আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব: যা ঘটছে ও যা ঘটবে ১
১৬ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩০
হোমারের সময় থেকে প্রতিটি ইউরোপিয় প্রাচ্যদেশ সম্পর্কে যা-ই বলতে পেরেছে, তা নির্ঘাত বর্ণবাদী, সাম্রাজ্যবাদী এবং এর গোড়ায় ছিল তাদের জাতগর্ব। এডওয়ার্ড সাইদ
এক.
সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধের গন্ধম কে কাকে খাইয়েছিল, বুশ সাহেব লাদেনকে নাকি লাদেন জর্জ বুশকে তা আজ ভাবার বিষয়। যে-ই আগে খাক, সে একা খায়নি। আজ বিশ্বের বেশিরভাগ রাষ্ট্রই সন্ত্রাসবাদ নামক জুজুর ভয়ে জেরবার। সন্ত্রাসবাদের গন্ধম এখন বিশ্বের জনসাধারণকেও গেলানো হয়েছে, শান্তির বেহেশত তাই আর থাকে কী করে? তাই আমরা পতিত হয়েছে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অনন্ত যুদ্ধের ময়দানে। সেই ময়দানের পাকিস্তান অংশের খবরই আজকের বিষয়।
পরিণতি ভেবে কাজ করা নাকি ভাল। তাই চেষ্টা করবো শেষটা দিয়ে শুরুটাকে বুঝে নিতে। নইলে ‘আগে যদি জানতাম’ বলার হাহুতাশ আমাদেরও পেয়ে বসতে পারে। সেই শেষটা অনেকটা এরকম:
দণি এশিয়ায় পাকিস্তান বলে কোনো রাষ্ট্র নাই। আছে পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, পশতুনিস্তান ইত্যাদি দেশ। আর তার চারপাশে থাকছে সেই ভারত ও সেই চীন_ আরো শক্তিশালী অবস্থায়। পাকিস্তান-ভাঙ্গা প্রদেশগুলোর কোনো কোনোটি থাকবে তাদের কব্জায়। অন্য প্রতিবেশি ইরান ও রাশিয়ার প্রভাবও বাড়বে। আর গুতাগুতি করে মাতব্বরি বজায় রাখার কলকব্জা নিয়ে সবকিছুর মধ্যে বসে থাকবে পরাক্রমশালী মার্কিন-ব্রিটেন। থাকবে বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। সেই নতুন দৃশ্যের কোথাও তালেবান আর লাদেনদের নামনিশানা থাকবে না। যে ভূরাজনৈতিক পাশাখেলায় তারা ঘুঁটি হয়েছিল, সেই খেলা ফুরালে তাদের আর দরকার কী? পাশাপাশি আল কায়েদা-তালেবান বানানোয় সিআইএ-র জোগালি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-ও থাকবে না, থাকবে না কোনো সাক্ষী।
এই যদি হয় ঘটনা। তাহলে সোয়াতের পাঁচ হাজার আর বুনেরের পাঁচশ তালেবানরা কী করে বিশ্বপ্রভুদের এত অস্থির করে ফেলে? কীভাবে তারা হাজার হাজার মাইল দূরের আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে? বলা হয়, পাকিস্তানের পারমানবিক বোমা যদি তালেবানদের হাতে পড়ে? এই অলীক ভাবনায় স্বয়ং ওবামা যে ভীত নন, তা তিনি সম্প্রতি সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা করেছেন। পারমানবিক বোমা আমেরিকার হাতেই নিরাপদ নয়। হিরোশিমা-নাগাসাকির কথা বাদ দিলেও ১৯৪৫ এর পর পেন্টাগন তার হেফাজতে থাকা ১১ টি পারমানবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে? সেগুলো কি বিপজ্জনক নয়? ফকির লালন বলেন, ‘চোখের আড়ে পাহাড় লুকায় দ্যাখ না।’ আমাদের চোখের পাতার পালকগুলি অনেক সময় আবডাল হয়ে পাহাড়কেও দৃষ্টির আড়াল করতে পারে। আজকের বিশ্বের মূল সমস্যা সামরিকায়ন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু বিপর্যয়ে পৃথিবীর বিপন্নতা, অসহনীয় দারিদ্র্য ইত্যাদি। আজ তালেবানরা জেনে বা না জেনে এসব বুনিয়াদি সমস্যা আড়াল করবার মোম আবডাল হিসেবে ভালই কাজে লাগছে। তারা হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য এশিয়া দখলের উসিলা।
দুই.
এবার শেষের আগের গল্পর। ৯ এপ্রিল আমাদের ভালমানুষ প্রেসিডেন্ট ওবামা ইরাক ও আফগানিস্তানে নয়া যুদ্ধখরচা বাবদ মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ৮৩.৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চেয়েছেন (এপি)। এর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে (খেয়াল করবেন, পাকিস্তানের নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য একদম নয় কিন্তু!) জরুরি সাহায্য হিসেবে দেয়া হবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পেশ করা সিআরএস প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরাক-আফগান দখলে এর আগেই খরচ হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখি বলছে, এর মানে ১০-এর পরে আঠারোটা শূন্য, তাও আবার ডলারে। টাকায় ধরলে ৭০০০০০০০০০০০০০ কোটি কোটি টাকা। আগামী বছর নাগাদ এই খরচ দাঁড়াবে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এটা কেবল আমেরিকার খরচ। ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, স্পেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো ধনী দেশগুলোর খরচ ধরলে....মন বলে, ইস! এই টাকা দিয়ে দুনিয়ার সকল মানুষকে বেহেশতি সুখ দেওয়া যেত!!!
এত খরচ কি সাদ্দাম-লাদেন-বায়তুল্লাহ মেহসুদ দমনের জন্য? নাকি বিশ্বে মার্কিন দাপট বজায় রেখে দুনিয়ার বাজার, সম্পদ, কাঁচামাল আর মানুষের শরীর-মন বিশ্বের কর্পোরেট পুঁজির থাবার তলে এনে দেওয়ার জন্য? নাকি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র-শিল্পকে চাঙা রাখার জন্য? যাঁর যেমন বুঝ তিনি তেমন বুঝে নেবেন।
আমেরিকার কোনো স্বরাষ্ট্রনীতি নাই। সেটা যুদ্ধপ্রবণ পররাষ্ট্রনীতিরই উল্টা পিঠ মাত্র। যখন বাইরে কমিউনিস্ট রাশিয়া শত্র“, তখন দেশের ভেতরে যার চলন বাঁকা সেই কমিউনিস্ট! অতএব করো নির্মূল। বাইরের শত্র“ যখন মুসলমান, তখন দেশের ভেতরেও তারাই শয়তান (এক্সিস অব দি এভিল)!
একটি দেশে যখন যুদ্ধকে মহিমা দেওয়া হয় সামরিক শক্তির পূজা চলে, তখন অর্থনীতি যুদ্ধের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। যুদ্ধ তখন অর্থনীতিরই প্রসারিত বাহু, অর্থনীতি তখন যুদ্ধেরই কার্যকারণ। এরকম দশায় যার তার সবখানেই অনবরত দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করতে হয়। কৃত্রিমভাবে শত্র“ বানিয়ে দেখাতে হয়। জনগণের মন-মগজে চাষ করাতে হয় যুদ্ধের সমর্থন। জনগণও তখন আসল সমস্যা থেকে বেভুল হয়ে মিছা-দেশপ্রেমে মাতোয়ারা হয়।
ইতিহাস সাক্ষী, আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টই যুদ্ধ বিনা ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। পরদেশ দখলের যুদ্ধের পাশাপাশি চলেছে স্বাধীনতা সংগ্রাম দমনের যুদ্ধ। যুদ্ধ ছাড়া মার্কিন রাষ্ট্র ও অর্থনীতি অচল। তাই মার্কিন রাষ্ট্র, তার মিডিয়া ও তার প্রচারকরা দরকার মতো সাদ্দাম বা লাদেন, কমিউনিস্ট বিপ্লবী বা মুসলিম সন্ত্রাসী, কিংবা প্রয়োজন হলে ভিনগ্রহের কাল্পনিক অধিবাসীদের ভিলেন বানাবেই। সমস্যাটা আমেরিকার বাইরের কারো মধ্যে নয়, তার নিজস্ব। হয়তো এ দেখেই সুকুমার রায় ছড়া কেটে খোঁচা দিয়েছিলেন,
‘ধেড়েটার বুদ্ধি দ্যাখো/চড় মেরে সে নিজের গালে/কে মেরেছে দেখবে বলে/চড়েছে গিয়ে টিনের চালে।’
টিনের চাল কথাটা রূপক, এর আজকের মানে হবে, ‘কে মেরেছে দেখবে বলে/ মারছে মানুষ বিশ্ব জুড়ে’
তিন.
তাহলে কি তালেবান মিথ্যা? লাদেন ও আল কায়েদা মিথ্যা? তা কেন হবে? তালেবানদের কীর্তি সবাই দেখেছে। অমুসলিম তো দূরের কথা বেশিরভাগ মুসলিমরা মানে যে, তালেবানরা আফগানিস্তান বা বিশ্ব কারো জন্য শুভ ছিল না। আর লাদেন ও আল কায়েদা? এ বিষয়ে আমরাও জর্জ বুশ ও সিআইয়ের মতোই অন্ধকারে। তাদের মতো আমাদের চোখও এদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমরাও চোখ রাখছি যে, আসলে ঘটনা কী? তবে এরই মধ্যে ব্রিটেনের সাবেক প্রতিরা মন্ত্রী রবিন কুক (তিনি ইরাক আক্রমণের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন) সাংবাদিকদের সামনে বলে ফেলেছিলেন যে, আল কায়েদা-টায়দা এগুলো সিআইএ-র একটা ফাইলের নাম। এদিকে বেনজীর ভুট্টোও বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের কাছে সাক্ষাতকারে ঘোষণা করেছিলেন, লাদেন মারা গেছেন। এটা বলার কিছুদিনের মাথাতেই রবিন কুক রহস্যময়ভাবে এবং বেনজীর ভুট্টো আততায়ীর হাতে মারা যান।
আমরা পাকিস্তান প্রসঙ্গে ফিরে আসি। মার্কিনী সুরে পশ্চিমা গণমাধ্যম যতই বলুক তালেবানরাই হলো পাকিস্তানের প্রধান সমস্যা, তাদের দাপটে পাকিস্তান রাষ্ট্র এই গেল গেল বলে, তা সত্য নয়। যে সোয়াত বা বুনেরে তাদের বাড়বৃদ্ধি, সেটাও দড়ি ঢিলা দিয়ে সাময়িকভাবে বাড়তে দেওয়ার ফল। দুটি উদাহরণ দেওয়া যাক। সোয়াতে হামলা শুরুর কিছু আগে লাল মসজিদ জিম্মি ট্র্যাজেডির হোতা তালেবানদের নেতা মাওলানা আব্দুল আজিজকে পাকিস্তান সরকার মুক্তি দেয়। একইসময় জারদারি নিজের গরজে সোয়াতের তালেবানদের সঙ্গে শরিয়া কায়েমে চুক্তি করে পাকিস্তান তালেবান হয়ে গেল এমন প্রচারণায় ইন্ধন যোগান। অথচ সংসদ ছিল, ছিল এ বিষয়ে সোয়াতের জনগণের মতামত নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
পাকিস্তানি তালেবানরা সংখ্যায় খুবই অল্প, এরা প্রায় না খাওয়া অতি দরিদ্র উপজাতি সম্প্রদায়। লাদেনের মতোই ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার গোড়ার প্রথম বিদ্রোহী ওয়াহাবি নেতা সৈয়দ আহমদ বেরেলভী ও তাঁর সঙ্গিরা পাঞ্জাবে পরাস্ত হয়ে এখানে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই মারা যান। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য টিকে থাকে। আজ যেভাবে যে পন্থায় এরা পাকিস্তানের মতায় যেতে চাইছে সেটাও ব্যর্থ হবে এদের সংখ্যাল্পতা ও পদ্ধতির দুর্বলতার জন্য। তার থেকে বড় কথা পাকিস্তানের বৃহত্তম দুই প্রদেশ পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে তালেবানদের কোনো উপস্থিতি নেই। সেই সম্ভাবনাও কম। এই প্রদেশ দুটির জনগণ মোটাদাগে আধুনিকমনস্ক। সীমান্ত গান্ধি আব্দুল গাফফার খানের প্রগতিশীল বেলুচিস্তানের বেলাতেও একই কথা। তাহলে তালেবানরা কীসের হুমকি যার জন্য দুনিয়া মাতোয়ারা হবে, পাকিস্তানে মার্কিন আক্রমণ ঘটতেই হবে? দুনিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম সাড়ে পাঁচ লাখ সদস্যের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তাহলে কাজ কী?
পাকিস্তানের প্রধান সমস্যা সেখানকার সেনাতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের জোটবদ্ধতা এবং এদের সম্মিলিত দুর্নীতি। জন্মের পর থেকেই একদিকে সেনাশাসন অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে সামন্তবাদের জুলুম ও রক্ষণশীলতা পাকিস্তানের অস্তিত্বকে কুরে কুরে খাচ্ছে। স্থানীয় জমিদার ভূস্বামী শ্রেণী থেকেই কিন্তু পাকিস্তানের জেনারেলরা ও এলিটমহলের পয়দা হয়েছে। এদের অপশাসন-শোষণে পাকিস্তানের নব্বইভাগ মানুষ এতই বিপর্যস্ত যে, একদিকে বেলুচিস্তান স্বাধীনতার দাবি তুলেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ দারিদ্র্য, অব্যবস্থাপনা, বেকারত্ব, জিনিষপত্রের অগ্নিমূল্য, সরকারি নির্যাতন ইত্যাদি কারণে বারুদের মতো তেতে আছে। তালেবান জুজুর উৎপাত শুরু না হলে এতদিনে এরাই রাস্তায় নেমে সেনা-সামন্ত জোট ও জারদারি সরকারের গদি গরম করে ফেলতো। এ কারণেই জারদারিরা সমস্যাটি বাড়তে দিয়েছেন, যাতে মূল সমস্যা জানাবার সুযোগ মানুষ না পায়।
সেনাবাহিনীরও সুবিধা এই যে, সন্ত্রাসদমনের মার্কিন ঠিকাদারির বরাতে তাদের পকেটে নতুন করে ৪০০ মিলিয়ন ডলার আসছে। এই সুযোগে ভারতও আফগান সীমান্তে উন্নয়ন কাজের নাম করে, কনস্যুলেট বসিয়ে বেলুচিস্তানের দুর্বল স্বাধীনতা আন্দোলনকে অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাতিয়ে তুলছে। অভিযোগটা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস্টিন ফেয়ারের। সম্প্রতি ইসরায়েলের জেরুজালেমে এই স্বাধীনতাকামীরা সরকার গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে। বোঝার আর কিছু কি বাকি রইল?
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য তছনছ করে সেখানকার তেলসম্পদ ও সামরিক স্বার্থ হাসিলের পর আমেরিকা এখন মধ্য এশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে দণি এশিয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালান করেছে। বুশের মূল পরিকল্পনায় ছিল ইরাক-ইরান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান ও সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে ভেঙ্গে ফেলা বা খয়েরখাঁ সরকার প্রতিষ্ঠা করা। ইরানকে ধরবার আগে তাই পাকিস্তান ভেঙ্গে অবস্থান পোক্ত করা প্রয়োজন। আসল প্রয়োজন রাশিয়া ও চীনকে ঘিরে ন্যাটো শক্তিবলয় গড়ে তোলা। সেজন্যই সাবেক বলকান শক্তি চেকোস্লাভাকিয়া ও যুগোস্লাভিয়াকে টুকরা টুকরা করা হয়। রাশিয়ার ঘাড়ের কাছে জর্জিয়ায় ন্যাটোর ঘাঁটি বানানো নিয়ে নানান গোপন ও প্রকাশ্য তৎপরতা চলছে। কেউ যদি চীন, রাশিয়া ও ভারতের মাঝখানে মধ্য এশিয়ার মানচিত্রটি ভাল করে খেয়াল করেন, তাহলে বুঝবেন কেন ওবামা বুশের মতোই যুদ্ধের জন্য মরিয়া হয়েছেন। ইরান থেকে তেলের যে পাইপলাইনটি স্থলপথে ভারতে আর বেলুচিস্তানের গাদার বন্দর দিয়ে ভারত মহাসাগরে আসবে, সেটির নিরাপত্তা দরকার। গাদার বন্দরটি বানিয়ে দিয়েছে চীন। কিন্তু ভারত ও আমেরিকা এর ওপর সামরিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থেই নিয়ন্ত্রণ চায়। ভারত মহাসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রাধান্যের জন্যও এটা জরুরি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র ফরেন অ্যাফেয়ার্স পত্রিকা বলছে ভারত মহাসাগর হলো একবিংশ শতাব্দীর কেন্দ্রীয় মঞ্চ।
একটা উদ্ধৃতি লাগবেই এখানে:
‘‘বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল জড়িয়ে আছে সাহারা মরুভূমি থেকে ইন্দোনেশিয় দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত ইসলামের সমগ্র খিলানটি। পশ্চিমারা যদিও আরবদের মরুর লোক বলে জানে, তারা একইসঙ্গে সমুদ্রচারী জাতি। মধ্যযুগে তারা জাহাজে করে আরব থেকে চীনে গিয়েছে, এই যাত্রা পথের সর্বত্র সামুদ্রিক বাণিজ্যের আশ্রয়ে তারা তাদের ধর্মবিশ্বাসও ছড়িয়ে দিয়েছে। আজ, পশ্চিমাদের আওতায় পড়া ভারত মহাসাগরের সীমার মধ্যে রয়েছে সোমালিয়া, ইয়েমেন, ইরান ও পাকিস্তান। এই সাগর ঘিরেই চলছে গতিশীল বাণিজ্য, আবার একে ঘিরেই দানা বেঁধেছে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যুতা ও মাদক চোরাচালান। শত শত কোটি মুসলিম_ মধ্যযুগের সেই ধর্মান্তরণের উত্তরাধিকারি_ ভারত মহাসাগরের পূর্বপ্রান্তে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বাস করে।’’ (সেন্টার স্টেজ ফর দা টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লে’জ ইন দা ইন্ডিয়ান ওশেন, রবার্ট ডি কাপলান, ফরেন অ্যাফেয়ার্স, মার্চ/এপ্রিল ২০০৯)
আগামী পর্বে সমাপ্য। দেখুন এখানে: পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব ২ : আতর পাহাড়ের জন্ম ও বিলয় কথা
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
যে রাজা সে কতল করবেই। যুগে যুগে এই হয়ে আসছে, আমরা তো সেই উদাহরণ টেনে একেকজনকে গ্রেট উপাধি দিয়ে বসি। মহাবীর নামে ডাকি। আমেরিকা যা করতাছে, রাজা থাকাকালে আরব, ব্রিটিশ কেউই কম কিছু করে নাই। রাজার কাজ যুগে যুগে রাজারা করেই যাচ্ছে। তবে পাকিস্তান যদি আলোচনার বিষয় হয়, আমার মতে ওইখানে মার্কিন সামরিক হামলার প্রয়োজন আছে। আফগানিস্তানেও ছিল। কারণ তালিবান শাসন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিল না। একইভাবে সোয়াতের জঙ্গি যাতে পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায় সেজন্যই হামলা করা দরকার। আমেরিকার হাতে অস্ত্র নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত না, তবে তালেবানদের হাতে যে নিরাপদ না সে ব্যাপারে নিশ্চিত।
শামস্ বিশ্বাস বলেছেন:
জটিল
ও হ্যা .....লগইন করেছিলাম শুধু এই মন্তব্যটা করতেই। আবার আমন্ত্রণ জানিয়ে গেলাম http://amarblog.com এ।
দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
শুভ৭৭ বলেছেন:
দারুন লিখেছেন। লিখতে থাকেন।
মাহিরাহি বলেছেন:
ভাল লিখেছেন।পাকিস্তান সহজে ভাংগছে না।
দুটো কারন একটি হল তা পুরো অন্চললে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
আর একটি হল পাকিস্তান একটি পারমানবিক শক্তিধর দেশ।
তবে আমেরিকা নিজের সমস্যা নিয়ে বিব্রত কম না ।
আর এত যুদ্ধ করার মতো জটিল চিন্তা নিয়ে সব প্রেসিডেন্ট ঘুরে না ।
বাকীটুকুতে একমত ।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
ভাঙা পেন্সিলকে প্লাস।
হোলসেল বলেছেন:
পাকিস্তান যদি ভাঙ্গে, সেটার জন্য পাকিস্তাকেই সবচাইতে বেশি দায়ি করা উচিত। আমেরিকার ইন্ধন ছাড়াই আভ্যন্তরীন সমস্যা পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য যথেষ্ট। জন্মলগ্ন থেকে বৈষম্যমূলক রাজনীতি, সামরিকনীতি আর অর্থনীতি পাকিস্তানের অস্তিত্বকে এক সময় বিপন্ন করবে এটা একরকম অবধারিত বলেই ধরে নেওয়া যায়। তার উপরে চূড়ান্ত রকমের দূর্নীতি আর সাম্প্রতিক দশকে তালেবানি মৌলবাদের উত্থান। আর গোদের উপর বিষফোঁড়া অনেক ছোট অর্থনীতি নিয়ে ভারতের সাথে বিষম শক্তির প্রতিযোগিতায় টিঁকে থাকার প্রানান্তকর চেস্টা। লেখার সাথে পুরোপুরি সহমত না। যুক্তরাস্ট্রের পাকিস্তান ভাঙ্গার অভিসন্ধি না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ের পাকিস্তান অনেক দূর্বল; ভাঙ্গাটা সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হয়।
হোলসেল বলেছেন:
আফগানিস্তানে তালেবানি শক্তির উচ্ছেদে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের আগ্রাসন কিংবা পাকিস্তানে সোয়াত উপত্যকায় তালেবান উচ্ছেদে পাকিস্তানের উপর মার্কিন চাপ যে দৃষ্টিকোন থেকেই দেখা হোক না কেন, সমর্থন করি।
আমেরিকার হস্তক্ষেপ যে একটা দেশের অবস্থার কতটা উন্নয়ন করে সেটা কি যথেষ্ট দেখা হয়ে যায়নি গত আট-দশ বছরে ইরাক আর আফগানিস্তান দেখে? ... কেন পাকিস্তান নিজদেশে নিজেরাই তালিবান নির্মূলের সুযোগ পাবেনা? ... সোয়াতের তালিবান এমন কোন বিগ ডিল না ...যারা এখনও আমেরিকার এরকম যেচে গিয়ে আক্রমণে সমর্থন করতে পারে তারা হয় অন্ধ, না হলে অমানুষ ... মাংস চিবুতে চিবুতে টিভিতে গণহত্যার খবর দেখতে ভালোবাসে
পুরো পৃথিবীই যেন তালিবান প্রসঙ্গে একটা বেসিক প্রশ্নকে এড়িয়ে যাচ্ছে ... হোক সেটা পাকিস্তান বা আফগানিস্তান ... সেটা হলো এই অঞ্চলের জনগণের ভূমিকার উপর নির্ভরতা ... সোজা কথায়, জনগণ কি ভাবছে?
মূল কথা হলো তালিবান/আল কায়েদা -- এরা সেই অঞ্চলের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থানে আছে কিনা?
যদি থাকত তাইলে কারোরই কিছু করার থাকেনা ... সেখানকার জনগণের ঠেকতে ঠেকতে শেখার বিকল্প নাই ...
আর যদি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে না থাকে, তাহলেও সেটার ভার আদতে সেই অঞ্চলের জনগণের উপরই বর্তায় ... তারা প্রথমে নিজ দেশের সরকারের উপর চাপ, সেটা ব্যর্থ হলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে এসব এলিমেন্ট দূর করবে ...
কিন্তু বাইরে থেকে একদল যেচে গিয়ে তাদের বন্ধু সেজে সাহায্য করতে যাবে -- এই সিনারিওটা কোনভাবেই একটা সুফলের ইঙ্গিত দেয়না ...
এখন পর্যন্ত কোন মিডিয়া এসব অঞ্চলের এত সমস্যা নিয়ে জনমতের উপর কোন জরিপ করেনি ... জনগণের মুভমেন্টটা কোনদিকে যাচ্ছে সেটা তুলে ধরেনি
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
সবার মন্তব্য মনযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম। তালেবান বিরোধিতা মনে হচ্ছে আমাদের সবার অবস্থানের ঐক্যসূত্র। একই কারণে মার্কিন বিরোধিতা নয় কেন? শরিয়া নামক মনগড়া আইনের সমালোচনাও সবার অবস্থানের ভিত্তি হতে পারে।
যাহোক আমি প্রথমত চেষ্টা করেছি বৃহত পটে ঘটনার চালকশক্তি ও তার গতিসূত্রটি বুঝতে।
কিছু প্রশ্নের উত্তর এই কিস্তিতে আছে, পরের পর্বে বাকিটা ছঁয়ে যাব আশা করছি। আশা করি ততক্ষণ থাকবেন।
হোলসেল বলেছেন:
আমার মতে আফগানিস্তান তালেবানি আমলের চাইতে আমেরিকান নিয়ন্ত্রাধিনে ভালো আছে। এটা আমার অভিমত। যে বেকুবেরা মনে করে তালেবানি আইনে জনগন সুখি-সমৃদ্ধ অবস্তায় হেসে খেলে দিনাতিপাত করে, তাদের জন্য আকন্ঠ ঘৃনার বমি উদগিরন করি। তালেবানি বা শরিয়া আইন কি সেটা আমরা সবাই জানি। যে সব শিক্ষিত বেকুব মনে করে তালেবানি, শরিয়া আইনকে, যে আইনে সমাজের ছোট থেকে বড় পর্যন্ত সব বয়সের পুরুষের সামনে কোন যুবতী মেয়ের নিতম্বে চাবুক মেরে শাস্তি প্রদানের বিধান রাখে, মাটিতে গেথে পাথর নিক্ষেপে মানুষ হত্যা করে, চুরির শাস্তিতে হাত কাটে, সেই আইনের প্রতি জনসমর্থন থাকতে পারে, সেই বেকুবের মুখে থুতু মারি।
হোলসেল বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ, আমার কমেন্ট আপনার উদ্দেশ্য না। ভুল বুঝবেন না প্লিজ।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
জনগণ সমর্থন করলে সমস্যা নাই কথা সত্যি। কিন্তু জনগণ সমর্থন করে না এরকম হলে অস্ত্রের মুখে ওই জনগণ কি করবে তা ভেবে দেখাও কর্তব্য। যদ্দুর পেপারে আসতাছে(তা যদি বায়াসড না হয়) তাতে মনে হয় জনগণকে বাধ্য করা হচ্ছে। রাজ্য জয়ের মতো করেই তালেবানরা এলাকা দখল করে নতুন আইন চালু করতাছে আর বাধ্য করতাছে সবাইকে তা মানতে। এখানে প্রতিবেশী হিসেবে আমি নিজের স্বার্থেই চাইবো তাদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র না পড়ুক। আর তালেবানপন্থী পাকিস্তানে যথষ্টই কম, বিশেষ করে পাঞ্জাব সিন্ধু বেলুচিস্তানে। শুধু পশতুন্দের ক্ষমতা ধরার লড়াই এটা, আর তালেবানরা পশতুনদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজে লাগাচ্ছে।
সেদেশের জনগণ চাপ ক্রিয়েট করে তালেবান মুক্ত হবে সেই আশায় থাকতে থাকতে যদি তারা পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পায় আর ওইটা যদি আমেরিকার দিকে তাক করে ছুড়ে, আমি নিশ্চিত ওই জিনিস আমার ঘাড়েই পড়বে। এখনো বিদ্যার দৌড় তালেবানদের ওদ্দুর হয় নাই যে আমেরিকাতে মারা বোমা আমেরিকাতে পড়বে।
লেখক বলেছেন: লেখাটাকে আপনি আমলেই নেননি। তালেবানরা পারমানবিক বোমা দখল করতে পারবে এ বিশ্বাসটাই অবিশ্বাস্য। পাকিস্তান আর্মি আগাগোড়া মার্কিনপন্থি, সেজন্য সরকারকে না দিয়ে আমেরিকা তাদেরই ৪০০ টাকা দিচ্ছে। সরকারকে ব্যর্থ বলছে। অচিরে আরেকটি ক্যু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এতসবের মধ্যে তালেবানি বান্দর নাচ দেখার বান্দা যারা তাদের যে পকেট মারা যাচ্ছে সেই হুশ নাই। তালেবান পাকিস্তানের বা দুনিয়ার পাঁচ নম্বর সমস্যা।
হোলসেল বলেছেন:
যে আইন নারি শিক্ষার বিপক্ষে, তাদের শিক্ষার ও বহির্মূখি কাজের অধিকার পরিপন্থি, সেই আইন কি ভাবে জন অভিনন্দিত হয়? জনগন মানে কি শুধু পুরুষ, ৫০ ভাগ মহিলার কোন অধিকার নাই। শিক্ষিত বেকুব সম্প্রদায় অশিক্ষিত বেকুব সম্প্রদায়ের চাইতে ঘৃন্য।
জুমানজি১১ বলেছেন:
জ্ঞানগর্ভ পর্যালোচনার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: সবার মন্তব্য মনযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম। তালেবান বিরোধিতা মনে হচ্ছে আমাদের সবার অবস্থানের ঐক্যসূত্র। একই কারণে মার্কিন বিরোধিতা নয় কেন?এই পয়েন্টে আসলে মার্কিনদের সাপোর্ট করতেই হবে। ইরাক প্রশ্নে বিভক্ত হওয়া যায়, সেখানে মার্কিন দখলদারী শুধুই তেল এর জন্য। কিন্তু ইমপোটেন্ট পাকি সরকারের দিকে না তাকাইয়া দ্রুত পাকিস্তান হামলা করার পয়েন্টে আমি মার্কিনদের সাপোর্টার, নিজের সারভাইভালের স্বার্থেই।
হোলসেল বলেছেন:
পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় শরিয়া আইন পাকিস্তান সরকার সমর্থন করে। অতঃঅর যে সামরিক অভিযান চলে তালেবানদের বিরুদ্ধে, সেটা অবশ্যই মার্কিন চাপের কারেনে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের আগ্রাসননীতি অবশ্যই নিন্দনীয়, কিন্তু এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের বিরোধিতা করি কি ভাবে? একজন অন্যায়কারির শুধ্য অন্যায় কাজেরই বিরোধিতা করা উচিত, ভালো কাজের না। আর পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনি যে দিব্যি প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার খাচ্ছে আমেরকার কাছ থেকে, তার বিনিময়ে আমেরিকা যদি ঘি-মাখন তুলতে চায়, তাতে দোষটা কার? যার নুন খাই, সে লাথি দিলেও সহ্য করতে হবে। এটাই নিয়ম। হয় নুন খাওয়ার সময় খাবো, আবার মাথা তুলে কথা বলবো -দুইটা কি ভাবে সম্ভব?
পাকিস্তানে যেটা হচ্ছে তার সাপেক্ষে আমি মনে করি পাকিস্তান আর্মির অপারেশনই যথেষ্ট ... সেখানে কয়েক হাজার তালিবানের প্রভাবকে যে খুব ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হচ্ছে (যেটা ফারুক ওয়াসিফও উল্লেখ করেছেন), সেটার পেছনের উদ্দেশ্য তো আমরা ঠাহর করতে পারি, তাইনা? ..."তালেবানের হাতে পরমাণু অস্ত্র" যাওয়া ফ্রেজটাও কি এই প্রচারণার অংশ না?
আর ওভারঅল এই বিষয়ে আমার মত হলো, জনগণ অস্ত্রের মুখে থাকলে কি করবে সেটা জনগণের উপরই ছেড়ে দেয়া উচিত ... আমরা অস্ত্রের মুখে স্বাধীন হইনাই? ... আফগানিস্তান বলেন আর পাকিস্তান বলেন, জনগণের নিজেরা তালিবানের কুপ্রভাব অনুধাবন করে তারপর নিজেরাই নিজেদের মুক্ত না করলে কোনদিনই আসল মুক্তি আসবেনা ... সেজন্য সময় লাগলেও সেইটা তাদের ব্যাপার ... বাইরের দেশের বন্ধুরূপী আগ্রাসন কি কোন সমাধান?
@হোলসেল, পুরুষের সমর্থনে জননন্দিত হয়ে যায় এমন কথা কোথায় পাইলেন? ... বলা হচ্ছে সেই অঞ্চলের জনগণের দায়িত্ব জনগণকেই নিতে হবে ... এখন জনগণ কাকে সমর্থন করছে সেটা অনুযায়ী নির্ধারইত হবে তারা কতদিন দূর্ভোগ পোহাবে ... যদি তারা ভুল চয়েস করে, তালিবানদের বিরূদ্ধে একত্র হবার মোটিভেশন তৈরী করতে না পারে, তাইলে তাদেরকেই বেশী সময় দূর্ভোগের মাধ্যমে সেইটার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে ... তাদেরকে মুক্ত করার জন্য বাইরের শক্তি, বিশেষ করে মার্কিন অক্ষের মত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনকে সমর্থন করাটা কি যুক্তির মধ্যে পড়ে? ... বাস্তবতা কি বলে?
"শিক্ষিত বেকুব সম্প্রদায় অশিক্ষিত বেকুব সম্প্রদায়ের চাইতে ঘৃন্য। " -- একমত
লেখক বলেছেন: ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল। মুছে দিলাম। হোলসেল আপনার আলোচনার জন্য অভিনন্দন।
যদি তারপরও বুঝটে অসুবিধা হয়, তাইলে কই, এখানে প্রশ্নটা হইছে, দুনিয়ার বড় ভাইয়েরা জনগণের মতামতের প্রতিফলনটা দেখার স্কোপ রাখতে চাচ্ছেনা কেন? ...
আর কথায় কথায় মূত্রত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ পাইলে ডাক্তার দেখানোই ভালো ... অনেকরকম সমস্যার উৎস এইটা
হোলসেল বলেছেন:
আরেকটা ব্যাপার, আপনি ব্যক্তিগত ভাবে নিলে কিছু করার নেই। আমি আরো কিছু বাঙ্গালি ভদ্রলোককে চিনি, যারা জাপানে পড়াশুনার কারনে যারা ঘোর মার্কিন-পশ্চিম বিরোধি। তবে একটু ভালোভাবে চিন্তা করবেন কি, আজকে আমেরিকা যদি পরাশক্তি না হয় জাপান, রাশিয়া, ইসরায়েল, ভারত, জার্মান, বা চায়না একমাত্র পরাশক্তি হ'ত, দুনিয়াটার চেহারা কিরাম হইতো? চায়না বা কোরিয়াতে জাপানি আগ্রাসনের নৃশংসতা কিন্ত অনেক কিছুকে হার মানায়। গায়ের জোর যার, তার অধীনতা কিছুটা হলেও মানতে হবে, এটাই বাস্তবতা। এই বাস্তবতার প্রতি অভিযোগ জানানো যায়, ঘৃনা জানানো যায়, কিন্তু বাস্তবতার পরিবর্তন হয় না। আজকে যদি রাশিয়া দুনিয়ার তাবত ক্ষমতার অধিকারি হইতো, দুনিয়ার মানচিত্রটা আরো অনেক ডিফারেন্ট হইত বলা যায়। আমেরিকা হইসে রাশিয়া, জার্মান, বা জাপানের বদলে, সেই সেইটা খুদার আশির্বাদ বলা যায়।
হোলসেল বলেছেন:
শরিয়া আইন, তালিবানি আইন নাকি জনগনের সাপোর্টে চলে। অতি উপাদেয় দধি ঝরাইতেসেন আজকে। মিস্ট হইতেসে
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
পাক আর্মি কদ্দুর অভিযান চালায় আর কদ্দুর "অভিযান চালাইতাছি" দেখায় তা নিয়ে ব্যাপকই সন্দেহ আছে। অভিযান চালাবার ইচ্ছা থাকলে চুক্তি করে শরীয়া আইনে রাজি হতো না। পাকি সেনা তথা সরকারকে এই পয়েন্টে ইমপোটেন্ট বলাই যায়। আমি কল্পনা করতে পারি না যে নোয়াখালীতে আলাদা সংবিধান চালু করব বললাম, আর বাংলাদেশ সরকার আমার হাতে বন্দুক দেইখা সেনাবাহিনী পাঠাইলো না, ভয় পাইয়া নোয়াখালীর জন্য আলাদা সংবিধান বানায় দিল।যে দেশে অস্ত্রের মুখে সরকার অন্যায় দাবি মেনে নেয়, সে দেশে বাইরে থেকে কেউ আইন প্রতিষ্ঠা করলে ক্ষতি কি? ইমপোটেন্ট সরকার তাও মাইনাই নিবে...অক্ষমতার কোনো সীমা নাই।
একটা কথা সত্যি, নিজেদের নিজেরাই মুক্ত করতে হয়, পাকিরাও নিজেদের নিজেই মুক্ত হতে হব...তাতে যে সময় লাগবে তাও নিশ্চিত। পাকিস্তানী হলে আমি মার্কিন বিরোধীই হতাম এই পয়েন্ট। কিন্তু আমি অন্য দেশী এবং প্রতিবেশী হিসেবে নিজের নিরাপত্তাই বড় করে দেখি। এরকম দেখতে চাই না যে জঙ্গিদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র পড়লো, আর তারপর হুমকি দেয়া শুরু করলো যে শরীয়া প্রতিষ্ঠা না করলে সেই দেশে বোমা মাইরা দিমু।
এই পয়েন্টে নিজের কথা আমি ভাববোই, স্বার্থপর আমি হবোই। প্রথমে নিজেদের কথা, নিজেদের দেশের কথা ভাববো, তারপর সোয়াতের মানুষের কি হবে তা ভাববো।
মার্কিনিদের হাতে আমার আক্রান্ত হবার চান্স নাই, তাদের হাতে অস্ত্র আমার মাথাব্যথা না। কিন্তু যাদের হাতে আমার আক্রান্ত হবার চান্স আছে, তাদের হাতে অস্ত্র আমি দেখতে চাব না।
বাঙালী স্বভাবতই হারু পার্টিরে সমর্থন করে, আর ইদানিং মুসলিমগোর বিরুদ্ধে লাগসে দেইখা মোটাদাগে বাঙালী মুসলিম অটোমেটিকই মার্কিন বিরোধী ...
গায়ের জোরের বিরুদ্ধে নমনীয় থাকার কথা বললে আপনি নিজেই নিজের তালিবানবিরোধী অবস্থানরে প্রশ্নবিদ্ধ কইরা ফেললেন ... তালিবানসৃষ্ট অরাজকতার মূল কি অস্ত্রের জোর না ... আপনি একটু হলেও আফগানিস্তানের জনগনের জুতাটা পায়ে দিয়া ভাবার চেষ্টা করেন, এ্যাটলিস্ট টপিকটা যখন তালিবান নিয়া
আপনে যখন বলেন, " আমেরিকা হইসে রাশিয়া, জার্মান, বা জাপানের বদলে, সেই সেইটা খুদার আশির্বাদ বলা যায়" -- তখন কি আর আলোচনার উৎসাহ থাকে?
হোলসেল বলেছেন:
তালিবানরা হইল বর্বরতার চুড়ান্ত নমুনা। পারমানবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রনে গেলে যেকোন কিছু ঘটাতে পারে। এই বর্বরদের কি ভাবে কেউ সাপোর্ট দেয়, মাথায় ঢুকে না। ভাবতেই পারি না সোসাইটি চলতেসে তালেবানি শাসনে। বাসার মা-বোনেরা চারদেয়ালের বাইরে যাইতে পারতেসে না। কি অন্ধকার একটা জগত। সেই জগতে নাকি জনমতের প্রতিফলন হয়। অদ্ভুত সব চিন্তাভাবনা।
তাইলে আবরো জিগাই কোথায় বলছি যে, "শরিয়া আইন, তালিবানি আইন নাকি জনগনের সাপোর্টে চলে।"
আর কাগজপত্র দেখে মূত্রত্যাগের আকাঙ্খাপ্রকাশও অসুস্থ্য লক্ষণ ... পরামর্শ পরিবর্তন করছিনা, ডাক্তার দেখান
" আমি কল্পনা করতে পারি না যে নোয়াখালীতে আলাদা সংবিধান চালু করব বললাম, আর বাংলাদেশ সরকার আমার হাতে বন্দুক দেইখা সেনাবাহিনী পাঠাইলো না, ভয় পাইয়া নোয়াখালীর জন্য আলাদা সংবিধান বানায় দিল।"
একমত ... এখন নোয়াখালীতে এই ঘটনা ঘটলে সেইটা থামাতে আম্রিকা উড়ে এসে বাংলাদেশে ঢুকলে সমর্থন করবেন? ... সেইটা কি আমাদের বা নোয়াহালীর জনগণকেই শুধরাতে হবেনা? ... আমেরিকা কিন্তু সাদ্দামের ডব্লুএমডি কইয়াও অনেক আতংক তৈরী করছে, এখন যেমন তালিবানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্রের কথা বলতেছে ... আমি এইটাকে প্রচারণাই মনে করতেছি ... যেটা আমরা বুঝতে চাচ্ছিনা, তা হলো আমেরিকা এই অঞ্চলে একটা সেইফ বেস চায় ... সেটা আফগানিস্তানে ব্যর্থ হয়েছে ... এখন পাকিস্তান
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
ফারুক ভাই, বেলুচিস্তানের "স্বাধীনতা আন্দোলন দুর্বল" কথাটি ঠিক বোধগম্য হলোনা।আমার জানামতে বেলুচ পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই বন্চিত এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সমৃদ্ধ হয়েও হতদ্ররিদ্র। সুতরাং বেলুচদের মধ্যে স্বাধিকার কিংবা স্বাধীনতাবোধের জন্ম নেবে তা স্বাভাবিক।বেলুচদের বিদ্রোহী মনোভাব শুধু ভারতের তাঁতানোর ফল-আমার মনে হয় এটা ভুল ইন্টারপ্রেটেশন।যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকেও কিন্তু শুধু ভারতের ইন্ধন ভেবে অনেকেই ভুল করেছিলো।
তালেবানরা বিশ্বব্যবস্থার জন্য হুমকি এইটা পুরা ফালতু বাদ।কিন্তু ঐ অন্চলে তালিবানরা যে এনার্কি শুরু করেছে, সেইটার রোধ কিভাবে সম্ভব?
বেনজীর ভুট্টো কিংবা রবিন কুকের হত্যাকান্ডে বিশেষ গোয়েন্দাবাহিনীর বাহিনীর হাত আছে-এইটা সম্ভব হতে পারে তবে পরিস্থিতির বিবেচনায় তা কনসপিরেসি থিওরীর মতো শোনায়।
বেনজীর ভুট্টো মার্কিন তোষনে কোনক্রমেই জারদারী কিংবা মোশারফ্ফের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন না।
তবে অত্রান্চলে মার্কিন উপস্থিতির বিরোধিতা মানেই তালেবানদের পক্ষাবলম্বন-এইটা কুযুক্তি।
যাহোক পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
হোলসেল বলেছেন:
জি না আলোচনার উৎসাহ মইরা গেসে গা। আফনের তালেবানি শাসনের প্রতি জনমতের প্রতিফলন ঘটে এই কথা শোনার পর। আর বাস্তবতা না মেনে কি উপায় বলেন? দুনিয়াতে আপনি চাইলেও পরাশক্তি একটা না একটা থাকবেই। মন্দের ভালো একটা কথা আছে না? বাংলাদেশের কথা চিন্তা করেন। আর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রথমেই আসে আমার দেশের ইন্টারেস্ট কোন ক্ষেত্রে কতটুকি এফেক্টেড হয়। আপাত দৃষ্টিতে তালেবানি বা জংগি উত্থান বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি। তাদের দমনে মার্কিন হস্তক্ষেপ বাংলাদেশে আমরা যে লিবারেল সোসাইটির সপ্ন দেখি, তার পরিপন্থি না। পরপন্থি হল পাকিস্তানে তালিবানের উত্থান, যেইটার ইনফ্লুয়েন্স দেশের বড় মাপের ইম্প্যাক্ট রাখার ক্ষমতা রাখে। সো আমার ইন্টারেস্ট আমি দেখি। আমি চাই যেকোন উপায়ে তালিবান বা জংগি বিনাশ হোক। সেটা আমেরিকা দিয়া পাকিস্তানের ঘাড় ধরে হোক, না হয় মধ্যযুগীয় আফগানিস্তান আগ্রাসন করে হোক।
জনমত কি একটা শাসনের প্রতি হ্যাঁ বা না এরকম কইছুতেই সীমাবদ্ধ থাকার মতো ঠুনকো ব্যাপার?
পাকিস্তানের বন্ধু সেজে মার্কিন যুঃ এখন সেখানে ঢোকার পায়তারা করছে -- এই ব্যাপারটায় পাকিস্তানের জনগণের সম্মতি আছে কিনা সেটা যাচাইয়ের দরকার নেই?
বা আফগানিস্তানে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবড়ে বেড়াচ্ছে সেটার ব্যাপারে আফগান জনগন কি আনন্দে ধেই ধেই করে নাচছে?
চিন্তার অগভীরতা থাকতে পারে, তবে যেখানে সেখানে সেটা প্রকাশ করে ফেলার অতিরিক্ত উৎসাহটা দমন করতে পারলে আরো অনেকরকম আকাঙ্খাকেও দমন করতে পারবেন ... আপনার বোধোদয় হোক, শুভকামনা
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
@ভাংগা পেন্সিল , মনুজুরুল ভাইয়ের পোষ্টে কমেন্ট আকারে লিখেছিলাম।সেইটা দিলাম।বাংলাদেশের নোয়াখালির সাথে সোয়াতের তুলনা আসলে চলেনা।
..............................................................................................
সমস্যার শুরুটা আসলেই অনেক গোঁড়াতে।সেই ৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই।
সংক্ষেপে বলি, সোয়াতে কখনোই ব্রিটিশ আইন কার্যকর ছিলো না;সেখানটায় ইসলামি ল এবং সেই সাথে উপজাতীয় নিয়ম-কানুনের সমন্বয়ে এক যৌথ আইনব্যবস্থা বলবৎ ছিলো।পাকিস্তান হওয়ার পর সেখানে অগ্র-পশ্চাৎ না ভেবেই ব্রিটিশ ল প্রয়োগ করা হয়।
সোয়াতের অধিবাসীদের ব্রিটিশ ল সম্পর্কে প্রধান অভিযোগ তারা এই আইন-কানুন ঠিকমতো বোঝেনা( আইন-কানুন আসলেই অনেকটা অভ্যস্ততার ব্যাপার, হুট করিয়ে চাপিয়ে দিলেই তা কাজে দেয়না); আগের ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়।এইটা তাদের দীর্ঘদিনের দাবী।
এতোদিন লুচ্চা জমিদার আর হাটুদের সরকার সে আবেদন কান দেয়নি কিন্তু তালিবানরা যেই হুংকার দিতে শুরু করেছে অমনি তারা চুক্তিতে সই করতে গেছে।
যেহেতু এখন টেক্কা তালিবানদের হাতে, তাই তারা চায় তাদের আইন।
ব্রিটিশ শাসনাধীন সময়ে যে আইন বলবৎ ছিলো, তা অনেকটা ধর্মীয় হলেও মানবিক অন্তত তালিবানদের আইনের চেয়ে অনেক মানবিক।
দুই বদমায়েশের চিপায় পড়ে আমজনতার ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা।
আর আনবিক বোমা আমেরিকার পশ্চাদদেশ দিয়ে ..ুকিয়ে দরকার।শুওরের বাচ্চাদের আগে হুশ হয়নি।
বা, পাকিস্তানে যে মার্কিন আগ্রাসন হবার সম্ভাবনা তৈরী ঃইছে সেখানে জনগনের সেটার প্রতি সমর্থন আছে কি নাই, সেইটা দেখার দরকার নাই?

আবারও বলি, মন্তব্য পরে না বোঝাটা দোষের না, তবে নেচেকুদে সেই নির্বুদ্ধিতাটার প্রদর্শনীটা বিরক্তিকর
কিন্তু কথা হইলো, আমি কোথায় কইছি "তালিবানরা জনসমর্থিত" সেইটা কিন্তু দেখাইতে পারলেননা ... একটা ফালতু তর্কের অবতারনা করলেন ... আমি বুঝিনাই কেন? লাস্ট কমেন্টে ক্লিয়ার হইলো ... যাই হোক, আগে দেখান কোথায় আমি বলছি "তালিবানরা জনসমর্থিত", তারপর আপনার সাথে আরো কথা হবে
@ফারুক ভাই,
প্রথম মন্তব্যটা ছাড়া আর সবগুলোই মোটামুটি হোলসেলকে উদ্দেশ্য করে করা ... ব্যক্তি আক্রমণ আছে ... আপনি বিরক্তবোধ করলে মুছে দিতে পারেন ...
হোলসেল বলেছেন:
কেন আফনেই না বল্লেন, সেই এলাকার জনগনের উপর ডিপেন্ড করতেসে তালিবানরা থাকবে কি থাকপে না? তার মাইনে কি দাঁড়ায়? আমি বুজতে ভুল করতেসি জিন সাহিব? আমার বোজার ভুল তায়লে? তায়লে আফগানিস্তানে জনগনের সাপোর্টে তালিবান ছিল না - এইটাইতো বুজাইতে চাইতেসিলেন? আর বিচারারা যেহেতু চাইতেসিলো না তো খারাপ কি। আমিতো আফগান না ভাইডি। আমি ডরাই আমার দেশে যাতে জংগি ইম্পোর্ট না অয়। আমি চাই আফগানিস্তানে তালিবানের নির্মুল। সেইটা যদি আপগানিরা না করতে পারে, আফগান জনগন না আইলেও তালিবান হঠাইতে না পারে, তাইলে আম্রিকা আইয়া কঈরা দিলে আমার ক্ষতি কিতা? বাংলাদেশে বয়া আমি ক্যান অইটারে সাপোর্ট না কঈরা বিরুদিতা করমু? আফনে বুজাইতে চাইসেন আফগানে তালিবান থাকবে কি থাকবে না সেইটা আফগানিরা নির্ধারন করবে - মোদ্দা কতা। আবার বলতেসেন তালিবানের প্রতি জনসমর্থ থাকতে পারে না। তার মাইনে বলতে চাইতেসেন তালিবানেরা যেখানেই থাকুক, সেইটা জন সমর্থন বিহিন, এবং জনগন পারতেসে না বইলা তালিবানগোরে ঠেইলা ফালাইতেসে না। তাইলে কন, এই আমি বাংলাদেশে বইয়া আফগানিস্তানের সাধিনতা গেলগা আম্রিকাগো কাছে কয়া কেন কান্দাকাটি করমু। আফগানিস্তানের জনগনই যদি তালিবান খেদাইতে চায় আবার মার্কিনবিরোধিতাও করে, সেইটা আফগানিগো বেপার। আমি বাংলাদেশি হিসাবে চামু তালিবান খেদাক, আম্রিকা আফগানিস্তানে আইলে পরবেল নাই, তালিবেন আফগানিস্তানে থাকলে আমার পরবেল । এহন কতা কিলিয়ার? আমি যদি এহন বুজি আফনের কতা আফনে কঈতাসেন, অকে, তালিবানরে জনগন সাপোর্ট দেয় না, আবার কোন যাইগাই তালিবান থাকবে কি থাকবে না সেইটা জনগন নির্ধারন করবে - কতাটা কি কন্ট্রাডীক্টরি হয়া গেল না? সেকেন্ট কতাটা কি প্রথম কতাটার সাথে কনফ্লিক্টিং মনে অয় না? নাকি আমার বুজার বুল? বেলুচ বিদ্রোহরে ভারতীয় উস্কানী কইয়া আসলে খোঁচা দিতে চাইলা কি না বুঝি নাই...বেলুচগো স্বাধীনতা আন্দোলনরেও যে তালিবানীকরণের চেষ্টা আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর পাকি সরকার করতাছে সেইটাতো এখন স্পষ্টই মনে হইতাছে...পাহাড়িরাই খালি দরিদ্র তালিবান বইলা নির্যাতিত পাহাড়িগো ছোট করা লাগে না তোমার কাছে?
হয়তো কট্টর ইসলামীকরণ বিদ্রোহীগো এককাট্টা রাখতেছে...কিন্তু খালি ইসলামের তাগীদে এই যুদ্ধ হইলেতো জাতিগত সংঘাত হয় না...পাঞ্জাবীরা বাদে কি আর কোন প্রগতিশীল অংশ পাকিস্তানে নাই? বিশ্বাস করতে সাহস হয়না এই তথ্য...
হোলসেল বলেছেন:
আমি কঈলাম ছাত্রশিবিররে জনগন সাপুর্ট দেয় না। আবার কঈলাম ছাত্রশিবির থাকবে কি থাকবে না সেইটা সেইজাগার জনগন নির্ধারন করবে, বহির্শক্তি না। - কতাটা কি কনফ্লিকটিং মনে অয় জিন সাহিব?
হোলসেল বলেছেন:
জিন সাহিব কি উপ্রের দুইট্টা কতাই এক মুখ দিয়া কইসেন না? দুই মুখ হইলে আমার প্রশ্ন নাইক্কা। একমুখ হইলে কি বুজাইতে চাইতেসিলেন জানতে চাইতেসি। পিলিজ। নিরাশ করবেন না।
আপনার বোঝার সুবইধার জন্য আবারও ব্যাখ্যা করি:
আমার প্রথম কমেন্টের তালিবান প্রসঙ্গের লাইন বাই লাইন ব্যাখ্যা, ওকে?
প্রথমে প্রশ্নটা উত্থাপন করছি
"মূল কথা হলো তালিবান/আল কায়েদা -- এরা সেই অঞ্চলের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থানে আছে কিনা?"
এইটা তো যে কাউরে রাজনৈতিকভাবে বিচার করতে হলে দেখতে হবে, এর বিকল্প নাই ... এখানে এখনও কোন সিদ্ধান্তে আসা হয়নি যে আলকায়েদা/তালিবান এরা শুভ না অশুভ ... প্রশ্ন তোলা হয়েছে
তারপর প্রশ্নের সম্ভাবনা হিসেবে যে দুইটা উত্তর হয় সেগুলারে বিচার করে কি ফলাফল হইতে পারে সেটা বর্ণনা করছি, বলছি,
"যদি থাকত তাইলে কারোরই কিছু করার থাকেনা ... সেখানকার জনগণের ঠেকতে ঠেকতে শেখার বিকল্প নাই ... "
এই "ঠেকতে ঠেকতে শেখা" দেইখাও যদি আপনি না বুঝতে পারেন যে জনগণ তালিবান সমর্থন করলে তাদের কপালে দুর্ভোগ আছে এই উপসংহার দেয়া হইছে, তাইলে আপনারে নিয়া আমি কি করি?
এরপর কইছি,
"আর যদি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে না থাকে, তাহলেও সেটার ভার আদতে সেই অঞ্চলের জনগণের উপরই বর্তায় ... তারা প্রথমে নিজ দেশের সরকারের উপর চাপ, সেটা ব্যর্থ হলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে এসব এলিমেন্ট দূর করবে ..."
এইটা নিশ্চয়ই আর ব্যাখ্যা করার দরকার নাই
এখন আপনারে কই,
তালিবান নির্মূলের নাম কইরা আমেরিকা তো আফগানিস্তান দেশটারে গত আট বছর দলাই মথাই করলো -- এইটা কি আপনারে আমারে তালিবানের হাত থেকে নিরাপদ করছে, আশনকা বাড়াইছে? ... জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহন ছাড়া উগ্রবাদ ঠেকানোর পথ কি?
আমাদের দেশে ছাত্রশিবির জনগণের ৯০ ভাগই সমর্থন করেনা ... এদের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারনা-বিচার ঠিকমতো চালু রাখলে এরা নির্মূল হবেই ... সেইজন্য জনমত যাচাই না করে আমেরিকার আক্রমণ কি আপনি সাপোর্ট করেন? ... আর সেটা যখন এ্যাপরেন্টলি বোঝাই যায় যে এই অনুপ্রবেশের মাধ্যমে তারা এখানে গেঁড়ে বসবে?
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
বাংলাদেশে আমেরিকা হামলা করলে মানবো না এটা ঠিক, তবে নোয়াখালির কেউ দেশের পারমাণবিক চুল্লি দখল করতে পারে জানলে ভারত ঠিকই মানবে। ব্যাপারটা এখানে হিউম্যানিটির না, সারভাইভালের। এটাই বাস্তব। আমি নিজে বাঁচলে সোয়াতের মানুষের কথা, মার্কিন কুচক্রীদের কথা ভাববো। সেজন্য আগে আমি নিজের বাঁচার রাস্তা ক্লিয়ার করবো। আজকে পাকি শাসকদের ইম্পোটেন্সির জন্য চড়া মূল্য যে দুটা দেশকে দিতে হবে তার একটা ভারত, আরেকটা বাংলাদেশ। এখানে আমেরিকার ঝুঁকি কম, তাদের স্বার্থই বেশি। আমরা আমাদের ঝুঁকির কথা ভেবেই মার্কিনদের সমর্থন করবো।
মার্কিনরা স্বার্থ ছাড়া আসতাছে না কথা সত্য, তালেবান ধোয়া হয়তো একটূ বেশিই ঘন করতাছে, তাও সত্য। কিন্তু সোয়াতের বর্তমান অবস্থা তো মিথ্যা না। সোয়াত আর পাকিস্তানের মানুষ এ সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বাইরের শক্তিকে আসতেই হবে। বাংলাদেশ এর হাতে শক্তি থাকলে বাংলাদেশও এই অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ করতো।
দিগন্ত বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ - লেখা খুব ভাল। আপনি কয়েকটা বড় জিনিস যদিও বাদ দিয়ে গেছেন। পয়েন্ট দিয়ে দিই -১) সোভিয়েতদের আফগানিস্তান দখল ও পাকিস্তান-তালিবান-আমেরিকার তার বিরুদ্ধে জিহাদ। সাথে অসংখ্য আফগানের পাকিস্তানে শরণার্থী হওয়া।
২) ইরান ও তাজিকিস্তানের তীব্র তালিবান বিরোধিতা।
৩) তালিবানদের সংখ্যালঘু শিয়া ও শিখদের ওপর অত্যাচার।
গদর বন্দরের গুরুত্ব আমার মনে হয় মিডিয়াতে বড়ই বেশী প্রচার হচ্ছে। কারণ জানিনা। গদর থেকে পাকিস্তান হয়ে চিনে যাবার রাস্তায় বেলুচ ছাড়া উত্তর-কাশ্মীর ও উইঘুরদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা দিয়ে যায়। তাছাড়া, গদর বন্দর নিয়ে বেলুচদের অসন্তোষ স্বাভাবিক। আপনি মাথায় রাখুন, বেলুচিস্তানের এককালের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে পরে সন্ত্রাসী ঘোষণা করে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হয়েছে।
একটা ব্লগ পড়ছি গতোকাইল ঐটা শেয়ার করি আপনেগো লগে...
Click This Link
এইখানে একজন সোয়াতবাসী তার অবজার্ভেশন লেইখা দুনিয়াবাসীর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানাইছেন...
বাদশা ভাই,হোলসেলরে কিছু বুঝায়া লাভ নাই,সময় নষ্ট। আম্রিকা নিয়া কিছু কইলেই ক্যান জানি তার গায়ে আগুন ধইরা যায়,আফটার অল,বেঈমান না,নুন খায় কিনা,গুন গাইতে কসুর করে না।
মদনকুমার বলেছেন:
ফাকিস্তান , আম্রিকা না ভারতের োন্দনী খাইবো এইটা ওদের জনগণই ঠিক করবো টিপাই বাঁধ নিয়া পোস্ট দেন ।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
ফারহান ভাই, আমার দেশের বেলায় হইলে আম্রিকারে আমিও সমর্থন করি না। কিন্তু নিজের সারভাইভাল এর কথা চিন্তা করেন। মনে হয় এই পয়েন্টে আমেরিকা কারেক্ট। তালেবান অপক্ষমতা বলয়ে আমরা অচিরেই পড়তাছি, যদি ইম্পোটেন্ট পাকি সরকারদের এই বিদ্রোহ দমাবার জন্য ওয়েট করেন। আম্রিকা সবই স্পন্সর করে, কারণ ওদের অস্ত্র ব্যবসা। তালেবানও ওদেরই প্রোডাক্ট, এখন ম্যালফাংশনিং। আম্রিকানদের যেই কাজটা আমাদের স্বার্থ উদ্ধার করে ওইটায় সমর্থন করতে ক্ষতি কি? আম্রিকা বাংলাদেশ দখলে কিংবা শাসনে জীবনেও আসবে না, গরিব রিসোর্সলেস দেশে ওদের স্বার্থ নাই। তাই ওদের অস্ত্র কিংবা ভিলেনগিরি নিয়া ভাবার দরকার নাই। তবে মাথামোটা তালেবানদের স্বার্থ আছে, অস্ত্র নাই। সেজন্যই ওদের হাতে অস্ত্র দেখলে ভয় পাই।
আমেরিকানদের কোন কাজই আমাদের বা কারোরই স্বার্থ উদ্ধার করে না@ভাঙ্গা পেন্সিল,এই জাতটা শুধুমাত্র তাদেরই স্বার্থ উদ্ধার করে আসছে সবসময়। এরা যুদ্ধব্যবসায়ী,বিশ্বযুদ্ধও তাদের স্বার্থই উদ্ধার করসে,এখনো সব যুদ্ধই তাই করে। আর আমাদের সাথে আমেরিকার স্বার্থ নাই কে বললো? ভূ-অবস্থানগত দিক দিয়া আমরা একেবারে গুরুত্বশূন্য না,এমনকি এইখানে কিছু রিসোর্স পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনাও আম্রিকা কোনদিনই উড়ায়া দেয় নাই। একটা কথা,আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রু লাগে না,কথাটা এমনি এমনি প্রবাদ হয়া যায় নাই,পাকি বাবুরা এখন হাড়ে হাড়ে সেইটা টের পাচ্ছে
হোলসেল বলেছেন:
বুকটা ফাইট্টা যায়, দাউদের বুকটা ফাইট্টা যায়...। আইএলটিএস দেওন সহজ জিয়ারির ত্থিকা। কিন্তু অস্টেলিয়ায় গেলে আরো কস্ট পাইবা। এহানে আহো, দুস্ক থাকবো না।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
এই জাতটা শুধুমাত্র তাদেরই স্বার্থ উদ্ধার করে আসছে সবসময়। এরা যুদ্ধব্যবসায়ী,বিশ্বযুদ্ধও তাদের স্বার্থই উদ্ধার করসে,এখনো সব যুদ্ধই তাই করে।এটা ভাবার ব্যপার...দেখি কি হয়। তবে বড় ব্যাপার হল, পাকিস্তান জাহান্নামে যাক আর যেইখানেই যাক, আমি আমার দেশের স্বার্থই খুঁজবো। আম্রিকার কাজে আমার স্বার্থ উদ্ধার হইলে আমার সাপোর্ট করতে প্রব্লেম হবে না।
শাহবাজ বলেছেন:
পেনসিল ভাই , আপনার লগে কিছু পয়েন্টে একমত হৈলাম । কিন্তু একটা জায়গায় খটকা রাইখা যাই , ডাক্তার হিসেবে আম্রিকা আসলে মন্দ হৈত না , মাগার রোগ ছড়ায়া তারপর ভ্যাকসিন দিতে আইলে ওগো ক্ষেতাপুরি
হোলসেল,আলাদা পুস্ট দেও,বাৎচিৎ করি,এই পোস্টে টপিকে কথা কও।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
তালেবান হইলো এই যুগের বলশেভিক আর Umar Hassan Ahmad al-BASHIR আর আহমেদিনাজাদ, Montoya Sanchezরা হইলো ট্রটস্কি, চে
অ্যামাটার বলেছেন:
দুর্দান্ত!সময় নিয়ে পুরোলেখাটাই পড়লাম, সত্যিই দুর্দান্ত। যে বাস্তবতাগুলো প্রতিনিয়তই সামনে আসছে, অদ্ভুত প্রাঞ্জল ভাষায় সহজ ভাবে প্রকাশ।
অট: হোল 'লেস'-এর কথা আমলে নেওয়ার কিছু নাই, বিণোদনের জন্য এগুলোর দরকারও আছে বটে!
অ্যামাটার বলেছেন:
তবে পাকিস্তানের আজকের এই অবস্থা থেকে অনেককিছুই শিক্ষা নেওয়ার আছে। গণতন্ত্রের দীর্ঘ অনুপস্থিতি যে একটা রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েযেতে পারে, পাক এর জ্বলজ্যান্ত উদাহরন। পশতু-বেলুচি-পাঞ্জাবী; ইত্যাদি নানা গোত্রের মানুষের সম্মিলনে একটা কৃত্তিম রাষ্ট্র; ঠিক আছে, কিন্তু একই কথা তো ভারতের ক্ষেত্রেও খাটে? আসলে ব্যার্থ ও অকার্যকর পাকিস্তানের মূল সমস্যাটা হল সেনা'র অপশাসন, আর অপরদিকে ভারতের স্থিতিশীল গণতন্ত্র বৃহৎ দেশটাকে অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক দিয়ে সুপার পাওয়ারে পপিণত করছে। গণতন্ত্রের বিকল্প নাই।
ফারুক ভাই,শেষবারের মত ক্ষমাপ্রার্থনা করছি ব্যক্তিগত ঝামেলা এখানে টেনে আনার জন্য,কমেন্টগুলো কষ্ট করে মুছে দিয়েন,মনে হয় হোলসেলেরও আপত্তি নেই। (যদিও এতক্ষণ ঝামেলা করার পরে এই অনুরোধ যে কারো মেজাজ খারাপ করবে,আবারো ক্ষমাপ্রার্থী)
হোলু,অন্যখানে আসো,এইখানে লুকজনরে পোস্টের উপর কথা বলার চান্স দেও।
বিডি আইডল বলেছেন:
হোলসেল এবং ফারহান...ফারুক ভাইয়ের এই পোষ্টে যা করছেন আপনাদের শিক্ষা এবং রুচি নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে...নোংরামী করার জায়গা আছে...এই পোষ্ট সেই জায়গা নয়
বিডি আইডল বলেছেন:
..নোংরামী করার জায়গা আছে...এই পোষ্ট সেই জায়গা নয় ...এই বিষয়ে এই পোষ্টে আর কোন মন্তব্য করবো না
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লষনতবে মন্তব্যকারীরা এরকম একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয়কে এমন বাজে কুতর্কের দিকে নিয়েগেল কেন বুঝতে পারছি না।
যারা তালেবান দমনের অযুহাতে পাকিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন সমর্থন করছেন তাদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে - বাংলাদেশে জে.এম.বি. নিধনে তারা ভারতীয় আগ্রাসন সমর্থন করেন কি না? যদি না করেন তাহলে বলব - অন্যের জন্য গর্ত খুড়লে তাতে নিজেকেও পরতে হয়। আজকে যদি আমরা মার্কিন আগ্রাসন সমর্থন করি, কালকে যখন একই অযুহাতে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধীতা করব তার কোন মুল্য থাকবে কি?
একটা পয়েন্টের ব্যাপারে দৃস্টি আকর্ষন করছি - আমরা সবাই ধরেনিচ্ছি তালেবান আমেরিকার তৈরী এবং সেভাবেই সবকিছু বিবেচনা করছি- আমার মনে হয় কথাটার মধ্যে একটু ভুল আছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার সাহায্যে যুদ্ধ করছিল গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আহমদ শাহ মাসুদ, বুরহানুদ্দিন রব্বানী ইত্যাদি বহু যুদ্ধবাজ নেতা। স্বাধীন আফগানিস্থানে এরা গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পরার পর তালেবানের উত্থান হয় এবং তারা প্রায় পুরো আফাগানিস্তানের উপর নিয়ন্ত্রন নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর যুদ্ধহীন ভাবে(শান্তিপুর্ণ বলতে পারছিনা) শাষন করে। এরপর ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনে দেশের উত্তর প্রান্তে কোন ঠাসা হয়ে থাকা সেই মার্কিন সাহায্যপুস্ট যুদ্ধবাজ গোস্ঠী পুনরায় তালেবানদের হঠিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় অধিস্ঠিত হয়। তাহলে কিভাবে আমরা তালেবানদের আমেরিকার সৃস্ট এবং নিয়ন্ত্রিত বলছি - তারাতো আমেরিকার সাহায্যপুস্টদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মাধ্যমেই আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং তাদের পতনও হয়েছে আমেরিকার হাতে। এই বিষয়টি বিবেচনা করলে ভিন্নকোন দৃস্টিভঙ্গি পাওয়া যায় কি না তা চিন্তা করার অনুরোধ করছি।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
বেশির ভাগ কমেন্ট পড়া সম্ভব হয় নাই। আমরা যার যার মনমর্জি মতো আচরণ করেছেন। আমার কিছু বলবার নাই। লেখাটা শেষ করবো ঠিক, কিন্তু আমার আগ্রহ কোন অবস্থায় তা আর বলবার দরকার নাই। সবাইকে শুভেচ্ছা, আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় মূল্যবান কাজে নষ্ট করেছেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
হোল সেলের প্রথম কমেন্ট, জ্বীনের বাদশার চমৎকার বিতর্ক, দিগন্ত, ভাস্করদা, শাহবাজ, ফারহান এবং সেইসব অদেখা পাঠক যারা কমেন্ট করার সুযোগ পান নাই পরিবেশ দেখে তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনার লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়তে চাই শেষ পর্যন্ত
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
অনেক গুলো কমেন্ট কমেন্টকারিদের অনুরোধে এবং নিজের বিবেচনায় মুছে দিয়েছি।
হয়ত অপ্রাসংগিক
কিন্তু কমেন্তের তোড়ে শেয়ার করা প্রাসংগিক মনে হলো।
আমেরিকার ক্রাইসিস, এটাকে গ্লোবাল পুঁজির ক্রাইসিসের দিক থেকে বুঝা হয় নাই। পুঁজির বিকাশ বিস্তৃতি প্রায়ই কোথাও না কোথাও থমকে দাড়িয়ে পড়লেও আবার হোঁচট খেয়ে সামলে উঠতে পেরেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই চক্রকার খেলা দিয়ে আমরিকা নিজেকে চালিয়ে নিতে পেরেছে, নিজের প্রতাপও বজায় রাখতে পেরেছে। কিন্তু চলতি নতুন শতাব্দিটা এক্ষেত্রে একদম ভিন্নরকম। এই প্রথম সে চিন্তার জগতেও চ্যালেঞ্জ হয়েছে। এটা নতুন। এই প্রথম সে শুধু অর্থনৈতিক নয় রাজনৈতিক সঙ্কটেরও মুখোমুখি। পশ্চিমকে কমিউনিষ্টরা এত গোড়ায় ধরে টান দিতে কখনও পারেনি যতটা এক ৯/১১ দিতে পেরেছে।
এই পরিস্হিতিকে আশির দশকের পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা যাবে না। কোন ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব দিয়ে তো নয়ই। আমেরিকা বা পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক কতকিছু খারাপ কাজ করেছে এই খতিয়ান আমরা অনেক দিন দিলাম। এখন দরকার গ্লোবাল পুঁজির সঙ্কটকে বুঝা, ব্যাখ্যা করতে পারার ক্ষমতা। লেনিনের সাম্রাজ্যবাদ ব্যাখ্যার পর পুঁজির গতি-প্রকৃতির হদিস আর আপডেট হয়নি। অথচ ১৯৪৪ সালে পুঁজির অবাধ বিস্তার বিচরণের বাধা ও চক্রাকার সঙ্কটগুলো মিটাতে দুটো গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক জন্ম নিল ও এবার প্রথমবারের মত আচমকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। আবার একে ঢেলে সাজানোর ভাবনা, আওয়াজ উঠে গেছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ ব্যাখ্যার কোন আপডেট এখনও নজরে পড়েনি। আপনার লেখা পড়ে মনে হয়েছে আমেরিকা এরপরও রাজার আসনে আছে থাকবে।
এছাড়া শুরু হয়েছে ১৯২৯-৩০ এর মতন অর্থনৈতিক মন্দা। কোন তত্ত্ব বা প্রেডিকশন এখানে কাজ করছে না। তিরিশের মন্দার সাথে ওয়ার্ল্ড ওয়ারের সম্পর্কটা যদি মাথায় রাখি তবে এক্ষেত্রে এখন আরও সতর্ক নজর খোঁজখবর করার দরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কেন ওয়ার্ল্ড পাওয়ার সেন্টার ইউরোপ থেকে আমেরিকায় সরে গেল পুঁজির স্বভাবের দিক বিবেচনায় এর কোন ব্যাখ্যা আমাদের হাতে নাই। এবারের মন্দা ও তার সাথে পশ্চিমের চিন্তার জগত চ্যালেঞ্জ হয়ে যাওয়া - আপনার লেখা পড়লে বেখবর লাগে। মনে হয় এমন কিছুই ঘটেনি যার দিকে নজর দিতে হবে।
আলকায়েদা বা তালেবান ফেনমেনন আমাদের পছন্দের ঘটনা না হতে পারে। কিন্তু একে বুঝতে চাইলে প্রিযুডিস হওয়া যাবে না। বুঝতে না পারলেও না। আপনার লেখায় কেবল তাচ্ছিল্ল দেখেছি আমি বুঝার চেষ্টা নয়। যাকে বলে, নজর আন্দাজ ঘটেছে বলেই আমার বিশ্বাস।
আমেরিকানদের সুপার পাওয়ারে থাকছে না এটা কমবেশি সবাই মেনে নিয়েছে। ফরবেস ম্যাগাজিনের ষ্টাটিসটিক্যাল প্রজেকশনে ভয় পেয়ে পর ২০২৫ সালে আমেরিকা কী হতে পারে তার লক্ষ্য পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন আট নয় বা তারও বেশি ঘরে গ্লোবাল ক্ষমতা বিভক্ত হতে যাচ্ছে - মোটামুটি প্রেডিকশন তাই ছিল। সেখানে সবাই নিজেকে সম্ভাব্য একজন জ্ঞান করে ভালো জায়গা পেতে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আচমকা মন্দা এই হিসাবকেও এলোমেলোই শুধু নয়, অনিশ্চিত করে দিয়ে গেছে। - এসব খবরগুলো আপনার লেখায় কোন ছাপ ফেলেনি।
দ্বিতীয় পর্ব তুলনামুলকভাবে ভাল। অনেক সতর্ক। ষ্টেরিওটাইপের বাইরে, সম্ভবত কিছুটা ফাতেমির কারণে। অরুন্ধুতী বা ফাতেমিরা ভোকাল, এ্যক্টিভিষ্ট, একটা ডিফারেন্ট ভয়েজ নিঃসন্দেহে। ওদের থেকে আপনি যেটাকে বলেন বুনিয়াদি ফ্যাক্টস, বা মাঠের খবর তা পাওয়া যায় ভাল। আমাদের ভাবনা চিন্তাকে যাচাই ও কারেক্ট করে নিতে যা খুবই কাজের, দরকারি। কিন্তু ওদের ব্যাখ্যা পদ্ধতি শক্তিহীন, দূর্বল অনির্ভরযোগ্য। আপনার লেখায় প্রায়ই ওরা আসে।
এখানেই শেষ করতে হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যকে আমার লেখাটির সমালোচনা ধরে নিয়েই লিখছি।
১. আপনি বলেছেন, আমেরিকার ক্রাইসিস, এটাকে গ্লোবাল পুঁজির ক্রাইসিসের দিক থেকে বুঝা হয় নাই।
সঠিক ধরেছেন, কারণ এ লেখার বিষয় গ্লোবাল পুঁজির সংকট নয়, সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের সঙ্গে সোয়াতের ঘটনাবলির সম্পর্ক ও সেই সম্পর্কের গতিসূত্রের একটা আন্দাজ এখানে দেওয়া হয়েছে। তাও বিবৃতির আকারে। আমি মনে করি, আপনার উত্থাপিত বিষয়টি স্বতন্ত্র আলোচনার দাবি রাখে। আর এখানে আমি তত্ত্ব ফাঁদতে বসিনি, হেজিমনিক মতের বিপরীতে মত ও বক্তব্য তুলতে চেয়েছি মাত্র। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন প্রথম কিস্তিটা প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়েছে। এবং সেটি বিপ্লবী আলোচনা চালাবার জায়গা নয়।
২. এই পরিস্থিতিকে আশির দশকের পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা যাবে না। কোন ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব দিয়ে তো নয়ই।
কথাটা কেন এল বুঝিনি। আশির দশকের পদ্ধতি কোনটা? ষড়যন্ত্র-তত্ত্বই বা কে আনলো এখানে? আপনার উচিত ছিল কিঞ্চিত বিশদ করে বলা। তা না বলা হাওয়ায় তরোয়াল ঘোরানো হয়ে যায় না? যেমন দেখেন আপনি লিখেছেন, ‘ফরবেস ম্যাগাজিনের ষ্টাটিসটিক্যাল প্রজেকশনে ভয় পেয়ে পর ২০২৫ সালে আমেরিকা কী হতে পারে তার ল্য পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে।’ এখন কেউ তো বলতে পারে, আপনিও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের খপ্পরে পড়েছেন। ‘ফরবেস ম্যাগাজিনের ষ্টাটিসটিক্যাল প্রজেকশনে’ ভয় পাওয়া এবং ‘২০২৫ সালের জন্য পরিকল্পনা শুরু হয়ে যাওয়া’ দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বোঝা হচ্ছে নাকি?
৩. কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ ব্যাখ্যার কোন আপডেট এখনও নজরে পড়েনি।
এটাও বিমূর্ত অভিযোগ। অনেকেই কিছু ব্যাখ্যা হাজির করেছেন। সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনায় বসা যায়। শুরু করেন, সঙ্গে থাকবো।
৪. আপনার লেখা পড়ে মনে হয়েছে আমেরিকা এরপরও রাজার আসনে আছে থাকবে।
নিহিতভাবে আমেরিকার এ অবস্থান অস্বীকার করা হলেও, যেমন জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের বিকাশ আশা করা ইত্যাদি দিয়ে, সরাসরি যা বলা হয়েছে তাতে আপনার মূল্যায়নটাই খাটে। এ ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকবার প্রয়োজন ছিল মানছি। ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ।
৪. এবারের মন্দা ও তার সাথে পশ্চিমের চিন্তার জগত চ্যালেঞ্জ হয়ে যাওয়া - আপনার লেখা পড়লে বেখবর লাগে। মনে হয় এমন কিছুই ঘটেনি যার দিকে নজর দিতে হবে।
কোন লেখা? এ লেখার পরিধির মধ্যে ওই বিষয়টি কতটা আসে? ব্লগে বা দৈনিকে। এ নিয়ে ওপরে বলেছি। আমার ব্লগীয় বিচরণ মনে হয় না, আপনার অভিযোগের পে খুব বেশি স্যা দেবে। আমি পলিটিক্যাল ইকনমির লোক নই, ফলে বিষয়টি নিয়ে আমাকে এগতে হয় অন্যদের কাজের নিরিখে এবং সতর্ক ভাবে। এটা আমার ঘাটতি বটে, কিন্তু আমি যে সর্ববিদ্যাবিশারদ হওয়ার খায়েশ রাখিনি। আমি কেবল কমেন্ট করতে পারি, তাই না?
৫. আলকায়েদা বা তালেবান ফেনমেনন আমাদের পছন্দের ঘটনা না হতে পারে। কিন্তু একে বুঝতে চাইলে প্রিযুডিস হওয়া যাবে না। বুঝতে না পারলেও না। আপনার লেখায় কেবল তাচ্ছিল্ল দেখেছি আমি বুঝার চেষ্টা নয়। যাকে বলে, নজর আন্দাজ ঘটেছে বলেই আমার বিশ্বাস।
এখানে এ অভিযোগ অবান্তর। আমি অনুমানে তীর ছুঁড়েছেন। ধরুন, আপনাকে অভিযোগ করা হলো যে, আপনি হক-বেহক কমিউনিস্টদের এক হাত দেখে নেওয়া বা তাচ্ছিল্য করার ঝোঁকে পড়েছেন। আপনার অনেক লেখাতেই সেটা পাওয়া যায়। এটাকে কি আপনার প্রি-কনসিভড প্রেজুডিস বলা যাব? বাড়তি এটুকুই বলে রাখি, আল কায়েদা ফেনমেনন বাস্তব ইতিহাসের বাস্তব সংগ্রামের যে দিকগুলোকে ঢেকে ফেলে আমি পর্দা সরিয়ে সেদিকেই তাকাতে চাই। ‘ইতিহাস ও সমাজবাস্তব’কে এড়িয়ে বা তার বাইরে কোনো আন্দোলনকে আমি বুঝতে পারি না, চাইও না। কেউ কেউ পারেন, সেই পথ আমাদের নয়।
৬. দ্বিতীয় পর্ব তুলনামুলকভাবে ভাল। অনেক সতর্ক। ষ্টেরিওটাইপের বাইরে, সম্ভবত কিছুটা ফাতেমির কারণে। অরুন্ধুতী বা ফাতেমিরা ভোকাল, এ্যক্টিভিষ্ট, একটা ডিফারেন্ট ভয়েজ নিঃসন্দেহে। ওদের থেকে আপনি যেটাকে বলেন বুনিয়াদি ফ্যাক্টস, বা মাঠের খবর তা পাওয়া যায় ভাল। আমাদের ভাবনা চিন্তাকে যাচাই ও কারেক্ট করে নিতে যা খুবই কাজের, দরকারি। কিন্তু ওদের ব্যাখ্যা পদ্ধতি শক্তিহীন, দূর্বল অনির্ভরযোগ্য। আপনার লেখায় প্রায়ই ওরা আসে।
ভাই, দ্বিতীয় পর্বটা লিখেছি অনেকটা স্বাধীনতা নিয়ে ব্লগের বন্ধুদের জন্য। প্রথমটা অনেকটা পত্রিকার জন্য। এ দুইটার পুনর্লিখন ও বিস্তার করা হবে জিনিসটাকে প্রবন্ধের আকার দেবার আগ্রহ আছে বলে। যাহোক, আপনি লেখার পেছনে লেখকের চিন্তার দূর্বলতা/সবলতার উৎস প্রথমত চিন্তার মধ্যেই না খুঁজে অন্যের প্রভাব খুঁজেছেন। প্রভাবিত আমরা সকলে। কিন্তু আমার মনে হয় না অরূন্ধতির কাছ থেকে চিন্তা বা তত্ত্ব পাওয়ার আশা আমি কখনো করেছি। বাকিটা ওই বুনিয়াদি ফ্যাক্টস বা মাঠের খবর। তাঁর লেখা আমি মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে টানি, আশা করি কারণটা বোধগম্য। আর ফাতেমি’র কোনো লেখা আমি পড়িনি। আমার লেখায় নয়, প্রথম আলো বা সমকালের অনুবাদে অরূন্ধতি প্রায়ই আসেন এবং আসতে থাকবেন, যদি না তিনি বদলে যান। অরূন্ধতিরা আমাকে কোনো দিশা দেবেন ব্যক্তিগতভাবে সে আশা করি না। কিন্তু তাঁর সংগ্রামী আপোসহীনতা ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদে আমি আশ্বস্ত হই। এখনো মানুষ আছে, এখনো সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো সেলিব্রেটি দাঁড়ান কাজে ও চিন্তায়। যেটা আমি আমাদের অনেক বিপ্লবী প্রচারকদের মধ্যে দেখি না।
আপাতত এই-ই। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মনওয়ার বলেছেন:
পড়লাম ফারুক ভাই। কিছু জায়গায় একটু বেশি জেনারেলাইজেশন করে ফেলেছেন বলে মনে হল। তবে সব মিলিয়ে খারাপ ওভারভিউ নয়!
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
হ্যাঁ জেনারালাইজেশন আছে। কারণ, এটা প্রথমে শুরু করেছিলাম পত্রিকার জন্য। সেটা আজ ছাপাও হয়েছে। ওখানে এতটুকু ছাপতে পারা খুবই কঠিন।
মাঠশালা বলেছেন:
ওয়াসিফ ভাই,লেখাটি ধীরেই পড়লাম। কিছু বিষয়ে খটকা লাগতেছে।
আপনি ও অন্য অনেকেই সময় অসময়ও আমিও দেশে বিদেশে যে কোন পরিস্থিতিকে বহির্বিশ্বের কলকাঠিজাত বলে বিবেচনা করে আসছি। এখানে প্রসঙ্গ পাকিস্তান, আমার ধারণা মতে বেলুচরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার কথা এবং তৎপরতায় আছে...। অথচ আমাদের আচরণে বরাবরই ওদের কথা চাপাই থাকে দেখতে পাই। এর ফলে ২টি জিনিস ঘটে বলে মনে হয়-ওদের দাবীর যৌক্তিকতা এবং আসল সমস্যাটা আড়ালে থেকে যায় আর ২য় যেটা হয় স্থানীয় নেতৃত্ত্বের রাজনৈতিক জ্ঞান এবং সংগ্রামশীলতাকে খাটো করার মধ্য দিয়ে বিকৃত ও বিলুপ্ত করা হয়।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
১. ভেতর-বাহির: মোদ্দা কথা হচ্ছে ভেতর-বাহির বলে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত দিয়ে আমরা যা চিনি, বা জাত-বেজাত দিয়ে পর-আপনের যে হিসাব সাধারণত করা হয়, সেই সীমানাগুলো কতটা বাস্তব? আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ এক বহুজাতিক শক্তিবলয়, যার কেন্দ্র পশ্চিমা পুঁজির বিচলন। তা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশের ধনিক শ্রেণীর বড় অংশ বা এখানকার আমলা-সেনা-সিভিল-কর্পোরেট বলয়টিও সেই সাম্রাজ্যবাদেরই অংশ। তাই কলকাঠি বাইরের না ভেতরের, তার থেকে বড় বিষয় তার সঙ্গে জনগণের এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সম্পর্কটা কী? বিডিআর ঘটনায় ভেতরের লোকদের বাইরের মতো আচরণ থেকে এটা ধরতে পারবেন। ২. বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলন ন্যায্য ও যৌক্তিক। কিন্তু এখানে আমার বিষয় সেটা ছিল না। দেখাবার বিষয় ছিল যে যে ভারত নিজে কাশ্মীর ও সেভেন সিস্টার্স এ সরাসরি স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করছে, যা হয়ে উঠছে এক বহুজাতিক খামারবাড়ি, সে কেন বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনে মদদ যোগায়। এখানে বেলুচরা বিষয় নয়, বিষয় হলো ভারতের এই আগ্রহের মোটিফটি। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলে সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া কি ঐ আন্দোলনের নের্তৃত্বের দুর্বলতা ও পরজীবীতা নয়? এর সঙ্গে তাজউদ্দীনের ভারতে সরকার গঠন মিলবে না। কারণ সেসময়ের ভারত আর আজকের ইসরায়েল এক নয়। কূটনৈতিক দিক থেকে তো বাংলাদেশের অস্থায়ি সরকার মুক্তাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত বলে ঘোষিত ছিল। তাই না?
৩. আর আপনার অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে আসলেই, 'দাবীর যৌক্তিকতা এবং আসল সমস্যাটা আড়ালে থেকে যায় আর ২য় যেটা হয় স্থানীয় নেতৃত্ত্বের রাজনৈতিক জ্ঞান এবং সংগ্রামশীলতাকে খাটো করার মধ্য দিয়ে বিকৃত ও বিলুপ্ত করা হয়।'
আমার মনে হয়, আমি সেটা করিনি। যদি প্রতীয়মান হয় সেরকমটা, তাহলে সংশোধন করে নিতে আগ্রহী।
মজনু পাটোয়ারী বলেছেন:
আপনার পুরো লেখাটা পড়ে বলছি
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















সবাইকে আগাম ধন্যবাদ।