আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব ২ : আতর পাহাড়ের জন্ম ও বিলয় কথা
১৭ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৪
‘‘খুবই জরুরি হলো রাজনৈতিক সমস্যাকে সামরিক সমস্যায় পরিণত করা। তার জন্য সহিংস আক্রমণ চালাতে হবে যাতে ক্ষমতাসীনরা সামরিক সমস্যাজনক পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক সমস্যাজনক পরিস্থিতিতে পরিণত করে। এতে করে জনগণ তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং সেই জনগণ তারপর থেকে এই পরিস্থিতির জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশসহ যা কিছুকে তাদের জীবনের জন্য সমস্যা মনে করে, তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে।’’
কার্লোস মারিঘেল্লা, ব্রাজিলিয় মার্কসবাদী বিপ্লবী, গেরিলা যুদ্ধের তত্ত্বকার
ঠিক এই ঘটনাই ঘটছে এখন পাকিস্তানে। সেখানকার সেনা ও লুটেরা শাসকরা ছোটো একটি সামরিক সমস্যাকে বিরাট রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত করেছে। কিন্তু আহাম্মকি এই যে, রাজনৈতিক চেহারা পাওয়া এই সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে তারা মোকাবেলা করতে চাইছে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক যুদ্ধের কায়দায়। আমেরিকাও তাদের এই পথেই ঠেলে দিয়েছে। ফলত, জনগণ তাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং শাসকরা ধাবিত হচ্ছে স্বখাতসলিলে_ স্বদেশ ও স্বজাতিশুদ্ধ। অল্প কথায় এই হলো পাকিস্তানের বর্তমান সংকটের সারমর্ম।
এবার আগের কিস্তি পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব: যা ঘটছে ও যা ঘটবে ১ পর থেকে:
শরিয়া ও সশস্ত্রপনা পাকিস্তানের উপজাতীয় পাবর্ত্য অঞ্চলে নতুন না। সেখানে বিচারবিভাগের হাত পৌঁছে না। পুলিশ ও আদালত দুর্নীতিবাজ। সাধারণ মানুষ সেকারণে বিচার-সালিশের জন্য মান্ধাতার আমল থেকেই শালিসিতে ভরসা করে আসছে। তালেবানরা এসে এই গোত্রীয় প্রথাকেই শরিয়া বলে চালাচ্ছে। অথচ বিশ্বের কোনো বিজ্ঞ আলেম একে ইসলামী বলবেন কিনা সন্দেহ। অন্যদিকে দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদদের কারণে অতিষ্ঠ ঐ অঞ্চলের সাধারণ মানুষও রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে হাতের কাছের তালেবানদের মাধ্যমে শান্তি ফিরে পেতে চেয়েছে।
এসব দেখেই বেনজীর ভুট্টোর ভাতিজি ফাতিমা ভুট্টো বলেন, ‘‘সোয়াতের মানুষ তালেবানদের চায়নি। কিন্তু তালেবানরা আছে, কারণ তারা রাস্তা বানিয়ে যোগাযোগের উন্নতি করেছে। যখন সরকারি বিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলো টাকার অভাবে বন্ধ তখন তারা অন্তত বালকদের জন্য বিদ্যালয় খুলেছে, চালু করেছে চিকিৎসাকেন্দ্র। যখন আদালতগুলো সরকারি দুর্নীতিকে আড়াল করায় ব্যস্ত তখন তারা বিচার পৌঁছে দিয়েছে। ওরে আহাম্মক, পাকিস্তানের সমস্যা তালেবান নয়, দুর্নীতি।’’ বলাবাহুল্য, যেখানেই রাষ্ট্রের উপস্থিতি আলগা হবে, সরকার নাগরিকদের দেখভালের দায়িত্ব এড়াবে; সেখানেই স্থানীয় সামাজিক শক্তি রাষ্ট্র হয়ে উঠতে চাইবে।
একের পর এক মার্কিন বিমান হামলাও তালেবানদের পাল্লা ভারি করেছে। আর যেই তারা শরিয়ার দাবি তুলল এবং মোল্লা ওমরের আদলে বেয়তুল্লাহ মাসুদ নামে এক মৌলভীকেও যেই পাওয়া গেল ওমনি রব উঠলো, পাকিস্তান আফগানিস্তান হতে যাচ্ছে। অতএব চালাও যুদ্ধ! বিশ্ব রঙ্গমঞ্চের এই মারণখেলায় মুষ্ঠিমেয় পশ্চাদপদ তালেবানদের গুরুত্ব তাই সামান্যই। ইরাক আক্রমণের জন্য সাদ্দামের কাল্পনিক গণবিধ্বংসী অস্ত্রগুদামের যে ভূমিকা, এই রক্তাক্ত নাটকে এদের ভূমিকাও তার বেশি নয়। পরের দৃশ্যে যখন, চীন-ভারত আর মার্কিন-রাশিয়া মুখোমুখি হবে তখন কারুরই মনে পড়বে না কাহিনীর শুরু তালেবান নামক সমস্যা দিয়ে।
সবই নাহয় বোঝা গেল। কিন্তু পাকিস্তানের জনগণকে তালেবানের গঞ্জনা সইতে হবে? না হবে না। পাকিস্তানের নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণী, সেখানকার আধুনিক মিডিয়া প্লাস জনগণের আন্দোলনই তালেবানদের সামাল দিতে সম। যদি পাকিস্তান সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিদেশি কিছু এজেন্সি তালেবানদের সহায়তা বন্ধ করে।
যে মাওলানা ফজালুল্লাহ এখন সোয়াতের প্রধান তালেবান প্রধান, পেশায় লোকটি ছিল সোয়াত নদীর ইমাম ধেরি ঘাটের লোক পারাপারের কারবারি। দড়িবাহিত চেয়ারে করে সেখানে লোক পারাপার করা হয়। প্রতি পারাপার ২ রুপি। এ দিয়ে যুদ্ধের রসদ সংগ্রহ তো দূরের কথা পরিবার চালানোই কঠিন। ২০০৫ সালে তিনি এফএম রেডিওতে ওয়াজ করা শুরু করে রেডিও মাওলানা খেতাব পান। অনেকের কাছেই তার হাস্যকর বয়ান বিনোদনের উপকরণ বৈ আর কিছু ছিল না। কিন্তু এই ফালতু চরিত্রই হাজার দুই সশস্ত্র লোকের সমর্থনে সোয়াতের মালিক বনে যান। তাদের বিপুল অস্ত্র, গোলাবারুদ, আধুনিক সরঞ্জামের উৎস এখনো অজানা। তারা সোয়াতের রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র সব কিছু ধ্বংস করলেও সরকার তাদের কোনো বাধাই দেয়নি। যদিও তাদের এই মতা একটা সংগঠিত দস্যুদলের বেশি না। অথচ বিনাবাধায় তারা তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। তাই সোয়াতনিবাসি এক বিশ্লেষক প্রশ্ন তোলেন, (থ্যাংকস টু ভাস্কর দা)
Let me clear one thing that, the Talibans in Swat are composed of four groups, i.e. the locals (Swatis), Qabayalis (those belong to FATA),the banned Jehadi organisations from all over Pakistan (they are known as Panjabi Talibans here in Swat) and the forgniers ( Arabs, Tajik, Uzbek, Chechens, Indian etc). All these four groups work there under the umbrella of Pakistan government or government agencies. Here is a big question, you must want to ask, why the government itself want to do so? We are raising this question since last two year in Swat that why (and how) the government can do so? But this is what the ground reality. Because as I mentioned above how its possible for 2,000 militants to fight for two years against well-equipped 40,000 security forces and in the result 80% Swat is under the control of Militants and their power is growing.
More interestingly the illegal FM radio channel is still running. Can you believe that the government is not capable of banning this illegal FM radio? of course the government is, but it deliberately don’t want to ban it.
(Click This Link)
এই হলো পাকিস্তান ও তার পারমানবিক বোমার হুমকি (!!!) তালেবানদের শক্তিমত্তার ইতিহাস। এদের জেহাদি বলার থেকে আহাম্মকি আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু বলা হচ্ছে। যেমনটা হয়েছিল কম্বোডিয়ার খেমাররুজ বাহিনীকে কমিউনিস্ট বলা বিষয়েও। কমিউনিস্ট চীন-ভিয়েতনাম-রাশিয়া তাদের অস্বীকার করেছিল। তারাও ভিয়েতনাম আক্রমণ করেছিল। আসলে আমেরিকা চেয়েছিল খেমারদের দিয়ে ভিয়েতনামে পরাজয়ের শোধ নিতে। খেমারদের উস্কানিতে ভিয়েতনাম কম্বোডিয়ায় ঢুকে পড়লে সেভিয়েতদের যে দশা আফগানিস্তানে হয়েছিল, সেই দশা ভিয়েতকংদেরও হতে পারতো। জাতিসংঘে খেমারদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের আনা একাধিক প্রস্তাব মার্কিন ভেটোতে নাকচ হয়ে যায়। যাহোক, তালেবান জুজু আজ আমেরিকার দরকার ভারতের দরকার- মধ্য এশিয়ায় তাদের যুদ্ধ ও দখল মিশন সম্পন্ন করবার জন্য।
শরিয়া নিয়েও এখানে দুচারকথা না বললে নয়। ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক দিক থেকে শরিয়ার আবির্ভাব রণশীল ফাতেমি সাম্রাজ্যের আমলে। এর আরেকবার ফর্মেশন হয় কলোনিয়াল ভারত ও মিসরে ব্রিটিশ ও রোমান কোডের প্রভাবে ও প্রতিক্রিয়ায়। এ নিয়ে তালাল আসাদ ও তাজ হাশমীর কাজগুলো উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে আমার মত হলো, শরিয়া বলে যা চালানো হয় তা সামন্তীয় ইসলামের সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপ। জামাতের ইসলাম অনেকটা পুঁজিবাদী বা বুর্জোয়া ইসলাম। সেকারণে তাদের ইসলামী আইনের ব্যাখা শরিয়ার থেকে আলাদা। সোয়াতের গোত্রপতিরা শরিয়া নামে যেটা চালাতে চায় তা আসলে নারী ও পুরুষের মুক্ত বিচরণের বিরুদ্ধে সামন্তীয় সহিংসতারই প্রকাশ। একই আচরণ পাওয়অ যাবে সামন্ত প্রাধান্যশীল যেকেনো হিন্দু-খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ সমাজে। এর সঙ্গে ধর্মের যত না সম্পর্ক তার থেকে বেশি সম্পর্ক অনুন্নয়ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অবিকাশের। যুগের পর যুগ এদের ফেলে রাখা হয়েছে অতীতের গহ্বরে। আশা করি, আমাদের বিজ্ঞ বন্ধুরা এদের কোরান ব্যাখ্যা বা অনুবাদ থেকে ইসলামের আইনী চিন্তার পাঠ নেবেন না। তবে বিষ্ময়করভাবে ইসলামফোবিয়ায় ভোগা পাশ্চাত্যের বর্ণবাদী বুদ্ধিজীবী ও সাইদী-ফজলুল্লাহদের শরিয়া চিন্তা প্রায়শই মিলে যায়। এই মিল না থাকলে ইসলামের পে বা বিপরে ব্যবসা ও রাজনীতি চলতো কীভাবে? এটা অনেকটা ‘কানায় দেখে, বোবায় শোনে ল্যাংড়ার নাচনা’ জাতীয় কায়কারবার।
সোয়াতের যোদ্ধারা শরিয়া নামে যা বলতে চাইছে তা আসলে দীর্ঘদিনের অপশাসনে ভোগা তলাকার মানুষের হঠাৎ পাওয়া মতার বিকার। যথাযথ রাজনৈতিক দর্শন ও নের্তৃত্বহীন নিম্নবর্গীয় মানুষ যদি বাইরের উস্কানি ও মদদে হঠাৎ শক্তিশালী হয়, তাহলে মতার নির্বিচার ব্যবহার ঘটে থাকে। সোয়াতের অস্ত্রধারীদের যদি সবচেয়ে নরম সমালোচনাও করতে হয় তো বলতে হয়, তারা বিভ্রান্ত, বিপথগামী ও পাক-মার্কিন মিলিটারি স্ট্যাবলিশমেন্টের ক্রীড়নক কৃষক-বিদ্রোহী মাত্র। শ্রেণীবিভক্ত সমাজের পীড়ন ও শোষণ, রাষ্ট্রীয় অবহেলা, মার্কিন হামলা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ শরিয়া নামের ফাঁদে পড়ে আত্মঘাতীই হয়েছে। এর নামেই তারা তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। তাদের এইসব ক্ষোভ-বিক্ষোভকে ব্যবহার করছে পাকিস্তানের সরকারি এজেন্সিগুলো। তাদের দেওয়া অস্ত্র ও মদদ এখন কমলেও বাইরের এজেন্সির সহায়তা তারা পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারা তা দিচ্ছে, তার জন্য আমরা অনুমান ও পর্যবেণ কাজে লাগাতে পারি। নৈরাজ্যের কারণেও স্থানীয় কিছু মানুষ তাদের সমর্থন করছে। যতদিন সামন্তবাদ টিকে থাকবে ততদিন এই ধারাই চলবে।
‘তালেবানি জেহাদ’ আর যুক্তরাষ্ট্রের কল্পিত নিরাপত্তাহীনতার চিৎকারের বাইরে তাই সত্যিকার মানুষের সত্যিকার সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। তালেবানদের ছাপিয়ে দেখতে হবে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সত্যিকার দুঃখী মানুষদের, সোয়াত থেকে পালিয়ে আসা দশ লাখেরও বেশি উদ্বাস্তুদের, এই উদ্বাস্তুদের যারা ঘরে টেনে আশ্রয় দিচ্ছে, রাস্তার পাশে তাদের জন্য খাবার ও পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে সেইসব সাধারণ পাকিস্তানীদের।
সরকারি ভাষ্য মতে মাত্র হাজার দুয়েক অর্ধপ্রশিক্ষিত অস্ত্রধারীদের জন্য চল্লিশ হাজার সৈন্য, ভারি সাঁজোয়া বহর আর মার্কিন ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র প্রয়োগেরই ফল এই মিলিয়নেরও বেশি উদ্বাস্তু ও আরো কয়েক মিলিয়ন মানুষের দুর্ভোগ। এই মাত্রারিক্ত বলপ্রয়োগের মধ্যে গাজায় চালানো ইসরায়েলি হামলার মিল আছে। এর উদ্দেশ্য কেবল যোদ্ধাদেরই হত্যা করা নয়, সমগ্র জনগণের জীবন এমনভাবে দুঃসহ ও মর্মান্তিক করে তোলা যাতে জনগণের প্রতিরোধ ইচ্ছা বিলীন হয়। কেননা আফগান সীমান্তের জনগোষ্ঠীরাই তো আফগান তালেবান যোদ্ধাদের রিক্রুটমেন্ট, আশ্রয়, রসদ ও সমর্থন যুগিয়ে আসছে। ন্যাটোর আফগান বিজয়ের জন্য তালেবানদের পশ্চাদভূমি তাই পুড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সেজন্য মার্কিন যুদ্ধপরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাপতি বদলও এর অংশ। বর্তমান সেনাপতি ম্যাকক্রিস্টাল ইরাকে গুপ্তহত্যা, গণহত্যা, গাড়িবোমা বিষ্ফোরণ, সাদ্দামকে ধরার কর্মকাণ্ডের হোতা। কাউন্টার টেররিজমের বদলে তারা নিয়েছে কাউন্টারইনসার্জেন্সির মেথড। ভিয়েতনামেও এই পদ্ধতির প্রয়োগ হয়েছিল। জয় অসম্ভব জেনে এই অঞ্চলকে যতটা পারা যায় পঙ্গু করে যাওয়াই সম্ভবত তাদের এখনকার লক্ষ্য।
আফগানিস্তানে ন্যাটোর বিরুদ্ধে লড়াইরত তালেবান, জাতীয়তাবাদী ও মাওবাদীদের সঙ্গে পাকিস্তানের তালেবান বলে পরিচিতদের মৌলিক দুটি পার্থক্য আছে। পাকিস্তানি অংশ যারা, তারা মার্কিনিদের থেকে প্রধান শত্র“ মনে করে নিজ ধর্মের মুসলিমদের, যারা তাদের দৃষ্টিতে প্রকৃত মুসলিম নয়। শরিয়ার প্রধান প্রয়োগ কিন্তু স্বধর্মীদের ওপরই তারা করতে চায়। তাদের সপে সালাফি মতবাদকে তারা ব্যবহার করে। এ কারণে আফগান তালেবানরা এদের পছন্দ করে না। তাদের যোগ সিআইএ-আইএসআই স্পন্সরড আল কায়েদার সঙ্গে। ইরাকের স্বাধীনতা যোদ্ধারাও এদের তাদের জাতীয় ঐক্যের শত্র“ মনে করে। আফগানিস্তান মুক্ত করায় এদের এই মতবাদ বাধাস্বরূপ।
গত বছরের শেষ দিকে আফগান তালেবানরা ন্যাটোকে এমনভাবে পর্যুদস্ত করে এবং জনগণের সমর্থন অর্জন করে এবং ন্যাটোকে তাদের সঙ্গে কিছুটা সমঝোতায় আসতে হয়। তাদের সাফল্যে আফগান জনগণসহ অনেক প্রগতিবাদীও আনন্দিত হয়েছিল। এবং তারা কিন্তু শরিয়ার দাবি বিশেষ তোলে নাই। খেয়াল করার বিষয়, ন্যাটো যখন সেখানে বিপর্যস্ত তখনই কিন্তু মঞ্চস্থ হলো সোয়াত নাটক। আফগানিস্তানে মার্কিন ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরে গেল পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতার দিকে। আমেরিকা আবারো চলে এলো আপারহ্যান্ডে। ‘বন্যবর্বর’ তালেবান আর ‘জঘন্য’ শরিয়ার ভয় দেখিয়ে আপাত মার্কিনবিরোধীদেরও তারা পে ভিড়িয়েছে। বাংলাদেশেও যদি বাংলা ভাই টাইপ লোক দেশ দখল করতে যায়, অনেকেই নিরূপায় হয়ে মার্কিন-ভারতের কাছে আশ্রয় চাইতে পারে। কিন্তু কেউ কেউ বাংলা ভাইদের আসলে বাঘকে পথ দেখানো ফেই বলে চিনতে পারে। এবং ফেউয়ের পেছনের বাঘকে মোকাবেলার সঠিক পথ খঁজে পেতে পারে।
তাই শরিয়া হলো সেই এসিড টেস্ট। যে-ই আজ শরিয়ার কথা তুলবে ধরে নিতে হবে সে-ই প্রত্য বা পরোক্ষে ভারত-মার্কিন-ইসরায়েলের হাতকেই শক্তিশালী করছে। এই তিন রাষ্ট্রের কথা বলছি এ কারণে যে, তারাই আজ বিশ্ব পুঁজিবাদী আগ্রাসী বলয়ের কেন্দ্রীন হয়ে উঠেছে যার যার ইতিহাস-ধর্ম-পুঁজির প্রভাবে। দেশে দেশে জাতীয় মুক্তি লড়াইয়ে শরিয়ার দাবির থেকে ধ্বংসাÍক আর কিছু হতে পারে না। এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নাই।
এই জটিল ও বর্ণাঢ্য দৃশ্যপটের মধ্যে তাই সত্যিকার মানুষের সত্যিকার নড়াচড়ার দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। কতিপয় মোল্লা আর পাকিস্তান-মার্কিন জেনারেলদের ছাপিয়ে তাকাতে হবে দুর্ভাগা পাক-আফগান জনগণ আর হতাশ ও আত্মহত্যাপ্রবণ মার্কিন সৈন্য ও মন্দার শিকার মার্কিন জনগণের দিকে। এদের কারোরই আরেকটি যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন পুঁজির গ্রাস আর সামরিক আগ্রাসনে হারানো বাড়ি-চাকরি আর পারিবারিক শান্তি ফিরে পাওয়া। তালেবান বা আমেরিকা কেউ তাদের জীবনকে মুক্ত করবে না। আফগানিস্তানে করেনি, ইরাকে করেনি। একই কথা তালেবানদের বেলাতেও সত্য। তাদের লড়াই অনেক ক্ষেত্রেই আত্মঘাতী হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বা স্বদেশের মাটিতে বিদেশি সৈন্যের উপস্থিতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ সমর্থনীয় হতো। কিন্তু তারাই যখন শরিয়া প্রতিষ্ঠার নামে নিজ ধর্মের নারী-পুরুষকে ফুটন্ত উনুন থেকে জ্বলন্ত কড়াইয়ে ফেলতে চায়, যখন আমেরিকার ড্রোন হামলার মতোই নিরীহ জনসাধারণের ওপর বোমা হামলা চালায়, তখন এ আত্মঘাতের চেহারাটি ধরা পড়ে। নিজ ধর্মের মানুষদের রক্তাক্ত করার এ প্রক্রিয়াটি অনেকটা আতর তৈরির প্রক্রিয়ার মতো।
সিলেটের পাহাড়ে এখনো আতরের চাষ হয়। আতর পাহাড়ে সারি সারি আতর গাছ। বয়স্ক গাছে দা দিয়ে কুপিয়ে রেখে দিলে সেখান থেকে রক্তের মতো ঘনরস পড়ে। গাছের সেই রক্ত বা রস থেকেই তৈরি হয় সুবাসিত আতর_ পবিত্র ও সুন্দর ওই মৃতের প্রসাধন। তালেবানদের ইসলাম যেন এ রকমই কোনো এক আতর পাহাড়ের আতর গাছ। সাম্রাজ্যের আঘাতে একদিকে তারা আহত হয়, আবার সেই তারাই নিজ জাতি-ধর্মের নারী-পুরুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে সমাজদেহে রক্তরণ ঘটায়। তাদের লড়াই যেদিন ওই আতর পাহাড় থেকে নেমে আসবে, নিজ সমাজদেহকে পীড়ন করে ‘আতর চাষ’ বন্ধ করবে, সেদিনই তা পথ খুঁজে পাবে মুক্তির_ নিজের ও বিশ্বের, এমনকি ধর্মেরও। তা যদি হয়, তাহলে ধর্মীয় ব্যানারের তলে মাথা খুঁড়ে মরা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের অবরূদ্ধ নদী শত ধারায় বিকশিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতার নতুন যুগের সূচনা করবে।
আল কায়েদা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আজ আগুনের মতো। আগুনে হাত দিলে হাত পোড়ে, এ অভিজ্ঞতালব্ধ সত্য। এই জ্ঞানের জন্য নতুন করে হাত পোড়ানোর আর প্রয়োজন নাই।
(দ্বিতীয় পর্বের সমাপ্তি এখানেই। এর বাইরে আরেকটি লেখার প্রয়োজন হবে, যেখানে তালেবান বা জেহাদিদের মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক বিচার করা হবে। এই লেখাটা অনেকটা বিবরণমূলক। সাম্রাজ্যবাদ ও জেহাদ পরস্পরের বিপরীত হতে পারে কিনা সেটাই হবে আমার পরের আলোচনার প্রাণ ও পরিচয়। আগের আলোচনায় উত্থাপিত বাদবাকি প্রশ্নগুলোর উত্তর যথাসাধ্য সেখানেই দেওয়া হবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:০৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
থ্যাংকস, এটা আমার বলবার একটি কেন্দ্রীয় জায়গা।
শেরজা তপন বলেছেন:
ভাল লাগল আপনার বিশ্লষন ধর্মী লেখাটা
বিডি আইডল বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লেষণ ফারুক ভাই....আমি কন্সপিরেসী তত্বের সাথে সবসময়ই একাত্ব বোধ করি না...কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, এই যে বিশ্বের উপর ছড়ি ঘোরানো মার্কিন আধিপত্য..যার সুত্রপাত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে...সেটাও কি মার্কিনীদের সাজানো প্লট ছিল?
বিডি আইডল,২য় বিশ্বযুদ্ধে কিন্তু মার্কিনিরা অনেক পরে জড়িয়েছে,এর আগে তারা এ থেকে শুধুই সুবিধা নেবার তালে ছিল।
লেখক বলেছেন: যাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলছেন, তা হয়তো মোটেই ষড়যন্ত্র নয়> আমাদের সামনে মিডিয়া দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া ঘটনাবলি। ২/৩ জনে ষড়যন্ত্র করে, কয়েকটি রাষ্ট্র ও সংস্থা মিলে করে রাজনীতি যুদ্ধ ইত্যাদি।
যেমন, আইএমএফ যুগোস্লাভিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বাধ্য করেছিল প্রদেশগুলোর তহবিল বন্ধ করে দিতে। তখন প্রদেশ সরকার হঠাত দেখলো কোনো ওয়ার্নিং ছাড়াই তহবিলহীন। এই ঘটনা আঞ্চিলক দ্বন্দ্বকে আরো বাড়ায়। এর সঙ্গে আরো ঘটনা যোগ হয়ে টিটোর দেশের ভাঙ্গন চরমে আসে।
এখন কী বলবেন, আইএমএফ ষড়যন্ত্রকারী? নাকি সেটাই তার কাজ, সাম্রাজ্যের দরকারমাফিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ। বাংলাদেশ ব্যাংকে বসে আইএমএফ বা গুলশানে মার্কিন দূতাবাস যা করে তা কি ষড়যন্ত্র? নাকি রুটিনমাফিক গড়বড় প্রণালী? যে যেভাবে দেখে।
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
স্নায়ু যুদ্বের সময় যেভাবে অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করত যে কম্যুনিজম আসছে, ওরা ধেয়ে আসছে।ওরা বিশ্ব শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি । ওরা তোমাদের শান্তির ধর্ম ধংস করবে। তোমাদের মসজিদ মাদ্রাসা সব ধংস করবে। ওরা মিশাইল ছুড়ে দিয়েছে অলরেডী ওটা এখন তোমাদের আকাশ সীমায় আছে এখন।
এভাবেই আতংক সৃষ্টি করা হত স্নায়ু যুদ্বের সময়।
ওটা শেষ ,তাই এখন টালিবান। ঐ দেখ তালিবান আসছে ওরা ধেয়ে আসছে দুর্বার বেগে । ওরা বিশ্ব শান্তি সমৃদ্বীর জন্য হুমকি। ইসলাম ইউরিপের দিকে ধেয়ে আসছে। আগামিতে ইউরোপ কে ইসলামাইজেশন করা হবে। তারপর আমেরিকাকে ইসলামাইজেশন করা হবে।
এভাবেই অপপ্রচার চালানো হয়। এ ধরনের অনেক ডকুমেন্টরিকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভিয়তনাম যুদ্বে পরাজিত হওয়ার সময় আমেরিকা যেভাবে কম্বোডিয়া ও লাওস এই দুইটি দেশকে বোমা মেরে মরুভূমি বানিয়েছে মুক্তিকামী ভিয়তনামিদের যুদ্ব বন্ধ করতে ঠিক সেভাবেই পাকিস্তানকে ও করা হবে যদিনা পাকিস্তান তার কাজটা করে দেয়।।
যে কোন যুদ্ব চালিয়ে রাখার জন্য দরকার সাপ্লায় রুট টাকে নিরাপদ রাখা। বর্তমানে ২০০৬ সালের পর হতে আফগানিস্তানে তালিবানরা আশ্চার্য জনকভাবে ফিরে আসে। অনেক এলাকা তাদের দখলে এখন।
আর এদিকে করাচি বন্দর হতে জাহাজে করে আসা আমেরিকার সকল ধরনের সাপ্লাই মাল যা যুদ্বের জন্য ব্যবহার হয় তা তালিবানরা আক্রমন করে ধংস করে দেয় খাইবার গিরিপথে। উজবেকিস্টানের রুট টাও বন্ধ হবার পথে।
তাই সাপ্লাই রুট টা পরিস্কার করানোর জন্য পাকিদের দিয়ে আক্রমন করাটা ও একটা কারন।
সোভিয়েতদের ও আফগানিস্তান যুদ্বের সময় আফগানিরা এই সাপ্লাই লাইনে (তাদের রশদ , অস্রে )হামলা চালাত।
ঐ পদ্বতিই গ্রহন করছে এখন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
পাকিস্তানে, মধ্যপ্রাচ্যে, বলকানে, ল্যাটিন আমেরিকায় তারা যা করছে তা যদি বুঝি, তাহলে বঙ্গে তাদের কাজকারবার বুঝতে তো অসুবিধা হওয়ার কথা না। আর এরা যা করে তা কিন্ত কেবল বাইরে থেকে করে না, আমাদের লোকেরাই জেনে-বুঝে একই উদ্দেশ্যে কাজ করে। গত দুই বছরে তো তা ফকফকা হওয়ার কথা তাই না?
এবার বিডিআরসহ আগে-পরের ঘটনাগুলো মেলান। আমার বাইটায়, জরুরি অবস্থার আমলনামায় এ দিকটাতে নজর ফেলবার চেষ্টা করেছি।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ কায়েস মাহমুদ-আপনার কমেন্ট আমার লেখাটাকে আরো অর্থ দিল।
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
সিএইএর সিক্রেট বেইস দেখুন পাকিস্তানে,
Click This Link
আর দেখুন পাকিস্তানে তালিবানরা আমারিকার সৈন্যদের জন্য যাওয়া ওদের হেলিকাপ্টারের অংশ বিশেষ, রাতে দেখার চশমা,হেলমেট, এম ১৬ সব কিছু খোলা বাজারে বিক্রি করছে,
চিলে কোঠার সেপাই বলেছেন:
দু পর্ব ই পড়লাম।খুব ভালো বিশ্লেষণ।
কায়েস মাহমুদের কমেন্টে আরেকটা জিনিস মনে হলো,হলিউডের সিনেমা। আগে দেখা যেত সমস্ত সিনেমায় মূল ভিলেন হলো রাশিয়ান আর কমিউনিস্টরা ("লিবারেল" বা "কমি" ওদের একটা প্রিয় গালি),ব্যাপকভাবে হিট এসব সিনেমা দেখলে খোদ লেনিনও মনে হয় কমিউনিজম কতটা ভাল সেটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। আর এখনকার সিনেমায় মূল ভিলেন,সন্ত্রাসবাদী,বায়োলজিক্যাল উইপন চোর সব তালেবান নইলে ইসলামী জঙ্গীরা। পাবলিক ভয় না পেয়ে যাবে কই?
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
তালিবান আর জিহাদিদের নিয়ে অন্য যে পোষ্ট দিবেন তার জন্য অবশ্যই পাকিস্তানি তালিবানদের মুখপাত্র হাজি মুসলিম খানের সাক্ষাৎকার দেখুন এশিয়া টাইমস পত্রিকায়,
Click This Link
বিডি আইডল বলেছেন:
@ফারহান....পার্ল হারবারের জাপানি বোমা হামলা আর ১/১১ এর টুইন টাওয়ার হামলায় আমি কেমন যেন একটা সাদৃশ্য দেখতে পাই....সিআইএর ব্যাপক পরিকল্পনার ফল কিনা এইগুলো সেটা অবশ্যই বিবেচ্য
দিগন্ত বলেছেন:
সাম্রাজ্যবাদ আমার কাছে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক পরিণতি, আমার মনে হয়না কোনো রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদী না হয়ে বড়লোক হয়েছে। যে কোরিয়া এককালে সাম্রাজ্যবাদের শিকার ছিল, তারা পরে আমেরিকার সাথে দলবেঁধে ভিয়েতনামে আর ইরাকে সেনা পাঠিয়েছে। এখন চিন, রাশিয়া আর ভারত একই ট্রানজিশনের মধ্যে আছে। মজার কথা এরা সবাই একেক সময়ে সাম্রাজ্যবাদের শিকার ছিল। যাহোক, কেন তালিবানদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অসফল তা পারভেজ হুদভয়ের লেখায় স্পষ্ট আসে। আমার কাছে তার ব্যাখ্যাটাই সঠিক বলে মনে হয়েছে। কিছুটা আবার তুলে দিলাম।
Click This Link
পাকিস্তানি সমাজের কোন অংশ আল কায়দা আর ওসামা বিন লাদেনকে সমর্থন করে?
বালুচিস্তান আর সিন্ধে ওসামার প্রতি সমর্থন পাঞ্জাব আর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের তুলনায় অনেক কম। মজার কথা হল পাকিস্তানের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী নিজেরা পশ্চিম-ঘেঁষা জীবনযাপণ করেন আবার ওসামার প্রতি সমর্থন বা পশ্চিম-বিদ্বেষও তাদের মধ্যেই বেশী। আমি খুবই অবাক হই যখন তালিবান আত্মঘাতী ঘাতকেরা দেশের মসজিদ, শোকসভা, হাসপাতাল, মেয়েদের স্কুল আক্রমণ করে বা নিরীহ পুলিশদের মেরে ফেলে অথচ তাদের বিরুদ্ধে কিছু শোনা যায় না। জনগণ এতটাই আমেরিকা-বিরোধী যে এই ঘটনাগুলোও তাদের মনে দাগ কাটে না। অনেক সময় পাকিস্তানী বামপন্থীরাও তালিবানদের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী শক্তি বলে ভুল ভেবে বসে।
প্রেসিডেন্ট জারদারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে উনি উগ্রবাদীদের খুঁজে তাদের ট্রেনিং ক্যাম্প ধ্বংস করবেন। কিন্তু কাজে সেরকম কোনো লক্ষণ দেখছি না। উনি কি এর চেয়ে বেশী কিছু করতে চান না? নাকি এর থেকে বেশী কিছু করার ক্ষমতাই ওনার নেই?
আসল ক্ষমতা পাকিস্তানের আর্মির হাতে। এই উগ্রবাদীদের সাথে লড়াইতে দু’হাজার সেনা মারা পড়েছে। তাও আর্মি ভেতর থেকে নিশ্চিত নয় যে এই উগ্রবাদীরা পাকিস্তান দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখার পরিপন্থী। আমি এদের এই দ্বিধার কারণ বুঝি। বছরের পর বছর ধরে আর্মিতে এই বুঝিয়ে লোক নেওয়া হয়েছে যে তারা ভারতের সাথে যুদ্ধ করবে ও ইসলামকে রক্ষা করবে। কার্যত, এখন তারা লড়াই করছে এমন এক দলের সাথে যারা ইসলামের আরো বড় রক্ষক। শুধু তাই নয়, আর্মিকে এখন ভারতের সাথে যুদ্ধও করতে হচ্ছে না। এই ধোঁয়াশা থেকেই তাদের ডিমরালাইজেশন আর তার সাথে যোগ হয়েছে গণসমর্থনের অভাব। উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানী সেনাদের অনেকেই তাই যুদ্ধের আগেই আত্মসমর্পণ করে দিচ্ছে।
পাকিস্তান একসময় তালিবানদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে। আল-কায়দার সদস্যদের ধরে দেবার জন্য সদস্যপিছু পাকিস্তানকে সি-আই-এ টাকা দেয়। সেই টাকা নাকি পাকিস্তান উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে তালিবানদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করে?
আর্মি তালিবানদের হাতে পর্যুদস্ত হলেও তারা এখনও “ভাল” আর “খারাপ” তালিবানদের মধ্যে তফাৎ করে। “ভাল” তালিবানেরা শুধু আমেরিকা, ন্যাটো ও ভারতীয়দের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, আর “খারাপ” তালিবানেরা পাকিস্তানের আর্মির বিরুদ্ধেও আক্রমণ চালিয়ে যায়। যখন আমেরিকানরা আফগানিস্তান থেকে চলে যাবে, এই “ভাল” তালিবানেরা তখন আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কে সাহায্য করবে। জালালুদ্দিন হাক্কানি এরকমই এক “ভাল” তালিবান নেতা। আবার মৌলানা ফজলুল্লাহের মত নেতা হলেন “খারাপ” তালিবান কারণ এরা পাকিস্তান আর্মিকেও ছেড়ে কথা বলেন না। আর্মি সাধারণত এদের “ভারতের চর” আখ্যা দিয়ে প্রচার চালায়।
লেখক বলেছেন: সাধারণভাবে একমত। পারভেজ হুডবয় যাকে বলছেন পাকিস্তান আর্মির আদর্শিক সংকট, তা কিন্তু একইসঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বেরও সংকট। রাজনৈতিক দল, আর্মি, সরকার, আমলাতন্ত্র কেউই যখন পাকিস্তানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ভরকেন্দ্র থেকে মার্কিন ধাক্কায় ও পশ্চিমা পুঁজি ও দৌলতের ক্লায়েন্ট হওয়ার বাসনায় সরে গেছে, তখন সেই শূণ্যতার মধ্যে কারো কারো কাছে ইসলামপন্থিদেরই সার্বভৌম শক্তি মনে হতে পারে। এটা ইসলামন্থিদের যোগ্যতার জন্য নয়, একদিকে পাকিস্তানের শাসক ও অন্যদিকে ভারত-মার্কিনের আগ্রাসী নীতিরই প্রতিক্রিয়া। এই দুই থ্রেট সরে গেলে কিংবা পাকিস্তানের জনগণের ভেতর থেকে সার্বভৌম রাজনৈতিক শক্তি গঠিত হলে পরিস্থিতি অন্যভাবে ধরা দেবে।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা গোয়েন্দা এসেট ব্যবহার সকল আধিপত্যকামী রাষ্ট্রেরই পরিচিত কলকব্জা। ভারতও এটা করে, কিন্তু সেটা সামাল দেওয়ার মেকানিজম বা তাকে আড়াল করার কায়দা তার জানা আছে। পাকিস্তানের খায়েশ আঞ্চলিক অধিপতি হওয়া, কিন্তু সেই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও কৌশলী যোগ্যতা তার নাই। তাই, আজ তা গুমুতে মাখামাখি হয়ে বিশ্ব দরবারে শোভা বাড়াচ্ছে।
রাষ্ট্র অতি বিকশিত হলে সাম্রাজ্যবাদ হয়, এটা অতি সরলীকরণ। পুঁজি যে ভূমি, শাসকগোষ্ঠী ও রাষ্ট্রকে আশ্রয় করে অপর পুঁজি গুলোকে ছাপিয়ে ওঠে, সেই রাষ্ট্র ও তার শাসকদের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী প্রবণতা দেখা দেয়। একে বলা যায়, অতি বিকশিত রাষ্ট্র। এ ধরনের রাষ্ট্রের উদয় অন্য কিছু রাষ্ট্রকে তার অধীনস্ত করে তোলে। সেগুলো তখন অকার্যকর, ব্যর্থ, দুর্বল বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হয়ে ওঠে। এই প্রাথমিক উত্থানটা হয় নিজ জাতি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে। ব্রিটেন, জার্মানি, রাশিয়া ও আমেরিকা ছিল গত শতকের উদাহরণ। এদের ক্লাবে এখন যোগ দিয়েছে ভারত-চীন ও জাপান। এর মাঝামাঝি রয়েছে ব্রাজিল, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়ার মতো রাষ্ট্র। এরা কেবলই রাষ্ট্র।
ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে ঘূর্ণি তৈরি করে দানব হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আমাদের চারপাশে ভারত ও চীনও সেই কাজ করছে। ঐতিহাসিক ও সাংষ্কৃতিক কারণে ভারতের সুবিধা দক্ষিণ এশিয়ায় বেশি। সেকারণে আমেরিকার বরাতে পাক-আফগান ও বাংলাদেশ-নেপালে তার থাবা দিনকে দিন বিস্তৃতই হচ্ছে। এ অঞ্চলের নৈরাজ্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ।
ধীবর বলেছেন:
প্লাস ও প্রিয়তে। যে ৯১১ নাটকের উপর ভিত্তি করে এই তথাকথিত জঙ্গিবাদের উত্থান, তা চুলচেরা বিশ্লেষন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে মার্কিন জনগনের ভেতর সেই ফোবিয়া কাটেনি। যারা দেখেননি, তারা ইউটিউবে "লুজ চেইঞ্জ" ছবিটা অবশ্যই দেখতে ভুলবেন না । এখানে অনেক রহস্যের জট খোলা হয়েছে। ফারুক ভাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।
মাইকেল মুরের ডকুমেন্টারী গুলো সবাইকে দেখার অনুরোধ করছি।
আমেরিকার ভয়ের রাজনীতি বেশ পুরনো। বলা চলে আমেরিকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চলে এসেছে।
যে কেউ অস্ত্র কিনতে পারে আর বহন করতে পারে।
[গান ভায়োলেন্সে ১২০০০ হাজারের মতো লোক ২০০৩ এ নিহত হয়েছে।]
গান ইন্ডাষ্ট্রির এই ব্যাপারে তেমন মাথা ব্যাথা নেই ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ব্যাপারে উইকি সার্চ দিয়ে কিছু পেলাম না ।
বিলিয়ন ডলারের ব্যাবসা কে চায় বন্ধ করতে?
ভয়ের রাজনীতিটা খুব সাধারন।
আমরা তোমাদের রক্ষা করবো সারা দুনিয়ার দৈত্যদানোর থেকে ।
ঘুমিয়ে থাকো তুমি ।
কোনো প্রশ্ন করো না।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
[আমেরিকার সাধারন মানুষ যে অনেক সুখে আছে এটাও না কিন্তু
৯০০ ধনীর আধুনিক ক্রীতদাস বলা যায় আমেরিকার মানুষদের।]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
সেই একি জিনিষটা কাজে লাগছে; আজ সোয়াত/পাকিস্তান/আফগানস্তান/ইরাক সব জায়গায় ।
এদের মনোভাব খুব সিম্পল । সবটাই ব্যবসা।
৪০০ মিলিয়ন ডলার নাকি পাক আর্মি নতুন করে দিয়েছে।
এর আগেও ১১ বিলিয়ন ডলার পাকিষ্তান কে দিয়েছে।
এটা সবাই জানে । কিন্তু সবাই যেটা জানে না সেটা হলো
এই অনেকখানিতে বিভিন্ন শর্ত ছিলো যে তাদের অস্ত্রশস্ত্র কিনতে হবে
সবাই নিয়ন্ত্রন - ১০ সালা ২০ সালা পরিকল্পনা খুজছেন।
আমি দেখছি ব্যবসা।
আর এর পিছনে যুক্তি হলো ২য় বিশ্বযুদ্ধের আমেরিকার তুমুল ব্যবসা। ভৌগিলিক অবস্থানগত কারনে
আমেরিকা তখন চুটিয়ে ব্যবসা করে যেতে পারছে।
লর্ড অফ ওয়ার ছবিটা দেখতে পারেন সবাই ।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নাকি সবচে বড়ো অস্ত্রের দালাল
http://en.wikipedia.org/wiki/Lord_of_War
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
রেফারেন্স
Click This Link
Click This Link
এ প্রসংগে একটা গান
Click This Link
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ ধীবর ও শূণ্য আরণ্যক, আপনাদের আলোচনা বর্তমান বিষয়টিকে আরো খোলাসা করছে। আমারো কিছু ধারণা বাড়লো।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ভয়ের রাজনীতিটা খুব সাধারন।আমরা তোমাদের রক্ষা করবো সারা দুনিয়ার দৈত্যদানোর থেকে ।
ঘুমিয়ে থাকো তুমি ।
কোনো প্রশ্ন করো না।
ভাল বলেছেন, এই হলো নিওলিবারেল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা তরিকা। আমাদের দেশও সেই পথে হাঁটা শুরু করেছে। মিডিয়া তাদের বিরাট বাহন। এ নিয়ে লিখবেন নাকি একটা পোস্ট?
একটা প্রশ্ন হলো, আমেরিকা এখন এই অঞ্চলে ঘাঁটি গাড়তে চাইছে কেন ... আফগানিস্তানে যখন তারা গিয়েছিলো ২০০১ এ, তখন একটা মতবাদ শোনা যাচ্ছিলো যে করাচী বন্দরের মাধ্যমে কাস্পিয়ানের তেলের শর্টেস্ট লাইনের জন্য আফগানিস্তানের দখল পাওয়া জরূরী ... জানিনা কতটা সত্য ... তো, গত সাড়ে সাত বছরের ইতিহাস বলে আফগানিস্তানে এরা থিতু হতে পারেনি ... এখন একটা জায়গায় থিতু হয়ে আবার আফগানিস্তান কব্জা করার মরণ কামড় দেবে এটা একটা ব্যাখ্যা হয় হয়তো ...
কিন্তু আমার যেটা খটকা লাগে, সেটা হলো, আমেরিকাকে এ অঞ্চলে গেঁড়ে বসতে দেয়াটা ভারতের জন্য কতটা নিরাপদ? ... পশ্চিমের কিন্তু প্রায়শঃই বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্সা না করার রেকর্ড আছে
শূণ্য আরণ্যকের কমেন্টটাও সেরকম
লেখক বলেছেন: আমার ধারণা প্রতিবেশীদের অস্থিতিশীল করে তোলার প্রতিদান ভারতকে চড়ামূল্যেই শোধ করতে হবে। কিন্তু অন্যদিকে ভারতীয় পুঁজির সাম্রাজ্যবাদী হয়ে ওঠার রসদের জন্য তার আঞ্চলিক শোষণ ও লুন্ঠনও দরকার। একদিকে পুঁজির ক্ষুধা অন্যদিকে জিওস্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ এই দুইই ভারতকে ঠেলে দিচ্ছে এ পথে।
চিলে কোঠার সেপাই বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: চিলেকোঠার সেপাই, ট্রটস্কির ছবি দেখে ভাল লাগলো।আপনার ভালো লাগলো জেনে আমারও ভালো লাগলো।
দিগন্ত বলেছেন:
এর মাঝামাঝি রয়েছে ব্রাজিল, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়ার মতো রাষ্ট্র। এরা কেবলই রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে আমার লেখার ইচ্ছা রইল। এদেরও সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাস আমার জানা আছে
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
সাম্রাজ্যবাদ পুঁজি বিকাশের একটি পর্যায়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের আগ্রাসী খাসলতের থেকে পুঁজির একচেটিয়া হয়ে ওঠার সম্পর্ক বেশি। অনেক রাষ্ট্রই লক্ষণে সাম্রাজ্যবাদী হতে পারে, কিন্তু গুণের দিক থেকে সাম্রাজ্যবাদী হয়ে ওঠার জন্য তার কিছু অবজেকটিভ ফিচার লাগে। লেনিন, হবসবমসহ সম্প্রতি নেগরি এই আলোচনায় অবদান রেখেছেন। লেনিনের থিওরি নিয়ে উইকিপিডিয়া লিখেছে, Lenin developed a theory of imperialism aimed to improve and update Marx's work by explaining a phenomenon which Marx predicted: the shift of capitalism towards becoming a global system (hence the slogan "Workers of the world, unite!"). At the core of this theory of imperialism lies the idea that advanced capitalist industrial nations increasingly come to export capital to captive colonial countries. They then exploit those colonies for their resources and investment opportunities. This superexploitation of poorer countries allows the advanced capitalist industrial nations to keep at least some of their own workers content, by providing them with slightly higher living standards. (See labor aristocracy; globalization.)
For these reasons, Lenin argued that a proletarian revolution could not occur in the developed capitalist countries as long as the global system of imperialism remained intact. Thus, he believed that a lesser-developed country would have to be the location of the first proletarian revolution. This was an open revision of Marx's thesis that such a revolution could only occur in a developed capitalist country.
Click This Link
এটাই মানতে হবে তা নয়, কিন্তু আমি যে অর্থে ব্যবহার করেছি এবং ক্লাসিকালি এর যে ব্যাঞ্জনা তার বাইরে খুব বেশি যাওয়ার সুযোগ নাই। তার জন্য নতুন তত্ত্ব পত্তন করতে হবে। আমার অনুরোধ থাকবে, লেনিনের সাম্রাজ্যবাদ: পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর বইটাকেও যদি কিছুটা এনগেজ করেন তো ভাল হয়। এগুলো হলো:
(1) the concentration of production and capital has developed to such a high stage that it has created monopolies which play a decisive role in economic life: (2) the merging of bank capital with industrial capital, and the creation, on this basis of this "finance capital," of a financial oligarchy; (3) the export of capital as distinguished from the export of commodities acquires exceptional importance; (4) the formation of international monopoly capitalist combines which share the world among themselves; and (5) the territorial division of the whole world among the biggest capitalist powers is completed.
Imperialism is capitalism in that stage of development in which the dominance of monopolies and finance capital has established itself; in which the export of capital has acquired pronounced importance; in which the division of the world among the international trusts has begun; in which the division of all territories of the globe among the biggest capitalist powers has been completed.
http://www.plp.org/vietnam/vn12.html
এর বাইরে আরো সম্প্রতি পল বারান, প্রভাত পট্টনায়েক, সামির আমিন, ইম্মানুয়েল ওয়ালারস্টাইন এ বিষয়ক সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন।
আপনার আলোচনার আগ্রহে রইলাম।
মনওয়ার বলেছেন:
এ অংশটা তুলনামূলকভাবে অনেক অবজেক্টিভ ছিল।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আসলে আমি পলিটিকাল কারেক্টনেসের অবজেক্টিভিটিকে সন্দেহ করি। রাজনীতি কি অবজেক্টিভলি হয়? এগুলো বাড়তি কথা, আমি আপনার সংকেতটা ধরতে পেরেছি। ধন্যবাদ। আপনি লিখতে বলেছিলেন, এখানে কেবল ঐতিহাসিক পর্যালোচনার একটা দিক আছে মাত্র। লড়াইগুলোর তাত্ত্বিক বিচার কিন্তু এটা না।
মজনু পাটোয়ারী বলেছেন:
আপনি এতো কিছু দিয়ে কী বুঝাতে চাইলেন কিছুই বুঝলাম। আমেরিকা ঐতিহাসিক প্রয়োজনে তালেবান তৈরী করেছিল আজ আর প্রয়োজন নেই মেরে ফেলবে। ব্যস এইতো ঘটনা। তা মেরে ফেললেই হয়! ফুরিয়ে গেল। ডেভেলপমেন্টটা এই মুহুর্তে আসল কথা। আমার মনে হয় পাকিস্তানের বর্তমান সরকার সে ব্যাপারে পজিটিভ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














মাঝেই মাঝেই এরকম মনে হয়...মার্কিনরা কিছু জানোয়ার পুষে, সময়ে সেই জানোয়ার হিংস্র হয়। তখন জানোয়ার মারতে গিয়ে মার্কিনিরা নিজেদের ফায়দা লুটে নেয়।