আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

আনু মুহাম্মদের ক্ষুদ্র ঋণের ভাওতা নিয়ে প্রবন্ধ ছাপানোয় সাপ্তাহিক ২০০০ সম্পাদককে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনায় বাধ্য করার প্রতিবাদ জানাই, জানাই ধিক্কার
০৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৪৭
সাপ্তাহিক ২০০০ এর ২২ মে ২০০৯ এর সংখ্যায় ‘ক্ষুদ্রঋণের বৃহৎ বাণিজ্য’ শিরোনাম দিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং ঐ সংখ্যাগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়া বা সমস্ত কপি বিভিন্ন স্টল থেকে কিনে নেওয়া হতে পারে এই ভয়ে আমার ব্লগে আমি সেটি পুনঃপ্রকাশ করি। কিন্তু আমার আশঙ্কার থেকেও খারাপ ঘটনা ঘটেছে। ২০০০ এর সম্পাদক তাদের বর্তমান সংখ্যায় গ্রামীণের কাছে প্রবন্ধটি প্রকাশের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সঙ্গে অবশ্য গ্রামীণ ব্যাংকের তরফে একটি মামুলি প্রতিবাদও ছাপা হয়েছে।
বিষ্ময়ের কিছু নাই। এদেশে সম্পাদক/প্রকাশক/ সাংবাদিকদের অনেকেরই মেরুদণ্ড নামক বস্তুটি নানান মধুমেহনে অনেক আগেই গলে গেছে। তা নিয়ে নতুন দুঃখের কিছু নাই। কিন্তু ব্যাপারটি অন্য দিক থেকে ভয়াবহ। গ্রামীণ তার প্রতিবাদ পাঠাবে, তার সঙ্গে লেখকের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি গুলোও ছাপা হবে, এই শিষ্ঠাচারও আমরা আশা করি না। কিন্তু চাপের মুখে একটি জনপ্রিয় সাপ্তাহিকের সম্পাদককে প্রকাশ্যে অন্যায় ভাবে ক্ষমা চাইয়ে তাকেসহ পত্রিকাটিকে খোলাবাজারে ন্যাংটো করার এই দাপট অসহনীয় ঘৃণ্য ও বাংলাদেশের সংবাদজগতের এক কলঙ্কজনক ঘটনা। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাই এবং আপনাদেরও সামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।
ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে আনু মুহাম্মদের বক্তব্য সঠিক বা বেঠিক সেটি বিচারের জায়গা রাখা হয়নি। আমরাও সেদিকে যাচ্ছি না। আমাদের প্রতিবাদের বিষয়, অতিকায় কর্পোরেটের কাছে মুক্ত সাংবাদিকতার এরকম নগ্ন আত্মসমর্পণ। পুঁজির এরকম আধিপত্য এদেশের মুক্তচিন্তা প্রকাশের পরিবেশের ধ্বংসেরই প্রমাণ। আর এই হলো নোবেল বিজয়ী গরিবের ব্যাংকার, সেনাশাসনের বরপুত্র, কৃষকের মেহনত চোষণকারী, বুশ-রামসফেল্ড-ক্লিন্টনদের পেয়ারের বান্দা ড. ইউনূসের চেহারা।
আনু মুহাম্মদের প্রতিবাদপত্র
সাপ্তাহিক ২০০০ এর ২২ মে ২০০৯ এর সংখ্যায় প্রকাশিত আমার লেখা ‘ক্ষুদ্রঋণের বৃহৎ বাণিজ্য’ নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিবাদ একই পত্রিকার ৫ জুন ২০০৯ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। কিছু বাগাড়ম্বর ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই পত্রে আমার লেখা সংশ্লিষ্ট দুটো বিষয়ে নির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়।
প্রথমত, তাঁরা বলছেন ‘গ্রামীণ’ নামের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কোনভাবেই গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে সম্পর্কিত নয়। বলছেন, ‘১৯৮৩ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রফেসর ইউনুস দেশের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে বিভিন্নরকম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সকল প্রতিষ্ঠানের নামকরণে তিনি সবসময় ‘গ্রামীণ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।’ এভাবে সম্পর্কহীনতা দেখানোর চেষ্টা খুব কার্যকর নয়। বাণিজ্য জগত সম্পর্কে যাদের ন্যুনতম ধারণা আছে তাঁরা জানেন, এখানে কোন বাণিজ্যসফল নাম, গুডউইল, যোগাযোগ, ক্রেডিবিলিটি টাকাপয়সার পুঁজির চাইতে কোন অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক এধরনের কোন কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে গ্যারান্টি দিয়েছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সুবিধার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ও ‘দারিদ্রবিমোচন’ সুনাম ব্যবহার করা হয়েছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বাজারজাতকরণে ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে এর গ্রহীতাদের ব্যবহার করা হয়েছে সেসব তথ্য খুব দুর্লভ নয়। স্থানাভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত এই লেখায় যায়নি। আশা করি শীগগিরই এগুলো নিয়ে আলাদা লেখা প্রকাশ করতে পারবো।
তবে এখানে এতটুকু বলা যায় যে, গ্রামীণ ব্যাংকের সামগ্রিক বিষয়ে ঋণগ্রহীতা লক্ষ লক্ষ গরীব মানুষ এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ধারণা স্বচ্ছ করবার সবচাইতে ভাল ও ‘অফিসিয়াল’ উপায় হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত সব অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা। আশা করি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তথ্য অধিকারের প্রতি সন্মান জানিয়ে জনস্বার্থে এগুলো প্রকাশ করবেন।
দ্বিতীয়ত, আপত্তি করা হয়েছে সুদের হার নিয়ে। প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সর্বনিম্ন, শুণ্য হারে ভিক্ষুকদের ঋণ দেয়া হয়। বস্তুত আমার প্রবন্ধে সুদের হার নিয়ে বিশেষ কোন আলোচনা করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ‘ক্ষুদ্রঋণের সুদ বিভিন্ন হিসাবে এবং সংস্থা ও ক্ষেত্র ভেদে গড়ে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ।’ এটি আমি উল্লেখ করেছি বিভিন্ন গবেষণার বিভিন্ন হিসাব সারসংক্ষেপ করে। আর সুদের হারের উল্লেখ করবার সময় দেয়া হয়েছে গড় হিসাব। স্বভাবতই খুবই ক্ষুদ্রসংখ্যক ঋণগ্রহীতা নিয়ে ভিক্ষুকদের ঋণদানের ‘বিশেষ প্রকল্প’ কোন আলাদা গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়নি। আমার এই লেখায় বরং মূল আলোচনা করা হয়েছে কিস্তি আদায়ের নিয়ম ও নিপীড়ন নিয়ে। এবং কেন কী কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে এই মডেলটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থার পরিবর্তন বা নারীর ক্ষমতায়নে অকার্যকর হয়ে পড়ে সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন আপত্তি প্রকাশ করেননি।
আমি আমার লেখায় সামগ্রিকভাবে ক্ষুদ্রঋণ মডেল এবং নির্দিষ্টভাবে গ্রামীণ ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেছি। এই পর্যালোচনায় তথ্যসূত্র হিসেবে আমি ব্যবহার করেছি এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকাশনা এবং গত এক দশকেরও বেশি সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা।
আমার লেখার মূলদিকগুলো ছিল: (১) ক্ষুদ্রঋণ বিশ্বব্যাপী কীভাবে বিস্তৃত হয়েছে তা পরীক্ষা করা, (২) এই বিস্তৃতির মধ্য দিয়ে বহুজাতিক পুঁজির সঙ্গে তার সম্পর্ক, (৩) এসম্পর্কে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গী, (৪) ক্ষুদ্রঋণের সঙ্গে নানাভাবে সম্পর্কিতভাবে বৃহৎ বাণিজ্যিক সংস্থার উদ্ভব ও তার বিস্তার, (৫) ঘোষিত মূল লক্ষ্য দারিদ্র বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে এই কার্যক্রমের ফলাফল পরীক্ষায় বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা, (৬) ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা ও কিস্তি আদায়ের মাঠ পর্যায়ের চিত্র।
উপরের দুটো বিষয় ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই লেখায় সন্নিবেশিত তথ্য, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোন দ্বিমত প্রকাশ করেননি বা প্রতিবাদ জানাননি। এই হিসেবে বিভিন্ন গবেষণা, মাঠকর্ম এবং গ্রামীণ ব্যাংকের নিজস্ব তথ্যাবলী বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, ‘........অতএব বৃহৎ বাণিজ্যের একটি সফল মাধ্যম হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ মডেল অবশ্যই স্বীকৃতি পেতে পারে। কিন্তু দারিদ্র বিমোচন কিংবা নারীর ক্ষমতায়নে এর সাফল্যের দাবি ভ্রান্ত ও প্রতারণামূলক’ তা তারা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন।
একই সংখ্যায় গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই প্রতিবাদপত্রের নীচে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে সাপ্তাহিক ২০০০ এর সম্পাদকের যে ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ মুদ্রিত হয়েছে তা খুবই করুণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, লেখার প্রতিবাদ মুদ্রণের পর লেখক হিসেবে আমার বক্তব্য ছাপার কথা। কিন্ত তার আগেই সম্পাদক যেভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তাতে ক্ষমতার দাপটের কাছে তাঁর পরাজয় ও আত্মসমর্পণই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে।
আনু মুহাম্মদ
অর্থনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
৭ জুন ২০০৯
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৪৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
খুবই দুঃখজনক ঘটনা। যারা এত ভাল ভাল কথা বলে, তাদের নিজের ঘাড়ে যখন দোষ পড়ে, তখন তাদের চেহারা বদলে যায়। ভয়াবহ একটা চেহারা দেখা যায় তখন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
সাবাস ফারুক ভাই...স্যালুট। আছি লগে...+
বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
হুমম, গ্রামীণ থেকে ৪০০ তরুণকে সম্প্রতি একযোগে বরখাস্ত করা হয়, দিনের পর দিন চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় তারা প্রতিবাদ, অনশন, স্বাক্ষর সংগ্রহ ইত্যাদি করে যাচ্ছে। অথচ কোথাও তাদের খবর প্রকাশ হতে দেখি না। ক্ষুদ্রঋণের দায় মাথায় নিয়ে আত্মহত্যা বা গ্রাম ছাড়ার সংবাদও কেউ ছাপে না। ইউরোপ জুড়ে টেলিনরের বাংলাদেশে শিশুশ্রম ব্যবহার নিয়ে শোরগোল উঠলেও এদেশের কেউ যেন কিচ্ছুটি জানে না। বলিহারি এ দেশের সংবাদমাধ্যম। তাদের লজ্জা এত বেশি যে, সবাই মুখ ঢেকেছে বিজ্ঞাপনে।
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
ধষ্যবাদ ভাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।
লংকার রাজা বলেছেন:
সবাই মুখ ঢেকেছে বিজ্ঞাপনে,তারপরও সাপ্তাহিক ২০০০ এর ঐ সংখ্যাটি সত্যি অনেক সাহসী ছিল। ভেবেছিলাম এর পর হয়ত অন্য মিডিয়া প্রতিষ্ঠানলোও কিছি লিখবে, এখন হচ্ছে উল্টোটা।
লেখক বলেছেন: ২০০০ এর ঐ সংখ্যাটি সত্যি অনেক সাহসী ছিল।
কিন্তু সেই সত্যি বলার সাহসটা আসলে একা একা পারবে না। সমাজের মধ্যে এগুলো নিয়ে জোরেশোরে কথা না বললে পত্রিকা একা পারবে কী করে?
এই উল্টোটা সোজা হবে না নাকি এই দেশে আর?
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাই।
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
বলিহারি এ দেশের সংবাদমাধ্যম। তাদের লজ্জা এত বেশি যে, সবাই মুখ ঢেকেছে বিজ্ঞাপনে। - এই মন্তব্যে ঝাঝা।
প্রতিধ্বনি, তুমিতো বলেছেন:
+++
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
মূল লেখাটা আমি পড়েছি। সংগ্রহেও আছে। ক্ষমা প্রার্থনা করাতে খুবই আশ্চর্য হয়েছিলাম। আপনার এই পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
ফারজানা ববি বলেছেন:
ক্ষমতার দাপট আর একবার প্রকাশ্যেই দখিয়ে দিল গ্রামীণ। তার পরও কি আমাদের একটু বাধবে না ইউনূসের শান্তিতে নোবেল পাওয়া নিয়ে গর্ব করতে । বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ক্রিয়ায় তাকে প্রধান করে গদ গদ হতে!
রাসেল ( ........) বলেছেন:
টাকার অঙ্ক আর প্রভাবের আলাদা একটা মূল্য আছে।এভাবে সবার সামনে ইউনুসের কাছা খুলে নেওয়া কোনো ভাবেই বরদাশত করবে না কেউ।
বিশেষত এই মুহূর্তে যখন বারাক ওবামা এই পদ্ধতিতে আমেরিকার দারিদ্রহ্রাসের পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।
সে সময়ে যদি এইসব নিয়ে উচ্চকিত হয় মানুষ, সেটা বড় মাপের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা হিসেবে এই ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করবে। শুধু গ্রামীণ নয়, আদতে এই মডেলের ব্যর্থতা বিশ্বজুড়ে শোভন ড্রইংরুমের দারিদ্রবিমোচন মানবতাবাদী শোষণকে নাঙ্গা করে দিবে বলেই এতটা চাপ।
আনু মুহাম্মদ এই তথ্য দিয়ে কোনো জার্নালে কিছু প্রকাশ করতে পাঠালেও সম্ভবত সেই প্রবন্ধের একই পরিণতি ঘটতো।
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
ধিক গ্রামীণ এর আগ্রাসন ও ক্ষমতার দাপটকে। @রাসেল:
আনু মুহাম্মদ এই তথ্য দিয়ে কোনো জার্নালে কিছু প্রকাশ করতে পাঠালেও সম্ভবত সেই প্রবন্ধের একই পরিণতি ঘটতো।
ঠিক।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
গ্রামীণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি কাজ করেছিলেন সমাজতাত্ত্বিক আমিনুর রহমান। তিনি এখন বিদেশে। ভদ্রলোকের বই ওয়েবসাইট এসব নানাভাবে বাধাগ্রস্থ হয়েছে। গ্রামীণ নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তেমন গবেষণা হতেও দেখা যায় না। ধরে নেওয়া হয়েছে যে, সূর্য যেমন পূর্ব দিকে ওঠে তেমনি ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। এ দুটো ব্যাপার যেন স্বতঃসিদ্ধ, এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেন শিরক করা।
তানিম হুমায়ুন বলেছেন:
সম্পাদকের ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা আসলেই একটি করুণ দৃষ্টান্ত। তবে এই ঘটনায় গ্রামীণের তেলতেলে মুখোশ ভেদ করে ভেতরের ক্রূর মুখাবয়বটা বেরিয়ে এসেছে। এটাই আনু মুহাম্মদের মূল প্রবন্ধটির সার্থকতা।
লেখক বলেছেন: এরা আরো অনেক দিন রাজত্ব করবে, করুক, কিন্তু কোনোরকম মানবসেবা বা নৈতিক শুদ্ধতার দাবি এদের করতে দেওয়া যাবে না। এদের মুখোশ খুলে ফেলায় এদের শোষণের শিকারদের উপকার না হলেও একটি মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী ফানুস তো ফাটবে। এই মধ্যবিত্ত বিশ্বাস করে কিছুই বদলানোর প্রয়োজন নাই, প্রয়োজন গ্রামীণের ক্ষুদ্রঋণ, এডিবি-ডব্লিউবির বিনিয়োগ আর ব্র্যাকের জনসেবা আর মার্কিন-ভারতের করুণা। এটা ভেবেই দায় খালাস করে তারা ঘুমাতে যান সঙ্গম শেষের নির্ভার আমোদ বুকে নিয়ে।
লেখক বলেছেন: নিশ্চয়ই চাকরিস্থলনের চাইতে নৈতিক-স্খলন উত্তম। তিনি ভাবতে পারতেন যে, তাঁর একার আপস গোটা সমাজকেই কলঙ্কিত করছে। তিনি ভাবতে পারতেন আরেকবার।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
আনু মুহাম্মদের প্রতিবাদপত্র দেখেছি ফেসবুকে নাসরিন সিরাজেরসৌজন্যে ।
আপনার বক্তব্য সমেত বিষয়টি ব্লগে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ।
এই প্রতিবাদ মিছিলে আমি সাথে আছি ।
অফটপিকঃ গ্রামীন আর ইউনুসের বানিজ্য নিয়ে সর্বজনাব বদরুদ্দীন উমরের কাজগুলি যদি ব্লগে দিতেন , তবে ভাল হত।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
দিন না কেন? এক হাতে আর কাঁহাতক করা যায়!
দ্বিধা বলেছেন:
ধিক্কার.. ধিক.
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
হুম, ধিক!!!!
ভালো-মানুষ বলেছেন:
ড. ইউনুসের নোবেল প্রাপ্তির পেছনে আছে দারিদ্যচাপে পিষ্ট এশিয়া আর আফ্রিকার দেশগুলিতে বৃহৎ পুঁজিপতিদের গ্রামীণ স্টাইলে ক্ষুদ্র ঋণ বানিজ্যের বিপুল সম্ভবনা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটাই সত্য যে এরা এখন অর্থনীতির টুঁটি চেপে ধর্তে পারে যখন খুশি তখন। আনু মোহাম্মদ তারই এক নমুনা মাত্র। তীব্র ঘৃনা ও ধিক্কার জানাই।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
২০০০ কাঁচা কাজ করেছে বলে আমরা জানতে পারছি, কিন্তু এভাবে এদেশের এনজিও মহল মিডিয়া স্ট্যাবলিশমেন্টের সঙ্গে মিলে কত কিছুর যে টুঁটি চেপে ধরে তার ইয়ত্তা নেই। বাচ্চাদের ভিটামিন এ খাওয়াতে গিয়ে আসলে কী খাওয়ানো হলো, তা কি আমরা কখনো জানতে পারবো?
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
সাপ্তাহিকের ২০০০ সম্পাদকের পদ থেকে এর আগে গোলাম মর্তুজাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।মর্তুজার তুলনায় মইনুল আহসান সাবের অনেক আপোষকামী।তাই বলে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা!বিজ্ঞজনদের অনেকের মেরুদন্ডই দেখি ইলাস্টিক ধাঁচের।
সাপ্তাহিক ২০০০ প্রথম-আলো, ডেইলিস্টার মিডিয়া গ্রুপের।আমি এই গ্রুপের মধ্যে মিডিয়া-মুঘল হওয়ার তীব্র খায়েশ দেখতে পাচ্ছি।
আর ইউনুস সাহেবের ব্যবসার লাভের দিকটি বাইরের ব্যবসায়ীর ভালোই ধরেছে। বিনাপুঁজিতে এমন লাভজনক ব্যবসা দুনিয়াতে আর আছে কি!
সুতরাং দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় মিডিয়াও এসব খবর আর ছাপবে না।
রাজীব_নন্দী বলেছেন:
এদেশে সম্পাদক/প্রকাশক/ সাংবাদিকদের অনেকেরই মেরুদণ্ড নামক বস্তুটি নানান মধুমেহনে অনেক আগেই গলে গেছে। ' ---ভালোই হয়েছে। এ অন্যায়।
তাই সামিল হলাম প্রতিবাদে।
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
কয়েক মাস আগে আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন Creatve Capitalism শিরোনামে বড়োসড়ো রিপোর্ট ছেপেছে। বিশ্বখ্যাত পুঁজিবাদীদের ছোট তালিকায় আমাদের গর্ব মহামতি (!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!???????????????????????) ড. মুহম্মদ ইউনুসের ছবিসহ বর্ণনাও যুক্ত হয়েছে ( আহা বেশ বেশ বেশ !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!)১৯৯৯ সালে একটা ট্রেনিং কোর্সে ক্ষুদ্রঋণের সমালোচনা করে বিপদে পড়ার দশা হয়েছিলো। সে বছর থেকেইতো ক্ষুদ্রঋণ জাতে ব্রাক্ষ্মন হয়ে উঠেছিলো। সেদিন বলেছিলাম, আমাদের দরিদ্র মানুষেরা দারিদ্রের দুষ্টচক্র থেকে বের হবার নাম করে ঋণের দুষ্টচক্রে বন্দী হয়ে যাচ্ছে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আপনি এসেছেন দেখে ভাল লাগলো কামাল ভাই। ধন্যবাদ মূল্যবান মন্তব্যের জন্য। ধন্যবাদ রাজীব।
কার্ল মার্কস বলেছেন:
মইনুল আহসান সাবেরকে এখনো ভালো মানুষ বলে জানি। দিব্য প্রকাশের মত সফল প্রকাশনীর মালিক। কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট। টাকা বা খ্যাতির অভাব তার নাই। তিনি কেন এই কাম করলেন বুঝলাম না? তার পদত্যাগ করা দরকার ছিল।ধিক সুদখোর মহাজন ইউনুছ+গ্রামীন
শাহেনশাহ বলেছেন:
অনেকদিন পর আপনার লেখা পড়ার সুযোগ পেলাম, সেই প্রতিবাদী ধারালো লেখনী! একটা টু-ডু লিস্টের মত করা উচিৎ, যাতে করে সর্বদিক দিয়ে প্রতিবাদ ফেনিয়ে উঠে। হয়তো গণমাধ্যমে সেটা সম্ভবনয়, কিন্তু বিকল্প পথে সবাই মিলে অগ্রসর হতেই পারি।
আর ক্ষুদ্রঋণের কনসেপ্ট ব্রাক্ষণ, কারন এটার বিকল্প কিছু নাই আর এটা হচ্ছে দাদনের চেয়ে হাজার গুণে সুশীল। এ ব্যাপারে আনু স্যারদের উচিৎ বিকল্প কোনো কনসেপ্ট দাঁড় করানো।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















গ্রামীণের স্ট্রিক্ট মডারেশন