প্রজাপতিটার একটা ডানা ভাংগা, ছটফট করছে। হয়তো ভুল করে বসেছিল নীচের ফ্লোরে। কেউ মাড়িয়ে দিয়েছে।
ছোট ছোট ভুলের প্রায়শ্চিত্ত কখনো কখনো এত অসহ্য ঠেকে……
প্রজাপতিটাকে নিয়ে কী করব ভেবে পাইনা। ধরতে গিয়ে যদি ডানাটা একদমই ভেংগে যায়?
পিয়নকে ডাকি।
‘প্রজাপতিটাকে টেবিলে তুলে দিননা!’
‘এটাকে টেবিলে তোলার জন্য ডাকছেন? ধুর! এটাতো মরে যাচ্ছে!’
আমি বাঁধা দেয়ার আগেই এক ঝটকায় তুলে তিনি প্রজাপতিটাকে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে মারেন।
আমি দৌঁড়ে জানালার কাছে যাই। চারতলার জানালা থেকে সে কি পারবে ভাঙ্গা ডানা নিয়ে উড়তে? নাকি আবার গিয়ে পড়বে আর কারো পায়ের তলায়?
‘রিকশাওয়ালা ভাই, আস্তে চালান’।
সন্ধ্যার রোদটা এত ভালো লাগছে! মেক-আপ ক্লাসের ঠেলায় সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা ক্লাস শেষে শুধু মনে হয়- ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু! রিকশার মৃদু দুলুনী, মসৃন রাস্তায় নিরব সন্ধ্যা, আকাশের কমলা রোদ… সরাসরি রোদটা এসে চোখে পড়ে। আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। রিকশায় বসে ঘুমাতে দেখলে কেউ কি কিছু মনে করবে?
আমি চোখ মুদে ফেলি। আমার ঘুম পেতে থাকে।
কাজের মেয়েটা দৌঁড়ে আসে। ‘আফা, ঐযে ঐদিন একটা রাইজকইন্যার ছবি দেখছিলেন, ঐটা দেখায়!’
আমার প্রিয় সিন্ডারেলা কার্টূন। যতবার দেখায় হাতের কাজ ফেলে বসে বসে দেখি।
‘তোমার এখন সিন্ডারেলা দেখার বয়স আছে?’ আম্মার কপট ধমক।
সিন্ডারেলার এত দূঃখ বলেই কি ওকে আমার এত ভাল লাগে?
আম্মা সরিষার তেল, পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে মুড়ি মাখায়। আব্বা আর আমি কচমচ করে খাই। আম্মা বলে, ‘চুলের একি হাল? এদিকে আসো, তেল দিয়ে দেই’।
আমি মুড়ি চাবাই। আম্মা চুলে তেল দিয়ে বিলি কাটে। আব্বা গভীর মনযোগে খবর শুনে।
আমার হঠাত নিজেকে এই দু’টা মানুষের ‘রাইজকইন্যা’ মনে হয়।
আমি যেন সিন্ডারেলা, অহেতুক ভালবাসা পেয়ে ভেসে যাচ্ছি!
আমার চোখে পানি চলে আসে।
শীতের আকাশ কেমন যেন ফ্যাকাশে থাকে। অথচ এখন কেমন লালচে নীল, না কেমন যেন সাদাটে কমলা, উহু, হলনা, বিচিত্র এক মেশালো রঙ্গে উজ্জল হয়ে আছে। ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘও দেখা যাচ্ছে। মেঘগুলো যেন অনেক দূর থেকে আসা চিঠি। খাম খুললেই যেন বলে দিবে অনেক অনেক জমানো কথা। কখনো যা বলা হয়না। কখনো যা শোনা হয়না। কেন কেউ কেউ অহেতুক দূরে চলে যায়? কেন কেউ কেউ অহেতুক মেঘের খামে এমন কান্না ভরে পাঠায়? মেঘগুলো ঢুকে যাচ্ছে আমার বুকের ভিতর।
দুঃখবিলাসী এই আমি কি একটু কাঁদবো?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

