গ্রাম: বাইনতলা, পো: পদ্মপুকুর থানা: শ্যামনগর জেলা সাতক্ষীরা। এই গ্রামেরই বাসিন্দা দিন আনি দিন খাই ধরনের আর্থিক অবস্থার মানুষ সিদ্দিক গাজী । পরিবারে বৌ ছাড়াও
বয়স ৫৮ বছর বয়সী সিদ্দিক গাজীর ৩ ছেলে এক মেয়ে। অভাবে পড়ে বড় ছেলে মো. নূরে আলম লেখাপড়া বন্ধ করে সংসার চালাতে কাজ করত ইটের ভাটায়।
সিদ্দিক গাজীকে পেশায় জেলে বলা যায়। অবশ্য পরের জালে, পরের নৌকায় ভাগে মাছ ধরতেন, ভিটা বাড়ী ছাড়া আর কোন জমি নেই। ২৫শে মে ঝড়ের দিন ছেলে মেয়ে আত্মীয়দের নিরাপদে রেখে নৌকা বাঁধতে গিয়েছিলেন বিকেল ৩টার দিকে। এর পরে আর ফেরেন নি সিদ্দিক গাজী। সে ফিরে না আশার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা আর ঝড়ের তাণ্ডবে রাত কাটানোর পর অনেক খুঁজে পরের দিন দুপুরের পর নৌকা এবং লাশ পাওয়া যায় বাড়ী থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরে গড় কুমরাপুর এলাকায় বেরী বাঁধের পাশে।
২৫শে মে’র ঘুর্ণিঝড়ের পর ২৮ মে পর্যন্ত সরকারী কোন ত্রাণ পায়নি এই পরিবার।সেই পর্যন্ত সরকারের কোন সংস্থার পক্ষ থেকে খোঁজ নেয়া হয়নি এই পরিবারের।
সাংবাদিক বন্ধুটি জানায় ওদের খুঁজে পেতে সারা দিন প্রায় খুঁজতে হয়েছে ওকে। কবরের পাশে ওরা গত তিন দিনে আর যাওয়ার সুযোগ পায়নি। কোথায় ত্রাণ দেয়া হচ্ছে এটার পাত্তা করতে সারা দিন এখানে ওখানে ৩ সন্তান নিয়ে ছুটোছুটি করেছেন ফরিদা।
ছবিগুলো দেখলে মন যেন কেমন করে ওঠে! ওরা কেমন থাকবে?বাঁচবে? কত কষ্ট করে? কিভাবে?
ওদের ঠিকানাটা টুকে রাখি। কখনো ওদিকে কেউ গেলে কেমন আছে জেনে আসতে বলবো। নিজে গেলেও দেখে আসবো একবার।
নোট: (সংযুক্তি:৩০/৫, বেলা ২.৫৫)এই পোস্টের মন্তব্যে অনেকে আইলার জন্য ব্লগারদের সমন্বিত উদ্যোগের আকাঙ্খা প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে আগে এধরনের বড় উদ্যোগ ব্লগে নিয়েছেন এমন কেউ বা আন্তরিক ও সাহসী নতুন কেউ এগিয়ে আসলে কাজটা শুরু হতে পারতো।দুঃখের বিষয় আমি এর কোনটাই না। ভেবে দেখলাম, আমি যা করতে পারি তা হলো কেউ সুনির্দিষ্ট কোন এলাকা বা অসহায় ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করতে পারি।এটা করার মতো মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যাবে।এর ফলোআপও করতে পারবো।এ জন্য দুর্গত এলাকার বা আশে পাশের এলাকার ব্লগাররা হেল্প করতে পারেন। যে কেউ ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে এটা করতে পারেন। এইলেখার মন্তব্যের ঘরে বা আগেই এই নিয়ে আহ্বান জানানো চাচামিঞার সংশ্লিষ্ট লেখার মন্তব্যের ঘরে নাম ঠিকানা ঘটনা জানালে চেষ্টা করবো।চাচামিঞার লেখাটির লিংক Click This Link এখানে দিয়ে দিলাম । এর বাইরে কেউ উদ্যোগ নিলে খুবই খুশির সাথে যথাসাধ্য করার চেষ্টা অবশ্যই করবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



