শাপলা চত্বরের সামনে কোন এক বিকেলে আমি রিকশায় বাড়ি ফিরছিলাম। মতিঝিলের ঐ এলাকাটা কিরকম ব্যস্ত সেটা কমবেশি সবাই জানেন। বড়-ছোট সবরকম বাসই একটু ফাকা পেলেই যেভাবে টান দেয় সেটাও কমবেশি রাস্তাঘাটে বের হলে সবাই দেখেছেন। সবাই বলতে বুঝাচ্ছি বাস রিক্সাই যাদের ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা। গল্পে ফিরে যাই। হঠাৎ দেখলাম আমার রিকশাটা উল্টে যাচ্ছে। রিকশার চাকার ওপরে যে অংশটা থাকে, সেটা বাসের জোড়াতালি দেয়া বডির কোন একটা ফাকফোকড়ে আটকে গিয়ে বাসের সাথে চলতে শুরু করল, আর ব্যালেন্স হারিয়ে একদিকে কাত হয়ে পুরোপুরি উল্টে গেল। সেই অবস্থায় বাস মনেহয় চলছিল কিছুক্ষণ, মানুষজনের হৈচৈ এ থামালো শেষ পর্যন্ত।

রাস্তা থেকে উঠে (তখন এতটাই ফুসছিলাম রাগে যে নিজের দিকে তাকাইনাই) বাসের জানালার পাশে গিয়ে চিৎকার করছিলাম, কি বলে মনে নাই। জবাবদিহিতা চাচ্ছিলাম হয়তোবা। বাস ড্রাইভার বড়ভাই ভুল হয়ে গেছে বা এইটাইপ কিছু বলছিল, মজার ব্যাপার হল, বাসের ভেতরে যারা ছিল, মানে যাত্রীরা, তারা বলতে লাগলো ভাই যান, দোষ ওমুকের, ড্রাইভারের নয় ইত্যাদি। আমি পুরা তাজ্জব বনে গেলাম। আমি অন্তত: আশা করছিলাম বাস যাত্রীরা আমার পক্ষে থাকবে/আজকে কিছু একটা করা যাবে - সেই বয়সে মাথা বেশি গরম ছিল একটু।

কিছু করার না পেয়ে অন্য একটা রিকশায় চড়ে টের পেলাম হাটুর নিচ থেকে জিন্সটা লাল হয়ে গেছে।

বাইরের মানুষগুলোই বাস থামিয়েছিল। ভেতরের মানুষগুলো বদলে গেল কেন? আসলে আমরা সবাই তো ওমন। আমি যদি ঐ একই বাসের ভেতরে থাকতাম, তাহলে কি ভাবতাম যে ছেলেটা তো আর যাই হোক মরে নাই, এখন আমি তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরলেই হল! হ্যা, আমরা সবাই ভাবি নিজেদের নিয়ে। নিজে শক না পেলে, বা একান্ত পরিচিত কেউ না মরলে, আমাদের অতিব্যস্ত টনকটা নড়ে ওঠার কোন প্রয়োজন দেখে না। শুধু নিজেকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে, আর নিজের অবস্থানটুকুতে কেউ বাগড়া না দিলে, আমাদের অতিব্যস্ত, অতিমূল্যবান সময়ের কাছে জীবনের দামও আধুলির চেয়ে বেশি কিছু হয় না।

আমার গল্প শেষ। গল্পটা বলার কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কথা শোনাতে নয়, কথাগুলো বলার একটাই উদ্দেশ্য নিজেদের দিকে একটু ফিরে তাকাতে। গল্পের প্লটে বাসের ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের কি উচিত ছিলনা ড্রাইভার আর হেল্পারদের উচিত শিক্ষা দেয়া? যেই লোক এরকম রেকলেস চালায়, সে দু'দিন পরে আরেকজনের সাথে লাগাবে এটাতো পরিষ্কার। বাসের যাত্রী বলেই কি তাদের এই নির্লিপ্ততা? যে এখন বাস থেমে থাকা মানেই ক্যাচাল, বাড়ি ফিরতে অযথা দেরী, সময়ের অপচয়? হ্যা, এই সময় বাচিয়ে বাক্সে জমিয়ে আরেকদিন অন্য কোন বাস বা টেম্পোর তলায় পড়ে যখন পরিবারকে পথে বসিয়ে কবরে যাবেন তখন পোটলা ভরে সময়টাকেও নিয়ে যায়েন, খোদাতাআলা খুশি হয়ে যদি কিছু দেয় এই আশায়।

বঙ্গবাজার সামনের রাস্তাটা দিয়ে, নিউমার্কেট পর্যন্ত অনেক "লেগুনা" বা টেম্পো চলে। সপ্তাহের ৬টা দিনই আমার যাতায়াত এই রোডটা ধরে। যারা দেখেননি এই টেম্পোগুলো, তারা এগুলো কিভাবে চলে আর কারা চালায় - দুটোই দেখলে অবাক হবেন। যাত্রী ভরেই শা শা করে টান দেয়, রিকশা-গাড়ির ফাক দিয়ে পুরোপুরি সর্পিল একটা গতিপথ ধরে তুফানের বেগে এদের জয়যাত্রা। এই যাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া টেম্পোগুলোর দুমড়ানো মুচড়ানো বডি দেখলেই বুঝতে পারবেন। যারা চালায় এই গাড়িগুলা, তাদের তো আর গাড়ির প্রতি মায়াদয়া নাই, আর গাড়ির সাথে লেগে অন্য গাড়ি বা পাবলিকের কি হবে, সেটা চিন্তা করার মতও মানসিক সুস্থতা নাই। চেহারা দেখে নেশাগ্রস্থ মনে হয়। কেয়ারলেস একটা ওয়েতে চালায়, মাঝে মাঝে চালায় ড্রাইভারের সহকারীরা। লাইসেন্স আছে এদের? যে লাইসেন্সের কথা বললাম, সেই লাইসেন্স কেমনে পাওয়া যায় জাননে? আমার নিজেরই চোখে দেখা। চেনাজানা কেউ হলে, বা কোন খাতির পাওয়ার আশায় ড্রাইভিং পরীক্ষায় না বসেও লাইসেন্স পেয়ে যেতে দেখেছি। পুরো সিস্টেম টাই যখন এমন, তখন আমরা সুশীল (বা সাধারণ) জনগণ কি করবো?

হ্যা, আমরা সাধারণ জনগণ সুশীল হয়ে যাব, যতক্ষণ না আমাদের গায়ে আচড়টা লাগছে খুব যত্ন করে এসব দেখে না দেখার ভান করে, নাকে রুমাল চাপা দিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বো। সাহায্যের সময় এগিয়ে আসে রাস্তায় থাকা ঐ লোকগুলোই যাদের আমরা সুশীল জনগণ অচ্ছুৎ জ্ঞান করি। কারণ ওদের আমাদের মত এত সময়ের ব্যস্ততা নেই, ওদের এত নামী দামী কাজ নেই যার জন্য মরতে বসা একজনকে দেখে দেশ ও সিস্টেমকে একটা গালি দিয়েই নিজের দায়িত্বপালন সম্পন্ন জ্ঞান করবে। আর আমাদের পাশে আছে হলুদ সাংবাদিকতার বিষবাষ্প, কিছু সুশীল পত্রিকা। তিলকে তাল না বানালে যাদের কাটতি বাড়বে না। কালকে বুয়েটের প্রথমবর্ষের ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর (খুন) খবরে টক-ঝাল লাগিয়ে মুখরোচক বাস ভাংচুরের খবর বের করলো তারা, তাও যেখানে ৭-৮টাও গাড়ি ভাংচুর হয়েছে কিনা সন্দেহ, সেখানে তাদের রিপোর্টে বলে দিল ৩০টার বেশি গাড়ি। আজকে আবার দেখলাম লিখেছে ২৫টা গাড়ির কথা। ছেলেটা কেন মরলো, সড়কপথের অবস্থা , এসব নিয়ে এদের মাথাব্যথা নাই, মাথাজুড়ে আছে এদের চকচকে প্যাকেটে আগুন খবর পরিবেশনের চিন্তা, উত্তেজনাপূর্ণ ছবি, সোজাকথায় 'অন্যরকম কিছু' যা হটকেক বানিয়ে বাজারে ছাড়া যাবে। একটা জীবনের মূল্য আর কয়েকটা গাড়ির মূল্য যাদের কাছে সমান (হয়তোবা কম?!)

আমার আর কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না। প্রথম আলো সাইট থেকে কয়েকটি প্রতিক্রিয়া তুলে দিলাম:
"খুবই দুঃখজনক ঘটনা, তবে বাংলাদেশের বুয়েটের ছাত্ররা যদি মনে করে দুঘর্টনা ঘটলেই ভাংচুর করতে হবে, তবে তা বুয়েটের জন্য লজ্জাজনক। অবশ্য বাংলাদেশে লজ্জা জিনিসটি খুবই বিরল।"

হ্যা, আমাদের, বাঙালিদের লজ্জ্বা, ইগো আর আত্মসম্মানবোধ এতই বেশি, যে এক্সপোর্ট করা গেলে আমরা কোটিপতি বনে যেতাম। মন্তব্যকারীর ছেলে বা রক্তের সম্পর্কের কেউ যদি আজ এই ঘটনাটির শিকার হত (আল্লাহ না করুক) তাহলে উনার প্রতিক্রিয়াটাকি এমনই সুশীল হত?

রোগ যেন অন্যের শরীরে, খুব সচেনতভাবে রোগীটাকে মরতে দিয়ে চলে যাই, এইটা ভাবিনা যে রোগটা একটু পর আমাকেও ডেথবেডে শুইয়ে দেবে, আর তখন আমিও পাশে পাবনা কাউকে!

"এটা কোন ধরনের প্রতিবাদ যে ৩০ টা গাড়ি ভেঙ্গে ? আমি জানতে চাই , যে বাস টা বুয়েট ছাত্র কে চাপা দিয়েছে সে বাস টা কি ভাঙ্গা হয়েছে ? "

বাহ, যেন ঘাতক বাসটিকে ভাংলেই সব মিটেচুকে গেল, ঘাতক ড্রাইভার বা প্রশাসনের দুর্বলতা - কিছুই না! হায় আমরা কবে সত্যিকারের শিক্ষিত জাতি হব? আমরা খুব স্মার্ট জাতি হয়েছি, কাঠি দিয়ে খাবার খাওয়া শিখেছি কিন্তু ভেতরের মনুষ্যত্ববোধ মনে হয়টাও মনে হয় বিক্রিযোগ্য হয়ে গেছে।

একটু পড়ুন প্লিজ:

Click This Link

Click This Link

Click This Link

http://bit.ly/d5ojsL

প্রথম আলোয় নিউজ: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29164174 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29164174 2010-05-28 10:41:06
চৌর্যবৃত্তির শৈল্পিকতা: যার শিল্পী হৃদয় খান!
এই গানগুলোর প্রতি আমার কোন বিদ্বেষ নেই, বরং একদিক থেকে ভালোই। বিয়ে টিয়ে বা অনুষ্ঠানে যদি ঝাকানাকা টাইপের হিন্দী গানের বদলে এইসব বাংলা গান বাজে, তাতে বরং ভালোই। মুহম্মদ জাফর ইকবালকেও এতগুলো গালি শুনতে হত না। এজন্যই, এখন বাজারে যেসব "রিমিক্স" টাইপের গান বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোকে মোটামোটিভাবে বাংলা মিউজিকের রেভ্যুলুশন টাইপ কিছু বলা যেতে পারে, কারণ ডিজিটাল মিউজিক শোনার মজা আলাদা। রিমিক্স - টেকনো টাইপ গানে আমরা পিছিয়ে থাকবো কেন? মিউজিকের এই লাইনেও বাংলাদেশ ভালোই এগিয়ে গেছে বলতে গেলে ফুয়াদ - হাবিব এবং আধুনিক কালের বালআম, হৃদয় খানদের বদৌলতে। ঢাকাইয়া বিয়ের অনুষ্ঠানে বেশ ঘটা করে গান বাজনা হয়, "শিল্পী"রা নিজেই গান টান গায়, মিউজিক থাকে। এই সব অনুষ্ঠানে এখন মিলা-বালাম দের গান গাওয়া হয়। আগে যেখানে গাওয়া হত হিন্দী গান।

সমস্যা একজায়গাতেই - যখন দেখা যায় কোন একটা হিট গানের পেছনে আসলে যার নাম শুনে আসছি, তার ভূমিকা শুধুই সুন্দর করে কপি মারার। আসল ক্রেডিট অন্য কারোর। যার নামে গান শুনে আসছি, সে আসলে বস্তাপচা ছ্যাচ্চর টাইপ - যার মেধা দেখে অবাক হয়েছি সে আসলে সুচতুর চোরবিশেষ - আসল মূর্তির গর্দানের জায়গায় নিজের মাথাটা বসিয়ে দিয়ে নিজের কুৎসিত দেহটাকে যে আড়াল করে আসছে দিনকে দিন।

ফুয়াদের মিউজিক চুরির কথাটা আগেই জানেন হয়তো অনেকে - সামহোয়ারইন ব্লগে কেউ একজন হয়তো লিখেছিল এ নিয়ে যদ্দূর মনে পরে - লিংকটা এখন পাচ্ছি না। অনিলার গাওয়া "ডাক দিয়াছে দয়াল আমারে" গানটার মূল মিউজিকটাই ফুয়াদ সাহেব ইংরেজি গান থেকে মেরে দিয়েছেন। যাকগে - ফুয়াদকে নিয়ে বেশি ইনফো নাই আমার কাছে। ফেসবুকের গ্রুপের সৌজন্যে "হৃদয় খান" নামের আরেক মিউজিক প্রডিউসার (পড়ুন কপিপেস্টার) এর ভেলকি দেখে পুরা বেকুব বনে গেলাম। এই লোকের কয়েকটা গান মোটামোটি ভালো, মেটাল শোনা আমার কানেও ভালো লাগে আরকি। এখন একি দেখি, এর গানের মিউজিক দেখি হিন্দী গানের কপিপেস্ট! আসুন দেখি নিজের চোখেই, মানি শুনি নিজের কানেই!

Click This Link

Click This Link

Click This Link

আর দরকার নেই। যে লোকের এত গুলো গান কপি মারা - তার প্রতিভা যে কোন লেভেলের, বোঝা হয়ে গেছে।

এখন একটু আলোচনা করা যাক - এই লোকগুলোর গানের পুরো অংশ আবার কপি মারা না, মূল সুর, মিউজিকের অংশবিশেষ অন্য গানের পুরোপুরি/আংশিক কপি। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? (!)

প্রথম কথা হল, যে লোক অন্যের নাম কেটে নিজের নাম বসায়, তাকে আপনি কোন চোখে দেখেন। অন্যের বস্তু চুরি করে নিজের নাম বেচার মাঝে আপনি যদি অপরাধ/গ্লানির ছিটেফোটা না দেখেন, তাইলে আসলে কিছু বলার নেই। আপনার মানসিকতার ব্যাপার স্যাপার।

কিছুদিন আগে বন্ধুমানুষ বর্ণিল আধার সঙ্গীত তথা সংস্কৃতি বিকৃতি নিয়ে যে লেখাটি লিখেছিল সেটার কথায় আসি। এখন রবীন্দ্রসংগীতও বিকৃত করে রিমিক্স বানানো হচ্ছে। নাম না জানা অখ্যাত গায়ক-গায়িকা-প্রডিউসার রা এই রিমিক্সের হাত ধরে পাচ্ছে পরিচিতি আর টাকাপয়সা। রিমিক্স - জিনিসটাকে উসকে দিয়েছে কিন্তু হৃদয় খান - ফুয়াদ রাই। ব্যপারটা এই লেভেলে গেছে যে গীতিকার/সুরকার বা গানের লেখকদের নাম প্রকাশতো দূরে থাক, অনুমতি নেওয়ার নূন্যতম সৌজন্যতাবোধেরও ধার ঘেষা হয় না। হিন্দী গান নকল করে আমার প্রিয় বাংলা গানটার রিমেক আমি চাইনা। তা যতই সুন্দর/সুশীল পর্যায়ে যাক না কেন, তথাকথিত "শিল্পী" বা প্রডিউসারকে কোন সম্মান দিতে আমি রাজি নই।

নকল করে গান বানায় যারা, তাদের ব্যবসা যে বেশিদিন চলবে এমনটা ভাবারও কোন কারণ নেই। নিজের সৃজনশীলতা না থাকলে বেশিদিন নাম বেচে খাওয়া যায়না। নকলের অভিযোগ যখন এদের দিকে আঙ্গুল তাক করবে, দেশের ভাবমূর্তিকে এরা খুব সুন্দর করে উজ্জ্বল করে দেবে। এমন মেধাবী সন্তানের দরকার নাই আমাদের।

ছবিসূত্র: ফেইসবুকের হৃদয়-খান গ্রুপ। গানগুলোর লিংকের জন্য কাজী মামুনকে ধন্যবাদ না দিলেই নয়।


আপডেট: হৃদয় খানের লেটেস্ট এলবামে দেখলাম একটা গান , যার অর্ধেক থেকে শুরু করে বাকিটুকু সলিড হিন্দী!!! কি আর বলুম


ইতোপূর্বে প্রকাশ: চতুর্মাতৃক ব্লগে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29158481 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29158481 2010-05-19 23:17:25
মা দিবসে এক অসামাজিক ছেলের আত্মকথন!
হলিউডি ছবি-টিভি সিরিজ টিরিজ দেখলে মা-দিবস, বাবা দিবস এই দিনগুলোর মোটামোটি একটা তাৎপর্য খুজে পাওয়া যায়। ওদেশে হোম আছে। বুড়ো হলে বাপমাকে ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ওখানে। সারাবছর খবর রাখে নাকি নাকি রাখে, সেটা জানার দরকার নাই। যারা রাখে, তারা হয়তো ভোদাই। যারা নিজেদের বৌ-বাচ্চা-গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ব্যস্ত, ওদের তো একটা দিন উইশ করার জন্য দরকার হয় তাই না! সামহোয়ারের আরিল্ড সাহেবের একটা লেখা আমার মনে ধরেছিল - লেখাটা ছিল অনেকটা এরকম - একটা বার্গারের ছবি, সেটা মনেহয় যুগলেরা বেশ মাখামাখি করে খাচ্ছে। সম্ভবত: কেএফসি টাইপ কোনকিছু ভালবাসা দিবস উপলক্ষে এরকম এড বের করেছিল। এইসব জাতের জায়গাগুলোতে পহেলা বৈশাখের আগে - বিজয় দিবসের আগে, সুন্দর করে বাংলাদেশের পতাকা টতাকা লাগিয়ে উদযাপন করা হয়, মনে হয় বাঙালির চেয়ে ওদেরই যেন দরদ বেশি! ভালবাসা দিবসে যেমন বার্গার! ভালবাসার বাণিজ্যিকিকরণ!

একটা জিনিস ঠেলায় করে বেচলে কারো ভাল্লাগেনা। সুন্দর একটা কর্পোরেট প্যাকেটে মুড়ে দিলে ওটা গেলার জন্য সবার লালা পড়তে থাকে। ৫ টাকার জিনিস ৫০০ টাকায় কিনলেও মন ভরে যায়, মানসিক শান্তি! আহা - এর ওপরে কিছু নাই। বাণিজ্যিকিকরণ - অনুভূতি আবেগের বাণিজ্যিকিকরণ - এসব বস্তাপচা আতলামী ডায়ালোগ শুনতে শুনতে কান পচে গেছে সবার। আতেলদের দেখতেও ভাল লাগে না। কোথায় চশমুস দাতাল নার্ডির আর কোথায় মুখে দশ-বারোটা প্রলেপ লাগানো কর্পোরেট মডেল! আগরতলা আর চৌকির তলা!

সব ব্লগ - কমিউনিটি সাইট মা দিবসে মুখর আজ। এগুলো হয়তো কর্পোরেট বাতাসে ভেসে আসা ট্রেন্ড নয়। সবাই আসলেই মা'কে ডেডিকেট করছে আজকে। দেখতে ভালো লাগে, তবে নিজেকে মনে হয় আবারো অসামাজিক! আমি মা'কে কিছুই ডেডিকেট করিনাই আজকে। বলিও নাই একবার, শুভ মা দিবস, মা! আমার মা'ও বেরসিক, সে বছরের আর দশটা দিন যা করে, আজও তাই করছে। আমি ঘুরে বেড়ালাম একা একা পুরোনো শহরটায়। থমথমে, বাতাসহীন শহর। জমজমাট পার্কটা যেন কবর হয়ে গেছে কোন কারণে - বিরক্ত আমি আসলাম বাসায়, এখনো দিন শেষ হয়ে যায়নি। উইশ হয়তো করা যায়, গিফ্ট আনিনি কোন, তাতে কি! তাও করবো না। রোজকার মত জ্বালানো শুরু করলাম মা'কে। আমার মা এতেই আনন্দ পায়!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29152070 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29152070 2010-05-09 21:50:47
মাঝরাতের বাড্ডেপোস্ট: শুভজন্মদিন পাগলা!

শিরোনাম দেখেই যারা আন্দাজ করতে পেরেছেন বাড্ডে কার, তাদের এক্স্ট্রা ক্রেডিট দেওয়ার কিছু নেই, কারণ যারা ব্লগে আছেন অনেকদিন থেকে, অথচ আকাশ পাগলাকে চেনেন না, তাদের নেহায়েতই নীরস ব্লগার বলতে হবে! <img src=" style="border:0;" /> আর যারা এখনো মাথা চুলকানোর ইমো খুজছেন, তাদের জ্ঞাতার্থে- আজ আকাশ পাগলার জন্মদিন <img src=(" style="border:0;" />

কান্নাকাটির ইমো কেন? কারণ একাধিক -

১। পোলাডার বয়স বাইড়া গেল, মানে শহীদ হওয়ার প্রতি আরো এক কদম আগাইলো। শহীদ হওয়ার পর পাগলা থাকবে কিনা আল্লাহ মালুম।

২। পোলাডায় থাকে মিরপুর, আমার এইখান থেকে চাদে যাওয়া বরং মিরপুর যাওয়ার থেইকা সোজা। যারা খানাপিনা মিস করতে চান না, মিরপুর গিয়া পাগলারে মিসকল দিলেই হবে।

৩। লেখাপড়ায় সিরিকাস হয়ে যাওয়ার কারণে পাগলার কাছ থেকে আর পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের নিশ্চিত খবর, ফাল্গুনী হাওয়া তাকে পোস্টদান থেকে বিরত রেখেছে!

তো এই গেল হালচাল। ব্লগে আসার পর আমার প্রথম ফ্রেন্ড হইলো পাগলা, সেই সময় ক্যাচাল দেখলেই ধুমায়া নাইমা পড়তাম দুইজনে। পোলাডার লগে অনেক কিছুতেই মিলে, মেন্টালিটি, গানের চয়েজ, মানুষরে খোচা দেওয়ার তড়িকা, এইডাই সবচেয়ে মজার! ব্লগের বাইরে পোলাডার গুণ আরো বেশি, ভায়োলিন বাজাতে পারে, ব্যাপক উদ্দমী। সামনের বার ভোটে দাড়ালে চোখ বুঝে পাগলার ঘরে সিল ঠুকে দিতে পারেন, পোলাডা জয়যুক্ত হইলে আমার কপাল খুলে যাওয়ার চান্স যে ব্যাপক এইডা আর কইলাম না! আরো মজা হল, প্রথম দিকে আমরা ভয়ে ভয়ে ফিকশন লিখার চেষ্টা করতাম, পাগলাও লিখতো, আমিও লিখতাম - এইভাবে জমলো আরো বেশি।

পোলাডার কাছে আমার অনেকগুলা বার্গার পাওনা আছে, (কারণ জিগায়েন না, খাওনের আবার কারণ লাগে নি?) ওর সাথে সর্বশেষ দেখা হইছিলো আজিজে, সেইদিন সময়ের অভাবে খানাপিনা হয়নাই। সামনের বার হবে ইনশাল্লাহ <img src=" style="border:0;" />

সো আসেন কথাবার্তা থুইয়া পার্টি স্টার্ট করি, কেক্কুক আনার দায়িত্ব আমার না, বাড্ডেবয় অনলাইন আছে জলদি ধরেন ওরে! পাগলা ভাবীকে নিয়া সুখে থাকুক, cheers 4 them! <img src=" style="border:0;" />


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29144492 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29144492 2010-04-29 01:57:32
অমানবিক
দ্বিতীয় কারণটা হল, রেজর অতিরিক্ত রকম প্রতিভাবান এবং প্রতিভার উচ্চমূল্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে রেজর কার্পণ্য করে না। সাধারণ ছেলেমেয়েদের সাথে তার দূরত্বটা তৈরি হয়েছে এভাবেই।

রেজর হালকা স্বরে শিষ দিতে দিতে বান্ধবী জিনির পাশে গিয়ে বসে পড়লো। জিনি রেজরের ঠিক উল্টো ব্যক্তিত্ব, কিভাবে যে এ দুজনের মিল হল সেটা একটা গবেষণার বিষয়বস্তু হতে পারে। ছেলেপেলেরা অবশ্য বলে বেড়ায় জিনি'র সৌন্দর্য আর রেজরের মস্তিষ্ক - এ দুটোই তাদের সম্পর্কের জ্বালানি। আর দশজনের মত জিনি'র চেহারায় দুশ্চিন্তার ছায়া ছিলো না, কারণ রেজর কখনো কিছুতে বিফল হয়নি, কাজেই আজও যে সে রেকর্ড পরিমাণ ফান্ডিং পেয়ে দিনশেষের লুজারদের দিকে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে গাড়ি হাকিয়ে জিনি'কে নিয়ে দীর্ঘভ্রমণে বেড়িয়ে পড়বে, এটা মোটামোটি ধ্রুবসত্য।

জিনি রেজরের দিকে তাকিয়ে বললো, রেজর, দোহাই লাগে স্রষ্টার, এই রিসার্চ নিয়ে তুমি আর এগুবে না! আমার ভালো লাগছে না বিষয়টা মোটেই, দোহাই লাগে তোমার!

রেজর মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে জিনি'র চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বললো, জিনি তুমি সারাজীবন বোকামীই করে গেলে! শুধু দোয়া কর আজ যাতে বুড়ো হাবড়া প্রফেসর গুলো ফান্ডিং কমিটিতে না থাকে, ওরা সবসময়ই কোনো না কোন ক্যাচাল বাধিয়ে রাখে। বুড়োগুলোকে কেন যে ভার্সিটি থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হয়না এটা মাথায় ঢুকে না আমার।

জিনি রেজরের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। মনে মনে ঈশ্বরের কাছে চাইছিলো, যেন প্রবীন প্রফেসরদের একটা দল আজ ফান্ডিং কমিটিতে থাকে। পরমূহুর্তেই সে সজাগ হল, প্রাচীন হলরুমটায় তাদের ডাক পড়েছে।






আরামদায়ক চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিলেও রেজর ভেতরে ভেতরে বিরক্তিতে জ্বলে যাচ্ছিল। বুড়ো হাবড়া প্রফেসর আর প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ একাডেমীর সদস্যদের প্যানেলটাই তার কপালে পড়েছে। সবার মাঝে বসে থাকা মধ্যবয়স্ক লোকটি রেজরের পেপারগুলো সামনে বাড়িয়ে বললো, তার মানে তুমি প্রজেক্টের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশান্বিত?

গলা খাকড়ে রেজর বলল, জ্বি, জনাব। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত, কারণ গবেষণার ফলাফল খুবই উচ্চমাত্রার ম্যামেলদের ওপর পজেটিভ, আর ফান্ডিং পেলে সামনের সিজনের আগেই স্যাম্পল ট্যাবলেটস তৈরি করে ফেলা সম্ভবপর হবে।

খোচাখোচা দাড়িওয়ালা লোকটা গাল চুলকে বললো, তুমি বলছো তোমার আবিষ্কারের জন্য পৃথিবীর খাদ্য সমস্যা দূরীভুত হবে। কিন্তু আমার তো মনে হয় সমস্যা বাড়বে আরো।

রেজর গলা নরম করে জিজ্ঞেস করলো, স্যার কিরকম? মধ্যবয়স্ক লোকটি বললো, কেন সমস্যা হবে না তুমিই বল না!

রেজর গলা খাকড়ে নিয়ে বলতে শুরু করলো, আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবীর সব সমস্যার অন্যতম মূল সমস্যাটি হল খাদ্যসমস্যা। খাবারের উচ্চমূল্য আর পুষ্টিহীনতাই গরীব দেশগুলোর সব সমস্যার মূলে দায়ী। তাই আমরা যদি এই সমস্যাটির সমাধান করি, তাহলে পৃথিবী এগিয়ে যাবে অনেক।

এই রিসার্চের ওপর বেইস করেই আমি গবেষণা শুরু করেছি, খাদ্যদ্রব্যের সাথে মানব রুচি, স্বাদ এর সম্পর্ক আর এর জন্য দায়ী হরমোনসহ জৈব রাসায়নিক ব্যাপারগুলো নিয়ে। পুষ্টিমান সম্মত ক্যাপসুল অনেক আগেই আবিষ্কৃত হয়েছে, যা গ্রহণ করলে মানব পুষ্টির মোটামোটি সকল চাহিদা মেটানো যায়। তবে সেই প্রজেক্ট সফল হয়নি, কারণ ক্ষুধার উদ্ব্রেক আর মানুষের স্বাদপ্রীতি। আমাদের গবেষণার মাধ্যেম আমরা এই সমস্যাগুলোর সফল সমাধানে আসতে সক্ষম হয়েছি।

চোখ কপালে তুলে বৃদ্ধ বিজ্ঞানীটি প্রশ্ন করলো, অর্থাৎ তোমার ক্যাপসুল খেলে মানুষের আর ক্ষুধা লাগবে না বা যেকোন স্বাদের অনুভূতি দেওয়া যাবে- ব্যাপারটা এরকম?

রেজর হেসে বললো, অনেকটা এরকমই। পুষ্টিবর্ধক ক্যাপসুল খেয়েই যেখানে দেহের সবরকম চাহিদা মেটানো যায়, সুস্বাদু খাবার খাওয়াটা সেখানে অবান্তর, বিশেষ করে যখন আমরা গরীব জনগোষ্ঠীর কথা বলছি। আমরা ক্ষুধার উদ্ব্রেকের অনুভূতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি, পুষ্টিবর্ধক ক্যাপসুলের সাথে এই পোশন যোগ করে দিয়ে আমরা মানুষের ক্ষুধার অনুভূতি বাতিল করে দিতে পারি! খাবারদাবারের সমস্যার সমাধানটাও হয়ে যাবে এতে।

কিন্তু, কিন্তু, - মধ্যবয়স্ক লোকটি রেজরকে থামিয়ে দিয়ে বললো, পুরো পৃথিবীর চালিকাশক্তির বড় একটা অংশ এই ফুডচেইন আর শিল্প। তুমি পুরো ফুড ইন্ডাস্ট্রিটাই বাতিল করে দিতে চাইছো, পৃথিবীর হর্তাকর্তারা এটা কখনোই মেনে নেবে না।

রেজর হেসে বললো, স্যার এ বিষয়টা আমিও ভেবেছি। এজন্য সমাধানও আছে।

হাতের এক্স-কেইসটা খুলে একটা ত্রিমাত্রিক অবয়ব ছড়িয়ে দিয়ে রেজর বলতে লাগলো, আমার প্ল্যানটা দেখুন, ফুড ইন্ডাস্ট্রি থেমে গেলে পুরো মানবজীবনই অর্থহীন হয়ে যাবে। চিন্তা করেন তো, পৃথিবীতে মানুষের চাহিদা কি? যারা গরীব - তাদের চাহিদা টিকে থাকা, ভালো বিনোদন, চিকিৎসা সেবা এসব। আর যারা ধনী, তারা কিন্তু এসব আগে থেকেই পেয়ে আসছে, তাই তাদের দরকার আরো অনেক অনেক বেশি বিনোদন। ফুড ইন্ডাস্ট্রি যার মাঝে একটা, খাবার দাবারের বৈচিত্র্য না থাকলে এদের জীবনের আর কোন উদ্দেশ্য থাকবে না।

এজন্য, আমার প্রস্তাবনা অনুসারে, আমাদের ক্যাপসুল শুধু তৃতীয় শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর মাঝেই বিতরণ করা হবে। এতে যেটা হবে, এদের আর খাদ্যচাহিদা থাকবে না, তাই এদের জীবনের প্রধান সমস্যা দূর হয়ে গেল। এখন এদের চাহিদা হবে ভালো মানের বিনোদন, বস্ত্র, চিকিৎসাসেবা এইসব, এসবের লক্ষ্যে এদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে। ফসল উৎপাদন করবে এরাই, আরো ভালো লাইফস্টাইলের জন্যই এরা উৎপাদন চালিয়ে যাবে। আর যারা প্রথম শ্রেণীর নাগরিক, তাদেরও সমস্যা হবে না, কারণ খাবারের উৎপাদন তো চলছেই!

সবাই চুপ করে রইলো অনেকক্ষণ। রেজর মনে মনে ভাবলো, কেল্লাফতে! বিজ্ঞানীরা তাকে থামানোর মত যুক্তির চিন্তা করছেন এখন। হিসেব করে রেজর বলে ফেললো, স্যার, আমার মাথায় আরো একটা পরিকল্পনা আছে, যেটা কর্পোরেট ফুড ইন্ডাস্ট্রি লুফে নেবে যে কারণে আমাদের গবেষনা ব্যর্থ হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই!

সবাই রেজরের দিকে তীব্রভাবে তাকালো চশমার ফাক দিয়ে। চশমা বস্তুটার প্রচলন কয়েক যুগ আগে উঠে গেলেও ফ্যাশনের অংশ হিসেবে এখনো বিজ্ঞানীরা অর্ধচন্দ্রাকৃতিরর গ্লাস ব্যবহার করেন। মধ্যবয়স্ক লোকটা জিনি'র কাছ থেকে দৃষ্টি সড়িয়ে বললো, কিরকম প্ল্যান?

রেজর গলা খাকড়ে বললো, ফুড ইন্ডাস্ট্রি আমাদের প্রজেক্টের অনিশ্চয়তাগুলো নিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে, এজন্য আমরা পুরো সিস্টেমের বিতরণ নিয়ে নতুন একটা আইডিয়া পরিকল্পনা আছে। তৃতীয় শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর ক্ষুধার উদ্ব্রেক আমরা নিষ্ক্রিয় করতে পারি ড্রাগসের মাধ্যমে। এতে করে খাবারের প্রতি মানুষের অধিকার উচ্চমূল্য হবে। প্যাকেজ হিসেবে আমরা আবার মানুষের ক্ষুধাবর্ধক ড্রাগস তৈরি করতে পারি, যেটা বাজারে পাওয়া যাবে খুবই উচ্চমূল্যে! তাই পর্যায়ক্রমে এই তৃতীয় আর দ্বিতীয় শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর জীবনের পরম লক্ষ্য হবে হারানো ক্ষুধার অনুভূতি আবার ফিরে পাওয়া! কর্পোরেট আর ইন্ডাস্ট্রিগুলো এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করবে, কাজেই তাদের ক্ষতির কোন সম্ভাবনা তো নেই, বরং তৈরি হবে নতুন মার্কেট ধরার সম্ভাবনা।

রেজর আস্তে আস্তে বললো, আমি কি প্রজেক্টের জন্য পর্যাপ্ত ফান্ডিং আশা করতে পারি?

সবার মাঝের চেয়ারটায় বসা বিজ্ঞানীটি চুপ করে থেকে বললো, তুমি এখন যাও, আমরা বিবেচনা করে দেখবো।







রেজর বাইরে এসেই লাফ দিলো একটা। জিনি হেসে বললো, এত খুশি কোথায় রাখবে? মেটাক্যাফেতে গিয়ে ভালো দেখে এয়ারটাইট বোতল কিনে ওতে ভরে রাখো!

রেজর খুশির চোটে জিনিকে জড়িয়ে ধরতে যাচ্ছিল, হঠাৎ পকেটে রাখা লোকাল কমিউনিকেশন কার্ডটা কেপে ওঠায় বিরক্ত হয়ে ওটা বের করলো। কার্ডটা দেখে ওর চোখমুখ আরো কুচকে গেল, জিনি জিজ্ঞেস করলো, কার মেসেজ?

রেজর বিরক্ত ভাবে কার্ডটা পকেটে ঢুকিয়ে বললো, একাডেমিক কাউন্সিলারের। ভাবতে পারো জিনি, কোন বিষয়ে খারাপ করার জন্য কাউন্সিলারের রুমে এই রেজরের ডাক পড়েছে! চিন্তা করতে পারো জিনি, চিন্তা করতে পারো? বিরক্তির শেষ সীমায় পৌছে রেজর কন্ঠস্বর নাটকীয় হয়ে গিয়েছিল যেন।

জিনি মুখ টিপে হেসে বললো, চিন্তা করতে পারবো না কেন! হিউম্যানিটিজে আবারো খারাপ করেছ, এইজন্য কাউন্সিলার ডেকেছে। রেজর একটা খারাপ গালি দিয়ে বললো, এইসব হিউম্যানিটিজ বিষয়গুলো যে কোন দু:খে আমাদের পড়ায়। মাঝে মাঝে মনে হয় একটা ওয়েজার দিয়ে হিউম্যানিটিজ ডিপার্টমেন্ট টা উড়িয়ে দেই।

জিনি রেজরের হাত ধরে বললো, মুড নষ্ট করো না। তোমার রিসার্চের টপিকটা আমার মোটেও ভালো লাগেনি, তবে আমার মনমেজাজও ভালো এখন অনেকটা। কেন জানি মন বলছে, সামনের দিনগুলো খুব ভালো কাটবে।

হাত ধরে ওরা পাশাপাশি হাটতে লাগলো মেটাক্যাফের দিকে।








শেষকথা

জিনির মন মিথ্যে বলে নি। হিউম্যানিটিজে অকৃতকার্য হওয়া এবং পরবর্তীতে ডিপার্টমেন্টের সাথে ছাত্রসুলভ আচরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রেজরের পুরো একাডেমিক সেশনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাতিল ঘোষণা করেছে, রেজরের রিসার্চের ফান্ডিং ও বাতিল করা হয়েছে একই সাথে।

_______________________________________


অনান্য কল্পগল্প ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29144363 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29144363 2010-04-28 22:40:29
এন্টিট্রাস্ট: যে ছবিটি বলে মুক্তসোর্সের গল্প
ছবিটার কনসেপ্ট টা অসাধারণ, অনেকটাই কম্পিউটার জগৎকে নিয়ে, ক্যাটেগরী হিসেবে এটি থ্রিলার টাইপ ছবি, যে কারোই ভালো লাগবে।

অসংখ্য থ্রিলার ছবির মাঝে এটাকে সবসময়ই আলাদা করে রাখবো, কারণ ছবিটা থেকে শেখার, জানার অনেক কিছুই আছে। ওপেনসোর্স জগৎ এর সাথে অর্থলোলুপ প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের দ্বৈরথ, জ্ঞানকে কুক্ষিগত করে রেখে বিত্তের জন্য মানুষ, একদল নামী দামী প্রভাবশালী তথাকতিত সফ্টওয়ার জায়ান্ট রা যে কতটা পিশাচ আর বিবেকবর্জিত হতে পারে, ছবিটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ২০০১ এর সময়ের ছবি, সে সময় ডিরেক্টর যে এরকম চিন্তা করতে পেরেছেন সেটাই দারুণ।

একদল অসম্ভব প্রতিভাবান তরুণ কম্পিউটার প্রোগ্রামার। যারা মুক্তসোর্সে বিশ্বাসী, বিশ্বাসী জ্ঞানকে পুরো পৃথিবীটার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে। আরেক দিকে কারা? যাদের আমরা চিনি ভেকধরা ভালো মানুষের মুখোশটারই পরিচয়ে। এরা চায় সবকিছু কিনে নিতে, প্রযুক্তি, সম্ভাবনা আর জ্ঞানকে নিজেদের ব্রান্ডের মোড়কে পুড়ে একচেটিয়া ব্যবসা করে যেতে। যাদের নিজেদের মেধাসত্ত্বা বলে কিছুই নেই, তার বদলে আছে অন্যকে শেষ করে দেওয়ার পৈশাচিক হিংস্রতা। এদের আছে ক্ষমতা, আছে চোখধাধানো চাকচিক্য, আছে নিজেদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনে অন্যকে শেষ করে দেওয়ার বিভৎস মানসিকতা, আছে কর্পোরেট জৌলুস যার আড়ালে এদের ক্ষুদ্র মানসিকতা সবসময়ই ঢাকা পড়ে যায়।

এই কর্পোরেট জায়ান্টের মুখপাত্রদের বুলি বাধা নীতিকথার সাথে আসল চেহারার কতটা অমিল? নিজেদের গ্রাহকদের, অন্যদের প্রাইভেসি পলিসির আড়ালে এরা যান্ত্রিক চোখ বসিয়ে দিয়েছে সম্ভাব্য সব জিনিয়াসদের কর্মক্ষেত্রে। নিয়মিত চোখ রাখে কারা ভালো করছে, কারা নতুন কিছু তৈরি করছে। যখনই শিকার পায়, ঝাপিয়ে পড়ে হিংস্র শ্বাপদের মত। প্রথমে এরা এদের ডাকে নিজেদের দলে, পিশাচ মুখটাকে কর্পোরেট জৌলুসের আড়ালে ঢেকে লোভ দেখায় নাম, দাম, সবকিছুর, যদি শিকার ফাদে পা দেয় তাহলে তো ভালোই। আর যদি তারা বিদ্রোহ করে? যদি কেউ চিনে নেয় এদের আসল রূপ, তাহলে এদের লক্ষ্য একটাই, উপড়ে দাও সমস্যার শিকড়! হ্যা, যে মাথা থেকে বের হয় অসম্ভব সব উদ্ভাবনী চিন্তা, সেই মাথাকেই এরা পিষে ফেলে অবলীলায়, তার আগে বের করে নেয় মাথার সবটুকু তথ্য। এরপর? বের হয় এদের নতুন কোন প্রোডাক্ট, সবাই গোগ্রাসে গিলে, এই কর্পোরেট পিশাচদের তহবিল বাড়তে বাড়তে সীমা ছাড়িয়ে যায় মিলিয়ন বিলিয়নের। কিন্তু প্রযুক্তির নৈপথ্যে কারা - এটুকু সবার চোখের আড়ালে থেকে যায়।

বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের খেলার চমৎকার একটি ছবি - এন্টিট্রাস্ট। বেশি কিছু বলে মজা নষ্ট করতে চাইনা, যেকারই ছবিটা ভালো লাগবে। দেখার মত, শেখার জন্য, আর ভালো মানের থ্রিলার হিসেবেও চমৎকার এই ছবি এন্টিট্রাস্ট।

আইএমডিবি: http://www.imdb.com/title/tt0218817/

direct download | torrent download




এর আগে প্রকাশিত চতুর্মাতৃকে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29141703 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29141703 2010-04-25 10:06:22
হিমুর নীল জোছনা: হিমু কথন


‌‌‌হুমায়ুন আহমেদের বেশিরভাগ বই ই‌ আমারকাছে‌ যেখানে স্বস্তা মানের মনে হয়েছে, মিসির আলী গুলো নেহায়েতই সাদাসিদে পানসে লেগেছে তখন শুধু হিমু'র জন্যই হুমায়ুন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলেছিল। যদ্দূর মনে পড়ে "চলে যায় বসন্তের দিন" ছিলো আমার প্রথম পড়া হিমু, যেটা আমার কাছে অন্যতম চমৎকার একটা উপন্যাস। এরপর একে একে হিমুর বাকিগুলো পড়ে ফেলেছি, সবগুলোই তৃপ্তি দিয়েছে তবে কাটা হয়ে দাড়ালো ইদানীং কালে তার হিমু বিষয়ক বালখিল্য। বাড়াবাড়ি কখনোই ভালো লাগে না। অবাক হয়েই দেখলাম নিজের তৈরি করা হিমু চরিত্রটিকেই বাস্তবে নিয়ে এসে ভেঙে চুড়মাড় করে দিলেন নিজেই! হিমু নিশ্চয়ই থলথলে জলহস্তির মত কোন বস্তুবিশেষ না যাকে নিয়ে বইমেলার মত জায়গায় নাচানাচি করতে হবে! দার্শনিক হিমু পরিণত হল বিটলা হিমুতে। আগ্রহ কমলো, জন্মালো বিরক্তি। গত কয়েকটা হিমু সিরিজ সেই মনোভাবের পরিবর্তন করতে পারেনি।‌‌ যে হিমুর কোন বই খুজে পেলে আগে জন্মাতো সেই ক্লাস সিক্স-সেভেনের মাথা খারাপ করা বই এর নেশা, সেই হিমুই চক্ষুশূলে পরিণত হল নিজের দোষেই।



তবে এবারের হিমুর বই যেটা - হিমুর নীল জোছনা - সেটা পড়লাম আজকে। প্রথমে ধরে নিয়েছিলাম এটাও ফালতু হবে, পরে দেখলাম কাহিনী অন্যরকম! হিমুর মাঝে আবার আগের ভাবটা ফিরে আসছে কি? এবারের হিমুতে হুমায়ুন আহমেদ গতানুগতিক বস্তাপচা কিছু হিমু-ট্রেডমার্ক এড়িয়ে গেছেন। এমনকি, বই এর মাঝে গিয়ে লেখার এঙ্গেলও বদলে ফেলেছেন। ফার্স্ট পার্সন থেকে চলে গেছেন থার্ড পার্সনে। এটা অবশ্য ভালো মনে হয়নি, কারণ হিমুর নিজের চিন্তাগুলোই হিমুর কথন হিসেবে থাকে। সেখানে লেখক হিমুর পয়েন্ট অব ভিউ থেকে সড়ে গিয়ে নিজের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলা শুরু করলেন - এটার মানে হয়তো লেখক আর হিমু চরিত্রে ভরসা পাচ্ছেন না বা গল্পে যা বলতে চাচ্ছেন, সেটি বোঝাতে হিমু নিজে সেটি বোঝাতে পারছে না। এটা একই আবার ভালোও হতে পারে, কারণ লেখক হিমুর বৃত্তে বাধা থাকছেন না, নিজের অবস্থান থেকে কাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। প্রথমে ভালো না লাগলেও শেষে গিয়ে আর খারাপ লাগে নি।



বই এর মূল গল্প/কাহিনী বলতে আসলে তেমন কিছু নেই, এটা হতাশার। বরং যাপিত জীবনের ছবিই ফুটে উঠেছে বেশি, রাজনৈতিক হালচাল, সমস্যাজর্জিত রাজধানী, হাস্যকর কর্পোরেট প্যাকেজ কার্টেসি আর মিডিয়ার স্বেচ্ছাচার। তবে এসবের মাঝেও, সম্পূর্ণ বাস্তব আর সমসাময়িক কুৎসিত জীবনশৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণ হিমু নিজের হাতে নিয়ে নেয়। এখানেই আবার হিমু সার্থক। মানুষগুলো সার্থক। পরিচিত খারাপ ট্যাগধারী লোকগুলোর ভিড়ে কারো মাঝে জ্বলে ওঠে স্বপ্নপূরণের ঝিলিক। যেটা হয়তো অসম্ভব, হয়তো অবাস্তব কিন্তু হিমুর জন্যই সেগুলো বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়।


তাই হিমুর নীল জোছনা - হয়তো থেকে যাবে ভালো লাগা বইগুলোর শোকেসে।



প্রথম প্রকাশ চতুর্মাতৃকে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29140119 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29140119 2010-04-22 22:02:31
দুর্বলতা, হয়তো রসিকতা, আবজাব ইত্যাদি
অন্যের দুর্বলতায় মন খুলে হাসতে হয়, এটাই নিয়ম। আরেক ফ্রেন্ডের "করুণ কাহিনী" শেয়ার করা যেতে পারে, এইটা লেটেস্ট। এখন আমাদের পরীক্ষা চলতেছে, কয়দিন আগে আমি হলে এক দুস্তের রুমে গেজাইতেছি। হঠাৎ আমার ফ্রেন্ড কইলো, দোস্ত পার্ফিউমের মধ্যে কি মাথা ঘুরানোর মত কিছু আছে নাকি? আমরা সবাই সুযোগ পাইলেই জ্ঞানী, তাই একেকজন মাথা চুলকায়া আলোচনায় শুরু করে দুনিয়া উড়ায়া দিতে লাগলাম। নতুন নতুন থিয়োরী বাইর হওয়া শুরু করলো, পার্ফিউমের বিশেষ ক্যামিকেলের জন্য এমন হয়, ঐগুলা "মাথায়" গেলে কী হয়, ব্রেইন হয়তো কাজ করতে হিমশিম খায়, ইত্যাদি ইত্যাদি..... হঠাৎ খেয়াল হলো এরকম আজগুবি টপিক হঠাৎ মাথায় আসলো কেমনে? <img src=" style="border:0;" /> পরে জানা গেল, এবার পরীক্ষার হলে সেই ফ্রেন্ডের পাশে যে সুকন্যার সিট পড়েছে, তার পার্ফিউমের বদৌলতে ফ্রেন্ডের মস্তিষ্ক নাকি বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

ভালোই, পুলাপান মজায় আছে। এইবার একটা মজা হইছে, আমাদের সিট পড়ছে আর্কিটেকচার এর লগে (পাশাপাশি দুই পরীক্ষার্থী ভিন্ন ডিপার্টমেন্টের, এভাবেই সিটপ্ল্যান করা হয়)। এইখানে পুরুষেরা সংখ্যালঘু, তাই পরীক্ষাহল বিপরীত লিঙ্গের উপস্থিতিতে সয়লাব। এইটা আমার বুয়েট জীবনের অন্যতম বিরল দৃশ্য, কারণ আর্কি ছাড়া সব ডিপার্টমেন্টেই মেয়েরা আশঙ্কাজনক ভাবে সংখ্যালঘু। এই আর্কির পুলাপান যে কই থাকে আল্লাহই জানে, <img src=" style="border:0;" /> ক্যাম্পাসে এইগুলারে একদিনও দেখছি বলে মনে হয়না।

ইদানীং কিছু ভাল লাগে না আর, যারা দেশের বাইরে আছেন অন্তত: কারেন্টের কথা চিন্তা করেও মনে হয়না দেশে পা মাড়ানোর চিন্তাভাবনা করবেন। পড়াশুনার অবস্থাই খারাপ, "মন বসে না পড়ার টেবিলে" কেইস না, কারণ আমার পড়ার টেবিলেই কম্পুটার তাই "পড়ার টেবিলেই" মন থাকে, তবে বই খাতার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক। ক্লাস করি না, তাই ফ্রেন্ডদের লেকচার ভরসা। ফটোকপি করতে গিয়ে ফতুর হবার আশঙ্কায় আমরা কয়েক ফাকিবাজ মিলে পালাক্রমে লেকচার স্ক্যান করি, সেই ক্লাস লেকচারের "সফ্ট কপি" আমাদের সাইটে সর্বসাধারণের ডাউনলোডের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বেশি চালাকি করতে গিয়ে এখন ধরা, কারেন্টই থাকে না, লেকচার পড়া তাই বন।

ভাবতেছিলাম লেখাটা মজার করার জন্য কী এডানো যায়, কিছুই পাইলাম না। পুরা কলেজ আর ভার্সিটি জীবন (এখনপর্যন্ত) ফাইজলামির ওপরে দিয়া গেলাম কিন্তু "রগরগে" টাইপের কিছুই দেখি হয় নাই! আর শেয়ার করার মত যা, সবই ভার্সিটিতে আসার পর, কারণ রম্য লিখতে গেলে অন্যকে পচাতে হয়, আর মানুষের দুর্বলতা বেশিরভাগই উপভোগ্য হয় যেগুলো সেগুলো নারী ঘটিত। গজব, স্কুল আর কলেজ পুরা বয়েজ ছিল, মসলা সব শুষে নিয়ে লাইফ অর্ধেক পাইনসা এখানেই হয়ে গেছে। কপাল ভালো ভার্সিটিটাও বয়েজ হয়নাই (মাঝখানে আই ইউটিতে এডমিশন নেওয়ার চিন্তা ভাবনাও হচ্ছিল, কানের পাশ দিয়া গুলি গেছে!)

কলেজে পড়ার সময় ঢাকা কলেজের এক বিখ্যাত ম্যাডাম ছিল, যার বাসায় পড়ে পুলাপান বাইর হইলে নাকি তাদের গা থেকে ভরভর করে পার্ফিউমের ঘ্রাণ বের হত! সেই ম্যাডাম নিয়ে আরো অনেক কাহিনী আছে (যেমন ম্যাডাম নাকি শার্ট স্কার্ট টিস্কার্ট পরিধান করিয়া পুলাপানকে পড়ায়, সেই স্কার্ট নাকি আ"হাটু"লম্বিত, ইত্যাদি ইত্যাদি) সত্য মিথ্যা জানি না, তয় এই ম্যাডামের ক্লাস করার জন্য অন্য সেকশন থেকেও নাকি পুলাপান আইসা পড়তো। সাধারণত: একেবারেই নিরীহ না হলে ঢাকা কলেজের ছেলেদের ক্লাসে পাওয়া যায় না। আফসোস, সেই ম্যাডামের কাছে পড়া হইলো না, তয় অন্য এক ম্যাডামের কাছে মডেল টেস্ট দিতাম সেইখানে একটা কাহিনী বইলা আজকের মত কিচ্ছা শেষ করি। ম্যাডামের কাছে মডেল টেস্ট দিতাম তখন, আমি এভারেজের ওপরে ফাকিবাজ, একদিন ক্লাসে বললাম ম্যাডাম আপনার মোবাইল নাম্বারটা দেন। ম্যাডাম তখন যেই ফাইজলামীটা করলো, সেইটা অবশ্য আনএক্সপেক্টেড, ঘুরে দাড়িয়ে বিশেষ ভঙ্গিমায় বলিল, আমার নাম্বার নিয়া তুমি কি করবে? :-* বলা উচিত ছিল আপনার মেয়ের লগে টাঙ্কি মারুম, তয় হঠাৎ ভ্যাবাচেকা খাইয়া বেকুব হইয়া গেলাম। দুর্বলতা উপভোগ্য, পুরা ক্লাস হাসতে হাসতে শেষ, আমার মেজাজ উঠছে চরমে। মনে মনে ভাবলাম চান্দু তুমারেও বোল্ড করুম, ওয়েঠ এন্ড সী! <img src=" style="border:0;" />

যাউকগা, সেই কাহিনী ভুলেই গেছিলাম, একদিন ম্যাডামের বাসায় মডেল টেস্ট দিতেছি। আমি ম্যাডামের ওপর চরম বিরক্ত, খালি নামেই আছে কামে কিছুই নাই, ঘোড়ার ডিমও শেখা হয়নাই। কম্বাইন্ড ব্যাচ হলেও কনসিডার করা যেত। ম্যডাম রোজকার মত "আনসীন কম্প্রেহেনশন" সলভ করতে দিয়া পাশের একটা ছোট রুমে গেছে। ম্যাডামের কাজ হল, একটু পর এসে এন্সার শিট দেখে সলভ বলে ক্ষান্ত দেওয়া। এই কাজ তো আমিই পারি! বিরক্ত হয়ে ভাবলাম, ম্যাডাম আসলে করে কি পাশের রুমে? আমি যেখানটায় বসেছিলাম, সেখান থেকে ম্যাডামের রুম দেখা যাচ্ছিল না। সামনের বেঞ্চে গিয়া দেখলাম, ম্যাডাম বসে বসে চুল আচড়াচ্ছে। <img src=" style="border:0;" />

মেজাজ টা এমন খারাপ হল, বলার মত না। পুলাপান রে খবর টা জানানি দিতে এক সেকেন্ডও দেরী হইলো না, তয় একটু বাড়ায়া কইলাম ম্যাডাম আমাগোরে কেরাণীর কাম ধরায়া দিয়া পাশের রুমে মেকআপ করতেছে। একটু পর ম্যাডাম আসলো, আর তাজ্জব, সব কোয়েশ্চেন আমাকেই ধরতে লাগল। একটাও পারলাম না, ম্যডাম কইলো এই অবস্থা কেন। দেখি খাতা। খাতা দেখাইলাম, পুরা খালি। ম্যাডাম কইলো, ঠিকই তো আছে, আমার চুল আচড়ানো দেখতে গেলে লিখবা কখন? <img src=(" style="border:0;" />

ঐদিনই আমার শেষ ম্যাডামের বাসায় যাওয়া।




প্রথম প্রকাশ: ৭ই এপ্রিল, চতুর্মাতৃকে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29133008 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29133008 2010-04-11 20:03:45
যেকোন সাইটেই সরাসরি বাংলা লিখুন: এলো ব্রাউজার প্লাগ-ইন! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_71.gif" width="23" height="22" alt="!:#P" style="border:0;" />

যা হবে

যেকোন ওয়েবসাইটের সব টেক্সট ফিল্ডগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনেটিক বাংলা-কম্পিটেবল করে দেবে। মানে, জাস্ট ক্লিক করেই বাংলা লিখতে পারবেন।

যা করতে হবে

প্লাগ-ইনটা কষ্ট করে ইনস্টল করতে হবে <img src=" style="border:0;" />

ফায়াফক্স ইউজারদের ২ ক্লিকে আর গুগল ক্রোম ইউজার রা ১ ক্লিকেই ইনস্টল করতে পারবেন... <img src=" style="border:0;" />

কোন কোন সাইটে এই প্লাগইনটা চলবে?

প্রায় ৯৫% সাইটেই, তবে কিছু ভারী সাইটে, যারা নিজেদের ইভেন্ট হ্যান্ডেলার ব্যবহার করে, সেখানে চলবে না। কারণ সেই সব সাইট বাংলা টাইপ করার ইভেন্ট হ্যান্ডেলার গুলো ওভাররাইড করে দেয়। এরকম একটা বদ সাইট হল গুগল <img src=" style="border:0;" />

তবে অধিকাংশ সাইটেই চলে, প্রায় ৯৫% সাইটেই।

ইনস্টল করবেন যেখান থেকে

এখানে থেকে। ঘুরে আসুন। ব্যবহার করুন, ভালো খারাপ যাই লাগুক ফিডব্যাক দিন <img src=" style="border:0;" />

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
কৃতজ্ঞতা

হাসিন হায়দার, যার ফোনেটিক স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা হয়েছে। - Hasin Hayder's Blog

আরো সাহায্যের জন্য: http://muktosource.com/open/node/3

এর আগে চতুর্মাতৃকে প্রকাশিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29128468 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29128468 2010-04-03 20:31:25
হিমুর হাতে একটি নীল ব্ল্যাকবেরী
মহাকাশ নীতিমালার চৌদ্দশ বিয়াল্লিশ নং ধারার এক দশমিক দুই তিন পাচ সাত নং নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে ক্রিনা কাপা কাপা হাতে ক্যাপসুলের পাশের নীল বাতিটি টিপে দিল। আস্তে আস্তে করে ক্যাপসুলের ঢাকনাটি খুলতে থাকে। এরই মাঝে জীবনরক্ষাকারী মডিউল হৃৎপিণ্ডকে চালু করে ক্রমশ: অন্যান্য অঙ্গগুলোকে জাগ্রত করা শুরু করেছে। ক্যাপসুলের পাশে বায়ো মনিটরে মানব সন্তানটির হৃৎপিণ্ডের বিট দেখা যায় আর ক্রিনার হার্টবিট সেটির সাথে তাল মিলিয়ে বাড়তে থাকে। যাক জীবন অতটা খারাপভাবে শেষ হচ্ছে না, পৃথিবীর অন্যতম সেরা মানবসন্তানের সঙ্গ কয়জনের ভাগ্যে ঘটে? ক্যাপসুলের ঢাকনাটি সম্পূর্ণ খুলে যাওয়া পর্যন্ত ক্রিনা অপেক্ষা করে, ধোয়া গুলো সরে যাওয়ার পর বুক ভরা আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যায় ক্রিনা, ক্যাপসুলটির দিকে ঝুকে পড়ে অত:পর...........



হিমু?????! WTF!


কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে আরামদায়ক চেয়ারটায় গা এলিয়ে উত্তেজক পানীয়তে চুমুক দিতে দিতে ক্রীনা চাঙ্গা হয়ে উঠছিলো। মহাজাগতিক নীতিমালা লঙ্গন করে সে যে জীবনরক্ষাকারী ক্যাপসুল থেকে সেরা মানব কে জাগ্রত করেছে সেটি নিয়ে তার এখন বিন্দুমাত্র ভয় নেই, কারণ ছয় মিনিট তিপ্পান্ন সেকেন্ড আগে সে মানুষটিকে মহাকাশে ছুড়ে ফেলেছে!





হিমু! হিমু!!

ফিশফিশ করে কে যেন ডাকছে আমাকে? তাহলে কি আবারো স্বপ্নে বাবা হাজির হয়েছে? ধ্যাৎ, এই লোকটা আমাকে আর ছাড়বে না, পোলাপাইন সব স্বপ্ন দেখে মাল্টিকালার আর আমার স্বপ্নে এই মহাপুরুষ বাবাকেই আসতে হবে, কপাল বেশি ভালো থাকলে সর্বোচ্চ- রূপা। তাও রূপা স্বপ্নে দেখা দিলেই তার আতলামী শুরু হয়, মেঘের ডাক শুনে বৃষ্টি হবে কি হবে না এইসব গাজাখুড়ি থিওরী কপচাতে হবে। আরে আমি বলি, এই যুগে ওয়েদার ডটকম থাকতে কেউ ডাইনোসর আমলের সিস্টেমে বৃষ্টি মাপে?

হিমু, হিমু! আবারো ফিসফিস করে লোকটা ডাকছে। বাবা হিমু, তোর কি হয়েছে? তোর পকেটে মোবাইল কেন? তাতে দেখলাম ইন্টারনেটও আছে? আমার মহাপুরুষ বানানোর স্কুলে তোকে প্রথম যে বিদ্যা দিয়েছিলাম, সেটা ভুলে গেছিস? "মানব সম্প্রদায় হইতে যোগাযোগ যথাসম্ভব বিছিন্ন রাখিবে। সবাই যাহা করে, তুমি তাহা করিতে পারিবে না, কারণ তাহা হইলে সবাই তোমার প্রতি আগ্রহ হারাইবে আর তোমার বই কিনিয়া পড়িবে না। সবাই জুতা পরিধান করে বলিয়াই তুমি উহা পড়িতে পারিবে না, মানবকূল যদি খালি পায়ে হাটিতো তাহা হইলে তোমাকে লোহার আচ্ছাদন পড়িয়া হাটিতে হইতো। সবার চাহিতে আলাদা হওয়াটাই মূল মণ্ত্র, আর অবশ্যই যুগ হইতে কয়কশত বছর পিছিয়ে থাকিবে। সবাই টেলিফোন ব্যবহার করে বলিয়া তুমি উহা ব্যবহার করিবে না, তোমার যোগাযোগের মাধ্যম হবে টেলিপ্যাথি। " মুখস্তবিদ্যার মত একনাগাড়ে বকরবকর করে বাবা হতাশ গলায় বললো, আজ তোর পকেটে ইন্টারনেট সহ মোবাইল, হিমু তুই আমাকে হতাশ করলি!

আমি বিরক্তি চেপে বললাম, বাবা তুমি অনেক পেইন দাও। এইটা দুইহাজার একশো খ্রিস্টাব্দ, এইখানে সবাই স্যাটেলাইট মডিউল ইউজ করে। আর আমি তোমার থিওরি ফলো করতে গিয়ে এখন পড়েছি বিপদে!

হাসপাতালের বেডে আধাশোয়া হয়ে অসহায় ভাবে মোবাইলটার দিকে তাকালাম। মহাকাশে যাবার আগে বাদলকে মোবাইলটা দিয়ে বলেছিলাম যত্ন করে রাখিস, পৃথিবীতে ফেরত আসলে কাজে লাগবে। বাদল ছাগলের মত মুখ করে বলছিল হিমু দাদা, একশোবছর পরে কি তুমি এটা দিয়ে কি করবে? হা হা করে হেসে বলেছিলাম, তুই সারাজীবন আমাকে ছাগলের মত ফলো করে গেছস দেইখাই তোর বুদ্ধিবৃত্তি এত নিম্ন পর্যায়ের। রূপার মেয়ের মোবাইল নাম্বার সেইভ করা আছে।

কথায় বলে ছাগলের কথা বাসি হলে ফলে, এখন দেখি তাই হয়েছে, পৃথিবীর একমাত্র মোবাইল অপারেটর "শহুরে ফোন" এর সিমকার্ড ভরে ডায়াল করলাম রুপার মেয়ের নাম্বারে, টুট টুট করে রিং বাজতে লাগলো।



কিছুক্ষণ পর ইউরিন, ইউরিন বলে চেচাতে চেচাতে অর্ধনগ্ন একটি যুবক ঢাকা মেগাসিটির পুনর্বাসন হাসপাতালটি থেকে ছুটে যেতে দেখা গেল। হাসপাতল কর্তৃপক্ষ নাকি তার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে তিনদিন ব্যাপী অনলাইন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।






মাজেদা খালার দরজার সামনে দাড়িয়ে কলবেল টেপার আগে আরেকবার ভেবে নিলাম, আকাশছোয়া এই এপার্টমেন্টে আমি আগের মতই স্বাগত কিনা সেটা একটু ভাবা দরকার। ছাগলের মত কিছু একটা করে মানুষকে কনফিউজ্ড করো, কনফিউজ্ড অবস্থায় ওরা যখন আমার মস্তিষ্কের সুস্থতার সমীকরণের সমতা বিধান করতে গিয়ে নিজেরাই মানসিক রোগী হয়ে পড়বে তখন সুন্দর করে সটকে পড় - এইটা আমার লজিক যদিও, এই যুগে সেটা খাটবে কিনা বুঝতে পারছিনা। "শহুরে ফোন" এর বিল দিতে গিয়ে আন্ত:গ্যালাকটিক মানসিক বিকারগ্রস্থ পুনর্বাসন তহবিল থেকে পাওয়া সব ইউনিট নষ্ট হয়েছে। এখন মাজেদা খালার উত্তরসূরীই আমার শেষ ভরসা।

দরজা খুলেই আমি চমকে উঠলাম, "মা - মা - মা..."। ঠোট টিপে হাসি দিয়ে মাজেদা খালা ধমকে উঠলো, কি ম্যা ম্যা করছিস? আমি তোর মা না, খালাও না। তোর জিলাপীর প্যাচে পড়ে ক্যামনে যে তোর খালা হয়ে গেলাম কে জানে। যা-ই হোক, সবসময় তুই চমকে দিস, এবার আমি তোকে চমকে দিলাম, বিংগো!

আমি ভেতরে ঢুকে বললাম, বাদল নেই? মাজেদা খালা যদি একশো বছর আগে আমার দেখা সেই থলথলে জলহস্তীর মতই অবিকল থাকতে পারে, কোন কিছুই অসম্ভব নয়। কে জানে বাদলের ছেলেমেয়ে গুলো হয়তো বাদলের মতই বোকার পাঠা হয়েছে। ওদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে নাহয় পৃথিবীতে আরো কয়েক বছর কাটিয়ে দেয়া যাবে।

বাদল নেই, তবে ওর গলায় যে ***** টাকে ঝুলিয়ে দিয়েছিস সেটা দিব্যি দিনেদুপূরে ফস্টিনস্টি করে বেড়াচ্ছে। মাজেদা খালা সবসময় বস্তিসমাজে ব্যবহৃত বিশেষ কিছু অশালীন গালি ব্যবহার করে। নিন্দুকের মতে, এটা আমার বইএর কাটতি বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্যকারী।

আমি অলসভাবে আরামদায়ক চেয়ারটায় গা এলিয়ে বসে মোবাইল থেকে ফেসবুকে ঢোকার চেষ্টা করলাম। যখন পৃথিবীতে ছিলাম তখন দৈনিক প্রথম আলোর ফেসবুক টিউটোরিয়াল গুলো কাটিং করে মানিব্যাগে রেখে দিয়েছিলাম, তাহলে বরং সেই মানিব্যাগটাকে খোজা যেতে পারে। সাতপাচ ভাবতে ভাবতে ফেসবুকে ঢুকে দেখলাম, চতুর্মাতৃক জগতের প্রাণীরা ফেসবুকের সার্ভার হ্যাক করেছে। মনে মনে বাবাকে কয়টা বিশ্রি গালি দিয়ে ফেসবুক থেকে বেড়িয়ে গেলাম, টুইটারই শেষ ভরসা।

মাজেদা খালা অবশ্য তার ট্যিপিকাল গজগজ চালিয়ে যাচ্ছে। "মহাজাগতিক রশ্মিতে পুড়ে দিন দিন যে কালো থেকে ক্লা হচ্ছিস সেটা খেয়াল করিস? একশোবার বলেছি ভালো কিছু খেতে, আমার কথা তো আমার বিড়ালটাও শুনে না তুই আর কি শুনবি" মন খারাপ করে গৃহস্থালী বিড়াল রবোট টার দিকে তাকিয়ে মাজেদা খালা গলা চড়িয়ে বললো, ক্রীনা মা, হিমুকে এখনই কড়া বিটুমিন দিয়ে শরবৎ বানিয়ে দে, ওর বিটুমিন খুবই দরকার।


ক্রীনা? চমকে উঠে আমি হাত থেকে মোবাইলটা ফেলে দিলাম, রবোট টা কৎ করে ওটা গিলে ফেললো। ধুর রূপার মেয়ের নাম্বারটাও গেল। মাজেদা খালা কোলাব্যাঙের মত বলে যেতে লাগলো, হ্যা, বাদলের মেয়ে ক্রীনা। তুই জানিশ না, ও তো মহাকাশচারী হয়ে গেছে। ও-ই তো আমাকে শীতল ঘরে ঘুম পাড়িয়ে এক শতাব্দী ঘুরিয়ে আনলো। কালকেই বাড়ি ফিরেছে, তবে কি নিয়ে অনেক মন খারাপ করেছে বেচারী, রেগে উন্মাদ হয়ে আছে। আমাকে গালিগালাজ করছে, আর ওর বাবা আর হিমু চাচা মিলে ওকে মহাকাশ অভিযানে পাঠিয়েছিল বলে ওদের ওপর চরম খেপে আছে, তোকে দেখলেই খুন করবে। ভুলেও নিজের পরিচয় দিসনা ওর কাছে।

হ্যা অবশ্যই , ভুলেও না। কোনমতে কথাগুলো শেষ করে মাজেদা খালার এপার্টমেন্ট থেকে কেটে পড়লাম। মহাকাশে নভোচারী মেয়েটি কেন আমাকে গালিগালাজ করে মহাকাশে ছুড়ে ফেলেছিল সেই অমীমাংশিত রহস্যের সমাধান হয়েছে।

আমিই হিমু আলী




দ্রষ্টব্য: কারো সাথে কোন চরিত্রের মিল পাওয়া গেলে আপনার উর্বর মস্তিষ্ক দায়ী থাকবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29118177 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29118177 2010-03-17 13:03:36
সামুর জন্য ইমেইজ আপলোডার - কমেন্টে ছবি আপলোড! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> [আপডেট ১.৫] আপডেট: ভার্সন ১.৫ আপগ্রেড করুন।

যেভাবে আপডেট করবেন: খুব সহজ, যেভাবে ইনস্টল করেছিলেন সেভাবেই। এই লিংকে গিয়ে ডাউনলোড বাটনে আবার ক্লিক করুন, অটোমেটিক ভাবে আপডেট হয়ে যাবে। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

সামুতে কোন পোস্টে কমেন্টে নতুন ছবি আপলোড করা যে ঝামেলার সেটা কমবেশি সবাই জানি। নতুন ছবি আপলোডের কোন সরাসরি পদ্ধতি না থাকাটাই এই ঝামেলার হোতা /<img src=" style="border:0;" /> - হয় কোন ইমেইজ হোস্টিং সাইটে ছবি আপলোডাতে হয় অথবা "নতুন ব্লগ লিখুন" নামের লিংকে ক্লিক করে ছবি আপলোড করতে হয়!

যাই-হোক, ঝামেলা এড়াতে কয়েকদিন ধরে গভেষণা করছিলাম, আর গভেষণা সার্থক <img src=" style="border:0;" /> এখন পেইনলেস উপায়ে সামুর কোন পোস্টে কমেন্টে নতুন ছবি জুড়ে দিতে পারবেন!

কিভাবে?
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গুগল ক্রোম:

যারা ক্রোমের ৪.০ (বা এর ওপরে) ব্যবহার করছেন, তারা সরাসরি ডাউনলোড লিংকে ক্লিক করুন।

ক্রোমের পুরোনো ভার্সনে একটু অন্যভাবে ইনস্টল করতে হবে।

ওপেরা: ওপেরায় ইনস্টল করা আরো সহজ। আপনার যদি ওপেরার লেটেস্ট ভার্সন থাকে, এই লিংকে চলে যান বিস্তারিত জানতে।

মজিলা ফায়ারফক্স:

* ব্রাউজারের জন্য GreaseMonkey প্লাগইন লাগবে। যারা অলরেডি ব্যবহার করছেন, তাদের তো কোন কাজই নেই, আর যারা ব্যবহার করেন না তারা GreaseMonkey এড-অন ইনস্টল করুন।

* GreaseMonkey ডাউনলোড হয়ে গেলে ব্রাউজার রিস্টার্ট দিতে বলবে, রিস্টার্ট করুন। এবার এই লিংকে চলে যান, আর ডাউনলোড লিংকে ক্লিক করুন

ডাউনলোড লিংকে ক্লিক করলে নিচের মত একটা উইন্ডো আসবে, Install বাটনে ক্লিক দিন। ব্যস, কাজ শেষ!



অন্যান্য ব্রাউজারে টেস্ট করা হয়নাই <img src=" style="border:0;" /> তবে যাদের গুতোগুতির অভ্যাস আছে এই লিংকে খোজ নিতে পারেন।

কিভাবে কমেন্টে নতুন ছবি দেব?
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~


মন্তব্য করার ঘরের ওপরে দেখুন: নতুন একটি লিংক এসেছে -



এখানে ক্লিক করে সরাসরি ছবি আপলোডান!

আপলোড হয়ে গেলে কাজ খুবই সিম্পল -

# যে ছবিটি কমেন্টে দিতে চান, সেটি সিলেক্ট করুন। কিন্তু Insert Image এ ক্লিক করবেন না, ক্লিক করলে এরর ম্যাসেজ দেবে!

# Get Image Code বাটনে ক্লিক করুন! কোড পেয়ে যাবেন আপলোড করা ছবির, শুধু কপি করে জায়গামত পেস্ট! <img src=" style="border:0;" />

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~



যদি কোন কারণে সামু ইমেইজ আপলোডার ব্যবহার বাদ দিতে চান:

সাময়িকভাবে বাদ: গ্রীসমাঙ্কি ডিজেবল করুন এক ক্লিকে। আপনার ব্রাউজারের একেবারে নিচে স্ট্যাটাস বারে ডান দিকে দেখুন বানরের মত দেখতে গ্রিসমাঙ্কির আইকন:




সেখানে ক্লিক করলে আইকনটা ধূসর হবে, মানে গ্রীসমাঙ্কি ডিজেবল হয়ে গেছে। এবার পাতা রিফ্রেইশ দিলেই দেখবেন ইমেইজ আপলোডার নেই।

চালু করতে: পুনরায় গ্রীসমাঙ্কির আইকনে ক্লিক করে পেইজ রিফ্রেইশ দিন।

পুরোপুরিভাবে স্ক্রিপ্ট আনইনস্টল: ফায়ারফক্সের মেনু থেকে Tools > Greasemonkey > Manage User Scripts এ যান।

বাম পাশ থেকে Samu Image Uploader সিলেক্ট করুন।

সিলেক্ট করা অবস্থায় একেবারে নিচে Uninstall বাটনে ক্লিক করুন।

-----------------------------------------------------

নিজের ব্যবহারের জন্য কোড প্রয়োজনমত এডিট করা যাবে। কোড দেখতে পারবেন এখানে

সাম্প্রতিক ভার্সন: ১.৫
সবসময় আপডেটেড থাকুন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29107253 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29107253 2010-02-28 14:23:48
গল্প: অবহেলা (শেষ পর্ব)

আগের পর্ব


রায়হানের কলারটা চেপে ধরে ল্যাবরেটরির একপ্রান্তে নিয়ে গেল জেফ। জেফ রায়হানদের গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ার, রায়হানের চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো, রায়হান, তুমি পাগল হয়েছ? আমাদের রিসার্চ থেকে এটা স্পষ্ট যে মানুষের ওপর পরীক্ষা যথেষ্ট ঝুকিপূর্ণ। তাছাড়া নিউরন স্থানান্তরের জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অস্ত্রপোচারকারী রবোটও আমাদের নেই। এরকম ঝুকিপূর্ণ এক্সপেরিমেন্টের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা আজীবনের জন্য বহিষ্কার হতেও পারি!

রায়হানের রাত জাগা চোখ গুলো লম্বা চুলের ফাক দিয়ে জ্বলজ্বল করছিল। সে চাপা হাসি হেসে বললো, আমি যদি বলি আমি শেষ অসমতাটিরও সমাধানে এসেছি? বলে জেফের দিকে হাতের কাগজগুলো বাড়িয়ে দিল।

বিষ্ফোরিত চোখে জেফ কাগজ গুলো দেখতে থাকে, শেষের দিকে এসে তার মুখে হাসি দেখা যায়, কিন্তু মুহূর্তের মাঝে হাসি মিলিয়ে গেল। "কিন্তু, কিন্তু...." কাগজগুলো অর্থহীনভাবে রায়হানের দিকে ছুড়ে জেফ বলতে থাকলো - তোমার সমাধানে এজাম্পসন অনেক বেশি...... এমনকি তুমি এটাও ধরে নিয়েছ এক্সপেরিমেন্টের সাবজেক্ট স্মৃতিজনিত সমস্যায় ভুগতে পারে! এরকম এক্সপেরিমেন্টের সাবজেক্ট হিসেবে সুস্থ মস্তিষ্কে কেউ রাজি হবে না।

"আমি যদি বলি, আমরা একজন ভলানটিয়ার পেয়েছি?" রহস্যের ভঙ্গিতে দরজার দিকে হাত ছুড়ে দিল রায়হান। জেফ তাকিয়ে দেখে ওলটপালট চুলের হাল ফ্যাশনের একজন তরুণ সেখানে দাড়িয়ে আছে। জেফ অবাক হয়ে বললো, কত ইউনিটের বিপরীতে এ পাগল এক্সপেরিমেন্টে আসতে রাজি হয়েছে?

"তুমি আর বদলাবে না, " উপহাসের ভঙ্গিতে রায়হান বললো, "ইউনিট দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না!"


---------------------------------------------------







সমান্তরালে থাকা ইলেক্ট্রড চারটি কোয়ার্টজের হেলমেট টির নির্দিষ্ট স্থানে লাগিয়ে দিয়ে শেষবারের মত সবকিছু চেক করে নিল রায়হান। "বন্ধুরা, এই এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে মানব প্রযুক্তি যে নতুন জগতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তা আমি তোমাদের উৎসর্গ করলাম।" মনিটরের সামনে দাড়িয়ে থাকা জেফ বা ভিকির কেউই কিছু বললো না। রায়হান হেলমেট-দর্শন বস্তুটির ভেতর মাথা ঢুকিয়ে দিচ্ছিলো এমন সময় ভিকি ছুটে এল। "রায়হান, তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল....।"

ভিকির দিকে তাকিয়ে একরাশ বিরক্তি ছুড়ে দিল রায়হান, "দোহাই তোমার, গবেষণায় মনযোগ দাও। তোমার কথা শোনার জন্য পরে অনেক সময় পাওয়া যাবে।"

ভিকি অপ্রস্তুত হয়ে গেল, কোন মতে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, "রায়হান তোমাকে আমি - "

"মিস করবো, যদি তুমি জম্বি টাইপের কিছু হয়ে যাও!" - প্যানেলের ওপার থেকে জেফের কন্ঠ ভেসে এল, মনিটরে আপাত:দৃষ্টিতে অর্থহীন কিছু সংখ্যা খেলা করতে থাকে, পাশাপাশি রাখা বেডদুটোর সাথে সংযুক্ত অস্ত্রপোচারকারী রবোটগুলোর সিসিমারে (নির্ঘন্ট দ্রষ্টব্য) প্রোগ্রাম লোড হতে থাকে। ওদের সংবেদনশীল চোখগুলো ভিকির কাছে কেন জানি অশুভ মনে হয়।

রবোটগুলো থেকে সরে এসে ভিকি এবার অন্য বিছানার দিকে এগিয়ে গেল, লম্বাচুলের এই ছেলেটাকে সে আগে কোথাও দেখেছে, কিন্তু মনে করতে পারে না। টাকার লোভে মানুষ নিজের জীবনের পর্যন্ত ঝুকি নিয়ে নেয়! ছেলেটা সাথে একটা গীটার নিয়ে এসেছে। অন্যমনস্ক ভাবে গীটারটা ভিকি হাতে নিচ্ছিলো, হঠাৎ উদভ্রান্তের মত রায়হান সেখানে ছুটে এল। রায়হানের হাতে অস্ত্রপচারের কাগজগুলো। "ভিকি, ভিকি " বিষ্ফোরিত চোখে জেফ ফিসফিস করে বললো, আমি বিশ্বাস করিনা.... রায়হান একটা উন্মাদ!

ভিকির হতবিহ্বল দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রায়হান বলতে থাকলো, কাগজ গুলো দেখ, ছেলেটা টাকার জন্য অস্ত্রপোচার করতে আসেনি। সে এসেছে .... পড়তে পড়তে হঠাৎ করে থমকে গেল জেফ।

কি? থামলে কেন? ভিকি অস্থিরভাবে মাথা ঝাকালো। জেফ বললো, এক নাম্বার গিটারীস্ট রবার্টোর নিউরন দিয়ে নিজ নিউরন প্রতিস্থাপন করতে!

রবার্টো? কিসের রবার্টো! ছেলেটার নিউরন স্থানান্তরিত হচ্ছে আমাদের রায়হানের মস্তিষ্কে!


জেফ বিস্ময়ে অনেকক্ষণ কথা বলতে পারে না। অস্থিরভাবে পায়চারী করতে করতে ভিকি বললো, ছেলেটার পরিবারকে জরূরী খবর দেয়া দরকার। ওর নামটা কি দেয়া আছে ডক্সে?

"রাজেশ, ৩৪৫৬ নর্থ ডর্ম" কাগজের ওপর একবার চোখ বুলিয়ে বললো জেফ। "ভিকি, আমাদের মনে হয় অথরিটিকে বিষয়টা জানানো উচিত, ভিকি?" কোন সাড়া না পেয়ে প্যানেলের দিকে তাকালো জেফ, সেখানে ভিকি নেই।





_____________________________________________



মো' এর বার।

কোণার আবছায়ায় একটা টেবিলে বসে ইতস্তত: এদিক ওদিক মাথা নাড়ছিল একটি তরুণী। হাতে থাকা স্যাটেলাইট ক্লায়েন্টে অগোছালো ভাবে কোন চ্যানেলের সাথে যুক্ত হতে চাচ্ছিলো হয়তো, এমন সময় টেবিলের সামনে রায়হান এসে দাড়ালো।
শুভসন্ধ্যা, নিতু! হাতের নীলাভ ফুলগুলো টেবিলে রেখে বললো, স্যরি দেরী হয়ে গেল। তুমি কিন্তু জানতে চাইলে না কেন দেরী করেছি!

নিতুর চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে, সে অর্থহীন চোখে রায়হানের দিকে তাকালো কিন্তু সেটি রায়হানের নজরে পরলো না। রায়হান উৎফুল্লভাবে বলে যেতে লাগলো, "হানি, রাজেশের ব্যাপারটা নিয়ে আমিও ভাবছি! হঠাৎ করে কেন ও এরকম হয়ে গেল আমিও বুঝছি না। তবে এমনটা হয় সুইটহার্ট, মাঝে মাঝে এমনটা হয়, It's Him who gives us gifts and its Him again who takes them away! কে জানি বলেছিল, নাম মনে নাই। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার জানো, আমি কিন্তু এখন সঙ্গীত শিখছি। আমার মনে হয় উন্নতিও করছি, আসলে......." একটু লজ্জ্বা পাবার ভঙ্গি করে রায়হান বললো - "তোমার জন্য গান লিখেছি একটা!"

"লেডিজ এন্ড জেন্টেলমেন, আর অর্বাচীন রোবোট আর আমাদের দয়ায় বেচে থাকা বায়োবটেরা," - হঠাৎ উঠে গিয়ে নাটকীয় ভঙ্গীতে রায়হান বলতে লাগলো, "এই গানটা... নীতুর জন্য আমার ভালোবাসা!"

টেবিলে উঠে বসে রায়হান, সাথে আনা গীটারটাতে তার আঙ্গুল খুব দ্রুত চলতে থাকে। শ্রোতারা বিস্মিত হয়, করতালি দেয়, কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত হুইস্কি নামের পানীয়ের বোতল ছুড়ে দেয়। শুধু নীতুই অর্থহীন ঘোলাটে চোখে গীটারটার দিকে তাকিয়ে থাকে।


----------------------






"আমি বুঝতে পারছিনা, কোথাও একটা সমস্যা হয়েছে ।" নিজের রুমে অস্থিরভাবে পায়চারী করতে করতে মাথা টিপে ধরলো রায়হান। সে এতো চমৎকারভাবে বাজালো আজ, সবাই উল্লাসে মাতলো শুধু নীতু ছাড়া। সমস্যাটা কোথায়? সে কি এখনো রাজেশকে ভালবাসে? সেটি হাস্যকর, রাজেশের মত ছেলেকে ভালবাসা নীতুর মত মেয়ের জন্য এখন অসম্ভব। না, সেরকম কোন ক্ষতি হয়নি রাজেশের, তবে নির্দিষ্ট পরিমান নিউরন স্থানান্তরের সময় আরো কিছু নিউরন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। থিউরিতে কোথাও সমস্যা ছিল, কতটুকু নষ্ট হয়েছে সেটি হিসেব করা যাচ্ছেনা। ফলস্বরূপ রাজেশের ব্যবহার আর আচরণ কিছুটা অসংলগ্ন, তবে আসল কথাটা হল, সে আর গিটার বাজাতে পারে না। তার মস্তিষ্কের যে অংশটুকু এই কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতো, সেটি সফলভাবে রায়হান নিজের মস্তিষ্কে নিয়ে এসেছে। মানুষ ভালবাসার জন্য কত পাগলামীই করে, প্রাচীনকালে শাহজাহান নামের সম্রাটের মৃত পত্নীর জন্য ট্রিবিউট বানাতে গিয়ে কত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছিল। সে তুলনায় তো রায়হান কিছুই করে নি। সে হয়তো শাহজাহান না, কিন্তু সে তো বিজ্ঞান পরিষদের সদস্য হয়ে যাচ্ছে, এটা কি কম নাকি?

না কম না। সমস্যাটা অন্যজায়গায়, নীতু ব্যবহার এত খাপছাড়া কেন? শুধু রায়হানের প্রতি সে আগ্রহ দেখায়নি তা ঠিক নয়, কোন কিছুতেই যেন তার আগ্রহ নেই! "ওহ গড!" হাতের জিরাক্সের গ্লাসটা দেয়াল লক্ষ্য করে ছুড়ে দেয় রায়হান, এমন সময় স্যাটেলাইট ক্লায়েন্টে নিতুর মুখটা ভেসে ওঠে।

"রায়হান, আমি তোমার সন্ধ্যাটা মাটি করেছি, আমি স্যরি ।" দৌড়ে ক্লায়েন্ট মডিউলটার কাছে ছুটে আসলো রায়হান। "কিন্তু কোথাও একটা সমস্যা হয়েছে - আমি সমস্যাটা ধরতে পেরেছি! আমি ছবি আকতে পারছি না! বিশ্বাস করো, তুলিটা হাতে নিতেই হাত কাপতে থাকে, রঙের বাটিগুলো ওলটপালট হয়েযায়, আমি পারছি না, আমি জানি না কি হচ্ছে!" কথাগুলো শেষ করে নীতু হাউমাউ করে কাদতে থাকে।

রায়হান হতবাক হয়ে দাড়িয়ে ছিল, তার মাথায় অশুভ চিন্তা ভর করতে শুরু করেছে। নীতুর চোখের যে ঘোলাটে দৃষ্টি সেটা কি সে আগে কোথাও দেখেছে?









পরিশিষ্ট
----------------------------------------------


রায়হানের ছেড়ে যাওয়া এপার্টমেন্টে গভীর রাতে স্যাটেলাইট ক্লায়েন্টের মডিউলটাতে আলো জ্বলে উঠলো। সেখানে ভিকির একটা হলোগ্রাফিক প্রতিচ্ছবি রায়হানকে খুজছিলো। সে নাকি রায়হানের জন্য চমৎকার একটা প্রোট্রেট একেছে, শুধুই রায়হানের জন্য।




আমার অন্যান্য কল্পগল্প ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29106132 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29106132 2010-02-26 21:35:13
গল্প: অবহেলা

বারের এককোণে রায়হানকে একা বসে থাকতে দেখে মো একটু অবাক হল। ট্যিপিকাল নার্ড বলতে যেমনটা বোঝায়, রায়হানের চেহারাটা তার চেয়েও একধাপ ওপরে। সামনের টেবিলের উচ্ছ্বল তরুণীদের হাতে ককটেলগুলো ধরিয়ে দিয়ে মো রুট বিয়ারের একটা ক্যান নিয়ে রায়হানের টেবিলে রেখে বললো, কি ব্যাপার রায়ান? আজ একাই এখানে?

রায়হানের কালি পড়া চোখের দৃষ্টির সাথে মো ভালভাবেই পরিচিত, প্রতিদিনই বারে আসা জীবনযুদ্ধে পরাজিত কিছু নেশাগ্রস্থ মানুষের চোখে এরকম দৃষ্টি থাকে। দীর্ঘরাত পর্যন্ত বারের এককোণে পড়ে থাকে তারা, পরেরদিন স্যাটেলাইট বুলেটিনে তাদের দু'একজনের মৃত্যুর খবরগুলো অবশ্য কারো দৃষ্টি কাড়ে না। আর যাই হোক, রায়হানের মত "জিনিয়াস" ছেলেপেলেদের এরকম ভেঙ্গে পড়া দৃষ্টির সাথে মো পরিচিত নয়। বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে রায়হান তার বারে আসে, সম্ভবত: বাধ্য হয়েই। অন্যদের হাতে এলকোহলের মগগুলো ধরিয়ে দিয়ে মো রায়হানের জন্য বিটুমিন দেয়া নিরীহ শরবত বানিয়ে দেয়। অনেক রাত পর্যন্ত থাকে তারা, প্রথমদিকে তাদের দৃষ্টি থাকে ব্লুবীকন ধারী কলগার্লদের দিকে, উচ্চস্বরে অসংলগ্ন ভাবে ক্যাম্পাসের নতুন মেয়েদের নিয়ে সরস মন্তব্য করতে করতে মো'র দিকে খালি গ্লাসগুলো বাড়িয়ে দেয়। মো গ্লাসগুলোতে পানীয় ভরতে ভরতে তাদের আলোচনার বিষয়ও বদলে যায়, নতুন আসা প্লাজমা ওয়েজার (নির্ঘন্ট দ্রষ্টব্য) , সাড়ে তিন সেন্টিমিটারের পাওয়ার প্রসেসর, কিংবা বায়ো চ্যানেলে অবৈধ হরমোনের কেনাবেচার আলাপ শেষে গিয়ে ঠেকে কে কাকে খুন করে প্যাটেন্ট বাগিয়ে নেবে সেই আলাপে, তবে রায়হান কখনোই মাতাল হয়না। বন্ধুদের বাসায় পৌছে দেবার দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হয় কিনা।

মো'র দিকে তাকিয়ে হঠাৎ রায়হানের চোখগুলো জ্বলে উঠলো, মো উচুমাত্রার জিরাক্স দিয়ে একটা ড্রিংক বানিয়ে দেবে?
রায়হানের চোখে তাকিয়ে মো হঠাৎ করে ভয় পেয়ে গেল, সেখানে পরাজিত মানুষের দৃষ্টি নেই, তবে উন্মাদনার এক দৃষ্টি খেলা করছে। যে চোখের দিকে তাকালে যে কেউই চোখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।








কষ্ট করে চোখ খুলে রায়হান ঘড়ির দিকে তাকালো। কিছু একটা ঠিক নেই, মাথার বামপাশে একটা শিরা দপ দপ করছে, পেটে ভয়ানক ক্ষুধা, কতক্ষণ সে ঘুমিয়ে ছিলো? রাতে বার থেকে কিভাবে বাসায় ফিরে এলো সে নিয়েও কোন ধারণা নেই, মো হয়তো কিছু একটা ব্যবস্থা করে থাকবে। কাউচ থেকে উঠতে গিয়ে গিয়ে অসাবধানে পা লেগে কিছু একটা মেঝেতে পড়ে গিয়ে ভেঙে গেল, রায়হান মেঝেতে তাকিয়ে দেখে নিতুর জন্য কেনা প্রাচীন ফুলদানীটা। যে উপহারটা কেনার জন্য তাকে একমাস তেরো দিন বিলাসিতাকে বিদায় জানিয়ে কৌটোর খাবার খেয়ে থাকতে হয়েছে। সেই ফুলদানীটা কখনোই নিতুকে আর দেয়া হবে না, নিতুকে কতটা ভালবাসে সেকথাটাও আর কখনো হয়তো বলা হবে না! মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসহায় কাচগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে রায়হান......কোনটা বেশি স্বচ্ছ, প্রাচীন মায়ান সভ্যতার কাচগুলো, নাকি তার চোখের হিউমার? নিতুর কাছে যে তার চোখের লোনা পানির দাম নেই, সেটাতো সে কাল রাতেই জেনেছে! কারণ নিতু যখন রায়হানের দেয়া প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বললো, রাজেশ কে ছাড়া আর কারো কথা সে ভাবতে পারছে না, তখনোতো রায়হানের চোখে অশ্রু ছিল! দুর্ভাগ্যবশ:ত, সেটা নিতুর কাছে তেমন মূল্যবান কিছু মনে হয়নি।

মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা কাচগুলোতে রায়হানের জ্বলজ্বলে চোখগুলো অনেক বেশি উজ্জ্বল লাগছিল।






সময় গড়িয়ে বিকেল হয়েছে, বিকেল থেকে সন্ধ্যার আলো নেমে এসেছে। দিনের এসময়টা রায়হান বেডরুমে কাটায়, যে বেডরুমের দেয়াল সে ছেয়ে ফেলেছে নিতুর আকা অসংখ্য ছবি আর প্রোট্রেট দিয়ে। নিতুর ফটো এক্জিবিশনের রায়হান প্রথম শ্রেণীর ক্রেতা। মাঝে মাঝে তার সন্দেহ হয়, নিতু নাকি তার আকা ছবি তার কাছে বেশি প্রিয়? নিতু অবশ্য কখনোই রায়হানের কাজের ওপর আগ্রহ দেখায়নি। আগ্রহী হলে সে হয়তো জানতে পারতো, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান পরিষদের বর্ষসেরা তরুন বিজ্ঞানীর সম্মাননা হয়তো এবার রায়হান পেতে পারতো। রায়হান কাজ করছে মানুষের বিশেষ বিষয়ে পারদর্শীতার সাথে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের সংশ্লিষ্টতাকে নিয়ে। রায়হানের রিসার্চ গ্রুপ, তাদের গবেষণায় এতটাই পজেটিভ ফলাফল পেয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার সাহায্যে সাড়ে তিন মিলয়ন অতিরক্ত ইউনিট সরবরাহ করছে। রায়হানের গবেষণা অনুযায়ী, মানব মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মানুষের পারদর্শীতা নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন কেউ হয়তো কোন একটা গেইম অন্যদের চেয়ে খুব দ্রুত এবং ভালোভাবে খেলছে। রায়হানদের রিসার্চ গ্রুপের গবেষণা অনুযায়ী, ঐ বিশেষ গেইম টা খেলার সময় মস্তিষ্কের একটা নির্দিষ্ট অংশে নির্দিষ্টনিউরন গুলো বারবার অনুরণিত হয়, আর সংশ্লিষ্ট স্মৃতি সংরক্ষণ করে। গবেষণা সফলভাবে উচু বুধ্ধিমত্তার স্তন্যপায়ীদের মাঝে করা হয়েছে, আর সেগুলো প্রায় সফল। গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আর কয়েকটা অনুসিদ্ধান্তে আসতে পারলেই মানব মস্তিষ্কের ওপর সফলভাবে সিদ্ধান্তে আসা যেত। কিন্তু এখন কি আর সেটা হবে?

না। রায়হানের মনোযোগে এখন বিজ্ঞান নেই, গবেষণা নেই। আছে মো'র বার থেকে আসা উচুমাত্রা জিরাক্স দেয়া উত্তেজক পানীয়তে। বিছানায় শুয়ে সে সিলিং এ ভেসে থাকা নিতুর আকা ছবিটার হলোগ্রামের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রতিদিন সে কাজ শুরু করে নিতুর আকা ছবিগুলো দেখতে দেখতে, নিতু আকে অসাধারণ, ছবিগুলা একবার না দেখলে রায়হানের কাজে মন বসে না। কে জানতো তার প্রতি নিতুর আগ্রহ শূণ্যের কাছাকাছি! নিতুর সমস্ত আগ্রহ জুড়ে আছে ভার্সিটির ব্যান্ডের চুল লম্বা গীটারিস্ট ছেলেটা - কি নাম যেন, রাজেশ, হ্যা সেই রাজেশ। নিতু নাকি প্রতিট বিকেলে রাজেশের সাথে অবজারভেশন টাওয়ারে গিয়ে গীটারের টুংটাং শুনে। কি আছে এই গীটারে? লাউজি গিটার! দাতে দাত চেপে করা রায়হানের ক্রোধোক্তিটা ঘরের কোণে পড়ে থাকা গিটারটা শুনতে পেল না যদিও। হ্যা, মিউজিকের প্রতি নিতুর আগ্রহ দেখে রায়হান চেষ্টা করেছিল গিটার শেখার, লাভ হয়নি। সবকিছু সবার জন্য নয়। কিছু প্রতিভা মানুষ সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে নিয়ে আসে।

রায়হানের রিসার্চ গ্রুপের একজন, ভিকি, রায়হানকে ভয়ে ভয়ে একুশ নাম্বার ফোনটা করলো। নিতুর সাথে ছেলেটার কাহিনী সে এর মাঝেই জেনেছে, বাকি বিশটা কলের মত এই কলটাও রায়হান ধরবে না এরকম আশাই করেছিল, নিজের রিসার্চ নিয়ে নাক উচু রায়হান এমনিতেই তাকে তেমন একটা পাত্তা দেয়না, নেহায়েত একই রিসার্চ গ্রুপে পড়ে যাওয়াতে এখন তার কথা মাঝে মধ্যে শোনে। কলটা কেটে যাচ্ছিল, কিন্তু দেখাগেল শেষ মুহূর্তে রায়হান ফোনটা ধরলো।

রায়হান, আমি অনেক দু:খিত, তোমাকে কি বলবো ভাষা খুজে পাচ্ছি না ... ভিকি একনাগাড়ে কথাগুলো বলে যাচ্ছিল, রায়হান তাকে থামালো। ভিকি একজন ভেঙ্গে পড়া মানুষের কন্ঠস্বর আশা করছিল কিন্তু রায়হানের কন্ঠে যেন অন্যরকম একটা তারুণ্য, "ভিকি আমাদের গবেষণা খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে।"




পরের পর্ব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29105901 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29105901 2010-02-26 12:56:02
প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আরেকটি সায়েন্স ফিকশন... এবং প্রতিক্রিয়া
আমার সায়েন্স-ফিকশন প্রীতি মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই পড়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয়। মজাটা হল, সেটা পড়ার আগে আমি জানতাম না সাই ফাই কি! বইটা শেষ হবার পর সাহিত্যের একটি অভূতপূর্ব জগতের সাথে শুধু পরিচয় না, একরকম অবিশ্বাস্য ভালবাসাবোধের অনুভূতি উপহার দেবার জন্য জাফর ইকবাল স্যারের সবগুলো সায়েন্স ফিকশন কিনে পড়ে ফেললাম। তখন আমি স্কুলে পড়ি, টাকার উৎস সীমিত, এরপরও তার সব বই-ই কিনে পড়ে ফেলেছি। বইমেলায় প্রথমেই কিনতাম জাফর ইকবালের নতুন বই। জাফর ইকবালের লেখার কাছে তার ভ্রাতা হুমায়ুন আহমেদের হাতেগোণা কয়টা ফিকশান রীতিমত অপরিপক্ক্ব মনে হত। একে একে জাফর ইকবালের সবগুলো গল্প পড়া হয়ে গেল, তখন বোধ হয় আমি কলেজে পড়ি, আর আরো আট দশটা সাইফাইপ্রেমী বালকের মত আমার কাছে রীতিমত আইডল।

মুহম্মদ জাফর ইকবালই তখন আমার কাছে সাই-ফাই গুরু। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, সে সময় আমি বাইরের সাইফাই পড়তাম না (আর হলিউডি মুভিও দেখতাম না )। সময়ের পরিবর্তনে প্রচুর বাইরের ছবি আর ফিকশন পড়ার পরেও এখনো আমার কাছে জাফর ইকবাল স্যারের ইরন, ৯৯০৩, মহাকাশে মহাত্রাশ, ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম, ত্রাতুলের জগৎ - এগুলো একেকটা মাস্টারপীস।

তবে দু:খের বিষয় হচ্ছে, ড. জাফর ইকবাল বিগত কয়েক বছর ধরে বইমেলায় নতুন যেসব সায়েন্স ফিকশান উৎপাদন করছেন, সেগুলো পড়ার পর একটাই এক্সপ্রেশন আসে - পয়সা দিয়ে এগুলো পড়ার কোন মানে হয় না। একই কাহিনী, একই চরিত্র, বস্তাপচা বৈজ্ঞানিক পরিভাষা এগুলো জাফর ইকবাল আর কয়দিন পাঠকদের গুলে খাওয়াবেন? তার সায়েন্স ফিকশন সিরিজের হাস্যকর পরিণতি দেখে সন্দেহ হয় পাঠকদের প্রতি আদৌ তার শ্রদ্ধা আছে কিনা। নাকি বইমেলায় দিস্তা দিস্তা হোয়াইটপ্রিন্ট কাগজ আর পাঠকের মানিব্যাগের অপচয় করে নাম ভেঙ্গে নিজের পকেট ভারী করতেই তিনি বেশি আগ্রহী? আমার হার্ডকোর জাফর-ইকবাল ভক্ত বন্ধুরা অবশ্য ভিন্ন মতাদর্শী - এগুলো নাকি তিনি অন্যদের দিয়ে লেখাচ্ছেন। বই বের করলে ভেতরে যা-ই থাকুক বিক্রি তো হবেই, কাজেই কাহিনী, কাচামাল পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ালেও সেটা চকমকে মাল্টিকালার মোড়কে পুড়ে দিয়ে আর তার নামের সিলটা লাগিয়ে বই বের করার মধ্যে হয়তো কোন অপরাধবোধ জাগে না।

কোন এক কল্পকাহিনী সংকলনের ভূমিকায় জাফর স্যার মন্তব্য করেছিলেন, সাহিত্যের হয়তো শেষ আছে কিন্তু কল্পকাহিনীর শেষ নেই, এর সীমা আকাশ ছাড়ানো কারন সায়েন্সের জগতে প্রতিনয়ত নতুন আবিষ্কার, সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, কাজেই সায়েন্স নিয়ে ফিকশন লেখারও কোন গণ্ডী থাকবে না। জাফর ইকবাল ভুল কিছু বলেন নি, কিন্তু এটা সত্য যে তিনি ক্রিয়েটিভিটি হারাচ্ছেন। তাহলে কি অনুমান করা যায়, - সায়েন্সের জগতে নিজেকে আপডেটেড রাখার প্রতি স্যার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন?

পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে, বেচে যাওয়া কয়েকজন অভিযোজিত হয়েছে, কেউ গ্রহান্তরী, কেউ সমুদ্রে বা কেউ মস্তিষ্ক-সংরক্ষণকারী ল্যাবরেটরীতে - অনিয়ন্ত্রিত রবোটগোষ্ঠী, তাদের হাতে পৃথিবীর রাজত্ব, রবোট আর যান্ত্রিকতার বিপরীতে মানবিক গুণাবলীর সেই গতবাধা ব্লা ব্লা, খেলাঘরে বন্দী নায়িকা - শো-পিস হিসেবে আর তাকে বাচিয়ে নিতে বাই-ভার্বালে করে ছুটে আসবে নায়ক রিহান,রুহান বা ক্রিশি টাইপের কেউ, পরিশেষে সমুদ্রতটে পরবর্তী প্রজন্মের কারো ছুটে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে সায়েন্স ফিকশন নামের বইটির পরিসমাপ্তি - উফ!

এটাই হল মোটামোটিভাবে জাফর ইকবালের বিগত কয়েক বছরের সায়েন্স ফিকশনের সারমর্ম। সেই তুলনায় এ বছর বের হওয়া তার নতুন কল্পকাহিনী রবো নিশি বেশ ভালোই হয়েছে!

আসুন কাহিনীর ভেতরে যাই - স্পয়লার এলার্ট!

না থাক, বই এর কাহিনী ব্লগে ফাস করে কপিরাইট সংক্রান্ত ঝামেলায় যাওয়ার ইচ্ছা নাই। তাহলে রিভিও হবে কিভাবে? একটু অন্যভাবে, বই সংক্রান্ত কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করি....

- গল্পে কি পৃথিবী ধ্বংসের সম্ভাবনা আছে? যদি থাকে, তাহলে কি পৃথিবী এরমাঝেই ধ্বংস হয়ে গেছে নাকি ধ্বংস হবে?

অবশ্যই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে। <img src=" style="border:0;" />

- তাহলে কি কেউ (নি:সন্দেহে, নায়ক!) বেচে গেছে? রবোটরা পৃথিবীর নিয়ণ্ত্রণ নিয়েছে?

আবারো, অনুমান সঠিক! ট্যিপিকাল জাফর ইকবালীয় উপন্যাসের মতই, এই বইতেও নায়ক বেচে গেছে, রবোটরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

- তাই যদি হয়, নায়িকাও নিশ্চয়ই বেচে গেছে? সে নিশ্চয়ই বিশৃঙ্খল মানবগোষ্ঠী/ অনিয়ন্ত্রিত রবোট সম্প্রদায়ের কাছে বন্দী? সে নিশ্চয়ই অপরূপ সুন্দরী আর তার সৌন্দর্য খাচাবন্দী করে শো-পিস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে?

- Too many gestures! নায়িকা বেচে গেছে, বন্দী এটাও ঠিক, তবে সৌভাগ্যবশত: সে নেহায়েত বাচ্চা মেয়ে তাই তার সৌন্দর্যের বস্তাপচা বিবরণ গলাধ:করণ করতে হয়নাই।

- যাক, একটা অনুমান ভুল হল। আচ্ছা, নায়িকা যেহেতু বন্দী, তাকে বাচাতে নিশ্চয়ই নায়ক ছুটে আসবে? নায়ক অবশ্যই সফল হবে.. তবে নায়িকা যেহেতু বাচ্চা কাজেই ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই আউট অব ডিসকাশন <img src=" style="border:0;" />

ঠিক। এই যদি বই এর বিষয়বস্তু হয়, তাহলে বইটাকে "ভালো" বলার যৌক্তিকতা কি?

প্রথমত: বইটিতে কোন ভায়োলেন্স নাই। কোন থ্রিলার নাই, কোন সাসপেন্স নেই, কোন রোমান্স নেই এমনকি চিন্তা করার মত কোন সায়েন্সের কোন অভিনব দিকও নেই। পুরো বইটা পড়ার সময় আপনার কখনোই একটু পরে কি হবে - এরকম কোন সাসপেন্স জাগবে না। পুরো কাহিনীটাই অনুমেয়, শেষের দিকে কাহিনী যখন I am Legend ছবির সাথে মিলতে থাকবে তখন মূল্যবান সময় অপচয়ের জন্য অপরাধবোধ আসতে পারে। দ্বিতীয়ত: কাহিনীর ক্লাইম্যাক্স বলতে কিছুই নেই, যেটুকু আছে সেখানেও অবাক হতে হবে নায়কের কর্মকান্ড কতটা আন সায়েন্টিফিক আর অবসাস্তব, সেটা চিন্তা করে। বিশেষত: সাত বছরের একটা বাচ্চা কিভাবে মুহূর্তের মাঝেই টাইম বোমা সেট করলো, পঞ্চম মাত্রার রবোট (যারা মানুষ থেকেও উন্নত) এর পকেটে সেটা ঢুকিয়ে দিলো, আর হাস্যকর ভাবে নায়কের মুখেই সেটা শোনার পর পঞ্চম মাত্রার রবোট টি পকেট থেকে বোমা বের করতে পারলো না আর হ্যাপিলি এভার আফটার - নায়ক নায়িকা সুখে শান্তি বসবাস করিতে লাগিল।

আরো মজার ব্যাপার হল, তাকে সম্ভবত: হুমায়ুন আহমেদ রোগে ধরেছে, বইএর নামের সাথে কাহিনীর কোন মিল পেলাম না। বই এর নাম রবো নিশি, অথচ পুরো গল্পে নিশি নামের কোন চরিত্র নেই। আমার এক হার্ডকোর জাফর-ইকবাল ভক্ত বন্ধুর মতে, জাফর ইকবাল স্যার নাকি রবো-নিশি বলতে রবোট কলোনী বুঝিয়েছেন।

হ্যা, ড. জাফর ইকবাল স্যারের নতুন সায়েন্স ফিকশনটি পড়ার পর নেহায়েত পাঠক হিসেবে আমি মন্তব্য করবো, শিশুদের জন্য এটি একটু বিশেষ ভাবে উপযোগী ভায়োলেন্স - সাসপেন্স - থ্রিলার ফ্রি সায়েন্স ফিকশান। <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29104804 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29104804 2010-02-24 20:32:54
সাদামাটা দিনলিপি define:blog

হঠাৎ খেয়াল হল ট্যিপিকাল ডায়েরি টাইপ ব্লগ কখনো লেখা হয়নাই <img src=" style="border:0;" /> আমার দিনলিপি যে চমকে ঠাসা মুখরোচক কিছু হবে সেটাও না, বলার মত ঘটনা কখনো কখনো হয় তবে সেটা হয়তো আমড়া কাঠের ঢেকিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কে কি বলে বসে সেটা ভেবেই কখনো দিনলিপি লেখা হয়নাই। আজকের দিনটা একটু ঘোরাঘোরির ওপরে গেল তাই ভাবলাম লিখে বসি কিছু একটা....

পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য ভার্সিটি বন্ধ, তাই ঘরে বন্দী জীবনযাপন কিছুদিন ধরে, ভার্সিটির হলে গিয়ে একটু আধটু আতলামির অপচেষ্টা করার যে শেষ ভরসাটুকুও শেষ করে দিয়েছে আম্মুর দুশ্চিন্তা, অবস্থা এমন যে ভার্সিটিই সবচেয়ে অনিরাপদ এলাকা বলা যায়! রাতে হলে থাকা তাই নিষিদ্ধ একরকম। বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই বাড়ি চলে গেছে, হলও ফাকা, আড্ডা বা তাস পিটানোর ব্যবস্থা পুরা বন। বাসায় বসে বসে আলসেমি এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে এখন বের হলেও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। রাস্তায় জ্যামের কথা মনে কইরা মেজাজ খারাপ হয় আরো। চুল দাড়ি অবাধ স্বাধীনতায় নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে, আগে শীত থাকায় চুলের যন্ত্রণা সহ্য করা যেত কিন্তু গরমে এখন কান দিয়ে ধোয়া বাইর হবার জোগাড়।

আজকে তিনটার দিকে বহুদিন পর শেইভ টেইভ কইরা চীন-মৈত্রীর সফ্ট এক্সপোতে (সফ্টওয়ার মেলা) হাজির হলাম, আশা করছিলাম আর যাই হোক মডেল কন্যাদের উপস্থিতিতে ভালো টাইমপাস হবে, মেলায় গিয়া চিক্কুর দিয়া কানতে ইচ্ছা হইলো। পুরা মেলা মরুভূমি! সব মেলাতেই মডেলদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হবার উপক্রম হয়, এবার ব্যতিক্রম দেইখা অবাক হলাম। মেলায় যাবার দুমিনিটের মাথায় সাথের দোস্তগুলা হাউকাউ শুরু করলো এই বোরিং মেলায় আর এক মিনিটও না। তাদের কোনমতে বাইরে ধোয়া টানতে পাঠায়ে আমি আর সাথের আরেকটা টেকি-আতেল বড়ভাইএর স্টলের সামনে ঘোরাঘোরি করতে লাগলাম, আর কোন অযুহাতে পালানোর ব্যবস্থা হবে সেটা ভাবছিলাম। এর মাঝেই সাড়ে সর্বনাশ, ভার্সিটি থেকে সেমিনারের জন্য হেড সহ স্যার ম্যাডামরা মেলায় এসেছেন, সাথে বড় ভাই আপুরাও আসছে আর আমরা এইদিকে কিছুই জানি না! মুক্ত বয়ান আর "উদ্ভ্রান্ত পথিক" ভাই এর কাছে তাদের "বুফে"র খবর শুনে মন মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেল। এখন স্যারদের সামনে পড়লে আর উপায় নাই, পরীক্ষার সময় মেলায় কি করি এই কৈফিয়ত দেবার চেয়ে কেটে পড়া উত্তম।

বইমেলায় যাওয়া হয়নাই, বন্দুদের নিয়া বইমেলায় গেলাম "বৈদ্যুতিক অটোরিক্সায়" চড়ে...... অনেকেই মনে হয় দেখছেন এই আজব যান, রিক্সায় একটা মটর লাগায়া নিলে যেরকম হবে সেরকম আরকি....। চড়তে খারাপ না, রিক্সার মতই বাতাস টাতাস পাওয়া যায়, তবে সমস্যা হইলো চড়লে নিজেরে মফিজ মফিজ লাগে। শাহবাগের সিগন্যালে গাড়ির ভেতরের মেয়েগুলা যখন আমাদের নিয়া হাসাহাসি শুরু করলো তখন মনে হচ্ছিল সিএনজি নিয়ে আসলেই ভালো করতাম। বইমেলায় গিয়া চক্ষু চড়কগাছ, মেলায় ঢুকার লাইন টিএসসির সামনে আইসা পড়ছে। ঢোকার যা ইচ্ছা ছিল সব পানি হয়ে গেল কিন্তু সমস্যা হোল সাথে আসা দোস্তের, যে গার্লফ্রেন্ডরে বই গিফ্ট করবে। মেলায় ঢুকে পড়লাম। যে দোস্তের কথা বলতেছি সে আমার "জিগরি" দোস্ত। আমরা সবসময়ই পাগলামী করি কিন্তু দোস্ত যখন গার্লফ্রেন্ডের জন্য উন্মাদের স্টল থেকে দুইটা পোস্টার কিনল তখন আমি প্রশ্ন না কইরা পারলাম না তাদের ব্রেকাপ আসন্ন কিনা। অবশ্য দোস্তের মুখে যখন শুনলাম তার বান্ধবীই ঐ পোস্টার কিনতে কইছে, তখন অবশ্য আর কিছু বলার নাই।

তথ্যকেন্দ্র থেকে জাগৃতি প্রকাশনীর খবর নিয়ে হাজির হলাম, সামনে মোটামোটি ভিড় কিন্তু "অফলাইন" এর কোন কপি দেখতে পারলাম না। ভয়ে ভয়ে সামনের একজন রে জিজ্ঞাস করলাম ব্লগারদের গল্প সংকলন অফলাইন আছে কিনা, সে সোজা সাপ্টা জানায়া দিলো নাই। এখন তো ফ্রেন্ডদের সামনে পুরা ইজ্জতের ফালুদা, কি করবো ভাবতেছিলাম, পাশের আপুরে জিগাইলাম অফলাইন আছে নাকি। সে আছে বলাতে জান ফিরা পাইলাম মনে হোল, একটা কপি নিয়া নিজের নাম খুজা শুরু করলাম, দেখলাম আছে। দাম জিগাইতে আপু কইলো একশো বিশ টাকা। নিজের বই নিজেই টাকা দিয়া কিনুম নাকি ভাবতেছিলাম মনে পড়লো পকেটে পঞ্চাশ টাকা আছে। ভাবলাম বইতে আমার একটা গল্প আছে বললে খাতির টাতির করতে পারে, লজ্জ্বার মাথা খেয়ে বলেই ফেললাম ইয়ে আমার একটা গল্প আছে, এইটা। স্টলের আপুর মুখে হাসি দেখা গেল।

আপু হাসিমুখে বললো, এবারই বইটা বের হয়েছে, নতুন বই, যারা ব্লগ লেখেন তাদের গল্প নিয়ে। ইয়ে, নিজেকে একটা গল্পের "লেখক" পরিচয় দেবার পর উনার এইকথার মানে অবশ্য বের করতে পারলাম না, এরমাঝেই আপু বই এগিয়ে বলছেন নেবেন? অসহায় হয়ে আরেক ফ্রেন্ডের দিকে তাকালাম, ব্যাটা বুঝল আমার পকেট খালি। একশো টাকার নোট একটা দিল, আমি দিলাম বিশ টাকা। নিজের লেখা বই ফ্রেন্ডের কাছ থেকে গিফ্ট পাবার অভিজ্ঞতাই বা আপনাদের কয়জনের হইছে? <img src=" style="border:0;" />

স্টলের সামনে দাড়ায়ে বন্ধুদের পচানি খাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এর মাঝে আরেক দোস্ত মিলু (এই ব্যাটাও ব্লগ লেখে) আসলো, আমার হাতে বই দেখতে চাইলো। আর যেই ফ্রেন্ড আমারে আমার বই-ই গিফ্ট করলো, সেও চান্স পাইয়া বললো শান্ত বই লিখছে, তুই কিনবি না? বেচারার একশো টাকা গচ্চা গেছে দেইখা সে অন্যদেরও পকেট থেকে পয়সা বাইর কইরা ছাড়বে। মিলু বেচারা ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বই একটা কিনে ফেললো, আর আমি ভাবতেছিলাম ফ্রেন্ডরাই জীবনের সবচেয়ে নির্মম বাশ গুলা হাসতে হাসতে দেয়।

দিনলিপি এখানেই শেষ। বই এর বিজ্ঞাপনও হয়ে গেল, এইটা নিয়া অবশ্য চিন্তিত। আজ সকালেই ফিউশন ফাইভ "বইমেলায় বই বাণিজ্য : বড়ো-মাঝারি-ছোট লেখকদের হাস্যকর কাণ্ডকারখানা" পোস্ট দিছেন, সেটা যে মারাত্মক সত্য সেটা এখন বুঝতেছি। ফিউশন ফাইভ তার পোস্টে "কনুই দিয়ে" সায়েন্স ফিকশন পয়দা করা রাইটারদের পুরা ব্রাশ ফায়ার কইরা ছাড়ছেন, আর দু:খজনক ব্যাপার হল পুরা গল্প সংকলনে একমাত্র সাই ফাই টা আমারই।




পুনশ্চ: শেষ পোস্ট ছিল ১২ই জানুয়ারী, আজ একমাস হল। অস্তিত্বের জানান দিতে এই আবজাব দিনলিপি!

ছবিসূত্র: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29096206 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29096206 2010-02-12 22:03:05
উচ্চশিক্ষায় মুখস্তবিদ্যা আর শিক্ষার্থীদের মুখস্তচর্চা
মোটামোটি সহজ ব্যাপারগুলোও বুঝছে দেরীতে। আমি হাল ছেড়ে দিয়ে স্কুলের টপিকগুলোতে একটু ডুব মেরে দেখলাম সেখানে ছাত্রী আমার সগৌরবে টেক্সট না বুঝে অমূল্যধন মুখস্তচর্চা করে এসেছে যার ফলাফল এখন তার সহজ একটা কনসেপ্ট বুঝতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে। কোন কারণে দেখা গেল সে জ্যামিতির সহজ একটা ব্যাপার বুঝছে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তমুক উপপাদ্য পড় নাই আগে? সে বিশ্বজয়ী হাসি দিয়ে বললো, স্যার তখন তো মুখস্ত করে ফেলেছিলাম। জ্যামিতি আসলে আগে প্রমাণ লিখে পরে চিত্র আকতাম!

এই হল এখনকার সময়ের গর্বিত এ+ ধারীদের মোটামোটি জেনারেলাইজড একটা চিত্র। কোন সন্দেহ নেই, সেই ছাত্রী উচ্চ শিক্ষাতেও এই মুখস্তবিদ্যা প্রয়োগ করবে, কারণ রেজাল্ট তো সে পাচ্ছেই!

আরেকটা কাহিনী, এটা একটু বেশি ভয়াবহ আর সাম্প্রতিক। কারণ এবার ছাত্র-ছাত্রীরা হল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। প্রাইভেট একটা ভার্সিটির (নাম বলছি না) কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট, যাদের আমি মাঝে মধ্যে টুকটাক হেল্প করি, তারা যে ভার্সিটি লেভেলেও এই বিদ্যা প্রয়োগ করবে, তাও কোড এর মত বস্তু মুখস্ত করার ভয়াবহ অপচেষ্টায়, এটা দেখার পরই প্রথমবারের মত মনে হল অবস্থা খুবই শোচনীয়। সেই স্টুডেন্টদের যখন আমি কোন একটা কিছু দেখাই, তখন ঠিকই বুঝে। কিন্তু এর পরই সব উল্টাপাল্টা। ল্যাবে গিয়ে কোড করতে গেলে রিচিদেবের নাম জপা ছাড়া উপায় থাকে না। সেই ছাত্রী শেষে একদিন জানালো, তারা কম্পুসায়েন্স পড়বে না, বাইরে চলে যাচ্ছে। আমি মোটামোটি বিস্মিৎ হলাম, কারণ তাদের মুখস্তবিদ্যা এমন কার কাছে পরাজয় বরণ করলো সেটা জানার জন্য আগ্রহ হচ্ছিল! সে যা বললো তার সারমর্ম হল এরকম: স্কুল কলেজ সবকিছুতেই মুখস্ত করে এসেছে, জিপিএ ফাইভও পেয়েছে, কিন্তু এখন আর এভাবে পেরে উঠা যাচ্ছে না। পারার কথাও না।

ইঞ্জিনিয়ারিং এর মত একটা ব্যাপার, তাও আবার কম্পিউটার সায়েন্স যেখানে কিনা লজিক, চিন্তা ভাবনা আর ক্রিয়েটিভিটি না থাকলে কোনদিনই ভালো প্রোগ্রামার তো দূরের কথা টুকিটাকি কাজ চালানোই দূরহ ব্যাপার হয়ে যাবে, সেখানে তারা কিভাবে মুখস্ত করে আসছে সেটা দেখে শিউরে ওঠা ছাড়া আর কিছু করার নেই। এসব ছেলেমেয়েরা যখন পড়াশোনার গণ্ডী পেড়িয়ে প্রতিযোগিতার বাজারে নামবে তখন ব্যাপারটা কেমন হবে? আর এদের ভার্সিটির সিস্টেমটাও দায়ী কারণ ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ কঠোর হলে এসব শিক্ষার্থীরা অনেক আগেই সচেতন হত। এদের কাছ থেকে যেটা জানা গেল তা হল ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ, টিচার রা মুখে টাইট দিলেও কার্যত সেটার কোন প্রতিফলন থাকে না, প্রজেক্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও সেটা হল "গণ" এদের ভাষায়, মানে সবাই একই জিনিস কপি পেস্ট করে জমা দেওয়া। টিচাররাও নাকি কিছুই বোঝানোর ব্যাপারে পুরোপুরি উদাসীন তবে সেটার সত্যতা যাচাই করা তো সম্ভব না।

এসব "ইঞ্জিনিয়ার"রা যখন কোন এপ্লিকেশন বানাবে বা কোন প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকবে সেটার অবস্থা কেমন হবে বুঝতেই পারছেন। অবশ্য বাপের পয়সা ওয়ালারা নিজেরাই ফার্ম-টার্ম দিয়ে এডমিনিস্ট্রেশনে বসে পড়লে অন্য কথা আর সেটাই বরং ভালো!

দু:খজনক ব্যাপারটা হল, না বুঝে মুখস্ত করা - এই ব্যাপারটা স্বীকার করাটা এদের কারো জন্য লজ্জ্বাজনক বা অস্বস্তিকর নয়, সবাই হাসিমুখেই বলে আসছে, "মুখস্ত করি!" যেন মুখস্ত করাটা সেরকম কোন ক্রেডিটের ব্যাপার, শিক্ষকদের, সহপাঠীদের, পরীক্ষাব্যবস্থাকে ঘোল খাইয়ে রেজাল্ট ভাল করে যেন বিশাল ব্যাপার করে ফেলেছে। আমি স্কুলে বা কলেজে পড়ার সময় কোন কিছু না বুঝে মুখস্ত করেছি বলে মনে হয় না, কারণ ছিল দুটা: একনাম্বার হল প্রেস্টিজের, কেউ যদি ধরে ফেলে না বুঝে মুখস্ত করেছি, ইজ্জতের ফালুদা তখনই হয়ে যাবে। পরীক্ষায় ভালো করা কখনও উদ্দেশ্য ছিলনা আর যথারীতি পরীক্ষার ফলও ভালো হোত না! আর দ্বিতীয় কারণটা ছিল, মুখস্ত জিনিসটা অনেক যন্ত্রনার মনে হয় আমার কাছে, সে কারণে অনেক টপিক ছেড়েও দিয়েছি যেখানে অনেক টার্মস মুখস্ত করা ছাড়া উপায় নাই।

এখন কথা হোল, মুখস্ত করে ছেলেমেয়েরা কি পাচ্ছে? উত্তর: ভালো শিক্ষার্থীর সম্মাননা! জিপিএ ফাইভযে হেসে খেলেই পেয়ে যাচ্ছে সেটা তো দেখলেনই। বোর্ড গুলোরও প্রশ্ন যেই সিস্টেমে হয়ে আসছে তাতে মুখস্ত করে আর "সাজেশান" দেখেই পার পেয়ে যাওয়া যায়। এরপরই শুরু হয় মুখস্তবিদ্যা ধারীদের যন্ত্রণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাগুলো এখনও একটু টেকনিক্যাল হয় দেখেই যারা বুঝে পড়ে এসেছে, তারা এখনও পার পেয়ে যাচ্ছে। মেডিক্যালের ভর্তিপরীক্ষায় অবশ্য এই মুখস্তের একটা বড় অবদান থাকে, কিন্তু ডাক্তার হবার জন্য তো ভাল স্মৃতিশক্তি জরূরী! প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলো, আইবিএ, সরকারী বিশ্ববিদয়ালয় গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় না বুঝে মুখস্তকারীদের জন্য এখনো মোটামোটি যন্ত্রনাবিশেষ, তবে সেটা কতদিন থাকে সেটা আল্লাহই জানেন। যদি সরকার নিয়ম করে বসে যে স্কুল কলেজের জিপিএ আর "বয়স" দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া হবে, তাহলে আর বাকিদের কোন উপায়ই থাকবে না।


মুখস্ত করা ব্যাপারটা কিন্তু সরাসরি কোন সমস্যা না, অনেক টার্মস-ই আছে যেগুলো "মাথায় রাখতে" হয়। সেগুলো "মনে রাখা" বা মুখস্ত করা বাঞ্চনীয়। কিন্তু সমস্যা তখনই যখন বুঝে একটা জিনিস যার ধারণা খুবই স্বচ্ছ থাকার কথা, সেটা না বুঝে মুখস্ত করে ফেলা হয়। স্কুল বা কলেজের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এভাবে ধোকা দেওয়া সম্ভব, কিন্তু এর পরপরই এই বিদ্যার আদতে কোন মূল্য থাকবে না, যখন শুধু বইএর পেছন থেকে প্রশ্ন টুকে দেওয়া হবে না, বিষয়বস্তুর নিয়ে চিন্তা করে এটার একশো রকম এপ্লিকেশন চিন্তা করতে হবে।

দোষ কাকে দেব? শিক্ষাব্যবস্থাকে? আংশিক দোষ শিক্ষাব্যবস্থার ঘাড়ে চাপানো গেলেও বাকিটুকু না বুঝে পড়া শিক্ষার্থিদের নিজের ঘাড়েই থাকবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29077209 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29077209 2010-01-12 19:42:56
"বুয়েঠিয়ান" কেউ কোরবান হৈতে রাজি? আওয়াজ দেন <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_17.gif" width="23" height="22" alt="X(" style="border:0;" />

ফেচ্বুক থিকা আবিষ্কারকৃত

<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29070336 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29070336 2010-01-02 13:28:01
অবশেষে প্রকাশিত হল বাংলা ব্লগের প্রথম কল্পগল্প সংকলন ও নতুন কল্পগল্প সমগ্র " style="border:0;" /> অবশেষে প্রকাশিত হল বাংলা ব্লগের প্রথম কল্পগল্প সংকলন আর ২০১০ এ পাঠকদের জন্য উপহার হিসেবে সম্পূর্ণ নতুন কল্পকাহিনী সমগ্র!

অল্পকয়েকদিনের মধ্যে ই-বুক তৈরির কাজটি মোটামোটি অসম্ভব হলেও, সেই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে <img src=" style="border:0;" /> এজন্য প্রথমেই ধন্যবাদ দেবো শান্তির দেবদূত ভাই (নিরন্তর সমর্থনের জন্য), পারভেজ ভাই - সম্পাদনার গুরু দায়িত্ব যার কাধে ছিল, আকাশ_পাগলা, আমার সাথে সহ-সম্পাদনায় থাকার জন্য! সিজার ভাই (মুহম্মদ জায়েদুল আলম) ভাইও অনেক সাহায্য আর সমর্থন দিয়েছেন, যাদের আশ্বাস পেয়েই ই-বুকের কাজ শুরু করে দেই। কিন্তু এরপর? আগে কখনো ই-বুক বা প্রকাশনার কাজে কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় পড়ে গেলাম অথই সাগরে। সেসময়ই শুরু করলাম সাইফুর ভাই আর স্বপ্নজয় ভাইকে প্রতিনিয়ত জ্বালাতন! তারা হেল্প করেছেন চাওয়ার আগেই, বিশেষত: সাইফুর ভাই এর কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই হবে মাত্র একদিনের মধ্যেই প্রচ্ছদের কাজ করে দেবার জন্য, এবং আজকেও, প্রায় সারাদিনই উনি হেল্প করেছেন বিভিন্ন টেকনিকাল বিষয় নিয়ে। <img src=" style="border:0;" />

এবার ধন্যবাদ দিতেই হবে নতুন লেখা যারা দিলেন তাদের, যাদের গল্পগুলোই ই-বুক এর মূল আকর্ষণ! হ্যা, যাদের লেখা কল্পগল্প পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন, সবার লেখাই রয়েছে এতে! ব্যস্ততার জন্য অবশ্য কয়েকজন জনপ্রিয় লেখক লেখা দিতে পারেন নি, তাতে কি, তাদের পুরনো লেখাগুলো তো রয়েছে সংকলনে।

সবশেষে বিশেষ ধন্যবাদ সামহোয়্যার-ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষকে, যেই সামু ছাড়া এইসব কল্পগল্প আর সংকলন, কল্পনাও করা যেত না। আর ধন্যবাদ সাই-ফাই প্রেমীদের, যারা খুশি হলেই আমাদের সপ্তাখানেকের পরিশ্রম সার্থক হবে <img src=" style="border:0;" />

সাইফাই ই-বুকে ভুলত্রুটি হয়েছে অনেক, সবকিছু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ, আর অবশ্যই, শুভ নববর্ষ!


ই-বুক টি ডাউনলোড করা যাবে:

Click This Link - এই লিংক থেকে। জিপ ও পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করা যাবে।


<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29069277 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29069277 2009-12-31 21:15:08
ফারুকীর আরেকটি ছবি আর প্রাসঙ্গিক কিছু চিন্তাভাবনা
প্রচুর হলিউডি মুভি দেখা হয় বলেই, যারা ইতোমধ্যে জনাব ফারুকীকে বিশ্বমানের খেতাব দিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রশ্ন করতেই হয় 'বিশ্ব' কথাটার মানে আদৌ বুঝে কিনা। ফারুকীর সর্বশেষ বিনোদন থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার - ছবি নিয়ে এর মাঝেই অনেক ভালো ভালো সমালোচনা পড়ে ফেলেছি। ছবি নিয়ে সমালোচনা করতে পারছিনা কারণ এখনো দেখা হয়নাই এই ছবি (সমালোচনা পড়ার পর দেখার ইচ্ছা থাকার কথাও না)। ছবির চরিত্রগুলোর মাঝে মোশাররফ করিম এর অভিনয় ভাল লাগে অসম্ভব, তাই দেখার ইচ্ছা ছিল। পরিচালক তাকে বেছে নেবে এতে কোন সন্দেহর অবকাশ নাই। তবে কোকিল দিয়ে ময়ূরের রোল চালিয়ে নেবার অপচেষ্টায় যখন তপুকে নায়ক হিসেবে পর্দায় দেখি তখন হাহাপগে ছাড়া উপায় থাকে না। এমনিতেই গায়ক হিসেবে তাকে খুব একটা ক্লাসের মনে হয়না, তবে এটা সত্য বিশেষ গোত্রের কাছে তার পপুলারিটি আছে। পরিচালক সুকৌশলে এই পপুলারিটিকে কাজে লাগাতে চেয়েছে সন্দেহ নাই, যদিও এই ছবির পর গায়ক হিসেবে তার গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে কিনা সেটাও সন্দেহ করার মত ব্যাপার। হয়তো গায়ক তপু অচিরেই নায়খ তপুতে ক্যারিয়ার বিকাশের চিন্তাভাবনা শুরু করবে আর আমরা ধরে নিতে পারি, পরিবারতন্ত্রের মতই ফারুকীর ভবিষ্যতের সব ছবির পোস্টারে আমরা গিটার হাতে এই টেকো নায়কমুখকে দেখার সৌভাগ্য পাব। আর টিষার ব্যাপারে কিছু বলার নাই। অনেকেই হয়তো তারে ভালো পায় যাদের মাইনাস এড়াতে সুকৌশলে ব্লগে তার ছবিটি সংযোজন করা হয়েছে <img src=" style="border:0;" />

এবার ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু প্যাচাল পারি। জনাব ফারুকী সমাজের কিছু সমস্যা তুলে ধরতে চেয়েছেন। তার উপস্থাপনা ঠিক হয়নি বলে সবাই যে সমালোচনায় মেতেছেন, সেটা নিয়ে আমার কিছু বলার নাই। আমার প্রশ্নটা হল, চলচ্চিত্র যদি তৈরি করতেই হয়, সেটা কি নিয়ে তৈরি করা উচিত? বা আমাদের মত একটি পিছিয়ে পরা দেশে সীমিত রিসোর্স নিয়ে যেসব চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়, সেগুলোর বিষয়বস্তু আসলে কি হওয়া উচিত? এই বিচারে কি ফারুকীর ছবিটির বিষয়বস্তু বেছে নেওয়া আদৌ যৌক্তিক হয়েছে? হ্যা, বাইরে প্রচুর মুভি তৈরি হয়, সেসবের পেছনে বস্তা ভরা বাজেট থাকে। কিন্তু আমাদের মত দেশে তো সেই সুযোগ নেই। একারণে পাশের দেশটা মুকভর্তি মেকাপ আর পকেট ভর্তি বয়ফ্রেন্ড আর তাদের সাথে বহুমুখী সম্পর্ক নিয়ে মেগাসিরিয়াল তৈরির বিলাসিতে যেখানে দেখাতে পারে, আমাদের সেটা করার সুযোগ নেই। সিনেমার বিষয়বস্তু হিসেবে ফারুকী বেছে নিয়েছে স্বস্তা যৌনতা, মানি সেটা আমাদের সমাজে মেয়েদের অন্যতম হয়রানির বিষয়বস্তু, কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কি আরো কিছু ছিলো না? মেইড ইন বাংলাদেশ যেকারণে ভালো লেগেছিল, সেটাতে দেশের সমস্যাগুলোতে ফোকাস করা হয়েছিল, যদিওবা অবাস্তব সমাধানে। তারপরেও, সেখানে চিন্তা করার মত কিছু ম্যাটেরিয়ালস ছিল। আর এজন্যই, ছবিটা ভালো লাগে। আর এখন?! ফারুকী তুলে ধরতে চেয়েছে যৌনতা-ই সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যধি যে রোগে তরুণ বৃদ্ধ সবাই অসুস্থ। ভালো। যদি সমাজের শৃঙ্খলে আটকে পড়া মেয়েদের জীবন নিয়েই সিনেমা তৈরি করতে হত, তাহলে সেটার একটা অংশ হয়তো হতে পারত থার্ড পার্সনের এই থিমটা, পুরো ছবি জুড়ে সেটার গ্রহনযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বেই।

আরেকটা ব্যাপার, ছবি আসলে কি নিয়ে তৈরি করা উচিত? সমাজের সমস্যা, নাকি সম্ভাবনা? এই প্রশ্নে আমি অবশ্যই সম্ভাবনা কে প্রাধান্য দেব, বিশেষ করে যখন আমাদের মত গরীব দেশে যখন হাতে গোণা কয়টা ভালো ছবি তৈরি হয়। সমস্যা দেখিয়ে কোন লাভ নেই, যতক্ষণ না সেটার গ্রহণযোগ্য কোন সমাধানও ছবিতে দেখানো হয়। আমার জানা মতে, ফারুকী সাহেব কোন সমাধান দেখান নি ছবিতে। বরং তিনি যা দেখিয়েছেন, তপু আর মো. করিম হাত ধরে প্যারালালি এগিয়ে যাচ্ছে, তার মানে কি? সমস্যা আমাদের মেনে নিতে হবে! ফারুকী যেখানে ছবি দেখাতে পারতো তরুণ সমাজ, স্পেশালি মেয়েরা কিভাবে একটা সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে, সেখানে সে কি দেখালো? তরুণ সমাজ যৌনক্ষুধায় মৃতপ্রায়। আজব। ফারুকীর এই ছবি দেখে কোন শিক্ষা বা অনুপ্রেরণা কি নেবার থাকলো? মনে হয়না। বরং, একটা ছোট সমস্যাকে একশো গুণ বড় করে দেখালে সেটার গ্রহণযোগ্যতাই আরো বাড়ে। এখন যদি ইম্ম্যাচিউর কেউ ছবিটা দেখে এটা ভেবে বসে যে লিভ টুগেদার আমাদের দেশের অন্যতম কালচার, তাকে দোষ দেবারমত কিছু থাকবে না। অনেকেই হয়তো তাদের ফ্রীক লাইফস্টাইলের এমন খোলামেলা প্রকাশটার চলচ্চিত্রায়নে বরং খুশিই হবেন। নিন্দুকেরা ইতোমধ্যেই, ফারুকী এবং তার সঙ্গীদের এই ফ্রিক গোষ্ঠীর অংশবিশেষ ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন।

কাজেই আমার মতামতটা এরকম, ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনার সাথে ছবিকে জড়িয়ে দর্শকদের বিভ্রান্ত করার আগে আরেকটু ভাবুন। ফারুকীর এই ছবির গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু সেটা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু আমি বলি, এইধরণের বাণিজ্যিক ছবি তৈরি না করে সম্ভাবনার কোন ছবি তৈরি করলে সেটার গ্রহণযোগ্যতা কি বাড়বে না? রস দেখার জন্য কেউ হলে গিয়ে ফারুকীর এই ছবি দেখবে না। তাদের হাতে এর চেয়ে খোলামেলা অনেক অপশন আছে। তাহলে ছবিটা দেখতে যেতো কারা? আমাদের মত মানুষ, যারা একটা ভালো, ব্যতিক্রমী, সম্ভাবনাময় ছবি দেখতে আগ্রহী। ছবিতে একটু মেধার প্রতিফলন দেখতে চাওয়া এই দর্শকগোষ্ঠীকে ফারুকী হারালো তাতে সন্দেহ নেই। পাইরেট্স অব দ্যা ক্যারিবিয়ানের মত ছবির স্পেশাল ইফেক্টস টিমের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশী বংশদ্ভূত একথা ভেবে যখন গর্বিত হয়, তখনই দু:খ লাগে যে এইসব মেধাবীদের আমরা আমাদের চলচ্চিত্রে পাই না। ফারুকী স্বস্তা পপুলারিটির মোহ কাটিয়ে আমাদের উপহার দিক অন্যরকম কোন একটি ছবির। যেখানে ভাড়ামী আর ন্যাকা ন্যাকা ডায়ালোগে ঠাসা ঢঙ্গী কেউ থাকবে না। থাকবে এমন কেউ, যাকে দেখা আমাদেরও স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করবে। ফারুকীর মতো লোকদেরই সম্ভব এরকম ছবি তৈরি করতে। আমরা তো আর স্পেশাল ইফেক্টসে ঠাসা ছবি চাচ্ছি না। চাইছি ছবিতে একটু মেধার প্রতিফলন, যেখানে থাকবে স্বপ্ন আর সম্ভাবনা, যেই ছবি দেখে আমিও বাঙ্গালী হিসেবে গর্ব বোধ করতে পারি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29065498 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29065498 2009-12-25 21:53:32
২০০৯ এর নতুন যত এনিমেশন মুভি <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> নতুন মুভির লিং সহ আরেকটি মুভিখোর পোস্ট <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_71.gif" width="23" height="22" alt="!:#P" style="border:0;" /> [আপডেটেড]
ডাউনলোড লিংক ক্রমান্বয়ে পোস্টে আপডেটেড করে দেবার চেষ্টা করবো।

The Princess and the Frog



ওয়াল্ট ডিজনির এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ১১ই ডিসেম্বর, এখনই র‌্যান্কিং ৭ এর ওপরে, আর পপুলারিটি বাড়ছে ২৮৮% হারে!! এই ছবি তো দেখতেই হবে। রূপকথার সেই ব্যাঙ রাজকুমারীর কাহিনী নিয়ে ছবি, রাজকুমারী হল প্রিন্সেস টিয়ানা <img src=" style="border:0;" />

আইএমডিবি

Alvin and the Chipmunks: The Squeakquel



Alvin and the Chipmunks এর আগের পর্বটি এর রেটিং কম হলেও এই পর্বটি জনপ্রিয় হবে বলে আশা করাই যায়। ২৩ এ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ছবিটির কাহিনী মোটামোটি এরকম: চরম জনপ্রিয় ইদুর বাহিনী Chipmunks তাদের ব্যস্ত জীবনে আরকেটি মিউজিক গ্রুপ The Chipettes এর সাথে প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে। আরো মজা হল ... The Chipettes এর সবাই আবার নারী-ইদুর। তো ছবি দেখলেই জানবেন বাকি কাহিনী.....

আইএমডিবি

A Christmas Carol



চার্লস ডিকেন্স এর ক্লাসিক উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি আরেকটি ফাটাফাটি ছবি। রেটিং ৭.১ এবং পপুলারিটিও বাড়ছে ক্রমশ! কাহিনীটা ইন্টারেস্টিং মনে হল, ডিজনির এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছে নভেম্বর ৬ এ।

আইএমডিবি: http://www.imdb.com/title/tt1067106/

Planet 51



ইন্টারেস্টিং গল্প নিয়ে আরেকটি পপুলার ছবি! রেটিং ৬ এর ঘরে তবে বাড়ছে, মুক্তি পেয়েছে ২০ নভেম্বর। কাহিনী এরকম: এমেরিকান এক এস্ট্রোনাট প্ল্যানেট ৫১ এ ল্যান্ড করে এই ভেবে যে, সেই প্রথম এই গ্রহে পদচিহ্ন আকা মানব সন্তান। তবে দু:খের বিষয় হল... গ্রহের সবুজ বাসিন্দাদের হাতে পড়তে তাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।

আইএমডিবি: http://www.imdb.com/title/tt0762125/

ডাইরেক্ট ডাউনলোড: Click This Link

টরেন্ট ডাউনলোড: Click This Link)_R5_DVDRip_XviD-MAX

Summer Wars (Samâ wôzu)



এই ছবিটার খবর দেওয়ার জন্য স্বাধীনতার বার্তাকে ধইনাপাতা। Kenji Koiso নামের এক গণিত-পাগলার গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে নেওয়া এক ইন্টারেস্টিং পার্ট-টাইম জব নিয়ে মুভির কাহিনী। তার জব হল - Natuski নামের মেয়ের পাণিপ্রত্যাশীর ভূমিকায় অভিনয় করা! এর মাঝেই সে জটিল গাণিতিক সমীকরণ সমাধান করতে গিয়ে পৃথিবীর সাথে আরেক প্যারালাল জগতের সংঘর্ষ ঘটিয়ে ফেলে! (রেটিং ৭.৪)

আইএমডিবি: http://www.imdb.com/title/tt1474276/

Ponyo



জাপানীজ ছবি, আর স্বাভাবিক ভাবেই আকর্ষণীয় কাহিনীর। পাচ বছরী এডভেঞ্চার প্রিয় ছোট্ট একটি বালকের গোল্ডফিশ প্রিন্সেস এর সাথে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব নিয়ে, যে কিনা হতে চায় সত্যিকারের মানুষ!

আই এম ডি বি: http://www.imdb.com/title/tt0876563/

Fantastic Mr. Fox



দুনিয়ার তাবৎ শেয়ালের মত আমাদের মি:ফক্সের জালায় গ্রামবাসীদের দৌড়ের ওপরে থাকতে হয়। আর কতদিন, এবার সবাই জমায়েত হল ফক্স বেটাকে উচিত শিক্ষা দিতে....

আইএমডিবি রেটিং: ৮.৩ (কমছে যদিও) মুক্তি পেয়েছে ২৫ নভেম্বর। আইএমডিবি লিংক: http://www.imdb.com/title/tt0432283/

নতুন মুভির তালিকায় আর কাউকে যোগ করা গেলনা। এগুলোর ডাউনলোড লিংকের জন্য তাহলে অপেক্ষা করতে থাকুন! আর ২০০৯ তো ভালো এনিমেশন মুভির বছরই হয়ে গেল! ২০০৯ এ বের হওয়া জোশ সব এনিমেশন মুভির তালিকায় থাকবে Up , Mary and Max, Coraline, Monsters vs. Aliens, 9 (Nine) - এনিমেশন প্রেমীদের জন্য প্রত্যেকটা দেখা ফরয!


প্রাসঙ্গিক: সবাইকে নিয়ে দেখার মত ফ্যামিলি এনিমেশন মুভি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29060762 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29060762 2009-12-17 21:46:05
কল্পকাহিনী: স্মৃতি (শেষ পর্ব) পর্ব - ৩

সকাল থেকেই বাইরেr কোলাহল সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছিল। সপ্তম মাত্রার অপরাধী হিসেবে প্রিজন সেলে আমি একটু বেশিই সুবিধা ভোগ করছি। দিনে আমার দু'ঘন্টা করে ল্যাবে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে (কপোট্রয়েড দের প্রায়ই এই সেই ঝামেলায় জেলে ঢুকতে হয় কিনা, তাই এই বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিয়েছে!)। এখানে আসার পর থেকে সেই দু'ঘন্টার সবটুকুই আমি কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে মেমরি মেইজের পেছনে ঢেলেছি। এখন আমার স্মৃতি প্রায় আগের মতই, কৈশোর থেকে শুরু করে ল্যাবরেটরীর পরিকল্পিত দুর্ঘটনা পর্যন্ত সবটুকুই মনে করতে পেরেছি। আজ স্বয়ংক্রিয় বিচার ব্যবস্থার সামনে প্রমাণ করতে হবে, এর আবিষ্কারক আমিই। যেকারণে গত তিনমাস সেলে বন্দী থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ল্যাবরেটরীতে গিয়ে দরকারী সব তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে আমাকে। দিনশেষে সবকিছু স্যাটেলাইটে রেখে ডেটাকার্ডটা আইনজীবীর হাতে তুলে দিলাম। আইনজীবী বায়োবট তার পেটে লাগানো ডেটারিডারে কার্ডটা ঢুকিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইটের সাথে কানেকশন তৈরি করলো। "রুশান, তুমি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকতে পার।"

বায়োবটের প্রতিশ্রুতি স্বত্ত্বেও একটু অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছিলাম। কারণ, মেমরি মেইজের কন্ট্রোল মুডের সবকিছুই আমি আগের স্মৃতি থেকে বের করতে পেরেছি। কিন্তু স্মৃতির একটি বিশেষ অংশে পৌছনের পরে মেমরি মেইজ অস্বাভাবিক এক্সেপশন তৈরি করছে। মেমরির সেই অংশে নাকি আমার অধিকার নেই! প্রথমদিন এটা দেখার পর অট্টহাসি আটকে রাখতে পারিনি। আমার স্মৃতি তো আরেকজনের সম্পত্তি, এটায় আমার অধিকার থাকবে কেন! কিন্তু পরের দিনও সেই একই কাহিনী ঘটতে লাগলো। অনেক চেষ্টা করেও এর রহস্য সমাধান করতে পারলাম না। হতে পারে কোন একটি বাগ, যেটির সমাধান করা সম্ভব হয়নি, আর নাহয় সেই যুবক বয়সের রসিক মনের অবদান। সেটা রসিকতা হিসেবেই থাকুক।

প্রিজন সেলের থার্মোডেসিবেলে বাইরের উত্তেজনার গ্রাফটা দেখছিলাম, হঠাৎ দরজা খুলে গেল। স্বয়ংক্রিয় ওয়েজার (নির্ঘন্ট দ্রষ্টব্য) হাতে ভাসমান রবোটগুলো মুহূর্তেই রুমের ভেতর ঢুকে বাহুতে ট্র‌্যাকার লাগিয়ে দিল। দলপতি কমান্ডো রবোট টি পিঠে খোচা দিয়ে বললো, চল।

আমি ভেবেছিলাম আমাকে কোন বিচারকক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে কিন্তু দেখাগেল পুরোনো আমলের উপাসনালয়ের মত একটি বিশালাকৃতির রুমে নিয়ে গেল। আমাকে একা ফেলে রবোটগুলো দরজা সিল করে ভেসে চলে গেল।

কক্ষটি বড় এবং ধুলায়িত। হাটতে হাটতে আমি আরেক মাথার দিকে যাচ্ছিলাম, এবং হঠাৎ বুঝতে পারলাম যে আমি কখনোই ওমাথায় যেতে পারবো না। এইযে হাটছি, প্রতিটি পদক্ষেপে ধুলো উড়ে যাচ্ছে, আমার পদচিহ্ন আকা হচ্ছে, কিন্তু আমার জুতোয় কোনো ধুলো ভরছে না। সবই কোন কুশলী ডিজাইনারের নকশায় তৈরি করা কোন প্রোগাম। কোনার দিকে তাকাতেই হলোগ্রামের উৎস গুলো ধরতে পারলাম। মুহূর্তেই যেন রুমটির মধ্যে ঝড় বয়ে গেল। রুমের আকৃতি পরিবর্তিত হল, নির্জন কক্ষটি জনাকীর্ণ একটি বিচারকক্ষে পরিনত হল, গাউনধারী আমার বায়োবট আইনজীবিকে এক কোণায় দেখতে পেলাম তার ডেটারিডার হাতে। বিচারক্ষের এমন দৃশ্য আমি পুরোনো আমলের চলচ্চিত্রে দেখেছি। লোকজন ইতস্ততভাবে কথা বলছিল আর আমার দিকে তাকিয়ে দেখাচ্ছিল অন্যদের। সহসা টুক করে অন্যপ্রান্তের দরজা খুলে গেল আর হাতে পায়ে কড়া লাগানো রিয়ানাকে দেখতে পেলাম। তার পেছনে ধাতব অস্ত্রধারী প্রহরী। আমার নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার হাতেও কড়া এসে গেছে। কড়ার ওপরে আন্গুল রাখতেই হলোগ্রাফিক আলোর ওপর দিয়ে আঙ্গুল চলে গেল। ওপারে লিয়ানাকে দেখে আর চেনা যাচ্ছে না, মনে হয় কোন মহাকাশযানের শীতল কক্ষে কয়েক আলোকবর্ষ দূরের গ্রহ থেকে ফিরে এসে চিরচেনা পৃথিবীর পরিচিত মুখগুলোকে সে হারিয়ে ফেলেছে। আমার মনের ভেতরে একটি অংশে পুরোনো অনুভূতি ফিরে আসতে চাইছিল, আমি জোড় করে সেটি ভুলে যেয়ে চোয়াল শক্ত করে দাড়িয়ে রইলাম বিচার শুরুর অপেক্ষায়।

কয়েক ঘন্টা পর।

ওপারে লিয়ানা বিভ্রান্ত দৃষ্টি নিয়ে দাড়িয়ে, তার আইনজীবি রবোটির অতিরিক্ত কুলিং প্রসেস দেখে মনে হল পুরো প্রসেসর খরচ করে চেষ্টা করছে যুক্তি দাড় করানোর। যুক্তিতর্ক পর্ব প্রায় শেষের দিকে। আমার কুশলী আইনজীবি বট হাসিমুখে কাদের সাথে আলাপ আলোচনা করছিল। হঠাৎ ওপাশে কারো কন্ঠে বিচারক্ষে নীরবতা নেমে এল, "মহামান্য বিচারক, আমি এই মেমরি মেইজ একবার ব্যবহার করতে চাই।"

কথাটা আর কেউ না বলেছে লিয়ানার আইনজীবির রবোট। বিচারকক্ষে হাসির রোল বয়ে গেল। স্পীকারে উচ্চ কম্পাঙ্কের বীট তৈরি করে সবাইকে থামিয়ে বিচারকের কন্ঠ ভেসে এলো, "ওহে রবোট, আপনার স্মৃতির জন্য সম্পূর্নভাবে নিজের মেমরি মডিউলের ওপর নির্ভর করতে পারেন। আমি নিশ্চিতভাবেই জানাচ্ছি, বিজ্ঞানী রিশান এই যন্ত্র যন্ত্রদের উদ্দেশ্যে তৈরি করেন নি!"

লিয়ানার আইনজীবির সূক্ষ পলিমার দিয়ে তৈরি মুখে কৌতুকবোধ ফুটে উঠলো, "মহামান্য বিচারক, আমি আমার স্মৃতির ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি। মেমরি মেইজটি ব্যবহার করতে চেয়েছেন আমার ক্লায়েন্ট লিয়ানা। আশা করি এতে কারো আপত্তি থাকার কথা না।"

রবোটের এই কথায় আমি কেমন জানি উত্তেজনা আর অস্বস্তি অনুভব করলাম। স্বয়ংক্রিয় বিচারকের কন্ঠ ভেসে এল, বিজ্ঞানী রিশান, আপনার কোন আপত্তি না থাকলে আমরা অভিযুক্ত লিয়ানাকে একবার যন্ত্রটি ব্যবহার করতে দেব।

আমি কেন জানি অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। লিয়ানার মুখের দিকে তাকালাম। তার দৃষ্টি অসীমে এবং চোখমুখে বিভ্রান্তি। লিয়ানার ওপরে এতটুকু করুণা আমার নেই। আমি অনুমতি বাতিল করে দিতে চাইছিলাম, হঠাৎ আমার আইনজীবী বায়োবটের গলা শুনে থমকে গেলাম, "মহামান্য বিচারক, আমার ক্লায়েন্টের আপত্তি নেই অভিযুক্ত অপরাধীকে এই মেমরি মেইজ ব্যবহার করতে দেয়ায়। কিন্তু শর্ত একটাই, সে কি দেখবে সেটা আমরাও দেখতে চাই। তার স্মৃতির হলোগ্রাফিক ছবি আজকের সমাবেশের সবাইকে দেখানো হোক। আজ আমরা জানবো এক অপরাধীর মন কিভাবে কাজ করে!"

বায়োবটের কথায় সবাই যেন খুব উত্তেজিত মনে হল। ব্যাপারটা আমার কাছে ভালো লাগছিল না, আমি বায়োবট আইনজীবীকে ইশারায় ডাকলাম, সে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে দিল। ব্যাটা নিজেকে মহাজ্ঞানী ভাবতে শুরু করেছে। উত্তেজনার মাঝেই দেখলাম ভাসমান নিরাপত্তা রবোটগুলো মেমরি মেইজ নিয়ে এসে লিয়ানার সামনে নিয়ে দাড়ালো। স্বয়ংক্রিয় বিচারক স্পিকারে বললেন, "অভিযুক্ত লিয়ানা, আপনার স্মৃতির অংশবিশেষ আমরাও দেখতে চাই। যদি আপনার কোন আপত্তি না থাকে।"

লিয়ানা আস্তে আস্তে ইলেক্ট্রডগুলো হাতে নিল। এরপর শীতল কন্ঠে বললো, আমি রিকভারি মুডে মেমরি মেইজ চালু করতে চাই।

লিয়ানার কথায় আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু খেয়াল হলো বিচারকক্ষের পুরনো আমলের কিন্তু কার্যকরী শীতাতপ নিয়ন্ত্রক কাজ করা সত্ত্বেও আমি ঘামতে শুরু করেছি।

--------------------

অভিযুক্ত বিজ্ঞানী রুশানের স্বয়ংক্রিয় ব্লগ রেকর্ড এখানেই শেষ।
জানা যায়, সেদিন স্বয়ংক্রিয় বিচারকের রায়ে অভিযুক্ত রুশানের মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর, বিজ্ঞানী লিয়ানার মৌলিক আবিষ্কার চুরি, গবেষণাগারে লিয়ানার স্বামী হান সহ বারোজন বিজ্ঞানী ও টেকনিশিয়ানের হত্যাকান্ড, লিয়ানার আবিষ্কৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লিয়ানার স্মৃতি পরিবর্তন করা ও পরিশেষে নিজের স্মৃতিও পরিবর্তন করে দেওয়া। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে রুশান উল্লেখযোগ্য মানের তেমন কেউ ছিল না। প্রচন্ড মেধাবী হান ও তার বান্ধবী লিয়ানার রিসার্চ প্রজেক্ট মেমরি মেইজে অনেক অনুনয় কর সে নিজেকে যুক্ত করে। ছোটবেলা থেকেই রুশানের যেই অপূর্ণতা ছিল, মেধামানে, সেটার লক্ষ্যপূরণের সুযোগ অবিশ্বাস্য ভাবে পেয়ে যায় রুশান। কিন্তু অপরাধবোধের গ্লানি সহ্য করার মত ক্ষমতা তার ছিলো না। তখনই সে চতুর এক পরিকল্পনা করে- নিজের স্মৃতির পুরোটুকুই ওভাররাইড করে লিয়ানার স্ম্বতি দিয়ে। এরপর হত্যাকান্ড, লিয়ানার স্মৃতি পরিবর্তন, এবং অপরাধবোধ এড়াতে নিজের কল্পিত স্মৃতিভ্রমের অবতারণা। সবই সম্ভব হয় হান ও লিয়ানার আবিষ্কার মেমরি মেইজ দিয়ে। কিন্ত যেটা সম্ভব হয়নি - লিয়ানার স্মৃতির সংরক্ষিত অংশ, যেটায় অনুপ্রবেশ করতে গেলে রিয়ান ব্যর্থ হত। আর সেদিন বিচারক্ষে সেই সংরক্ষিত স্মৃতি পুনরুদ্ধার করেই লিয়ানা ঘটালো এই নাটকের অবসান।

রুশানের মৃত্যদন্ড কিভাবে কার্যকর করা হয়েছিল সেটি জানা যায়নি। তবে জানা যায়, মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আগের দিন নিরাপত্তা রবোটের ওয়েজার হাতিয়ে আইনজীবী বায়োবটের কপোট্রন উড়িয়ে দেয় সে।

নির্ঘন্ট দ্রষ্টব্য ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29057976 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29057976 2009-12-13 12:16:47
কল্পকাহিনী: স্মৃতি (৩)

আমি এখন সপ্তম মাত্রার অপরাধী।

না, অবৈধভাবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর আর্কাইভঘরে ঢোকার অপরাধে নয়। সেবার ছাড়া পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি, লিয়ানা-ই সারা শহর তন্ন তন্ন করে খুজে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে। ফেরার পথে সারাটা পথে পাবলিক বার্ভালে আমাকে ধরে কাদতে কাদতে। ওর কান্নায় ভিজে আমার পোশাক গ্রাফোলিনের না হলে পলিমারের হলে নিশ্চিতভাবে শুকোতে তিনদিন লাগতো। বাসায় ফিরেও কেদেছে। আমি বলিনি একটি কথাও। বসে বসে ও'র কান্না দেখেছি। মানুষ পারেও! বিনোদনের জন্য পাবলিক হলোগ্রাফিক চ্যানেলগুলোর মেয়েরা কর্নিয়ার ওপরে ভিট্রিয়াস লোশন লাগিয়ে যেমন কান্নাকাটির অভিনয় করে আরকি, আর সেই পানি নাকি নোনাও হয়!

"তোমার যত অভিনয় আর স্বস্তা কান্না, শুনিও তোমার বিবেক-টাকে সামনে ধরে আয়না"

কোথায় শুনেছি কথাটা ভুলে গেছি। কিন্তু ও'কে শোনাতে ভুলিনি। ফলাফল যা হবার তা-ই, ছাড়াছাড়ি। লিয়ানা ভাবতেও পারে নি এরকমভাবে পরিস্থিতি বদলে যাবে। যেদিন ও'কে খুলে বললাম সবকিছু, জবাব চাইলাম এত বছরের প্রতারণার, কোন উত্তর ও দিতে পারেনি। উত্তর আমি চাইনিও, চলে এসেছি সবরকমের প্রতারণাকে পেছনে ফেলে, জমানো ইউনিট যা ছিল খরচ করে শহরে একটা খুপড়িতে নিজের গবেষণাগার গড়ে তুলেছি। এই অবস্থায় কাজটা সহজ করে দিয়েছে বিপদের দিনের জন্য জমানো ইউনিটগুলো। রাত দিন পড়ে রইলাম গবেষণায়। নিউরাল নেটওয়ার্ক। সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপরে ত্রিতানের সূত্র। ঘরে বসে গবেষণা এগুনো খুব একটা সুখকর অভিজ্ঞতা হতে পারে না। ফলে যা করতে হলো, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত হয়ে গেলাম শুধু নিউরাল নেটওয়ার্কে এক্সেস পাবার জন্য। এরপর আমাকে পেছনে তাকাতে হয়নি।

সপ্তম মাত্রার অপরাধীদের সেলে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য বাইরের জগতের সাথে খুব একটা যোগাযোগের সুবিধা থাকেনা। তারপরেও বাইরের কিছু উত্তেজনা আর কোলাহল কানে আসছিল। আর সেলের আমি ভেতর পা এলিয়ে বসে হলোগ্রাফিক জানালাটার দিকে তাকিয়ে আছি। সাগরের দৃশ্য বদলে গিয়ে একটি বাচ্চা মেয়ের দৃশ্য জানালায় ভেসে উঠলো। লাল ফ্রক পড়া মেয়েটা পুতুল জড়িয়ে দাড়িয়ে আছে খোলা মরুভূমির কোন একটা জনশূন্য বাড়ির সামনে। কালো চোখজোড়ায় কি অসীম বিষণ্ণতা....

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মস্তিষ্কের সাথে ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগের প্রটোকল নিয়ে পড়াশোনা শেষে আমি আরো অস্থির হয়ে পড়লাম। উদ্ভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়ালাম কিছুদিন। এরপরই জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা টা ঘটল।

রিকিভ শহরের শতবর্ষ পূর্তিতে বিজ্ঞান কাউন্সিলের আয়োজনে সবচেয়ে বড় যে প্রযুক্তি মেলা হয়, ঘটনা ঘটল সেখানেই। বিজ্ঞান কাউন্সিল প্রতিবার সেরা প্রযুক্তি বিচারে যে পুরস্কার দিয়ে থাকে, এবার সেটার জন্য মনোনীত হয়েছে "মেমরি মেইজ"। দেখে কোনভাবেই বোঝার উপায় নেই, কি এর মহিমা। বিদঘুটে হেলমেট মাথায় চড়িয়ে হলোগ্রাফিক স্ক্রীনে মস্তিস্কের নিউরনে ঘুরে বেড়ানো যাবে! প্রাইভেসি রক্ষা করে অবশ্যই। মানে ধরুন হলোগ্রাফিক স্কৃণে আপনার মস্তিষ্ককে দেখাবে গোলকধাধার মত, আর সেখানকার একপ্রান্তে দাড়িয়ে থাকবেন আপনি। কোন একটা স্মৃতির কথা চিন্তা করবেন, আর গোলকধাধা ঘুরিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে মস্তিষ্কের স্মৃতির সেই বিশেষ অংশে! মজার ব্যাপার হল, সেই বিশেষ অংশে যাবার সময় আশেপাশের স্মৃতিগুলোও পড়ে ফেলতে পারে এই মেমরি মেইজ। মানে ধরুন আপনি কোন একটা স্মৃতির কথা মনে করতে পারছেন না, সেই স্মৃতির কাছাকাছি কোন ঘটনার কথা ভাবতে থাকুন, মেমরি মেইজ যদি আপনাকে স্মৃতির সেই অংশে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে কাছাকাছি অন্য ঘটনার স্মৃতিগুলো জেনে ফেলতে পারবেন।

বিজ্ঞান কাউন্সিলের মেলায় দেখেই বুঝছিলাম, এই মেমরি মেইজকেই খুজছি আমি। আমার হারানো স্মৃতি খুজে পেতে কেউ যেন আগে থেকেই তৈরি করেছে এই মডিউল! কে সেই আবিষ্কারক?

আমি!

কিভাবে এই স্মৃতি পুনরুদ্ধার করলাম, সেটা আর বলছি না। তবে এতটা সহজ হবে আমি নিজেও ভাবি নি। বিজ্ঞান কাউন্সিলের মেলায় প্রতিটি দিন পরে থেকছি আমি মেমরি মেইজের সামনে। একটু ফাকা পেলেই ছুটে গিয়ে মাথায় পড়েছি সেই বিশেষ যন্ত্র....সহ্য করেছি ইলেক্ট্রডের স্পার্ক, কিন্তু নিজের স্মৃতির চেয়ে মূল্যবান আর কিছু হতে পারে? না। মেমরি মেইজে জেনেছি আমার গ্র‌্যাজুয়েট , পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট আর রিসার্চের সব ঘটনা। সবচেয়ে কম বয়সে বিজ্ঞান কাউন্সিলের জন্য মনোনীত হবার কাহিনী। এরপর সহকর্মীদের সাথে মেমরি মেইজের প্রজেক্ট হাতে নেয়া। লিয়ানার সাথে প্রেম থেকে বিয়ে। আমার সব সর্বনাশের হোতা যে এই মেয়ে, সেটা যদি জানতাম! কেন ওকরে মেমরি মেইজে বসিয়ে স্মৃতিগুলো হাতড়ে দেখিনি! বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই আমি হানকে দেখতে পারতাম না। ধান্দাবাজ এই ছেলেটি সব কিছুতেই করতো ব্যবসায়িক চিন্তা, প্রতারণা, অবৈধ পেটেন্ট ব্যবসা থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যা সে করেনি। লিয়ানা যেদিন হানকে ছেড়ে আমার কাছে এসে পড়লো, সেদিন লিয়ানাকে বলেছিলাম আজ আমি সবচেয়ে সুখী। হলোগ্রাফিক জানালার বিষণ্ন মেয়েটির আইরিশের রং কালো থেকে সমুদ্রের নীলে বদলে গেল, আর আমার চোখে ভর করলো তার বিষণ্ণতা।

আমি সপ্তম মাত্রার সেলে বসে বাইরের উত্তেজনাটুকু টের পাচ্ছি। আজ আমার বিচার। লিয়ানারও। সেই লিয়ানা, যে আমার কাছে এসেছিল শুধু হানের স্বার্থেই, মেমরি মেইজ প্রজেক্টের পেটেন্ট যাতে আমি বিক্রিকরে দেই হানের কাছে। তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি, আমি পেটেন্ট দিতে চাইনি। এরপরই সব হয়ে গেল ওলটপালট। গবেষণাগারে পরিকল্পিত দুর্ঘটনা, সব বিজ্ণানী আর টেকনিশিয়ানদের মৃত্যু, কাকতালীয় ভাবে মস্তিস্কের সিরিয়াস ইনজুরি নিয়ে আমার বেচেযাওয়া। সেই থেকে শুরু হল লিয়ানার প্রতারণার জীবন! কারন ল্যবরেটরীর এক্সিডেন্ট টা পরিকল্পনা মত ঘটলেও বাচতে পারেনি হান, পালানোর সময় লেজার বীমে পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে।

মেমরি মেইজের সৌজন্যে ফিরে পাওয়া স্মৃতি আমার বেচে থাকার প্রশ্নের সমাধান দিতে পারলেও নিয়ে এসেছে আরেক বিপত্তি। মেমরি মেইজের পরীক্ষামূলক দুর্ঘটনায় যে বারো জন বিজ্ঞানী আর টেকনিশিয়ান মারা গিয়েছে, সেটার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বয়ংক্রিয় ফেডারেল সিস্টেম। এতবড় দুর্ঘটনা সচরাচর চোখে পড়ে না, তাও খোদ কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান কাউন্সিলের সদস্যরা দুর্ঘটনার শিকার বলে অপরাধের মাত্রা ধেই করে সপ্তমে চলে গিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় বিচার ব্যবস্থায় লিয়ানাও অপরাধী। আজ তারও বিচার। আমার সাথেই। যার জন্য পুরো জীবনটাই ওলটপালট হয়ে গিয়েছে আমার। যেখানে আমার থাকার কথা বিজ্ঞান কাউন্সিলের সর্বোচ্চ প্যানেল -

সেখানে আমি আজ সপ্তম মাত্রার অপরাধী!

পরবর্তী পর্বে সমাপ্য]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29056611 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29056611 2009-12-10 16:38:50
কল্পকাহিনী: স্মৃতি (২) আগের পর্ব

প্রযুক্তি মেলায় যে ব্যাপারটা ঘটল, সেটা নি:সন্দেহে চমকপ্রদ। কিন্তু আমি এই ব্যাপারটা আর রিয়ানাকে জানাতে কেন জানি সাহস পাচ্ছিলাম না। কেমন জানি অস্বস্তি লাগছিলো একটা। মাথাভর্তি একরাশ প্রশ্ন নিয়ে আমি সেদিন পুরো বিকেলটা প্রযুক্তি মেলায় পড়ে থাকলাম। রোবট স্টলটার লোকগুলো আমাকে ঘাটানোর আগেই সেখান থেকে সড়ে পড়েছি, কেন জানি মনে হচ্ছিলো কৌতুহল প্রকাশ করার জন্য এটা উপযুক্ত জায়গা নয়।

পরের দিন সকালে টেবিলে বসে খাবার গুলো চামচ দিয়ে ইতস্তত: নাড়াচাড়া করছিলাম। রিয়ানা বিষয়টা খেয়াল করে আমার কাছে এসে বলল, তোমাকে এরকম অস্থির লাগছে কেন? কাল মেলায় গিয়েছিলে, সেখানে কোন কিছু হয়েছে?

আমি এড়িয়ে গিয়ে বললাম, না রিয়ানা সেরকম কোন ব্যাপার না। হয়েছে কি, গ্রামে পুরোই হাপিয়ে উঠছি। শহর থেকে একটু ঘুরে এলে কেমন হয়?

রিয়ানা আমাকে শহরে যেতে দেওয়ার ব্যাপারে ১০০টা আপত্তি তুললো। কারণটা হল, সে আমাকে কখনোই শহরে যেতে দেখিনি। অনেক কষ্টে তাকে রাজি করিয়ে বেশকিছু ইউনিট ধার করে ফেললাম। গ্রাম থেকে শহরে যাওয়া যাবে পাবলিক ভার্বালে, সময়ও বেশি একটা লাগলো না। শহরে এসেই সোজা চলে এলাম সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে।

লাইব্রেরীতে ঢোকার পর হার্টবিট খুব দ্রুত বেড়ে গেল। নির্জন এক কোনায় বসে লাইব্রেরীর পাবলিক চ্যানেলে একশোটা বইখুলে এর মাঝে ডুবে গেলাম। উত্তেজনায় বুক ধকধক করছে, রবোটিক্স এর গভীরে ঢুকছি যত, মাথার ভেতরে যেন একের পর এক দরজা খুলে যাচ্ছে। বিকেলের মধ্যে আমি কপোট্রনের রিকিভ সার্কিট শেষ করে ফেললাম। এরপরই দেখাগেল সমস্যা... এডভান্সড লেভেলের টপিকগুলো পাবলিক চ্যানেলে পাওয়া যাবে না।

লাইব্রেরী থেকে বেড়িয়ে আসলাম যখন তখন দিনের আলোর বদলে রেডনের আলোয় শহর ঝকঝক করছে। আশ্চর্যের সাথে খেয়াল করলাম, এই আলো আমার পরিচিত। শহরের এই ব্যস্ততা আমি আগে কোথাও দেখেছি। হতে পারে কল্পনায়। কিন্তু আসলেই কি তাই? নাকি স্মৃতির সাথে লুকোচুরি খেলায় আমার মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত?

লাইব্রেরীর সামনে অনেকক্ষণ ইতস্তত: ঘোরাঘোরির পর কাজের কাজটি হল, পুলিশ এসে জেরা করা শুরু করলো। ট্রাকিওশান টা চেক করে পাশের মহিলা পুলিশটিকে বললো, গ্রাম থেকে নতুন আসলে যেমন হয়, পলিমারের চিংড়ি খোসা সুদ্ধো খেয়ে ফেলে... হাহাহা।

মহিলা পুলিশটির চোখে মুখে একধরণের কাঠিন্য এসে পড়েছে, সে রসিকতায় মজা পেল না। পুলিশগুলো চলে যেতেই আমি লাইব্রেরীর কাছে চলে এলাম। চুরাশি তলায় রবোআর্কাইভের লাইব্রেরীয়ান আমাকে আটকাটেই পকেট থেকে ব্যাজ টা বের করে দেখিয়ে বললাম স্পেশাল সিকিউরিটি এজেন্ট। ব্যস্ত হবার কিছু নেই, লগ পরীক্ষা করবো, তোমাদের আর্কাইভ নেটওয়ার্কে নাকি আজকাল গাও-গেরামের ছেলেপেলেরাও অবৈধভাবে ঢুকে পড়ছে!

লাইব্রেরীয়ান আমার ব্যাজটা দেখে ভ্রু কুচকে তাকালো, তবে ঝামেলা না করে আমাকে লগ টেবিলে এক্সেস দিয়ে দিলো। নেটওয়ার্কের লগ টেবিলটা দেখতে দেখতে তাল হারিয়ে ফেলছিলাম, হঠাৎ দেখলাম কোনায় সার্চবার আছে। সায়েন্টিটস লিখে সার্চ দিতেই আমাকে নিয়ে গেলো সায়েন্টিস্টদের লগ টেবিলে। আমি খেয়াল করছিলাম রবোটিক্স নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের চ্যানেলগুলো। কিন্তু সবই গতবাধা সাধারণ চ্যানেল। আমি খুব তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে গেলাম। এসবতো বিকেলেই আমি শেষ করে এসেছি আধা ঘন্টায়! ইতস্তত: সার্চ দিতে থাকলাম। হঠাৎ কি মনে হল, বিড়বিড় করে বললাম, কপোট্রয়েড।

ম্যাজিক ঘটলো। নেটওয়ার্কে মুহূর্তেই চলে এলো নতুন একটি চ্যানেল, স্বয়ংক্রিয় রবোট কন্ঠে সুকন্ঠী বিড়বিড় করে বললো, কপোট্রয়েড চ্যানেলে আপনাকে স্বাগতম।
সর্বোচ্চ বিজ্ঞান কাউন্সিলের মাত্রাতিরিক্ত জিনিয়াসদের সখ করে কপোট্রয়েড বলা হত, আশ্চর্যজনক ভাবে আমার মনে পড়েছে।

চ্যানেল খুলে যেতেই আমি ঝাপিয়ে পড়লাম হলোগ্রাফিক স্ক্রীনটার ওপরে। স্রীনের সামনে আঙ্গুল এতো দ্রুত চলছিল যে লেজার ট্র‌্যাকার গুলো সিগনাল ধরতে পারছিলনা ঠিকমত। কিন্তু কপোট্রন নিয়ে আরেকটু সামনে এগুতেই কেমন জানি মাথা তালগোল পাকিয়ে গেল। কিছুই বুঝতে পারছি না। হঠাৎ মনে হল, কপোট্রন নিয়ে আর বেশি পড়াশোনা হয়তো আমার করা হয়নি। তাহলে? আমি কি অন্য কিছু নিয়ে গবেষণা করছিলাম? মজার ব্যাপার হল, আমি এখন পুরোপুরি নি:সন্দেহ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের থেকেও বেশি জ্ঞান রাখি। কিভাবে জানি না। কিন্তু সামহাউ- আই জাস্ট নো। স্মৃতি আমার সাথে খুব হাস্যকর রকমের খেলা শুরু করেছে। সেই খেলার বড় একজন খেলোয়ার হল রিয়ানা। যার সাথে আমার এতদিনের সম্পর্ক শুধু অবিশ্বাসের।

হটাৎ কি খেয়াল হল, রবোটের মাথা থেকে মানুষের মাথা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলাম। নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে একটু এগতেই আমার আর কোন সন্দেহের অবকাশ রইলো না যে, এটিই ছিল আমার গবেষণার বিষয়বস্তু। আর্কাইভ ঘরে বসে স্ম্বতির হাতড়ে বেড়ানো এই যুবকের সাথে ভাগ্যের এত নির্মম পরিহাস কেন? আমার আজ থাকার কথা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান কাউন্সিলের সর্বোচ্চ কমিটিতে। আর আমি কোথায়? হাজার বছরের পুরোনো সেই গ্রামে! পড়ন্ত বিকেলে পাতা কুড়োতে। রিয়ানার সাথে আমি কত আবেগ ভাগাভাগি করেছি ভাবতেই অন্ধ একটা আক্রোশ আমার মাথায় রক্ত উঠিয়ে দিল। কে এই রিয়ানা? আমি অজপাড়াগায়ের এক মূর্খ যুবক এই বিশ্বাস দিতে যে ব্যস্ত ছিল এক যুগ ধরে।

ভোরের আলো এর মাঝেই ফুটে উঠতে শুরু করেছে। আমার শরীর জুড়ে এক ফোটাও শক্তি নেই কিন্তু মাথাটা আশ্চর্য রকমের সতেজ। শরীরের পজিশনের সাথে ফ্লেক্সিবল চেয়ারটা থেকে কোন মতে উঠে দাড়াতে গিয়েই ধপ করে আবার বসে পড়লাম। আধাস্বচ্ছ লিট্রিয়ামের দরজার ওপাশে দুটো আলো খেলা করছে। আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়াতে দাড়াতেই দরজা খুলে গেল।

সন্ধ্যার সেই পুলিশটা হাতের আলোটা আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে পুরো বোকা হয়ে গেল। পাশের কঠিন চেহারার মহিলা পুলিশটার মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে সহকর্মীর দিকে ফিরে বললো, এ পলিমারের চিংড়ি খেতে আসা চিড়িয়া নয়।

চলবে।

পরের পর্ব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29055699 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29055699 2009-12-08 22:46:45
প্রসঙ্গ: পোড়া আলু

আগুনে আলু পোড়ানো ব্লগের নাতুন কোন কাহিনী না। <img src=" style="border:0;" /> ব্লগে আগুন লাগলেই খিয়াল করবেন 'একটি মহল' আলু পোড়ানোর ধান্দায় থাকে! সেই মহলটা আবার ফর্ম হয় আগুন লাগাইছে কারা, কেন, ডিজেল না মবিলে লাগাইছে সেইটার ওপর ফ্যাক্র কইরা! কারণ অথরিটি জানে, মাথা গরম পাবলিকের অভাব নাই ব্লগে......একটা সময় আমিও খুব লাফাইতাম, এখন বেশ ম্যান্দা মাইরা সুশীল ব্লগার হইয়া গেছি। তারপরও সাম্প্রতিক কাহিনী নিয়া কিছু গেজাইতে ইচ্ছা করলো!

যা হইবার তাই হৈছে - রনি দাদা বুঝিয়া সুযোগ আগুন লাগায়া দিলো। ব্লগে পুরা তোলপাড় আর মাঝখান দিয়া কারা আলু পোড়াইলো সেইটা একটু দেখি। দাদা সম্ভবত ভোর রাতের দিকে কমেন্ট করেছিলেন, সেইসময় মডু নাই এটা মানলাম। কিন্তু তার কমেন্ট মোছা বা ব্যান করতে প্রায় একদিনের মত লাগার কারণটা ঠিক বোধগম্য না। হয়তো মডুরা মাত্র ব্লাককফি হাতে জবে বসিয়াছেন। হৈতেই পারে। যদিও নিন্দুকেরা 'জয় বাবা ট্রাফিক' বলিতেছে সে কথায় কান দিলাম না! <img src=" style="border:0;" /> রনির কমেন্টের পরই পোস্টের পর পোস্ট এসেছে, পাবলিক ব্লগে চোখ রেখেছে, লগ্ডইন আর ভিজিটর মিলিয়ে তিনশোর কাছাকাছি হিট সবসময় থেকেছে। আর অথরিটিরই বা দোষ কোথায় - আনলাকি থারটিন নাম্বারটাইতও কুফা........ আগুনে আলু পুড়াইয়া র‌্যাংকিং আগায়া নেওয়াটা দোষের কিছু না!

আরেকজন যে আলু পুড়াইলো, সে কমেন্টকারী দাদা নিজেই। তার নিজের কফি হাউজ না বাল হাউজ ব্লগ যেটার নামই জানতামনা, সেটায় মনে হয় মানুষজন এখন দলে দলে লগাইয়া বেটারে ঝাড়তেছে। সেটাই স্বাভাবিক, তয় মাঝখান দিয়া বেটার ব্লগই হিট হইয়া গেল! মাঝখান দিয়া আমরা মুখ খারাপ করলাম, সময় আর শ্রম নষ্ট করে বাস্তুহীন আগাছার পিছে অর্থের অপচয়, মাঝখান দিয়া এরা আলু পুড়াইয়া খাইয়াও ফেললো! আরো মজার বিষয় দালালবাবার আবির্ভাব, ছাগাফুরের বেহায়াপনা আর একটি 'বিশেষ মহলের' নিশ্চুপ সমর্থন! <img src=" style="border:0;" /> এই মহল তো এখন ফায়ার পাবলিকের সামনে কিছু কইতে পারে না, তয় চান্স পাইলে দালালী কইরা আর 'কোরবাণী কোন উৎসব নয়, রক্তারক্তি ভালু লাগে না মুই কষ্ট পাই' টাইপের পোস্টায়. বা কমেন্ট ঝাড়ে! তবে এবার সুবিধা করতে পারে নাই, মাইনাস দিয়েই ক্ষান্ত ছিলো।

আজকের ব্লগ আন্দোলন এইটাই প্রমাণ করলো যে কলকাতার পশ্চাৎদেশ চাটলে সমুচিৎ জবাব আমরা দিয়া দিমু। সবার মাঝে এই ইউনিটি আর ইন্সপায়ারেশন টা জাগিয়ে দেওয়ার জন্য রনিরে একটু ধইনা দেওয়া যায়। তবে দিনশেষে আলুপোড়ালো যারা তাদেরই প্রাপ্তির পাল্লা ভারী! পুরান যারা ব্লগার আছে তারা সামুর এই এনভায়রনমেন্টের সাথে পরিচিত বইলাই মনে হয় পোস্টগুলায় তাদের কোন কমেন্ট দেখলাম না! আমি নিজেও খুব একটা বলি নাই, খালি + আর সহমত জানায়া গেছি।

দিনভর আন্দোলন কইরা সবাই টায়ার্ড মনে হয়.....এইবার কে কি পাইলেন সেটা হিসাব করতে করতে ঘুমাইয়া পড়েন....অনেক হিট দিছেন সামুরে! পোড়া আলু আপনাদের কপালে নাই......ঐটা রনি আর তার সহমনারা এখন ভাগ বাটোয়ারা করতেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29054103 http://www.somewhereinblog.net/blog/faltupola/29054103 2009-12-05 22:35:51