সিমি, রুমি, তৃষা, স্বপ্না…… নাজমুন্নাহার চলে গেল ক’দিন হল?
চলে গেল আরো একজন, ফারহানা আক্তার লিজা। একইভাবে। গলায় ফাঁস লাগিয়ে।
তিন বছর ধরে উত্যক্ত করতে থাকা জিলন নামের বখাটে ছেলেটা বলেছিল ওর বাবাকে গুলি করে মেরে ফেলবে মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে রাজী না হলে।
তিনটা বছর… জীবনের সবচে রঙ্গিন সময়… স্কুল পেরিয়ে কলেজের দুয়ার… কিন্তু স্বপ্ন আর জীবনের চে’ও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাবার জীবন আর পরিবারের সম্মান। এ সমাজ যে অন্ধ চোখে খাপ-খোলা তরবারী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়ের শুভ্র-সাদা ওড়নায় একটা, শুধু একটা দাগ লাগার অপেক্ষায়…… ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে ওরা! তরবারীর এক কোপে সহস্র-টুকরো করে ফেলবে তোমার মন আর শরীর… অথচ এ দাগ থেকে বাঁচার যে কোনো উপায় নেই! জন্মদাত্রীর রক্ত উঠে আসা কন্ঠে সহস্রাব্দের আক্ষেপ- কোন অভিশাপে তোরে পেটে ধরছিলাম রে! অন্যের মাইয়া দেহে না, পোলাগুলা খালি তোরেই দেহে?!
বাবার চোখের শূন্য দৃষ্টি…
ওরা ঘরের দরজা ভেংগে নিয়ে যাবে মেয়ে!
ওরা রাস্তায় কুকুরের মত গুলি করে মারবে মেয়ে জন্ম দেয়ার অপরাধে অপরাধী জনককে!
ওরা কিডন্যাপ করে নিয়ে যাবে আদরের ছোট ভাইটাকে!
ওহ!
তারচে ভাল একটু কষ্ট… একটুই তো, জাস্ট পা দিয়ে ঠেলা দাও টুলটা… এইতো ঝুলে গেলে! আহা, বেশী কষ্ট হচ্ছে? ওকি, বাঁচার জন্যে হাত-পা ছুড়ছো? না!ন! কিছুতেই বাঁচা যাবেনা! বেঁচে গেলে যে আবার ছেকে ধরবে ওরা, এইতো সোনা, একটু!...ওহ! ক’মিনিট লাগে আত্নাটা বের হতে? কত জীবন পার হয়ে যায় এই এক জীবনের দুয়ার পাড়ি দিতে?... মা, মাগো, গলার ফাঁসে যে ভীষন কষ্ট মা!...... তুমি পেটে ধরেছিলে, আমিতো ইচ্ছা করে আসিনি মা! তোমরা এনেছো, অথছ তোমাদের কাছেই আমি কী ভীষন আর ভারী বোঝা হয়ে গিয়েছি! আমাকে তোমার আঁচলের তলে রেখেও নিরাপত্তা দিতে পারলেনা…… মাগো, ভীষন কষ্ট ফাঁসে, ওহ! মরতেও এত কষ্ট মাগো!.… এইতো দু’মিনিট… নাকি তিন মিনিট… নাকি অনন্তকাল……?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


