somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সাঁতার শেখা

০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-ডুব দাও।
-কী??! ডুব দিব মানে??
-আরে বাবা, এই রডটা ভালো করে ধর। দ্যান ডুব দাও একটা।
-সাঁতার শিখতে এসেছি, ডুব কেন দিব আন্টী?! আমার ডুব দিতে ভয় লাগে। আমি এর আগে দুইবার ডুবে গেছি!
-ডুব দিতে হবে। এটা নিয়ম। আমি তোমার হাত ধরে আছি। দাও, ডুব দাও!
-আল্লাহ!
সাহস করে চোখ বন্ধ করে ভুশশশ………
আপাতত ডুবাডুবিতে আছি। সাঁতার শিখা শুরু করেছি। ক’ মাস আগে লাস্ট ডুবে গিয়েছিলাম চট্রগ্রামে। কেউ বিশ্বাস করবেন? কোমড় সমান পানিতে!!!! ঐযে ঢেউয়ের মত রাইডটা,ওটা থেকে পড়েই আমার পা পিছলে গিয়েছিল। হেলে পড়েছিলাম পিছন দিকে। কিছুতেই পা নামাতে পারিনা। পানির প্রচন্ড প্রেশারে একসময় হাল ছেড়ে দেই। শা শা শূন্য শব্দ… খোলা চোখে পানির রঙ আর তাতে রোদের রিফ্লেক্ট দেখছিলাম…বুঝতে পারছিলাম মরে যাচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাকে দেখছে না কেন? ভাবীতো পাশেই ছিল! ভাবী আমাকে খুঁজছেনা কেন? দম বের হয়ে যাওয়ার এত কষ্ট!! আচ্ছা, আম্মু কী বলবে? নিশ্চয়ই লাশ দেখে বলবে- আমার বোকা মেয়েটা শেষ পর্যন্ত কোমড় পানিতে ডুবে মরে গেল?!! ……
হাসবেন না, আমি তখন সত্যি এই কথাটাই ভাবছিলাম। :(
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ভাবী পিছন ফিরে আমাকে না পেয়ে জ্ঞান হারানোর আগ মুহূর্তে ঝাপটে ধরে তুলে আনেন পানি থেকে। খোদা! জীবনে কারো যেন ডুবে যাওয়ার অভিজ্ঞতা না হয়।…… সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সাঁতার শিখতেই হবে।
আপনারা যারা সাঁতার জানেন, তারা একটু টিপস দিননা! আমি পানি ভীষন ভয় পাই। মনে হচ্ছে, দু’দিন সাঁতার ক্লাসে গিয়ে তিনদিনের দিন হাল ছেড়ে দিব! :( :(



আপডেট-২

-আম্মু, তুমি কীভাবে সাঁতার শিখলা?
-ধুর, শিখছি কখন তাও তো মনে নাই। গ্রামে কী সাঁতার শিখতে হয়? নিজে নিজেই কখন সাঁতার কাটা শুরু করে গ্রামের বাচ্চারা ওরা নিজেরাও জানেনা।
-আব্বু, আপনি?
-তোমার দাদু আমাকে হাঁটা শেখার আগে সাঁতার কাটা শিখিয়েছে!
আমি ভাতের গ্রাসের দিকে মন খারাপ করে তাকিয়ে থাকি।
আম্মু হাসতে থাকে।
-তুই কে কীভাবে সাঁতার শিখছে তার উপর থিসিস করার চে’ মন দিয়ে শিখতে চেষ্টা কর। শিখে যাবি ক’দিনেই। দেখিস!

আমি এক্যুরিয়ামের মাছগুলো মনযোগ দিয়ে দেখি। ক্ষুদে মাছগুলো কখনো কখনো একদম স্থির ভেসে আছে পানিতে। একটু একটু করে পাখা নাড়ে। আবার সাঁতার কাটে…… অদ্ভূদ এক আত্নমগ্নতা। যেন ভীষন মগ্ন হয়ে যাওয়া নিজের ভিতর… পানি আর প্রান…দু’টোর সম্মিলনে ফুটে উঠে যেন শান্ত উচ্ছল বুদবুদ… প্রচন্ড উচ্ছল জীবনের উল্লাসের সাথে একই সময়ে কী করে ভীষন আত্নমগ্নতা ফুটে উঠতে পারে বুঝে আসেনা। ……মাছেরা কি সবচে সুখী?...... আমার মাথায় মাছ আটকে থাকে।

সাঁতারের ওখানে দুইটা আন্টি। একজন মোটকী আরেকজন শুটকী। মোটকী আন্টি ভীষন জদরাল মহিলা। আজকে যখন টিউবের জন্যে হাত বাড়ালাম, দেখি টিউবটা দূরে চলে গেল! ব্যাপার কী? পুল থেকে আরেকটু মুখ তুলে দেখি মোটকী আন্টি পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে আছেন। গম্ভীর গলা- ‘নো টিউব’।
-‘আন্টি প্লীজ!’
-উঁহু, ওভাবে তুমি সারাজীবনেও সাঁতার শিখতে পারবেনা।
আমার কে কু আকুতিতে ওনার মন গললনা একফোঁটা। নিজে নেমে এলেন পানিতে। বললেন- ‘পা পিছনে সোজা করে ছাড়িয়ে দাও। পুরো শরীরের ভর নিয়ে আসো দুই হাতের কনুইয়ে।…… হ্যা, এভাবে… কোমড়ের নীচে কিছুতেই ভর দিবানা। মনে রাখবা সাঁতারের প্রথম শর্ত- কোমড়ের নীচে একদম মাছের মত হালকা করে ছেড়ে দেয়া।…হ্যা, শরীর কিন্তু সোজা রাখো। মনে কর পানিটা একটা বিছানা… এইভাবে পা নাড়ো… পা নাড়ানোটা অটোমেটিক হবে। এবং পা যে নাড়াচ্ছো ওটা ভুলে যাও……’
মনে মনে গজ গজ করি। পা নড়ছে, অথচ ভুলে যাবো কী করে? তাহলেতো পা নাড়ানোই বন্ধ হয়ে যাবে!
‘…… এই দেখো, তুমি ভাসছো!’
বেশ অনেক্ষন পরে ওনার কথায় হুঁশ এল। আরে তাইতো!! আন্টি যে কখন হাত সরিয়ে নিয়েছেন টেরই পাইনি! মাগো! আমি পানিতে ভাসছি!!!! একটু বেশীই খুশী হয়ে গিয়েছিলাম, সাথে সাথে ভুশশশশশ! দুই ঢোক পানি গিলে, হাচড়ে পাচড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই, ‘ এ জন্যেই এতক্ষন বলিনি। শোনো মেয়ে, সাঁতার হচ্ছে মনের ব্যাপার। এতক্ষন কিন্তু তুমি ভেসে ছিলা নিজেই, যেই তোমাকে আমি বললাম, তুমি ডুবে গেলে!... লেটস স্টার্ট এগেইন, আসো… হ্যা, আমার হাত ধরো, সোজা রাখো হাত একদম স্থির। পিছনে ঠেলে দাও, সাব্বাশ! ভেসে থাকো। এবার আস্তে আস্তে পা নাড়ো……’
আন্টি হাঁটতে থাকে। ওনার হাত ধরে আমি সাঁতার কেটে কেটে ভাসতে থাকি। আমার নিজেরই বিশ্বাস হয়না, আমি পানিতে ভাসছি!!



সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৩৬
১০৪টি মন্তব্য ৭৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×