গতপরশু তোর মুখে প্রথম শুনলাম - তা তা তা… আর তাতেই সবার কী খুশী- তুই ‘দাদা’ বলছিস! আরেকটু পরে শুনি - বা বা বা আবার আনন্দের বন্যা- তুই ‘বাবা’ ও বলছিস!! আমার তখন খুব মন খারাপ হল। এই বাবা দাদা নানা মা মামা চাচা এইসব কিছুই তুই সবার আগে বলবি। কিন্তু তুই কিছুতেই ‘ফুপ্পী’ বলতে পারবিনা। এটা কেমন ন্যায্য হল? ‘ফুপ্পী’ শব্দটা আরেকটু সহজ হলে কার কী এমন সমস্যা হত?
তোর ছোট ফুপ্পী তোর জন্যে ছোট্ট দুটা চুড়ি কিনে এনেছে। আর তুই এই পুচকা বাবুটাই সেই চুড়ির শব্দে সেকি খুশী! জানিস, তুই যখন দাঁতহীন মাড়ি দেখিয়ে হাসিস, আমরা সবাই অটো হাসতে থাকি। তুই কী অদ্ভুদ ভাবে খুশীতে ভরে ফেলেছিস আমাদের ছোট্ট বাসাটা!
তুই যখন হাঁটতে শিখবি, এটা ওটা ধরে ধরে হাঁটবি, তোর পায়ের নুপুর বানিয়ে দেব। তুই ঝুম ঝুম করে সারাঘর মাতিয়ে রাখবি।
লিচুনচু,
তোকে আমরা সবাই কী ভীষন ভালবাসি তুই তো বুঝিস, অবশ্যই বুঝিস। তাইতো পরিচিত মুখ দেখলেই তোর সেই মাড়ি দেখানো হাসি! কিন্তু এই পৃথিবীতে সবাই তোকে ভালবাসবেনা। এখানে অনেক অন্যায় অনেক কষ্ট দেখে তুই অবাক হবি, হতবাক হবি, স্তব্ধ হবি। বিশেষ করে মেয়েদেরকে সমাজে ‘মেয়েমানুষ’ হিসেবে ট্রীট দেখে তুই হয়তো একসময় রেগে যাবি। চুপি চুপি কাঁদবি, বা তীব্র রাগে ঘুরে দাঁড়াবি। এ সময় গুলোতে তুই ভয় পাসনে। এই দেখ, আমাদের ভালবাসা তোকে ঐসব দুঃখ থেকে বর্মের মত আগলে রাখবে। ভীষন দুঃখ পেয়ে তুই আমার বা আমাদের কাছে এসে কাঁদিস। তোর চোখের পানি মুছে দেব ফুপ্পী।
কিন্তু তুই কিছুতেই ঐসব তথাকথিত মেয়েদের মত হবিনা, যারা শুধু ফ্যাশন, ডায়েট, রান্না বান্না আর পরচর্চা নিয়ে লিপ্ত। সাবধান তুই ওদের মত হবিনা। ফ্যাশন জীবনের অংশ। সুস্থ শরীর সুস্থ মন গড়ে তোলে। রান্না বেঁচে থাকার জন্যে অত্যাবশ্যক। কিন্তু এই সব-ই জীবন নয়। তুই মানুষ হিসেবে বড় হবি, মেয়ে মানুষ হিসেবে না। তুই দেখবি, সংকীর্ণতার বাইরেও পৃথিবীটা কত বড়!! এখানেও কত ভাল মানুষ আছে! এখানেও কত স্বপ্ন আছেরে!!
তোর মা দারুন একটা মানুষ। আমি জানি সে তোকে গরীবদের প্রতি সহানূভূতিশীল করেই গড়ে তুলবে। পৃথিবীর ক্লাস-ডিফরেন্স হয়তো তোকে ভাবাবে। তখন তোকে ফিরে যেতে হবে লাইব্রেরীতে। অনেক অর্থহীন তত্ত্ব পাবি সেখানে। তারপর একসময় তোর নিজের বুঝ জন্মাবে। তুই হয়তো বুঝবি সমাজ এমন কেন। তারপর তুই নিজেই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবি।
এই দেখ, তোকে কত কঠিন কথা বলে ফেলছি! ধুর, তোকে ভয় ধরিয়ে দেয়ার মানে নেই।
তুই বরং সবার আগে এটাই বুঝিস- অমাবশ্যার পরেই পুর্ণিমা আসে।
এই যেমন এই কুতসিত পৃথিবীতেও আমরা তোকে পাগলের মত ভালবাসি! তুই জানিস, তুই একটা ‘আ’ করলে তোর দাদা দাদু দশবার উঁহ করে!!
ওহ, তোর ঘুম এসেছে! তুই কেমন একটু পর পর-ই ঘুমিয়ে যাস! পৃথিবী দেখতে দেখতে বুঝি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যাস? আম্মু বলে ছোটদের সাথে ফেরেশতা থাকে। তোর ফেরেশতাদের সাথে স্বপ্নে খেলা করিস। তোর ফেরেশতারা আজীবন যেন তোকে সত্য আর সুন্দর রাখে।
ঘুমা লিচুনচু, তোর পাশে আমরা সবাই জেগে আছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

