আমার প্রিয় পোস্ট
- ১৫ই আগষ্টের পট পরিবর্তনের ইতিহাস-১ - চিন্তিত দার্শনিক
- জহির রায়হান অন্তর্ধান নাকি হত্যাকান্ড? -১ - ইবনে সালাম
- আওয়ামী লীগ ও রক্ষী বাহিনীর নির্যাতন : কেউ ভোলে কেউ ভোলে না (পর্ব-১) - সুধাসদন
- @ তাফসীরুল উশরুল আখীর (বাংলা অনুবাদ ডাউনলোড করুন) - ফজলে এলাহি
- নাস্তিকদের নৈতিক রূপ কি এসব করা??? - কঠিন চিজ
- মাওলানা মওদুদী সম্পর্কে জানতে হলে ... (আপডেট : amarboi.org এ আরো বই পাবেন) - ভালো
- রক্তের সে স্রোতধারা হোক সুন্দরের অগ্রপথিক - হলদে ডানা
- @ সীরাতুন্নবী: প্রারম্ভ ও তথ্যাবলী... - ফজলে এলাহি
- মুসলিম ব্লগারদের জন্য কিছু কথা - আবূসামীহা
- @ আমার বিশ্বাস: সামহোয়্যারইন ব্লগে কোন রাজাকার নেই - ফজলে এলাহি
- @"জাতির পিতা" বিতর্ক: বিভ্রান্তি এবং বাস্তবতা(প্রথমার্ধ) - ফজলে এলাহি
- @"জাতির পিতা" বিতর্ক: বিভ্রান্তি এবং বাস্তবতা(শেষার্ধ) - ফজলে এলাহি
- তুরস্কে হিজাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার - আশরাফ রহমান
- শবে বরাত - ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া (১ম কিস্তি) - আব্দুর রহমান রাযীন
- মিলাদ ও জন্মোত্সব - বিদআ'ত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য - ২য় পর্ব - বইপাগল
- @ধর্মনিরপেক্ষতা নয়; ইসলামই বাংলাদেশের ভবিষ্যত - ফজলে এলাহি
- বাংলাদেশের প্রয়োজন “রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজার কুসংস্কার” থেকে মুক্তি - আবূসামীহা
- @ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(১) - ফজলে এলাহি
- @ইসলাম ব্যতীত অন্য সকলের কাছেই নারীজাতি লাঞ্ছিত ও বঞ্ছিত - ফজলে এলাহি
- ধর্মনিরপেক্ষতা: শোষনের নির্লজ্জ হাতিয়ার - আস্তমেয়ে
- ফিলিস্তিন প্রান্তর হতে একটি চিঠি... [পর্ব/১] - আব্দুর রহমান রাযীন
- ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ : একটি অযৌক্তিক ও বিপদজনক মতবাদ ( প্রথম পর্ব ) - আশরাফ রহমান
- হায় '৫২-র ভাষা শহীদ! হায় '৭১-এর শহীদেরা!! এ কোন কাপুরুষ প্রজন্ম রেখে গেলেন?? যারা চেতনার জন্য গালির আশ্রয় নেয়? - ফজলে এলাহি
@ পরিচয়ে প্রাধান্য কোথায়: মুসলমানিত্বে নাকি বাঙালিত্বে?
০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২৩
পরিচয়, এ শব্দটির সাথে বাকী সবকিছুর এতই সখ্যতা যে, একে বাদ দিলে যেন অন্যসবকিছু অসার। পৃথিবীর প্রাণীকুলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠতার দাবীদার মানুষের জীবনেও এ শব্দটি এক সীমাহীন অবস্থান দখল করে আছে। পরিচয় প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমেই যে প্রশ্নটি কথা বলে উঠে তা হলো- 'আমি কে?' এই ছোট্ট একটি প্রশ্ন পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখে ব্যক্তির অন্তর, চিন্তা, কার্যকলাপ, আচার-আচরণসহ পুরো কাঠামোটাই। তদ্রূপ সমষ্টির ক্ষেত্রে এ প্রশ্নটি পাল্টে দিতে পারে একটি সমাজ ব্যবস্থাকে, রাষ্ট্রকে; এমনকি সমগ্র পৃথিবীকেও। কেননা, পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব চেয়ে কিংবা না চেয়ে মানুষেরাই পেয়েছে। অতএব সেই মানুষেরা যদি সঠিকভাবে জানতে পারে তাদের নিজ নিজ পরিচয় এবং পরিচয়ের এ জ্ঞান চেতনায় থাকে জীবন্ত ও কর্মে থাকে তৎপর, তবে পৃথিবী গড়ার কারিগরদের পক্ষে নতুন পৃথিবী গড়ে তোলা মোটেই দুঃসাধ্য কিছু নয়।
পরিচয়ের দিক এবং বিভাগও অনেক বিস্তর, সেসব বিস্তারনে না গিয়ে জাতীয়তা প্রশ্নে বিভাজিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিছু আলোকপাত করবো এ লেখায়। পৃথিবীর ভৌগলিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ভূপৃষ্ঠে অবস্থানরত মানুষের স্থানীয় পরিচয়ও পাল্টায়। এটি নিতান্তই পৃথিবীর নিয়ম। একটা সময় ছিল যখন বর্তমান বাংলাদেশের অধিবাসীদের এখনো বেঁচে থাকা কেউ কেউ এবং আমাদের পূর্বসূরীরা নিজেদেরকে ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিত, তারপর আমরা হলাম পাকিস্তানী এবং বর্তমানে বাংলাদেশী। হয়তবা ভবিষ্যতে আরো অনেক পরিবর্তন আসবে তখন পরিচয়েও আসবে নানা বৈচিত্র।
ঠিক তদ্রূপ দ্রুততার সাথে না হলেও মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও আসে নানা পরিবর্তন। কেউ এক ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়, কেউ ধর্মকেই নির্বাসনে পাঠিয়ে স্বীয় ইচ্ছাশক্তিকে প্রভু ভেবে তার পূজারী হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ ধর্মেকর্মে নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে আরোহণ করেন, কেউবা উচ্চ থেকে নিম্নস্তরের অতলে নেমে যায় ইত্যাদি।
আলোচ্য বিষয় হলো- ধর্মের পরিচয় আগে না কি ভৌগলিক পরিবর্তনে সৃষ্ট জাতীয়তার পরিচয় আগে? কিংবা অন্য কথায়, আমাদের জীবনে ধর্মীয় পরিচয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ না কি জাতীয়তার পরিচয় বেশী গুরুত্বপূর্ণ? বিষয়টিকে সাধারণ পর্যায়ে ফেললে বোধ হয় পর্যালোচনার ঘুড়ির নাটাই ধরে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। তাই এটিকে শুধু ইসলামের সাথে সম্পর্কিত রেখে এর পাশাপাশি বুঝার সুবিধার জন্য বাংলাদেশী জাতীয়তাকে সম্পৃক্ত করে আলোচনা করা যাক, অর্থাৎ এতদ অঞ্চলের একজন মুসলমান নিজের জন্য কোনটিকে তার মূল পরিচয় হিসেবে অগ্রাধিকার দেবেন- আগে কি? মুসলমি না বাঙ্গালী?
একথার উত্তর অনেক বিস্তারিতভাবে দেয়া যেতে পারে, তবে এখানে আমি কেবলমাত্র কয়েকটি প্রশ্ন রাখবো পাঠকের বিবেকের কাছে-
১) পৃথিবীতে আসার পূর্বে আপনি কি ছিলেন? বাঙ্গালী নাকি স্রষ্টার অনুগত রূহ (বা মুসলিম)?
পৃথিবীতে আসার পূর্বে যখন আমাদের কোন আকৃতি বা দেহ ছিল না, তখন আমরা ছিলাম আমাদের স্রষ্টা কর্তৃক সৃষ্ট রূহ বা আত্মার সমষ্টি। সৃষ্টির পর একবার তিনি সকল রূহকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ অর্থাৎ, "আমি কি তোমাদের রব নই?" জবাবে আমরা সকলেই এ স্বীকৃতি দিয়ে এসেছি আমাদের সর্বশক্তিমান প্রতিপালকের সম্মুখে যে, بَلَى "নিশ্চয়ই (আপনি আমাদের রব)।" [সূরা আল আ'রাফ-এর ১৭২নং আয়াত দেখুন Click This Link
তখন আমরা কেউই পৃথিবীর এ ভৌগলিক কোন সীমারেখার অধীনে ছিলাম না। বরং আল কুরআনের এ তথ্যের দ্বারা অকাট্য হলো যে, মানব জীবনের পূর্ব সূত্রিতার সাথে বন্ধন রয়েছে ধর্মের তথা ইসলামের পরিচয়ের; কোন অবস্থাতেই যুগের পরির্তনের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল ভৌগলিক পরিচয়ের নয়। তাহলে কিভাবে একজন মুসলমানের জন্য মুসলিম পরিচয়ের পূর্বে/চেয়ে বাঙ্গালী পরিচয় প্রাধান্য পেতে পারে?
২) পৃথিবী থেকে চলে যাবার দিন বা তার পরবর্তী সময়ে আপনার কোন পরিচয়টি কাজে লাগে বা লাগবে? বাঙ্গালী নাকি মুসলিম?
আপনার লাশটি যখন কবরে শোয়ানো হবে,তখন কি বলে শোয়াবে সবাই? তখন বলবে-
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থাৎ, "(আমরা এই লাশ) আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের উপর রাখছি।" [সুনানে আবূ দাউদ: 2798, মাকতাবাহ্ আসশামেলাহ্ ৩.১]
আর এ কথা সর্বজন বিদিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ হলো শুধুমাত্র ইসলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামও আরব হিসেবে তাঁর জাতির কথা বলে যেতে পারতেন, কিন্তু তিনি তো কোন সাধারণ মানুষ বা নেতা-দার্শনিক ছিলেন না; বরং তিনি স্বয়ং বিশ্বস্রষ্টার মনোনীত বিশ্বনবী ও রাসূল ছিলেন। পরন্তু তিনি নিজের থেকে বানিয়ে বানিয়ে কোন কিছুই বলতেন না; বরং যা বলতেন তা ওহী থেকেই বলতেন:
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
"এবং (তিনি) প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না; (বরং) কোরআন ওহী, যা (তাঁর প্রতি) প্রত্যাদেশ হয়।" [সূরা আন-নাজম: ৩-৪ ]
তাই, যদি কেউ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ইসলামকে সারা জীবন পেছনে রেখে অগ্রাধিকার দিয়ে যায় কোন আঞ্চলিক ভৌগলিক পরিচয়কে কিংবা কোন নেতা যেমন- শেখ মুজিব, কামাল পাশা, গান্ধি বা লেলিন, মার্কসকে ও তাদের আদর্শকে, তবে মৃত্যুর পর কবরে শোয়ানোর সময় কি করে তাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের উপর রাখা যাবে? পরন্তু পরিচয়ের এ অগ্রাধিকারের ভিত্তি রচিত হয় চিন্তায় ও অন্তরে। মানুষের যাবতীয় কাজকর্মের সংকল্প তথা কাজের শুরুটাই হয় চিন্তা ও অন্তর থেকে, আর সেসব সংকল্পের বাস্তবায়ন ঘটায় মানব শরীর। অর্থাৎ, এ অগ্রাধিকার বক্তির জীবনের কাজকর্মকেও প্রভাবিত করে থাকে। তাই সে মুসলিম হিসেবে যা করার কথা সেটাকে পরে স্থান দিয়ে আগে নিয়ে আসে বা তার চিন্তা-বিশ্বাস অনুযায়ী তার কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় তার বাঙালী পরিচয় নির্ভর কার্যক্রম। অতঃপর যদিও স্বজন-প্রতিবেশীরা শোকাতুর হয়ে তাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের উপর রেখেও যায়, তবে আল্লাহ্ কিভাবে তাকে গ্রহণ করবেন তাঁর রাসূলের আদর্শে? মানুষের সুস্থ বিবেক এটাকে কখনোই স্বীকৃতি দেবে না। এবং যারা সে ব্যক্তিকে তার সারা জীবনের অগ্রাধিকার দেয়া আদর্শ থেকে মৃত্যুর পর তাকে বিচ্যুত করে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে রেখে যাচ্ছেন, তারাও কিরূপ আচরণ করলেন?
অতএব, চিন্তায় ব্যাপকতা নিয়ে দেখুন জীবনটাকে, অবশ্যই সঠিক উত্তরের সন্ধান পেয়ে যাবেন। ইনশাআল্লাহ্।
৩) মুসলিম পরিচয়ের আগে বাঙ্গালী পরিচয় দানের মত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে কি আপনি/আপনারা মাঝখানের এই প্রাপ্ত জীবনের সময়টুকুকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন না?
অর্থাৎ, প্রথম প্রশ্ন গেল জীবনপূর্ব সময়কে নিয়ে আর দ্বিতীয় প্রশ্ন জীবন পরবর্তী সময়কে ঘিরে এবং এই তৃতীয় প্রশ্নটি এ দু'য়ের মধ্যবর্তী পার্থিব জীবন বিষয়ক। যদি কেউ মুসলিম পরিচয়ের পূর্বে তার আঞ্চলিক ভৌগলিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে, তবে পূর্বের দু'টি প্রশ্নোত্তরের আলোকে যে কেউ তাকে এ দোষে দুষ্ট বলতে পারবে যে, নিঃসন্দেহে সে আখেরাতের অনন্ত জীবনের তুলনায় দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছে। কেননা, পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে যে, মুসলিম পরিচয় শুধুমাত্র একটি পরিচয় নয়; বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে ব্যক্তির পৃথিবীপূর্ব রূহের জগৎ এবং পৃথিবী পরবর্তী অনন্ত জীবনের শান্তি কিংবা শাস্তি। এটি এজন্য অনিবার্য হয়েছে যে, যাঁর সম্মুখে দাঁড়ানোর জন্য আমরা ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে যাচ্ছি জীবনকে পাড়ি দিয়ে স্বয়ং সেই আল্লাহ্ তা'আলা মানব জাতির পার্থিব এই জীবন সম্পর্কে ঘোষণা দিচ্ছেন:
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَلَلدَّارُ الْآَخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
অর্থাৎ, "পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। আখেরাতের আবাস মুত্তাকীদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি বুঝ না?" [সূরা আল-আন'আম: ৩২]
জি, এই বুঝটুকুই আমাদের জন্য অনেক বড় প্রয়োজন একজন মানুষ হিসেবে, একজন মুসলমান হিসেবে, একজন বাংলাদেশী হিসেবে। তবেই কেবল পৃথিবীতেই নয়; বরং অনন্ত জীবনেও আমরা হতে পারবো সফল, সার্থক হবে আমাদের এই পরিচয়, এই জীবন। কেননা, এই পার্থিব জীবন ও এই পার্থিবতার পরিচয় নিছক একটা খেলা, একটা তামাশার ব্যাপার মাত্র; যা আমরাও বুঝতে পারি। তবে এমন এক সময়ে তা বুঝতে পারি যখন আর পিছু ফেরা যায় না, যখন সংশোধনের আর কোনই সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না।
অতএব, সময় ও সুযোগ থাকতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমি কে? কি আমার পরিচয়? কোন পরিচয়কে আমি আগে নিজের জন্য গ্রহণ করবো এবং সে অনুপাতে জীবনকে ঢেলে সাজাবো- পার্থিব পরিবর্তনশীল পরিচয় বাঙালী? না কি পূর্বাপর অনন্ত জীবন কেন্দ্রিক পরিচয় মুসলিম?
১৭ ডিসেম্বর ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।
______________________এটি একটি মন্তব্য, পোষ্টের সাথে যুক্ত করলাম
_____________অনেকেই এক বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করছেন কিংবা হালকাভাবে নিচ্ছেন। আমি মোটেই তা মনে করি না।
কেননা, দেশে দেশে বেশ কিছু উর্বর মস্তিষ্কের লেখক রয়েছে, যারা তাদের লেখালেখির মাধ্যমে মানুষকে আখেরাতমুখীতা থেকে সরিয়ে নিয়ে দুনিয়া বিলাসীতে পরিণত করার অতি সূ্ক্ষ্ম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে তাদের বড় হাতিয়ার হলো দেশ ও জাতীয়তাকে ব্যবহার করা।
সত্যি বলতে কি, আমি যখন দেশের গানগুলো রেডিওতে শুনতাম, আমার দু'চোখেও অশ্রু নামতো, এখনো দেশ প্রসঙ্গে মনটা ভিজে উঠে। দেশের প্রতি এহেন ভালবাসা ভাল, কিন্তু এক্ষেত্রে সতর্কতার খুবই প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, এ পথ ধরেই একসময় শয়তান দেশকেও মানুষের জন্য একটা ইলাহ্ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়। তখন দেশকে ভালবাসার পরিবর্তে মানুষ আল্লাহকে ইলাহ্ হিসেবে যা দেবার তা তাঁকে না দিয়ে দেশকে দিতে থাকে; আর এভাবেই দেশকে নিজেদের প্রভু বানিয়ে নেয়। কিন্তু পৃথিবীর কোন ভালবাসাই আমার স্রষ্টার ভালবাসার উপরে যেতে পারে না। আর স্রষ্টার ভালবাসার অংশ হলো স্রষ্টাপ্রদত্ত দ্বীন ইসলামকে ভালবাসা, তাঁর প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসা।
তাই প্রয়োজনের সময় ভালবাসার সবটুকু বরাদ্দ করতে হবে সর্বাধিক প্রিয় স্রষ্টার জন্য! তারপর পর্যায়ক্রমে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, দেশ-দেশবাসী ইত্যাদি।
লক্ষ্য করতে হবে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেশকে ভালবাসার কথা বলেছিলেন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময়, কিন্তু দ্বীনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে প্রিয় জন্মভূমিকে ত্যাগ করেছিলেন। এটাই আমাদের জন্য রাসূলের জীবন থেকে এ ব্যাপারে বড় শিক্ষা যে, তিনি দেশকে অগ্রাধিকার দেননি; বরং ধর্মের জন্য দেশকে ত্যাগ পর্যন্ত করেছেন। এবং বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি আরব-আযমের ব্যবধানকে ধুলিষ্মাৎ করে দিয়ে আমাদের জন্য শিক্ষা রেখে গেছেন যে, ভৌগলিক জাতীয়তার পরিচয় মূখ্য নয়; বরং মূখ্য হলো দ্বীন-ধর্মের পরিচয়।
আর তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর ব্যাপারে আমাদের স্রষ্টা আমাদের জানিয়েছেন যে, "তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে।" [আল কুরআন] অতএব, এতেই কল্যাণ, এতেই সাফল্য, যদি আমরা বুঝতে পারতাম...।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পরিচয়, মুসলিম, বাঙালী ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আদর্শ বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নস্যরাজ বলেছেন:
আমরা আগে বাঙ্গালী.....
লেখক বলেছেন: জি, আখেরাত বা পরকালে অবিশ্বাসী হলে খুব সহজেই এমন কথা বলে দেয়া যায়।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
ব্যপক মাইনাস সকল মূর্খতায়
লেখক বলেছেন: আপনারই বা দোষ দেই কি করে বলুন?
আজকাল সবকিছুই যেন উল্টোরথে চলছে। ছোটবেলায় একটা ছড়া পড়েছিলাম, লাইনগুলো মনে নেই, ভাবখানা এমন যে, এমন যদি হতো যে আমরা সবাই মাথা নিচের দিকে দিয়ে পা উপরের দিকে দিয়ে হাঁটতাম,,,এরূপ আরো অনেক উদাহরণ টেনে ছড়াকার ছড়াটি লিখেছিলেন।
আমাদের বর্তমান বাস্তবতা যেন ঠিক তেমন কোন অবস্থার দিকে যাচ্ছে-
বিদ'আতকারীরা দাবী করছে যে, তারা সঠিক সুন্নাত(?) এর অনুসারী।
মানবতার চরম অপমান করে শিশুদের হত্যাকারীরা নিহতদের প্রতিবাদকে চিহ্নিত করছে মানবতা লঙ্ঘন হিসেবে। এবং বিচারও করতে আসে।
ঠিক তেমনি আপনিও যে কি তা না বলেই বলছি যে, জ্ঞান নির্ভর (লেখার মান নয়; লেখার বিষয় বুঝাচ্ছি) বিষয়কে দোষারোপ করছেন "মূর্খতা" হিসেবে।
পৃথিবী বদলে গেছে...
খোলা_আকাশ বলেছেন:
আমার প্রথম পরিচয় আমি বাংলাদেশী, তারপর বাঙ্গালী। এরপর ধর্মের ভিত্তিতে।
লেখক বলেছেন: খোলা_আকাশ-
বাঙালী ও বাংলাদেশী শব্দদু'টিতে আমিও ব্যাপক ব্যবধান দেখি এবং সেটা মেনে চলারও চেষ্টা করি। এবং আমি এও মনে করি যে, বাঙালী ও বাংলাদেশী পরিচয়টা আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষাভাষী মানুষদের অধিবাসীদের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করার জন্য বাংলাদেশীদের এই ব্যবধান লক্ষ্য রাখা উচিত।
কিন্তু আপনার মন্তব্যে এই ব্যবধান প্রকট করতে গিয়ে তো যেন ধর্মীয় পরিচয়টিকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে ফেললেন।
জবাবও একই যা উপরের এক মন্তব্যে দিয়েছি যে, আখেরাতে অবিশ্বাসী হলে খুব সহজেই ধর্মীয় পরিচয়ে পশ্চাতে ছুঁড়ে মারতে পারে।
কিন্তু মুসলিম জীবনের সত্যিকারের শুরুটাই তো হয় মৃত্যুর মাধ্যমে, যার মাধ্যমে সে প্রবেশ করে এক অনন্ত জীবনে, যার কোন শেষ নেই। সে তুলনায় কতটুকু মূল্য রয়েছে এই পার্থিব জীবনের? তারপর জীবন খুঁজে বের করা পার্থিব পরিচয়ের?
মূলত মুসলমানদের কাছে পার্থিব জীবনটা শুধুই কর্মক্ষেত্র, এখানে সে শুধু কাজ করে যাবে এবং সুস্থ থাকার জন্য যতটুকু উপায় উপকরণ প্রয়োজন গ্রহণ করবে, কেননা তার বাদবাকী অর্জন-উপার্জন তো আখেরাতের অনন্ত জীবনের পাথেয়।
উন্মোচক বলেছেন:
যারা মুসলমান তাদের প্রথম পরিচয় মুসলমানিত্বেযারা হিন্দু তাদের প্রথম পরিচয় হিন্দুত্বে
এর পর আমাদের বাঙালি পরিচয়
অবশ্য তথাকথিত প্রগতিশীল গাধারা এর বিরোধিতা করবে!
লেখক বলেছেন: উন্মোচক-
অনেকেই এক বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করছেন কিংবা হালকাভাবে নিচ্ছেন। আমি মোটেই তা মনে করি না।
কেননা, দেশে দেশে বেশ কিছু উর্বর মস্তিষ্কের লেখক রয়েছে, যারা তাদের লেখালেখির মাধ্যমে মানুষকে আখেরাতমুখীতা থেকে সরিয়ে নেয়া অতি সূ্ক্ষ্ম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে তাদের বড় হাতিয়ার হলো দেশ ও জাতীয়তাকে ব্যবহার করা।
সত্যি বলতে কি, আমি যখন দেশের গানগুলো রেডিওতে শুনতাম, আমার দু'চোখেও অশ্রু নামতো, এখনো দেশ প্রসঙ্গে মনটা ভিজে উঠে। কিন্তু পৃথিবীর কোন ভালবাসাই আমার স্রষ্টার ভালবাসার উপরে যেতে পারে না। আর স্রষ্টার ভালবাসার অংশ হলো স্রষ্টাপ্রদত্ত দ্বীন ইসলামকে ভালবাসা, তাঁর প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসা।
তাই প্রয়োজনের সময় ভালবাসার সবটুকু বরাদ্দ করতে হবে সর্বাধিক প্রিয় স্রষ্টার জন্য! তারপর পর্যায়ক্রমে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, দেশ-দেশবাসী ইত্যাদি।
লক্ষ্য করতে হবে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেশকে ভালবাসার কথা বলেছিলেন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময়, কিন্তু দ্বীনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে প্রিয় জন্মভূমিকে ত্যাগ করেছিলেন। এটাই আমাদের জন্য রাসূলের জীবন থেকে এ ব্যাপারে বড় শিক্ষা যে, তিনি দেশের পরিচয়টাকে অগ্রাধিকার দেননি; বরং ধর্মের জন্য দেশকে ত্যাগ পর্যন্ত করেছেন।
আর তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর ব্যাপারে আমাদের স্রষ্টা আমাদের জানিয়েছেন যে, "তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে।" [আল কুরআন] অতএব, এতেই কল্যাণ, এতেই সাফল্য, যদি আমরা বুঝতে পারতাম...।
মামুনুর রশীদ বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আরো লেখকের দরকার। আসলে নাস্তিকদের নিকট এমন লেখা ভালো লাগবে না।
লেখক বলেছেন: মামুনুর রশীদ-
দরকার? দরকারের হিসেবে দিয়ে শেষ করা যাবে না। ইসলাম ও মুসলমানগণের অবস্থা এতই পিছিয়ে যে, যেখানে হাত দেবেন, সেখানেই নেই নেই...।
আজ প্রয়োজন ছিল এমন একদল মানুষের যারা খেয়ে থাকলেও ইসলামের জন্য, না খেয়ে থাকলেও ইসলামের জন্য, হাসলেও ইসলামের জন্য, কাঁদলেও ইসলামের জন্যই কাঁদবেন।
অথচ আমরা আজ কল্পনায়ও লিখতে পারিনা এমন একদল মানুষকে....।
আজনবী বলেছেন:
এ প্রশ্নটাই আমার কাছে অমুলক মনে হয়। তারপরও বলি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক খুব দৃঢ় বিশ্বাসের সংঙ্গে সর্বদা উচ্চারন করতেন "আমি প্রথমে একজন খাটি মুসলমান, তারপর একজন খাটি বাঙ্গালি"। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ একই আদর্শে বিশ্বাস করতেন। আপনাকে বাঙ্গলি মনিষীদের জীবনী পড়ার অনুরোধ করছি, ইতিহাস পড়ার অনুরোধ করছি, তাহলে এরকম অনেক প্রশ্নের উত্তর সহজে পেয়ে যাবেন। অযাচিত বিতর্কের সৃষ্টি করতে হবে না।
লেখক বলেছেন: আজনবী-
এ পোস্টের জন্মকথাটা আপনাকেই বলেই দেই-
আমার এক পোষ্টে একজন একটা মন্তব্য করল, যেখানে মন্তব্যকারী বুঝাতে চেয়েছিলেন যে, "তিনি আগে বাঙালী তারপর মুসলমান"।
এমনিতেই অনেক দিন থেকে অনেকের কাছে শুনে শুনে এ বিষয়টি মাথায় ঘুরঘুর করছিল। তো সে মন্তব্যকারীর মন্তব্যের জবাব লিখতে গিয়ে এত বড় হলো যে, পোস্ট হয়ে গেল। তাই পুরোটা সেখানে না দিয়ে পোষ্ট আকারে দিলাম।
অতএব, বুঝতেই পারছেন যে, এ নিয়ে আমার গবেষণা করতে হয়নি, শুধুমাত্র মন্তব্যের জবাব লিখতে যে কিছুক্ষণ ব্যয় হয়েছে, তাই দিলাম। যদি তারা বুঝতে পারে...
আবু আব্দুল্লাহ মামুন বলেছেন:
আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এবং আরো সুন্দর সুন্দর লেখা উপহার দিবেন এই আশা করছি। ধন্যবাদ। +++++++++++
লেখক বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ্ মামুন-
আল্লাহ আপনার দো'আ কবূল করুন এবং আপনার জন্যেও অনুরূপ কবূল করুন।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
কঁাকন বলেছেন:
পরিচয়ে প্রাধান্য কোথায়: মুসলমানিত্বে নাকি বাঙালিত্বে? এইটা নিয়া এত ব্যাস্ত হইলেন কেনবাঙালী কেন বাংলাদেশে মুসলমানের ঠিকা নিয়া রাখা জামাত রে ভোট দেয় নাই সেই দু:খে
লেখক বলেছেন: কাঁকন-
নির্বাচনের ফলাফল আপনাদের জন্য একটা হাতিয়ার বটে। তবে আপনাকে নিশ্চিন্ত করছি যে, এ লেখাটি লেখা হয়েছে ১৭ ডিসেম্বর ২০০৮। আর নির্বাচন ছিল ২৯ ডিসেম্বর; ভুলে যাননি আশা করছি।
আর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বলতে গেলে- এ বিষয়ে আমার দু'ধরনের পর্যালোচনা রয়েছে।
১) বাংলাদেশের উপর আল্লাহর আযাব নেমে আসছে, নির্বাচনের ফলাফল যার প্রাক-ইঙ্গিত। (আল্লাহ্ যেন তা না করেন)
২) ইসলামী আন্দোলনকে আল্লাহ্ আরো চাঙ্গা করতে চান; কেননা আগামীতে হয়ত তাদেরকেই আল্লাহ্ বাংলাদেশের খেদমত করার সুযোগ দেবেন। তাই তাদের মাঝে যে জড়তা, স্থবিরতা এসে বাসা বেঁধেছে, সেসবকে নেড়েচেড়ে ঝেড়ে ফেলার জন্য এই পরীক্ষা।
তবে মোটের উপর আমি মনে করি না ইসলামী আন্দোলন পিছিয়ে গেছে। কেননা, সরকার গঠন বা তাতে অংশ নেয়া তো মাত্র পাঁচ বছরের জন্য; বরং উল্টাপাল্টা করলে তার আগেই ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেয় জনগণ। আর জনভিত্তি হলো এ লড়াইয়ে আসল শক্তি, ইসলামী আন্দোলনের জন্য তা বিগত নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনে বহুগুণ বেড়েছে। ফলাফলের তুলনামূলক মূল্যায়ণ থেকে সেটা দেখেছেন আশা করছি।
সবুজপাতা বলেছেন:
ভাল জিনিস নিয়ে চিন্তা করুন অল্প বয়সে মাথানষ্ট
লেখক বলেছেন: কেন যেন হাসি পেল একটু;
আপনার মন্তব্যটা পড়ে।
লেখক বলেছেন: জি, আগেও বলেছি যে, আখেরাতের অনন্ত জীবনে বিশ্বাসবোধ না থাকলে কিংবা দুর্বল হলে যে কারো পক্ষে হুট করে বাঙালীত্বকে মুসলমানিত্বের চেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া সম্ভব।
মনির হাসান বলেছেন:
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্য বৃদ্ধির জন্য ![]()
লেখক বলেছেন: কেন? প্রতিপক্ষ পাওয়া যাচ্ছিলো না বুঝি?
এটাই তো ছিল আপনাদের টার্গেট। কি না করেছেন? গালাগাল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না দেখে আবিস্কারে লেগে গেলেন! পৃথিবীতে গালাগাল আবিস্কারে বোধ হয় আপনারাই প্রথম। গিনেসবুকে নাম উঠানোর প্রস্তাব করে দেখতে পারেন, ইতিহাস হবেন ![]()
উন্মোচক বলেছেন:
নিজেদের বিশ্বাসের বিপরীত মনে করে পোস্ট না পড়েই যারা বাজে মন্তব্য করে নিজেদের খুব পণ্ডিত মনে করে তৃপ্তি বোধ করেন তাদের সাথে নিচের এই জীবের কোনো পার্থক্য নেই লেখক বলেছেন: এটি একান্ত আপনার নিজস্ব মত।
তবে পরিস্থিতিকে এমন করে তোলা আমাদের সংস্কৃতির জন্যই ক্ষতিকর যে, কাউকে পছন্দ না করলে সে কি লিখলো তা না পড়েই মাইনাস দেয়া বা গালাগাল করা। এটা নিতান্তই হীনমন্যতামূলক কাজ। যা ব্লগের শুরুতে ছিল না।
দ্বিধা বলেছেন:
এ প্রশ্নটাই আমার কাছে অমুলক মনে হয়।কেন আপনার এই নিয়ে এত বড় একটা গবেষনার ইচ্ছা হল, বলবেন কি?
লেখক বলেছেন: আমার কাছে অমূলক মনে হয়নি বলে লিখেছি। কেননা, আমার কাছে এটি এমন গুরুত্বপূর্ণ যে, এই একটি ছোট্ট প্রশ্নের উত্তর সন্ধানে কিংবা এর প্রভাবে একজন মানুষের জীবনধারা ও তার আখেরাতের সাফল্য-ব্যর্থতায় পর্যন্ত পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
কেননা, সে ঐসব কাজই করবে যা তার চিন্তাচেতনায় জন্ম নেয় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
তাছাড়া আগের এক মন্তব্যে বলেছি যে, এ পোষ্টের মূল থিম লিখতে আমার ব্যয় হয়েছে কয়েক মিনিট আর এর শুরু-শেষের সংযোজনে লেগেছে আরো কিছু মিনিট। কিন্তু আপনাদের কাছে গবেষণার মর্যাদা পাবে জানলে হয়ত সত্যি সত্যি গবেষণাই করতাম ![]()
দুঃখবিলাস বলেছেন:
@লেখক, আপনি বাংলাতে লেখেন, বাংলায় কথা বলেন। প্রমান পেলাম, আপনি বাঙালি।
ধরে নিলাম, আপনি জম্মসূত্রে মুসলমান।এখন প্রমান দেখান।
আসলে, ঘটনা অন্যখানে। বাংলাদেশের জম্মলগ্ন থেকেই বাংলা বিরোধিতা অনেকেই করেছে। পাকি প্রেমে থেকেই ব্যাপারটা আসে। তবে, হালালাইজেশনের কনফ্লিক্টের কারণে সরাসরি ব্যাপারটা স্বীকার করে না।
আপনার ক্ষেত্রে কোনটা?
লেখক বলেছেন: দুঃখ দাদা-
মুসলমানিত্ব প্রমাণে নয়; বিশ্বাসে মেলে।
ইসলামের কথা বললেই সে "পাকিস্তান প্রেমিক" মনে করাটা আপনাদের একটা জাতীয় রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য এটা শুধু আপনাদের মধ্যেই সংক্রমিত হয়; সাধারণ মানুষের উপর খুব একটা এ্যফেক্ট হয় না।
বরং সত্য তো এই যে, কি বাংলা, কি আরব, কি তুর্ক আর কি ইংলিশ সবার ক্ষেত্রেই একজন মুসলমানের পরিচয়ের প্রাধান্যে থাকবে সে সর্বাচস্থায় একজন মুসলমান। কারণ তার স্রষ্টা তাকে সৃষ্টিই করেছে স্রষ্টার ইবাদাতের জন্য, আর ইবাদাত সম্পন্ন করতে হলে তাকে ইসলামের প্রবেশ করতে হবে আ ইসলামে প্রবেশ করলে সে মুসলমান হিসেবে পরিচিত পাবে।
সুতরাং যদি সে তার জীবনে আগে প্রাধান্য দেয় তার ভৌগলিক পরিচয়কে এবং ভৌগলিক পরিচয় দিয়ে বিচার করে তার দ্বীনধর্মকে, তবে কোনভাবেই সে তার সৃষ্টির লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করলো না।
যদি মুসলমান তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে তাকে অবশ্য অবশ্যই ইসলামের মানদণ্ডে বিচার করতে হবে জগতের সবকিছুকে, সব সম্পর্ককে, সব চাওয়া-পাওয়াকে; তবেই কেবলমাত্র সে পূর্ণ মুসলমান হতে পারবে বা তাকে যে সার্বক্ষণিক ইবাদাতের জন্য সৃজন করেছে তার স্রষ্টা, তার স্রষ্টার সে উদ্দেশ্যকে সে বাস্তবায়ন করতে পারবে। আর তার স্রষ্টা এতে তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং এই সন্তুষ্টিই তাকে আখেরাতের অনন্ত জীবনে সফলতা এনে দেবে।
এখন মুসলমানদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা আপনাদের প্রচারিত "বাংলাদেশে ইসলামের কথা বলা মানেই পাকিস্তান প্রেম" জাতীয় থিওরী গ্রহণ করবেন না কি নিজেদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণার্থে নিজেদের সবার আগে মুসলিম পরিচয়কে উচ্চকিত করবেন?
হাসিব বলেছেন:
অচেনা বাঙালি বলেছেন: আপনে ফিরা আসছেন দেখে ভালো লাগছে। খুব টেনশনে ছিলাম কয়দিন না দেইখা। আমরা তো ঠিক করছিলাম দরকার হইলে চান্দা তুইলা আপনেরে ব্লগে রাখুম।
লেখক বলেছেন: ওয়াও! এত জনপ্রিয় হয়ে গেলাম আপনাদের কাছে? ![]()
জহির আহমেদ বলেছেন:
মািনাচ
লেখক বলেছেন: কি বুঝে দিলেন?
মারুফ আল্লাম বলেছেন:
ধন্যবাদ ও প্লাস। নাস্তিকরা এই পোস্টের বিরোধিতা করবে। ঘাবড়াবেন না।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
প্রজ্ঞা তাসনুভা রূবাইয়াৎ বলেছেন:
আমি বাংলাদেশে জন্মাইসি তাই বাংলাদেশী, বাঙলা সংস্কৃতির কারণে আমি বাঙ্গালি ।আমার বাবা-মা মুসলমান, তাই আমার জন্মসূত্র ধর্মানুযায়ী আমি মুসলমান। লিঙ্গগত দিক থেকে আমি মেয়ে। ......এইরকম অনেক রকম পরিচয় আছে আমার।কিন্তু ভাই, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি মানুষ। আমি এই পৃথিবীর মানুষ। আমি নির্দিষ্ট কোনো জাতি, সংস্কৃতি কিংবা ধর্মের পরিচয়ে আবদ্ধ না......।
লেখক বলেছেন: অনেক পরিচয় আছে ঠিক, কিন্তু যদি আপনার জীবনে এমন ইখতিয়ারমূলক প্রশ্ন এসে দাঁড়ায় যে, এসবের মধ্যে কোনটিকে আপনি প্রাধান্য দেবেন বা অগ্রাধিকার দেবেন, তখন?
ঠিক তখনি একজন মুসলমানের জন্য একান্ত কর্তব্য হবে নিজের মুসলমান পরিচয়টাকে অগ্রাধিকার দেয়া। কেননা, এর সাথে তার দুনিয়া-আখেরাত সব জড়িত।
তাছাড়া, পৃথিবীতে প্রচলিত ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলামের মত এত ব্যাপক মানবতাবোধ অন্য কোন ধর্মে স্বীকৃত হয়নি। মানুষের স্বভাব আবহমান কাল থেকে যাকিছুকে ভালো বলেছে, ইসলামও সেসবকে ভালো হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং যাকিছুকে মন্দ বলেছে ইসলামও সেসবকে মন্দ হিসেবে পরিতাজ্য করেছে; তাই ইসলামকে বলা হয় মানবতার স্বভাব ধর্ম।
সুতরাং একজন সত্যিকারের মুসলমানই মানবতায় বা নিজের 'মানুষ' পরিচয়ে সবচেয়ে মজবুত ও সঠিক।
কিন্তু আপনি যদি বলে যে, "আমি নির্দিষ্ট কোনো জাতি, সংস্কৃতি কিংবা ধর্মের পরিচয়ে আবদ্ধ না......।" তাহলে তো আপনি কারুরই নন। আর 'মানুষ' নামেও পৃথিবীতে আলাদা কোন গোষ্ঠী নেই; সবাই-ই মানুষ। বরং মানুষেরা প্রত্যেকেই চিন্তাবিশ্বাসে কোন না কোন পক্ষাবলম্বন করে থাকে কিংবা করতে বাধ্য থাকে। আপনিও এর ব্যতিক্রম নন; হয়ত নিজেকে তেমনভাবে স্টাডী করে দেখেননি কখনো, তাই সহজেই বলে ফেললেন যে, শুধুই "মানুষ"।
প্রজ্ঞা তাসনুভা রূবাইয়াৎ বলেছেন:
আমি মানুষ।
লেখক বলেছেন: একজন মুসলমানও মানুষ।
যদি অগ্রাধিকারের প্রশ্ন এসে সামনে দাঁড়ায়, তখনো কি আপনি একজন মানুষই থাকতে পারবেন?
আপনি চাইলেও পৃথিবী আপনাকে তা থাকতে দেবে না; আপনি বাধ্য হবেন পক্ষাবলম্বন করতে।
এই ব্লগেরই উদাহরণ দেই। আমি ইসলাম নিয়ে লিখবো ভেবে সা.ই.তে রেজি. করিনি, করেছি শুধুই ডায়রীর মত করে যা লিখে লিখে মনের কষ্ট দূর করি, সেসব শেয়ার করবো বলে।
কিন্তু আমি এখন বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আল্লাহর অসীম দয়ার পর এটীমের নিরন্তর প্রচেষ্টা আমাকে ইসলাম প্রচারক হিসেবে তৈরী করেছে। এবং আরো অনেক অনেক তৈরী হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ্।
এক সময় দেখবেন আপনি নিজেও একটা পক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন অজান্তে...।
দ্বিধা বলেছেন:
শুধু নাস্তিকরা বিরোধিতা করবে মনে করলে, এই ব্লগে ৮০% নাস্তিক হয়ে যায় (১৯জন মাইনাস)!!!
লেখক বলেছেন: বাস্তবতা যাই হোক, ইসলাম ও ইসলাম পন্থীদের বিরোধিতায় অন্য সবাই এক। এ ভবিষ্যদ্বানী আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামও উম্মাতের জন্য করে গিয়েছিলেন।
কিন্তু এ ব্লগে তো নাম দেখে মাইনাস দেয়া হয়। কঠিন দূরবস্থা ![]()
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
কিছু হলোগ্রাম চিনতাছি...
লেখক বলেছেন: চেনাজানা তুলে ধরুন।
আমার জন্য লেখা বলেছেন:
-
লেখক বলেছেন: পড়ে না গড়ে?
লেখক বলেছেন: নাম দেখেই, তাই না? ![]()
রাফা বলেছেন:
আশরাফু মখলুকাত।আমি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী "মানুষ" হ্যা মানুষই আমার সর্ব প্রথম পরিচয়। আর "মানবতা" হোলো সব চাইতে বড় ধর্ম।আমি সেই ধর্মে বিশ্বাস করি যে ধর্মে অন্য মানুষ গুলো নিরাপদ।
লেখক বলেছেন: মানুষ "আশরাফুল মাখলুকাত" -এ ধারনা ইসলামই মানুষকে জানিয়েছে। আর ইসলামের চাইতে বেশী মানবতাবাদী ধর্ম পৃথিবীতে আর একটাও আসেনি এবং আসবেও না।
তাহলে কোন ধর্মে অন্য মানুষগুলো সবচেয়ে বেশী নিরাপদ, বলবেন কি?
এস. এম. মেহেদী আকরাম বলেছেন:
অনেক ক্যাচাল দেখলাম। আমি আর ক্যাচাল বাড়াবো না।আমি আমার মতামতটা জানায়।
আমি আগে মুসলমান তারপরে বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী।
আমার জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম আ:
লেখক বলেছেন: চমৎকার বলেছেন। জাযাকাল্লাহ খায়ের।
নীরজন বলেছেন:
পৃথিবীতে চিন্তা করার তো অনেক কিছু আছে.......আপনারা এইসব নিয়া চিল্লাইতেছেন কেন???প্রজ্ঞা এর কথা সবচাইতে ঠিক.......ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: নীরজন-
আমি তো সঠিক সমাধানটাই দিতে চেয়েছিলাম, যাতে কেউ এ নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইলে তখন যেন সে তার জন্য সবচেয়ে জরুরী দিকটিতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আর এটাকে স্থুল দৃষ্টিতে দেখলে এটা একটা তুচ্ছ প্রসঙ্গ, কিন্তু সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখলে এটাই আপনার পরিপূর্ণ ভিত্তি পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। যা আমি ইতিপূর্বে বেশ ক'টি মন্তব্যে বলে এসেছি।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
হুদাই ক্যাতা মারা পোস্ট। বেহুদা পাবলিক। আপনারে কেউ বলছে বাঙ্গালী হইলে মুসলমান হওয়া যাবে না আর মুসলমান হইলে বাঙ্গালী হওয়া যাবে না?? নাকি বাঙ্গালী আর মুসলমান পরিচয়ের রেস লাগছে যে কোনটা আগে কইতে হইবো??
লেখক বলেছেন: জি, বলেছে বলেই তো এ পোষ্টের জন্ম।
এ পোষ্টের জন্ম বেত্তান্ত কিছু উপরে একটা মন্তব্যের জবাবে উল্লেখ করেছি, দেখে নিতে পারেন।
তাছাড়া কিছু ইঁদুর বুদ্ধি সম্পন্ন লোকের দ্বারা রচিত একটা গান শুনেননি? আমি মুসলিম নই, হিন্দু নই, খৃষ্টান নই, বৌদ্ধ নই, আমি বাংলাদেশের এক বাঙালী....।
সরপ বলেছেন:
সুন্দর পষ্ট। দেশ হল ভুগলের ব্যপার। বারবার একটি দেশে সীমারেখা পালটায়। ধর্ম একটি নিশ্চিত বিষয় যা কখন পালটায় না আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। যারা ২ দিনের দুনিয়াদারীর জন্য অন্তন্ত জীবনকে ত্যাগ করে তাদের জীবন পশুপক্ষীর জীবনের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। তাদের অন্তরকে সীলমহর মেরে দেয়া হয়েছে। আপনি যত চেষ্টা করেন তাদের সীলমহর সরাতে পারবেন না।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের বেশ কিছু কথাই সাধারণ বিবেক বুদ্ধির সাথে, এমনকি ইসলামের সাথেও সাংঘর্ষিক।
তাছাড়া আপনার বানান ভুলের যে কারসাজি, তা দেখেও আমি দারুন হাসি। কেননা, আরো সুচারু না হলে বিপরীত স্রোতের ভূমিকায় অভিনয় না করাই ভালো।
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
আমি মানুষপুরো পৃথিবী আমার
যেথায় খুশি যাব, যা প্রয়োজন নেব।
ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে মানবতার কল্যানের মাধ্যমে স্রস্টার সন্তুস্টি অর্জন করব।
আজকের এই গ্রবালাইজেশনের যুগে ভৌগোলিক জাতিয়তার তেমন কোন গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না। সে হিসেবে মৌলিক জাতিয়তার জন্য ইসলামকেই অগ্রগন্য বিবেচনা করা উচিৎ - ইসলাম কোন ভৌগলিক সীমায় আবদ্ধ নয়। সুতরাং মানুষের পরে আমার দ্বিতীয় পরিচয় মুসলমান। তারপর দেশ, এলাকা, গোত্র, বর্ণ, পরিবার ইত্যাদি বিষয় আসাবে বিস্তারিত পরিচয় হিসেবে।
লেখক বলেছেন: কাঙাল মুরশিদ-
চমৎকার বলেছেন। তবে বিশ্বায়নের কাছাকাছি এ যুগেও আপনার ইসলামী জাতীয়তার ব্যাখ্যাটা হয়ত অনেকেই মেনে নিতে পারবেন না সহজেই। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, আরো কিছু কাল পরে মানুষ বাধ্য হবে।
আকাশচুরি বলেছেন:
হাসিব বলেছেন: অচেনা বাঙালি বলেছেন: আপনে ফিরা আসছেন দেখে ভালো লাগছে। খুব টেনশনে ছিলাম কয়দিন না দেইখা। আমরা তো ঠিক করছিলাম দরকার হইলে চান্দা তুইলা আপনেরে ব্লগে রাখুম।
লেখক বলেছেন: কত তুলেছেন চাঁন্দা? ![]()
তবে আমি বলবো চাঁন্দা না তুলে একটা কাজ করেন, তাতেই ধরে রাখা সহজ হবে। আর তা হলো- গালাগাল মুক্ত এমন কিছু মন্তব্য করুন, যা আমাকে ভাবেত সহযোগিতা করবে এবং প্রতিটি ভাবনাকে যদি আমি আমার ভাষায় তুলে ধরতে চাই তবে তা এক একটি পোষ্ট হবে। আর এভাবেই কাউকে ধরে রাখাটা খুব সহজ উপায়েই সম্ভব হবে। ভেবে দেখুন ![]()
নূরুল্লাহ তারীফ বলেছেন:
একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বা আদর্শের পরিচয় তার ভৌগিলিক পরিচয় বা ভাষার পরিচয়ের উপর সবসময় প্রভাবশালী। কত বাঙ্গালি আরবী ভাষা শিখছেন শুধু সে মুসলিম হওয়ার কারণে। কত হিন্দু সংস্কৃত ভাষা শিখছেন শুধু হিন্দু ধর্মের আদর্শ জানতে। তেমনি মার্কসবাদ, লেনিনের আদর্শে বিশ্বাসীরা স্ব স্ব আদর্শিক নেতার আদর্শকে জানতে সে ভাষা আয়ত্বের করেন। কোন ব্যক্তি তার জাতীয়তা পরিবর্তন করলেও, তার মাতৃভাষা ছেড়ে ভিন্ন ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করলেও তার আদর্শকে সে ঐ ভাষাতে তুলে ধরে, ঐ দেশের মানুষের মাঝে প্রচার করে বেড়ায়। সুতরাং ব্যক্তির আদর্শের পরিচয় অনেক বড়। ভৌগিলিক পরিচয় বা ভাষাগত পরিচয় নয়। আসলে মানুষের সুকুমার বৃত্তি কোন একটা আদর্শকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়। সে আদর্শকে সামনে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। এজন্য আল্লাহ্ তাআলা ইসলামের মত সুমহান আদর্শ মানবজাতির কল্যাণের জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানবজাতিকে নিয়ে যেসব জ্ঞানপাপিরা ছিনিমিনি খেলে তারাই ইসলাম থেকে মানুষকে বিছিন্ন করার জন্য নানারকম ইজম বা মতবাদ চালু করে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এ রকম বাঙ্গালিটা একটা ইজম। নচেৎ বাঙ্গালি নামে কোন কালচারের অস্তিত্ব কি আপনি খুঁজে পাবেন!? পাবেন যদি আপনি সেটাকে কোন ইজম হিসেবে দেখেন।
এ সুন্দরতম লেখাটির জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ। লেখককে বলব মাইনাস দেয়ায় বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। আমাদের আশাবাদী হতে হবে। কবে এরা সবাই ইসলামের কথা বলবে, ইসলামের জন্য কাজ করবে সেদিনের অপেক্ষায় থাকতে হবে। আমরা তো নবীদের চেয়ে উত্তম নই। নবীদের চেয়ে সুন্দরভাবে দাওয়াত দিতে জানি না। যদি ইসলামের আদর্শের কথা বলতে গিয়ে প্রতিটি দাওয়াতের বদলে নূহ (আঃ) কে মারতে মারতে বেহুঁশ করে ফেলা হত আমরা তো বর্তমান সময়ে এর চেয়ে ভাল আচরণ পাচ্ছি।
লেখকের জন্য আমার দোয়া ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। নির্ভুল তথ্য নির্ভর ভালো ভালো বিষয়ে আল্লাহ্ আপনাকে লেখার তাওফিক দিন।
লেখক বলেছেন: এ মন্তব্যটিকে এ পোষ্টের জন্য একটা দারুন সংযোজন মনে করছি। জাযাকাল্লাহ খায়ের।
আপনি ঠিক ধরেছেন, যারা ভৌগলিক পরিচয়টাকে তাদের চিন্তাবিশ্বাসের সর্বাগ্রে স্থান দিতে তৎপর, তারা সত্যিই একটা ইজমের আবর্তে বন্দি। আর সে ইজমের নাম হলো জাতীয়তাবাদ। মূলতঃ জাতীয়তাবাদ ইসলামকে অবহেলার পর্যায়ে নিয়ে ফেলার জন্য দারুন কার্যকর একটা ইজম। তাই ইসলাম জাতীয়তাবাদের ব্যাপারে কঠোর কথা বলেছে।
আল্লাহর গোলাম হিসেবে তাঁর দ্বীনের কথা বলার ক্ষেত্রে নবীদের দাওয়াতের তুলনা করতে গেলে আমি বলবো যে, আমরা তো এখনো ফুলেল স্বর্গের বাসিন্দা। আমরা দ্বীনের কথা বলতে গেলে দাওয়াত খেয়ে আসতে পারি, পক্ষান্তরে নবীগণ খেয়েছেন মার, গালাগাল; এমনকি তাদের কারো কারো মাথা কেটে প্লেটে করে নিয়ে আসা হতো, কাউকে কাউকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে মাথা থেকে করাত চালিয়ে দু'ভাগ করা হতো।
অতএব, না, মাইনাস গুলো বরং উৎসাহ এনে দেয়, গালাগালগুলো গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বটে, তবে সে আগুন নির্বাপিত হয় কেবল ইসলামের জন্য আরেকটি লিখতে পারলেই। একথা শুধু আমার নয়; বরং আমি দ্বীনী দাওয়াতে স্বেচ্ছায় নিয়োজিত দা'য়ী ভাইবোনদের অবস্থাটাই তুলে ধরতে চেষ্টিত হলাম।
আপনার দো'আ ও ভালবাসা হৃদয় স্পর্শ করলো, আপনার জন্যও অনুরূপ প্রার্থনা রাখলাম প্রভুর সকাশে।
মুসান্না গালিব বলেছেন:
যারা বিরোধীতা করছেন তারা হয়তো বিষয়টির তাৎপর্য পুরোপুরি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন, নয়তো উপলব্ধি করে এতে বিশাল শৃঙ্খলায়িত দায়িত্ব দেখে খুব সহজেই পাশ কাটতে চাইছেন।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য। আপনার প্রচেষ্টা সফল হোক।
লেখক বলেছেন: মুসান্না গালিব-
যেন এক ইতিহাস লুকিয়ে থাকা এক নাম। সেনাপতি মুসান্নার ইতিহাসের কথা মনে পড়লো আপনার নামটি দেখে......।
আপনার বিশ্লেষণে আরো এক শ্রেণী বাদ পড়েছে
তারা হলেন শৃংখলাবদ্ধভাবে ইসলামের পক্ষের কোন লেখায় বিশৃংখলা সৃষ্টির জিহাদে লিপ্ত। আর সে কারণেই মন্তব্যের অবাধ পথে চেকপোষ্ট বসাতে হলো।
লেখক বলেছেন: আপনার কাছ থেকে এর বেশি কিছু আশা করার মত ভূমিকা আগে দেখিনি কখনো, তাই আশ্চর্য হইনি মোটেই।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
লেখক বলেছেন: আর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বলতে গেলে- এ বিষয়ে আমার দু'ধরনের পর্যালোচনা রয়েছে।১) বাংলাদেশের উপর আল্লাহর আযাব নেমে আসছে, নির্বাচনের ফলাফল যার প্রাক-ইঙ্গিত।
গাজা আর প্যালেস্টাইনগো উপরও জামাতী আল্লাহর আযাব নাজেল হইছে।
মুসলমানগো উপর ক্যান যে তিনি এত খেপছেন?
লেখক বলেছেন: জি, বাংলাদেশের মানুষ "তা"(!) অবলোকন করেছিল অতীতে দু'দুবার। যদি এদেশের মানুষের কপাল পোড়ে, তবে হয়ত আরো একবার করতে যাচ্ছে। আল্লাহ্ রক্ষা করুন বাংলাদেশকে।
গাজা আর প্যালেস্টাইনের কথা তুললেন? আপনি মুসলমান হলে সে জন্য আপনিও একজন দায়ী, ইয়াহূদীদের যুদ্ধ কোন অঞ্চলের সাথে নয়; বরং তাদের যুদ্ধ সবসময়ই সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সাথে। তাদের পরিকল্পনা ম্যাপ মদীনা পর্যন্ত বিস্তৃত। সুতরাং এটাকে গজব বিবেচনা করলে এটি মুসলমানদের একজন হিসেবে (অন্তত পরিচয়ে হলেও) আপনার উপরও বর্তাবে।
সর্বোপরি, মুসলমানদের জন্য তো দুনিয়ার জীবন অতি তুচ্ছ, আল্লাহ্ গাজার শহীদদের কবূল করুন, তাদের জান্নাতুল ফিরদাওস দান করুন। ![]()
বিলাশ বিডি বলেছেন:
ইসলামে অনেক ভালো কথা আছে। তার একটি হলো "দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করো"। একই রকম আরেকটি হলো "জ্ঞান অর্জন করতে হলে সুদুর চীন দেশে যাও"।আসেন ফজলে ভাই, একটু জ্ঞান অর্জন করিঃ
http://en.wikipedia.org/wiki/Evolution
সন্দেহ হচ্ছে? আসেন এইটা পড়িঃ
http://en.wikipedia.org/wiki/Evolution_as_theory_and_fact
আরো জানতে ইচ্ছে হচ্ছে?
Click This Link
এবার বলেন, আমরা মানুষ, নাকি মুসলমান?
(আজ থেকে বিশ-ত্রিশ বছর পর বিজ্ঞান পড়ুয়া হুজুররা কোরানের বিভিন্ন আয়াতের বিকৃত অনুবাদ করে দেখনোর চেষ্টা করবে যে কোরানে সতিই বিবর্তনবাদের কথা বলা ছিলো। তবে আর সব বিজ্ঞানভিত্তিক আয়াতের মতো, সোজাসুজি যেগুলো থেকে কিছু বোঝা যায় না, আরবী ব্যাকরণ এবং আরবী শব্দ উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে, অনুবাদ বিকৃত করে যেগুলো থেকে বিজ্ঞান বের করতে হয়!)
লেখক বলেছেন: আপনাদের মূর্খতা দেখলে মুর্দারও হাসি পাবে। বলতে বাধ্য হলাম।
সুযোগ মত হুমকি দিয়ে উঠেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ আমরা!!! ![]()
তবে এটুকু নিশ্চয়তা নিন যে, মানুষের মধ্যে অধিকাংশই বাঁদরের কিংবা ব্যঙাচীর বংশধর হতে রাজী হবে না।
বিবর্তন? এটি তো পৃথিবীর একটা সাধারণ নিয়ম। এটাকে বিশেষ কোন শ্রেণীর নিজস্ব সম্পদ ভেবে এত আনন্দিত হবার কোন কারণ দেখছি না।
তাছাড়া ইসলাম একবার যখন বলেই দিয়েছে যে, মানুষকে স্বয়ং স্রষ্টা নিজহাতে তৈরী করেছেন, সুতরাং আপনি নিশ্চিত থাকুন যে, স্রষ্টা এ বিধানে পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত আর কোন পরিবর্তন কেউই আনতে পারবেন না।
আমাদের প্রিয় সাঈদী সাহেব একটা কথা বলতেন ওয়াজে-
"ওরা মনে করে হুজুররা বুঝে না, কিন্তু হুজুররা যে বুঝে সেটা আবার ওরা বুঝে না....।" অবস্থা হয়েছে আসলে সেটা।
সত্যেন্দ্র ছাতু বলেছেন:
হাসিব বলেছেন: অচেনা বাঙালি বলেছেন: আপনে ফিরা আসছেন দেখে ভালো লাগছে। খুব টেনশনে ছিলাম কয়দিন না দেইখা। আমরা তো ঠিক করছিলাম দরকার হইলে চান্দা তুইলা আপনেরে ব্লগে রাখুম।
আবু সালেহ বলেছেন:
আমার প্রথম পরিচয আমি মুসলমান...আর ২য় পরিচয় আমি বাংলাদেশের সন্তান....তাই বাংলাদেশী....
মনজুরুল হক বলেছেন:
বাই ডিফল্ট মাইনাস। পান্ডিত্য ফলানো লেখা, কিন্তু ভেতরে মশলার ঘাটতি। মধ্যপ্রাচ্য হতে, দেখুন আরো কিছু কালেকশন হয় কি-না। তারপর বিশ্লেষণ করবেন...আগে কি? ভাব না বস্তু?
বেয়াকুফ বলেছেন:
--
মেন্টাল বলেছেন:
উটু ফজল নামক পাকি জারজটার পাছায় গদাম লাথি
ড্রাকুলা বলেছেন:
আমি একজন মুসলমান, একজন বাঙ্গালী।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
আমি মনে করি বাঙালি তথা বাংলাদেশী। ধর্ম পরের ব্যাপার।
নতুন বলেছেন:
আরব দেশে মসজিদে নামাজ পড়লে আমার মনে হয় আমরা কত কস্ট করছি মুসলমান হবার জন্য.... সবাই না বুঝে আরবী মুখস্ত করে হাফেজ হয়ে যাই.... আমি বাঙালি আগে তার পরে অন্য কিছু ...
আর কেন আপনার মনে হলো যে আমাদের লিস্টি করতে হবে যে মানুষ, বাঙালী, মুসলমান এর মাঝে কোনটা বড় তা বের করতে হবে?????
খোলা_আকাশ বলেছেন:
আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন মানুষ।
খোলা_আকাশ বলেছেন:
আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন মানুষ।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
+। যখন এই দুনিয়া ও মানুষ জ্বীন ছিল না তখন আল্লাহ ছিলেন। যখন দুনিয়া ধ্বংস হবে তখনও আল্লাহ থাকবনে। যখন জন্ম হয়েছি কানে কালেমা তইয়ব এবং মারা গেলে কবরে শোয়ানোর পর "বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতে রাসুলুল্লাহ্" শীনায় হাত রেখে বলা হবে। তখন এ হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় হল আমি মুসলমান। আর আমার ধর্ম হল ইসলাম। সুন্দর লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আবদুল্লাহ আল জাফর মালেক বলেছেন:
সত্যেন্দ্র ছাতু বলেছেন: হাসিব বলেছেন: অচেনা বাঙালি বলেছেন: আপনে ফিরা আসছেন দেখে ভালো লাগছে। খুব টেনশনে ছিলাম কয়দিন না দেইখা। আমরা তো ঠিক করছিলাম দরকার হইলে চান্দা তুইলা আপনেরে ব্লগে রাখুম।
এস. এম. মেহেদী আকরাম বলেছেন:
ফজলে এলাহি ভাই,আমার মনের কথা লিখেছেন... ধন্যবাদ।
লেখাটি সকলের কাছে ভাল লগবে না ভাল লাগার কথা না।
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন:
ভাই দেহি এগুলার আবার Ranking কইরা সেটা নিয়া আবার বিশাল কাইজা লাগায় দিছেন দেহি। একজন মানুষের অনেকগুলা আইিড কার্ড তাকতেই পারে (জাতীয় পরিচয়পত্র, জিমকার্ড, এটিএম কার্ড, অফিসের আইডি কার্ড ইত্যাদি ইত্যাদি)
আমরা প্রধান আইডি কার্ডটা হলো আমি মানুষ, তারপর বাঙালি, তারপর ধর্ম আসতে পারে।
ভাইরে এইডা কেন বোঝেন না যে, ধর্মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্যই ধর্ম।
ওকে, ফাইন, থ্যাঙকু।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















