আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের সহি টিপাইনামা কিংবা কল্পনার করমচা আর বেহুলা বাংলার কথা
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:১২
১. পর্বতের মুষিক প্রসব আর কাকে বলে! টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের উদ্বেগ, ভয় আর দোলাচলতা নিরসনে ধন্বন্তরি বটিকাটি আর কিছু নয়, প্রায় তিনশ শব্দের একটি চিঠি। এই হলো সেই মহার্ঘ্য সহি টিপাইনামা ওরফে এইড মোমোয়ার।
কান্না থামাতে বালকের হাতে যা ঝুনঝুনি, আমাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া এই কাগজ তার বেশি কিছু নয়। যাদের কল্পনা প্রতিভা সেই পরিমাণ তেজষ্ক্রিয় তাঁরা এটা দিয়ে কল্পনার করমচা খেতে চাইলে খেতে পারেন।
কী আছে এতে? বাঁধের দৈর্ঘ্য-উচ্চতা, অবস্থান, আর বিদ্যুৎ উৎপাদন মতা। আর আছে বুক ভরা আশ্বাস আর গাল ভরা বাণী। সেই বন্যা কমবে, শীতে পানি বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়া আর কিছুই হবে না! না! না! না! তাহলে আজকের প্রথম আলোর এই সংবাদটি ভারতীয় দলিলগুলো ঘেঁটে এবং দেশি বিশেষজ্ঞদের বরাতে যে বলছে, বাঁধ, ব্যারাজ ও সেচ তিনটাই তারা করবে?
মাত্র পৌনে পাঁচশো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির জন্যই এত জ্বলুনি-পুড়ুনি? টিপাইমুখ এলাকার মিলিটারাইজেশন? বাংলাদেশকে ক্রমাগত ধমকে আর মাথায় হাত বুলিয়ে সবক দেওয়া? পানি যদি সরানো না-ই হবে তাহলে প্রজেক্টের নাম টিপাইমুখ মাল্টিপারপোজ প্রোজেক্ট কেন? কাছাড়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ আর আসামের সেচ পরিকল্পনার কথা তাহলে আসছে কেন এনভায়রনমেন্টাল এসেসমেন্ট রিপোর্টে?
বাংলাদেশের যাবতীয় আকুতি-কাকুতি-মিনতির মূল্য হলো এই এক পৃষ্ঠার টাইপ করা কাগজ। এই ঘোড়ার ডিম কি সাধে আর সরকার প্রকাশ করতে সাহস পায়নি? আমার ধারণা ভারতের কোনো নাগরিক সেখানকার তথ্য অধিকার আইনের বলে আবেদন করলে এর থেকে বেশি তথ্য পেতেন। এখন এ লইয়া আমরা কী করিব? ধুইয়া খাইব নাকি গলায় বাঁধিয়া রাখিয়া গাইব, ‘আওয়ারা হু মে, হু হু হু?’
একটা কথা ভেবে খটকা লাগে যে, সরকার কেন একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে অন্যটি নিজেদের ওয়াটার মডেলিং ইনস্টিটিউটকে দিয়ে সমীক্ষা চালিয়েও সেগুলো গাপ মেরে বসে থাকলো এতদিন?
টিপাইমুখ প্রজেক্টের ভারতীয় ইআইএ রিপোর্টের এক্সিকিউটিভ সামারি অংশের ৬ নং অনুচ্ছেদে এটা কী বলা হচ্ছে?
The project will also provide annual flood relief to the tune of Rs. 45.70 crores. In addition, navigation to upstream villages for a total length of 359 km, as well as from Calcutta Port to Silchar via Bangladesh, could be opened. Further, the project on stabilization will bring out annual benefits of about Rs. 231.00 Crores on account of increased down stream agriculture and Rs. 14.00 crore from reservoir pisciculture.
বন্যা ত্রাণের জন্য তহবিল কেন? বাঁধ নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যে এলাকা ডুবে যাবে তার কথা হচ্ছে না, কথা হচ্ছে বার্ষিক বন্যা ত্রাণের কথা। ভারত অংশে বন্যা বাড়া মানে কি বাংলাদেশ অংশেও বন্যা বাড়া নয়? জলাধার সৃষ্টি করে পিসিকালচারের কথা আসছে কোথা থেকে?
ভারত যে ট্রানজিটকে খণ্ড খণ্ডে আদায় করে নিচ্ছে ট্রেন-সড়ক ও নৌ পথে; টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ দিয়ে আসামের শিলচরে যাওয়া-আসার ফায়দা নেবে? এটা প্রশ্ন, সিদ্ধান্ত নয়।
প্রশ্ন এ কারণে যে, আমরা যারা এখানে বিতর্ক করছি তারা কেউ পানি বা নদীশাসন বিশেষজ্ঞ নই, সেটা আমাদের কাজও নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে বিবদমান বিশেষজ্ঞ মতগুলোর মধ্যে নিজেদের স্বার্থরার যুক্তি ও তথ্য খুঁজে নেওয়া। আর চলমান বিতর্কে এবং তারও আগে দিনমজুরের সেই স্টিকি পোস্টে এ বিষয়টা বিস্তারিত আলোচিত আছে। এখনও তাকে খণ্ডনের যুক্তি কেউ দেখাননি। আমি দিনমজুরের এ পোস্টটাকে এখনও তাই সমর্থন করি এবং তুলে ধরি।
Initial Environmental Evaluation, Northeast Regional Water Management Plan, Bangladesh Flood Action Plan এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার কানাডিয় সহায়তায় এবং Dr. Sara Bennett, Mr. Mujib Huq, and Dr. David McLean. কে দিয়ে যে সমীক্ষা করিয়েছিল তাতেও এ যাবতকালে উচ্চারিত আশংকাগুলোর পাথুরে সমর্থন মেলে।
যেমন তাঁরা গড়পরতাভাবে বন্যা কিছুটা কমা কিংবা শীতে পানি কিছুটা বাড়ার কথা হালকাভাবে স্বীকার করলেও শক্তভাবে বলছেন:
‘‘Regulation of the Barak's flow by Tipaimukh Dam would provide India with the opportunity to irrigate the Cachar Plain; this India proposes to do. Since this will involve a loss of water from the Barak, it is a matter of concern to the Northeast Region of Bangladesh. No statement is available as to how much water India proposes to take from this scheme. For the purposes of this study it has been assumed that the total depth of irrigation water to be applied is 1 m and that the water is diverted on a continuous basis during the six dry months (November through April).’’ 8.3.1 Project Description
৮.৫ No Tipaimukh Dam. Projects which would be significantly affected by dam implementation are Upper Surma-Kushiyara, Surma Right Bank, Surma-Kushiyara-Baulai Basin, and Kushiyara-Bijna Interbasin...
অর্থাৎ এসব নদীতে বিদ্যমান বাংলাদেশি প্রকল্পগুলো বড় মাত্রায় তিগ্রস্থ হবে। এবং সেটা ঘটবে নদীর স্বভাব ও চলনের ব্যাহত হওয়ার জন্য।
avulsions in progress are noted for affected projects (Dharmapasha-Rui Beel, Updakhali, Jadukata-Rakti, Upper Kangsha), and aggradation in progress is noted (Kalni-Kushiyara and others with less severe effects)....
· Khowai: aggradation of the reach between Shaistaganj and Habiganj
· Someswari: siltation of the Shibganjdhala channel and enlargement of the Atrakhali channel (that is, progression of avulsion)
· Jadukata: progression of avulsion
· Kalni-Kushiyara: aggradation
বর্ণিত নদীতে পলি জমবে, বর্তমান খাত সরে যাবে। ইতিমধ্যেই এগুলো তিগ্রস্থ, সেই তি আরো বাড়বে। এখানে আরো কিছু বর্ণনা প্রয়োজন। যখন একটি বৃহত জলপ্রবাহের মুখ আটকে বিশ্বের বৃহত্তম পাথুরে বাঁধ তৈরি করা হবে, তখন ঐ জলপ্রবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত নদী-নালা-বিল-হাওর-প্রাণ-প্রকৃতিসহ সমগ্র প্রতিবেশ ব্যবস্থাই নড়ে-চড়ে যাবে। তার কিছু ভাল হবে কিছু মন্দ। এবং চিরাচরিত নিয়মে আমরা পড়ছি মন্দের ভাগে। তাই বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্ক (বেন) বলছে,
1. Tipaimukh Dam is not an isolated project; it is part of a comprehensive Indian plan of using rivers that flow from India into Bangladesh, and hence needs to be viewed in the broader context of sharing of international rivers by these two countries;
2. In general India has been using its upper riparian position and its economic and financial strength to take unilateral steps with regard to the flow of these international rivers;
3. Most of these unilateral steps have been of diversionary character, diverting the water flow to destinations inside India and thus reducing the flow of water into the rivers of Bangladesh. Glaring example of such diversionary interventions are the Farakka Barrage on the Ganges and the Gozaldoba Barrage on the Teesta. The Farakka diversion has drastically reduced the flow of Padma, drying up south-western Bangladesh. The Gozaldoba barrage on the other hand has drastically reduced the flow of Teesta in Bangladesh; India has undertaken numerous other diversionary and flow-controlling structures on most of the 54 common rivers flowing from India into Bangladesh.
4. These diversionary projects of India go against the international norms regarding sharing of international rivers. In particular, they violate Bangladesh’s right to prior and customary use of river water. The entire economy and life in Bangladesh have evolved on the basis of rivers. Any major change in the volume and direction of flow of these rivers seriously disrupt the economy and livelihood in Bangladesh; Furthermore, river intervention structures affect the flow of not only water but also of sediment, which are vital for the long-run sustainability of the deltaic Bangladesh, in particular in face of the threat of submergence by rising sea level caused by global warming;
এখন আপনারা বিচার করুন। আমাদের পানিসম্পদমন্ত্রী জনাব রমেশচন্দ্র সেন একবার বলছেন, আমাদের ভাল হবে। আবার আজকের প্রথম আলোর সংবাদে জানিয়েছেন, অপ্রতুল তথ্যের কথা। তাহলে ভাল’র ধারণা কি তিনি স্বপ্নে প্রাপ্ত হয়েছেন? এরা মন্ত্রী না গণকঠাকুর? আরেক কুতুব হলেন ফারুক খান। সব বিষয়ে আগাম রায় তিনি দেন কোন জাদুবলে? খোয়াজ খিজির নাকি তিনি?
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪ টি নদীর মিতালি রয়েছে। এর ৪৭টিতে বাঁধ দিয়ে তারা সেই মিতালি ছিন্ন করেছে। ভুপেন গেয়েছিলেন, ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’। আমি সমকালে লিখেছিলাম, ‘গঙ্গা আমাদেরও মা। কে তুমি সেই মায়ের পায়ে বেড়ি বসাও, মাকে আমাদের বাড়ি আসতে দাও না? কে তুমি?
২.
এ সিরিজে কতদূর যাবার সময় পাব জানি না। অনেক কাজ হাতে, পেটের কাজ নদীর কাজ। অল্প অল্প করে অগোছালো ভাবে, পুরাতন কথা আবৃত্তি না করে নতুন কিছু কিছু তথ্য ও ধারণা দেবার চেষ্টা করবো। তারই অংশ হিসেবে আগামি কিস্তিতে বড় বাঁধ ও নদী শাসন বিষয়ে কনসেপচুয়াল আলোচনা তুলবো। দেখাবার চেষ্টা করবো আমাদের দেশের শাসক আর বিশ্বব্যাংকীয় তরিকার উন্নয়ন ধারণার নদীহত্যার আয়োজনের কীয়দাংশ। তারই একটা ভূমিকা দেওয়া যাক সভ্যতার সীমান্ত দেশে গঙ্গা কাহিনী নামে আমার অনেক আগের একটি লেখা থেকে:
‘‘...বাংলাদেশ হলো প্রকৃতির আপন হাতের কাজ। বাংলার বর্তমান যে রূপ তার গঠনে সবচেয়ে বেশি অবদান প্রাকৃতিক শক্তির। সেই শক্তি হলো বাংলার নদ-নদী। এখানকার নদীগুলোর ঐতিহাসিক গতিপ্রকৃতিই পূর্ববাংলার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তাকে দিয়েছে বদ্বীপের আকার এবং উর্বর পলিমাটির বিশাল সমভূমি। গোটা পূর্ব বাংলাই এক সময় সমদ্রগর্ভে নিমজ্জিত ছিল। সাগরের তলা থেকে অমৃত তুলে আনার পৌরাণিক কাহিনীর প্রতীক ধরে বললে বাংলাই হলো সেই অমৃত, যার আবির্ভাব সমুদ্রগর্ভ থেকে। একদা গঙ্গা গিয়ে সমুদ্রের সঙ্গে মিলত যে জায়গাটিতে, তার আধুনিক নাম মুর্শিদাবাদ। এর অবস্থান পূর্ব বাংলার একদম উত্তর-পশ্চিম কোণে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র গিয়ে মিলত একেবারে উত্তরের বর্তমান রংপুরের কাছে। কালে কালে এই গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীব্যবস্থার জলদেহ বয়ে আসা হিমালয় ধোয়া মাটি দিয়েই বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে উঠেছিল নতুন এক বদ্বীপ। সেই প্রাগৈতিহাসিক বদ্বীপটিই আজকের বাংলাদেশ। এই দ্বীপ গঠন প্রক্রিয়া আজো চালু। বঙ্গোপসাগরে নতুন করে বাংলাদেশের সমান এক দেশ জেগে ওঠার সম্ভাবনা শোনা যাচ্ছে।
নদীরও জীবনী আছে। তারও খাতবদল হয়। এক এলাকা থেকে সে নতুন এলাকার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদীর সঙ্গে সঙ্গে সৌভাগ্যের জননীও তখন দেশান্তরী হয়। পিছে পিছে আসে মানুষ। নতুন খাতে বইবার সময় পুরনো প্রজাপাট ছেড়ে নদী নতুন মানুষকে তার খাতক করে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীব্যবস্থা কালে কালে তার পূর্বতন মোহনা পশ্চিম বাংলা ছেড়ে দণি-পূর্বে আসতে থাকে। পুরনো ভাগীরথের খাত ছেড়ে গঙ্গা বইতে থাকে পদ্মার খাতে। কিংবা বলা যায়, পূর্ব বাংলায় এসে তার নাম হয় পদ্মা। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণমুখী হতে হতে যমুনা হয়ে মেঘনার সঙ্গে মেশে।
এপারে নদী ও মানুষ মিলে যখন সোনা ফলাচ্ছে, ওপারে কিন্তু নদীখাত মরে যেতে থাকায় বিপর্যয় নামছে। গৌড়ের রাজধানী সুলতানি আমলের জমজমাট মুর্শিদাবাদ নগরী পরিত্যক্ত হয়। ভাগীরথ বা পুরনো গঙ্গায় আর জাহাজ চলতে পারে না। সাতগাঁও বন্দর অচল হয়ে পড়ায় বাণিজ্য মার খায়। কৃষির সমৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ে।
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের এই সফরের ফলশ্র“তিই হলো আজকের বাংলাদেশ।
আজ ভারত বরাক, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গায় ব্যারাজ, বাঁধ ও নদীসংযোগের নামে পানি সরিয়ে নিয়ে প্রকৃতির বিরুদ্ধেই প্রতিশোধ নিচ্ছে। পদ্মাকে মেরে পুরাতন ভাগীরথীতে পানি টেনে নিয়েছে ফারাক্কা করে। সাতগাঁও বন্দরকে সচল করার জন্য আরো পানি টানা হচ্ছে।
আর আমরা এবং আমাদের সরকার সবাই মিলে আল্লাবিল্লা করি কিংবা ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল নাগরিক হয়া যাই। মানুষ যদি ডিজিটই হবে তবে তার আর ব্যথা-বেদনা, রাগ-ক্ষোভ ভালবাসা রইবে কেন? সেই ডিজিটালদের নদীর দরকার হবে না, দরকার হবে না নদীমাতাকে বন্দনা করা অজস্র গান, অজস্র কবিতা আর অসাধারণ সুন্দর সব উপকথার। সুরমা-কুশিয়ারা-কিশোরগঞ্জ অববাহিকা কেবল বিল-হাওরে ধন্য নয়, গানেরও খনি। আব্দুল করিম, উকিল মুন্সী, জালালুদ্দীন খাঁ, হাছন রাজা, বিজয় সরকার আর অধুনা শচীন কর্তা, রামকানাই দাসদের তীর্থ। সব নষ্ট হবে আর বাংলা বেহুলা হয়ে নাচবে ইন্দ্রের সভায়। আমরা ভুলে যাব, কিন্তু বাংলার নদী-মাঠ ভাটফুল ছিন্ন খঞ্জনার মতো বেজে বেজে কাঁদবে তার পায়।
হায় বাংলাদেশ হায়!
আগের পোস্ট : Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
এলোমেলো হয়ে গেল। কী করা যাবে, সময় নাই, দম নাই। কেন জানি শেষে গিয়ে মনটা খারাপ হলো, মন খারাপ হলো ল্যাম্পপোস্ট আর রাসেলদের জন্যও। আমি কেন জানি, যার সঙ্গে বিতর্ক তাকেই বেশি ফিল করি মাঝেমাঝে।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
প্রথমত: এই পানি অপসারণের পরেও বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছে শুকনো মৌসুমে পানির সরবরাহ বাড়বে। কি মারেফতি তরিকায় তা বাড়বে সেটা বর্ণনা করা হয় নি।দ্বীতিয়ত: বাংলাদেশের সরকারের কাছে তথ্য অপ্রতুল, তারা তথ্য না পেয়েই একটা এস্টিমেশন করেছে। সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
তৃতীয়ত: ভারতীয় দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করলে কি আরও বেশী তথ্য পাওয়া যাবে ভারত থেকে?
চতুর্থত: নমনীয়তা দেখাচ্ছে সরকার, আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে না করে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কেনো?
এটা আউট অফ কনটেক্স প্রশ্ন:
তামিল হত্যা নিয়ে একটা মানববন্ধন হয়েছিলো, চীনের মুসলিম হত্যা নিয়ে কোনো মানববন্ধন হবে?
লেখক বলেছেন: রাসেল, সত্যি বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনার খাসলতটা আসলেই.....
সত্যি খুব দুঃখ পাচ্ছি আপনার পিছলামো দেখে। দয়া করে আলোচনাকে আলোচনার মধ্যে রাখেন কিংবা ২ নং কমেন্ট দেখে বিদায় হন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
তথ্য-উপাত্ত যা পাঠানো হয়েছে তা ঐ এক পৃষ্ঠার ঘোড়ার ডিম, যেটা আমি স্ক্যান করে দিয়েছি। এর সঙ্গে ছিল যৌথ নদী কমিশনের দুটি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশঙ্কা আর ভারতের পক্ষ থেকে আশাবাদের দুই দশ লাইন বয়ান। চাইলে সেগুলোও দেয়া যাবে।
অফটপিক: ডটু সাহেবের ইগো সিন্ড্রোম আছে, বড়সড় বুদ্ধিজীবিদের থাকে, দেশ রসাতলে গেলেও উনারা নিজের থিওরি প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকেন, ছাইড়া দেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
নাইস কমেন্ট। আগে তো আমরা একমত হই যে, কী হতে যাচ্ছে। তার পর আসবে কাজের আলাপ। আমি নিরাশাবদী নই। ধুকতে ধুকতে বাংলাদেশ ৩৬ বছর পার করেছে। মাজার জোর আমি মনে করি বেড়েছে বৈ কমেনি। সেজন্যই এত বিভ্রাটের চেষ্টা হচ্ছে। শত হতাশার মধ্যেও এই জোর কালো মেঘের রূপালি রেখা। আগের মতো সহজ হবে সব কিছু।
না বলা কথা বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ,পিছলাদের পিছলামি ছাড়াইতে হলে ছাই দিয়া ধরতে হবে, নতুবা ইগনোর কইরাই মর্জিমাফিক পিছলাইতে দেন।
পোস্টে বরাবরের মতো +
রাসেল ( ........) বলেছেন:
আমি আলোচনার মধ্যেই থাকতে চেয়েছিলাম আগে থেকেই। আপনাদের উপসংহারের কারণেই বাধ্য হয়ে অন্য আলোচনায় যেতে হচ্ছে। এটা আমার খাসলতের সমস্যা না, আপনাদের খাসলতের সমস্যা।আন্দোলন প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য ছিলো সরকারের হাতে তথ্য নেই, সরকারের নির্বিকারত্ব ঘোচানোর জন্য আন্দোলনটা হওয়া উচিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কিংবা এমন দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সংস্থার দপ্তরের বাইরে।
এই বক্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে আপনাদের চলতি বিশেষণগুলো অকৃপন বর্ষণ করা শেষে আমাকে যদি আমার খাসলত নিয়ে প্রশ্ন করে ফেলেন, সেটা হাস্যকর হয়ে যায়।
আপনার মন্তব্যের কুণ্ঠা দেখে ধারণা করে নিলাম অন্তত সে আন্দোলনের যথার্থতা বিষয়ে আপনাদের ভেতরের সংশয় কাটে নি, কিংবা নিজেদের ভুলগুলো মেনে নিতে আপত্তি আছে আপনাদের।
---------------------------------------------------------
যাই হোক প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা চেয়েছিলাম। ১ মিটার পানি অপসারণ করা হবে এটা অনুমাণ করে নিয়েও গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ ৬০ থেকে ২০০ শতাংশ বাড়বে বিভিন্ন পয়েন্টে।
আলোচনায় সেই অংশটুকুর অন্তর্ভুক্তি না করে বিষয়টাকে নিজের কায়দামফিক উপস্থাপনের প্রচেষ্টা দেখলাম।
গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটা আজকে মাহবুব সুমনের পোষ্টে দেখলাম,
দক্ষিণ এশিয়ার নদী ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ এবং ‘World Water Forum’ এর পরিচালক জেমি পিটক বাংলাদেশের সরকারের আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশনকে (International Watercourse Convention) র্যাটিফাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই। উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশ, দুটো দেশই এ চুক্তিতে সাক্ষর করেনি; যা আন্তর্জাতিক ফোরামে টিপাইমুখকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধক।
ধরা যাক বাংলাদেশ সে চুক্তিতে সাক্ষর করলো , কিন্তু ভারত করলো না, তখন কি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভারতের উপরে কোনো চাপ প্রদান করতে পারবে? নীতিগত ভাবে সে চাপ প্রদান করা অর্থহীন।
আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা বাংলাদেশ পাবে না এটা ধরে নিয়েই জানতে চাই ভারতকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে বাধ্য করতে হলে আপনাদের কর্মপন্থা কি হবে?
লেখক বলেছেন: আমার ওপর নাই দুনিয়ার ভার। তাহলেও বিষম দিনে বিষম পথেই যেতে হবে। সরকারি স্তরে আইনী লড়াই+গণআন্দোলন করে সরকারের রাডার ঠিক রাখা+জনমত সংগঠিত করার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটা অংশকে উইন করা প্রয়োজনে পেঁদিয়ে ঠিক কথা বের করা।
এর বাইরে ভারতীয় গণতান্ত্রিক ও পরিবেশবাদী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ সর্বোচ্চ করা, ভারতের জনগণ যে আমাদের বন্ধুই, সেটা এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা, বিএনপি-জামাতকে নজরদারি করা যাতে তারা পিঠে ছুরি মারতে না পারে আবার তাদের বর্তমান বিরোধিতাকে শত্রুজ্ঞান না করা, আওয়ামী লীগের দেশপ্রেমিক তৃণমূল যে অংশটি রয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো।
এর বাইরেও আরো পন্থা থাকতেই পারে, সেটা আপনার জানার দরকার নাই। তবে আপনার মতো তর্কবাগীশকে পক্ষে পেলে কিছুটা এগনো যায়, সুতরাং আপনার মতি ফেরার জন্য চেষ্টা করে যাওয়া। এইটা ইয়ার্কির কথা, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিতে হবে, বিচ্ছিন্ন করা যাবে না ইস্যুগুলোকে।
এবং আপস ফর্মুলা হিসেব সাময়িকভাবে ভারতকে কিছু বিষয়ে ছাড়ও দেওয়া যেতে পারে। লেনিনকেও হিটলারের সঙ্গে কিছুদিনের জন্য অনাক্রমণ চুক্তি করতে হয়েছিল। আমি দেশ বা মানুষ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগি না, সব কিছুর সমাধানের প্রাণভোমরা এদেশের ১৫ কোটি মানুষ এবং অতিঅবশ্যই ভারতের প্রতিবাদী মানুষরাও। লড়াই ভারতেও হচ্ছে। দুইয়ের যোগসাধন উভয়েরই বাঁচবার শর্ত। মনে রাখবেন শত্রুকে আল্রা ভাববেন না, আবার ছোটোও করবেন না, এবং নিজের ক্ষমতাকে হীনবল ভাবার অভ্যাস করবেন না। আমাদের বামপন্থিরা মন্দের ভাল। কিন্তু এদের মধ্যেও দিনে দিনে পরিবর্তন হচ্ছে, সেটা আমি দেখতে পাই। আবার যাকে আপনারা ইসলামপন্থি বলেন, তাদের মধ্যেও অনেক কর্মী রয়েছে তাদেরও উইন করতে হবে। নইলে তারাই আমার-আপনাকে খেয়ে ফেলবে। জো জিতা ওহি সিকান্দার, বাইরের মোকাবেলা আর নিজেদের ফয়সালা দুটোই প্রয়োজন। উপনিবেশিত অধীনতার পরিবেশে মুক্তির লড়াই আমার-আপনার মধ্যে লড়াইয়ে পরিণত হতে বাধ্য। সেটাও ফয়সালা করে নিতে হবে। সেজন্যই আপনার দরবারে এত আবেদন।
সময় গেলে কিন্তু সাধন হবে না ভাইজান। সময় ফুরাচ্ছে।
লেখাটা পড়ে আমিও এলোমেলো হয়ে গেলাম , অসহায়ত্বে । খোয়াই , সুরমা দেখে এসেছি কয়েকদিন আগে । কে জানে শেষবার কিনা , মেঘনাই বা দেখা যাবে কিনা আর । আমার গ্রামের বাড়ি পদ্মার ধারে , আমার দাদা বাড়ি দু'বার পদ্মা ভেঙে নিয়ে গেছে । এখন সেই পদ্মায় যখন ঘুরতে যাই , পানির দেখা পেতে ২/৩ কি.মি নদীর বুকে ভেতরে হেঁটে যেতে হবে শুনে হতাশ হয়ে ফিরে আসি । আমি পানি বিশেষজ্ঞ না , ঐ বিষয়ক ইনজিনিয়ারও না । শুধু বুঝিনা পানি কোথায় ? চুক্তিতে বাংলাদেশ পানি পাচ্ছে , আমি কেন গ্রামে গিয়ে নদীর কোন চিহ্ন পাই না ? নাকি পানি বিশেষজ্ঞরাই যখন "তথাকথিত" আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তো কোন ছার , আমি নদীর কি বুঝি ?
.............................................................................
বাংলাদেশ কেন এক হতে পারে না ? নিজের জীবন হুমকিতে রেখেও মানুষ কি করে সচেতন হয় না ?
একটা জিনিস বুঝতে পারছি না , কি হচ্ছে সেটা মোটামুটি ওপেন সিক্রেট , লুকোছাপা প্রমাণ করার দায়িত্ব ভারতই নিয়ে নিয়েছে । মিছেমিছি কাদের বুঝাচ্ছেন ?
লেখক বলেছেন: বুঝাচ্ছি দোদুল্যমানদের জয় করার জন্য এবং শত্রু চিহ্নিত করবার জন্য। পরাধীনদের হীনম্মন্যতা বেশি বলে প্রভুকে নয়, পাশের লোককেই তার শত্রু মনে হয়। কৃষকের প্রধান শত্রু জমিদার হলেও সে ঝগড়া করে প্রতিবেশির সঙ্গে, আবার আগুন লাগলে প্রতিবেশির জন্যই সে দৌ্ড়ে আসে। রিকশাওয়ালাদের মধ্যেও এই রীতি আছে। কৃষক সমাজ কিনা। তাই একটু মারামারি না করলে পীরিত জমে না।
তবে জাতীয় ঐক্য আজ প্রয়োজন, ওপেন সিক্রেটকে ওপেন প্রতিরোধে পরিণত করবার জন্য।
অ্যামাটার বলেছেন:
ধন্যাবদ এবং আবারও ধন্যবাদ@ফারুক ভাই।________________
আশ্চর্য ব্যাপার! বিশেষায়িত বিষয়ে স্বল্পজ্ঞান নিয়েও কেউ কেন যে নিজেকে বিশেষজ্ঞ প্রমানের চেষ্টায় খানিক হাস্যরসের সৃষ্টি করছে, জানি না। কথাটা কোনও একজনের উদ্দেশ্যে।
বেছু মেম্বার বলেছেন:
ফারাক্কার মতো হবে।
বঙ্গবন্ধু যেভাবে ইন্ধিরাগান্ধি কে সম্মতি দিয়ে ছিলো বর্তমান সরকারের হাসিনা ও তাই করবে বা তার প্রচারনা চলছে টিপাইমুখ একটা বিদুৎত প্রকল্প বাঁধ না! সব সময় পানি পাওয়া যাইবে। বাংলাদেশের উপকার হবে
আমি ঠিক বুঝতে পারতেছি না! বর্তমান আ.লীগ সরকারের কাছ থেকে বিশ্বায়নের নামে করিডোর,টিপাইমুখ সহ অনেক কিছু আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। অবশ্য আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবির নিরব প্রকাশ্য সমর্থন করে যাচ্ছে ভারতীয় প্রচেষ্টা কে কিসের বিনিময়ে??
এখন মনে হয় এ দেশ স্বাধীন হয়েছে ভারতের সেবা করার জন্য বা ভারত ৭১রে সাহায্য করেছে আমাদের দাস হিসেবে পাওয়ার জন্য।
অর্জুন দেব বলেছেন:
যতটুকু শুনেছি ঐ এলাকার এক এমপি সাব লোকজনরে স্বপ্ন দেখাতেন ক্ষমতায় গেলে টিপাইমুখে বাঁধ দিবেন। এই করে ৩/৪টা সেশন গেছে। অবশেষে এইবার ভোটের আগে শিলান্যাস করালেন। কিন্তু জঙ্গী অথবা মাওবাদী অথবা স্বাধীনতাকামিদের ভয়ে অনুষ্ঠানটি করতে হয় অন্য রাজ্যে। সবমিলিয়ে ব্যবস্থা যতই সহজ মনে হোক, অবস্থা সেখানের খুব সুবিধার নয়। খবর আরো একটা আছে, টিপাইমুখ বাধেঁর সেই স্বপ্নপুরুষ এমপি সাব এইবার ভোটে হেরে গেছেন।-- তাই বলে একটা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের চেযে চেয়ে দেখবার কিছু নাই। করার আছে অনেককিছু। এবং এটি রাষ্ট্রিয় দায়িত্বের মধ্যেই পরে।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ফারহান দাউদ বলেছেন: টিপাইমুখের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ওখানে সফর করা লাগে না, বাঁধ বিষয়ক সমস্ত পরিকল্পনা এবং তথ্য যা ভারত সরকার করেছে সেগুলো বাংলাদেশকে পাঠিয়ে দিলে টেবিলে বসেই সব জানা সম্ভব। সমস্যা হলো, সেটা দেয়া হচ্ছে না, এবং আমাদের মহান সরকার বাহাদুরের সেটা নেবার ইচ্ছা আছে বলেও মনে হয়না। বিশ্লেষণ অব্যাহত থাকুক, ওয়াসিফ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদুর হক। সেটাই পর্যটন টুর করে কী লাভ, তাও আবার সেইসব মুর্খ ও বেকুব এমপিদের নিয়ে। জনগণের চাপ থাকলে বিশেষজ্ঞরাও নড়চেড়ে বতে বাধ্য। দেখেন না আইনূন নিশাতের মতো সুবিধাবাদী লোকও রয়েসয়ে কথা বলছে। এই লোক এশিয়া এনার্জির হয়ে কাজ করেছিল, এখন মধ্যপন্থা নিযে কথা বলছে। সম্প্রতি তিনি দিল্লি আছেন, দেখা যাক কী সওগাত তার এভং দেশের জন্য নিয়ে আসেন।
রাবিতে আপনারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদুর হক। সেটাই পর্যটন টুর করে কী লাভ, তাও আবার সেইসব মুর্খ ও বেকুব এমপিদের নিয়ে। জনগণের চাপ থাকলে বিশেষজ্ঞরাও নড়চেড়ে বতে বাধ্য। দেখেন না আইনূন নিশাতের মতো সুবিধাবাদী লোকও রয়েসয়ে কথা বলছে। এই লোক এশিয়া এনার্জির হয়ে কাজ করেছিল, এখন মধ্যপন্থা নিযে কথা বলছে। সম্প্রতি তিনি দিল্লি আছেন, দেখা যাক কী সওগাত তার এভং দেশের জন্য নিয়ে আসেন।
রাবিতে আপনারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন? আমরা একটা প্রক্রিয়ি শুরু করেছি। জানাব।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
@রাসেল(.....) আপনার পোস্টগুলো পড়া হয়েছে। আন্দোলনের প্রশ্নে এই দিকগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হয়। কিন্তু বুঝতে পারছি না আপনি আসলে কি বলতে চাইছেন। টিপাইবাঁধ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক কিভাবে সেই তথ্য বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেই আপনি নিশ্চিত, এটা এতো জোর দিয়ে বলছেন কেন। সরকারতো বলেইছে ক্ষতিকর কিছু তারা মেনে নেবে না। বিষয়টা কি এমন যে সরকার বাবুর ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় আমরা থাকবো। ভারতের সাথে যে কোন প্রকার লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান দুর্বলতো বটেই। তাকে সবল করে তোলার তাত্ত্বিক না সাংগঠনিক কোন পাটাতন আপনি তৈরি করতে চাইছেন। ভারতের আগ্রাসন বিষয়ে আপনার সংশয় নেই তো।
জনগণ এবং লড়াই হচ্ছে মূল বিষয়। সেটা যার বিপক্ষেই হোক না কেন। পুঁজিবাদেরও স্থানিকতা আছে। এটা আপনার বোঝার কথা। বড়র সাথে ছোটরও দ্বন্দ হয়। সেই দ্বন্দকে প্রকট করে তোলার কাজ করার কথা যদি বলেন তাইলে ঠিক আছে।
কর্মসূচির কথা বলছিলেন-তবে এটা ঠিক বলেছেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নয় আমাদের প্রথম দাবি সরকারের কাছে। সরকারকে বাধ্য করার একটা বিষয় থাকে। কিভাবে করা যায়-আপনার কোন ভাবনা আছে নাকি।
লেখক বলেছেন: শুভ্রের অ্যাপ্রোচটা আমার থেকে ভাল হয়েছে মনে করি।
ভাই রাসেল, আলোচনাটা ল্যাম্পপোস্টের মধ্যে নাই আর। ল্যাম্পপোস্ট সময়ের একটা শূণ্যতা পূরণ করেছে, এই সুযোগও মনে হয় তারা বারবার পাবে না। রাষ্ট্র যখন সার্বভৌমত্বকে অপমানের জবাব দিতে পারে না, তখন তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অসহয়াত্বটা। এটা কৌশলগত আচরণ নীতিগত নয়।
দ্বিতীয়ত, সরকারের কাছে তথ্য আছে। তারা উপযুক্ত জনচাপ পেলে নড়তে বাধ্য হবে। ল্যাম্পপোস্টও সেই চাপের কাজটাই করেছে। আর সরকারকে আমি তেজপাতা মনে করি না, ক্রান্তিকালে তাদের যোগ্যতা ও জনস্বার্থের প্রতি আনুগত্য মজ্জাগত শ্রেণীস্বাভাবে তারা পারছে না, কিন্তু সরকারই জনগণের প্রতিভূ নয় কিন্তু, প্রতিনিধি মাত্র এবং তা সাময়িক।
না বলা কথা বলেছেন:
আশ্চর্য ব্যাপার! বিশেষায়িত বিষয়ে স্বল্পজ্ঞান নিয়েও কেউ কেন যে নিজেকে বিশেষজ্ঞ প্রমানের চেষ্টায় খানিক হাস্যরসের সৃষ্টি করছে, জানি না। কথাটা কোনও একজনের উদ্দেশ্যে। ছাই ছাড়া গতি নাই।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
ফারহান আমার কর্মপরিকল্পনা আমি গতকালই পেশ করেছি। অবশ্য সেটা তেমন ভাত পায় নি। আজ কিংবা কাল কিংবা পরশু সবাই ঐ পথেই যাবে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আপনার কথায় একদম যুক্তি নাই তা তো বলা হয় নাই। কিন্তু আপনি উল্টো দিক থেকে শুরু করেছেন। আপনি বাংলাদেশকেই অভিযোগ উত্থাপনের জন্য বা আন্দোলনকারীদের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দোষী ধরে নিয়ে শুরু করেছেন। যে ক্ষতিগ্রস্থ আইনে তার রাইট বেশি। বাংলাদেশ ক্রমাগত ধর্ষিত এবং আইন বলে ধর্ষিতর অভিযোগ বেশি গুরুত্ব পাবে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আপনার কথায় একদম যুক্তি নাই তা তো বলা হয় নাই। কিন্তু আপনি উল্টো দিক থেকে শুরু করেছেন। আপনি বাংলাদেশকেই অভিযোগ উত্থাপনের জন্য বা আন্দোলনকারীদের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দোষী ধরে নিয়ে শুরু করেছেন। যে ক্ষতিগ্রস্থ আইনে তার রাইট বেশি। বাংলাদেশ ক্রমাগত ধর্ষিত এবং আইন বলে ধর্ষিতর অভিযোগ বেশি গুরুত্ব পাবে।
অলস ছেলে বলেছেন:
রাজনীতিতে যদি দেশের স্বার্থের প্রাধান্য থাকতো আমাদের দেশে, তাহলে আজ আর টিপাইমুখ নিয়ে বিতর্কই করা লাগতো না।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
দেশকেন্দ্রিক রাজনীতি নাই, সেটা নির্মাণ করাই প্রধান কাজ। এসব অভিজ্ঞতা থেকে সেদিকেই যেতে হবে, তার আগে প্রয়োজন মনকে মুক্ত করা। নইলে মরার আগেই মরে থাকতে হবে, যুদ্ধের আগেই শহীদ হয়ে যেতে হবে!!!
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
ফাহমিদুল হকের উপস্থিতি দেখে স্বস্তি পেলাম।আমার ধারনা ছিলো, সরাসরি কোনদলের বিপক্ষে যায়(জনগন মনে করছে না কিন্তু আওয়ামী লীগ ধরেই নিয়েছে যে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধচারণ এন্টি-আওয়ামী মনোভাব!কি বিচিত্র) এমন ইস্যুতে কোন অবস্হান পরিস্কার করবেন না।রাসেল লেখা পছন্দও করলেও সবকিছুতে উনার অপজিশনে যাবার এক সহজাত প্রবণতা আছে, এইটা সহজেই বোঝা যায়।
তবে টিপাইমুখী ইস্যুতে অমি রহমান পিয়াল আর রাসেলের অবস্থানে পার্থক্য আমার কাছে পরিস্কার। অ,র, পিয়াল ইনায়া বিনায়া যেটাই বলুক, উনি টিপাইমুখ বিরোধি কোন আন্দোলনকেই সমর্থন করবেন না, এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সরকার বাঁধবিরোধী কোন শক্ত অবস্থান(যদিও অলীক কল্পনা মনে হচ্ছে) নিলে উনার অবস্থান কেমন হবে, জানার ইচ্ছা রইলো।
রাসলের পোষ্টে মন্তব্য রেখেছিলাম, "গোয়ালে পোড়া গরু সিদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়"।
টিপাইমুখি বাঁধ সম্বন্ধে দিনমজুরের পোষ্ট ছাড়া আর কোন পোষ্টই আমি পুরো পড়ি নাই।এমনকি দিনমজুরের পোষ্ট না পড়েও এইটার আফটার ইফেক্ট বুঝতে সমস্যা হয়না।
রাসেল ভাইয়ের কাছে আমার একটা প্রশ্ন.... উজানে কোন দেশ একতরফাভাবে বাঁধ দেওয়ার ফলে ভাটিরদেশ লাভবান হয়েছে, এমন উদাহরন সারাপৃথিবী খুঁজে দেখান তো?তাও আবার যেখান ভারতের প্রতিবেশিদের সাথে সুসম্পর্কের কথা সবাই জানে!
বাংলাদেশ সরকার কেন ভারত ইস্যুতে নমনীয়, এইটা বুঝতে আইনস্টাইন হইতে হয়না।পাকিস্তান যেমন সিন্ধুতে বাঁধ হলে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, বাংলাদেশের সে হ্যাডম নাই।তবে সীমিত শক্তি নিয়েও লড়াই করা যায়।তবে এজন্য নমনীয় সরকারকে ঠেলা দিতে হয়।আন্দোলন এই ঠেলাটাই দিবে।
আর আপনি কৌশলগত মিত্রতায় আলকায়েদাকে জড়িয়ে সে পোষ্ট দিয়েছেন তা স্রেফ ফ্যালাসি।
ফাহমিদুল হকের একটা মন্তব্য কোট করি
" ইরাকে আমেরিকা হামলা চালালে বাংলাদেশে তার প্রতিবাদ করে বামদলগুলো এবং মোল্লারা"।
তারমানে বামরা কৌশলগত মিত্রতায় মোল্লাদের সমর্থন করছে !
লেখক বলেছেন: সব কথার সঙ্গে একমত। কিন্তু বামরা মোল্লাদের কৌশলগতভাবে সমর্থন করছে তা নয় কিন্তু। তা করতে হলে এই বাম এবং এই মোল্লাদের বদলাতে হবে। আমাদের মোল্লা নেতারা বেশিরভাগই সুবিধাবাদী, বামদেরও তাই। কিন্তু বামদের আদর্শের কারণেই জনগণকে তুলে ধরতে হয় মোল্রাদের ধর্মকে তুলে ধরতে হয়। দুটোই তফাত রয়েছে। তবে আমি লেবাননের কায়দায় হিজবুল্লাহ আর চের অনুসারীদের মৈত্রী সময়ের প্রয়োজন মনে করি, বিরোধ বজায় রেখেই। বাংলাদেশে সেইধরনের কোনো দল আছে বলে মনে করি না। হিজবুত তাহরীরের লম্বা-চওড়া দেশপ্রেমিক কথাবার্তা উবে যায় খেলাফতের ইওটোপিয়ার কথা শুনলে। কিন্তু তাদের কেবল খেলাফত ভাবাও ভুল হবে। আমরা ট্রানজিশনে আছি, এখন কারো চেহারাই পরিস্কার লাগবে না, সম্ভবও না।
তবে কৌশলগত কারণেই টিপাইবিরোধী আন্দোলন মোল্রা চেহারা নিলে বিপদ বেশি। তাহলেই ম্যধবিত্ত ভাগ হয়ে যাবে, আধুনিকতার মোহে তারা ভারত-মার্কিন-সিবিল সোসাইটির পক্ষে চলে যাবে। এটাকে তুলে ধরতে হবে সেকুলার কিন্তু পশ্চিমা মৌলবাদে অন্ধভক্ত নয় এমন শক্তিকেই। মোল্রাদের সামনেও সুযোগ এসেছে, নিজেদের জনগণের কাছাকাছি প্রমাণের। তা যদি তারা প্রমাণ করতে পারে তাহলে কয়েকশ যুদ্ধাপরাধীকে কোরবানী দিয়েও তারা টিকে থাকতে পারবে।
বলাবহুল্য নয়, এগুলো আমার ইচ্ছা নয় বাস্তবতার গাণিতিক হিসেবনিকেশ।
এম নাঈম খুশবু বলেছেন:
"আমাদের কাজ হচ্ছে বিবদমান বিশেষজ্ঞ মতগুলোর মধ্যে নিজেদের স্বার্থরার যুক্তি ও তথ্য খুঁজে নেওয়া।"প্রয়োজন কথা হলো আমরা কি চাই সেটা আগে ঠিক করে নেয়া।
দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য তর্ক নাকি তর্কের জন্য তর্ক।
আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: দামি কথা বলেছেন। তিল চাই না তাল চাই তা ঠিক করতে হবে। ভুল করে ভাল চাওয়া যায় না। ভাল চাওয়া জেনেশুনেই চাইতে হয়। আশা করি পরের পর্বে এদিকটায় নজর কাড়তে পারবো। ধন্যবাদ।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ ওয়াহিদ ভাই।
মনজুরুল হক বলেছেন:
এই বিষয়ে আর কিছু বলতে ভাল লাগছে না। আপনার কি মনে আছে ফারুক, গণসংগঠনের বর্ধিত সভায় বা প্লেনারিতে কেউ কেউ থাকতেন এমন, যারা নোট অব ডিসেন্টেও আপত্তি জানাতেন!
আমি একটা সরকারী ফ্যালাসির অপেক্ষায় আছি। এর থেকে আওয়ামী লীগের মুক্তি নাই। তাকে হয় দীপু মনিকে আপহোল্ড করতে হবে, অথবা সৈয়দ সাহেবকে। এই দুইটি কাজের যে কোন একটি কাজই তাকে টিপাইমুখ সংশ্লিষ্টতায় টেনে নামাবে। নামাবেই। আমার ধারণা পরিস্থিতি একটু থিতু হলে আওয়ামী লীগ এই ইস্যুটাকে আরো সাড়ে চার বছর টেনে নিতে চাইবে কোন প্রকার পিউরিফিকেশন ছাড়াই। কোন প্রকার ডিসাইসিভ এ্যাকশন ছাড়াই! এবং কুটতর্ক আর কু রাজনীতির বলি হিসেবে সামনে একটা বড় ধরণের "ইস্যু" তৈরি হতে পারে, যা তাদেরকে এই মরতবায় সেট ব্যাক করার বা ব্রীদিং স্পেস করে দেবে।
আল্লা মাবুদ মেহেরবান! তিনিই মানির মান রাখনেঅলা!!!
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
হুমম, আসলেই আওয়ামী লীগের জন্য এটা অগ্নিপরীক্ষা। এত বিরাট সমর্থন নিয়ে এসেও কেমন তাদের গভর্নরের মতো আচরণ করতে হচ্ছে। এদের কারো প্রতি আশা রাখা বোকামি এবং বৃদ্ধিমত্তার তলানি ছোঁয়ার লক্ষণ। কিন্তু জড়পদার্থও তো পদার্থ। পদার্থের নিয়মেই তারা সোজাসাপটা হার মানবে না। আমার ভয় অন্য দিকে, আরেকটা বিডিআর বা জঙ্গিবোমার মতো ঘটনায় জাতিকে বিমূঢ় করে ফায়দা হাসিল করা। সেটা হতেই পারে। হুমম, আমি দীপুমণি বা ফারুক খান ও সৈয়দদের ভূমিকার মধ্যে এক দলের মধ্যেই ড. জেকিল আর মিস্টার হাইড হয়ে খেলা দেখি। দেখি জনগণের সঙ্গে রঙিন মশকরার ছড়াছড়ি।
দিগন্ত বলেছেন:
বন্যা ত্রাণের জন্য তহবিল কেন- আপনার বক্তব্য ভুল। লেখার মানে আমি যা বুঝলাম ফ্লাড রিলিফ বলতে বন্যা না হওয়ার ফলে আগে বন্যাত্রাণে যে টাকা খরচা হত সেটা বেঁচে যাবে বলা হচ্ছে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
সে প্রসঙ্গে আসবার আগে বলি, এই বিতর্কে আপনার অবস্থানটা কি ফুটনোটেই সীমিত রাখবেন? আমরা এখানে বাংলাদেশ ও ভারত রাষ্ট্রের খাতক হিসেবে কথা তুলছি না, তুলছি জনগণ-প্রকৃতি ও ভবিষ্যতের নিরিখে, যার কোনোটির মালিকানা রাষ্ট্র দাবি করলেও তার একচেটিয়া নয়। আমরা রাষ্ট্র অতিক্রান্ত পজিশন নিয়েছি, আপনার পজিশন কী? টু দা টিউন নিয়ে কথা তো? অতএব কথা হবে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
পশম দেখলেন, চামড়াটা দেখলেন না দিগন্ত?
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
পি মুন্সীর পোস্টে বলেছিলাম কথাগুলো, প্রাসঙ্গিক হওয়ায় এখনে কপি করে দিলাম:টিপাইমুখ বাঁধ বিষয়ে এই যে ব্লগে নানামুখী বার্তা চালাচালি হচ্ছে, আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ হচ্ছে, তাতে আসলে লাভটা হচ্ছে কার? কার স্বার্থে আমরা অমূল্য সময় ক্ষেপণ করছি? নাকি কেউ চায়ই আমরা সময় ক্ষেপণই করি কেবল?
নদীতে বৃহৎ ড্যাম পৃথিবীর কোন দেশে সার্বিক বিচারে কল্যাণ বয়ে আনেনি। ৫০-৬০ বছর আগে হয়তো ব্যাপারটা ভিন্ন ছিল, কিন্তু এখন গ্রীন হওয়া সত্ত্বেও হাইড্রো ইলেক্ট্রিসিটিকে ক্ষতিকর বলেই রায় দেয়া হয়। ফলে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ত্ব দেয়া হচ্ছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টকে। ভারতে সেরকম একাধিক প্ল্যান্ট আছেও। তার পরেও টিপাইমুখ বাঁধ ভারতের দরকার। কেন দরকার? কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন টিপাইমুখ মাল্টিপার্পাস ড্যাম প্রজেক্টের একটা ছুতা মাত্র! এ প্রসঙ্গে একটি তথ্য অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে, তা হলো, টিপাইমুখের সাথে সাথে ফুলেরতলে আরেকটা ব্যারেজ বানানো হবে। লক্ষ্য করুন, টিপাইমুখেরটি ড্যাম আর ফুলেরতলিরটি ব্যারেজ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে সাথে আসম-মিজোরামে জল সেচও গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য। কিন্তু এ প্রসঙ্গে সবার ঢাকঢাকগুড়গুড়ের কারণ হচ্ছে সেটাতে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভ ভয়ংকর আকার ধারণ করবে। বাংলাদেশের মানুষ তিল তিল করে ফারাক্কা ব্যারেজের মূল্য দিচ্ছে এবং তা দেবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণ করতে তাই যাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে তাদের থলিতে কোন বেড়াল লুকিয়ে আছে সেটা নিশ্চয় আর বুঝিয়ে বলতে হবে না।
এখন মূল ইস্যুতে জনমত গড়ে তোলা সবচেয়ে জরূরী, তাহলেই কেবল সম্ভব জনতার জন্যে প্রতিটি পক্ষকে লড়তে বাধ্য করা।
লেখক বলেছেন: একদম সঠিক কথা। একমত।
বিশেষত ২৪ নম্বরে আপনার জবাব দেখে।
মনজুর "নোট অব ডিসেন্টেও আপত্তি" পছন্দ হয়েছে।
ইন্ডিয়া ডাইরেক্ট কইয়া দ্যান- বাঙালীরে হাইকোর্ট দ্যাখাইয়া লাভ নাই!
রণদীপম বসু বলেছেন:
এখন পর্যন্ত কোন আপডেট পাচ্ছি না। অপেক্ষা করি আরো। তবে সময় ঠিকই যাচ্ছে।ধন্যবাদ ফারুক ভাই।
মগ্নতা বলেছেন:
ধন্যবাদ ফারুক ওয়াসিফ।
খাড়া কথা খাড়া বলতে হয়। একালে ড্যাম, বাঁধ ব্যারেজের পক্ষে দাঁড়ানোর সুযোগ প্রকৃতি আর আমাদের দিবে না, সহ্য করবে না। "৫০-৬০ বছর আগে হয়তো ব্যাপারটা ভিন্ন ছিল, কিন্তু এখন গ্রীন হওয়া সত্ত্বেও হাইড্রো ইলেক্ট্রিসিটিকে ক্ষতিকর বলেই রায় দেয়া হয়"। আমাদেরও কী সে অভিজ্ঞতা নাই?
কাপ্তাই বাঁধও কী পাহাড়িদের সাথে সমতলের বাসিন্দাদের গেল চল্লিশ বছরের বিরোধের গোড়ার কারণ নয়? সমতলের একপেশে স্বার্থে পাহাড়িদের বলি দিয়েছিলাম। কিন্তু এতে সমতলেরও কী আসলেই স্বার্থ হাসিল হয়েছে? বাংলাদেশের ৩৫০০-৪০০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত মোট জাতীয় ক্যাপাসিটির তুলনায় কাপ্তাইয়ের ৭০-৯০ মেগাওয়াটের জন্য আমরা কী মূল্য এখনও দিয়ে চলেছি সেই হিসাব করার সময় বহু আগেই পার গেছে। অনুষঙ্গ হিসাবে তুলে দিয়েছিলাম নিজের বিরুদ্ধে ভারতের হাতে পাহাড়ি কার্ড। এদিকে যে পারমানেন্ট জন গোষ্ঠিগত ক্ষতি করেছি এর মাসুল বাড়ছে বৈ কমছে না। প্রাকৃতিক, প্রাণ পরিবেশের কী ক্ষতি করেছি সে হিসাব এর বাইরে।
আর এখন টি[পাই নিয়ে, পানি প্রাণবৈচিত্র সার্বভৌমত্ত্ব - সব খোটায় বাঁধা পড়ে যাচ্ছে। তবুও এখনও এর ভিতর লাভালাভের খোঁজ করে পক্ষে দাঁড়ানো বাংলাদেশির অভাব হচ্ছে না। সত্যিই বিচিত্র!
খাড়া কথা খাড়া বলতেই হবে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
এখন খাড়া কথা খাড়াই বলবার সময়।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
শিমুল আমিও বিষয়টা বুঝতে চাচ্ছি আসলে,সরকার বারবার দাবী করছে তাদের হাতে তথ্য নেই, কিন্তু একটা এসেসমেন্ট করছে তারা। সেই এসেসমেন্টে বলা হচ্ছে সেচের জন্য পানি অপসারণ করলেও বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে পানির পরিমাণ কমবে না। কিন্তু এইটা কিভাবে নিশ্চয়তা দেওয়া যায়, অসম্ভব কোনো উপায়ে তো পানি পয়দা হবে না।
পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধাঁচ যেমন, জমানো পানি একটা নির্দিষ্ট চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত করা হবে, সেই চ্যানেলের রক্ষিত টার্বাইন পানির ধাক্কায় ঘুরবে, বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। সেটা নিয়মিত করবার জন্য একটা নির্দিষ্ট হারে পানি ছাড়তে হবে। কাপ্তাইয়ে পানির পরিমাণ কম হলে কম টার্বাইন ঘুরানো হয়, সুতরাং বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে।
আমার অনুমাণ বলছে যদি ৪০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকে নিপকোর তাহলে ১৫০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি প্রবাহ লাগবে, তার ৪ ভাগের ১ ভাগ ছাড়া হবে বারাকের নীচের দিকে। সুতরাং আমাদের নদীতে পানি আসবে ৪ভাগের ১ ভাগ। এটা সাধারণ অনুমাণ, বিস্তারিত পরিকল্পনা দেখে বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবে।
সেচের পানি কতটুকু অপসারিত হবে সেটাও বলা নেই। যদি ৩৫৯ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃন্ত হয় সেচের নালা এবং সেটার নাব্যতাও যদি ধরে রাখতে হয়, তাহলেও গড় গভীরতা ২ মিটার এবং প্রস্থ ৫ মিটার ধরলে সঞ্চিত পানির পরিমাণ হবে ৩.৬ মিলিয়ন ঘনমিটার।
বাংলাদেশকে যদি শুকনো মৌসুমে প্রতি সেকেন্ডে ১০০০ ঘন মিটার পানি সরবরাহ করা হয় তাহলে একটা নদী দিয়ে বাংলাদেশে বছরে পানি প্রবেশ করে ৯ মিলিয়ন ঘনমিটার। এই সঞ্চিত পানির পরিমাণ কিন্তু বাংলাদেশে ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে যে পরিমাণ পানি আসে তার এক তৃতীয়াংশের মতো। এবং এরপরে আছে অন্য হিসাব, এখান থেকে সেচের নালা যাবে জমিতে জমিতে, জমিতে পানি যাবে।
সব মিলিয়ে হয়তো শুকনো মৌসুমে যদি আরও ৪ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি বের করে নেওয়া হয় তাহলে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ থাকবে কতো?
কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের তথ্য ঘেঁটে দেখা যাক সেখানে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতি সেকেন্ডে কি পরিমাণ পানি ছাড়তে হয়।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
টিপাইমুখ বাঁধের ধারণ ক্ষমতা ১৫০০ কোটি ঘনমিটার। আর বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে বিশেষজ্ঞদের মতে বারাক দিয়ে পানি প্রবেশ করে মাত্র ৫০০ ঘন মিটার প্রতি সেকেন্ডে, তার মানে সে পরিমাণ পানি ৩৫৯ কিমি লম্বা, ৫ মিটার চওড়া এবং ২ মিটার গভীর একটা জলাধার সঞ্চয় করে, তার কাছাকাছি পরিমাণ পানি বাংলাদেশে আসবে শুকনো মৌসুমে।
অলস ছেলে বলেছেন:
রাসেল ক্রমাগত যুক্তি দিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন। কিন্ত ১. বিশেষজ্ঞদের লেখাতেই আমরা আম জনতা পড়ছি যে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত। তার কি হবে?
২. ফারাক্কা বাঁধের অভিজ্ঞতার পরও এত সুন্দর হিসাব নিকাশ মেনে সমঝোতায় আসা, এত বিশ্বাস আর ভালোবাসা দেখলে তো অহিংসা পরম ধর্মের অনুসারীরাও নতুন 'বাঙ্গালী' ধর্মে চলে আসবে।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
"আর আপনি কৌশলগত মিত্রতায় আলকায়েদাকে জড়িয়ে সে পোষ্ট দিয়েছেন তা স্রেফ ফ্যালাসি"।ফারুক ভাই, এই মন্তব্যটা করেছিলাম রাসেল ভাইয়ের উদ্দেশ্যে।
উনার "কৌশলগত মিত্রতার ধারণায় আলকায়েদাকেও সমর্থন করা যায়;উৎসর্গ ফারুক ওয়াসিফ" এই পোষ্টের পরিপেক্ষিতে।
রোহান বলেছেন:
বিশেষজ্ঞ মতামত বুঝিও না বেশী কিন্তু আমজনতা হিসাবে এতটুকু বুঝি এই বাঁধ না আমার কাজে আসবে না ভারতের ভালো হবে। পরিবেশগত বিপর্যয় তো সমগ্র বিশ্বের তাই না। ব্লগে অনেক পোষ্ট হয়, দিনমজুরের পরে রাসেল, মুন্সি আর আপনার পোষ্টগুলাই পড়া হয়। একটা কথা মনে হলো শেয়ার করি। টিপাইমুখ নিয়ে বিরোধীতা মনেহয় সবারই মনের কথা। কাউকে কাউকে উল্টা স্রোতে যেতে দেখা যায় তবে সেটা হয়তো আদর্সগত ভিন্নতায়। এই যেমন ধরেন টিপাইমুখ কিন্তু অনেক পুরানো একটা ইস্যু। টেকনিকাল বিষয় গুলান নিয়ে খুব সম্ভবত আগেও অনেক আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ কিন্তু সবসময়ই নিরব থেকেছে। এখন টিপাইমুখ নিয়ে হটাৎ আমাদের মাঝে সচেতনতা জেগেছে হয়তো দেরীতে তবে জেগেছে এটাও কম কিসের। কিন্তু আমরা সবাই হয়তো বর্তমান সরকারকে গালাগালি করছি আর সেটাই হয়তো অনেকের কাছে খারাপ লাগছে। কেউ কিন্তু বলছে না যে এই সরকার না হলে অন্য কেউ থাকলেও কাজের কাজ তেমন একটা হতো না। যদিও আওয়ামী লীগ থাকলে ভারত প্রেমী বলে বেশী দেখানো হয় তবে কূটনৈতিক কারনেই বলেন আর শক্তিশালী প্রতিবেশী হবার কারণেই বলেন একটা নুন্যতম সখ্যতা সবাইকেই বজায় রাখতে হয়। তো বাম-ডান-মধ্যপন্থা কোনটা সমাধান আর কোনটা হঠকারী এই নিয়ে আলোচনা না করে বরং সমাধান নিয়ে আলোচনা করাই ভালো না? এখন বলেন সমাধান কে দিবে? রাজনীতির আশা ছাড়ুন ওখানকার সবাই যার যার ধান্ধায় নিমগ্ন; এরা ইস্যু টেনে রাখতেই ব্যস্ত হবে, আন্দোলনের খাতিরে বিরোধীদল বারবার আন্দোলনের হুমকী দেবে, সমাধান দেবে না বলবে গদী ছাড় আমরা আগে আসি তারপর হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা। আমজনতার কাছে যান, তারা সবাই যে যার মুখের দিকে তাকায় আছে, বিষয়টা বুঝে অনেকেই, সামনে আসতে চায়না কেউ আগ বাড়িয়ে... মোটিভেশন দরকার আর সেটা কিভাবে সম্ভব তাই নিয়ে আলোচনাই জরুরী...
রাসেল ( ........) বলেছেন:
একটা সংশোধনী:৫০০ ঘন মিটার প্রতি সেকেন্ড হিসেবে বারাক নদী দিয়ে বাংলাদেশে দৈনিক প্রবেশ করে ৪৩ মিলিয়ন ঘন মিটার পানি।
বর্যা মৌসুমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এর ১০ গুণ পানি।
সেখান থেকে যদি দিনে ২০০০ ঘন মিটার প্রতি সেকেন্ডে অপসারণ করা হয়- এটাই রিপোর্টের ভাষ্য। বর্ষা মৌসুমে বারাক নদী থেকে এই পরিমাণ পানি অপসারণ করা হবে- দৈনিক ১৫০ মিলিয়ন ঘন মিটার পানি অপসারণ করা হবে-
এই হারে পানি অপসারণ করলে ১৫০০০ মিলিয়ন ঘন মিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধার পূর্ণ করতে লাগবে ১০০ দিন। কিন্তু যদি সমস্ত পানি অপসারণ করা হয় তাহলে সময় লাগবে ৩৫ দিন।
---------------------------------------------------------------
কার্যকর পদক্ষেপ কি হবে সেটা নিয়েই আলোচনা চালানো যায়-
রাসেল ( ........) বলেছেন:
রিপোর্টের শেষে মানে এই রিপোর্টের শেষে লেখা আছে স্যালিয়েন্ট ফিচারস অফ দ্যা টিপাইমুখ হাইড্রোইলেক্ট্রিক মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট ইন মনিপুর, ইন্ডিয়া আর এনক্লোজড। সেই কভার পেজের নীচের অংশগুলো কই। যদি সরকার না পায় তাহলে সরকারের যোগাযোগ করার কথা। সরকার কি যোগাযোগ করছে?
লেখক বলেছেন: না দেয় নাই। এর বেশি নাকি তারা পায় নাই। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আরো দুটি পৃষ্ঠা। আমরা পেয়েছি সংলগ্নি আট ও সংলগ্নি দশ। এই দুই পৃষ্ঠায় মোটামুটি ২০ লাইনে ৩৫ তম ও ৩৬ তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে বাংলাদেশের আপত্তি আর ভারতের আশ্বস্ত করার কথা রয়েছে। সরকার যোগাযোগ করছে বলেই তো আজকের প্রথম আলোয় খবর আছে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
এই আন্দোলনটা হওয়া উচিত বেশি করে নাগরিক পরিমণ্ডলে ও গণসংগঠনের মাধ্যমে। রাজনৈতিক দিশা ও পরিচালনা থাকবে। কিন্তু পাড়া-মহল্লায়, স্কুল-কলেজে, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের কৃষক, জেলে ও হাওরবাসীদের নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা থাকবেন জনগণকে ওয়াকিবহাল রাখার জন্য। এবং একে মোটেই খণ্ডিতভাবে না দেখে সামগ্রিক ভাবে ভারত-বাংলাদেশ পানি সমস্যা সমাধান, প্রকৃতির ওপর মানুষের মাস্তানি বন্ধ করার জন্য দক্ষিণ এশিয় স্তরে আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নদী, হিমালয়, সুন্দরবন সহ আমরা কোনো কিছুই কিন্তু এককভাবে সুরাহা করতে পারবো না। তার জন্য আমাদের সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। আর সরকার ঠেলা ছাড়া নড়ে না, সমস্যা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে সামগ্রিকভাবে এই ঠেলার কাজটি আমাদের একটানা করতে হবে। এটা একদিনের মামলা নয়, বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে, সেই ধৈর্য্য থাকতে হবে সবার।
স্পাইডার বলেছেন:
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
@আহসান হাবিব শিমুল, দেশে ফিরলে ব্লগের বরাদ্দ সময় যে কমে আসবে তা আমি পোস্টের মাধ্যমেই জানিয়েছি। তাই নিজের পোস্ট যেমন কমেছে ব্লগপাঠও কমেছে। কিন্তু আপনি তো আমার ব্লগে নিয়মিত আসেন, আশ্চর্য হয়েছি, "সরাসরি কোনদলের বিপক্ষে যায়(জনগন মনে করছে না কিন্তু আওয়ামী লীগ ধরেই নিয়েছে যে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধচারণ এন্টি-আওয়ামী মনোভাব!কি বিচিত্র) এমন ইস্যুতে কোন অবস্হান পরিস্কার করবেন না।" -- আমার সম্পর্কে এরকম ধারণা আপনার কীভাবে জন্মালো!
ঘটনাচক্রে টিপাইমুখ ইস্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হয়েছি খানিক পরের দিকে, ফলে এর আদ্যপান্ত পড়া সবে শুরু করেছি, ব্লগ থেকেই। দিনমজুর, রাসেল, পি মুন্সি, ওয়াসিফ সবই পড়বো। তারপর বড়োসড়ো মন্তব্য করবো বলে আশা করছি।
তবে ভারত উজানে বাঁধ দিলে আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হবো, এইটা আমি পষ্টই বুঝি। কী কী লাভ হবে, তার যদি কোনো ফিরিস্তি থাকে তবে সেটা পরিস্কার ছেলেভুলানো কথা হবে বলেই মনে করি।
ইরাকে আক্রমণ হলে বাম ও মোল্লারা একই ভাষায় প্রতিবাদ করে -- কথাটাকে আরেকটু সম্প্রসারণ করি। ল্যাটিন আমেরিকার কোনো দেশে মার্কিন আক্রমণ হলে বামরাই থাকবে, মোল্লারা সরে পড়বে। কারণ আক্রান্তরা হবে এক্ষেত্রে একটি অমুসলিম দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে যেহেতু সাম্রাজ্যবাদী সব আক্রমণই প্রায় হচ্ছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাই বাম ও মোল্লা একসুরে যে কথা কয়, তা কোনো আশ্চর্যচিহ্নযুক্ত কৌতুক হতে পারেনা। এটাই বাস্তবতা। হিন্দু সন্দীপন এজন্য এক উপন্যাস লিখেছিলেন যার নাম ছিল 'আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি'।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
সরকারের আগ্রহ তো সেই দিকে দেখলাম না। ভারত বলছে তারা ফুলতলি ব্যারেজ নির্মাণ করবে না, ভারত আশ্বাস দেওয়ার পরেও কি সংকট কাইট্যা যাবে? আজকে বিএনপি শেরাটনে সম্মেলন করবে টিপাইমুখ নিয়া, সেইটার ফাইন্ডিংস জানা যাবে কখন? ইস্যুটা পলিটিক্যাল না ইস্যু ইকোলজিক্যাল এবং ইস্যুটা হিউম্যান ডিজাস্টারের।
এইটা বার্গেইনিং টুল বলতেছে লোকজন, কিন্তু এইটার ভীতি দেখায়া কতটুকু আদায় করা সম্ভব বাংলাদেশের কাছে?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
সেটা সম্ভব, এখন বাঁধ পরে ব্যারাজ। ভারতকে এ থেকে সরাতে হলে রিভার লিংকিং ও হাউড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার তৈরির মাস্টারপ্ল্যান থেকেই সরাতে হবে। এর জন্য ভারতীয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, পরিবেশবাদীসহ অনেকেই সোচ্চার। এসব প্রকল্প জনগণের যতটা দরকার তার থেকে বেশি দরকার শহরবাসী বাবুদের আর কর্পোরেট খুনে পুঁজিপতিদের। একসময় সামন্তবাদীরা যে ঘৃণা কুড়িয়েছে এদের প্রতি তার থেকে বেশি ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে হবে, মানুষকে জানাতে হবে জানলেই মানুষ নড়াচড়া শুরু করবে।
বাঙ্গাল বলেছেন:
পোস্ট পর্যবেক্ষন
আমার মনে হয় এখন আমরা মূল পয়েন্টটা ধরতে পাচ্ছি। পরিস্কার দেখতেও পাচ্ছি। "প্রকৃতির ওপর মানুষের মাস্তানি বন্ধ করা"। প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক কী - এটা ধর্ম, দর্শন ও ভাবের দিক এবং সর্বপরি আমাদের রাজনৈতিক সত্ত্বার দিক থেকে বুঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাই হবে আমাদের সকলের আগামী দিনের নতুন চিন্তা, ভাবদর্শনের উৎস; যে কোন কথা, দাবি তোলার আগে তার প্রাণের দিক, ঠিক বলছি কী না তার গাইড লাইন।
এখানে অনেককে দেখছি, "বাঁধ দিলে" আমাদের পানির প্রাপ্যতা ও এর টেকনিক্যালিটি নিয়ে বিস্তর ঘাটাঘাটি করে দ্বিগগজ সাজার চেষ্টা করছে, ক্যলকুলেটর নিয়ে বসে গেছে।
বাস্তবের মাটিতে এরা পা রাখতে চায় না।
৯৬ সালের পানিচুক্তিতে বিস্তর এসব গবেষণা উপাত্ত বসিয়ে নিশ্চিত করে, আমরা শান্তনা পেতে চেয়েছিলাম যে এইবার পানি ঠিকঠাক পরিমাণ মত আসবে। কিন্তু ফলাফল? বাস্তবে পানি চুক্তির পরিমাণ মত আসে নি। ছাড়া হয়নি। ভারত নতুন যুক্তি হাজির করেছে এটা "প্রকৃতির দোষ"। আমাদের পানি মন্ত্রীও ভারতের মুখপাত্র হয়ে একই কথা বলছে।
তাহলে আবার টিপাইমুখ নিয়ে আমরা কাউকে কাউকে সেই একই ক্যলকুলেটর নিয়ে বসতে দেখছি কেন? কাকে শান্ত করতে বা শান্তনা দিতে? এতে কার উদ্দেশ্য সফল করতে?
যারা প্রাকটিক্যাল, নগদ কিছু দেখতে চায় বাস্তব কান্ডজ্ঞান আছে তাদের কান্ডজ্ঞানের খাতিরে অন্তত তাদের প্রকৃতি প্রেমিক হওয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা নাই। মনে রাখতে হবে আমরা ভাটির দেশের লোক। সবধরণের বাঁধ, ব্যরেজ, পানি সরিয়ে নেবার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্হান নেওয়া ছাড়া আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারব না। প্রকৃতি আর বাংলাদেশ - প্রত্যক্ষভাবে একাকার।
এর বাইরে যে কথা বলবে বুঝতে হবে সে বেকুব আত্মধ্বংসী নয়তো ধান্দাবাজ।
লেখক বলেছেন: আমি এ নিয়ে কিছুদিন হলো পড়াশোনা করছি। কিন্তু এখন আমার (কখন নয়?) মাথার ঘায়ে কুত্তা পাগলা দশা। তাছাড়া এটা অনেকটা আপনার বিষয় [কোনটা নয়?
], আপনি যদি এ বিষয়ে একটা পোস্ট দিয়ে দেন, আমি আসলেই অন্তর থেকে খুশি হব এবং আমার অন্তত এক রাত্রির ঘুম হাসিল হবে।
দাবি রাখলাম।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
নাগরিক বাবুদের যুক্তি আছে, টেকসই উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুত প্রয়োজন। সেটা মনিপুরবাসী কিংবা মিজোরামবাসীর কল্যানে আসতে হবে এমন নয়, বরং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে মনিপুরবাসী বন্দেমাতারম গেয়ে দেশমাতার দাবি পুরণ করবে। এমন একটা প্রত্যাশা নাগরিক সমাজ থেকে আসছে।
বিদ্যুতের চাহিদাকে কেউই উপেক্ষা করছে না। পুনঃনবায়নযোগ্য বিবেচনা করে সবাই খনিজ জ্বালানিনির্ভর কিংবা কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প থেকে সরে আসছে। এই নাগরিক সমাজ হয়তো হামার উপজাতির বক্তব্য শুনবে না, তাদের সাংস্কৃতিক বিশুদ্ধতা কিংবা তাদের ঐতিহ্য নিয়ে ভাববে না।
চীন প্রায় ১১০ হাজার মেগাওয়াট পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে আগামী ২০ বছরে।
ভারত করছে ৪০ হাজার মেগাওয়াট পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য এটা তাদের প্রয়োজনীয় ইনভেস্টমেন্ট। চীন সরিয়েছে ১ লক্ষ মানুষ।
টিপাইমুখের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে একজন বলেছে- এই পরিকল্পনা রদ করা হবে কেনো। জনবিরল একটা জঙ্গলে কয়েকঘর আদিবাসীদের জন্য এই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। এখানে জুম চাষ করে তারা যে উপার্জন করে, মনিপুরবাসী যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাবে সেটার মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশী।
বিষয়টা অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা উচিত না কি বিষয়টা মানবিক দিক থেকে দেখা উচিত?
লেখক বলেছেন: মুশকিল হচ্ছে, পুরো বিষয়টা দেখা হচ্ছে মুনাফাখোরি যুক্তি থেকে। কয়েক ঘর পুঁজিপতির যাতে মুনাফা তাতে একটা বিরাট অঞ্চলের বর্তমান ও ভবিষ্যত সন্ততিদের মুছে যাওয়ার কেয়ামত (এবং অবশ্যই অতীত, প্রকৃতি সময় ও সৃষ্টির আধার, তাকে ধ্বংস করে প্রাণ ও ইতিহাস অর্থাৎ প্রাণের ইতিহাস ও প্রাণের জান ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি।
ভারত চীনকে ধরবার জন্যই শুধু নয়, তার অভ্যন্তরে সকল জাতিগোষ্ঠী, সম্প্রদায় এমনকি খোদ রাষ্ট্রকাঠামোকে এমনভাবে পুঁজির প্রয়োজনে অস্থিতিশীল করে তুলেছে যে, আরো বেশি মুনাফা দিয়ে শক্তি সংগ্রহ করা এবং বাইরের সঙ্গে আপস ও প্রতিযোগিতা বিনা টিকতে পারবে না। এটা আমাদের মতো টিকবার প্রশ্ন না, বৃহত রাষ্ট্র হয় সাম্রাজ্যবাদী হবে ভেতর-বাহিরে নয়তো ভেতর-বাহিরে সাম্রাজ্যের করদ হবে, এই নিয়তি এখন ভারতের সমুখে। সুতরাং বিষয়টা অনেক গভীর ও জটিল। এ জন্যই ভারত রাষ্ট্র মরিয়া।
আমাদেরও (উপমহাদেশের দলিত জনগণের) এটা অস্তিত্বের শর্ত। ফলে হাড্ডাহাড্ডি হবেই। এটা একটা দিক এবং এখানে আত্মঘাতী ছাড়ের কোনো সুযোগ নাই।
কিন্তু আসল দিকটি নীতিগত। এক পরিবার, দুটি গাড়ি, দুটি ফ্রিজ, অনেক বাতি, কয়েকটি এয়ারকুলার, গায়ের জন্য, মাথার জন্য, চোখের জন্য, লিঙ্গের জন্য তথা সকল ইন্দ্রীয়কে উত্তেজনার নেশায় চুর করে তার পরিতৃপ্তির জন্য যে লাইফ স্টাইল গড়ে তোলা হয়েছে, সাজানো হয়েছে যে রঙিন বাজার, তার যোগান দিতে যে আগ্রাসী শিল্পায়ন ঘটানো হচ্ছে, তার জন্য বিদ্যুত যোগান দিতে কোরবানী কেন হবে সেইসব মানুষ, যারা এ জীবন চায় না বা পায় না, যারা গ্রামে থাকে এবং যাদের রয়েছে অন্য তরিকা?
তাহলেও এ করে কে পৃথিবী ও মানবজাতি টিকতে পারবে? প্রকৃতিকে প্রতিপক্ষ করে, প্রকৃতিকে শ্রমিক-কৃষক বা আদিবাসীর মতো চোষণ করার এই ব্যবস্থার জবাব প্রকৃতি ঠিকই দেবে ও দিচ্ছে। তাই বিদ্যমান আগ্রাসী পুঁজিবাদী শিল্পায়ন এবং তার ক্ষুধা মেটানোর জন্য সব কিছু পুড়িয়ে ছাই করার লাইন বদলাতে হবে। এটা শ্রেণী বা জাতিস্বার্থের কতা নয়। মানবজাতির অস্তিত্বের স্বার্থ। এ নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এবং এটা জিততে বাধ্য বিশ্বব্যাপী। নইলে মৃত্যু অবধারিত।
আপাতত নবায়নযোগ্য জ্বালানীর জন্য বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবনের গবেষণায় টাকা ঢালতে হবে, তার আগে থামাতে হবে বিধ্বংসী কর্পোরেট থাবাকে।
এই লড়াইয়ে বেশিরভাগ বাবুসাবরা জঘন্য আত্মপরতা ও ইন্দ্রীয়ের লালসায় বেইমানি করতে প্রস্তুত। ঠিক করতে হবে চিন্তা ও কাজে আমরা কোন পক্ষে থাকবো। মরবো না মারবো। মেরে বাঁচাই বাঁচামড়ার লড়াইয়ের মূল কথা। সৌখিন বুলিবাগীশতা ছেড়ে সে পথে হাঁটার লোক তাই কজনা, এই রটনা তাই রটিয়ে যাই। যারা আছেন সাড়া দিয়েন। তাদের নিয়ে আগামী আলাপে যাব, এটা আমার প্রস্তাবনা।
সমাজ্ঞী বলেছেন:
রাসেল সাহেব, কর্ণকুহরে সীসা ঢালিয়া মোহর মারিয়া দেয়া থাকিলে এইসব প্রশ্ন নিয়া কেউ বিহ্বল হইয়া পড়িতে পারে। আপনি তো ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মত করিয়া প্রশ্ন উত্থাপন করিলেন?
কাহার অর্থনৈতিক দিক, কাহার টেকসই উন্নয়ন - এই প্রশ্নগুলো করিবার তাকত কী আপনার আছে?
নদী রাষ্ট্রীয় সীমানা মানিয়া প্রবাহিত হয় নাই। আপনি রাষ্ট্রের সীমানা মানিয়া নদীতে বাঁধ দেবার ক্ষতি বিবেচনা করিতেছেন কেন? কেবল মনিপুরবাসীর জুম চাষ করে উপার্জনের ক্ষতিয়ান আপনি তুলনার জন্য টানাটানি করিতেছেন, নদী কী সীমান্ত পার হইয়া আর প্রবাহিত হয় নাই? উহার ক্ষয়ক্ষতির কোন দায় নাই? সামগ্রিকভাবে বাঁধের কারণে উভয় সীমান্তে প্রকৃতির যে ক্ষতি হইবে উহার দায় কার খাতে যাইবে - আল্লাহ-ভগবানের না মানুষের? বিজ্ঞ মহাশয়?
আপনার এইসব ছদ্ম-আগ্রহী সাজিয়া নিজেকে আর খেলনা বানাইয়েন না। পাগলেও নিজের স্বার্থ বুঝে, আপনি নিজের স্বার্থও বুঝিতে অক্ষম।
লেখক বলেছেন: ভাল বলেছেন।আমার ওপরের আহ্বানটি দেখবার অনুরোধ জানাই।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
জনাব অথবা জেনানা, যেসব বিপক্ষ যুক্তি উপস্থিত আছে, সেইসব বিপক্ষযুক্তিকে যুক্তি দিয়েই মোকাবেলা করিতে হইবে, সেটা আপনার হৃদয় নিংড়ানো আবেগ দিয়ে মোকাবেলা করা যাইবে না। সেটা যদি আপনার গাত্রদাহের কারণ হয় তাহলে বলিতে হইবে আন্দোলন শুরু করিবার উপযুক্ত অবস্থানে আপনি এখনও পৌঁছাতে পারেন নি। প্রতিরোধ করছে বাংলাদেশের মানুষ, কিন্তু এই প্রতিরোধের পাল্টা যুক্তি দিবে ভারত সরকার এবং তাদের মিডিয়া ও অন্যান্য অংশ, তাদের প্রচারণার ধরণ, জনসমর্থণ নির্মাণের ধাঁচ এভাবেই শুরু হবে, সুতরাং তিষ্ট বালিকে।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে। তবে রাসেল মহাশয় বুঝিবা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়িয়া আগাইতে চাইতেছেন! নীতি ঠিক করিবার আগেই কৌশল লইয়া তড়পাইতেছেন। আপনার কৌশল আমার মোটা বুদ্ধিতে ভুল মনে হইতেছে না। কিন্তু ওই যে বলিলেন, আমরা প্রচারণার পর্বে আছি, তার লাগিয়াই তো অভিযোগ, যুক্তি হাজির, প্রমাণ হাজির, অবস্থান গ্রহণ এবং তারপর লড়াই। ঠিক আছে। তবে কথা কী, ইতিহাস এইরকম ওয়ান টু করিয়া সাবালক হয় না, আগেপড়েও হয়। কিন্তু যারা অনেক দূর দেখে তাদের আগে নীতি ফয়সালা করিয়া সমঝোতা সৃষ্টি করিতে হয়। যেমনটা আপনার সঙ্গেও করিতেছি। জানি না ইহার ফল পাকিবে কিনা, আপনিও আরশ হইতে ময়দানে দৌড়াইবেন কিনা।
কিন্তু এখন অফিসটাইম, হালকা চালে খরচ করিবার সময় থাকায় আপনার সহিত বাতচিতে বাধা কী?
মাহবুব সুমন বলেছেন:
পোস্টের সাথে একমত
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
আপনাকে ইদানিং দেরিতে ও বেশি বিরতিতে পাচ্ছি। ব্যস্ত খুব?
রাসেল ( ........) বলেছেন:
হুমম, বিষয়টা খারাপ না।বার্মার ৭৮১ বর্গ কিলোমিটার ডুবে যাবে এই টিপাইমুখ বাঁধ হলে, সেটা নিয়ে বার্মায় কোনো আন্দোলন শুরু হয়েছে?
টিপাইমুখের প্রোজেক্ট প্রোপাজালের প্রথমেই দেখলাম বলা আছে এই প্রোজেক্ট যদি ঠিক মতো চলে তবে কোলকাতা বন্দর থেকে বাংলাদেশ হয়ে শিলচরে যাওয়া যাবে। সারা বছর নদীতে পানি থাকবে, মৌসুমের কোনো প্রভাব পড়বে না নাব্যতায়।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
যুদ্ধাপরাধী বিচারের গণআদালতে প্রতীকী সমন, প্রতীকী সওয়াল আর প্রতীকী আসামী সাজানো হয়েছিল। আপনার সওয়াল থেকে আপনি প্রমাণ করেছেন যে, আপনি ভারত-বাঁধের প্রতীকী প্রতিনিধি। খেলাটা তাহলে জমে। আমি দারুণ মজা পাচ্ছি কিন্তু
থু ফালাইয়া চাডিচুডি
দুধ আন আরেক বাডি....
অতশত বুঝিনা। এইটুক বুঝি এইটা আমাদের মরন ফাদ। সো ঠেকাও। সুশীলের সুশীলীয়পনা দিয়া কোনকালেই কোন আন্দোলন হয় নাই, হবেও না।
৭১-এও সুশিলীয় গুষ্ঠী গ্রামে পলাইয়া বা ভারতে পলাইয়া কর্ম সম্পাদনের পর দ্রুত বাহবা নেয়ার সময় মঞ্চে হাজির...
তাই এখানেও সাধারন জনগনকে উজ্জিবীত করতে হবে। তথ্যের ঘাটতি আর মিথ্যা তথ্য দুটোই ভয়াবহ। তাই শুধু ব্লগে নয়.. জনে জনে একসুর তুলতে হবে।
তবে তা যেন হঠকারী না হয়। পৃথিবীর অনেক বড় বড় আন্দোলেনর পিঠে ছুরি বসিয়েছে ঐ দেশের জনতার মাঝ থেকেই ২-৪ টা মীরজাফর, মূইনরা!!!
তাই সতর্কতার সাথে.. একযোগে জেগে উঠতে হবে...শুরু করতে হবে
অপারেশন ভীমরুল!!!
ভাই আপনাদের ভারী ভারী কথার মাঝে নিতান্ত ছেলমানুষী হলেও আবেগটুকু খাটি।
প্রিয়তে রাখলাম।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা যদি বিবেচনায় আনা হয় তবে টিপাইমুখ বাঁধের উপস্থিতিতে ভারতে বন্যাপরিস্থিতির উন্নতি হবে। যেসব নদী বারাকে এসে যুক্ত হয়েছে তাদের সম্মিলিত প্রবাহ বিবেচনা করে, সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এবং নদীর ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে দেখা গেছে যদি টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হয় তবে সাধারণ মৌসুমী বন্যায় নদীগুলোর পানি সব সময়ই বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে,কিন্তু যদি গত ১০০ বছরের ইতিহাসের ভয়াবহ বন্যা এবং সেই সাথে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের সর্বোচ্চ রেকর্ডও ভেঙে যায় তবে সোনাই মুখে এবং বদরপুর ঘাটে সেটা বিপদসীমার সর্বোচ্চ ১ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।
তবে যদি বাঁধ না থাকে তবে কোনো কোনো স্থানে নদী বিপদসীমার দ্বিগুণ উচ্চতায় প্রবাহিত হবে এবং সেই থেকে সৃষ্ট বন্যা সম্পূর্ণ এলাকাকে ন্যুনতম ১০ দিনের জন্য জলমগ্ন রাখবে।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
টিপাইমুখ বাঁধের জন্য যে পরিমাণ জমি একেবারে বাতিল হয়ে যাবে তার ৩ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে জনবসতি আছে।প্রায় ১৩ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে মাত্র ৪১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় মানুষ বসবাস করে, চাষাবাদ করে কিংবা গবাদিপশু পালন করে।
মনিপুরের রাষ্ট্রীয় আইনে যেকোনো গ্রামের কিংবা বসতির আশেপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় জঙ্গল তারা নিজস্ব জ্বালানীর প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে, এমন কি এইসব জঙ্গলের ফল এবং মূল তারা নিজেদের আহারের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। সে সব কিছু বিবেচনা করলেও এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে লাভের পাল্লাই বেশী হবে।
সমাজ্ঞী বলেছেন:
রাসেল সাহেবে নিয়ত করিয়াছেন, আমার তো দুই কান কাটা আমার আবার লজ্জা শরম কি? ন্যংটা হইয়া রাস্তার মাঝখান দিয়া হাটিব। মানুষে আমার আর কাপড় খুলিবে কি? আমি তো ন্যাংটা!আমি তাহাকে বলিলাম আপনি "ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের" মত কথা বলিতেছেন। ভারতের রিপোর্ট পরিয়া উনি একটার পর একটা বাঁধ বাস্তবায়নে ভারতীয়দের আরও কী কী সমস্যা হইতে পারে তাহা লইয়া বিখ্যাত "বিশেষজ্ঞ" হইবার মোহে চূড় হইয়া আছেন। মেধা, বুদ্ধি শ্রম সারাদিন ব্যয় করিতেছেন ভারতীয়দের দিক হইতে কীকী সমস্যা হইতে পারে তাহা লইয়া আর একটা পাতলা পর্দা ডালিয়া ভাব লইতেছেন উনি বাংলাদেশের 'কর্মপরিকল্পনা" ঢুডিতেছেন। যেন কেউ তাহার এই ল্যাজ, মতলব ধরিতে পারেন নাই।
খ্যাতিমান তাহাকে হইতেই হইবে! তাহা যেভাবেই হোক। বাংলাদেশের পক্ষে না হইতে পারি তো ভারতের পক্ষেই সহি। আমার আগের মন্তব্য পড়িয়া তাহার কোন বিকার প্রতিক্রিয়া হয় নাই। পোষ্টদাতা ফারুক ওয়াসিফ সাহেব রাসেলের কান্ড-কীর্তি দেখিয়া লিখিলেন, "আপনি ভারত-বাঁধের প্রতীকী প্রতিনিধি"। তবু উনার বিকার নাই। যেন ভাবিয়া নিশ্চিত হইলেন, এর মানে হইল আমি ন্যংটা হইয়া ঠিক রাস্তার মাঝখান দিয়াই হাটিতেছি। ভুল হয় নাই।
খ্যাতিমান হওয়ার শখ লইয়া একটা গল্প বলিয়া শেষ করি। এক লোকের শখ জাগিয়াছে তিনি খ্যাতিমান হইবেন। তাহার একটা ছবি পত্রিকার পাতায় ছাপা হইতেই হইবে। ছবি ছাপা হইলে তিনি মানিবেন হ্যা তিনি বিখ্যাত হইয়াছেন!
এই লক্ষ্যে অনেক কিছু করিলেন, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। খ্যাতির নেশায় উনি এইবার এক চূড়ান্ত পথ অবলম্বনের সিদ্ধান্ত লইলেন।
পরের দিন সকালে উঠিয়া পথে বাহির হইলেন। প্রথমে সাক্ষ্যাৎ হইল এক মোটা বয়স্ক মহিলার সহিত। তিনি দিকবিদিক ভুলিয়া মহিলাকে জাপটাইয়া ধরিলেন। আর তাহাতেই কাজ হইল। মহিলার চিৎকারে আশেপাশের পথচারী আসিয়া বেদম উত্তম মধ্যম দিয়া, জামাকাপড় ছিড়িয়া ভদ্রলোকের হাত হইতে মহিলাকে উদ্ধার করিলেন। ইতিমধ্যে কোথা হইতে এক পলকে এক সাংবাদিকও আসিয়া জুটিল।
পরের দিনের পত্রিকায় ছবিসহ ভদ্রলোক খবর হইলেন, "প্রকাশ্য দিবালোকে মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও উত্তমমধ্যম"।
যাহা আমাদের জীবনে অস্বাভাবিক ভাবে ঘটে তাহাই নিউজ হইবার প্রাথমিক শর্ত পূরণ করে।
খ্যাতির মোহগ্রস্হ ভদ্রলোককে প্রাথমিক শর্ত পূরণের এই সর্টকার্ট পথই ধরতে হইয়াছিল। তাহাতে কী? খ্যাতিমান হওয়ার আশা তো পূরণ হইয়াছিল!
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
তর্কের খেলায় কোন কোন ভদ্র মহোদয় আমোদ পেতে পারেন, আরো বেশী তথ্য-উপাত্তের দোহাই দিয়ে কেউ কেউ বলতে পারেন, 'রোশো ! বেলা ঢের বাকি !'
আমি বলি,- 'না, সূর্য অস্ত যায়, এখনি সময়-নইলে কখনও না ।
পর্যাপ্ত তথ্যের দরকার আছে, অবশ্যই আছে । সরকারী পর্যায়ে সেটা বেশী জরুরি । আমি সাধারণ, সরকারী সেই তথ্যে খুব বেশী প্রয়োজন পড়েনা আমার । তথ্য আমার কাছে আপনাতেই আসে,-পদ্মা নামের মরুভূমিটির উপর দিয়ে আমি যখন হেঁটে যাই, ফারাক্কার কাছ থেকে আমি তথ্য পাই , সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে নিহত আমার নিরপরাধ কৃষক ভাই এর লাশ আমাকে তথ্য দিয়ে যায়, সীমান্তে শান্তি-শৃঙক্ষলা অটুট রাখার তাগিদে বিডিআর-বিএসএফ এর শীর্ষ পর্যায়ে যখন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তখন যখন প্রতিবার বিএসএফ নিয়ম করে দু'চারজন বাংলাদেশীর লাশ ফেলে দেয়, তখন এই নির্মম রসিকতার কাছ থেকে আমি তথ্য পাই,-- প্রতিবেশীটি ভয়ঙ্কর, সামন্তবাদী, সামন্তবাদী, এবং সামন্তবাদী । তাদের বিশ্বাস করার কারণ নাই । আমাদের অতীত বিশ্বাসের মর্যাদা (গঙ্গাচুক্তি) তারা রাখেনি ।
তথাকথিক উপকারী টিপাইমুখ বাঁধের সঠিক তথ্য প্রকাশে যখন ঢাকঢাকগুড়ুগুড়ু ভাব দেখতে পাই, তখন বুঝতে পাই, আমার সর্ব্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে প্রতিবাদ করার সময় হয়েছে ।
বিডি আইডল বলেছেন:
সমাজ্ঞীর কমেন্টে ++
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
হুমম, সম্রাজ্ঞী প্লাস।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
@ফারুক ওয়াসিফ, অপনাকে ধন্যবাদ যে বালকের বায়না ধরা মিঠাই (তথ্য, উপাত্ত, বিশেষজ্ঞতা ইত্যাদির কসুর) দেখাইয়াও আপনি একটা কূল করিবার কোশেশ পাইয়াছিলেন। কিন্তু হায়, এরা একটেল বালক-- খেলনা কিনতে গিয়া বার্গার খাইতে চায়। কিছুতেই তুষ্ট করিতে পারবেন না।বরং মনে হয় আমরা অতিমাত্রায় ''তথ্য-উপাত্ত'' নিয়া টানাটানি করিতেছি। তথ্য দিয়া কোনকালে নৈর্ব্যক্তিকভাবে কি কোনো কোনো জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন প্রমাণ বা ফসালা করা গেছে? আমি সন্দিহান।
বৃষ্টির উচ্চতা কিম্বা পনির পরিমান দিয়া আদৌ কি এই এই প্রশ্নের কোনো মিমাংসা হবে?
পিনাক বাবু কইলেন, এখানকার সব ফালতু(তথাকথিত) বিশেষজ্ঞ, এসব লোকের তথ্য-উপাত্তের কোনো বেল নাই। সহি, সহি, @রাসেল তাই ভারত-মাতার বিশেষজ্ঞতা বগলদাবা করিয়া দ্বিগবিদিক ছুটিতেছে, 'ফালতু' বিশেষজ্ঞদের কোনো কথাই থোড়াই কেয়ার করিতেছে। আরো মজা জমিয়া উঠিতেছে, এহেন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করিবার জন্য আমরা মনমোহন জ্বির ধুতি-আশ্রয় করিয়া আছাড় খাইতেও চাহিতেছি। দাবি করিতেছি তাহারা কেন তথ্য সরবরাহ কারিতেছেনা!
যেন তথ্যের কুদরতিতে সক্কলই সুবোধ-সুশীল হইয়া যাইবে। বেগম সাহেবান গতকাল্য বেহুদাই আরো কিছু তথ্যের কচকচানির মহড়া দিয়াছেন। তুলনামূলক ক্ষতির খতিয়ান দাখিল করেছেন। মাপামাপি আর তুল্যমূল্যের চুলছেড়াছিড়ি দিয়া কতদূর এরা যাইবে, ভগবান তাদের তা দেখাইবেন।
একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব, প্রাণ ও প্রকৃতি সহ সামগ্রিক জীবনধারার হুমকি মোকাবেলা প্রিমোডিয়াল পলিটিকো-এথিকাল কোশ্চেন, চূড়ান্ত রাজনৈতিক প্রশ্ন। এটাই যারা প্রেমাইস হিসেবে প্রধান গণ্য করতে পারছেনা তারা প্রকৃতি তো দূরের নিজেদের বায়লজিই টিকাইয়া রাথিতে পরিবেনা। তথ্য-উপাত্ত দ্বারা ইহা ঠিক হইবে না।
সংক্ষেপে ইহাই আমার ভয়।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
+। ভারত কে এক অর্থে অসভ্য বর্বর রাষ্ট্র বলা চলে যে শক্তরে ভক্ত নরমেরে যম। পাকিস্তানে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ তাই ভারত পাকিস্তান কে কড়ায় গন্ডায় ন্যায্য পানি দিতে বাঁধ্য হচ্ছে। আর বাংলাদেশে আওয়ামী-বাকশালী হিজড়ারা ভারতের দালালীর কারণে বাংলাদেশ বিভিন্ন নদ-নদী যার উজান দেশ ভারত হতে ন্যায্য পানি পাচ্ছে না। আর রমেশ বাবু তো বলেই দিয়েছেন ভারত কম পানি দিলেও প্রতিবাদ করা যাবে না। যেখানে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধি হয়ে ভারতের গুণগান গায় তখন রাসেলের মত ভারতীয় তাবেদার হতে টিপাই বাধ নির্মাণের সমর্থনে গলাবাজি দেখে মোটেও অবাক হই নি। বাংলাদেশী নদী-পানি বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত মতামত ছাড়া ভারত কে কখনই টিপাই বাধ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কারণ এটা দ্বিতীয় ফারাক্কা হবে। চমৎকার লেখার জন্য ফারুক ভাই কে অনেক ধন্যবাদ।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
সব রাষ্ট্রই কম বেশি বর্বর, সামর্থ্য অনুযায়ী তারা তার চেহারা দেখায়। ভারত পানিতে মারার বর্বর হলে আমরাও কাপ্তাইয়ে চাকমা জাতিগোষ্ঠীর বসতি ডোবানোর বর্বরতা করছি। আর বিষয়টা কেবল বিশেষজ্ঞদের হাতেও ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যাদের ক্ষতি হবে সেই জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া মতামত ছাড়া কোনো প্রকল্পই পাশ করা যাবে না। এই দাবি তুলতে হবে।
ভালো-মানুষ বলেছেন:
কাপ্তাই না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে এত অশান্তি হত না।
রাগ ইমন বলেছেন:
রাসেল সহ অন্যান্য ব্লগারদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে । গত ৩৫ কিংবা ৫০ বছরে বাংলাদেশের উপকার হবে , এমন কোন প্রজেক্ট ভারত নিয়েছে কিনা জানেন?এইটা আবগের প্রশ্ন না , খুব ঠান্ডা মাথায় করা প্রশ্ন।
অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান বলতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন । অথচ এইটা মনে রাখেন না , যেই দেশের সাথে ২ / ৩ বার যুদ্ধ হয়ে গেছে , তাকে ভাঙতে পারলেই ভারতের সুবিধা হত , আর সে জন্যই যা একটু সাহায্য । এপার বাংলা ওপার বাংলা আত্মীয় স্বজন কম না । সুতরাং মানুষ তো সাহায্য করবেই । মানবিক বোধ থেকে অনেক পশ্চিম পাকিস্তানীও তখন গনহত্যার বিরুদ্ধে প্রকাশে প্রতিবাদ করেছে, খোদ প্সহচিম পাকিস্তানে বসে। তাই বলে পাকিস্তান বন্ধু হয়ে যাবে?
যুক্তি বলে , প্রতিটা দেশ তার নিজের স্বার্থে বিভিন্ন প্রজেক্ট নেয়। তাতে , ভদ্র দেশ হলে অন্যের ক্ষতি যাতে না হয়, সেইটা দেখে। আর তেমন ভদ্র না হলে , পাশের দেশ দুর্বল হলে সে সবের কেয়ার করে না ।
ভারত কোথাকার ফেরেস্তা যে অন্যরকম হবে?
যেখানে আজকে পর্যন্ত ইতিহাস বলছে ভারত তথা দিল্লীর সরকার ( সাধারন মানুষের কথা বলছি না , সরকার আর সাধারন মানুষে আকাশ পাতাল তফাৎ) নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশের বারোটা বাজিয়ে হলেও সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে টিপাই বাংলাদেশের জন্য উপকারী হইলেও হইতে পারে ধরনের চিন্তা ভাবনা কেন আসছে , আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না ।
ট্রানজিট এবং বন্দর ব্যবহার প্রশ্নে ভারত এমনিতেই পিছে লেগে আছে । তেল গ্যাস চুরির নানা রকম ফন্দি ফিকির চলে এবং চলছে । এখন টিপাই শেষ পর্যন্ত না বানিয়ে এখন লেভারেজ হিসেবে ব্যবহার করার ভাওতাবাজিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না । কিন্তু , আমাদের সমস্যা কি আসলেই ওখানে ?
আমরা তর্ক আর মারামারি করবো নাকি সঠিক এবং পূর্ণ তথ্য যোগাড় করে বাংলাদেশ ও ভারতের ভিতরে , পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জনমত ও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করবো ?
পেরু তার ৯০% জায়গা বিদেশী তেল গ্যাস কোম্পানির হাতে ছেড়ে দিয়েছে । প্রেসিডেন্টের কথা , কিছু আদিবাসির জন্য পেরুর উন্নয়ন থেমে থাকবে না ।
এখানেও এই সব কথা শুনতে পাচ্ছি ।
এই সব তথাকথিত উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত কোন জায়গার কয়টা মানুষের কাছে পৌঁছায়?
পেরুর আদিবাসিরা এই লাভের গুড়ের ভাগাভাগি বোঝে বলেই হয়ত বন্দুকের বিরুদ্ধে তীর ধনুক নিয়ে নেমেছে ।
যদি মরতেই হয়, লড়াই করেই মরতে চাই।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
খুব বেশি দেরি নাই, বাংলাদেশে বিপর্যয় হওয়ারও কিছু বাকি নাই। কেবল প্যান্টের ভেতর শার্ট গোজা লোকেরা ভাল থাকলেই দেশ ভাল আছে তা বলা যায় না।
স্পাইডার বলেছেন:
আপনি কোথায়?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















টিপাইমুখ বাঁধের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পড়বে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল। একইভাবে আলোচনার মাধ্যমে টিপাইমুখ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
টিপাইমুখ বাঁধ পরিবেশ ও মানববান্ধব নয়। বাংলাদেশকে এখন অর্থনীতি ও রাজনীতির মতো পানি কূটনীতি শুরু করতে হবে। টিপাইমুখ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ভারতবিরোধী কূটরাজনীতি শুরু করেছে। এটি জাতীয় সমস্যা, জাতীয়ভাবেই এর সমাধান করতে হবে। ফারাক্কা নিয়ে জাতিসংঘে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করতে হবে।
'আমরা শুনছি, ভারত থেকে তথ্য-উপাত্ত পাঠানো হয়েছে। আমরা তা জানতে পারছি না।' লুকোচুরি না করে অবিলম্বে এই তথ্য-উপাত্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে অসৌজন্যমূলক কথা বলে গেলেও ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এখনো টিপাইমুখ সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরকারকে জানাতে পারেননি।
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করা হলে তা হবে বাংলাদেশের জন্য মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার শামিল। এই বাঁধ যাতে ভারত নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।