আমার প্রিয় পোস্ট

হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

জরুরি পোস্ট: ইরানে অচলাবস্থা, মার্কিনের রেজিম চেঞ্জের নতুন খেলা (সংযোজিত

১৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:২০

শেয়ারঃ
0 9 0

‘‘গরিবদের কাছে দিনবদল মানে খাদ্য ও কর্মসংস্থান, খোলামেলা পোশাক আর ছেলে-মেয়ের অবাধ ফুর্তি নয়...ইরানের রাজনীতির কেন্দ্র ধর্মে নয় শ্রেণী সংঘাতে।’’ ফাইনান্সিয়াল টাইমস সম্পাদকীয়, ১৫ জুন, ২০০৯

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগের কায়রো ভাষণে বারাক ওবামা পঞ্চাশের দশকে স্বাধীন ইরানের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদের কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। সেই দুঃখ যে কপট, তার প্রমাণ ইরানের নতুন নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদের জন্য অর্থ, কূটনৈতিক ও মিডিয়ার চাপ এবং ইরানের অভ্যন্তরের একটি কায়েমি মহলকে উস্কে দেওয়া। বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে আমেরিকা প্রভাবিত করতে চায়নি? গাজা, ভেনেজুয়েলার পর এখন ইরানের নির্বাচনের ফলকেও তারা উল্টে দিতে চাইছে। (সত্তরের বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলও কি তারা মেনে নিয়েছিল?) লেবাননের নির্বাচনকে যেভাবে তারা কিনে নিয়েছে ইরানের নির্বাচনকে সেভাবে কিনতে না পারার অস্থিরতাই কি তাদের আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে না? মার্কিন ইহুদি লবি এখন বিপন্ন বোধ করছে। তাই নেতানিয়াহুর চেলারা নির্বাচন জালিয়াতির ধুয়া তুলে ওবামার সঙ্গে আহমাদিনেজাদের বৈঠককে ভেস্তে দেওয়ায় খুবই সক্রিয়।

সবই চলছে পাণ্ডুলিপি অনুসারে। ইরানের নতুন সরকারকে ভোট জালিয়াত বলে অভিযোগ করে, আহমাদিনেজাদকে ইরানের জনগণের নিপীড়নকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সাদ্দামের মতো অপসারণ করার পরিকল্পনা ধরে অগ্রসর হচ্ছে তারা।

সরকার-কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত মার্কিন মিডিয়া, ব্রিটিশ সরকারের বিবিসিÑ যারা গাজার দুঃস্থ শিশুদের জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন পর্যন্ত প্রচার করেনি কিংবা কাতারের ধনকুবের আমীরদের আল জাজিরা; যার যার সরকারের ইরান-বিদ্বেষের চিহ্নই বহন করে চলেছে। সাম্রাজ্যবাদী আর তাদের পুঁজিবাদী-রাজতন্ত্রী খয়েরখাঁ-রা তাদের কমন শত্র“ ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। হঠাৎ গজানো ইরান বিশেষজ্ঞদের নোংরা বচনে ভরপুর সংবাদ জগত চালাচ্ছে মিথ্যাকে সত্য বলার গোয়েবলসিয় প্রচার। সবকিছুই এক ব্যক্তিকে অপদস্থ ও পরিত্যক্ত করবার জন্য। তাঁর নাম আহমাদিনেজাদ, ইরানের জাতীয়তাবাদী নেতা। তবে, এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের সারকোজি ছাড়া আর কোনো ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধান ইরানের নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জালিয়াতি বলেননি। তাদের বক্তব্যের ঝোঁক মুসাভিপন্থিদের দমন না করার দিকে।

অনেকেরই চোখে আহমাদিনেজাদ নিতান্তই এক ইহুদি-বিদ্বেষী মৌলবাদী। (সেটা প্রমাণের জন্য তারা তাঁর ইসরায়েলকে নিয়ে একটি ফার্সি উক্তির ভুল অনুবাদ করে কুৎসা রটায়। তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসে ইহুদিবাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু প্রচার করা হয় তিনি নাকি বলেন, ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকবে না।) কিন্তু অন্য আহমাদিনেজাদ, যিনি তাঁর দেশের স্বাধীনতার রক, যিনি টেলিভিশনে অভিজাতমহলের দুর্নীতি ফাঁস করে দেন এবং যিনি দেশের তেলসম্পদ ব্যবহার করে সংখ্যাগরিষ্ঠ গরিব মানুষের অবস্থার উন্নতির জন্য সচেষ্টÑ পশ্চিমা গণমাধ্যমে ইরানি প্রেসিডেন্টের সেই ভাবমূর্তি কখনো দেখানো হয় না।

ঠিক একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ব্রিটেনের ১৯৪৫ সালের নির্বাচনের পর। ‘‘তারা শ্রমিক সরকার (লেবার পার্টি সরকার, যাদের মতাসীন হওয়া ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল) নির্বাচিত করেছে, দেশ এটা মেনে নেবে না’, ১৯৪৫ এ ব্রিটেনের নির্বাচনি ভূমিধসের পর এক অভিজাত এই উক্তিটিই করেছিল। পাশ্চাত্যের রাজধানীগুলোও আজ মরিয়া হয়ে আহমাদিনেজাদের পিছু হঠা দেখতে চাইছে।

এটা ঠিকই যে মির হোসেন মুসাভির সমর্থন রাজধানীর ধনী বৃত্ত ছাপিয়ে গেছে। ইরানের মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশ, ছাত্র ও ধর্মনিরপেতাবাদীরা মুসাভির পেছনে জড়ো হয়েছে। অথচ এই অভিযোগকারীদের দল কিংবা তাদের আন্তর্জাতিক মিত্ররা এখন পর্যন্ত কোনো ওজনদার প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

পশ্চিমা গণমাধ্যম তবুও আনন্দের সঙ্গে তেহরানের বনেদি তরুণদের বিক্ষোভের দৃশ্য প্রচার করে চলেছে। মুসাভি যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণ, সমষ্ঠির ঊর্ধ্বে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পাশ্চাত্যের সঙ্গে মাখামাখির পক্ষে (আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায়িরাও সেটাই চায়), সেখানে আহমাদিনেজাদ সরকারি কর্মচারিদের বেতন ও অবসর ভাতা বাড়ান এবং গরিবদের দেন ঋণ মওকুফের সুবিধা ও সহজ সুদের ঋণ। থাকতে চান স্বাধীনচেতা, জাতীয় সম্পদের হেফাজতকারী। মুসাভি ‘মুক্তবাজারি পুঁজিবাদের’ পক্ষে তিনি তেলসম্পদ বেসরকারি খাতে (মার্কিন-ব্রিটিশ তেলকোম্পানিদের হাতে!) ছাড়তে চান, বন্ধ করতে চান আহমাদিনেজাদের গরিবমুখী সামাজিক সহযোগিতা কর্মসূচি। তাই বিষ্ময়ের কিছু নেই যে, শ্রমিক শ্রেণী, ধর্মমনা মানুষ এবং গ্রাম-মফস্বলের অধিকাংশ গরিব মানুষের মধ্যে আহমাদিনেজাদ জনপ্রিয় থাকবেন। ২০০৫ সালের মতো জনপ্রিয়তা ধরে রাখাও তাঁর জন্য কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। গত মাসে নিরপেক্ষ মার্কিন জরিপ সংস্থা টেরর ফ্রি টুমরো এবং সেন্টার ফর পাবলিক ওপিনিয়ন এর জরিপেও উঠে আসে যে, আহমাদিনেজাদ ২: ১ এর থেকেও বেশি ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন। টাইমস পত্রিকাও ঘোষণা করে যে, আহমাদিনেজাদই জয়ী হবেন।

মার্কিন জরিপ সংস্থাটি বলছে, ‘আমাদের জরিপে আহমাদিনেজাদের সমর্থনের ভিত্তি অনেক ব্যাপক। মুসাভি নিজেকে আজেরি বলে জোর দিলেও আজেরিদের মধ্যে আহমাদিনেজাদের সমর্থন মুসাভির দ্বিগুণ। (অথচ মুসাভি সমর্থকদের অভিযোগ হলো নিজ জাতিগোষ্ঠী আজেরিদের মধ্যে মুসাভি আহমাদিনেজাদের অর্ধেক ভোট পেতে পারেন না। যেন জাতি পরিচয় শ্রেণী ও অর্থনৈতিক স্বার্থের থেকে বড় হতেই হবে!_অনুবাদক)

...ইরানের সব বয়সীদের মধ্যে ১৮-২৪ বছর বয়সীরাই হলো আহমাদিনেজাদের শক্ত ভিত্তি। একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, গ্রাজুয়েট ও শহুরে বিত্তবানদের মধ্যে মুসাভি জনপ্রিয়। আমেরিকার এনবিসি টেলিভিশনে তরুণ ইরানীদের দেখানো হয়েছে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে সংষ্কারের দাবি তুলছে। কিন্তু বাস্তবে মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ ইরানি ইন্টারনেট ব্যবহার করে।...ইরানি কর্তৃপ যে ফল ঘোষণা করেছে তা আমাদের জরিপেরই দর্পণস্বরূপ। এটা বড় আকারের জালিয়াতি হতেই পারে না।’’

এসব কিছুর পরও, যেই তেহরানের রাস্তায় মুসাভির সমর্থকরা ‘সবুজ বিপ্লবের’ ডাক দিল, কারচুপির প্রমাণহীন অভিযোগ তুললো, অমনি আহমাদিনেজাদের সমর্থনের নজিরগুলো সবাই যেন ভুলে গেল। বিরোধীদের অভিযোগের প্রধান ভিত্তি হলো কিছু কিছু আঞ্চলিক ভোটের ফল এবং তড়িঘড়ি করে সরকারি ভাবে ফল ঘোষণা। অথচ ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগে মুসাভি নিজেই তাঁর বিজয় ঘোষণা করেছিলেন। ফলত সরকারও প্রতিক্রিয়া করতে বাধ্য হয়। খেয়াল করলেই বোঝা যায় যে, ফলাফল তেমন অস্বাভাবিক নয়। মুসাভি প্রায় চার লাখ ভোটে তেহরানে জয়ী হয়েছেন, কেননা রাজধানীতেই বেশি অবস্থাপন্নদের বাস। আবার রাজধানীরই গরিব এলাকায় তিনি শোচনীয়ভাবে হেরেছেন। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যেকার এক কোটি দশ লাখ ভোটের ব্যবধান জালিয়াতির ফল বলে বিশ্বাস করা কঠিন! কাণ্ডজ্ঞান দিয়েই চিন্তা করুন, আপনার দেশ ইসরায়েল ও আমেরিকার পরমাণু হামলার হুমকির মুখে, আপনার দেশ আরবের একমাত্র গর্ব, আপনার জাতি আত্মসম্মানসম্পন্ন ও জাতীয়তাবাদী আত্মবিশ্বাসে বলীয়ন, এরকম অবস্থায় আপনি কি আপনার দেশের সেরা রককে পরিত্যাগ করবেন? তার মতো সৎ ও দুর্নীতিহীন নেতাকে ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পুতুল সরকারকে কি আপনি ভোট দেবেন? দিলেও কতজন তা দেবেন???

ইরানি জনগণ আহাম্মক নয় যে, খোলামেলা পোশাক, অবাধ যৌনতার সুযোগ আর পুঁজিবাদী খায়েশের জন্য তারা বিদ্যমান কল্যাণমূলক অর্থনীতি, খেয়েপরে থাকার নিশ্চয়তা আর জাতীয় স্বার্থকে বিকিয়ে দেবে! কিন্তু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা সেটাই শেখাচ্ছেন। ইরানের রাজপথে পশ্চিমা মদদপুষ্ট মুসাভির সমর্থকদের বিােভ যতটা নন্দিত, একই সময়ে আহমাদিনেজাদের সমর্থনে ল ল লোকের সমাবেশ ততটাই আড়াল করা হয়। আইরিশ টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক খেয়াল করেন, ‘কোনো কোনো এলাকায় মানুষের মনোভাব উৎসব মুখর। লাখ লাখ মানুষ নতুন করে পুননির্বাচিত প্রেসিডেন্টের পে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে মিছিল করতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে’। তেহরান এখন দ্বিধাবিভক্ত। গরিব প্রধান দণি তেহরানের বিজয়মুখরতা আর উত্তর তেহরানের অভিজাত অঞ্চলের বিােভ যেন দুই আলাদা শহরের চিত্র।

এই বিভাজন ইরানের শাসকবৃত্তের বিভাজনেরই চিহ্ন। প্রধান নেতা খামেনি ও সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট রাফসানজানি ও খাতামির দ্বন্দ্বেরই প্রকাশ ঘটছে আহমাদিনেজাদ বনাম মুসাভির দ্বন্দ্বে। রাফসানজানিকে একসময় বলা হতো ‘হাঙ্গর’ পরে বলা হয় ‘ধূর্ত শেয়াল’ আর এখন ‘কিংমেকার’। আহমাদিনেজাদ রাফসানজানির দুর্নীতি ও পশ্চিমাদের সঙ্গে যোগসাজশ ফাঁস করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকিও দিয়েছেন। শাসকদের এই দুই বৃত্ত আসলে জনমুখী জাতীয়তাবাদ আর মার্কিনপন্থি পুঁজিবাদের দ্বন্দ্ব আকারেই দেখা দিয়েছে। যার জন্য একদিকে গরিব-মেহনতি-নিম্নবিত্ত অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পশ্চিমাপন্থি ভোগবাদী এলিট মহল। এখানে বলা দরকার যে, মুসাভির মুরুব্বি রাফসানজানি ইরানের ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ ও বিজনেস এলিটদের নিজের পক্ষে টানতে পেরেছেন। ইরান জুড়ে কয়েকশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্কও তাঁর অধীনস্ত।

ইরানের সমাজের এই শ্রেণী বিভাজন পশ্চিমা গণমাধ্যমে উপেতি। তারা কেবলই ধর্ম দেখে, মানুষের বাস্তব স্বার্থের পে দাঁড়ানোকে দেখে না। মুসাভির তথাকথিত সংষ্কার আন্দোলনের সমর্থন কেবল সুবিধাভোগী শ্রেণীর মধ্যে। সমাজের নিচুতলায় এর সমর্থন কম। মুসাভি গোষ্ঠী ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরেকটু নরম কণ্ঠে কথা বলতে চায়। যদিও তারা ইরানের পারমানবিক বোমা অর্জনের পক্ষে। কিন্তু তারা হামাস ও হিজবুল্লাহকে সমর্থন করে না। অন্যদিকে আহমাদিনেজাদপন্থিরা বিশ্বাস করে, কেবল দৃঢ়তার মাধ্যমেই আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে পাশ্চাত্যের স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। মুসাভি যতই সংষ্কারের কথা বলুন না কেন, ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তিনি গণহারে বিরোধীদের হত্যা করেন। এদের বেশিরভাগই ছিল বামপন্থি কর্মী। ইরাক-ইরান যুদ্ধেও তাঁর ভূমিকা প্রবল ছিল। ঐ যুদ্ধে প্রায় দশলক্ষ ইরানি পঙ্গু বা নিহত হয়। সেই আমলে তাঁকে ‘অতি-রক্ষণশীল’ বলা হতো। এবারেও তাঁর পেছনে রয়েছে ইরানের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট আলী আকবর রাফসানজানি, খাতামি ও মোল্লাতন্ত্রের একটি অংশ। রাফসানজানি ইরানের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার গ্রুপ ইরানের তেলসম্পদের বেসরকারিকরণ চায়। আহমাদিনেজাদ চান দেশের ধন-সম্পত্তির পুনর্বন্টন, তা এরা মানতে নারাজ।

ইরান এখন ফিলিস্তিন থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কেন্দ্রে চলে এসেছে। ইরাকে বুশ সরকারের বিপর্যয়কর ব্যর্থতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এখনো শেষ হয়নি। সেই লক্ষ্যে ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। গত ১৫ জুন পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান মির্জা আসলাম বেগ সেখানকার পশতু রেডিওতে বলেন যে, ইরানের নির্বাচনে মার্কিন হস্তক্ষেপের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। ‘দলিলপত্র প্রমাণ করছে সিআইএ সেখানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে মসনদ উল্টে দিতে ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।’ এ ধরনের বিপ্লব তারা করেছিল জর্জিয়া ও ইউক্রেইনে। এটা সম্ভব যে, ইরানের রাজনীতির গৌণ চরিত্র মুসাভি তাদের কেনা গোলাম, তাকেই হয়তো ভাবা হচ্ছে ইরানের জারদারি/কারজাইয়ের চাকরির উপযুক্ত বান্দা হিসেবে।

এর মধ্যে ইরাক ও আফগানিস্তানে প্রতিরোধ যুদ্ধ ও সহিংসতা আরো বাড়ছে। শহরগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে আনা হচ্ছে। আফগানিস্তানে আরো ২১ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে দখলদারিত্বকে স্থায়ি করার ব্যবস্থা নিচ্ছেন ওবামা। ন্যাটো বাহিনীর ওপর আক্রমণও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আফগান যুদ্ধ প্রতিবেশী পাকিস্তানেও ছড়িয়ে গিয়ে ২০ লাখের মতো উদ্বাস্তু সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির উত্তরপিশ্চম অঞ্চলে মার্কিন ড্রোন হামলায় বেসামরিক হত্যাযজ্ঞ ঘটাচ্ছে।
কেউ যদি এসব থেকে ভেবে থাকেন যে, পশ্চিমা দখলদারিত্ব অতীতে পরিণত হতে যাচ্ছে তবে তিনি ভুল ভাবছেন। মার্কিন প্রতিরা মন্ত্রী রবার্ট গেটস এর কথা প্রতিধ্বনিত করে ব্রিটিশ সেনাপ্রধান সম্প্রতি বলেছেন, ‘ইরাক ও আফগানিস্তান কোনো ভুলের পরিণাম নয়_ তারা হলো ভবিষ্যতের দিকচিহ্ন’।

এরকম এক অবস্থায় ভেতর থেকে ইরানকে নড়িয়ে দিয়ে স্বাধীন আঞ্চলিক শক্তি থেকে তাকে নির্জীব করে ফেলা হবে আমেরিকার জন্য বিরাট এক উপহার। তাতে করে বাগদাদ থেকে বৈরুত পর্যন্ত সমস্ত অবাধ্য শক্তিকে বশ করা সহজ হয়। ইরাক আগ্রাসনের পর সেখানে আমেরিকা যে গ্যাঁড়াকলে পড়েছে তা থেকে বের হয়ে আসার পথও তাহলে খুলে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, দালালদের দিয়ে জর্জিয়া-ইউক্রেইনের মতো করে তেহরানে আরেকটা রংদার বিপ্লব ঘটানো ততটা সহজ নয়।

আমার কৈফিয়ত: আমার কোনো কোনো বন্ধু, অনেক গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশিও ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল মদদপুষ্ট মুসাভি গংয়ের ক্যুদেতার চেষ্টার সমর্থক বনেছেন। তাদের মতো আমিও ইরান বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু বহুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর্যবেক্ষণ ও খোঁজখবর আমাকে তাদের বিপরীতে দাঁড় করিয়েছে। আমি বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নতুন যে বামপন্থি শিবির শ্যাভেজ-মোরালেস-লুলা-প্রচণ্ডদের নেতৃত্বে দানা বাঁধছে তাদের সমর্থক। একই কারণে হামাস-হিজবুল্লাহ-আহমাদিনেজাদদের শিবিরকে মিত্র মনে করি। আমি জানালার লোভে দরজা বিকিয়ে দেওয়ার পক্ষে নই। আজকের বাংলাদেশেও একধরনের ভুঁইফোঁড় বুদ্ধিজীবী, ফ্যাশনদুরস্ত যৌনকাতর তারুণ্য আর ভোগবাদী উচ্চবিত্ত শক্তি অর্জন করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের মাটি-সম্পদ-পানি ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে এদের একটি লোমও কাঁপে না, অথচ পাশ্চাত্যের অধিপতিদের মিথ্যে আশ্বাস আর ভোগের হাতছানিতে এদের লোমকূপ পর্যন্ত রসে ভরে ওঠে। বিশ্বের সকল অধীনস্ত দেশেই বিশ্বায়িত পুঁজি ও তাদের কালচার ইন্ডাস্ট্রি এদের পয়দা করে চলেছে, এদের মন-মগজ ম্যাট্রিক্স ফিল্মের বন্দিদের মতোই অবশ ও অচেতন। এরাই আজকের রাজাকার। এরাই সিঁদ কেটে সাম্রাজ্যবাদী ঘাতকদের আসবার পথ তৈরি করে দেয়। ইরানের ঘটনায় এদের মুখোশ আরেকবারের মতো উন্মোচিত হলো। কী কারণে মাত্র কয়েক লক্ষ ইংরেজ ৪০ কোটি ভারতবাসীকে ২০০ বছর ধরে অধীনস্ত করে রাখতে পেরেছিল, এদের উপস্থিতি তার ব্যাখ্য দেয়। বাংলাদেশেও আমাদের এদের চিনে নিতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। এ ছাড়া বাঁচার আর কোনো পথ খোলা নাই।


* সংযোজনটা এখানে দিলে বড় হবে বলে কমেন্টে দিলাম শেষের দিকে।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:৫৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৩
আশরাফ রহমান বলেছেন: " আমি বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নতুন যে বামপন্থি শিবির শ্যাভেজ-মোরালেস-লুলা-প্রচণ্ডদের নেতৃত্বে দানা বাঁধছে তাদের সমর্থক। একই কারণে হামাস-হিজবুল্লাহ-আহমাদিনেজাদদের শিবিরকে মিত্র মনে করি। আমি জানালার লোভে দরজা বিকিয়ে দেওয়ার পক্ষে নই। "

ভাল লাগলো।
৩. ১৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৩
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাদের দুজনকেই। এটাই আমার মোদ্দা কথা। এটাই এই মুহুর্তের জটিলতার মধ্যে আমার কাছে কার্যকর জনমুখী অবস্থান।
৪. ১৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮
সীমন্ত ইসলাম বলেছেন: ভোট গননা শেষ হবার আগে মুসাভীর বিজয়ের ঘোষণা খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ।
৫. ১৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আরো ইঙ্গিতপূর্ণ তাদের প্রতিবাদ যারা জর্জ বুশের ভোট কারচুপির প্রমাণ থাকার পরও নীরব থাকে আর ইরানে প্রমাণহীনভাবে সরব হয়।
৬. ১৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৫২
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: Ekta lekha deyar iccha ache. Shotti kotha bolte gele bolbo ami mir hossein mousavi r bijoy prottasha korechilam. Iran er president election world politics e onek important bolei election niye agroho cilo. Kintu etao bisshash kori je prokrito orthei ahmadinejad i bijoyee hoyechen. Eta niye ekta lekha deyar iccha ache. Apnake oshonkho dhonnobad
৭. ১৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ইরানের রাজনৈতিক সিস্টেমকে অবশ্যই আরো নমনীয় হতে হবে। অতীতে তারা যে হাজার হাজার কমিউনিস্ট হত্যা করেছে তার বিচারও হতে হবে। কিন্তু তার জন্য তো আর মীলজাফরদের সমর্থন করা যায় না।

ইরানী সমাজের বিভিন্ন অংশে যে বিক্ষোভ রয়েছে, এবারে তারই প্রকাশ ঘটলো। মিথ্যা প্ররোচনায় হলেও এই বিক্ষোভ মিথ্যা নয়।
৮. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৪
রাগ ইমন বলেছেন: আপনার মত ও দেখার চোখের সাথে নিজ অনুভবের মিল পেলাম। জোর সমর্থন জানিয়ে গেলাম ।

ইরান অনেক পুরানো জ্ঞানী সভ্যতা । তাদের জাতীয়তাবাদ অনেক গভীরে প্রোথিত শিকড় । সুতরাং , আফঘানিস্তান কিংবা পাকিস্তান, মায় পাশের দেশ ইরাকের মত ইরানকে পায়ের তলায় ফেলা সম্ভব হবে না। কিন্তু, মার্কিন শয়তানি আর নিষ্ঠুরতার যেহেতু কোন সীমা নেই, সুতরাং তারা যে কিছুতেই থামবে না , এইটা নিশ্চিত ।

আমেরিকার অর্থনীতি এবং সাথে তার সাঙপাঙ্গ লোভী ইউরোপ এর অর্থনীতি হয়ে গেছে ভ্যাম্পায়ার । রক্ত না চুষে তাদের বাঁচার উপায় নেই । অন্তত, অতি ধনীক শ্রেনী হিসেবে ২০% লোকের ৮০% সম্পদ ভোগ করতে হলে এই ওয়ার্ল্ড অর্ডার তাদের খুবই প্রয়োজন ।
৯. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: +++++

"হঠাৎ গজানো ইরান বিশেষজ্ঞ" এটাই আসল কথা ... ইরাক-ফিলিস্তিন-আফগানিস্তানে সেনাদের হাতে লাখ লাখ মানুষ মরে, কোন আহাজারি দেখিনা; অথচ গত ক'দিনে পশ্চিমা মিডিয়া "তেহরানের রাস্তায় লাশের খবর" পাবার জন্য কুত্তাপাগল হয়ে উঠেছে

ইরানে আসলে কি হয়েছে বলতে পারবোনা ... আহমেদনেজাদ কি কারচুপি করে জিতেছেন না সত্যিসত্যি সেটা প্রমাণ হবেই ... সেটা ইরানের জনগণই করবে ... তবে সেটা নিয়া পশ্চিমা মিডিয়ার অতিআগ্রহটা কৌতুকের সৃষ্টি করেছে, অথচ এরাই ক'দিন আগে আফগানিস্তানে একটা নিন্মমানের নির্বাচন নাটক করিয়ে কারজাইকে ক্ষমতায় বসিয়েছে
১০. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: লেখাটা ফেসবুকে শেয়ার করলাম
১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জ্বিনের বাদশা।

১১. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
জাতেমাতাল বলেছেন: ফারুক ওয়াসিফকে একটা পরামর্শ দিতে চাই, এর পরে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে কোন পোষ্ট লিখলে দয়া করে এত বিশাল আকারের পোষ্ট লিখবেন না। ষড়যন্ত্র পোষ্টএর আকার এত বড় করে দেবার কোনই প্রয়োজন নাই। আপনার লিখতেও কষ্ট, পাঠক হিসাবে আমাদেরও পড়তে কষ্ট।

ষড়যন্ত্র পোষ্ট হবে দুই তিন লাইনের, আমি অমুক ঘটনাকে তমুকের ষড়যন্ত্র বলে মনে করি। ব্যস এতেই হবে... ষড়যন্ত্র তো সেটাই যা এখনও প্রমাণ হয় নাই তাই না?

ফলে নিশ্চিত থাকেন আমরা কেউ প্রমাণ চাইবো না। বরং আপনার ফ্যন্টাসিতে মুগ্ধ থাকব...
১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩০

লেখক বলেছেন: হা হা হা, আপনিই কিন্তু আমার প্রতিটি পোস্টেই আসবেন, কিছুটা মশলা ছাড়বেন, আমি তো বটেই অন্য ব্লগাররাও আনন্দ পাবে। আসবেন কিন্তু কলাম !

১২. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৮
স্পাইডার বলেছেন: জাতেমাতাল কি নব্য ইরান ভিষেষজ্ঞ?
১৩. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫
অরণ্যদেব বলেছেন: জাতেমাতালের বক্তব্যে সহমত।
ফারুক ওয়াসিফ এর একটি ঘোষণা ভাবিয়ে তুলল!

" আমি বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নতুন যে বামপন্থি শিবির শ্যাভেজ-মোরালেস-লুলা-প্রচণ্ডদের নেতৃত্বে দানা বাঁধছে তাদের সমর্থক। একই কারণে হামাস-হিজবুল্লাহ-আহমাদিনেজাদদের শিবিরকে মিত্র মনে করি।"

শ্যাভেজ-মোরালেস এর সাথে হামাস-হিজবুল্লাহ ! খুব সহজ সরিলিকরণ হয়ে গেল না?
এ কারণেই কি দক্ষিণপন্থীরা বলে- "আজকের কমিউনিস্ট আগামীর মৌলবাদী জঙ্গি"!
১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:২৫

লেখক বলেছেন: ঐ মৈত্রী কিন্তু বাস্তবে ঘটছে। লেবাননের প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহ গেরিলাদের বুকে চে'র টিশার্ট শোভা পেয়েছে। শ্যাভেজ তাদের পক্ষ নিয়েছেন। বামপন্থি তামিল গেরিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ইয়াসির আরাফাত।
আবার গাজায় আগ্রাসনের সময় আরবদের আগে ভেনেজুয়েলাই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। এটাকে আপনি কিভাবে অস্বীকার করবেন? মৌলবাদী জঙ্গি বলতে যাদের বোঝাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরো লড়তে হবে, অন্তত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে। কিন্তু এদের সঙ্গে ইরানের প্রতিরোধ সংগ্রামকে গুলিয়ে ফেলবেন না। এ দুয়ের মধ্যে মিল সামান্যই। ইরান মূলত ইসলামী ফ্লেভার ওয়ালা জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র, যেমন ভেনেজুয়েলা কমিউনিস্ট ফ্লেভার ওয়ালা জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র।

আদর্শ ততক্ষণ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যতক্ষণ তা জনগণের বড় অংশের পক্ষে থাকে। আবার থাকলেও তা যে নিরঙ্কুশ সঠিক তা নয়, কিন্তু তাকে সমর্থন করা যায়।

আমি রাজনীতির বিচার করি কর্মসূচি ও গণসম্পৃক্ততা দিয়ে, তার পক্ষে প্রমাণ রাখা দিয়ে। আমি মার্কসবাদী বলেই সেভিয়েত আমলের সব কাজকে সমর্থন করি না, আবার মার্কসবাদী বলেই কারো সত্যিকার লড়াই আমার মতাদর্শে হচ্ছে না বলে বাতিলও করি না।

আশা করি আমার অবস্থান আপনি বুঝতে পারছেন। এর বাইরে যে দুর্নাম দিয়েছেন তা নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করবো না। কত করা যায় বলেন, এই প্রতিকূল যুগে?

১৪. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৪
সূর্য বলেছেন: বাঁচার আর কোন পথ খোলা নেই-- এটিই আসল কথা।
১৫. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫১
জাতেমাতাল বলেছেন: আনন্দ পাওয়া আপনার জন্য ভীষন গুরুত্বপুর্ণ বুঝতে পারলাম। সন্দেহ নাই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অসীম ক্ষমতা এক্ষেত্রে আপনাকে পুরোপুরি সাহায্য করবে...

ভেবে দেখেন, ষড়যন্ত্র কোনটা নয়? আপনি চাইলে যে কোন কিছুকেই এই তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখা করতে পারবেন। ১-১১ আসাটা ছিল ষড়যন্ত্র, বিদায় নেওয়াটাও। হাসিনা খালেদাকে জেলে ঢোকানো ছিল পান্ডুলিপি অনুসারে ষড়যন্ত্র, তাদের মুক্তি দেওয়াটাও ষড়যন্ত্র। তারেক জিয়ার গ্রেফতারও ষড়যন্ত্র, তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোও ষড়যন্ত্র। হাসিনার ক্ষমতা লাভ এমন কি খালেদা জিয়ার পরাজয়...... চাইলে এমন কোন ঘটনা নাই, যা এই তত্ত্ব দিয়ে আপনি ব্যাখা বা বিশ্লেষন না করতে পারবেন।

ফলে আনন্দ পাওয়ার এটা একটা সফল তরিকা, কে অস্বীকার করে?

আর তাই কারো কারো পক্ষে ষড়যন্ত্র দিয়ে সব কিছু ব্যাখার শস্তা রাস্তায় হাঁটার লোভ সামলানো কঠিনই বটে। তাদের ব্যাখায় বোঝাই যায়, কিছু তরুন অপেক্ষাই করছিল মার্কিনী পান্ডুলিপিটা হাতে পাওয়ার জন্য, কি ভাবে ইরানে একটা আনরেস্ট তৈরি করা যায়। আর পকেটে কিছু ডলার এসে পড়তেই তারা সবাই ঝাপালো রাস্তায়। তাদের নিজস্ব বিবেচনা, যুক্তিবোধ, তাদের দাবী আদায়ের আকাঙ্খার কোন অস্তিত্ব আছে নাকি?

অথচ ইরানের সাম্প্রতিক এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটা বিশ্লেষন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে- বিপ্লব পরবর্তী তরুন প্রজন্ম কি চায়, সমাজের কাছে তার আকাঙ্খাটা কি? তেহরানের রাস্তায় যে ছেলেটা প্লাকার্ড তুললো—ইসলামী বিপ্লবকে সে কি চোখে দেখে।
ইস্ফাহানে যে তরুনীর কপাল বেয়ে রক্ত ঝরলো—বারাক ওবামার মুক্ত জীবনের প্রতিই বা মনোভাব কি। আহমাদিনেজাদএর প্রতি তরুনদের আস্থায় ঘাটতি আছে, এই সত্য আবিস্কার কি ইরানি বিপ্লবের নেতাদের জন্য খুব গুরুত্বহীন আবিস্কার? নাকি যে কোন মুল্যে বিপ্লবের প্রতি আনুগত্য কামনা করাটাই বিপ্লবী কাজ?

এই সত্যটা জানতে চাওয়ার মেধা যদি আমার না থাকে নিশ্চয়ই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আমোদ আমি উপেক্ষা করতে পারব না।

পশ্চিম মিডিয়া বলছে দশ লক্ষ লোক, আমি যদি তার অর্ধেকও ধরি তবে পাঁচ লক্ষ মানুষ সাতদিন ধরে রাস্তায়। মানুষের আকাঙ্খার প্রতি কি পরিমান অশ্রদ্ধা থাকলে আর কতটা মুঢ় হলে আমি এটাকে ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখা করতে পারি?
১৬. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৪
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আপনার এই কমেন্টটা গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের বর্তমান বিক্ষোভটা জেনুইন, কিন্তু তারা যে অজুহাতে এটা করছে তা জেনুইন মনে করি না। ইরানে বর্তমান রেজিম ধোয়া তুলসি পাতা নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা যত সঠিকই হোক, অভ্যন্তরীণভাবে তারা নিপীড়ন মুক্ত নয়। তবে অবশ্যই আমেরিকান ও ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড থেকে অগ্রসর।

ধর্মীয় গোঁড়ামীর মতো সেকুল্যার গোঁড়ামীও কিন্তু সাদাকে রঙিন দেখতে পায়।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা আমি কোথাও বলিনি। দৃশ্যমান রাজনৈতিক অ্যাক্টরগুলিকেই যদি আপনি ধরে নেন সকল খেলার হোতা তাহলে তো মুশকিল। ইদানিং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটা কথা আসছে সেটা হলো ডিপ পলিটিক্স। এতে যারা সক্রিয় তারা সবাই রাজনীতির লোক নয়। দেখা যায় ব্যবসায়ি, বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, মিডিয়া অধিপতি, সেনাপতি, ব্যাংক মালিক মায় রাজনীতিবিদরা মিলেই একটা বাস্তবতা তৈরি করে ও খেলে। এই ধরেন কিছূদিন আগে ব্লান্ডেবুর্গ সম্মেলন হলো। সেখানে বিভিন্ন পদের ১৩০ জন ব্যক্তি জড়ো হয়েছিলেন। ওপরে বলা ক্যাটেগরির লোকজনই সেখানে ছিলেন। এরা মিলে আগামি দিনের বিশ্ব-বাস্তবতার একটা নকশা তৈরি করেছেন। এখন কেউ যদি বলে ওরা ষড়যন্ত্র করছে তাহলে আংশিক বলা হয়। আসলে ক্ষমতার শেকড়-বাকড় প্রকাশ্য অঞ্চল থেকে গোপনে বিচরণ করা শুরু করেছে বেশি। এটা হিসেবে না ধরলেই বলা হয় ‌‌ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। আমি বলি ওটাই ডিপ পলিটিক্স।

যাহোক, আপনি আমার দোষ আবিষ্কারের থেকে বলা তথ্য/যুক্তি গুলো খণ্ডন করলে আলোচনা আরো এগতো। দুনিয়াটা কেমন হয়ে গেল। সবাই দোষারোপ করে, যুক্তি দেয় না। ''এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই, মানুষ নামের মানুষ আছে সেই মানুষ নাই!''

কী করা যাবে আর, আপনাকে অভিনন্দন জানাই।
১৭. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৫
আশরাফ রহমান বলেছেন: সম্প্রতি নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় কয়েকজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমারা ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইরাক, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লংঘনের যে নজীর পশ্চিমারা স্থাপন করেছে, তারপর তাদের মুখে এ সম্পর্কে কোন কথা মানায় না। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, পশ্চিমারা মানবাধিকারকেই স্বীকৃতি দিতে শেখে নি। তিনি পশ্চিমা গণমাধ্যমকে ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন, এক্ষেত্রে তিনি বৃটিশ গণমাধ্যমগুলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
১৮. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আবারো বলি, ইরানী তরুণ/তরুণীদের বেশিরভাগই কিন্তু আহমেদিনেজাদের সমর্থক। তার বিরোধী অবশ্যই আছে। তাদের ক্ষোভের কারণও রয়েছে। তারপরও সত্য হলো তিনি ইরানের ৬৩ শতাংশ ভোটারদের ভোট পেয়েছেন। একে অস্বীকার করে ৩০ শতাংশের পক্ষে দাঁড়ানো কেমন গণতন্ত্র?

সব বিপ্লবই কিছু মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, সেটা ইতিহাসের অপচয়। আবার কোনো বিপ্লবই বিশুদ্ধ নয়। সেটা বিপ্লবগুলোর সীমাবদ্ধতা। এটা কাটানোর জন্য আন্দোলন অভিনন্দনীয়, কিন্তু অধিকাংশের বিপরীতে দাঁড়ানো কোনো সমর্থনীয় কাজ নয়। বিষয়টা জ্ঞানের নয় যে একজন হলেও সত্য সত্যই। বিষয়টা মতামতের। গণতন্ত্র মানলে এটাও মানতে হবে।
১৯. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৯:৫৯
ভুলুয়া রয়েল সিটি বলেছেন:
জরুরি কমেন্ট: ইরানী বাল ধুইয়া পানি না খায়া নিজের দেশের কথা চিন্তা করেন। দেশজ বাল কম নাই।
২০. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:০৯
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ভাল কথা, কিন্তু ভাইজান যে বাল কামাতে জানেন তা তো মনে হৈলো না। আমিও ভাল পারি না, তাই অন্যের কাছ থেকে শিখি। আপনি না শিইখাই হাজি সাব হয়া গেছেন মনে হয়। এখন একটু দেশের ওয়াজ ফরমান।

আমার ওয়াজ শুনতে হইলে একটু পেছন চাটতে হবে আপনার । ব্লগ ঘুইরা আসেন তারপর কথা হবে।
২১. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৪
ফারজানা ববি বলেছেন: @ ভুলুয়া রয়েল সিটি

দাদা গো দাদা, সত্যি তোমার সুরগুলো খুব খেলে।
মিষ্টি এমন ঠিক যেন কেউ গুড় দিয়েছে ঢেলে।
দাদা গো দাদা এমন খাসা কণ্ঠ কোথায় পেলে,
এই খেলে যা, গান শোনাতে এখানেতেই এলে!
২২. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৬
ফারজানা ববি বলেছেন: দাদা গো দাদা পায়ে পড়ি তোর ভয় পেয়ে যায় ছেলে
গাইবি যদি ওইখেনে যা ওই দিকে মুখ মেলে।
২৩. ১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪৫
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: লেখাটা সকালেই প্রথমআলোতে পড়েছি।ইরানে ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছু ধারনা করতে পারছিলাম না।তবে পশ্চিমা মিডিয়ার অতি আগ্রহের কারনেই "ডাল মে কুচ কালা হ্যায়' মনে হচ্ছিলো।

তবে জাতেমাতাল যেমনটা মন করেছেন, মুসাভির সমর্থক তারা উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের সমর্থক হলেও তাদের ক্ষোভটা জেনুইন।শুধু ভোগবিলাসের আকাংখা থেকে কিংবা নিজেদের সামাজিক অবস্থান ধরে রাখতে তারা এমন মরিয়া হয়ে উঠেছে, এইটা আমার ঠিক বিশ্বাস হয়না।আন্দোলন গতিমুখ যেমনই হোক তা গড়ে ওঠার পেছনে কিছুই গৃঢ় কারন নিশ্চিত ভাবেই থাকে।

আপনার অনুবাদ লেখায় কিংবা কৈফিয়তে এই অংশটুকু অনুপস্থিত।

তবে মোটের উপর সহমত।
২৪. ২০ শে জুন, ২০০৯ রাত ১২:২৪
জাতেমাতাল বলেছেন: প্রতি উত্তরে আপনাকেও অভিনন্দন জানাই।

আমার কাছে আলোচনার এটা একটা পদ্ধতিগত ক্রটি বলেই মনে হয়, ঘটনার বিশ্লেষনে এক্সটার্নাল ফ্যাক্টর গুলিকেই শুধু বিবেচনায় আনা। এর যে ইন্টারনাল পার্টটাও রয়ে গিয়েছে, তা বিচারে না নেওয়া। কয়েক লক্ষ লোকের এই রাস্তায় নামার ভেতরে যে আভ্যন্তরীন সংকট তা সে পরিমান আমলে নেওয়া হয় নি আপনার আলোচনায়।

আপনি সমালোচনা করেছেন যারা আহমাদিনেজাদ এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, আপনার সিদ্ধান্ত তাদের এই বিরোধিতা আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বকে অজুহাত এনে দিবে ইরানের বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের। এই ধরনের সরলীকরন কিন্ত বিপজ্জনক—তেহরানের এই বিক্ষুব্ধ অংশ যারা রাজপথে নেমেছেন তাদের বক্তব্য তাদের সাফারিংসকেও কিন্ত জায়গা দিতে হবে আপনার আলোচনায়।

আহমাদিনেজাদদেরও উচিত এই সমস্যাকে নজরে নেওয়া।
আখেরে কিন্ত তা আহমাদিনেজাদকেই আরো বড় বেশি বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাবে।

আপনার পোষ্টে আজই আমি প্রথম মন্তব্য করলাম, আগামীতেও আরো আলোচনা হতে পারে যদি আপনি বিশ্বাস করেন সেগুলো আলোচনাই/বিতর্কই হবে, মশলা জাতীয় কিছু নয়।
২৫. ২০ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৪:১২
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: লাখ লাখ ইরানী পাবলিক আহমাদিনেজাদ যে ভোটে কারচুপি করছে কইতাছে - তারা কি সবাই ইহুদী নাসারা গো এজেন্ট?
আর মাটিতে বিছানা পাতে যে প্রেসিডেন্ট সে আমাগো এরশাদের মত ভোটচুরি করে ক্যামনে? নাকি শিয়া ইসলামে 'ছোটখাট ভোটচুরি করা জায়েজ আছে?
২৬. ২০ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৪:২৮
অ্যামাটার বলেছেন: দুর্দান্ত!
"হঠাৎ গজানো ইরান বিশেষজ্ঞদের নোংরা বচনে ভরপুর সংবাদ জগত চালাচ্ছে মিথ্যাকে সত্য বলার গোয়েবলসিয় প্রচার।"---

"কাণ্ডজ্ঞান দিয়েই চিন্তা করুন, আপনার দেশ ইসরায়েল ও আমেরিকার পরমাণু হামলার হুমকির মুখে, আপনার দেশ আরবের একমাত্র গর্ব, আপনার জাতি আত্মসম্মানসম্পন্ন ও জাতীয়তাবাদী আত্মবিশ্বাসে বলীয়ন, এরকম অবস্থায় আপনি কি আপনার দেশের সেরা রককে পরিত্যাগ করবেন? তার মতো সৎ ও দুর্নীতিহীন নেতাকে ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পুতুল সরকারকে কি আপনি ভোট দেবেন? দিলেও কতজন তা দেবেন??? "---

পুরোটাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। ধন্যবাদ। তবে আশ্চর্য হই, যখন দেখি আমাদের বিবেক-বিবেচনাও সেই তিমিরেই রয়ে গেছে,, অষ্টাদশ শতকে মস্তিস্ক ঠিক যতটুকু উর্বর ছিল, নচেৎ, " কী কারণে মাত্র কয়েক লক্ষ ইংরেজ ৪০ কোটি ভারতবাসীকে ২০০ বছর ধরে অধীনস্ত করে রাখতে পেরেছিল"??
২৭. ২০ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৪:৫১
নাজিম উদদীন বলেছেন: মুসাভির বস কি খাতামি না রাফসানজানি?

আমার মতে ইরান নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার লাফালাফি একটু বেশি, আমেরিকা তো চুক্তি করছে ওদের অভ্যন্তরীণ ব্যপার নিয়া মাথা ঘামাইব না, এখন আবার নতুন খেলা খেলতেছে।
২৮. ২০ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৫:২৮
শওকত বলেছেন: " আমি বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নতুন যে বামপন্থি শিবির শ্যাভেজ-মোরালেস-লুলা-প্রচণ্ডদের নেতৃত্বে দানা বাঁধছে তাদের সমর্থক। একই কারণে হামাস-হিজবুল্লাহ-আহমাদিনেজাদদের শিবিরকে মিত্র মনে করি। আমি জানালার লোভে দরজা বিকিয়ে দেওয়ার পক্ষে নই। "

ভাল লাগলো।
লেখাটা ফেসবুকে শেয়ার করলাম
২৯. ২০ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৪৫
শওকত বলেছেন: @দ্বিতীয়নাম-- সমস্যা কি আপনাদের শুধু ইসলাম ধর্মের বদনাম করেন কেন???
৩০. ২০ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৭:১৮
স্বপ্ন ব্যাকরণ বলেছেন:
মার্কিন প্রতিরা মন্ত্রী রবার্ট গেটস এর কথা প্রতিধ্বনিত করে ব্রিটিশ সেনাপ্রধান সম্প্রতি বলেছেন, ‘ইরাক ও আফগানিস্তান কোনো ভুলের পরিণাম নয়_ তারা হলো ভবিষ্যতের দিকচিহ্ন’।


>> এর পরে ও যদি মানুষ না বুঝে তাহলে কি করা লাগবে? আপনার লেখার নিচের বুদ্ধিজীবি তারুণ্যরাই আমাদের দেশের সর্বজান্তা তাদের কাছে অন্য যা কিছু সবই মৌলবাদের যেমন বুশ বা ওবামার কাছে।



আজকের বাংলাদেশেও একধরনের ভুঁইফোঁড় বুদ্ধিজীবী, ফ্যাশনদুরস্ত যৌনকাতর তারুণ্য আর ভোগবাদী উচ্চবিত্ত শক্তি অর্জন করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের মাটি-সম্পদ-পানি ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে এদের একটি লোমও কাঁপে না, অথচ পাশ্চাত্যের অধিপতিদের মিথ্যে আশ্বাস আর ভোগের হাতছানিতে এদের লোমকূপ পর্যন্ত রসে ভরে ওঠে।
৩১. ২০ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৯:২২
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: +

"আজকের বাংলাদেশেও একধরনের ভুঁইফোঁড় বুদ্ধিজীবী, ফ্যাশনদুরস্ত যৌনকাতর তারুণ্য আর ভোগবাদী উচ্চবিত্ত শক্তি অর্জন করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের মাটি-সম্পদ-পানি ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে এদের একটি লোমও কাঁপে না, অথচ পাশ্চাত্যের অধিপতিদের মিথ্যে আশ্বাস আর ভোগের হাতছানিতে এদের লোমকূপ পর্যন্ত রসে ভরে ওঠে। বিশ্বের সকল অধীনস্ত দেশেই বিশ্বায়িত পুঁজি ও তাদের কালচার ইন্ডাস্ট্রি এদের পয়দা করে চলেছে, এদের মন-মগজ ম্যাট্রিক্স ফিল্মের বন্দিদের মতোই অবশ ও অচেতন। এরাই আজকের রাজাকার। এরাই সিঁদ কেটে সাম্রাজ্যবাদী ঘাতকদের আসবার পথ তৈরি করে দেয়। ইরানের ঘটনায় এদের মুখোশ আরেকবারের মতো উন্মোচিত হলো। কী কারণে মাত্র কয়েক লক্ষ ইংরেজ ৪০ কোটি ভারতবাসীকে ২০০ বছর ধরে অধীনস্ত করে রাখতে পেরেছিল, এদের উপস্থিতি তার ব্যাখ্য দেয়। বাংলাদেশেও আমাদের এদের চিনে নিতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। এ ছাড়া বাঁচার আর কোনো পথ খোলা নাই।"
৩২. ২০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: এখানে বলা দরকার ছিল যে, লেখাটি রচিত হয়েছে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকার আন্তর্জাতিক বিশ্রেষক সেইমাস মিলনে, কাউন্টার কারেন্স এর পল ক্রেইগ রবার্টস, গ্লোবাল রিসার্চ এর বিল ভ্যান অউকেন ও জেমস পেট্রাসের নিবন্ধ অবলম্বনে। দ্রত হাতে লিখবার জন্য সব সূত্র উল্লেখিত হয়নি।
৩৩. ২০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
মাহবুব সুমন বলেছেন: দারুন লেখা।
লেখকের সাথে একমত।
৩৪. ২০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৪
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: ফারুক ওয়াসিফ, বরাবরের মতই আপনার লেখাটা দুর্দান্ত হয়েছে।
কে কী কমেন্ট করলো-তাতে কিছু এসে যায় না!
৩৫. ২০ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৬
মারুফ ব্লগ বলেছেন: পড়লাম। বরাবরের মতোই উপভোগ্য। কিছু রিপিটেশন আছে। তবে শক্তিশালী লেখনীর গুণ তা ঢেকে দিতে পেরেছে।
৩৬. ২০ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: হ্যাঁ, আসলেই রিপিটেশন হয়েছে। দ্বিতীয় দুর্বলতা হলো, ইরানের রাজনীতির মধ্যে যে হার্ডলাইন ন্যাশনালিস্ট পপুলিজম আর বুর্জোয়াসুলভ আকাঙ্ক্ষার সংঘাতটা রয়েছে ওপর থেকে তলা পর্যন্ত তার ওপর আলোকপাত করা হয়নি। খামেনি-আহমাদিনেজাদের প্রাপ্য সমালোচনা থেকেও এ মুহূর্তে বিরত থাকা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, বিক্ষোভকারীদের অজুহাত ন্যায্য না হলেও, দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্রোধের বহিপ্রকাশের প্রতি (যে কারণেই হোক) আরেকটু সহানুভূতিশীল থাকা দরকার ছিল। তাদের প্যাশনকে তুচ্ছ করা ঠিক হয়নি।

এই সংক্ষিপ্ত আত্মসমালোচনাসহই আমি এ বিষয়ে আমার বর্তমান অবস্থানকে সমর্থন করছি।

রবার্ট ফিস্ক খামেনি-আহমাদিনেজাদকে দুচোখে দেখতে পারেন না, তারপরও তিনি বলছেন যে, হয়তো আহমাদিনেজাদই জয়ী হয়েছেন কিন্তু এত ব্যবধানে নয়। ভাল কথা, এখনকার বিতর্ক কে জয়ী হয়েছে আসলে তা নিয়ে। সে বিষয়ে আমি আমার অবস্থানের নিম্নতম সীমা হিসেবে নাহয় ফিস্কের কথাই মেনে নিলাম।
৩৭. ২১ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:৪৯
আরিফুর রহমান বলেছেন: ইন্টারেস্টিং....

আম্রিকা দেখি বিরাট ওস্তাদ... কমুনিস্ট আর জঙ্গী এক ঘাটে পানি খায় আম্রিকার ভাত মারতে...

হেব্বি মজা লাগলো পৈড়া..

তবে ইড়ান আসলেই কি করতে চাইতেছে... এইটা সকলের আরেকটু গভীরতা নিয়া, চুখের চশমা খুইলা দেখন উচিত।
৩৮. ২১ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:১৪
জাতিশ্বর বলেছেন: আড়ে ! আড়িফুড় যে !! হে হে হে !! আনব্যান মুবারক হো !!!
৩৯. ২১ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:৫৭
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: যে পশ্চিমা মিডিয়া থেইক্যা চোথা মারছে, সেই মিডিয়ারে আহমাদিনেজাদগং ইরানে এখন বাতিল করছে, দায়ী করতাছে 'বিশৃংখলা' সৃষ্টির জন্য।

এই যুগের পপুলার ট্রেন্ড হইলো, চলতি স্ট্যাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে যে কোন প্রতিবাদে যদি মার্কিনী সমর্থন ঘটে আর মিডিয়া যদি কভারেজ দেয় -তা হইলে তার চরিত্রনাশ ফরজ হইয়া পড়ে কিছু নেপোদের। স্ট্যাবলিশমেন্ট যতই অমানবিক, প্রতিক্রিয়াশীল, পশ্চাদপদ, মৌলবাদী হোকনা কেন - যেহেতু পশ্চিমাগো সুড়সুড়ি দিতাছে তাই স্ট্যাবলিশমেন্টটাই হইয়া উঠবো বিপ্লবী।
২১ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:২৫

লেখক বলেছেন: আমার মার্কিন বিরোধিতা তাদের দেশদখলের ব্যাধির জন্য নয় শুধু। দেশদখল, যুদ্ধ, সন্ত্রাস তারা শখের বশে করে না। এটা তাদের অর্থনীতি, সাংষ্কৃতিক আধিপত্য ইত্যাদির সহজাত। সেকারণে ওয়ার অন টেরর, কর্পোরেট ক্যাপিটালিজম, মুক্তবাজার, হিউমানিটারিয়ান এসিসটেন্স, পৃথিবীকে নিঃশেষ করা ভোগ একই তরিকার বিভিন্ন দিক। একটা মানব কিন্তু আরেকটার বিরোধিতা করবো, তা হয় না।

শ্যাভেজই বলি আর আহমাদিনেজাদই বলি, এরা সকল ক্ষেত্রেই ঐ তরিকার বিরোধিতা করছেন। একজন জাতীয়তাবাদী সমাজতন্ত্রী অন্যজন জাতীয়তাবাদী শিয়া। সমাজতন্ত্র ও শিয়া মতবাদ এখানে তাদের রাজনীতির রসায়ন হতে পারে কিন্তু কর্মকাণ্ডের নিরেট ভিত্তি নয়। এ দিকেই আমি নজর কাড়বার চেষ্টা করছি।

মৌলবাদী শব্দটা কিছুই বোঝায় না। ইরানের মৌলবাদ বাংলাদেশের অনেক সেকুলারদের থেকেও এগিয়ে। আবার ইরানের অনেক সংস্কারকামী আমেরিকার লিবারেলদের থেকেও সাংষ্কৃতিকভাবে পিছিয়ে (যদি এগনো পেছনো মাপতেই চান, তাই বললাম। নইলে এভাবে তুলনামূলক এগনো-পেছনের মানদণ্ডে আমি বিশ্বাস করি না।) মূল কথা হলো একটা দেশের রাজনৈতিক সিস্টেম ও অর্থনৈতিক প্রণালী সেদেশের মানুষের কত অংশের পক্ষে কীভাবে কাজ করছে। মার্কিন প্রগতিতে অন্ধভক্তি আর ধর্ম মাত্রই ঘৃণ্য এটাও কিন্তু এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা। জিনিসগুলোকে যার যার বাস্তব ভিত্তি ও ইতিহাস-দেশের মধ্যে ফেলে দেখা দরকার।

ইরানে ইসলাম থাকুক না থাকুক তাতে আমার চিন্তা নাই, ইরানের জাতীয়তবাদী অবস্থানটা মধ্যপ্রাচ্য তো বটেই তৃতীয় দুনিয়ার জন্য খুবি জরুরি। ইরানকে ফেলতে পারলে সাউথ এশিয়ায় ওয়ার অন টেররের বিস্তারে তাই আর অসুবিধা হয় না।

আমেরিকা দীর্ঘ মেয়াদি সীমিত যুদ্ধের পথ ধরেছে। তার জন্য রেজিম চেঞ্জ, সন্ত্রাসবাদ উস্কানো, সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিভক্তি উস্কানো, মডারেট বনাম ইসলামিস্ট বলে ভাগ করা তার কৌশল। সেটা আপনার চোখে পড়ছে না কেন সেটা ভেবেই অবাক হচ্ছি।

৪০. ২১ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮
ফারহান দাউদ বলেছেন: নব্য বুদ্ধিজীবিদের লাফালাফিতে কিছু কইতেই ডর লাগে, পোস্ট টাই না শেষে নষ্ট হয়, অভিজ্ঞতা ভাল না।

একটা হিসাব খুব সহজ, গণতন্ত্রে এক ব্যক্তি= এক ভোট। কেউ মধ্যবিত্ত হইলে, কারো পড়াশোনা বেশি থাকলে, বা কারো টাকাপয়সা বা বুঝ বেশি থাকলে তার একটা ভোট বেশি কাউন্ট হয় না। আহমাদিনেজাদ উগ্র কিনা, সেইটা ভাল কিনা ঐ তর্কে গেলাম না, কিন্তু তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সম্পদের রাষ্ট্রীয়করণ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন। ফলে দেখা গেছে দরিদ্র শ্রেণীর বিশল ভোট তাঁর বাক্সে গেছে, আর বিশ্বাস করেন, এরা মিডিয়ার সামনে এসে নাচা-গানা করে বলে না আমরা অমুকরে দিয়া সংস্কার চাই। ফলে এদের ভোটব্যাংকটা অনেক সময়ই রঙচড়ানো মিডিয়া দেখায় না। এর আগে ভারতের গত ২-৩টা নির্বাচনেও দেখা গেছে কলকাতায় মমতা আর কংগ্রেস ম্যালা লাফঝাঁপ দিল, কিন্তু শহুরে মধ্যবিত্তের ভোট পেলেও গ্রামান্ঞ্চলে ভোট না পাওয়াতে তাদের ভরাডুবি হয়। বলিভিয়াতে ইভো মোরালেস ভূমি সংস্কার নীতি নিয়ে আদিবাসীদের ব্যাপক ভোটে জয়ী হন, যদিও তাঁর বিরোধীর সংখ্যাও কম না, ধনিক শ্রেণী তাঁর উপর মহা খাপ্পা। হুগো শ্যাভেজকেও সিআইএ অভ্যুত্থান করে উৎখাত করেছিল, কিন্তু বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সমর্থন পেয়েই দু'দিনের মাঝেই তিনি ফেরত আসেন। একটা ব্যাপার বুঝতে হবে, যাদের দু'বেলা খাওয়া নিয়ে চিন্তা তাদের ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি নিয়ে মাথাব্যথা নেই, বরং তাদের পেট ভরার জন্য কে বেশি কাজ করছে সেটাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এবারের সংসদ নির্বাচনেও একটা বড় ইস্যু ছিল চালের দাম। আর এটা তো জানা কথাই যে গুটিকয় ধনিক ব্যক্তি বরাবরের মীরজাফর, শেষটাতেই বলে দিয়েছেন কিভাবে একটা দেশকে বছরের পর বছর কব্জা করে রাখা যায়। আহমাদিনেজাদের বিজয় নিয়ে সংশয় ছিল না, তাঁর আর মুসাভীর কর্মসূচীই পার্থক্য করে দিয়েছে কে জিতবে আর কে হারবে। ইরানের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী আমাদের মতই খাবার নিশ্চয়তা চায়, সামাজিক নিরাপত্তা চায়, পাশ্চাত্য চাকচিক্যের বিশেষ একটা মূল্য তাদের কাছে নেই।
৪১. ২১ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৪৪
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ ফারহান দাউদ। খুবই ভাল বলেছেন।

১. শেষ বিচারে আধুনিক যুগের মানুষ, পুঁজিবাদের মধ্যে জন্মানো মানুষ নিজের স্বাধীনতাকে সবার ওপরে রাখবেই। অন্তত মধ্যবিত্তরা এ বিষয়ে কোনো ছাড়ই দেবে না। এই না দেওয়ার জোরকে কিন্তু গায়ের বলে অস্বীকার করা যায় না। একটা জনগণের রাষ্ট্রে কীভাবে সমষ্ঠি ও ব্যক্তির এই বিরোধের মীমাংসা হবে সেটা খুবই জরুরি প্রশ্ন। সবচেয়ে শক্তিশালী ও মানবিক গণতন্ত্রেও সকল ভিন্নমতকে প্রশমন ঘটানো বা স্বীকার করা সম্ভব নয়। তাহলে সেটা মুষ্ঠিমেয়র এলিটিসিজমই হয়ে যায়। আবার অধিকাংশের অধীনে ক্ষুদ্রের জীবনও কিন্তু পরাধীনতাই এক অর্থে। এই দ্বন্দ্ব ইরানি গণতন্ত্রকে অবশ্যই নিরসন করতে হবে।

২. নগরগুলো আসলে সাম্রাজ্যের একেকটা ঘাঁটি। তাদের রংদার নারী-নাচানো মিডিয়া, তাদের বাহারি ভোগবিলাস, তাদের ডিজুস তারুণ্য, এর আকর্ষণ ও শক্তি পারমানবিক বোমার চেয়েও বেশি। ইসরায়েলের পরমাণু হুমকিতে যে না কাজ হয়েছে তার থেকে বেশি কাজ হয়েছে পশ্চিমা স্টাইলে জীবনযাপনের লোভ। কিন্তু এর মধ্যেও সত্য হচ্ছে, এই সংষ্কৃতি, এর মুক্তবাজার কিছু মানুষের জন্য হলেও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার হাতছানি জাগায়।
পুঁজি ও সাম্রাজ্য সকল বিরোধী রাষ্ট্রকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এখন সমাজের মুখোমুখি হয়েছে। ঠিক ভাবে বললে নীচুতলার সমাজ। ‌'পশ্চাদপদ' মুসলমানরা কিন্তু এসব সমাজেরই অংশ। কিন্তু পুঁজিবাদী পশ্চিমের থেকে উন্নত সামাজিক সম্পর্ক রচনা করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অস্ত্রেই জয়ী হওয়া যাবে না। এই দিকটায় প্রায়শই বেখেয়াল থাকা হয়।

এই সংস্কৃতি আজ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যের জন্য জমিন তৈরি করে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সাংষ্কৃতিক লড়াই প্রয়োজন। কিন্তু তার মানে কোনো মনগড়া সংকীর্ণ ইসলামী সংস্কৃতি নয়। ইসলাম নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু ইসলামী বিধান বলে যা ফরমানো হয়, তা কতটা ইসলাম? নাকি তা সামাজিক রক্ষণশীলতার আষ্ফালন?

৩. গভীর হতাশা থেকেই বলছি, তৃতীয় দুনিয়ার নিপীড়িত মানুষদের মধ্যে, মুসলমান দেশগুলোর মধ্যে এখন বড় ধরনের দার্শনিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। যুদ্ধের আগে মন তৈরি প্রয়োজন। সমস্যাটার উৎপত্তি কেবলই আমেরিকা নয়। এসব দেশ বদ্ধজলায় আটকে আছে তাদের শাসকদের কারণে এমনকি নিজেদের কারণেও। এই সুযোগই নেয় দেশের ও বাইরের রক্তচোষারা। তাই নিজেদের তৈরির রাজনীতির নির্মাণ আজ খুবই জরুরি। নইলে এই গাড্ডা থেকে সহজে বেরুনো যাবে না মনে করি।
৪২. ২১ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৯
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: কিছুক্ষণ আগে, বাংলাদেশে থাকা এক ইরানী আমার কাছে সহযোগিতা চাইলেন যে, তাঁরা চান এখানেও ইরানের সরকারের আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক। আমি বলেছি, প্রতিবাদ যদি হয় নির্বাচন জালিয়াতির জন্য, তাহলে আমি নাই। যদি তা হয় ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অধিকতর গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের অধিকতর সুযোগ দানের জন্য, যদি হয় সেখানকার পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে, তবে থাকতে পারি। সহযোগিতাও করতে পারি।

এই হলো আমার অবস্থান। সেরক কোনো কর্মসূচি তারা দিলে আশা করি আপনাদের জানাতে পারবো।
৪৩. ২১ শে জুন, ২০০৯ রাত ১১:১৪
রাজর্ষী বলেছেন: লেখার বেশীরভাগের সাথে সহমত। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ব্যালেন্সের জন্যই ইরানে আহমেদিনিজাদ থাকা দরকার, ইসরায়েলীরা যেখানে উদারদের রেখে নেতানিয়াহুকে বেছে নিয়েছে। ওবামা যদি আসলে কিছু কর্তে চায় তবে এই ব্যালেন্সটাকে ধরে নিয়েই আগালো উচিৎ।
আর আপনার নিচের কথাটা ভুল মনে হলো,

" কাণ্ডজ্ঞান দিয়েই চিন্তা করুন, আপনার দেশ ইসরায়েল ও আমেরিকার পরমাণু হামলার হুমকির মুখে, আপনার দেশ আরবের একমাত্র গর্ব, আপনার জাতি আত্মসম্মানসম্পন্ন ও জাতীয়তাবাদী আত্মবিশ্বাসে বলীয়ন, এরকম অবস্থায় আপনি কি আপনার দেশের সেরা রককে পরিত্যাগ করবেন? "
৪৪. ২১ শে জুন, ২০০৯ রাত ১১:২৪
রাজর্ষী বলেছেন: ইরান আরব নয়। ইরান আরবদের গর্ব নয়।ইরানকে আরবরা ভয় পায়, সন্দেহ করে। ইরানের কোন আরব বন্ধুদেশ ও নাই। ইরান পারসিক সভ্যতার উত্তরাধীকার দেশ। পারসিকদের সাথে পশ্চাত্যের ইতিহাসিক সংঘাত আছে। আবার ইউরোপে তাদের নিজস্ব মিত্রও আছে।
এখানে ইরানের অভ্যন্তরিন গনতন্ত্রের চেয়ে বেশী গুরুত্বপুর্ন হলো বিশ্বরাজনীতিতে তাদের বর্তমান অবস্হান।আহমেদিনিজাদ ক্ষমতায় থাকলে আমেরিকা তাদের সুবিধামত খেলতে পারবেনা তাই এখন গনতন্ত্রের ধুয়া তুলছে। অথচ এরাই রেজা পাহলভীর পক্ষে ছিলো। ইরানের ভোট আর গনতন্ত্রের জন্য কুম্ভিরাশ্রু ফেলার আগে আরবের রাজাদের কিছু করে আসা উচিৎ।
২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:০০

লেখক বলেছেন: দ্বিতীয়নাম, এই দুঃখজনক, মর্মান্তিক ও ঘৃণ্য আঘাতের সাক্ষ্য তো আপনি আপনার প্রথম নামেই দিতে পারতেন। নেদার মৃত্যু, মিছিলে নামবার আগে তার মহত সঙ্কল্প, আপনাদের নিরাপদ -আবাসের সৌখিন পালকের সমর্থনের থেকে অনেক ভারি, পাহাড়ের মতো ভারি।

৪৬. ২৩ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ঠিকই বলেছেন ইরান আরব দেশ নয় ভৌগোলিক ও সাংষ্কৃতিকভাবে। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পিছু হঠা এবং আহমাদিনেজাদের জাতীয়তাবাদী অবস্থান তাকে আরব জনগণের একাংশের মধ্যে জনপ্রিয় করে। সে অর্থেই আমি কথাটা বলেছিলাম।

ইরান নিয়ে নতুন আরো কিছু আর্টিকেল পাওয়া যাবে এখানে; http://www.countercurrents.org/
৪৯. ২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ১:৩৮
নরাধম বলেছেন:
কিছুটা ষড়যন্ত্র তত্বটাইপ গন্ধ থাকলেও মোটাদাগে একমত। একই ধরনের লেখা ইনফোরমেশান ক্লিয়ারিং হাউজ, কাউন্টার-পান্ঞ এ পড়েছি।
২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭

লেখক বলেছেন: যারা এই স্পর্শকাতর এবং আত্মা-মোচড়ানো বিতর্কে আমাকে সমালোচনা করেও আমি যে বিষয়টা তুলবার চেষ্টা করেছি তার প্রতি সহমত জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

একা হয়ে যাওয়া কারাবাসের থেকেও বেদনাকর। সেই বেদনা থেকে তাঁরা আমাকে রক্ষা করেছেন।

৫১. ২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:৪০
:) বলেছেন: আপনার হয়তো টাইম ম্যগাজিনের লেখা পোষাবে না। তাহলে কাউন্টার পান্চের লিংক দিলাম

What the Left Should be Learning From Iran

By AL GIORDANO

Click This Link
৫২. ২৪ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৩৪
:) বলেছেন: The Iranian Uprisings and the Challenge of the New Media

By HENRY A. GIROUX
Click This Link

"As these students and young people have demonstrated, it would be a mistake to simply align the new media exclusively with the forces of domination and commercialism as many do in the United Sates–with what Allen Feldman calls “total spectrum violence.” The Iranian uprising with its recognition of the image as a key force of social power makes clear that cultural politics is now constituted by a plurality of sites of resistance and social struggle, offering up new ways for young people to conceptualize how the media might be used to create alternative public spheres that enable them to claim their own voices and challenge the dominant forces of oppression."
৫৩. ২৪ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৫৭
:) বলেছেন: 1. Some portray the uprising in the streets there as a phenomenon guided by external powers. They also portray it as an upper class revolt of the elites, a claim that is demonstrably false as anybody who has watched the indigenous media – YouTube videos and such – produced by Iranian citizen journalists has seen. Some of these same people cited and cheered the reports of journalist Robert Fisk when he exposed the falsehoods promoted by the US in the Iraq war. Well, Fisk is on the streets of Iran today, and here’s his ground level view of the protesters:

"…this was not just the trendy, young, sunglassed ladies of north Tehran. The poor were here, too, the street workers and middle-aged ladies in full chador. A very few held babies on their shoulders or children by the arm, talking to them from time to time, trying to explain the significance of this day to a mind that would not remember it in the years to come that they were here on this day of days."

2. Another canard being forwarded by the Iranian regime and its defenders is that “Western media” have somehow generated the uprising. That one is falling flat, though, and the regime has undercut its own argument by putting foreign reporters under house arrest, expelling others, even arresting some, and prohibiting them from shooting video or photographs of what occurs in the streets. They’ve made the capitalist media secondary players, dependent on citizen journalists for the images and words in their reports. Western corporate media has been neutered and spayed when it comes to reporting from Iran this week. And the Authentic Journalism Renaissance – media from below – is evident to the world.

3. The third argument used by some mistaken voices on the left and right is that Mousavi, the opposition candidate, has as authoritarian a history as Ahmadinejad, and the same goes for any comparison between the opposition’s biggest clerical backer, Rafsanjani, with the current supreme leader, the Ayatollah Khamenei. There is a lot of truth in that, but it is an essentially elitist analysis because it focuses on the power struggle and circus going on up above among the elites and ignores the story from below, of the millions in resistance.

source:

What the Left Should be Learning From Iran

By AL GIORDANO
২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪

লেখক বলেছেন: আমি প্রায় গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা ও সব মিডিয়াতেই এ কদিন নজর রেখেছি। এটাও দেখেছি। একদল মার্কিন লেফট আছে যারা ইসরায়েলের ঘোর সমর্থক। যারা মনে করে আমেরিকা নয় মুসলমানরাই বড় সমস্যা। এদের জন্য প্রচুর বরাদ্দও রেখেছে বুশ সরকার। ইরানের বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য যে চারশো মিলিয়ন ডলার তহবিল দেওয়া আছে (যেমনটা ছিল কিউবা কিংবা সোভিয়েত বিরোধী প্রচারের জন্য) তার একটা অংশ এরাও পায়। এর বাইরে বিষয়টা তাদের মতাদর্শিক বিভ্রান্তি, যার জন্ম আলট্রা সেকুলারিস্ট বর্ণবাদী ঘৃণার মধ্যে।

আপনার আল জিওরদানো নিশ্চয়ই প্যাট্রিক ককবার্ন, জর্জ পেট্রাস কিংবা শ্যাভেজের চেয়ে বড় লেফট নয়? এদের পরকিয়া বামপন্থা সাক্ষ্য টানার চাইতে খোদ কমিউনিস্টরা কী করছে সেদিকে তাকান।

৫৪. ২৪ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৮:০২
:) বলেছেন: ওয়াশিংটন পোষ্টের লিংক

ভোট কাউন্টের গানিতিক/পরিসংখ্যানগত ভুল

Click This Link
৫৫. ২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:২০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: দেখুন, এই ভোট রিগড হলে শুধু তেহরান নয় গোটা ইরানই জ্বলতো। খাতামি যেমন ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে সংষ্কারবাদী হিসেবে ক্ষমতায় বসেছিলেন এটাও তেমনই সত্য ঘটনা।

মুসাভি এ আন্দোলনের নেতা নন। আন্দোলন করছে মধ্যবিত্ত তরুণ-তরুণীরা তাদের দীর্ঘদিনের কোণঠাসা অবরূদ্ধ অবস্থার প্রতিবাদ হিসেবে। তারা তাদের রুচি, চিন্তা ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা চায়, তার থেকে বেশি চায় তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নানা বিধিনিষেধের অপসারণ। এই দাবি সমর্থনীয়। হয়তো বাইরের দ্বারা ঘেরাও হয়ে না থাকলে ইরানে এই দাবি আরো জনপ্রিয় হতো এবং সরকারেরও বাড়তি বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন থাকতো না।

মুসাভির সুবিধাবাদের প্রমাণ এখানেই যে, নিজে নিরাপদ থেকে তিনি জনতার আড়লে আশ্রয় নিয়েছেন। ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেও তার প্রমাণপত্র হাজির করতে পারেননি। উল্টো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক মাঝারি গোছের কর্মচারির খামেনিকে লেখা চিঠি (যাতে লেখা আছে যে মুসাভি জয়ী হয়েছেন।) দিয়ে সস্তায় বাজিমাত করার কৌশল নিয়েছেন। এক কোটিরও বেশি ভোট জালিয়াতি আড়াল করা সূর্য আড়াল করার মতো ব্যাপার। তা বেশিক্ষণ ঢাকা রাখা যায় না।

সুতরাং মূল মনযোগ দেওয়া উচিত নির্বাচন জালিয়াতির অভিযোগ তুলে অপছন্দের ব্যক্তিকে হেয় করার অনৈতিক চেষ্টায় নয়। জোর দেওয়া উচিত মুসাভির প্রতারণার থেকে আলাদা করে বিক্ষোভকারী ছাত্র-তরুণদের ন্যায্যতাকে আলাদা করে প্রতিষ্ঠা করা। সেক্ষেত্রে কথা আসবে যে, বিশেষ করে নির্বাচনের পরদিনই ইরানে গণতন্ত্র নাই এমন কথা তোলার উদ্দেশ্য কী? আসলেই উদ্দেশ্যটা নিষ্কলুষ নয়। কিন্তু প্রতিবাদ কখন কোন ঘটনায় ফেটে পড়বে তার কোনো গাণিতিক যুক্তি থাকে না। মানবিক আবেগ অসামান্য নিপীড়ন সহ্য করেও অনেক সময় সামান্য আঘাতে উদ্বেল হয়ে ওঠে। চাপা অসন্তোষ বেরিয়ে পড়েছে। হয়তো সমাজের বড় অংশ এর সঙ্গে একাত্ম নয়। কিন্তু আহমাদিনেজাদকে সংখ্যাগুরুর নয় কেবল সংখ্যালঘিষ্ঠেরও নেতা হতে হবে। কিন্তু গণতন্ত্রের ডিলেমা এটাই যে, তা সংখ্যাগুরুর একনায়কতন্ত্র। ইরানে সেটাই চলছে।

সুতরাং আমার প্রস্তাব এটাই যে, যারা বিক্ষোভ-দমন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরোধিতা করছেন, তাদের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই নির্বাচন-জালিয়াতির সঙ্গে এর সম্পর্ক রচনা বাদ দিন। সরাসরি ইরানসহ বিশ্বের দেশে দেশে এমনকি আমেরিকা-ইওরোপেও যে মানবাধিকার দলন হচ্ছে তার বিরুদ্ধে এই সময়টাকে চিহ্নিত করুন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম হিসেবে। মুসাভির মতো সুবিধাবাদীরা নেদার মতো সংগ্রামীর রক্তের ফায়দা নিতে পারেন না। ইরানের ছাত্র-তরুণ-তরুণীরা নেতৃত্বহীন, সেকারণে তারাই তাদের নেতা। তাদের সমর্থনের জন্য ভোটের নাটকের ডায়লগ দেওয়ার দরকার নাই।

প্রতিবাদ সৎ যুক্তি ও সদিচ্ছার ওপর যদি দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তার শুভ ফল আজ হোক কাল হোক ফলবেই।
৫৬. ২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
:) বলেছেন: মুসাভির চরিত্র নিয়ে কোন বিতর্কে যাবার ইচ্ছা নাই, আপনারও ভালো জানা আছে গারডি্য়ান কাউন্সিল বহু 'সংস্কারবাদী' প্রার্থীকে নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষনা করেছে, বামঘেষা / নারী আন্দোলন কর্মীদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে দেয়া হয়নি। মুসাভির থেকে ভালো 'ফেসভ্যালু' এমন কাউকে সংস্কারবাদীরা পায়নি। আপনি মুসাভিকেই দেখছেন তার সমর্থকদের দেখছনে না? ইরানের অধিকাংশ বামমনষ্ক/নারী নেত্রী/মোহসেন মাখমালবাফের মত চলচিত্র কর্মীরা কি কারনে তাকে সমর্থন করছে,সেটার কারন বিশ্লেষনে যাবেন না?

আমার বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, ভোটের স্চ্ছতা নিয়ে আপনার কোন সন্দেহ হচ্ছেনা?
২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩১

লেখক বলেছেন: ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে আসলেই আমার তেমন সন্দেহ হচ্ছে না। তবে যা নিয়ে সন্দেহ নাই তা হলো প্রতিবাদকারীদের প্রতিবাদের তীব্রতা।

৫৭. ২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
:) বলেছেন: আর বিবিসির রিপোর্টে ইরানের নির্বাচনের যে ম্যাপ এসেছে সেটা নিয়ে কোন সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছেনা?

Click This Link
৫৮. ২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৫
ভন্ডপির বলেছেন:
বামপন্থি প্রপাগান্ডা লিফলেট পড়লাম মনে হচ্ছে। "পশ্চিম", "সাম্রাজ্যবাদ", "বুর্জোয়া", "পুজিবাদ", "মিডিয়া", ইত্যাদি সব keyword আছে। পর্নোগ্রাফির মত অতিসরলীকৃত narrative-এর উপর ছড়ানো হয়েছে শব্দগুলো।

পুজিবাদ এমনই বস্তু যে Made in China টিশার্টে "চে গুয়েভারা" প্রিন্ট করে বিপ্লবীদের কাছে বিক্রি করবে। বা শাভেজের আগুনঝরা rhetorics ডিভিডি বন্দি করে amazon . com ছাড়বে। প্রচলিত বামপন্থি বিপ্লবীরা আজ বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। এই ব্যর্থতার কারন অনুসন্ধান না করে মুখস্থ করা কিছু শব্দ যত্রতত্র ছড়ালে হাসির উদ্রেক ছাড়া আর কোন ফলাফল আশা করি না।
২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার কথা মতো হেসে নিলাম কান্না চেপে রেখে।

কান্নাটা সত্যিই আপনার জন্য:
এক যে ছিল,
মালয় দ্বীপের শেয়ালে
মুরগি এঁকে দেয়ালে
আপন মনে চাটতে থাকে খেয়ালে।

আসলেই তো আমার এসব কথার ফল ছড়ালে আপনার বিপদ।

৫৯. ২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৮
:) বলেছেন: রবার্ট ফিস্কের লেখায় আমারতো ইরানের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সমস্যা হচ্ছেনা!

http://bit.ly/DvbXV
৬০. ২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৪৪
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: এপি / এফপি/ রয়টার্স ......এর বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান(খুবই দুঃখিত যে নামটা ভুলে গেছি , কোন সংস্থা সেটিও এই মুহুর্তে নিশ্চিত বলতে পারছি না) ..... গত রাতে এক টক শোতে ইরান বিষয়ে কথা বলছিলেন । একটা কথা বললেন .. "আমি নিজে যদিও পশ্চিমা মিডিয়াতে কাজ করি , বলতেই হবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইচ্ছামত ইরানকে উপস্থাপন করা হচ্ছে । আমাদের দেশীয় সংবাদপত্রগুলো সেসব সংস্থা থেকে হুবুহু নিউজ টুকে দেয় বলে আমরাও সেসব খবরই পড়ছি "

আমাদের জানার পরিধি আসলেই অনেক কম । বিশেষ করে বিবিসি এই কয়েকটা দিন যে ভূমিকা পালন করছে সেটা দেখে একটা বাচ্চাও বলতে পারবে যে দৈনিক সংগ্রামের কাছ থেকে যুদ্ধাপরাধের খবরের আশা করাও যেন , বিবিসির কাছ থেকে ইরান বিষয়ক সত্য আশা করার চেয়ে অনেক বাস্তবসম্মত !!!!
২৪ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৫২

লেখক বলেছেন: খুবই কৃতজ্ঞ আপনার কাছে মেহরাব। উদ্ধৃতিটি আমার অভিযোগের থেকেও অনেক বেশি খাঁটি প্রমাণ।
ঠিকই দৈনিক সংগ্রামের কাছ থেকে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ আশা করা আর বিবিস-সিএনএন এর কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী তাদের সরকারের গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক অপরাধের খবর চাওয়া তেমনই দুরাশা।

৬১. ২৪ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:০৫
ভন্ডপির বলেছেন: প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদিদের সাথে সনাতন বিপ্লবীদের যে পার্থক্য অতি সামান্য সেটা আপনার "কৈফিয়ত" বা caricature মুলক চটুল ছড়া না পড়লেও অনুমান করা কঠিন না। Stalinist authoritarianism এর পূজা আর metaphysical supreme এর বন্দনার অন্ধত্ব সমতুল্য। Dogma এর বাক্সে আপনাকে লেখাসহ ছুড়ে ফেলা কত সহজ সেটাই এই লেখার ব্যর্থতা। আর আমার ব্যর্থতা নির্লজ্জের মত কৌতুকের পর নিশ্চুপ শ্রোতা হাসানোর জন্য কৌতুকের বিষদ ব্যাখ্যা দেয়া।
৬২. ২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:১৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: তাহলে আসেন আমরা দুইজনই একসঙ্গে বসে হাস করি।
৬৪. ২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৯
অলস ছেলে বলেছেন: আজকের বাংলাদেশেও একধরনের ভুঁইফোঁড় বুদ্ধিজীবী, ফ্যাশনদুরস্ত যৌনকাতর তারুণ্য আর ভোগবাদী উচ্চবিত্ত শক্তি অর্জন করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের মাটি-সম্পদ-পানি ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে এদের একটি লোমও কাঁপে না, অথচ পাশ্চাত্যের অধিপতিদের মিথ্যে আশ্বাস আর ভোগের হাতছানিতে এদের লোমকূপ পর্যন্ত রসে ভরে ওঠে। বিশ্বের সকল অধীনস্ত দেশেই বিশ্বায়িত পুঁজি ও তাদের কালচার ইন্ডাস্ট্রি এদের পয়দা করে চলেছে, এদের মন-মগজ ম্যাট্রিক্স ফিল্মের বন্দিদের মতোই অবশ ও অচেতন। এরাই আজকের রাজাকার। এরাই সিঁদ কেটে সাম্রাজ্যবাদী ঘাতকদের আসবার পথ তৈরি করে দেয়।


মনের কথাগুলো বলতে পারিনা, পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, অবিকল একই কথা।
৬৫. ২৪ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:৪১
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আরো কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব:

এ অবস্থায় এক পক্ষ বক্ষুব্ধ জনতাকে বর্ম আকারে ব্যবহার করছে, অন্য পক্ষ দুষছে বিদেশি হস্তপেকে। হস্তক্ষেপের অভিযোগটি গোড়ায় তেমন হালে পানি না পেলেও অনেকেই এখন এ নিয়ে কথা বলছেন। বিশেষ করে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকার সিমন টিসডাল, কানাডার এরিক মার্গোলিস, আমেরিকার পল ক্রেইগ রবার্টসের মতো খ্যাতনামা বিশ্লেষক কিছু প্রমাণ হাজির করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন কংগ্রেস ইরান সরকারবিরোধী প্রচারণার জন্য ১২০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বরাদ্দ করেছে। এর বাইরে ৬০-৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে ইরানের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের সহায়তায়। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে যে ইরানকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য সিআইএ ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ‘ব্লাক অপারেশন’ চালাচ্ছে (২৭ মে, টেলিগ্রাফ ও এবিসি নিউজ)।

নির্বাচনের আগের দিন মার্কিন রক্ষণশীল নেতা টিমারম্যান বলেন, ‘তেহরানে রঙিন বিপ্লবের কথাবার্তা চলছে।’ এর আগে ইউক্রেনের জর্জিয়ায় নির্বাচনের পরপরই এ রকম অরেঞ্জ রেভুলেশন, জর্জিয়ায় রোজ বিপ্লব ঘটানো হয়। কিন্তু ভোটের আগের দিনই তিনি কীভাবে তা জানলেন? তাঁর মতে, ইরানের বাইরে থেকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মারফত মুসাভির লোকজনের কাছে মার্কিন এনইডির (ন্যাশনাল এনডৌমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি: এরা বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংস্থা ও থিংক ট্যাংককে দেশপ্রেম শেখানোর জন্য তহবিল জোগায়!) তহবিল পাঠানো হচ্ছে। পল ক্রেইগ জানাচ্ছেন, ঠিক নির্বাচনের লগ্নেই ইন্টারনেটে হাজার হাজার ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এরা একযোগে আহমাদিনেজাদবিরোধী বার্তা ও বক্তব্য পাঠাতে থাকে। ইসরায়েলের জেরুজালেম পোস্ট-এ ১৪ তারিখে এ নিয়ে একটি সংবাদও ছাপা হয়। আমাদেরও বিস্ময় যে যারা ফিলিস্তিনে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দেয়, লেবাননে টাকার বস্তা নিয়ে ভোট কেনে, যারা ল্যাটিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলোকে উচ্ছেদের জন্য প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়, তারাই কেন হঠাৎ করে ইরানি গণতন্ত্রের জন্য মরাকান্না জুড়ে দেয়! মার্কিন প্রতিরা কর্মকর্তা জন বোল্টন তো বলেই ফেলেছেন, ‘প্রথমে আমরা সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করব, ব্যর্থ হলে সরাসরি আক্রমণ করব।’ ইরাক আক্রমণের আগের অবরোধ, উসকানি এবং সর্বশেষ আগ্রাসনের রূপরেখাটি মনে পড়ে যাচ্ছে কি?
ইরানী তরুণদের অভিবাদন

ইরানী তরুণ-তরুণীদের বিক্ষোভ খাটো করে দেখারও উপায় নেই। তাদের জীবনদান, তাদের অত্যাচারিত হওয়া সৌখিনতা নয়। তাদের মধ্যে যেমন বিপুল আবেদন রয়েছে তেমনি আহমাদিনেজাদের অনেক সমর্থকই হয়তো তাদের দাবিদাওয়াগুলো সমর্থন করবেন। তারা জানাতে চাইছে, একবিংশ শতাব্দীতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরো উদার ও খোলামেলা হতে হবে। তারা তাদের রুচি, চিন্তা ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা চায়, চায় চাপিয়ে দেওয়া নানা বিধিনিষেধের অপসারণ। তিরিশ বছর ধরে আমেরিকার হুমকি, ঘেরাও ও যুদ্ধাবস্থার চাপ না থাকলে হয়তো ইরানি রাজনীতি আরো উদার হতে পারতো। যাহোক, নির্বাচনকে তারা তাদের এই দাবি জানানোর সুযোগ হিসেবে নিয়েছিল। কিন্তু পরাজয়ের তিতা স্বাদ তাদের হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে। হতাশা জন্ম দিয়েছে মরিয়া ক্ষোভের। শহীদ তরুণী নেদা ডায়রিতে লিখে গেছে,
‘কালকের বিক্ষোভে আমি যাব। হয়তো সেটা সহিংস হয়ে উঠবে। হয়তো কাল যারা মারা যাবে আমি তাদেরই একজন। (তাই)...শুনে নিচ্ছি প্রিয় গানগুলো। ...সবসময়ই আমি ভুরু চিকন রাখতে চেয়েছি। হ্যাঁ, কালকের আগে হয়তো আমি স্যালনেও যাব! হয়তো আরেকবার দেখে নেব মহান কয়েকটি ছবির দৃশ্য।... পড় নেব ফরৌ ও শামলুর কবিতাগুলি। পারিবারিক ছবিগুলোও দেখে নেব আরেকবার। সব বন্ধুকে ডেকে বলব, বিদায়। সম্বল মাত্র দুই শেলফ ভরা বই পাঠিয়ে দেব বাড়িতে।...আমার মন অশান্ত। এই এলোমেলো কথাগুলো লিখে যাচ্ছি পরের প্রজন্মের জন্য। যাতে তারা বোঝে কেমন আবেগি ছিলাম আমরা, ছিলাম কেমন চাপের মুখে। যাতে তারা জানে, তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সর্বোচ্চ যা করা সম্ভব, সব আমরা করেছিলাম।’
মুসাভির মতো রক্ষণশীল ও কপট ব্যক্তি এদের নেতা হতে পারেন না। তিনি জনতার আড়ালে নিজেকে নিরাপদ রেখেছেন। যদি জাগরণ সৃষ্টি করতেই চান তো তাঁকেও গান্ধির মতো জনতার সঙ্গে কষ্টভোগের পথ পেরুতে হবে। সেকারণে খাতামি ও নেদার উদ্দেশ্য এক হতে পারে না। মানবিক আবেগ অসামান্য নিপীড়ন সহ্য করেও অনেক সময় অল্পতেই আকুল হয়ে ওঠে। হয়তো সমাজের নীরব বড় অংশ এর সঙ্গে পুরোপুরি একাত্ম নয়। রাষ্ট্রনেতাদের সংখ্যালঘিষ্ঠেরও অভিভাবক হতে হবে। গণতন্ত্র অনেক সময় সংখ্যাগুরুর একনায়কতন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দেশের মতো ইরানেও সেটাই চলছে। সবকিছুর পরও এই বিক্ষোভ গণতন্ত্রের সংগ্রাম হিসেবেই চিহ্নিত হবে।

পরিস্থিতির দ্বান্দ্বিকতা

২০ বছর আগে চীনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদীরাও সরকারের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট ইন্ট্যারন্যাশনাল গেয়েই জীবন দিয়েছিলেন। ইরানের প্রতিবাদীরাও বিপ্লবের সবুজ পতাকা আঁকড়েই মার খাচ্ছেন। প্রতিবাদ সৎ যুক্তি ও সদিচ্ছার ওপর যদি দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে শুভ ফল ফলবেই। নেদা বলেছিল, ‘সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সর্বোচ্চ যা করা সম্ভব, সব আমরা করেছিলাম।’ খামেনি বলেছিলেন, ‘আপনাদের বিজয়ের গৌরব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যখানেই লুকিয়ে রয়েছে ইরানের প্রাণভোমরা। ধোঁয়া ও কোলাহলের মধ্যে থেকে তাকে আমাদের খুঁজে নিতে পারতে হবে।
৬৬. ২৫ শে জুন, ২০০৯ রাত ১:৪২
:) বলেছেন: ১. ৬৫ নম্বর কমেন্টে আপনার নেডার ডায়রিটির লেখিকা আসলে নেডা নয়। একজন ইরানী তরুণী, সে বেঁচে আছে।

সোর্স : ৪:১৬ পি এম অংশ দেখুন
Click This Link

সে মিছিলে গিয়েছিলো এবং ফেরত ও এসেছে, মিছিল থেকে এসে সে নেডা কে নিয়েও লিখেছে

সোর্স : ৮:৫৩ পি এম অংশ দেখুন
Click This Link


২. টুইটার একাউন্ট:

ইরানের মত দেশে হাইলি সেন্সরড মিডিয়ার কারনে নির্বাচনের আগে টুইটার একউন্ট খোলার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে, কারন অনেক শিক্ষিত তরুন ভোটার টুইটার একাউন্টের ব্যবহার করে তাদের সমমনাদের সাথে যোগাযোগ অনেক সহজে করতে পারে। টুইটার কী এবং কেন এধরনের বড় সোশাল/পলিটিকাল ইভিন্টের আগে জনপ্রিয় হয় সেটা বুঝতে একটু পড়াশুনা করুন।

উদাহরন হিসাবে দেখুন এ মুহুর্তে #IranElection ট্যাগ ইউস করে সাধারন জনগন / সরকারি এজেন্ট/ দুষ্ট বালক কত কথা বলছে, এর মধ্যে থেকে আপনাকে ইনফরমশন বেছে নিতে হবে। প্রথম প্রথম ওভারহোয়েল্মড হলেও, কিছুদিন ব্যবহারের পর কোন টুইটার এক্যাউন্ট বিশ্বাসযোগ্য কোনটা নয় নিজেই অনুধাবন করতে পারবেন।

Click This Link

৩. পশ্চিমা গনমাধ্যমকে বায়াস্ড এ কথা নতুন নয়, যখন আল জাজিরার / আল এরাবিয়ার কথা বলা হয় তখনও বায়াস্ড শুনতে হয়, হতে পারে সব মিডিয়াই বায়াস্ড, সব মিডিয়ার নিজেস্ব এজেন্ডা আছে। কিন্তু সবার লেখায় বারে বারে সেই মিডিয়াকে সোর্স হিসাবে দেখতে পাই যেমন আপনি দিলেন টেলিগ্রাফ আর এবিসি নিউজ। এর থেকে পরিত্রানের উপায় কী? আমি গার্ডিয়ানের / এবিসির / ইন্ডিপেন্ডেন্টের / নিউ ইয়র্ক টাইমসের / বিবিসির হাজার টা লিংক দিলে খুব সহজে আমাকে বলা হয় ওরা বায়াস্ড। অনেস্টলি বলেনতো?


৪. পস্চিমা মিডিয়ার মায়াকান্না অন ইরান: পশ্চিমা গনমাধ্যমের ডাইনামিক্স বুঝতে না পারলে খুব সহজেই এ ধরনের কথা বলা যায়। উদাহরণ হিসাবে সি এন এন এর কভারেজ ধরা যায়, সি এন এন প্রথমে ইরানের নিউজ কে কম প্রফারেন্স দিচ্ছিলো। সাথে সাথে টুইটারে শুরু হলো #cnnfail ট্যাগ ইউস করে সিএনএন ব্যাশিং। সিএনএন সেটা লাইভ স্বীকার করল এবং ইরানের কাভারেজ বাড়াতে বাধ্য হল।

সোর্স : ১. http://mashable.com/2009/06/14/cnnfail/
২. Click This Link

৫. নতুন মিডিয়া: নতুন মিডিয়া অনেক বেশী ট্রান্সপারেন্ট, কারন বেশীরভাগ নিউসপেপারের/বল্গের অনলাইনে আপনি আপনার কমেন্ট রাখতে পারছেন, শুধু কমেন্ট না, আপনার পছন্দের ওয়েব লিংকও শেয়ার করতে পারছেন, এ অবস্হায় সকাল বিকাল পচ্চিমা মিডিয়া কে গালাগালি করে খুব বেশী সুবিধা হবে না। ইন্টারনেটে এখন 'সোশাল মিডিয়া' হট টপিক। ইউএসএ-তে নিউ ইয়র্ক টাইমস বাদে প্রায় সব খবরের কাগজের ব্যবসা নিম্নমুখী/ সাংবাদিক ছাটাই চলছে। বেশী বেশী করে সবাই ওনলাইন মিডি্যা ব্যবহার করছে এবং ওনলাইন মিডিয়ার ডাইনামিক্স বুঝতে শুরু করেছে। ফেইসবুক / টুইটারের সাথে সাথে ডিগ/ ম্যাশেবল/স্টাম্বল আপন ইত্যাদি টুল ইউস করে অনেক ডাইভাসর্ড গনতান্ত্রয়নের স্বাদ টেক-স্যভিরা পাচ্ছে। বামপন্হী/ডানপন্হী/মধ্যপন্হী তাদের সমমনা দের খোঁজার সাথে সথে বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে তাদের দর্শন/চিন্তাধারার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারছে। এরকম পরিস্হিতিতে ঢালাওভাবে পস্চিমা মিডিয়াকে গালাগালি করার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, না হলে য কোন ম্যচিউরড টেক-স্যাভি আপনাদের দর্শনের ইম্যাচুরিটি ধরতে পেরে আর আগ্রহী হবে না।
৬৭. ২৫ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:০৪
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: নেডা বিষয়ে আপনার মন্তব্য চেক করে জানাচ্ছি।

আমি নিউ মিডিয়ার বিরোধী নই। কিন্তু বিশেষ একটি সময়ে বিশেষ একটি মিডিয়া বা মিডিয়ার কোনো ফর্ম কী রকম ভূমিকা নেয়, তার কি কি ব্যবহার সম্ভব, তার আলোচনাটা একাডেমিক আগ্রহেরও বিষয় হতে পারে। ওতে দোষ ধরবেন না। সেটা গৃহীতও হবে না। যাহোক আবার পড়লেই মনে হতে পারে যে, ওটা নিয়ে বিতর্ক করা যায় কিন্তু বিষয়টা ভাবনার মতো।

ইন্টারনেট গঠনগত ভাবেই বিপুল গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা রাখে। সেজন্যই তার মধ্যে ম্যানিপুলেশন এবং নানারকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।


লিখেছেন>

এরকম পরিস্হিতিতে ঢালাওভাবে পস্চিমা মিডিয়াকে গালাগালি করার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, না হলে য কোন ম্যচিউরড টেক-স্যাভি আপনাদের দর্শনের ইম্যাচুরিটি ধরতে পেরে আর আগ্রহী হবে না।

আমার বক্তব্যে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু আপনার এই বাক্যটি কি কোনো অর্থ উৎপাদন করলো? আমাদের মিডিয়া বলে কিছু নেই। আজকের দুনিয়ায় নানানভাবে সব মিডিয়াই পশ্চিমা মিডিয়া। আর মিডিয়া কেবল নিজের ব্যবসার জন্যই নয়, পুঁজি, ব্যবসা, যুদ্ধ, শাসন ও মাইন্ড কন্ট্রোলের বিরাট অস্ত্র। এটা ছাড়া এই ব্যবস্থা টেকানো কঠিন। এদের মুখোশ সত্যিই যদি খুলে ধরা যেত, যেত বের করে আনা এদের কর্মপদ্ধতি তাহলে বমির উদ্রেক হতো।

আমি এখানে দর্শন প্রচার করতে আসিনি ভাই। একটা ঘটনাকে আমার জানা বোঝা ও বিবেক দিয়ে ব্যাখ্যা করেছি। ভাল না লাগলে বলবেন বিতর্ক করবেন। কিন্তু দর্শন নিয়ে খামাখা বাতাস গরম করাটা বিষয়বহির্ভূত আলাপ। আমি বলবার আগেই ধরে নিয়েছেন আমার দর্শন দুর্বল। তাহলে কি সেটা বলতেই আপনার আগমন।

বেয়াদবি নেবেন না, আপনার পুরো কমেন্টের এটুকু অতি নাজুক অংশ। না থাকলও চলতো। বাকিটা পরে...

৬৮. ২৫ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:০৭
:) বলেছেন: ১."আর মিডিয়া কেবল নিজের ব্যবসার জন্যই নয়, পুঁজি, ব্যবসা, যুদ্ধ, শাসন ও মাইন্ড কন্ট্রোলের বিরাট অস্ত্র। এটা ছাড়া এই ব্যবস্থা টেকানো কঠিন। এদের মুখোশ সত্যিই যদি খুলে ধরা যেত, যেত বের করে আনা এদের কর্মপদ্ধতি তাহলে বমির উদ্রেক হতো।" -- ওয়েল আমাদের ফ্রিকুয়েন্সি ধরতে মনে হয় সমস্যা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের / গারডিয়ানের নিয়মিত পাঠকের অধিকাংশই বাম ঘারানার মিডিয়া এনালিসিস সম্প্রকে অবগত, তাদের "দ্যা কোরপোরেশোন" ডকুমেন্টরি ফিল্মটি দেখা আছে, তারা নোয়াম চমেস্কির লেখা পড়েছে। আপনি যদি মনে করে থাকেন বাম ঘারানর আইডিওলজি / এনালিসিস তারা জানে না বোঝে না সেটাই ইম্যাচিউরিটর নির্দেশক।

এমনকি "ব্যবসার জন্যই নয়, পুঁজি, ব্যবসা, যুদ্ধ, শাসন ও মাইন্ড কন্ট্রোলের বিরাট অস্ত্র" - বিষয়গুলো মেইনস্ট্রিম বেশ কিছু মুভিতে বহুবার দেখানো হয়েছে, এ বিষয় সম্পর্কে তারা অবগত আছে।

আমি নিজেও বাংলাদেশের সেলিম রেজা নিউটনের কিছু লেখা পড়েছি, ভালো লেগেছে। এসবের পরেও ইন্টারনেটের গনতন্ত্রায়নে কনভনশনাল মিডিয়া যথেষ্ট পরিমানে "দৌড়ের উপর" আছে, সেল্ফ ইভালুয়েশন তাদের প্রতিটা পদক্ষেপ করতে হয়, না হলে অনলাইন মিডিয়াতে ব্যশিঙের হাত থেকে কেউ রক্ষা পায় না। আমেরিকায় ফক্স নিউস তাদের বিশাল এক টার্গেট, প্রায় প্রতিদিনই ফক্স নিউস কে পঁচানো ভিডিও ইন্টারনেটে বেশ জনপ্রিয় হয়।


২.আমাদের মিডিয়া নেই?

কেন মান্হলি রিভিউ আছে না? কাউন্টার কারেন্ট? আপনার মন্তব্য লিখুন নিউ ইয়র্ক টাইমসে/ গারডিয়ানে / বি বি সি এর হ্যাভ ইউর সে সেকশনে/ সি এন এন এর আই রিপোর্টে, দরকার হলে মোবাইলে আপনার ভিডিও ইউটিউবে উঠিয়ে দিন। যুক্তি দিয়ে কথা বল্লে আপনার মন্তব্য/ভিডিও অনেক পজিটিভ ভোটে পাবে। "আমাদের কিছুই নাই" বলার মত সিচুয়েশন ইন্টারনেট রাখে নাই।

১. কমিউনিটি ব্লগগুলো ছাড়াও শত শত ব্যক্তিগত ব্লগ আছে।

Click This Link

২. আনহার্ড ভয়েসেস http://unheardvoice.net/blog/

৩. মেঘবার্তা Click This Link

এছাড়া আছে আপনাদের মত হাজার সাংবাদিক। যদিও সংবাদপত্রকে তার কর্পোরেট স্বার্থে সেল্ফ সেন্সরশিপ আরোপ করতে হয়, সেটা জানানোর জন্য ব্লগতো আছেই।

ইরানের সংবাদ পাওয়ার জন্য অনেককেই পারসি ভাষার 'বালাতারিন' নামক ব্লগিং/ সোশাল নেটওয়ার্কিং টুলের সাহায্য নিতে হচ্ছে, সেটার ইংরেজী ট্রন্সলেশনেই আমরা সেই ডাইরী/ব্লগ লেখা তরুনীর কথা জানতে পারছি।
৬৯. ২৫ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৯:৪২
বাঙ্গাল বলেছেন: আই গেসড সো। কিন্তু খোজখবর পাচ্ছিলাম না। আপনার সামারাইজেশনটা ভাল হইছে।
এক ফ্রেন্ডকে দেখলাম ইরানি আরেক স্টুডেন্টের কাছে পাওয়া ইরানি একটা মেয়ের নোট ফেসবুকে শেয়ার করতেছে... অন্যদেরো শেয়ার করতে বলতেছে। ইলেকশনের পরের খুন খারাবির বর্ননা... পড়ে মোটেও অথেন্টিক লাগল না। নিউজ প্রপাগান্ডা এখন সোশাল নেটোয়ার্কিং জগতেও।
২৫ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:০৫

লেখক বলেছেন: ro informationer jonno dekhun :

CIA Discovered Planning “Soft Revolution” in Early 2009 Click This Link

& Iran Turmoil and media propaganda : Click This Link. Read More

US Interbention : Click This Link

Iran's manufactured revolution : Click This Link

Mone rakhben, juddher prothom shohid sotto, propaganday sottoer edik-odik protishoron ghote.

So Friends, Use ur head and conviction to peace and people.

৭০. ২৫ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৬
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: জোক অব দি ডে

আমাদের হাসি ভাই বলেছেন,

"আমাদের কিছুই নাই" বলার মত সিচুয়েশন ইন্টারনেট রাখে নাই।

১. কমিউনিটি ব্লগগুলো ছাড়াও শত শত ব্যক্তিগত ব্লগ আছে।

২. আনহার্ড ভয়েসেস

৩. মেঘবার্তা


দানবাকার কর্পোরেট মিডিয়া বনাম দুই/চারশো পাঠকের অনিয়মিত, ক্ষীণকায় কিছু ব্লগ। গোলিয়াথ বনাম ডেভিড যেন।

আপনার জন্য আমার আরো কিছু কহতব্য রয়েছে। কিঞ্চিত তর সহ্য করেন। আসিতেছি।
৭১. ২৫ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৪
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: এই একই মিডিয়া গোয়ানতামোতে কি কি আকাম কুকাম হইছে, হইতাছে তার সচিত্র প্রতিবেদন প্রতিনিয়ত দিতাছে; ইরাকী প্রিজনে মার্কিনী সেনারা কি করছে তা প্রকাশ করছে; ইজরাইলীরা গাজায় কি ভাবে খুন-ধ্বংসলীলা চালাইছে তা নিয়মিত প্রচার করতাছে, এককালে লাতিন আমেরিকা আফ্রিকায় পশ্চিমা দুনিয়ার সম্পদ আত্মসাৎ করছে তাও জানছি এই নচ্ছার পশ্চিমা মিডিয়ার মাধ্যমে। সাম্রাজ্যবাদ আর পশ্চিমা দুনিয়ার গুষ্টি উদ্ধার করি সকাল-সন্ধ্যা তাগোরই দেয়া তথ্য দিয়া। গুষ্টি উদ্ধারে কুনও সমস্যা নাই, সমস্যা শুরু যখন নিজের পছন্দ কোন ষ্ট্যাবলিশমিন্টের পিছনে লাগে এই মিডিয়া। ইদানিং কালে বিশ্লেষনধর্মী প্রচারের তুলনায় সচিত্র বা ভিডিও ফ্যাক্ট প্রচার করে মিডিয়া বেশী। এতে আধুনিক ধুরন্ধর পাবলিক নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আসলেই কি ঘটতাছে। এককালে ঘরের জানলা দরজা বন্ধ কইরা মিডিয়ারে গাইল পারতো সোকলড কমুনিষ্ট আমলা শাসিত দেশগুলা, এখন গাইল পারতাছে খামেনীগং। ঘটনা একই, হেগো মতন নাকি কেউ পাবলিকরে, দেশরে, ধর্মরে ভাল পায় না। গনেশ উল্টাইলে জানা যায়, এই মহাপুরুষগুলি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি আর সাংষ্কৃতিরে ফাপরা, দেউলিয়া বানাইয়া রাখছিল দরজা-জানলা বন্ধ কইরা।
একজন নেডা এইটা মানে না; সুতরাই তার মৃত্যুর ছবি হইয়া গেল পশ্চিমা মিডিয়ার ষড়যন্ত্র, ইসলামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে পাশ্চত্য আর মিডিয়ার ষড়যন্ত্র। মূল্যহীন এই মৃত্যুর শেষ মুহুর্তে নেডার বেআব্রু চোখটা দেখেন আবার ফারুক সাহেব- কিভাবে পোজ দিচ্ছে আহমেদিনাজ আর মহান ইসলামী রাষ্ট্রের সর্বনাশের প্রয়াসে।
৭২. ২৫ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৭
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: দ্বিতীয় নাম ওয়াজ ফরমাইছেন, সকলে বলেন আল হামদুলিল্লাহ। কর্পোরেট মিডিয়া নিজের গু নিজের মুখে মাখাইয়া নিজেই নাকি প্রচার করা শুরু করছে, এই সুসংবাদে বেরাদানে মার্কিন বলেন সুবহানাল্লাহ। তিনি এইবার খাস দিলে দুনিয়ার বাদশাহগো মিডিয়ার চোঙের ঢনঢনার সাফাই গাইছেন। আছেন যারা আমার মতো বেদিল, বেশরম বলেন, নাউজুবিল্লাহ।

ওরে আমার হাসতে হাসতে হাঁচি পায়, বলেন ভাই দ্বিতীয় নাম, ইয়ারহাকুমুল্লাহ।

ভাইজান, প্রথম নাম ছাইড়া দ্বিতীয় নামে লুকাইতে লুকাইতে পগার পার দিয়া যেই রাজার দেশে আশ্রয় নিছেন, সেই রাজার গায়ে যে কাপড় নাই, সেইটা আমার মতো নাবালকও বোঝে, আপনি খালি বুঝলেন না।

নেদার মৃত্যুকে আমি যে মহিমা দেই, মান্য করি, অশ্রু ফেলি সেটার বিচার আপনার করার ক্ষমতা নাই জনাব। দেখেন, তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে অনেকে বললেও আমি সযত্নে কোনো সন্দেহ আনি নাই।

আপনি একটু দয়া কইরা এই লেখাটা পড়বেন, আমার রুহু কিছুটা শান্তি পাইব। ছবক দেওয়া আমার কাজ না। তবুও...

পড়েন আপনার দিলদরাজ সম্রাটগো নামে।

Iran Turmoil And Media Propaganda

By Partha Banerjee

24 June, 2009
Countercurrents.org
Click This Link
৭৩. ২৫ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪৯
হমপগ্র বলেছেন: আমেরিকাকে দায়ী করছেন, আবার আমেরিকান জরিপ সংস্থার রিপোর্ট পেশ করছেন। ভালোই তো ঘোল খাওয়ায় আমেরিকানরা আপনাদের!
৭৫. ২৬ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:২৬
:) বলেছেন: আপনার দেয়া লিংক ধরে প্রথমে দখলাম
CIA Discovered Planning “Soft Revolution” in Early 2009 - সেখানের নিউজটি Mehr News Agency-এর সন্ডিকেটেড নিউজ, আমাদের জানা দরকার Mehr News Agency হচ্ছে ইরানের সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত একটি নিউজ এজেন্সি। সরকারী হলেই যে প্রোপাগান্ডা মেশিন হবে এমন কোন কথা নাই, তবে Mehr News Agency ওয়াব সাইটে দু:খজনক ভাবে সেটারই প্রমান মেলে।

http://www.mehrnews.com/en

আশা করি ভবিষ্যতে এরকম প্রপাগান্ডা মেশিনর লিংক আর দেবেন না।
৭৬. ২৬ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৪:১৫
:) বলেছেন: মিডিয়া কী করেছে না করেছে সে বিষয়ে ত্যনা না পেচায়, আমারে সরাসরি বলেন স্যভেজ এর লগে জোট হইয়া আমিরকা বিরোধী কাজ কাম করে/ গরীবের বন্ধু হোলে কি তার মানবাধিকার বিরোধী কাজ/কর্ম যায়েয হয়ে যায়? ইরানের সরকার অথেরিটরিয়ান এমনিস্টির রিপোর্ট দেখেন / রিপোর্ট দেখেন Reporters without Borders -এর। নাকি ওদের রিপোর্টও ভুয়া? এতো কিছুর পরও আপনার খোমেনিই/ আহমেদিনাজাদের মুখের বুলি ' বিশ্বাস' করার জন্য এতো আগ্রহী কেমনে হন? কমেনে আপনার আর্টিকলের মেরিট বারানোর জন্য বলেন

"গত ১৫ জুন পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান মির্জা আসলাম বেগ সেখানকার পশতু রেডিওতে বলেন যে, ইরানের নির্বাচনে মার্কিন হস্তক্ষেপের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। ‘দলিলপত্র প্রমাণ করছে সিআইএ সেখানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে মসনদ উল্টে দিতে ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।’" --- এটার নিউজ সোর্স চেক করেছেন? আমি করেছি এবং পেয়েছি সেই নির্লজ্জ ইরানিয়ান সরকারী নিউজ এজেন্সি / সরকারী টিভি প্রেস টিভি।

আপনি কেন বলতে ভুলে যান ভোটের আগে আহমেদিনাজাদ গরীবদের মাঝে কেনো অর্থ বিলায়?

বারাক ওবামার ভাষনের আগে করা জরিপের কি রকম উল্টা প্রভাব পরে লেবাননের নির্বাচনের ফলাফলে?

ইরানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের জরিপের ২৭ শতাংশ ভোট যে আনডিসসাইডেড ছিলো?


কিসের ভিত্তিতে বলেন "মুসাভি প্রায় চার লাখ ভোটে তেহরানে জয়ী হয়েছেন, কেননা রাজধানীতেই বেশি অবস্থাপন্নদের বাস" - মুসাভি তো তেহরানের কোথাও জিতে নাই!!

Tehran Province আহমেদি 3,917,993 মুসাভি 3,383,905

Click This Link


আপনি বলেন মুসাভি বড় ধরনের প্রমান দিতে পারে নাই ভোট রিগিং-এর বলতে ভুলে জান "But with their monitors excluded from the voting and counting process it is difficult for the opposition to come up with such hard evidence."

আপনি বলতে ভুলে যান ৬৮৫টি অভিযোগের মধ্য থেকে ৫০ টিতে অনিয়মের প্রমান মেলে প্রায় তিন মিলিওন ভোটের "the number of votes recorded in 50 cities exceeded the number of eligible voters there by three million, further tarnishing a presidential election that has set off the most sustained challenge to Iran’s leadership in 30 years."

Click This Link


যখন ভোট গ্রহন শেষ হবার ২ ঘন্টায় ৩ কোটি আশি লক্ষ ভোট কাউন্ট করে তখন প্রথমে মুসভি ভোট রিকাউন্ট চেয়েছিলো। কেন মুসাভি কি অফার করা হয় ১০% ভোট রিকাউন্টের এবং সময় নেয়া হয় ১০ দিন?

অথরিটরিয়ানের প্রপাগান্ডা মেশিনর উপর আপনার ভরসা আশংকাজনক।


৭৭. ২৬ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৪:৫২
:) বলেছেন: More than 130 academics including Noam Chomsky and Slavoj Zizek, have now signed a letter in support of the protests.

It says:

It is up to the people of Iran to determine their own political course. Foreign observers inspired by the courage of those demonstrating in Iran this past week are nevertheless entitled to point out that a government which claims to represent the will of its people can only do so if it respects the most basic preconditions for the determination of such a will: the freedom of the people to assemble, unhindered, as an inclusive collective force; the capacity of the people, without restrictions on debate or access to information, to deliberate, decide and implement a shared course of action.

Years of foreign-sponsored 'democracy promotion' in various parts of the world have helped to spread a well-founded scepticism about civic movements which claim some sort of direct democratic legitimacy.

But the principle itself remains as clear as ever: only the people themselves can determine the value of such claims. We the undersigned call on the government of Iran to take no action that might discourage such determination


ষড়যন্ত্র তত্ব আপাতত: পকেটে রাখেলে সমস্যা কি? পরে বের কইরেন যখন হাতে নাতে প্রমান পাবেন!!
২৮ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১

লেখক বলেছেন: ইন্টারেস্টিং যে, জিজেকও পালে ভিড়লেন! এটাও ইন্টারেস্টিং যে, একসময় উপনিবেশিত দেশগুলোর পরাধীনতার ইউরোপের শ্রেষ্ঠ বিবেককেও এরকম ডিলেমার মধ্যে ফেলেছিল। তাদের মিশনারি, তাদের মানবতাবাদী এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মার্কসবাদও এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, নীতিবান করা, সভ্য করা, মানুষ করা, ইতিহাসের স্রোতে নিয়ে আসার যুক্তিতে উপনিবেশিবাদ বৈধ।

আজকের উপনিবেশিত দেশগুলোর ব্যাপারেও পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠ চিন্তাগুলো এরকম ডিলেমায় ভোগে। খেয়াল করে দেখেন, যে জিজেক গাজা প্রশ্নে সরব ইরান প্রশ্নে আদর্শিক ঘৃণা থেকে তিনি প্রায় বিশ্লেষণহীন আলোচনা করেছেন (যদি ধরে নেই এটা তাঁর অবস্থান)। মৌলবাদ, ইসলামো-ফ্যাসিজম এজাতীয় নন-এনালিটিক টার্ম ব্যবহার করেছেন। ইরানের ইতিহাস ও বাস্তব ঘটনাসূত্র তাঁর আলোচনায় নাই। চিরে চিরে দেখানো সম্ভব যে, জিজেকের পুরা মতামত কেন ধোপে টেকে না।

কারণটা ইরানের নির্বাচন নিয়ে আপত্তি তুলনেওয়ালাদের তর্কের বিকাশটা খেয়াল করলেই বোঝা যায়। প্রথমত, তারা বললেন নির্বাচনে বিরাট জালিয়াতি হয়েছে। কিন্তু সেটা যেই প্রমাণ করা কঠিন হলো, তখনই তারা চলে আসলেন ইরানে গণতন্ত্র নাই অভিযোগে। কথাটা হচ্ছে, গণতন্ত্র বিভিন্ন দেশেই বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে আছে। মার্কিন বা ব্রিটিশ গণতন্ত্রও এমন কোনো পূজনীয় বিষয় নয়। যাহোক, যদি গণতন্ত্র নাই থাকে, তাহলে সেটাই বলো। কিন্তু নির্বাচন বানচালের জন্য এই অস্ত্র ব্যবহার করা কতটা নৈতিক?

এই যুক্তিতে প্রতিবাদীদের নির্বাচন নিয়ে তোলা আপত্তি তাই গ্রহণীয় নয়। কিন্তু অধিকতর গণতন্ত্রের জন্য তাদের দাবিগুলো সাধারণভাবে সমর্থনীয়। এই জটিলতার মধ্যে নৈতিক ও রাজনৈতিক বিচার করতে না পেরে অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে ভাগ হয়ে গেছেন। এবং বিষয়টা পরিণত হয়েছে সভ্যতার সংঘর্ষের গন্ধঅলা কালচারাল ক্ল্যাশে। সেই ক্ল্যাশের তলায় যে প্রাচ্যবাদ আছে, আছে বর্ণবাদী ঘৃণা সেটা নিয়ে অনেকেই হুশ রাখেন নাই।

তাই আমার কথা, কোনটা আপনাদের মূল দাবি। নির্বাচন সঠিক হয় নাই? নাকি ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন? এবং এই দাবি আপনি কোন জমিনে দাঁড়িয়ে কোন পক্ষ থেকে তুলছেন? সুতরাং আমার প্রস্তাব হচ্ছে, যদি আসলেই কী হয়েছে নিয়ে তর্ক করেন, তাহলে আসেন সেটা আগে সমাধা করি হাতের কাছে যা আছে তা নিয়ে, আর যদি ইসলামী মৌলবাদ বা সমাজতন্ত্র নিয়ে তর্কের খায়েশ থাকে, তাহলে সেটাই করি।

আবারো জানাই যে, ইরানী তরুণদের প্রতিবাদ ইরানী রাজনৈতিক সিস্টেমকে আরো খোলামেলা করতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু শাসক মহলের মসনদের খেলার বলি হওয়াও বিচিত্র নয় তাদের জন্য।

মনে পড়ছে তিন বছর আগের এই জুলাই মাসেই মেক্সিকোর নির্বাচন ছিনতাই করার কথা। বামমনা প্রার্থী তাতে জিতেছিলেন। কিন্তু দেশব্যাপী বিক্ষোভ মৃত্যু, সমস্ত শহরে অবরোধ ইত্যাদির পরও সেটাকে সেনাবাহিনী দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন সেখানে চলছে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কৃষক বিদ্রোহী দমন। নিউইয়র্ক টাইমসের সেই সময়ের জালিয়াতের ভূমিকা দেখতে পাবেন এখানে: http://www.counterpunch.org/ross06262009.html

৭৮. ২৬ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৪০
বাঙ্গাল বলেছেন: ব্যাপক লিঙ্ক দিছেন...জাঝা!
২৭ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫

লেখক বলেছেন: বিষয়টার রাজনৈতিক দিক নিয়ে স্বতন্ত্র একটা লেখা দেব ভাবছি। খেয়াল রাখবেন দয়া করে।

৮০. ২৭ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:২০
নতুনের পথে অনন্ত যাত্রা বলেছেন: Click This Link এখানে একটা দারুন বিতর্ক চলছে। আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
৮১. ২৮ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: এটা নিয়েই হিমশিস খাচ্ছি, আরেক পাল্লায় পড়তে বলেন? দেখেছি বিতর্কটা। এ নিয়ে লিখব পরে।
৮২. ৩০ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:২১
লালন অনিক বলেছেন: পড়তে পড়তে কাহিল....তবু শেষ করেই ছাড়লাম( কমেন্টস্ সহ)


৮৩. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:০৬
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: যাঁরা যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান তাঁদের জন্য বিজয়প্রসাদের লেখার এই লিংকটা কাজের হবে মনে করি।

http://www.counterpunch.org/
ইরান এন্ড ইউএস : মেড ফর রেভুলেশন

 

মোট সময় লেগেছে ১.৩৬৩৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই