somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... শিশু রুমানা যেভাবে বাঁ চোখ দিয়ে দেখার শক্তি হারালো রুমানার বাবা রফিক ডা. নোবেলকে ফোন দিলে তিনি ফার্মগেইটের ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন তার মায়ের চোখে অসুখ হয়েছে।ইসলামিয়া হাসপাতালে এক সপ্তাহ চেষ্টার পর চিকিৎসকরা জানান রুমানার চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।বারডেমে পনেরো দিন চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা।দুটি অপারেশন করে জানান আশা নেই।মাদ্রাজ নিয়ে যেতে। ল্যাব এইড হাসপাতালে ডা. আনসারুল হক কিছু দিন চেষ্টা করে মাদ্রাজ নেয়ার পরামর্শ দিলেন।এখন রুমানা মাদ্রাজ শংকর আই হাসপাতালে ভর্তি আছে। ও আর ওর মা অপেক্ষায় আছে টাকা জোগাড় হলে অপারেশন হবে।আর ঢাকায় রফিক বিভিন্ন পত্র পত্রিকার অফিসে ধর্না দিয়ে বেড়াচ্ছেন তার মেয়ের অবস্থা বর্ণনা করে সাহায্যের আবেদন ছাপানোর জন্য।এমনিতে মোটামুটি ভাল বেতনে বড় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন।গত কয়েক মাস মেয়ের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে যথাসাধ্য করে সর্বশান্ত হওয়ার পাশাপাশি ঋণের পাহাড়ের তলায় পড়েছেন।রুমানার বাঁ চোখটির কালো অংশের উপর শাদা একটা বল।ধীরে ধীরে চোখটাই বুজে আসছে। ক্রমে ডান চোখটাও দৃষ্টি শক্তিহীন হয়ে পড়ছে।এখন তারই চিকিৎসা।কাল সন্ধ্যায় রুমানার বাবা এসব কথা জানিয়েছেন। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29484397 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29484397 2011-11-16 14:47:52 সন্ধ্যা

জমিয়ে রেখেছি পরে দেখবো বলে ,
পরে দেখা হবে। আজ এই বিকেলের সোনালী মেঘের রঙ
তোমার কাছে পৌঁছে চলে যাবো।

মনে হয় মৃত্যুও কাম্য কিছু নয়, প্রাণের উত্তাপ ছেড়ে
চলে যাবে কেউ । আশাহীন অভিমানে
এমন কি হেমন্তের শিশিরও কিছু বলবে না ডেকে।

দীর্ঘশ্বাস মথিত এই উদ্যানে বিকেলে কে হেঁটে যায়
ঔষধি পদক্ষেপে বিষণ্ন প্রবীণ গাছের হেলে পড়া ছায়ায় !

ঘ্রাণে ঘ্রাণে পুষ্প হাসে । রূপের পাশে দুঃখি চন্দ্র ।
আলগোছে মনের শুকনো নালায় নালায়
শীষ কেটে উড়ে উড়ে যায়। সেও কি তোমাকে চেনে !

সে কি জানাবে কিছু তবু অজানা সংযোজনে ? সন্ধ্যায় সন্ধ্যায়
বিপণ্ন আলো হবে আরো একাকিত্ব বিধুর নিঃশ্বাসের সমান !




রচনা: ২৭/১১/১০ইং
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29316017 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29316017 2011-01-28 12:51:34
মিছিলের মুখ ( গল্প ) ফোনে ভেসে ওঠা নাম্বারটা দেখেই ভ্রু কুচকে ওঠে মিরপুর থানার ওসি মাহবুব হোসেনের। রাস্তার মোড়ে টানান ‘ পুলিশ আপনার বন্ধু- বিপদে ম্মরণ করুন ‘ এই বিল বোর্ড থেকে নিয়েছে বোধ হয়। প্রকাশ্যে টানানো থাকলেও সাধারণত কেউ ফোন করতে সাহস করে না। কিন্তু সকাল থেকে এই ছোকড়া আট-দশ বার ফোন দিয়েছে। বার বার একই কথা বলছে।

ফোন ধরে তিনি বুঝলেন, এবারও একই কথা।

‘একদম গরিব লোক ছিল স্যার। দিনমুজুরি করে চলতো । পার্টি ক্ষমতায় স্যার। তারপরও যদি কোন নেতা না আসে স্যার মানুষ কি বলবে বলেন ! এমপি আমাদের ফোন ধরে না স্যার। আপনি বলেন স্যার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে। এলাকাবাসী খুব উত্তেজিত। স্যার আপনি চলে আসেন। এমপি সাহেবকে জানান যে এলাকাবাসীর দাবী তিনি এসে যাতে বাচ্চাগুলোর দায়িত্ব নিয়েছেন এই ঘোষনা দেন। ’
‘আপনার নাম কি ?‘
যুবকের কথার তুবড়ি থামিয়ে প্রশ্ন করেন মাহবুব হোসেন।
‘স্যার আমি এই এলাকার স্যার। স্যার আপনি বিরক্ত হবেন না দয়া করে।’
‘ আচ্ছা , আপনি ফোন ছাড়ুন।’
‘স্যার , গরমে স্যার, লাশ ফুলে উঠছে স্যার । মারা গেছে কাল রাতে। এখন চারটা বাজে। জানাজা হবে এমপি সাহেব আসলে স্যার। আমরা লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছি স্যার।’
‘আপনারা চেষ্টা করুন। আপনি বুঝতে পারছেন না, বিষয়টা আমার এক্তিয়ারের বাইরে। খুন খারাবি হলে একটা কথা ছিল।’

ও প্রান্তে আর কথা বাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে লাইন কেটে দিয়ে বেসিনে মুখ ধুয়ে চেয়ারে বসে কলিং বেল টিপেন।
প্রায় মুহুর্তের মধ্যেই পাশের রুম থেকে এসে উদয় হন ডিউটি অফিসার।

‘ শোনো সবুজ, এমপি সাহেবের পিএসকে আর ফোন দিয়েছ ? কি বলেন তিনি ? এমপি সাহেব আসবেন ? না আসলে ফোর্স পাঠিয়ে লাশ দাফন করতে তাগদি দাও ওদের। রাজি না হলে পোষ্ট মর্টেমের ভয় দেখাও।’
‘জি স্যার।এখুনি ব্যবস্থা করছি। পি এস সাহেব জানিয়েছেন স্যারের স্বাস্থটা একটু খারাপ। ভাল বোধ করলে আসবেন।‘
‘আচ্ছা, বুঝতে পারছি। তুমি ফোর্স পাঠাও।’

ফোনটা আবার বেজে ঊঠলে মেজাজটা চরমে ঊঠে যায় অসির। কিন্তু, ধমক দেয়ার আগেই কথা শুরু করে দিয়েছে যুবকটি।

‘স্যার আপনি এমপি সাহেবকে জানান লোকজন রাস্তা বন্ধ করে দেবে। গাড়ি চলবে না। তাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলেন স্যার। এলাকার বদনাম হয়ে যাবে স্যার। এমপি সাহেব অপমান হবেন।’

ওসি কোন কথা বলার আগেই ফোনের লাইন কেটে যায়।

‘ ওখানে ঝামেলা হবে সবুজ দ্রুত ফোর্স পাঠাও।’

আবারও ফোন বেজে উঠলে এবার আর নিজের উপর নিয়ন্ত্রন রাখা মুস্কিল হলো ওসি মাহবুব হোসেনের।
‘স্যার বাচ্চাগুলোর কান্নায় আল্লার আরস কাইপ্পা উঠছে স্যার। ওরা খাটের পাশে গড়াগড়ি করছে। কেউ চোখে পানি রাখতে পারছে না স্যার। আপনি শোনেন স্যার ... একটু লাইনে থাকেন স্যার ... ’



ওসি ছেলেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সে ফোন কান থেকে সরিয়ে হাতে নিয়ে হাঁটছে মনে হয়। অষ্পষ্ট তার তাড়াহুড়া ভরা কণ্ঠ শোনা যায়। এই সরেন সরেন... । লোক জনের উত্তেজিত কণ্ঠও ভেসে আসে কানে। স্যার শুনেন...
মেজাজ খারাপ করে লাইন কেটে দেন ওসি সাহেব। ছেলেটা মাথা ধরিয়ে দিয়েছে একে বারে। অস্থির লাগছে। ইন্টরকম টিপে ডিউটি অফিসার সবুজ আনোয়ারকে রুমে আসতে বলেন।
‘কি হয়েছে বলো তো। ঘটনার খোঁজ নিয়েছো কিছু ?’
‘হ্যাঁ স্যার। মারা গেছে হাসপাতালে। নাম রহিম মিয়া। বয়স ত্রিশ। পার্টি র মিছিল মিটিংয়ে যেত। সেরাতে আড়াইশো টাকা চুক্তিতে পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার লাগাচ্ছিল । গোল চক্করের মাঝের গাছ থেকে পরে আহত হবার পর ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যায় ওদের পার্টির লোকরাই। কাল রাত তিনটা ত্রিশের দিকে মারা যায়। গোলারটেক বস্তিতে থাকতো। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ি। খোঁজ না পেয়ে তার স্ত্রী থানায় এসেছিলেন। সে মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে থানায় ফোন দিয়েছে। ভর্তির সময় সাথের লোকরা বস্তির ঠিকানা লিখে রেখেছিল। এস আই রমিজ সেহেরীর পর টহলের সময় তার পরিবারের কাছে খবর দিয়ে এসেছে। ’

ফোনটা বেজে ওঠে আবার ।

‘শোনেন স্যার... ‘

ফোন কানে ধরে স্তম্বিত হয়ে যান ওসি মাহবুব হোসেন। ‘বাবাগো আমারেও সাথে লইয়া যাও।’ বারবার বলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে পাঁচ-ছয় বছরের একটা শিশু। রহিমের বড় মেয়ে বোধহয়। আরো কয়েকজনের বিলাপের শব্দ কানে আসে।
মনটা ভীষন খারাপ হয়ে যায়। ফোন বন্ধ না করেই কান থেকে নিচে নামিয়ে রাখে। কি যেন বলছে ছেলেটা এখনো। এক সময় অস্পষ্ট শব্দ বন্ধ হয়ে যায়।

‘ঠিক আছে সবুজ তুমি যাও। ‘
‘স্যার কিছুক্ষণ আগে বস্তির লোকজন রাস্তা আটকে ছিল। আমরা পৌঁছার আগেই স্থানীয় লোকজন ওদের লাঠি সোটা নিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে।’
‘এরা কারা ?‘
‘পার্টির লোকই স্যার। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে টের পেয়ে আগেই তৈরী হয়ে ছিল। আপনি চিনবেন স্যার জসিম ভাইয়ের ছেলেরা সামাল দিয়েছে। ‘
‘আচ্ছা,ঠিক আছে। ড্রাইভারকে গাড়ি লাগাতে বলো।’

ওসি গোলার টেক পৌঁছতে পৌঁছতে রহিম মিয়ার জানাজা শেষ হয়ে গিয়েছে। পঞ্চাশ-ষাটজন জন লোক খাটিয়া নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের গাড়ি আসছে দেখে কয়েকজন দৌড়ে গলিতে ঢুকে গেল। এরা রাস্তা বন্ধ করেছিল বোধ হয়।

মাহবুব হোসেন এগিয়ে জিজ্ঞেস করেন রহিমের স্ত্রী , ‘বাচ্চারা কোথায় ?‘
ভীড় থেকে এক বুড়ো জবাব দেন,‘ওরা গ্রামের বাড়ি রওনা হয়ে গেছে।’
‘আমাকে ফোন করেছিলেন কে ?’

কেউ জবাব দেয় না। একে অপরের মুখের দিকে তাকায়। সবার মুখের দিকে তাকিয়ে এদের কেউ তাকে ফোন দেয়ার সাহস রাখে বলে মনে হলো না।

সারা দিন যে নাম্বার থেকে ফোন এসেছে তাতে ফোন দিলেও কেউ ধরে না। এক বার ধরে এক জন জানালেন এটা গোলার টেকের একটা ফোন ফ্যাক্সের দোকান।

রচনা:০৯ /০৯ /১০ ইং


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29237658 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29237658 2010-09-09 19:50:30
স্পর্শ ( প্রেমের গল্প )

গ্রুমিং শেষ পর্যায়ে। দু দিন পরই ষ্টেজ শো। নতুন জগতে পা ফেলবে তিনটি মেয়ে। সেই জগত সাধারণের কিছুটা দৃষ্টি সীমার মধ্যে হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এরই মধ্যে দশ জন তরুনীকে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হতে প্রস্তুত করে তুলেছেন আয়োজকরা।

পর পর আটটি পর্ব শেষে প্রতিযোগীতা এখন তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ন।

আড় চোখে সহপ্রতিদ্বন্ধি তানজিনের দিকে তাকায় সোহাগী। তানজিনের প্রশংসায় প্রতিযোগীতার প্রতিটি পর্বে মুখর ছিলেন বিচারকরা। ঢাকার মেয়ে। এতো সুন্দরি সচরাচর চোখে পরে না।

চুড়ান্ত অনুষ্ঠানে তানজিন কি পোষাক পরবে প্রশিক্ষক তা ইতোমধ্যে ঠিক করে দিয়েছেন ! তা-ই পরে ও গ্রুমিংএ আছে । আয়োজকরা বোধ হয় ভেবেই রেখেছেন তানজিনই চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে। বা আয়োজকরা চাইছেন তানজিন চ্যাম্পিয়ন হোক। তানজিন আগে থেকেই পোষাক পেল আর বাকিদের এই মাত্র জানানো হলো আজ ফাইনালের ড্রেস ও মেকাপ বুঝিয়ে দেয়া হবে ! এসব লক্ষ্য করে সোহাগীর মুখে কালো ছায়া নেমে আসতে চায়।

এ যাবৎ দর্শকদের ভোট সবচেয়ে বেশি পেয়েছে সোহাগী। এর কারণ তার নিজেরও অজানা । তবে বিচারকদের নম্ভর ছিল গড় পড়তা। দর্শকদের সমর্থন না পেলে সোহাগী দ্বিতীয় রাউন্ডেই বাদ পরে যেত। বাছাই পর্বে সে টিকেছিল অভিনয় দক্ষতা ও ভাল নাচ জানায়। বিচারকরা তখন উচ্ছসিত প্রসংশা করেছিলেন । কিন্তু অনুষ্ঠান চুড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে যেন সোহাগী ফুরিয়ে আসছিল। প্রতি পর্বেই আগের পর্বের চেয়ে খারাপ হওয়ায় হতাশ ছিলেন প্রশিক্ষকরা। এমনকি বিচারকরাও কঠোর বাক্যে সমালোচনা করতে ছাড়েন নি। কিভাবে কিভাবে প্রতি পর্বে রক্ষাও পেয়ে গেছে।

শেষ পর্বটা হয়ে গেলে মুক্তির আনন্দ পাবে সোহাগী। এখন সময় যায় যন্ত্র চালিতের মতো। শিক্ষকদের এই করতে হবে,ওটা খেয়াল রাখতে হবে ... এসবই শুধু মাথায় ঘোরে । আর যখন যাই মনে পড়ে, তাৎক্ষণিক তা আয়ত্মে আছে বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত চর্চা করে নিতে হয়।




আজ এই বেলা দেখভাল করছেন প্রশিক্ষক শোয়েব। শোয়েব তার স্বভাবসুলভ আত্মবিশ্বাসী ঢংয়ে সোহাগীকে ফাইনাল রাউন্ডের পোষাক ও ভূমিকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নড়াচড়াও যেন হাতে গোনা ও পুর্বপরিকল্পিত। তিনি প্রথম থেকে এই মহুর্ত পর্যন্ত যা বলেছেন , শিখিয়েছেন সব মুখস্ত বলে দিতে পারবে সোহাগী।

দ্রুত কথা বলতে বলতে বারবার তাকানো দেখে সোহাগী অনুমান করে তার চেহারার কোন রেখায় তানিজিনকে আগে ড্রেস বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে জানায় যে মন খারাপ হয়েছে তার ছাপ রয়ে গেছে। মনে কি ভাবছে তা কি এক আশ্চর্য ক্ষমতায় বুঝে ফেলতে পারেন প্রশিক্ষকরা। তাদের মধ্যে শোয়েব একটু বেশি বোঝেন হয়তো।

পুরো গ্রুমিংয়ে দেশ বিদেশের বিখ্যাত প্রশিক্ষকরা যা বেশি যতেœ বার বার বুঝিয়েছেন , তা হলো কোন অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া যাবে না। অনুভুতির প্রকাশ হবে পরিমিত। যতটুকু দরকার। বাদ পড়ে গেলে কেউ যাতে কান্না-কাটি করে অনুষ্ঠান মাটি করে না দেয়। বাদ পড়ার ঘোষণা শোনার সাথে সাথে চিবুকটা একটু গলার দিকে নামিয়ে ফ্লোরে তাকাবে মূহুর্তের জন্য। তারপর দর্শকদের শেষ সাড়ির দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে একই সঙ্গে ডান দিকে সড়ে যেত হবে তিন ফুটের মত। প্রতিযোগীতায় টিকে থাকা একজন এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দেবে। এর মধ্যে উপস্থাপক নতুন করে অনুষ্ঠান এগিয়ে নেবে। নতুন প্রতিযোগীর নাম ঘোষনা করবে।

সব বিধি নিষেধ ভুলে শোয়েবকে দেখলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘোরগ্রস্ত হয়ে যায় সোহাগী। প্রতি দিন , প্রতিবারই এমন হয়। আগে বিশেষত এই পর্বের প্রস্তুতির সময় শরীরের প্রায় প্রতি বাঁকে শিক্ষকদের আঙ্গুল ঘুরেছে । এই ছোঁয়ার মধ্যে বাড়তি কোন অর্থ নেই। অনুভুতি নেই। জড়তাও নেই কোন পক্ষের।

কিন্তু শোয়েবের সামনে আসলে সোহাগী ভেতরে ভেতরে কেঁপে ওঠে । তার আচড়নের মতোই কেমন বেপরোয়া , দ্বিধাহীন ও স্পষ্ট সব স্পর্শ শোয়েবের। সোহাগীর হাত ধরলে দ্বিতীয় দিন শিহরণ টের পেয়ে অবাক হয়ে মুখ তুলে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। তারপর লেকচার দিয়েছিলেন, অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণের ওপর। অন্য কোন প্রতিযোগীর সমস্যা না হলেও সোহাগী রক্ষা পায়না । তার নির্দেশনার মতো প্রতিটা স্পর্শও অনুভব করতে পারে সোহাগী। যেন ছাপ লেগে আছে। সে কাছাকাছি থাকলে মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। শোয়েবের প্রতি এই গোপন টান অনুভব করে নিজের উপর এক ধরনের বিরক্তিও অনুভব করে সোহাগী। তবে সব সাত - পাঁচ ভাবনা সে সামনে না থাকলেই। সামনে আসলে সব সময় একটা অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠাও কাজ করে। মনে হয় এখনই কিছু একটা ঘটবে যেটা খুব আনন্দের ব্যাপার হবে। শোয়েব অন্য প্রতিযোগীদের কাছে গেলে নজর রাখে সে।

সব নিয়ম মনের পর্দায় ভেসে থাকে সোহাগীর। সৈনিক যেমন যুদ্ধ ক্ষেত্রে অস্ত্র আগলে রাখে, প্রতিযোগীদেরও তেমনি মেকাপের প্রতি যতœবান হতে হবে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ি নিজের অর্ন্তগত সৌন্ধর্য ফুটিয়ে তুলে নিজের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ করে রাখতে হবে। ফুটে থাকতে হবে। সোহাগী প্রশিক্ষকের চোখকে ফাকি দিতে মুখের পেশিগুলো যথাসাধ্য ছেড়ে মনযোগ কেন্দ্রীভুত করার চেষ্টা করলো।

শোয়েব গভীর মনযোগ ও মেয়েদের মতো দক্ষতায় নিয়ে শাড়ি পরিয়ে দিচ্ছেন সোহাগীকে। তার বাঁ হাতের কড়ে আঙ্গুল সোহাগীর নাভীর নিচে ভাঁজ কাপড়ের একটা থোকা চেপে রেখেছে। অন্য হাতে দুই ঠোঁটে ধরে রাখা সেফটিপিন থেকে একটি নিয়ে কাপড়ে গেঁথে একটা ফুলের থোকা তৈরী করে উঠে পাশের মেয়েটির পোষাক ঠিক করে দিতে সরে গেলেন।




লাল-সাদা- কালোর মিশেল পোষাক পেয়েছে সোহাগী। একদম পছন্দ হয়নি ওর। শরীর থেকে একদম খাপছাড়া হয়ে আছে। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগের দিন স্টেজে রিহার্সাল করতে গিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেল। মঞ্চে উঠলে আর বেখাপ্পা লাগবে না। সেটের কালার আর লাইটিংএর সঙ্গে মিলিয়েই পোষাক ভাবা হয়েছে। নিজেই টের পাচ্ছে এই আলোতে ওকে খুব সুন্দর লাগছে । প্রশিক্ষকদের জ্ঞানের বহরের আরেক দফা বিস্ময় মানে সোহাগী। কিছুই নজর এড়ায় না এদের। আর এতোই বেশি বোঝেন যে নিজ থেকে কিছু করার থাকে না। তাদের হাতের পুতুল বনে যেতে হয়। প্রথম প্রথম এক বাক্যে তাদের কথা মেনে নেয়াটা ভীষণ বিরক্তিকর ও এক ঘেয়ে মনে হয়েছিল। এখন একটা সম্পূর্ণতা এসেছে তাদের আগে পরে বলা অনেক কথা।

শোয়েবসহ অন্য সব প্রশিক্ষক আজ এক সাথে শেষ রিহার্সেলে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আগে আগে বলেই হয়তো তাদের গাম্ভির্য আজ অনেক কম। প্রতিযোগীরা অনেক প্রশ্নের জবাব হাসিমুখেই পাচ্ছে। অন্য দিন হলো , এটা এখনো মাথায় ঢোকেনি ! কিচ্ছু হবে না ! অভিনয় রক্তে থাকতে হয় ! না হয় কোন না কোন কথা শুনতে হতো। তানজিনকে আজ সবচে বেশি সুন্দর লাগছে। হঠাৎ করে কেউ দেখলে ভাববে সদ্য অভিনয়ে আসা তরুনী গীতা বলী বসে আছে। কথা বলার সময় থুতনিটা একটু উপরে তুলে কথা বলে তানজিন। খুব সুন্দর দেখায়। সোহাগী এক রাতে আয়নার সামনে দাড়িয়ে চিবুক তুলে নিজের দিকে তাকিয়ে কথা বলে দেখেছে , ভাল লাগে না। গলার কণ্ঠাটা উঁচু হয়ে থাকে।

তানজিনের দিকে তাকিয়ে আনমনা হয়ে গিয়েছিল সোহাগী। রেডিসন ওয়াটার গার্ডেনের লহড়ী হলে হবে কালকের অনুষ্ঠান। বিকেল থেকে টানা রিহার্সেল শেষে দর্শকদের আসনের বসে বিশ্রাম করছিল সবাই বসে। তানজিনের কথা বলা দেখতে দেখতে আনমনা হয়ে যাওয়া গোহাগীর হঠাৎ করে নজর যায় স্টেজের দিকে। আজ পুরোটা সময়ে এই আলো একবারও ফেলা হয়নি। মুহুর্তের জন্য নেপথ্য শব্দও বেজে বন্ধ হয়ে গেল। উচ্চ শব্দে অন্যরাও মঞ্চের দিকে তাকায়। সোহাগী অস্থির হয়ে রুমে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাড়ায়। সে অনুভব করে কাল অনুষ্ঠানের গোপন একটা ব্যপার ধরা পরে গেছে ওর কাছে। প্রসঙ্গ চমক ও অভিব্যক্তি পরীক্ষায় গ্রাম্য বর্ষার দৃশ্যের সঙ্গে অভিনয় করতে দেয়া হবে !




রাত ভর স্বপ্ন দেখে কাটলো সোহাগীর। রিহার্সেল থেকে ফেরার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুশ্চিন্তায় ভরে ছিল মন। চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে মিষ্টি স্বপ্নটি দখল করে নিল তার রাত।

ছোট নদী। সোহাগীদের দাদা বাড়ির পাশে। একটু বৃষ্টির চাদর থেমে থেমে দৌড়ে যাচ্ছে। দূর থেকে একটা গানের গলা শুনে এগিয়ে যায় সোহাগী। কাছে গেলে নদীর ধারে বসা নিঃসঙ্গ যুবকের গানের কথা স্পষ্ট হয়। ভীষন মিষ্টি গলা। আকাশ মেঘে ঢাকা ... শাওন ধারা ঝরে, / যেদিন পাশে ছিলে / সেদিন মনে পড়ে। মোহাবিষ্টের মতো সামনে এগিয়ে যায় সোগাহী। যুবকের সেদিকে খেয়াল নেই। একমনে গান গাইছে যুবক। ধীরে ধীরে তার কাছে যায় । অপরিচিত যুবক তখনো গেয়ে চলেছে, সেদিনও এই ক্ষণে ... সজলও ছিল হাওয়া ... কেয়ার বনে তারো ...
ছিল যে আশা যাওয়া ... যুথির সুরভিতে ... আঙ্গিনা ছিল ভরে।

বৃষ্টি ধরে আসলো একটু। ঘনিয়ে এসেছে অন্ধকারও। নদী থেকে উঠে আসা হাওয়া সোহাগীর লম্ব চুল উড়িয়ে তার শরীরে পেচিয়ে দিচ্ছে। ধীর পায়ে যুবকটির কাছা কাছি গিয়ে তার মুখ দেখার চেষ্টা করে। খুব পরিচিত আর কাছের মানুষ মনে হয় তাকে। যেন তার হারানো কোন বন্ধু। গানের কথাগুলো তার মনে হাহাকার আর অজানা কষ্ট জাগিয়ে তোলে। সে গাইছে , এখনো সেই স্মৃতি ... বুকেতে বয়ে চলি ... নিজেরো সাথে আমি ... নিজেই কথা বলি। হঠাৎ উত্তর পুব আকাশে এ প্রান্ত ও প্রান্ত করা একটা বিদ্যুৎ রেখার আলোয় যুবকের চোখ চিনে ফেলে সোহাগী। দেখে গান গাওয়া যুবকটি আর কেউ নয়। শোয়েব। শোয়েব তাকে দেখে উঠে দাঁড়ায় গান বন্ধ করে। সোহাগী হেসে বলে এই ছেলে , তুমি আবার গান গাইতেও জানো নাকি ! ধরো , বাকি টুকু গাও। শোয়েব চুপ করে আছে দেখে,সোহাগী নিজেই গুন গুন করে গাইতে থাকে। স্মৃতির মনিমালা ... সবার চেয়ে দামি ... আজও তা পড়ে আছি ... ভুলিনিতো কিছু আমি ... এখনো বসে আছি ... হারানো খেলা ঘরে। কিন্তু সোহাগীর গলায় এই গানে কোনবিরহ বেদনা নেই। বোঝা যায় সে বিরহের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। প্রেমিকের প্রতি এই নিশ্চয়তা ফুটে উঠছে তার কৌতুকপূর্ণ আর হাসি মেশানো কণ্ঠে। ততোক্ষণে যুবকের আড়ষ্ট ভাব কেটে যায়। সেও কণ্ঠ মেলায় , আকাশ মেঘে ঢাকা ... শাওন ধারা ঝরে ... যেদিন পাশে ছিলে ... সেদিন মনে পড়ে।

শোয়েব তার হাত ধরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে ওঠে। শোয়েবও চমকে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ততোক্ষনে আধার ঘনিয়ে আসে। অন্ধকারের চাদর তাদের ঢেকে ফেলে।





অন্ধকার হল রুম করতালি মুখরিত হয়ে ওঠে। সম্বিৎ ফিরে আসে সোহাগীর। স্বপ্নে না বাস্তবে আছে বুঝে ওঠতে পারে না। আলো জ্বলে ওঠার পর খেয়াল করে স্টেজে শোয়েবকে জড়িয়ে ধরে আছে। এক নজরে সোহাগী দেখতে পায় দর্শকদের সঙ্গে সঙ্গে বিচারকরাও উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছেন।




বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে আগে সাঁজ ঘরে একটু পাশে ডেকে শোয়েব অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে।

- আমার মনে হয় তুমি অভিনয়ে থাকবে না।
- হ্যাঁ , ঠিক ধরেছো।
- কো আর্টিস্ট হিসেবে আমি না হলে কি হতো ?
- চ্যাম্পিয়ন হতাম না !
- আমাকেও থাকতে দিবে না শো বিজে ?
- নাহ !

শোয়েব ও সোহাগীর হাসির শব্দে চমকে তাকায় উৎকণ্ঠিত অন্য প্রতিযোগীরা।




রচনা : ২০/ ১ - ২৭/ ৮/ ২০১০ ইং



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29230816 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29230816 2010-08-27 20:42:52
মেঘমন্ত্র ২

স্তপীকৃত জলরাশি
জীবীকার ধানের পাশে;
জোয়ার ভাটার টান , নষ্ট বীজ
মানচিত্র,সবুজ মাটি
গাছ, ছায়া
পিতা মিশে আছে

ধারণা কল্পের চিকিৎসক !

বন্যা ও দমকা হাওয়ার ভুলে
কিছু ধান বোনা বাকি ছিল ।


বহুভাষী মেঘ ও কণ্ঠবিনোদিনীর
ভাষা বোঝা ভার। তাই,এই পনের জুনে
গ্রামগুলোর যে প্রান্ত ট্রেনের অন্য জানালায় থাকে
বাকি থেকে গেল দেখাঃ
কুড়ে ঘর,ভেজা পথ,খড়-কাঠি, ধোঁয়া ও মা,
নিঃসঙ্গ উনুন ;


অন্ধকারে লেপ্টে আছে নিস্তব্দ প্রাচীর

ঃ মতবাদহীন বিস্ময়

ঃ নিকষ মৃত্যু সংবাদ

ঃ রথ ও আতশবাজী
সন্ধানে, বুকে হাঁটা জল ...


উপেক্ষার হুইসেল দূরে পৌঁছে দেয়

বিকেলের মধ্য দিয়ে নিয়ে গোধুলির মধ্য দিয়ে
সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে নিয়ে রাত্রি ও নিঃসঙ্গতার মধ্য
দিয়ে নিয়ে ভোর রাতের স্টেশনের পাশ দিয়ে
অসময়ের ট্রেন কোমল ও ক্রমান্বয়
তাপের মধ্য দিয়ে নিয়ে
পরের বিকেলের পর আরো নিয়ে যায়
অন্য সন্ধ্যার মোহন ক্লান্তি-বিভ্রমের মধ্য দিয়ে

পহেলা আষাঢ়ে !


সেখানে দীর্ঘশ্বাসের মেঘলা বাতাস
দিক ভুলায় ,আর ফেরত নিতে বাধ্য করে -
ঃহাস্নুহানা ঝোঁপে লুকানো স্মৃতি।
ঃ ঘ্রাণ
ঃ ফুল
ঃ হাসি
ঃ ফুলের নাভীর মতো অপূর্ব সুন্দরী
হিরক খচিত ঝাড়বাতির আলোর শিহরণ বেয়ে
নামা গিরিপথ, উপত্যকা,ছলনার বিচ্ছুরণ।


বিষুব রেখার পুবে তখন জোড়া চাঁদ , রূপপূর্ণিমা

ঘন গ্রাম জুড়ে কামুক বর্ষার বিষণ্ন ঝড়

ঊঢ়া ফুলের গায়ে বৃষ্টি পড়ে ।



রচনা : ১৯/৭ - ২৩/৮/২০১০ ইং
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29229951 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29229951 2010-08-26 11:53:47
দাঁত ব্যথা ( বাংলাদেশি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে রম্য গল্প ) এখন জানি দাঁত ব্যথা নিয়ে রসিকতা শুধু ব্যথা সারার পরই করা সম্ভব।এর মাহাত্মও শুধু তারাই স্বীকার করবেন যারা ভুক্তভোগী মানে শিকার হয়েছেন। কোন মনিষি এক কালে প্রথম বলেছিলেন , তারপর এখন প্রায় সবাইই সুযোগ পেলে বলেন, ‘অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। যত অভিজ্ঞতা জীবনে তত প্রাজ্ঞ ’ । অজ্ঞাত সময়ে অজ্ঞাত ব্যক্তি অজ্ঞাত কারো কাছে হরেক অভিজ্ঞতার পেছনে না ছোটার পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ‘ পানিতে ডোবার অভিজ্ঞতা থাকলে অন্য অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলে । কোন মতে বেঁচে বের হয়ে আসো । ব্যস ।’ অজ্ঞাত উপায়ে জানা এই এই বক্তব্য এখন অর্বাচিনের মনে হয়। কারণ,জীবনের উল্লেখযোগ্য সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে দাঁত ব্যথার নাম থাকা জরুরী। তা না হলে তথ্য বিকৃতি হয়। এই বক্তব্য অবিলম্বে অবশ্যমান্য করা উচিত।

এক নৈমত্তিক প-িত যদিও জানালেন, দাঁত ব্যথা ওয়ার্ল্ড পেইন রেঙ্কিংএ সেকে-। অবিশ্বাস করায় প্রমাণে মরিয়া হয়ে তিনি জানান এক নাম্বার মেইন হলো লেবার পেইন। মানে মায়েদের সন্তান জন্ম দেয়ার দুঃসহ ব্যথার পর পরই ভয়াবহ ব্যথা হিসেবে অবস্থান করে নিয়েছে, দাঁত ব্যথা। বিদেশী কোন কোন বড় সাস্থ বিষয়ক কাগজের রেফারেন্স দেয়ায় তার কথা আর বিশ্বাস করলাম না। এ হলো সেই প্রকৃতির মানুষ যারা টুকি টাকি কথা বা কাজও বিদেশী প-িতদের নাকের সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে এনে তার দোহাই দিয়ে গুরুত্ব পেতে চায়।

সন্দেহ দুর করার জন্য পরিচিত এক সন্তান সম্ভবাকে জিগ্যেস করলাম। তার উত্তরটা বেশি গ্রহন যোগ্য মনে হলো। তিনি বললেন, তোমার দাঁত ব্যথার অব মূল্যায়ন করবো না। এই ভাবে ভাবলে তোমার ভাল হবে, মনে করো সন্তান প্রসব মানে ব্যথার সমাপ্তি। কিন্ত দাঁত ব্যথা মানে তোমার শুরু হলো। তাই দাঁত ব্যথাই বিশ্বের এক নম্বর ব্যথা ধরতে পারো।

আমি একজন ভবিষ্যত মায়ের মহত্ব আর উদারতা দেখে মুগ্ধ হয়ে বলি,ওটা মায়েদের সবচে বড় পেইন। আর এটা পুরুষদের সবচে বড় পেইন।

আরেক জন বললেন , দাঁত ব্যথা ? প্যারাসিটামল,নাপার কোন পাত্তাই নেই এখানে। ওষুধ শুরুই হয় অনেক উপর থেকে। যেগুলো খেলে আবার পেট ফুলে ওঠে। তা বন্ধ করতে আবার অন্য অষুধ খেতে হয়। খালি পেটে খেয়ো না, খালি পেটে কখনো দাঁতের অষুধ খেয়ো না। পেট ফুটো হয়ে ট্যাবলেট আবার হাতে চলে আসবে । একজন বানী চিরন্তনী শুনিয়ে দিলেন একটা। প্রেম সবই ভোলাতে পারে। শুধু দাঁত ব্যথা ছাড়া। কোটেশনটা একটু এদিক ওদিক হতে পারে। পরের কয়েক দিনের তীব্র ভোগান্তিতে অন্য অনেক কিছুর সাথে সাথে ওই মহামূল্য বানীখানাও হুবহু থাকেনি। মাত্র ব্যথা কমলেও ভুলে যাওয়া সব কিছু এখনো ফেরত আসতে শুরু করেনি মাথায়।

দাঁত নিয়ে বিভ্রান্তিরই বা শেষ কোথায় ? দাঁত ব্যথা শুনে একজন বললেন আমার আক্কেল দাঁত চারটাই ফেলে দিতে হয়েছে। জিগ্যেস করলাম , এতে অসুবিধা হয় না ? বললো, না। বত্রিশটা দিয়েই চলে যাচ্ছে। বত্রিশটা মানে কি ! সব মিলিয়ে চৌত্রিশটা হয় নাকি ! সে কিছুতেই না মানলে সামনের দিকের দুটো দাঁত নকল লাগিয়েছেন , মাড়ির উপর নিজে পাঁচটি ফাঁকা এমন এক প্রাজ্ঞ শালিসির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানান। তিনি ফোকলা হেসে জানান সাত আর দুই নাম্বার দাঁত দুটা আমি নিজেই টেনে ফেলে দিয়েছি !

ছোটরা গ্রামে দাঁত পড়লে কাগজে মুড়িয়ে ইদুরের গর্তে ফেলতো। একটা ছড়াও আছে । মুখ কালো করে বলতে হতো, ইদুর ভাই আমার দাঁতটা নিয়ে তোমার চিকন দাঁতটা দিও। বড়শির নাইলন সুতা কুট করে কাটা। খটাশ করে বড়ইর আঁটি ভাঙ্গার গ-া গ-া কৃতিত্ব দেখানো দাঁতের এই বেহাল দশা হবে কে কবে জানতো ।

তবে যাই বলুন, এই মাথাই শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে আসে সেই দুরদর্শী দার্শনিকের জ্ঞানে; যিনি বিলক্ষণ বুঝেছিলেন বাঙ্গালী দাঁত থাকিতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না। দাঁত ব্যথা হবার পর জানা যায়, বাঙ্গালী শুধু দাঁতের মর্যাদা বোঝেই না যে তাই না,দাঁত খোয়ানোর পর তা লুকিয়েও রাখে। পাশের লোকটিকে চেপে ধরে জিঙ্গেস করুন, এক পর্যায়ে হা করে দাঁত বের করে বলবে তার এই কয়টা ক্ষয়ে গেছে , এই কটায় ক্যাপ লাগানো,ওই কয়টায় রুট ক্যানেল করা। এই প্রমাণ হরহামেশা মিলেছে। দাঁত ব্যথা হলে নিজ থেকেই আগ বাড়িয়ে জানাবে আমার এই কটা দাঁতই নেই! এমনকি অনেক সুন্দরী মেয়েরও দাঁত থাকে না ! অন্তত দাঁতের ব্যথা থাকে।

স্টিফেন হকিংসএর দাঁত ব্যথা আছে কি না কে জানে। তবে ১৯৯৮ আর ২০০২ সালে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখানো ব্রাজিলের ফুটবল খেলোয়ার রিভালদোরও দাঁত ছিল না। ছোট বেলায় অপুষ্টিতে ক্ষয়ে পরে খসে পরেছিল। দাঁত ব্যথা শুনে জানালেন এক ক্রীড়ামোদী। এই প্রসঙ্গে তিনি সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্য বিখ্যাত খেলোয়ার যারা ছোট বেলায় অপুষ্টিতে ভুগেছিলেন তাদের কাহিনি ফাঁদতে গেলে ডাক্তারের কাছে যেতে দেরী হয়ে যাচ্ছে বলে পালিয়ে আসি। পেছনে শুনি এতোক্ষণ গম্ভিরভাবে দাড়িয়ে থাকা কমিউনিস্ট বন্ধুটি বলছেন, এটাতো ঠিক বলেছেন। ভয়াবহ ব্যপার। আমাদের চল্লিশ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকের মুখের দিখে তাকিয়ে দেখুন কেমন ঠোঁট ঠেলে দাঁত বের হয়ে আছে। তার মানে পুষ্টির অভাব ! বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছি বলে তাদের কথা আর শুনতে পাই না। ব্যথা না থাকলে এই আলাপ অনেক ক্ষণ করা যেত।

ততক্ষণে অন্য চিন্তা মাথা চেপে ধরেছে। গল্প শুনে শুনে ব্যথার চেয়ে ভয় দাঁতের ডাক্তারদের । অনেক বার নাকি আসতে হয়। এক বারে দাঁেতর চিকিৎসা শেষ হবার নজির কম। এক বন্ধু ঝগড়ায় মধ্যস্ততা করতে গিয়ে দু পক্ষের ঘুষিতে দাঁত হারান একটি। অনেক চেম্বার ঘুরে , শেষ জনের কাছে এই সমাজ সেবার সর্বনিম্ন মূল্য দাড়ায় চৌদ্ধ হাজার টাকা। আমরা পরে হিসেব করেছি বন্ধুটির সব মিলিয়ে দন্ত সম্পদ আছে চৌদ্ধ গুন বত্রিশ,সমান সমান চার লাখ আট চল্লিশ হাজার টাকা। এই জন্যই বুঝি দাঁতকে অমূল্য সম্পদ বলে লোকে !

চেম্বারে অনেক দাঁতের ছবি টানানো । দাঁত নিয়ে কত আয়োজন! খুব স্বার্থপর ব্যথা। অন্য কোন কিছু নিয়ে ভাবতে দেয় না। আর জিহ্বা কিছুক্খণ পর পর ওখানেই খোঁচা দেয় !

এর মাঝেও চার পাশে দাঁতের ছবি পত্রিকার একটা খবর মনে করে দেয়। কিছুদিন আগে কাগজে বের হয়েছে এক ক্লিনিকের ডাক্তার বিরিয়ানি খাওয়াবে বলে কয়েকটা শিশুকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে দাঁত তুলে নিয়ে প্র্যাকটিস করেছে। এক জনের দাঁত তোলা দেখে ফেলে অন্যরা দৌড়ে খবর দিলে লোক জন তাদের ধাওয়া দেয়। দাঁত তুলতে পারলে দাঁতের ডাক্তারদের কি রকম যেন পয়েন্ট বাড়ে। আমারও দাঁত তুলে দিবে নাতো ! মনে মনে খেয়াল রাখি অবশ্যই নজর রাখতে হবে কোন নবিশ ডাক্তারের হাতে যেন না পরি। তারাই অনেক দাঁত তোলার অভিজ্ঞতা জোগার করে পুরাদস্তর ডাক্তার হয়। বেদেনীদের দাঁতের চিকিৎসায় ভেল্কি দেখিয়ে তুলার মধ্যে পোকা ঢুকিয়ে তা দাঁত থেকে বের করেছে দাবি থাকতো। আর পোকা প্রতি একটা রেটও ছিল। পোকা আগেই মজুদ ছিল সন্দেহ থাকলেও ব্যথার সময় বেদেনীদের কদরের অন্ত থাকতো না।মুলামুলি ও সমালোচনাটা হতো পরে ।

সুন্দরবনের বাওয়ালিরা নাকি আতঙ্কে বাঘের নাম মুখে আনেন না। মামা ডাকেন। না হয় তিনি ডাকেন। দাঁত নিয়ে এই হাস্য রসের সময় আমারও আতঙ্কে গা হিম হয়ে আসছে। মুখ খুলতেও ভয় হচ্ছে।সামনের দিরে দাঁতগুলো যদি লেখাটা দেখে ফেলে ! এর পরের দফায় ফাজলামোর শোধ তুলে নিবে সুদে আসলে। ব্যথা হবে হাজার গুন বেশি। তীব্র ও টন টনে। জ্ঞান হারানোর ঠিক আগে আগে নিয়ে ঝুলিয়ে রাখবে দাঁত মামা ! না হয় ব্যথা উঠবে মাঝ রাতে। সকাল পর্যন্ত এবার মাথা কুটে মরো। আর যাই হোক যখন তখন দাঁতের ডাক্তার মেলে না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29229613 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29229613 2010-08-25 19:54:09
মেঘের মানচিত্র
এই স্তরগুলো হচ্ছেঃ

ক. উঁচু মেঘ ( এই গোত্র ভুক্ত মেঘ হচ্ছেঃ সিরোকিউমুলাস,সিরাস ও সিরোস্ট্রাটাস মেঘ) খ.মধ্য উচ্চতার মেঘ (অলটোস্ট্রাটাস ও অলটোকিউমুলাস)। গ. নিচু মেঘ ( এই গোত্র ভুক্ত মেঘ হচ্ছেঃ কিউমুলাস,কিউমুলাস হিমিলিউস,কিউমুলাস মেডিওক্রিস,স্ট্রাটোকিউমুলাস,নিম্বোস্ট্রাটাস,স্ট্রাটাস)। আর ঘ গোত্রের মধ্যে রয়েছে উলম্ব মেঘ(এই গোত্রের মধ্যে রয়েছেঃ আরো ৭ ধরনের যথা, কিউমুলোনিম্বাস,কিউমুলোনিম্বাস ইনকাস,ম্যামাটাসযুক্ত কিউমুলোনিম্বাস,কিউমুলাস,কিউমুলাস কংস্টাস,পাইরোকিউমুলাস)

মৌসুমি বায়ু নিয়ে একটা বইয়ে মেঘ নিয়ে অনেক লেখা। শুধু বাংলা নাম ছাড়া। এখানে অবশ্য লিউক হাওয়ার্ডএর দেখানো ১০ টি প্রধান মেঘের নামের সঙ্গে বাংলায় মেঘগুলোর প্রকৃতি পাওয়া গেল। এগুলো হচ্ছেঃ
উচ্চস্তরের মেঘ

মেঘের পাদমূলের উচ্চতা ৬ কি.মি. (২০০০০ ফিট) বা বেশী

১) সিরাস (Cirrus) : শ্বেত পালক কিংবা সঙ্কীর্ণ ফিতার বা ব্যান্ডের আকারে ছিন্ন তন্তু বা আঁশের মত মেঘ।
২) সিরোকিউমুলাস (Cirrocumulus ) : ছায়া-বিহীন হাল্কা সাদা মেঘের স্তর।
৩) সিরোস্ট্র্যাটাস (Cirrostratus ) : স্বচ্ছ সাদা মেঘ। প্রায়ই বর্ণবলয় দৃষ্ট হয়।
মধ্যস্তরের মেঘ

মেঘের পাদমূলের উচ্চতা ২ কি.মি. (৭০০০ ফিট)

৪) অল্টোকিউমুলাস (Altocumulus ) : সাদা বা ধুসর রঙের মেঘের স্তর। প্রায়ই বেলন বা বটিকার আকারে দৃষ্ট হয়।
৫) অল্টোস্ট্র্যাটাস (Altostratus ) : ধূসর মেঘের আচ্ছাদন। এই মেঘের মধ্য দিয়ে বর্ণবলয় দেখা যায় না।
নিম্নস্তরের মেঘ

ভূপৃষ্ঠ থেকে ২ কি.মি পর্যন্ত প্রসারিত মেঘ

৬) স্ট্র্যাটাস (Stratus ) : সাধারনতঃ ধূসর মেঘের স্তর। তলদেশের উচ্চতা সর্বত্র সমান।
৭) স্ট্র্র্যাটো-কিউমুলাস (Stratocumulus ) : সাদা বা ধূসর মেঘের টুকরো। প্রায়ই বেলন আকারে বা গোলাকার টুকরো মেঘের দল।

এছাড়াঃ

৮) কিউমুলাস (Cumulus ) : ছাড়া ছাড়া মেঘ। স্পষ্ট অবয়ব। গম্বুজের মতো, অট্টালিকার মতো মেঘ এ দলের মেঘে প্রায়ই দেখা যায়।
৯) কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus ) : ঘন ও গুরুভাব, মেঘ, পশলা আকারে বৃষ্টি, প্রায়ই শীর্ষ নেহাইর আকারে ছড়িয়ে যায়।
১০) নিম্বোস্ট্র্যাটাস (Nimbostratus ) : ধুসর বা কৃষ্ণকায় মেঘের স্তর। বিরামহীন বৃষ্টি।

বাণিজ্যিক বিমানচালকদের পর্যবেক্ষণ সূত্রে এখানে জানানো হয়, কিউমুলো নিম্বাস মেঘের শীর্ষ ১৬.৭ কি.মি (৫৫,০০০ ফিট) পর্যন্ত উচ্চে যেতে পারে।


অভিধানগুলোতে দেয়া মেঘের অর্থগুলো খুব পরিচিত।
মেঘ মানেঃ ঘন,জলধর,জলদ,জীমূত,নীরদ,পয়োদ,বলাহক,বারিদ...

বাংলা একাডেমীর আঞ্চলিক ভাষার অভিধানে মেঘ দিয়ে শব্দই আছে একটা তাও মেঘলি । মানে কটিবন্ধ। ঊদাহরণ আছে একটা বাক্যের এমন, মেঘলি বান্দি ঠাশি কাম কর। ম্যাগ্ অর্থে বৃষ্টি ডাকে কেউ। আবার স্ত্রী ও মনে করে । ( ম্যাগক্ ভাত দিবার মুরাদ তো বিহা করিচিলা কায়বা ? )

তবে অনেকগুলো সুন্দর শব্দ আছে দেখলাম মেঘ নিয়ে ।

মেঘ: বারিবাহ, ঘন, জলধর, দৈত্যবিশেষ, রাগবিশেষ, রাক্ষসবিশেষ।
মেঘকজ্জল: কাজলের মতো ঘন কালো মেঘে ঢাকা।
মেঘকফ: ঘনোপল, করকা।
মেঘকাল: বর্ষা ঋতু।
মেঘগর্জন: মেঘের ডাক।
মেঘজ: জলদ জাত।
মেঘজাল: মেঘসমূহ।
মেঘজ্যোতি: ইরম্মদ, বজ্রাগ্নি।
মেঘড়ম্বর: মেঘাড়ম্বর, মেঘগর্জন
মেঘড়ম্বর শাড়ি: মেঘডুম্বুর শাড়ি, নীলাম্বরী শাড়ি, মেঘবরণ শাড়ি।
মেঘতিমির: মেঘাচ্ছন্ন দিন। মেঘজনিত তিমির যৎকালে, বহু।
মেঘদীপ: বিদ্যুৎ।
মেঘদূত: কালিদাস রচিত কাব্য।
মেঘনাদ : মেঘগর্জন, বরুণ-রাবণপুত্র, মেঘের নাদের ন্যায় নাদ যাহার।
মেঘনাদজিৎ: রামানুজ লক্ষ্মণ।
মেঘনির্ঘোষ: মেঘধ্বনি, মেঘগর্জন।
মেঘপুস্প: জল, নদীজল।
মেঘবর্ণ: মেঘের ন্যায় কালো রং।
মেঘবত: বেশ্ম, আকাশ।
মেঘবহ্নি: বজ্রাগ্নি।
মেঘবাহন: ইন্দ্র।
মেঘবিচ্ছুরিত: মেঘনিঃসৃত, মেঘের মধ্যে থাকিয়া দীপ্তিপ্রাপ্ত।
মেঘমন্ডিত: মেঘশোভিত।
মেঘমন্দ্র: মেঘের গম্ভীরধ্বনি।
মেঘমন্দ্রস্বরে: মেঘের ধ্বনির ন্যায় গম্ভীর রবে।
মেঘমল্লার: সংগীতের বর্ষাকালীন রাগবিশেষ।
মেঘমালা: জলধরশ্রেণী, কাদম্বিনী।
মেঘযুদ্ধ: মেঘে মেঘে ঘর্ষণ।
মেঘমেদুর: মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার ফলে স্নিগ্ধ।
মেঘযোনি: ধূম, ধোঁয়া, মেঘের যোনি (উৎপত্তিস্থান)
মেঘরুচি: মেঘবর্ণ।
মেঘলা: মেঘাচ্ছন্ন।
মেঘাগম: বর্ষাকাল। মেঘের আগম হয় যে সময়ে।
মেঘাগ্নি: বিদুৎ। মেঘের অগ্নি।
মেঘাচ্ছন্ন, মেঘাবৃত: মেঘে ঢাকা। মেঘ দ্বারা আচ্ছন্ন বা আবৃত।
মেঘাড়ম্বর: মেঘগর্জন, মেঘের ডাক, মেঘের আড়ম্বর।
মেঘাত্যয়, মেঘান্ত: শরৎকাল। মেঘের অত্যয়।
মেঘাস্থি: করকা। মেঘের অস্থি।

মেঘদীপ মানে বিদ্যুৎ জানতাম না। মেঘ মানে রাক্ষস বা দৈত্য হয় তাও জানতাম না। মেঘের অস্থি হয় তাও জানতাম না। এক ডিজুজ বন্ধু ইনফো সেল অভিধান থেকে কয়টা নাম বের করে
দিল ।এগুলো হলোঃ

সিরাস: অলক মেঘ
সিরোকিউমুলাস: অলকস্তুপ
সিরোস্ট্র্যাটাস: অরকস্তর
স্ট্র্যাটাস: স্তর মেঘ
কিউমুলাস: স্তরে স্তরে পূঞ্জীভূত মেঘ

অলোক মেঘা নামটা ছোট বেলার ছড়াটায় ছিল ছিল এমন আবছা মনে পড়ছে !




নোট : গত কয়েকদিন শারীরীক অসুস্থতার সময় নানা বাস্তব অবাস্তব চিন্তার মধ্যে হঠাৎ খেয়াল পড়লো মেঘের বাংলা নামগুলো ভুলে গেছি। ছোট বেলায় পড়া কোন একটা ছড়ায় ছিল। এখন মনে নেই তো নেইই! জানতে পারেন অনুমান করি এমন বেশ কয়েকজনকে জিগ্যেস করে বিব্রত করেছি শুধু। মেঘকুণ্ডলি খোঁজ খবরের নোটগুলো নানা কাগজ থেকে আজ দিনভর এক খানে কম্পোজ করে রাখলাম। মেঘের নাম ভোলা সময়টার একটা স্মৃতি থাকুক।

পরিশিষ্ট ১

যাদের আগে জিগ্যেস করেছিলাম তাদের কেউ কেউ এখনো মেঘের খবর জানাচ্ছেন ।
সেই সূত্রে আজ একজন আবহাওয়া অফিস থেকে মেঘের বাংলা নামগুলো জোগার করে ফ্যাক্স করলেন।
এগুলোর নাম তারা দিয়েছেনঃ
১. ঊর্দ্ধ মেঘ

ক.পালক মেঘ
খ.পালকপুঞ্জ মেঘ
গ.ঊর্দ্ধ স্তর মেঘ

২.মধ্যম উচ্চতার মেঘ

ক.উন্মেঘ পুঞ্জ মেঘ
খ.উন্মেঘ স্তর মেঘ
গ.বর্ষন মেঘ বা বর্ষন স্তর মেঘ
৩. নিচের স্তরের মেঘ
ক. স্তর পুঞ্জ মেঘ বা স্তুপ মেঘ
খ. স্তর মেঘ
গ. পুঞ্জ মেঘ
ঘ. ঝড়ো পুঞ্জ মেঘ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29229053 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29229053 2010-08-24 19:51:18
প্রচ্ছদ : আনন্দ পাগলের হস্তলিপি
আহা কি অদ্ভুত ব্যাপার ! একই যায়গায় এক মাসের মধ্যে তার সঙ্গে দুই বার দেখা। অবশ্য দেখেছি শুধু আমি। সে চোখ তুলে তাকায় নি। নিজ মনে হেঁটে চলে গেছে। দেখলেও চিনতো না নিশ্চিত। আমাকে কি আর মনে রেখেছে ? দরকার কি তার !

সেই অর্থে আনন্দ পাগলের সঙ্গে আমার ঘনিষ্টতা কখনোই ছিল না। যতটা কিছু ঘনিষ্ট বন্ধুর সঙ্গে ছিল। সব সময়ই তাকে সন্দেহ আর ভয় মিশ্রিত কৌতুহলের সঙ্গে দেখেছি। এলাকায় কিভাবে কিভাবে তার নাম আনন্দ পাগল হলো জানি না। কখনো কাউকে নিজের নাম বলেছে এমন শোনা যায় নি।এলাকায় তার হঠাৎ আগমনে বেশ রহস্যের জন্ম হয়েছিল।

ছোট বেলায় কখনো লোকজনকে দেখতাম তাকে খাবার দেয়ার ছুঁতো করে কথা বের করার চেষ্টা করতো। কিন্তু সে চিঁহি চিঁহি মসৃন গলায় হিন্দি উর্দু ধরনের কি কি শব্দে কি বলতো কারো সাধ্য ছিলনা। তখন সন্দেহ আরো গাঢ় হতো সবার। বেটা গোয়েন্দা না হয়ে যায় না। তথ্য পাচার করছে। কোন বড় ঘটনা ঘটলে দেখা যাবে কাঁধের ঝোলা থেকে পিস্তল বের করে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে গুলি করছে ।

এক রাতে বাস স্ট্যাণ্ড ঘুমিয়ে থাকার সময় তার ময়লা ঝোলাটি চুরির ঘটনাও ঘটেছিল। পরের কয়েক দিন আনন্দ পাগলাকে খুব মন খারাপ করে ছিল। উধাও ছিল মাস খানেক । অনেকে বলাবলি করেছিল , কারো আবার কোন ক্ষতি হয় কিনা! এমন মানুষদের অনেক আধ্যাতিক ক্ষমতা থাকে।

ন‘টার কিছু আগে আগে এই রাস্তা ধরে যাই। শেরাটন হোটেলের উল্টো দিকের বাঁকে। যে রাস্তাটা মন্ত্রী পাড়ার দিকে ঢুকলো ; তার মাথায় আজো দেখলাম আনন্দ পাগল হেঁটে সব্জিবাগানের রাস্তার দিকে যাচ্ছে। খুব দ্রুত,ব্যস্ত সমস্ত। মুখ ভরা হাসি চিকমিক করছে। যেন যেতে খুব ভালো লাগছে । বা যেখানে যাবে , পৌঁছলে খুব ভালো লাগবে। মাস খানেক আগে কাকতালীয় ভাবে একই যায়গায় দেখেছিলাম। তার চির-পরিচিত নিশ্চিন্ত মুখভরা হাসি আমাকে একটা ভুলে থাকা সুখের সময় ফেরত দিয়ে গেল !

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দৌঁড়ে উপর দিকে একটা লাফ মেরে মেরে রাস্তা এগিয়ে নিচ্ছিল আনন্দ। আমার চিনতে মোটেও দেরি হয়নি। সম্বিৎ ফিরে চালককে থামাতে বলতে বলতে অনেক পেছনে চলে যায়। যেই দ্রুত হাঁটছে তাকে পেতে দৌঁড়াতে হতো। এই মোড়ে হঠাৎ করে থামাও যায়না। মোড় এড়িয়ে অনেক সামনে থামতে হয়। আজও এমনটিই ঘটলো। কালো গলা কাটা গেঞ্জি , নিচের দিকে গুটানো প্যান্ট। খালি পা । মুখে সব সময়ের মতো লম্বা দাড়ি। একই রকম দেখতে। ছোট বেলায় যেমন দেখেছি। শুধু ঝোলাটা সঙ্গে নেই।

আনন্দকে এর আগে কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না। বারো বছরতো বটেই,পনের? কুড়ি ? হতে পারে! এর মাঝে একটি দিনের জন্যও তাকে মনে না করে থাকলাম কি করে !

ছয়-সাত বছর আগে বন্ধু ইমরান মাঝি একটা ছোট কাগজ দিয়েছিল। নাম, ঘাসফড়িং। অন্য বন্ধু মহিবুল্লাহ শাওয়াল’র সম্পাদনায় একটা ছোট কাগজ। সঙ্গে রোদের মতো চিকচিকে কয়েকজন,মঞ্জু,রিপন,সুমন। চমকে উঠেছিলাম প্রচ্ছদ দেখে। আনন্দ পাগলের হাতের লেখা দিয়ে প্রচ্ছদ করেছে ওরা। এক অসম্ভব ভালো লাগায় মন ছেয়ে গিয়েছিল। মাঝি জানিয়েছিল ওরা অনেক চেষ্টা করে কয়েক দিনে একটু একটু করে এটুকু লিখিয়েছে।

প্রথম বার দেখা হওয়ার পর আনন্দকে চেনে এমন বন্ধুদের ফোন করে জানিয়েছিলাম।অল্প খুঁজে কাগজটাও পেয়ে গেলাম।

সে মনে হয় কিছু নির্দিষ্ট রাস্তায় বার বার ঘুরছে। শাহবাগ- বাংলামোটর- ফার্ম গেইট-মহাখালী-মগবাজার-মৎস্য ভবন শাহবাগ বা এমন কিছু। আগেও এমন করতো । বিভিন্ন এলাকা ঘুরে থানা শহরে এসে কিছু দিন থাকতো।



আনন্দ পাগল ঢাকা এসেছে কেন ! যতবারই মনে পড়ছে সে এখন ঢাকায় খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে অনাত্মীয় এই রুক্ষ্ম শহরে প্রিয় একজন বন্ধু আছে কাছাকাছি। আবার কবে দেখা
হবে ? এবার দেখা হলে কথা বলবো। কি কথা বলবো !
কি পরিচয় দেব নিজের ? কি সাধ্য ও শক্তিতে তাকে কাছে রাখা যায় ...

আর কোন দিন দেখা না হলেও আনন্দকে যাতে ভুলে না যাই নিজের প্রানের শশ্রুষার স্বার্থে এজন্য তাকে ঘিরে থাকা কিছু স্মৃতি লিখে রাখলাম।





২৬/০৬/১০ ইং
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29184936 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29184936 2010-06-25 19:11:06
দুঃখের পুষ্পলতা অচেনা গড়ন
এমন কি অকস্মাৎ !

প্রচণ্ড মেঘলা নদীর পাড়ে
সঙ্গীত গুঞ্জন

দেখা হয় কেন...

দুঃখের পুষ্পলতা
বনষ্পতি শোক ?

মন ঘুরে গেছে ,
আমি আর যাবো না।



রচনা: ২২/০৬/১০ ইং
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29182947 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29182947 2010-06-22 21:54:07
বন্ধুর জন্য উপহারঃ হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ
গত বছরের মাঝামাঝি নানা ইঙ্গিতে অস্পষ্ট আভাসে আশা পেলাম এই বছরের প্রথম দিকে তার সঙ্গে দেখা হতে পারে ! মিষ্টি আচ্ছন্নতায় আমার দিনগুলো - রাতগুলো বদলে গেল। বন্ধুর সঙ্গে কিভাবে সময় কাটবে,কি কথা বলবো,কি করলে বন্ধুর মুখ হাসিতে ভরে উঠবে এমনি নানা দৃশ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ মনের পর্দায় খেলা করে যাচ্ছিল। কিন্তু বন্ধুকে একটা কিছু উপহার দিব না ? উপহারের কথা চিন্তায় আসতেই তরুন বয়সে পড়া একটা বইয়ের কথা মনে এলো ! প্রিয় কবি জয় গোস্বামীর লেখা একটা বই । হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ। জীবনানন্দ দাশের একটা কবিতা থেকে নেয়া নামটা। বইটির কথা মনে পরতেই অনেক কথা মনে পড়ে। জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নমাখা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। যখন কবিতার কোন উপমা এঁটো মনে হতো না। অনির্দিষ্ট অভিমানে গোলাপও ছিল দুঃষ্প্রাপ্য ফুল । শীতের সকালে শিশিরে নরোম রোদের বিচ্ছুরণ ছিল অতি উজ্জ্বল ও চেনা।

এমন একটা সময় নিশ্চয়ই সবার থাকে। হারায়ও নিশ্চয়ই। শুধু আমার বন্ধুটির ছাড়া। উল্টো তার কাছে আমারও সব কিছু জমা। যা হারিয়েছি, তাও।

বইটি সংস্করণ বোধহয় শেষ হয়ে গিয়েছিল। আরেক বার মনে হলো জয় মনোমালিন্য করে দেশ পত্রিকা ছেড়ে দেয়ায় হয়তো আনন্দ তার বইয়ের আর সংস্করণ করে না। ঘুরতে যাচ্ছে শুনে দুজন বন্ধুকে অনুরোধ করেছিলাম কলেজস্ট্রীটে গেলে বইটা পেলে যদি নিয়ে আসে। আমি টাকা দিয়ে দেব। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একদিন আজিজ মার্কেটে দিনভর বইটা খুঁজলাম। নির্দিষ্ট সেলফ ছাড়াও অন্য সব জায়গায়ও। যদি ভুল করে অন্য কোথাও থেকে থাকে ! সাগর পাবলিসার্সের দোতলায় গুদামে উঠে একদিন খুঁজলাম। বন্ধু অনন্তর সেলফে বইটা দেখেছিলাম। কিন্তু ও নিজেকে মেরে ফেলেছে। নইলে ওর কাছে চাইলে বইটা আমাকে দিয়ে দিত।

ঢাকার বইয়ের দোকানগুলোতে অনেক বই বিক্রি হয় মনে হচ্ছে। সর্বশেষ প্রকাশিত ও চলতি সব বই। পুরান বই খুব কম। কিছু আছে প্রবন্ধ ইত্যাদি। বিক্রি কম বলে মনে হয় দোকানগুলোতেই পরে থেকে পুরান হয়েছে। দোকান করার সময় ভুল করে এনেছিল,এখন আর আনে না। বড় কয়েকটি দোকানে অবশ্য দেখেছি উল্টো চিত্র। সব খটোমটো বইয়ের কাটতি। আঁতেলদের মধ্যে বোধ হয় এসব দোকানের নাম রটে গেছে।

প্রথম থেকেই মনে হচ্ছিল আমাদের জেলা শহরের লাইব্রেরীগুলোতে বইটা থাকবে। বিশেষত প্যারাডাইস বুক ডিপোতে। বইটা কোন তাকে আছে তাও অনুমান করে রেখেছি। গত বছরের পঁনের ডিসেম্বর ডাকাতের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছেন বুড়ো বাবা। তাকে ঢাকা আনছিলাম চিকিৎসার জন্য। বাংলা স্কুল মোড়ে প্যারাডাইসের সামনে দিয়ে আসার সময় গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকলাম। সোজা আগে অনুমান করা তাকটির সামনে। ছোটবেলা থেকে এই দোকানের সব মুখস্থ আমার। দু একদিন ক্যাশে বসিয়ে ওরা বাইরে কাজে যেত । ঠিকমতো অংক করতে না পারার আগে থেকে। কমিশন কুড়ি পার্সেন্ট। কিন্তু বনের রাজা টারজান বইটার দামই যে কুড়ি টাকা। বাবুল ভাইর ছোট ভাই আর আমি অনেকক্ষণ মিলে হিসেব করে সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম এই বইটার জন্য কোন টাকা লাগবে না। বিনে পয়সায় বইটা পেয়েছিলাম। আরেকটু বড় হয়ে ধারে বই পেতাম বৈশাখি মেলায় স্টল দেয়ার জন্য।

ভালো করে তাকালে সম্বিত ফেরে। একি ! সব সেলফ ভর্তি নোট বই। তখন বাবুল ভাইয়ের বাবা বসা দোকানে। আমাকে চিনতে পারেননি। প্রায় চৌদ্ধ বছর পর গেলাম দোকানটিতে। তাকে বললাম, দোকানতো নোট বই দিয়ে ভরে ফেলেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, কি লাগবে? কিছু না বলে বের হয়ে আসি। মনটা আরো খারাপ হয়ে যায়।

যখনই সময় হয় , বা বন্ধুটির জন্য মন বেশি আনচান করলে আমি বইটা খুঁজতে বের হই। যে সব দোকানে কয়েক বার জিজ্ঞেস করেছি, ওরা ঢুকতে দেখলেই হেসে বলে এখনো আসেনি। ওদের চোখে হাস্যকর হয়ে যাচ্ছি মনে হওয়ায় কিছু না কিছু কিনতে হয়। অন্য বই বাছাইয়ের ভাব করে তন্নতন্ন করে খুঁজি বইটা কোথাও লুকিয়ে আছে কি না।

প্রথমবার বইটি কিনে ছিলাম বরিশালের বুক ভিলা থেকে। ৯৪ সালে। সে বছরই বইটি বের হয়েছিল । একাত্তর পৃষ্টা লেখার ছোট একটি বই। নাম পরিচ্ছদটি মাত্র ৩২ পৃষ্টার। এই অধ্যায়টির জন্যই বইটি প্রথম পাঠে ভালো লেগেছে। তবে প্রথমে ভালো লেগেছিল প্রচ্ছদ দেখে। প্রবীর সেনের আঁকা আমার চোখে অদ্ভুত রকম সুন্দর প্রচ্ছদের বইটি দেখে আর কিছু না চিন্তা করে, বাইশ টাকা দিয়ে । প্রেম নিয়ে লেখকের চিন্তা । নাম-গদ্যটির বিষয়। অন্য তিনটি গদ্যও ভীষণ সুখপাঠ্য।

গত শনিবার খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আজ বিকালে বই খুঁজতে যাবো ভেবে মন উৎসব মুখর করে তুললাম। বইটা খোঁজা মানে শুধু বন্ধুকে ভেবে তার সঙ্গেই সময় কাটানো। কখনো যদিও মনে আসে বইটা ওর পড়াও থাকতে পারে। তখন পাল্টা যুক্তি দেই তাকে কেমন পছন্দ করি লেখাটার সঙ্গে তার মিল অদ্ভুত। সে এটা বুঝবে।

তক্ষশীলা থেকে শুরু করলাম। আশ্চর্য ! প্রথমায় ঢুকেই ডান দিকের তাকে বইটা । ছোঁ মেরে বইটা নিয়ে টাকা পরিশোধ করে বের হয়ে এলাম। এখন নব্বুই টাকা ।

বন্ধুর সঙ্গে কবে যোগাযোগ হবে জানি না। বিশ্বাস আছে , হবে। তবে তার জন্য উপহারটি পরম যত্নে রাখা আছে। মাঝে মাঝে প্রচ্ছদটি দেখি। এতো সুন্দর ! যাতে নতুন থাকে, এজন্য অল্প খুলে পাতার ঘ্রাণ নেই। এক দুলাইন পড়ি। একটা লাইন আছে , ‘হাওয়ার মুখে ফুল গাছের মতো লুটোপুটি খাচ্ছিল... '। বইটার প্রতি লাইন আমার বন্ধুর নামে চোখের সামনে দৃশ্যায়িত হয়ে সকাল সাঁজে ঘুরে ঘুরে যায়। মনে হয় বন্ধুর সাথে গল্প করছি। এই লেখাটা যতক্ষণ লেখলাম,মন ভেজা বেড়ালের মতো শান্ত হয়ে হাসি হাসি মুখে টেবিলের কোনে বসেছিল। কখনো আরামে চোখ বুজে আসছিল !



লেখা : ১৮ - ১৯/০৫/১০ ইং
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29158273 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29158273 2010-05-19 17:43:22
গীতা দত্ত'র সঙ্গে পরিচয়


সে রাতে বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পর কারেন্ট চলে গেল একটার দিকে। তার মানে দুইটার আগে আসবে না। আর সবাই ঘুমে তখন। কয়েক দিন আগে থেকে ব্যক্তিগত একটা বিপর্যয়ের কারণে প্রচ- অস্থিরতায় মধ্যে সময় কাটছিল। স্বাভাবিকভাবে সব কিছুই অসহ্য লাগে এধরণের সময়ে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মেজাজ খিঁচড়ে সপ্তমে উঠে গেল। অনেকক্ষণে আসবে না। পাশের বাসার আন্টি বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়েছে। কারেন্ট গেলে ঠিক কাটায় কাটায় এক ঘন্টার মাথায় আসে। কোন নড়চড় হয়না।

কি করবো না করবো বুঝতে না পেরে চুপচাপ বসে ছিলাম। আর মর্মঘাতী সাম্প্রতিক বিষয়টি হৃদয়ের উনুনে উল্টে পাল্টে কোন উপায় আছে কিনা উপশমের তাই বের করার চেষ্টা করছিলাম। সম্মোহনের বইয়ে পড়া অটো সাজেশন দিয়ে রেহাই পাওয়া যায় কি না তাও পরীক্ষা করলাম। নাহ , মন বশ মানে না। কঠিন কঠিন প্রশ্ন জাগে মনে। কিসের কি ! উল্টো মনে হলো, এতো হিসেব নিকেশের ব্যপার নেই। যে কারো সাথে সুযোগ পেলেই অনেক কথা বলে ফেলতে হবে । আন্দাজে,অনুমান করে উল্টা পাল্টা কথা বলতে হবে। ভুল হলে কেউ কিছু বললে তার সঙ্গে প্রচ- ঝগড়া বাঁধিয়ে দিতে হবে। সব তালগোল পাকিয়ে জটিল ঝামেলা পাকিয়ে ফেলতে হবে। ছোট ছোট ঘটনাকে অনেক বড় করে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে হবে।একটু জ্বর সর্দি হলে ক্যান্সার হয়ে গেছে এমন ভাবে কঁকাতে হবে। তাহলে মনের ইতং বিতং জুত করতে পারবে না !

নিজের সঙ্গে নিজের আকাশ কুসুম যুক্তি তর্কে ছেদ পড়লো টিভির শব্দে। বিদ্যুৎ এসেছে। কিন্তু টিভি থেকে চোখ ফেরানো মুস্কিল হলো। এক নায়িকা গিটার হাতে একটা গান গাইছেন। কণ্ঠে কি এক জাদু আছে ! মন বশিভুত হয়ে যায়। আর যিনি গাইছেন , তার ঠমক গমকইবা কই রাখি ! চোখ নাচাচ্ছেন না যেন তুলে আছাড় মারছেন ! আর কি অপরূপ হাসি ! সুবহানআল্লাহ ! এমন চমৎকার করে কাউকে হাসতে দেখিনি। বিদ্যুৎ চলে গেলে আর ফিরে আসলে টিভিটায় এমনিতে চ্যানেল বদলে যায়। এই বার একটা মিউজিক চ্যানেলে হাজির হয়েছে কোন ভাবে। সেখানে চলছে এই গান । গানটার শেষ দিকে শিরোনাম উঠলো , তকদির সে ,বাজি- ৫১ । মোবাইলে নামটা লিখে করে রাখলাম।
পরদিন ইউটিউবে সহজেই পেয়ে গেলাম। কয়েকবার শুনে নিলাম আগে। যেহেতু হিন্দির কিছু বুঝিনা, চারজন হিন্দি সিনেমা ও গানে বিশেষজ্ঞকে নিয়ে বসলাম অর্থ বের করতে। হিন্দি সিনেমায় মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারণে এক সময় মায়ের হাতে হরহামেশা মার খাওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্না সদস্যটি বললেন, আরে এতো গীতা দত্ত ! গেয়েছেনও তিনি। গুরু দত্তের ওয়াইফ। গুরু দত্ত পরে আরেক জনের লভে পরলে তিনি মাত্রাতিরিত্ত মদ্যপান শুরু করেন। একসময় এই কারণেই মারা যান। তাকে আবার পছন্দ করতেন দেব আনন্দ। তাদের মধ্যে অনেক ঝামেলা ছিল। এই সিনেমাটার নাম বাজি। অনেক সোন্দর। বাজি নামে আমীর খানেরও একটা সিনেমা আছে। বাড়ির সুপারি , নারকেল , চাল বিক্রি করে এলাকার সিনেমা হলে বুঝ হবার পর থেকে এলাকা ছাড়া হবার আগে পর্যন্ত প্রত্যেকটি সিনেমা দেখা ও খুপরি ঘরে পাঁচ টাকা করে টিকিট কেটে ছোট বেলা থেকে বছরের পর বছর ভিসিআরে হিন্দি ফিল্ম দেখার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চিন্তিতস্বরে বললেন, এই নায়িকার নাম বোধ হয় গীতা বালি। গানটা গীতা দত্তেরই। আর গীতা দত্তের বাড়ি বাংলাদেশেই। নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে গানটাতো তার! অনেক গান আছে তার বিখ্যাত। হরেক রকম তথ্যে জটিল গিট্টু লেগে গেল। কোন কথাই সঠিক মনে হলো না এক পর্যায়ে আর। তার চেয়ে গানটার অর্থ বলো এতো ভালো লাগছে কেন ! ওরা যা বললো , গানের মানে হলো , ভাগ্য পছন্দ না হলে নিজেই ভাগ্য গড়ে নাও। কোন আশা না থাকলে তাই নিয়ে বাজি ধরো। মাঝ পথে নৌকা ভেঙ্গে গেলে সেখান থেকেই যাত্রা করো, পেছনের কিছু মনে রাখার দরকার নেই। এরকমই কী কী কথা। কথাগুলোওতো সুন্দর
মনে হলো !

অদ্ভুত জগত ও জীবন ছিল তার। তিনি ১৯৩০ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার এক ধণাঢ্য জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পরে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মুম্বাইয়ের প্রথম সাড়ির প্লেব্যাক সিঙ্গার ছিলেন তিনি । গান বিষয়ে পুরোপুরি অজ্ঞ আমি তার সম্পর্কে এতোদিন কিছু জানতাম না এই জন্য খুব ভালো লাগছে। খুব দুঃসময়ে তার সৃষ্টি আমাকে কিছুটা হলেও আশ্রয় দিল । গীতা দত্ত আর গীতা বালির কাছে খুব কৃতজ্ঞ লাগছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম তার গাওয়া গানের এ্যালবাম বড় সব দোকানেই পাওয়া যায়। ভাল লাগছে জোগাড় করা যাবে যে কোন সময়।

উইকিপিডিয়ায়

প্রথমআলোর একটি লেখা

বাজীর গানটির কথা

গীতার উপর একটি সাইট

গীতার উপর জিও টিভির সুন্দর একটা রিপোর্ট]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29154982 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29154982 2010-05-14 21:55:24
পাণি গ্রহণ (নবনীতা দেবসেন 'র কবিতা) এই মুহুর্ত বুঝি সত্য নয়। ছুঁয়ে থাকো।
শ্মশানে যেমন থাকে দেহ ছুঁয়ে একান্ত
স্বজন। এই হাত, এই নাও হাত।
এই হাত ছুঁয়ে থাকো, যতক্ষণ
কাছাকাছি আছো,অস্পৃষ্ট রেখো না।
ভয় করে। মনে হয় এই মুহুর্ত বুঝি সত্য নয়।
যেমন অসত্য ছিল দীর্ঘ গতকাল
যেমন অসত্য হবে অনন্ত আগামী।

###


এই কবিতা খানি দারুণ মিঠা লাগে আমার
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29153015 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29153015 2010-05-11 12:56:21
বড় গল্প : এ্যালবাম ঘরে পানি ঢুকবে , দাঁড়াও দাঁড়াও বলে, জহিরকে দরোজার বাইরে দাড় করিয়ে রেখে দ্রূত দৌড়ে ভেতরে ঢুকে একটা তোয়ালে এনে দেয় ইয়াসমিন। বাইরে তখনো বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ঝড়ো বাতাস। বাইরে রাস্তায় গাছ পরেছে বেশ কয়েকটা। মিন্টু রোডেই তাই রিক্সা ছেড়ে আসতে হয়েছে। বেইলি রোডের সরকারি কোয়ার্টারের তিন তলায় ইয়াসমিনদের বাসায় এই নিয়ে চতুর্থ বার এলো জহির। আগের তিন বার এসেছে কমপক্ষে দশ বছর আগে। এতো দিন পর যে দেখা ইয়াসমিনের মুখ দেখে বুঝার কোন উপায় নেই। মুখে উজ্জল হাসি জ্বালিয়ে জহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। বলে , জুতো জোড়াও বাইরে রেখে এসো।

বাইরের ঘরে ছোট একটা বাচ্চার কথা বলা নিয়ে হাসা হাসি করছিলেন ইয়াসমিনের মা, বড় ভাইসহ অচেনা দুটি মেয়ে। জহিরকে দেখে ওরা ভেতরের ঘরে চলে যায়। পেছন থেকে ইয়াসমিন ডাকে , মা মা তুমি জহিরকে চিনতে পার নি! ইয়াসমিনের মা ডাক শুনতে পাননি মনে হয়।

ভেতরে গিয়েছেতো গিয়েইছে। পনের মিনিটের মতো হলো ইয়াসমিনের দেখা নেই। সন্ধ্যায় এক মূহুর্ত দেখলেও মেয়েটা আগের চেয়ে কত রূপসী হয়েছে সামনা সামনি না দেখলে কল্পণাও করতে পারতো না জহির। সঙ্গে ইয়াসমিনের হাসিটাও বদলেছে অনেক। আগে ওর হাসি দেখলে বিভ্রান্ত হতো জহির। হাসিতে কেমন উপেক্ষা মেশানো থাকতো। তোয়ালে এগিয়ে দেয়ার সময়ের হাসিতে গভীর আন্তরিকতা ফুটে উঠেছিল। স্নিগ্ধ। মায়াময়।

রুমে ঢুকছে ইয়াসমিন। হাতে এলবামের মতো কিছু একটা। তার পেছনে ট্রে হাতে অন্য একটি মেয়ে। গোপনে দীর্ঘশ্বাস চাপে জহির। কত আগেই, পরিচয়ের কয়েক দিনের মধ্যে সেই সঙ্গীত সন্ধ্যায় সে নিশ্চিত হয়েছিল এই মেয়েটা তার আপন কেউ হবে না কোন দিন ! ভেতরে ঢোকার সময়ে দেখা শিশুটি নিশ্চয়ই ইয়াসমিনের! এলবামের নিচ থেকে একটা শার্ট ও পাজামা বের করে জহিরকে দেয় ইয়াসমিন। ওয়াশ রুম দেখিয়ে বলে ভেজা কাপড় ছেড়ে আসো। এগুলো শুভর। তোমার গায়ে লেগে যাবে মনে হয়। তাড়াতাড়ি করো। চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। রাতও হয়েছে অনেক। কতো কথা বলতে হবে। এর মধ্যেই তুমি অনেক ঝামেলা করেছো !

২.
বৃদ্ধ সেঁতার বাদক আঙ্গুলের জাদুতে কী এক অচেনা মিষ্টি আবহ সৃষ্টি করলেন। গভীর মননিবেশ তার। রেজওয়ানা চৌধুরী বণ্যার মৃদু মাথা দুলুনি তাকে বাদ্যযন্ত্রগুলোর আঁকুতি,চিৎকার আর ফুফিয়ে কান্নার মধ্যমনি করে তুললো।তার ডান হাতের ইঙ্গিত শূন্যে বাতাসের ক্যানভাসে রঙিন অদৃশ্য কালিতে এঁকে দিচ্ছিল সুরের রূপকল্প।

পুরো ঘটনাটাই তিনি ঘটালেন ত্রিশ - পয়ত্রিশ সেকেন্ডে !

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আশার ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার জহির আহমেদ মাথা ঘুড়িয়ে চার পাশে দেখে। সঙ্গীতে মগ্ন এই দর্শক শ্রোতার মধ্যে নিজেকে তার খুব অবাঞ্ছিত মনে হয়। এমন সুন্দর পরিবেশ এর আগে কখনো দেখেনি। খুব প্রশান্তি ছড়ানো। তাড়াহুড়ো নেই কারো মধ্যে।

ইয়াসমিন মঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছে। অফিসে অন্য একটি বিভাগে ট্রেইনার হিসেবে কাজ করে সে। বড্ড নাক উঁচু স্বভাবের। এই মূহুর্তে তাকে সুচিত্রা সেনের মতো কোমল,আটপৌরে,রহস্যময় ও আকর্ষণীয় লাগছে। গানে ভীষণ মগ্ন হয়ে আছে । জহির তাকিয়ে আছে লক্ষ্য করে সৌজন্য করে হাসে। আবার মনযোগ দেয় গানে। ইয়াসমিনের লম্বাটে ফর্সা মুখ হল রুমের নরোম আলোয় খুব পরিচিত ও আপন মনে হয় ।

সেঁতারের একটা মৃদু ঢেউ মিলিয়ে যেতে যেতে হলের নিস্তব্দতা আরো গাঢ় করে দিচ্ছিল। অকস্মাৎ স্টেজের অন্ধকার অংশের সাথে প্রায় মিলিয়ে থাকা একজন মানুষ নড়ে উঠলেন। তার কিবোর্ড থেকে চৈত্র বিকালে আনন্দ মাখা বাতাসের উচাটন আর হাতছানিসহ বাঁশির সুর ধ্বনিত হলো। বণ্যা সুর তুললেন। তুমি খুশি থাকো আমার পানে চেয়ে চেয়ে...

খোলের উদ্দীপনা ,সেঁতারের আনন্দ আর এই বণ্যার সুরের ঢেউ কোথায় ডেকে নিচ্ছে ! নাকি সে সম্মোহিত হয়ে যাচ্ছে অপরিচিত এই আয়োজনে, মুগ্ধতায়।

পথে ঝড়া পাতা উড়ে যাওয়ার মতো স্বল্প সময় ইয়াসমিনের সামনে থাকলেও এই অল্প চেনা মেয়েটিই এখন পর্যন্ত জহিরের সবচেয়ে কাঙ্খিত মানুষ । তার কাছাকাছি থাকা সময়টুকুর প্রতিদিনের প্রতি মূহুর্ত মনে ভাসে ।


৩.
আজ আবার কত দিন পর ইয়াসমিনকে দেখলো জহির? নিজে নিজে হিসেব করে সে। দশ বছর হলো প্রায়। সময় কি দ্রুত চলে যায়। আর এই সময় কি অসম্ভব সুন্দর করে দিয়েছে মেয়েটাকে ! ঝড় বর্ষার এই সন্ধ্যায় কোত্থেকে এলো সে। বৃষ্টি কনা মাখা দমকা বাতাসের সন্ধ্যাটা রাত্রির রূপ ধরেছে ইতোমধ্যে। ইয়াসমিনকে দেখতে ভুল হয়নি। বৃষ্টির ছটা থেকে রক্ষা পেতে পলিথিনের পর্দা জড়িয়ে সিটের মাঝামাজি সোজা হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ছিল। জহির ভেবে কূল করতে পারে না এই সরল স্বভাবের মেয়েটা তাকে এতো কষ্ট দিতে পারে কিভাবে ! একান্ত আপন ও ঘনিষ্ট কেউ না হয়েও। আজ সন্ধ্যায় একটু কথা বললে কি হতো ! পরিচিত কারো সাথে দেখা হলে মানুষ এমনি এমনি কত কথাইতো বলে। তীব্র অভিমানবোধ জাগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া বন্ধুটির প্রতি।

অবশ্য মদের দোকানের সামনে জহিরকে দেখলে খারাপ ধারনা করতো ইয়াসমিন। কি না কি ভাবতো এই ভেবে চোখাচোখি না হওয়ায় এক ধরনের স্বস্তি বোধ করলেও ইয়াসমিনের আচরনটা কিছুতেই মানতে পারছে না জহির। অনুমান করে আজিজ মার্কেট বই কিনতে গিয়েছিল হয়তো। সেখান থেকে ভেতরের রাস্তা দিয়ে সাকুরার সামনে দিয়ে শেরাটন পর্যন্ত রিক্স্রা নিয়েছে। এদিকে রাস্তাটা একটু নির্জন। ইয়াসমিনরা এখনো বেইলি রোডে কোয়ার্টারে থাকি নাকি!

ইয়াসমিন নিশ্চয়ই ওকে দেখতে পেয়েছে ! দেখেও উপেক্ষা করেছে। দূর থেকে দেখে পাশ কাটানোর সময় চোখ বন্ধ করে ছিল। যাতে চোখাচোখি হতে না হয়। তখন জহির সবে মাত্র একটা পা দিতে যাবে সিড়িতে। দেখতে একটু মুটিয়েছে ইয়াসমিন। বিয়ে করেছে কাউকে ? বিয়ের দাওয়াত দেয়ার মতো সম্পর্ককি ছিল ওদের? এমন পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার মতো সুসম্পর্ক ছিল বলে হয়তো মনে হয়নি ইয়াসমিনের কাছে। হয়তো মনেই ছিল না !


বারে আজ অনেক ভীড়। হৈ চিৎকার , কোলাহলে কান পাতা দায়। কোনার টেবিলে একবুড়ো খুব কাশছেন। তার গায়ে মোটা একটা সুয়েটার । গলায় মাফলার জড়ানো। সঙ্গে আরো কয়েকজন বুড়ো।

হঠাৎ বাইরে বৃষ্টি আর বাতাসের বেগ বাড়ে। ইয়াসমিন নিশ্চয়ই এতোক্ষণে পৌঁছে গেছে। রাত আটটা বাজে প্রায়। লম্বা রুমটির মাঝামাঝি একটা ছোট টেবিলে একা বসে আছে জহির। কয়েকজন বন্ধু আসার কথা ছিল আজ। বর্ষার জন্য আসতে পারবে কিনা কে জানে। ফোন না করে অপেক্ষা করতে থাকে । ঝুম বৃষ্টি বাইরে। কাঁচের জানালার ফাঁকফোকর গলে বৃষ্টির ছাট এসে পরছে কিছুটা। সোডিয়াম বাতির হলদেটে আলোয় রাস্তার ওপারের কয়েকটা গাছ নুয়ে পরেছে । বাইরে থেকে বাতাসের শো শো শব্দ আর রুমের ভেতর লোকজনের কান ফাটানো চিৎকার খুব আনন্দময় মনে হয় জহিরের কাছে। যেন আগের যুগের কাঠের জাহাজে করে সাগর পাড়ি দিচ্ছে সবাই। বৃষ্টি বাতাসে সাগর রুদ্ররূপ নিতে যাচ্ছে। সে দিকে ভ্রƒক্ষেপ নেই কারো। সবাই উল্লাস করছে।

ইয়াসমিনকে সন্ধ্যায় দেখার পর থেকেই মনে ভাল লাগা ছড়িয়ে আছে। যদিও ওই গান শোনার সন্ধ্যায়ই জহির জেনে যায় এই মেয়েটির মন অন্য কোথাও অন্য কারো কাছে বাঁধা পরে আছে। ইয়াসমিনই ওকে গানের আসরে নিয়ে গিয়েছিল। পাবলিক লাইব্রেরীতে রেজওয়ানা চৌধুরী বণ্যার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। রেজওয়ানা চৌধূরী বণ্যার কাছে গান শিখে ইয়াসমিনের পরিচিত একজন। সে দুটো টিকেট দিয়েছে। জহিরকে কী কারণে সে বলে বিকেলে গান শুনতে চলেন। কোন কাজ নেইতো ? জহিরের হোন্ডায় চড়তেও আপত্তি তার। বলে, অটো নেন। ইয়াসমিনের এই অধিকার খাটিয়ে কথা বলা এলোমেলো করে দিয়েছিল জহিরকে। গোপনে ভাললাগা দ্রুত ছড়াতে শুরু করেছিল।

৪.
অফিস ট্রেনিংএ সারা দেশের ব্রাঞ্চগুলো থেকে আসা প্রায় আট হাজার তরুণ তরুণীর মধ্যে কিভাবে কিভাবে জহির ও ইয়াসমিন ব্যক্তিগত কথা বিনিময়ের পর্যায়ে পৌঁছতে পেরেছিল। পরিচয়ের পর কথায় কথায় ইয়াসমিন জানিয়েছিল, তার প্রিয় ফুল জারুল। কাঠফাটা রোদের মধ্যে জারুল ফুলের রঙ দেখতে খুব ভালো লাগে। এর বেগুনি পাপড়ির দিকে কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে চোখ বড় করে তাকিয়ে সামনে রোদের দিকে হঠাৎ দেখলে রোদের তরঙ্গও ষ্পষ্ট বেগুনি হয়ে যায়। দেখতে ভালো লাগে। ইয়াসমিনের ছেলেমানুষি কথায় হাসিতে ভেঙ্গে পড়েছিল জহির।

সেদিনও আকাশ মেঘলা ছিল। শ্যামলির অফিস থেকে আগে আগে বের হয় দুজন। অল্প চেষ্টাতে একটা অটোও জোগাড় হয়ে যায়। শাহবাগ আসার পর পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে থামতে না দিয়ে অটো চালককে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে নিয়ে আসে জহির। ইয়াসমিন বাঁধা দেয়না। বলে, অটো হলো মিনি আইল্যান্ড । যাত্রীদের স্বাধীন ভুমি। বলে রহস্যময় হাসে। পুরুষ সঙ্গী এর অর্থ ভালো বুঝতে পারে না।

বয়সি গাছটির নিচের দিকের একটি ডাল টেনে এক থোকা ফুল ছিড়ে এনে দেয় ইয়াসমিনকে। সে ফুলগুলো হাতে পেয়ে ঝলমলিয়ে ওঠে। কোথায় দেখি দেখি বলে অটো থেকে নেমে গাছটির দিকে তাকায়। ইয়াসমিনকে মুগ্ধ হতে দেখে জহিরের মন ভরে যায়। ফিরতি পথে ফুলগুলো বার বার আগ্রহ নিয়ে দেখছিল ইয়াসমিন। ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে পাবলিক লাইব্রেরী পর্যন্ত খুশিতে ডগমগ সঙ্গীনি নিয়ে পথ পাড়ি জহিরের জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়। জহিরকে লজ্জাহীন স্বপ্ন উচ্ছসিত করে তুলেছিল। গানের অনুষ্ঠানে ডাকা, ফুল পেয়ে খুশি হওয়া- এসবের হাজার অর্থ করে মনে মনে। অবাক হয়ে ফুল দেখার সময় জহির পাশে পাশে হেঁটে কে বেশি লম্বা মাপার চেষ্টা করছিল। ইয়াসমিন বুঝে ফেলে । হেসে বলে আমি আপনার চেয়ে একটু বেশিই হবো ! আমি পাঁচ ফুট পাঁচ। জহির লজ্জা পেয়ে বলে, না না আমি তা দেখিনি। ফুল দেখছিলাম !

হলে রুমমেট শহিদুলের গানের প্রতি খুব ঝোঁক ছিল। অনেক মুখস্তও ছিল। তার থেকেই যা গান শোনা হয়েছে। ক্যাসেট প্লেয়ার ছিল একটা । দিন রাত গানের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল দীর্ঘ দিন। শহিদকে কখনো কখনো খুব নিঃসঙ্গ ও দুঃখি মনে হতো । বন্ধু বান্ধব বিশেষ ছিল না। কারো সাথে মিশতেও চাইতো না।


এই গানটা নিয়ে শহিদুলের আলোচনা মনে পড়ে । জহিরের কাছে প্রেমের গান মনে হলেও শহিদুল বলেছে ,ওভাবে ভাবতে পারো। তবে এটা মূলত ঈশ্বর বন্ধনা। মিলিয়ে দেখ। কিন্তু বন্ধুত্ব মনে করে শুনলে মন্দ কি। রবীন্দ্রনাথতো এসে না বলবেন না। যার যেমন ভালো লাগে। ভালো লাগলো কি না এটাই আসল কথা।




৫.
বণ্যার কণ্ঠ আর তাতে সেঁতার , খোল ও বাঁশির সঙ্গত জহিরকে অচেনা দুজন মানুষের রঙিন সুখ দৃশ্যে নিয়ে যায়। এর আগে অটো থেকে হল রুমে আসা পর্যন্ত লম্বা লম্বা শ্বাস টেনে ইয়াসমিনের পোষাক না শরীর থেকে উড়ে আসা মিষ্টি ঘ্রান পাওয়ার চেষ্টা করছিল।

গানে মোহিত হয়ে যায় জহির। কেউ যেন তার প্রিয় মানুষটির দিকে তাকিয়ে খুশিতে আত্মহারা। নাকি তার প্রেয়সিই বেশি খুশি প্রেমিকের আনন্দ দেখে। ভাবনার সূত্র তাকে একটা মৃদু খটকায় পৌঁছে দেয়। ইয়াসমিন কখনো তাকে খুশি করতে কিছু করবে? তাদের সম্পর্ক এতো ভালো কখনো হবে! চিন্তার পর পর নিজের কাছেই তা অবান্তর মনে হয়।

‘তোমার পরশ আমার মাঝে সুরে সুরে বুকে বাজে’- গায়িকা অন্তরার এখানে পৌঁছতেই স্বগতোক্তির মতো আহা বলে মুগ্ধতা প্রকাশ করে ইয়াসমিন। চমকে তার দিকে তাকিয়ে জহির দেখে, হাঁটুর উপর মোবাইল ফোনটি উচিয়ে ধরে আছে ইয়াসমিন। স্টেজমুখো করে। মুহুর্তে মাথা ফাকা হয়ে যায় জহিরের। ফোনে ইয়াসমিন কাউকে গানটি শোনাচ্ছে। যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো মাথায়। যা কোন দিন পায়নি তাই হারানোর গভীর ব্যথা অনুভব করে। পাশে বসা মেয়েটিকে অনেক দূরের ও অচেনা জগতের মানুষ মনে হয়। খুব সুন্দর না বলে গানের এক পর্যায়ে লাইন কেটে উঠে দাড়ায় ইয়াসমিন । বলে চলুন। অনেক রাত হয়ে গেল। জহির অপ্রস্তুত হয়ে যায়। মন জুড়ে থাকা বিষাদের আস্তর , বিস্ময় কাটিয়ে বলে - চলুন।

বার বার প্রয়োজন নেই বললেও ইয়াসমিনকে বাসায় পৌঁছে দিতে সঙ্গী হয় জহির। পুরো পথ জুড়ে কোন কথা হয় না। আবার বিষণ্নতা গ্রাস করে জহিরকে। অটোতে নিজের হাঁটুতে রাখা হাত বেখেয়ালে ইয়াসমিনের হাঁটু ছুয়ে গেলে মোবাইল দিয়ে মৃদু ঠুকে সচেতন করে হাত সরিয়ে নিতে বাধ্য করে।

এই দূরুত্ব আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি জহির। বা নিজেই দ্রুত দূরে পালাতে চেয়েছে। এক সুখের সন্ধ্যা তাদের হাজার দিন রাতের দূরুত্বে ঠেলে দিয়েছিল। কোন ট্রেনিংএ ইয়াসমিনকে দু এক বার স্বভাবসুলভ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখেছে জহির। কিন্তু সে অসীম ঈর্ষায় কুকড়েই গিয়েছে শুধু। এর পর ঢাকার বাইরে পোস্টিং। চাকরি ছেড়ে নতুন করে শুরু করা।

বৃষ্টি একটু কমতে বার প্রায় খালি হয়ে গেল।এ কোনায় ও কোনায় ছড়িয়ে থাকা টেবিলে কয়েক জন বসে আছেন। ওয়েটার এসে বৃষ্টি কমেছে বলে জানায়। আর জিজ্ঞেস করে কিছু খেলেন না স্যার ?

জানালা খুলে নিচে তাকাতে রাস্তায় থৈ থৈ পানি চোখে পড়ে। শীতল মিষ্টি হাওয়ার ধাক্কা লাগে নাকে মুখে। চকিতে লোভটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আঙ্গুল নিয়ন্ত্রণহীন যেন। নাম্ভার টিপে কল করে দেয়। ওপ্রান্তে ইয়াসমিনের কণ্ঠস্বর !


৬.

গোসল করার পর একটু শীত শীত লাগছে জহিরের। ইয়াসমিন এলবামটি চিন্তিতভাবে ওল্টানোর ফাঁকে দ্রুত চা শেষ করতে বলে জহিরকে।

এরপর ইয়াসমিনের কথায় ও কা-ে হতবাক হয়ে যায় জহির। হাতে ছবি রাখার মতো বড় একটি এলবাম দেখিয়ে বলে, আজ রেজাল্ট ঘোষণা করবো। এটা হলো আমার প্রেম খাতা। বুঝতে পারার পর থেকেই ছেলেদের নোংরা দৃষ্টিতে গা রি রি করে উঠতো আমার। এখনো তাই। ঠিক করেছিলাম,কারো দৃষ্টিতে যদি এই অসস্তি না থাকে আর সে যদি বন্ধু হতে চায় তাহলে বন্ধু করে নেব। কিন্তু,খুব কম ছেলেই দেখেছি এমন। এই যে এই ভিউ কার্ডটা ক্লাশ নাইনে পড়ার সময় আমাদের মালিবাগের বাসার পাশের টিটু দিয়েছিল। সাদার মধ্যে কমলা ছোঁপ দেয়া দুটো পায়ড়া ঠোঁট মিলিয়ে পাখা ঝাপটাচ্ছে এমন ছবি আঁকা একটি ভিউ কার্ড দেখিয়ে বলতে থাকে ইয়াসমিন। পরে একবার মাথা টাকলু করে বখাটেদের সাথে আড্ডা দেয়া শুরু করায় ওর কিছু আর এ্যালবামে রাখিনি। এই চিঠিটা আবীর দিয়েছিল। ওর অনেকগুলো চিঠি আছে। কিন্তু হঠাৎ করে সাহস বাড়িয়ে দেয়ায়,বাআআদ!

এমন ভাবে বাদ বলে ইয়াসমিন , যেন বাদ দেয়া খুব আনন্দের।

এরপর দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে মনযোগ দিয়ে চোখ বুলাতে বুলাতে কয়েকটা পাতা উল্টে যায় ইয়াসমিন। কয়েকটি পাতায় ওর হাতের লেখা দেখতে পায় জহির। মনে হয় ওর কোন ছেলের আচার ব্যবহার নিয়ে পর্যবেক্ষণ... মনে মনে ভাবে জহির।

এই যে এটা হলো আপনার একাউন্ট ! চেয়ারে দু হাঁটুর উপর এলবামটি খুলে ডান হাতের তর্জনী দিয়ে টোকা দেয় ইয়াসমিন। তারপর মনোযোগ দিয়ে তাকায় জহিরের দিকে। নিরবতা ভাঙ্গে ইয়াসমিনই। ফলাফল ঘোষণার নাটকীয় কণ্ঠে বলে , আপনি বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন ! আপনাকে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো। আপনাকে অভিনন্দন জনাব জহির আহমেদ ! আর এই হলো আপনার সেই ঐতিহাসিক জারুল ফুলের পাপড়ি । শুকিয়ে শুটকি হয়ে গেছে !

কি বলবে বুঝে উঠতে পারে না জহির। ইয়াসমিন ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। এবারও নিরবতা ভাঙ্গে ইয়াসমিন। বলে,এবার তাহলে রক্ষা করুন স্যার। বাসায় যান। অনেক রাত হলো। আপনাকে এখন বাসায় থাকতে দিলে বুড়ো বয়সে মায়ের হাতের মার খেতে হবে। শুভর শার্ট,পাজামা কাল এসে দিয়ে যেয়ো।

জহির উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে জিজ্ঞেস করে, কিন্তু আমি প্রথম হলাম কি করে ? আমি আজ ফোন না করলেতো জীবনে এই ফলাফল জানতাম না। সন্ধ্যায় আমাকে দেখে চোখ বুজে ছিলেন কেন!

আমি ফলাফল জানানোর জন্য তোমাকে অনেক খুঁজেছি । তিন বছর আগে রাজশাহী ব্রাঞ্চে ট্যুরে গিয়েছিলাম তুমি ওখানে আছো শুনে। পরে জেনেছি তার আগেই তুমি ছেড়ে চলে গেছ। আর সন্ধ্যায় যে, চোখ বুজেছিলাম তখন তুমি আমাকে দেখেছিলে ? আমি চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির শব্দ শুনছিলাম। তুমি তখন ডাকোনি কেন !

আমাকে দেখে তুমি চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে গিয়েছ দেখে মন খারাপ হয়েছিল। তাই ডাকিনি। বলতে বলতে দরোজা খুলে দেখে বাইরে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে আবার।

আরে আমাকে ভিজিয়ে দিচ্ছতো, বলে এগিয়ে এসে দরোজা চাপিয়ে দিয়ে ইয়াসমিন প্রশ্ন করে, আচ্ছা জহির তুমি বণ্যাদির গানের অনুষ্ঠানের পর এতো মন খারাপ করেছো কেন ?

জহিরের মন আবার বিষাদে ছেয়ে যায়। বলে , আমরা দুজন গান শুনতে গিয়েছি ,কিন্তু তুমি ফোনে কাউকে গান শোনাচ্ছ !

জহির কথা শেষ করতে পারে না। হাত তুলে তাকে থামিয়ে হুবহু যেন বৃষ্টির শব্দ নকল করে হাসিতে ভেঙ্গে পরে ইয়াসমিন। বলে, আমি সে রাতে গান শুনিয়েছি মিতু কে। আমার ছোট বোন ওকে চেন না ! তোমার নাম্বার আরো বাড়িয়ে দেব চিন্তা করো না। বোকামিতে তোমাকে কোন নাম্বারই দেয়া হয়নি,আমি খুব দুঃখিত। আচ্ছা তুমি এখন যাও। দাঁড়াও দাঁড়ায় ছাতাটা নিয়ে যাও। বাসায় পৌঁছেই ফোন করে জানিও জহির ।

ইয়াসমিনের কণ্ঠের মমতা জহিরকে আরো ঘোরগ্রস্ত করে ফেলে। মুখ ঝাঁকিয়ে সায় দিয়ে দরোজার বাইরে পা বাড়ায় সে। বৃষ্টির ফোটা এড়ানোর জন্য ছাতাটা সামনে বাড়িয়ে একটু ঝুঁকে হাঁটতে হচ্ছে। পেছন থেকে ইয়াসমিনের কণ্ঠ শুনতে পায় জহির। শিগগির পাপড়িগুলো বদলে দিও কিন্তু !

পেছন ফিরে জহির দেখতে পায় ইয়াসমিন দরোজা বন্ধ করে দিচ্ছে। মেয়েটার হাসিমাখা মুখ এক মুহুর্তের জন্য দেখতে পায় সে।



রচনা: ২৫ ফেব্রুয়ারি - ২৬ এপ্রিল , ২০১০ ইং
উৎসর্গ : জহির রায়হান
শেষ বিকেলের মেয়ে উপন্যাসের জনক
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29142501 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29142501 2010-04-26 13:25:06
স্বপ্নময় ও নিষ্ঠুর মেঘকুণ্ডুলির সংশয় আড় চোখে তোমার লাবণ্য পোড়াবে সঞ্চিত সন্তাপে

তাকে আমার কথা বলো না।

বেদনায় ভরা তার বাহু, আঙুল , দৃষ্টি । দুঃসাহসী অন্ধকারে
স্বপ্নময় ও নিষ্ঠুর মেঘকুণ্ডলির সংশয় নিয়ে তোমার মুখের অনান্তীয় রেখা
ছুঁয়ে যায় যদি ;

তোমার গোপন চিবুকে , বৈদ্যুতিন ম্যানায় জমানো আমার
উপর পড়া অনুরাগ , বহুবর্ণ ঈর্ষা ধ্বনি , লক্ষ্যহীন ঝড় - বৃষ্টি ,
পরাজিত লু হাওয়া তার আড়াল করে রেখো।



রচনা: ২৪/০৪/১০


সকাল থেকে বসে লিখলাম। এখন মনে হচ্ছে অন্য কারো লেখা স্মরণ করে করে লিখছি!তাই আর এগুনো গেল না।পরে চেষ্টা করা যাবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29141224 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29141224 2010-04-24 16:05:31
রশিদ ফকিরের দুর্ভাগ্য বুড়িয়ে গেছেন অনেক।স্বাস্থ্য একেবারেই ভেঙ্গে গেছে।লেংচে লেংচে হাঁটছিলেন।হাতে একমুঠ খুচরো টাকা।
জিঙ্গেস করলাম এই অবস্থা কেন! সবতো ভালই চলছিল। কাওরান বাজারে কুড়িয়ে পাওয়া তরকারীর ব্যবসা আর করেন না ? রশিদ ফকির জানালেন,গত কোরবানীর ঈদের আগে পঞ্চগড় থেকেও আরো তিন কিলোমিটার দুরে বইয়ানের বাড়ি গিয়েছিলেন বেড়াতে।তারা অনেক আদর যত্ন করেছেন।অনেক ধনি তার বইয়ান।পাকা বাড়ি। এক রাতে বাইরে যাওয়ার সময় চাদর পেচিয়ে সিড়ে থেকে পড়ে হাত ও পা মচকে যায় তার।তার চিৎকারে সবাই জেগে
যায় । এরপর অনেক দিন বিছানা ছাড়তে পারেন নি।আত্মীয়রা অনেক যত্ন করলেও কতো দিন আর থাকা যায় , তিনি বাড়ি চলে এসে চিকিৎসা করিয়েছেন। এতেও অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে।কাওরান বাজারে রাতে সব্জি কুড়িয়ে বেচার চেষ্টা কিছু দিন করেছেন,কিন্তু এবার টোকাইদের সাথে দৌড়া দৌড়ি করে আর পারছেন না।দুর্বল লাগে। এখন শুধুই ভিক্ষা করছেন।কিছু টাকা যোগাতে পারলে বাড়ি গিয়ে কিছু দিন থেকে আসবেন।বাড়িতেও টাকা পয়সা নেই । যাওয়া দরকার।

তিনি আমার বাসার লোকজনের নামেও অনেক অভিযোগ করলেন।ঢাকায় এসেই তিনি দেখা করতে চেয়েছিলেন,কিন্তু যে কয় দিন এসেছেন সবাই বলেছে আমি আসি নি।আসার সময় অড়হড় ডালের পিঠা এনেছিলেন কিছু।তাও রাখে নি,বুড়ো বুয়া বলেছে এগুলোর সাথে ঘুমের টেবলেট মেশানো আছে।খাওয়ার পর সবাই অজ্ঞান হলে রশিদ ফকির ডাকাতি করবেন , এই কথা বলায় তিনি মনে খুব কষ্ট পেয়েছেন বলেও জানালেন।

বুয়ার দুর্ব্যবহারের জন্য স্যরি বললাম আর তাকে ডেকে ধমক দিয়ে দিলে রশিদ ফকির আবার টাকা ধার দিব কিনা জানতে চান।

লোকটার ধান্ধাবাজী দেখে প্রথমদিকে জাগা কোমল অনুভুতির কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নেই। লোকটাকে যতটা অসহায় মনে হয়েছে, পরে আর তা মনে হয় নি। এক টাকা খরচ করবে না নিজের জন্য!ক্ষুধা লাগলে কারো কাছ থেকে চেয়ে খেয়ে নেন।রাতে কাওরান বাজারে শুয়ে থাকেন। উঠে যে কোন একদিকে রওনা দিয়ে ভিক্ষা করতে শুরু করেন।তার আবার চিন্তা কি ! এর আগে প্রতি দিন সব্জি বিক্রি দুই আড়াইশো আর শ খানেক চেয়ে চিন্তে , সব মিলিয়ে মাসে ৮/৯ হাজার টাকা রোজগার করতে পারেন বলে জানিয়েছিলেন। ৮/৯ হাজার টাকায় তাদের ৪ জনের খরচ চলে চলে যাওয়ার কথা গ্রামে।নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম। পেসক্রিপশন আছে কিনা জানতে চাইতে পাঞ্জাবীর পকেট থেকে বের করে এগিয়ে দিয়ে বললেন,সব ওষুধ খাওয়া হয়েছে। বুড়ো এবার বেশ ঠেকে গেছেন দেখে প্রথমে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করলাম।বললাম পুরো পুরি সুস্থ্য হয়ে তারপর ঢাকায় এসে দেখা করার জন্য।তখন একটা পথ বের করবো দুজন বুদ্ধি বিবেচনা করে। জানিয়েছিলেন সেই রাতেই রওনা দিবেন।বিদায় নেয়ার আগে কিছু কড়া কথা শুনিয়েছি বুড়োকে। গরীবের এতো সাধ আহ্লাদ থাকার দরকার নেই।কয় টাকা জমলেই বাড়ি রওনা হওয়া, এখানে ওখানে বেড়াতে যাওয়া এসব বিলাসিতার দরকার নেই।রশিদ ফকির হাসে।যেন তিনিই বেশি বোঝেন !

রশিদ ফকিরকে নিয়ে আগের দুইটি আবোল তাবোল পর্বে রশিদ ফকিরের ঈদ সপিং
ভিখারি আব্দুর রশিদের স্বাস্থ্যটা ভাল যাচ্ছে না
কয়েক জন কৌতুহল প্রকাশ করেছেন। রশিদ ফকিরের বর্তমান খবর জানতে চেয়েছেন ফেরারী পাখি । ফেরারীর কৌতুহল স্মরণ করে এই লেখা ।দীর্ঘ আলস্য কাটিয়ে আজ লিখতে পেরে ভাল লাগছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29140681 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29140681 2010-04-23 19:44:15
ফুলের চেয়েও সুন্দর ফুল গান গায় মুঠি মুঠি রূপের সুবাস
উঠানে বাজনা বাজে
ফুলের চেয়েও সুন্দর ফুল গান গায়।

উরাসিজ পায়ড়া ওড়ে
পায়ের পাতায় হাসে ঢেউ
আলো জ্বলে চোখে
গোধুলীর রঙ মাখে কেউ।

তারো দূরে, বাবু কৃষ্ণ নিকীবাঈ খল খল করে হাসে
মৃত্যুমুখি ঘুড়ি সর্ন্তপন গোত্তা খায়
জল ভাঙ্গে লালচক্ষু ডাকাতদল
রাত্রি হয়, তুফান ওঠে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29069177 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29069177 2009-12-31 19:07:48
রায়বাঘিনির হানাবাড়ি
আগুননৃত্য থেমে দেখে
গোপনে অশোক ফুল ফুটেছে।

চামড়ার তাবু, নিচে মখমল - বেদুইন সখি
একান্ত জন্মগুলো তলায় দ্রুততালে।

গাড়িবারান্দায় লুকানো চোখ, অভিমানিনী

ঠিকানা বিহীন অন্ধকারে বৃষ্টি পড়ে ।





(রচনা: ৬/১০ - ১২/১০/০৯ ইং)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29024653 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29024653 2009-10-12 19:56:12
ব্লগার মাহবুব মতিনের মৃত্যু; ও বন্ধু আমার! মাহবুব মতিন দেখা হলে কোন না কোন মজার কথা বলতেন। বয়সে আমার বড় হলেও কখন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে গেছে জানি না।কবে হয়েছে তাও জানি না।এই ব্লগটাও তিনি আমাকে চিনিয়ে ছিলেন।প্রায় সোয়া ৩ বছর আগে একদিন বলেছিলেন, একটা বাংলা সাইট পেয়েছি।সারা পৃথিবী থেকে বাংলা ভাষাভাষি ছেলে মেয়েরা লেখে।চিন্তা করতে পারবা না ফয়সল কি সুন্দর গল্প কবিতা অভিজ্ঞতা লেখছে সবাই।সব কিছুতেই তার কৌতুহল প্রকাশ পেত। আমি বলেছিলাম , আপনি পড়েন। প্রায়ই দেখতাম এই লেখা ওই লেখা কপি করে রাখছেন পরে পড়ার জন্য ।পড়ে এক দিন বললেন,দেখ আমি ছদ্মনামে একটা একাউন্ট খুলেছি।এক নায়িকার ছবি দিয়েছি পোলাপাইন গালিগালাজ করছে।বলতে বলতে তার প্রাণ খোলা হাসি দেখে মনে হচ্ছিল গালি খাওয়া খুব মজার কাজ। জিজ্ঞেস করেছিলাম, ছদ্মনাম কেন? মাহবুব ভাই বলেছিলেন,ওখানে সবাই এমন করেই দুষ্টামি করে। আমি তখন কম্পোজ করতে পারতাম না।কম্পিটারে ভয় পেতাম।মাহবুব ভাই নিজেই আমার একাউন্ট খুলে দিলেন।বললেন কি নাম দিবা?
আপনার নাম কী?
আজন্ম সুখী মানুষ ।নিজ নামেও আছে একটা।মাহবুব মতিন সেখানে মৌনপ্রিয়র ছবি দিয়ে দিয়েছি।(মৌনর নামে তৈরী সাইট)
আচ্ছা, আমারটা তাহলে অণৃন্য দেন।
তারপর কিভাবে কিভাবে টাইপ করা শিখে গেলাম।এর আগে পর্যন্ত আমার নিজের মেইল আইডিও ছিল না।
মাহবুব ভাই তারপর অন্য কিসে আগ্রহী হয়ে কি কি করছিলেন বলছিলেন।নাটক নিজে সংগঠনের জন্য অনুষ্ঠান করছেন ছোটরাই । নাটক বানাচ্ছেন। সাংবাদিকদের একটা অনলাইন ক্লাব বানাচ্ছেন।জার্নালিস্ট ক্লাব আমি ব্লগ ছাড়তে পারি নি। মাঝে এক ব্লগার কি একটা পোস্ট বারবার দিচ্ছিলেন আর মডারেটররা ডিলিট করে দিচ্ছিলেন।একবার সেটা আমি কপি করে রেখে ডিলিট করা মাত্র আমি পোস্ট করে দিয়েছিলাম।এতে আমার অণৃন্য ব্লগটি ব্যান করে দেন। আমি মাহবুব ভাইয়ের বুদ্ধিতে তাৎক্ষনিক নিজ নামে আরেকটি ( এই নিকটি ) খুলে নিয়েছিলাম। রাহেলা হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্লগে ক্যাম্পেইন হয়েছিল।মানবী আমাকে বলেছিলেন সিগনেসার ক্যাম্পেইন যে হয়েছিল তার কপিসহ একটা এপ্লিকেশন প্রধান উপদেষ্টার বরাবরে দেয়ার জন্য। মাহবুব ভাইকে আমি অনুরোধ করার অল্প সময়ের মধ্যে তিনি তার ছোটদের সংগঠন `ছোটরাইর' পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।রায় ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু মামলাটি এরপর দ্রুতবিচার ট্রাইবুনালে বিচারের ব্যবস্থা হয়।
সামহোয়ারের ব্লগাররা তাকে ভাল করে চিনেন না।কিন্তু স্বভাবসুলভ চঞ্চলতায় এখানে কিছু দিন ছিলেন তিনি।
এই ব্লগটা মাহবুব মতিন চিনিয়েছিলেন , নিজ হাতে নিক করে দিয়েছিলেন বলেই বোধ হয় তার মৃত্যুর পর আজ প্রথম ব্লগ খুলতেই তার কথা বেশি করে মনে পড়লো।সাংবাদিক মাহবুব মতিন আর নেই
এক অফিসে কাজ করতাম আমরা।আট বছর এক সাথে কাজ করেছি।তার আগে এমন ঘনিষ্ট কাউকে হারাইনি এখন পর্যন্ত। নিজে আগে মারা না গেলে মানুষকে অনেক মৃত্যুর বেদনা সহ্য করতে হয় মনে হচ্ছে।

মাহবুবের ছোট্ট জীবন




মৃত্যু সংবাদ

বিডি নিউজ

সংবাদ

প্রথম আলোর ভুল খবর

পরের দিন প্রথম আলোর সঠিক খবর

সমকাল

যুগান্তর

ডেইলি স্টার

আমাদের সময়

ফজলুল বারীর স্মৃতিচারণ

যুগান্তরে রফিকুল ইসলাম রতনের স্মৃতিচারণ

প্রথম আলোতে পরাগ আজিমের স্মৃতিচারণ





ভাল থাকবেন মাহবুব ভাই !

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29024151 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29024151 2009-10-11 20:35:02
ব্যক্তিগত নদী , সুখ-দুঃখ
সাগরের চেয়ে বাড়ির পাশের মেঘনা আমার সবচে প্রিয়। বড় জোড় মোহনাটার ভয়ংকর উন্মত্ত রূপটা টানে। নদীর বিশালতায় কখনোই ভয় লাগে না। বর্ষায় পাহাড়ের মতো আকৃতির বিশাল ঢেউয়ের মুখে ভয় ছাপিয়ে দোলুনী আর কি কৌশলে এর আগের ঢেউ থেকে বাঁচা গেল সামনের দ্রুত এগিয়ে আসা ঢেউ থেকে মাঝি বা লঞ্চের কাপ্তান কিভাবে বাঁচার চেষ্টা করছেন এর অনুমান করতে ভাল লাগে।

নদীতে দূর থেকে বৃষ্টির প্রাচীর ধেয়ে চলা , এক দিকে রোদ আরেক দিকে মেঘের ছায়া দৌড়ে বেড়ানোর ছবি আমার গোপন সম্পত্তি। একান্ত কোন বন্ধুকে নিয়ে দেখাবো বলে কারো সাথে এই নিয়ে আলাপ করিনি কোন দিন। যদি জানাজানি হয়ে যায়!

প্রায় ৪০ বছর আগে নদীগর্ভে বিলিন পিতৃ পুরুষের ভিটা, আবাদী জমির কথা মনে পড়ে কখনো। মায়া লাগে। নদীকে খুব দুরভীসন্ধিমূলক ও নিষ্ঠুর গতিবিধির মনে হয়। অভিমান জেগে ওঠে। ‘ওই যে দূরে জাহাজটার আলো দেখা যায় তার কাছে তোমার দাদা বাড়ি ছিল। অনেক বড় বাড়ি ছিল . . . । ’ ৫/৬ বছরের বয়সের আমি বাবার মুঠি থেকে আঙ্গুল ছাড়িয়ে সামনের খোলা মাঠে দৌড়াতে শুরু করেছিলাম সে রাতে। পরক্ষণে আবার ধরা খেয়ে বাবার কথায় সম্বিত ফিরে পেয়েছিলাম। বাবার কথায় ভাল করে খেয়াল করে দেখেছিলাম, এটা খোলা মাঠ নয়। উজ্জল হলদেটে জ্যোৎস্নায় নদীর জল খোলা মাঠের মতো মনে হয়ে ছিল আমার কাছে। কোথাও রূপালী জ্যোৎস্না শব্দটা চোখে পড়লে বা শুনলে আমার ছোট বেলার ওই রাতে নদীর দিকে দৌঁড়ানোর দৃশ্যটা চোখে ভাসে।

বাড়ি ভাংগার পর আরো দক্ষিনে গিয়ে প্রমত্তা মেঘনার কাছেই বসত গেড়েছেন বাবা। নদী ভাংগা মানুষের চেহারায়একটা বিষাদ রেখা স্থায়ী হয়ে যায়। নিঃসঙ্গ হলেই এই রেখা গাঢ় হয়ে ভেসে ওঠে। তবে মেঘনা ছোট বেলা থেকে আমার ঘনিষ্ট বন্ধু। চরে চরে ভেসে বেড়ানো কিছু উদ্বাস্তু মানুষ আমার নিকটাত্মীয়।

এখন আমার প্রিয় নদী থেকে অনেক দূরে থাকি যদিবা। দুঃখের দিনগুলোতে মনের পাড়ে মেঘনার ঢেউ আছড়ে পড়তে দেই । ছলাৎ ছলাৎ শব্দে সারা দিন মেঘনা বইলো আজ। স্রোতশ্বীনি! হঠাৎ খেয়াল হলো নিজের ও যোগার করা নদীর অনেকগুলো ছবি আছে আমার কাছে। অনেক আগে থেকেই আমি নদীর ছবি জমাই ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29007544 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/29007544 2009-09-09 17:26:55
ছেঁড়া দৃশ্য: কাকের ভাগ্যে ভাগ বসানো কয়েকজন হতভাগা এক বুড়ো,তার জীর্ণ স্ত্রী, তাদের দুই ছেলে!ছোট ছেলের বয়স ১২/১৪। সবার মধ্যে ওকেই সবচে বেশি পরিশ্রমী মনে হয়। সকাল সন্ধ্যা বেলচা চালিয়ে ময়লা গুছায়। ডাস্টবিনের উপার্জনের উপর ভরসা করে বড় ছেলে আবার বিয়ে করেছে। বছর দেড় - দুই হলো বোধ হয় নতুন বউকে দেখছি । সঙ্গে এক বাচ্চা। সবাই এখন এক সাথে ময়লা কুড়ায়। আগে দেখতাম ওদের কাজের সময় বাচ্চাটা ফুটপাথে চিত-কাত হয়ে ট্যাঁ-ট্যাঁ কাঁদতো সব সময়। এদের দেখে দেখে চোখ সয়ে গেছে। কে কখন রুটিন করে কাজ করবে এটাও মুখস্থ হয়ে গেছে। সকালে ডাস্টবিনটিতে অনেক ময়লা জমে তাই এই সময় পরিবারের সবাই এক সাথে কাজ করে। তাড়াও আছে। এগারোটার দিকে কর্পোরেশনের ট্রাক এসে সব ময়লা তুলে নিয়ে যায়! এর আগে তাড়াহুড়ো করে বিক্রি যোগ্য আবর্জনাগুলো পৃথক করে ফেলতে হয়। প্লাস্টিকের বোতল, লোহার কিছু থাকলে ওগুলো,ক্যান বোতল,পলিথিন,কাগজের ঠোঙ্গা আরো কতো কি। পরে এগুলো বিক্রি করতে যায় বাবা আর বড় ছেলে । মাথায় করে বয়ে যেতে দেখি। এছাড়া পঁচা পেঁয়াজ, বিভিন্ন তরকারিসহ কিছু উচ্ছিষ্ট পৃথক করে রাখা হয় নিজেদের জন্য। এসময় মা পাশেই অস্থায়ি চুলোয় রাঁধেন। যাচ্ছে তাই রান্না। সেদিন দুপুরে দেখি তুমুল আনন্দঘন পরিবেশে কুড়িয়ে পাওয়া করল্লা ভাজি হচ্ছে। ছোট বাচ্চাটা পাশে উৎফুল্ল হয়ে লাফাচ্ছে। সকাল দুপুর সবাই মিলে গোল হয়ে রাস্তার পাশেই বসে খায় ওরা। গরীবদের জীবনতো কষ্টের হবেই।

কাল ছোট ছেলে জসিমকে চিত্রকর রূপে আবিস্কার করলাম। বৃষ্টিতে ভেজা নরোম ইটের টুকরো দিয়ে আঁকিবুকি করছে। পেছনে ফাঁকা পেয়ে ডাস্টবিনে ভিড় করেছে কটা কাক।


ওদের কথা বলতে একটু দ্বিধা লাগছে। কারো যদি খারাপ লাগে!শান্তির সময়ে বিরক্তি জাগায় যদি এই লেখা! এসব দেখে না দেখে থাকার নিয়ম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28996835 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28996835 2009-08-20 11:39:53
ভার্চুয়ালের নবীন কিশোর : চ্যাট ( যশোধরা রায় চৌধুরীর কবিতা ) পেয়েছি নিভৃতে,চ্যাটে। কী চ্যাট করেছি
চেটেছি হৃদয় তোর,
মোকাকফি থেকে চাটে যেভাবে দুধেল ফেনাঘোর
সুপারহিট মোকাবিলা হয়ে গেছে নিষিদ্ধ ভেলায়
তুইও পারিস বেশ,যথেষ্ট ভাট করিস,চোখের বিদ্যুতে
প্রেডিক্টেবিলিটি এনে ,দিকশূন্যপুরে নিয়ে ছেড়ে দিস প্রেমিকশত্তুর।

কী এতো শত্রুতা,সোনা,হঠাৎ ফিরিয়ে নিস ধোঁয়াগাড়ি,
ব্যাক গিয়ার ,তারপর একাকী
আমিও তো গুটি গুটি ফিরে আসি নিজের স্ক্র্যাপবুকে



চাপ নিয়ো না তো, খোকা! তুমি বলছ: তাহলে এগুলো
কী তোমার?
উঁকি টুকি খেলা, ওগো মেয়ে ?
সারা গায়ে গুঁড়ো গুঁড়ো লেগে আছে মহাশূন্য-ছুঁয়ে আসা তেজস্ক্রিয় ধুলো
সমস্ত ঝেঁটিয়ে আনো, তারপর সেই সে ঝাঁটায় চেপে ঘোর উদাসীন
যেরকম ব্ল্যাক মেজিক: সারাদিন রয়েছ আলাপে

ল্যাপটপে কিছুক্ষণ,অথচ তোমাকে কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ
স্মুচ,সোনা। না না, সেই ঠান্ডা এক মসৃণ সফরে
স্কাইডাইভ – আমিও ফ্যান্টম
সুপার উরম্যান তুমি। সোনা নও আর
প্লাটিনাম, গুঁড়ো গুঁড়ো
প্লাটিনাম, আর অহংকার

পুনরায় চ্যাট করছি ? এবার ফিরাও মোরে, রিয়ালিটি বাইট দাও ঠোঁটে।



( যশোধরা রায় চৌধুরীর সদ্য প্রকাশিত এই কবিতাটা পড়ে ভার্চুয়াল ফ্রেন্ডদের পড়ানোর ইচ্ছা হলো । )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28995785 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28995785 2009-08-18 13:21:06
আজও ঊল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> ( মেঘবিবি আকাশে ঝামেলা না পাকালে) কিন্তু, দেশের কয়েকটি এলাকা থেকে অনেকে আসলেই বিরল পারসেইড উল্কাবৃষ্টি দেখেছেন। ঢাকার আকাশে মেঘ বেশি থাকায় এখান থেকে উল্কাবৃষ্টি দেখতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে ঢাকার বাইরে পদ্মার চরে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, বান্দরবান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্যাম্প থেকে স্পষ্ট পারসেইড উল্কাবৃষ্টি দেখা গেছে । বছরের দুটি উল্কাবৃষ্টির একটি পারসেইড বৃষ্টি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সুইফট-টাটল নামের একটি ধুমকেতুর লেজের ধুলিকণা এসময় পৃথিবীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করায় এই উল্কাবৃষ্টি এবার বেশিমাত্রায় লক্ষ করা গেছে।

রাত বারটা থেকে উত্তর-উত্তরপুর্ব আকাশে...ক্যাসিওপিয়া তারামণ্ডলের একটু ডানে ইটা-পারসি তারাটির পাশ দিয়ে এ উল্কাবৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞান সংগঠন অনসন্ধিৎসু চক্রের মহাকাশ বিভাগ পারসেইড উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১টি পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করে।

ছবিতে ঢাকার একটি ক্যাম্পে উল্কা বৃষ্টি দেখার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। ( এরা কেউ দেখতে পারেন নি।<img src=" style="border:0;" /> মেঘের জন্য।)

আজও একই যায়গায় (উত্তর পুব আকাশে ) রাত ১২ টা থেকে উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে।রাত তিনটা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত।

রাত ভর উল্কা খুঁজতে ব্যস্ত মানুষদের সঙ্গে মেঘের আড়াল থেকে বের হয়ে মাঝে মাঝেই কিছুক্ষণ করে সঙ্গ দিয়ে গেছেন বুড়ি চাঁদ।

গত রাতের অপচেষ্টা ! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28993271 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28993271 2009-08-13 16:29:01
ক্যান্সার আক্রান্ত ১৪ মাসের শিশু রুমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা গেল না !

১৪ মাসের একটা ফুটফুটে শিশু যন্ত্রণায় চিৎকার করছে ,তার বাবা মা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য আক্ষরিক অর্থেই দিগি¦দিকজ্ঞান শূন্য। কিন্তু তাদের আকুতি শোনার কেউ নেই। ১১ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের সামনে এই দৃশ্য যারই চোখে পড়েছে না থমকে উপায় কি!শত চেষ্টায়ও সুদুর কিশোরগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে এসে কতৃপক্ষের তাচ্ছিল্যে ভর্তি করা গেলো না ১৪ মাসের শিশু রুমাকে।

ফুটফুটে এই শিশুটির নাম রুমা। বয়স ১ বছর ২ মাস। বাড়ী কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম। হাওরের জল আর পরের জমিতে কাজ করে জীবিকা ওর দরীদ্র বাবা মার। প্রায় ৩ মাস আগে হাম এর টিকা দেওয়ার পর রুমার উরুতে পচঁন ধরে। রুমার মা পারভীন বললেন, বৈশাখের শেষ দিকে অন্যান্য শিশুদের সাথে রুমাকে হাম এর টিকা দেয়া হয় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এর পরপরই রুমার বাম পায়ের উরু ফুলে ওঠে। এক পর্যায়ে শক্ত হয়ে যায়। ভাগলপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন রুমাকে। বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা চিকিসায় কিছুই বুঝতে পারেন নি তারা । এর পর ঢাকায় নিয়ে আসেন ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা এবং পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে জানতে পারেন রুমার উরুতে টিউমার হয়েছে ... পচন ধরে এখন ক্যান্সার। বাম উরু ফুলে শক্ত হয়ে গেছে। এই অঞ্চলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। এমনকি পিঠের বাম অংশ শক্ত হয়ে গেছে। শিরা উপশিরায় পঁচা রক্ত জমে আছে ।


শিশুটিকে নিয়ে যখন ক্যান্সার হাসপাতালে তার অভিবাবক ,শিশু রুমার কান্না...তখন হাসপাতাল চত্বরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা। উদ্বোধন করছেন জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ১শ ৫০ শয্যা এবং লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন। ক্যান্সার চিকিৎসক সহ সব চিকিৎসককে ছবকও দিয়েছেন রোগী সেবার। ‘ রোগীদের মানুষ মনে করে সেবা দিতে হবে। ডাক্তারদের বদনাম ঘোচাতে হবে, ব্যবহার দিয়ে রোগীদের কাছে টানতে হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রুমা ভর্তি হতে পারবে দীর্ঘ প্রতিক্ষার সময় এমন আশা ছিল রুমার মা বাবার। কিন্তু হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায় আজ ভর্তি হওয়া যাবে না। আবার আসতে হবে রবিবার। রুমাকে নিয়ে তার বাবা মা দিশেহারা। যন্ত্রণায় সার্বক্ষণিক চিৎকার করছে ও । কোথায় যাবেন এই অবোধ শিশুকে নিয়ে! বিশাল এই রাজধানীতে তাদের নেই কোন পরিচিতজন। তাই বিকেল পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরেই ঘুরে ফিরে চেষ্টা করেছেন সন্তানকে ভর্তি করার। কিন্ত হাসপাতালতো বন্ধ হয়েছে সেই দুইটায়!

হয়রানির ঘটনা এক দিনেরই নয়। এর আগেও ১০ আগষ্ট প্রথম মহাখালীর ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে আসেন রুমার মা বাবা। সেদিন দেখে পরের দিন অর্থাৎ ১১ই আগষ্ট আসতে বলেছিলেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ। পর দিনের কথাতো বললামই। হাসপাতাল চত্বরে মন্ত্রীর অনুষ্ঠান থাকায় সকাল দফায় রোগী দেখেননি ডাক্তাররা। মন্ত্রী চলে যাবার পর কর্তব্যরাত চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি একটা সিরাপ রিখে দিলেন প্রেসকিপশনে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাকে ভর্তি না করে পরে রবিবার ১৬ই আগষ্ট আবার আসতে বলেন। দুপুর ২ টায় হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়। এর পরও বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিশু রুমাকে নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে অপেক্ষা করেন ওর মা বাবা। অগত্যা সন্ধ্যায় তারা চলে যান অষ্টগ্রাম।

১৪ মাস বয়সী রুমা যতক্ষন ঘুমিয়ে থাকে ততক্ষনই একটু স্বস্তিতে থাকে তার পরিবার। জেগে উঠলেই অসহ্য যন্ত্রনায় অবিরাম চিৎকার। বাড়ীতে যাওয়ার পর আরো বাড়ে রুমার যন্ত্রনা।

রোববার পর্যন্ত কিভাবে কাটবে রুমার !!! এরপরও কি ভর্তি করা যাবে ওকে? সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে ওর? বাঁচবে ও? ওর দরীদ্র বাবা মা কিভাবে চালাবেন ওর চিকিৎসার খরচ? এতো কষ্ট কিভাবে সহ্য করবে বাচ্চাটা !?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28992876 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28992876 2009-08-12 20:34:44
আজ রাতে আকাশে উল্কা বৃষ্টি দেখা যাবে


অনুসন্ধিৎসু চক্রের মহাকাশ বিভাগ উল্কা বৃষ্টি দেখার সুবিধার্থে
১১ টি ক্যাম্প করেছে। ক্যাম্পগুলো হচ্ছে, মিরপুর,ডেমরা,মুগদাপাড়া,চাঁদপুর,চাপাইনবাবগঞ্জ,বান্দরবান,পঞ্চগড়,ঠাকুরগাঁও ,কুমিল্লা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বাসার ছাঁদ বা যে কোন খোলা যায়গা থেকেও এই উল্কাপাত দেখা যাবে। শুধু উপরে আকাশের দিকে তাকাতে হবে।
বিস্তারিত এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28992720 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28992720 2009-08-12 16:01:27
মেঘমন্ত্র বাজিকর নারীর কোমরে

অসময়ে বৃষ্টি আসে
জলমেঘ রূপের দিকে চোখ সরে যায়

শ্রাবণের পালিত কন্যা বৃষ্টির উপনাম


নিঃসঙ্গ যজ্ঞসূত্রে ওড়পুষ্প কাঁপে শিহরণে
আদিবাসী গ্রাম,হাঁটা পথের ধারে বিরাণে

রজোগুণে এই রয়ানি কালে
কাছে ছিল তার গৃষ্ম বাতাস
এলো চুল, ধুলি ঝড়,দমকা হাওয়ার দল
ব্যাগ ভর্তি স্কুল বই
লাফিয়ে লাফিয়ে চলা মৃদু খরগোশ

অকৃতদার স্মৃতি রেণু তাকে ছুঁয়ে গায়
গেরস্থ গলায় ঐকাহিক অভিধান।


রচনা: ২৯/০৭/০৯-০৮/০৮/০৯ ইং



উৎসর্গ: মানবী



নোট: ব্লগে বৃষ্টি নিয়ে লেখা সব লেখা পড়ার চেষ্টা করি। পরিচিত অপরিচিত সবার। বছর দেড়েক আগে বৃষ্টি নিয়ে মানবী'মৃত্যুর মুখে দাঁড়ায় জানিবো, তুমি আছো আমি আছি!! শিরোনামে একটা লেখা পড়ি । ওটা পড়ে আমার মাথায় হাত। এই সুলেখিকা দেখি একরোখা স্বার্থপরের মতো বৃষ্টির পুরো মালিকানা নিজের দখলে নিয়ে বসে আছেন। ওই লেখাটি পাঠ করে এখনও অনেকে মুগ্ধ ও বিম্মিত হয়ে মন্তব্য করেন দেখেছি। বৃষ্টিই যদি আরেক জনের অধিকারে থাকবে তা হলে যে দু একটু ‘কবিতা অপরাধ’ করার চেষ্টা করি তা আর কোন মুখে মনে ভাববো! কে না জানে আমার মতো দরীদ্র কবিরা যে ৩/৪ ’শ শব্দ ঝুলিতে নিয়ে কবিতা ফাঁদে তার বড় একটা অংশ বৃষ্টি কেন্দ্র করে প্রচলিত সখি সখি ধর ধর ভাবের বাক্য তৈরী করে! ক’দিন আগে আবার গত ৬০ বছরে রেকর্ড বৃষ্টি হলো। গা বাঁচিয়ে আর এড়িয়ে থাকা গেল না। এই বৃষ্টি বন্দনা লিখতে হলো। কিন্তু অনুভব করছি,এখনো মানবীর লেখাটাই বৃষ্টির মৃগ্ধতার সময় প্রথম মনে পড়ে। অগত্যা লেখাটা মানবীকে উৎসর্গ করে বৃষ্টির সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28991367 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28991367 2009-08-09 23:22:22
শার্সি পাজরের শীষ ঘেষে বয়ে চলা জল
যতটা আমার আকাশ যতটা তোমার
ঝমকে ঝমকে আলোকিত
জ্যোৎস্নার রাতে !

আর,বাতি ঘরে জেগে ওঠে শিশু মুখ।


মাঝ সাগরের কালো তলে-
ডোবা প্রাচীন পাহাড়ের অচেনা নিবাসী
অকস্মাৎ বন্ধু হলো
উছলিয়ে বিদ্যুৎ যৌবন।

গোপনে মৃদু ঢেউ নিরুপদ্রব

আর, শার্সি চেনাবে কে ?

ঘোলা চোখ?
আর ,মৃত্যু শয্যা? আর অশ্রু?

( মধু সন্ধ্যায় -
জল চাকতির পাশে উদ্বিগ্ন
পুষ্প বসনা নারী ।

চন্দ্র গ্রহণ,চন্দ্র গ্রহণ! )



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28982629 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28982629 2009-07-23 18:20:07
হারানোর পর মোবাইল ফোনের মালিক চোরদের সাথে যে সব কথা বলে <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> ঠিক আছে চল।
ধুম ধাম দৌড়ে নিচে নেমে দুজন একটা সিএনজি ধরার চেষ্টা করি।

আহ, এমন হয় নাকি! সামনেই একজন সিএনজি নিয়ে দাড়ালো।

যাইবা?
কই?
বসুন্ধরা সিটি।
১০০ টাকা দিবেন।
বেকুব নাকি ব্যাটা?২০ টাকার ভাড়া ১শ টাকা চাও কোন আক্কেলে? নাজমুল হুদার গুষ্টি কিলাই ! ৫০ টাকা যাইবা? (বন্ধুর মুখ খারাপ)
না,৬০ টাকা যাইবেন?
সিএনজি ড্রাইভার ঘুরে চলে যাবার জন্য নড়ে চড়ে বসে।
আরে কই যাও। খাড়াও।

দুজন উঠে বসি। সিএনজি অলাকে পরোক্ষ বাক্যে গালিগালাজ করতে থাকে বন্ধুটি। সিএনজি অলা গুনগুন গান গায়। গালি গালাজ শুনে ওরা অভ্যস্ত হয়ে গেছে মনে হয়। সাড়া না পেয়ে দোস্ত আমার সাথে অন্য আলাপ জোড়ে। রাস্তায় জ্যাম অনেক।
সিদ্ধেশ্বরী থেকে পরীবাগ দিয়ে সিএনজি হাতিরপুলে এসে পৌঁছায়। অন্ধকার জমে এসেছে প্রায়। কিছুক্ষণ ধরেই একটা ফোন বাজতে শুনি। আমি ভাবছিলাম বন্ধুর ফোন। তাও বার বার বাজে।

ফোন ধরস না কা?
আমার না তো। আমি ভাবলাম তোর ফোন।
না তো।
দুজন নড়ে চড়ে দেখি দুজনের মাঝে একটা সেট চিৎকার করছে।
আরে কার ফোন! ধর না। মনে হয় মালিক ফোন দিসে।
হ্যালো?
এক লোক খুবই উত্তেজিত। তোতলাচ্ছে। এলোমেলো কয়েকটা শব্দ বললো প্রথম ৩০/৪০ সেকেন্ড। আমার ফোন। আপনে কে? তুই আমার ফোন চুরি করছোস হারাম জাদা! তোর ঠ্যাং ভাইঙ্গা দিমু।
ভাইজান,আপনে সিএনজিতে ফোন ফেলে গেছেন। অস্থির হবেন না। এখন কোথায় আছেন? আপনে দাড়ান ওখানে। দিয়ে যাচ্ছি।
আমি মনোয়ারার সামনে আছি। আসেন,সিএনজি ভাড়া আমি দিয়ে দিব।
আচ্ছা,ঠিক আছে । আমরা হাতিরপুল আছি এখন। এই মাত্রই দেখলাম আপনার ফোনটা। চিন্তা করবেন না।
এই ড্রাইভার,যেখান থেকে আসলাম সেখানে চলেন আবার।

ফোনের মালিক মনে হয় আমার কথা বিশ্বাস করেনি। ফোন রেখেই আবার ফোন দিল।
কদ্দুর আসলেন ভাই?
বাংলামোটর দিয়ে ঘুরে আসতে হবে। এখন, ইস্টার্ন প্লাজার সামনে। আপনি দাড়ান।
লোকটা ফোন রাখার পর দেখি আরেক জন ফোন দিয়েছে। ধরলাম।
আপনি কে? ফোন নিয়েছেন কেন?
লোকটার কথায় মনে হলো,চোর ফোন রিসিভ করবে এটা সে আশা করেনি। তার মুখে কোন কথা যোগাচ্ছে না। তার মানে লোকটা ফোন হারানোর পর একে ওকে ফোন করে বলেছে তার ফোনটা কেউ মেরে দিয়েছে।
ফোন মালিকের আত্মীয়কে বললাম খুলে সব। ফোনের মালিকের সাথে যে কথা হয়েছে। তাকে যে ফোন ফেরত দিতে যাচ্ছি। সব শুনেও লোকটা কি কি বলতে চায়।

লাইনটা কেটে দিয়ে দেখি আরো ৫টা মিসড কল। ফোন ব্যাক করলাম একটা নাম্বারে। যদি জরুরী কারো ফোন হয়। কোন দরকার থাকে!২/১ টাকা কাটা গেলে যাক।
লোকটার ফোন হারানোর কথা দেখি সে ও জানে। তাকেও জানালাম যে, কিছুক্ষণ পর ফোনটা ফেরত পাবেন এটার মালিক।
মহা মুসিবত! ব্যাটা ফোন হারাইছে। ফোন ফেরত পাবে। এর মধ্যে এতোক্যাচাল করলো কখন! নিজের ফোনে ফোন না দিয়ে আগে বোধ হয় আত্মীয় স্বজনরে ফোন দিয়েছে।

বন্ধু বলে , ফোনটা রাস্তায় ফালায়া দে। ভাব চক্কর দেইকখা মনে হয় গেলে লোক জন নিয়া মাইর দিব। দেখি কি ফোন।ওহ,এই ৩ হাজার টাকা দামের স্যামসংয়ের জন্য এতো চিল্লা চিল্লি!
শোন, ফোনটা দিব মলম পাট্টি স্টাইলে। পাশে সিএনজি শ্লো করে যাবে। ফোনটা দিয়েই চলে যাব।

আদম সন্তান আবার ফোন দেয়। ভাই আসতেছেন তো? এখন কোথায়?
ভাই, আপনি ঠিক মনোয়ারার সামনে দাড়ান। অফিসার্স ক্লাবের সামনে এখন।
সাড়ে ৭ টা বেজে গেছে এর মধ্যে।একটু দুর থেকেই দেখতে পাচ্ছি,হাতে ২/৩টা সপিং ব্যাগ নিয়ে এক লোক দাড়িয়ে আছে মনোয়ারার গেটের সামনে। খুব অস্থির। বার বার নড়াচড়া করছে।

ফোন কি আপনার?
হ্যাঁ,হ্যাঁ!
সিএনজি ভাড়াটা নিয়ে যান।
না ঠিক আছে।
আমরা পালিয়ে বাঁচি।

বসুন্ধরায় যেতে যেতে ৮টার বেশি হয়ে যায়। লোকজন বের হয়ে আসছে।
সিএনজি অলা ভাড়া নিয়ে ঝামেলা পাকায়। সোজা সাপটা কথা। ২ শ চল্লিশ টাকা হয়। ২ শ টাকা দেন।
২শ টাকা কেমনে হয় !?
৩ বারের টাকা ধরলেওতো ১ শ ৮০ টাকা হয়। একবারতো পুরা রাস্তা হয় নি।
আমারে কম দিতে চান কেন? ঐ লোকটা ভাড়া দিত চাইলো,নিতে দিলেন না। আর ফোনটা পাইলে আমার কতো লাভ হইতো!
লোকটার কথায় পাল্টা কোন যুক্তি মনে পড়ে না। দুজন মুখ চাওয়া চাওয়ি করি। এর হাতে পরলে এরকম পাব্লিকের হাতে পরলেই তাহলে মানুষ আর ফোন ফেরত পায় না <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28980902 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28980902 2009-07-20 14:06:49
আটপৌরে দিন রৌদ্র করোজ্জল,

কী হবে এই দিনটি দিয়ে?

লিপির নশ্বর ঘোরে-
আমাদের মিঠে মুখে পথ চলা
হেসে হেসে কথা বলা-বলি
পুরাতন জলাশয়ের গন্ধ মাখা

লোনা রক্তে যে অন্তঃপ্রবাহ উচ্ছ্বাস তুলে বিদায় হয়েছে-

এখানে সে কথাও অস্পষ্ট মলিন আঁচড়ে বেঁচে আছে!

বাকিটা জানা-ই নেই।অস্থির পাগল সূর্য
পায়ের তলায় শর্ষে ঢেলেছে সেই কবে।

বলো,পাহাড়ী রোদ্দুর জুড়ে-
তার চোখ ঢুলে আছে আমারই ঘুমে।


...............
(পুরান লেখা )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28978560 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28978560 2009-07-15 11:58:15
বাঘের জন্য ভালোবাসা !!! বাঘের জন্য মায়া লাগবে এটা আজ সকালের আগে জীবনে কোন দিন টের পাইনি। ছোট বেলা থেকে নানী-দাদীরা ভয় ধরানোসব গল্প শুনিয়ে, বদনাম করে বাঘের নামে স্থায়ী একটা সমীহ ভাব তৈরী করে রেখেছে। পরে পচাব্দী গাঁজি আর জিম করবেটসহ কার কার শিকার কাহিনী শুনে-টুনে বাঘের উপর শ্রদ্ধা-ভীতি বেড়েছে বইতো কমেনি। তাই এর আগে বাঘের নাম শুনলে ভয়ই লেগেছে সব সময়। সঙ্গে মেজাজ খারাপ যোগ হয়েছে খুলনা বাঘেরহাট, সাতক্ষীরায় বিভিন্ন সময় বাঘের আঘাতে নাক মুখ নাই লোকজন দেখে। মামা, তুমি সুন্দরবনে চড়ে বেড়াচ্ছো ভালো কথা ,হরিণ ইত্যাদি সাবার করছো তা লোকালয়ে উৎপাত কেনো!এটা প্রচণ্ড প্রতাপশালী বনের রাজার ফাৎড়ামি মনে হয়েছে।

কিন্তু আজ সকালে কিছু ভিডিও-ফটোক দেখে বাঘের প্রতি মনোভাব আমুল পরিবর্তন হয়ে গেছে। ছবিগুলো গত বেস্পতিবার মানে গত ২ জুলাই সাতক্ষীরায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারা বাঘ ও তার খুনিদের।

ছবিতে দেখা যায়, একটা কুড়েঘরের মধ্যে আটকা পড়েছে মিঞাসাব। দাঁত খিচিয়ে দু একবার ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও তার নিজের আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব নিষ্প্রভ চোখের দিশেহারা দৃষ্টিতে। অনেকটা বিপদে পড়া বুড়োদের মতো। চিন্তিত। ইতোমধ্যে কি এক উপায়ে তার গলায় মোটা রশি গলিয়ে শ্বাস রোধ করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। রশির অপর প্রান্ত গাছের উপর দিয়ে টানিয়ে কপিকলের মতো টানছে ২০/৩০ জন। আর তাই ঘিরে কয়েকশো গ্রামবাসী গগন বিদারী উল্লসিত চিৎকার করছে। তাদের হাতে লাঠি সোটা,দা,বল্লম,কুড়াল। দড়ির টানে বাঘটি মাঝে মাঝে শূন্যে ঝুলে যাচ্ছে। এক সময় মুখে লাল গামছা বেঁধে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় ছটফটানো বাঘটির কাছাকাছি এগিয়ে গেল এক যুবক। তার দৃঢ় মুষ্ঠিতে উদ্যত ধারালো কুড়াল। নিজেকে ধারালো নখড়ের বাইরে রেখে ওটির কণ্ঠনালি বরাবর পর পর তিনটি আঘাত। আঘাতে নিষ্ঠুর আদিম ক্ষিপ্রতা ! হঠাৎ করেই নিথর হয়ে যায় হলদেটে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

গ্রামবাসীর বিজয় উল্লাস আরো তীব্র হয়। জীবিত অবস্থায় এগিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছিল যারা তাদের কেউ কেউ মৃত বাঘটির উপর লাঠি বল্লমের আঘাতে বীরত্ব প্রকাশ করলো। এরপর কাদার ভেতর মৃত বাঘের দেহ টেনে উল্লাস হলো আরো কিছুক্ষণ। মন খারাপ হয়ে গেল। বন বিভাগের লোকজন অষুধ মাখা তীর ছুড়ে বাঘটা সরিয়ে নিতে পারতো না। গ্রামবাসীর না হয় হিসেব সোজা, তাদের মারে বাঘ তারাও মেরেছে। এতোদিনে বন বিভাগ এই সচেতনতা গ্রামবাসীর মধ্যে গড়ে তুলতে পারলো না? এর আগে একটা বাঘ মারা হয়েছে প্রায় ১৬ ঘন্টা পর। বন বিভাগের লোকজন কাঠচুরির ব্যস্ততা ভুলে এসব নিয়ে একটুও সময় দিবে না? কেউ দেখার নেই!

২০০৪ সালের বাঘ শুমারীর তথ্যে অনেকে আঁতকে উঠেছিলেন। এই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ থেকে চালানো এই শুমারীর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল একই বছরের ৯ অক্টোবর । এতে বলা হয়েছিল, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘ আছে মাত্র ৪শ ১৯ টি পূর্ণবয়স্ক বাঘ। আর বাচ্চা বাঘের সংখ্যা ২১ টি। মেরে ধরে এখন কয়টা আছে কে জানে!

যা হোক বাঘের বংশ নির্বংশ হওয়া নিয়ে আমার উদ্বেগ কখনো ছিল না,চিন্তিত ও ছিলাম না । কিন্তু যারা বাঘ , পশু - পক্ষী নিয়ে কাজ করেন তাদের আরো ক্যাচাল, গ্যাঞ্জাম করা দরকার অনুভব হয়।

বাঘটার করুণ মৃত্যুর ছবি দেখে আজ দিন ভর মনটা খুব খারাপ হয়ে আছে। আর সব সমস্যা , দুঃখ ইত্যাদি ভুলে খালি নিহত বাঘটার মুখ আর ভয় দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা মনে পরছে! বাধ্য হয়ে পরাজিত বাঘের জন্য এই লেখাটা লেখলাম বসে বসে। দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগির জন্য, কোন নালিশ জানানোর জন্য ব্লগের কথাই দেখি মনে পরে সবার আগে! পুরা ডিজিটাল ব্যপার!!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28973889 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28973889 2009-07-05 16:28:14
দিবস রাতির পাড়ি দিগন্তে এক বাড়ি
গোপন সুখে অচিন হৃদয়
পুড়ছে তাড়াতাড়ি

তার চুল খুলেছে মত্ত হাওয়া
ভুল বিধেঁছে চুপে
মন বাগানে ভ্রমর ঘুমায়
চাঁদ জেগেছে রূপে

ঢেউ কি না ঢেউ জ্যোৎস্নার ঢেউ
মন কে নিছে কিনে
সেই নয়নের দৃষ্টি কাঁপে
আমার চোখের বীণে

মন ছুটেছে দক্ষিনে আজ
দিবস রাতির পাড়ি
মন খারাপের ধোয়া ওড়ে
দিগন্তে এক বাড়ি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28965013 http://www.somewhereinblog.net/blog/faysal1blog/28965013 2009-06-15 17:50:53