৩২ নং খাতার প্রথম গল্প
Click This Link
৩২ নং খাতায় যারে আমি দেখি, সে-ই তপন মালিথা কিনা এ নিয়া সন্দেহ নাই। ওদিকে গতকাল কুষ্টিয়ায় র্যাবের ক্রসফায়ারে বান্ধবীসহ মরে কেতরে পড়ে থাকা মধ্যবয়স্ক লোকটাও নিশ্চয় তপন মালিথাই হবে। এবং র্যাবের কথা মতো তপন মালিথা-ই যদি সে হয়, তাহলে ক্রসফায়ার ছাড়া আর কোন ভাবে সে মরতে পারে? পিছনে গুলি খায়া বা হার্ট বন্ধ হয়া কিংবা মৃত্যুর যতগুলান পদ্ধতি আছে, তার কোনোটাই তপন মালিথার সঙ্গে যায় না। তারা ক্রসফায়ারে মরার জন্য বাঁচে আবার ক্রসফায়ারেই মইরা বাঁচে। বিচার-জেল-হয়রানি এগুলান তাদের পোষায় না। র্যাবেরও পোষায় না। এই বন্দোবস্তের জন্য মাটির তলাকার ইন্দুর আর কালা চশমা পরা শিকারি বিড়ালের দলগুলা অস্ত্র নিয়া ঘোরে, অস্ত্র নিয়া ঘুমায়, সশস্ত্র সঙ্গম করে এবং সশস্ত্র মরণ মরে।
তাই ৩২ নং খাতায় এক দুপুরে হাতপায়ে জিঞ্জির পরায়া যারে আনা হয়, সে যদি তপন মালিথা না হয়া থাকে, তাহলে সে কে? যার জন্য বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের কোন বাঁধ, হাইওয়ে, পাহাড় বা গলি-ঘুঞ্জির চিপায় গুলি খায়া মরার কপাল মঞ্জুর হয়া আছে? সে হয়তো তপন মালিথা-ই, নয়তো শামীম, নয়তো কামরুল। কারণ সে তার নাম বলেছিল, আর এরকম নাম ফাটলে কি বউয়ের কোলে মাথা রাইখা, পুতের বা মাইয়ার হাতের পানি খাইয়া মরার হাউস কারো থাকে? ওইসব তারা ভুইলা যায়।
তো সেই তপন বা কামরুল বা শামীম লোকটা ৩২ নং খাতায় আসে এক দুপুরে। সেইটাই নিয়ম। জেলে নতুন চালান আসে সাধারণত সন্ধ্যার পর। কোর্টে উঠানো, তার বাদে হাজতে কয়েক ঘন্টার নকশাবাজি শেষ হইতে হইতে সন্ধ্যা পারায়। তারপর ৩০ জনের গা-পাছা-মুখ ঘষটাঘষটির জায়গায় ৭০/৮০ জন মজুদ মানুষ নিয়া প্রিজন ভ্যান সাতটা-আটটার দিকে জেলের বিরাট দরজার সমুখে থামে। তার আগে নওয়াবপুর রোডের দুইপাশের পাবলিক চায়া চায়া দেখে, জ্যালখানার গাড়ি যায়। প্রতিদিনই তারা দ্যাখে। গাড়ির মানুষেরাও প্রিজন ভ্যানের বোরখার মুখের কাছের জালির মতো ছোট্ট খুপরি দিয়া দেখে; কী দেখে তা তারাই জানে। তখন গাড়ির চৌকার ভিতর যার যার হাত-পা-পাছা-পিঠ-উরাতের সঙ্গে তার তার হাত-পা-পাছা-পিঠ-উরাতের ল্যাপ্টানির মধ্যে বোঝা মুশকিল, প্রায় উলঙ্গবাহার হয়া কার পায়ে কে দাঁড়ায়া থাকে আর কার গোয়ায় কে হাতায়। এই ধারা ঘটে, যতক্ষণ না গাড়ি জেলগেটে থামে আর যার যার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোছগাছ করার পর তারা নামতে পারে।
এরকম হালে তপন মালিথা কিংবা তার যে কোনো ভাই-বেরাদরেরা জেলগেটে আইসা খাড়ায়। ঐভাবে আমরাও আসছিলাম। জেলগেটের ডাইন-বাঁমের ঘরগুলায় প্রক্রিয়াজাত হয়া, খাতা-কাগজ মেলানো সাইরা পরে আমদানীতে পৌঁছতে রাত নয়টাই বাজে মনে হয়। কিংবা আরো কম। সাঁঝবেলাতেই যেইখানে মধ্যরাত সেইখানে রাত আটটা কি নয়টা তো সুনসান নিকষ নিশি।
এবং আমাদের কি তপন মালিথা কি কামরুল-মকবুলদের প্রথম রাত কাটে আমদানিতে। পরদিন বিকালের মধ্যে সবাই ভাগাভাগি হয়া ৩২ নং খাতা, ছয় নং দালান, পুরান বিল্ডিং বা সন্ধ্যামালতি নামের কয়েদখানায় গিয়া দ্যাখতে পায়, খাঁচার থেকে গলা বাড়ানো মুরগীর মতো শত শত গলার ওপর ফিট করা শত শত মুখ নতুন চালানের হেঁটে আসার দিকে একদৃষ্টে চায়া আছে।
তো যখন তপন মালিথা কি কামরুল না শামীম হাতে পায়ে জিঞ্জির নিয়া ৩২ নং খাতায় আসে, তখন মকবুলের মধ্যে চিত্তচাঞ্চল্য দেখা যায়। সে দিনের খয়খর্চা, পানি যোগানো ইত্যাকার কাজ রাইটারের হেল্পার রাজুর হাতে দিয়া থুয়া রাইটার রাজ্জাককে নিয়া ওয়ার্ডের এককোণায় চিত-কাইত-উবুত হয়া থাকা দঙ্গলটারে লাত্থাইয়া জায়গা বানায়। তারপর দুইজনে বইসা কী কী আলাপ করে। কথা বেশি মকবুলই বলে। তার বাড়ি রাজবাড়ি। রাজবাড়ির পোলাপান একসময় পূর্ববাংলা-সর্বহারা কিংবা লাল পতাকা কি জনযুদ্ধ দলে নাম লেখায়। সেইসূত্রে তপন তার আপন বা পর যে দলেরই নেতা হোক; তার একটা দায়িত্ব থাকে। ধরে কয়ে সে তপনকে রাজ্জাক ভাইয়ের জিম্মায় আনে। আমরা তার জিম্মাদারির পুরানা খাতক বিধায় এইভাবে তপনের সঙ্গে আমাদেরও চিনপরিচয় ঘটে। দ্যাশে তখন জননিরাপত্তা আইনের জারিজুরি চলে, পত্রিকায় এ নিয়া মেলা ল্যাখাল্যাখি হয়। সাহেবদের মানবাধিকার গোস্যাও হয়। গাবতলির শ্রমিক নেতা কাম ঢাকাই ছবির ফালতু ভিলেন কাদেরের বগলে হান্দানো রেডিওতে আমরা এইসব খবর শুনি।
তপনের গল্প মকবুলই দুপুরের হাঁটাহাঁটির সময় আমাদের শোনায়। ৩২ নং খাতার সামনের খোলা জায়গায় বিশ কি পঁচিশ চক্কর খাওয়ার পরও সেই গল্প শেষ হয় না। কিন্তু তপন কিছু বলে না। সে আমাদের এবং ৩২ নং খাতার যাবতীয় কাহিনী-কীর্তি নিয়া নিরাসক্ত থাকাই সাব্যস্ত করে। রাজ্জাক রাইটারের জিম্মায় থাকা কিংবা চরমপন্থি নামের গুণেই কেউ তারে ঘাঁটায় না। কিন্তু খবরের কাগজ আমাদের প্রশ্ন করতে শিখায়। তাই আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি। আমি বা বিশ্বজিতই প্রশ্নটা করি,
: মার্কসবাদ বা শ্রেণীসংগ্রাম নিয়ে আপনার কী ধারণা?
তপন মালিথা আমাদের মুখের দিকে চায়া কিংবা প্রশ্নের মেরিট হিসাব কইরা হেসে ফেলে। তার সুন্দর মুখ, সুপুষ্ট দাড়ি আর বলশালী দেহের দিকে তাকায়া আমরাও হাসি। আমরা তাকে সিগারেট সাধি। সে হাত নাড়ায়া বলে, আছে আমার কাছে, এখন লাগব না। তখন আবারো আমরা আন্তরিকভাবে জিজ্ঞাসা করি, বিপ্লব নিয়া কী ভাবেন আপনেরা?
তপন আবারো হাসে আর চায়া থাকে। তারপর দুই পা মেলে দিয়া পেছনের দুই হাতের ওপর গতরের ভর রেখে গরাদের বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকায়। অন্ধকারের সীমানায় জেলের উঁচু দেয়াল। তার ওপারে নাজিমুদ্দীন রোড, রাস্তা ঘেঁষা বালিকাদের উচ্চ বিদ্যালয়। দিনের বেলা আমরা সেই বালিকাদের কক্ষের বন্ধ জানালার দিকে তাকায়া থাকি। এদিকের জানালা গুলান মাতারিরা ক্যান যে খোলে না? কী হয়! আমরা কি চোখ দিয়েই লিয়ে লিব নাকি?
তপন কিন্তু অন্ধকারের দিকে চায়াই থাকে। সে হয় তো কিছু বলবে মনে হয়, কিন্তু তার আগেই তার মকবুল আমাদের মুখের দিকে চায়া মিটিমিটি হাসি দিয়া বলে,
মার্কসও কয়াছে, লেলিনও কয়া গেছে; আরমস ছাড়া বিপ্লব হবেনানে।
আমি একমত হয়া মাথা নাচাই। বিশ্বজিতের বোধহয় এ নিয়া ভিন্নমত আছে। সে গম্ভীর মুখে দাড়িতে আঙুল চালায়া তিন প্যাঁচ দিয়া বলে, হুমম!
সেদিকে খেয়াল না দিয়ে তপন বলে, যান ঘুমান। কাইল কতা কবনে।
আমরা ইলিশ ফাইলে রাশি রাশি মানবমাংস আর সারিসারি ঘুমন্ত কয়েদিদের মাঝে বুড়া আঙুলে ভর দিয়া নিজ নিজ কম্বলের কাছে চইলা আসি, কিন্তু ঘুমাই না। আমাদের বালিকা বিদ্যালয়ের কথা মনে হয়। কী কী হাবিজাবি কথা মনে হয়। তারপর রমজান পাহারার হাঁকে কথার ঘুড্ডি গোত্তা খায়া কৈ যেন হারায়া যায়।
তপন মালিথা বা কামরুল বা শামীমের কাছ থেকে বিপ্লব নিয়া তাদের চলতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়া আর কিছু জানা হয় না। অনেক পরে, সে বা কামরুল বা শামীম যখন র্যাবের ক্রসফায়ারে বান্ধবী রিক্তাসহ কুষ্টিয়ার কোনো এক কবুতরঅলা বাড়ীতে ভোররাতে ক্রসফায়ারে মারা যাবে এবং দৈনিক প্রথম আলোতে তার সচিত্র বিবরণ সিনেমার কাহিনীর মতো বিশ্বাস্য করে পরিবেশিত হবে, তখন আমার আবার মনে হবে মকবুলের ওই কথাখান যে, আরমস ছাড়া বিপ্লব হবেনানে। এই তত্ত্ব সম্বল করে তারা খুলনা বা বাগেরহাটের চিংড়ি ঘেরের বন্দুকবাজ হয় কিংবা ওপরমহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আরমস রক্ষা করে। লাল পতাকা দিয়ে লাল পতাকা ঢাকার কায়দার কথাও আমরা নানানভাবে জানতে পারি।
পরদিনই তপন মালিথা ৩৬ সেলে অসম লিবারেশন ফাইটার্স-এর প্রধান অনুপ চেটিয়া ওরফে পরেশ বড়ুয়ার আশেপাশে কোথাও চালান হয়া যায়। তাকে আমরা আর দেখতে পাই না।
পরের সাত বছর সে কোথায় কোথায় কাটায়, তার খবর পত্রিকায় আসে না। হয়তো সে র্যাবের হেফাজতে থাকে কিংবা ঢাকা বা কোনো জেলা শহরের জেলখানার কোনো একলা সেলে বসে দিন গুজরান করে। কিংবা সে হয়তো অনেক আগেই কোথায় ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টার বা নিজের দলের লোকের হাতে মরে যায়। অথচ র্যাবের দপ্তর থেকে আজই তার মৃত্যু নিয়া গল্পটা আসে এবং মিডিয়ায় প্রচার হয়। ৩২ নং খাতার গল্পের সঙ্গে সেই গল্পের নাম-নিশানায় এত ফারাক যে, আমার গল্পটাকে কেবল গল্পই মনে হয়।
৩২ নং খাতার দিনগুলিতে তপন মালিথার দলের সাবেক ক্যাডার মকবুল দিনে যাই যাই করুক, রাতে আমাদের পাশাপাশি ঘুমায়। তখন আমাদের আর তার মন কৈ কৈ যায়, কী কী ভাবে!
এরকম এক নিকষ নিশিতে_ রাত নয়টার দিকে_ চিত হয়া শোয়া মকবুলের যশোরের কোন পগারপারে লুকিয়ে থাকার কথা মনে আসে। তার চোখের তারায় খিয়াল করলে দেখা যায়, এক বিরান পগারের পারে ভুতুড়ে ইটের ভাটা। এমনিতে মনুষ্যবর্জিত সেই ভাটার চুল্লির নীচের ঘরে তারা একমাস কাটায়। তার আগে তারা ছিল কুষ্টিয়ার পলিকেটনিকের মোশাররফ হোসেন হলের ৩২৩ নং রুমে। সেরকম এক ঝাঁ ঝাঁ রোদের দিনে হোস্টেলের গেটের সামনে তিনটা নীল পিক আপ আর একটা সাদা মাইক্রোবাস আইসা থামে। থামাথামির বালাই নাই তার আগেই মাইক্রোর পেট আর পিকআপের পশ্চাদ্দেশ থেকে ঠোল্লারা লাফিয়ে নামে। ফির মকবুলদের বুঝতেও একটু দেরি হয়া গেছিল। কিছুই করার নাই, তারা সাতজন সোজা হোস্টেলের গেট দিয়াই বাইর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওদিকে কুষ্টিয়ার ছাত্রদলের ক্যাডারেরাও জায়গায় জায়গায় পজিশন নিয়া আছে দেখা যায়। তপনকে কিংবা কামরুল কিংবা শামীমকে মাঝখানে নিয়া সামনে ২ পেছনে ২ আর দুই পাশে ২ জন ফায়ার করতে করতে গেট দিয়া বাইর হয়া পুলিশের সাদা মাইক্রোর দিকে দৌড়ায়। ঠোল্লারা তো আর র্যাব না, অপরারেশন ক্লিন হার্টও তখন স্তিমিত। তাই তারা পালাতে পারে। মাইক্রো ফালায়া তারা গিয়া ওঠে যশোরের এই ইটভাটার চুল্লির নীচের গোপন কুঠুরিতে। দিনে বেরয় না। ভাটায় আসার পথের মাইল খানেক উজানে তাদের লোক বসানো থাকে। ফলে ঠোল্লা আসার আগেই তারা খবর পায়। এইভাবে তাস খেলে আর মুরগির ঝোল খেয়ে তাদের দিন কাটে। সেখানেই তপন তাকে বলে, অস্ত্র ছাড়া বিপ্লবের আর কোনো পথ নাই। সেই পথেই একদিন র্যাব আসে...
ভোররাতের ঘটনা হওয়ায় পত্রিকার পাঠকেরা একদিন পরে বন্দুকযুদ্ধের সচিত্র বিবরণ পড়ে আর শিহরিত হয়। আগের রাতে যারা টেলিভিশনের খবরে ঘরের মেঝেতে উপুর হয়া থাকা লুঙ্গি পরা খালি গায়ের মধ্যবয়স্ক লোকটা এবং তার পাশে ৩০ বছরের রিক্তা নামের মেয়েটিকে চোখ খোলা রেখে মরে পড়ে থাকতে দ্যাখে, তারা সন্ত্রাসদমনে সাফল্য নিয়া খুশি হয়। খালি মেয়েটার খোলা চোখের দৃষ্টি তাদের মনের কোথায় যেন একটা খেজুরের কাঁটা বিঁধিয়ে রাখে। তারা সেদিকে ২য়বার তাকায় না। কিন্তু তাদের কেউ যদি মর্গে যায়া তপনের লাশটাকে সোজা করে চোখের দিকে তাকায়, তাইলে দেখে যে, চোখের তারাটা তখনও শান্ত ও জ্বলজ্বলে। আর তার চারপাশের মায়াবি শাদা অংশে অজস্র রাতের অনিদ্রার পরও কোনো মলিনতা জমে নাই। এবং তারা আরো বোঝে যে, এই চোখ কখনোই কালো সানগ্লাসে ঢাকা থাকে নাই।
৩২ নং খাতার মেঝেতে শোয়া মকবুল কড়িকাঠ থেকে ঝোলা একশ ওয়াটের বাতির দিকে তাকায়া তাকায়া এইসব ভাবে। ভাবে খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ের টেম্পো স্ট্যান্ডে তাদের ছিনতাইয়ের দিনগুলার কথা। আর ওদিকে কুষ্টিয়ার কোনো এক গ্রামে লোহার গেটওয়ালা বাড়ীর ভেতরে অজস্র কবতুরের ভোরবেলার সোহাগি ডাকের মধ্যে তপন কিংবা শামীম কিংবা কামরুল টের পায়, তারা ধরা পড়ে গেছে। তখন সে আর তার দীর্ঘদিনের সঙ্গীনী রিক্তা পরস্পরের দিকে তাকায়। তারা হয়তো তখন ফিকে একটা হাসি হাসে। কিংবা তারা একে স্বাভাবিকভাবেই নেয়। এরকম কত কত চক্করই তো তাদের পেরুতে হয়েছে। আজ নাহয় আবার...জিন্দা লাশের আবার ভয়?
কিংবা তারা আসলে এক যুদ্ধক্লান্ত দম্পতি, রাতের প্রেম শেষে ভোরের দিকে ঘুমাতে যায় আর গিরিবাজ কবুতরের দল তখনই বাসা ছাড়া হয়া পুরা গ্রামকে জাগায়া কোনো ইটভাটার দিকে কিংবা কোনো মর্গের ঘ্রাণের রেখা ধরে ধরে উড়তে লেগেছে।
কে জানে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

