আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

সোমালিয়ার হতভাগা জলদস্যুরা: ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!’
২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৮
কে ভাবতে পেরেছিল, এই ২০০৯ সালে দুনিয়ার তাবড় তাবড় সরকারগুলো একযোগে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে? এই লেখা যখন আপনি পড়ছেন, তখন ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ দুই ডজনেরও বেশি দেশের যুদ্ধজাহাজ নিয়ে সোমালিয়ার জলসীমায় ঢুকছে। জলদস্যু বলতেই কাঁধে তোতাপাখি নিয়ে থাকা শয়তান মানুষের ধারণা আমাদের মনে গেঁথে দিয়েছে হলিউডি ছবিগুলো। আন্তর্জাতিক নৌবহর যখন সোমালিয় জাহাজগুলোকে তাড়া করে ধ্বংস করবে এবং প্রয়োজনে ভূমিতেও সেই আক্রমণ ছড়িয়ে দেবে, তখনও আমরা ভাবব কোথাও একদল পাষণ্ড ডাকাতদের শায়েস্তা করা হচ্ছে। সামুদ্রিক এই অভিযান নব্বই দশক থেকে একের পর এক মার্কিন আক্রমণ, সিআইয়ের গোপন অভিযান, মার্কিন মদদে ইথিওপিয়ার আগ্রাসনে বিধ্বস্ত দেশটি আর তার দুর্ভিপীড়িত কোটি খানেক মানুষকে নরকের সদর দরজা দেখিয়ে দেবে। অথচ যে মানুষগুলোকে পশ্চিমা সরকারগুলো ‘আমাদের সময়ের কুৎসিত ব্যাধি’ বলে দেখাচ্ছে, তাদেরও বলবার আছে অসাধারণ মানবিক এক গল্প, তারাও তুলতে পারে সুবিচারের দাবি।
আমরা যেমন ভাবি জলদস্যুরা কখনোই তেমনটি ছিল না। জলদস্যুতার স্বর্ণযুগ ছিল ১৬৫০ থেকে ১৭৩০ সাল। সেসময় থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মুখপাত্ররা কুৎসা রটায় যে তারা হলো অমানুষ, বর্বর ডাকাত। সেই ধারণা আজো অনেকে বিশ্বাস করে। কিন্তু বারবারই আমজনতা তাদের ফাঁসিকাঠ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কেন? তারা কি বুঝেছিল যা আমরা বুঝি না? ভিলেইনস অব অল ন্যাশনস বইয়ের লেখক ইতিহাসবিদ মারকাস রেডাইকার এ বিষয়ে আমাদের কিছু স্যাপ্রমাণ দিয়েছেন। ধরুন আপনি সেসময়ের কোনো নাবিক বা সওদাগর, লন্ডনের ইস্ট এন্ড বন্দর থেকে ুধার্ত ও তরুণ আপনাকে তুলে নেয়া হলো জাহাজে। যাত্রা শুরু করে একসময় দেখতে পেলেন এক কাঠের নরকে করে আপনি ভাসছেন। উদয়াস্ত খাটতে খাটতে আপনার পেশি কুঁচকে গেছে, আধাপেটা খাওয়া, এক মুহূর্তের জন্য কাজে উদাস হয়ে গেছেন। সর্বশক্তিমান সারেং আপনাকে চাবুক পেটা করবে। বারবারই যদি আপনার ফাঁকি ধরা পড়ে তো আপনাকে ছুঁড়ে ফেলা হবে সাগরে। অথবা মাস শেষে দেখলেন আপনার মজুরি মেরে দেওয়া হয়েছে।
এই বর্বর দুনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহী ঐ জলদস্যুরা। তারা তাদের বর্বর ক্যাপ্টেনদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সমুদ্রের কারবারের নতুন নিয়ম তৈরি করেছিল। জাহাজ পাওয়া মাত্র তারা তাদের ক্যাপ্টেন নির্বাচিত করতো এবং সকল সিদ্ধান্তই নিতো এজমালি ভাবে। লুটের মাল তারা এমনভাবে ভাগ করতো যা থেকে রেডাইকার বলছেন, ‘সেটা ছিল আঠারো শতকের সবচেয়ে সমতাবাদী ভাগযোগ’। এমনকি তারা পালিয়ে আসা আফ্রিকি দাসদের তুলে নিতো, দিত তাদের সমান মর্যাদা। জলদস্যুরা পরিষ্কারভাবে কিন্তু ঘোষণা ছাড়াই দেখিয়ে দিয়েছে যে, সওদাগরি কোম্পানি বা রয়্যাল নেভির বর্বর কায়দায় জাহাজ চালানো চলবে না। সেজন্যই নিষ্ফলা চোর হওয়া সত্ত্বেও তারা ছিল জনপ্রিয়।
সেই হারানো যুগের এক তরুণ ব্রিটিশ জলদস্যুর কথা আজো শতাব্দী পেরিয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর ঠিক আগে সে বলে, ‘আমি যা করেছি তা কেবলই ধ্বংস থেকে বাঁচার জন্য। বাঁচার জন্যই আমি জলদস্যু হতে বাধ্য হয়েছি।’ ১৯৯১ সালে সোমালিয়ার-আফ্রিকার শিং-সরকার ভেঙ্গে পড়ে। এর কোটিখানেক মানুষ তারপর থেকে আজ অবধি দুর্ভিরে সঙ্গে লড়ছে। তখন থেকে পাশ্চাত্যের জঘন্য রাষ্ট্রশক্তিগুলো মওকা বুঝে দেশটির খাদ্য সরবরাহ কেড়ে নেয় এবং এর উপকূলে তেজষ্ক্রিয় বর্জ্র্যপদার্থ ফেলতে শুরু করে।
সরকার গায়েব হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত থেকেই সোমালিয়ার উপকূলে হানা দিতে থাকে রহস্যময় ইউরোপীয় জাহাজ। তারা বিরাট বিরাট ব্যারেল ফেলতে থাকে সেখানে। উপকূলীয় অধিবাসীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। প্রথম প্রথম তাদের গায়ে অদ্ভুত দাগ দেখা দিত, তারপর শুরু হলো বমি এবং বিকলাঙ্গ শিশু প্রসব। ২০০৫ সালের সুনামির পর, তাদের উপকূল ভরে যায় হাজার হাজার পরিত্যক্ত ও ফুটো ব্যারেল। মানুষ তেজষ্ক্রিয়তায় ভুগতে থাকে। ৩০০ এরও বেশি মানুষ মারা যায়। সোমালিয়ায় জাতিসংঘ প্রতিনিধি আহমেদু আবদাল্লাহ বলেন, ‘কেউ এখানে একটানা পারমানবিক উপাদান ফেলছে। আরও ফেলছে সীসা, ক্যামিয়াম ও মার্কারি।’ খুঁজলে দেখবেন এর বেশিরভাগই আসছে ইউরোপীয় হাসপাতাল ও কারখানাগুলো থেকে। ইতালিয় মাফিয়াদের মাধ্যমে সস্তায় তারা এগুলো এখানে খালাস করে। ইওরোপীয় সরারগুলো এ নিয়ে কিছু করছে? না, না তারা এগুলো পরিষ্কার করছে, না দিচ্ছে তিপূরণ, না ঠেকাচ্ছে এগুলো ফেলা।
একইসময়ে অন্য কিছু ইউরোপীয় জাহাজগুলো সোমালিয়ার সমুদ্র লুট করে চলেছে। সোমালিয়ার প্রধান সম্পদ তাদের সামুদ্রিক মাছের ভাণ্ডার। ইওরোপ আগে অতিশোষণের মাধ্যমে নিজেদের মাছের ভাণ্ডার নিঃশেষ করেছে, এখন হামলে পড়েছে অন্যের পানিতে। সোমালিয়ার অরতি পানি থেকে তারা ফিবছর ৩০০ মিলিয়ন ডলারের টুনা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ ধরে নিয়ে আসে। স্থানীয় জেলেরা দেখতে পেল হঠাৎ, তাদের সর্বস্ব খোয়া গেছে এবং তাদের ুধার কোনো নিবারণ নাই। রয়টারের কাছে মোহাম্মদ হোসেন নামে এক যুবক বলে, ‘যদি কিছুই করা না হয়, অল্পদিনের মধ্যেই আমাদের সমুদ্র মাছহীন হয়ে পড়বে।’
এই পটভূমিতেই ওই মানুষদের আবির্ভাব, যাদের আমরা বলছি ‘জলদস্যু’। সকলেই মানে যে, এরা আসলে সাধাসিধা জেলে। প্রথমে তারা স্পিডবোট নিয়ে বর্জ্র্য ফেলা ও মাছ ধরার জাহাজ ও ট্রলারগুলিকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাদের ওপর ‘ট্যাক্স’ বসানোরও চেষ্টা চলে। এক পরাবাস্তব টেলিফোন সংলাপে জলদস্যুদের এক নেতা সুগুল আলি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ‘বেআইনী মাছ ধরা এবং উপকূল দূষণ থামানো...আমরা জলদস্যু নই...ওরাই জলদস্যু যারা আমাদের মাছ কেড়ে নেয়, যারা আমাদের সমুদ্র বিষ দিয়ে ভরে ফেলে এবং আমাদের পানিতে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে।’
না, এ জন্যই নাবিকদের জিম্মি করার পপাতি নই আমরা। এবং এও সত্য যে, ওই জলদস্যুদের মধ্যে বেশ কিছু গুণ্ডা-বদমাশও রয়েছে। তারা জাতিসংঘের খাদ্য সরবরাহও লুট করে। এবং এও সত্য যে, স্থানীয়দের কাছে এই জলদস্যুরা বিপুলভাবে জনপ্রিয়। স্বাধীন সোমালিয় সংবাদ-সাইট WARDHERNEWS এ বিষয়ে সবচেয়ে ভাল একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছে যে, ‘৭০ ভাগ সোমালিয় মনে করে জলদস্যুতাই এখন তাদের সমুদ্র প্রতিরার জাতীয় কৌশল।’ আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময়, জর্জ ওয়াশিংটনসহ মার্কিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা জলদস্যুদের দিয়ে মার্কিন সমুদ্রসীমা রার কাজ করিয়ে নিতেন। এজন্য তাদের টাকাও দেওয়া হতো, কারণ সেসময় আমেরিকার কোনো নৌবাহিনী ছিল না। বেশিরভাগ মার্কিনির কাছেও এটাকে ঠিকই মনে হয়েছিল। সোমালিয়রা কি তাদের থেকে খুবই আলাদা?
আমরা কি চাইছি যে, ক্ষুধার্ত ও তেজষ্ক্রিয়ায় রুগ্ন সোমালিয়রা সমুদ্র সৈকতে ধুকে ধুকে মরবে কিন্তু নীরবে চেয়ে দেখবে তাদের থেকে চুরি করা মাছ পরিবেশিত হচ্ছে লন্ডন, প্যারিস আর রোমের রাজকীয় রেঁস্তোরায়! যখন তাদের বিরুদ্ধে এই অপরাধগুলো আমরা হতে দিয়েছি। কিন্তু যেই তারা বিশ্বের বিশ ভাগ তেল পরিবহনের সমুদ্রপথে বাধা দেওয়া শুরু করলো, সেই আমরা ‘শয়তানদের’ নিয়ে পড়লাম। যদি সত্যিই জলদস্যুতা বন্ধ করতে হয়, তাহলে এর গোড়ায় হাত দিতে হবে। থামাতে হবে আমাদের অপরাধগুলো।
২০০৯ সালের এই জলদস্যুদের গল্পের সারাংশটি সবচেয়ে ভালভাবে প্রকাশ করা যায় খ্রীস্টপূর্ব চার শতাব্দী কালের এক জলদস্যুর কথায়। তাকে বন্দি করে মহান আলেকজান্ডারের সামনে আনা হয়। সম্রাট আলেকজান্ডার জানতে চান, ‘সমুদ্রের দখল ধরে রাখা বিষয়ে সে আসলে কী বোঝাতে চায়?’ জলদস্যুটি মুচকি হেসে জবাব দিল, ‘গোটা পৃথিবী দখল করা দিয়ে আপনি যা বোঝাতে চান; কিন্তু ওই কাজ আমি করছি ছোট্ট এক জাহাজ নিয়ে আর আপনি করছেন বিরাট নৌবহর দিয়ে। সেজন্যই আমি ডাকাত আর জাঁহাপনা আপনি সম্রাট’।
আবারো, আমাদের মহান রাজকীয় নৌবহর মহান এক অভিযানে রওনা হলো আজ- কিন্তু বলতে পারেন, কে আসলে ডাকাত?
জোহান হারি, ব্রিটেনের দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর লেখক।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ব্রিটিশ আমলে সরকারি দলিলে অজস্র গ্রাম ও ট্রাইবগুলোকে 'ডাকাতের গ্রাম' বা 'অপরাধী জাতি' হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। যেমন তাদের ভ্রমণ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ। ঘরে দা-বটি পর্যন্ত রাখা বারণ ইত্যাদি। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সেটা ছিল বিদ্রোহীদের গ্রাম বা বিদ্রোহী জাতি। ইংরেজ শাসন অপসারণে তাদের সরাসরি ভূমিকা ভারতীয় ও ব্রিটিশ ধারার মেইনস্ট্রিম ইতিহাসবিদদের কাছে স্বীকৃত।আজকের যারা ফেইলড স্টেট, সন্ত্রাসী জাতি, বা মুসলিম বলে সন্দেহভাজন, মনে রাখবেন সাম্রাজ্যের জোয়াল আলগা করায় তাদেরও ভূমিকা রয়েছে।
এভাবে অভিযুক্ত করে আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তুকে অপরাধী আর নিজেদের ভিক্টিম বলে প্রচার দেওয়া আধিপত্যের নয়া কৌশল। নিজেদের আইনের দৃষ্টিতে উচ্চতর প্রতিপন্ন করা এবং পরিশেষে জঙ্গি বা আল কায়েদা খেতাব দিয়ে হত্যা শুরু করা, নয়া সাম্রাজব্যাদী উপনিবেশবাদের তরিকা। অচিরেই আপনি জলদস্যুদের সঙ্গে আল কায়েদার নাম উচ্চারণ করতে দেখবেন এবং দেখবেন, এর মাধ্যমে আফ্রিকায় ওয়ার অন টেররকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে। সেজন্যই বলেছিলাম আপনি আমার উনিশ নম্বর কমেন্ট ও তার সঙ্গের লিংকগুলো দেখে বলুন, বিষয়টা কেবল আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা কী না। একইভাবে আবারো বলি, বিডিআর-ঘটনাও আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা না। তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। দয়া করে একে আবার ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলবেন না। এর অনেক কিছুই দৃশ্যমান, সামান্য যা অদৃশ্য, তার হিসাব আমরা দৃশ্যমান আলামত থেকেই বুঝতে পারি।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
এইটা কি আপনেল লেখা না হারির? যারই হউক দরকারি লেখা হইছে। আমরা বিভ্রান্তিতে ছিলাম। জলদস্যুরা এইভাবে টিকে থাকে কিভাবে। যদি জনসমর্থনই না থাকবো!
নির্বাসন বলেছেন:
অন্য পাশের খবর জানতে পেরে ভালো লাগলো...
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম !! সত্য আসলেই আমাদের অগোচরে থাকে
নির্বাসন বলেছেন:
ভাবনা এলো ...এরকম কত কিছুইনা আমাদের অগোচরে রয়ে যায়...আমরা হয়তো পত্রিকা পড়েই মনে মনে গালি দিয়ে বসি...হয়তো পিছনের কাহিনী সম্পূর্ণ ই ভিন্ন...নাহ এর পরে কোনো কিছু নিয়ে খারাপ ভাবার আগে দুই বার ভেবে নেবো...
লেখক বলেছেন: কী মানেলন না, কেন মানলেন না, কারটা মানলেন না, আমার না হ্যারির, এত প্রশ্ন জাগিয়ে গেলেন যে?
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
এখন থেকে সতর্ক না হলে অদুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থাও ওদের মত হওয়া অসম্ভব নয়।
শুভ৭৭ বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম। তবে সব বিষয়ে একমত না। ++
সেতূ বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম !! সত্য আসলেই আমাদের অগোচরে থাকে , পশ্চিমা মিডিয়া যে কি জিনিস !!!যারা পশ্চিমাদের অন্ধভক্ত তাদের হুশ হওয়া উচিত ।
আরো ভয়ংকর জলদস্যু আছে south china sea এলাকায় ....
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
+++
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
চমৎকার তথ্যবহুল লেখা। অনেক কিছু জানতে পারলাম। তবে, আপনার ২ নং কমেন্টের শেষ অংশে বিডিআর নিয়ে একটা কথা আছে.. এর মানে কি?? অন্য কোথাও লেখার কথা.. এখানে পোস্ট হইছে??+++
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন:
খুব ভালো লাগল। আমি মূল আর্টিকেলের অনুবাদ করে ড্রাফট করে রেখেছিলাম। পোস্ট করা হয়নি। এবার আপনার অনুবাদটিই প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এই জিনিসটি শেয়ার করার জন্যে। আপনার পরিশিষ্টও খুব ভালো লাগল। ভালো থাকুন ফারুক ভাই।
লেখক বলেছেন: আপনি যে এটা অনুবাদ করার দরকার মনে করেছেন তার জন্য অভিনন্দন জানাই। কিন্তু দিয়ে দিলেন না কেন? আমি তো এটা অন্য জায়গায় প্রকাশ করেইছিলাম।
আমারই বরং আফেসোস হচ্ছে।
অলস ছেলে বলেছেন:
প্রথম আলোর অনুবাদ টি আপনিই করেছিলেন তাহলে।লেখা খুব ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।
সুখী এবং সমৃদ্ধ সোমালিয়াকে দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্রের তকমা পরিয়ে দেয়া হয়েছে। সোমালিয় রা এখন সারা পৃথিবীতে যাযাবর জাতি। এই নম্র ভদ্র মানুষগুলোর প্রতি সভ্যতা যে অবিচার টা করেছে, তা দেখে মনে হয়, আমাদের বাংলাদেশ তো আরো ছোট এবং অনেক অকিঞ্চিৎকর দেশ। নিজেদের জন্যই ভয় লাগে।
লেখক বলেছেন: প্রথম আলোরটা ছিল এর সংক্ষিপ্ত রূপ। লেখাটা আগে এখানে http://www.sachalayatan.com/faruk_wasif দিয়েছিলাম। এটা নিয়ে সেখানে লম্বা-চওড়া বিতর্কও হয়েছে।
নুভান বলেছেন:
প্রিয়তে +
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন:
আপনি আফসোস করছেন কেন ফারুক ভাই! আমার অনুবাদ তো আপনার মত সাবলীল হয়নি। ভালোই হয়েছে। আর আপনার বিশ্লেষণধর্মী আলোচনাও করতে পারবনা আমি। অনেক অনেক ধন্যবাদ ফারুক ভাই।
ঝান্ডুদা বলেছেন:
লেখক বলেছেন: জ্বি বলুন দাদা!
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
কেন, আমি তো করেই আসছি, আরো আরো লোক এই কাজে থাকা দরকার না? আর আলোচনা তো তখনো এমন করেই করতে পারতাম। সামনে কি অনুবাদের চিন্তা করছেন জানায়েন।
অনেক শুভেচ্ছা সাদাত আপনাকে।
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
ফারুক ভাই, লেখা/অনুবাদ বরাবরের মতই ভাল লেগেছে। বিষয়টা ক'দিন আগে থেকেই খেয়াল করছিলাম। আরেকটা যুদ্ধের ময়দান খোজার পায়তারা জেরেসোরেই চলছে। পশ্চিমা মূলধারার সংবাদ মাধ্যম দেখি না ঘেন্না করে। বিকল্প ধারায় খবরগুলো পাই। নিষ্ফল আক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। মন্দার অমোঘ নিয়তি ভেবে শঙ্কা শুধু বাড়ে।
আপনার লেখা ক্রিটিকালি পড়ার চেষ্টা করি, তবে বিশ্বাসের সমধারার কারণে বোধহয় দ্বিমত করতে অনেক কষ্ট হয়। এখানে তেমন কিছু পাইনি। সচলে দেখলাম ইশতিয়াকের সাথে লম্বা তর্ক হয়েছে। ওটা একটু সময় নিয়ে পড়ব। এখানে যারা দ্বিমত করলেন, ঠিক কোথায় কি নিয়ে করলেন বুঝলাম না। ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রইলাম।
বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি এনার্কিতে নিমজ্জিত না হলেও একই রকম ঘটনার ছায়া দেখতে পাই।
ইদানিং একটা বাধা ছকে জঙ্গিতত্ত্ব নিয়ে ছাগু-টাইপ "গবেষণা" জোরে সোরে ছলছে। এর বিপরীতে তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণা মনে হয় এখনই শুরু হওয়া দরকার।
রাগ ইমন বলেছেন:
্লাস
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আপনি ফোকাস করছেন বেশ কিছুতে.......... দস্যুতা ভালো কি খারাপ সেটা নিয়ে তাত্বিক আলাপে যাচ্ছি না। সোমালীয় উপকুলে যে রেডিও এক্টিভ ম্যাটেরিয়াল ফেলা হচ্ছে ( আসলে আফ্রিকার অনেক দেশেই এটা করা হচ্ছে ) সেটা নিয়ে পশ্চিমের মুলধারার মিডিয়াগুলো অবশ্য বেশী কথা বলে না।
সে দিন একটা ডকুমেন্টারীতে দেখছিলাম কি ভাবে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ট্রলারগুলো আফ্রিকা উপকুল চষে ফেলছে। দরকারী ও দামী মাছগুলো বাদ দিয়ে বাকী সব মাছ সাগরে ফেলে দেয়। এই সব ট্রলারগুলো এতো মাছ ধরতে পারে ও এতো আধুনিক যে সাধারন আফ্রিকান মাছ ধরার নৌকাগুলো কিছুই না এদের কাছে।
( লেখা ৭২ ঘন্টা বাসী হবার সচু শর্ত পূরন হলেই কি এই আমজনতার ব্লগে দেয়া হয়
বড় বড় ট্যান্কার জাহাজ গুলোতে এটাক, এমেরিকান মেরিন সৈন্যদের অপহরন এই টাইপের অপকর্মের ফলে এরা বিশ্ববাসীর রোষানলে পরে।
বিদ্রোহী রণক্লান্ত বলেছেন:
+ এবং প্রিয়তে গেল.....ঐসব হতভাগ্য মানুষদের সহায় আল্লাহ , এছাড়া আমরা আর কি ই বা বলতে ও করতে পারি?
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
প্রথম আলোতে প্রথম দেখেই আন্দাজ করেছিলাম অনুবাদটা আপনারই হবে।পরে সচলে গিয়ে বিস্তারিত পড়লাম(প্রথম আলোতে একটু সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশিত হয়েছিলো)এইটা পড়ার পরে নিজের সম্পর্কে আমার বিশ্বাসের ভিত্তি নড়ে গেছে।অজস্র মিডিয়া, ইন্টারনেট, হাজারখানেক ব্লগ তবু সোমালিয়ার জলদস্যুদের সম্পর্কে আমি অরিয়েন্টাল চোখেই দেখতাম।
বুদ্ধি-বৃত্তির কিংবা জ্ঞানের লড়াইয়ে এমন বর্ণবিদ্ধেষ এখনো টিকে আছে, ভাবা যায়।
মাঝে-মাঝে এমন একটি লেখা কিংবা অনুবাদ অনেকের চিন্তাজগত বড়সড় ঢেউ তোলে।
ধন্যবাদ দিয়ে আর খাটো করলাম না।
তাহলে কি এটা বুঝব, জলদস্যুরা বিপদে পড়ে, পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মানসে দস্যুতা করে বেড়ায়।
মিডিয়া তাদের খারাপ ভাবে তুলে ধরে, পাইরেটস অফ ক্যারিবীয়ান নামক ব্লক-বাস্টার মুভি তাহলে বর্তমান পরিস্হিতির জন্যে প্রস্তুতিমূলক চলচ্চিত্র।
লেখক বলেছেন: প্রতিবাদের মানস কি না জানি না, এটাই তাদের সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি। হলিউড চিরকালই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির লাইন মেনে কাজ করেছে। মার্কিন আধিপত্যের এটা বিরাট এক অস্ত্র, যেমনটা হালে বলিউডও করছে।
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
সচলে এই লিকাটা আসার সাথে সাথেই পড়েছি। তারপর ইশতিয়াকের সাথে তর্ক বিতর্কটাও দেখলাম।
যাই হোক বাসি হলেও কিছু লিখা এখানেও দিবেন। কারন,আপনাকে এলিট এলিট মনে করিনা।
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
এডেন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় দস্যুবৃত্তির সাথে জড়িত এমন একটি দলও নেই- যারা মুক্তিপণ দাবীতে আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা, সোমালিয়ার জলসীমায় অবৈধ মাছ ধরা, অথবা পারমানবিক বর্জ্য ডাম্পিংয়ের প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ ইস্যু এনেছে। এই রিপোর্টটি পড়ে- এডেনের জলদস্যুতার পক্ষে এক ধরনের যুক্তি তৈরী হতে পারে। খুব মজার ব্যপার হচ্ছে, এই জলদস্যুদের অধিকাংশ গ্রুপই পারমানবিক বর্জ্য ডাম্পিংয়ের কাজে ইতালীর প্রোগ্রেসোর সাথে কাজ করেছে। (গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১০ মিলিয়ন টন বিষাক্ত বর্জ্যের জন্য ৮০ মিলিয়ন ডলার গ্রহনের চুক্তি করেছিল সোমালিয়ার সরকার।)
সোমালিয়ান জলদস্যুদের নিজাম ডাকাত ভাবার কোনো অবকাশ নাই।
লেখক বলেছেন: স্পষ্টতই সেখানে যারা মাছ চুরি করে, হানা দেয়, বিমান আক্রমণ করে, আগ্রাসন চালায় এবং তেজষ্ক্রিয় পদার্থ ফেলে মানুষ মারে, তারা অপরাধী। এই অপরাধের বিচারের জন্য কোনো আইন নাই সোমালিদের, কারণ তাদের সার্বভৌম রাষ্ট্র নাই। তাই ডি ফ্যাক্টো সার্বভৌম শক্তি হিসেবে কথিত জলদস্যুরা পানিতে নেমেছে। তারা জিতলে তাদের ভাষ্যই আইন হবে।
বিষয়টা চোর আর পুলিশের ফৌজরি ব্যাপার নয়। এটা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা প্রতিযোগিতার ভেতরের ঘটনা। বাকিসব ক্যামোফ্লেজ।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
+++++
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাইকে।
ঐদিন টিভিতে দেখাচ্ছিল নিউজের টক শোতে
এদের জলদূস্য বল্লেও নাকি গ্লোরিফাই করা হয়..এরা জাষ্ট ছ্যাচড়
ভাবছিলাম চামাড়া সাদা না হলে বুঝি জলদূস্যও হওয়া যায় না
...
শয়তান বলেছেন:
প্রথমআলোতে পড়েছিলাম ।
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন:
খুব মজার কথা হল সামনে রূপকথা অনুবাদ করার চিন্তা করছি। জানিনা কি হবে। আর খুব রিসেন্ট কোনো খবর পেলে সেটা অনুবাদ করার চেষ্টা করব। অবশ্যই আপনাকে জানাব ফারুক ভাই। সময় পেলে আমার ছেঁড়া ব্লগটা ঘুরে যাবেন। পুঁথি লিখেছিলাম একটা। ভালো থাকবেন।
মামুন (শ।কিল) বলেছেন:
লেখককে ধন্যবাদ।তবে কিছুদিন পর এই জলদস্যুদেরও জঙ্গী বলা হবে।
চাতকপাখি বলেছেন:
তবে কিছুদিন পর এই সব ভাগ্যাহত মানুষদের সঙ্গে আলকায়েদার সম্পর্ক্পাওয়া যাবে পশ্চিমা মিডিয়ার কল্যানে।
ধীবর বলেছেন:
পরিশ্রমি লেখার জন্য প্রিয়তে এবং প্লাস। লেখককে আরো নিয়মিত হবার অনুরোধ করছি।
অ্যামাটার বলেছেন:
বরাবরই আপনার লেখা ব্যাতিক্রম, সবসময় স্রোতের বিপরীতে, নতুন করে ভাবতে শেখায়।
মজনু পাটোয়ারী বলেছেন:
দস্যু তো দস্যুই আবার কী?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
লেখা কোন দিক দিয়ে গেছে ওপর দিয়ে না নিচে দিয়ে? সাতখণ্ড রামায়ন শেষে বলেন সীতা কার মাসী?
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
জল দস্যু তারা আবার হতভাগ্য। এরা বহুৎ দিন ধইরা দরিদ্র সোমালী জেলে আর ক্ষুদ্র জল ব্যবসায়ীদের সম্বল লুটপাট আর খুন কইরা আসছে। ইদানিং বড় বড় ক্ষেপ দেওয়ায় প্রচারে আসছে, আর পশ্চিমাগো টনক নড়ছে। আর সেই সাথে এইগুলান বলশেভিক আর স্পার্টাকাসে রূপান্তরিত হইতাছে সুশীলগো কাছে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আপনার কমেন্টে মন্তব্য সংখ্যা বাড়লো কেবল, আর কিছু বাড়লো কী?
কে জানে বলেছেন:
ভাল লাগ্ল।
পরিবেশবাদী ঈগলপাখি বলেছেন:
লেখাটা আগে পড়ি নাই , খুবই ভালো লাগালো এবং প্লাস না দিয়ে পারলাম না
চুরি যাওয়া আগুন... বলেছেন:
আমিও জলদস্যু হমু...
এক্স বলেছেন:
হায়রে, সেই সাম্রাজ্যবাদীরা আজকে চট্টগ্রামে নৌঘাঁটি বানাচ্ছে, টাইগার-শার্ক এর নামে নৌমহড়া করছে. বাংলা সোমালিয়া হতে আর বেশি বাকী নেই.
rubel rahman5 বলেছেন:
অনেক পুরোনো লেখা তবুও ভাল লাগলো। প্রিয়তে নিলাম।
বাবুআনা বলেছেন:
+ দিলাম আর খুব ভাল লাগলো এতো ভিতরের খবর জানানোর জন্য।
রোবোট বলেছেন:
ঘুঁটে পোড়ে, গোবর হাসে। তখন মার্কিন জাহাজ আক্রানত হয়েছিল, আমরা খুশী হয়েছিলাম। আজকে বাংলাদেশের নির্দোষ নাবিকেরা যখন সেই একই দস্যুদের হাতে মৃত্যুর মুখে তখন এই পোস্টের লিংক পেলাম ব্লগার শয়তানের কাছে। ৪৭টা প্লাসকে ৪৭টি বিদ্রুপ মনে হচ্ছে।
রিডার ওয়ান বলেছেন:
সোমালিয়ার ঐ অন্চলে প্রায়ই জাহাজ হাইজ্যক হচ্ছে। বিশ্বের সব মানুষের একত্রিত হয়ে এই সমস্যার সমাধান করা উচিৎ। কেননা এই সমস্যায় আক্রান্ত সবাই।
সোমালিয়ায় কি সমস্যা সেটাও বিশ্বের সবার দেখা উচিৎ। আর জলদস্যুতা যাতে বন্ধ হয় সেটাও দেখা উচিৎ।
বাংলাদেশি একটি জাহাজও আজ এই কমেন্ট করার সময় আটক আছে। যেহেতু জলদস্যুরা মূলত মুক্তিপনের জন্য জাহাজ আটক করেছে সুতরাং ধরে নিতে পারি নিজেদের স্বার্থেই জিম্মিদের তারা ভাল ভাবেই রাখবে এবং মুক্তিপন পেলেই তারা ছেড়ে দেবে। জাহাজগুলি ইন্সুরেন্স করা থাকে। ইন্সুরেন্স কোম্পানি মুক্তিপন দিয়ে থাকে। Click This Link
জিম্মি নিয়ে একটা মুভি দেখেছিলাম - Proof of Life
যুক্তরাজ্যের একটি জাহাজ আটক হওয়ার পর সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যপারে কেউ কিছু বলছে না (যেটা এই পোস্টের মূল বক্তব্য)। পিস কিপিং মিশনে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সৈন্য প্রদানকারী দেশ হয়েও জাতিসংঘও কোন কথা বলতে দেখি না বা উদ্যোগ নিতে দেখি নি। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ আন্তজার্তিক সাহায্য নেয়া এবং জিম্মিদের মুক্ত করা। পাশাপাশি সবাই মিলেই সোমালিয়ার সমস্যাটি সমাধান করা উচিৎ। এভাবে আর কতদিন তারা জলদস্যু হয়ে বেচে থাকবে?
টুনা বলেছেন:
জলদস্যুতা কোন অজুহাতেই সমর্থন যোগ্য নয় । ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















আর সকল জাতির মতো সোমালিদেরও ইতিহাস আছে, আছে নাটকীয় উত্থান-পতন। তাদের একাংশ ছিল ইতালিয় শাসনে আরেকাংশ ছিল ব্রিটিশ শাসনে। তারা খুবই স্বাধীনেচতা জাতি। ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশরা তাদের জনসংখ্যার তিনভাগকে মেরে ফেলে। মুসোলিনীও সেখানে গণহত্যা চালায়।
স্বাধীন হওয়ার পর ভুল হোক ঠিক হোক মধ্য আশিতে তারা একটা বিপ্লব করে গোষ্ঠীপতির শাসন হঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই বিপ্লবের নেতা সিয়াদ বারে'র ভুল, নানান প্রতিবন্ধকতায় তা কমজোরি হয় এবং যুদ্ধবাজ নামে খ্যাত ফারাহ আইদীদ গৃহযুদ্ধ শুরু করে।
এই অংশটা আমাদের কৈশোরের ঘটনা। টিভিতে ফারাহ আইদিদের নামের আগে যুদ্ধবাজ শব্দটা শুনতে থাকি। তার বিরোধী নেতা ছিল ইতালিয় মদদপুষ্ট। জাতিসংঘ পরে নাক গলায় এবং পরিস্থিতি আরো জটিল হয়। দুর্ভিক্ষ, মৃত্যু তাদের সঙ্গী হয়।
যাহোক, এর মধ্যে ইসলামী কোর্ট নামে ইসলামপন্থিরা দেশটাকে এক করে, শৃঙ্ক্ষলা চালু করে, খাদ্যাভাব কমিয়ে আনে এবং অর্থনৈতিক কাজকারবার শুরু করে। কিছুটা তালেবানদের মতো। তবে তাদের আমলে নারী নির্যাতন অনেক কমে আসে।
Political analyst James Petras summed it up like this:
“The ICU was a relatively honest administration, which ended warlord corruption and extortion. Personal safety and property were protected, ending arbitrary seizures and kidnappings by warlords and their armed thugs. The ICU is a broad multi-tendency movement that includes moderates and radical Islamists, civilian politicians and armed fighters, liberals and populists, electoralists and authoritarians. Most important, the Courts succeeded in unifying the country and creating some semblance of nationhood, overcoming clan fragmentation.”
এদের বিরুদ্ধে তখন আমেরিকা ইথিওপিয়াকে দিয়ে আগ্রাসন চালায়। আল কায়েদা খোঁজার নামে বহু বিমান আক্রমণ হয়। সোমালিদের শান্তি আবার নষ্ট হয়। তারপরে আমরা দেখলাম এই তথাকথিত জলদস্যুদের আবির্ভাব।
সোমালিয়া খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ। এটাই তার বড় বিপদ। অন্যদিকে ক্রমশ ভারত মহাসাগর হয়ে উঠছে এই শতাব্দীর বিশ্ব সংঘাতের কেন্দ্র অঞ্চল। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মুখপত্র হিসেবে বিবেচিত ফরেন অ্যাফায়ার্স তো লিখেইছে ভারত মহাসাগর হলো Center Stage for the 21st Century
সুতরাং শান্তি আসে কী করে। এসব সাবেক উপনিবেশিতরা একদিকে নিজেদের ইতিহাস হারিয়েছে, হারিয়েছে সনাতন পদ্দতিতে সমাজ চালাবার মাধ্যম। অণ্যদিকে পরাশক্তিগুলো এদের তাদের নানান খেলার ঘুঁটি বানিয়ে ব্যবহার করেছে, না বুঝেই চেয়েছে পশ্চিমা স্টাইলের গণতন্ত্র কায়েম করাতে। ন্যাটোর খয়েরখাঁ জাতিসংঘ মাঝখানে ঢুকে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। সবকিছুই ঘটছে আফ্রিকার রিসোর্স ও জিওপলিটিকাল অবস্থান, চীনের সঙ্গে অন্য পুঁজিবাদী দেশগুলোর কামড়াকামড়ি ও স্থানীয় জনগণের ভাল-মন্দের টানাপড়েনে।
বলা যায় না, সোমালিয়া আমাদের জন্যও ভাল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।