আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

আহাম্মকের আমলনামা তথা হাবিল-কাবিল-সিবিল সমাচার
২৮ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫
এক. এদেশে সব্বাই মন্দ, তেনারা কেবল ভালো, শতাব্দীর আন্ধার জ্বালিয়ে বলেন, দেখ কেমন আলো!
এই হইল ঘটনা এবং এই ঘটনার কোনো মা-বাপ নাই। এনারা আরশ থেকে পড়েছেন বলে সিবিল, বাকি সব হাবিল-কাবিল। আদমের এই দুই পুত্র দুনিয়ায় প্রথম রক্তপাত ঘটিয়েছিল, হালে তাদের পুত্র-তস্যপুত্ররা দুই দলে আছেন। আর সিবিলরা আছেন নির্দলে। তাঁরা নির্দল-নিরপেক্ষ। তাই নির্দলীয় সেনাবাহিনীর সমর্থক। তাঁরা মন্দ কী জানেন না, কিন্তু টাকায় আধ টাকার সুদি কারবার করেন। তাঁদের কায়েন্ট কোম্পানি শিশুশ্রমে মুনাফা করে সেই মুনাফার ভাগ দিলেও তাঁদের নোবেলের মহিমা কিছু মাত্র কমে না। তাঁরাই ফেউ হয়ে বাঘ আসার রাস্তা খোলাসা করেন কিন্তু এখন আবার তারাই গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চোঙ্গা ফোঁকান। ফৌজিদের আর কী অপরাধ! নোবেল বিজয়ী বীর সওদাগর পুত্র যখন ভিটে-মাটি-বন্দর সব বিক্রি করার ওকালতি করেন, খায়েশ দেখেন ফৌজি কুলাঙ্গারদের কাঁধে চড়ে সত মানুষের রাজনীতির শিখণ্ডী হতে! ক্লিন্টন-সারকোজি-ব্লেয়ার-জর্জ সরোস তার বন্ধু। দুনিয়ার তাবদ মাল্টি ন্যাশনালকে বাংলাদেশে ব্যবসা করার মুতসুদ্দিগিরিই যার বড় সাফল্য, এই আমলে তেনারাই নাকি গণবন্ধু। এইসব ব্র্যাক-সিপিডি-গ্রামীণরাই কি দেশকে এক গহ্বর থেকে আরেক পগারে ফেলার দুতিয়ালি করেন নাই? রাজনীতিবিদরা খারাপ, তা ভাই তোমরা কারা? কার টাকায় তোমার বাণিজ্য? কাকে তোমরা এক ঘাটে কিনে আরেক ঘাটে বেচে আসছ? তোমরা কি আফগানিস্তান দখল হবার পর সেখানে ব্যবসা খোলো নাই। তোমাদের একজন, যিনি নাকি আইনের জাহাজ সংবিধানের ওঝা, তিনিই কি দখলদারদের হয়ে সংবিধান রচনার ঠিকাদারি পান নাই সেখানে? তিনিই কি বাংলাদেশে এশিয়া এনার্জি, নাইকো প্রভৃতিদের আইন উপদেষ্টার চাকরি করেন না? টিআবির পীর যিনি তিনিও কি এই সরকারের মদদদাতা সাজেন নাই?বহুজাতিক লুটেরা কোম্পানির কর্মচারি ও স্থানীয় এজেন্টরাই যদি বাংলাদেশের বিবেক হবে তবে আর কারজাইকে গালি দেয় কোন বেকুবে।
দুই. বিউটেনিস গেছে এখন এসেছে মরিয়ার্টি। ইনি নতুন বড় লাট, এসেই চট্টগ্রাম বন্দরের তদারকি করে গেলেন। বন্দর ইজারা হয়ে গেছে তলে তলে, ট্রেন চলাচলের ছলে ভারতের সঙ্গে ক'দিন আগে ট্রানজিটও হয়ে গেল। আমেরিকার সন্ত্রাস দমনের পররাজ্যগ্রাসী যুদ্ধে বাংলাদেশ হাবিলদারিতে যোগ দিল। আর থাকেটা কী? এসবই দুর্নীতি দমনের বাড়তি ফজিলত। ফৌজি কাছা খুলতে আর কিছু বাকি নাই। তেনাদের ক্ষমতার বাসনা আর পরাশক্তির হাবিলদারির নাম বিদেশে শান্তির মিশন আর দেশে দুর্নীতি দমন। চোর-বাটপার বেলেঙ্গা রাজনীতির ব্যাপারিদের অপকর্মের নাম দুর্নীতি আর তেনাদের অজাচারকে বলে দেশোদ্ধার। ইদানিং তাদের সত্যপ্রীতি জন্মেছে। দোষ স্বীকার করলেই মাফ। খোদ খোদারও এত দয়াবান হওয়ার ক্ষমতা নাই। ট্রুথ কমিশনের নামে ফৌজি লিঙ্গ সমাজের আরো ভেতরে ঢূকবে; এতে আর বিষ্ময় কী?
ছোটো লাট আনোয়ার চৌধুরী যাবার আগে কেঁদে-কেটে বাঙালির লুঙ্গি ভিজিয়ে ফেললেন। এক ব্লগে দেখলাম এই দেশি ভ্রাতার বিদায়ে ডিজিটাল কান্নার বান বইছে। জিগাইলাম, মহাত্মন, কীসের তরে তব শোক? কয়, উনি বাংলাদেশের বন্ধু। তাঁর আমলে কত দেশি ভাই বিলাত গেছে জানেন? কারে কি কব? ইংরেজ আমলে এর থেকে বেশি বাঙাল বিলাত গেছে। তাই বলে কি ইংরেজ শাসন জায়েজ? দাস্য মনোবৃত্তি কয় প্রজন্ম গেলে পরে সারে?
বিউটেনিস যাবার পর দুইবার এসেছেন। কেন? না ওনার কুকুর রেখে গেছেন, ঐবার তারে দেখতে আইছেন আর এইবার আইছেন নিতে। মানুষ থুইয়া কুকুর প্রীতি মার্কিন জালিয়াতদেরই সাজে। অধমের মনে তখন একখানা জিজ্ঞাসা বেজেছিল। কোন কুকুর নিতে আসছেন উনি, বাবর না তারেক? কারে তার বেশি দরকার?
তিন. কেউ গোস্তাখি নিয়েন না। মেজাজটা এরকমই। যদি বলেন কাঁদেন ক্যান? বলব, কাঁদি না, মুখটাই এরকম। দুঃখে বারায় হোল, লোকে কয় পাগল। আমাদের অবস্থা সেইরকমই। সেনাশাসনে তো কারো কোনো অসুবিধা হচ্ছে বলে মনে হয় না। এই আমলে ব্যবসায়িরা শ্রেফ দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিল। বাইরের কোম্পানিগুলো নির্বিবাদে মুনাফা লুটে যাচ্ছে। ঢাকা শহরে কি নতুন গাড়ি নামা বন্ধ হয়েছে? মধ্যবিত্তের একটা অংশের উচ্চবিত্তে প্রমোশন কি ঠেকে আছে? ঠেকে আছে ধনীর দুলাল-দুলীলীদের ফুর্তিফাতা? সব চলছে? বাকি সব মফিজদের বদনা হাতে দৌড়াদৌড়িই সার। এসবের মধ্যে সুখে আছে সিবিলরা। এনাদের কল্যাণেই নব্য মহাজনরা ভিভিআইপি হয় আর ভূমি সংস্কার দাবি করা বিপ্লবীরা মাথার পেছনে গুলি খেয়ে মরে থাকে বাঁধের ওপর। এরা সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রের ভেতর তারা আরেক রাষ্ট্র বানিয়ে এখন ফৌজি সংস্কারের পার্টনার হয়ে টেলিভিশন আলো করে পত্রিকার পাতা ভরে বকে যাচ্ছেন। প্রশ্ন হলো, তোরে জিগায় ক্যাডা?
তারা যা করার না তা করছেন, যা ভোগ করার না তা ভোগ করছেন। ইডিপাস মাতৃ জননাঙ্গ দর্শন করেছিল বলে প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে নিজের চোখ অন্ধ করে ফেলেছিল। এনারা যে দানব জন্ম দিয়ে সেই দানবকে দিয়ে দেশকে ধর্ষণ করাচ্ছেন, সেই পাপজন্মের প্রায়শ্চিত্ত কী দিয়ে করবেন?
পাঁচ. আমাদের মধ্যেও যে সিভিল সোসাইটির মহিমাপ্রীতি নাই, তা নয়। সবাই খারাপ খালি এনারা ভাল, এই ধারণা বেশ চাল্লু। আমাদের জন্য এই গল্পটি বলেছিলেন রাজনারায়ণ বসু।
একবার ঠনঠনের মাহারাজাকে এক জোড়া জরির নাগড়াই উপহার দিলেন উলুখাগড়ার নবাব। বংশে তিনিই প্রথম মাহরাজা। ফলে এসব সামগ্রীর কী ব্যবহার তা মহারাজের জানা ছিল না। বন্ধুমহলে পরামর্শ করেও লাভ হলো না। তো একদিন সেই জরির নাগড়াইয়ের এক পাটি মাথায় পাগড়ির ডগায় বেঁধে আয়নায় দেখলেন, বেশ দেখাচ্ছে। তো হৃষ্টচিত্তে তিনি সেই নাগড়া জুতো বাঁধা পাগড়ি মাথায় করে দরবারে দেখা দিলেন। সকলে ধন্য ধন্য করলো।
অতএব এ বিষয়ে আমাদের নির্বিরোধ মধ্যবিত্তরা নতুন নন। কোথাকার জিনিষ কোথায় রাখতে হয় তার বুঝ আসতে আমাদের আরো বাকি। আমাদের মতি হোক।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অনিশ্চিত বলেছেন:
এনজিওর পাশাপাশি বুদ্ধিজীবি থেকে শুরু করে নমস্য ব্যক্তিগণ (!) সাধারণ মানুষকে সিনেমার ডায়লগ বলতে শিখিয়েছে- আমি রাজনীতি বুঝি না, বুঝতেও চাই না। এসএসসি-এইচএসসি পাশ করে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভালো ফলাফলধারী শিক্ষার্থীরা যখন এই ডায়লগ মারে, তখন মনে হয়- পুরো জীবনটা যে রাজনীতি নামক সিস্টেমের অন্তর্গত, এই বোধ না জন্মালে এদের দ্বারা সত্যিকার অর্থে পজিটিভ কিছু আশা করা কঠিন। বিরাজনীতিকরণের মধ্যদিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ এখন এ দেশে একটি ভালো ব্যবসা- লাভের সম্ভাবনা প্রচুর তো বটেই, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান (আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক) ইত্যাদি লবিতে পুরষ্কার পাবার সম্ভাবনাও বাড়ে।
লেখক বলেছেন: পুনশ্চটা ছেঁটে এনে এখানে দিলাম, যাতে আর বড় না লাগে। মূল লেখাটা তো ওইটুকুই।
পুনশ্চ: এনজিও ওয়ালাদের মশকরাটা দেখেন, তারা এতদিন বলতো তারা রাজনীতি করে না এবং বোঝেও না। তাহলে এখন কেন ভাই আপনারা রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মতামত দিচ্ছেন। এটাও কি রাজনীতি নয়?
জাতীয় উন্নতি, দারিদ্র্যমোচন, নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন (তারা বলে সুশাসন) ইত্যাদি কেন্দ্রিয় রাজনৈতিক প্রসঙ্গকে রাজনীতি বহির্ভূত কর্তৃপক্ষ ও বিষয়ের অধীনস্ত করেছে তারা। এগুলো এখন বিদেশিরা দেখবে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও মার্কিন-ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত দেখবে। আমাদের পাতে পড়বে ভেরেন্ডা ভাজা। আর আমরা মধ্যবিত্তরা ভাবছি, এনজিওরা তো দরিদ্রকে উদ্ধার করছে, সিভিল সোসাইটি তো রাজনীতির বিকল্প দিচ্ছে অতএব আমাদের বিকল্প হলো যে কোনো ভাবে এদের সঙ্গে থেকে একটু সুখের মুখ দেখা। সেই সুখের মুখ এখন দেখা দেবে ধীরে ধীরে!!!
এনজিও প্রতিষ্ঠান কিংবা সিভিল সোসাইটি নামক বিকল্প এলিট গোষ্ঠীরা কেবল চুরি আর শোষণের নিয়ত নিয়ে নেমেছে তা নয়। সকল কাজের মতোই এদের কাজেরও ভাল মন্দ আছে। কিন্তু কেন এদের পত্তন সেটার দিকে মন দিতে চাই।
এক. গোড়ায় তৃতীয় বিশ্বে বিপ্লব ঠেকানো ও দারিদ্র্য যাতে বিষ্ফোরিত না হয়ে ধুকে ধুকে চলে, সেরকম বন্দোবস্তই এদের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু নব্বই দশকের শেষে এ ওয়াশিংটন কনসেনসাস নামক বৈঠকের পর এরা এখন আগের কাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিকল্প রাষ্ট্র হয়ে ওঠা এবং যে বিকল্প রাষ্ট্র হবে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদের অরগানিক পার্ট, তারই বাহন। বড় পঁজি একত্রে সরকারকে ধার দিলে যত না মুনাফা ও নিশ্চয়তা তার থেকে সেটাকে কণা কণা করে গরিবদের দিলে বেশি লাভ ও বেশি নিশ্চয়তা, ইউনুস তা প্রমাণ করেছে। কৃষি ও গ্রামকে পুঁজিবাদের ও বাজারের মধ্যে আনার ক্ষেত্রে এদের পদ্ধতি সরকারি পদ্ধতির তুলনায় মোক্ষম। পাশাপাশি পণ্যের বাজার বিস্তৃত হতে হলে মানুষের হাতে কিছু কাঁচা টাকা থাকা চাই। এরা সেটা যোগান দিয়ে একদিকে ঋণের সুদ অন্যেদেকে পণ্যের মুনাফা দুটিই নিশ্চিত করে। সুতরাং এরা বিশ্ব পুঁজিবাদের কার্যকর অঙ্গ।
দুই. এনজিও কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত শিক্ষিত তরুণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিলাষী শিক্ষক, সুবিদাবাদী গবেষক ইত্যাদি প্রকৃতির ইন্টেলেজেনশিয়াকে খাইয়ে-পরিয়ে বিদেশ পাঠেয়ে বশে রাখা গেলে এদের পক্ষে সামাজিক অসন্তোষ কিংবা বিপ্লবী কার্যক্রমে যোগ দেয়া কঠিন করে তোলা।
তিন. রাষ্ট্র,রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্তা ও সেবাকে ধীরে ধীরে অরাজনৈতিক করে তোলা এবং এসবে কর্পোরেট ও আন্তর্জাতিক অর্থকরি সংস্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসা।
চার. শাসক শ্রেণীর অযোগ্যতা কিংবা বেয়াড়াপনার ব্যালান্স হিসাবে রাজনৈতিক এলিটের জায়গায় সিভিল সোসাইটিকে বসানো। যারা সমাজকে রিপ্লেস করবে এবং দমিয়ে রাখবে মতাদর্শিক আধিপত্যের জালে।
চার. রাষ্ট্রীয় সংগঠন দিয়ে অনেক কাজ করানো সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর হওয়ায় বিকল্প সাংগাঠনিক কাঠামো তৈরি করা, যা গতিশীল, জবাবদিহিমুক্ত, এবং আন্তর্জাতিক।
পাঁচ. এনজিও হচ্ছে মাঠপর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক দল ও নেটওয়ার্ক। যেখানেই সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয় সেখানেই তারা গিয়ে হাজির হয়; তা সে ইরাক আ আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ হোক।
আরো কথা বলা যায়। তার আগে এটা বলা দরকার যে, এর বাইরেও কিছু নিরীহ গোছের এনজিও আছে, যারা গণবিরোধী নয়। আবার ভারত বা ল্যাটিন আমেরিকায় স্থানীয় অর্থায়নে যারা কাজ করে তারা অনেক ক্ষেত্রে ওপরের বৈশিষ্ঠ্যের বাইরে অবস্তান করেই কাজ করে। এনজিও নিয়ে আনু মুহাম্মদের 'বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভবনা ও এনজিও মডেল নামক গবেষণা পুস্তকটিকে আমার নির্মোহ মনে হয়। এছাড়া গ্রামীণ নিয়ে আমিনুর রহমানের বই কিংবা সারাহ জার্দিংয়ের মাইক্রোক্রেডিট গবেষণাটি দেখতে পারেন।
প্রিয় ফারুক ওয়াসিফ,
আপনাকে সমাজতান্ত্রিক ফোরমা গ্রুপের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বর্তমানে এই গ্রুপে ব্লগার নিকোর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ওপেন বিতর্ক আহবান করা হচ্ছে। আশা করি তাতে আপনার মতটিও জানাবেন। গ্রুপের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আহবানটি আপনার এখানে কপি করে দিচ্ছিঃ
প্রিয় সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপের সদস্য,
আমাদের প্রিয় ব্লগার নিকো "সমাজতন্ত্রের প্রায়োগিকতা" শীর্ষক তার একটি পোস্টে ( Click This Link) একটি আলোচনা উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের বাম দলগুলোর বিরোধ নিয়ে চমৎকার একটি সমালোচনা করেছেন। এই আলোচনাটি নিয়ে সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে একটি ওপেন বিতর্ক হতে পারে বিবেচনা করে পোস্টটিকে স্টিকি করা হয়েছে। এবং মূল আলোচনার সাথে যুক্ত করে তিনটি প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আপনারা এই বিতর্কে অংশ নিবেন এবং আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামতটি জানাবেন।
প্রশ্ন গুলো নিম্নরূপঃ
১। কেন বাম দলগুলো এত ভাগে বিভক্ত? অন্তত তাদের নেতাদের বক্তৃতা শুনলে খুব বেশী পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। ২। বিপ্লবের স্তর কি হবে? সমাজতান্ত্রিক? জনগণতান্ত্রিক? বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক? ৩। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও উৎপাদন পদ্ধতি কিরূপ? পুঁজিবাদী? সামন্তীয়? আধা পুঁজিবাদ, আধা সামন্তবাদ? আধা সাম্রাজ্যবাদ আধা সামন্তীয়?
লেখক বলেছেন: আমি সাগ্রহে রাজি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো : এই তিন দফার ধাঁধাঁ গত অর্ধ শতক ধরে আমাদের সামনে জারি রাখা হয়েছে কী উদ্দেশ্যে?
নিজ বর্তমান এবং নিজ দেশকে ভাল করে বোঝা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে পরিবর্তনের রেখাটা ধরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এইসব অবান্তর প্রশ্নে আমার আগ্রহ নাই। বামপন্থিদের ঐক্য ঐক্য না করে, কে কি কাজ গড়ে তুলতে পারে, কীভাবে পারে তার সুলুক করা চাই আগে। মধ্যবিত্তের পাতি বুদ্ধিজীবিতা ও মেকি বিপ্লবীপনার বাইরে এসে তাকাতে চাইলে আমি আছি।
লেখক বলেছেন: অর কুছ পায়া?
দূর্ভাষী বলেছেন:
সত্যি আপনার জবাব নেই। আজ আমাদের দেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট চললেও এমন কিছু এনজিও আছে যারা সত্যিকারের উন্নয়ন চায়। অবশ্য তাদের সংখ্য নগন্য।
ফারুক ওয়াসিফ,
আপনি যে কমেন্টটি করেছেন, সেটিই নাহয় লিংকে দেয়া পোস্টে করে আসতেন। যদি সম্ভব হয়, তবে পুরো পোস্ট পড়ে ও কমেন্ট সমূহ পড়ে আরো কিছু কথা বললেন। (একটু কষ্ট করে উপরের কমেন্টে দেয়া লিংকটিতে ক্লিক করুন!!)
আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের গ্রুপের বিতর্ক পোস্টে আশা করছি।
আর, আবারো আপনাকে সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপের সদস্য হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। আপনার লেখাগুলো, এই গ্রুপ আর্কাইভকে সমৃদ্ধ করবে বলেই আমরা মনে করি।
আপনাকে ধন্যবাদ।
নাসিমূল আহসান বলেছেন:
নিজের বিজ্ঞাপন করার লোভটা সামলাইতে পারলাম না। আসলে লেখাটা পইরা অনেক আমি আমার ওযাসিফ ভাইকে ফিইরা পাইলাম মনে অয়! দারুন ভালো লাগতাছে। সরাসরি আমার প্রিয় পোষ্টে পাঠাইলাম। আম মহামতি জেনারেলগো নিয়া একটা লেখা লিখছিলাম;তা দিয়া দিলাম।
সঙ্গম ও গর্ভধারন সম্পর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবনা
এক.
যারা সঙ্গম করেন ,দয়া করে আজ থেকে তারা আর সঙ্গম করবেন না। কেননা আপনার সঙ্গমে জম্ম হতে পারে কোন বিপ্লবীর। যে অস্বীকার করতে চাইবে আপনাদের স্বৈরশাসককে;স্বৈরশাসকের মুখোশি মানবতা, মৌলিক অধিকারের গালগপ্পোকে।যে ছুড়ে ফেলে দিতে পারে আপনাদের নপুংশক ধর্মের মিথ্যা বাকোয়াজিকে।যে বঙ্গভবনের সামনে উলঙ্গ হয়ে প্রকাশ করবে তার তার বস্ত্রহীনতার লজ্জা।যাকে জনগনের শাসন,বাক-স্বাধীনতা,ধর্ম নিরপেক্ষতা জাতীয় রসগোল্লা মার্কা বুলিকে বিশ্বাস করানোর তাগাদায় প্রচারযন্ত্র,পাঠ্যপুস্তক,সংবিধান জুড়ে মূল্যবান কলমের মূল্যহীন বিষ্ঠা ছড়াবে রাষ্ট্রীয় অধিপতিরা। খুচিয়ে খুচিয়ে রক্তাত্ত করবে বিপ্লবীর মুক্তিকামী মস্তিষ্ককে। হিজড়া রাষ্ট্র শিশু-বিপ্লবীর ভয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে লেলিয়ে দেবে বুট-রাইফেল-সানগ্লাসময় প্রজাতন্ত্রের রক্ষাকর্তাদের(!)।শহর-গ্রাম-মাছবাজার-গণিকালয়-শহীদ মিনার-সংসদ ভবন-বিশ্ববিদ্যালয়-গণ শৌচাগার-তরকারীর হাট জুড়ে জাড়ি করবে ওয়ান-ফোরটি-ফোর।
দুই.
যে মা আজ চুড়ান্ত পোয়াতি; সে হয়তো একটু পরেই প্রসব করবে ফুটফুটে শিশু। প্রিয় মা; তোমার পা-এ পড়ি। তোমার সন্তান জন্ম নিয়ে চোখ ফোটার আগেই ওকে কিছু একটা খাইয়ে মেরে ফেলো! আর যদি তা না পারো তাহলে তোমাকে দেখতে হবে প্রবল শীতে কাপড়ের অভাবে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা খোকামনির করুন চাহনি ! অথচ তুমি তার গায়ে তুলে দিতে পারবে না এক টুকরো গরম কাপড়। চিকিৎসার অভাবে তোমার নবজাতকের শ্বাসরোধ হয়ে আসবে; আর তখন তোমার রাষ্ট্র আর তার খাদেমসকল মিলে শিশু স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা,মানবাধিকার জাতীয় প্রলাপের ছেবড়ি তুলবেন লাল-কালো হরফের নামী-দামী সংবাদপত্রে;টেলিভিশনের রঙিন পর্দায়। গনতন্ত্রের যাদুকরী সংগা-না-বোঝা তোমার অবুঝ শিশুটির দেহ ব্যাথায় কুঁকড়ে যাবে। তুমি কিছুতেই সইতে পারবে না সে সব যন্ত্রনা অথচ কিছুই করার নেই তোমার। প্রিয় মা; এসবের চেয়ে এই ভালো,মেরে ফেলো শিশুটিকে! কিছু কিছু মরে যাওয়া বেঁচে থাকার চেয়েও বেশি স্বস্তিদায়ক। মা পারবে না এতটুকু হিংস্র হতে?যে মা পেটে চার...পাঁচ...ছ্রয়... মাস বয়সি ভ্র“ন-শিশু নিয়ে যাচ্ছেন হাট-বাজারে;ভাঙছেন ইট;কাজ করছেন কোন গার্মেন্টেসে-তার কাছে একটা অনুরোধ। আজ রাতে আপনার ভালোবাসার মানুষটি সারা দিনের ব্যাস্ততা সেরে যখন বাসায় ফিরবে; ওকে আপনার পেটে জোড়ছে একটা লাথি মারতে বলবেন। যেন আপনার উরূসন্ধি চুইয়ে পড়ে ভবিষ্যতের ‘মানুষ’ ভ্র“ন-শিশুটি। তাহলে ওকে আর সইতে হবে না বেচেঁ থাকার বিড়ম্বনা। সইতে হবে না বস্ত্রহীনতার লজ্জা। সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে না শিক্ষাহীন অনালোকিত জীবনের জোয়াল। তাকে দেখতে হবে না স্বৈরশাসকের কুৎসিত-ভয়াল মূর্তি। তার বুকের উপর বুট আর রাইফেল বসিয়ে কেউ আরোহন করতে পারবে না গন -স্বৈরতান্ত্রিক পাওয়ার হাউসে;লুই আই কানের লাল দালানে।
তিন.
খুব সম্ভবত সামরিক বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্য ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন নাগরিক স্বপ্নেও ভাবেননি তাদের জীবনে নেমে আসবে কারফিউর খড়গ। কোন সন্তান তার গুরুতর অসুস্থ মাকে নিয়ে যেতে পারবে না হাসপাতালে। ছোট শিশু কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে যেতে পারবে না ইশ্কুলে। গ্রামের সহজ-সরল বাবার স্বপ্নের দায়ভার মাথায় নিয়ে যে তরুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে ;সে করতে পারবে না তার ক্লাস। যারা দিনএনে দিন খায়,তাদের খাবারের সময় এখন তিনবেলা থেকে এক বেলা করে নিয়েছে। কারো কারো ঘরে তোউনুন ই জ্বলে না! এক বে লা না খেতে পেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে কত শিশুর মুখ। অথচ আমাদের জেনারেলদেও ঘরে অগাধ খাদ্য। তাদের ফ্যাশনাবল কন্যারা জলপাই রঙা গাড়ি করে ছুটছে ফ্যাশন হাউসে। তাদের অতিশিক্ষিত সন্তানেরা হেঁটে বেড়াচ্ছেন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা। এক ফকরুদ্দিন;এক মইনের নিরাপত্তার জন্য কত শত নিরাপত্তা কর্মী। অথচ তুলতুলে মেঘের মতো অবুঝ কিশোরীরা হচ্ছে ধর্ষিত। ”আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?” আমরা কি চেয়েছিলাম স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র ৩৭ বছরের মধ্যেই আমাদের রাষ্ট্রটির ঘিলুর পচন ঘটবে; আর প্রধান হয়ে উঠবে তার হাত-পা; চুল-বাল। মানুষের যখন মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেতখন তার হাত-পা-মুখ যেমন তার নিজের জন্য তেমনি আর পাঁচ জনের জন্য হয়ে ওঠে ক্ষতিকর। বিকৃত মস্তিষ্কের এই রাষ্ট্রে তার লোভী রাষ্ট্রযন্ত্র কেবল সুবিধা আদায় আর সুযোগ বুঝে ক্ষমতারোহন ছাড়া কিছুই বোঝে না। রাষ্ট্রকে নোংড়া নর্দমায় ফেলে তাকে গণধর্ষণ করতে এতটুকু বাঁধে না জলপাই রঙা মানুষগুলোর।এমনি করে আর কতদিন? আমাদের বুকের ক্ষোভ-ঘৃনা একদিন একসাথে জ্বলে উঠবে। আর সেদিন বুকউঁচিয়ে বলবো- উই ফাক্ জেনারেল...উই ফাক্ জেনারেল...উই ফাক্...! সামান্য সাহস আর কিছু স্বপ্নকে সম্বল করে যখন আমরা দাড়াবো সামনে,পালানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না জলপাই রঙা জেনারেলদের।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
''এইসব ব্র্যাক-সিপিডি-গ্রামীণরাই'' -- এই পর্যন্ত আইসলেন, মোবারকবাদ।কিন্তু মিডিয়া পার্টনার গো নাম মুখে লননা ক্যান ভাইজান? স্বঘোষিত মহান ১/১১ সৃষ্টিকারকদেরকে কি আপনার তালিকার জন্য উপযুক্ত মনে হইতেছেনা?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ওইটুকুও যদি আমি বলি, তাহলে আর আপনার জন্য বাকি রইল কী? কথাটা ওইরকম হইল না যে, বাঘ ঘরে আইসিল নাকি ঘরের মানুষই বাঘের কাছে গেছিল। এই সব বোঝা ভাবটা আলোচনার বিরোধী।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















