আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

অরুন্ধতী রায়ের সাক্ষাৎকার : শাবাশ নতুন ভারত!
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:২৯
গত কয়েক বছরে আমেরিকার থেকে ভারত অনেক এগিয়েছে। অবুঝ মার্কিনভক্তদের মধ্যেও ‘আমেরিকা গণতন্ত্রের বাতিঘর’ এই গল্প আর চলে না। অন্যদিকে গত এক দশকে ভারত দারুণভাবে জনমতের মধ্যে ক্যু ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে যে, ‘ভারত আফগানিস্তান নয়’, ‘ভারত পাকিস্তান নয়’, ‘ভারত হলো এক ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র’। অথচ বিশ্বে সরকারি হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যায় ভারত এক নম্বরে। এটা এমন এক দেশ যার ২৫ ভাগ এলাকায় সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কাশ্মীরই হোক আর উত্তর-পূর্ব প্রদেশগুলোই হোক বা হোক ছত্তিশগড় বা অন্ধ্র প্রদেশের কিছু এলাকা, এসবের খবর বাইরে আসে না। ভারত বিশাল ও বৈচিত্র্যময় এক এলাকা। হয়তো ছত্তিশগড়ে হত্যাকাণ্ড চলছে, ওদিকে তামিলনাড়ুতে জমেছে উৎসব অথবা ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আদেলেইদে। আলো পড়ছে সেখানেই, যেখানে সেনসেক্সে স্টক মার্কেট চাঙা বা যেখানে বিনিয়োগ আসছে। আর অন্ধকারে রাখা এলাকাগুলোয় হত্যাকাণ্ড চলছে, কৃষকেরা আত্মহত্যা করছে — এ ধরনের কৃষকের সংখ্যা এখন এক লাখ ৩৬ হাজার ছাপিয়ে গেছে। ধরুন, কাশ্মীরের কথা। সেখানে এ পর্যন্ত ৬৮ থেকে ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সেখানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সশস্ত্র বাহিনীর সেপাইরাও কেবল সন্দেহবশত গুলি করার বৈধতা পেয়েছে। কাশ্মীরে ইরাকের মতো পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধপরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরাকে আমেরিকার রয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার সেনা। আর কাশ্মীরে ভারতের রয়েছে সাত লাখ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাকর্মী : সেনা, পুলিশ ও মিলিশিয়া। ভারত সরকার সেখানে মূলত যা করছে তা হলো কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছাকে দমন করা। কেন তারা গণভোটে এত ভীত? কেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র জানতেও ভয় পায় জনগণ কী চায়?
সন্ত্রাসী শিকারী ভারত
আমরা এখন এমন এক শিখরে পৌঁছেছি, যেখানে সন্ত্রাসের সংজ্ঞা প্রসারিত করা হয়েছে। হিন্দু মৌলবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির আমলে সন্ত্রাসের অভিযোগ কেবল মুসলিমদের দিকেই তাক করা হতো। কিন্তু এখন সরকার যাদের জালে পুরতে চায়, কেবল ইসলামি সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় তাদের আঁটানো যাচ্ছে না। কেননা ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদী’ হতে হলে তো নিদেনপক্ষে মুসলিম হতে হয়। কিন্তু যখন প্রকাণ্ড উন্নয়ন প্রকল্প ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) তৈরির জন্য ব্যাপক হারে উচ্ছেদ চলছে এবং যখন মানুষ তা রুখে দাঁড়াচ্ছে, তখন তাদেরও বলা হচ্ছে সন্ত্রাসী। যেহেতু তাদের ইসলামি সন্ত্রাসী বলা সম্ভব না, সেহেতু তাদের বলা হচ্ছে মাওবাদী। সশস্ত্র প্রতিরোধ তা কাশ্মীরেই হোক আর মাওবাদী ক্যাডারদের দ্বারাই হোক, তা এখন বাস্তবতা। কিন্তু উভয় পক্ষই এগুলোকে বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। তাই যখন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সন্ত্রাসবাদকে প্রধানতম ঘরোয়া হুমকি বলে ঘোষণা করেন, তখন বিভিন্ন রাজ্য সরকার যে কাউকে সন্ত্রাসী তকমা দেওয়ার উপযোগী আইন প্রণয়নে উৎসাহী হয়ে ওঠে। হয়তো আমাকেও তারা শাসাতে আসবে, যেহেতু আমি তাদের সমালোচনা করে বই লিখেছি। ছত্তিশগড়ে আমি যদি অরুন্ধতী রায় না হতাম, তাহলে জেলে পুরে দিত। কাশ্মীরের কেউ হতাম, আমাকে হয়তো গুলি করে দিত। প্রখ্যাত ডাক্তার বিনায়ক সেনের কথাই ধরুন। তিনি হাজার হাজার একর জমি বেআইনিভাবে করপোরেটের হাতে তুলে দেওয়ার বিপক্ষে জনমত তৈরিতে উদাহরণ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁকে মাওবাদী আখ্যা দিয়ে জেলে ভরা হয়েছে। সুতরাং, সন্ত্রাসবাদের আওতা এতই বাড়ানো হয়েছে যে, যারা ধ্বংসাত্মক পথে উন্নয়ন চায় না, তাদেরও সন্ত্রাসবাদী বলে জেলে পোরা হবে এবং হচ্ছে।
করপোরেট ভারত
নব্বই দশকে যখন নিও লিবারেল মার্কিন মডেল ভারতে আমদানি করা হলো, তখন আমাদের লড়তে হয়েছে পানি-বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যক্তিমালিকানায় ব্যবসার বিরুদ্ধে। এখন বিদ্যুৎ ও পানি স্থানীয় মানুষদের জন্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। এরপর করপোরেট কোম্পানিগুলো থাবা বাড়িয়েছে খনিজ সম্পদের ওপর। উড়িষ্যা ও ছত্তিশগড়ে তারা বিপুল বক্সাইট ও লোহা পেয়েছে। আমরা দেখছি চোখের সামনে ওইসব অঞ্চলকে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য বানানো হচ্ছে। তারা জানে স্থানীয় বাজারে এসব বিকাবে না। তাই ভবিষ্যতে ব্যবসার জন্য বক্সাইট-ভরা একটা আস্ত পাহাড় কেটে নেওয়া হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মরুতে মজুদ করার জন্য। এসবই চলছে বন্দুকের জোরে।
কেউ যদি ভারতের ভৌগোলিক মানচিত্রের দিকে তাকান তো দেখতে পাবেন যেখানেই পাহাড় ও বন সেখানেই রয়েছে আদিবাসী, উপজাতি। এবং তাদের অরণ্য-বসতির তলায় রয়েছে খনিজ। প্রতিবেশগত ও সামাজিক দিক থেকে এসব অঞ্চল খুবই নাজুক হলেও তাদের ওপরই চড়াও হয়েছে বিরাট বিরাট বন্দুকওয়ালা। তাদের চূড়ান্ত ধ্বংসলীলার গ্রাসে পড়েছে সেখানকার প্রকৃতি ও মানুষ। যে টাটা কিছুকাল আগে পর্যন্ত ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করতে চাইত, তারাও এখন খ্যাপাটে আচরণ করছে। ছত্তিশগড় সরকারের সঙ্গে লোহার খনি নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কয়েক দিনের মাথায় সেখানে সালভা জুডামের জন্ম হলো। সালভা জুডাম হলো উচ্ছেদের শিকার জনগণের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেওয়ার সন্ত্রাসী কর্মসূচি। বলা হচ্ছে, ওই সন্ত্রাসীরা জনগণের মিলিশিয়া। এ কেমন যুদ্ধ, যেখানে সরকারই জনগণের হাতে অস্ত্র তুলে দেয় জনগণের আরেক অংশকে ধ্বংস করার জন্য? কার্যত এটা হলো মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী। এভাবে আমাদের নজর গৃহযুদ্ধের মধ্যে মাতিয়ে রেখে বসতি উচ্ছেদ করে খনিজ সম্পদ নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত পাকা করা হচ্ছে। যারা এসবের হোতা তারাই আবার পরিবেশ আন্দোলনে টাকা ঢালছে, মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দিচ্ছে পরিবেশপ্রেমের জন্য। যেমন জামসেদজি টাটা তহবিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, বুদ্ধিজীবীদের পৃষ্ঠপোষকতায় নানা কৌশলে অকাতরে অর্থ বিতরণ করছে। পুরোটাই যেন একটা নাটক। এসব বিষয়ে, দখলদারির কলাকৌশলের ব্যাপারে ভারতীয়দের কাছ থেকে মার্কিনিদের অনেক কিছুই শেখার আছে।
দলিত ভারত
বাইরের লোকদের কাছে ভারত এক আধ্যাত্মিক দেশ। অথচ ভারতীয় সমাজ হলো এক নির্দয় সমাজ। আর কোন সংস্কৃতিতে বর্ণপ্রথা টিকে আছে? ভারতীয় সভ্যতা যেভাবে দলিত সৃষ্টি করেছে, তালেবানরাও তা কখনো কল্পনা করতে পারবে না। দলিতরা হলো হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী। তাদের স্থান সবকিছুর নিচে: ধর্মের, বিত্তের, সমাজের সবকিছুর। রুটিনমাফিক তাদের নির্যাতন করা যায়, খুন করা যায়। মার্কিন মিডিয়ায় এসবের কিছুই আসে না। বাঁচার জন্য তারা মুসলিম বা শিখ বা খ্রিষ্টান হয়। কিন্তু তার পরও তারা অস্পৃশ্যই থাকে, দলিতই থাকে। শিখদের মধ্যে এ রকম দলিতের হার ৩০ শতাংশ, তাদের ৯০ শতাংশই আবার ভূমিহীন মজুর। ভারতের সবখানেই ভাবা হয় যে, দলিত নারীদের উচ্চবর্ণের যে কেউ ভোগ বা ধর্ষণ করতে পারে।
অতএব, গরিবের ঘাড়ে বন্দুক রেখে যে স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছিল, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই গরিবদের ভাগ্য পাল্টায়নি। কেননা, সাদা সাহেবদের ফেলে দেওয়া বুট পায়ে দেশ চালাচ্ছে বাদামি সাহেবরা।
বিজেপির ভারত
গুজরাটের সাম্প্রদায়িক নিধনযজ্ঞে দেড় থেকে দুই হাজার মুসলিম কচুকাটা হয়, গণধর্ষিত হয় অজস্র নারী। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে উচ্ছেদ করা হয় দেড় লাখ মুসলিমকে। এখন তাদের বাস জঘন্য বস্তিতে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে তারা পঙ্গু। এসবই ছিল বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী অভিযানের অংশ। আমি বলতে চাই গণহত্যাকারী হওয়া সত্ত্বেও মোদী বিজয়ী হননি, মুসলিম হত্যার কৃতিত্বের জন্যই তিনি আবার নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৭ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। মনে প্রশ্ন জাগে, গণতন্ত্র কী? নরেন্দ্র মোদীকে শয়তান ভাবার বিষয় নয় এটা, কেননা গণতন্ত্রের মাধ্যমেই তো আরও আরও নরেন্দ্র মোদীরা ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাচ্ছে। মোদীরা জানে যে, গণতন্ত্রের সঙ্গে অধিকাংশের দাপটের সম্পর্ক রয়েছে, আর অধিকাংশের নামে শাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ফ্যাসিবাদের। মোদী ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ। তিনি সাম্প্রদায়িক জিগির তুলে জনগণের একটা অংশকে একত্রিত করে নিজের লোক বানিয়েছেন। তিনি করপোরেটকে হাতে তুলে খাইয়েছেন। নাৎসি যুগে জার্মানিতেও ঠিক এ রকমটাই ঘটেছিল। ফ্যাসিবাদ ও বড় করপোরেশনের সম্পর্ক সুবিদিত। টাটা, রিল্যায়েন্স ও এ জাতীয় সবাই বলছে, গুজরাট হলো পুঁজিপতিদের স্বপ্নের গন্তব্য।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) একটি সাংস্কৃতিক চক্র, বিজেপি যার রাজনৈতিক শাখা। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইতালীয় ফ্যাসিস্ট নেতা মুসোলিনির আদর্শে। তার পর থেকে কখনো গোপনে, কখনো প্রকাশ্যে তা কাজ করে আসছে। তারা খোলাখুলিভাবে ঘোষণা করে যে, জার্মানিতে ইহুদিরা যেমন, ভারতে মুসলিমেরা তেমন। ভারতীয় অনেক উদারতাবাদী একে ফ্যাসিবাদী মনে করেন না, কারণ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাঁরা দিব্যি খাপ খাইয়ে নেন। হিটলারের সঙ্গে তুলনা করায় মোদীর কিছু যায় আসে না। তাঁর ভাষায়, ‘সেটা গ্রহণযোগ্য’। গুজরাটের বাস্তবতায় এবং সেখানকার পাঠ্যপুস্তকে হিটলার খুবই নন্দিত হন।
সুতরাং গুজরাটে আমরা যা দেখছি, তা এক ধরনের ফ্যাসিবাদ। ফ্যাসিবাদী একনায়ক এক জিনিস আর কোটি কোটি মানুষকে ঘৃণায় মাতিয়ে ভোটে বিজয়ী ফ্যাসিবাদী আরেক জিনিস। এখন গুজরাট চালাচ্ছে লাখো খুদে মোদী। সে সময় যে পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন তিনি এখন গুজরাটের পুলিশ কমিশনার। অপরাধীরা স্বীকার করেছে কীভাবে কার মদদে তারা জীবন্ত মানুষ পুড়িয়েছে, কীভাবে মানুষকে টেনে টেনে ছিঁড়েছে, কীভাবে গণধর্ষণ করেছে। এসবের টেপ প্রকাশ করেছে তেহেলকা পত্রিকা, টেলিভিশনে তাদের সেই স্বীকৃতি প্রচারিতও হয়েছে। কিন্তু কারও কোনো বিচার হয়নি। (সম্প্রতি গুজরাট গণহত্যা তদন্তে গঠিত নানাবতী কমিশন মোদীকে নির্দোষ ঘোষণা করে)। আজ গুজরাটের সব প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে মোদীর মতো লোকেরা। যতক্ষণ রাজ্য বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত ততক্ষণ টাটা, রিল্যায়েন্সসহ ধনীরা খুশি।
এসবের কারণে মানুষ আজ বেপরোয়া। এদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ নিজেই অস্ত্র তুলে নিচ্ছে। মানুষ জানে কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায়। তারা নিজেরাই নিজেদের বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলছে। আজ পৃথিবীর সব থেকে প্রচারিত গণতন্ত্রের থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
নয়া জমিদারতন্ত্রী ভারত
ভারতে একসময় জমিদারতন্ত্র ছিল। তা উচ্ছেদ করে বেশ কটি রাজ্যে ভূমি সংস্কার করা হয়। এর মধ্যে কাশ্মীর অন্যতম। আজও কাশ্মীরের মানুষ এর সুবিধা ভোগ করে। এর বাইরে বাংলায়ও সফল ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে বড় জোত-জমিদারদের জমি চাষিদের হাতে দেওয়া হয়। আজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের নামে ঠিক এর উল্টো প্রক্রিয়া ঘটানো হচ্ছে। চাষিদের থেকে জমি কেড়ে নিয়ে করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ কাজ কেবল কংগ্রেসই করছে না, করছে বামপন্থী নামে পরিচিত সিপিএম-ও।
মার্কিন-ইসরায়েলি অক্ষে ভারত
একসময়কার জোটনিরপেক্ষ ভারত এখন জোটবদ্ধ রাষ্ট্র। সরকার মুখে খই ফুটিয়ে ঘোষণা করছে যে ভারত, আমেরিকা ও ইসরায়েল গলায় গলায় বন্ধু। আমরা দেখলাম পরমাণু চুক্তি, যৌথ সামরিক মহড়া ইত্যাদি। অথচ তারা ভুলে গেছে আমেরিকা তার অশ্বেতাঙ্গ বন্ধুদের সঙ্গে কী করে। চিলির বেলায় মার্কিনপন্থী তৈরিতে আমেরিকাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। আর আমাদের বেলায়, আমাদের এলিট মহল আমেরিকার নজর কাড়তে সার বেঁধে লেজ নাড়াচ্ছে। এই এলিটরা ভারতের সব থেকে বড় বিচ্ছিন্নতাবাদকে জয়ী করেছে। তারা ভারতীয় জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্ব পুঁজিবাদী মহলের অংশ হয়ে গিয়েছে। প্রায় সব আমলা, রাজনীতিবিদ, বিচার বিভাগের প্রায় সব জ্যেষ্ঠ বিচারক, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী শ্রেণীর লোক ও বুদ্ধিজীবী প্রত্যেকেরই পুত্র-কন্যা-ভাই তথা আপন কেউ-না-কেউ আমেরিকায় বাস করে। সুতরাং সম্পর্কটা এখন অনেক বাস্তব ও আত্মীয়তাময়।
আমরা জানি ইসরায়েল হলো মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার খুঁটি এবং সব থেকে বেশি মার্কিন সাহায্যপুষ্ট রাষ্ট্র। সুতরাং আমেরিকা ও ইসরায়েল ধারণাগতভাবে আলাদা দুটি রাষ্ট্র নয়। এবং খেয়াল করলে দেখবেন, ইসরায়েল ও আমেরিকার মুসলিম বিদ্বেষের সঙ্গে ভারতের অধিকাংশ মানুষের মুসলিম বিদ্বেষ কীভাবে একাকার হয়ে যাচ্ছে।
মনমোহন সিং-এর ভারত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জীবনে একটি নির্বাচনেও জয়ী হননি। তিনি বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের দেখানো পথ ছাড়া কিছু কল্পনাও করতে পারেন না। আমার ধারণা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাস বইও কখনো পড়ে দেখেননি তিনি। তিনিই কোনো সাবেক উপনিবেশের একমাত্র নেতা, যিনি ক্যামব্রিজে গিয়ে বক্তৃতা করে উপনিবেশবাদকে গণতন্ত্রের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ব্রিটেনকে ভারতে রেখে যাওয়া নিপীড়ক প্রতিষ্ঠানগুলো তথা পুলিশ, আমলাতন্ত্র ইত্যাদির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসেন। সুতরাং এই ভারত এখনো উপনিবেশবাদী পথেই চলছে, কেবল ইংরেজের জায়গায় শাসন করছে উচ্চবর্ণের লোকেরা।
জেড নেট থেকে নেওয়া, ইংরেজি সাক্ষাৎকারের সংক্ষেপিত অনুবাদ
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বন্ধনহীন বলেছেন:
প্রথম আলোতে এটা এসেছিল। আপনিই কি এটা অনুবাদ করেছিলেন?
লেখক বলেছেন: জ্বি ওটা আমারই কাজ ছিল।
বিপ্লব রহমান বলেছেন:
দীর্ঘ লেখা ও মন্তব্য। সময় নিয়ে পড়তে হবে। ...তবে জানিয়ে রাখি, আমি অরুন্ধুতির ভক্ত পাঠক। ধন্যবাদ।
রাগিব বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ ভাই, এটা কি আপনার করা অনুবাদ? জনৈক ব্লগার এই ব্লগে এটি পোস্ট করেছেন, অনুবাদ কারীর নাম ধাম উল্লেখ না করেই, যা আপনার পোস্টের অনুবাদটির অবিকল, তাই জানতে চাচ্ছিলাম, মূল অনুবাদকারী কে?লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্ট পড়েই বুঝতে পারলাম, আমার কোনো বান্ধব কিছু একটা করেছেন। তাঁদের ধন্যবাদ এ জন্য যে তারা একটা ভাল লেখার প্রচারক হয়েছেন। বাকি বিচার পাঠকরাই করবেন। নানান কারণে ব্লগে থাকার সময় কমে গেছে। তাই সব খেয়ালও করি না। অন্য একটি ব্লগে দিয়ে অপেক্সা করার পর এটা নিয়ে কথা বার্তা বলার জন্য এখানে আবার দিলাম। দিয়েই বুঝলাম ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। কী করা যাবে, যষ্মিন দেশে যদাচার।
মৃগেন্দ্র বলেছেন:
জনৈক ব্লগার! হাঃ হাঃ হাঃ ...
মূর্তালা রামাত বলেছেন:
ভালো লাগলো।
এসবের বিপরীতে অরুন্ধতি রায় এবং আরো কতিপয়ের লড়াইটা অভিনন্দনীয়। আর সবাই যাকে খলনায়ক মনে করে, অর্থাৎ সেই মাওবাদী এবং আসাম-কাশ্মীরের বিচিছন্নতাবাদী ও ইসলামী সন্ত্রাসীদের ভূমিকারও নতুন মূল্যায়ন করেন তিনি। আসলে এরা যে ভারতীয় রাষ্ট্রের উচ্চবর্ণবাসীদেরই প্রতিক্রিয়া, সেটা না বুঝলে সহজেই আমরা বুশের ওয়ার অন টেররের খপ্পরে পড়ে পঞ্চম বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যাব। সেদিক থেকে অরূন্ধতি রায় আমাদের শিক্ষক।
ধন্যবাদ রায়হান রশীদ এবং মাসুদ করিম।
ধন্যবাদ ফারুক ওয়াসিফ।
লেখক বলেছেন: সহমর্মিতার জন্য ধন্যবাদ।
মনজুরুল হক বলেছেন:
@রাগিব।ফারুকের এই লেখাটা কাগছে ছাপা হয়েছিল কি-না জানিনা।তবে 'মুক্তাঙ্গনে' পোস্ট করা হয়েছিল। সেখান থেকেই প্রথম 'কিরণ' নামের একজন পরে ত্রিভুজ সা.ইনে পোস্ট করে। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নকরেছিলাম,উত্তর পাইনি।আর ব্লগার ফারুকের সমস্যা হলো লেখা পোস্ট করে ব্লগে থাকেন না।
মনজুরুল হক বলেছেন:
"আর সবাই যাকে খলনায়ক মনে করে, অর্থাৎ সেই মাওবাদী এবং আসাম-কাশ্মীরের বিচিছন্নতাবাদী ও ইসলামী সন্ত্রাসীদের ভূমিকারও নতুন মূল্যায়ন করেন তিনি। আসলে এরা যে ভারতীয় রাষ্ট্রের উচ্চবর্ণবাসীদেরই প্রতিক্রিয়া, সেটা না বুঝলে সহজেই আমরা বুশের ওয়ার অন টেররের খপ্পরে পড়ে পঞ্চম বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যাব। "------------------------------------------------------------------------------
আমি লক্ষ্য করেছি বরাবরই কেউ কেউ মাওবাদীদের আসাম-কাশ্মীরের পৃথক রাষ্ট্রকামীদের সাথে এক করে উপস্থাপন করেন।এটা যে অনিচ্ছাকৃত তেমন নয়। খুব সচেতন ভাবেই করা হয়। আলোচ্য অরুন্ধতীও এর ব্যতিক্রম নন।এবং অনুবাদক/উপস্থাপক ফারুখ ওয়াসিফ ও তা-ই করেন।
এটা করে মাওবাদীদের যা কিছু এ্যাচিভমেন্ট তার শেয়ার জঙ্গি মৌলবাদীদের দেওয়া হয়, তেমনি ধর্মশ্রয়ী জঙ্গিদের শ্বেত সন্ত্রাসের দায়ভার মাওবাদীদের ঘাড়েও চাপিয়ে দেওয়া হয়।
এই ন্যাক্কারজনক কাজটি তথাকথিত লোরিয়েটরা যেমন করেন,তেমনি মুক্তচিন্তা আর মুক্তবুদ্ধির প্রতিভূরাও অবলীলায় করে চলেছেন।
এই সকল সরলিকরণ গুলোকে ইক্যাশ করে বর্ণ ক্রিমিনাল ধর্মিয় মৌলবাদীরা।যেমন এই পোস্ট তাদের জন্য 'আর্শীবাদ' হরে আর্বিভূত হয়েছে।
লেখক বলেছেন: কর্পোরেটের সুশীল বাজারি শান্তি আর সাম্রাজ্যের জঙ্গি সেনাবহিনী মিলে যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে যাচ্ছে, ভারতে তা এক অদ্ভুত অসবর্ণ বিবাহ ঘটিয়েছে। সনাতন উচ্চবর্ণের অহংজাত গৈরিক ফ্যাসিবাদ হাজার বছরে এই প্রথম তার রক্ষক ও প্রতিপালক পেয়েছে মার্কিন পরমাণু চুক্তি আর বহুজাতিক সাম্রাজ্যবাদের মধ্যে। এই পুঁজি আর ঐ হিন্দুত্ব মিলে ভারতে নিম্নবর্ণ ও সংখ্যালঘু ধর্ম তথা নিম্নবর্গের ওপর ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলেছে। গুজরাট এর সফল পরীক্ষাগার।
এই শান্তির সন্ত্রাসী বলপ্রয়োগের পাল্টা বলপ্রয়োগ দেখা যাচ্ছে দুটো আদর্শিক এলাকায়। একটি মাওবাদী বিপ্লবী মতাদর্শ অন্যটি ইসলামী প্রতিবিপ্লবী প্রতিরোধ আন্দোলনে। খেয়াল করেন, আমি তাদের প্রতিবিপ্লবী বলছি তার শরিয়াভিত্তিক আধিপত্যবাদের জন্য আবার প্রতিরোধী বলছি কাশ্মীর-ফিলিস্তিন-লেবানন এবং আজকের আফগান ও ইরানের দিক থেকে সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য।
সেদিক থেকে বৈশ্বিক মঞ্চে এখন প্রতিরোধী শক্তি আপাতত দুটো ধারায় বইছে। একটা আরবে আরব জাতীয়তাবাদ যা মূলত ইসলামী পরিচয়কে সঙ্গে নিচ্ছে। আর ল্যাটিন আমেরিকায় ল্যাটিনো বলিভারীয় জাতীয়তাবাদ যার সঙ্গী হলো সমাজতন্ত্র।
আদর্শের বিচারে ল্যাটিন ধারাই দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক সফলতা পাবার জোর রাখে। কিন্তু তার জন্য কাশ্মীর বা আফগান বা ভারতের মুসলিম গেরিলাদের আমি আমেরিকার ওয়ার অন টেররের ভাষায় সংজ্ঞায়িত করব না। অরূন্ধতি রায়ও তা করেননি। তিনি সুশীল-কর্পোরেট-গৈরিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয়া দুটো ধারাকে সনাক্ত করেছেন মাত্র। তাদের কে প্রগতিশীল আর কে প্রতিক্রিয়াশীল সেই আলোচনায় তিনি যাননি।
এখানে একটা কথা খেয়াল করা দরকার, তিনি এক জায়গায় বলেছেন, জার্মানিতে যেমনভাবে ইহুদিদের নিশানায় রেখে ফ্যাসিবাদ দাঁড়িয়েছিল, ভারতে তেমনি মুসলমানদের নিশানায় রেখে গৈরিক ফ্যাসিবাদ দাঁড়িয়েছে। আবার ইসরায়েল যেমন ইহুদি ধর্মতাত্ত্বিক (অর্থাৎ আপনারা যাকে বলেন মৌলবাদী) রাষ্ট্র, ভারতকেও বিজেপি ও অন্যরা এবং বৃহত ভারতীয় পুঁজি হিন্দু ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্র বানাতে চায়।
এর সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করলে দেখব, বাংলাদেশে হিন্দুরা এখানকার কাঁচা ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের লক্ষ্যবস্তু। তবে দুর্বল অর্থণৈতিক ভিত্তি এবং অদক্ষ-অযোগ্য নের্তৃত্বের কারণে ইসলামী আধিপত্যবাদ এখানে ডমিন্যান্ট হয়ে উঠতে পারবে না। তারা হবে মার্কিন-পাকিস্তান-ভারত-ইসরায়েলের পঞ্চম বাহিনী। এদের বাইরে যদি কোনো ধারা থাকে যারা নিজ জনগণকে পীড়ন করে না এবং যারা পুঁজিবাদ বিরোধী, আমি তাদের গণশত্রু বলব না। যদিও তেমন কেউ বাংলাদেশে নাই। এটা বললাম, আমার অবস্থান বোঝাবার জন্য।
সেকারণে গৈরিক পুঁজিবাদী ফ্যাসিবাদের ডাইনে ইসলামী জঙ্গি বাঁয়ে মাওবাদী বিপ্লবী, এভাবে বলার মধ্যে সতর্কতা থাকা দরকার সত্য।
কিন্তু আমি আমাদের অনেক সহযোদ্ধার ভাষা ও বুলির মধ্যে যরেক মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষা ও রাজনীতির প্রচ্ছন্ন ছাপ দেখি, তাতে আরো ভয় পাই। ওরা চাই আমাদের একাংশকে জঙ্গি এবং আরেক অংশকে আলোকিত পশ্চিমের অনুসারী করে সিভিল ওয়ার বাঁধাতে। শেষে তারা আসবে আমার গরিব জনগণকে মেরে আমাদের আলোকে রক্ষা করতে। এই বিভাজনের ফল কী তা ইরাকের দিকে তাকিয়ে বোঝা যায়।
ইসলাম আজ সাম্রাজ্যের সহজ শিকার, সেকারণে ইসলামকে প্রতিরোধের কেন্দ্র ভাবার প্রতারণামূলক চিন্তার খাতক আমি নই। আবার ইসলামই এক নম্বর শত্রু এমন বর্ণবাদী এবং পশ্চিমা আধিবাদ্যবাদের অচেতন অনুসরণে আমি ভীত হই। আমাদের মগজকে এই দুই বিপদ থেকে রক্ষা করা জরুরি।
তাই আবারও পুরনো কপিপেস্টের জন্য সানন্দে মাইনাসাইলাম।
লেখাটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় প্রথম আলোয়।
রাগিব বলেছেন:
হা হা, অনুবাদকারী নিজের ব্লগে নিজের করা অনুবাদ যোগ করলে সমস্যা কী @ মইন?
অনুবাদকারীকে অভিনন্দন। লেখাটি যেমন সুন্দর হয়েছে, অনুবাদটিও হয়েছে সুন্দর।
@ রাগিব, উপরোক্ত জনৈক ব্লগার (দ্বয় - দুটি পোস্ট) তাদের পোস্টে তারা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে তার উল্লেখ রেখেছে। যেহেতু মূল সূত্রে অনুবাদকারীর কোন উল্লেখ নেই, তাই তারা অনুবাদকারীর নাম দিতে হয়তো প্রয়োজন বোধ করে নি।
"জনৈক ব্লগার এই ব্লগে এটি পোস্ট করেছেন, অনুবাদ কারীর নাম ধাম উল্লেখ না করেই, "
-*-*-*-*-
দু:খিত ফর মাইনাস।
ইমেইল [[[[@]]]] moinuddin102 [[[.]]] কম
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
লেখাটা পড়ে অনেকগুলো ভাবনা একসাথে চলে আসছিলো মাথায় । মিশ্র একটা প্রতিক্রিয়া ।আপনাকে ধন্যবাদ চমৎকার অনুবাদটার জন্য ।
মনজুরুল হক বলেছেন:
আপনার সমগ্র লেখার বিষয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা করতে চাচ্ছি না।শুধু এই ক'টা লাইন....---------------------------------------------------------------------------
"এদের বাইরে যদি কোনো ধারা থাকে যারা নিজ জনগণকে পীড়ন করে না এবং যারা পুঁজিবাদ বিরোধী, আমি তাদের গণশত্রু বলব না। যদিও তেমন কেউ বাংলাদেশে নাই।"
---------------------------------------------------------------------------
এই যে বললেন'নিজ জনগণ', এই নিজ জনগণ কারা ?' "নিজ জনগণকে পীড়ন করে না" কথাটা মারাত্মক একটা ইজমের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা যদি অরুন্ধতীর কথা হয়, কোর অসুবিধা নাই কারণ তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট(বিশেষ করে মাওবাদী)দের হেয় প্রতিপন্ন করে পুস্তক লিখে বুকার পেয়েছিলেন। এটা প্রায় অবিসম্বাদিত যে পশ্চিমের বড় কোন পুরষ্কার টুরষ্কার পেতে হলে কদাকার গরিবি কে তুলে আনতে হবে, আর কমিউনিস্টদের সন্ত্রাসী/ডাকাতরূপে দেখাতে হবে।
যদি আপনার কথা হয় তাহলে আমি ভিষণ হতাশ।আপনার ওপরকার শ্রদ্ধাও টালমাটাল দশায়। এ আপনি কি বললেন?'নিজ জনগণ' ?!
লেনিন-স্ট্যালিন মাও সবাইতো তাহলে 'নিজ জনগণ' কে "চরম পীড়ন" করেই সমাজতন্ত্র কায়েম করেছিল! নিপীড়ক শ্রেণীর ব্যাপার গুলো তাহলে কিছু না? আপনি কি এবার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যুদ্ধ আর শ্রেণী যুদ্ধকেও পৃথক করে ফেলবেন ?
ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে কিছু পেলেই সেই ভারতীয় সুবিধা বাদীদের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে হবে ?
ফারুক ওয়াসিফ। আমি আশ্চর্য হচ্ছি।ভিষণ আশ্চর্য হচ্ছি।সলিমুল্লা আর নিও লিবারাল মাক্সিস্ট পিয়াস গং দেখি অনেক কিছুই প্রভাবিত করে দিয়েছে।ক'দিন পর এই দিগগজ অর্থনীতি বিদরা ক্রশ্চেভের মত 'জনগণের রাষ্ট্র', 'সবার গণতন্ত্র', এমনকি বঙ্গ গবেট আমলা/রাজনীতিবিদদের মত বলে বসবেন- সবার জন্য শিক্ষা/সবার জন্য ডালভাত !! এই সব বাঞ্চোত দের মাকর্স নামটা মুখে আনারই কোর অধীকার নেই।অর্থনীতির ফ্যালাসি মারিয়ে মাকর্সবাদ মারাতে যায়।
কিছু মনে করবেন না। আপনার । ঐ তিনটি লাইন পড়ে মেজাজ খারাপ।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
যাহোক, এত দ্রুত আমাকে অনাস্থায় ফেললেন দেখে চমৎকৃত হচ্ছি। সব কিছুরই একটা সংরক্ষণবাদী এবং একটা প্রগতিবাদী দিক থাকে। আজ যে প্রতিবাদী মুসলিম শরিয়ার নামে 'নিজ জনগণ' অর্থাৎ তার শ্রেণী বা জাতিকে পীড়নের বন্দোবস্ত করে সেই যখন আবার আমেরিকা বিরোধী হয়, তখণ তার সম্পর্কে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হয়। আমরাও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কিন্তু শরিয়াকে কোনোভাবেই কাম্য মনে করি না। ফলে যতক্ষণ না তারা শরিয়ার দাবি ত্যাগ করছে, ততক্ষণ তাদের দ্বারা জনগণের মঙ্গল হওয়া সম্ভব নয়। এই অর্থে আমি আগে এখানেই আমার ব্লগে লিখেছিলাম এটা রাজনৈতিক ইসলামের আত্মঘাত। নিজ জনগণ বৃহত অর্থে নিপীড়িত পরদখলীয় জনগণ, আর সংকীর্ণ অর্থে তার শ্রেণীগত অবস্থানের দরিদ্র জনগণ।
এটা বলা এ জন্য যে, এই গণবিরোধী ভূমিকার কারণে তাদের পক্ষে শেষপর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদ বা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হয় না। কিন্তু জাতীয় মুক্তির লড়াইয়ে এই পর্যায়ে তাদের এই স্ববিরোধ থেকে সংকটের প্রকৃতি বোঝা যায়। সেটা আপনি বুঝে থাকতে পারেন, কিন্তু আমার এখনও বোঝা বাকি।
''ফারুক ওয়াসিফ। আমি আশ্চর্য হচ্ছি।ভিষণ আশ্চর্য হচ্ছি।সলিমুল্লা আর নিও লিবারাল মাক্সিস্ট পিয়াস গং দেখি অনেক কিছুই প্রভাবিত করে দিয়েছে।ক'দিন পর এই দিগগজ অর্থনীতি বিদরা ক্রশ্চেভের মত 'জনগণের রাষ্ট্র', 'সবার গণতন্ত্র', এমনকি বঙ্গ গবেট আমলা/রাজনীতিবিদদের মত বলে বসবেন- সবার জন্য শিক্ষা/সবার জন্য ডালভাত !! এই সব বাঞ্চোত দের মাকর্স নামটা মুখে আনারই কোর অধীকার নেই।অর্থনীতির ফ্যালাসি মারিয়ে মাকর্সবাদ মারাতে যায়।''
এটা আপনার স্টেটমেন্ট। সত্যি কথা বলতে আমি দমনের পথে সেক্যুলারিজম সমর্থন করি না, আর ইসলাম যে একদিকে প্রতিবাদী আরেকদিকে সাম্রাজ্যবাদের পঞ্চম বাহিনী হচ্ছে সেটা সম্পর্কেও সচেতন। মার্কসবাদ আপনার একচেটিয়া নয় মঞ্জু ভাই। আর পিয়াস বা সলিম খান এতই পরস্পর বৈরি যে, তাদের এক কাতারে ফেলায় তাদের সম্পর্কে আপনার ধারণার অভাবই প্রমাণ হয়। হয়তো মার্কসবাদ সম্পর্কেও। সেটা অন্য আলোচনা।
এখানে এটা বলি, ভারতে অরূন্ধতি যেভাবে উত্তরোত্তর মাওবাদীদের সশস্ত্র প্রতিরোধের সমর্থক হয়ে উঠছেন, তাতে তাঁর সম্পর্কে আপনার অভিযোগ খাটে না। গড অব স্মল থিংস আমি পড়েছি। একজন মধ্যবয়সী সিপিএম-নেতার সংগ্রামশীলতার মধ্যে কীভাবে সুবিধাবাদ ঢুকে পড়ে তা দেখানো যদি আপনার কাছে পশ্চিমাদের দালালি মনে হয় তাহলে আর কী বলবার থাকে।
ওই উপন্যাসের নায়ক কাঠুরে লোকটি কিন্তু মাওবাদী। অরূন্ধতির লেখায় তাকেই কিন্তু বড় করা হয়েছে। সুতরাং আপনাকে আপনার মত পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানানোই আমি কর্তব্য মনে করছি।
আরো জানাই, বুকার নেয়ার পর অরূন্ধতিকে সাহিত্য আকাদেমী পুরস্কার সাধা হয়েছিল, তিনি নেননি নর্মদা ও নন্দীগ্রামে রাষ্ট্রের সহিংস ভূমিকার প্রতিবাদে। ফলে তাঁকে পুরস্কার লোলুপ বলা অন্যায়।
লালন অনিক বলেছেন:
অসাধারণ.....এতটি অক্ষরও বাদ রাখিনি....প্রথমআলোরটা মিস করেছিলাম মনে হয়...
ভালথাকা হউক
মনজুরুল হক বলেছেন:
প্রিয় ফারুক।ঘন্টাখানেক ধরে একটা প্রতিউত্তর তৈরি করেছিলাম। কারেন্ট চলে গেল।কমেন্টও গেল।আরো পরে মাথা সায় দিলে লিখব। এটুকু বলে রাখি, আমি আস্থা হারাইনি। দেড় মাস আগেও না,এখনো না।
সংগ্রামী শুভেচ্ছা।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আপনার প্রতি উত্তর জানলে ভাল লাগত। ধন্যবাদ মঞ্জু ভাই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















এসবের বিপরীতে অরুন্ধতি রায় এবং আরো কতিপয়ের লড়াইটা অভিনন্দনীয়। আর সবাই যাকে খলনায়ক মনে করে, অর্থাৎ সেই মাওবাদী এবং আসাম-কাশ্মীরের বিচিছন্নতাবাদী ও ইসলামী সন্ত্রাসীদের ভূমিকারও নতুন মূল্যায়ন করেন তিনি। আসলে এরা যে ভারতীয় রাষ্ট্রের উচ্চবর্ণবাসীদেরই প্রতিক্রিয়া, সেটা না বুঝলে সহজেই আমরা বুশের ওয়ার অন টেররের খপ্পরে পড়ে পঞ্চম বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যাব। সেদিক থেকে অরূন্ধতি রায় আমাদের শিক্ষক।
ধন্যবাদ রায়হান রশীদ এবং মাসুদ করিম।