আপনাকে কেউ কি কখনো বলেছিলো ‘দাঁড়াও, আমি আসছি’; তারপর আসেনি? অথবা ‘তোমাকে আমি একটা চিঠি লিখবো’ বলে আর লিখেনি? আমাকে বলেছিল। তারপর যখন আসেনি, আমার স্রেফ একটু উদাস লেগেছে। এর বেশীকিছুই না। যখন আর চিঠিটাও পাইনি, তখনো একটু উদাস লেগেছে। চুল খুলে দিয়ে সমুদ্রের পাশে একলা দাঁড়ালে সমুদ্র থেকে বাতাস এসে চুল এলোমেলো করে দিয়ে কানের কাছে ফিস ফিস করে কথা বললে যেমন মানুষ সব কেমন অটো উদাস হয়ে যায়, তেমন রকম এক চিমটি উদাস হয়েছিলাম। তারপর আবার প্রাত্যহিক নখরামী।
তাহলে এই কাহীনি ফাঁদার কারণ কী? কোনো কারন নেই। স্রেফ বলতে ইচ্ছে হলো, এখনো রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে, এখানে সেখানে হঠাৎ মনে পড়ে যায়, কেউ একজন আসবে বলে আসেনি। কেউ একজনের একটা চিঠি পাঠানোর কথা ছিল। সেই চিঠিতে হয়তো একটা রাজা আর একটা রানীর কাহিনী থাকতে পারতো। যে রাজা শিকারে গেলে রানীকে ষড়যন্ত্র করে ফুল বানিয়ে দেয় কেউ একজন। রাজা এসে আর রানীকে খুঁজে পায়না। অথবা টুনাটুনির গল্পের মত অন্য কোনো গল্প থাকলেও খারাপ লাগতোনা। যে গল্পে এমন এক দেশের কথা থাকতো যে দেশে সব সময় শরৎ আর হেমন্ত। টুনা আর টুনি শরতের আকাশের নীচে বসে বসে খালি পিঠায় বানায় আর পিঠায় বানায়।
আপনাকে যদি কেউ এভাবে উদাস না করে দেয়, ধরে নিন কেউ একজন আছে, যার আসার কথা ছিল কিন্তু আসেনি। অথবা যার একটা চিঠি লিখার কথা ছিল, লিখেনি। দেখুন, বুকের ঠিক মধ্যখানটাতে কেমন একটা দলা পাক লেগে যায়। দলাটা ঠিক কষ্টেরও না, কেমন যেন। কেমন যেন সবাইকে লুকিয়ে একলা রাতে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে মন চায়। কেমন যেন হাতের সব কাজ ফেলে দিয়ে স্টেশনের সেই ছায়ার নীচের কাঠের সিটটাতে একলা বসে উদাস হয়ে যেতে মন চায়। অথবা কেমন যেন পড়ন্ত দুপুরে শীতের পাতা পড়ে ঢেকে যাওয়া রাস্তায় শুকনো পাতাগুলোর উপর মর মর আওয়াজ তুলে হাঁটতে হাঁটতে একলা একলা হারিয়ে যেতে মন চায়!
অদ্ভূত, না? কোনো কষ্ট না থেকেও শুধু শুধু কষ্ট পাওয়া! আসলেই অদ্ভূত।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


