somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ!

১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১)
পুড়ে গেল রায়ের বাজার নিমতলী বস্তি। টিভি স্ক্রীনের ভিতর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে যেন পুড়িয়ে দিচ্ছিল বাংলাদেশ।
মালেকা বেগম, বানু, নুরজাহান, শাহানা কাঁদছে পাগলের মত।
‘মায়ের চিকিতসার লাইগ্যা বিশ হাজার টেহা জমাইছিলাম, হেই ট্যাহা আমি অহন কই পামু? আমার মারে কেমনে চিকিতশা করাইমুরে আল্লা?!’
‘আমার পোলাডার শারা শইল জইল্লা গেছেগা! আমার ঘর গেল, পোলাডাও যদি যায় আমি কী নিয়া বাঁচুম?!”
একহাজার ছয়শ’ আশিটি ঘরের সাথে সাথে পুড়েছে একহাজার ছয়ট আশিটি পরিবারের বেঁচে থাকার নূন্যতম অবলম্বন।এবং এদের সাথে সাথেই কি দারিদ্রতার পথে আরো এক পা বাড়ালো না বাংলাদেশ?

২)
বাসা থেকে ইউনিভার্সিটি সাত টাকার রিকশাভাড়া। খুব বেশী হলে দশটাকা। সেদিন যথারীতি সাতটাকা বের করে দেয়ার সাথে সাথে রিকশাওয়ালার চড়া গলা- ‘এইডা কী দিলেন?’
আমি অবাক- ‘কেন? কী হয়েছে? সাতটাকা দিয়েইতো আসি!’
‘পনের ট্যাহা দেন!’
রিকশাওয়ালার সোজা কথা। সাতটাকা ফেরত ধরে রেখেছে আমার দিকে।
‘পনের টাকা?! সবচে বেশী হলে দশটাকা বলেন! পনের টাকা বললে তো অন্যায় হবে’।
‘হ। পাঁচ ট্যাহা বেশী ভাড়া চাইলেই ন্যায়- অন্যায় হুনাইয়া দিলেন, আর গভারমেন যে ডাইল-চাউলের দাম হু হু কইরা বাড়াইল হেইডা অন্যায় হইলনা? দেন দেন, দশ ট্যাহাই দেন!’
আমি থমকে যাই।
আমার লজ্জা লাগে দশটাকা দিতে। পনের টাকা দিয়ে একবারও রিকশাওয়ালার চেহারার দিকে না তাকিয়ে ঢুকে যাই ভার্সিটিতে।
এসব অতি-দরিদ্র মানুষগুলোর দিয়ে তাকিয়ে আমাদের সরকার কি লজ্জা পায় একবারো?

৩)
আমাদের দো’তলার বারান্দা দিয়ে রাস্তা দেখা যায়।
অনেকদিন পরে সেদিন ভোরে বারান্দায় দাঁড়ালাম। এ কুয়াশাভেজা শীতের মধ্যেও রাস্তায় জগিং’এ নেমেছেন অনেকেই। অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা দল বেঁধে হাঁটছেন।হাঁটতে হাঁটতেই চলছে গল্প। অনেকেই একাকী দৌঁড়াচ্ছেন খোশ-মেজাজে।একা হোক বা দল বেঁধে, সবার গায়েই দামী শাল/গরম কাপড়। অনেকের হাতে পায়েও মোজা। মাথায় কান টুপি। ঠান্ডা না লাগার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েই শরীর চর্চায় বের হয়েছেন সবাই।
কিন্তু আস্তে আস্তে আধাঘন্টার মধ্যেই পালটে গেল দৃশ্যপট। সুখী সুখী চেহারার দামী গরম কাপড় গায়ে মর্নিং-ওয়াকরত মানুষগুলো কমে গিয়ে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসে গার্মেন্টসের পথযাত্রীরা। আমি চুপচাপ দেখতেই থাকি। বেশীরভাগই মেয়ে। কেউ একলা, কেউ আরকজনের সাথে, কেউ দলে দলে। কিন্তু সবার পায়েই দ্রুততা। কারো মুখেই গল্প নেই। গায়ে যতটুকু কাপড় আছে ততটুকু দিয়েই হাত,পা, মুখ ঢেকে রাখার প্রানান্ত চেষ্টা। পুরানো কাপড়ে তাও শীত মানেনা। তাই ওরা আরো দ্রুত পা চালায়। তাতে যদি শরীর গরম হয়!
একটা মেয়েকে দেখি, এ শীতেও তার গায়ে হাতাকাটা কামিজের সাথে ফুটপাতের বিশটাকা দামের জর্জেটের ওড়না। সেই ওড়না দিয়েই মাথা আর হাত প্যাচিয়ে হাতদুটো বুকের কাছে বটে রেখে দ্রুত হাঁটছে কোনো দিকে না তাকিয়ে।ওকে দেখে আমার নিজেরই শীত লেগে উঠে।

আধাঘন্টা আগের আর পরের দৃশ্য তুলনা করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলি আমি। রায়ের বাজার বস্তির আগুন, বাজারের দ্রব্যমূল্যের আগুন, আর এই শীতের ভোরে দুঃখের আগুন আমাকে একটু একটু করে গ্রাস করে।
আমিও পুড়তে থাকি আমার বাংলাদেশের সাথে।

(published in today’s JJD, readers forum.

Thank you)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:০৯
৬৩টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×