ডা: জাকির নায়েক,
আসসালামু আলায়কুম। আপনার লেকচার ও ডিবেট শুনতে এবং আপনার লেখা বই পড়তে ভালই লাগে। আমি সুযোগ পেলেই peace tv তে আপনার লেকচার ও ডিবেট শুনি ও উপভোগ করি।
আপনার বিভিন্ন ঐশী গ্রন্থের উপর জ্ঞাণ অভুতপুর্ব (fantastic)। একারনে আমার মনে হয় আপনি আরো বেশি কার্যকর হতেন, যদি আপনি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারিদেরকে তাদের নিজ নিজ ঐশী গ্রন্থ (scripture) অনুযায়ী মহান সৃষ্টিকর্তার (creator: Allah, God, Yahweh,ভগবাণ ….by whatever name they call the Craeator of the universes and all including, seen or unseen) নিকট সর্বান্তকরনে (totally by their heart and soul ) নিজেকে নিবেদিত করিতে এবং একমাত্র তাকে (only HIM) এবং তাকে ব্যতিত বা তাহার সহিত অন্য কাহাকেও উপাসনা না করার পরামর্শ দিতেন। কোরান অনুযায়ি এরাই তো সত্যিকার মুসলমান। ইব্রাহিম, লুৎ এবং অন্যান্য রসুলদের অনুসারিদেরকে কোরানে মুসলমান নামেই অভিহিত করা হইয়াছে।
আজকের মুসলমানদের আমরা খুব বেশি হলে মুহাম্মদ ছঃ এর হাদিস অনুসারি (sunni),আলি রাঃ এর অনুসারি (shia), তথাকথিত পীর, অলি বা মাযহাবের অনুসারি হিসাবে দেখিতে পাই। আমার ভয় হয় এদের বেশিরভাগই আল্লাহর সহিত শিরক এ নিয়োজিত। তাদের আশা এইসকল পীর, অলি বা পয়গম্বরদের মাধ্যমে (শাফায়াৎ) তারা আল্লাহর্ নৈকট্ট লাভ করিবে , বা ক্ষমাপ্রাপ্ত হইবে বা সকল জাগতিক আশা পুর্ণ হইবে।
সুঃ আল-যুমার আয়াত ৩ : "জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত। যারা আল্লাহ ব্যতীত আউলিয়া ( কোরানে এই শব্দটিই ব্যবহৃত হয়েছে) উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের এবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।"
আপনার ডিবেটে আপনি অন্য ধর্মের উপর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে যেয়ে অন্য ধর্মকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। যার ফলে মানুষের সহজাত ঈর্ষা ও ইগোর (ego) কারনে তারা ইসলাম গ্রহণ না করে আরো দুরে সরে যায়। আসলেই কি ইসলামের সাথে অন্যান্য ধর্মের মূলগত কোন পার্থক্য আছে ? পার্থক্য যা আছে তা মানুষের ই সৃষ্টি।
42:13] "তিনি তোমাদের জন্য সেই একই দ্বীণ (ধর্ম) নির্ধারন করেছেন, যা নূহ আঃ এর জন্য করেছিলেন এবং যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি ও যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম আঃ, মূসা আঃ ও ঈসা আঃ কে এই মর্মে যে , “তোমরা দ্বীণকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।” সুঃ আশ-শুরা , আঃ ১৩
41:43] সুঃ হা-মীম , আঃ ৪৩
"আপনাকে ঠিক ঠিক তাই বলা হয় , যা বলা হতো পূর্ববর্তী রসুলগণকে।"
21:25] সুঃ আম্বিয়া , আঃ ২৫
"আপনার পূর্বে আমি যে রসুলই প্রেরন করেছি , তাকে একই অহী পাঠিয়েছি: "আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই , সুতরাং আমারই উপাসনা কর।"
মুসলমান হওয়া কি জরুরী ?
[2:62] সুঃ বাকারা আঃ ৬২
"নিঃসন্দেহে যারা বিশ্বাসী , যারা ইহুদী , খৃষ্টান ও সাবেঈন , এদের মধ্যে যারা আল্লাহ ই বিশ্বাস করে , পরকালে বিশ্বাস করে ও সৎ কাজ করে , তাদের জন্য রয়েছে পুরস্কার তার পালনকর্তার কাছে।তাদের কোন ভয় ও নেই এবং তাদের দুঃখ ও করা লাগবে না।"
একই আয়াত কোরানের আরো এক জায়গায় আছে , সুরা আল মায়দাহ(৫) আয়াত ৬৯
অমুসলিমদের মুসলিম হওয়ার জন্য দাওয়াৎ দেয়ার প্রয়োজন আছে কি ? যেখানে আল্লাহ চাননি সকল মানুষ একই ধর্মের আনুসারী হোক।
16:93] সুঃ নাহল আঃ ৯৩
যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতে পারতেন।
12:103] সুঃ ইউসুফ আঃ ১০৩
"আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেনো , বেশিরভাগ লোক বিশ্বাস আনবে না।"
11:118] সূরা হুদ "আর তোমার পালনকর্তা যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে একই জাতিসত্তায় পরিনত করতে পারতেন আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না।"
10:99] সুঃ ইউনুস আঃ ৯৯
"আপনার প্রভু চাইলে দুনিয়ায় যত লোক আছে প্রত্যেকেই বিশ্বাসী হতো। তুমি কি মানুষকে জবরদস্তী করে বিশ্বাসী বানাতে চাও ?"
7:186] সূরা আল আ’রাফ "আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন।"
24:21] সূরা আন-নূর "হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন।"
5:48] সূরা আল মায়েদাহ "আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।
উপরের আয়াতগুলো থেকে কি এটাই প্রমানিত হয় না যে , আল্লাহ চান বিভিন্ন ধর্মের মানুষ হিংসা দ্বেষ ভুলে একে অপরের সাথে সৎ কাজে , ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



