somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... পৃথিবীতে "নির্মাণ" জন্ম নিয়েছে (সংশোধিত ভার্সন) নির্মাণ ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটের ঠিকানা।
জানুয়ারী সংখ্যার জন্য ক্লিক করুন।
পিডিএফ ভার্সন ডাউনলোডের জন্য ক্লিক করুন।

পৃথিবীটা গতিময়, এমনকি গতিময় এই বিশ্বভুবনের প্রতিটি বস্তুনিচয়, থেমে নেই আমরাও, থেমে নেই আমাদের জীবন ধারা। এখানে চলতেই হবে, কোন বিকল্প নেই। কেউ যদি বলে আমি স্থির, অচল, তবে তা হবে অজ্ঞতা প্রসূত। কেননা, তার নিঃশ্বাস সচল, রক্তের সঞ্চালন সচল, আহার-বিহারের প্রয়োজন ও প্রক্রিয়া সচল, তার জীবন ধারা সচল। বিকল্প নেই।


যদি চলতেই হবে, তবে অলস মননে, অলস চিন্তনে, গবেষণাবিহীন মস্তিষ্ক মাথায় করে এ অচল দেহটি নিয়ে চলবো কেন? কুড়িয়ে নেব দু'হাতে আপনাপন দু'পাশ থেকে। যত পারি, সাধ্যানুযায়ী, পার্থিব ও পারলৌকিক পুঁজি করে।


সত্য যে, দু'পাশ জুড়ে যাকিছু রয়েছে, তার সবটুকুতেই কল্যাণ নিহিত নেই। আছে কল্যাণ-অকল্যাণ উভয়ের সমাহার। মিশ্রিত এসব উপায়-উপকরণ হতে বেছে বেছে নিতে হবে আপন কল্যাণ, আপন সঞ্চয়। এভাবেই আসতে পারে জীবনের গতি, সফল যাপন, সুষম দিনকাল, উত্তম উত্তরাধিকার এবং অনন্ত সফলতা।

অব্যাহত স্বপ্ন, চিন্তা ও যৎখানিক প্রচেষ্টা থাকলেও এযাবৎ পিছিয়েই ছিলাম। সেদিন অনেকটা বেপরোয়া হয়েই সাজিয়ে নিলাম সংকল্পকে- 'এবার তুলে নেবই কিছু, জীবন পথের দু'পাশ থেকে, তুলে দেব কিছু আপনাদের হাতে, নিজের স্বপ্নে ও সাধনায়, আপনাদের কল্যাণে, সহযোগিতায়। এসব নিয়েই এই তো- "নির্মাণ"।

আগামীর পথ ততটা সুগম, সফল ও দ্রুততর হবে, যতটা সাথ দেবেন আপনারা- মননে, চিন্তায়, গবেষণায়, পড়ায়, প্রচারে, উৎসাহে, সমালোচনায়, ব্যয়ে ও ভালবাসায়...।

২৭ জানুয়ারী ২০১১
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদি আরব।

পৃথিবীটা গতিময়, এমনকি গতিময় এই বিশ্বভুবনের প্রতিটি বস্তুনিচয়, থেমে নেই আমরাও, থেমে নেই আমাদের জীবন ধারা। এখানে চলতেই হবে, কোন বিকল্প নেই। কেউ যদি বলে আমি স্থির, অচল, তবে তা হবে অজ্ঞতা প্রসূত। কেননা, তার নিঃশ্বাস সচল, রক্তের সঞ্চালন সচল, আহার-বিহারের প্রয়োজন ও প্রক্রিয়া সচল, তার জীবন ধারা সচল। বিকল্প নেই।


যদি চলতেই হবে, তবে অলস মননে, অলস চিন্তনে, গবেষণাবিহীন মস্তিষ্ক মাথায় করে এ অচল দেহটি নিয়ে চলবো কেন? কুড়িয়ে নেব দু'হাতে আপনাপন দু'পাশ থেকে। যত পারি, সাধ্যানুযায়ী, পার্থিব ও পারলৌকিক পুঁজি করে।


সত্য যে, দু'পাশ জুড়ে যাকিছু রয়েছে, তার সবটুকুতেই কল্যাণ নিহিত নেই। আছে কল্যাণ-অকল্যাণ উভয়ের সমাহার। মিশ্রিত এসব উপায়-উপকরণ হতে বেছে বেছে নিতে হবে আপন কল্যাণ, আপন সঞ্চয়। এভাবেই আসতে পারে জীবনের গতি, সফল যাপন, সুষম দিনকাল, উত্তম উত্তরাধিকার এবং অনন্ত সফলতা।

অব্যাহত স্বপ্ন, চিন্তা ও যৎখানিক প্রচেষ্টা থাকলেও এযাবৎ পিছিয়েই ছিলাম। সেদিন অনেকটা বেপরোয়া হয়েই সাজিয়ে নিলাম সংকল্পকে- 'এবার তুলে নেবই কিছু, জীবন পথের দু'পাশ থেকে, তুলে দেব কিছু আপনাদের হাতে, নিজের স্বপ্নে ও সাধনায়, আপনাদের কল্যাণে, সহযোগিতায়। এসব নিয়েই এই তো- "নির্মাণ"।

আগামীর পথ ততটা সুগম, সফল ও দ্রুততর হবে, যতটা সাথ দেবেন আপনারা- মননে, চিন্তায়, গবেষণায়, পড়ায়, প্রচারে, উৎসাহে, সমালোচনায়, ব্যয়ে ও ভালবাসায়...।

২৭ জানুয়ারী ২০১১
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদি আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29401092 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29401092 2011-06-23 02:23:29
নির্মাণ- ফেব্রুয়ারী ২০১১: মননে, চিন্তায়,, গবেষণায়,,, ডাউনলোড করুন: নির্মাণ-ফেব্রুয়ারী ২০১১

জগৎ সংসারে কল্যাণ-অকল্যাণ দু'টোই বিদ্যমান। দৃষ্টিভঙ্গি, বিবেচনাবোধ, আন্তরিক আগ্রহ ইত্যাদির প্রভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে মানুষ। যার নিকট যে পথ ভাল লাগে সে সেপথের অনুসরণ ও প্রচারণায় মুখর থাকে। এটাই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক তো তা, যা মানুষকে প্রতারণা করে, কলুষিত করে এ বিশ্বকে, পঙ্কিল করে তোলে মানব সমাজকে এবং ধ্বংস ডেকে আনে নিয়মের নিঃশেষ প্রক্রিয়ার পূর্বেই।
পৃথিবীতে ভালমানুষের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়; কিন্তু অচল ভাল মানুষের চেয়ে সচল ভাল মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম। তদুপরি নাই ঐক্যের সুদৃঢ় বন্ধন। তাই মন্দ মানুষেরা সংখ্যায় স্বল্প হয়েও আধিপত্য বিস্তার করে যায় চিরদিন অচল ভাল মানুষদের উপর। মূলতঃ জাগ্রত বিবেকের একজন মানুষই পরিচালনা করতে পারে লাখো কোটি অচল ভাল মানুষকে। কিন্তু আমাদের সমাজে যেন আজকাল জাগ্রত সচল ভাল মানুষদের সংখ্যা কমে যেছে কিংবা হয়ত দমিত হয়েছে তারা রাজকীয় উৎপীড়নে, নীপীড়নে, দমনে। এই তো একুশ গেল, চোখ-কান খোলা রাখা অনেকেই দেখেছেন হয়ত, এ যেন কোন নির্বাচনী মৌসুম গেল। সালাম, রফিক, জাব্বার, বরকত যেন এখন সম্মিলিত নির্বাচনী জোটের 'মার্কা'। প্রচারে (আত্মপ্রচারে) কে কাকে পেছনে ফেলবে, রীতিমত ঠেলাঠেলি। বাদ পড়েনি ছবি সম্বলিত পোষ্টার, এমনকি 'দু'গ্রুপ'-এর মধ্যকার সংঘর্ষও। ভাবছি, যদি কিছু সচল বিবেক থেকে থাকে, তো এসব সহ্য করে কিভাবে? যদি নিয়ম থাকতো তবে হয়তে সালাম, জাব্বার, বরকত, রফিকেরা অতীষ্ট হয়ে কবর ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে চাপেটাঘাত করতো তাদেরকে 'মার্কা' বানানো এসব 'জাতীয়'(?)-বিজাতীয় নেতাদের প্রচারোন্মুখ অবয়বে। যদি আমরা পারতাম তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে, কি চাও তোমরা এখন আমাদের কাছে? নির্ঘাত তারা জবাব দিত- 'পূজা নয়; প্রার্থনা কর আজ!'
নির্মাণ স'বে মাত্র তার 'নির্মাণ কাজ' শুরু করেছে। স্মরণে জাগিয়ে দিতে চাই আবারো, কোন যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় নয়; একটি ছোট্ট 'নির্মাণ' হাতে দিয়ে যে, আমরা যদি চাই তাহলে এ পৃথিবী সুন্দর হতে পারে, শান্তিময় হতে পারে। প্রয়োজন সংকল্পের, প্রয়োজন সাধনার, প্রয়োজন শ্রমের, প্রয়োজন ব্যয়ের এবং প্রয়োজন ভালবাসার। আসুন সত্য নির্মাণ করি আমাদের অন্তরে, আমাদের চিন্তায়, আমাদের গবেষণায়, আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীতে...।

মদীনা মুনাওয়ারা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29376427 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29376427 2011-05-06 18:16:55
নির্মাণ: মননে. চিন্তায়.. গবেষণায়... যদি চলতেই হবে, তবে অলস মননে, অলস চিন্তনে, গবেষণাবিহীন মস্তিষ্ক মাথায় করে এ অচল দেহটি নিয়ে চলবো কেন? কুড়িয়ে নেব দু'হাতে আপনাপন দু'পাশ থেকে। যত পারি, সাধ্যানুযায়ী, পার্থিব ও পালৌকিক পুঁজি করে।
সত্য যে, দু'পাশ জুড়ে যাকিছু রয়েছে, তার সবটুকুতেই কল্যাণ নিহিত নেই। আছে কল্যাণ-অকল্যাণ উভয়ের সমাহার। মিশ্রিত এসব উপায়-উপকরণ হতে বেছে বেছে নিতে হবে আপন কল্যাণ, আপন সঞ্চয়। এভাবেই আসতে পারে জীবনের গতি, সফল যাপন, সুষম দিনকাল, উত্তম উত্তরাধিকার এবং অনন্ত সফলতা।
অব্যাহত স্বপ্ন, চিন্তা ও যৎখানিক প্রচেষ্টা থাকলেও এযাবৎ পিছিয়েই ছিলাম। সেদিন অনেকটা বেপরোয়া হয়েই সাজিয়ে নিলাম সংকল্পকে- 'এবার তুলে নেবই কিছু, জীবন পথের দু'পাশ থেকে, তুলে দেব কিছু আপনাদের হাতে, নিজের স্বপ্নে ও সাধনায়, আপনাদের কল্যাণে, সহযোগিতায়। এসব নিয়েই এই তো- "নির্মাণ"।
আগামীর পথ ততটা সুগম, সফল ও দ্রুততর হবে, যতটা সাথ দেবেন আপনারা- মননে, চিন্তায়, গবেষণায়, পড়ায়, প্রচারে, উৎসাহে, সমালোচনায়, ব্যয়ে ও ভালবাসায়...।

পরিপূর্ণ পড়তে ডাউনলোড করুন: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29361764 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29361764 2011-04-13 00:34:29
@ ইসলামী সংস্কৃতির দলিল-প্রমাণ: ৬-১০ বিসর্গ ব্লগফজলে এলাহি ডট কম।

৬. মুসলিম অন্যায়ভাবে অন্যের জমি জবরদখল করে না।
দলিল: আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "যে ব্যক্তি এক বিঘৎ পরিমাণ জমিতে জুলুম করল (অর্থাৎ, জোরপূর্বক দখল করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ) তার গলায় সাত তবক জমিন পরিয়ে দেবেন।"
[বুখারী: ৩/১৭০(২৪৫৩) ও মুসলিম: ৫/৫৯(১৬১২), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২০৬]

৭. মুসলিম সরকারী সম্পদ অবৈধভাবে অপচয় করে না।
দলিল: হামযার স্ত্রী হযরত হাওলা বিনতে ‘আমের আল আনসারী বলেন, আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ "এমন অনেক লোক আছে যারা আল্লাহর মাল (অর্থাৎ, সরকারী ধন-সম্পদ) অবৈধভাবে ব্যায় করে, অপচয় করে। কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তির জন্য জাহান্নামের আগুন নির্ধারিত রয়েছে।"
[বুখারী: ৪/১০৪ (৩১১৮), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২২১]

৮. মুসলিম মানুষের প্রতি দয়া পোষণ করে।
দলিল: জাবীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "যে ব্যক্তি মানুষকে দয়া করে না, আল্লাহও তাকে দয়া করেন না।"
[বুখারী: ৯/১৪১(৭৩৭৬) ও মুসলিম: ৭/৭৭(২৩১৯)(৬৬), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২৭৭]

৯. মুসলিম তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।
দলিল: আনাস (রা)-এর বর্ণনা অনুসারে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "তোমাদের কেউই ঈমানদার হতে পারে না যতক্ষন না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।"
[বুখারী: ১/১০(১৩) ও মুসলিম: ১/৪৯(৪৫)(৭১), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২৩৬]

১০. মুসলিম স্বৈরাচারী জালেম ও মজলুম উভয়কেই সাহায্য করে।
দলিল: আনাস (রা) বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "তোমার ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে (স্বৈরাচারী) নিষ্ঠুর জালিম হোক অথবা মজলুম। এক ব্যক্তি নিবেদন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! লোকটা যদি মজলুম হয় আমি তাকে সাহায্য করব এটা বুঝতে পারলাম; কিন্তু যদি সে জালিম হয় তাহলে আমি তাকে কিভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেনঃ তাকে জুলুম করা থেকে বিরত রাখ, বাধা দাও। এটাই তাকে সাহায্য করার অর্থ।"
[বুখারী: ৯/২৮(৬৯৫২), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২৩৭]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29193406 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29193406 2010-07-06 03:43:42
@ ইসলামী সংস্কৃতির দলিল-প্রমাণ: ১-৫ বিসর্গ ব্লগফজলে এলাহি ডট কম
মুসলিম জীবন নিঃসন্দেহে এক পবিত্র, কল্যাণময় ও সফল জীবন। কিন্তু এ জীবনকে যাপনের জন্য সীমাহীন আগ্রহ থাকার পরও একজন মুসলমান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম দ্বিধা-দ্বন্ধে পতিত হন। একজন হয়ত শুনেছেন কাজটি এভাবে করতে হয় তো অন্যজন কিছু দলীল নিয়ে হাজির হয়ে বলেন যে, না, কাজটি এরূপ করতে হবে। এমনকি যারা এসব ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দান করবেন, তারাও নানা মতপার্থক্যের বেড়াজালে জড়িয়ে কোন কাজ সম্পাদনের ব্যাপারে দ্বিধা-বিভক্তিতে ফেলে দেন সাধারণ মুসলমানগণকে। এসব দিক বিবেচনা করে মাঝে মাঝে ইসলামী সংস্কৃতির নানা বিষয়কে তুলে ধরে সেসবের পক্ষে দলীল পেশ করার একটা প্রয়াস মনের কোণে অনেক দিন থেকেই দানা বাঁধছিল। একজন প্রিয়জনের সাথে বিষয়টি শেয়ার করলাম। তিনি বললেন, বিষয়টি অনেক শ্রমের দাবী রাখে। তাই কথা দিচ্ছি না, তবে চেষ্টা করবো গন্তব্যে পৌঁছাতে। কেননা, পূর্বের অনেকগুলো পথে পাড়ি জমিয়ে কিছুদূর গিয়ে বসে পড়েছিলাম।

আমার বিশ্বাস শুধু মুসলমানগণই নন; বরং সকল মানুষের নিকট ইসলামী সংস্কৃতির এসব দালিলিক প্রকাশ ইসলামকে বুঝতে সহযোগিতা করবে।

১. মুসলিম তার মুখ ও হাতের অনিষ্টতা থেকে অন্য মুসলমিকে নিরাপদ রাখে।
দলিল: আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আস্‌ (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "মুসলমান হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার মুখ ও হাতের ক্ষতি থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।"
[বুখারী: ১/৯ (১০) ও মুসলিম: ১/৪৭ (৬৪) (৪০), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২১১]

২. মুসলিম আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিস থেকে হিজরত করে মুহাজিরের সৌভাগ্য অর্জন করে।
দলিল: আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আস্‌ (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুহাজির হলো সেই বক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিস পরিহার করে চলে।
[বুখারী: ১/৯ (১০) ও মুসলিম: ১/৪৭ (৬৪) (৪০), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২১১]

৩. মুসলিম জুলুম করা থেকে বিরত থাকে।
দলিল: জাবের (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা জুলুম করা থেকে দূরে থাক। কেননা, কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকারময় ধোঁয়ায় পরিণত হবে।
[মুসলিম: ৮/১৮ (২৫৭৮), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১খণ্ড-২০৩]

৪. মুসলিম কার্পণ্য করা থেকে দূরে থাকে।
দলিল: জাবের (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (তোমরা) কার্পণ্যের কলুষতা থেকেও দূরে থাক। কেননা, কার্পণ্যই তোমাদের পূর্বেকার অনেক লোককে (জাতিকে) ধ্বংস করে দিয়েছে। কার্পণ্য তাদেরকে রক্তপাত ও মারপিট করতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং হারামকে হালাল করতে উস্কানি যুগিয়েছে।
[মুসলিম: ৮/১৮ (২৫৭৮), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১খণ্ড-২০৩]
৫. মুসলিম জালিমের অব্যাহত জুলুমকে আল্লাহর পক্ষ হতে অবকাশ মনে করে।
দলিল: আবু মূসা (রা) বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দিয়ে থাকেন; কিন্তু তিনি যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন আর রেহাই দেন না। এরপর তিনি (বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘আর আমার প্রভু (রব) যখন কোন জালিম জনবসতিকে পাকড়াও করেন, তখন তাঁর পাকড়াও এ রকমই (কঠিন) হয়ে থাকে। তাঁর পাকড়াও বড়ই কঠিন ও নির্মম। (সূরা হূদঃ ১০২)"
[বুখারী: ৬/৯৩ (৪৬৮৬) ও মুসলিম: ৮/১৯ (২৫৮৩), রিয়াদুস্ সালেহীন: ১ম খণ্ড-২০৭]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29190855 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29190855 2010-07-03 02:50:34
"ইসলামী আন্দোলন" -শেষ হলো না আজো একটা সময় পার করেছিলাম, যখন ভাবতাম যে, ব্লগিং ছাড়া বাঁচতে পারবো তো? আজকাল দারুন একটা বিরক্তিকর ঠেকে এইসব ব্লগ-আড্ডা। কারণ অনুসন্ধান কিংবা বিশ্লেষণে যেতে চাই না এখন। শুধু এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হতে চাই যে, একটি সংঘের সফল পরিচালক সে, যে হাজারো মতবিরোধ সত্ত্বেও সকলকে শামিল রাখতে পারে সংঘের সীমানায়। তাছাড়া মানুষের মনটা বড়ই দর্বোধ্য। হাজার দুয়ার বন্ধ রাখলেও কোথাও কোন এক দুয়ার তার জন্য খোলা থাকেই, যেখান দিয়ে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তার করে বাইরের কোন ভাব।
ভাবের কথা থাক। "ইসলামী আন্দোলন" বিষয়ক পোষ্ট, যেগুলো ইতিপূর্বে এ ব্লগে পোষ্ট করেছিলাম নানা র্পবে, সমাপ্ত হয়নি তবু একত্রে একটি পোষ্টে পড়তে পারবেন নিচের লিংক থেকে-
http://www.fazleelahi.com/archives/219
এ ধারাবাহিকটি শেষ করা খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আজো শেষ করতে পারলাম না, শেষ হলো না আজো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29187579 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29187579 2010-06-29 03:29:46
@ তাফসীরুল উশরুল আখীর (বাংলা অনুবাদ ডাউনলোড করুন) ডাউলোডের জন্য নির্দেশিত লিংকে চলে যান: http://www.islam.net.bd/content/view/199/27/

এখানে তাফসীরে উল্লেখিত সংক্ষিপ্ত ভূমিকা তুলে দিলাম।
-------------------------------------------------------->
সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোন (আল্লাহ্ আপনাদের করুণা করুন) জেনে রাখুন, আমাদের প্রত্যেকের জন্য চারটি বিষয় জানা অপরিহার্য।
প্রথমত: জ্ঞানার্জন করা: আল্লাহ্ পাক, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা অপরিহার্য। কেননা না জেনে আল্লাহর ইবাদত করা যায় না। করলেও বিভ্রান্তিতে পতিত হতে বাধ্য। যেমন বিভ্রান্ত হয়েছিল খৃষ্টানরা।
দ্বিতীয়ত: আমল করা: জ্ঞানার্জন করার পর আমল না করলে সে ইহুদীদের মত। কেননা ইহুদীরা শিক্ষা লাভ করার পর তদানুযায়ী আমল করেনি। শয়তানের ষড়যন্ত্র হচ্ছে সে মানুষকে জ্ঞান শিক্ষার প্রতি অনু‍ৎসাহিত করে। তার মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি করে যে, অজ্ঞ থাকলে আল্লাহ্ মানুষের ওযুহাত গ্রহণ করবেন। ফলে সে পার পেয়ে যাবে। তার জানা নেই যে, যে সকল বিষয় শিক্ষার্জন করা তার জন্য সম্ভব ছিল তা যদি নাও শিখে তবু তার উপর দলীল কায়েম হয়ে যাবে। এটা হচ্ছে নূহ্ (আ)এর জাতির চরিত্র। নূহ্ (আ) তাদেরকে নসীহত করতে গেলে: جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ
"তারা কানের মধ্যে আঙ্গুল প্রবেশ করাতো এবং নিজেদেরকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিত", (সূরা নূহ: ৭) যাতে করে কেউ বলতে না পারে যে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল।
তৃতীয়ত: দা'ওয়াত বা আহ্বান: উলামা ও দাঈগণ নবীদের উত্তারাধিকার। তাই নাবীদের কাজ আলেম ও জ্ঞানীদেরকে করতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বাণী ইসরাঈলকে লা'নত করেছেন। কেননা كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ "তারা যে মন্দ ও গর্হিত কাজ করত তা থেকে তারা পরস্পরকে নিষেধ করত না; বাস্তবিকই তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত গর্হিত।" (সূরা মায়েদা: ৭৯) সৎ পথের প্রতি আহ্বান ও শিক্ষা দান ফরযে কেফায়া। কেউ এ কাজ আঞ্জাম দিলে যদি যথেষ্ট হয় তবে অন্যরা গুনাহ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু কেউ এ দায়িত্ব পালন না করলে সকলেই গুনাহগার হবে।
চতুর্থত: ধৈর্য ধারণ করা: ধৈর্য ধারণ করতে হবে জ্ঞান শিক্ষার পথে। ধৈর্য ধারণ করতে হবে তদানুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে। আর ধৈর্য ধারণ করতে হবে দ্বীনের পথে মানুষকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে।

অজ্ঞতার অন্ধকারকে দূরীকরণের প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ করার জন্য এবং ইসলামী জীবনের অমীয় সূধা অনুসন্ধানকারীদের পিপাসাকে নিবারণ করার জন্য আমাদের সামান্য এই প্রয়াস। আমরা এই বইটিতে ইসলামী শরীয়তের যে সমস্ত বিষয় একান্ত প্রয়োজন সেগুলোকের অতি সংক্ষেপে সন্নিবেশিত করার চেষ্টা করেছি।

এখানে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে যা প্রমাণিত হয়েছে তাই একত্রিত করতে চেষ্টা চালিয়েছি। আমরা পূর্ণতার দাবী করি না। পূর্ণতা আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। কিন্তু এটি এক নগণ্য মানুষের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। যদি সত্য-সঠিক হয়ে থাকে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর কোন ক্ষেত্রে ভুল হয়ে থাকলে তা আমাদের পক্ষ থেকে ও শয়তানের পক্ষ থেকে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। বন্তুনিষ্ঠ ও গঠন মূলক সমালোচনার মাধ্যমে যাঁরা আমাদের ভুল ধরিয়ে দিবেন আল্লাহ্ তাদের প্রতি দয়া করবেন।
এই বইয়ের লিখক, প্রকাশক, অনুবাদক, সম্পাদক, পাঠক এবং বিভিন্নভাবে এতে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের সকলের জন্য প্রার্থনা করি, আল্লাহ্ যেন তাদের সবাইকে উত্তম পারিতোষিকে ভূষিত করেন। তাদের নেক আমলগুলো কবূল করেন এবং ছওয়াব ও প্রতিদানের সংখ্যাকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে দেন। আমীন।।
আল্লাহ্‌ই সর্বাধিক জ্ঞানী। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমাঈন।

বিনামূল্যে বিতরণের জন্য, বিক্রয় নিষিদ্ধ।

প্রকাশ কাল:
প্রথম প্রকাশ: যিলকা'দাহ্- ১৪২৮হি:
নভেম্বর- ২০০৭ইং

ইসলামী বিশ্বের বহু আলেম এই বইটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আরো বিস্তারিত জানতে অথবা সহযোগিতা করতে কিংবা বইটি পেতে হলে যোগাযোগ করুন।
website: http://www.tafseer.info
email:
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29083355 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29083355 2010-01-22 03:19:53
@ ধর্ম ও বিজ্ঞানের দৌড়
১. ধর্ম কি আদৌ টিকে থাকবে?

-সব ধর্মের কথা বলতে গেলে অনেক কথা টেনে আনতে হবে, তাই যে ধর্ম টিকে থাকার সম্ভাবনা শতভাগ বলে আমি মনে করি, সে সম্পর্কে কিছু কথা বলতে পারি। তা হলো- ইসলাম ধর্ম।

কেননা, মানুষ তার মূল খুঁজবেই। আর "তার মূল-এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যত সূক্ষ্মই হোক না কেন, সেই সূক্ষ্ম-এর স্রষ্টা কে?"-এ জিজ্ঞাসা মানব মনে থাকবেই। এদিকে বিজ্ঞানের এ যাবৎ উন্নতি কিংবা ভবিষ্যৎ কল্পনা থেকেও "সেই মূল"-এর সন্ধান আজো পায়নি এবং পাওয়ার কোন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং মানব মনের চিরন্তন এ প্রশ্নই মানুষকে ধর্মে টিকিয়ে রাখবে।

বলাবাহুল্য যে, ধর্মে টিকে থাকতে হলে ধর্মে বর্ণিত বিশ্বাস ও বিধানাবলীর অনুসরণও করতে হবে। তাছাড়া ইসলামের মূলনীতিসমূহ ও ইসলামের মূল দু্'টি উৎসের কোনরূপ বিলুপ্তি না ঘটা এবং প্রায় দেড় সহস্র কাল যাবৎ বিজ্ঞানের এ জয় জয় সময়গুলো পার করার পরও যে ধর্ম শুধুমাত্র তার স্বমহিমাতেই নয়; বরং প্রচুর উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন করতে পেরেছে, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ পরিবর্তন ও বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে সে ধর্মের বিলুপ্তি ঘটার চিন্তাটা মোটেই বৈজ্ঞানিক বলে আমি মেনে নিতে পারছি না। অতএব, ইসলাম পৃথিবীর শেষ পরিণাম পর্যন্ত থাকবে বলে আশা করাটা মোটেই অতিরঞ্জন নয়।

২. টিকে থাকলে কিভাবে?

এখানে আমি ইসলামের টিকে থাকার বিষয়টি তুলে ধরতে চেষ্টা করবো।

- মানব জীবনে দু'টি দিক- আত্মা ও শরীর। কিংবা মনোজগত ও বাহ্যজগত। আত্মিক অশান্তি হলে মানুষ শারিরিক প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে। যেমন প্রিয়জনের বিয়োগে আমরা খানাপিনা ছেড়ে দেই কিংবা অখাদ্য খেয়ে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেই, হাজারো ঐশ্বর্য্য থাকা সত্ত্বেও বলতে শোনা যায়- মনে শান্তি নেই।

অন্যদিকে শরীর অসুস্থ হলে আত্মার উপর সে প্রভাব পড়তে থাকে এবং শরীরের পতনে আত্মাও একসময় শরীরকে ত্যাগ করে চলে যায়; যাকে আমরা মৃত্যু বলে অভিহিত করি।

ইসলাম মানুষকে এ দু'টি দিক সম্পর্কে সম্যক অবগত করেছে এবং এ দু'টি মৌলিক দিকের ভাল-মন্দ, প্রয়োজন-নিষ্প্রয়োজন, শুরু-শেষ, পরিণাম তথা সাফল্য-ব্যর্থতা সম্পর্কে বিধি বিধান দিয়েছে। মানুষ যত বৈজ্ঞানিক কিংবা যন্ত্র নির্ভরই হোক না কেন, তার আত্মাকে কোনদিন যান্ত্রিক বানাতে পারবে না। তার প্রমাণ প্রাগৈতিহাসিক কালের কোন প্রেম কাহিনী আর বর্তমানের কোন প্রেম কাহিনীর সাথে তুলনা করলেই মিলে যাবে। মানুষের মনের ভাব, আবেগ, ইচ্ছে ঠিক তেমনি রয়ে গেছে; কিছুই পরিবর্তন আসেনি তাতে। এসেছে কেবল উপাদানে। তাই বিজ্ঞান কখনোই মানুষের আত্মিক চাহিদাকে বিনষ্ট বা বিকৃত করতে সক্ষম হবে না। শারিরিক ভাবে হলেও হতে পারে। আর আগেই বলেছি যে, মানুষ কেবলমাত্র শরীর নয়; বরং আত্মা ও শরীরের সমন্বয়। অতএব, আত্মিক প্রয়োজনেই মানুষ ধর্মের প্রয়োজন বোধ করবে। অনেক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতেও এ বিষয়টি তুলে ধরতে দেখা গেছে যে, যন্ত্রের উন্নতিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শারিরিক সুখের চরম অবস্থানে চলে গেছে কিন্তু তার আত্মা অশান্ত! সে আত্মিক শান্তির অনুসন্ধান করে ফিরছে...!

বাকী থাকে শারিরিক প্রয়োজনের জন্য কিংবা মানবের বাহ্যিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য বিধি-বিধান তথা জাগতিক বিধি-বিধান। বলাবাহুল্য যে, সে ক্ষেত্রে ধর্ম তথা আমার আলোচ্য ইসলাম ধর্ম হয়তবা সবসময় সব ক্ষেত্রে নেতৃত্বে থাকতে নাও পারে; তবে সাফল্য না পাওয়ার কারণে যদি কেউ জাগতিক বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে ইসলামকে দুর্বল কিংবা অসম্পন্ন মনে করে, তবে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞানতার দোষ তার উপর নির্দ্বিধায় আরোপ করা যেতে পারে। নেতৃত্বই এক্ষেত্রে কেবলমাত্র মাপকাঠি নয়, কেননা কম্যূনিজম নেতৃত্ব পেয়েও মানুষের মন থেকে ধর্মকে মুছে দিতে পারেনি; বরং চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ধর্ম সম্পর্কে কেবল মুখের কিংবা কলমের জোরে বলে ফেললেই চোখের সামনে থাকা বস্তু যাদুর মত হাওয়া করে ফেলা যায় না আর গেলেও সে সত্য ছাইচাপা আগুন মাত্র, জ্বলে উঠবেই।

বাদ-মতবাদের সাথে তুলনায় বলবো যে, পৃথিবীতে যতদিন মানুষের মধ্যে নীতিবোধ অবশিষ্ট থাকবে, ততদিন ধর্মের প্রয়োজন থাকবে। কেননা, কম্যূনিজম মানুষকে তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে বিশ্বাস করাতে পারেনি যে, তারা সাম্যের জন্য লড়াই করছে। বরং তাদের সাম্যের লড়াই একদা যখন মানবতাকে ল্যাঙ মেরে বসেছিল, তখন তাদের স্বরূপ বিশ্ববাসী অবলোকন করেছিল। এবং যুদ্ধ নামক ভূকম্পন ছাড়াই তাদের "সাম্যবাদ" নামক ইমারত ধ্বসে পড়েছিল।

পূঁজিবাদ মানবতার প্রতি কখনোই সুবিচার করতে পারেনি; এক্ষেত্রে সে পুরোপুরি অন্ধ। তাই একটি অন্ধ ঘোড়ায় চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর বাসনা সেই ধনী ব্যক্তিই করতে পারে যার চাকর-নোকর ঘোড়াটিকে টেনে টেনে তার কাংখিত গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে। বাকি বিশাল শ্রমজীবি মানবগোষ্ঠী তা কোনদিনও মেনে নেবে না; বরং পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা বিদ্বগ্ধজনের কানে কানে যেন বলছে যে, সে ঘোড়াটিকে হত্যা করার সামান্যতম সুযোগও পূঁজিবাদে পিষ্ঠ মানুষেরা হাতছাড়া করবে বলে মনে হচ্ছে না।

এছাড়া নিজস্ব সংস্কৃতি, শিক্ষা পদ্ধতি, অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা ইত্যকার যাবতীয় দিক ও বিভাগে যে ধর্ম স্বয়ং সম্পন্ন, সে ধর্ম সম্পর্কে নিঃসঙ্কোচে এ বাক্য উচ্চারণ করা যায় যে, আর কেউ টিকে থাকুক বা না থাকুক; আগামী দিনের ধর্ম হিসেবে ইসলাম টিকে থাকবেই।

৩. না টিকে থাকলে সেই শূন্যস্থান পূরন হবে কিভাবে ?

-এখানে উত্তর যদিও অপ্রয়োজনীয়, তবু কিছু কথা থেকে যায়। তা হলো, অতীতে এবং আজো যেমন পুরো মানবগোষ্ঠীকে ধর্মসমূহ কিংবা কোন একটি ধর্ম নিয়ন্ত্রণ করেনি ও এখনো করে না, তেমনি ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এ পার্থক্যটা ঘটতে থাকবে মানুষের চিন্তাগত ব্যবধানের কারণেই। তাই ধর্ম যেমন হঠাৎ করে বা ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যাবেনা, তেমনি সারা বিশ্বের মানুষেরাও এক প্লাটফর্মে এসে দাঁড়াবে না; ব্যবধান থাকবেই আর ব্যবধান থাকলে সেখানে ধর্ম ও অধর্মও থাকবে। সেক্ষেত্রে, বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে যেসব ধর্ম বিশ্বাসে পরিবর্তন আসবে বা বিলুপ্তি সাধন ঘটবে সেসব ছাড়াও ইসলামের মত ধর্মবিশ্বাস নিঃসন্দেহে থাকবে। কেননা, ইসলাম ইতিপূর্বে তার প্রমাণ পেশ করেছে। এছাড়াও মানুষ তার অন্তরাত্মা থেকে কোনদিনও বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না, আর অন্তরাত্মার বর্তমানে উপরোল্লেখিত মৌলিক প্রশ্নাবলীও চিরকাল থাকবে।

৪. যদি ধর্মের মূল রূপ পরির্তিত হয় .. তবে সে পরিবর্তিত রূপ'টা কেমন হবে?

-এক্ষেত্রে বিস্তর আলোচনার দাবী রাখে। এ পোষ্টে বিস্তারিত লিখতে চাই না। এখানে অন্যান্য ধর্মে অতীত কাল থেকেই প্রচুর ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন সাধিত হয়ে এসেছে। ইসলামেও সেরূপ কিছু কিছু পরিবর্তন নয়; বরং ভুলবুঝাবুঝির ফলে কিছু উপদলের সৃষ্টি হয়েছে। কেননা, ইসলামের মৌলিক ধারায় শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত আজো কোনরূপ পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। চর্চার পদ্ধতিসমূহে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলেও এটাকে যদি কেউ মৌলিক পরিবর্তন বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালান তবে তিনিও ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার দোষে দোষী হবেন।

অন্যান্য ধর্মের পরিবর্তিত রূপ কেমন হবে, সে ধারনা আমি না হয় নাইবা করলাম, কিন্তু ইসলাম যেহেতু দেড় হাজার বছর পরেও সে-ই প্রাথমিক পরিপূর্ণরূপে ও অবিকৃত অবস্থায় বহাল রয়েছে, তাই আশা করতেই পারি যে, আগামীর বৈজ্ঞানিক যুগেও ইসলাম তার স্বমহিমাতেই থাকবে।

৫. মানুষের চরম অসহায় মূহুর্তে ধর্ম'আশ্বাস (মিথ্যে হোক আর যাই হোক) তাকে কিছুটা হলেও শান্তি দেয় .. এই শান্তি'টার বিকল্প কি হবে ?

-বিজ্ঞান আজো পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে চরম অসহায়। বিজ্ঞান মানুষের অসহায় মুহূর্তে তাকে রক্ষা বা সাহায্য করার চেষ্টা চালাতে পারে। কিন্তু পরিণাম নির্ধারণের ক্ষমতা কোনভাবেই বিজ্ঞান জব্দ করতে পারেনি আজো। তাই বিজ্ঞানও সেই আক্রান্ত ব্যক্তির মত নিদারুন অসহায় এক্ষেত্রে। আর চারদিকে এমন থৈ থৈ অসহায়ত্ব দেখে মানব মন যত কঠোর ধর্মবিদ্বেষীই হোক না কেন, গলে যায় এবং সন্ধান করে ফেরে এমন কোন শক্তির যা এসব জাগতিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে তথা যিনি "কাজের পরিণাম নির্ধারণের ক্ষমতা রাখেন", তাঁকে।

এভাবেই বিজ্ঞান তথা নিছক বিজ্ঞানবাদীরা সত্য ধর্ম তথা ধর্মবাদীদের কাছে হেরে যেতে থাকবে। কেননা, আত্মার স্বরূপ যতদিন না উদ্ঘাটিত হচ্ছে, ততদিন বিজ্ঞানের পক্ষে সেই মহাশক্তিধর নিয়ন্ত্রকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না এবং তার থেকে "কাজের পরিণাম ক্ষমতা"ও ছিনিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে না। বলাবাহুল্য যে, আত্মার স্বরূপ সন্ধানের বিষয়টি বিজ্ঞানের কাছে আজো এক মহা প্রশ্নবোধক চিহ্ন "?" হয়েই আছে।

৬. ইত্যাদি ইত্যাদি ।

-এবং ইত্যাদি ইত্যাদি হয়ত ভবিষ্যতে আরো লেখা হবে ইনশাআল্লাহ্। তবে বিজ্ঞানের উন্নতি কোনভাবেই ইসলামকে রুখে দিতে পারবে না; বরং ধীরে ধীরে বিজ্ঞানই হয়ে উঠবে ইসলাম প্রচারে একজন সুযোগ্য দা'য়ী বা ইসলামের প্রতি আহ্বানকারী শক্তি। আজকের যুগে যতটুকু এসেছে, তাতেই বিজ্ঞান ইসলামের প্রচার-প্রসারে বিশাল ভূমিকা রাখছে কোনরূপ সংঘর্ষ ছাড়াই। মূলত: ইসলাম বিজ্ঞানকে স্রষ্টার দেয়া চিন্তা, শ্রবণ, ঘ্রাণ, দৃষ্টি শক্তিসমূহ, আলো, বাতাস, পানি ইত্যাদির মত একটি নে'আমত মনে করে; যা মানুষের চেষ্টার মাধ্যমে মানুষেরাই পেয়েছে। পৃথিবীর অধিবাসী হবার সুবাদে ধর্মানুসারীরাও মানুষ, তাই এ সম্পদ, এ পাওনা সবার এবং তাদেরও। কিন্তু চূড়ান্ত কৌতুক ঠেকে যখন দেখা যায় এক শ্রেণীর নাস্তিক বৈজ্ঞানিক উন্নতিকে তাদের পৈত্রিক উত্তরাধিকারের তুল্য মনে করতে থাকে। তারা ভুলে যায় যে, স্বল্পকতক ছাড়া বিশাল সংখ্যক বিজ্ঞানী ও গবেষক সর্বকালেই ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন..... ইত্যাদি ইত্যাদি।

বি.দ্র.: আজকাল ব্লগে নিয়মিত নই, এছাড়া কিছু বিবেচনা বোধশক্তি খোয়া ব্লগার নাম দেখেই তাদের স্বরূপ তুলে ধরে অশ্রাব্য ভাষায়; যেসবের সুযোগ দেয়া লেখা ও লেখকের জন্য শোভনীয় নয়। সেজন্যে মন্তব্য পর্যবেক্ষনে রাখলাম; দুঃখিত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29049272 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/29049272 2009-11-25 05:45:31
! সা.ই. কর্তৃপক্ষ কি আমার কলম থামিয়ে দিতে চাচ্ছেন? Click This Link
দেখলাম সংকলিত পোষ্টে স্থান পেয়েছে। তারপর............ !
কিছুক্ষণ পর দেখি এই প্রথম সা.ই. থেকে নোটিশ পেলাম এবং safe থেকে আমাকে general এ নিয়ে আসা হয়েছে।

পোষ্টখানা প্রথম পাতায় নেই। পরে আমি এডিট করে প্রথম পাতায় টিক মার্ক করি। কিন্তু কেন এই ভার্চুয়াল দূর্নীতি?

নোটিশখানা আমি এখানে তুলে ধরে জানতে চাচ্ছি যে, উল্লেখিত ধারায় কিভাবে আমার লিখিত পোষ্টখানা এ্যকশনের আওতায় আসে???

নোটিশ:

"তারিখ নোটিশ মুছে ফেলুন
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৬ dear blogger,

we are very sorry that we had to remove one of your post from the front page. please note: this action just to keep a diversity of topics in the front page according to rule:

2h. if your post is used as an advertisement rather than information about a product or service.

২জ. কোন পণ্য কিংবা সেবা বিষয়ে তথ্যভিত্তিক পোস্ট না দিয়ে তার বিজ্ঞাপণমূলক পোস্ট সরিয়ে দেয়া হতে পারে।



thank you in advance you for your understanding.

regards,
somewherein blog team."

ইবাদাতের তিনটি স্তম্ভ সূরা আল-ফাতিহায় রয়েছে; একথা প্রমাণ করতে আমি কুরআন থেকে অনেক তথ্য পেশ করেছি। তারপরও কিভাবে তথ্য ভিত্তিক হয়নি পোষ্ট খানা।
এবং
ধর্মীয় পোষ্ট কি করে "পণ্য" কিংবা "সেবা বিষয়ক" কিংবা "বিজ্ঞাপনমূলক" পোষ্ট হয়? দয়া করে বলবেন কি? কেন এই বিমাতাসুলভ আচরণ?

কি ভাববো? সা.ই.ব্লগ পাল্টে গেলো? না কি একেই বলে "ডিজিটাল কলম স্বাধীনতা"!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28949079 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28949079 2009-05-10 23:47:42
@ সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত ইবাদাতের তিনটি রুকন বা স্তম্ভ Click This Link

বিগত লেখায় আমাদের নিকট সুস্পষ্ট হলো যে, ইবাদাতের ভিত্তি তিনটি স্তম্ভের উপর স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো যথাক্রমে- পরিপূর্ণ ভালবাসা, সর্বোচ্চ আশা ও চূড়ান্ত ভয়।
মানব জাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে প্রেরিত নবী-রাসূলগণ ও নাযিলকৃত কিতাবসমূহের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল হওয়া কিতাব আল-কুরআনের সর্বপ্রথম যে পরিপূর্ণ সূরাটি নাযিল হয়, তা হচ্ছে সূরা আল-ফাতিহা। আল-কুরআনের প্রারম্ভে সন্নিবেশিত এ সূরাতেই আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর ইবাদাতের উপরোল্লেখিত তিনটি রুকন বা স্তম্ভ তুলে ধরেছেন এভাবে-
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ *
“সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য, যিনি দয়াময় পরম দয়ালু, প্রতিদান দিনের মালিক।” [সূরা আল-ফাতিহা: ১-৩]

মানুষ স্বভাবতই দাতাকে ভালবাসে; চাই তা প্রাপ্তির আনন্দে হোক, কিংবা কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে হোক। তারপর সে ভালবাসার পরিমাণ নিরুপিত হয় প্রাপ্তির পরিমাণ বা ব্যাপকতার ভিত্তিতে। চিন্তার বিষয় যে, যে মহান স্রষ্টা কোন প্রকার আবেদন নিবেদন ছাড়াই আমাদেরকে কোনরূপ জীব জানোয়ার, গাছপালা, পোকা মাকড় না বানিয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ রূপে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, যিনি মহাকাশে ঘুর্ণয়মান বিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্রহ নক্ষত্রের মধ্য হতে পৃথিবীকে এমন এক অবস্থানে স্থাপন করেছেন যেখানে আমাদের বসবাস পরিপূর্ণ নিরাপদ ও আরামদায়ক, যিনি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অজস্র দয়া-মমতায় আমাদেরকে প্রতিপালন করে যাচ্ছেন; সর্বোপরি লিখে শেষ হবার নয় এত বিশাল পরিমাণ নেয়ামতরাজি দান করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত, সেই মহান সত্তার প্রতি যদি মানুষেরা তাদের কাছে সঞ্চিত সবটুকু ভালবাসা দিয়ে সারা জীবন ভালবেসে যায়, তারপরও উল্লেখিত নেয়ামতের কিঞ্চিত কৃতজ্ঞতাও আদায় করা হবে না। তথাপি আমাদের সাধ্যানুযায়ী পরিপূর্ণ ভালবাসার প্রকাশ ঘটানোর উল্লেখ রয়েছে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ আয়াতে। ইবাদাতসমূহে বান্দা যখন গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করে তার প্রভুর প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে, তখন তাতে পরিপূর্ণতা আসবে।

আশা স্বপ্ন দেখায়, স্বপ্ন কর্মে নামায় এবং কর্ম মানুষকে সাফল্য এনে দিতে পারে। ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়েও মানুষ আশা করে, আকাংখার বীজ বোনে অন্তরে এবং পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত তাতে জীবনের নির্যাস ঢেলে ঢেলে বাস্তবে পেতে চায় প্রাপ্তিকে, চাওয়াকে। কিন্তু কার কাছে চাইছি, কি চাইছি, কেন চাইছি; অনেকেই এসব ছোট ছোট প্রশ্নগুলো ভেবে দেখছি আবার অনেকেই উপেক্ষা করছি। তাই অনেক সময় পাওয়াও নাপাওয়ায় রূপান্তরিত হয় কিংবা প্রাপ্তিকে অপ্রাপ্তি ভেবে কষ্ট সহ্য করে যেতে হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে সীমালংঘন করে বসি। পৃথিবীতে মূলতঃ কেউই কাউকে কিছু দিতে পারে না; পারে শুধু ইচ্ছা করতে ও চেষ্টা করতে। কেননা, প্রাপ্তির বিষয়টি বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ্ তাঁর নিজ হাতে রেখেছেন। যদি তাই না হতো, তবে মানুষ চেষ্টা করেই প্রত্যেক বিষয়ে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হতো, প্রাণান্ত সাধনার পরও এবং কোন ত্রুটি না করার পরও ব্যর্থ হতো না কখনো। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, এখানে অনেক সময় না চাইতেই পাওয়া যায়, আবার কখনো চেয়েও পাওয়া যায় না। কখনো একটু চেষ্টাতেই সফল, আবার কখনো সারা জীবনের সাধনাও ব্যর্থ হয়ে পড়ে। তাই চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলোর চূড়ান্ত পর্যায়ে একথা অকাট্য যে, চেষ্টার সাথে সাথে আশাও করতে হবে।

আশা-আকাংখার পাত্র নির্বাচনে ভ্রান্তি মানুষকে পৃথিবীর জীবনে চরম লাঞ্ছনা এনে দিতে পারে, এমনকি পৃথিবী-পরবর্তী জীবনে এনে দিতে পারে চূড়ান্ত ব্যর্থতা। তাই যে অন্যের মুখাপেক্ষী তার কাছে চাওয়ার মত বোকামী জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান মানুষেরা কখনো করে না। বরং এক্ষেত্রে নির্বাচন করতে হবে এমন এক সত্তা যিনি সবকিছু থেকেই অমুখাপেক্ষী। বিশ্ববিবেক নানা পন্থায় হলেও সেই একজন হিসেবে চিনে থাকেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তা‘আলাকে। এ প্রসঙ্গে কুরআন বলছে- اللَّهُ الصَّمَدُ “আল্লাহ্ অমুখাপেক্ষী।” [সূরা ইখলাছ: ২] সুতরাং আশা’র সর্বোচ্চটুকু তো অবশ্যই; বরং সবটুকুই নির্ধারণ করা সৃষ্টি হিসেবে মানুষের জন্য তার স্রষ্টার একান্ত পাওনা।

আশা তার কাছেই করা যায় যে তা পূরণের যোগ্যতা রাখে এবং যারা আশা করে তাদের প্রতি যে সে পরিমাণ দয়া পোষণ করে। সূরা আল-ফাতিহার আয়াত الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ এ “দয়াময়, পরম দয়ালু” বলে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সৃষ্টিকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তোমরা যে অমুখাপেক্ষী, দয়াময় ও পরম দয়ালু কাউকে খুঁজছো তোমাদের আশা-আকাংখাগুলো পেশ করার জন্য, তিনি একমাত্র তোমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ্। একমাত্র তাঁর উপরই তোমরা সর্বোচ্চ আশা-ভরসা করতে পারো। সর্বোপরি, এরূপ জাগ্রত অনুভবের আশা-আকাংখাই পারে ইবাদাতে পূর্ণতা সাধন করতে।

মানুষ স্বভাবতঃই তার গুণাবলীতে ভয় পোষণ করে থাকে। বিবিধ রূপ ভয়ে জর্জরিত থাকে মানব জীবন। সকল ভয়েরই চূড়ান্ত পরিণতি হয় মৃত্যু। হাঁ, যদি মৃত্যুর মাধ্যমে মানব সত্তার পরিসমাপ্তি ঘটতো, তবে কোন কথা ছিল না। কিন্তু সর্বযুগেই স্রষ্টা মহান আল্লাহ্ মানুষকে নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পৃথিবী অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী একটি জায়গা মাত্র। একটি কর্মক্ষেত্র, একটি শস্য ক্ষেত। এখানকার শ্রম-ঘামের প্রতিদান এখানে তেমন পাওনা থাকে না; বরং তা অপেক্ষিত থাকে আখেরাতের জন্য, যা অনন্ত, চিরস্থায়ী। তাই মানব জীবনে পার্থিব ভয় কোন ভয়ই নয়, কেননা এর চূড়ান্ত পরিণাম মৃত্যু যার স্বাদ প্রতিটি প্রাণীকেই আস্বাদন করতে হবে। বরং মানবাত্মার জন্য সবচেয়ে বড় ভয় হচ্ছে তার স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ্ তা’আলার তার প্রতি অসন্তুষ্টি। কেননা, তিনি যুগে যুগে সবার কাছে নবী পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর অসন্তুষ্টির পরিণাম জাহান্নাম, যেখানে রয়েছে অকল্পনীয় দুর্ভোগ এবং যা (সরিষা পরিমাণ ঈমান যাদের থাকবে তারা ছাড়া বেঈমানদের জন্য) হবে চিরস্থায়ী! সূরা আল-ফাতিহায় مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ বা “বিচার দিনের অধিপতি” বলে স্রষ্টাকে ভয় করার সংবাদের যে প্রকাশ ঘটিয়েছে আল-কুরআন, তা কোন বান্দার নির্ভেজাল ইবাদাতের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখতে পারে। মানুষের মধ্যে আল্লাহ্-ভীতি সৃষ্টি করতে পারে আখেরাতের চিন্তা। সূরা আল-ফাতিহায় আল্লাহকে বিচার দিনের মালিক ঘোষণার মাধ্যমে মূলতঃ মানবজাতির অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করা হয়েছে; যা তার ইবাদাত পালনের জন্য মহা উপকারী। কেননা এ তিনটি আয়াতে ইবাদাতের তিনটি স্তম্ভ ঘোষণা করার পরপরই আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন এই বলে: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ “আমরা শুধুমাত্র আপনারই ইবাদাত করি এবং শুধুমাত্র আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।” [সূরা আল-ফাতিহা: ৪]

মানবজীবন বেষ্টিত হয়ে আছে মূলতঃ এ তিনটি চারিত্রিক গুণ দ্বারা- ভালবাসা, আকাংখা ও ভয়। কিন্তু এসবকে যথার্থ স্থানে পেশ করতে হবে, কেননা এসব ক্ষেত্রে যথার্থতা বিচার করতে ব্যর্থ হলে জীবনটাই ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যে মানুষ যত দ্রুত এবং যত দীর্ঘ সময় তথা মৃত্যু পর্যন্ত এ তিনটি সম্পদকে এসবের যথাযোগ্য হকদার মানুষের স্রষ্টা আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করতে পারবে এবং তাতে পরিপূর্ণতা আনতে পারবে, সে মানুষ তত বেশী সফল বলে বিবেচিত হবে তাদের প্রভু আল্লাহর দরবারে। কুরআন ও সুন্নাহ্ আমাদেরকে সে দিকনির্দেশনাই দিয়ে আসছে চৌদ্দশতকেরও বেশী সময় ধরে।
১০ মে ২০০৯, ঢাকা, বাংলাদেশ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28949061 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28949061 2009-05-10 22:56:17
@ পরিচয়ে প্রাধান্য কোথায়: মুসলমানিত্বে নাকি বাঙালিত্বে? পরিচয়ের দিক এবং বিভাগও অনেক বিস্তর, সেসব বিস্তারনে না গিয়ে জাতীয়তা প্রশ্নে বিভাজিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিছু আলোকপাত করবো এ লেখায়। পৃথিবীর ভৌগলিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ভূপৃষ্ঠে অবস্থানরত মানুষের স্থানীয় পরিচয়ও পাল্টায়। এটি নিতান্তই পৃথিবীর নিয়ম। একটা সময় ছিল যখন বর্তমান বাংলাদেশের অধিবাসীদের এখনো বেঁচে থাকা কেউ কেউ এবং আমাদের পূর্বসূরীরা নিজেদেরকে ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিত, তারপর আমরা হলাম পাকিস্তানী এবং বর্তমানে বাংলাদেশী। হয়তবা ভবিষ্যতে আরো অনেক পরিবর্তন আসবে তখন পরিচয়েও আসবে নানা বৈচিত্র।

ঠিক তদ্রূপ দ্রুততার সাথে না হলেও মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও আসে নানা পরিবর্তন। কেউ এক ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়, কেউ ধর্মকেই নির্বাসনে পাঠিয়ে স্বীয় ইচ্ছাশক্তিকে প্রভু ভেবে তার পূজারী হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ ধর্মেকর্মে নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে আরোহণ করেন, কেউবা উচ্চ থেকে নিম্নস্তরের অতলে নেমে যায় ইত্যাদি।

আলোচ্য বিষয় হলো- ধর্মের পরিচয় আগে না কি ভৌগলিক পরিবর্তনে সৃষ্ট জাতীয়তার পরিচয় আগে? কিংবা অন্য কথায়, আমাদের জীবনে ধর্মীয় পরিচয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ না কি জাতীয়তার পরিচয় বেশী গুরুত্বপূর্ণ? বিষয়টিকে সাধারণ পর্যায়ে ফেললে বোধ হয় পর্যালোচনার ঘুড়ির নাটাই ধরে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। তাই এটিকে শুধু ইসলামের সাথে সম্পর্কিত রেখে এর পাশাপাশি বুঝার সুবিধার জন্য বাংলাদেশী জাতীয়তাকে সম্পৃক্ত করে আলোচনা করা যাক, অর্থাৎ এতদ অঞ্চলের একজন মুসলমান নিজের জন্য কোনটিকে তার মূল পরিচয় হিসেবে অগ্রাধিকার দেবেন- আগে কি? মুসলমি না বাঙ্গালী?

একথার উত্তর অনেক বিস্তারিতভাবে দেয়া যেতে পারে, তবে এখানে আমি কেবলমাত্র কয়েকটি প্রশ্ন রাখবো পাঠকের বিবেকের কাছে-

১) পৃথিবীতে আসার পূর্বে আপনি কি ছিলেন? বাঙ্গালী নাকি স্রষ্টার অনুগত রূহ (বা মুসলিম)?

পৃথিবীতে আসার পূর্বে যখন আমাদের কোন আকৃতি বা দেহ ছিল না, তখন আমরা ছিলাম আমাদের স্রষ্টা কর্তৃক সৃষ্ট রূহ বা আত্মার সমষ্টি। সৃষ্টির পর একবার তিনি সকল রূহকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ অর্থাৎ, "আমি কি তোমাদের রব নই?" জবাবে আমরা সকলেই এ স্বীকৃতি দিয়ে এসেছি আমাদের সর্বশক্তিমান প্রতিপালকের সম্মুখে যে, بَلَى "নিশ্চয়ই (আপনি আমাদের রব)।" [সূরা আল আ'রাফ-এর ১৭২নং আয়াত দেখুন Click This Link

তখন আমরা কেউই পৃথিবীর এ ভৌগলিক কোন সীমারেখার অধীনে ছিলাম না। বরং আল কুরআনের এ তথ্যের দ্বারা অকাট্য হলো যে, মানব জীবনের পূর্ব সূত্রিতার সাথে বন্ধন রয়েছে ধর্মের তথা ইসলামের পরিচয়ের; কোন অবস্থাতেই যুগের পরির্তনের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল ভৌগলিক পরিচয়ের নয়। তাহলে কিভাবে একজন মুসলমানের জন্য মুসলিম পরিচয়ের পূর্বে/চেয়ে বাঙ্গালী পরিচয় প্রাধান্য পেতে পারে?

২) পৃথিবী থেকে চলে যাবার দিন বা তার পরবর্তী সময়ে আপনার কোন পরিচয়টি কাজে লাগে বা লাগবে? বাঙ্গালী নাকি মুসলিম?

আপনার লাশটি যখন কবরে শোয়ানো হবে,তখন কি বলে শোয়াবে সবাই? তখন বলবে-
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থাৎ, "(আমরা এই লাশ) আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের উপর রাখছি।" [সুনানে আবূ দাউদ: 2798, মাকতাবাহ্ আসশামেলাহ্ ৩.১]

আর এ কথা সর্বজন বিদিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ হলো শুধুমাত্র ইসলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামও আরব হিসেবে তাঁর জাতির কথা বলে যেতে পারতেন, কিন্তু তিনি তো কোন সাধারণ মানুষ বা নেতা-দার্শনিক ছিলেন না; বরং তিনি স্বয়ং বিশ্বস্রষ্টার মনোনীত বিশ্বনবী ও রাসূল ছিলেন। পরন্তু তিনি নিজের থেকে বানিয়ে বানিয়ে কোন কিছুই বলতেন না; বরং যা বলতেন তা ওহী থেকেই বলতেন:
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
"এবং (তিনি) প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না; (বরং) কোরআন ওহী, যা (তাঁর প্রতি) প্রত্যাদেশ হয়।" [সূরা আন-নাজম: ৩-৪ ]

তাই, যদি কেউ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ইসলামকে সারা জীবন পেছনে রেখে অগ্রাধিকার দিয়ে যায় কোন আঞ্চলিক ভৌগলিক পরিচয়কে কিংবা কোন নেতা যেমন- শেখ মুজিব, কামাল পাশা, গান্ধি বা লেলিন, মার্কসকে ও তাদের আদর্শকে, তবে মৃত্যুর পর কবরে শোয়ানোর সময় কি করে তাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের উপর রাখা যাবে? পরন্তু পরিচয়ের এ অগ্রাধিকারের ভিত্তি রচিত হয় চিন্তায় ও অন্তরে। মানুষের যাবতীয় কাজকর্মের সংকল্প তথা কাজের শুরুটাই হয় চিন্তা ও অন্তর থেকে, আর সেসব সংকল্পের বাস্তবায়ন ঘটায় মানব শরীর। অর্থাৎ, এ অগ্রাধিকার বক্তির জীবনের কাজকর্মকেও প্রভাবিত করে থাকে। তাই সে মুসলিম হিসেবে যা করার কথা সেটাকে পরে স্থান দিয়ে আগে নিয়ে আসে বা তার চিন্তা-বিশ্বাস অনুযায়ী তার কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় তার বাঙালী পরিচয় নির্ভর কার্যক্রম। অতঃপর যদিও স্বজন-প্রতিবেশীরা শোকাতুর হয়ে তাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের উপর রেখেও যায়, তবে আল্লাহ্ কিভাবে তাকে গ্রহণ করবেন তাঁর রাসূলের আদর্শে? মানুষের সুস্থ বিবেক এটাকে কখনোই স্বীকৃতি দেবে না। এবং যারা সে ব্যক্তিকে তার সারা জীবনের অগ্রাধিকার দেয়া আদর্শ থেকে মৃত্যুর পর তাকে বিচ্যুত করে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে রেখে যাচ্ছেন, তারাও কিরূপ আচরণ করলেন?

অতএব, চিন্তায় ব্যাপকতা নিয়ে দেখুন জীবনটাকে, অবশ্যই সঠিক উত্তরের সন্ধান পেয়ে যাবেন। ইনশাআল্লাহ্।

৩) মুসলিম পরিচয়ের আগে বাঙ্গালী পরিচয় দানের মত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে কি আপনি/আপনারা মাঝখানের এই প্রাপ্ত জীবনের সময়টুকুকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন না?

অর্থাৎ, প্রথম প্রশ্ন গেল জীবনপূর্ব সময়কে নিয়ে আর দ্বিতীয় প্রশ্ন জীবন পরবর্তী সময়কে ঘিরে এবং এই তৃতীয় প্রশ্নটি এ দু'য়ের মধ্যবর্তী পার্থিব জীবন বিষয়ক। যদি কেউ মুসলিম পরিচয়ের পূর্বে তার আঞ্চলিক ভৌগলিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে, তবে পূর্বের দু'টি প্রশ্নোত্তরের আলোকে যে কেউ তাকে এ দোষে দুষ্ট বলতে পারবে যে, নিঃসন্দেহে সে আখেরাতের অনন্ত জীবনের তুলনায় দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছে। কেননা, পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে যে, মুসলিম পরিচয় শুধুমাত্র একটি পরিচয় নয়; বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে ব্যক্তির পৃথিবীপূর্ব রূহের জগৎ এবং পৃথিবী পরবর্তী অনন্ত জীবনের শান্তি কিংবা শাস্তি। এটি এজন্য অনিবার্য হয়েছে যে, যাঁর সম্মুখে দাঁড়ানোর জন্য আমরা ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে যাচ্ছি জীবনকে পাড়ি দিয়ে স্বয়ং সেই আল্লাহ্ তা'আলা মানব জাতির পার্থিব এই জীবন সম্পর্কে ঘোষণা দিচ্ছেন:
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَلَلدَّارُ الْآَخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
অর্থাৎ, "পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। আখেরাতের আবাস মুত্তাকীদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি বুঝ না?" [সূরা আল-আন'আম: ৩২]

জি, এই বুঝটুকুই আমাদের জন্য অনেক বড় প্রয়োজন একজন মানুষ হিসেবে, একজন মুসলমান হিসেবে, একজন বাংলাদেশী হিসেবে। তবেই কেবল পৃথিবীতেই নয়; বরং অনন্ত জীবনেও আমরা হতে পারবো সফল, সার্থক হবে আমাদের এই পরিচয়, এই জীবন। কেননা, এই পার্থিব জীবন ও এই পার্থিবতার পরিচয় নিছক একটা খেলা, একটা তামাশার ব্যাপার মাত্র; যা আমরাও বুঝতে পারি। তবে এমন এক সময়ে তা বুঝতে পারি যখন আর পিছু ফেরা যায় না, যখন সংশোধনের আর কোনই সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না।

অতএব, সময় ও সুযোগ থাকতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমি কে? কি আমার পরিচয়? কোন পরিচয়কে আমি আগে নিজের জন্য গ্রহণ করবো এবং সে অনুপাতে জীবনকে ঢেলে সাজাবো- পার্থিব পরিবর্তনশীল পরিচয় বাঙালী? না কি পূর্বাপর অনন্ত জীবন কেন্দ্রিক পরিচয় মুসলিম?

১৭ ডিসেম্বর ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

______________________এটি একটি মন্তব্য, পোষ্টের সাথে যুক্ত করলাম
_____________অনেকেই এক বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করছেন কিংবা হালকাভাবে নিচ্ছেন। আমি মোটেই তা মনে করি না।

কেননা, দেশে দেশে বেশ কিছু উর্বর মস্তিষ্কের লেখক রয়েছে, যারা তাদের লেখালেখির মাধ্যমে মানুষকে আখেরাতমুখীতা থেকে সরিয়ে নিয়ে দুনিয়া বিলাসীতে পরিণত করার অতি সূ্ক্ষ্ম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে তাদের বড় হাতিয়ার হলো দেশ ও জাতীয়তাকে ব্যবহার করা।

সত্যি বলতে কি, আমি যখন দেশের গানগুলো রেডিওতে শুনতাম, আমার দু'চোখেও অশ্রু নামতো, এখনো দেশ প্রসঙ্গে মনটা ভিজে উঠে। দেশের প্রতি এহেন ভালবাসা ভাল, কিন্তু এক্ষেত্রে সতর্কতার খুবই প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, এ পথ ধরেই একসময় শয়তান দেশকেও মানুষের জন্য একটা ইলাহ্ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়। তখন দেশকে ভালবাসার পরিবর্তে মানুষ আল্লাহকে ইলাহ্ হিসেবে যা দেবার তা তাঁকে না দিয়ে দেশকে দিতে থাকে; আর এভাবেই দেশকে নিজেদের প্রভু বানিয়ে নেয়। কিন্তু পৃথিবীর কোন ভালবাসাই আমার স্রষ্টার ভালবাসার উপরে যেতে পারে না। আর স্রষ্টার ভালবাসার অংশ হলো স্রষ্টাপ্রদত্ত দ্বীন ইসলামকে ভালবাসা, তাঁর প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসা।

তাই প্রয়োজনের সময় ভালবাসার সবটুকু বরাদ্দ করতে হবে সর্বাধিক প্রিয় স্রষ্টার জন্য! তারপর পর্যায়ক্রমে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, দেশ-দেশবাসী ইত্যাদি।

লক্ষ্য করতে হবে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেশকে ভালবাসার কথা বলেছিলেন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময়, কিন্তু দ্বীনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে প্রিয় জন্মভূমিকে ত্যাগ করেছিলেন। এটাই আমাদের জন্য রাসূলের জীবন থেকে এ ব্যাপারে বড় শিক্ষা যে, তিনি দেশকে অগ্রাধিকার দেননি; বরং ধর্মের জন্য দেশকে ত্যাগ পর্যন্ত করেছেন। এবং বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি আরব-আযমের ব্যবধানকে ধুলিষ্মাৎ করে দিয়ে আমাদের জন্য শিক্ষা রেখে গেছেন যে, ভৌগলিক জাতীয়তার পরিচয় মূখ্য নয়; বরং মূখ্য হলো দ্বীন-ধর্মের পরিচয়।

আর তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর ব্যাপারে আমাদের স্রষ্টা আমাদের জানিয়েছেন যে, "তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে।" [আল কুরআন] অতএব, এতেই কল্যাণ, এতেই সাফল্য, যদি আমরা বুঝতে পারতাম...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28894149 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28894149 2009-01-07 12:23:29
@ কবর-এর ৩টি প্রশ্নের আলোকে জাতীয় নির্বাচনে আমাদের করণীয়
কত স্বপ্ন, কত সাধনা, কত কাজ, কত গতিময় জীবন; না, তখন ভুল হয়ে যায় সকল সরল চিন্তা। জগতে কত অসাধ্যই না সাধনের পরিকল্পনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হয় শ্রমে-কর্মে। এই প্রাবল্য সেদিন মিথ্যে মনে হতে থাকে ওপারের যাত্রীর নিকট। কিন্তু এপারে যাদের অবস্থান, তারা কোনভাবেই উপলব্দি করতে পারে না কি ভয়ংকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনন্তযাত্রীদের।

না, সকলেই যে ব্যর্থ কিংবা বিপদগ্রস্ত তা নয়। পৃথিবীর এ স্বল্পসময়কে সাজিয়ে রাঙিয়ে নিতে পেরেছেন যারা সত্যের রঙে, তারা সে যাত্রায় যত খুশী হন পৃথিবীর জীবনকালের আর কোথাও এত খুশী হতে পারেন না। অনন্তখুশীর এ ধারাবাহিকতার কোন শেষ নেই। এ খুশী লাভের যাবতীয় উপায় উপকরণ আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। প্রয়োজন শুধু গ্রহণের, জ্ঞান লাভের ও শ্রমে-কর্মে জীবনকে সফল হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রিয় আনন্দের মঞ্জিল জান্নাতে পৌঁছে যাওয়ার সাধনা করা। জগৎস্রষ্টা বলেন: فَادْخُلِي فِي عِبَادِي وَادْخُلِي جَنَّتِي "অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।" [সূরা আল-ফজর: ২৯-৩০]

অজানা অথচ সুনির্দিষ্ট সময়ের এই জগতের পথে যে যা কিছুই করি না কেন, যে পথ ও যে আদর্শই ধারণ করি না কেন, ওপার জীবনের প্রথম মঞ্জিল কবরে প্রত্যেক আদম সন্তানকে তিনটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই হবে। প্রশ্ন তিনটি যথাক্রমে- তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে?

জীবনের প্রতিটি কাজে কর্মেই মানুষের এ প্রশ্নগুলোকে স্মরণ রাখা ও সামনে নিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। কেননা, এ প্রশ্নগুলো এমন নয় যে, বার বার মুখস্থ করে নিয়ে গেলে কবরে জবাব দেয়া যাবে। আবার এমনও নয় যে, লিখে কিংবা রেকর্ড করে নিয়ে গিয়ে কাজে লাগানো যাবে। না; বরং কেউ সারা জীবন এগুলো মুখস্থ করতে থাকলেও সেদিন কবরে যখন ফিরিশতা প্রশ্ন করবেন, তখন শুধু মুখস্থ করার গুণে জবাব দেয়া সম্ভব হবে না। বরং জবাব দেয়া সম্ভব হবে যদি জীবনকে এ তিনটি প্রশ্নের আলোকে আলোকিত করা সম্ভব হয়। আর জীবনের তিনটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যথাক্রমে চিন্তা, কথা ও কর্ম। ব্যক্তি কি চিন্তাধারা, কি চেতনা, কি আদর্শিক ভাবনা পোষণ করেছে সারাটি জীবন; কি কথা বলেছে জনে জনে জনসভায়, বক্তৃতায়, লেখনিতে, কি কর্ম সাধনে প্রাণান্ত সাধনায়, কোন পাওয়ার জন্য, কোন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছে আমৃত্যু, এমনকি মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত, সেসবই হবে কবরে জবাব দিতে পারা না পারার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা ভিত্তি।

প্রথম প্রশ্নটি জগৎস্রষ্টা আল্লাহর পরিচয় বিষয়ক, যার অধিকাংশই জ্ঞানগত। অন্যদিকে তৃতীয় প্রশ্নটিও প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কিত; যাঁর উপর সুদৃঢ় বিশ্বাসী হতে না পারলে দ্বীন-ধর্মের বাকী যাবতীয় সবকিছুই ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য থাকে। এতদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অন্যান্য লেখায় হয়েছে এবং আরো হবে ইনশাআল্লাহ্। এ প্রবন্ধে আমরা আলোকপাত করতে চেষ্টা করবো আমাদের বর্তমান চলমান সময়ে দ্বিতীয় প্রশ্নটি কিভাবে সংশ্লিষ্ট ও কবরে এর সঠিক উত্তর দেয়ার জন্য এখনই পৃথিবীতে সে প্রশ্নের আলোকে আমাদের করণীয় সম্পর্কে।

জীবনের নানা কাজে, নানা মৌসুমে; এমনকি প্রতিটি মুহূর্তেই এ প্রশ্নগুলোর আলোকে সাজাতে হবে আমাদের সফল জীবনকে। অন্যথা জীবন জুড়ে ব্যর্থতা নেমে আসতে বাধ্য। স্রষ্টার বেঁধে দেয়া সবটুকু সময়ই সমান গুরুত্ববহ হলেও জগতের নানা উত্থান-পতনে সময়গুলো আমাদের জীবনে নানা মৌসুমের আগমন ঘটায়। বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে আমাদের জাতীয় জীবনেও একটা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এখন। আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ২৯ ডিসেম্বর। এর মাধ্যমে এদেশবাসীর প্রত্যেকে নিজ নিজ মতামত ভোটের মাধ্যমে প্রদান করে নির্ধারন করবে যে, আগামী দিনে তারা ব্যক্তি-সমাজ ও দেশের জন্য কোন পদ্ধতি, কোন আদর্শ, কোন ব্যবস্থাকে চায়। যে ব্যবস্থা-আদর্শ-জীবন যাপন পদ্ধতির পক্ষে অধিকাংশ মানুষ ভোট দেবে সে জীবন পদ্ধতিই হবে আগামীর বাংলাদেশের পরিচালনা ব্যবস্থা। পৃথিবীর এ স্বল্পকালীন জীবন শেষে কবরে আমাদেরকে যে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে বিশ্বাস-কথা-কর্মের ভিত্তিতে, সেগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রশ্নটি আমাদের এই নির্বাচনী মৌসুমের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখে।

কি চাই আমরা? কিভাবে দেখতে চাই আগামীর বাংলাদেশকে? কোন আদর্শের রঙে রঙিন দেখতে চাই আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে? ইত্যাদি এসব প্রশ্নগুলোর সাথে আরো একটি প্রশ্নকে মিলিয়ে তারপর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আজকের বাংলাদেশের প্রতিজন মানুষকে। তবেই হবে সত্যিকারের মতামত প্রদান। সেই অন্য অথচ মহাজীবনের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভরশীল প্রশ্নটি হলো- তোমার দ্বীন কী?

দ্বীন শব্দটির অনেকগুলো অর্থ রয়েছে। ড. আবূ বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া বলেন: "যদি তোমাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার দ্বীন কি? উত্তরে বল : আমার দ্বীন হলো ইসলাম, যার মানে - আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নিয়ে সম্পূর্নভাবে তাঁর কাছে আত্নসমর্পণ করা, তাঁর নির্দেশ অনুসরণের মাধ্যমে স্বীকার করা, এবং আল্লাহর ইবাদতে অন্য কিছুর অংশীদারীত্ব করা থেকে মুক্ত থাকা এবং যারা তা করে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।" সূত্র: প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য যা জানা একান্ত কর্তব্য Click This Link

উপরোল্লেখিত জবাবে জীবনের যাবতীয় অংশটুকুই শামিল হয়ে যায়। সহজ ভাবে এরূপ যে, যেহেতু ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা এবং ইসলামই হলো একমাত্র সত্য দ্বীন, সেহেতু পরিপূর্ণ জীবনটাই এখানে শামিল হয়ে যায়। এছাড়াও যারা ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে বিগত দিনগুলোতে হেন তৎপরতা নেই যা দেখায়নি; এমনকি পূর্ব থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে জঙ্গীবাদ দমনের দোহাই দিয়ে সত্যিকারের ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের উত্থানকে প্রতিরোধ করবে, তাদেরকে কোনরূপ সন্দেহ সংশয় ছাড়াই আপনার-আমার জন্য অনন্ত পথের প্রথম মঞ্জিলে অপেক্ষমান তিনটি প্রশ্নের জীবন ব্যাপী উত্তর প্রস্তুতের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে গ্রহণ করে নিতে পারেন। এবং আসন্ন নির্বাচনে ইসলামের বিপক্ষ শক্তিকে প্রতিরোধের মাধ্যমে আপনি সাধনা করতে পারেন আপনার জন্য অপেক্ষমান দ্বিতীয় প্রশ্ন "তোমার দ্বীন কি?"-এর উত্তর বাস্তবায়নে।

পবিত্র কুরআনে ‘দ্বীন’ (دين) শব্দটির তিন প্রকারের অর্থ এসেছে। প্রথমঃ শক্তি, কর্তৃত্ব, হুকুমাত, রাজত্ব-আধিপত্য এবং শাসন ক্ষমতা। দ্বিতীয়ঃ এর সম্পূর্ণ বিপরীত যথা-নীচতা, আনুগত্য, গোলামী, অধীনতা এবং দাসত্ব। তৃতীয়, হিসেব করা ফায়সালা করা ও যাবতীয় কাজের প্রতিফল দেয়া।" সূত্র: Click This Link

সুতরাং "দ্বীন" এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ যা আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র-বৃহৎ অংশ ও ব্যাপারকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে। তাই দুনিয়ার জীবন ও আখেরাতের অনন্ত জীবনের কথা বিবেচনা করে এ মৌসুমে আপনাকে-আমাকে চিন্তা করতে হবে, ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কোথায় আপনার মূল্যবান রায়টি প্রধান করলে আপনার দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণকর হবে, পাশাপাশি আখেরাতের জীবনের প্রথম মঞ্জিল কবরেও সেই দ্বিতীয় প্রশ্ন-"তোমার দ্বীন কি?" –এর উত্তর দেয়াও সহজতর হবে।

উল্লেখ্য যে, এবারের নির্বাচনে দু'টো ভাগ হয়ে গেছে সবগুলো আদর্শ ও সেসবের ধারকেরা। তন্মধ্যে একদিকে রয়েছে ইসলামী ও ইসলামকে ভালবাসে এমন ধারার মানুষেরা এবং অন্যদিকে রয়েছে কুফরী মতবাদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক-মুরতাদ ধরনের মানুষেরা। এখন দুনিয়া ও আখেরাতের বিবেচনায় আপনাকে-আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমরা আমাদের উভয় জগতের সাফল্য বিবেচনায় কাদের পক্ষ নেব। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এ মতামত প্রদান বা ভোট প্রদান কোন অবস্থাতেই ছোট কোন বিষয় নয়; কিংবা "ভোট পঁচে যাবে" এমন ভ্রান্ত ধারনা করা কখনোই উচিত নয়। বরং জানতে হবে ও বুঝতে হবে যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ইসলামের পক্ষাবলম্বন করার কারণেই পৃথিবীতে মানুষের "বড় প্রভু" দাবী করা ফিরআওনের স্ত্রী আছিয়া জান্নাতী হবেন। অন্যদিকে নবী লূত 'আলাইহিস্ সালামের স্ত্রী একজন নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও জাহান্নামী হবে শুধুমাত্র বাতিল, মিথ্যা ও অশ্লীলতার পক্ষে মতামত প্রদানের জন্য। তাই এ সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করুন জীবন-মরণ সমস্যার সিদ্ধান্ত হিসেবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিন যে, কোন পক্ষাবলম্বন করবেন আপনি- ইসলাম ও ইসলামের স্বপক্ষ জোটের না কি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক-মুরতাদ সমষ্টীয় জোটের? অতএব, চিন্তা করুন, ভাবুন এবং বর্জন করুন ইসলাম বিধ্বংসী মতবাদ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক-মুরতাদ গোষ্ঠীকে। আল্লাহ্ আপনাকে আমাকে ও এদেশে ইসলাম সুরক্ষার সাধনায় লিপ্ত মুজাহিদদের সাহায্য করুন। আল্লাহ্ হেফাযত করুন আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে।

২১ ডিসেম্বর ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28885808 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28885808 2008-12-21 18:33:02
@স্বৈরাচারী ও স্থিতিতে পিচ্ছিল এরশাদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবারো সহ্য হবে?
গণতন্ত্রের মুক্তি দিবসে নূর হোসেনের মা জড়িয়ে ধরে শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন তার সন্তান হত্যাকারী স্বৈরাচারী এরশাদকে জোটে না নেন, কিন্তু নেত্রী সন্তান হারা মায়ের সে অনুরোধ রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মহাজোটের কাঁধে ভর করে লম্প দিয়ে আবারো সিংহাসনে জম্প দেয়ার প্রসঙ্গে এরশাদের ভাষ্য-
"সেদিনের লিখিত চুক্তিতে ক্ষমতায় যেতে পারলে আমাকে রাষ্ট্রপতি পদ দেয়ার অঙ্গীকারও ছিল। আমি মনে করি এবারো মহঐক্যজোটের মাধ্যমে নির্বাচন হলে এবং সরকার গঠন করতে পারলে আমাকে অবশ্যই রাষ্ট্রপতি করা হবে। কারণ আমি রাষ্ট্রপতি ছিলাম। এখন ক্ষমতায় গেলে আমি তো মন্ত্রী, এমপি হতে পারি না। আমাকে রাষ্ট্রপতিই হতে হবে।"
সূত্র: খবর ডট কম Click This Link

এরশাদ আরো জানান- তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলেও ভালো, না করা হলেও ভালো। তবে ২০০৬ সালের মহাজোট গঠনের সময়, ক্ষমতায় গেলে তাকেই রাষ্ট্রপতি বানানো হতো সেরকম একটি চুক্তি হয়েছিল বলে তিনি আবারো দাবি করেন। এরশাদ বলেন, "এবার চুক্তি না হলেও তাকেই যে রাষ্ট্রপতি করা হচ্ছে এ ব্যাপারে তিনি দারুণ আশাবাদী।"
সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত Click This Link

পরন্তু এরশাদের অস্থিতিশীল অবস্থান ও বক্তব্য দারুন হাস্যকর হিসেবে দেশবাসীর নিকট প্রমাণিত হয়ে আসছে বিগত কয়েকমাস থেকে। দেশের মানুষ এখন একথা ভেবে আশ্চর্য হচ্ছে যে, এরূপ অস্থিরচিত্ত একজন মানুষ কি করে দীর্ঘ নয় বছর তাদের উপর শাসন(স্বৈরশাসন) পরিচালনা করে এসেছিল। বিগত কয়েক মাসে বেশ ক'বার শোনা গিয়েছিল যে, এরশাদ মহাজোটে নেই, আবার শোনা যায় আছেন, আবার নেই, আবার আছেন। যার সর্বশেষ সংস্করণ দেশবাসী দেখেছে গতকাল। মাত্র পনর ঘন্টার ব্যবধানে চূড়ান্ত ঘোষনা দেয়ার পরও দারুন পিচ্ছিল চরিত্র বিশিষ্ট এরশাদ ও তার দল জাতীয় পার্টি যে উলঙ্গ অস্থিরতা দেখালেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার নজির বিরল।

সংবাদ মাধ্যমগুলো দেশবাসীকে জানায় যে, দৃশ্যত ক্ষুব্ধ এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, "জাতীয় পার্টি আর মহাজোটে নেই। আওয়ামী লীগ এখন যদি আমাদের ৭০ বা ৮০টি আসনও সাধে তাও আমরা মহাজোটে ফিরে যাবো না।"
"মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে আমরা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। এর আগে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনায় আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আওয়ামী লীগও চায় না জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকুক।"
শুধু ব্যক্তি এরশাদই নয়; বরং দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যের অন্যতম একজন কাজী জাফর আহমেদ বলেন, "আমরা মহাজোটে থাকছি না। এব্যাপারে (প্রেসিডিয়াম বৈঠকে) সিদ্ধান্ত হয়েছে।"
প্রেস ব্রিফিং এ কাজী জাফর বলেন, "প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা আর মহাজোটে নেই। ৪১টি কেন ১০১ টি আসন দিলেও মহাজোট আর জোড়া লাগবে না। তাদের আর বিশ্বাস করা যায় না।"
সূত্র: বিডি নিউজ২৪ ডট কম Click This Link

অথচ দেখুন কত সামান্য সময়ের ব্যবধানে কি পরিমাণ চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়ার পর এরশাদ আবারো ফিরে যাচ্ছেন বর্জন করা জোটে। সংবাদে বলা হয়-
"বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এরশাদ বলেছেন, "মহাজোট এখনো ভাঙ্গে নাই। বিকাল ৫টা নাগাদ তারা প্রার্থী প্রত্যাহার করলে আমরা মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। "
সূত্র: বিডি নিউজ২৪ ডট কম Click This Link

এর দ্বারা কি দেশবাসীর জন্য আরো কিছু বুঝার আছে যে, তাদের ভবিষ্যত কর্ণধার হিসেবে এরশাদ কতটা অযোগ্য? কে জানে, আল্লাহ্ না করুন যদি এরশাদের মত ব্যক্তিরা আবারো ক্ষমতায় যেতে পারেন, তবে এরূপ অস্থির চিত্ততার কারণে কখন ভুল করে দেশটাকে বিক্রয় করে দিয়ে আসেন কোন বিদেশী সরকারের সুস্বাদু খাবারের টেবিলে কিংবা রাত্রিকালীন কোন লোভনীয় সুন্দরীর মোহে।

মহাজোট বার বার ত্যাগ করা ও বার বার ফিরে ফিরে আসা এরশাদ 'মহাজোট' সম্পর্কে বলেন- "মহাজোটের কথা আমিই আগে বলেছি। লন্ডনে আমাদের প্রতিনিধি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। উনি মহাজোটের কথা বলেছিলেন। আমি দেশে ফিরে মহাজোটের কথা বার বার বলেছি। এ মহাজোটের কথা বলার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতৃস্তরের ব্যক্তি আমাকে পরিহাস করেছেন, কটুক্তি করেছেন। এটা আপনারা সব জানেন। আমি এসব সহ্য করেছি।" এবং জোটের প্রধান দল একদার স্বৈরাচারী এরশাদের পতন আন্দোলনের শরীক আওয়ামী লীগকে দায়ী করে এরশাদ আরো বলেন- "ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আওয়ামী লীগের অফিসে গিয়ে ৯ ঘণ্টা বসে ছিলেন; কেউ তার সঙ্গে দেখা করেননি। আমাদের প্রতি অনেক অবহেলা করা হয়েছে, অসম্মান করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বার বার বলেছি আমরা মহাজোটে আছি।"
সূত্র: বিডি নিউজ২৪ ডট কম Click This Link

দেশ ও জাতির কল্যাণ নিয়ে সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট এরশাদের তেমন কোন মাথাব্যাথা লক্ষ্য করেনি দেশবাসী। বরং বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছে এরশাদের 'জীবনের আরেকবার প্রেসিডেন্ট হবার খায়েশ'-এর কথা। এত কিছুর পরও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকার কি নির্লজ্জ অভিলাষ! রাজনৈতিক দলগুলো ও সেসবের নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত স্বার্থ-ক্ষোভ-উচ্চাভিলাষের কাছে প্রতি বছর অসংখ্য নাগরিক বলি হচ্ছে যেখানে, হরতাল-অবরোধে দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে যে দেশে, সেদেশটিকে দীর্ঘ নয় বছর শাসন করা একজন প্রেসিডেন্টের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে যেন এই একটি মাত্র উদ্দেশ্য যে, তিনি হবেন পরবর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট! কি নির্মম রসিকতা এদেশের মানুষেরা সহ্য করে যাচ্ছে নিরবে, মুখবুঁজে। সংবাদ মাধ্যমে আমরা যার পর্যালোচনা পাই এভাবে-
এরশাদ সাহেব নিজেই বলেছেন, সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রেসিডেন্টের কোনও ক্ষমতা নেই। তবে এটা মানসম্মান ও মর্যাদার ব্যাপার। তাই তিনি শেষ বয়সে বঙ্গভবনে থাকতে চান। প্রেসিডেন্টের মহামান্য আসনটি অলংকৃত করতে তার বড় ইচ্ছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হবার জন্য তার মনের ভেতর আকুলিবিকুলি করলেও কিংবা শেখ হাসিনার সঙ্গে লিখিত চুক্তি থাকলেও এরশাদ সাহেবের প্রেসিডেন্ট হবার জো নেই। দেশের সংবিধান সেপথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। হ্যাঁ, তিনি যদি আবার দেশের প্রেসিডেন্টপদটি অলংকৃত করতে চান তাহলে বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন হবে দু’শতাধিক সংসদ সদস্যের ভোট।
উল্লেখ্য, দেশে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসন পরিবর্তন করে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের সময়েই এরশাদ সাহেবের ভবিষ্যত প্রেসিডেন্ট হবার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সেসময় সংবিধানের চতুর্থভাগে প্রেসিডেন্ট সম্পর্কিত পরিচ্ছদটিই বদলে ফেলা হয়। এরশাদের প্রেসিডেন্ট হবার পথে বাধাটি রয়েছে এখানেই। এর ৫০(২) অনুচ্ছেদে আছে, "No person shall hold office as President for more than two terms, whether or not the terms are consecutive." (সূত্র: Click This Link.
) অর্থাৎ ‘একাদিকক্রমে হউক বা না হউক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থকিবেন না।’ সংবিধানের এই বিধান উপেক্ষা করতে গেলে বিপত্তি সৃষ্টি হবে। এর নিস্পত্তি না হওয়া অবধি কোনও ‘চুক্তি’ কিংবা ‘সমঝোতা’র মাধ্যমে এরশাদকে প্রেসিডেন্টের পদে বসানো যাবে না।
সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম Click This Link

সবশেষে 'আমাদের সময়'-এ প্রকাশিত আকিদুল ইসলামের লেখা থেকে নিম্নোদ্ধৃত অংশটুকু যোগ করছি, এতে দেশপ্রমিক মানুষেরা অনেক অমিল-সমিল খুঁজে দেখতে পারবেন এ লেখায় আলোচিত একজন 'বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রসিডেন্ট হবার স্বপ্নদ্রষ্টা'র কার্যক্রমে। তবে বিশেষ শিক্ষা নিহিত রয়েছে 'দেশ-প্রেমের ফেরিওয়ালা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম' এর জন্যে।
"৭১-এর ২৫ মার্চ যখন পাকসেনারা বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়ে এপ্রিলে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক হিসেবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অসুস্থ পিতাকে দেখার জন্য সেপ্টেম্বরে রংপুরে আসেন। এবারো স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ না নিয়ে ফিরে যান পাকিস্তানে। ১৯৭২ সালে পাকিস্তানে আটকেপড়া বাঙালি অফিসার ও সৈন্যদের ‘দেশদ্রোহিতা’র অপরাধে বিচার শুরু হলে লে• কর্নেল এরশাদকে ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। ভাবতে পারেন? ভুট্টো বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়া ৯৮ হাজার পাক যুদ্ধবন্দির একজনকেও সেনাবাহিনীতে বহাল রাখেননি। অথচ যিনি পাকিস্তানে বসে বাঙালি সেনা অফিসারদের বিচার করছিলেন তিনি হয়ে গেলেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান! এর প্রায়শ্চিত্ত জাতিকে করতে হবে না?"
সূত্র: আমাদের সময় Click This Link

দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে, একথা বুঝতে হবে যে, ১৪ দলীয় মহাজোট বিজয়ী হলে এরশাদের মত ব্যক্তিদের আবারো প্রেসিডেন্ট হবার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পরন্তু যারা রাজাকার প্রার্থী দিয়ে, (সূত্র: Click This Link ) এরশাদের মত '৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক হিসেবে যোগদানকারী (এক প্রকারের রাজাকার)' ও নিজেদেরই সংগ্রামে নিপাত করা একদার স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতার মসনদে আরোহণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং অন্যদিকে তারাই আবার মীমাংসিত যুদ্ধাপরাধী ইস্যূকে সামনে রেখে ও 'রাজাকার' 'আলবদর' বলে চিৎকার করে করে মুখে ফেনা তুলে তাদের দ্বিমুখী চরিত্রকে গণমানুষের সামনে উলঙ্গ করে দিচ্ছে। সুতরাং দেশবাসীদের এদেরকে চিনতে হবে। মূলতঃ এসবের মাধ্যমে যারা বাংলাদেশের ৮৫ ভাগ মানুষের ঈমান-আকীদাকে মুছে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদেরকে প্রতিহত করাই এবারের নির্বাচনে উক্ত ৮৫ ভাগ মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। অন্যথা এর দায়ভার তাদেরকেই বহন করতে হবে। আল্লাহ্ হেফাযত করুন বাংলাদেশকে এসব ভয়ংকর নেতৃত্বের মহামারী থেকে।

-১১ ডিসেম্বর ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28881197 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28881197 2008-12-11 21:59:16
@ কুরবানী: ধর্মহীন ও ধর্মত্যাগী শয়তানের বুকফাটা রক্ত প্রবাহের মৌসুম(একটি পর্যালোচনা) কুরবানীর মহিমা আমাদের জীবনে অপার। নিখুঁতভাবে তাকালে আমরা দেখতে পাবো যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আমরা নিজের জন্য বা কারো না কারো জন্য কুরবানী দিয়ে যাচ্ছি। জীবনের বেশীর ভাগকেই হয়ত নিজের জন্য দিচ্ছি মনে করে কুরবান করছি। কিন্তু তাতে নিজের জন্য খুব কম অংশই থাকে, কেননা মৃত্যুর পরপরই যাবতীয় 'নিজের'গুলো অন্যের হয়ে যায়। তাই 'নিজের জন্য' যা কিছু সঞ্চয় করা হয়, সেসবেরও খুব সামান্যই নিজের হয়ে থাকে। এর বাইরে মাতা-পিতা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী সকলের জন্যই নানা অংশে ত্যাগ ও কুরবানী আমাদেরকে করতেই হয়। সমাজবদ্ধ যাপনে যা জীবনের মূলধারার সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে আছে। এতসব ত্যাগ ও কুরবানীর একটা বিনিময় তো মানুষ হিসেবে সবাই পৃথিবীতেই প্রাপ্ত হয়, কিন্তু মুসলমানগণ এসবের দু'টো প্রতিদান পাবে। একটি পৃথিবীতে যা পাওয়ার তা, অন্যটি পাবে মুসলমান তার প্রভু আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের নিয়্যতে যদি কোন ত্যাগ ও কুরবানী করে থাকে, তবে আখেরাতে সেসবের পরিপূর্ণ প্রতিদান। অবশ্য মুসলমান হয়েও যদি নিয়্যত বা সংকল্পে শুধুমাত্র দুনিয়ার পাওনাকে নির্দিষ্ট করে দেয়, তবে মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও আখেরাতে তার জন্য আর কিছু বাকী থাকবে না। সর্বোপরি এসব ত্যাগ ও কুরবানীর মূখ্য উদ্দেশ্য হয় নিজ থেকে নিয়ে দুনিয়ার কেউ না কেউ।
আবার দুনিয়াবী কারো জন্য ত্যাগ ও কুরবানীর বাইরেও এমন কিছু ত্যাগ ও কুরবানী আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে চেয়েছেন, যেসবের মূখ্য দিকটাই হয় আল্লাহ তা'আলা, অর্থাৎ শুধু মাত্র তাঁর জন্যই। যেমন, ইসলামের মৌলিক ইবাদাতগুলোসহ এজাতীয় অন্যান্য ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইবাদাত। নামায আদায় না করলে বাহ্যিকভাবে দুনিয়ার কারো তেমন কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু আদায় করলে ব্যক্তি নিজেসহ তার আশপাশের সমাজ তা দ্বারা উপকৃত হবে ইত্যাদি। তন্মধ্যে বর্তমানে আমরা পার করছি একটি মৌলিক ইবাদাত হজ্জ ও তার পাশাপাশি কুরবানীর মৌসুম।
পূর্বে ত্যাগ ও কুরবানী কাদের জন্য করা হয় সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এবার আসা যাক কি কি কুরবানী করে থাকি আমরা এসব ক্ষেত্রে। এর ফিরিস্তি দিতে গেলে শব্দ লিখেই শেষ করা যাবে না। মৌলিকভাবে তাকালে সময়, অর্থ, ভালবাসা ও প্রিয়জন এবং নিজের জীবন; এ কয়টি ভাগে ভাগ করে নিতে পারি।
সময়টা নানাভাবে ব্যয় হতে পারে, কারো সাথে আড্ডা দেয়া থেকে শুরু করে শেষ বিদায়ের জানাযায় অংশগ্রহণও হতে পারে।
অর্থ ব্যয়ের নমুনা পথের ধারের ভিক্ষুককে দশ পয়সা ছুঁড়ে মারা থেকে নিয়ে কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশে সিডর আক্রমণের পর যেমন এক সউদী নাগরিক হাজার কোটি টাকা দিয়েও নাম প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছেন অথবা হতে পারে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জিহাদে যেমন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাঁর সমস্ত সম্পদ এনে হাজির করেছেন প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে।
ভালবাসা ও প্রিয়জনের কুরবানীর উদাহরণ তো এমন হতে পারে যে, আদর্শের জন্য কিংবা কোন লক্ষ্যের জন্য ভালবাসার বস্তু কিংবা মানুষদের কাছ থেকে দূরে অবস্থান করা কিংবা ভালবাসার মানুষদেরকেই বর্জন করা অথবা কুরবানী করা। যেমন, যদি কেউ তার প্রিয় কোন বস্তু কিংবা মানুষের কাছে যেতে চায়, কাছে থাকতে চায়, অথচ এতে তার আদর্শ, তার লক্ষ্যচ্যুতির সম্ভাবনা থাকে, তবে মানুষ তা ত্যাগ করে। এমন অসংখ্য উদাহরণ থেকে নিয়ে শুরু করে পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের তাঁর প্রভু আল্লাহর জন্য নিজ সন্তান কুরবানী করার মত চূড়ান্ত পর্যায়ও হতে পারে।
সর্বোপরি মানুষ নিজেকেই উৎসর্গ করে দেয় তার আদর্শ কিংবা লক্ষ্যের তরে। এতে কারো লক্ষ্য যদি হয় বিপদগ্রস্ত প্রিয়জনকে উদ্ধার, কারো হয় স্বদেশের স্বাধীনতা, কারো হয় আদর্শের প্রতিষ্ঠা; তবে মানুষ সে জন্য নিজের জীবনকে বাজী রাখে এবং অবশেষে নিঃশেষ হয়ে যায় তার পছন্দের পথে।
আগেই বলেছি যে, আমরা এখন অতিক্রম করছি বাৎসরিক কুরবানীর মৌসুম, অর্থাৎ কুরবানীর ঈদ। এ কুরবানীর প্রারম্ভ ইতিহাস আমাদের সবারই কম-বেশী জানা রয়েছে। আল্লাহর আদেশে মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম তাঁর আপন সন্তান ইসমাঈল আলাইহিস্ সালামকে কুরবানীর জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। মূলতঃ ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের জন্য এ ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি এবং তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র দু'জনেই কুরবানী দিতে ও হতে ছিলেন সন্তুষ্টচিত্তে প্রস্তুত। তখন আল্লাহ্ তাঁর প্রতি তাঁদের এহেন আন্তরিক ও কার্যকর আনুগত্য ও আত্মসমর্পনের বাস্তবায়ন দেখে বালক ইসমাঈলের স্থলে জান্নাত হতে ফিরিশ্তার মাধ্যমে একটি দুম্বা শুইয়ে দেন; এভাবেই ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস্ সালাম আত্মত্যাগের এ কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এটা পরীক্ষা। কোন কোন অবিবেচক ধর্মবিদ্বেষীকে বলতে দেখা যায় যে, "আল্লাহ্ যদি জানতেনই তবে কেন তিনি ইব্রাহীমকে পরীক্ষা করতে গেলেন"? এদের জন্য সুস্থতা কামনা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। কেননা, প্রত্যেক পরীক্ষকই প্রশ্নের উত্তর জানেন এবং উত্তর জেনেই পরীক্ষা নিয়ে থাকেন; কিন্তু পাশ করবেন কি না তা জানেন না। এখন বুঝার বিষয় যে, সৃষ্টিজগতের প্রত্যেক পরীক্ষক আর পরীক্ষক হিসেবে স্বয়ং স্রষ্টা কি এক হলো? না, এক নয়। বরং স্রষ্টা এটাও জানেন যে, পরীক্ষার্থী পাশ করবে কি না। তাহলে স্রষ্টা এসব ঘটনা অনুষ্ঠিত করেন কেন? এর জবাব জ্ঞানী মাত্রের নিকটই নিতান্ত সহজ, কিন্তু মূর্খ সম্প্রদায়ের জন্য জীবনপণ সমস্যা(!)। মূলতঃ পরবর্তী মানুষদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্যই আল্লাহ্ নবী-রাসূলগণের জীবনকে অসংখ্য ঘটনাবহুল করেছেন, তাঁদের নিকট হতে অসংখ্য পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। কারণ, তাঁরাই তো মানব জাতির জন্য আদর্শ, তাই মানবজাতিকে তাঁদের অনুসরণ করাতে হলে তাঁদের জীবনকে সেভাবেই সাজাতে হবে। এসব প্রশ্নের অনেক বিজ্ঞজনোচিত জবাব থাকলেও সহজ ভাষায় বুঝতে পারাটাই আমাদের জন্য বেশী জরুরী। এছাড়া আমরা নিজেরাও জীবনে নানা পরীক্ষায় জর্জরিত হয়ে থাকি, সেসবের মধ্যেও এসব প্রশ্নের জবাব নিহিত রয়েছে।
প্রতি বছর কুরবানীর মৌসুম এলেই যতটা না রক্তের সুতোধারা প্রবাহিত হয় কুরবানীর ঈদের দিনে, তার চেয়ে বহু বহুগুণ বেশী রক্তের সাগর ভাঙ্গে ধর্ম শব্দের এলার্জিতে আক্রান্ত নাস্তিক-মুরতাদদের হৃদয়ে। সারা বছর অসংখ্য প্রাণী জবাই করে টুকরো টুকরো করে কেটে আগুনে চড়িয়ে-পুড়িয়ে খেতে তাদের কোন ব্যথা লাগে না, কেবল বুকটা ভেঙ্গে যায় শুধু মাত্র মুসলমানগণ যখন তাদের পরম প্রিয় আল্লাহর জন্য ঈদুল আযহার দিনে কুরবানীর পশুর গলায় ছুরি বসায়। তাদের পশুপ্রেম তখন তাদেরকে 'পশু'তে পরিণত করে ফেলে। তাদের হাম্বা রব আর ম্যৎকারে তখন কুরবান হওয়া পশুরাও যেন হেসে উঠে। কি অর্বাচীনের মত তাদের এহেন আচরণ, তারা তখন পশু জবাইয়ের সময়কার ঘটনাগুলোকে যেন পশুর রক্তে নয়; তাদের নিজেদেরই প্রতিহিংসা সমৃদ্ধ বুকের রক্তে নানাভাবে রঞ্জিত করে করে অপপ্রচারের আর্তনাদে মেতে উঠে। তারা তখন এ কুরবানীতে ত্যাগ খুঁজে পায় না, পায় কেবলি কপটতা, হৃদয়ের প্রশস্ততা খুঁজে পায় না, পায় কেবলি সংকীর্ণতা; মুসলমানদের নিয়ে তখন তাদের কি নিদারুন(!) মাথাব্যথা, মুসলমানগণ আল্লাহর জন্য নয়; বরং লোকদেখানোর জন্য এসব করছে...কি উলঙ্গ বেহায়াপনা! (মুসলমানদের নিয়্যত বা সংকল্পের বিচ্যুতির কথা পূর্বেই প্রতিদানের বিষয়ের সাথে উল্লেখ করেছি।)
যখন অন্যায়ভাবে বনী আদমের রক্ত ঝরে, তখন উল্লাস করে ইবলীস, কেননা সে ফিৎনা সৃষ্টিতে সফল হয়েছে। আর যখন আল্লাহর কোন বান্দা তাঁর জন্য কুরবানী করে রক্ত ঝরায় তখন ইবলীসের আর্তনাদ শুরু হয়ে যায়; বছর বছর কুরবানীর মৌসুমে আমরা যেন মানুষরূপী ইবলীসদের আর্তনাদ শুনতে পাই। যেমনটি আল্লাহ্ বলেছেন: مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ "(কুমন্ত্রণাদানাকারী এ শয়তান) জিন ও মানুষদের মধ্য থেকে।" [সূরা আন্-নাস: ৬]
কথায় কথায় আমরা বলে থাকি- ত্যাগেই শান্তি, ত্যাগেই মুক্তি। বাস্তবিকই তাই। দুনিয়ার কোন স্বার্থ ছাড়াই অর্থ দানকারী ব্যক্তি উপলব্দি করতে পারেন যে, অর্থদানে হৃদয়ে কতটা প্রশান্তি নেমে আসে। তেমনি একটি প্রিয় গৃহপালিত পশুকে যত্নে লালন-পালন করে বড় করে একদিন আল্লাহর জন্য তার গলায় ছুরি চালানোর মধ্যে কতটা আত্মিক পরিশুদ্ধি নিহিত তা নিষ্ঠাবানদের পক্ষেই উপলব্দি সম্ভব। অন্যথা, ব্যক্তি সেই একই পশুটিকে কিন্তু চিরদিন ধরে রাখতে পারবে না, কখনো না কখনো সে তাকে জবাই করে খাবেই, হতে পারে তা কোন অনুষ্ঠানের ভোজে কিংবা বিক্রয় করা অর্থ খরচ করে। সেসব ক্ষেত্রে কিন্তু উল্লেখিত আত্মিক পরিশুদ্ধি হয় না বা ধর্মবিদ্বেষীদের চিৎকার-ম্যৎকারও শোনা যায় না। তাই সকলের উচিত তাদের নিজ নিজ ইবাদাতগুলোকে নিষ্ঠার সাথে পালন করা এবং জিন শয়তান ও মানুষ শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে- পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম যখন ইসমাঈল আলাইহিস্ সালামকে কুরবানীর জন্য অস্ত্রহাতে উদ্যত হলেন, তখন শয়তান নানাভাবে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে, পিতা তখন শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তাকে উদ্দেশ্য করে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। শয়তানের প্রতি প্রথম মুসলিম ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের কঙ্কর নিক্ষেপের সে ক্রিয়াটি আজো হজ্জের অনুষ্ঠানাদির মধ্যে "জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ হিসেবে" অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সাধু সাবধান!

9 ডিসেম্বর ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28880561 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28880561 2008-12-09 20:37:53
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন কি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদে কোন ভূমিকা রাখবে? বাংলাদেশ, আমার প্রিয় জন্মভূমি, প্রিয় স্বদেশ। কখনো কখনো এর মাটির গন্ধে বিভোর হয়ে উঠি আবার কখনো মনে হয় এর সীমানা জুড়ে এরা কারা কিলবিল করছে। শিউরে উঠি নিজের জন্য, পরিজনের জন্য, দেশবাসীর জন্য। সবমিলিয়ে আমার প্রিয় বাংলাদেশ।

আজকাল খুব শংকা অনুভব করছি। মার্কিনীরা চায় সারা বিশ্বে নিজেদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে। সে ধারাবাহিকতায় তারা আলকায়দা নামক একটি কাল্পনিক সংগঠন সৃষ্টি করে অথবা সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সত্যিকারের একটি 'আল-কায়দা' সোভিয়েত আমল থেকেই তারা গঠন করে কিছুসংখ্যক বিক্রিত কিংবা নির্মম বাস্তবতা সম্পর্কে বেখবর মুসলমানদের মাধ্যমে। তারপর সেটাকে সামনে রেখে তারা একের পর এক মুসলিম দেশগুলো কব্জা করতে শুরু করে। আফগানিস্তান, ইরাক তার সাক্ষী এবং পূর্ব তিমুর নামে ইন্দোনেশিয়ার সীমানায় একটি জীবন্ত বিষফোঁড়া তারই নমুনা। পাকিস্তানকে নানাভাবে কব্জা করার পাঁয়তারাকে রুখে দিয়েছে দালালীর মাধ্যমে হোক আর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় হোক সাবেক সেনা শাসক মোশাররফ। কিন্তু হালের আফগান সীমান্ত থেকে পাকিস্তান লক্ষ্য করে মার্কিন সেনাদের আক্রমণগুলো শংকিত করে তুলছে পাকিস্তানে মার্কিন সাম্রাজ্য প্রতিরোধে নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টিতে।

আমাদের বাংলাদেশ, যেখানে যখনি কোন হামলা পরিচালিত হয়, সেটার দায়ভার তাৎক্ষণিকভাবে চাপিয়ে দেয়া হয় ইসলামী দলগুলোর উপর এবং বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর উপর। যদিও পরবর্তীতে তল্লাসী প্রক্রিয়ার ফলাফলে তাদের টিকিটিও খুঁজে পায় না পুলিশ-গোয়েন্দারা। তারপরও পরবর্তীতে ঘটা কোন ঘটনাকে একই ধারায় প্রবাহিত করা হয়, একই কায়দায় দোষারোপ করা হয় জামায়াত-শিবিরকে। প্রশ্ন হলো কেন এমন দোষারোপের ধারাবাহিকতা। বার বার প্রমাণ হয় যে, জামায়াত-শিবির নির্দোষ, তারপরও কেন এমনটি হচ্ছে। জবাব দু'রকমের হতে পারে-

এক) এ নীতির অনুসরণ যে, ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা প্রচারণা যদি সারা দেশে প্রচার করা যায়, তবে প্রথমেই সেটা সবাই গিলে খাবে। তারপর কেউ তা সাথে সাথেই হজম করে ফেলবে, কেউ গলা পর্যন্ত নিয়ে ইতস্ততঃ করতে থাকবে, কেউ বা চিবোতে চিবোতে পরবর্তীতে কি হয় তা দেখার অপেক্ষা করবে আবার কেউ কেউ সত্যোপলব্দি করে তা প্রত্যাখ্যান করবে। বলা বাহুল্য যে, আমাদের দেশে সাথে সাথে হজম করার লোকের সংখ্যা প্রায় আশি থেকে নব্বুই ভাগ। তার উপর এ বিরাট অংশের মধ্যে এমন অংশও তদনুরূপ যে, খবরটির সর্বশেষ ফলাফল সম্পর্কে আর কখনোই খোঁজ খবর করবে না। পরিণামে যে লাভালাভ দাঁড়ালো এই যে, দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রথম প্রচারের মিথ্যাটাকেই ধারন করে রয়েছেন।

দুই) এভাবে অন্ধকারে ঢিল মেরে দেখা যে, যদি কোন একটি ঢিল লেগে যায়। তাছাড়া তল্লাশী প্রক্রিয়াগুলো তো মাশাআল্লাহ্ বছরে পর বছর চলতে থাকে। ততদিন পর অন্ধকার ফিকে হয়ে যায়, ঢিল ক্ষয় হতে হতে বালিতে মিশে যায়। আর সে সুযোগে যতটুকু পারা যায় ঘায়েল করা হয় ইসলামী দলগুলোকে, বিনিময়ে কি ফসল উঠছে তাদের ঘরে তা না হয় নাইবা দেখলো (যদিও জাতি দেখে আসছে তাদের ফসল হিসেবে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া)।

আমাদের দেশীয় দালালচক্র এসব প্রক্রিয়া শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতা লাভের জন্য করছে বলে মনে করলে ভুল করা হবে। বরং বাংলাদেশ নামক এ বদ্বীপের গুরুত্ব এতদ অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার (দুঃ)স্বপ্ন বিলাসীদের নিকট অনেক গুরুত্ব পূর্ণ। সেখানেও দু'টি দিক থাকতে পারে- এক) ভৌগলিক অবস্থান ও দুই) বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমিকভাবে ইসলামের অগ্রগতি।

সুতরাং দেশে বিগত বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহকে এক সারিতে নিয়ে আসলে যে কারো পক্ষে বুঝা খুব সহজ হবে যে, আসলে দেশকে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কোন বিকল্প নেই। কেননা, আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের রূপ পাল্টেছে। এখন দেশ জয় করে নিজস্ব শাসক বসিয়ে দেয়ার সেকেলে পদ্ধতির ব্যবহার হচ্ছে না; বরং দেশের মধ্য থেকে একটা তাবেদার গোষ্ঠী তৈরী করা হবে এবং তারা পুরো দেশের মানুষকে তাবেদার বানানোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে এই আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের নিকট একটি দেশের পরাজয়। তাই দেশের মানুষকে প্ররোচিত করার জন্য হেন পন্থা নাই যা তারা গ্রহণ করেনি। সেবা, চিকিৎসা, ঋণদান থেকে নিয়ে শুরু করে মীমাংসিত যুদ্ধাপরাধী ইস্যূ, তারপর সেটার হালে পানি না পেয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবী, সেটাতেও সুবিধা না পেয়ে অবশেষে নির্বাচনে ইসলাম পন্থীদেরকে প্রতিরোধের জন্য নানা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হচ্ছে।

সিদ্ধান্ত নিতে হবে এদেশের মানুষদেরকেই। তারা কি নিজেদেরকে স্বাধীন বাংলাদেশের মুসলিম বা নিজ নিজ ধর্মীয় ঐতিহ্য নিয়ে বসবাস করতে চায় না কি বিলীন হয়ে যেতে চায় নৈতিকতায় ধ্বস নামা পাশ্চাত্য সভ্যতার মোড়ল আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদে।

সবশেষে বলতে চাই যে, আমাদের এবারে নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে শুধুমাত্র দেশীয় প্রভাবই থাকবে না; বরং অন্তরালের সত্য যে, এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদেরও অগ্রগতি-অবনতির বিষয়টি। সজীব ওয়াজেদ জয় যেন সাম্প্রতিক Harvard International Review এ প্রকাশিত তার আর্টিকেলের মাধ্যমে আমাদেরকে সে ইঙ্গিতই প্রদান করেছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28873119 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28873119 2008-11-23 17:22:29
@ মদনজিৎ সিং-কামাল-সারাদের ঔদ্ধত্য এবং ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যবচ্ছেদ আমাদের দেশকে নিয়ে এই ষড়যন্ত্র দানাবাঁধে স্বাধীনতা লাভের সময় থেকে। আমাদের প্রতিবেশী কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশটির যে ধর্মনিরপেক্ষ রূপ আমরা দেখে যাচ্ছি যাতে প্রতি বছর বিভিন্ন এলাকায় সরকারী মদদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সংখ্যালঘু মুসলিম ও খৃষ্টানদের যে হত্যা করা হয়, যুলুম নির্যাতন চালানো হয়; তা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। ভারত আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে সহযোগিতা করেছে সত্য, সাথে সাথে এটাও সত্য যে, স্বাধীনতার পর পরই ভারত সে সহযোগিতার বিনিময় সুদে আসলে আদায় করে নিয়েছে লুটপাটের মাধ্যমে এবং আজো নিচ্ছে ফারাক্কার মত মরণ ফাঁদ ও সীমান্তে পাখির ছানার মত শত শত বাংলাদেশীকে হত্যার মাধ্যমে। ফারাক্কা আমাদের নদীগুলোকে হত্যা করেছে, যার দায়ভার ভারত সরকারের। পৃথিবীতে যদি কখনো নদী হত্যার বিচার শুরু হয়, তবে সে বিচারে ভারতের ফাঁসী অনিবার্য করলেই সুবিচার করা হবে। এছাড়াও নানা কুটনৈতিক ও ব্যবসায়িক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ভারত ক্রমাগত যে অবিচার করে যাচ্ছে তাতে এদেশবাসী এতদিনে প্রায় ভুলতে বসেছে যে, একদিন আমরা যখন ঘোরতর বিপদে ছিলাম, তখন এই দেশটি আমাদেরকে সাহায্য করেছিল।

প্রসঙ্গান্তর ঘটে যাচ্ছিল, তবে প্রয়োজনও ছিল এ মর্মে যে, ভারত একটি আলাদা দেশ এবং বাংলাদেশও একটি আলাদা দেশ। সুতরাং দু'দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত; ভারতীয় দাদারা তা ভুলে যান কখনো কখনো। অবশ্য এটা যে তাদের দাদাগিরীর বদভ্যাস থেকে আসা, সেকথা আমরা জানি, কিন্তু এসব দাদাগিরী সিকীমের মানুষেরা সহ্য করেছিল, বাংলাদেশের বীর জনগণ সহ্য করেনি।

প্রসঙ্গে আসি, খবরটি বিগত ১৬ অক্টোবরের দৈনিকে নজরে পড়লো: "ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা চালু ও স্কার্ফ খুলে ফেলতে পরামর্শ দিলেন ইউনেস্কোর ভারতীয় দূত"। খবরে বলা হয়, সার্কভুক্ত দেশগুলোর ষষ্ঠ স্কাউটস ফ্রেন্ডশিপ জাম্বুরিতে আসা বিভিন্ন দেশের প্রধান এবং জাতীয় চিফ স্কাউট কমিশনারের সম্মানে বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক নৈশভোজে ইউনেস্কোর শুভেচ্ছা দূত ভারতীয় নাগরিক মদনজিৎ সিং বাংলাদেশের স্কাউট নেতাদের সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়ে বক্তব্য রাখেন। যেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন এবং তার মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং তারাও বাংলাদেশে ধর্ম নিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা চালুর ব্যাপারে মদনজিৎ সিংয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করেন।
ভোজসভা চলাকালে তার কাছাকাছি টেবিলে বসেছিলেন স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার অধ্যাপিকা নাজমা শামস। মদনজিৎ সিং এক পর্যায়ে অধ্যাপিকা নাজমা শামসকে তার মাথা থেকে স্কার্ফও খুলে ফেলতে বলেন। অধ্যাপিকা নাজমা শামসকে স্কার্ফ পড়ার জন্য ননসেন্স বলেও ভর্ৎসনা করেন মদনজিৎ সিং। এমনকি মদনজিৎ সিং তার সাথে করর্মদন করার জন্যও পীড়াপীড়ি করলে নাজমা শামস বিব্রতবোধও করেন। এতে নাজমা শামসের পাশাপাশি অন্যান্য বিদেশী অতিথিরাও বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, পাশ্চাত্যে কোনো নারী হাত না বাড়ানো পর্যন্ত কোনো পুরুষ তার সাথে করর্মদন করার অভিপ্রায় পোষণ করে না। আগত অন্যান্য অতিথিরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা একজন বিদেশী অতিথির ঔদ্ধ্যতপূর্ণ আচরণ ছাড়া কিছুই নয়। [সংবাদটি দৈনিক নয়াদিগন্তের সৌজন্যে]

আসা যাক ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার কথায়, কি হবে সেখানে? মোটের উপর শিক্ষা ব্যবস্থাকে তিনটি দিক থেকে চিন্তা করা যেতে পারে- ১) ধর্ম সংক্রান্ত কোন শিক্ষার সুযোগ থাকবে না, ২) সকল ধর্মের শিক্ষাই বর্তমান থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের সব শিখতে হবে আর ৩) যার ইচ্ছা ধর্ম নিয়ে পড়বে আর যার ইচ্ছা ধর্ম ছাড়া পড়বে।

এ তিনটি দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, প্রথম অংশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের নাস্তিক্য অংশ কঠোর অবস্থানে আছে। তাদের ভাষ্যমতে ধর্মশিক্ষার কোনই প্রয়োজন নেই, ধর্ম মানুষ হত্যা করা শিখায়। আর যারা সুবিধাবাদী অংশ তারা আবার এ প্রস্তাবে দারুন পিচ্ছিল। কারণ, শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা থাকবে না এটা স্বীকার করলে তো ধর্মপ্রতিষ্ঠাকারী দলগুলোর অপবাদ(?)কে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়ে যাবে যে, "ধর্মনিরপেক্ষতাই ধর্মহীনতা"। কেননা, শিক্ষা ব্যবস্থাতেই যদি ধর্ম না থাকে তবে তো ধর্ম নিরপেক্ষাতার মানে ধর্মহীনতাই প্রমাণিত হয়, যেখানে ধর্মকে শিখতে বাধা প্রদান করা হয়। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলিম, হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধদের ভেবে দেখা উচিত যে, উপরে বর্ণিত পর্যায়ে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা কি আদৌ আপনারা চান?

দ্বিতীয় দিকটি যদি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী শিক্ষার লক্ষ্য উদ্দেশ্য হয়, তবে তো প্রতিজন মুসলিমকে মহাভারত, গীতা, বাইবেল, ত্রিপটক, জিন্দাবেস্তা ইত্যাদি পাঠ করতে হবে, আবার অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরকেও কুরআন অধ্যয়ন করতে হবে। যেহেতু সিলেবাসে আছে সেহেতু পরীক্ষা পাসের জন্য হলেও পাসমার্ক উঠানো পর্যন্ত পড়তে হবে। আর তাতে বোধ হয় ইসলামের কল্যাণ ছাড়া অকল্যাণ হবার কথা নয়; সুতরাং এদেশের মুসলমানগণ তাতে এক কথায় রাজী হয়ে যেতে পারেন। কেননা, পৃথিবীর বর্তমান ইতিহাসেও শোনা যায় না যে, মহাভারত, গীতা, বাইবেল, ত্রিপটক, জিন্দাবেস্তা পড়ে কোন মুসলমান আকৃষ্ট হয়ে সেসব ধর্ম গ্রহণ করেছে; বরং অহরহই শোনা যাচ্ছে যে, কুরআন পড়ে কুরআনের শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অগুণতি অমুসলিম ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে। সুতরাং একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই কুরআনের সাথে সাথে অন্যান্য গ্রন্থাদিও পড়ে, তবে আমি মনে করি ইসলামের সৌন্দর্য্য উপলব্ধির ক্ষেত্রে সে আধা পথ এগিয়ে থাকবে যৌবনে পা রাখার আগেই। এবং সেসব শিশুরা যখন ইসলাম গ্রহণ করবে তখন তারা হবে প্রকৃত অর্থে বুঝেশুনে ইসলাম গ্রহণ করা মুসলিম।

তৃতীয় দিকটিই যদি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের টার্গেট হয়ে থাকে, তবে বলবো যে, বর্তমানে যেভাবে আছে সেটাই তো ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা। কেন? ছেলে বেলায় অন্য সব বিষয়ে সারা বছর পড়ে পড়ে এমনকি প্রাইভেট পড়ে পরীক্ষা দিয়ে বহু কষ্টে শিষ্টে পাস করতে হতো। আর ধর্ম শিক্ষা? সে তো পরীক্ষার আগের রাতে পড়লেই ষাট/সত্তর মার্ক উঠানো যেত। অন্যরা কি করতেন জানি না, তবে আমি তাই করতাম। হুজুরের ক্লাসে, অর্থাৎ ধর্মের ক্লাসে চলতো সব বিচার আচার। কি পরিবর্তন হয়েছে সে অবস্থা থেকে?

এছাড়া মাদ্রাসাগুলোতে তো ঘোষণা দিয়েই ধর্ম শিক্ষা দেয়া হয় এবং সেগুলোতে কোন অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীরা যায় না, যাবার দরকারও নেই। ঠিক মাদ্রাসার মত করে যদি হিন্দুরা হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করে, তবে ইসলামের কোন বাধা তাতে আছে বলে আমার জানা নাই। কিন্তু সেসব ধর্ম কি আদৌ তেমন কোন শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য যথেষ্ট বিষয়াদি ধারণ করে? একই ব্যাপার খৃষ্ট ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্মের বেলায়ও।

তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে বাকী থাকছে কি? "ধর্ম শিক্ষা" নামে ক্লাসে ক্লাসে যে বইগুলো আছে সেগুলো? হায়রে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী! এই ছোট্ট একটা বই-যার পরীক্ষা দিয়ে পাস করার জন্য বছরে একটি রাত মাত্র ব্যয় করাই যথেষ্ট-সেই বইটিকে বাদ দেয়াই যদি হয় ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, তবে নিশ্চিত থাকুন যে, এই আদর্শে পৃথিবীর জন্য কোন কল্যাণ অবশিষ্ট নেই।

অথবা যদি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য এমন হয় যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে কামাল পাশা থেকে নিয়ে আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবের গুণগাঁথা শিখানো, তবে সেসবও কি বর্তমান নেই? তাহলে কি চাই ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার মোড়কে? কি এমন মহা মূল্যবান রত্ন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের হাতছাড়া হয়ে গেছে যা তারা অর্জন করবে এই শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবায়নের মাধ্যমে?

একজন আলেম বলেছিলেন: "তারা মনে করে মোল্লারা কিছু বুঝে না, কিন্তু মোল্লারা যে বুঝে সেটা আবার তারা বুঝে না।" সুতরাং এদেশের আলেম সমাজকে নাস্তিকদের লিখিত নাটকে দেখানো "আলেম" মনে করলে তা দিয়ে হয়ত জনগণকে কিছুদিনের জন্য বিভ্রান্ত করা যাবে, কিন্তু নিজেরাও যদি নাটকে চিত্রিত "কাল্পনিক আলেম"-এর মত সবাইকে জ্ঞান করে, তবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের পতনের জন্য হয়ত এই একটি কারণই যথেষ্ট হয়ে যাবে। বিগত দুই/তিন সংসদ নির্বাচন ও সেসবের ফলাফল নিয়ে হামলা-মামলাগুলোর ফলাফল সে প্রমাণ পেশ করেছে এদেশবাসীর নিকট।

ফিরে যাই খবরের শেষাংশে, ড. কামাল হোসেনদেরকে এদেশের ভাবতে সত্যি ইতস্ত হয়, কেননা যারা নিজের মেয়েকে পাশে বসিয়ে মেয়ে কিংবা মা তুল্য ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কর্তৃক আরেক বঙ্গনারীর অপমান শুধু সহ্যই নয়; বরং অপমানে উৎসাহ দিয়ে যায়, সমর্থন দিয়ে যায়; তারা কি করে বাংলাদেশের কল্যাণকামী হতে পারে। একজন মুসলিম নারী অন্য পুরুষের সাথে করমর্দন করতে পারেন না, যারা করছেন তারা নিঃসন্দেহে পাপাচারে লিপ্ত রয়েছেন। তদুপরি ভারতীয় মদনজিৎ সিং এর স্কার্ফ খুলে ফেলতে এবং না খোলার কারণে ভর্ৎসনা করাটা কত বড় অপরাধ তা বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন এবং তার মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেনের ভালোভাবে জানা থাকার কথা। কিন্তু তারা ছিলেন নিরব। তাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ এখনো আসেনি। আসেনি কোন নিন্দাও; পরন্তু এই অনুষ্ঠানে মদনজিৎ সিং এর ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু নিয়ে দেয়া বক্তব্যের সাথে সাথে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণকেও যেন কামাল হোসেন সকন্যা সমর্থন করলেন।

প্রশ্ন একটাই, কবে এদেশ মুক্ত হবে ড. কামাল হোসেন আর সারা হোসেনদের সাথে সাথে মদনজিৎ সিংদের থাবা থেকে?

-১৮ অক্টোবর ২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28862152 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28862152 2008-10-30 18:59:44
@ রোদন নয়; এ এক প্রেরণার দিন!!! অনেকেই বলেন: এ দিনটি নিয়ে এ দিনেই লিখতে হবে। আমি তা মনে করি না, কেননা ২৮ অক্টোবর আমার নিকট বদর, ওহুদ থেকে নিয়ে বালাকোটের উত্তরসূরী একটি দিন!
২৮ অক্টোবর, দুপুরবেলা ঘুম থেকে উঠার কথা থাকলেও আজকে সকালেই উঠলাম। গত রাত থেকেই অসংখ্য প্রবাসীর মত আমিও দারুন শংকায় ছিলাম আজকে কি ঘটবে তা নিয়ে। বন্ধুর ডাকে ঘুম ভাঙ্গে যোহরের অনেক আগেই, তারপর যা দেখে গেলাম! হায় আল্লাহ্! তা যদি আমার জীবনে একটি স্বপ্নই হতো...
না, আমার জন্য স্বপ্ন হতে যায়নি। এ ছিল এক নির্মম বাস্তবতা। টিভির পর্দা ভেদ করে যেন লগি-বৈঠার প্রতিটি আঘাত আমার শরীর স্পর্শ করছে। কত ভয়ংকর চিত্র-চলচিত্রই তো চোখের পর্দায় তাক লাগিয়ে চলে যাচ্ছে, কত ঘটনাই তো নজর কেড়েছে অতীত হতে বর্তমান পর্যন্ত। কিন্তু এমন অনুভূতি তো কখনো আসেনি...।

ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের পর জানলাম যে, প্রতিজন মুসলমানের জন্য শাহাদাতের আকাংখা ধারন করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক ইতিহাসের শাহাদাত পিয়াসী মুসলমানদের সেসব ঘটনাবলী জানার পর দৃঢ় প্রতীজ্ঞ হলাম যে, মৃত্যুই যদি অবধারিত তবে রোগশোকে নয়; বরং শাহাদাতের মৃত্যুই হোক। সকাল সন্ধ্যা তাই সে প্রার্থনাকেই রুটিন করে নিলাম। কিন্তু শাহাদাতের অবস্থাটা ঠিক কেমন হবে, সে নিয়ে নানা ভাবনায় শিহরিত হতাম।

কখনো ভাবতাম, যদি গুলি করা হয় তবে কেমন অনুভূতি হবে? যদি কিডন্যাপ করে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, সে কেমন অনুভব হবে? যদি অন্য কোনভাবে শাহাদাত আসে তবে সেসব কেমন হবে; এমন ভাবনায় ভারাক্রান্ত হতাম। তারপর একদিন জানলাম যে, শাহাদাতের মৃত্যু অনেক সহজ, অনেক নির্বেদন অন্য সকল মৃত্যুর চাইতে। তবু ভাবনারা নানা জাল বুনেই চলছে,,, কিভাবে আসবে শাহাদাত একদিন আমার দুয়ারে...

(শহীদ শিপনের উপর অকথ্য নির্যাতন)
২৮ অক্টোবর! আমি এখনো মেলাতে পারছি না কেন এমন হলো...! কেন মনে হলো প্রতিটি বৈঠার আঘাত আমার পিঠেই পড়েছে, প্রতিটি লগির খোঁচা আমার আহত আত্মায় দেয়া হয়েছে। আজো মেলাতে পারিনি সে হিসেব। না, আমার একটি পশমও ছিঁড়েনি সে অনুভবে, আমি আহত হয়েছি কেবল আত্মায়, অন্তরে। শহীদ জসিমকে যেভাবে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে শুইয়ে দেয়া হয়েছে বাংলার যমীনে; সে দৃশ্য আমায় শিহরিত করার চাইতে আহত করেছে বেশী, আমি ঘুমুতে পারিনি অনেক রাত, আমি ২৮ অক্টোবরের পর মনে পড়ে আরো মাত্র একবার দেখতে পেরেছি সেই দুর্বিসহ সচিত্র।

(এই কমিউনিষ্ট কর্মীর হাত থেকে রেহাই পায়নি রাস্তায় পরে থাকা মানুষটি। সে পেটে লাথি দিয়ে এভাবেই উল্লাস প্রকাশ করে।)
আমি জানিনা ২৮ অক্টোবরের শহীদেরা ঠিক কি পরিমাণ যন্ত্রণা নিয়ে নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছিলেন আল্লাহর যমীন এই বাংলাদেশে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য, তবে আমাদের ইতিহাসের সেসব সান্ত্বনা আমাদেরকে ভুলিয়ে দেয় সকল যন্ত্রণা। হামযা রাদিয়াল্লাহুর শাহাদাতের পর তাঁর বুক চিরে কলিজা কেটে নেয়া হয়েছিল, তা চিবানো হয়েছিল। বীরত্বের কিংবদন্তী সাহাবীদের শরীরের টুকরোগুলোকে একত্র করে সনাক্তকরণের জন্য আত্মীয়দের ডাকা হয়েছিল।

Jashim- On his way to Jannah
(শহীদ জসিম উদ্দিন এর একটাই অপরাধ ছিল। তিনি আল্লাহকে রব বলে স্বীকার করে নিয়েছিল। আর সেই অপরাধেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।)
আমি জানিনা কিভাবে আমিও একদিন পৌঁছে যাবো আমার পরম প্রিয় প্রভু আল্লাহর সাক্ষাতে। তবে এ লেখার সকল পাঠকের নিকট বিনীত অনুরোধ- আমার মৃত্যু যেন কবূল হওয়া শাহাদাতে হয়; আল্লাহর নিকট এ প্রার্থনায় আমীন বলবেন। আমি তীব্রভাবে আকাংখী আমার আত্মার আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাত করতে সেই জান্নাতে, যার ওয়াদা আল্লাহ্ শহীদদের সাথে করেছেন।

(রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পরও আওয়ামী হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিবির কর্মীরা)
পৃথিবীতে একমাত্র মুসলমানগণই সে জাতি, যারা তাদের প্রভুর নিকট মৃত্যুর জন্যেও প্রার্থনা করে। তারা তাদের প্রভু আল্লাহর পথে নিজেকে কুরবান করে দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই গাফেল, সন্দেহ নাই; তবে কা’বার চত্ত্বরে সেদিন যখন তাওয়াফ করছিলাম, তখন উচ্চস্বরে একটি কণ্ঠ থেকে দো’আ করতে শুনলাম এভাবে- “হে আল্লাহ্! আমাকে ভাগ্যে আপনার পথের শাহাদাত দান করুন। এবং আমার সে ভাগ্য দান করুন আপনার রাসূলের শহরে”। আমি স্তম্ভিত! এখনো মুসলমাদের অন্তর উচ্চস্বরে পৃথিবীকে সাক্ষী রেখে শাহাদাতের আকাংখায় বিস্ফোরিত হয়। নিরবে-নিভৃতে তো সংখ্যাতীত হচ্ছেই। হে দয়াময়! ২৮ অক্টোবরের শহীদদের শাহাদাত কবূল করুন। তাদের উচ্চ মর্যাদা দান করুন প্রতিশ্রুত জান্নাতে। এবং আমাদেরকেও তাদের পদাংক অনুসরণের তৌফিক দান করুন। আমীন।

ছবি কৃতজ্ঞতা: http://www.28thoctober.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28861389 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28861389 2008-10-29 03:21:52
@ লালনের মূর্তির মত সকল মূর্তি অপসারিত হোক! সময়ের দাবী!!
মানুষের প্রভূত্ব থেকে মানুষকে মুক্তি দানের জন্য ইসলামের আগমণ; যা বয়ে এনেছেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ থেকে চৌদ্দশ' বছরেরও বেশী কিছু কাল পূর্বে। মানুষ কিভাবে মানুষের উপর প্রভুত্ব করে? এ প্রশ্নের জবাবে মৌলিকভাবে কয়েকটি দিক হতে পারে- ১) সরাসরি প্রভু হিসেবে নিজেকে পেশ ও প্রতিষ্ঠিত করা, ২) যোগ্যতা ও বস্তুর প্রভাবে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা ও ৩) বিভিন্ন আবেগ-অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা।

আসা যাক, মানুষের উপর মানুষের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার এ তিনটি দিকের পর্যালোচনায়-
এক) সরাসরি প্রভু হিসেবে নিজেকে পেশ ও প্রতিষ্ঠিত করা: পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায় যে, এ দাবী পেশ করেছিল ফির'আওন। সে ছিল তৎকালীন মিসরের রাজা, প্রবল প্রতাপাম্বিত হবার পর সে তার দেশবাসীকে বলেছিল: أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى "আমিই তোমাদের বড় প্রভু" [সূরা আন-নাযি'আত: ২৪]। তার সে প্রভুত্ব ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো যখন সে নীলের পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিল। পৃথিবীবাসীর জন্য আল্লাহ্ সেই স্বঘোষিত "বড় প্রভু"র ধ্বংসাবশেষ আজো ঝুলিয়ে রেখেছেন মিসরের পূরাকীর্তি পিরামিডের অভ্যন্তরে সে যুগের মানুষকে মমি বানানোর প্রযুক্তি দানের মাধ্যমে। এই জ্বলজ্যান্ত উদাহরণের মানদণ্ডে খুঁজে দেখলে আজো দেখা যাবে পৃথিবীতে বহু ফির'আনের আনাগোনা চলছে। কোন কোন ফির'আওন বিশ্বপ্রভু হবার স্বপ্ন দেখছে বিশ্বায়নের বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আবার কেউ দেখে গেছে কিংবা আজো দেখছে যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে, যেমনটি একদার হিটলার। এ পর্যায়ের উদাহরণ বুঝা অনেক সহজ করে দিয়েছেন আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনে ফির'আওনের উদাহরণ পেশ করার মাধ্যমে।

দুই) যোগ্যতা ও বস্তুর প্রভাবে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা: সোভিয়েত আমলের রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রচারিত বেশ কিছু উপন্যাস দেখা যায় এখনো। যেগুলোতে বিভিন্নভাবে স্রষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের পাঁয়তারা করা হয়েছিল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মাধ্যমে। তান্মধ্যে একটার কথা বলি- যেখানে দেখানো হয়েছে যে, একজন সার্জন বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অদল-বদল করে নানা অদ্ভুত প্রাণী সৃষ্টি(?) করেছে। পড়ে আমার কাছে দারুন হাস্যকর ঠেকেছে। ভাবলাম যে, এরা কি চায় আসলে? নিজেদের পাগলামীর প্রতিষ্ঠা নাকি আসলেই কোন একটা আদর্শের প্রতিষ্ঠা? পৃথিবীর এই সুসামঞ্জস্য পদ্ধতির পরিবর্তন দেখিয়ে স্রষ্টা সাজার অভিলাষ যে কত বড় মূর্খতা আর তা যে কি ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনবে সে ব্যাপারে হয়ত সেই কল্পকাহিনীর লেখক ভাবার অবসরই পাননি। এমন বিধ্বংসী চিন্তার মানুষদের হাতে পৃথিবীকে ছেড়ে দিলে তারা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই পৃথিবীকে মানুষের জন্য বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে; এমনকি প্রাণীজগৎও সে ধ্বংসের হাত থেকে রেহাই পাবে না।

সে যাক, যোগ্যতা মানুষের আছে এবং সে অনেক কিছুই করতে পারে এর মাধ্যমে। কিন্তু যত বড় যোগ্যতাধারীই হোক না কেন এবং যত বড় কিছুর সম্পাদকই হোক না কেন, যদি সে তার নিজের যোগ্যতার উৎস খুঁজে না পায়; তবে তার মত অসহায় আর কাউকে খুঁজে পাবে না কোথাও কেউ। সে জানে না কে তার জীবন-মৃত্যু-যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা-চিন্তাশক্তি ইত্যাদির সুতো ধরে বসে আছেন, কখন টান দেবেন আর তখন তার যাবতীয় শক্তি-যোগ্যতা ধুলোয় মিশে যাবে সে নিজেসহ! এর চেয়ে অসহায়ত্ব আর কি থাকতে পারে। পরন্তু তার জন্য এতটুকু সান্ত্বনাও নেই যে, কে এসবের মূলে রয়েছেন। কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, বিজ্ঞানী, গবেষক, বিধান রচনাকারীরাও এ পর্যায়ে শামিল। যেমন, আমাদের দেশীয় এক নাট্যাভিনেত্রীর খাহেশ হয়েছিল যে, তিনি কবি রবীন্দ্রনাথের পূজা করবেন; এমনকি তিনি সবাইকে সে উপদেশও প্রদান করেছিলেন।

বস্তুর ব্যাপারটিও এখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থসম্পদ, পেশীশক্তি, অস্ত্রবল, জনবল কিংবা কোন জাগতিক আবিস্কার হতে পারে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। যেমন, আমাদের দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এক শ্রেণীর এনজিও অর্থ সাহায্য করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রভুত্বের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। বাহ্যিক ভাবে এই প্রভুত্ব বিশ্বস্রষ্টা কিংবা যীশুখৃষ্টকে প্রদর্শন করলেও আসল প্রভু যে সেই দাতারাই সেজে থাকেন, তা কোন দৃষ্টিমানের কাছেই লুক্কায়িত নেই। বিশ্বনীতিতে আজ তো গুটিকতক দেশই কেবল পরমাণূ শক্তিধর হতে পারবে বলে নিজেরা নিজেরা সালিশী ডেকে ঠিক করে নিয়েছে এবং রায় ঘোষণা করেছে, আর বাকী সব দুর্বল দেশের উপর প্রভুত্বকে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। কোথাও কেউ শিল্পের অগ্রগতি কিংবা বাস্তবিকই স্বদেশ সুরক্ষার জন্য চুল্লি বসালে তারা এসে চোখ রাঙায়, হুমকি দেয়, এমকি হামলে পড়ে বিনাশ সাধন করে নিরপরাধ শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ অগুণতি বনী আদমের। একে কি করে কেউ প্রভুত্বের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে পারবে? পরন্তু পৃথিবীর নানা প্রাযৌক্তিক উদ্ভাবনের মনীষীগণকে তো গদগদ কণ্ঠে অনেকেই প্রভুর আসনে সমাসীন করে দিয়ে থাকেন। ষ্টিফেন হকিংয়ের বাণীকেও ওহীতুল্য কিংবা তারচেয়েও অধিক গুরুত্ব দেয়ার লোক খুঁজতে বোধহয় খুব বেশী দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে না।

মোদ্দাকথা, এই শ্রেণীর মানুষেরা অন্যদের চোখে চমক সৃষ্টি করতে পারেন নিজেকে দিয়ে, নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে। তারা চান বা না চান; মানুষেরা তাদেরকে প্রিয় ভাবতে শুরু করে, তারপর এই প্রিয় একসময় বদলে যায় শ্রদ্ধায়, শ্রদ্ধার বেলুনটি হাওয়ায় হাওয়ায় ফুলতে ফুলতে একসময় 'ভগবান' হয়ে উঠে। তারপর জীবিত হলে পায়ের ধুলো কুড়োতে কুড়োতে সিজদার কাছাকাছি পৌঁছে যায় মানবতার উন্নত শির আর মৃত হলে কবরে, স্মৃতিস্তম্ভে বা মূর্তি বানিয়ে তাতে ফুল চড়িয়ে, বিনয় নম্রতা প্রদর্শন করে; এমনকি কেউ কেউ বিপদে আপদে তাদের নাম স্মরণ করে কিংবা সরাসরি ডেকে সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যেম তাদের ইবাদাতে মশুগুল হয়ে উঠে। এভাবেই এই শ্রেণী তাদের যোগ্যতা ও বস্তু বলে মানুষের উপর তাদের প্রভুত্ব কায়েম করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে এহেন বিভ্রান্তি শুধুমাত্র তাদের বেলাতেই ঘটে, যাদের কাছে নেই কোন সুস্পষ্ট জীবন বিধান, সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড, মানবতার পরিচয় বিধি, স্রষ্টার পরিচয় সম্বলিত কোন অকাট্য ঐশী বাণী; প্রকৃত মুসলমানগণ এই ভয়ংকর পতন প্রতিরোধে অব্যর্থ নিরাপদ, কেননা তাদের কাছে রয়েছে আল-কুরআন।

তিন) বিভিন্ন আবেগ-অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করা: এই পর্যায়ে এসে কাকের বাসায় কোকিল ডিম পেড়ে উত্তরাধিকার অর্জনের মত অবস্থা হয়ে থাকে। খাজা বাবা কখনো বলে যাননি যে, তার কবরের উপর বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করা হোক, বলেননি সড়ক পরিবহনের মোড়ে মোড়ে ডেকচি বসানো হোক, লালন শাহ্ জীবিতাবস্থায় কখনো বলে যাননি যে, তার জন্য মূর্তি নির্মাণ করা হোক, বলে যাননি শেখ মুজিব কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারাও; তবে কেন ভাস্কর্যের নামে তাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে মূর্তি? তাদেরও ছিল ধর্ম বিশ্বাস। তারা যদি মূর্তিপূজারী ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে থাকে এবং মূর্তিপূজারীরা যদি তাদের মূর্তি বানিয়ে থাকে তবে সেটা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ব্যাপার, সে ব্যাপারে কথা নেই। কিন্তু মুসলিম নেতা, মুসলিম দরবেশ কিংবা মুসলিম বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে কেন অপমানিত করা হচ্ছে তাদের মুর্তি নির্মাণ করার মাধ্যমে। তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তো এসবের মাধ্যমে তাদের পরকালীন জীবনকে তাদের উত্তরসূরীরা আরো অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে! যার প্রমাণ, কেয়ামতের কঠিন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মানুষেরা যখন বিভিন্ন নবীদের কাছে যাবেন, তখন ঈসা আলাইহিস্ সালাম জবাব দেবেন এই বলে যে, আমাকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেয়ার পর আমার উম্মতেরা আমাকে আল্লাহর পুত্র বানিয়ে বসেছিল, তাই তা নিয়ে আমি নিজেই শংকিত যে আল্লাহ্ সে কারণে আমার সাথে কি ব্যবহার করেন! [হাদীসের ভাবার্থ থেকে]।

অথচ আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ নির্মম সত্যকথাগুলো কেউ বলতে গেলেই সে নাস্তিকদের কাছে হয়ে যাবে ধর্মান্ধ, মৌলবাদী। লালন সুফী জগতের মানুষ, ইসলামের মৌলিকতার সাথে তার দর্শনের সংঘাত অনেক। কিন্তু সে তো মুসলিম জনগোষ্ঠীর একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন, হিন্দু ধর্মের কোন পূজ্য দেবতা ছিলেন না। তবে কেন তার মূর্তি নির্মিত হবে? ঠিক একই কায়দায় আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণার্থে তাদের মূর্তি নির্মাণ করা সেসব মৃত মানুষদের প্রতি বিরাট অন্যায়, অমার্জনীয় জুলুম। এর প্রতিবাদ করা উচিত, এসবকে প্রতিহত করা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। অন্ততঃ সেসব মুসলিম পরিবারের দায়িত্ব; যাদের পূর্বসূরীদের মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। কেননা, তাদের পরকালীন একটি জীবন রয়েছে, তাদের প্রতি করুণা করে হলেও সেদিকটা ভাবা দরকার।

এখন ভেবে দেখার বিষয় যে, তারা যদি জীবিতাবস্থায় বলে না গিয়ে থাকেন তবে কেন তাদের জন্য মূর্তি নির্মিত হচ্ছে?
এর জন্য খৃষ্টজগতের প্রতি দৃষ্টিপাত করাই যথেষ্ট হবে। কেন খৃষ্টানগণ ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করেছিল? গীর্জায় গীর্জায় তাঁর মূর্তি স্থাপন করে প্রভু হিসেবে এক আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে যীশুখৃষ্টের কাছেও প্রার্থনা করা হচ্ছে? মরহুম আহমাদ দীদাত প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন সমগ্র খৃষ্টজগতের প্রতি যে, আমি বললাম তোমাদের বর্তমান বাইবেলে আল্লাহর নাযিল করা একটি শব্দও নেই, সব তোমাদের বানানো; পারলে আমার এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা কর! খৃষ্টজগত ব্যর্থ হয়েছে তার এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ্যের মোকাবেলায়। কিভাবে হয়েছে তাদের এই অধঃপতন? তাদের আলেম সমাজের সাথে আঁতাত হতো শাসক গোষ্ঠীর, তারা বিক্রিত কিংবা বাধ্য ছিল শাসক শ্রেণীর কাছে। তাই যত অপরাধ শাসক গোষ্ঠী করতো, সেসবকে ধর্মের চাদরে ঢাকার জন্য বছর বছর তারা তাদের ধর্মগ্রন্থে পরিবর্তন আনতো। এভাবেই কালক্রমে স্রষ্টা প্রদত্ত ইঞ্জীল শরীফ তাদের বর্তমানের বানানো বাইবেলে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। যার প্রমাণ মিলবে পাশ্চাত্য জগতে নিষিদ্ধ করা "বার্নাবাসের বাইবেল" এর সাথে তাদের প্রচলিত বাইবেলের পার্থক্যসমূহে।

তাহলে কি দাঁড়ালো অর্থ? এ পর্যায়ের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার মূলে ক্রিয়াশীল ছিল এক শ্রেণীর ধূরন্ধর স্বার্থবাদী মহল, এক শ্রেণীর চক্রান্তকারী, সুবিধাভোগী কিংবা শত্রু। এরা আকাশে আরোহণকারী ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্বকে পুঁজি করে তাঁর নামে মিথ্যা রটিয়ে যেমন পৃথিবীতে তাদের নিকৃষ্ট অভিলাষের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে, তেমনি আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতেও এক শ্রেণীর ঘরোয়া শত্রু-যারা বিক্রিত সামান্য অর্থের বিনিময়ে-পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী আগ্রাসী শত্রু এবং দাতাগোষ্ঠীর নামে বর্তমান "সংস্কৃতির যুদ্ধে" অবতীর্ণ পশ্চিমা শত্রুরা; আমাদের স্বাধীনতার রূপকার শেখ মুজিবের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তার মূর্তি রচনা করেছে, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মানুষের ভালবাসা ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে তাদের ভাষ্কর্যের নামে তাদের স্থানে স্থানে মূর্তি স্থাপন করেছে, দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিত্বদের মূর্তি নির্মাণ করে করে তাতে মানুষকে ফুল চড়ানো শিখিয়েছে। এরা কারা? কেন তাদের এত আগ্রহ এসকল মৃত মানুষদের জন্য মূর্তি বানানোতে এবং সেসবে দিন গুণে গুণে ফুল চাড়নোতে, বেদীতে বলির মত করে নানা কার্যক্রম উদযাপনে? কি তাদের স্বার্থ এখানে?

এসব ভাবার অবসর যেন আমাদের জনগণের নেই, ফুরিয়ে গেছে সময়। বরং আমরা যেন খুঁজে বেড়াচ্ছি পৃথিবীর কোথায় কোন অপসংস্কৃতির জন্ম হচ্ছে আর আমরাও তাকে আমদানী করবো। কেন আমাদের এই তাড়া? কে শিখাচ্ছে আমাদেরকে এই অধঃপতন? একবারো কি ভাবনায় জাগলো না যে, মূর্তিতে ফুল দেয়া কোন পর্যায়ের কাজ, কাদের সংস্কৃতি? কোথায় অজান্তে বিক্রিত হয়ে যাচ্ছি আমরা!

মূলতঃ পৃথিবীতে প্রথম মূর্তিপূজার প্রচলনই ঘটেছিল কিছু সম্মানিত ও আল্লাহ্‌ওয়ালা মানুষকে স্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস থেকে। নবী নূহ আলাইহিস্ সালামের জাতিই হচ্ছে প্রথম জাতি যারা সর্বপ্রথম মূর্তিপূজা শুরু করেছে। আয়াদ্দ, সূয়া, ইয়াউস, ইয়াউক ও নসর ছিল তাদের মধ্যকার সম্মানিত ও আল্লাহ্‌ওয়ালা কিছু মানুষ। এদেরকে স্মরণীয় করে রাখতে তারা এঁদের মূর্তি তৈরী করে রেখেছিল। এসব মূর্তির পাশে তারা জমায়েত হত এবং মনে করত এদের ভালোমানুষী তাদেরকে আল্লাহ্‌র কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। কিন্তু কালক্রমে তাদের এই জমায়েত হওয়া রূপান্তরিত হয় ভক্তি-শ্রদ্ধায়, আর ভক্তি-শ্রদ্ধাগুলো রূপ নেয় ইবাদাতে এবং পর্যায়ক্রমে এদেরকেই তারা তাদের উপাস্য বানিয়ে নেয়। এই মূর্তিগুলোর কথা কুরআনে সূরা নূহের ২৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, আমাদের প্রতিবেশী হিন্দুরা যখন পূজা করে তখন কি করে? তারা তাদের দেবতাগুলোর মূর্তি তৈরী করে তা বিশেষ বিশেষ স্থানে স্থাপন করে, সেগুলোর সামনে একটি বেদী থাকে, সেখানে পূজার সময় তারা ফুল ছিটিয়ে দেয়, মূর্তির গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। তারপর তারা তাদের ধর্মগ্রন্থের মন্ত্র কিংবা কবিতা বা স্তুতিবাক্যাদি গেয়ে বা পাঠ করে তাদের পদ্ধতিতে হয়ত সিজদা করে, কিংবা মৌনব্রত পালন করে কিংবা অন্য কোন কায়দায় তাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালবাসা প্রকাশ করে তথা ইবাদাত করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে।

এবার দেখুন মূর্তির সামনে কি করে থাকে বাংলাদেশের মুসলমানগণ? এ পর্যন্ত যেসব মুসলমানের মূর্তি বানানো হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্ম কিংবা মৃত্যু দিবসে অথবা মূর্তির কাছাকাছি যেসব ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে সেসবে কি করা হয় বিভিন্ন নির্ধারিত দিবসে? সেখানে মধ্যরাতের পর থেকে কিংবা অন্য কোন সময় থেকে নিয়ে বেদী ধুয়ে মুছে, রঙ করে সেই বেদীতে ফুল ছিটানো হয়, মোমবাতি জ্বালানো হয়, মূর্তি কিংবা ভাস্কর্যের গলায় ফুলের মালা পরানো হয়। তারপর তাদের স্মরণে অথবা প্রশংসায় সংগীত পরিবেশিত হয়, কখনো শিল্পীর দ্বারা কখনো সকলেই খালি গলায়, কখনোবা হাতে হাত রেখে মৌন নিরবতায় স্মরণে এবং অবশেষে আরো নানা কায়দায় সমাপ্ত হয় এই বিনয় প্রদশর্ন, ভক্তি প্রদর্শন, শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও ভালবাসা প্রদশর্ন। পরন্তু দিনে দিনে আরো অভিনব কায়দা উদ্ভাবনের গবেষণা চলছে রীতিমত। একদিন হয়ত তা সিজদায় গিয়ে ঠেকতে পারে (নাউযুবিল্লাহ্)!

বলে রাখা জরুরী যে, আরবী ইবাদাত শব্দটি ইসলামী পরিভাষায় যে অর্থ প্রকাশ করে থাকে তা মূলতঃ এ তিনটি বিষয়ের সমাহার- পরিপূর্ণ বিনয়, পরিপূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধা ও পরিপূর্ণ ভালবাসা।

কি পার্থক্য থাকলো তাহলে হিন্দুধর্মের মূর্তিপূজার সাথে এসব ভাস্কর্য আর মূর্তির প্রতি সম্মাননা প্রদর্শনের মধ্যে? এর বিচারের ভার বিজ্ঞ পাঠকের উপরই ন্যস্ত করলাম।

এতদূর বিস্তারনের পর যে আকুল আবেদনে ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এ লেখকের মত মুসলিম বাংলার আরো বহু ব্যথিত অন্তর থেকে তাহলো, একটি বারের জন্যেও কি ভেবে দেখবেন না যে, আপনি একজন মুসলমান হয়ে কি করে এসব করে যাচ্ছেন? আপনি আপনার অন্তরে যে বিশ্বাস লালন করছেন, যে বিশ্বাসের আলোকে আপনি আপনার পরিচয় পেশ করছেন মানুষের কাছে যে-আপনি একজন মুসলমান-আপনার সে বিশ্বাসের সাথে এহেন গর্হিত মূর্তি নির্মাণ ও সেসবের পূজার মধ্যে সংঘর্ষ কতটা প্রবল! কখন সময় হবে আপনাদের এসব ভাবনার? কখন আপনাদের ঘুম ভাঙ্গবে? কখন এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মোহময় জাল ছিঁড়বে? এসবের জন্য কারা মরিয়া হয়ে উঠছে; সে কথা কি কখনো ভেবেছেন? যারা এদেশে নাস্তিক মুরতাদ হিসেবে স্বঘোষিত, তাদেরকেই সবচেয়ে বেশী তৎপর দেখবেন এসব মূর্তির হেফাযতে এবং সেসবের পূজার ক্ষেত্রে নানা কৌশল বের করে করে শেষ পর্যন্ত হিন্দুধর্মের মূর্তিপূজা পর্যন্ত পৌঁছানোতে।

বলতে পারেন, হিন্দুধর্মকে কেন টানছেন? এর জবাবে আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, পৃথিবী ব্যাপী এখন চলছে সংস্কৃতির লড়াই। এবং তা চলছে ইসলামী সংস্কৃতির সাথে অন্য সকল সম্মিলিত সংস্কৃতির। কুফরী শক্তি পরস্পর এ বিষয়ে একমত যে, ইসলাম ও মুসলমানদের নিষানা দুনিয়া থেকে মুছে ফেলতে হবে। আর সে পন্থা পূর্বেকার মত হত্যা করে নয়; বরং তা হবে পরিবর্তনের মাধ্যমে -এটাই তাদের পরিকল্পনা। তাই আপনি যতদিন নামায পড়বেন, ততদিন আপনার ম্যধে ইসলামী চেতনা অবশিষ্ট থাকবে, যখনি নামায ত্যাগ করে সাংস্কৃতিক উন্নয়নের নামে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হবেন, তখন আর আপনার মধ্যে ইসলামী চেতনা বেঁচে থাকবে না। তাই আপনার ভেতরকার ইসলামী চেতনাকে ধ্বংস করে দিতে পারলে আর আপনার দেহটিকে ধ্বংস করে শুধু হন্তারক সাজার কি প্রয়োজন? সংস্কৃতির এ যুদ্ধে একজন মুসলমানের সত্যিকারের মুসলিম হিসেবে বেঁচে থাকা নির্ভর করছে তার ইসলামী চেতনাবোধ বেঁচে থাকার উপর। সেটিকে দুর্বল করতে পারলে কিংবা সেটির মৃত্যু ঘটাতে পারলেই আপনাকে শত্রুরা মৃতের তালিকায় উঠিয়ে দিতে পারবেন নিশ্চিন্তে। কিন্তু তা কি এতই সহজ? না। কারণ, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে শত্রুরা শিখেছে যে, ইসলামের বীজ মুসলমানদের অন্তরের এতটাই গভীরে প্রোত্থিত থাকে যে, মৃত্যুও মুসলমানদের অন্তর থেকে তা উপড়ে ফেলতে পারে না!

সুতরাং আপনাকে আর হত্যা করে নয়; বরং আপনার ইসলামী চেতনাবোধকে হত্যা করেই আপনাকে পরাজিত করা এ যুদ্ধের রণকৌশল। তাই বাংলাদেশের মত একটি দেশের পটভূমিতে সংস্কৃতির বিপর্যয় ঘটানো যতটা সম্ভব তার প্রতিবেশীদের থেকে, প্রতিবেশীদের দ্বারা; ঠিক ততটাই অসম্ভব ও সুদূর পশ্চিম থেকে আটলান্টিক-প্রশান্ত পাড়ি দিয়ে নিয়ে আসা সংস্কৃতি থেকে, সংস্কৃতি দ্বারা। এ কৌশলের আলামত খুঁজলে দেখবেন যে, নাস্তিক-মুরতাদগুলো সর্বদা ধর্মের বিরোধিতা করে কিন্তু এ অঞ্চলে ইসলামের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মের ওকালতি করে। ইসলামের মোকাবেলায় তারা হিন্দু ধর্মকে অব্যর্থ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আমাদের হিন্দু ধর্মের প্রতিবেশীদেরও বুঝা উচিত এ বিষয়টি। পরন্তু পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার যত ধরনের কায়দা কানুন রয়েছে, সেগুলো তো আমাদের 'মহান সেবক সংস্থাগুলো' (!) (যারা স্ত্রীর ঋণের দায়ে স্বামীকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে আমাদের সেবা করে যাচ্ছেন; তারা) খুবই নিষ্ঠার সাথে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

তাই সর্বশেষে বলতে চাইছি যে, বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকা থেকে লালন শাহর মূর্তি সরানোটা যদি চাপের মুখে হয়ে থাকে, তবে চাপ সৃষ্টি করা সেসব মুসলমানদেরকে আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম জানানো উচিত এবং জানানো উচিত অভিনন্দন। আর যদি সরকার হাজ্জীদের বিষয়টি লক্ষ্য করে সরিয়ে থাকেন তবে সরকারকে এহেন মহতি উদ্যোগের জন্য এদেশের প্রায় তের কোটি মুসলমানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। এবং এ মুহূর্তে তৌহিদী জনতার জোর দাবী এই যে, বাংলাদেশের মত একটি বৃহৎ মুসলিম দেশে পর্যায়ক্রমে যে হারে মূর্তি নির্মাণ ও স্মরণ-সম্মানের নামে সেসবের পূজা করা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সরকারে উচিত আইন করে তার প্রতিরোধ করা। অন্যথা তৌহিদী জনতা যদি লালনের মূর্তির মত অন্যান্য মূর্তিগুলোর গলায় দড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করে, তবে সেজন্য সরকারই দায়ী থাকবে; এ দেশের তৌহিদী জনতা নয়।

ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেছিলেন: "আমি পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি মূর্তি ধ্বংসের জন্য।" তিনি যখন মদীনায় হিজরতের পরিকল্পনা করছেন, তখন তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে পাঠিয়ে মদীনার সকল উঁচু কবরগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন; যা কবর পূজার অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন কা'বা শরীফে প্রবেশ করে তাঁর হাতের লাঠির আঘাতে কাবাভ্যন্তরের ৩৬০ মূর্তিকে একটি একটি করে ভেঙ্গে ফেলছিলেন আর বলছিলেন যে, جَاء الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقاً "সত্য সমাগত এবং মিথ্যা বিতাড়িত, নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হবারই ছিল।" [সূরা আল-ইসরা: ৮১] সেদিন থেকে পবিত্র কা'বা শরীফ থেকে চিরতরে মূর্তি বিতাড়িত হয়েছিল।

প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাত হিসেবে বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠী এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান করছি- আপনারা পৃথিবীর এক দশমাংশ মুসলমানের অভিবাস এই বাংলাদেশ থেকে মূর্তি স্থাপন ও মূর্তি পূজার বিলুপ্তি ঘটান। এটা আপনাদের ঈমানী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। অন্যথা ঈমানের দাবী আল্লাহর নিকট ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ্ এদেশের মুসলমানদের হেফাযত করুন মূর্তিপূজার সংস্কৃতির কবল থেকে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: হিন্দু ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্মমত মূর্তিপূজা করবে, তাদের মন্দিরে মূর্তি স্থাপন করবে, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। এ প্রবন্ধে মুসলিম প্রধান দেশে সামাজিক ভাবে মূর্তি স্থাপন ও মূর্তিপূজা প্রসারের যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তার প্রতিবাদ করা হয়েছে।

-১৬ অক্টোবর ২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

ছবি: যায়যায়দিন-এর সৌজন্যে। http://www.jaijaidin.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28855527 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28855527 2008-10-16 15:26:23
@ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের সুনাম ও দালাল চক্রের পাঁয়তারা তিন দিকে ঘেরা এমন একটি দেশ বাংলাদেশকে ঘিরে আছে যে দেশে প্রতি বছর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বহু মানুষ প্রাণ হারায়। বহু নৃশংস ঘটনার সাক্ষী বিগত কয়েক দশকের ভারত। যেখানে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় শুধুমাত্র তার ধর্ম বিশ্বাসের কারণে। পৃথিবীর পথে আগমনকারী গর্ভের সন্তানও যেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। তেমন একটি দেশকে ঘিরে আছে যে বাংলাদেশ; পৃথিবীর বুকে সমকালীন বহু বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষায় যার সুনাম, সে আমার স্বদেশ বাংলাদেশ। স্বদেশী আর বিদেশী শত্রুদের জন্য যা এক মহা যন্ত্রণা! কেন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধে না? কেন বাংলাদেশ এই প্রশ্নে প্রশান্ত! এ এক আশ্চর্য বিষয় তাদের নিকট।
তারা তাদের এহেন যন্ত্রণার অবসান কল্পে সময় সময় কলম ধরে, উপশমের প্রচেষ্টায় প্রচুর "ধারণা" এবং টানাহেঁচড়া উদাহরণ পেশ করে প্রমাণ করার ব্যর্থ প্রয়াস চালায় যে, "বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিষ ঢুকেছে অনেক গভীরে...."। যদিও বিজ্ঞজনের মন্তব্য যে, তারা এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিষ ঢোকাতে সচেষ্ট এসবের মাধ্যমে। এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, অশান্ত হয় অত্যাচারের প্রতিরোধে, নিপীড়নের প্রতিবাদে আর কখনো বা প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বিক্রিত হয়ে। তারা সাধারণত ব্যঙ্গরচনায় সিদ্ধ হস্ত হয়। অবশ্য একটাও অনেকগুলো দুর্বল কৌশলের মধ্যে একটা দুর্বলতম কৌশল তাদের। যেমনটি কেউ আপনার গোপন তথ্য জেনে খোঁচা দিল আর আপনি নতুন কিছু শুনলেন মনে করে ব্যঙ্গোক্তি করে সেটাকে হালকা করার প্রয়াস চালালেন; কিন্তু না, সত্য এত সহজেই লুকিয়ে রাখা যায় না। অথবা শতটি মিথ্যা দিয়েও সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না।
প্রবাসী এক বিহারের (ভারতীয়) বাসিন্দা সেদিন খাবারে টেবিলে তোলা ভারতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গের আলোচনাকে শেষ পর্যন্ত শ্রোতাদের দীর্ঘশ্বাস আর তার না খেয়ে উঠে যাওয়ায় পরিণত করলো! তার ভাষ্যানুযায়ী, ভারতে তার এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভয়ে তারা জোরালো ভাষায় কথা বলতে পারে না, নিজেদের অধিকারে কথা তুলে ধরতে পারে না। তাদেরকে ঘৃণ্য-অস্পৃশ্য মনে করা হয়, তাদের অনুষ্ঠানাদিতে সবকিছু সীমাবদ্ধকরণ করা হয়, শিক্ষায় তাদের সন্তানদেরকে বিবিধ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, কখনো কখনো লুটতরাজ চলে মুসলিম বাড়ীগুলোতে। চাকুরীর প্রত্যাশায় বহু মুসলিম যুবক-যুবতী হিন্দু নাম ধারন করতে বাধ্য হয়। কোন হিন্দু মেয়ে মুসলিম যুবককে বিয়ে করলে তার প্রতিশোধ নেয়া হয় কঠোরভাবে আর কোন মুসলিম মেয়ে হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করলে তাকে হিন্দু বানিয়ে দিব্যি প্রটেকশন দিয়ে যাওয়া হয়। সর্বোপরি মুসলিম সম্প্রদায়ের উঠতি যুবাদের মধ্য থেকে যদি কারুর ব্যাপারে তাদের এই ধারনা হয় যে, এর দ্বারা তাদের যে যুলুম অত্যাচার চলছে তাতে ব্যাঘাত ঘটবে, তবে তাকে পুলিশেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তুলে নিয়ে যাবে এবং নির্জন কোন নদীর কিনারে নিয়ে গুলি করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়; যার ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমসহ সকল মাধ্যমই অন্ধ থাকে। এভাবেই বর্ণিত হলো কথায় কথায় তোলা একজন ভারতীয় পঞ্চাশোর্ধ নাগরিকের নিজেদের অবস্থার বর্ণনা!
অথচ সে তুলনায় দৃষ্টি দিন বাংলাদেশের দিকে, পৃথিবীর যে কেউ, যে কোন অবস্থান থেকে, আমাদের কোন আপত্তি নেই। বের করুন ভারতের মত দু'একটি উদাহরণ? এদেশে একই গ্রামে হিন্দু-মুসলিম এক সাথে বসত করে আসছে, একে অপরের বিপদে আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। হাটে-বাজারে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, লেন-দেনে, সেবা-চিকিৎসায়, কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে ব্যবধান আমার সোনার বাংলাদেশে? ভারতে যখন বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয়, উত্তেজিত যুবকেরা বাংলাদেশেও জোশের বশে তেমন কিছু করতে হয়ত চেয়েছিল, কিন্তু এদেশের ঐতিহ্য রক্ষায় তৎপর মুসলিম নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকগণ তা হতে দেয়নি। ভারতের মত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের এত জঘন্য ইতিহাসে পৃথিবীর ইতিহাসে নগন্য মিলবে। এই তো সেদিনের গুজরাটের দাঙ্গা পৃথিবীকে কাঁদিয়েছিল, আজো কাঁদাচ্ছে। সেসবের তুলনা তো বহু দূরের, বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নে, চাকুরীর ক্ষেত্রে কিংবা রাষ্ট্রীয় দপ্তরে ও রাজনৈতিক ময়দানে কোন হিন্দু এমন দাবী উত্থাপন করেছে বলে আজো কেউ শোনেনি যে, তাকে তার নাম পাল্টে মুসলিম নাম ধারন করতে হয়েছে শিক্ষার জন্য, চাকুরীর জন্য, শান্তিতে বসবাসের জন্য। এমন উদাহরণ কেবলমাত্র বাংলাদেশই দেখিয়েছে এতদ অঞ্চলে। ভারত সে তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কলংক!
কথায় কথায় "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যবসায়ী"রা একাত্তরে ঝাঁপ দেন। অবশ্য সে যুদ্ধাবস্থা ছাড়া তাদের কাছে আর কোন মজবুত তথ্যও নেই যে এ ব্যবসা চালিয়ে যাবে। একাত্তর প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয় যে, যুদ্ধ যুদ্ধই। সেখানে কেবলি ধ্বংস আর মৃত্যু। কতটুকু লংঘিত হয়ে যুদ্ধ আইন, সে বিচার বিবেচনা হয় পরিস্থিতি শান্ত হবারও বহু বহু পরে। তাই যুদ্ধাবস্থায় যাকিছু অঘটন ঘটেছে তা যুদ্ধের সাথেই সম্পৃক্ত। সে যুদ্ধে যদি প্রাধান্য পায় ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা কোনভাবে জড়িয়ে পড়ে ধর্মীয় চেতনাবোধ, তবে তো অবশ্যই ধর্মভিত্তিক ধ্বংসের শিকার হয়ে থাকে মানুষ। তাই যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী প্রমাণ করার দুর্বল প্রচেষ্টা সন্দেহাতীতভাবে ষড়যন্ত্র। যদি যুদ্ধাবস্থার মত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী পরিবেশ তৎপরবর্তী সময়েও বহাল থাকতো, তবে বাংলাদেশে হিন্দুদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যেত না ২০০৮ সালে এসে। কিন্তু অবস্থা কি তা আর বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না; সবকিছুই দৃষ্টির সীমানায় প্রকাশ্য।
দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় যা প্রতিটি সমাজেই বর্তমান। তা হলো, সমাজের দুষ্ট লোকগুলো। তারা যেমনি করে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে ছিল, যুদ্ধের সময়ও ছিল, তেমনি করে যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে নিয়ে আজো আছে এবং থাকবে। তারা আগেও যেমন লুটতরাজ, সন্ত্রাস করতো, যুদ্ধের সময়কে আরো সুবর্ণ সুযোগ মনে করে বেশী মাত্রায় করেছে এবং যুদ্ধের পর থেকে আজো করে যাচ্ছে। আর এ শ্রেণীর অত্যাচার নিপীড়নের কাছে মুসলিম হিন্দু খৃষ্টানের কোন বাছবিচার নেই। এরা অপরাধী, অপরাধের ক্ষেত্র পেলেই তাতে লিপ্ত হচ্ছে। সুতরাং এদের কৃতকর্ম থেকে হিন্দু নাগরিকেরা যে পরিমাণ অত্যাচারিত হয়েছে, সে উদাহরণ দিয়ে যদি প্রমাণ করার অপচেষ্টা করা হয় যে, বাংলাদেশ সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, তবে তা হবে রীতিমত জুচ্চোরী।
এবার আসা যাক- কেন বাংলাদেশ এই সুনামের অধিকারী? তার আগে দেখতে হবে কাদের থেকে এই নিরাপত্তা পাচ্ছে কিংবা কারা এই সুনামের ভাগীদার হচ্ছে? এ জবাবে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৮৫% এর নামটিই আসতে পারে কেবলমাত্র, অর্থাৎ মুসলিম। তাহলে এবার দেখা যাক কি আছে এই সম্প্রদায়ের কিংবা এই ধর্মের মধ্যে যার কারণে মুসলমানগণ অন্য ধর্মের মানুষদের প্রতি এতটাই সহনশীল যে, ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেললো? ইতিহাস সাক্ষী, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক বিচারের জন্য মুসলিম আসলো, বিবাদটি ছিল ইয়াহূদীর সাথে, বিচারে আল্লাহর রাসূল রায় দিলেন ইয়াহূদীর পক্ষে, সে রায় সে মুসলিমের পছন্দ হলো না বলে সে গেল উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর কাছে। উমার আল্লাহর রাসূলের ফয়সালার পর তার নিকট ফয়সালার জন্য যাওয়াতে সে মুসলিমের শিরোচ্ছেদ করে ফেললো এই বলে যে, যে ব্যক্তি স্বয়ং আল্লাহর নবীর ফয়সালার পর উমারের কাছে আসে বিকল্প ফয়সালার জন্য, তার ফয়সালা করতে হয় এভাবেই!
ইসলামের খলীফা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কোন জিনিস চুরির অপরাধে ইয়াহূদীর বিপক্ষে খলীফা সাক্ষী আনলেন নিজের চাকরকে, হতভম্ব পৃথিবী সেদিন দেখেছিল, খলীফার শাসন ব্যবস্থার অধীন চাকুরীরত কাযী স্বয়ং খলীফার আনীত সাক্ষীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন নিজের একান্ত গোলাম বলে, যার সাক্ষীকে বাদীর জন্য যথার্থ বিবেচনা করেননি এবং রায় ইয়াহূদীর পক্ষে গেল। খলীফা বিচার মেনে নিলেন। এভাবেই মুসলমানদের জীবন ব্যবস্থা ও সোনালী ইতিহাস থেকে এই সম্প্রদায় শিক্ষা নিয়েছে কিভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষা করতে হয়।
সর্বেশেষে এই আশার কথা ব্যক্ত করে শেষ করছি যে, এত সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র, মিথ্যা প্রচারণা, অর্থ ব্যয় ইত্যাদির পরও এদেশের মানুষের ধৈর্য্য ও সহ্যের কাছে হার মেনেছে দালাল গোষ্ঠী। আল্লাহ্ বাংলাদেশকে রক্ষা করুন সাম্প্রাদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা থেকে এবং এই সুনাম আরো বিস্তৃত হয়ে চলে যাক কেয়ামত পর্যন্ত -এই প্রার্থনা হোক প্রতিজন বাংলাদেশী মুসলিমের।

গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার একটা ভয়ংকর ছবি দিয়েছিলাম, আসেনি বা আসতে দেয়া হয়নি। ভালোই হয়েছে, মনটা খুব খারাপ হলো ছবিটি দেখে। এখন তুলে দিয়েছি, শুধু লিংকটা রাখলাম, যারা দেখতে চান দেখে আসতে পারেন।
ছবি কৃতজ্ঞতা: Click This Link bodies of muslims.jpg]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28852809 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28852809 2008-10-09 22:19:16
@ ঈদ এবং প্রবাসীর 'আনন্দ'! www.sonarbangladesh.com এর ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
এ মহাবিশ্বে বিস্তৃত থকথকে অন্ধকারের মাঝে যেমন আলোক বিচ্ছুরণকারী নক্ষত্রেরা বিরাজমান, তেমনি আমাদের জীবন জোড়া দুঃখ-বেদনার মাঝে হরেক রকম খুশী-আনন্দ বিরাজমান। বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু আনন্দ দরকার, ভূমিগুলো যেভাবে নক্ষত্রের আলোতে উদ্ভাসিত হয় সেভাবেই সেটুকু আনন্দের সমাহারে উল্লাসিত হয় এখানে জীবনের কাফেলা। হরেক রকম আনন্দের মাঝে কিছু তো একান্ত ব্যক্তিগত, আপনার মাঝে আপন ভুবনে আপন মনেই হেসে হেসে তা উপভোগ্য হয়ে থাকে। এছাড়া রয়েছে প্রিয়জনের সাথে ভাগাভাগি করা আনন্দ, পারিবারিক উৎসব, সামাজিক প্রথা, আঞ্চলিক রীতি রেওয়াজ ইত্যাদি। এসবের বাইরেও ধর্মভেদে মানুষদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু আনন্দঘন মৌসুম অথবা দিনের আয়োজন। যেসবে একাধারে চিত্তে আসে বিনোদোন, অন্তরে আসে প্রশান্তি, চরিত্রে যুক্ত হয় উদারতা, উত্তম ব্যবহার, জাগতিক নির্মোহতার মাত্রা উচ্চকিত হয়ে যেখানে ভুলে যেতে সচেষ্ট হয় মানুষেরা নিজেদের মধ্যকার উঁচুনীচের ভেদাভেদ, বুকে বুক মিলিয়ে ধুয়ে মুছে ফেলে অতীত দিনের সকল মনমালিন্য; মুসলিম জীবনে তেমনি এক আনন্দ উৎসবের নাম 'ঈদ'।

ঈদ আসে বছরে দু'বার- রমজানের শেষে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে 'ঈদুল ফিতর' বা রোযার ঈদ আর যিলহজ্জের দশ তারিখে ত্যাগের মহিমায় হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যকে উদ্ভাসিত করে অনুষ্ঠিত হয় 'ঈদুল আযহা' বা কুরবানীর ঈদ। দীর্ঘ একটি মাস রোযা রাখার পর পশ্চিমাকাশ জুড়ে ঈদের বাঁকা চাঁদটি দেখার জন্য অপেক্ষমান থাকি আমরা সবাই; আমাদের মাঝে এখন সে আনন্দক্ষণ উপস্থিত। যেন পৃথিবীর চৌকাঠে কখন শব্দ হবে ঠক্ ঠক্ ঠক্... সে অপেক্ষায় নতুন পোষাক সাজিয়ে, আতর গোলাপ মেখে তৈরী হয়ে থাকি ঈদ উদযাপনের জন্য। কি পবিত্রতায় পরিপূর্ণ মুসলিম সমাজের এই ঈদ আনন্দ! সাধ্যানুযায়ী পবিত্র হয়ে প্রতিজন মুসলিম ছুটে চলে ঈদগাহের পানে। সেখানে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে তাদের পরম প্রিয় প্রভূ বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি পরিপূর্ণ ভালবাসায়, বিনয়ে এবং ভয়ে। প্রতিটি ঈদের নামাযই ঈদের চূড়ান্ত ক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে আনন্দের ভাগাভাগিতে স্তিমিত হয় ঈদের আনন্দ-রবি। আর এ আনন্দকে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে ঈদের দিন ও ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত। যদিও এ তিন দিনের ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে রোযা রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে কুরবানীর ঈদের পরবর্তী তিন দিনের বেলায় আর রোযার ঈদে শুধু ঈদের দিনটি।

'ঈদ' এ শব্দটি একটি উৎসবের নাম হিসেবে পরিচিতি পেলেও এটি একটি ইবাদাত, যা মুসলিম সমাজ তাদের প্রতিপালক আল্লাহ্ তা'আলার আদেশে পালন করে থাকে। ঈদ নামক এ আনন্দঘন উৎসবে শরীয়ত সম্মত অনুষ্ঠানাদির সাথে সাথে অঞ্চলভেদে বেশ কিছু রীতি জড়িয়ে পড়েছে যা আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে এসেছে। এসবের মধ্যেও কিছু কিছু বিষয় তো অবশ্যই বর্জনীয় যেমন- ইসলামী শরীয়তে বর্জনীয় গান-বাজনা, চলচিত্র, নাটক, রেডিও-টিভির অনুষ্ঠানাদি, বই-পুস্তকের প্রকাশ, প্রদর্শন, দর্শন ইত্যাদি এবং ইসলাম সম্মত উক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই গ্রহণীয় এবং বৈধ। এসব ছাড়া জীবনাচারের এমন কিছু দিক ঈদ নামক মুসলমানদের এ উৎসবের সাথে যুক্ত হয়েছে, যে ব্যাপারে ইসলাম নিষেধ করেনি; বরং এতে পারিবারিক, বংশীয়, আত্মীয়তা এবং প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কে উন্নয়ণ ঘটে।

তেমনি কিছু ব্যাপার আমাদের অঞ্চলে বিশেষ গুরুত্বের সাথে প্রচলিত রয়েছে। সেসবের মধ্যে রয়েছে- পরিবার, বংশ, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবার সাথে ঈদের দিনে সাক্ষাত করা, সালাম বিনিময় করা, মনমালিন্য থাকলে ঈদ উপলক্ষে কোলাকুলির মাধ্যমে তার অবসান ঘটানো, একে অন্যের বাড়ীতে গিয়ে মিষ্টিমুখ করা; এমনকি প্রতিবেশীর সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বা অন্যকোন বিবাদ মীমাংসার আয়োজন (কেননা, ঈদ উপলক্ষ্যে সবাইকে একত্রে পাওয়া যায়) এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পাদন ইত্যাদি ব্যাপারগুলো খুব সহজেই সম্পাদিত হয় ঈদকে কেন্দ্র করে। এছাড়াও পারিবারিক পর্যায়ে কর্তা গুরুজনদের জন্য, নিজেদের জন্য এবং ছোটদের জন্য বছরের অন্য সময়গুলোতে কেনা হোক বা না হোক, ঈদে তো অবশ্যই নতুন পোষাক কিনে থাকেন। এটা যেন ঈদের জন্য অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে, যদিও ইসলামে এ ব্যাপারে কোন বাধ্যবাধকতা রাখেনি। ব্যক্তিবিশেষে নতুন পোষাক ক্রয় করা এবং কোলাকুলি করাকে বাধ্যতামূলক ভাবার কারণে সতর্ক আলেমগণের কেউ কেউ এ দু'টি বিষয়ে অনুৎসাহিত করে থাকেন। অবশ্য শুধু আনন্দের ভাগাভাগির জন্য এবং প্রচলিত তাই করছি এ হিসেবে পালিত হলে এবং বাধ্যতামূলক মনে না করে পালন করলে কোন দোষ হবার কথা নয়। তবে এ দু'টো বিষয়কে ঈদের ইবাদাত হিসেবে মনে করা এবং এ থেকে সওয়াবের আশা যুক্ত করে বাধ্যতামূলক মনে করলেই দোষনীয় হতে পারে।

আমাদের প্রবাসীদের ক্ষেত্রে বিশেষ যে দিকটি, তা হলো আমরা ঈদের এই আনন্দ ভাগাভাগি থেকে বঞ্চিত থাকি। আর তাই ঈদের শরীয়ত নির্দেশিত বিধি বিধান পালন শেষে, অর্থাৎ নামায শেষে আমাদের জন্য আর কিছুই বাকী থাকে না। খুব বেশী পরিশ্রান্তরা ঘুমিয়ে পড়েন আর অতি উৎসাহীরা কিছু আনন্দ খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন প্রবাসী কোন আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিত মুখেদের সাথে সাক্ষাৎ করতে। কিন্তু দুধের সাধ যেমন ঘোলে মেটে না, তেমনি আমাদের আনন্দগুলো কষ্টে রূপান্তরিত হয়ে যায় আর কষ্টগুলোকে লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করি একটা বিষাদীয় হাসির আড়ালে। অবশ্য যারা সপরিবারে প্রবাসী তাদের ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন হবার কথা, তবে কখনোই পরিপূর্ণ স্বদেশী সুখ নেই, কেননা বৃহৎ পরিবার, আজন্ম দেখা প্রতিবেশী ও স্বজনদের থেকে দূরত্ব সে সুখের একটা বিরাট অংশ কেড়ে নিয়েছে। একটা নতুন জামা কিনে দেয়ার পর সন্তানের মুখের যে হাসি, একাকী পৃথিবীর আর কোথায় তা পাওয়া যাবে? মনে পড়ে, ছেলেবেলায় নতুন জামা পাবার একটা মৌসুম ছিল ঈদ। কিন্তু প্রবাসে সেসবের কথা মনে থাকে না, প্রয়োজন হলে নতুন কেনা হয়, তাতে কোন আলাদা আনন্দ থাকে না। মাথার উপর গুরুজনের বুলানো হাতের স্পর্শ কত অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা যাবে? ছেলেবেলায় গুরুজনদের সালাম করে করে পকেট ভারী করার পাওনাটা আজো অসামান্য মনে হয়। আনন্দিত প্রহরগুলোতে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার আনন্দ ভাষায় সর্বদাই অপ্রকাশিত থাকে। এ ধারার বঞ্চনা আমাদের প্রবাসীদের জন্য খুব স্বাভাবিক, তাই কেউ কাউকে বলি না, বলতে পারি না অথবা বলা যায় না; কেবল নিজের মনে নিজের ভুবনে নিজেই পুড়তে থাকা হয়।

আর সব প্রবাসীদের মত আমিও ব্যক্তিগত জীবনে প্রবাসের ঈদগুলোতে তাই তেমন কোন উল্লেখযোগ্য স্মৃতি খুঁজে পাচ্ছি না; সবগুলো ঈদই গতানুগতিক, সুতোয় গাঁথা মালা যেমন। অথবা তসবীহর দানার মত সময় গুণে গুণে আঙ্গুলের ওপাশটায় এসেছিল আবার সুতো বেয়ে মিশে গেছে নিচের দানাদের সাথে একাকার হয়ে। যাকিছু স্মৃতি, কল্পনার পটে আঁকা অতীত দিনের বাস্তব চিত্র, তা কেবলি ছেলেবেলা এবং কৈশর পেরোনো দিনগুলোতে। এরপরের প্রবাস জীবনের অনেকটাই ঊষর মরু প্রান্তরের মত উষ্ণ বেদনা আর ধূসরতায় ভরপুর। তবে সার্বিকতায় প্রভুর প্রশংসার স্বতঃস্ফূর্তায় কোন কাপর্ণ্যের সুযোগ নেই, আলহামদুলিল্লাহ্। পৃথিবীর মানদণ্ডে অনেক ভালো আছি।

শহুরে ঈদের একটি চাঁদরাতের কথা মনে পড়ছে খুব। আমি আর আমার বন্ধু মিলে আমার পরিবার ও তাদের পরিবারের জন্য ঈদের পোষাক কেনার জন্য বেরিয়েছিলাম ঈদের আগের দিন দুপুরে। তখনকার দিনগুলোই ছিল এমন যে, বেরুনোটাই বড় কথা, কোথায় যাবো, কি করবো, সেসবের কোন পরিকল্পনা আগে থেকে থাকতো না আমাদের। কেনাকাটা করতে করতে রাত বারোটা কি একটা করে ফেল্লাম। বাসায় ফিরে দেখি গ্রাম থেকে আসা বন্ধুর এক দুসম্পর্কীয় ভাগ্নের জন্য কিছু কেনা হয়নি। কি করা, গুরুজনদের জন্য ছিল মহামুশকিল আর আমাদের জন্য দারুন এডভেঞ্জার; বেরিয়ে পড়লাম রাত আড়াইটায়, গুলিস্তানের দোকানগুলো খুঁজে পেতে তার জন্য পোষাক কিনে ফিরলাম শেষ রাতে। অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দটা সেদিন হয়ত তেমনটি বুঝিনি, কিন্তু এখন পুরোপুরি উপলব্দি করছি।

ঈদ মানেই আনন্দ, আর এ আনন্দ তখনি পরিপূর্ণ হয় যখন ধনী-গরীব, স্বজন-প্রতিবেশী, সুসম্পর্ক-দুসম্পর্ক ইত্যকার ভেদাভেদ ভুলে সবাই একাকার হয়ে যায়। অন্যের তরে নিজের সম্পদ বিলিয়ে দেয়া শিক্ষা দেয় আমাদেরকে ঈদুল ফিতর, যার বাস্তবতা ঈদের আগে আগে হকদারদের নিকট ফিতরা পৌঁছে দেয়া। ত্যাগেই আনন্দের পরিপূর্ণতা আসে, দাতা তা দেখতে পান অন্যের হাসিতে, অন্যের সুখে। স্বার্থপরতার বিপরীত উদারতা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যতার এক অনুপম শিক্ষা নিয়ে বছর বছর আমাদের দুয়ারে এসে আন্দের নাকাড়া বাজায় ঈদ। আমরা কি সাড়া দেব না? দেয়া প্রয়োজন পরিপূর্ণ উৎসাহে, উদ্দিপনায়, আনন্দে; জীবনের জন্য, জগতের জন্য, আনন্দের জন্য।
মদীনা মুনাওয়রা, সউদী আরব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28850668 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28850668 2008-10-03 19:27:12
@ প্রিয় রাসূলের পন্থায় ঈদ উদযাপন ঈদ অর্থ ফিরে আসা। আমাদের জীবন জোড়া আনন্দগুলোর মধ্যে খুব কম সংখ্যকই বার বার ফিরে আসে। অথচ ঈদ এর ব্যতিক্রম। বার বার এ আনন্দ ফিরে ফিরে আসে বলেই এর নামকরণ হয়েছে ঈদ বা ফিরে ফিরে আসা খুশী। দয়াময় আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের জন্য বছরে দু’টি ঈদের বন্দোবস্ত করেছেন তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করে দেখলেন, মদীনাবাসীরা দু’টি ঈদ পালন করছে। তা দেখার পর তিনি বললেন: (জাহেলিয়াতে) তোমাদের দু’টি দিন ছিল যাতে তোমরা খেলাধুলা করতে। এক্ষণে ঐ দিনের পরিবর্তে আল্লাহ্ তোমাদেরকে দু’টি উত্তম দিন প্রদান করছেন; ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিন।” [সহীহ্ আবূ দাউদ (আলবানী): ১০০৪, নাসায়ী: ১৫৫৫] মুসলিম জীবনে বাৎসরিক এ দু’টি ঈদ ছাড়াও আরো একটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন রয়েছে যা শুক্রবার।
ইসলামী জীবন ধারায় ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ খুশী নিহিত রয়েছে তার প্রভু আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি বিধানে। যার চর্চা ইসলামের বাইরে আর কোথাও দেখা যায় না। পূজা উৎসবসমূহ, নওরোজ, ক্রিসমাস ডে, ভালবাসা দিবস, জন্ম দিবস, বিবাহ বার্ষিকী ইত্যকার নানা উৎসবের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নানা প্রকার এবং তার সবগুলোই জাগতিক কোন দেনা-পাওনার হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। কিন্তু মুসলিম জীবনাচারের সবটুকু যেহেতু এই পৃথিবীই নয়; বরং তাদের জন্য পৃথিবী এক স্বল্পকালীন কর্মক্ষেত্র, তাই এ কর্মক্ষেত্রের একামাত্র উদ্দেশ্য এবং সর্বোচ্চ সাফল্য হলো তারা তাদের প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করবে। আর তা সম্ভব তাদের প্রভু আল্লাহর বিধান মোতাবেক শুধুমাত্র তাঁরই জন্য জীবনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত করবে তাঁরই প্রেরিত রাসূলের দেখানো পন্থা-পদ্ধতি অনুযায়ী। মূলত এতেই লুকিয়ে রয়েছে মুমিনের অন্তরের খুশী, আনন্দ। মুমিন তার স্রষ্টার আদেশ পালনের পর যে সওয়াব অর্জন করে থাকে এবং তার প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জন করে থাকে, তা-ই তার জন্য সবচেয়ে বড় খুশী বা বড় ঈদ যা বার বার তার জীবনের ফিরে ফিরে আসে এবং তাতেই তার সবচেয়ে বেশী খুশী হওয়া উচিত। আল্লাহ্ বলেন:
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ [سورة يونس: 58]
“আপনি বলুন, আল্লাহর এই অনুগ্রহ ও করুণা নিয়েই তাদেরকে খুশী হওয়া উচিত। আর তারা যা পঞ্জীভূত করে তা (অর্থাৎ দুনিয়া) অপেক্ষা এটি উত্তম।” [সূরা ইউনুস: ৫৮]
এখানেই ব্যবধান মুসলিম এবং অমুসলিমদের ঈদ বা আনন্দের ধারনায়। মুসলিমের আনন্দ হয় তাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ লাভে, করুণার প্রতিশ্রুতিতে। আর অমুসলিমদের ঈদ বা আনন্দগুলোর অধিকাংশই তাদের নিজেদের মনগড়া বা নিজেদেরই তৈরী। তাই তাতে যেমন খুশী তেমন কিছু করতে কোন দ্বিধা নেই; বরং তাতে নানা পরিবর্তনের পর পরিবর্তন এসে একসময় মূলত্বই হারিয়ে ফেলে। মুসলিম তা হারায় না, কেননা তার জন্য আনন্দও একটি ইবাদাত। যেমনটি চতুর্থ খলীফা আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলতেন: “যেদিন আমি আল্লাহর কোন নাফরমানী করি না, সেদিনই আমার জন্য ঈদ।”
মুসলমানগণ তাদের ঈদের দিনে প্রধান যে কাজটি করে সর্বোচ্চ আনন্দিত হয়, তা হচ্ছে ঈদের নামায। ইসলামী সংস্কৃতিতে ঈদের নামাযের প্রচলন শুরু হয় প্রথম হিজরীতেই। এ নামায দু’রাকা‘আত। হুকুমের ক্ষেত্রে কিছু মতপার্থক্য হয়েছে- কারো কারো মতে এটি ওয়াজিব আবার কারো কারো মতে সুন্নাতে মুআক্কাদাহ্ এবং দু’পক্ষেরই মজবুত দলীল রয়েছে। সে বিতর্কে না গিয়ে বাৎসরিক এ আনন্দের দিনের সর্বোচ্চ খুশীর কার্য নামায আমার আদায় করে ফেলি, তাতেই আনন্দ, তাতেই আন্তরিক প্রশান্তি এবং তাতেই সাফল্য নিহিত।
ঈদের নামাযের জন্য গোসল করা:
ঈদের দিনে নতুন জামাকাপড়, আতর গোলাপজল, নানা প্রকার মিস্টি-পায়েস ও সুস্বাদু খাবারের সমাহারে অমুসলিমদের আনন্দ দিনের ন্যায় যেমন ইচ্ছে তেমন করার কোন সুযোগ নেই ইসলামে। বরং মুসলিম জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন খোদাই রয়েছে বিধানের পটে আর মুমিন ব্যক্তি তা দেখে দেখে ফেলবে প্রতিটি সফল পদক্ষেপ। তাই ঈদের দিনের আদাব সম্পর্কে ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত যে, “তিনি ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাবার জন্য গোসল করতেন”। [মুয়াত্তা মালেক: ৪২৮]
মিষ্টি বা খেজুর খেয়ে ঈদুল ফিতরের নামাযে যাওয়া:
এছাড়াও সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: “ঈদুল ফিতরের সুন্নাত হলো ৩টি- পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া, যাওয়ার আগে কিছু খাওয়া এবং গোসল করা।” [ইরওয়াউল গালীল, আলবানী: ৩/১০৪]
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: “রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর খাওয়া ব্যতীত ঈদগাহে যেতেন না। আর তিনি বেজোড় খেজুর খেতেন।” [বুখারী: ১/৪০২, নং-৮৯৯]
নতুন বা পরিস্কার পোষাকে ঈদের নামাযে যাওয়া:
তারপর নতুন কিংবা পরিস্কার উত্তম কাপড় পরে ঈদের নামাযে যাওয়া মুসলমানদের নবীর সুন্নাত। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত যে, “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে একটি লাল রঙা চেককাটা কাপড় পরতেন।” [সিলসিলা সহীহ্, আলবানী: ১২৭৯] “ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ঈদের দিনে তার সবচেয়ে বেশী সুন্দর পোষাকটি পরিধান করতেন।” [বায়হাকী: ৩/২৮১]
ঈদগাহে যাওয়া আসার সুন্নাত:
আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: “ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নাত।” [সহীহ্ সুনানে ইবনে মাজাহ্: ১০৭১] আনন্দকে একটু একটু করে অনুভবের আনন্দই আলাদা। পথে পথে প্রতিবেশী, স্বজনদের সাথে সাক্ষাত আর আতর-গোলাপের সুগন্ধে মৌ মৌ করা চারদিকের এত শোভা সৌন্দর্য তখনি পাওয়া যাবে যদি ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহর রাসূল পায়ে হেঁটে গিয়েছেন, তাই আমাদের জন্যও এ সুন্নাতের অনুসরণ করা উচিত।
এছাড়া ঈদগাহে যাওয়া আসার রাস্তায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবর্তন এনেছেন। আর জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: “নবীসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়া ও আসার রাস্তা পরিবর্তন করতন।” [বুখারী: ১/৪১৪, নং-৯২৯]
মুসলিম মহিলারা ঈদ গাহে গিয়ে ঈদের নামায আদায় করতে পারবেন:
ইসলাম উদার এবং পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের আনন্দে জামায়াতের সাথে সালাত আদায় করার ব্যাপারে উম্মাতের মহিলাদেরকেও অনুমতি প্রদান করেছেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কন্যা ও স্ত্রীদেরকে উভয় ঈদে ঈদগাহে বের হতে আদেশ দিতেন”। [আহমাদ: ১/২৩১]
তাকবীর দেয়া:
রোযার শেষ দিন সূর্যাস্ত যাওয়ার পর থেকে নিয়ে ঈদের নামায শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করা বিধেয়। আল্লাহ্ বলেন:
وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
“যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন তার জন্য তোমরা আল্লাহর তাকবীর পাঠ কর এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।” [সূরা আল বাকারা: ১৮৫] পবিত্র রমজান মাসের দীর্ঘ একমাস যাবৎ ইবাদাতের প্রতিদান এমন যে, তা অন্যকোন মাসে লাভ করা সম্ভব নয়। এমনকি এ মাসে এমন এক রাত আল্লাহ্ আমাদেরকে দান করেছেন যা হাজার মাসের চাইতে উত্তম। তাই তাকবীরের মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসাকে উচ্চকিত করা উচিত এবং এর দ্বারা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ আল্লাহ্ আমাদের জন্য সৃষ্টি করে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ্।
এ তাকবীরের হুকুম হলো: এ তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব, তবে একবার পাঠ করলেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। [ইবনে হাযম: ৫/৮৯]
আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতে করতে উভয় ঈদে বের হতেন। [সহীহুল জামেঈস সগীর, আলবানী: ৪৯৩৪]
এ তাকবীরের শব্দাবলী সম্বলিত বেশ কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়, এখানে একটি বর্ণনা তুলে দিলাম। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাকবীর পাঠ করে বলতেন:
الله أكبر، ألله أكبر، لاإله إلا الله والله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد .
“আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ্।” [ইবনে আবী শাইবাহ্: ৫৬৫০, ৫৬৫২]
খোৎবা শোনা:
খোৎবা শোনা মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেননা তাতে দ্বীন এবং দুনিয়ার পরিস্থিতির আলোকে দিকনির্দেশনা বিদ্যমান থাকে। তবে ঈদের খোৎবার হুকুম জুম’আর খুৎবার মত ওয়াজিব পর্যায়ের নয়; বরং তা সুন্নাত। এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ্ বিন সায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈদের নামাযে উপস্থিত ছিলাম। নামায শেষ করে তিনি বললেন: “আমরা খোৎবা দেব, সুতরাং যে ব্যক্তি খোৎবা শোনার জন্য বসতে পছন্দ করে সে বসে যাক্। আর যে ব্যক্তি চলে যেতে পছন্দ করে সে চলে যাক্।” [সহীহ্ আবূ দাউদ, আলবানী: ১০২৪, সহীহ্ ইবনে মাজাহ্, আলবানী: ১০৬৬, হাকেম: ১/২৯৫] সর্বোপরি আমরা সর্বোতভাবে সচেষ্ট থাকবো সামান্য ত্রিশ মিনিট বা ততোধিক সময় খোৎবা শোনায় ব্যয় করার জন্য।
পরস্পরকে মোবারকবাদ জানানো:
ঈদে এক মুসলমান অপরকে মোবারকবাদ জানাবে। এ প্রথা সাহাবাদের যুগ থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে। জুবাইর বিন নুফাইর বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ ঈদের দিন একে অন্যের সাথে সাক্ষাত হলে বলতেন: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনক্’।” [ফাতহুল বারী: ২/৫১৭] তথাপি আঞ্চলিক ভাবে প্রচলিত মোবারকবাদের শব্দাবলী দিয়ে মোবারকবাদ জানানো যেতে পারে, কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে যেন তাতে কোন ইসলামে বর্জনীয় শব্দ বা বিজাতীয় শব্দাবলীর অনুপ্রবেশ না ঘটে। তবে খাস করে ঈদী কোলাকুলি শরীয়ত বিধেয় নয়। যেমনটি ঈদের দিন কবরস্থানে গিয়ে কবর যিয়ারতকে বিদ’আত বলেছেন আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী। [আহকামুল জানায়েয, আলবানী: পৃ২৫৮, মু‘জামুল বিদা‘: পৃ১৫৪]
ঈদের আনন্দ, খুশী প্রকাশ মুসলিম ঈদ আনন্দের এ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ। আর ইসলামও এতে নিষেধ করেনি, তবে শর্ত হলো সেসবের সবগুলোই ইসলামের মৌলিকতা ও বিধি-নিষেধের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: “ঈদের দিন হাবশীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে যুদ্ধাস্ত্র (বর্শা) নিয়ে খেলা করত। কখনো বা আমি তাঁর(আল্লাহর রাসূলের) কাছে ঐ খেলা দেখতে চাইতাম। আর কখনো বা তিনি নিজে বলতেন: তুমি কি দেখতে চাও? আমি বলতাম: হাঁ। তারপর তিনি আমাকে আমার হুজরার দরজায় তাঁর পেছনে দাঁড় করাতেন। আমি (তাঁর আড়াল থেকে) তাঁর কাঁধের উপর দিয়ে ঐ খেলা দেখতাম। তিনি তাঁর কাঁধকে নিচু করে দিতেন আর আমার গাল তাঁর গালের সাথে লেগে যেতেন। নিজ চাদর দিয়ে আমাকে পর্দা করতেন। আর খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলতেন: সাবাস্! হে বনী আরফিদাহ্! আর ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের খেলা দেখতাম যতক্ষণ না আমি তা দেখা বন্ধ করতাম এবং দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। তখন তিনি প্রশ্ন করতেন: যথেষ্ট হয়েছে? আমি বলতাম: হাঁ। তিনি বলতেন: অতএব চলে যাও।” সুতরাং তোমরা আন্দাজ কর খেলা-প্রিয়া উদীয়মানা নব কিশোরীর খেলার প্রতি আগ্রহ কত। [আহমাদ, বুখারী: ৯৫০, ৫২৩৬, মুসলিম: ৮৯২, নাসায়ী]
আর সেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মদীনার ইয়াহুদ জেনে নিক যে, আমাদের দ্বীনে উদারতা আছে (এবং সংকীর্ণতা নেই)। নিশ্চয়ই আমি সুদৃঢ় উদার দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছি।” [আহমাদ: ৬/১১৬, সিলসিলাহ্ সহীহ্, আলবানী: ৬/২/১০২৩]
আমাদের এ দ্বীন অনেক উদার, তবে এত উদারতার পরও যদি কেউ সীমালংঘন করে তবে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির সংবাদ। আল্লাহ্ আমাদের হেফাযত করুন ঈদের দিনে মুক্তি প্রাপ্ত অশ্লীল সিনেমা, নাটক, অনৈসলামিক গান-বাজনা, নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশা ও এ জাতীয় অনুষ্ঠানাদিতে অংশ নেয়ার মত পাপাচার থেকে। আনন্দ যেন পৃথিবী থেকে নিয়ে আমাদের অনন্ত পর্যন্ত বিরাজিত থাকে।

লেখাটি www.fazleelahi.com থেকেও পড়তে পারেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28849998 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28849998 2008-10-01 09:56:15
@ রমজান: কুরআন নাযিলের মাস এই সেই কিতাব; আল কুরআন! এটি যাঁর পবিত্র বাণী সেই আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَان
“রমাদান মাস; এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে।” [সূরা আল বাকারাহ্: ১৮৫]
ইবনে কাসীর এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, এ মাসেই আল্লাহ্ তা’আলা অন্যান্য আম্বীয়ায়ে কেরামের উপর গ্রন্থ অবতীর্ণ করেন। ইমাম আহমাদ বলেন: ....আবূ সাঈদ আমাদের নিকট এই হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইবরাহীম (আলাইহিস্ সালাম)-এর সহীফা রমজানের প্রথম রাতে, তাওরাত রমজানের ছয় তারিখে, ইঞ্জীল রমজানের তের তারিখে ও কুরআন রমজানের চব্বিশ তারিখে অবতীর্ণ হয়।” এছাড়াও জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত আছে যে, “যবূর রমজানের বার তারিখে ও ইঞ্জীল আঠারো তারিখে এবং অন্যগুলো পূর্বোক্ত তারিখে অবতীর্ণ হয়।”
ইবনে মারদুবিয়া বলেন: সহীফাসমূহ, তাওরাত, যবূর ও ইঞ্জীল সংশ্লিষ্ট নবীর উপর একবারেই নাযিল হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআন একবারে নাযিল হয়েছে পৃথিবীর আকাশের ‘বাইতুল ইয্যাত’-এ, এবং তা রমজানের লাইলাতুল কাদর-এ অবতীর্ণ হয়। যেমনটি আল্লাহ্ বলেন: إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ “আমি একে মহিমান্বিত রাতে অবতীর্ণ করেছি”। তারপর তা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বিভিন্ন ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে পৃথক পৃথক ভাবে নাযিল করা হয়। [ইবনে কাসীর: ১ম খণ্ড, পৃ: ৯৭-৯৮, ইফা প্রকাশন]
ওলামাগণের মতে, এ প্রক্রিয়ায় কুরআন নাযিল করা হয়েছে এজন্য যে, এর মাধ্যমে মানুষেরা তাদের জীবনের সাথে কুরআনের একটা সমন্বয় খুঁজে পাবে এবং এ কুরআন অনুযায়ী জীবনকে পরিচালনার শিক্ষা নবীর কাছ থেকে হাতে কলমে শিখে নেবে।
সুবহান আল্লাহ্! আল কুরআন আমাদের জন্য এমন এক গ্রন্থ যা অন্যান্য সকল আসমানী কিতাবের সত্যতা প্রকাশ করে তার অনুসারীদের নিকট। এসব ঐতিহাসিক দলীল প্রমাণাদি এতই বলিষ্ঠ যে, পৃথিবীর আনাচে কানাচে আজোর এর চাক্ষুষ প্রমাণ বিদ্যমান। পরন্তু পৃথিবীর উন্নতির সাথে সাথে দিনে দিনে এসব প্রামাণ্য সত্যের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েই চলছে।
আমরা এখন সে মাস অতিক্রম করছি যে মাসে এই পরিপূর্ণ নেয়ামত পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন আল্লাহ্ তা’আলা। সুতরাং এ মাস কুরআনের মাস, এর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব এবং এ থেকে অফুরন্ত কল্যাণ লাভ করার জন্য আমাদেরকে কোমর বেঁধে ইবাদাতে লেগে পড়া উচিত।

ছবি স্বত্ব: ফজলে এলাহি মুজাহিদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28838024 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28838024 2008-09-03 00:01:08
@ আহলান ওয়া সাহলান: মাহে রমজান মানুষেরা তাদের স্রষ্টার পক্ষ হতে সৎকর্মের ব্যাপারে আদেশপ্রাপ্ত এবং নিষেধপ্রাপ্ত হয়েছে সকল প্রকার অসৎকর্মের ব্যাপারে। তন্মধ্যে বড় বড় ইবাদাতগুলো সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। যদিও সত্যিকার মুমিন জীবনের সম্পূর্ণটুকুই ইবাদাতের মধ্যে শামিল। সৃষ্টির উদ্দেশ্যের সাথে শামিল ইবাদাতের সবগুলোই মানুষের নিজের, শুধুমাত্র রোযাকে আল্লাহ্ নিজের বলে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ বলার ক্ষেত্রে যাবতীয় ইবাদাতের কথায় আমরা বলে থাকি- ‘আল্লাহর জন্য’। কিন্তু তিনি বলেন: না, সবগুলোই তোমাদের নিজেদের কিন্তু সিয়াম আমার জন্য।
বিশ্লেষক আলেমগণ এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন- কেউ কেউ বলেন: দুনিয়ার যাবতীয় ইবাদাতে মানুষকে অংশীদার বানানো যায়, যাকে ইসলামী পরিভাষায় রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদাত বলা হয়। কিন্তু রোযার ক্ষেত্রে তা অসম্ভব, তাই কেউ রোযা পালন করলে তা কেবল মাত্র তার প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই নিরংকুশভাবে করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ রোযা না রেখে লোকদেরকে বলে বেড়ায় যে, সে রোযাদার, তবে তা মিথ্যাচার কিংবা প্রতারণা হবে মাত্র।
কারো কারো মতে: আখেরাতে আল্লাহ্ তা’আলা যখন বান্দাদের ভালো-মন্দের বিচার করবেন, তখন পৃথিবীতে অন্যের হক বিনষ্টকারীদেরকে হকদারের পাওনা আদায় করতে হবে। সেদিন লেনদেন হবে পূণ্য-পাপে। কিন্তু রোযার প্রতিদান এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না, কেননা আল্লাহ্ পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, রোযা তাঁর জন্য এবং এর প্রতিদানও তিনিই প্রদান করবেন।
বছর ঘুরে ঘুরে নানাবিধ মৌসুম যেমন আমাদের দুয়ারের কড়া নাড়ে, আমাদের আঙিনায় উৎসব ঘটায়, আমাদের অন্তরসমূহকে আনন্দে আন্দোলিত করে; তেমনি মুমিনদের জন্য পবিত্র রমজান মাস এক মহাপূণ্যের মৌসুম। এ মৌসুমের ফসল তোলার জন্য তারা কোমর বেঁধে নেয়, যেমনটি বেঁধে নিতেন মুমিনদের মহান শিক্ষক মুহাম্মাদুর্ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
মাসগুলোর মধ্যে রমজান মাসকে আল্লাহ্ বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং আমাদের জন্য এতে রেখেছেন ‘স্বল্প আয়ুতে অধিক কল্যাণ অর্জনের বিবিধ ব্যবস্থা’। তাই আর অপেক্ষা কিসের? আসুন প্রস্তুত হই, প্রস্তুতি নেই এ মৌসুমে নিজ নিজ সৎকর্মের গোলা ভরে নেয়ার।

(ধারাবাহিক)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28836248 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28836248 2008-08-29 05:34:17
@ উমর রা.-এর মতো শাসক চাই
­ এই সেই ইতিহাস খ্যাত উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু, যার ইসলাম গ্রহণে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠেছিলেনঃ ‘আল্লাহু আকবর!’ সেদিন তাঁর সাথে সাথে সমবেত সাহাবিগণও ‘আল্লাহ আকবর!’ ধ্বনি তুলে মক্কার আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুলেছিলেন। উমারের ইসলাম গ্রহণের পরই কেবল কাবাঘরে গিয়ে মুসলমানরা সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে সালাত আদায় করেছিলেন। তেমন বীরপুরুষ কেন আজ নেই মুসলিম উম্মাহ? মাত্র ৪০-৫০ জন মুসলমান সে দিন সমগ্র মক্কাবাসীকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, আজ কোটি কোটি মুসলমানের বর্তমানে কেন প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হচ্ছে ইসলাম, ইসলামের নবীর সম্মান, ইসলামের সোনালিসব মানুষ? মুসলমানরা যেন এ প্রশ্ন ভুলে গেছে, যেন অদ্ভুত ঠেকে তাদের কাছে এ আত্মজিজ্ঞাসা, তারা নিজেদের আলাদা কিছু ভাবতে শুরু করেছে কিংবা তাদের ভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে তারা যারা সদাসর্বদা পদানত দেখতে চায় ইসলামকে, মুসলিম জাতিকে; এমনকি দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশাও সুচারুরূপে এঁকেছে।

আল-ফারুক উমার এক দিন এ জাতির জন্য আজানের প্রস্তাব করেছিলেন, যখন কেউ ঘণ্টার প্রস্তাব করেছিলেন, কেউ শিঙ্গার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু প্রাজ্ঞ উমার বললেন, ‘এক ব্যক্তিকে সালাতের আহ্বানের জন্য নিযুক্ত করলে কেমন হয়?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আজানের নির্দেশ দিলেন। আজানে কল্যাণের দিকে ডাকা হয়, সালাত আদায়ে পরিশুদ্ধ হয় অন্তর, চরিত্র ও প্রশান্ত হয় মন। সেই উমারের উত্তরসূরি শাসকগোষ্ঠী এখন সংস্কৃতির নামে কত না অশ্লীল কথা, শিরকি বাক্য, কুফরি কাব্য, মাতোয়ারা করা তুমুল বাদ্য, নাটক-সিনেমায় কুরুচিপূর্ণ নারী-পুরুষের নানা রঙ্গলীলা এবং নারী জাতিকে প্রায়োলঙ্গ করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লাঞ্ছিত করে যাচ্ছে, উপরন্তু এর নাম দিয়ে যায় ‘শিল্প’! একদার ‘নর্তকি’, ‘বাইজি’ শব্দাবলিকে ‘শিল্পের’ রঙে রাঙিয়ে তুলে দৃষ্টি ও মননে জীবাণু ছড়ানো অপরাধী চক্র এখন পুরোপুরি সফল। আফসোসের বিষয়, উমারের প্রস্তাবিত আজান­ যা আল্লাহ কবুল করে তাঁর রাসূলের মাধ্যমে ইসলামের সালাতের আহ্বানের পরিণত হয়েছে­ যেন এখন মুসলমানদের কাছেই গৌণ হয়ে পড়েছে। জনারণ্যে দু-তিন কাতারের মসজিদের জামায়াতগুলো যার জ্বলজ্যান্ত সাক্ষী।

ভ্রাতৃত্বে উদার ও শত্রুতায় বজ্রকঠোর উমার বদর যুদ্ধ শেষে বন্দীদের সম্পর্কে মুক্তিপণ আদায়ে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে প্রতিবাদী কণ্ঠে বলেছিলেনঃ ‘ইসলামের বিধিব্যবস্থা স্বজনপ্রীতির অনেক ঊর্ধ্বে; সুতরাং তাদের (বন্দীদের) হত্যা করা হোক। আমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকের স্বজনকে নিজ হাতে হত্যা করব! যথা- আলী (আপন ভাই) আকিলের ভার নিন, হামজা (আপন ভাই) আব্বাসকে হত্যা করুন এবং আমি আমার কোনো নিকটাত্মীয়কে হত্যা করে ফেলি!’ যদিও সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সীমাহীন দয়া প্রদর্শন করে বন্দীদের মুক্তিপণের বিনিময়েই মুক্ত করে দিয়েছিলেন। সেই উমারের উত্তরসূরিরা এখন নিজেদের মুসলমান ভাইদের চেয়ে বিজাতীয়দের অধিক বন্ধু ভাবে, কি ব্যক্তিগত পর্যায়ে, কি সামাজিক আর কি রাষ্ট্রীয়ভাবে; এ যেন এক করুণ নির্ভরতা!

উহুদের বিপর্যয়ের দিনে যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহত হয়ে কয়েকজন সাহাবি সমভিব্যহারে পর্বতের একাংশে অবস্থান করছিলেন, তখন শত্রু পক্ষীয় সেনাপতি আবু সুফিয়ান হাঁক ছেড়ে জানতে চাইল­ কেউ আছে না কি সবাই নিহত হয়েছে? জবাবের এক পর্যায়ে উমার বললেনঃ ‘রে আল্লাহর দুশমন! আমরা সবাই জীবিত আছি।’ আবু সুফিয়ান বললঃ ‘উলু হুবল বা হোবলের জয় হোক’। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে বললেনঃ ‘জবাব দাও আল্লাহু আলা ওয়াআজাল্লু বা আল্লাহ মহান ও সম্মানী।’ এই অসীম সাহসী বীরের উত্তরসূরিরা আজ ইহুদি-নাসারাদের প্রচারিত ‘সন্ত্রাসী’ শব্দকে নিজেদের মুসলমান ভাইদের জন্য নিজেরাই ব্যবহার করছে। এ যেন অজ্ঞতার অন্ধকারে অথবা বিভ্রান্তির অমানিশায় আপন ভাইয়ের বুকেই ছুরিকাঘাত করা! এ যেন এক অভিনব আত্মহত্যা! মুসলমানদের মধ্য থেকে যেন আজ এ চেতনাবোধও বিলুপ্ত হয়ে গেছে, শত্রুদের শেখানো গালি তারা নিজেদের জন্যই অবলীলায় আউড়ে যাচ্ছে… আফসোস!

সময় কি আছে মুসলিম শাসকদের জন্য, তারা চিন্তা করবে তাদের ঐতিহ্য কী ছিল, তারা শিক্ষা নেবে কী বিক্রম ছিল তাদের অতীত শৌর্যে, কী ন্যায়নিষ্ঠা ছিল তাদের পূর্বপুরুষ? প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর যখন ‘কে হবে পরবর্তী কর্ণধার’?­ এ প্রশ্ন গুঞ্জরিত হচ্ছিল, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক বক্তৃতায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন এবং লোকদের গুঞ্জরণ স্তিমিত করেন। খেলাফতের জন্য প্রস্তাবিত হয় সর্বোচ্চ মানের সাহাবি­ আবু বকর, উমার ও আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুম­ এ তিনজনের নাম। উমার মুহূর্ত কাল বিলম্ব না করে আবু বকরের হাতে খেলাফতের বাইয়াত করে ফেলেন, অথচ প্রার্থী হিসেবে উমারের নামও প্রস্তাবিত হয়েছিল। কী নিঃস্বার্থ শিক্ষা, ক’জন পাওয়া যাবে আজ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব খুঁজে যারা নিজ নিজ স্বার্থ নয়; বরং আল্লাহর দ্বীনের শিক্ষাকে উচ্চকিত করে জাতির লোকদের জন্য এমন ত্যাগী মানসিকতা ধারণ করেন?

বিজয় যেন আমাদের কাছে এখন এক প্রাচীন শব্দ কিংবা এক কিংবদন্তি। আমাদের সেনাপতিরা বিজয়ে সুস্বপ্নও দেখেন কি না তাও অনিশ্চিত এখন। আমাদের জননায়করা কখনো বিজয় অর্জন করলে তা দিয়ে নিজের আখের গোছানোতেই অত্যধিক তৎপরতা দেখিয়ে থাকেন, যার কারণে জাতির লোকদের কাছে নন্দিত হওয়ার পর নিন্দিত হতে বাধ্য থাকেন। অথচ কী ঘটেছিল সে দিন মদিনার পথে-গলিতে, যে দিন কাদেসিয়া থেকে বিজয়ের সুসংবাদ বয়ে এনেছিল কাসেদ? যুদ্ধের শুরু থেকেই আমিরুল মুমিনীন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রতি দিন মদিনার বাইরে এসে অধীর অপেক্ষায় থাকতেন কখন সংবাদবাহক আসবে…। এক দিন কাসেদ এলো দ্রুতগামী উষ্ট্রারোহীরূপে, উমার প্রশ্ন করে জানতে পারলেন, এ সেনাপতি সা’আদের কাসেদ, তিনি কাসেদের উষ্ট্রের সাথে সাথে মদিনার রাস্তায় দৌড়ে দৌড়ে এক এক করে যাবতীয় খোঁজখবর নিচ্ছেন। কাসেদ চিনতেন না উমারকে, নগরীতে প্রবেশের পর যখন কাসেদ দেখলেন প্রত্যেকেই তার উষ্ট্রের সাথে দৌড়াতে থাকা ব্যক্তিকে আমিরুল মুমিনীন বলে সম্বধন করছে, তখন সে ভীত হয়ে বললঃ আগে পরিচয় না দিয়ে আমাকে কেন অপরাধী করলেন? আমিরুল মুমিনীন বললেনঃ ‘এতে কিছু আসে-যায় না, তুমি সুসংবাদ পৌঁছাতে থাক।’ তিনি আগের মতো উষ্ট্রের সাথে সাথে দৌড়াতে দৌড়াতে মাসজিদুন নববীতে পৌঁছলেন।

সেখানে তিনি যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন, তার শেষ কিছু অংশ নিম্নরূপঃ
‘মুসলমানগণ! আমি কোনো বাদশাহ নই যে, তোমাদেরকে গোলাম বানাতে চাইব; বরং আমিই স্বয়ং আল্লাহর গোলাম। হ্যাঁ, খেলাফতের বোঝা আমার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। যদি আমি এভাবে কাজ করতে সক্ষম হই যে, তোমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পার, তবে আমি আমাকে সৌভাগ্যবান মনে করব। কিন্তু যদি আমার এই কুপ্রবৃত্তি হয় যে, তোমরা আমার দরজায় গিয়ে ধরনা দাও, তবে তা আমার দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। আমি সর্বদাই তোমাদের শিক্ষা দিতে চাই, তবে কথার দ্বারা নয়… কাজের দ্বারা।’ আমাদের শাসককুলের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে যদি মিলিয়ে দেখা হয় আমিরুল মুমিনীনের এ বক্তৃতাকে, তবে যেন অন্ধও দেখতে পাবে আমাদের অযোগ্যতাগুলো কোথায়, কোন কোন বিন্দুতে স্থির হয়ে আছে? কবে আমরা শিক্ষা নেব? কবে আমাদের শাসকবর্গ উমার হওয়ার সাধনা করবে??

অনাহারী, রোগী, শোকসন্তপ্ত, বস্ত্রহীন, গৃহহীন মানুষ যখন আহাজারি করে আল্লাহর আরশ কাঁপিয়ে তুলছে, তখনো আমাদের শাসকবৃন্দের ঘুম ভাঙে না। আজ তো সরাসরি শাসকের কাছে গণমানুষের যাওয়ার ব্যবস্থাও প্রায় নেই; মাধ্যম হয়ে কিংবা পদস্থরাই কেবল সে সৌভাগ্য অর্জন করে থাকে। সেনাপতি আমর মুয়াবিয়াকে ইস্কান্দারিয়ার বিজয় সুসংবাদসহ যখন প্রেরণ করলেন, মুয়াবিয়া মদিনায় পৌঁছলেন দুপুর নাগাদ। ভাবলেন, আমিরুল মুমিনীন হয়তো এখন ঘুমাচ্ছেন, তাই তিনি উমারের বাড়িতে না গিয়ে মসজিদের দিকে চলে গেলেন। পরে উমার যখন তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘তুমি প্রথমেই কেন আমার বাড়িতে এলে না?’ মুয়াবিয়া বললেনঃ ‘আমি ভেবেছিলাম এই ভরদুপুরে হয়তো আপনি একটু ঘুমাচ্ছিলেন।’ এ কথা শুনে ফারুকে আজম বললেনঃ ‘আমার দুর্ভাগ্য যে, তোমরা আমার প্রতি এরূপ ধারণা করো! আমি যদি দিনে শয়ন করি, তবে খেলাফতের গুরুভার কে বহন করবে?’ !!! ইতিহাস কি আমাদের শাসকবর্গের স্মৃতি থেকে মুছে গেছে কিংবা এ আমাদেরই দুর্ভাগ্য যে, আমরা উমারের জীবন থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না, আমাদের শাসকরা উমারের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখছে না…।
গাছ তো সেরূপ ফলই ফলাবে, যেরূপ রস-নির্যাস পেয়েছে সে তার শেকড় থেকে। আজ কি মুসলিম বিশ্বের কোনো অধিপতির এ কথা বলার বড় মুখ আছে, যেরূপ একদা আমিরুল মুমিনীর মিসর বিজয়ী বাহিনীর সাহায্যার্থে প্রেরিত চারজন সেনানায়ক সম্পর্কে এক পত্রোত্তরে বলেছিলেনঃ ‘আমি যে চারজন সেনাপতি পাঠিয়েছি, তাঁরা একেকজন এক হাজার অশ্বারোহীর সমকক্ষ!’ উল্লেখ্য, তাঁরা চারজন ছিলেন যথাক্রমে­ যুবাইর ইবনুল আওয়াম, উবাদা ইবনে সামেত, মিকদাদ ইবনে আমর ও সালামা ইবনে মোখাল্লাদ। ইতিহাস স্তম্ভিত করা এ হুঙ্কার ছিল মুসলমানদের ঐতিহ্য, সে কথা যেন আজ মুসলমানদের সন্তানদের কাছেই রূপকথা ঠেকে। একজন শাসক একটি জাতির অভিভাবক, তাদের শিক্ষায়, নৈতিকতায়, বীরত্বে, সাফল্যে গড়ে তোলার দায়িত্ব শাসকের ওপর বর্তিত। কিন্তু নাগরিক হিসেবে কি আমরা তা পাচ্ছি শাসকদের কাছ থেকে? অথবা শাসক হিসেবে কি সে অভিভাবকদের দায়িত্ব পালিত হচ্ছে দেশে দেশে? এ প্রশ্নমালার উত্তর প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষাও যেন আজ এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়, ভুক্তভোগীদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন!

১ মে ২০০৮
মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব।

লেখাটি দৈনিক নয়াদিগন্তের ৮ আগষ্ট ২০০৮ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28828808 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28828808 2008-08-08 20:21:59
@ ইবাদাতের অর্থ ও বুনিয়াদ @নবী-রাসূলদের সাথে তাঁদের জাতির লোকদের বিবাদ-সংঘাতের মূল বিষয়: তাওহীদ বা একত্ববাদ(২)

আরবী عبد শব্দের অর্থ গোলাম বা বান্দা। সাধারণ অর্থে 'আবদ তার মনিবের জন্য যা কিছু করে তাই 'ইবাদাত। কিন্তু 'আবদ বা গোলাম যাতে ভুল করে না বসে তাই মনিব তাঁর ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভালোলাগা-মন্দলাগা ইত্যাদি গোলামকে জানিয়ে ইবাদাতের একটি সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই ইবাদাতের সঠিক অর্থ ও তাৎপর্য বুঝতে হলে নিম্নের বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে।
ইবাদাতের আভিধানিক অর্থ নম্র ও অনুগত হওয়া। যেমনটি বলা হয়ে থাকে- طًرِيْقٌ مُعَبَّدٌ অর্থাৎ উপযোগী রাস্তা যা পায়দলে চলার কারণে চলাচলের উপযোগী হয়। এটি 'ইবাদাত শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি উদাহরণ। অর্থাৎ, বান্দা তার মনিবের প্রতি এতটা ভালবাসা পোষণ করবে, এতটা নম্র হবে এবং আনুগত্য প্রকাশ করবে যার কারণে সে তার মনিবের গোলাম হবার উপযোগিতা অর্জন করবে, বান্দা হবার যোগ্যতা প্রমাণ করবে।

শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদাত হলো: "আল্লাহ্ তা'আলা ভালবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের ব্যাপক একটি নাম।"
অর্থাৎ, শুরুতে বলা কথা- "বান্দা তার মনিবের জন্য যা কিছু করে থাকে তাই ইবাদাত" এ কথাটির সীমারেখা নির্ধারিত হয়েছে উপরোক্ত ব্যাখ্যায়। এখানে মনিব কি ভালবাসেন, কি পছন্দ করেন; মনিবের পক্ষ থেকে পাঠানো আদেশপত্র বা বাণী থেকে সেসব উদ্ধার করে সে অনুযায়ী যা কিছু করা হবে তাই ইবাদাত হিসেবে গণ্য হবে।

মূলত: তিনটি রুকন বা স্তম্ভের উপর ইবাদাতের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল কারীমে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। স্তম্ভ তিনটি যথাক্রমে-

এক) মা'বূদ তথা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য পরিপূর্ণ ভালবাসা পোষণ করা। যেমন পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:
وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبّاً لِّلّهِ
"আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সর্বাধিক ভালবাসে।" [সূরা আল-বাকারাহ্: ১৬৫]
অন্তরের স্বীকৃতি পেলেই মানুষ কোন কিছুকে বিশ্বাস করে থাকে, আর যা কিছুতে অন্তর স্বীকৃতি দিয়ে থাকে সেসব কিছু অন্তরে কোন না কোনভাবে কমবেশী নিজের অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়। আর তা যদি হয় আপন স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস, তাহলে তাতে আরো অসংখ্য বিষয়ের মত ভালবাসা যুক্ত হয়; বরং এ বিশ্বাসে ভালবাসার মাত্রা থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। তাই বান্দা যখনি তার প্রকৃত স্রষ্টা ও প্রতিপালককে চিনতে পারবে, তখন তাঁকে জীবনের সবকিছুর চাইতেও বেশী ভালবাসবে, তাঁর ভালোলাগা-মন্দলাগা, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদিকে জানার জন্য প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাবে, অবশেষে যা কিছু সে তার মহামনিবের জন্য নিবেদন করবে তার পুরোটুকুই থাকবে বিশুদ্ধ ভালবাসায় মোড়ানো। আর এটাই আমাদের প্রতিপালক ও মা'বূদের ইবাদাতের প্র্রথম স্তম্ভ।

দুই) পরিপূর্ণ আশা পোষণ করা। যেমনটি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বলা হয়েছে-
وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ
"এবং তারা তাঁর দয়া প্রত্যাশা করে।" [সূরা আল-ইসরা: ৫৭]
যাঁকে একজন মানুষ তার স্রষ্টা, প্রতিপালক ও ইবাদাত প্রদানের জন্য একমাত্র যোগ্য সত্তা হিসেবে চিনতে পেরেছে, যাঁর প্রতি অন্তরের পরিপূর্ণ আস্থা সহকারে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং যাঁকে তার জীবনের যাবতীয় ভালো-মন্দের প্রবর্তক ও পরিচালক হিসেবে মেনে নিয়েছে, তেমন সত্তার নিকট আশা ও দয়ার আকাঙ্খা করা খুব স্বাভাবিক। আমাদের প্রতিপালকের নিকট এ বিষয়টি খুবই পছন্দনীয় যে, বান্দা তাঁর নিকট দয়া প্রত্যাশা করবে। এবং তাঁর কাছে দয়া প্রত্যাশার মত এত পরিপূর্ণ প্রত্যাশা বান্দা আর কারো নিকট করবে না। তাই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ইবাদাতের জন্য বান্দার চাওয়ার বিষয়গুলোকে দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

তিন) আল্লাহকে পরিপূর্ণভাবে ভয় করা। তিনি তাঁর বাণী আল-কুরআনে বলেন:
وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ
"এবং তারা তাঁর শাস্তিকে ভয় করে।" [সূরা আল-ইসরা: ৫৭]
এ তৃতীয় স্তম্ভে রয়েছে তাঁর অবাধ্যতার বিষয়ে সতর্কবাণী। কেননা, তিনি শুধুমাত্র ভালবাসা এবং দয়া প্রদর্শনের পাত্রই নন; বরং তিনি তাঁর অবাধ্যদের প্রতি অত্যন্ত কঠোরও বটেন। দয়া এবং শাস্তির বিষয়টি এ কারণে যে, আল্লাহ্ আমাদের সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন একটা স্বল্প মেয়াদী সময়কালের জন্য শুধুমাত্র এ জন্য যে, তিনি আমাদের পরীক্ষা নেবেন। এ সময়কাল সম্পর্কে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ "এবং আমি জিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদাত ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্য সৃষ্টি করিনি।" [সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬] আর ইবাদাত কি এবং কিভাবে তা আমাদের জীবনে পরীক্ষার বিষয় হয়ে উঠেছে তা এ প্রবন্ধে আসা ইবাদাতের ব্যাখ্যা এবং উপরোক্ত আয়াতে পরিস্ফুট হয়েছে। তাই বান্দা তার পরীক্ষার বিষয় "ইবাদাত"-এর ক্ষেত্রে তার স্রষ্টা এবং মা'বূদ এক ও একক আল্লাহর জন্য অন্তরে ও কর্মে ইখলাছ বা একনিষ্ঠতা অবলম্বন করে কি না তা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে ইবাদাতের স্তম্ভসমূহের মধ্যে এ বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে, যাতে আল্লাহর অবাধ্যতার পরিণাম সম্পর্কে তাঁকে যথার্থ ভয় করার বিষয় উল্লেখিত হয়েছে।

মূলত: যে কোন সম্মানিত জনের সাথে মৌলিক ভাবে তিনটি বিষয় সম্পর্কযুক্ত হতে পারে, যা ইবাদাতের উপরোল্লেখিত তিনটি স্তম্ভে উদ্ধৃত হয়েছে। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা এমন কোন নীতি আমাদের উপর চাপিয়ে দেননি, যা আমাদের বুঝে আসার মত নয়। অতএব, আমাদের উচিত ইবাদাতের তিনটি রুকনকে মজবুত রেখে আল্লাহর ইবাদাত সুসম্পন্ন করার প্রাণান্ত সাধনা করা।

১৭ জুন ২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28810914 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28810914 2008-06-18 14:54:02
@ সীরাতুন্নবী: আরবের প্রশাসনিক অবস্থা//ইয়েমেনর বাদশাহী পূর্বে: Click This Link
আরবের প্রশাসনিক অবস্থা:
দু'ধরনের শাসন ব্যবস্থা ছিল-
(১) মুকুটধারী বাদশাহ: পরিপূর্ণ স্বাধীন ছিল না।
(২) গোত্রীয় সর্দার: ক্ষমতা প্রয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুকুটধারীদের মতই।

প্রকৃত বাদশাহী ছিল-
এক) ইয়েমেনের বাদশাহ্
দুই) সিরিয়ার গাসসান বংশের বাদশাহ্
তিন) ইরাকের হীরার বাদশাহ্

ইয়েমেনের বাদশাহী:
'আরবে আরেব'র প্রাচীন ইয়েমেনি গোত্র ছিল 'সাবা' যাদের চারটি ঐতিহাসিক সময়কাল নিম্নরূপ-

এক) খৃষ্টপূর্ব ৬৫০ থেকে পূর্বে: উপাধি- মাকরাবে সাবা, রাজধানী- সরওয়াহ্, বর্তমান নাম- খরিবা, এ সময় বিখ্যাত মা'আরেব বাঁধের ভিত্তি স্থাপন এবং আরবে নতুন বসতি স্থাপন বৃদ্ধি পায়।

দুই) খৃষ্টপূর্ব ৬৫০ থেকে ৩০০ সাল: 'মাকরাব' উপাধি বদলে 'বাদশাহ্' উপাধি ধারণ, সরওয়াহর পরিবর্তে মা'আরেবকে রাজধানী হয়।

তিনি) খৃষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ১১৫ সাল: সাবার বাদশাহদের উপর হেমইয়ার গোত্রের আধিপত্য, মা'আরেবের পরিবর্তে রাইদানকে রাজধানী ও রাইদানের নতুন নাম জেফার করা হয়।

চার) খৃষ্টপূর্ব ১১৫ থেকে ইসলামের সূচনা: বিভেদ-বিশৃংখলা চলতে থাকে, রোমকদের সাহায্যে আবিসিনীয়রা হেমইয়ার ও হামদান গোত্রের সংঘাতের সুযোগে ৩৪০ থেকে ৩৭৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন দখলে রাখে। ৪৫০ বা ৪৫১ সালে মা'আরেবের বাঁধ ভাঙ্গে, কুরআনের সূরা সাবায় উল্লেখ রয়েছে।

৫২৩ খৃষ্টাব্দে বাদশাহ্ জুনুয়াস খৃষ্টধর্ম ত্যাগের জন্য ঈসায়ীদের উপর হামলা করে। প্রজ্জ্বলিত অগ্নির পরিখা তৈরী করে অটুট বিশ্বাসীদের তাতে নিক্ষেপ করে, কুরআনের সূরা আল-বুরূজে বর্ণনা রয়েছে। প্রতিশোধ নিতে রোমকদের সহযোগিতায় আবিসিনীয়রা ৫১৫ সালে আরিয়াতের নেতৃত্বে ৭০ হাজার সৈন্যসহ ইয়েমেন পূনর্দখল করে ও শাসন শুরু করে।

কিছুকাল পর সেনাধিনায়ক আব্রাহা আরিয়াতকে হত্যা করে এবং আবিসিনিয়ার সম্রাটকেও তার বশ্যতায় বাধ্য করে।

আব্রাহা একটি ঘটনা সাজিয়ে কা'বা ধ্বংসের জন্য দুর্ধর্ষ সৈন্যদল ও বেশ ক'টি হাতী নিয়ে মক্কায় অভিযান পরিচালনা করে এবং আল্লাহর আযাবে পর্যদুস্ত হয় যার বর্ণনা কুরআনের সূরা ফীল-এ রয়েছে।

এ সুযোগে ইয়েমেনবাসী পারস্যের সাহায্য চায় ও আবিসিনীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সাইফে যী ইয়াযানের পুত্র মাদিকারাবের নেতৃত্বে আবিসিনীয়দের বিতাড়িত করে ও মাদিকারাবকে বাদশাহ্ বানিয়ে ৫০৫ খৃষ্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

মাদিকারাব শখের বশে কিছু আবিসিনীয়কে রাখে, তারা সুযোগ বুঝে তাকে হত্যা করে এবং এর ফলে যী ইয়াযান পরিবারের বাদশাহী সমাপ্ত হয়।

পারস্য সম্রাট কিসরা সুযোগ নিয়ে পারস্য বংশোদ্ভুত গভর্ণর নিয়োগ করে ইয়েমেনকে পারস্যের প্রদেশ করে। সর্বশেষ গভর্ণর বাযান ৬২৮ খৃষ্টাব্দে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইয়েমেন একটি ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28789476 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28789476 2008-04-20 03:19:14
@ সীরাতুন্নবী: আরব জাতিসমূহ (৩) Click This Link
আল্লাহ্ মাজায ইবনে আমরের কন্যার গর্ভে ইসমাঈল (আঃ)কে ১২টি পুত্র সন্তান দান করেন, তাদের নাম: (১) নাবেত বা নিয়াবুত, (২) কাইদার (৩) আদবাইল (৪) মোবশাম (৫) মেশমা (৬) দুউমা (৭) মাইশা (৮) হাদদ (৯) তাইমা (১০) ইয়াতুর (১১) নাফিস ও (১২) কাইদমান।

এদের দ্বারা ১২টি গোত্র তৈরী হয় ও শুরুতে মক্কায় বসবাস করে। ইয়েমেন, মিসর ও সিরিয়ায় ব্যবসা ছিল এদের জীবিকার পথ। পরে আরব্য উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুধু দু'জন ব্যতীত কালের গর্ভে হারিয়ে যায় তাদের ইতিহাস। দু'জন হলেন: নাবেত ও কাইদার।
নাবেত থেকে নাবেতী গোত্র হয় এবং হেজাজের উত্তরাংশে নাবেতীদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় ও আধিপত্য বিস্তারিত হয় যার রাজধানীর নাম ছিল 'বাতরা'। তাদের পরাজিত করে রোমকরা নিজেদের যুগের প্রবর্তন করে।
কাইদারের গোত্র মক্কায় থাকে এবং পরে তার দু'পুত্র আদনান ও মায়া'দ-এর বংশধারা চালু হয়।

আদনান নবী (সাঃ)-এর ঊনিশতম পূর্ব পুরুষ ছিলেন। নবী (সাঃ) তাঁর বংশধারা বর্ণনার সময় আদনান পর্যন্ত এসে থেমে যেতেন। কারো কারো মতে আদনান থেকে ইব্রাহীম (আঃ) পর্যন্ত চল্লিশ পুরুষের ব্যবধান।
মায়া'দ থেকে তার এক পুত্র নাযার এবং নাযার থেকে তার চার পুত্র ইয়াদ, আনমার, রবী'আ ও মোদার-এর বংশধারা বিস্তারিত হয়।
এদের মধ্যে রাবি'আ থেকে আসাদ, আনযাহ্, আব্দুল কায়েস ওয়ায়েল, বকর, তাগলাব ও বনু হানিফাসহ বহু গোত্র হয়।
মোদার থেকে দু'টি- কায়স আইনাম ইবনে মোদার ও ইলিয়াস ইবনে মোদার গোত্রদ্বয় বিস্তৃত হয়।
কায়স আইনাম থেকে বনু সুলাইম, বনু হাওয়াজেন, বনু গাতফান। গাতফান থেকে আরাস, জুবিয়ান, আশজা ও গানি বিন আস্তুর এর বিস্তার।
ইলিয়াস বিন মোদার থেকে তামিম ইবনে মাররা, বুদাইন ইবনে মাদরেকা, বনু আসাদ, ইবনে খোয়ায়মা ও কেনানা ইবনে খোযায়মার বিস্তার এবং কেনানা থেকে কুরাইশ অস্তিত্ব লাভ করে। এরা দেহের ইবনে মালেক, ইবনে নযর ও ইবনে কেনানার বংশধর।

কুরাইশরাও বিভক্ত হয়ে জমেহ, ছাহমা, আদী, মাখজুম, তাইম, কোহরা হয়। তাদের থেকে কুসাই ইবনে কিলাবের পুত্র ছিল- (১) আবদুদ্ দার, (২) আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ও (৩) আবদে মান্নাফ।
আবদে মান্নাফের চার পুত্র- (১) আবদে শামস, (২) নওফেল, (৩) মোত্তালেব ও (৪) হাশেম –এদের থেকে চারটি গোত্র হয়।
হাশেম-এ বংশ থেকে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)কে আল্লাহ্ মনোনীত করেন।

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন: "আল্লাহ্ তা'আলা ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে ইসমাঈল (আঃ)কে মনোনীত করেন। এরপর ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে কেনানাকে মনোনীত করেন। কেনানার বংশধরদের থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেন। পরে কুরাইশ বংশধরদের মধ্য থেকে বনু হাশেমকে মনোনীত করেন এবং বনু হাশেম থেকে আমাকে মনোনীত করেন।" [সহীহ মুসলিম: ২য় খণ্ড, পৃ- ২৪৫, তিরিমিযী]

এক নজরে-
=আদনানের বংশ খাদ্য-পানীয়ের সন্ধানে আরবের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে:
=আবদে কায়স, বকর ইবনে ওয়ায়েল কিছু ও বনু তামিম বাহরাইনে...
=বনু হানিফা ইবনে স'ব ইবনে আলী ইবনে বকর ইয়ামামার কেন্দ্রস্থল হেজর-এ…
=বকর ইবনে ওয়ায়েলের বাকীরা ইয়ামামা থেকে বাহরাইন, কাজেমার উপকুল, ইরাকের পাশে ইবরা ও হিয়াত পর্যন্ত...
=বনু তাগলাব ফোরাত এলাকায়...
=বনু সালিম মদীনা, খয়বর ও বনু সোলাইমের দুই পাহাড় পর্যন্ত…
=বনু ছাকিফ তায়েফে...
=বনু হাওয়াজেন মক্কার পূর্বের আওতাস প্রান্তরের মক্কা-বসরা পথের দু'পাশে...
=বনু আসাদ তাইমার পূর্বে ও কুফার পশ্চিমে...
=তাঈ গোত্রের এক পরিবার বনু আসাদ ও তাইমার মাঝামাঝিতে...
=বনু জুবিয়ান তাইমার কাছাকাছি হাওয়ান এলাকায়...
=বনু কেনানার একাংশ তোহামায়...
=বনু কেনানার কুরাইশী পরিবার মক্কা ও তার আশপাশে বিচ্ছিন্নভাবে...
-বসবাস করতো।

কুসাই ইবনে কেলাব কুরাইশদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে মর্যাদা, গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করেন।

পরে: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28788232 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28788232 2008-04-16 02:07:17
@ সীরাতুন্নবী: আরব জাতিসমূহ (২) Click This Link
৩) আরবে মোস্তারেবা:
পূর্বপুরুষ: সাইয়্যেদেনা ইবরাহীম 'আলাইহিস্ সালাম। তিনি ইরাকের বিলুপ্ত হওয়া উয শহরের অধিবাসী ছিলেন। দ্বীন প্রচারের জন্য তিনি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেন, মিসর সফরকালে ফির'আওন তাঁর স্ত্রী সারা'র প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে দরবারে ডাকে। পরে সারা'র দো'আর প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ ফির'আওনকে পরাস্থ করেন ও সারা'কে হেফাযত করেন। ফির'আওন এ পূণ্যশীলা রমনীকে চিনতে পেরে নিজ কন্যা হাজেরাকে সারা'র হাতে তুলে দেন এবং সারা তাকে ইবরাহীম 'আলাইহিস্ সালামের সাথে বিয়ে দেন।

ফিলিস্তীন সফরকালে হাজেরার গর্ভ হতে ইসমাঈল 'আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। সারা নিঃসন্তান ছিলেন বলে হাজেরাকে নির্বাসনে পাঠাতে বাধ্য করেন, অবশেষে ইবরাহীম (আঃ) স্ত্রী-সন্তানকে মক্কায় রেখে আসেন। সেখানে কোন বসতি ছিল না, একটা টিলার মত উঁচু হয়ে কা'বার নিশানা ছিল শুধু। যমযমের কাছাকাছি এক বৃক্ষের নিচে তাদের রেখে আসেন। তারপর তাদের পানীয় পুরিয়ে যাওয়ায় আল্লাহর রহমত হিসেবে যমমের সূচনা হয়।

ইয়েমেন থেকে জুরহুমে সানি বা দ্বিতীয় জুরহুম এসে হাজেরার অনুমতিক্রমে মক্কায় বসতি স্থাপন করে।

ইবরাহীম (আঃ) স্ত্রী-পুত্রকে দেখাশোনার জন্য অন্তত চার বার মক্কা সফর করেন-
প্রথম সফর: ইবরাহীম (আঃ)কে আল্লাহ্ স্বপ্নে দেখান যে, তিনি পুত্র ইসমাঈলকে যবেহ করছেন, এটি ছিল একটি নির্দেশ। এতে পিতা-পুত্র উভয়েই রাযী হলেন, প্রস্তুতি নিলেন এবং পিতা পুত্রকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে যবাই করতে উদ্যত হলেন। আল্লাহ্ এ কঠিন পরীক্ষায় ইবরাহীম (আঃ)কে পুরোপুরি উত্তীর্ণ পেলেন এবং তাঁকে দান করলেন কুরবানীর গৌরব।
বাইবেল বলে ইসমাঈল ইসহাকের চেয়ে তের বছরের বড় ছিলেন আর কুরআন কুরবানীর ঘটনা বর্ণনার পর ইসহাকের জন্মের সুসংবাদ দেয়। তাই ইসমাঈলের যুবক হওয়া পর্যন্ত ইবরাহীম (আঃ) মাত্র একবার মক্কা সফর করেন বলে প্রমাণিত হয়।

দ্বিতীয় সফর: ইসমাঈল যুবক হলেন, জুরহাম গোত্র থেকে আবরী ভাষা শিখলেন, তাদের এক কন্যার সাথে বিবাহে আবদ্ধ হন, এরপর হাজেরার ইন্তেকাল ঘটে। এবারের সফরে ইবরাহীম (আঃ)-এর সাথে পুত্রের সাক্ষাত হয়নি, পুত্রবধু অভাবের কথা জানালে পিতা পুত্রের জন্য বার্তা রেখে গেলেন যে, 'সে যেন ঘরের চৌকাঠ পাল্টে ফেলে'। পিতার বার্তা বুঝতে পেরে ইসমাঈল স্ত্রীকে তালাক দেন এবং পরে জুরহাম গোত্রের সর্দার মাজায ইবনে আমরের কন্যাকে বিয়ে করেন।

তৃতীয় সফর: এবারেও পুত্রের সাথে দেখা হয়নি, পুত্রবধুকে সাংসারিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন। পুত্রবধুর মুখে সংকটেও আল্লাহর প্রশংসা শুনে সন্তানের জন্য বার্তা রাখেন যে, 'সে যেন তার ঘরের চৌকাঠ ঠিক রাখে'। এরপর তিনি ফিলিস্তীন ফিরে যান।

চতুর্থ সফর: এবারে এসে দেখেন পুত্র যমযমের কাছে বসে তীর তৈরী করছে, দীর্ঘকাল পর সাক্ষাতে পিতা-পুত্র ভাবাবেগের বিনিময় করলেন। এবারে আল্লাহর নির্দেশে পিতা-পুত্র মিলে মাটি খুঁড়ে দেয়াল তুলে কা'বা ঘর নির্মাণ করেন এবং ইবরাহীম (আঃ) সমগ্র বিশ্বের মানুষকে হজ্জ পালনের আহ্বান জানান।
................................

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28786992 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28786992 2008-04-12 03:24:06
@ নবী-রাসূলদের সাথে তাঁদের জাতির লোকদের বিবাদ-সংঘাতের মূল বিষয়: তাওহীদ বা একত্ববাদ(২) @নবী-রাসূলদের সাথে তাঁদের জাতির লোকদের বিবাদ-সংঘাতের মূল বিষয়: তাওহীদ বা একত্ববাদ(১)
মহান আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে আমাদেরকে অবহিত করেছেন যে, যুগে যুগে বিভিন্ন জাতি তাদের নবীগণের সাথে কি কারণে বিবাদ-লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল। ইসলামের প্রথম রাসূল নূহ 'আলাইহিস্ সালামের জাতিকে যখন তিনি আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি আহ্বান করেন, তখন তারা জবাবে বলেছিল:
وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آَلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا * وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا
((আর তারা বলেছিল, 'তোমরা কখনো পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদেরকে, পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্, সুওয়া', ইয়াগুছ, ইয়া'ঊক ও নাসরকে'। এরা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যালেমদের বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করো না।)) [সূরা নূহ: ২৩-২৪] নূহ 'আলাইহিস্ সালামের জাতির লোকেরা তাঁর সাথে বিবাদ-বিসম্বাদে লিপ্ত হয়েছিল শুধুমাত্র এক আল্লাহর ইবাদাতের প্রতি আহ্বানের বিপরীতে তাদের উল্লেখিত দেব-দেবী উপাস্যগুলোর ইবাদাতে অন্ধভাবে অটল থাকার প্রেক্ষিতে; উপরের আয়াত থেকে সেকথা পরিস্কার হলো।

নবী হূদ 'আলাইহিস্ সালামের জাতির লোকদের ভাষ্য সম্পর্কে আল্লাহ্ আমাদেরকে অবহিত করছেন:
قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَأْفِكَنَا عَنْ آَلِهَتِنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
((তারা বলেছিল, আপনি কি আমাদের উপাস্যদের (পূজা) থেকে আমাদেরকে ফিরিয়ে দিতে এসেছেন? আপনি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে বিষয়ের ওয়াদা দিচ্ছেন তা আনয়ন করুন।)) [সূরা আল-আহক্বাফ: ২২] এখানেও জাতির লোকদের সাথে নবীর আর কোন পার্থিব-অপার্থিব বিষয়ে নয়; বরং ইবাদাত কার জন্য নিবেদিত হবে- এক আল্লাহ্ না কি অসংখ্য কল্পিত মা'বূদের জন্য, বিরোধের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে একমাত্র এটিই।

নবী সালেহ্ 'আলাইহিস্ সালাম ও তাঁর তাওহীদের দাওয়াত সম্পর্কে তাঁর জাতির লোকেরা বললো:
قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنْتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَذَا أَتَنْهَانَا أَنْ نَعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آَبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ
((তারা বললো, হে সালেহ্! এর পূর্বে আপনি ছিলেন আমাদের মধ্যে আশা-ভরসার স্থল। আপনি কি আমাদেরকে নিষেধ করছেন তাদের ইবাদাত করা হতে, যাদের ইবাদাত করতো আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা? আমরা অবশ্যই গুরুতর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি সে বিষয়ে, যার প্রতি আপনি আমাদেরকে আহ্বান করছেন।)) [সূরা হূদ: ৬২] গোটা জাতি স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, নবী তাওহীদের প্রতি আহ্বান করার পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন জাতির একমাত্র আশা-ভরসার স্থল। অথচ এক আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি দাওয়াত দানের সাথে সাথেই জাতির লোকেরা শত্রুতে পরিণত হতে শুরু করলো। এ থেকে প্রমাণিত যে, দুনিয়ার কোন স্বার্থ বা কর্তৃত্বের লাভালাভের জন্য নয়; রবং শুধুমাত্র তাওহীদের প্রতি আহ্বানই ছিল নবী-রাসূলগণের অপরাধ(?) তাদের জাতির দৃষ্টিতে, যার কারণে তারা নবীর প্রতি সম্মিলিত শত্রুতা পোষণ করেছিল।

আল্লাহর নবী শু'আইব 'আলাইহিস্ সালাম; যাঁর সম্পর্কে তাঁর জাতি কর্তৃক স্বীকৃত যে, তিনি একজন সহিষ্ণু ও ভালো মানুষ, অথচ একত্ববাদ ও সে অনুযায়ী জীবন গড়ার প্রতি জাতিকে আহ্বান করার ফলশ্রুতিতে জাতির লোকেরা তাঁকে এ বলে বিবাদের সূত্রপাত ঘটায় যে:
قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آَبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ

((তারা বললো, হে শু'আইব! আপনার সালাত কি আপনাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যার ইবাদাত করত আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছেমত যা কিছু করে থাকি তাও ছেড়ে দিতে হবে? আপনি তো একজন সহিষ্ণু, ভালো মানুষ।)) [সূরা হূদ: ৮৭]

সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর স্বজাতীয় কুরাইশরা যে আচরণ করেছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ কুরআনে উল্লেখ করছেন:
وَعَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ مِنْهُمْ وَقَالَ الْكَافِرُونَ هَذَا سَاحِرٌ كَذَّابٌ * أَجَعَلَ الْآَلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ * وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوا وَاصْبِرُوا عَلَى آَلِهَتِكُمْ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ يُرَادُ * مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الْآَخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلَاقٌ
((এরা বিস্ময় বোধ করছে যে, এদের নিকট এদের মধ্য হতে একজন সতর্ককারী আগমন করলেন। আর কাফেররা বললো: এ তো এক মিথ্যাবাদী যাদুকর। সে কি বহু ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একথা বলে প্রস্থান করে যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের পূজায় দৃঢ় থাক। নিশ্চয়ই এ ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি। এ এক মনগড়া উক্তি মাত্র।)) [সূরা সাদ: ৪-৭] অথচ এই লোকেরাই জীবনের চল্লিশটি বছর এ ব্যক্তিকে (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল-আমীন' বা পরম বিশ্বাসী বলে জানতো, নিজেদের সমস্যাবলীতে ফয়াসালা করার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতো।

আল্লাহ্ আরো জানাচ্ছেন:
وَإِذَا رَأَوْكَ إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ رَسُولًا * إِنْ كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنْ آَلِهَتِنَا لَوْلَا أَنْ صَبَرْنَا عَلَيْهَا وَسَوْفَ يَعْلَمُونَ حِينَ يَرَوْنَ الْعَذَابَ مَنْ أَضَلُّ سَبِيلًا * أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا * أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا
((তারা যখন আপনাকে (নবীকে) দেখে, তখন তারা আপনাকে কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্ররূপে গণ্য করে, বলে: এ-ই কি সে যাকে আল্লাহ্ রাসূল করে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগণ হতে দূরে সরিয়েই দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যের উপর অবিচল থাকতাম। আর যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট। আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? না কি আপনি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে ও বোঝে? তারা তো পশুর মতই, বরং তারা (সে পর্যায়ের চাইতেও) অধিক পথভ্রষ্ট।)) [সূরা আল-ফুরকান: ৪১-৪৪] আহা! এ কথাগুলো কি তারা সেই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে বলেনি, যাঁর কাছে তারা ইতিপূর্বে কা'বা শরীফের ঐতিহাসিক কালো পাথর স্থাপনে অংশীদারিত্বের বিবাদ মীমাংসার জন্য গিয়েছিল। চার গোত্র মিলে সমগ্র জাতির মধ্যে যারা তাঁকেই একমাত্র সুবিচারক হিসেবে নির্বাচন করলো নিজেদের কর্তৃত্বের বিবাদ নিরসনের জন্য। অতএব, তাদের পূর্বাপর কথানুযায়ী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হবার পর তাঁর সাথে বিবাদের একমাত্র মূল কারণ ছিল তাওহীদ বা একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের প্রতি দাওয়াত।

নবীর সাথে জাতির লোকদের লড়াই আর অন্য কোন কারণে ছিল না শুধুমাত্র তাওহীদুল্ উলুহিয়্যাহ্ বা ইবাদাতে একত্ববাদ ব্যতীত। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ
((আমাকে মানুষের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার জন্য আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ্ ছাড়া সত্যিকার কোন মা'বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। অতঃপর যখনই তারা সে কাজগুলো করবে, তখনই আমার থেকে স্বীয় জান-মাল রক্ষা করে নেবে, ইসলামের হক্ক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব আল্লাহর উপর।)) [বুখারী: ২৫, মুসলিম: ২২] এখানে "ইসলামের হক্ক" বলতে ইসলামী দণ্ডবিধিকে বুঝানো হয়েছে, কেননা এর আওতায় এসে গেলে অপরাধীর জন্য আর হাদীসে উল্লেখিত নিরাপত্তা থাকছে না।

উপরোল্লেখিত প্রমাণাদিগুলো অতীত জাতিসমূহ তাদের নবীদের সাথে এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বজাতি তাঁর সাথে যে কারণে বিবাদ-বিসম্বাদ ও লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল, সে সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিকে উন্মোচন করে দিচ্ছে। সকল নবী-রাসূল 'আলাইহিমুস্ সালাম-এর সাথেই বিবাদের যে কারণ ঘটেছিল, তা আর কিছুই নয়; শুধুমাত্র তাওহীদুল্ উলুহিয়্যাহ্ বা ইবাদাতে একত্ববাদ। যেখানে বলা হয়ে থাকে যে, মানুষ তার জীবনের যাবতীয় ইবাদাতকে নির্দিষ্ট করবে শুধুমাত্র, একমাত্র, কেবলমাত্র এক আল্লাহ্ সোবহানাহু ওয়াতা'আলার জন্য এবং অন্য সকল কল্পিত মা'বূদকে অস্বীকার করবে।

০৯.০৪.২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

পরের পর্ব: @ ইবাদাতের অর্থ ও বুনিয়াদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28786503 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28786503 2008-04-10 03:46:43
@ সীরাতুন্নবী: আরব জাতিসমূহ (১) Click This Link

ঐতিহাসিকরা তিনভাগে বিভক্ত করেছেন-
১) আরব বারেবা: সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত 'আদ, সামূদ, তাছাম, জাদিছ, আমালেকা প্রভৃতি জাতিসমূহ।
২) আরব আবেরা: ইয়ারুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে কাহতানের বংশধর, এদেরকে কাহতানী বলা হয়। এ বংশের নাম এখনো শোনা যায়।
৩) আরবে মোস্তারেবা: ইসমাঈল 'আলাইহিস্ সালামের বংশধর। এদের আদনানী আরবও বলা হয়।

বিস্তারিত:
১) আরব বারেবা: বিলুপ্ত।

২) আরব আবেরা: কাহতানী।
আদি বাসস্থান: ইয়েমেন।
খ্যাতিমান দু'টি গোত্র:
ক) হেমইয়ার
খ) কাহতান।

হেমইয়ার: বিখ্যাত শাখার নাম- যাইদুল যমহুর কোজা'আহ এবং যাকাসেক।
কাহতান: বিখ্যাত শাখা- হামদান, আনমার, তাঈ, মাযহিজ, কেন্দাহ, লাখম, জুযাম আযাদ, আওস, খাজরায ও জাফনার। সিরিয়ার আশপাশে বাদশাহী প্রতিষ্ঠা ও পরে গাসসান নামে পরিচিতি। ইয়েমেনবাসীদের বাণিজ্যের উপর রোমকদের আধিপত্য বিস্তারকালে এরা ইয়েমেন ছেড়ে আরব উপদ্বীপে বসবাস শুরু করে। কেউ বলেন, হিমইয়ারী গোত্রের সাথে বিবাদের ফলে দেশ ত্যাগী হয়।
দেশত্যাগী কাহতানীরা চার ভাগে বিভক্ত:
ক/১) আযাদ: সর্দার ইমরান ইবনে আমর মুযাইকিয়ার পরামর্শে দেশত্যাগ ও পরে উত্তরে অগ্রসর হয়ে বিচ্ছিন্ন বসবাস করে।
বিস্তারণ-
ছা'লাবা ইবনে আমর: ইনি হেজাজ অভিমুখে রওয়ানা হয়ে ছা'লাবা ও জিকার-এর মাঝামাঝি অবস্থান করেন। পরে মদীনা গিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। ইনার বংশ থেকেই আওস ও খাজরাযের জন্ম; এরা ছিল ছা'লাবার পুত্র হারেছার সন্তান।
হারেছ ইবনে আমর: খোজা'আর সন্তান, হেজাজের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর মাররায যাহরানে অবস্থান নিয়ে মদীনায় হামলা করে। মক্কা থেকে বনী জুরহুম গোত্রকে বের করে দিয়ে নিজেরা বসতি গড়ে।
ইমরান ইবনে আমর: আম্মানে বসতি গড়ে, এদেরকে আযদে আম্মান বলা হয়।
নাসর ইবনে আযদ: তোহামায় অবস্থান করে, এদের আযদে শানুয়াত বলা হয়।
জাফনা ইবনে আমর: ইনি ছিলেন গাসসানী বাদশাহর প্রপিতামহ, হেজাজের গাসসান নামক জলাশয়ের কাছে কিছুদিন থাকেন এবং পরে সপরিবারে সিরিয়ায় বসবাস করেন।

ক/২) লাখম জুযাম: এ বংশে নসর ইবনে রবিয়া ছিলেন অন্যতম, তিনি হীরার শাসনকর্তাদের (আরে মোনযের) পূর্বপুরুষ ছিলেন।
ক/৩) বনু তাঈ: বনু আযদের পরে এরা উত্তরের আজা ও সালমা নামক দুই পাহাড়ের মাঝে বসবাস শুরু করে, এদের কারণেই পাহাড় দু'টি বিখ্যাত হয়ে উঠে।
ক/৪) কিন্দা: প্রথমে বাহরাইনের বর্তমান আল-আহমা নামক স্থানে বসবাস শুরু করে, পরে হাদারামাউত, টিকতে না পেরে নাজদে গিয়ে নিজস্ব সরকার প্রতিষ্ঠা করে এবং ব্যর্থ হয় ও নাম নিশানা মুছে যায়।

কাহতান ছাড়াও হেমইয়ারের আরেকটি গোত্র ছিল- কাজাআ। এর নাম হেমিরি নিয়ে সন্দেহ আছে, এরা ইয়েমেন থেকে বের হয়ে ইরাকের বাদিয়াতুস সামাওয়াতে বসবাস করে।

৩) আরবে মোস্তারেবা:……………….

০৫.০৪.২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

পরে: @ সীরাতুন্নবী: আরব জাতিসমূহ (২) লিংক: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28785551 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazalblog/28785551 2008-04-06 02:19:40