..........................................
মানুষ কি শুধু মদ খেয়ে মাতাল হয়? উঁহু। ঐ যে নরম চাঁদের আলো, হালকা তুলোর মত, মেঘের ধোঁয়াটে সাদার মত, ঐ আলোর নীচে দাঁড়িয়েও মাতাল হওয়া যায়। ঐ আলোয় চোখ রেখে মনে হয় যেনো পৃথিবীর সব দুঃখ একতাল হয়ে ঢুকে গেছে বুকের ভিতর। এক হাত বুকে এত বেশী দুঃখ আটেনা। বুক তাই ফেটে যেতে চায়। জীবন বড় দুঃখের।
…………………
‘সম্পর্ক’ শব্দটার প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘স্বার্থ’। কে যেনো উদাহরন দিয়ে বলেছিল- একটা ছেলে যখন একটা মেয়েকে বলে ‘আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবোনা’, ছেলেটা তখন আসলে নিজের বাঁচার কথাই বলে!
……………
ফ্রক পড়া এক নির্বোধ বালিকা চুপি চুপি বলপেন দিয়ে চোখের পাশের তিলটাকে বড় করে দিয়ে মুগ্ধ চোখে দেখছে আয়নাতে। কারো কি পায়ের আওয়াজ শোনা গেলো? আংগুলের ডগায় ঘষা খেলো নরম চামড়া। বালিকার ডানচোখে অদ্ভূদ বলপেনের নকশা!
………………
মানুষের ভাল থাকাথাকিতা খুব আশ্চর্যের ব্যাপার। পুরো ব্যাপারটাই আপেক্ষিক। কেউ ‘কেমন আছো’ জিজ্ঞেস করলে কনফিউজড লাগে! ‘ভাল আছি’ বললে মনে হয় মিথ্যে বলা হচ্ছে। ক্ষতবিক্ষত দেশ, শিকল পড়া সমাজ আর হতাশ ব্যাক্তিস্বত্ত্বা নিয়ে ভাল থাকা হয় কী করে? আবার ‘খারাপ আছি’ বললেও যেনো সত্য বলা হয়না। কারন তুলনামূলকভাবে অন্য কেউ আরো বেশী খারাপ আছে।
তাহলে হলোটা কী?
-তুমি কেমন আছো?
-আমি আপেক্ষিক আছি।
এটাই মনে হয় সঠিক উত্তর।
……………………
হঠাৎ মনে হল এভাবে কান্না জমানোর কোনো মানে নেই। কান্না জমানোর বস্তু না। অতএব তখনি রিকশায় একলা বসা অবস্থাতেই হু হু করে কেঁদে ফেলা। রিকশাওয়ালা বেশ অবাক হয়েই পলকের জন্যে ঘাড় ফিরিয়ে দেখেন। তারপর আবার যথারীতি প্যাডেল মারেন।
যাত্রীরা কাঁদে।
যাত্রীরা হাসে।
রিকশাওয়ালাদের ও নিয়ে মাথা ঘামাতে নেই। ওরা যেন পাথুরে মানব। শুধু প্যাডেল মারতেই ওদের জন্ম।
…………………
Show me the way
To go home
And let me close my eyes
In a deep dream.
আজকাল খুব বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে। কাঁদামাটির, বাঁশঝাড়ের আর মাটির চুলার গন্ধওয়ালা বাড়ি। অবশ্য এটা একটা কল্পনা বিলাসিতা। নতুবা ইট-পাথরে বড় হওয়া কারো কেনো কাঁদামাটির গন্ধের জন্যে মন কাঁদবে? মাটির চুলার সেই ভলকে ভলকে উঠা কয়লার কালিতে রঙ মেখে সং সাজার শহুরে কাব্য-কাহিনীর কল্পনা বিলাসিতাকে তবু কেনো যে দু’ আংগুলে ভচকে দিয়ে বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে। কাঁদামাটির, বাঁশঝাড়ের আর মাটির চুলার গন্ধওয়ালা বাড়ি।
তবে এখানেও একটা কথা আছে।
বাড়ি যেতে ইচ্ছে করাটা আসলে হতে পারে অবচেতন মনের পলায়নপরতা।
কিংবা কেউ বলতে পারে শেকড়ের টান।
অথবা আরো কঠিন কোনো শব্দ, শিরোনাম ও উপমা- যাকে তালগোল পাকিয়ে শেষে সাহিত্য নাম দিয়ে বাজারে বিকিয়ে দেয়া যায়।
অথবা সোনালী বাক্সে সযতনে তুলে রেখে (কবির তোষামোদানুযায়ী) ঈগলের ডানার মত ভ্রু কুঁচকে দ্বিধান্বিত চিন্তার সাথে সহবাস- তরকারীতে লবণ বেশী হয়নিতো?
……………………
শেষ পর্যন্ত রানী এলিজাবেথের অন্তর্বাস নিলামে উঠেছে। একটুকরো ময়লা কাপড়, শহুরে নিলামে তাও কত লক্ষগুন দামী! ধাঁধাঁ লাগে। রানীর অন্তর্বাস নাকি মানুষের মন- দাঁড়িপাল্লার সামনে থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে থেকে প্রায়ই মনে হয় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করি-
অর্ডার! অর্ডার! অর্ডার!
এখানে নিলাম চলছে।
এই বিপুল বিলাসী মনটাকে নিলামে তুলে সবকিছু চুকিয়ে বুকিয়ে দিয়ে একটু ভালো থাকার চেষ্টা করা যাক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

