প্রতিদিন চলার পথে পরে পরিবারটি। ৫/৬ বছর ধরে দেখছি।

এক বুড়ো,তার জীর্ণ স্ত্রী, তাদের দুই ছেলে!ছোট ছেলের বয়স ১২/১৪। সবার মধ্যে ওকেই সবচে বেশি পরিশ্রমী মনে হয়।

সকাল সন্ধ্যা বেলচা চালিয়ে ময়লা গুছায়। ডাস্টবিনের উপার্জনের উপর ভরসা করে বড় ছেলে আবার বিয়ে করেছে। বছর দেড় - দুই হলো বোধ হয় নতুন বউকে দেখছি ।

সঙ্গে এক বাচ্চা। সবাই এখন এক সাথে ময়লা কুড়ায়। আগে দেখতাম ওদের কাজের সময় বাচ্চাটা ফুটপাথে চিত-কাত হয়ে ট্যাঁ-ট্যাঁ কাঁদতো সব সময়। এদের দেখে দেখে চোখ সয়ে গেছে। কে কখন রুটিন করে কাজ করবে এটাও মুখস্থ হয়ে গেছে। সকালে ডাস্টবিনটিতে অনেক ময়লা জমে তাই এই সময় পরিবারের সবাই এক সাথে কাজ করে। তাড়াও আছে। এগারোটার দিকে কর্পোরেশনের ট্রাক এসে সব ময়লা তুলে নিয়ে যায়! এর আগে তাড়াহুড়ো করে বিক্রি যোগ্য আবর্জনাগুলো পৃথক করে ফেলতে হয়।

প্লাস্টিকের বোতল, লোহার কিছু থাকলে ওগুলো,ক্যান বোতল,পলিথিন,কাগজের ঠোঙ্গা আরো কতো কি। পরে এগুলো বিক্রি করতে যায় বাবা আর বড় ছেলে । মাথায় করে বয়ে যেতে দেখি। এছাড়া পঁচা পেঁয়াজ, বিভিন্ন তরকারিসহ কিছু উচ্ছিষ্ট পৃথক করে রাখা হয়

নিজেদের জন্য। এসময় মা পাশেই অস্থায়ি চুলোয় রাঁধেন। যাচ্ছে তাই রান্না।

সেদিন দুপুরে দেখি তুমুল আনন্দঘন পরিবেশে কুড়িয়ে পাওয়া করল্লা ভাজি হচ্ছে। ছোট বাচ্চাটা পাশে উৎফুল্ল হয়ে লাফাচ্ছে। সকাল দুপুর সবাই মিলে গোল হয়ে রাস্তার পাশেই বসে খায় ওরা। গরীবদের জীবনতো কষ্টের হবেই।
কাল ছোট ছেলে জসিমকে চিত্রকর রূপে আবিস্কার করলাম।

বৃষ্টিতে ভেজা নরোম ইটের টুকরো দিয়ে আঁকিবুকি করছে।

পেছনে ফাঁকা পেয়ে ডাস্টবিনে ভিড় করেছে কটা কাক।
ওদের কথা বলতে একটু দ্বিধা লাগছে। কারো যদি খারাপ লাগে!শান্তির সময়ে বিরক্তি জাগায় যদি এই লেখা! এসব দেখে না দেখে থাকার নিয়ম।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:০৬