আপনি ঠিকই বলেছেন। ‘ইরাক থেকে সর্বাগ্রে এবং এখনই মার্কিন সেনাবাহিনীকে চলে যেতে হবে’। ওরা ইরাকে এসেছিল পারমানবিক মরণাস্ত্রের খোঁজে। ব্যার্থ হয়ে ওরা নিজেরাই সাধারণ ইরাকীদের জন্যে মরনাস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বিনা উস্কানিতে কোন কারন ছাড়াই হাদীসা গ্রামে ঠান্ডা মাথায় খুন করে ফেলে রাখা চব্বিশজন ইরাকী নারী শিশুর লাশ দেখে আঁতকে উঠেছি। আমি যদি ইরাকী হতাম, আর এইসব শিশুর একটাও যদি আমার ছোট ভাই হত, আমার কেমন লাগত?!
আপনাকে ধন্যবাদ কাশ্মীর এবং গুজরাটের ব্যাপারে সত্য বলতে কুন্ঠিত হননি বলে।কাশ্মীর যেন আমাদের বাড়ির পাশের ইরাক, যাকে গিলে খেয়ে ফেলতে চায় ভারত।ইরাককে যখন সোয়া লাখ মার্কিন সৈন্য দখল করে আছে, ইরাকের চে’ অনেক ছোট দেশ কাশ্মীরকে তখন দখল করে আছে সাত লাখ ভারতীয় সৈন্য! পূর্ব তিমুর খৃষ্টান অধ্যূষিত বলে রাতারাতি পূর্ব তিমুরকে স্বাধীন করে দেয়া হল ইন্দোনেশিয়া থেকে। অথচ সেই ১৯৪৭ থেকে ২০০৭, দীর্ঘ ৬০ বছর যুদ্ধ করেও স্বাধীনতা পেলোনা মুসলিম অধ্যূষিত কাশ্মীর!
পুরো পৃথিবীটা যেন একটা কেক্, বড় বড় দেশগুলো যেন ইচ্ছামত সে কেকের ছোট ছোট দেশগুলোকে ভাগ করে নিয়েছে! ওরা ইচ্ছামত জবরদখল করে। অকাতরে মানুষ মারে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেভাবেই হোক।
বার বার আমার চোখের সামনে ভাসে ১৮ জুলাই লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় ছদ্মনামে লিখা সেই ইরাকী তরুনীর রক্তাক্ত কথাগুলো- “………… যুদ্ধের আগে আমি বাগদাদে একটা সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকরি করতাম… যুদ্ধের পর একদিন আমার অফিসে গিয়ে হাজির হই। কিন্তু আমি যা দেখলাম তা যেন একটা দুঃস্বপ্ন! অফিসের সামনের রাস্তাটা মার্কিনীদের ট্যাংকের ভর সইতে না পেরে ভেংগে গেছে।অফিসের দরজা ভাংগা, আসবাব সব তছনছ হয়ে আছে, ঘড়িগুলো পর্যন্ত ভাংগা মাটিতে পড়ে আছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এটা আমারই সেই অফিস……। ফেরার সময় সারা পথ আমি কেঁদেছি।কেঁদেছি আমার হারানো চাকরির জন্যে, কেঁদেছি আমার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্যে, কেঁদেছি ভাংগা রাস্তা, বিধ্বস্ত ভবন আর আতংকিত মানুষগুলোর জন্যে……। প্রতিনিয়তঃ শুনতে শুনতে এখন আমি শুব্দ শুনেই বলে দিতে পারি এটা কাদের ছোঁড়া গুলি, ওদের নাকি আমাদের। কত দূরে বুলেটটা ফুটল। এটা কি পিস্তল নাকি মেশিনগান।এটা আমার নতুন প্রতিভা। এ বিষয়ে এখন আমি এত ভাল বুঝি যে মাঝে মাঝে আমার নিজেরই ভয় হয়……”
সেই অজানা তরুনীর মত আমিও ভীত। আমি কখনো যুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু ৭১’র যুদ্ধে দুই দুইবার পাক সেনাদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচা আম্মু বলে, ‘যুদ্ধ খুবই খারাপ, পৃথিবীর সবচে’ খারাপ জিনিষ!’
অথচ সেই যুদ্ধি চলছে অবিরাম অবিরত পৃথিবীর মানচিত্র জুড়ে। অরুন্ধতীর মত তাই চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে, সব সেনারা ব্যারাকে ফিরে যাক্। আমাদের পৃথিবীতে একটাও পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন নেই। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি,প্লীজ্!
(পুরানো পেপার ঘাটাঘাটি করা আমার অভ্যাস। দেশে না থাকা অবস্থায় যেসব পেপার পড়া হয়নি, তা ঘাটতে গিয়ে ৪জুন’০৬ এর প্রথম আলোয় অরুন্ধতীর লেখাটা পড়ি।এক বছর পর অরুন্ধতীর সে আর্তনাদের প্রয়োজনীয়তা একফোঁটা কমেনি বরং বেড়েছে।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

