somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইয়াসমিন, রাহেলাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন!

৩১ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এম্বেসী থেকে আবার লেটেস্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন চেয়েছে। দু’মাস আগেই একবার জমা দিয়েছিলাম, এখন আবার! পুলিশের সন্দেহ হল। প্রথমবার অফিসের স্টাফ গিয়ে নিয়ে এসেছিল থানা থেকে, আমার যেতে হয়নি। কিন্তু এইবার পুলিশ অফিসের স্টাফকে ফেরত পাঠাল। সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে নিজে উপস্থিত হতে হবে।
গেলাম। যেতে বলেছিলেন সন্ধ্যা ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে। কাঁটায় কাঁটায় পাঁচটা পাঁচে উপস্থিত। কিন্তু যে পুলিশ আমার ভেরিফিকেশনে সাইন করবেন তার দেখা নেই। অফিসের স্টাফ দেখি ফোনের পর ফোন করে। আমি পুলিশ স্টেশনের বারান্দায় মশার কামড় খেতে খেতে পায়চারী করি। তিনি এলেন বরাবর ছয়টা সতের মিনিটে।
‘আপা, আমরা দুঃখিত। আসলে দুইবার নেয়াতেই আপনাকে স্বশরীরে আসতে হল। এইতো কিছুদিন আগে আমিই-ই ইস্যু করে দিয়েছিলাম আগেরটা’।
‘জ্বী, এম্বেসী আবার চাইলো!’
‘তা বুঝেছি, তা বুঝেছি। এখানে একটা সাইন করেন, দেন, আপনার পাসপোর্টটা একটু দেখি’।
পাসপোর্ট দিলাম। একটা রেজিস্ট্রি বুকে সাইন করলাম। ভেরিফিকেশন পেপার নেয়ার জন্যে হাত বাড়ালাম। ভদ্রলোক ইতস্তত করছেন। আমি তাড়াতাড়ি হাত গুটিয়ে স্টাফের দিকে তাকালাম। ব্যাপার কী? আরো ফর্মালিটিজ আছে নাকি? স্টাফ দেখি মাথা চুলকে আমাকে ইশারা করছেন অফিস থেকে বের হয়ে বারান্দায় যেতে! সালাম দিয়ে বের হয়ে গেলাম। কিছুক্ষন পর স্টাফ বেরিয়ে এলেন। হাতে ভেরিফিকেশন পেপার। অবাক হয়ে বললাম, ‘আমাকে দিল না কেন?!’
‘আমি তখনো টাকাটা পে করিনি তাই’।
‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্যে চার্জ লাগে নাকি?’
অল্পভাষী স্টাফ বললেন, ‘ভেরিফিকেশনের জন্যে চার্জ লাগেনা, কিন্তু পুলিশের পকেট রিচার্জ না করলে বাংলাদেশে কোনো কাজ হয়না।’
বুঝলাম, এ জন্যেই পুলিশ ভদ্রলোক আমার হাতে দিতে ইতস্তত করছিলেন। আগে টাকা তারপর বাকী কথা।
‘তা, কত নিল?’
‘অনেক কম নিয়েছে। দেড় হাজার’।
অনেক কম। আসলেই অনেক কম। বাসায় বাসায় সারামাস কামলা খেটে আমাদের বুয়ারা কত পায়? বাসাপ্রতি মাসিক ছয়শ’ থেকে সাতশ’। সন্দেহ হল, তাই জিজ্ঞেস করলাম, ‘আগেরবার কত দিয়েছেন?’
‘এজন্যেইতো বললাম কম নিয়েছে। আগেরবার দুই হাজারের নীচে ছাড়েনি। এখন ইমার্জেন্সিতো, তাই দেড়ে ছেড়ে দিয়েছে!’
বিভিন্ন চ্যানেলে আর খবরে দূর্নীতি দমন কমিশনের লম্বা লম্বা বক্তব্য শুনি প্রায়ই।তাদের তোড়জোড়ে ব্যাবসায়ীদের একপ্রকার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার অবস্থা।কিন্তু থানা থেকে বাসায় ফেরার পথে বার বার মনে হচ্ছিল দূর্নীতি দমন কমিশন গোড়া কাটা গাছের আগায় পানি ঢালছে নাতো?!

এরশাদের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলছিল তখন আমি খুব ছোট। বারান্দা থেকে রাস্তা দেখা যেত। বড়দের ফিসফাস থেকে বুঝতাম রাস্তায় বের হলেই পুলিশ গুলি করে দিবে। পরে বুঝেছি তখন কার্ফিউ চলছিল। পুলিশকে সেই প্রথম ভয় পেতে শেখা। কিন্তু বড়দের কথায় আরো বুঝতাম পুলিশ খুব খারাপ। সবাই পুলিশের উপর বিরক্ত, রাগ। ‘ঠোলা’ শব্দটা কার থেকে শিখেছিলাম মনে নেই, আমরা তিনজনে বারান্দায় ঘাপটি মেরে মাথা নীচু করে বসে থাকতাম। শুনশান রাস্তা। কিছুক্ষন পর পর শুধু পুলিশ যেত। মাঝে মাঝে রাস্তায় টহল দিত। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করত। আর আমরা তিনজন সুযোগ পেলেই একটু মাথা তুলে ‘ঠোলা/ পেট ফোলা!’ বলে চিৎকার করে আবার মাথা নামিয়ে দৌঁড় দিয়ে বাসায় ঢুকে যেতাম! বড়ভাইয়া একদিন খেলতে নামায় এমন দৌঁড়ানি দিয়েছিল বড়ভাইয়া সেন্ডেল ফেলে এক দৌঁড়ে পাশের বিল্ডিং’র বন্ধুর বাসায় ঢুকে গিয়ে বেঁচেছিল। অবচেতন মনে তখন থেকে পুলিশের প্রতি বিতৃষ্ণার শুরু।
সে বিতৃষ্ণা তীব্র রাগ আর ঘৃনায় পরিণত হয়েছিল দিনাজপুরের ইয়াসমিনের মৃত্যুতে। পৈশাচিকতার সংজ্ঞার সাথে নির্মম বর্বরতা মিশিয়েছিল সেদিন বাংলাদেশের পুলিশ। ঢাকার গার্মেন্টস কর্মী ফুটফুটে গোলগাল চেহারার ইয়াসমিন মা’র সাথে দেখা করতে গিয়ে এস আই মঈনুল আর কন্সটেবল আব্দুস সাত্তার এর পাশবিক লালসার শিকার হয় মাঝপথে। বাড়ি পৌঁছে দেয়ার নাম করে ইয়াসমিনকে তারা পৌঁছে দেয় মৃত্যুর দরজায়। ভ্যানচালক সহ তিন নরপশুর ধর্ষনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইয়াসমিনকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে তারা। এখানেই শেষ না। এক শেয়াল রা দিলে যেমন সব শেয়াল যোগ দেয়, তেমনি পুলিশরাও উঠে পড়ে লাগে এই দুই পুলিশের পাশবিকতা ধামাচাপা দিতে। ইয়াসমিনকে মেরেও শান্তি দেয়নি। দুই দুইবার তার লাশ তুলে ধর্ষনের সত্যতা যাচাই করা হয়। এমনকি তাকে পতিতা বলেও চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে আমাদের দেশের রক্ষকগোষ্ঠী। এখানেই শেষ না। ২৭ শে আগস্টহ ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হওয়া জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে সাত সাতটি তাজা প্রান!
এই হল আমাদের পুলিশ!

আরেকবার মন থেকে পুলিশকে ঘৃনা করেছিলাম আঠাশে অক্টোবর। আমি তখন ইসলামাবাদে। চিন্তা করব, তাই আব্বুম্মু দেশ থেকে কিছুই জানায়নি। যথারীতি ক্লাস শেষে ডিপার্ট্মেন্টাল স্টোরে গিয়েছি কিছু টুকটাক কেনাকাটা করব, তারপর ফাস্টফূড থেকে কিছু খেয়ে দৌঁড় লাগাতে হবে লাইব্রেরীতে। হঠাৎ দোকানদার চাচার প্রশ্ন, ‘তুমতো বাংলাদেশী হো না?’ আমি অবাক হয়ে সম্মতিসূচক মাথা নাড়তেই, ‘ আভি জলদি ইধার আও, দেখো তুমহারি দেসমে ক্যায়া হুয়া!’
নিজেই দৌঁড়ে গিয়ে ওয়ালে লাগানো বিশাল টিভির চ্যানেল চেইঞ্জ করে সিএনএন দিলেন।রাস্তার পাশেই দোকান। সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে। আমি স্তম্ভিত হয়ে স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে থাকি। রাস্তায় পড়ে থাকা একটা ছেলেকে ঘিরে ধরে বর্বর জংলীদের মত লাফিয়ে লাফিয়ে, চিকন আগার কঞ্চি দিয়ে, লগি-বৈঠা দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারা হচ্ছে! যারা মারছে তাদের পরনে ভদ্র-পোষাক। অনেককেই মনে হচ্ছে ইউনিভার্সিটি-পড়ুয়া ছেলে। মার খাওয়া ছেলেটা টলতে টলতে উঠে দাঁড়াচ্ছে, আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে অর্ধমৃত তার উপর লাফিয়ে নাচছে ঘিরে ধরা মানুষগুলো! এবং সবচে অবাক ব্যাপার, স্ক্রীনেই দেখা যাচ্ছে পুলিশের উপস্থিতি! এটা বাংলাদেশ?! আমি বিশ্বাস করতে পারিনা। আমার দেশের মানুষ এমন বর্বর নয়! হতেই পারেনা! কিন্তু খবরের নীচে ব্রেকিং নিউজের পাশেই যে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটা জ্বলজ্বল করছে! পাশেই কোনো মহিলার প্রচন্ড চিৎকারে হুঁশ ফিরে আসে আমার। ‘স্টপ ইট! প্লীজজজ, সামোওয়ান স্টপ ইট! ফর গডস সেইক!’ মহিলা তার বাচ্চার স্কুল ব্যাগ দিয়ে বাচ্চার চোখ ঢেকে রেখে আতংকে চিৎকার করছেন! আমার মাথা ভো ভো করে ঘুরতে থাকে।
‘ইয়ে ক্যায়া হুয়া বেটি? জিন্দা ইনসানকো এইসে জানোয়ারকি তারহা খুন করনেওয়ালা ইনসান নেহি হোতে! তুমহারি দেসকি পুলিশ ইতনা ডরপুক ক্যায়সে? কুছ নেহী কররাহা হে, খাড়া হো কার তামাশা দেখ রাহা হে!!’
আমি ঘৃনায়, লজ্জায়, দুঃখে মাথা নীচু করে ফিরে আসি ইউনিতে। একটা পাকিস্তানীর কাছে শেষ পর্যন্ত শুনতে হল আমাদের দেশের পুলিশ কাওয়ার্ড!
ঘরে ফোন করি। আম্মুর শুকিয়ে যাওয়া গলা, ‘জানিনা, কী যে হচ্ছে দেশে! কেউ বের হচ্ছেনা ভয়ে। অনেককেই ওভাবে মেরে ফেলেছে রাস্তায়’। বিকেলে লাইব্রেরীতে ফিলিস্তিনি ইয়ারমেট সেহের দৌঁড়ে আসে। ‘ফারজানা, তোমার দেশের অবস্থা তো আমার দেশ থেকেও খারাপ! ফিলিস্তিনে ওরা আমাদেরকে গুলি করে মারে। কারন একজনকে পিটিয়ে মারলে দশজন ফিলিস্তিনী দৌঁড়ে আসবে। তাই ওরা গুলি করে। বোমা মারে। কিন্তু তোমার দেশে তো দেখি মানুষকে গ্রুপ বেঁধে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মা্রে! ওরা কারা??’

ওরা কারা??
আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন- ওরা কারা?
আমার চোখে উল্লাস করতে থাকা ভার্সিটি-পড়ুয়া ছেলেগুলোর চেহারা ভাসতে থাকে। ওরা আমাদেরই কেউ। শুধু কি আঠাশে অক্টোবর? আরো কত জানা- না জানা আঠাশে অক্টোবর ঘটে যাচ্ছে আমাদের দেশে তার কি খবর রাখে কেউ? গার্মেন্টস কর্মী রাহেলার হত্যাকান্ড কি আঠাশে অক্টোবর থেকে কম কিছু? এবং সেখানেও যথারীতি নির্বিকার আমাদের পুলিশ। ২০০৪ সালে লিটন নামের এক জানোয়ার রাহেলাকে তুলে নিয়ে যায়। আরো তিনজন মিলে পাশবিকভাবে ধর্ষন করে রাহেলাকে। শুধু এতটুকুই না, ঠান্ডা মাথায় ছুরি দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে রাহেলার শরীর। কেটে দেয় গলা। ফেলে চলে আসে জঙ্গলে। দু’তিন দিন পর আবার দেখতে যায় ফেলে আসা লাশটার কী হল। অদ্ভূদ ব্যাপার, রাহেলা তখনো মরেনি! পাশবিক নির্যাতনের পর দু’দিন ধরে অর্ধমৃত পড়ে থাকা মেয়েটা নিজের হত্যাকারীদের কাছে একটু পানি খেতে চায়। পানির পরিবর্তে ওরা রাহেলার গলায় ঢেলে দেয় এসিড! পুরো শরীর পুড়িয়ে দেয় এসিডে। ওরা মানুষ? নাকি বর্বর জানোয়ার?!
খুব সম্ভব রাহেলার মৃত্যু আমার জীবনে শোনা সবচে বর্বর ঘটনা। অর্ধেক গলাকাটা সদ্য গ্যাং-রেপড মেয়েটা পড়ে থেকেছে জংগলে। দু’দিন পর পানি খেতে চেয়ে খেয়েছে এসিড। এত জঘন্য ঘটনায় আসুন দেখি আমাদের পুলিশের ভূমিকা কেমন? পুলিশ কী পেরেছে মৃত্যুর সময় নিজ হত্যাকারীদের নাম বলে যাওয়া রাহেলার খুনীদের বিচার করতে? এ ঘটনার চারবছর পর এই মামলার অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিক ফয়সল’র ভাষায়, “আগে খোঁজ নিয়েছিলাম এই সূত্রে পিপি কয়েকদিন আগে আমাদের কোর্টের প্রদায়কের মাধ্যমে জানিয়েছেন, মামলাটির কোন আলামত এখন আর সংরক্ষিত নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তাও জানেন না আলামতগুলো কোথায় আছে। মামলাটি নিয়ে আমার আগ্রহের কারনে স্ট্রিংগার ব্যাক্তিগতভাবে তাগিদ দিয়ে বলেছে আমি যেন লোকাল থানায় একটু তাগিদ দেই পুলিশকে। সে একই সংগে জানালো এর আগের দফায় স্বাক্ষি হাজির না হওয়ায় শুনানি হয়নি। প্রমানের অভাবে আসামীরা খালাস পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি বলেও জানালেন ভদ্রলোক। এখন ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে খুনীরা মুক্তি পেয়ে এই প্রশ্নও করতে পারে- রাহেলা কি আদৌ খুন হয়েছিল!... যাদের নাম রাহেলাই মরার আগে জানিয়েছিল!” (তথ্যসূত্র- Click This Link)
আমি অবাক হইনা। ইয়াসমিনের হত্যাকারীদের কাছে রাহেলার হত্যাকারীদের বিচার আশা করা হাস্যকর। অপরাধ যত বড়ই হোক, যত জঘন্যই হোক না কেন, পকেটে টাকা থাকলে এ দেশে থানা-পুলিশ হাত করে ফেলা কোনো ব্যাপার না। ইয়াসমিন আর রাহেলাদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের দাম এদেশে দেড় বা দুই হাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনা, টাকার অংকে তখন পিশাচদের লালসা মেটেনা। ওরা তখন নির্মম মৃত্যুর দামে ইয়াসমিন,রাহেলাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন পেপারে সাইন করে।

এ এক আজিব দেশ! টাকার জন্যে পুলিশের রিপোর্ট বদলে যায়, ঠিক যেভাবে ক্ষমতার জন্যে রাজনীতিবিদদের ক্যারেকটার বদলে যায়! উনত্রিশে জানুয়ারী চট্রগ্রামবাসী সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা হাতে নিয়ে হতভম্ব হয়ে যায়, একি! এ কী করে সম্ভব?! পত্রিকার ফ্রন্ট পেইজে বিশাল ছবিতে হাসিমুখে হাতে হাত ধরে, মুঠিতে মুঠি বেঁধে সাংবাদিকদের সামনে পোজ দিয়েছেন বিএনপি’র মীর নাসির আর আওয়ামী লীগের মহিউদ্দীন!
দুইজন দুই মেরুর বাসিন্দা। মেয়রের গদি দখলের জন্য দুইজনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই’র কথা সবার জানা। একজন এক পথে হাঁটলে আরেকজন যান আরেক পথে। মেয়র নির্বাচনে মহিউদ্দীনের কাছে হেরে গিয়ে মীর নাসির সাংবাদিকদের সামনেই রাগ নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে ভদ্রতার মাথা খেয়ে তুমুল গালিগালাজ করেছিলেন প্রতিপক্ষ মহিউদ্দীনকে। এক কথায় যাকে বলে সাপে-নেউলে সম্পর্ক! পৃথিবী উলটে যেতে পারে, কিন্তু মীর নাসির আর মহিউদ্দীনকে সামনাসামনি হাসিমুখে কল্পনাই করা যায়না।
সেই দু’জন পৃথক পৃথক দু’টি দূর্নীতি মামলায় একই সময়ে হাজিরা দিতে এসে জেলগেটে ক্ষনিকের জন্যে দাঁড়ালেন, হাসিমুখে আপন সহোদরের মত বজ্রমুঠিতে একজন আরেকজনের হাত ভি’ চিহ্নের মত উঁচু করে ধরে ছবির জন্যে পোজ দিলেন। দু’জনেই যেন দূর্নীতিতে ধরা পড়ে একজন আরেকজনকে আশ্বাস দিলেন। পরদিন চট্রগ্রামের এক স্থানীয় পত্রিকার হেডিং হল, “তারা দুইজন কি দ্যাখাইল………”!
দূর্জনেরা বলেন, ‘প্রয়োজনে এরা নিজের মা’কে বেঁচে দেবে’'। আমাদের দেশের পুলিশ আর রাজনীতিবিদ- এদের তাই বিশ্বাস করতে নেই।



(প্রকাশিত- দৈনিক যাযাদিঃ ২১শে মার্চ, দৈনিক নয়াদিগন্তঃ ৩১শে মার্চ।
লিংকঃ Click This Link
Click This Link)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৩৮
৩৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×