আমার প্রিয় পোস্ট
- ১৫ই আগষ্টের পট পরিবর্তনের ইতিহাস-১ - চিন্তিত দার্শনিক
- জহির রায়হান অন্তর্ধান নাকি হত্যাকান্ড? -১ - ইবনে সালাম
- আওয়ামী লীগ ও রক্ষী বাহিনীর নির্যাতন : কেউ ভোলে কেউ ভোলে না (পর্ব-১) - সুধাসদন
- @ তাফসীরুল উশরুল আখীর (বাংলা অনুবাদ ডাউনলোড করুন) - ফজলে এলাহি
- নাস্তিকদের নৈতিক রূপ কি এসব করা??? - কঠিন চিজ
- মাওলানা মওদুদী সম্পর্কে জানতে হলে ... (আপডেট : amarboi.org এ আরো বই পাবেন) - ভালো
- রক্তের সে স্রোতধারা হোক সুন্দরের অগ্রপথিক - হলদে ডানা
- @ সীরাতুন্নবী: প্রারম্ভ ও তথ্যাবলী... - ফজলে এলাহি
- মুসলিম ব্লগারদের জন্য কিছু কথা - আবূসামীহা
- @ আমার বিশ্বাস: সামহোয়্যারইন ব্লগে কোন রাজাকার নেই - ফজলে এলাহি
- @"জাতির পিতা" বিতর্ক: বিভ্রান্তি এবং বাস্তবতা(প্রথমার্ধ) - ফজলে এলাহি
- @"জাতির পিতা" বিতর্ক: বিভ্রান্তি এবং বাস্তবতা(শেষার্ধ) - ফজলে এলাহি
- তুরস্কে হিজাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার - আশরাফ রহমান
- শবে বরাত - ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া (১ম কিস্তি) - আব্দুর রহমান রাযীন
- মিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য - ২য় পর্ব - বইপাগল
- @ধর্মনিরপেক্ষতা নয়; ইসলামই বাংলাদেশের ভবিষ্যত - ফজলে এলাহি
- বাংলাদেশের প্রয়োজন “রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজার কুসংস্কার” থেকে মুক্তি - আবূসামীহা
- @ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(১) - ফজলে এলাহি
- @ইসলাম ব্যতীত অন্য সকলের কাছেই নারীজাতি লাঞ্ছিত ও বঞ্ছিত - ফজলে এলাহি
- ধর্মনিরপেক্ষতা: শোষনের নির্লজ্জ হাতিয়ার - আস্তমেয়ে
- ফিলিস্তিন প্রান্তর হতে একটি চিঠি... [পর্ব/১] - আব্দুর রহমান রাযীন
- ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ : একটি অযৌক্তিক ও বিপদজনক মতবাদ ( প্রথম পর্ব ) - আশরাফ রহমান
- হায় '৫২-র ভাষা শহীদ! হায় '৭১-এর শহীদেরা!! এ কোন কাপুরুষ প্রজন্ম রেখে গেলেন?? যারা চেতনার জন্য গালির আশ্রয় নেয়? - ফজলে এলাহি
@ কবর-এর ৩টি প্রশ্নের আলোকে জাতীয় নির্বাচনে আমাদের করণীয়
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩
পৃথিবীতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, তবে সাধারণভাবে মানব জীবন গতিশীল। এ গতিরও একটা সীমানা নির্ধারিত রয়েছে, তা হলো এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস হবার দিন। তার পূর্বে জীবন আসে, নির্দিষ্ট সময় এখনে যাপন করে, শ্রমে-ঘর্মে পৃথিবীতে তার অংশকে যুক্ত-সিক্ত করে ফিরে চলে যায় আরেক জগতে; এভাবেই প্রতিনিয়ত মানব জাতির আসা যাওয়ায় আবাদ হচ্ছে পৃথিবী। মোটের প্রেক্ষাপটে তাকালে মনে হবে যে, সবকিছুই মানুষের কাজ, মানুষেরই জন্য, মানুষের পৃথিবীর উন্নয়নের জন্য। কিন্তু মানব জাতির একক হিসেবে চিন্তা করলে দেখা যায় তার উল্টোটা। এখনে ব্যক্তি একা যা কিছুর সম্পাদন করে গেছে, তার কিছু কিছু জীবনকালে ভোগ করে গিয়েছে; বাদ বাকী বিশাল অংশটুকু পড়ে রয়েছে, শুধু সে আর অবশিষ্ট নেই এই পৃথিবীতে। এ দৃষ্টিভঙ্গির ফলাফলে বেশীর ভাগই বেদনা, হাহাকার, দীর্ঘশ্বাস। ব্যক্তির নিঃশ্বাসের প্রবল পরিক্রমা যতক্ষণ ক্রিয়াশীল ততক্ষণ পৃথিবীর সবকিছু তার জন্য হতে পারে, নিঃশ্বাসের নিঃশেষে সবকিছুই তার জন্য থমকে যায় সেখানে, ঠিক সেই মুহূর্তে! মূলতঃ এটিই মানব জীবনে সত্যিকারের বাস্তবতা।
কত স্বপ্ন, কত সাধনা, কত কাজ, কত গতিময় জীবন; না, তখন ভুল হয়ে যায় সকল সরল চিন্তা। জগতে কত অসাধ্যই না সাধনের পরিকল্পনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হয় শ্রমে-কর্মে। এই প্রাবল্য সেদিন মিথ্যে মনে হতে থাকে ওপারের যাত্রীর নিকট। কিন্তু এপারে যাদের অবস্থান, তারা কোনভাবেই উপলব্দি করতে পারে না কি ভয়ংকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনন্তযাত্রীদের।
না, সকলেই যে ব্যর্থ কিংবা বিপদগ্রস্ত তা নয়। পৃথিবীর এ স্বল্পসময়কে সাজিয়ে রাঙিয়ে নিতে পেরেছেন যারা সত্যের রঙে, তারা সে যাত্রায় যত খুশী হন পৃথিবীর জীবনকালের আর কোথাও এত খুশী হতে পারেন না। অনন্তখুশীর এ ধারাবাহিকতার কোন শেষ নেই। এ খুশী লাভের যাবতীয় উপায় উপকরণ আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। প্রয়োজন শুধু গ্রহণের, জ্ঞান লাভের ও শ্রমে-কর্মে জীবনকে সফল হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রিয় আনন্দের মঞ্জিল জান্নাতে পৌঁছে যাওয়ার সাধনা করা। জগৎস্রষ্টা বলেন: فَادْخُلِي فِي عِبَادِي وَادْخُلِي جَنَّتِي "অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।" [সূরা আল-ফজর: ২৯-৩০]
অজানা অথচ সুনির্দিষ্ট সময়ের এই জগতের পথে যে যা কিছুই করি না কেন, যে পথ ও যে আদর্শই ধারণ করি না কেন, ওপার জীবনের প্রথম মঞ্জিল কবরে প্রত্যেক আদম সন্তানকে তিনটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই হবে। প্রশ্ন তিনটি যথাক্রমে- তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে?
জীবনের প্রতিটি কাজে কর্মেই মানুষের এ প্রশ্নগুলোকে স্মরণ রাখা ও সামনে নিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। কেননা, এ প্রশ্নগুলো এমন নয় যে, বার বার মুখস্থ করে নিয়ে গেলে কবরে জবাব দেয়া যাবে। আবার এমনও নয় যে, লিখে কিংবা রেকর্ড করে নিয়ে গিয়ে কাজে লাগানো যাবে। না; বরং কেউ সারা জীবন এগুলো মুখস্থ করতে থাকলেও সেদিন কবরে যখন ফিরিশতা প্রশ্ন করবেন, তখন শুধু মুখস্থ করার গুণে জবাব দেয়া সম্ভব হবে না। বরং জবাব দেয়া সম্ভব হবে যদি জীবনকে এ তিনটি প্রশ্নের আলোকে আলোকিত করা সম্ভব হয়। আর জীবনের তিনটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যথাক্রমে চিন্তা, কথা ও কর্ম। ব্যক্তি কি চিন্তাধারা, কি চেতনা, কি আদর্শিক ভাবনা পোষণ করেছে সারাটি জীবন; কি কথা বলেছে জনে জনে জনসভায়, বক্তৃতায়, লেখনিতে, কি কর্ম সাধনে প্রাণান্ত সাধনায়, কোন পাওয়ার জন্য, কোন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছে আমৃত্যু, এমনকি মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত, সেসবই হবে কবরে জবাব দিতে পারা না পারার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা ভিত্তি।
প্রথম প্রশ্নটি জগৎস্রষ্টা আল্লাহর পরিচয় বিষয়ক, যার অধিকাংশই জ্ঞানগত। অন্যদিকে তৃতীয় প্রশ্নটিও প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কিত; যাঁর উপর সুদৃঢ় বিশ্বাসী হতে না পারলে দ্বীন-ধর্মের বাকী যাবতীয় সবকিছুই ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য থাকে। এতদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অন্যান্য লেখায় হয়েছে এবং আরো হবে ইনশাআল্লাহ্। এ প্রবন্ধে আমরা আলোকপাত করতে চেষ্টা করবো আমাদের বর্তমান চলমান সময়ে দ্বিতীয় প্রশ্নটি কিভাবে সংশ্লিষ্ট ও কবরে এর সঠিক উত্তর দেয়ার জন্য এখনই পৃথিবীতে সে প্রশ্নের আলোকে আমাদের করণীয় সম্পর্কে।
জীবনের নানা কাজে, নানা মৌসুমে; এমনকি প্রতিটি মুহূর্তেই এ প্রশ্নগুলোর আলোকে সাজাতে হবে আমাদের সফল জীবনকে। অন্যথা জীবন জুড়ে ব্যর্থতা নেমে আসতে বাধ্য। স্রষ্টার বেঁধে দেয়া সবটুকু সময়ই সমান গুরুত্ববহ হলেও জগতের নানা উত্থান-পতনে সময়গুলো আমাদের জীবনে নানা মৌসুমের আগমন ঘটায়। বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে আমাদের জাতীয় জীবনেও একটা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এখন। আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ২৯ ডিসেম্বর। এর মাধ্যমে এদেশবাসীর প্রত্যেকে নিজ নিজ মতামত ভোটের মাধ্যমে প্রদান করে নির্ধারন করবে যে, আগামী দিনে তারা ব্যক্তি-সমাজ ও দেশের জন্য কোন পদ্ধতি, কোন আদর্শ, কোন ব্যবস্থাকে চায়। যে ব্যবস্থা-আদর্শ-জীবন যাপন পদ্ধতির পক্ষে অধিকাংশ মানুষ ভোট দেবে সে জীবন পদ্ধতিই হবে আগামীর বাংলাদেশের পরিচালনা ব্যবস্থা। পৃথিবীর এ স্বল্পকালীন জীবন শেষে কবরে আমাদেরকে যে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে বিশ্বাস-কথা-কর্মের ভিত্তিতে, সেগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রশ্নটি আমাদের এই নির্বাচনী মৌসুমের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখে।
কি চাই আমরা? কিভাবে দেখতে চাই আগামীর বাংলাদেশকে? কোন আদর্শের রঙে রঙিন দেখতে চাই আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে? ইত্যাদি এসব প্রশ্নগুলোর সাথে আরো একটি প্রশ্নকে মিলিয়ে তারপর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আজকের বাংলাদেশের প্রতিজন মানুষকে। তবেই হবে সত্যিকারের মতামত প্রদান। সেই অন্য অথচ মহাজীবনের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভরশীল প্রশ্নটি হলো- তোমার দ্বীন কী?
দ্বীন শব্দটির অনেকগুলো অর্থ রয়েছে। ড. আবূ বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া বলেন: "যদি তোমাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার দ্বীন কি? উত্তরে বল : আমার দ্বীন হলো ইসলাম, যার মানে - আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নিয়ে সম্পূর্নভাবে তাঁর কাছে আত্নসমর্পণ করা, তাঁর নির্দেশ অনুসরণের মাধ্যমে স্বীকার করা, এবং আল্লাহর ইবাদতে অন্য কিছুর অংশীদারীত্ব করা থেকে মুক্ত থাকা এবং যারা তা করে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।" সূত্র: প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য যা জানা একান্ত কর্তব্য Click This Link
উপরোল্লেখিত জবাবে জীবনের যাবতীয় অংশটুকুই শামিল হয়ে যায়। সহজ ভাবে এরূপ যে, যেহেতু ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা এবং ইসলামই হলো একমাত্র সত্য দ্বীন, সেহেতু পরিপূর্ণ জীবনটাই এখানে শামিল হয়ে যায়। এছাড়াও যারা ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে বিগত দিনগুলোতে হেন তৎপরতা নেই যা দেখায়নি; এমনকি পূর্ব থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে জঙ্গীবাদ দমনের দোহাই দিয়ে সত্যিকারের ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের উত্থানকে প্রতিরোধ করবে, তাদেরকে কোনরূপ সন্দেহ সংশয় ছাড়াই আপনার-আমার জন্য অনন্ত পথের প্রথম মঞ্জিলে অপেক্ষমান তিনটি প্রশ্নের জীবন ব্যাপী উত্তর প্রস্তুতের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে গ্রহণ করে নিতে পারেন। এবং আসন্ন নির্বাচনে ইসলামের বিপক্ষ শক্তিকে প্রতিরোধের মাধ্যমে আপনি সাধনা করতে পারেন আপনার জন্য অপেক্ষমান দ্বিতীয় প্রশ্ন "তোমার দ্বীন কি?"-এর উত্তর বাস্তবায়নে।
পবিত্র কুরআনে ‘দ্বীন’ (دين) শব্দটির তিন প্রকারের অর্থ এসেছে। প্রথমঃ শক্তি, কর্তৃত্ব, হুকুমাত, রাজত্ব-আধিপত্য এবং শাসন ক্ষমতা। দ্বিতীয়ঃ এর সম্পূর্ণ বিপরীত যথা-নীচতা, আনুগত্য, গোলামী, অধীনতা এবং দাসত্ব। তৃতীয়, হিসেব করা ফায়সালা করা ও যাবতীয় কাজের প্রতিফল দেয়া।" সূত্র: Click This Link
সুতরাং "দ্বীন" এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ যা আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র-বৃহৎ অংশ ও ব্যাপারকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে। তাই দুনিয়ার জীবন ও আখেরাতের অনন্ত জীবনের কথা বিবেচনা করে এ মৌসুমে আপনাকে-আমাকে চিন্তা করতে হবে, ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কোথায় আপনার মূল্যবান রায়টি প্রধান করলে আপনার দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণকর হবে, পাশাপাশি আখেরাতের জীবনের প্রথম মঞ্জিল কবরেও সেই দ্বিতীয় প্রশ্ন-"তোমার দ্বীন কি?" –এর উত্তর দেয়াও সহজতর হবে।
উল্লেখ্য যে, এবারের নির্বাচনে দু'টো ভাগ হয়ে গেছে সবগুলো আদর্শ ও সেসবের ধারকেরা। তন্মধ্যে একদিকে রয়েছে ইসলামী ও ইসলামকে ভালবাসে এমন ধারার মানুষেরা এবং অন্যদিকে রয়েছে কুফরী মতবাদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক-মুরতাদ ধরনের মানুষেরা। এখন দুনিয়া ও আখেরাতের বিবেচনায় আপনাকে-আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমরা আমাদের উভয় জগতের সাফল্য বিবেচনায় কাদের পক্ষ নেব। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এ মতামত প্রদান বা ভোট প্রদান কোন অবস্থাতেই ছোট কোন বিষয় নয়; কিংবা "ভোট পঁচে যাবে" এমন ভ্রান্ত ধারনা করা কখনোই উচিত নয়। বরং জানতে হবে ও বুঝতে হবে যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ইসলামের পক্ষাবলম্বন করার কারণেই পৃথিবীতে মানুষের "বড় প্রভু" দাবী করা ফিরআওনের স্ত্রী আছিয়া জান্নাতী হবেন। অন্যদিকে নবী লূত 'আলাইহিস্ সালামের স্ত্রী একজন নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও জাহান্নামী হবে শুধুমাত্র বাতিল, মিথ্যা ও অশ্লীলতার পক্ষে মতামত প্রদানের জন্য। তাই এ সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করুন জীবন-মরণ সমস্যার সিদ্ধান্ত হিসেবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিন যে, কোন পক্ষাবলম্বন করবেন আপনি- ইসলাম ও ইসলামের স্বপক্ষ জোটের না কি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক-মুরতাদ সমষ্টীয় জোটের? অতএব, চিন্তা করুন, ভাবুন এবং বর্জন করুন ইসলাম বিধ্বংসী মতবাদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক-মুরতাদ গোষ্ঠীকে। আল্লাহ্ আপনাকে আমাকে ও এদেশে ইসলাম সুরক্ষার সাধনায় লিপ্ত মুজাহিদদের সাহায্য করুন। আল্লাহ্ হেফাযত করুন আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে।
২১ ডিসেম্বর ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবর, নির্বাচন, ভোট, ইসলাম ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আদর্শ, দিনকাল বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মানুষ বলেছেন:
দুই দিনের দুনিয়া, খালি হাতে এসেছি, খালি হাতে ফিরে যাবো। কি দরকার ভোটাভুটির। চলেন জঙ্গলে যাই।
লেখক বলেছেন: মানুষ-
ঠিক বলেছেন- দুই দিনের দুনিয়া, খালি হাতে এসেছি, খালি হাতে ফিরে যাবো। কিন্তু তার পরের অংশ ঠিক হয়নি।
ইসলামের বৈরাগ্যবাদের কোন স্থান নেই। মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি একাধারে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন, লোকদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছেন, সংসারধর্মও করেছেন আবার রাষ্ট্র পরিচালনাও করেছেন। তাই সত্যিকারের মুসলমানদেরকে এ ধরনের সু(?)বুদ্ধি দিয়ে লাভ হবে না।
তবে পরিতাপের বিষয় যে, মুসলমানদের মধ্য থেকে একটা বিরাট অংশ এ ধারনা পোষণ করেন যে, দুনিয়ার এসব কর্মকাণ্ড থেকে যত নিজেকে গুটিয়ে রাখা যায়, ততই ভালো। এ চিন্তা থেকে ওনাদের অনেকেই ভোট পর্যন্ত দেয়া থেকে বিরত থাকেন। অথচ একটি বারের জন্যেও চিন্তা করেননা যে, এভাবে বিরত থেকে এসবের ফলাফল থেক বেঁচে থাকা যায় না। যে সরকারই আসুক তার কাজকর্মের ফলাফল সেসব মুসলমানকেও ভোগ করতে হয়। বরং অসৎ ও যালেম সরকার যদি তার ভোট না দেয়ার কারণে সুযোগ পেয়ে ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়, তবে সেজন্য ঐসব ভাইয়েরাও দায়ী হবেন।
সুতরাং ইসলাম যেহেতু একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা সেহেতু মন্ত্রণা দিয়ে কিংবা বল প্রয়োগ করে কিংবা যুদ্ধাপরাধী, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী, মৌলবাদী, ধর্মব্যবসায়ী ইত্যাদি বলে এর বিস্তৃতি ও বিস্তৃত সাধনাকে প্রতিরোধ করা যাবে না কোনভাবেই। বরং দেখাগেছে প্রতিরোধে সুফল ফলায় অনেক সময়ই। কেননা, স্রোতের বিপরীতে চলার একটা মানবীয় গুণ মানুষ হিসেবে মুসলমানগণও ধারণ করে থাকেন।
লেখক বলেছেন: ১। মানে কি মাইনাস দিলেন? এখানে কিন্তু মাইনাস ভোট দিয়েছেন ![]()
জাতীয় নির্বাচনে না ভোট দেয়াটা এক অর্থে নির্বাচনকে মেনে না নেয়ার শামিল। কিন্তু যেখানে নির্বাচন কমিশনই এ সুযোগ দিচ্ছে সেখানে একথা বলার কোন জো নেই।
তথাপি না ভোট দেয়ার আলাদা কোন আউটপুট আমি দেখছি না। কেননা, আপনিসহ যত বড় সংখ্যক ভোটারই না ভোট দিক না কেন কেউ না কেউ একজন জিতবেই যাদেরকে আপনারা পক্ষ-বিপক্ষ কোন ভোটই দেননি। তখন সে ব্যক্তি এলাকায় বা দেশে যে ভূমিকা রাখবে, তার সুফল বা কুফল থেকে কিন্তু এই না ভোট দেয়া নাগরিকরাও বাদ পড়বেন না। সুফল হলে তো ভাল কিন্তু কুফল হলে কাকে দোষ দেবেন আপনারা তখন? উক্ত ব্যক্তিকে ভোট দিলে অন্তত মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতেন যে, তাকে ভোট দেইনি তাই তার অপকর্মের অংশীদারও নই। আর পক্ষে ভোট দিলে অনুতপ্ত হতে পারতেন। কিন্তু না ভোট দিয়ে কি করার থাকবে তখন? যাইহোক, আমার চিন্তা তুলে দিলাম। আমি না ভোটে তেমন সুফল দেখি না। আর আমাদের দেশে এ পরিমাণ না ভোটও পড়বে বলে মনে করি না যার বদৌলতে কোন আসনের নির্বাচন পুনরায় করতে হতে পারে।
সিটিজি৪বিডি বলেছেন:
সঠিক সিদ্ধান্ত নিন যে, কোন পক্ষাবলম্বন করবেন আপনি- ইসলাম ও ইসলামের স্বপক্ষ জোটের না কি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক-মুরতাদ সমষ্টীয় জোটের?
লেখক বলেছেন: সিটিজি৪বিডি-
জি, ঠিক অংশটুকুই চয়ন করেছেন। বাংলাদেশের অন্তত ৮৫ ভাগ মানুষকে এ দিনগুলোতে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। কেননা, এর উপার নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ।
একদিকে রয়েছে ৭৫ এর পাকা ধানে মই উঠার যন্ত্রণাকাতর ভারত তার বিভিন্ন গোপন সংগঠন নিয়ে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মত একটি দেশ-যেখানে পৃথিবীর এক দশমাংশ মুসলমানের বসবাস-এমন একটি দেশে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে রুখে দেয়ার জন্য পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অশুভ ছায়া। আর সাথে সাথে রয়েছে এদেশীয় দালাল চক্র।
তাই এবারের নির্বাচনের উপর শুধুমাত্র একটি ফলাফলই নির্ভরশীল নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যত এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ভালো বা মন্দ যা কিছু ঘটবে সেসবের দায়-দায়িত্ব। কেননা, আপনার আমার ভোটেই তা নির্ধারিত হবে যে, আমরা আসলে কেমন বাংলাদেশ চাই- ইসলাম ও ইসলামের পক্ষ শক্তির দ্বারা পরিচালিত সুন্দর-সমৃদ্ধির বাংলাদেশ? না কি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ৭৫-এর ব্যর্থতা ও ১৯৯৭-২০০১ সেশনের ইতিহাস খ্যাত অরজকতার আখের গোছানোর সুযোগ করে দিতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে ও নাস্তিক-মুরতাদের দ্বারা পরিচালিত বাংলাদেশ?
সত্যান্বেষী বলেছেন:
২।
লেখক বলেছেন: সত্যান্বেষী-
মাইনাস দিয়ে কি সত্যকে রুখে দেয়া যায়?
সত্যান্বেষী বলেছেন:
২।
লেখক বলেছেন: মোট মিলিয়ে তো একটাই মাইনাস, তাই না?
সত্যান্বেষী বলেছেন:
নাস্তিক-মুরতাদ সমষ্টীয় জোটের
লেখক বলেছেন: সত্যান্বেষী-
আপনার সত্যের অন্বেষণ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আমি জাহান্নামে জাবো তবুও জামায়তে ভোট দিবো না। আল্লাহর লানত নেমে আসুক এই সব জামতি ধর্মব্যবসায়ীদের উপর। আল্লাহ জামায়াতকে ধ্বংস করুক।
লেখক বলেছেন: মাহবুব সুমন-
কত বড় ভয়ংকর কথা বলে ফেলেছেন জানেন আপনি? !!!
জামায়াতকে বা অন্য কাউকে ভোট দেয়া না দেয়া আপনার একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু তার বিনিময়ে জাহান্নামে যেতেও প্রস্তুত হয়ে গেলেন? আপনি কি আদৌ জেনেছেন জাহান্নাম সম্পর্কে?
এই পৃথিবীতে আপনি কতদিন বাঁচবেন? খুব বেশী হলে একশ' বছর। তারপর মৃত্যু, মৃত্যুর পর যদি আপনি জাহান্নামকে পছন্দ করে নেন, তবে সে জীবন হবে অনন্ত, যার কোন শেষ নেই। জাহান্নামের আগুনের রঙ কালো। পৃথিবীর আগুনের চাইতে অনেক অনেক গুণ বেশী শক্তিশালী সে আগুন! জাহান্নামীদেরকে খেতে দেয়া হবে গরম পানি, রক্ত, পুঁজ, জাক্কুম নামক একজাতীয় কাঁটা গাছ! যন্ত্রণা ও ভয়ংকরের যে রূপ পৃথিবীবাসী কল্পনাও করতে পারবে না, জাহান্নাম তারচেয়েও ভয়ংকর! আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন একথার জন্য।
পক্ষান্তরে বলতেই হচ্ছে যে, এরকম দো'আ ইসলামের মুজাহিদদের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকট অনেক করেছিল মক্কার মুশরিকরা। না, আপনাকে বা আপনাদেরকে আমি মুশরিক বলছি না; তবে আপনারা যে আদর্শের সীমানায় অবস্থান করে ইসলাম পন্থীদের জন্য বদদো'আ করছেন, তা কুফরী আদর্শ। বাকীটা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রশ্ন করে জেনে নেবেন।
তাই পক্ষ পৃথিবীতে মোট মিলিয়ে দু'টোই। আল্লাহর দল আর তাগূতের দল। আপনি নিজেকে প্রশ্ন করলেই বোধ হয় জেনে যাবেন যে, বর্তমানের যে দু'টি জোট হয়েছে আমাদের নির্বাচনে, সে দু'টির মধ্যে আল্লাহ্ কাদেরকে পছন্দ করবেন। অবশ্যই কুফরী মতবাদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে করবেন না, আর নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শগুলোতো নিজেরাই আল্লাহর নৈকট্য হতে দৌড়ে পালাচ্ছে।
পক্ষান্তরে ইসলামী আন্দোলন? যারা কি না তাদের সময়, শ্রম, অর্থ, এমনকি জীবন পর্যন্ত আল্লাহর দ্বীনের জন্য উৎসর্গ করে দিচ্ছে এবং দিতে সদা প্রস্তুত; তাদেরকে বুঝি আল্লাহ্ লা'নত দেবেন কোন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর দো'আয়-যা কি না কুফরী মতবাদ-বা কোন নাস্তিকের দো'আয়
সত্যিই হাস্যকর শোনায় আপনাদের এসব দো'আগুলো।
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
৯
লেখক বলেছেন: ৯ মানে কি? যাই হোক এর প্রতিদান পাবেন আশা করছি। ![]()
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
আমি নাস্তিক না। জামায়াতে ভোট দিবো না। আল্লাহর লানত নেমে আসুক এই সব জামতি ধর্মব্যবসায়ীদের উপর। আল্লাহ জামায়াতকে ধ্বংস করুক।
আমীন।
লেখক বলেছেন: এরকম দো'আ ইসলামের মুজাহিদদের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকট অনেক করেছিল মক্কার মুশরিকরা। না, আপনাকে বা আপনাদেরকে আমি মুশরিক বলছি না; তবে আপনারা যে আদর্শের সীমানায় অবস্থান করে ইসলাম পন্থীদের জন্য বদদো'আ করছেন, তা কুফরী আদর্শ। বাকীটা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রশ্ন করে জেনে নেবেন।
তাই পক্ষ পৃথিবীতে মোট মিলিয়ে দু'টোই। আল্লাহর দল আর তাগূতের দল। আপনি নিজেকে প্রশ্ন করলেই বোধ হয় জেনে যাবেন যে, বর্তমানের যে দু'টি জোট হয়েছে আমাদের নির্বাচনে, সে দু'টির মধ্যে আল্লাহ্ কাদেরকে পছন্দ করবেন। অবশ্যই কুফরী মতবাদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে করবেন না, আর নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শগুলোতো নিজেরাই আল্লাহর নৈকট্য হতে দৌড়ে পালাচ্ছে।
পক্ষান্তরে ইসলামী আন্দোলন? যারা কি না তাদের সময়, শ্রম, অর্থ, এমনকি জীবন পর্যন্ত আল্লাহর দ্বীনের জন্য উৎসর্গ করে দিচ্ছে এবং দিতে সদা প্রস্তুত; তাদেরকে বুঝি আল্লাহ্ লা'নত দেবেন কোন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর দো'আয়-যা কি না কুফরী মতবাদ-বা কোন নাস্তিকের দো'আয় সত্যিই হাস্যকর শোনায় আপনাদের এসব দো'আগুলো।
আওরঙ্গজেব বলেছেন:
ধন্যবাদ - এতেই মতলববাজদের ভোটের পবিত্রতা - অপবিত্রতা ধরা পড়ে যাবে।
লেখক বলেছেন: আওরঙ্গজেব ভাই-
জাযাকাল্লাহ্ খায়ের। আল্লাহ্ কবূল করুন আপনার কথাটি।
এস্কিমো বলেছেন:
ধর্ম নিয়ে ফাইজলামী বন্ধ করেন।
লেখক বলেছেন: এস্কিমো-
'ফাইজলামী'র ব্যাখ্যা কি?
ধর্ম নিয়ে ফাইজলামী তো করছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা।
১) নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে তাদের নেত্রীদের মাথায় ঘোমটা চড়ে।
২) হাতে তসবীর দানা উঠে।
৩) নবীগণের প্রচারিত ধারাবাহিক সত্য দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অব্স্থান নিয়ে ও নবীদের প্রভু আল্লাহর নামকে দেশের সংবিধান থেকে তুলে দেয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত ইসলামের দুশমন BAL এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে নূহ নবীর নৌকার সাথে মিলিয়ে ইসলামের "ফাইজলামী" করে যাচ্ছে তো আওয়ামী নেতা নেত্রীরা।
৪) নিজেদেরকে মুসলমান পরিচয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও মুসলমান অধ্যুসিত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার মাধ্যমে ইসলামের সাথে 'ফাইজলামী' করে যাচ্ছে তো ধর্মনিরপেক্ষাবাদীদের "সোনার ছেলেরা"।
তারপরও কি নিজেদেরকে "ফাজিল" ভাবতে ইতস্ততঃ করবেন?
এস্কিমো বলেছেন:
কমেন্ট দিলে যায় কই?
লেখক বলেছেন: হেড অফিসে, সেখান থেকে পাস হয়ে তারপর ফিরে আসে ![]()
এস্কিমো বলেছেন:
ধন্যবাদ, আপনার মন্তব্যটি পোস্ট করা হয়েছে । এই পোস্টের মন্তব্য মডারেটেড বিধায় তা এখানে প্রকাশ পেতে কিছুটা সময় নিতে পারে । আপনার মন্তব্যটি পুনরায় পোস্ট না করে, অপেক্ষা করুন । - কেন?
লেখক বলেছেন: এটা এজন্য যে, অতীতে আপনাদের অনেককেই দেখা গেছে চেতনার জন্ডিসে ধরেছিল। তাই চেতনা বৃদ্ধি করার জন্য গালাগাল রচনা করা, মুখস্থ করা, প্রচার করা ও নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে দেখেছে ব্লগাররা। সেসব অসুস্থদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে আপনার সর্বসাকুল্যে করা তিনটি মন্তব্যই ছাড়পত্র পেয়ে যথাযোগ্যতায় শোভা পাচ্ছে। ![]()
আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
রিপোর্ট করলাম। ধর্মকে ব্যবহার করে ভন্ডামি করার জন্যে।
এই মন্তব্যটি মুছে ফেলা হয়েছে, মন্তব্য করার সময় ব্লগ ব্যবহারের শর্তাবলীর দিকে খেয়াল রাখুন । শর্তাবলী
ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য বরং চলেন তাবলীগে যাই।
লেখক বলেছেন: গুপী গায়েন-
একটা কথা বলবো না কেন? অবশ্যই বলবো। কেবল গালিমুক্ত ভাষায় জিজ্ঞেস করলেই হবে। ![]()
ইসলামের মুজাহিদ ম্যাডামের পিছে কোথায় দেখলেন, সাথে সাথে থাকছেন চার দলীয় জোটের চুক্তি অনুযায়ী।
"সবকিছুই ক্ষমতার জন্য" কথাটি যদি আপনার বা আপনাদের পায়ের নিচের একমাত্র যমীন হয়, তবে হতে পারে, কিন্তু সেটুকুতেই অন্য সবাইকে ভাবার কোন কারণ নেই।
একটা উদাহরণ দেই-
ধরুন আপনি একটি ভীড়ের মধ্যে ছুটছেন একটা লক্ষ্যের পানে, অন্যদিকে আমি সেই ভীড়ের পার্শ্ববর্তী একটি টিলার উপর বসে বসে দেখছি ভীড়সহ পুরো এলাকাটাই। বলুন তো কে বেশী দেখছে? এবং প্রতিটি নড়াচড়া কার দৃষ্টির সীমানায় রয়েছে?
পার্থক্যটা আমি মনে করি এখানেই। ইসলামের প্রকৃত রূপ যদি কেউ ধারন করতে পারে, তবে সে টিলায় বসে চারদিক দেখা ঐ ব্যক্তির মত, তার দৃষ্টিসীমা অনেক ব্যাপক।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন করে ইসলামকে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করার কারণে আপনারা যারা আমাদেরকে "ব্রেইন ওয়াশড" বলে বলে মুখে ফেনা তুলছেন, আপনারা মূলত কারো শিখিয়ে দেয়া এ শব্দগুলোকে প্রাণান্ত উচ্চারণ করতে করতে সেই ভীড়ের মধ্যেই দৌড়াচ্ছেন। কেউ কেউ জানেন যে, কোথায় যাচ্ছেন আসলে। আর অধিকাংশেরই জানা নেই গন্তব্য কোথায়....!
তাই আহ্বান করছি-
উঠে আসুন "পরিপূর্ণ ইসলাম" নামক সেই উন্মুক্ত টিলায়। যেখান থেকে তাকালে আপনি দেখতে পাবেন আপনার অনাগত অবস্থান, বর্তমানের হাজারো অলিগলির ঘিঞ্জিময়তায় আপনার সঠিক গন্তব্য এবং ভবিষ্যতের প্রিয় মঞ্জিল।
তাবলীগের তো ইসলাম প্রতিষ্ঠার কোন সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী নেই। তাবলীগে গিয়ে কি হবে?
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও নাস্তিক-মুরতাদগণ তো চাচ্ছেই যে, ইসলামী আন্দোলনের লোকেরাও রাজনীতির ময়দান ছেড়ে তাবলীগের চিল্লা নিয়ে মসজিদে ঢুকে পড়ুক। আর খালি ময়দানে তারা গোল দিয়ে সিংহাসনটা দখল করে নিক। তারপর শুরু হবে ইসলামকে প্রায় পনর কোটি মুসলামনের দেশ বাংলাদেশে একটু একটু করে জবাই করবে মহানন্দে!
না! তা হবে না কোনদিন!! আল্লাহ্ কখনো বাংলাদেশের জন্য এমনটি যেন না করেন সে প্রার্থনাই করছি। বাংলাদেশের এ উর্বর যমীনকে তাগূত শক্তির হাতে তুলে দিয়ে মুসলমানগণ যেন কখনোই মসজিদের ভেতরে ঢুকে না পড়ে। বরং মসজিদের মত পবিত্র রাখতে হবে বাংলাদেশের সমগ্র ভূমিকে সকল নাস্তিক মুরতাদদের অত্যাচার থেকে।
আগামী নির্বাচনই সে সংকল্প বাস্তবায়নের সর্বোৎকৃষ্ট সময়। সুতরাং তাবলীগের সকল ভাই/বোনদের প্রতিও আহ্বান- আসুন বাংলাদেশে ইসলামের সুরক্ষার জন্য অন্তত এবার ইসলামী ও ইসলামের পক্ষের দলগুলোকে জয়যুক্ত করি।
ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন:
আমার প্রশ্ন হল- যারা ইসলাম ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করে, তাদের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি? যারা পবিত্র ইসলাম ধর্মের নামে নিরীহ নারী-পুরুষকে হত্যা করে, ধর্ষণ করে, তাদের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?আশা করি, আপনি কিছু বলবেন।
সবচেয়ে বড় কথা হল- বিএনপি-জামায়ত জোট ইসলামের কথা বলে, কিন্তু আপনি হলফ করে বলেন তো তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কতজন মানুষ ইসলামী অনুশাসন মেনে চলে?
আমি প্রার্থনা করি, মহান সৃস্টিকর্তা যেন এসব ভন্ডকে যথোপযু্ক্ত শাস্তি দান করেন।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার আগে বা আপনার নিজেরও জবাব নেয়ার আগে মনটাকে ফাঁকা করুন। কেননা, আপনার প্রশ্নের মধ্যেই আপনার মনের চিত্রটি পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে।
এবার তাহলে প্রশ্ন নিয়ে কিছু বলি-
ইসলাম অনর্থক কোন হত্যাকে সমর্থন করে না, পক্ষান্তরে ইসলাম ফিৎসা-ফাসাদ সৃষ্টিকে হত্যার চাইতেও গুরুতর মনে করে।
বিএনপি জামায়াত জোটের সবার বেলায় তো একথা বলা যাবে না যে, তারা সবাই ইসলামী অনুশাসন মেনে চলে, তবে জামায়াতের বেলায় হলফ করে বলাটা যে কারুর জন্যই খুব সহজ। কেননা, জামায়াত তার কোন সমর্থককে নিজেদের সাংগঠনিক স্তরে কাউকেই এলাউ করে না যতক্ষণ না সে তার ব্যক্তিজীবনে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলার রিপোর্ট তার দায়িত্বশীলের কাছে জমা না দেয়। তাই যে কেউ হুট করেই জামায়াতে এসে কর্মী হয়ে যেতে পারে না, নেতা হওয়া তো সাত সমুদ্দুর দূরের কথা।
অতএব, জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী বাহিনীর ক্ষেত্রে হলফ করে বলা খুব সহজ। জোটের অন্যদের বেলায় অবশ্যই নয়।
আপনার মন্তব্যের শেষের কথাগুলোতে আপনার অন্তরে কলুষতা প্রকাশিত হয়ে পড়েছে।
না জেনেই কাউকে ভন্ড আখ্যা দেয়ায় সেটা আপনার উপরও আপতিত হয়ে যেতে পারে, অতএব সাবধান!
লেখক বলেছেন: দেখুন, সবকিছুই নির্ভর করে পরিস্থিতির বিচারে।
যেমন, চুরি করলে হাত কেটে দিতে হয়। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে যদি চোরের হাত কাটা হয়, তবে কি তা সঠিক হবে? না, কেননা এটা করা যাবে তখনি, যখন দারিদ্রের কারণে কেউ চুরি করতে বাধ্য হবে না; বরং চুরি করবে শুধুমাত্র বদ অভ্যাসের কারণে। আর সেরকম সমাজ ব্যবস্থা উপহার দিতে পারে কেবলমাত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে ইসলামী সরকারই।
কি দাঁড়ালো তাহলে? পরিবেশ পরিস্থিতি যথাযথ পর্যায়ে না এনে কোন আইন কার্যকরী করা কঠিন।
ইসলামে রাষ্ট্রীয় শাসন ও আদালতে কাযীর পদ নারীদের দেয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। তবে পূর্বের উদাহরণে যেমনটি বুঝাতে চেয়েছি যে, পরিস্থিতি যদি জটিল হয়, তবে তেমনটি ওযরের মধ্যে পড়বে।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে নারী পরিচালিত অথচ ইসলামকে ভালবাসে এমন একটি দলের সাথে নির্বাচনের ব্যাপারে জোটবদ্ধ হয়েছে মাত্র। এছাড়া নিজেদের যাবতীয় কর্মনীতি-কর্মসূচীতে কেউ কারো ধার ধারে না। এক সাথে নির্বাচন করার চুক্তি করাকে যদি বলে বেড়ান যে, নারী নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে, জাতীয়তাবাদ মেনে নিয়েছে, তবে বলতে হবে যে, আপনারা আসলেই ব্যাপারটা সম্পর্কে অজ্ঞ কিংবা অপকৌশলী।
দেখুন, কে বেশী ক্ষতিকর ইসলামের জন্য? ইয়াহূদী-নাসারা-মুশরিক চক্র, নাকি একজন মুসলিম নারী?
যে কউ নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারবে যে, অবশ্যই ইয়াহূদী-নাসারা-মুশরিকরা ইসলামের জন্য একজন মুসলিম নারীর চাইতে বেশী ক্ষতিকর হবে।
তাহলে দেখুন, ইসলামকে রক্ষার জন্য কিংবা ইসলামের অগ্রগতি সাধনের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদের সাথে চুক্তি করেছিলেন? তিনি মদীনা এসে তথাকার ইয়াহূদী-নাসারাদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হন মদীনা রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে; যা ঐতিহাসিক মদীনা সনদ নাম খ্যাত।
তারপর তিনি (সা) হুদায়বিয়ার সন্ধিতে মক্কার কাফেরদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন, শুধু মুশরিক বলেই নয়; বরং উক্ত চুক্তিতে বাহ্যিকভাবে ইসলামের পতন দেখতে পাচ্ছিল সবাই। অথচ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সম্পন্ন করেছেন, যার ফলাফল পরের বছর বিশ্ববাসী দেখতে পেয়েছিল মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে।
সুতরাং বাংলাদেশে তো ইসলামী আন্দোলনকে এ পর্যন্ত পরিস্থিতি বাধ্য করেছে মাত্র নারীর পরিচালিত দলের সাথে চুক্তি করার জন্য, আল্লাহ্ না করুন যদি পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়, তবে ইসলাম হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান শক্তির সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ারও অনুমতি প্রদান করে শুধুমাত্র পরিস্থিতির বিচারে।
অতএব, আপনাদের এসব অপপ্রচার প্রপাগাণ্ডা ইনশাআল্লাহ্ মাঠে মারা পড়তে বাধ্য। কেননা, চুক্তি ইসলামকে ভালবাসে এমন দলের সাথে হলেও আমাদের একমাত্র ভরসাস্থল হলেন আমাদের পরম প্রিয় প্রভু আল্লাহ্ তা'আলা। তাঁর কৌশলের কাছে সকল অপকৌশল ব্যর্থ হতে বাধ্য।
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
"এছাড়াও যারা ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে বিগত দিনগুলোতে হেন তৎপরতা নেই যা দেখায়নি; এমনকি পূর্ব থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে জঙ্গীবাদ দমনের দোহাই দিয়ে সত্যিকারের ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের উত্থানকে প্রতিরোধ করবে, তাদেরকে কোনরূপ সন্দেহ সংশয় ছাড়াই আপনার-আমার জন্য অনন্ত পথের প্রথম মঞ্জিলে অপেক্ষমান তিনটি প্রশ্নের জীবন ব্যাপী উত্তর প্রস্তুতের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে গ্রহণ করে নিতে পারেন।"এখানে সাবজেক্ট কে? আর সত্যিকার ইসলামপন্থী কারা? "জঙ্গীবাদ দমনের দোহাই দিয়ে সত্যিকারের ইসলাম..." এটি কি আপনার নিজস্ব ব্যখ্যা?
লেখক বলেছেন: সাবজেক্ট ধরতে পারলেন না?
আল্লাহ্ না করুন যদি ক্ষমতা পায় তবে আওয়ামী লীগের জঙ্গীবাদ দমন কমিশনের প্রথম টার্গেট কারা হবে তা তো বিগত দিনগুলোর অবস্থার স্মরণ করলেই পরিস্কার হয়ে যায়। যে কোন ঘটনা-দুর্ঘটনার পরপরই তাদের 'জামায়াত-শিবির এসব করেছে' টাইপ মাতম শুরু হয়ে যায়। পরে যদি পুলিশ সেসব ঘটনায় জামায়াত শিবিরের মিসওয়াকও খুঁজে না পায়, তারপরও তারা মিথ্যাচার চালিয়ে যায় তাদের দালালী করা মিডিয়ার মাধ্যমে। অবশেষে এমন কথাও বলতে ছাড়ে না যে, প্রশাসন চালায় জামায়ত-শিবির। ![]()
এমনকি জেএমবির নেতারা কবরে পৌঁছে গেছে তারপরও তাদের মধ্যে জামায়াত শিবির খুঁজে পাওয়া যায়নি, কিন্তু আজো কুফরী মতাদর্শে বিশ্বাসী দলের লোকেরা বলে বেড়াচ্ছে যে জঙ্গীবাদের সাথে জামায়াত-শিবির জড়িত। কি অসভ্য মিথ্যাচার।
তাহলে ব্যাখ্যাটা কি খুব পরিস্কার নয় যে, "সাবজেক্ট কে?" এবং "সত্যিকারের ইসলামপন্থী" কারা? এবং ক্ষমতায় গেলে কাদেরকে জঙ্গীবাদের নামে দমন করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে কুফরী মতাদর্শে বিশ্বাসী ও নাস্তিক্যবাদী জোট?
সত্যান্বেষী বলেছেন:
জামায়াত চেয়েছিল পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ না হোক। কিন্তু আল্লাহ চেয়েছেন বাংলাদেশ হোক (যেহেতু আল্লাহর ইশারা ছাড়া এমনটি হতে পারতো না)। তাহলে কি এই দাড়ায় না যে আল্লাহ জামায়াত বিরোধী?
এটা কি আপনাদের রাজনৈতিক দ্বিমুখিতার বহিঃপ্রকাশ নয়? ইসলাম যুক্তি বোঝে। কথার মিষ্টতাই সব কিছু নয়। ভাল থাকবেন।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
+। ফজলে এলাহী ভাই ধন্যবাদ। নিয়মিত লেখা দিবেন ইনশাল্লাহ্।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
+। ফজলে এলাহী ভাই নিয়মিত লেখা চাই। ধন্যবাদ।
সত্যেন্দ্র ছাতু বলেছেন:
২২
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














