নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের শাসন কায়েম হবার কথা। কিন্তু যখন নির্বাচনের এপারে ওপারে দুর্বৃত্ত রাজনীতির নবায়ন। অর্থাৎ নির্বাচন না হলে সিভিকো-কর্পোরেট-মিলিটারি তথা বিশ্বব্যাংকীয়-সেনাতন্ত্র কায়েম থাকা আর হলে বিশ্বব্যাংকীয় দুবৃত্ত রাজনীতির জামানা। তাহলে নির্বাচন হলো নরকের এক চুলা থেকে আরেক চুলার মাঝের দরজা। তা যদি হয়, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে কীভাবে জনগণের শাসন হয়?
এপারের সব পাপের কাফ্ফারাহীন পুরস্কারের প্রতিশ্র“তির নিশ্চয়তার ওপরই নির্বাচন হওয়া না হওয়ার সম্ভাবনা। দুই দলই সেই ফাঁকা চেকে সই করে বসে আছে। তাহলে নির্বাচনরঙ্গের মহিমাটা কোথায়? মহিমা এখানেই যে, নির্বাচনের নামে দুই বছর জনগণকে ইয়ে হাতে করে বসে থাকতে হয়েছে। যেমন তাদের থাকতে হয়েছিল এরশাদের নয় বছর। তারপরে একদিন পাবলিক যার যার ইয়ে হাতে করে ভোট বাক্সে জমা দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য হিজরা হয়ে বেরিয়ে আসবে। পাঁচ বছর পর আবার তারা তাদেও ইয়েতে হাত দেবে_যদি সুযোগ থাকে। তার মানে আজকের বাস্তবতায় নির্বাচন জনগণের ক্ষমতাহীন হওয়ার সবচেয়ে বড় মজমা।
প্রতিটি নির্বাচন দেখলেই তা ধরা পড়ে। কিংবা হয়তো জনগণ বলে কিছু নাই। ছন্নছাড়া, আরামকাতর, হাহুতাশবাদী, লেজ নাচানো বিবিধ প্রকারের মানুষ আছে, জনগণ নাই। চোর-ডাকাতরাই এদেশে জনগণ। নির্বাচনে তাদেরই শাসন কায়েম হয়। এদেশের ইতিহাসে কখনোই ভোটে কিছু অর্জিত হয় নাই। ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ভূত তাড়িয়েছে। কিন্তু পরের নির্বাচনেই আগের ভুতেরাই নতুন চেহারায় ক্ষমতার বটগাছে চড়ে বসার মওকা পেয়েছে।
এ নিয়ে একটা গল্প মনে পড়লো। এক ছেলের ঘুমের ঘোরে ইয়ে হয়ে যেত। এতই হতো যে, সে এক বন্ধুর কানপড়ায় ইয়ের মুখে সুতা বেঁধে ঘুমানো শুরু করলো। এরকম করে কয়েক বছর পার হলো। একদিন তার ইয়েকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা হয়। সে দেখে ইয়ে ইয়ের জায়গাতেই আছে বটে, কিন্তু দমবন্ধ থাকায় তা লিলিপুটীয় দশা পেয়েছে। সেই ইয়ে হাতে করে সে থাকাই সার হলো তার। রইল তো রইল। আর কিছু করার নাই। তারপরও আশা যদি কেউ ডাকে, যদি কেউ রাজি হয়! আমাদেরও এখন সেই অবস্থা। ইয়ে হাতে করে বসে আছি। কবে স্বচ্ছ সুন্দর ভোট বাক্সে যার যার ইয়ে ঢোকাতে পারব সেই আশায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



