সংগ্রামের মাধ্যমেই জীবনে সফলতা আসে। আর আত্মপ্রত্যয় ও প্রবল আকাঙক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ যে কোন প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে ছিনিয়ে নিতে পারে সাফল্যের জাদুর কাঠিটি।
তেমনি একজন সফল মানুষ ইফতেখার হোসেন সোহেল।আমাদের সংগীত অঙ্গনের সুপরিচিত একজন মুখ। দু'নয়নে আলো না থাকলেও মনের আরোয় আলোকিত প্রাণ। যিনি সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে আমাদের উপহার দিয়েছেন সুন্দর কিছু গান।মনি কিশোরের জনপ্রিয় গান-"কি ছিলে আমার", 'তুমি চলে গেলে বহুদুর', সেই দুটি চোখে, মামুনের 'রূপের মাইয়া', মনির খানের 'দুঃখ জীবন দিয়া পাঠাইলাসংসারে', এন্ড্রু কিশোরের 'আমার মনের সিংহাসনে' সহ অসংখ্য অ্যালবামের সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ বেতার , বিটিভি, বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ফিল্মের মিউজিকের রয়েছে তার সরব পদচারণা ।
বাবা শেখ আবদ্দুল্লাহ ও রাজেয়া বেগমের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।জন্মের ছয় মাস পর হাম ও ডায়রিয়ার আক্রান্ত হলে সোহেলের দু'চোখের প্রদীপ হারিয়ে যায় চিরতরে।পরিবারে সবার আদরে বড় হতে থাকলেও দৃষ্টিহীন জীবনটা যেন অমবশ্যার কালোর রাত্রির মতই। ঙ্গানের আলোয় আলোকিত হতে তিনি ভর্তি হলেন এই শহরের বয়রা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে। সেসময় আব্দুল মজিদ স্যারের কাছে সারেগামা শিখলেন। পরবর্রীতে ওস্তাদ নিত্য সাহার কাছে গানের দীক্ষা নিলেন।ব্রেইল পদ্ধতিতে গ্রাজুয়েশনটা কমপ্লিট করলেন। এরপর গানের তালিম নিলেন সানজিদা খাতুন, জাহিদুর রহীম, ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, সোহরাব হোসেন, সুধীন দাস, ইফফাত আরা দেওয়ানসহ অন্যান্য গুণী সংগীতঙ্গের কাছে। উচ্চাঙ্গ, রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত গেয়ে সহজেই শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে পারেন খুব সহজেই ।
ইতিমধ্যে সোহেল একজন সফল সংগীথ পরিচালক হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। বর্তমানে নিজের পারফর্ম করার চেয়ে সংগীত পরিচালনায় ব্যস্ত সময় কাটান। নিজের জন্মভূমিকে তিনি ভালোবাসেন নিজের মায়ের মতন। তাইতো তার প্রিয় গান 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি" ।
নিজের জীবনের সফলতার কথা জানতে চাইলে সোহেল বলেন ' সৃষ্টিকর্তা আমার দু'চোখের আলো কেড়ে নিলেও মনের দৃষ্টির শক্তিটা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন । মনের দৃষ্টিতেই এই সুন্দর পৃথিবীর সবকিছু অনুভব করি। তবে মিউজিকে আমার সফলতার জন্য অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি। যাদের কাছে কৃতঙ্গ , তারা হলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাহবুবুল আলম, আবু তাহের, তনু ভাই, মুসা ভাই প্রমুখ। শুধু নিজেই আলোকিত হয়েছেন সোহেল , তা কিন্তু নয়। বরং অন্যকে আলোকিত করতেও ভালোবাসেন তিনি। সেজন্য সমাজের ডজঅ্যবলদের জন্য 'স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার সোসাইটি অব ডিজঅ্যাবল পিপল' ( এসসিএডি) নামে একটি সংগঠন করেছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের আত্মনির্ভরশীল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন , যাতে তাদের কেউ দুঃস্হ হিসেবে না দেখে। মিউজিক নিয়ে তার স্বপ্ন অনেক। সব সময়ই সোহেল চান শ্রোতাদের ভাল গান উপহার দিতে এবং সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে সহজভাবে সাধারণ মানুষের মনিকোঠায় স্হান করে নিতে।
তার স্বপ্ন সার্থক হোক, তিনি এগিয়ে যান আরো বহুদুর; এই কামনা আমাদেরও।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

