আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

অডিসিয়াস ল্যাম্পপোস্ট ও বিসর্জিত দীপুমণি : আত্মবলিদানের প্রথম ধাপে যারা
০৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০০
পানি ও সার্বভৌমত্বের পয়লা কোরবানী
বলি বা কোরবানির প্রয়োজন কেবল ধর্মীয়ই নয়, রাজনৈতিকও। টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী সংগ্রামে এখন অবধি আত্ম বা পরকে বলিদানের ঘটনা সরাসরি ঘটেনি। তবে জনতার পক্ষে ল্যাম্পপোস্ট নামক সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদ করে বন্দী ও রিমান্ডে নির্যাতিত হওয়া আর ভারত-চটানো মন্তব্যের দায়ে সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমণির মন্ত্রীত্ব কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে রাজনৈতিক কোরবানীর আলামত স্পষ্ট। দুটি ঘটনা দুই ধরনের বলি বা কোরবানীর ইঙ্গিত। আরেকদিক থেকে ল্যাম্পপোস্টের এই প্রতিবাদ আকারে ক্ষুদ্র হলেও মাত্রায় বিরাট। ২০০৭ সালের আগস্টের ছাত্র আন্দোলন যেমন একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল, ভারতীয় দূতাবাসের সামনের এই প্রতিবাদীদের ওপর পুলিশি বর্বরতাও ভারত বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠার সম্ভাবনাধর।
কোরবানী কেউ করে এবং কেউ তা হয়। আত্মবলিদানও আসলে পরের হাতে কোরবানী। আত্মহত্যার সঙ্গে এখানেই তার পার্থক্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই বিপজ্জনক প্রতিবাদ করায় ল্যাম্পপোস্টের কর্মীরা এবং ক্যারিয়ার-বিধ্বংসী মন্তব্য করে দীপুমণিও আত্মবলিদানের পথেই গিয়েছেন। প্রথমটি জনগণের তরফ থেকে দ্বিতীয়টি সরকারি দলের পক্ষ থেকে। কোরবানী হয় যে প্রিয় সে। নিরাপদ পথ ছেড়ে কার্যকর প্রতিবাদের পথ দেখিয়ে ল্যাম্পপোস্ট টিপাইমুখ বিরোধী সংগ্রামকে এক স্তর উতরিয়ে অনেকের প্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে নতুন মুখ দীপুমণিও ছিলেন আওয়ামী লীগের আদরের। আজ উভয় পক্ষই যার যার আদরের ধনকে কোরবানী করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিস্থিতির তীব্রতা ও করুণ চিত্র এখানেই ফুটে উঠছে। এ ঘটনার মধ্যে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যতেরও একটি দিশা পাওয়া সম্ভব। সামান্য আকারে সেটাই আমার আলোচনার বিষয়।
অডিসিয়াস ও ল্যাম্পপোস্ট
অডিসিয়াসের কাহিনী ট্রয়ের যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার দুর্ভোগের কাহিনী। দেবতার কাছে নত হতে অস্বীকার করায় সে অভিশপ্ত হয়েছিল। অভিশাপ কাটাতে লড়াইয়ের পথ বেছে নেয় সে। দানবীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে দুর্বলের লড়াই কৌশলী না হয়ে পারে না।
অডিসিয়াসের কৌশলটি ছিল অতি সরল। সেটা হলো, ভীত না হয়ে সরাসরি দানবকে আঘাত করো। আত্মবলিদানের ঝুঁকি নাও। যতদূর জানি, ল্যাম্পপোস্ট নামক সংগঠনটি ভারতদৈত্যের চোখের বালির বেশি কিছু নয়। সরাসরি ভারতীয় দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদের মাধ্যমে এই সামান্য ক্ষমতার কৌশলগত ব্যবহার তারা করেছে । তাতেই ভারত ও তার করদ সরকারের দাঁতাল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। জনগণ দেখেছে তাদের বর্বর বাড়াবাড়ি। তারা নির্যাতিত হয়েছে, সংগঠনটির দুই কর্মী রিমান্ডের কয়েকদিন গুয়ান্তানামোর স্বাদ পেতে যাচ্ছে, তার থেকেও খারাপ পরিণতির ভয়ও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদের ‘কোরবানী’ করে অন্যদের হুশিয়ারের মওকাও ছাড়ছে না সরকার। ‘চরমপন্থী’ তকমা লাগিয়ে মন্দ পরিণতির পথকে আরো পিচ্ছিল করছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম। এককথায় ল্যাম্পপোস্ট জেনেশুনে আত্মবলিদানের পথে গিয়েছে।
আত্মবলিদান বা স্যাক্রিফাইসের মর্মটা এখানেই যে, এতে সকলের হয়ে একজনকে উৎসর্গ করে ন্যায় বা সুস্থিতি ফিরিয়ে আনার চিন্তা নিহিত থাকে। এর আরেকটা তাৎপর্য হচ্ছে, বড় কোরবানীর মহড়া। প্রিয় সন্তানের প্রতীক পবিত্র প্রাণী কোরবানী দেওয়ার মাধ্যমে নবী ইবরাহিম আসলে সর্বস্ব ত্যাগের সংকল্পেরই প্রকাশ করেছিলেন। তা ছিল আত্মবলিদানেরই মহড়া।আত্মবলিদান তাই একইসঙ্গে ন্যায়ের জন্য বা বিজয়ের সংকল্প ও মহড়া দুটোই। যুগে যুগে প্রতিবাদীদের আত্মদান অধিকাংশ মানুষের মনে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংকল্পকে তীব্রতর করতে পেরেছে। এটাই আত্মবলিদানের জাদুকরী জোর। ল্যাম্পপোস্টের এই প্রতিবাদের মধ্যে সেই ইশারা বিদ্যমান।
তোমরা কারা? উত্তর: আমরা কেউ না?
প্রথম আলোয় প্রকাশ, ল্যাম্পপোস্ট 'চরমপন্থী' সংগঠন। প্রমাণ? প্রমাণ নাই। তবে এটা ‘জানা গেছে’ ‘সংস্লিষ্ট সূত্র’ মারফৎ। তারা কারা তা বলবার অপেক্ষা রাখে না। অথচ, জানা মতে তাদের সব কার্যক্রম আইনী সীমার মধ্যে থেকেই করা। আইনী প্রতিবাদকে চরমপন্থী তখনই বলা হয় যখন পরিস্থিতিই আসলে চরম হয়ে যায়। বাংলাদেশে এখন সেই পরিস্থিতিই বিরাজ করছে।
একই সংবাদে বলা হচ্ছে যে, পরিচয় জানতে চাইলে মধুর ক্যান্টিনে হাজির ল্যাম্পপোস্টের কর্মীরা সাংবাদিকদের নামের বেশি কিছু বলতে চায়নি। (সাংবাদিকদের তারা কেমন বিশ্বাস করে এটা তার একটা বহিপ্রকাশ।) এ থেকে কেউ যদি সিদ্ধান্তে আসেন যে, এটি একটি মাটির তলার সংগঠন, তা তারা আসতেই পারেন। আসলে উল্টাটা বেশি সত্য, যা অচেনা তাতেই তো ভয় বেশি। বাংলাদেশে দিন দিন অচেনা প্রতিবাদীদের দেখা যাবে, কারণ চেনারা ব্যর্থ নয়তো ফোপরা বা ভেজালভরা।
গুহায় আটক অডেসিয়াসকে যখন পলিফেমাস নাম জিগগেশ করে তখন সে বলে, আমি ‘কেউ না’। অডেসিয়াসের নামের মূল ‘উদিস’ মানেও কিন্তু ‘নোবডি’ মানে ‘কেউ না’। শেষে যখন অডিসিয়াস একচোখা দৈত্যের চোখ কানা করে তার দুপায়ের ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যাবে, আহত দৈত্যের চিৎকারে যখন দ্বীপের অন্য দৈত্যরা ছুটে এসে জানতে চাইবে, কে তার এমন দশা করেছে, তখন পলিফেমাস বলবে, ‘কেউ না’। ‘কেউ না’-কে দানবের গুষ্টি কীভাবে খুঁজে পাবে?
যে বলে যে সে ‘কেউ না’, সে আসলে বোঝাতে চায় সে আমজনতা, অর্থাৎ সে সবার অংশ মাত্র, আলাদা কেউ নয়। ল্যাম্পপোস্টের পরিচয় বিভ্রাটের মনোদার্শনিক ব্যাখ্যা এটাই, তারা এতই ক্ষুদ্র ও অবিশেষ যে তারা জনগণেরই অংশ। যারা ‘কেউ না’ তারাই আজ মারণবাঁধের বিরুদ্ধে, দানবের ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে । এই ‘কেউ না’রাই এদেশের বেশিরভাগ মানুষ। সরকার বাহাদুর কতজনকে জেলে পুরবেন?
দীপুমণি না পিনাকরঞ্জন: বিসর্জিত হবে কে?
দীপুমণি প্রথম কয়েকমাসে অনেকের চোখে এই সরকারের নতুনত্ব, কলুষহীনতা, উদ্যম ও নবযাত্রার আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী করাটাও বিদেশে তাঁকে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতীক করেছে। পিনাকরঞ্জনের ঔদ্ধত্যের জবাবে তাঁরই প্রথম দায়িত্ব ছিল প্রতিবাদ করার। এ দিক থেকে তিনি সার্বভৌমত্বেরও প্রতীক। কিন্তু দেরিতে হলেও মামুলি মিউমিউ করতে গিয়েই তিনি মিডিয়া, প্রভাবশালী নেতা এবং ভারত-দেবতার কোপানলে পড়েন। তাঁর মন্ত্রীত্ব এখন যায় যায়। দেবতাকে তুষ্ট করতে এখন তাঁকে বলি করার জোর সম্ভাবনা। তা যদি হয়, তাহলে সেটা হবে এই সরকারের দাসত্বের মনোভাবের প্রথম বলিদান। হয় পিনাকরঞ্জন নয়তো দীপুমণি, প্রশ্ন হলো কে থাকবেন আর কে যাবেন?
গণআন্দোলন বেগবান করার এই চ্যালেঞ্জ আজ কে অস্বীকার করবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রেতাত্মার বিলাপ বলেছেন:
++++++++++
নতুনের পথে অনন্ত যাত্রা বলেছেন:
বুর্জোয়ারা প্রতিবাদিদের গায়ে চরমপন্থির বেশ পরিয়ে জনগনকে জুজুর ভয়দেখিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে পরিচালনার চেষ্টা করছে।"গণআন্দোলন বেগবান করার এই চ্যালেঞ্জ আজ কে অস্বীকার করবে?"
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ বিদ্রোহী রণক্লান্ত, প্রেতাত্মার বিলাপ এবং নতুনের পথে অনন্ত যাত্রা। একটা পর্বান্তর ঘটে গেছে গত কয়েকদিনে। সেটাই দাগিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। জানি না আর কত দুর্যোগ আছে আমাদের মানুষের জীবনে।
অসাধারন লিখেছেন।
আমাদের প্রগতিবাদী বদলে যাও মিড়িয়ার ভূমিকা কি? বিশেষ করে টিপাইমুখ এবং এশিয়ান হাইওয়ে নিয়ে! অবাক করার বিষয় এই যে প্রথম আলো নামের সুশীলের খোয়াড় ঢাকার আশে পাশের নদী নিয়ে রিপোর্ট করে অথচ টিপাইমুখ নিয়ে তারা নিরব। গতকাল কে প্রথম আলোতে এই খবরটা পড়ে অবাক হয়েছি.., প্রথম আলো কার হয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে দেশের মানুষ কে বিভ্রান্ত করতে চায়?
Click This Link
ফালতু মিয়া বলেছেন:
সত্যি ভাই দারুণ লিখেছেন, আমার হাত নিসপিস করে। সত্যি এই প্রতিবাদে নিজেকে সামিল করতে পারি না বলে নিজেকে কাপুরুষ মনে হয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো বদলে যাওয়ার কথা বলে প্রথম আলোর অপসাংবাদিকতায় রূপান্তরিত হওয়া কোন ভাবেই এটা মেনে নিতে পারি না। এই দেশদ্রোহীরা আবার প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে। লাথি মেরে গুড়িয়ে দেয়া দরকার। +
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের ওপর তলার বাবুবলয়ের যারা বাসিন্দা, যারা শিক্ষিত এলিট যারা নানান কিছুর মালিক-ম্যানেজার এবং তাদের বাহারি সংস্কৃতি পুরোটাই এদেশের জনগণের এবং তার স্বার্থের বিরুদ্ধে। ঠিক ব্রিটিশ আমলের মতোই। পাকিস্তান আমলে যেই বিরোধ ছিল সেটা ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে, ক্ষমতা পেয়ে এরা নিজেদের পাকিস্তানী শাসকরদের কায়দায় নিজ দেশেই উপেনিবেশ বানিয়ে সম্পদসুধা ভোগ করেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ভাল, কিন্তু এদের সঙ্গ ত্যাগ ও মনেমজ্জায় এদের বাইরে আসা ছাড়া প্রতিবাদী হওয়াও কিন্তু আজ কঠিন।
তবে টিপাইমুখ বা ভারতবিরোধিতা একইসঙ্গে প্রাণ ও জাতি রক্ষার সংগ্রাম হওয়ায় এ বিষয়ে সর্বস্তরের ঐক্য হওয়া সম্ভব। কিন্তু অবশ্যই সাম্প্রদায়িক ভারত-বিরোধিতা বিষয়ে সতর্ক থেকেই...
ধন্যবাদ।
রাজন সান বলেছেন:
অসাধারন লিখেছেন এবং বেশ কিছু জিনিষ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ফেসবুকে একজনের লেখায় গতকাল এ বিষয়ে এই মন্তব্যটি করেছিলাম :
ল্যাম্পপোস্ট প্রকাশ্য সংগঠন, আইনী সীমার মধ্যে থেকেই তারা কাজ করে বলে জানি। সুতরাং অন্ধকারে কি রয়েছে তা নিয়ে মাতামাতির থেকে সংবাদমাধ্যমের বেশি প্রয়োজন, আলোর মধ্যে প্রকাশ্যে কী ঘটছে ও ঘটেছে সেটা তুলে ধরা।
আইনী সীমার মধ্যে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়াটাই এখানে খবর। বাকি যা আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে সেটা সাংবাদিকের কাজ নয়। কিন্তু সত্য হলো আজকের এমবেডেড জার্নালিজেমের যুগে সংবাদমাধ্যম মায় স্কুল-কলেজও যুদ্ধ-প্রতিষ্ঠান। ল্যাম্পপোস্টের প্রতিবাদকে কলঙ্কিত করার এই চেষ্টার সঙ্গে ইরাকের হাতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে, বা বাংলাদেশ নেক্সট তালেবান জাতীয় প্রচারণার কোনো পার্থক্য নেই। সারবস্তুতে তা আগ্রাসন ও দমনকে জায়েজ করার কর্মসূচিরই অংশ।
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
+ ছাড়া কোন কথা নাই।
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
সেল্যুট জানাই ল্যাম্পপোস্টের সকল কমরেডকে।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
হ্যাটস অফ টু অল কমরেডস।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
অসাধারন একটা লেখা!
আমি খুব খুশি। সম্ভবত কোন রিজার্ভেশন ছাড়া এই প্রথম আপনার কোন লেখা এত ভাল লাগল। কিপ ইট আপ।
লেখক বলেছেন: খুবই প্রীত হলাম আপনার মন্তব্য পেয়ে।
ব্লগে আমার বেশিরভাগ লেখাই খণ্ডিত, ইরান বা সোয়াত নিয়ে লেখায় কিছুটা বিস্তৃত ভাবে বলতে পেরেছি মনে হয়। আর পত্রিকার কলামগুলো অনেকটা প্রচারধর্মী, সেখানে নিম্নতম পয়েন্টটাই তুলে ধরি কেবল। বলতে পারেন ওটাই আমার স্ট্র্যাটেজি আপাতত। আপনি কি আমার জরুরি অবস্থার আমলনামা বইটি দেখেছেন? ওটা নিয়ে আলাপে আমি আগ্রহী। ঐতিহ্য থেকে বের হওয়া এ বিষয়ের সংকলনটি আমি দেখেছি। খুবই কাজের জিনিস হয়েছে।
হ্যাঁ, আমাদের সবাইকেই যার যার ঝাণ্ডা সঙ্গে নিয়েই একাত্ম হতে হবে, কারণ এটা বাঁচা-মার প্রশ্ন। কেবল টিপাইমুখ নিয়েই বলছি না, সার্বিকভাবেই বলছি। তর্কটাও থাক। তাতে কাজের বেশি অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না, যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটা থাকে। এবং আশু ও দূরবর্তী প্রশ্নগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করা যায়।
আবারো ধন্যবাদ।
একজন সুখীমানুষ বলেছেন:
প্রথম আলুর ভন্ডািম আেরকবার প্রকাশত হলো
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন ......
খোশনবীশ বলেছেন:
পানি না খেলে দেহের ক্ষতি; পানি না পেলে ভূমির ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি। বিজ্ঞান তো তাই বলে। মানে এতো দিন তো তাই জানতাম। কিন্তু আমাদের পানি সম্পদ মন্ত্রীর কথায় মনে হচ্ছে পানি না খাওয়াটাই শরীরের জন্য মঙ্গলজনক। ভারত বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দিলেই আমাদের যত লাভ আর উন্নতি! মহা বিজ্ঞানী বটে! তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত। তাছাড়া, উনিতো ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রী হলেই পারতেন, তা এদিকে আসলেন কেন! আর দীপু মনি! পররাষ্ট্র মন্ত্রীর তো পররাষ্ট্র প্রীতি থাকবেই।
লেখক বলেছেন: পানি সম্পদমন্ত্রী আমাদেরই মন্ত্রী। তাঁর ভুলে বিচার আমাদের মানুষ হিসেবেই করা উচিত। উনিতো ভারতের মন্ত্রী হতে পারতেন বলাটা কিংবা এদিকে আসলেন কেন বলার মধ্যে কি আপনি ওনার ধর্মপরিচয়টাকেই বড় করে দেখলেন না? ফারুক খানকে তাহলে কী বলবেন? বিষয়টা ভেবে দেখবেন।
শয়তান বলেছেন:
ফারহান দাউদের করা প্রশ্নটা আমারও ।
লেখক বলেছেন: ওপরের উত্তরটা দেখুন, তাছাড়া এ লেখাটাও তো প্রথম আলোর ঐ রিপোর্ট বিষয়ে আমার স্টেটমেন্ট।
ভাই শয়তান, আমাদের মতো লোকের আজ টিকবার কোনো উপায় নাই। তবুও ঝুঁকির মধ্যেই তো আমাদের কাজ করে যেতে হবে, কথা বলে যেতে হবে।
দেশ প্রেমিক মানুষের উচিত প্রথম আলো[sb কে না বলা।
কারন প্রথম আলো "বদলে যাও" মাদক বিক্রিতে লিপ্ত।
অ্যামাটার বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ। ঠিক যেন এই লেখাটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। তবে বোধহয় একটু রিস্ক নিয়ে ফেলেছেন। অবশ্য আপনি যে মানের সাংবাদিক, তাতে সমস্যা হওয়ার কথা নালেখক বলেছেন: হা হা হা, কে বলেছে সমস্যা হওয়ার কথা না? সমস্যা আছে, আমিও আছি।
সাধারণমানুষ বলেছেন:
হ্যাটস অফ টু অল কমরেডস, i wanna Join with them
লেখক বলেছেন: ওরা সয়ে যাওয়ার আইসবার্গটা গলানোয় ভূমিকা রেখেছে। ওদের আবারো অভিবাদন।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দিলে শিয়াল কি কখনও মুরগী ফেরত দেয়? ২০০৮ সালের মহাজোটের মহাবিজয় হল ভারতের আশীর্বাদ। তাই আলীগ ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তাই তীব্র গণ-আন্দোলন ছাড়া এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন রুখা যাবে না।
লেখক বলেছেন: গত নির্বাচন যে একটা পরিকল্পিত ব্যাপার ছিল, আলীগ যে জরুরি অবস্থার কর্মসূচিই এগিয়ে নিয়ে যাবে, ভারত-মার্কিনের কাছে যে তারা তাদের ইজ্জত ও দেশের সার্বভৌমত্ব বন্ধক দিয়ে মসনদ পেয়েছে, তা আমি আমার জরুরি অবস্থার আমলনামা বইয়ে আলোচনা করেছি। দয়া করে দেখবেন, আজিজে পাবেন কোনো কোনো দোকানে।
ধন্যবাদ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
এটাও আমেরিকা-ইজরাইলী সুগভীর চক্রান্ত কোন একটি পক্ষের বিরুদ্ধে।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ ভাই দ্বিতীয় নাম, ফরমায়েন আপনার অদ্বিতীয় দেঁতো বাণী। আপনি না এলে যে ষোলকলা পূর্ণ হয় না। সবই কেবল ছলাকলা মনে হয়।
ধীবর বলেছেন:
অভিনন্দন ফারুক ওয়াসিফ ভাই। আমরা কিছু না করতে পারি, অন্তত প্রতিবাদ করতে পারি। তাতে যদি দেশের ঘুমন্ত মানুষকে জাগানো যায়। যদি মাইনাস করতেই হয়, তবে বিদেশি তাবেদারি করা রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব এবং সুশিল সমাজকেই করতে হবে। যে রক্ত আজ কয়েকজন প্রতিবাদি তরুণ তরুণিদের ঘটেছে, বাংলাদেশের মাটিতে সে রক্ত ঝরা উচিত ছিল দালাল তাবেদারদের। +++
লেখক বলেছেন: সাবাশ ধীবর ভাই। যথার্থ বলেছেন।
যথারীতি এটাও দুর্দান্ত হয়েছে।
নতজানু এই রাষ্ট্রযন্ত্রের দিকে তাকিয়ে আমার 'খালি পিডাইতে ইচ্ছা করে'!
লেখক বলেছেন: শুরু করেন? কাকে পয়লা বেছে নেবেন।
সবুজ সাথী বলেছেন:
প্রথম আলোতে রিপোর্ট দেখে কিরকম যে ঘিন্না লাগলো বুঝাতে পারব না।দীপু মনির বিরুদ্ধেও একটা লেখা পড়লাম। তখনই মনে হলো উনি হ্য়তো বলি হতে চলেছেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
দীপুমণির বলি হওয়া কিন্তু ক্ষমতার মসনদে সামান্য ঝাঁকুনি, এর বেশি গুরুত্ব তাঁর নাই। তবে এর প্রতীকি গুরুত্বটাই প্রধান। তার মানে সরকারের ভেতরেও ভারত নিয়ে নাখোশ লোকজন আছে। ভয় নাই, অচিরে তাদেরও খামোশ করা হবে।
জাতেমাতাল বলেছেন:
.....তোমরা কারা? উত্তর: আমরা কেউ না?অসাধারন ফারুক ওয়াসিফ, আপনার পোষ্ট খুব ভাল লাগলো। এত চমৎকার লিখেছেন... অনেক শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
প্রথম আলোর সাংবাদিক এবং কন্ট্রিবিউটর... যাদের কাছে আপনার পৌছানোর সুবিধা আছে... দয়া করে তাদের জানিয়ে দিবেন--প্রথম আলো আমাদের সবার কাছে কিভাবে দিনের পর দিন কিভাবে একটা ঘৃণিত নামে পরিণত হচ্ছে। এ ঘৃণার স্পর্শ তাদেরও গায়ে লাগে।
আপনাকে পুনরায় অভিবাদন। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ভাই সাংবাদিকদের কেউ ছোলা খাওয়া কেউ কলা খাওয়া, আর কী বলবো।
আপনাকেও অভিবাদন, শুভেচ্ছা রইল, আশা হারাবেন না।
শয়তান বলেছেন:
আপনার অবস্থানটা জান্তে পেরে ভাল লাগল। ধন্যবাদ।
রাগ ইমন বলেছেন:
আমরাও কেউ না
লেখক বলেছেন: হুম, আমরাও কেউ না এই ভাবনা থেকেই শুরু করা ভাল। যারা ইতিমধ্যে কেউকেটা হয়ে গেছে তাদের দিয়ে হোক বা না হোক, আমাদের ভাবনার দায় কেবলই তো বাড়ছে।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
শিরোনামে আকৃষ্ট হয়ে পড়া শুরু করেছি। তার পর সরাসরি প্রিয়তে। ফারুক ভাই আপনাকে শুকরিয়া না জানালেই নয়।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও শুকরিয়া জহির। আপনাদের কাজের কী হলো, জানাবেন।
এইরম চেষ্টা অতীতে হইছে আন্দোলনে দ্বিধাবিভক্তি আনতে...টিপাইমুখ বিরোধী জনগণের অবস্থানরে খাটো কইরা কেবল বিএনপি-জামাত জোট আর মাওবাদীগো বিরোধ হিসাবে দেখানের বাসনাতে নামছে মনে হয় সরকার...
কিচ্ছু কওনের নাই...আন্দোলনে স্বশরীরেই থাকতে চাই...ভারতের আধিপত্যবাদের অবসানে অংশ নিতে চাই...
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ঠিক ধরেছেন, মাওবাদী বা জঙ্গি লেবেল লাগিয়ে দিলে জইতার থেকে তাদের আলাদা করে দেওয়া যায়, সবসময়ই মতলববাজরা এ খেলা খেলেছে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
জইতার না, হবে জনতার আন্দোলনের মূল স্রোত।
অলস ছেলে বলেছেন:
আমি গরীব মানুষ কেবল ইতিহাসের পাতায় পাতায় দীর্ঘশ্বাস খুঁজি। আমাদের মত পক্ষগুলোর পশ্চাতদেশের কাপড় ছিনতাই হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আমরা আধিপত্যবাদীদের চেহারা চিনতে অপেক্ষা করি। দেখা যাক, কোথায় যায় বাংলাদেশ। লেখা ভালো লেগেছে যথারীতি।
রিফাত হাসান বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ, এই লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি মনে করি আমাদের এই মুহূর্তের লড়াই একই সাথে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, তার দেশীয় দালাল, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ও বেয়াদপ মিডিয়ার বিরুদ্ধে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ রিফাত। ময়দানটা জানি কিন্তু তা প্রক্রিয়াটা কী, কোথায়, কীভাবে?
সমাজ্ঞী বলেছেন:
ভাই আপনি যে এত কোরবানির ভক্ত এই জানলাম। আপনারে কমিনিষ্ট মনে করে ডর লাগত। আপনার লেখা ফরতাম না। এখন থেকে পড়ুম। "নবী ইবরাহিম আসলে সর্বস্ব ত্যাগের সংকল্পেরই প্রকাশ করেছিলেন। তা ছিল আত্মবলিদানেরই মহড়া।আত্মবলিদান তাই একইসঙ্গে ন্যায়ের জন্য বা বিজয়ের সংকল্প ও মহড়া দুটোই।" এই কথাটা সবচেয়ে ভাল পাইছি।@ রিফাত
হেই রিফাত এইটা কি করলেন? আমেরিকা কৈ? খালি ভারত কওনের খাসিলত গেলো না। আর ওদিকে ভারত আমেরিকা মিইল্যা যে এমুন একটা সরকার আনল সে খপর আচে?
লেখক বলেছেন: ভাই সমাজ্ঞী, আমাকে আবার দয়া করে মুসলিম কমিউনিস্ট জাতীয় তকমা দিয়ে দিয়েন না ভালবেসে।
ছু-মন্তর বলেছেন:
ল্যাম্পপোস্ট-এর কমরেডদের লাল সালাম। মনে আশংকা জাগে, গ্রেপ্তারকৃতদের না ক্রসফায়ারে দিয়ে দেয়। ফারুক ভাই, আপনার বক্তৃতা শুনে প্রচন্ড আলোড়িত হতাম। রক্তে সাগর দোলার ছন্দ অনুভব করতাম। কিন্তু আপনি প্রথম আলো-তে যোগ দেয়ার পর শঙ্কায় ছিলাম, আপনিও কি প্রাক্তণ হয়ে গেলেন কিনা। মহান কমেরডরা বলে গেছেন মানুষের ওপর বিশ্বাস না হারাতে। আপনার ওপর সেই বিশ্বাস রাখলাম। আশা করি পথে দেখা হবে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আমি জানি। আমি এও জানি, আমার মতো দরিদ্র কিন্তু সৎ (হা হা হা) লোকদের আজীবন সীতার মতো অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে যেতে হবে। 'আর যাহা তাহা বলিবার নয়, মর্ম মাঝে যাহা বহে রক্তময়, সে কথা জানেন বিধি...'
আপনাকে অভিবাদন, আশা হারাবেন না, পথ ছাড়বেন না, তার থেকেও বড় কথা পথে যাতে আজীবন থাকতে পারেন তার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
মানিক ভাই ওপাড়ায় যাই না, তাই আপনার লেখাও পাই না। ওপাড়ায় তো দেখি টিপাইমুখ, ল্যাম্পপোস্ট জাতীয় বিষয়গুলো আসেই না।
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
বন্ধুসভার ০৯১তম সদস্য আমি, কিছু প্রতিবেদন ও লিখেছি এক কালে প্রথম আলোতে, সেই প্র।আ কে আজ দালালীর রুপে দেখে আশংকিত বেদনায় আহত। প্রতিবাদকারীদের উপর বর্বরতা আর তারপর তাদের উপর জঙ্গীবাদ আরোপ.। কি করবো ভেবে না পাই ক্ষোভে হতাশায়.। ফেসবুকে আমার প্রথম আলো সংশ্লিষ্ট সবার ওয়ালে তাই ঘৃণা উগরে দেয়া আর এই লেখাগুলোর লিঙ্ক দিচ্ছি আপাতত.। আর কি করা যায়?
প্রথম আলোকে প্রমাণ করতে বলি ল্যাম্পপোস্ট বা প্রতিবাদকারীরা জংগী.।অসহ্য.।
জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ বলেছেন:
আপনাকে ধন্যবাদ আপনার সুন্দর লেখার জন্য। ল্যাম্পপোস্টের কমরেডদেরকেও ধন্যবাদ। আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তি চাই।
Click This Link
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
জ্বী সীমন্ত ইসলাম, ওখানে আমি লিখেছি,
''দীপুমণি প্রধানমন্ত্রীর চিঠি নিয়ে গেছেন। এমন হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ভারত টিপাইমুখ থেকে সরে আসলো আপাতত। কিন্তু বিনিময়ে ট্রানজিট দিতেই হলো !?!
এশিয় পুঁজিবাদের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে অনেক কিছুই এখন থেকে ভারতের নামেই হবে। এবং ভারতও তো এখন চীনের বিপরীতে আঞ্চলিক সাম্রাজ্যবাদীর ভূমিকায়। অভ্যন্তরীণ দিক থেকে ভারতীয় পুঁজির চাহিদা, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পুঁজির যোগ এবং তৃতীয়ত ভারতের রুলিং ক্লাসের রাজনৈতিক সংস্কৃতি মিলিয়ে ভারত রাষ্ট্রকে এখন নিজ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই হবে।
বাংলাদেশে আমাদের কাজ হচ্ছে, এই ঘটনাটিকে সেকুল্যার রাজনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে দেখা ও দেখানো, এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু উভয় তরফেই এই প্রবণতা বাড়তেই থাকছে। সেটাই চিন্তার জায়গা। এর প্রতিষেধক একটাই মনে হয়, আরো বেশি আকারে সেকুলার-বাম ও জাতীয়তাবাদীদের সোচ্চার হওয়া।''
ব্যাখ্যা চেয়ে ভাল করেছেন।
ভারত যে শর্তে চায় সে শর্তে ট্রানজিট দেবার পক্ষে আমি না। জাতীয় স্বার্থ অক্ষুন্ণ রেখে এবং জনগণের মতামত নিয়ে এবং পাল্টা ভারতের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে হলে বিষয়টা ভাবা যেতে পারে। কিন্তু এখন অনেকে যেভাবে এশিয়ান হাইওয়ের নামে ট্রানজিট নিয়ে কাঁদুনী গাইছে তাতে সন্দেহ হয়।
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
আপনাকে + দিতে পারায় গৌরববোধ করছি।
যে বলে যে সে ‘কেউ না’, সে আসলে বোঝাতে চায় সে আমজনতা, অর্থাৎ সে সবার অংশ মাত্র, আলাদা কেউ নয়। ল্যাম্পপোস্টের পরিচয় বিভ্রাটের মনোদার্শনিক ব্যাখ্যা এটাই, তারা এতই ক্ষুদ্র ও অবিশেষ যে তারা জনগণেরই অংশ। যারা ‘কেউ না’ তারাই আজ মারণবাঁধের বিরুদ্ধে, দানবের ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে । এই ‘কেউ না’রাই এদেশের বেশিরভাগ মানুষ। সরকার বাহাদুর কতজনকে জেলে পুরবেন?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
অসম্ভব কেন? অনেক সময় তাড়াহুড়োয় বা নিজস্ব ঘাটতির কারণে ভুল তো আমারও হয়। সেটা ধরিয়ে দেবেন। তাতে আমারই উপকার। যাহোক, আরেক পোস্টে এক গর্বিত ভারতীয়কে লিখেছি আজ,
''ভারতীয়তা কি কোনো জাতি পরিচয়? ভারত এক বহুজাতির কারাগার, যেমন পাকিস্তান। এই দুই কারাগার থেকে বাংলাদেশের বাঙালিরা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এগিয়ে গেছে। গর্ব যদি বলেন সেটা এই।
ভারতীয় হওয়া নাগরিকতা মাত্র, তো একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আপনার দেশের কাশ্মীর, আপনার গুজরাত, আপনার বাবরি মসজিদ, আপনার দলিত দমন, আপনার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, আপনার ইসরাইল-মার্কিন সম্পর্ক, আপনার বর্ণবৈষম্য ইত্যাদি নিয়েও কি আপনি গর্বিত।
আমার বেলায় বাংলাদেশ আমার রাষ্ট্র মাত্র। বাইরের দিক থেকে এ রাষ্ট্রকে আমি রক্ষার চেষ্টা করবো, আর ভেতরের দিক থেকে আর যাবতীয় অন্যায়, শোষণ, সন্ত্রাস ও কূপমণ্ডুকতার বিরোধিতা করবো।
হ্যাঁ, অবশ্যই সেকুলার অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নিয়ে আমরা গর্বিত, কিন্তু তার অধপতন নিয়ে ক্ষুব্ধ।''
মার্কস লিখেছিলেন, লজ্জা বিপ্লবী হওয়ার শর্ত। নিজের দীনতা, নিজের সুবিধাবাদিতা বা নিজের মানুষের জন্য কিছু করতে না পারার লজ্জা উত্তম, কিন্তু বৃহতের দাপটের সামনে লজ্জিত হওয়ার কিছু নাই। আধিপত্যবাদের প্রজা হওয়ার মধ্যে যে গর্বিত হয়, তারই বরং লজ্জিত হওয়া উচিত। আমরা শাসকরা যতটা না আমাদের তার থেকে তো তাদেরই তাঁবেদার। তাদের নিয়ে আমরা লজ্জিত হব কেন?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আপনাকে অভিবাদন আব্দুল ওয়াহিদ ভাই।
ত্রিভুজ বলেছেন:
টিপাইমুখী বাঁধের বিরুদ্ধে হওয়া যেকোন আন্দোলনের সাথে আছি। ল্যাম্পপোস্টকে স্যালুট!
কক বলেছেন:
পোস্টি স্টিকী করা হোক।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
প্রথম আলোয় প্রকাশ, ল্যাম্পপোস্ট 'চরমপন্থী' সংগঠন। প্রমাণ? প্রমাণ নাই। তবে এটা ‘জানা গেছে’ ‘সংস্লিষ্ট সূত্র’ মারফৎ। তারা কারা তা বলবার অপেক্ষা রাখে না।তারা আসলেই কারা? সাহসী সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আপনি বলেন আমাদের? আমরা তো এই ধরণের ভাসাভাসা হাইপোথেসিসে আরো বিভ্রান্ত হচ্ছি।
একই সংবাদে বলা হচ্ছে যে, পরিচয় জানতে চাইলে মধুর ক্যান্টিনে হাজির ল্যাম্পপোস্টের কর্মীরা সাংবাদিকদের নামের বেশি কিছু বলতে চায়নি। (সাংবাদিকদের তারা কেমন বিশ্বাস করে এটা তার একটা বহিপ্রকাশ।)
সাংবাদিকদের বিশ্বাস না করার কি আছে? কেনো করবে না। তারা যদি চায় তারা আসলেই দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়ছে সেটা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সম্প্রচারে সমস্যা কোথায়?
গ্রীক মিথোলজি ব্যবহার কইরা অনেক কিছুরেই অনেক কিছু বানাইয়া দেওয়া যায়। কিন্তু সংগঠনটার আসলেই পরিচিতি কি সেইটা স্পষ্টাকারে কেউ যদি বলতো তাইলে এইসব ফালতু বিভ্রান্তি থেকে আমরা বেরুতে পারতাম।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
পিয়াল ভাই আপনি বলেছেন,''সাহসী সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আপনি বলেন আমাদের? আমরা তো এই ধরণের ভাসাভাসা হাইপোথেসিসে আরো বিভ্রান্ত হচ্ছি।''
আপনার জিজ্ঞাসাটা আসলে কোথায় বুঝতে পারিনি পিয়াল ভাই। আমি যে প্রশ্নগুলো তুলেছি সেই প্রশ্ন কি আপনার মনে জাগেনি? আপনি নিশ্চিত আমার এই লেখার আগে আপনি মোটেই বিভ্রান্ত ছিলেন না? সব কিছু আপনার কাছে নিশ্চিত ও স্বচ্ছ ছিল?
তাহলে তো ল্যাঠা চুকে যায়। আমরাও নিশ্চিত হই।
আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি। আমি একটা ঘটনার অবজেক্টিভ আলোচনা করেছি। সেটা নিয়ে আপনার গাত্রদাহের কারণটা আসলেই বুঝতে পারলাম না।
''সাংবাদিকদের বিশ্বাস না করার কি আছে? কেনো করবে না। ''
সাহসী সাংবাদিক বলে আপনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে টাচ করেছেন। এটা সেই জায়গা নয় বলে আমি মনে করি। আমি জানি এ বিষয়ে আপনি আরো এগতে আগ্রহী। আমি এখানে পেশা পরিচয়ে কথা বলতে আসিনি। আর আমি রিপোর্টিংও করি না। ব্যস।
কিছু লোক ডেমোক্রেটিক উপায়ে প্রকাশ্যে একটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেছে। এই বাস্তব ও দৃশ্যমান বিষয় ছেড়ে আপনার কেন অদৃশ্যে ইমান এল, সেটা বোঝা দরকার। তারা তো গত দুই বছর ধরেই ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে সাংস্কৃতিক কাজ করে বলে জানি।
সাংবাদিকদের আপনি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে চান, স্টেটমেন্ট হিসেবে এটা জানলাম। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ২০০৭ এর আগস্ট আন্দোলন বা এ জাতীয় অনেক ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরীহ ছবি ও তথ্য ব্যবহার করেই অনেকের ওপর স্টিমরোলার চালানো হয়েছিল। অনেক সাংবাদিক কোলাবরেট করেছিল। অনেকে আবার নির্যাতিতও হয়েছিল। আপনি আমি যেমন এক না, সব সাংবাদিকও তেমন এক না। তারওপর কোন যুগে মিডিয়া আর কায়েমি স্বার্থ এক ছিল না, আবার তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল এটাও সত্য। কোনটা বড় করে দেখবেন সেটা আপনার বিষয়। এই মামলায় আমার কোনো দাবি নাই।
সংগঠনটার পরিচিতি যেমন জানা দরকার, সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও জানতে পারেন বা যাকে বিশ্বাস করেন তাকে প্রশ্ন করে জেনে আমাদেরও জানাতে পারেন বা বলতে পারেন আমি ওদের বিষয়ে এই মনে করি। তাতে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু আরেকজনের উত্থাপিত বাস্তব প্রশ্নটাকে রিডিকিউল করা ঠিক মনে করি না।
আচ্ছা, পুলিশ তাদের সঙ্গে যেভাবে বর্বর কায়দার আচরণ করেছে সে বিষয়ে আপনার মতামত ও অবস্থানটা জানতে ইচ্ছা করছে? এক্ষেত্রে প্রধান প্রসঙ্গ ঐ আচরণ, যেটা মানবাধিকার ও আইনী অধিকারের ওপর মন্দ হস্তক্ষেপ। এই আচরণ কি আপনি সমর্থন করেন?
এরকম ক্ষুদ্র জমায়েতকে ওখান থেকে সরিয়ে আনা কোনো কঠিন বিষয় ছিল না, বা কেউ কোনো দূতাবাসের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যানার বা স্লোগান তুলতেই পারে। বার্মা বা ইরানের ঘটনার সময় বিশ্বব্যাপী এটা হয়েছে। এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বিষয়। যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে বা পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনা বিষয়েও এরকম কিছু হতেই পারে, আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। তারা আইনের সীমা ডিঙালো কিনা সেটাই বিষয়।
''গ্রীক মিথোলজি ব্যবহার কইরা অনেক কিছুরেই অনেক কিছু বানাইয়া দেওয়া যায়।''
সেটা জানি না। যা বলেছি তা মিথ নয়, বাস্তব ঘটনার রাজনৈতিক ও মনোদার্শনিক ব্যাখ্যা। স্পষ্ট এই কথাগুলো যে গ্রাহ্য তা আপনার এই বানাইয়া দেওয়া যায় বলায় পরোক্ষ ভাবে স্বীকার করা হয়েছে। লেখার স্টাইল নিয়ে যদি আপনার আপত্তি থাকে, সেটা আপনি বলতেই পারেন। আমি মাথা পেতে নেব। এবং আপনার দরবারে আপিল করে বলবো, আমার হাতের লেখা খারাপ তো তাই লেখাও খারাপ দেখাচ্ছে আপনার কাছে।
খেয়াল করেছেন, যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবি আর টিপাইমুখের দাবিকে দুই জোট পাল্টাপাল্টি পলিটিকাল গেম আকারে ব্যবহার করছে? এ নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
শুভেচ্ছা রইলো।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
না, তবে কিন্তু একটা স্পেস রেখেছি। উনি তা নাও হতে পারেন। কিন্তু কিছু মিডিয়া ও কিছু মন্ত্রী ওনাকে যে টার্গেট করেছেন, সেটা তো দেখা যাচ্ছে।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
"প্রথম আলোয় প্রকাশ, ল্যাম্পপোস্ট 'চরমপন্থী' সংগঠন। প্রমাণ? প্রমাণ নাই। তবে এটা ‘জানা গেছে’ ‘সংস্লিষ্ট সূত্র’ মারফৎ। তারা কারা তা বলবার অপেক্ষা রাখে না। অথচ, জানা মতে তাদের সব কার্যক্রম আইনী সীমার মধ্যে থেকেই করা। আইনী প্রতিবাদকে চরমপন্থী তখনই বলা হয় যখন পরিস্থিতিই আসলে চরম হয়ে যায়। বাংলাদেশে এখন সেই পরিস্থিতিই বিরাজ করছে।"একমত।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
খেয়াল করেছেন, যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবি আর টিপাইমুখের দাবিকে দুই জোট পাল্টাপাল্টি পলিটিকাল গেম আকারে ব্যবহার করছে? কাহিনীটা আসলেই এই জায়গায়। আমার সবটুকু বিরক্তি এই জায়গাতেই। আমার মনের মধ্যে কেনো জানি এই ধারণাটা গাইড়া গেছে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটারে চাপা দিতে একটা ডাইভার্সন ক্রিয়েট করতে টিপাইমুখ বাধ বিরোধী আন্দোলনটারে প্রমোট করতেছে জামাত ও তাদের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি। এবং সেই আন্দোলনে হঠাতই যুক্ত হইছে চীনা পন্থী বাম এবং ফরহাদ মাজহারের সাগরেদরা। আমার দেশ আর নয়া দিগন্ত উইঠা পইড়া লাগছে এই প্রচারণায়। কিন্তু এইটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত ধারণা। দুঃখজনক হইলেও সত্য আমি এটা থেকে বের হতে পারতেছি না।
ল্যাম্পপোস্ট সম্পর্কে প্রথম যখন প্রথম আলোতে পড়ি, তখন তাদের প্রতিবেদনটা আমার প্রাগুক্ত ধারণাটারেই আরো শক্তিশালী করছে। এরপর ব্লগে দেখলাম এই নিয়া অনেকের মন্তব্য এবং প্রথম আলো বয়কটের ডাক। এখন একসময় চাকুরী করছি বইলা তার মানে এই না যে প্রথম আলোর প্রতি আমার একটা লয়ালটি এখনও ধইরা রাখতে হইবো, কিংবা আমার রুটিরুজি তাদের হাতেই যে তাদের গুণ না গাইলে আমার সর্বনাশ হইবো। আমি দেখি এই ডাকের পেছনে যারা তাদের মতাদর্শরে। এই প্রসঙ্গে আমারে যখন আমার দেশ কিংবা নয়া দিগন্তের লিংক পড়তে দেওয়া হয় আমি স্পষ্টই বিরক্তি হই। আমি বিরক্ত হই দুজন ছাত্র তারা আসলেই ছাত্র কিনা এই নিয়া অস্পষ্টতায়, তারা রিমান্ডে নাকি জেল হাজতে এই নিয়া অস্পষ্টতায় এবং তারা আসলেই কোন রাজনৈতিক সংগঠনের মতাদর্শধারী এইটা নিয়া অস্পষ্টতায়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কিংবা জামায়াতে ইসলামী আর যে কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন থিকা জনসেবামূলক কাজ বেশীই করে। কিন্তু তারপরও তাদের এই সেবার পিছনে আমি বিষাক্ত সাপের লকলকে ফণাই দেখি। তেমনি এমনতর আন্দোলনে আমি ছিলমারা রাজাকারদের সঙ্গে পাতালপুরীর কমরেডদের এলায়ান্সে শঙ্কিত হই।
অনেক কথাই কয়া ফেললাম আসলে। ব্যক্তিগতভাবে আপনার উপর আমার কোনো ক্ষোভ নাই, আমার মন্তব্য আপনার লেখার প্রসঙ্গেই আসছে। সেইখানে আমি অবশ্যই আশা করছি এদের যেই রাজনৈতিক পরিচয় নিয়া এত বিভ্রান্তি তার জবাব পাবো। ব্লগের পোস্টের কোনো বিষয়ে প্রশ্নের জবাব খুজতে যদি আমারে কষ্ট কইরা বিশ্ববিদ্যালয়েই যাইতে হয় তাইলে আর পোস্ট পইড়া মন্তব্য করা কেনো! ভালো থাকবেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
একমত। তাই বলে তো টিপাইমুখ ইস্যুটাকে খাটো করে দেখা চলে না বা সন্দেহের ঢেউয়ে দায়িত্ব আড়াল হয়ে যায় না। সেটাই বলতে চেয়েছিলাম আর কি। শুভেচ্ছা।
গৌতম রায় বলেছেন:
ফারুক ভাই, লেখার জন্য ধন্যবাদ। ভালো লেগেছে এবং মোটাদাগে একমত। কোথায় কোথায় দ্বিমত সেগুলো নিয়ে বাহাসে যাওয়ার সময় এখন নেই, আগের কাজ আগে সেরে পরে সেগুলো নিয়ে কথা বলা যাবে।তবে 'আপনি ধরতে পেরেছেন; স্বচ্ছ হয়ে আসছেন আপনি। এই লেখা তার একটা প্রমাণ হয়ে থাকবে।'-জাতীয় বাক্যগুলো থেকে দূরে থাকার আহ্বান রইলো। নইলে 'মুসলিম কমিউনিস্ট' বলে আপনাকেও চিহ্নিত করা হতে পারে। (পুরোপুরি ব্যক্তিগত মত, তবে যারা ওইসব বাক্য লিখেন তাদেরকে মোটামুটি চিনি বলে শঙ্কিত হই। এক আপদ তাড়াতে গিয়ে আরেক আপদ যেন না আনি, সেদিকেও সমান দৃষ্টি রাখা দরকার )
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ একমত। জেনারেলি একমত। তবে সেকুলারিজম ও রিলিজিয়ন নিয়ে সেকুলার রিলিজিয়াস মহল আর পলিটিকালি রিলিজিয়াস মহলের সঙ্গে আসলেই অনেক বিতর্কের জায়গা রয়ে গেছে।
স্যালুট ল্যাম্পপোস্টকে , যারা শতাধিক প্রাণ নিয়ে জাগিয়েছে কোটি প্রাণকে
নেক্সাস বলেছেন:
বয়কট প্রথম আলো
গৌতম রায় বলেছেন:
ফারুক ভাই, সেই বিতর্কটা আসলেই হয় না। যেটা হয়, প্রত্যেকে তার নিজস্ব অবস্থানটাকে ধরে রেখে, সিদ্ধান্ত নিয়ে, তারপর বিতর্কে নামে। বিশেষ করে যারা ধর্মটাকে সাব্যস্ত রেখে সেটার আলোকে কিংবা সেটির ভিতরে কমিউনিজমকে খুঁজে বেড়ায়, তাদের সাথে এই আলোচনা ক্ষেত্রবিশেষে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পি মুন্সী সাহেবের সহিত প্রায় বছর দশেক আগে এরকম একটা আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিলো। অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। সেক্ষেত্রে আপনি সেরকম একটা আলোচনা এখানে শুরু করতে পারেন কিনা ভাবতে পারেন। অংশ নেয়ার ইচ্ছা রাখি।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
দুটি পক্ষের বিতর্কের অভিজ্ঞতা পক্ষভুক্ত অনেকের জন্যই সুখকর হয় না। কিন্তু যারা বিতর্কের পর্যবেক্ষক বা প্রান্তিক সমর্থক তাদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়াটা এতে স্পষ্ট হয়। আমার অভিজ্ঞতায় আমি যেটা দেখেছি যুক্তির থেকে বেশি সমস্যা হয় সংজ্ঞা, মান, তথ্য ও তথ্যের ইন্টারপ্রিটেশন নিয়ে। ওসব ব্যাপারে একমত হওয়া খুবই কঠিন হয়। সেকারণে বিতর্কে মীমাংসার থেকে বেশি জরুরি মতকে যাচাই, সংঘাতের মধ্যে দিয়ে ঝলসে ওঠা সত্য-মিথ্যা, চিন্তার তলাকার দর্শন ও রাজনীতিকে আরো পরখ ইত্যাদি।
এখানে সেটা শুরু করতে গেলে যে যথেষ্ঠ সময় দিতে হবে? সেই সময় তো প্রায়শই পাই না। এখন আমি সাধারণত চেষ্টা করি কোনো বিষয় নিয়ে নিজের মতের ভিত্তিটা এনালাইজ করে দেখানো। বিশ্লেষণ বিতর্কের থেকেও বেশি জরুরি। তাই বিতর্কে বেশিদূর যাই না।
শিবলী নোমান বলেছেন:
পোস্টটা অনেক পরে নজরে এলো। টানা মন্তব্যসমেত পড়ার পর মনে হলো একটু হাত চালানো দরকার।ফারুক ভাই প্রতি মন্তব্যে বলছেন:
'আইনী সীমার মধ্যে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়াটাই এখানে খবর। বাকি যা আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে সেটা সাংবাদিকের কাজ নয়।'
আমাদের একটা সরল ধারনা রয়েছে, তা হলো, 'বাকি'টা 'আবিষ্কার' করাও সাংবাদিকেরই কাজ। সরল এই ধারনার সঙ্গে আমিও একমত। একজন সাংবাদিক অবশ্যই খুঁজে বের করতে পারেন যে, 'ল্যাম্পপোস্ট' কারা। যেহেতু 'অচেনা'তে ভয় আছে। কাজেই অচেনার পর্দা খুলতে তো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা যা হয়েছে, তা হলো, আবিষ্কারের যে চেষ্টাটা করা হয়েছে, তা তার প্রক্রিয়াগত গুণেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না। পিয়াল ভাইয়ের মন্তব্যটা দেখবেন একটু। যদি সাংবাদিকরা ল্যাম্পপোস্ট আবিষ্কারের কাজটা যথার্থই করতেন, তাহলে কি পিয়াল ভাইয়ের 'ফালতু বিভ্রান্তি'র অবকাশ থাকতো? বিশেষ করে এতোগুলো দিন পেরিয়ে যাবার পরেও।
কিন্তু বিভ্রান্ত হবার যথেষ্ট অবকাশ থেকেছে। কারণ পথে চলতে চলতে সাংবাদিকরা গন্তব্য খুঁজে বের করেন নি। গন্তব্য ঠিক করে শুধু চেনা একটা পথ ধরেছেন। শুধু 'প্রথম আলোকে ঘৃণা করে' কি এই রোগের নিরাময় সম্ভব?
শিবলী নোমান বলেছেন:
পোস্টটা অনেক পরে নজরে এলো। টানা মন্তব্যসমেত পড়ার পর মনে হলো একটু হাত চালানো দরকার।ফারুক ভাই প্রতি মন্তব্যে বলছেন:
'আইনী সীমার মধ্যে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়াটাই এখানে খবর। বাকি যা আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে সেটা সাংবাদিকের কাজ নয়।'
আমাদের একটা সরল ধারনা রয়েছে, তা হলো, 'বাকি'টা 'আবিষ্কার' করাও সাংবাদিকেরই কাজ। সরল এই ধারনার সঙ্গে আমিও একমত। একজন সাংবাদিক অবশ্যই খুঁজে বের করতে পারেন যে, 'ল্যাম্পপোস্ট' কারা। যেহেতু 'অচেনা'তে ভয় আছে। কাজেই অচেনার পর্দা খুলতে তো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা যা হয়েছে, তা হলো, আবিষ্কারের যে চেষ্টাটা করা হয়েছে, তা তার প্রক্রিয়াগত গুণেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না। পিয়াল ভাইয়ের মন্তব্যটা দেখবেন একটু। যদি সাংবাদিকরা ল্যাম্পপোস্ট আবিষ্কারের কাজটা যথার্থই করতেন, তাহলে কি পিয়াল ভাইয়ের 'ফালতু বিভ্রান্তি'র অবকাশ থাকতো? বিশেষ করে এতোগুলো দিন পেরিয়ে যাবার পরেও।
কিন্তু বিভ্রান্ত হবার যথেষ্ট অবকাশ থেকেছে। কারণ পথে চলতে চলতে সাংবাদিকরা গন্তব্য খুঁজে বের করেন নি। গন্তব্য ঠিক করে শুধু চেনা একটা পথ ধরেছেন। শুধু 'প্রথম আলোকে ঘৃণা করে' কি এই রোগের নিরাময় সম্ভব?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
পত্রপত্রিকাকে ঘৃণা করার থেকে বেশি প্রয়োজন হলো মিডিয়া যে বাস্তবতা পরিবেশন করে (কারণ বাস্তবতা বলে সবার জন্য সমান দর্শনীয় কোনো জিনিস নাই, বাস্তবতাকে আমরা অ্যাকশন ও চেতন দিয়ে উপলব্ধি করি) তাকে নিজ নিজ সক্রিয়তা ও চেতনা দিয়ে ক্রিটিকালি পাঠ করা। যাকে বলে বিটউইন দা লাইন কী আছে তা ধরতে পারা। আর আবিষ্কার মনে হয় কাজ নয় মিডিয়ার, যা আছে তাদের মধ্যকার সম্পর্কটা ধরিয়ে দেওয়া। যেমন ল্যাম্পপোস্ট আরো অনেকের সঙ্গে কাজ করে, অনেকভাবে সক্রিয় থাকে, কিংবা কীভাবে সেদিন পুলিশ ছেড়ে দিলেও ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তার ধমকে পুলিশ ২জনকে গ্রেফতার ও অন্যদের পীড়ন করে, এরকম অনেক কিছুর সঙ্গে ঘটনাটির সম্পর্ক এখনোও উন্মোচিত নয়। কথা হলো, সংবাদকর্মীর ঝোঁকটা কোন দিকে থাকবে?
যেমন, বাংলাদেশে এখন ক্রসফায়ার চলছে। এটা চলতে থাকতে হলে দেশে মাওবাদ ও জঙ্গীবাদ থাকতে হবে। আবার উল্টোটাও। এখন কথা হলো, একটি ঘটনা কোন লাইনে ব্যাখ্যাত হবে, বিদ্যমান সিকিউরিটি এন্তেজামকে আরো চাঙ্গা করায়? সুতরাং নিউজ বলে কিছু নাই, যা আছে ইন্টারপ্রেটেশন, সেখানেই সাংবাদিকের আবিষ্কার ক্ষমতার প্রমাণ মেলে। এখানে প্রধান প্রসঙ্গ হতে পারতো অহেতুক নির্যাতন, কিন্তু তা না হয়ে হলো অহেতুক চরমপন্থি সম্পর্ক রচনা।
যেমন এর সঙ্গে, জাসদের সত্তর দশকের ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও বা সমর সেনকে কিডন্যাপের প্রসঙ্গও আসতে পারতো, তা না হয়ে এল অন্যটা। আপাতত এই।
শিবলী নোমান বলেছেন:
ঠিকাছে। মিডিয়ার বাস্তবতা নিয়ে এই ক্ষেত্রে আমার চিন্তাটা খুব বেশি আলাদা নয়। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ওই বিভ্রান্তির জায়গাটা ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
হুমম, কিন্তু বিভ্রান্তিটা তো প্রথমেই মিডিয়াই করেছে গভীরে যাওয়ার নামে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন হাজির করে। আর কিছু লোক নিজস্ব ধান্ধা থেকে সেটাকে ক্রমাগত ব্যবহার করে চলেছে। এই অপব্যবহার ও বিকৃতকরণটাকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।ধন্যবাদ শিবলী।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















++++++++