somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... রাঙামাটির মঘাছড়ির সোনার মেয়েরা
রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কের কাউখালি উপজেলাধীন ঘাঘড়া ইউনিয়নের ছোট্ট একটি গ্রাম মগাছড়ি। রাঙামাটি শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামটি প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত। মূল সড়ক থেকে দৃষ্টিসীমার মধ্যেই উঁচু একটি পাহাড়ে অবস্থিত একটি প্রাইমারি স্কুল। সুউচ্চ পাহাড়ে দুটি বটগছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে তিনটি ভবন নিয়ে অবস্থিত স্কুলটির নাম মঘাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাংলাদেশের আর দশটি স্কুলের মতোই আটপৌড়ে,গতানুগতিক তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর অবস্থানগতকারণে নান্দনিক। দুটি দৃষ্টিনন্দন বটবৃক্ষের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ও ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মাত্র ৩০০ শিক্ষার্থীর এই স্কুলের শিক্ষক ছয়জন। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো। কিন্তু গত ৩১ জানুয়ারি’ই বদলে গেলো এই স্কুলের ইতিহাস ! কারণ দেশের ৬০ হাজার ৭৭৬ টি প্রায় একই রকম প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে এই স্কুলের মেয়েরাই যে দেশসেরা তা প্রমাণিত হলো বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্টে। এই বছরের চ্যাম্পিয়ন যে এই স্কুলের ছাত্রীদের ফুটবল টীম ! দুর পাঁড়াগায়ের মেয়েদের এই অর্জনে গর্বিত পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম।

পেছনের কথা
সরকারী কড়া নিদের্শ,তাই বঙ্গমাতা ফুটবল টূর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে দেশের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়,অধিকাংশই দায়সারাভাবে,কেউ কেউ ভীষণ সিরিয়াস। এই সিরিয়াসদেরই একজন মঘাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা। নিজের শিক্ষার্থীদের তার চেয়ে ভালো কে আর চেনে। শুরু থেকেই তার বিশ্বাস ছিলো তার মেয়েরা অসাধারন কিছু একটা করতে পারবে ! সাথে ছিলেন স্কুলের সহশিক্ষক আর বিশেষ করে ক্রীড়া আর সংষ্কৃতি অন্তঃপ্রাণ ধারশমনি চাকমা। সাহস আর বিশ্বাসে আস্থা রেখে ছেলে এবং মেয়েদের দুটি বিভাগেই টীম দিলেও ছেলেরা উপজেলা পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েই বাদ পড়ে যায়। কিন্তু মেয়েরা যে অদম্য। তারা উপজেলা-জেলা-বিভাগ অতিক্রম করে ৩১ জানুয়ারি ২০১২ তে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেতো ইতিহাসই তৈরি করলো। স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও দলের ম্যানেজার ধারশমনি চাকমা জানালেন,আমাদের মেয়েরা কারো কোন সহযোগিতা ছাড়াই একাগ্রতা,অধ্যবসায় আর নিজস্ব উদ্যোমের মাধ্যমে যে ফলাফল বয়ে আনলো তা বিরল।

যেমন ছিলো খেলার ফলাফল
শুরু থেকে জাতীয় পর্যায়ে ফাইনাল পর্যন্ত মঘাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েরা গোল দিয়েছে ৪৯ টি আর বিপরীতে গোল খেয়েছে মাত্র ২টি ! দলের পক্ষে সেরা গোলদাতা লাজুক টিনা চাকমাকে দেখে কিউ বিশ্বাস করবেনা,এই ছোট্ট মেয়েটা একাই দিয়েছে ১৮ টি গোল। ভীষন লাজুক টিনা জানালো,প্রতিপক্ষকে বেশি বেশি গোল দিতে তার একটু খারাপই লেগেছে। আর দলনেতা তিশা চাকমা সপ্রতিভ,দুরন্ত। তার সোজাসাপ্টা কথা -‘ ইস্,বিবাড়িয়ার সাথে যদি ওই ২ টি গোল না খেতাম !’ । ফাইনালেই সবচে কম ব্যবধানে রংপুরের পালিছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে তারা। আর ইউনিয়ন থেকে জাতীয় প্রতিযোগিতা পর্যন্ত সবগুলো খেলায় প্রতিপক্ষরা তাদের কাছে হেরেছে আরো বেশি গোলের ব্যবধানে। বিভাগীয় পর্যায়ে কুমিল্লা,নোয়াখালি,চট্টগ্রাম,বিবাড়িয়া সবাই তাদের কাছে হেরেছে বড় ব্যবধানেই। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথমে রাজশাহী আর পরে রংপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মঘাছড়ির মেয়েরা।

প্রথম ঢাকা,প্রথম জয়
এই স্কুলের ফুটবল টীমের ১৭ জন মেয়ের কেউই কোনদিন দেশের রাজধানী ঢাকায় যায়নি। জীবনে প্রথমবার ঢাকা শহর দেখেছে তারা। আশ্চর্য,প্রথমবার ঢাকা গিয়েই জয় ছিনিয়ে আনার বিস্ময় এখনো তাদের চোখেমুখে। কেমন দেখেছে ঢাকা,এমন প্রশ্নের জবাবে তাদের মুখে উত্তর-‘কত্ত বড় শহর,খালি মানুষ আর মানুষ,বড় বড় বিল্ডিং,লাখ লাখ গাড়ী ! ’ ঢাকা শহর দেখে বিস্মিত এই শিশুদের ভালোবাসা অবশ্য অর্জন করতে পারেনি রাজধানী ঢাকা । তাইতো ঢাকা নিয়ে সবপ্রশংসা নিমিষেই শেষ হয়ে যায় শেষ উত্তরে-‘যেখানে যেতে চাই,শুধু দেরি হয়ে যায়,গাড়ীর ভীড় (যানজট),ধোঁয়া,কেউ কারো সাথে কথাও বলেনা,আর খালি মশা আর মশা,রাতে মশার জ্বালায় ঘুমোতে পারতামনা,এর চেয়ে আমাদের মঘাছড়ি,রাঙামাটি’ই অনেক ভালো,অনেক সুন্দর।’ বোঝা গেলো,রাজধানী ঢাকার নিয়নের আলো সাময়িকভাবে সবুজ পাহাড়ের এই কোমলমতি শিশুদের মুগ্ধ করলেও ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে পারেনি।

যে গল্পে চোখ ভিজে আসে
চোখে টলটল জল নিয়ে প্রধানশিক্ষক বীরসেন চাকমা জানালেন, নিজের দুঃখের কথা, বেদনার কথা। জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পড়ে থাকা দুটি ফুটবল চেয়েও পাননি। ন্যূনতম সহযোগিতাও করেনি রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ঘাগড়া এলাকার মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসাই তার মেয়েদের এতোদূর নিযে এসেছে বলে বিশ্বাস তার। স্কুলের কোন মাঠ নেই। তাই প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের ঘাগড়া স্কুল মাঠে প্রতিদিন গাড়ীতে করে মেয়েদের নিয়ে যেতেন প্রাকটিস এর জন্য। এইভাবে কিছুদিন চলার পর প্রতিদিনের গাড়ী ভাড়ার ব্যয় বহন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের স্বজনদের সহযোগিতা নিলেন। মেয়েদেরকে ২/৩ জন করে তুলে দিলেন ওই এলাকার স্বজনদের বাসায়। খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন নিজেই,কারো কাছ থেকে চেয়ে নিলেন চাল,আবার কারো কাছ থেকে অন্য উপকরণ ! শারীরিক পরিশ্রমের খেলা ফুটবলে যে পরিমাণ খাদ্য খেলোয়াড়দের খাওয়ানে উচিত তাও খাওয়াতে পারেননি। এইভাবেই জাতীয় পর্যায়ের জন্য তৈরি করলেন সন্তানতুল্য মেয়েদের। একদিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে ২ টি বল চেয়ে না পেলেও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এলাকার দরিদ্র মানুষই নিজেরা চাঁদা তুলে বা কিনে দিয়েছেন ৪৭ টি বল ! সাধারন মানুষের এই ভালোবাসায় মুগ্ধ বীরসেন জানালেন-সমাজের বিত্তবানরা নয়,এইসব সাধারন মানুষই আমার মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে সবচে বড় অনুপ্রেরণা। জানালেন,এমনকি ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষ দলের এলাকার মন্ত্রী, সাংস্দরা নিজেরা এসে ক্রীড়াপল্লীতে নিজ নিজ এলাকার ছেলেমেয়েদের খোঁজ খবর নিয়েছে কিন্তু আমাদের পার্বত্য এলাকার এতো গুরুত্বপূর্ণ নেতানেত্রী থাকলেও কেউ একজনও আমাদের খবর নেয়নি। মেয়েরা মন খারাপ করে দেখতো আর আমার কাছে জানতে চাইতো,আমাদের খবর নিতে কেউ আসেনা কেনো-কিন্তু কি আর জবাব ছিলো আমার কাছে ! আর ক্রীড়াপল্লীতে এক রাতে ডাইনিং-এ মেয়েদের সবাইকে নিয়ে খেতে বসেছেন,কিন্তু মেয়েরা সবাই খাওয়ার আগেই খাবার শেষ,কি আর করা,অগত্যা,ওই রাত না খেয়েই ঘুমুতে গেছেন অভুক্ত মেয়েদের নিয়ে। সেই স্মৃতি এখনো কষ্ট দেয় তাকে।
জয়ী মেয়েরা !
ওরা একেকজন একেক ক্লাসে পড়ে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতার জন্য দীর্ঘদিন একসাথে থাকায় ওরা সবাই যেনো বন্ধুই হয়ে উঠেছে। একসাথে দলবেঁধে ছুটোছুটি,হৈ হুল্লা,আর উচ্ছাস যেনো জানান দিচ্ছেলো-‘বিজয়ীরা এমনই হয়’। আশ্চর্য অনেক মিল তাদের। সবারই প্রিয় খেলোয়াড় আর্জেন্টাইন তারকা ‘মেসি’। আর জাতীয় পর্যায়ে প্রিয় খেলোয়াড় সাবিনা।
আর সবারই ইচ্ছে ফুটবলে একদিন জাতীয় দলে খেলার। জয়ী দলের খেলোয়াররা হলো তিশা চাকমা,পিয়ারি তংচঙ্গ্যা,রুনা তংচঙ্গ্যা,আয়না চাকমা,নদী চাকমা,সিবলিকা তালুকদার,শিল্পা চাকমা,মাউচাই মারমা,চাথ্ইুমা মারমা,রনি চাকমা,নিংচানা মারমা,উনুচিং মারমা,মুনা মারমা,উইনুচিং মারমা,হ্লানুমা মারমা,চম্পা মারমা,রুমা আক্তার,ম্যানেজার হিসেবে ছিলেন ধারশমনি চাকমা আর প্রশিক্ষক শান্তিমুনি চাকমা ও সুইহ্লামং মারমা।
খেলার কারণে জীবনে প্রথমবারের মতো দীর্ঘসময় বাড়ীর বাইরে থাকা এই মেয়েরা মন খারাপ হতো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জানালো-একদম না,কারণ আমাদের হেডস্যারই ছিলো,আমাদের বাবা এবং মা । তিনি সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। নানা মজার মজার কথা বলে আমাদের মন ভালো রাখতেন। তার কারণে বাড়ীকে খুব বেশি মিস করিনি। দলের কেউ গোল্ডেন বল বা গোল্ডেন বুট না পেলেও নিজেদের প্রাপ্তিতে উচ্ছসিত তারা।

একটি দুঃখ !
বীরসেন চাকমা তার মেয়েদের শুরু থেকেই অনুপ্রাণিত করেছিলেন ‘তোমার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরষ্কার নিতে পারবে’এমন উজ্জীবনী বার্তা দিয়ে। কিন্তু মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হলো ঠিকই কিন্তু পুরষ্কার প্রদান করলেন প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিন। মেয়েদের কাছে যেনো কিছুটা ছোটই হলেন এই শিক্ষক। জানালেন-এমন জাতীয় আয়োজনে যদি প্রধানমন্ত্রী নিজে ছোট্ট এই শিশুদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন,তাহলে তারা আরো অনেক বেশি উজ্জীবিত হবে। তিনি পরবর্তী আয়োজনে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধও জানিয়েছেন।

একজন ফিরোজ আহম্মেদ
ভদ্রলোক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারলেননা বীরসেন। কিন্তু একটি মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার তথ্য জানিয়ে বললেন-মানুষ নয়,যেনো অবতার হয়েই এসেছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী এই ফিরোজ আহম্মেদ। যখন আমাদের পাশে কেউ নেই তখন এই ভদ্রলোক আমাদের জন্য কিইনা করেছেন। ঢাকার প্রতিটি খেলায় উপস্থিত ছিলেন। মেয়েদেরকে প্রতিটি গোলের জন্য দ্ইু হাজার টাকা করে পুরস্কার দিয়েছেন। আমাদের জন্য অনেক টাকাও খরচ করেছেন এই ভদ্রলোক। মেয়েরা কৃতজ্ঞ চিত্তে জানালেন এই অচেনা আংকেলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। অচেনা এই ভদ্রলোক ঢাকা থেকে চলে আসার সময় একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়েছিলেন বীরসেনকে,তাতে সেই ভদ্রলোক সম্পর্কে যতটুকু জানা তিনি বাংলাদেশ বধির ক্রিকেট এসোসিয়েশন এর সভাপতি ও এশিয়া বধির ক্রিকেট ফেডারেশন এর সহসভাপতি। ১৯৬৩-৬৪ সালে তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন।
আবার একই সাথে রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উগা প্রু মার্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বীরসেন জানালেন-চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ের খেলার সময় এই ভদ্রলোক আমাদের পুরো টীমকে দুইবেলা নিজের বাসায় দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন।

অচেনা পিয়া,চেনা দুঃখ
জয়ী দলের উচ্ছসিত পোষাক পড়া মেয়েদের সাথে প্রতিবেদক যখন কথা বলছিলেন তখন হঠাৎ খেয়াল করলেন দুরে একটি মেয়ে একা দাড়িয়ে,একটু অস্বাভাবিক,চোখ তার জল ছলছল। সেদিকে তাকাতেই দলের মেয়েরা তাকে ডেকে আনলো। জানালো-তাদের মধ্যে সবচে ভালো খেলে পিয়া। প্রাকটিসেও ছিলো। কিন্তু তার ধর্মভীরু পরিবার তাকে খেলতে দেয়নি। পিয়ার কাছে জানতে চাইলেই মাথা নীচু করে চোখের টলটল জলেই জানিয়ে দিলো তার বন্ধুরা মিথ্যে বলেনি। চোখ মুছতে মুছতে জানালো,বাবা-মা আমাকে একা একা যেতে হবে বলে যেতে দেয়নি। প্রধান শিক্ষক বীরসেন জানালেন-‘এই মেয়েটি সবার চেয়ে ভালো খেলে,মাত্র তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া এই মেয়েটির বাবা-মাকে আমি অনেক বুঝিয়েছি,কিন্তু তবু তারা মেয়েকে ছাড়েনি। তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখন তারা বুঝেছে,তারা ভুল করেছে। আমার বিশ্বাস আগামীবার তারা পিয়াকে খেলার সুযোগ দিবে।’ কিন্তু আমাদের সমাজে পিয়াদের সংখ্যা যে এখনো অনেক বেশি,এই দায় কার ? রাষ্ট্র আর সমাজ কি এই দায় এড়াতে পারবে ?
অভিভাবকদের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গী
স্কুলের পাশেই বাড়ী মোঃ আনোয়ারের। তাদের নিজের সন্তানও এই স্কুলের শিক্ষার্থী। দূর্ঘটনার কারণে ক্র্যাচে ভর দিয়েই স্কুলে এলেন আনোয়ার। জানালেন-আমরা আমাদের এই মেয়েদের জন্য পুরো এলাকার মানুষ আজ গর্বিত। আমাদের মেয়েরা যে অহংকার আর সম্মান বয়ে নিয়ে আসলো তা কিভাবে শোধ করতে হবে আমরা জানিনা। তিনি বলেন-এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষই অশিক্ষিত এবং নিন্মআয়ের। তাই প্রথমে আমরা এই ব্যাপারটা বুঝতেই পারিনি। পরে যখন ধীরে ধীরে এলাকার মানুষ বুঝতে পেরেছে তখন সবার দৃষ্টিভঙ্গীই বদলে গেছে। তিনি বলেন-আমাদের এই স্কুলতো দুরের কথা,আমাদের গ্রামেও কোনদিন কোন সাংবাদিক আসেনি,আজ আমাদের মেয়েদের কারণে আপনারা এলেন।
এক লক্ষ টাকার চেক !
বিজয়ী হিসেবে প্রত্যেকে আলাদা করে একটি করে পদক,আর স্কুল একটি পদক প্রাপ্তির পাশাপাশি নগদ এক লক্ষ টাকা পেয়েছে তারা। কিন্তু এই টাকা কি কাজে ব্যবহৃত হবে এখনো ঠিক করা হয়নি। প্রধানশিক্ষক বীরসেন চাকমা জানালেন-স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষা অফিসের সাথে আলোচনা করেই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কেউ জানেনা !
মঘাছড়ির মেয়েরা সারাদেশ জয় করে ফেললেও এই সম্পর্কে জানেনা খোদ রাঙামাটির শহরের মানুষজনই। মূল শহর থেকে দূর মফস্বলের পাড়া গাঁয়ের একটি স্কুল এতোবড় একটি কান্ড করে ফেলল অথচ খোদ রাঙামাটি শহরে এর কোন প্রভাব বা প্রতিক্রিয়াই নেই। জানেনা স্থানীয় সংবাদ কর্মীরাও। স্কুলের শিক্ষক আর ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেলো এই প্রতিবেদক ছাড়া আর কোন সাংবাদিকও যায়নি তাদের কাছে। এই মেয়েদের এখনো কেউ সংবর্ধনাও দেয়নি। তবে দৃঢ়চেতা প্রধানশিক্ষক বীরসেন চাকমা জানালেন-কেউ সংবর্ধনা না দিলেও আমি আমার মেয়েদের সংবর্ধনা ঠিকই দিবো। কাউখালি উপজেলাবাসী বা মঘাছড়িবাসীর ব্যানারে হলেও।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29539929 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29539929 2012-02-13 00:09:58
প্রকৌশলী হতে এসে লাশ হয়ে বাড়ী ফিরলো রায়হান!!!!!

তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে লাশ হয়ে বাড়ী ফিরলো কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট(বিএসপিআই/সুইডিশ) এর কন্সট্রাকশন বিভাগের দ্বিতীয় শিফটরে ছাত্র সৈয়দ কায়সার রায়হান। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী নতুন বাজার এলাকায় কিছু সিনিয়র ছাত্রের সাথে উপজেলা নির্বার্হী অফিসারের বাকবিতন্ডার জের ধরে সম্মিলিত প্রতিবাদে অংশ নিয়ে লাশ হতে হলো তাকে। সুইডিশ ৪৯ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম লাশ হতে হলো কোন ছাত্রকে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটিই প্রথম কোন ছাত্রহত্যার ঘটনা।

কি হয়েছিলো সেদিন ঃ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা। ক্যাম্পাস সংলগ্ন নতুন বাজারের প্রধান সড়কে তীব্র গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলো এক ছাত্রের অতিথি হিসেবে ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা বন্ধু রনি। এই সময় বাজারেই ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুজ্জমান। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং অটোরিক্সা চালক মোটরবাইক আরোহী ছাত্রটিকে আটক করে ইউএনও এর কাছে নিয়ে আসলে তিনি ২০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন। ছেলেটি মোবাইলে তার বন্ধুকে খবর দিলে সুইডিশ ছাত্রবাস থেকে কয়েকজন ছাত্র এসে ছেলেটিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ইউএনওকে চাপ দিতে থাকে। এই সময় বাজারের ব্যবসায়ী,অটোরিক্সা চালক ইউএনও এর পক্ষ নিলে আরো ছাত্ররা ক্যাম্পাস থেকে এলে সেখানে তীব্র বাতবিতন্ডা হয়। এই সময় পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের উপর টিয়ারশেল এবং গুলি বর্ষন করে। এই সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে রায়হান। আহত হয় আরো অন্ততঃ পনেরজন শিক্ষার্থী।
আহত রায়হানকে প্রথমে চন্দ্রঘোণা মিশন হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে অবস্থা সংকটাপন্ন হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত পৌনে নয়টায় মৃত্যু হয় তার।

পাল্টাপাল্টি দাবী ঃ সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে পুলিশ এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। পুলিশ বলছে,উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ছাত্ররা অবরুদ্ধ করলে তাকে বাঁচানোর জন্য পুলিশ এগিয়ে যায়,এই সময় ছাত্ররা পুলিশের উপর হামলা করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলিবর্ষন করেছে। তবে ছাত্রদের দাবী,সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে ইউএনও এর সাথে তাদের তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ইউএনও ও এএসপি (কাপ্তাই সার্কেল) এর নির্দেশে পুলিশ ঠান্ডা মাথায় গুলি করে রায়হানকে হত্যা করেছে। সেখানে গুলি করার মতো কোন পরিস্থিতিই তৈরি হয়নি বলে দাবী করেছে তারা।

গুলি তবে কার নির্দেশে ? ঃ পুলিশের চট্টগ্রাম রেজ্ঞের অতিরিক্ত ডিআইজি বিশ্বাস আফজাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মাসুদ উল হাসান কাপ্তাই এসে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই সময় তিনি সাংবাদিক বলেন-ছাত্ররা পুলিশের উপর হামলা করায় পুলিশ আত্মরক্ষার প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে গুলিবর্ষন করেছে। তবে পুরো বিষয়টি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। এই সময় তিনি দাবী করেন-ছাত্ররাও গুলি করেছে এবং বহিরাগতরাও অস্ত্র নিয়ে সংঘাতে অংশ নিয়েছে। তিনি আরো দাবী করেন-নিহত রায়হান পুলিশ নয়,অন্য কারো গুলিতেও নিহত হতে পারেন।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুজ্জমান পুলিশকে তিনি কোন গুলি করার নির্দেশ দেননি জানিয়ে বলেছেন,এএসপি (কাপ্তাই সার্কেল) এর উপস্থিতিতে ঘটনা ঘটেছে। আমি কোন গুলির নির্দেশ দেইনি। গুলি করার মতো কোন পরিস্থিতিও হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষন এবং ছাত্রমৃত্যুর ঘটনাকে‘ দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা ঃ রায়হান ঘটনায় জের ধরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পলিটেকনিক্যালটি বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের মঙ্গলবার সকাল আটটার মধ্যে হল খালি করে দেয়ার জন্য সকাল সাতটায় নোটিশ জারি করার পর শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছে। শিক্ষার্থী মারুফ, হাসান, জাকির অভিযোগ করেছে সকালে প্রশাসন তাদের ঘুম থেকে তুলে শিক্ষার্থীদের জোর করে হল ছাড়তে বাধ্য করে ।
পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সিদ্দিকুল বারি ইন্সটিটিউট বন্ধ ও হল খালি করার ঘোষনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন সহপাঠী হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে তাই যেকোন অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তিনি বলেন-আমরা আমাদের ছাত্র হত্যার বিচার চাই। এই বিষয়ে সকল শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং ক্যাম্পাস খোলা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঃ শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে আকস্মিকভাবে ইন্সটিটিউট বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগে বাধ্য করার পর সকাল এগারোটায় উপজেলার লিচু বাগান এলাকায় শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করে। তারা সহপাঠী রায়হান হত্যার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান এবং এএসপি (সার্কেল) প্রণব কুমার সাহাকে দায়ী করে তাদের অপসারন দাবী করেছে। এই সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী জাকির,হাসান,সাকিব,ফয়সল সহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। লিচুবাগানে সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি বাসযোগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিহত রায়হান এর গ্রামের বাড়ীতে যায়। সেখানে তারা তার জানাজায় অংশ নেয়। দুপুরে রায়হানকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠী জাকির। ছাত্ররা অবিলম্বে ক্যাম্পাস খুলে দেয়া,রায়হান হত্যাকারীদের গ্রেফতার,ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ প্রত্যাহার,ক্যাম্পাসে রায়হানের একটি ছাত্রাবাস ও ভাস্কর্য নির্মাণ,তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবী জানিয়েছে।

পুলিশের মামলা ঃ হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোন মামলা না হলেও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ছয়জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করে আরো দুই শতাধিক ছাত্রকে আসামী করে কাপ্তাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন থানার উপ পরিদর্শক ইব্রাহীম খলিল। কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউসুফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন,তদন্তশেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে যার মোটরবাইক চালানো নিয়ে সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে সেই রনিও ইউএনও এর দেয়া দন্ডে কাপ্তাই থানা হাজতে আটক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রতিনিধিদের বিস্ময় ঃ তুচ্ছ ঘটনা শেষ পর্যস্ত ছাত্রহত্যার ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কাপ্তাউ উপজেলা চেয়ারম্যান অংসুচাইন চৌধুরী,ভাইস চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন সেলিম,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় সাংবাদিক,রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা একযোগে পুরো বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন-আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যাটির সমাধান হতে পারতো। একজন ছাত্রের মৃত্যু কারোই কাম্য নয়। একইসাথে ছাত্রদের ও পুলিশের,উভয়েরই আরো সহনশীল হওয়া উচিত ছিলো।

বাবা মায়ের আহাজারি ঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার নজুমিয়াহাটের আব্দুল মান্নান আর জয়নব বেগমের ৩ ছেলে ১ মেয়ের সংসারে সৈয়দ কায়সার রায়হান দ্বিতীয়। বাবা-মায়ের স্ব্প্ন বুকে নিয়ে হ্রদের পাড়ের ছোট্ট পাহাড়ী শহর কাপ্তাইতে অবস্থিত বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট-এ ভর্তি হয়েছিলেন প্রকৌশলী হতে। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস। মাত্র দ্বিতীয় শিফটে পড়াকালেই সহপাঠীদের সম্মিলিত প্রতিবাদে সামিল হতে গিয়ে কি নিদারুন মৃত্যু তার ! মঙ্গলবার দুপুরে প্রিয় সন্তানের লাশ কবরে মাপিতে ঢেকে দেয়ার পর তারা বাবা আব্দুল মান্নান,মা জয়নব বেগম আর ভাইবোন,স্বজনদের কান্না আর আহাজারি,যে বেদনার্ত পরিবেশ তৈরি করেছে,তা অনেক পাষান হৃদয়েও কাঁপন ধরিয়েছে নিশ্চিত।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29528719 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29528719 2012-01-24 23:35:58
প্লিজ,ভাইয়ের একটু হেল্পান... নিজের ল্যাপটপে একটি ফোল্ডার ‘ফোল্ডার সিকিউরিটি’সফটওয়ার দিয়ে লক করে রেখেছিলাম। প্রায়ই ব্যবহার করতাম। কিন্তু সম্প্রতি পিসি ফরম্যাট করার কর ফোল্ডারটি আর খোলেনা। একই ‘ফোল্ডার সিকিউরিটি’ একই পাসওয়ার্ড দিয়েও ব্যবহার করে দেখেছি,কাজ হয়না। অন্য ফাইল পার্সওয়ার্ড দিয়ে লক করা যায়,খোলাও যায়। কিন্তু কোনভাবেই ওই ফোল্ডারটি খোলা যাচ্ছেনা......কিন্তু এটা আমার জন্য খুব দরকারী, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আছে সেখানে...
প্লিজ,ভাইয়ের একটু হেল্পান...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29523634 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29523634 2012-01-17 01:09:36
টেকি ভাইদের হেল্প চাই..
নিজের ল্যাপটপে একটি ফোল্ডার ‘ফোল্ডার সিকিউরিটি’সফটওয়ার দিয়ে লক করে রেখেছিলাম। প্রায়ই ব্যবহার করতাম। কিন্তু সম্প্রতি পিসি ফরম্যাট করার কর ফোল্ডারটি আর খোলেনা। একই ‘ফোল্ডার সিকিউরিটি’ একই পাসওয়ার্ড দিয়েও ব্যবহার করে দেখেছি,কাজ হয়না। অন্য ফাইল পার্সওয়ার্ড দিয়ে লক করা যায়,খোলাও যায়। কিন্তু কোনভাবেই ওই ফোল্ডারটি খোলা যাচ্ছেনা......কিন্তু এটা আমার জন্য খুব দরকারী, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আছে সেখানে...
প্লিজ,ভাইয়ের একটু হেল্পান...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29523382 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29523382 2012-01-16 16:38:50
নির্মম প্রতীক্ষার শেষ না শুরু? মাত্র ছয়মাস বয়সী শিশু সন্তান আর স্ত্রী সাফিয়া বেগমের অপেক্ষার পালা শেষ হলো। মা মরিয়মের কান্না আর বাবা আজেদ আলীর সন্তানকে ফিরে পাবার আশারও সলিল সমাধি হলো শেষাবধি। অপহরণের দীর্ঘ ৩২ দিন পর বৃহস্পতিবার রাঙামাটির বরকল উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের পাশে কাপ্তাই হ্রদে ভেসে থাকা রমজান আলীর লাশ পাওয়া গেলো। গায়ে কালো গেঞ্জি, পড়নে লুঙ্গি আর লাশের হাত বাঁধা।
সকালে লাশ পাওয়া গেলেও হ্রদের পানিতে দীর্ঘদিন থাকায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়া লাশটি চিনতে পারছিলোনা কেউই। অতঃপর সেই ক্ষতবিক্ষত লাশ নিয়ে আসা হলো রাঙামাটিতে। দূরের ভূষণছড়া থেকে অজানা আশঙ্কা বুকে নিয়ে রাঙামাটি এলো অপহৃতদের পাঁচটি পরিবারের সদস্যরা। তখনো কেউই জানেনা, কার জন্য অপেক্ষা করছিলো প্রিয় স্বজনের লাশ।
বিকেল সাড়ে চারটায় প্রতীক্ষার অবসান হলো। স্বজনের কান্না আর চিৎকারই জানান দিলো এই বিশাল বোঝা কার, কার স্বজন ফিরে এসেছে লাশ হয়ে, লাশ ঘরে। তবুও রমজান আলীর পিতা আজেদ আলী, স্ত্রী সাফিয়া বেগমের কান্না আর আর্তচিৎকারে ভারি হওয়া চারিপাশ অজানা আতঙ্কের স্রোত ছড়িয়ে দিয়েছে বাকী চারটি পরিবারের সদস্যদের মাঝেও।
পহেলা জানুয়ারি বরকল থেকে আসা প্রায় চার/পাঁচ হাজার সংক্ষুব্ধ মানুষের শ্লোগানের ভীড়েও যে সাফিয়ার কান্না ছুঁয়ে গেছে সবার হৃদয়, স্বামী হারা সেই রমণীর কান্না বৃহস্পতিবারের সাঁঝের বিকেলে ভূষণছড়া প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষগুলোকে কতটা ছুঁয়ে যাবে তার টের পাওয়া গেলো বিকেলে হাসপাতাল চত্বরেই। সেখানে উপস্থিত প্রায় শতাধিক নানা শ্রেণী পেশার মানুষ, যাদের কেউবা অপহৃতদের প্রতিবেশি, কেউবা সংবাদকর্মী, কেউ হাসপাতাল এলাকাবাসী, আর কেউ কেউ শুধুই উৎসুক জনতা। সবার চোখেই অশ্র“বিন্দু। এই কান্না, এই জল, এই অশ্র“ যেনো অপহরণ, নির্মম হত্যা আর কাপুরুষতার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার আর প্রতিবাদ।
তারপরও রমজান আলীর লাশতো পাওয়া গেছে, বাকীরা ? আজহার, ইউসুফ, জাহিদ, মোখলেস, জীবিত না মৃত ? বেঁচে আছেন নাকি নেই, এই প্রশ্নের উত্তর কার কাছে ? না, এই প্রশ্নের জবাব নেই কারো কাছেই। এখন বাকী চারটি পরিবারের প্রতীক্ষার পালা, স্বজনের ফিরে আসা, অথবা লাশের। এমন নির্মম সময় যেনো কারো জীবনেই না আসে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29517054 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29517054 2012-01-05 23:49:48
আহাজারির বরকল,বেদনার বরকল এখনো ঘুমঘোরে দূরঅতীতে ফিরে যান আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৮৪ সালের ৩১ মে দিনটি যেনো আবার ফিরে এসেছে তার জীবনে। সেইদিন এক রাতে তৎকালীন শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডার বরকল উপজেলার ভুষণছড়া গ্রামে একরাতে হত্যা করেছিলো প্রায় ৪৭১জন পূণর্বাসিত বাঙালিকে। সেই কালোরাতে কৃষিজীবি আব্দুর রাজ্জাক হারিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী আর তিন শিশু সন্তানকে। ২৮ বছর পর সেই স্মৃতি আবার যেনো ফিরে এসেছে আব্দুর রাজ্জাকের জীবনে। সেই সময় স্ত্রী, সন্তান হারিয়ে আবার বিয়ে করেছিলেন তিনি। তার নতুন সংসারের ছোট সন্তান এবং স্থানীয় জুনোপহর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র জাহিদুর রহমানকে গত ৪ ডিসেম্বর রাতে কর্ণফুলি নদীর মোহনায় তবলাবাগে মাছ ধরার সময় অপহরণ করেছে দুস্কৃতকারীরা। অপহরণের পর গত এক মাসেও কোন খবর নেই তার। গত পহেলা জানুয়ারি আরো অনেকের মতো রাঙামাটি এসেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। চোখের জল তার বাধ মানছেনা কিছুতেই।
শুধু কি আব্দুর রাজ্জাক। মাত্র ছয়মাস বয়সী শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে এসেছিলেন অপহৃত রমজান আলীর স্ত্রী সাফিয়া বেগম। মা আর অবুঝ সন্তানের অঝোড় কান্না উপস্থিত অনেকের চোখেই জল এনেছে। আরেক অপহৃত ইউসুফ আলীর স্ত্রী রেশমা বেগম মনির কোলে দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তানটি অজানা কারণে ‘বাবা..বাবা..’ বলে কেঁদেই যাচ্ছিলো। আর অপহৃত মোতালেবের মা রানী বেগম আর রমজানের মা মরিয়মের গগণবিদারী আর্তচিৎকার পুরো পরিবেশকেই ভারি করে তুলেছিলো। আরেক অপহৃত আজহার আলীর চাচা মোঃ আরফান আলীও ভাতিজার জন্য হাহাকার করছিলেন।
অপহৃতদের স্বজনদের বক্তব্য, এখন আর কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই তাদের। তারা চান যেকোন শর্তের বিনিময়ে তাদের স্বামী-সন্তান ফিরে আসুক। প্রয়োজনে আর কোনদিন ওই এলাকায় মাছ ধরতে যাবেনা তারা, প্রত্যাহার করে নিবে দায়ের করা মামলাও।
কি হয়েছিলো সেদিন ঃ ৪ ডিসেম্বর রাঙামাটির ভারতীয় সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলার বড় হরিণা এলাকার তবলাবাগ এলাকায় কর্ণফুলি নদী ও ঠেগাখালের সংযোগস্থলে মাছ ধরতে যায় ভূষণছড়া এলাকার বাস্ন্দিা ১০ বাঙালি জেলে। রাতে ইঞ্জিন চালিত বোটযোগে এসে একদল সশস্ত্র পাহাড়ি যুবক মাছ ধরার চাঁদা পরিশোধ না করার অভিযোগে পাঁচ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ সহজেলেদের। অপহরণের জন্য অপহৃতদের স্বজনরা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কে দায়ী করে আসছিলো।
প্রশাসনিক উদ্যোগ ঃ অপহরণের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠে। পুলিশ-বিজিবি এবং সেনাবাহিনী বিভিন্নভাবে অভিযান ও তৎপরতাও চালায়। বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাহাড়ি সামাজিক নেতাদের। কিন্তু নানাভাবে দেনদরবার করেও ব্যর্থ হন তারা। একাধিকবার বরকল সফর করে স্থানীয় বাঙালিদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে অপহৃতদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা জানিয়ে আসেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এমনকি অপহরণ ঘটনার প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন হরতাল ঘোষণা দিলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তারিখের এই হরতাল পালন করতে দেয়নি প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা ও স¤প্রীতি রক্ষার প্রয়োজনে। কিন্তু এই সম্প্রীতির স্বার্থে আর কত আব্দুর রাজ্জাকরা নিজেদের স্ত্রী-সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে বেড়াবে? রানী বেগম আর মরিয়মরা আর কতদিন হারানো সন্তানের জন্য কেঁদে ফিরবে পথে পথে ? এ দায় কার ? সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব কি শুধু এইসব হতভাগ্যদের ? কথিত অপহরণকারীরা কি রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29516492 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29516492 2012-01-05 02:51:11
ঐক্যের সম্ভাবনাকে আমরা কখনই নাকচ করে দিই না...প্রসিত বিকাশ খীসা
প্রসিত বিকাশ খীসা। পার্বত্য রাজনীতির রহস্যপুরুষ। একসময় পাহাড়ী ছাত্রদের রাজনৈতিক সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। পার্বত্য শান্তিচুক্তিসহ বেশ কিছু ইস্যুতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সাথে বিরোধের কারণে গঠন করেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (্ইউপিডিএফ)। রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছেন পূর্ণস্বায়ত্ত্বশাসনের দাবীর আন্দোলন। বর্তমানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বরাবরই লোকচুক্ষর আড়ালে থাকা এই নেতা গণমাধ্যম থেকেও দূরত্ব বজায় রাখেন। পার্বত্য চুক্তির ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তার একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার ।


১. কোন প্রেক্ষাপটে ইউপিডিএফ এর জন্ম ??
দেশীয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতীয় জীবনের এক সন্ধিক্ষণে যখন চুক্তি সম্পর্কে ইউফোরিয়া সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে মোহাবিষ্ট করার প্রচেষ্টা চলছিল, সে পরিস্থিতিতে তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন পাহাড়ি গণপরিষদ-পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ঢাকায় ১৯৯৭ সালের ১০ মার্চ প্রথম পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের ডাক দেয়া হয়েছিল। তার পরে পরেই ২৫-২৭ মার্চ তিন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঢাকায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে ৭ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এর প্রথম দফাতে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন তখনকার জেএসএসের মূল নেতৃত্ব-কে সংশোধনবাদী আপোষকামী আখ্যায়িত করে তাদের দ্বারা আর আন্দোলন সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছিল। বলা যায়, তখনই নতুন একটি সংগঠনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়ে গিয়েছিল, সময়ের আবর্তে তার আবির্ভাব ছিল শুধু সময়ের ব্যাপার। সন্তু লারমা কর্তৃক চুক্তি সম্পাদন ও সারেন্ডার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন একটি সংগঠনের আবির্ভাবকে অবিশ্যম্ভাবী করেছিল। এক পার্টি প্রস্তুতি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ গঠিত হয়েছিল।

এখানে এটা স্পষ্ট করা দরকার যে, তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন পাহাড়ি গণপরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন ছিল স্বতন্ত্র, জনসংহতি সমিতির অঙ্গসংগঠন ছিল না। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে এই তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন ও জনসংহতি সমিতির দাবি-দাওয়া মূলত অভিন্নই ছিল, কিন্তু এ সংগঠনসমূহ একই দলভুক্ত ছিল না।

২. গত ১৪ বছরে আপনাদের অর্জন কি ?
গত ১৪ বছরে ইউপিডিএফের মূল অর্জনগুলো হলো আমার মতে, এক, আমাদের সংগঠন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই, প্রায় সবার কাছে চুক্তির অসারতা প্রমাণিত হয়েছে। তিন, ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা গেছে।

৩.পার্বত্য চুক্তি সম্পর্কে আপনাদের বর্তমান মূল্যায়ন কি ?
চুক্তি বিষয়ে আমাদের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। আর তা হলো এই চুক্তিটি একটি অসম্পূর্ণ চুক্তি। এতে জনগণের মৌলিক দাবিগুলোর কোনটি পূরণ হয়নি। তাই এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা চুক্তি বাস্তবায়নে কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াই নি। চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা বৃহত্তর স্বার্থে সহযোগিতার ঘোষণাও দিয়েছি।

৪.পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত সম্পর্কে আপনাদের বক্তব্য কি ?
ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত সৃষ্টির পেছনে মূল হোতা হলেন সন্তু লারমা। চুক্তির পর পরই পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কুসুমপ্রিয় ও প্রদীপ লালকে হত্যার মাধ্যমে এটা শুরু করেন। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তিনি চুক্তি বিরোধীদের গলা টিপে হত্যা, চোখ উপড়ে ফেলে দেয়া, হাত-পা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এটিই এখন পাহাড়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রথম এবং প্রধান বাধা।

৫. এই সংঘাত বন্ধে কি করা যায় ?
সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে জনগণ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মানুষের মধ্যে প্রতিবাদ উচ্চারিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে গণবিক্ষোভ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গণপ্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের জন্য জনগণের সকল স্তর থেকে এগিয়ে আসা দরকার।

৬. জনসংহতি সমিতি (সন্তু) এবং জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সম্পর্কে আপনাদের মূল্যায়ন কি ?
পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনে প্রথম দিকে জনসংহতি সমিতির প্রগতিশীল ভূমিকা ছিল, এটা আমরা স্বীকার করি। অনেক সীমাবদ্ধতা ও ত্র“টি সত্ত্বেও এ সংগঠনটি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি পূর্ব পর্যন্ত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু জেএসএস-এর আগের সেই ভূমিকা আর নেই, নেই সেই আদর্শও। জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে চুক্তি করার মাধ্যমে সংগঠনটির আদর্শিক বিচ্যুতি ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই ফুটে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত সংগঠনটি আবারও দ্বিধা বিভক্ত হয়েছে। মূলতঃ আদর্শিকভাবে বিচ্যুত সন্তু লারমাকে প্রত্যাখ্যান করেই এম. এন. লারমা দল বেরিয়ে এসেছে। তারা এখনও গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। সন্তু লারমা যে জায়গায় ব্যর্থ, সরকারের খুঁটিতে বাঁধা থাকার কারণে জনগণের সপক্ষে কোন কর্মসূচি দিতে সক্ষম হচ্ছেন না, সে জায়গায় লারমা গ্র“প জনগণের স্বার্থে কর্মসূচি দিতে পারলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

৭.পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে কোন সমস্যাটিকে সবচে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ?
ভূমি সমস্যাই বর্তমানে সর্ব প্রধান সমস্যা। এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য সমস্যাগুলো আবর্তিত। সেটলাররা ভূমি দখল করছে। সেনা সহায়তায় এটা করা সম্ভব হচ্ছে। সেনা ক্যাম্প স¤প্রসারণ, বিমান ও গোলন্দাজ বাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ এসবের নামেও ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে পাহাড়িদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ চলছে। এছাড়া বেশ কিছু এনজিও এবং প্রাইভেট কোম্পানীও ভূমি বেদখলের সাথে যুক্ত রয়েছে।

৮. আপনাদের বিরুদ্ধেও তো অবৈধ অস্ত্র রাখা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করে অনেকেই, এই অভিযোগ কিভাবে খন্ডন করবেন ?
ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল। তার কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে অন্য যে কোন সংগঠনের মতই এটি জনগণের সাহায্যের দ্বারস্থ হয়ে থাকে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ-সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে কূপনের মাধ্যমে গণচাঁদা সংগৃহীত হয়, যা দেশের সব ক’টি দলই করে থাকে। এটি দেশে স্বীকৃতও। এভাবে অর্থ সংগ্রহকে চাঁদাবাজি বলা কোনভাবে ঠিক নয়।
ইউপিডিএফ তো গণতান্ত্রিক পন্থায় অধিকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র রাখা কিংবা সংগ্রহের ব্যাপারে পার্টিগতভাবে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত হয় নি। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় সদস্য অনিমেষ শহীদ হবার পরেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছি। সড়ক অবরোধসহ গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।

৯.সন্তু লারমা আপনাদের নিষিদ্ধ করার দাবী করেছেন, আপনি কি বলেন ?

এ ব্যাপারে আমরা কোন মন্তব্য করতে চাই না।

১০. কোন পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান ?
আলাপ আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পন্থায় এর শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত। সবচে’ সহজ সমাধান হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মৌলিক দাবিসমূহ মেনে নেয়া। ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেয়া, সংবিধানে জাতিসত্তার স্বীকৃতি প্রদান, সেনা ও সেটলারদের ফিরিয়ে নেয়া, সেটলারদের জীবিকার নিশ্চয়তাসহ সম্মানজনকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে পুনর্বাসন করা, এ যাবত সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের শ্বেতপত্র প্রকাশ ও অপরাধীদের বিচার করা। কিন্তু সরকারের দিক থেকে সদইচ্ছা লক্ষ্য করা যায় না। পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র বিদ্রোহ না থাকা সত্ত্বেও সেখানে ৪ বিগ্রেড সেনা মোতায়েন রয়েছে।
১১. আপনি জনসম্মূখে খুবই কম আসেন, কারণ কি ??
আমাদের শত শত নেতা-কর্মী মাঠে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাচ্ছে। যখন প্রয়োজন হয়, তখন আমি নিজে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে থাকি।

১২.আগামী নির্বাচনে কি পার্বত্য তিন জেলায় ইউপিডিএফ নিজস্ব প্রার্থী দিবে ?
নির্বাচন এখনও দেরি আছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে তাতে আগামী নির্বাচন আদৌ নির্দিষ্ট সময়ে হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। নির্বাচনের সময় আসলে তখন বুঝা যাবে। তবে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনে ইউপিডিএফের অবশ্যই ভূমিকা থাকবে।
১৩. সন্তু লারমা সহ কেউ কেউ আপনারা সরকারের বিশেষ মহলের ক্রীড়নক বলে অভিযোগ করা হয়, এটা কতটুকু সত্য ??
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ-এর মত আর কোন পার্টির ওপর এত সরকারি দমন-পীড়ন জারি রয়েছে? এখনও আমাদের অনেক কর্মী জেলে, অনেকের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা-হুলিয়া রয়েছে, শান্তিপূর্ণ মিটিঙ মিছিল করতেও আমাদের প্রতি পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে। এক কথায় প্রত্যেক সরকারের আমলে আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চলে আসছে।
১৯৯৯ সালের ২২ এপ্রিল পুলিশের গুলিতে প্রতুল ও সুরমণিকে হত্যা, ১৯৯৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের লালদীঘিতে আয়োজিত পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে হামলা ও ৪৫ জন কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার .. এ তালিকা দীর্ঘ। স¤প্রতি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মিটিঙে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমাদের দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্টসূলভ। তাই যেখানে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে আমরা সরকারের নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হচ্ছি, সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে সরকারের বিশেষ মহলের ক্রীড়নক হওয়ার অভিযোগ মতলববাজি ছাড়া আর কিছু নয়।

১৪.জনসংহতির সাথে ঐক্যের সম্ভাবনা কতটুকু আছে ??
ঐক্যের সম্ভাবনাকে আমরা কখনই নাকচ করে দিই না। সমিতিতে সন্তু লারমার প্রভাব থাকা সত্ত্বেও জনসংহতি সমিতি কোন মনোলিথিক টাইপের সংগঠন নয়। তার প্রমাণ হল রূপায়ন দেওয়ান আর সুধাসিন্ধু খীসার নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটি নীতিগত প্রশ্নে জেএসএস থেকে বেরিয়ে গিয়ে আলাদা দল গঠন করেছেন। তাছাড়া এখন যারা সন্তু লারমার সাথে রয়েছেন তাদের মধ্যেও আমরা যতদূর জানি ঐক্যের প্রশ্নে দু’টি ধারা রয়েছে। একটি ধারা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। সমিতিতে এ ধারাটি শক্তিশালী হলে দ্রুত ঐক্য হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496600 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496600 2011-12-05 01:59:02
সন্ত্রাস,চাদাবাজি,মানুষ অপহরণ,খুন শুধু কি ইউপিডিএফ করছে ? অন্য কেউ করছেনা ?..... দীপংকর তালুকদার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সাক্ষরেরসময়কালের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন- ১৪ এপ্রিল ১৯৯৮ দীর্ঘদিনের উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংঘর্ষিক সমস্যাটি সমাধানের পর পুরো বৃটেনের সংবাদপত্রে যে ছবি প্রকাশ পেয়েছিলো তাতে একপাশে ছিলেন টনি ব্লেয়ার,আরেক পাশে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা উইলিয়াম হেগ। আর মাঝখানে ছিলেন বিদ্রোহীদের নেতা জেরি এডামস। তাদের হাস্যজ্জ্বল চেহারা বিপরীতে আমাদের দেশে ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সময় কি আমরা এইরকম একটি দৃশ্য দেখতে পেয়েছি ? বরং আমাদের বিরোধীদলের চূড়ান্ত বিরোধীতার মুখে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। সুতরাং এই যে অবস্থাটা, এটা ১৪ বছরেও আমরা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারি নাই।’
সম্প্রতি রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পার্বত্য চুক্তির ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি এইসব কথা বলেন।

তিনি বলেন-‘অনেকেই বলবেন ১৪ বছরেও শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নে ধীরগতি। এই প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিলো ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭,এবং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয় ৯৯ সালের ২৫ মে। ২০০১ সালে জুলাই মাসে আমরা ক্ষমতা তত্বাবধায়কের হাতে দেই। কিন্তু এরপর বিএনপি-জামাতের ৫ বছর আর তত্বাবধায়কের ২ বছর মিলিয়ে সাতবছরে শান্তিচুক্তি নিয়ে আর কোন কাজ হয়নাই,কার্যক্রম একচুলও অগ্রসর হয় নাই। আমি দুটি উদাহরন দেই, আঞ্চলিক পরিষদের প্রবিধানমালা চুক্তি সাক্ষরের পরপরই হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিলো কিন্তু মাত্র গত বছর আমরা এই বিধিমালা ঠিক করেছি। পরিষদ সদস্যদের বেতনভাতা চুক্তি সাক্ষরের পরপরই নিষ্পত্তি হওয়ার কথা কিন্তু গত বছরই এটা আমরা স্থির করতে পেরেছি। এই যে ধীরগতি,এটার খুব ভিতরে না গিয়েও আমি বলব- এটা আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। এই প্রেক্ষিতেই আমাদের শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক বিচার বিশ্লেষন করলেই অনেক কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে।’

পার্বত্য শান্তিচুক্তির সাথে উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তিচুক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষন করে দীপংকর বলেন- আমার সাথে কিছুদিন আগে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত উইলিয়াম হান্নার দেখা হলে আমি তার কাছে জানতে চেয়েছি আপনাদের শান্তিচুক্তির কি অবস্থা ? বাস্তবায়নের অবস্থা বা অগ্রগতি কি ? কারণ আমাদের চুক্তির জন্য আমরা পেয়েছি ইউনেস্কো পুরষ্কার আর আপনারা পেয়েছেন নোবেল পুরষ্কার। তখন তিনি স্বীকার করলেন-শান্তিচুক্তির অনেককিছুই সেখানে অবাস্তবায়িত আছে। তবে তিনি তিনি বললেন-শান্তিচুক্তির কারণে সেখানকার মানুষের মধ্যে উদ্যম,উদ্যোগ,সাহস এবং ইতিবাচক চিন্তার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এটাকেই তিনি বললেন- একটা উল্লেখযোগ্য দিক। একইভাবে আমাদের এখানেও চুক্তি সাক্ষরের পর আঞ্চলিক পরিষদ গঠন,জেলা পরিষদ গঠন,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠন,ভারত প্রত্যাগত ১২,২২২ পরিবারকে নিজ নিজ ভূমিতে পূনবার্সন,১৯২৬ জনসংহতি সদস্যকে পূণবার্সন করা,তাদের সকল মামলা নিষ্পত্তি করা এবং প্রত্যাহার করা,যারা চাকুরীতে ছিলো তাদের চাকুরীতে পূনর্বাহল করা, চাকুরীতে কোটা সংরক্ষণ,জনসংহতির সদস্যদের চাকুরী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি,চাকুরীতে কোটা সবকিছুতেই তাদের অগ্রাধিকার দিয়েছি। আজ (২৫ নভেম্বর) পিপি রফিক ( রাঙামাটির পাবলিক প্রসিকিউটর) আমাকে নিশ্চিত করেছে সব মামলা প্রত্যাহার করা শেষ হয়েছে। অনেকে ভারত থেকেই যে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে সেটাকে আমরা সেটার মান বহাল রেখেই তাদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করেছি।

ভূমি বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমাদের মূল যে সমস্যা সেটা হলো ভূমি সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে আমরা ভূমি কমিশন গঠন করেছি,দীর্ঘদিন এই কমিশন এর কোন কার্যক্রম ছিলোনা। আমরা আসার পর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভূমি কশিমনের কাজ করা যেতো,তারপরও ভূমি কমিশনের অধিকাংশ সদস্যদের মতামত নিয়ে কিভাবে কমিশনের কাজ আরো মসৃন এবং সুন্দর করা যায় সেই জন্য আমরা ভূমি কমিশনের কতিপয় আইনের ধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করি এবং সেই মোতাবেক আমরা পদক্ষেপও নিয়েছি। আমরা আশা করছি আগামী অধিবেশনে আমরা এটা উপস্থাপন করতে পারব।

পার্বত্য কমিশনের সফর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন-আমরা খুশি হয়েছি পার্বত্য কমিশন এখানে সফরে এসেছেন। কমিশনের কো-চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেছেন-২/৩ দিনের সফরে এখানে তারা অস্বাভাবিক কিছু দেখেন নাই। আমরা মনে করি অস্বাভাবিক কিছু যে দেখেন নাই এটাই সরকারের সাফল্য। এটার সঙ্গে আরেকটা বিষয় তারা বলেছে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই এখানে সাংঘর্ষিক অবস্থা চলছে। আমরা এর সাথে দ্বিমত পোষন করি। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে কিছু দ্বন্ধ থাকতে পারে,কিছু অসন্তোষ থাকতে পারে কিন্তু সাংঘর্ষিক অবস্থা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে হয়েছে,এটার সাথে আমরা দ্বিমত পোষন করি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন-যে সংঘর্ষ পার্বত্য চট্টগ্রামে হচ্ছে,রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ,মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এর নিন্দা জানাই। এইরকম ঘটনা ঘটা উচিত নয়। তারপরও বলব-এই ঘটনাগুলো শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কিংবা বাস্তবায়ন না হওয়ার সাথে জড়িত নয় বলেই আমরা মনে করি। আমরা মনে করি এখানে চাঁদাবাজির এলাকা বিস্তৃত করার জন্য অবৈধ অস্ত্রধারীরা এই সংঘাত চালাচ্ছে। সুতরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন বা অন্যান্য কমিশন যারা এখানে মানবাধিকারের কথা বলে,যারা এখানে গনতন্ত্রের কথা বলে,তাদের কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা-এখনো পর্যন্ত আপনাদের মুখে যে অবৈধ অস্ত্র আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের জনজীবনে হুমকী সৃষ্টি করেছে,জনজীবনে প্রানহানি ঘটাচ্ছে,এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আপনারা কোনকিছু বলছেন না কেনো ??
আমরা এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে,আমরা এটাকে আরো বেশি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি এবং নিঃসেন্দহে এটা আরো বেশি জোরদার করা হবে।

চুক্তির অবাস্তবায়িত যেসব অংশ রয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সমস্যা,ভূমি সমস্যা সমাধান করতে পারলে আমরা মনে করি চুক্তির একটি বড় উল্লেখযোগ্য দিক আমরা সমাধান করতে পারব এবং আমরা চেষ্টা করছি। অন্যান্য সমস্যাগুলোও সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে,এর কিছু ভূমি সমস্যার সাথে সম্পর্কিত,যেমন উপজাতীয় শরনার্থী এবং আভ্যন্তরীন উদ্বাস্তুদের আমরা নিজের জায়গায় পাঠাতে পারছিনা ভূমি সমস্যার কারণে। ভূমি সমস্যাটাই মূল সমস্যা। ভূমি সমস্যা ছাড়া চুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে।
ভূমি কমিশন আইন নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদের প্রস্তাবনা তাদের সাথে,ভূমি ও আইন মন্ত্রনালয় সহ সবার সাথে আলোচনা করেই খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেটার উপরই কাজ চলছে। কাজ চলছে বলবনা,কাজ প্রায় শেষ।

পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমি সবসময় ঘুমানোর সময় দরজা জানালা খোলা রেখে নাম ডেকে ঘুমাবো,আমার ঘর আমি পাহারা দেবনা,আর পুলিশকে বলব পুলিশ আমার ঘরবাড়ী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে,এই যুক্তির সঙ্গে আমরা একমত নই। ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে সচেতনতা দরকার, মিলিটারি বা পুলিশ বা সরকার দিয়ে কি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করা যায় ?

‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে নিজেদের কাজ শেষ করেছে এখন বাকী দায়িত্ব সরকারের’ সন্তু লারমার এমন মন্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন-এটা ওনার ব্যক্তিগত মন্তব্য। নেতৃত্বের আসল গুন হলো নিজে সব যন্ত্রনা কষ্ট সহ্য করে নিয়ে আশার আলো জ্বালানো,হতাশগ্রস্ত মানুষ কাউকে আলো দেখাতে পারেনা। হতাশগ্রস্ততা নিয়ে আমরা কোথাও এগুতেও পারিনা। শান্তিচুক্তি এটা কারোর নয়,আমরা শান্তিচুক্তির সকল পক্ষের শক্তি,এটা আমাদের সন্তান। সুতরাং শান্তিচুক্তির গতি প্রত্যাশিত হচ্ছেনা বলে আমাদের কষ্ট জ্বালা কম নয়। কিন্তু আমরা হতাশগ্রস্ত নই।

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে একটা রীট মামলা চলছে।

জেএসএস নেতাদের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমরা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গনতন্ত্রের একটি শিক্ষা হচ্ছে, লেট আজ এগ্রি টু ডিজএগ্রি। গনতন্ত্রে সমালোচনা হবে,গনতন্ত্রে একমত দুইমত হতেই পারে। আমরা খুব শক্তভাবে গনতন্ত্রে বিশ্বাসী। সহ্যশক্তি থাকতে হয়। কারা কি বলছে না বলছে এটা গুরুত্বপূর্ণ হয়। সমালোচনা করার অধিকার সবাইকে দিতে হবে।

চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন-এই চুক্তির জন্য আমি জননেত্রী শেখহাসিনা,আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ,সন্তু লারমা সবাইকে ধণ্যবাদ দেই। আর যেদিন আমাদের নেত্রী এই চুক্তির জন্য ইউনেস্কো শান্তি পুরষ্কার পেয়েছেন,সেইদিন এটা আর আওয়ামী লীগ,জেএসএস বা বাংলাদেশের সম্পত্তি নয়,এই চুক্তির মালিক সারাবিশ্বের শান্তিকামী মানুষ। সুতরাং এই চুক্তি করার কৃতিতত্ব একা কারো নয়,শান্তির জন্য যারা কাজ করেছেন তাদের সম্মিলিত।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোন বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন-আমরা সবসময় চেষ্টা করি স্বাভাবিক আইনে সবকিছুর নিরসন করতে। জাতির জনক হত্যার বিচারও আমরা স্বাভাবিক আইনে সম্পাদন করেছি। সেখানেও রায় কার্যকরে আমরা বিশেষ ট্রাইবুনাল করি নাই। সুতরাং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দেশের প্রচলিত আইনই যথেষ্ট। শুধুমাত্র এটাকে আরেকটু বেশি জোরদার করতে হবে। আর আরো বেশি জোরদার করতে গেলে আমরা আহ্বান রাখবো সকল রাজনৈতিক দল যেনো এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বতোভাবে সহযোগিতা ও সমর্থন করে। অবৈধ অস্ত্রধারী যে দলের বা যেই হোকনা কেনো তাকে আইনের মাধ্যমে বিচার করা একণ প্রত্যেক নাগরিকের চাওয়া। সুতরাং আমি মনে করি এই ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকলের ঐকুন্ঠ সমর্থন থাকা দরকার।

প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন-নদীর এপারে আমরা করতে চেয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদীর ওইপারে করতে চান। ওনি অনেক দুরদর্শী। ওনার একটা যুক্তি হচ্ছে, ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার উন্নয়নের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সুতরাং আমরা ওই পাড়ে কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করে দিয়েছি, এখন ওগুলোর পরীক্ষা নীরিক্ষা চলছে।

মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন-মেডিকেল কলেজের ভূমি অধিগ্রহন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে,তাই আমরা কাছাকাছি কোথাও দেখছি। স্থান নির্ধারন করে মানচিত্রও করা হয়েছে। এখন বোধহয় স্থানটি দেখার জন্য লোক আসবে। রাঙামাটি সদর হাসপালের করোনারি ইউনিটে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার একটি প্রস্তাবনাও আছে। করোনারি ইউনিটে মেশিনারিজ না পাওয়ায় চালু হতে দেরি হচ্ছে। যদি মেশিনারিজ পাওয়া যায় তাহলে সেখানে সেটাই থাকবে আর যদি পাওয়া না যায় তবে মেডিকেল কলেজের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে।

সংবিধানে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমি যেটা মনে করি,সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদিবাসী নেই। এখন আদিবাসী আছে কি নেই এই সিদ্ধান্তের ফলে আদিবাসী নিয়ে গবেষনা তো বন্ধ হবেনা। ভবিষ্যতে যদি তথ্য প্রমাণ দিয়ে এটা স্থাপিত করা যায়,এরা এরা আদিবাসী,তখন সংবিধানে আদিবাসী শব্দটি স্থাপন করা যেতেই পারে। এটা তো কোরান শরীফ বা গীতা নয়। দীর্ঘদিন পর্যন্ত আমাদের জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি দিতে হবে এটার জন্য ছিলো লড়াই,তো জাতিসত্তার স্বীকৃতি তো দেয়া হয়েছে। সংবিধানে প্রথমবারের মতো জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং ‘জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি দেয়া হয় নাই’আদিবাসী স্বীকৃতি নাই’লড়াই সংগ্রাম করতে হবে’-আমার মনে হয়না,এইসব বক্তব্য যুক্তিতে টিকে।

চুক্তি বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন- সাতটা বছর ২০০১-২০০৭ পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। শান্তিচুক্তির প্রত্যেকটা জায়গায় স্থবিরতা ছিলো। সুতরাং এই স্থবিরতা কাটাতে আমাদের সময় লেগেছে। বিগত বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলেও ২/১টি বিভাগ হস্তান্তরিত হয়েছে,জরুরী অবস্থার সময়ও ১ টি বিভাগ হস্তান্তর হয়েছে। আমাদের সময়ে এখনো হয়নাই,এটা নিয়ে আমাদের কষ্ট বা মনোবেদনা নেই তা নয়,তবে অল্পকিছুদিনের মধ্যে খাগড়াছড়িতে যুব উন্নয়ন,টিটিসি এবং স্থানীয় পর্যটন হস্তান্তর করতে পারব। আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এগুলোর হস্তান্তর করব।

ইউপিডিএফ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সন্তু লারমার দাবী প্রসঙ্গে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন-আমি যাকে বলছি এর সব কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করতে হবে,আবার যে ব্যক্তি বলছে একই কাজ যদি সেই আমি করি আমার উপর কেনো নিষেধাজ্ঞা আসবেনা কেনো ? পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন- আজকে কি শুধুই ইউপিডিএফ করছে সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ড? সন্ত্রাস,চাদাবাজি,মানুষ অপহরণ,খুন শুধু কি ইউপিডিএফ করছে ? অন্য কেউ করছেনা ? আগে আমি নুন খাওয়া বন্ধ করতে হবে, পরে আমি বলব যে ভাই নুন খাবেননা। আমি নিজে নুন খাবো অন্যকে খেতে মানা করবো,এটা নীতি না।
পার্বত্য এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আপনারা প্রায়ই দেখেন,প্রায় প্রতিদিনই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আটক করা হচ্ছে,এটা স্বাভাবিক আইনেই করা হচ্ছে এবং এটা চলমান প্রক্রিয়া। তবে উত্তরবঙ্গের সাথে এখানে পার্থক্য হলো-এটা একটি স্পর্শকাতর এলাকা। সুতরাং আমরা একটু সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চাই। কিন্তু আমরা এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে থেমে নেই।


















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496588 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496588 2011-12-05 01:44:19
সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়-সন্তু লারমা
‘পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাকে আমরা কোনভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি বলতে পারিনা।’ পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রাঙামাটিতে এক সাক্ষাতকারে এই কথা বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
তিনি বলেন-চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে ১৪ বছর আগে, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তখনকার সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহন করেছিলো,যে কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন,জেলা পরিষদ আইন পাশ হয়েছে,গেজেট হয়েছে এবং তার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নে তৎকালীন সরকার কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলো। চুক্তির বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে বা হয়নি সেই ব্যাপারে আমরা আগামী ২ ডিসেম্বররের আগে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছি। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর করার জন্য যে আইনী বিষয় আছে তা কার্যকর করতে কোন সরকারই উদ্যোগ নেয়নি এবং পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর কাছে যে ৩৩ টি বিষয় হস্তান্তর করার কথা তার বেশিরভাগই এখনো হয়নি। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে জেলা পরিষদ আইন পাশ করার পর সেই সময় সরকার প্রায় তিনবছর সময় পেলেও একটি বিভাগও জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত করেনি,এমনকি একই সরকারের বর্তমানে ক্ষমতায় থাকলেও এই তিন বছরেও কোন বিভাগ তারা হস্তান্তর হয়নি। যা হয়েছে তা এরশাদ সরকারের আমলে বা বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে হয়েছে।

সন্তু লারমা অভিযোগ করেন-চুক্তির যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আছে তার অধিকাংশই অবাস্তবায়িত আছে। চুক্তি স্বাক্ষরের অন্যতম পক্ষ ছিলো জনসংহতি সমিতি। তারা যথাসময়ে যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে কিন্তু বর্তমানে যে বিষয়গুলো অবাস্তবায়িত আছে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। সরকার যেহেতু বাস্তবায়নে এগিয়ে আসছেনা এবং বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় বিধায় চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা আজ অবধি দেখতে পাচ্ছিনা। ১৪ বছরেও তাই আমরা উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি দেখিনা।

সন্তু লারমা আরো বলেন-২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগে পাহাড়ের ভূমি সমস্যার সমাধানে একটি আইন করেছিলো,যার নাম পার্বত্য চটটগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন। সেই সময় আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সরকার আইনটি পাশ করেছিলো। যে কারণে এই আইনের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তিবিরোধাত্মক ধারা বিদ্যমান ছিলো। এবং পরবর্তীতে বিরোধাত্মক ধারা সমূহ সংশোধনের জন্য লিখিতভাবে সরকারের কাছে দেয়া হয় কিন্তু আজ অবধি আইনটি অসংশোধিত অবস্থায় পড়ে আছে,আমরা জানিনা,এই আইন কবে সংসদে উঠবে।

তিনি সরকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ করে বলেন-বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনবছর পার হয়ে যাচ্ছে,সরকার মুখে অনেক কিছু বললেও, এই সরকার যেসব কাজ করেছে,তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি পূনর্গঠন করা হয়েছে,আহ্বায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়া,টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান হিসেবে যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা,উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে বীর বাহাদুর এবং ভূমি কমিশনর চেয়ারম্যান হিসেবে খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর বাইরে ৩৫ টি সেনাক্যাম্প ও কাপ্তাই থেকে সেনা বিগ্রেড সরানো হয়েছে। এর বাইরে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার কোন উদ্যোগ বা কাজ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। অথচ সরকার অনেক কথা বলেন।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন-পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী যেসব কথা বলেছেন,এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে যেসব দাবী করেছেন তাও সত্য নয়। আমাদের রিপোর্ট দেখলে আপনারা দেখবেন মন্ত্রী সত্যি বলছেন কিনা নাকি মিথ্যার বেসাতি করেছেন। নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করেছেন।

জনসংহতি সমিতির সভাপতি বলেন-ভূমি সমস্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা কিন্তু একমাত্র বা প্রধান সমস্যা নয়। এখানকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে প্রশাসনিক সমস্যা বা রাজনৈতিক সমস্যা। মূল সমস্যা হলো জেলা পরিষদ বা আঞ্চলিক পরিষদকে কার্যকর না করা। কার্যকর না করাটাই সমস্যা। এটা কার্যকর না হলে চুক্তির অন্যান্য বিষয়গুলো নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ও আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি বিরোধ অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। কিন্ত এর আইনী সংশোধনের যে প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ের আলমারীতে ফেলে রাখা হয়েছে বলে আমাদের জেনেছি।

ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনী নিয়ে সৃষ্টি জটিলতার বর্ণণা দিতে গিয়ে তিনি বলেন-পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে একটি সংশোধনী প্রস্তাবনা আকারে ভূমি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছিলো,কিন্তু ভূমি মন্ত্রনালয় নতুন প্রস্তাব দিলো,এটা চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। অথচ চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির কোন অফিস নাই,কর্মচারী নাই কোন ঠিকানাও নাই। সবকিছু জেনেশুনে ভূমি মন্ত্রনালয় কেনো এই সিদ্ধান্ত নিতে গেলো ? তারা এটি আটকে রেখেছে। এটা নিয়ে সরকারের পক্ষে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী তা জানা সত্ত্বেওর কথা সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে পেছিয়ে কথা বলার মানে কি ? এর মানে সরকারের সদিচ্ছা নেই। হয়তো এখানে অন্য কিছু আছে,যা আমরা জানিনা বা আমাদের জানতে দেয়া হচ্ছেনা। এতোকিছুুর পরও এতোদিন পরে সরকার কেনো ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ নেয়না ? মন্ত্রী বলেছেন ভূমি সমস্যা প্রধান সমস্যা,তাহলে কেনো তিনি এর সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছেন না ?

সন্তু লারমা বলেন-পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধানের জন্য শান্তিচুক্তি হযেছে,এখন চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে এর সমাধান হবেনা,আমরা সমাধান দেখবোনা। চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। চুক্তি বাস্তবায়নের উপর সমস্ত কিছু নির্ভর করছে। মন্ত্রী মহোদয় যা দেখছেন বা বলছেন,তা হলো মূল বিষয় আড়াল করে গৌণ বিষয় সামনে নিয়ে এসে সরকারের যে চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা নেই,সদিচ্ছা নেই,সরকার যে প্রতারণা করছে,ভাওতাবাজি করছে,এটাকে আড়াল করার জন্য মন্ত্রী মহোদয়রা,দীপংকর তালুকদার,বীর বাহাদুরের মতো নেতারা এইসব কথা বলার চেষ্টা করছে। কিভাবে তিনি এই ধরণের কথাবার্তা বলতে পারেন ?

বাস্তবতাকে অস্বীকার করে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন দাবী করে সন্তু লারমা বলেন- চুক্তি যে আজ স্থবির হয়ে আছে,অবাস্তবায়িত পড়ে আছে,এটা কে না জানে ? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জানেন,সবাই জানেন,জেনেও তারা এইসব কথা বলছেন কারণ সরকারের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা আছে,উগ্র জাত্যাভিমান আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল করার যে ষড়যন্ত্র তার ধারাবাহিকতা বাস্তবায়নের জন্য এই সরকারও উদ্যত। এবং আমাদের দীপংকর বাবুদের মতো নেতারা যারা নিজেদের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে তারা এই ধরণের অবান্তর কথা বলতে পারে !

তিনি বলেন-সরকার এবং দীপংকর বাবুরা বলেন-তারা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চান,কিন্তু সন্তু লারমা বা জনসংহতিরা সহযোগতিা করছেননা। এই কথাটা যে কতটা মিথ্যা,ভাঁওতাবাজি,প্রতারণামূলত,এটা যে কারোই অনুভব হবে। যে সন্তু লারমা বা জনসংহতি জীবনের সবকিছু বিকিয়ে দিয়ে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করে চুক্তি সাক্ষর করেছে,সেই চুক্তির বাস্তবায়ন তারা চাইবেনা,এটা একজন ছোট্ট শিশুও বিশ্বাস করবেনা। চুক্তিতে যে বিষয়গুলো অবাস্তবায়িত তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তো সরকারেরই।

আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান আরো বলেন- দীপংকর বাবু একটি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আছেন। এবং সেটা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়। দায়িত্বটা তার,সর্বাগ্রে তাকেই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বটা নিতে হবে। আজকে দীপংকর বাবু চুক্তিবিরোধী বলে এই সমস্ত কথা বলতে পারেন,যে কথাগুলোর কোন অর্থ নেই। এই দীপংকর বাবু কাদের সহযোগিতায় বিগত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আপনারা সবাই জানেন। পার্বত্যাঞ্চলে যারা সশস্ত্র সন্ত্রাস করছে,চুক্তি বাস্তবায়নে বাঁধা সৃষ্টি এবং জনসংহতির নেতৃত্বকে নষ্ট করার জন্য যারা কাজ করছে সেই ইউপিডিএফ এর প্রত্যক্ষ সাহায্যে সশস্ত্র সন্ত্রাস করে দীপংকর বাবু এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আজ তাই তিনি তাদের পক্ষে কথা বলেন।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের বক্তব্য খন্ডন করতে গিয়ে সন্তু লারমা বলেন-ইউপিডিএফ এর পক্ষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে যা বলেছেন, তার এই যে কথা, কেনো কি উদ্দেশ্যে, কেনো বলেছেন তা কারো অজানা থাকতে পারেনা। তিনি ইউপিডিএফ দ্বারা সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন,জনগণের ভোটে নয়। তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের সšা¿সী সংগঠন ইউপিডিএফ দ্বারা নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি তো ইউপিডিএফ এর পক্ষে কথা বলবেনই। যে কথা তিনি বলেছেন তা একজন মন্ত্রীর কথা হতে পারেনা,ইউপিডিএফ দ্বারা নির্বাচিত দীপংকর তালুকদারের কথা হতে পারে। তিনি তাদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। ২০০১ সালে যে বিদেশী অপহরণ হয়েছিলো সেখানে দীপংকর চাঁদাবাজি করে নাই ? যে কোটি কোটি টাকা দিতে হয়েছিলো বিদেশীদের উদ্ধারে তার কতভাগ তিনি পেয়েছেন তার উত্তর কি তিনি দিতে পারবেন ? কত টাকা তিনি নিয়েছেন, তার ভাগে কত পড়েছে আমরাতো জানি । আমরা কি জানিনা,কারা সেই টাকার ভাগিদার ছিলো ? আজকে দীপংকর বাবুরাই চাঁদাবাজি করতেছে। সন্তু লারমারা চাঁদাবজি করেনা,তারা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতেছে। আজকে সরকার যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানতে দলীয়করণ করেছে,জেলা পরিষদ দীপংকর বাবুর অঙ্গুলি হেলনে পরিচালিত হচ্ছে,নিয়োগে যে বাণিজ্য হচ্ছে ,সম্প্রতি যে ২৬৩ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে সেখানে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়েছে। এখান থেকে দীপংকর বড় ভাগ পেয়েছে। তাহলে চাঁদাবাজি করে কে ? চাঁদাবাজি সন্তু লারমা করেনা,চাঁদাবাজি করে দীপংকর এবং তার সাথে সহযোগিতা করে যারা,তারা। এই বিষয়গুলো আড়াল করার জন্য দীপংকর বাবু নিজের দোষ অন্যের গাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন।
জনসংহতি সমিতির কোন সশস্ত্র গ্রুপ নেই দাবী করে তিনি আরো বলেন-জেএসএস সশস্ত্র সন্ত্রাস করছেনা। জেএসএস এর হাতে কোন অস্ত্র নেই। আমাদের হাতে অস্ত্র নেই,থাকার কথাও না। চুক্তি সাক্ষরের পরপরই ইউপিডিএফ এর জন্ম দেয়া হয়েছে। জনসংহতির নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য এবং চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা-এই দুটি মূল উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের জন্ম। সরকার তথা শাসকগোষ্ঠীর বিশেষ মহলের সহযোগিতায়।
ইউপিডিএফ প্রসঙ্গে সন্তু লারমা বলেন-খাগড়াছড়িতে চুক্তি সাক্ষরের সময়,সারাবিশ্বের সামনে, মন্ত্রী পরিষদসহ সবার সমানে তারা চুক্তির বিরোধীতা করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেছে,ব্যনার দেখিয়েছে,কালো চুক্তি মানিনা বলেছে। এখন তারা আবার বলে, তারা নাকি চুক্তি মানে,চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু সেদিনতো তারা চুক্তি মানে নাই। সবার সামনে তারা চুক্তির বিরোধীতা করা সত্বেও তাদের কোন শাস্তি দেয়া হয় নাই,এমনকি তাদের গ্রেফতারও করা হয় নাই। কেনো করা হয় নাই ?? করা হয় নাই এই কারণে,এই দীপংকর বাবুরা জড়িত ছিলেন বলে। তারাই এই ইউপিডিএফকে আশ্রয় প্রশয় দিয়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধি এবং ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাতে সহায়তা দিয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন যেনো এগিয়ে যেতে না পারে সেই জন্য এই ইউপিডিএফ ।

তিনি বলেন-ইউপিডিএফ এর ১৪ বছরের যে সন্ত্রাস,প্রথমে ছিলো কিছু কাগজপত্র লেখালেখি,তারপর নিলো লাঠি,তারপর চাইনিজ কুড়াল,তারপর পাইপগান তারপর বিশেষ হাতিয়ার। এগুলো হয়েছে এই দীপংকর বাবু আর সরকারের বিশেষ মহলের সহযোগিতায়। ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র সন্ত্রাাসের কারণে পার্বত্যাঞ্চল অশান্ত অবস্থা,নিরাপত্তাহীনতায়। এখানে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি। এখানে শত শত মানুষকে জিম্মি করে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাই ইউপিডিএফ এর হাতে নিপিড়ীত মানুষ সংগঠনিত হয়েছে এবং ইউপিডিএফ বিরোধী একটি সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে উঠেছে। আত্মরক্ষার জন্য, নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য যে গ্রুপটি গড়ে উঠেছে তারা চুক্তির স্বপক্ষের,চুক্তির বাস্তবায়ন চায় এবং একটা নিরাপদ জীবন পেতে চায়। তারাই ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র সন্ত্রাসের বিপক্ষে অস্ত্র ধরেছে। এবং আজকের বিভিন্ন স্থানে যে সংঘাত চলছে তা হচ্ছে,ইউপিডিএফ এর বিরুদ্ধে যারা আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ধরেছে তাদের মধ্যে,এটা জেএসএস নয়। জেএসএস এখনো সেই পথে যায় নাই। জেএসএস এখনো চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কাছে কাকুতি মিনতি করছে, পায়ে ধরছে,কিন্তু ১৪ বছরে কোন সরকার এগিয়ে আসে নাই। তারা মনে করছে জনসংহতি সমিতি খুবই দূর্বল,নিঃশেষ হয়ে গেছে। ওয়ান এলেভেন এর ফখরুদ্দিন সরকারে আমলে কিছুসংখ্যক জনসংহতির নেতা আদর্শচ্যুত হয়েছে, রূপায়ন বাবু,পেলে বাবুরা সরকারের বিশেষ মহলের সাথে আঁতাত করে দল থেকে বেরিয়ে গেছে। আমরা নিয়মাতান্ত্রিকভাবে গনতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি। চুক্তি করেছি বলেই আমাদের দাবী দাওয়া ,কথা বার্তা বেশি হবে। কিন্তু ইউপিডিএফকে আ¤্রয় প্রশয় দেয়া ঠিক হবেনা। ইউপিডিএফ এর জন্মই হয়েছে একটা হীন উদ্দেশ্য নিয়ে। যারা জন্ম দিয়েছে তারাও হীন উদ্দেম্যে জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন-পাহাড়ের মানুষের অধিকার নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে,অমুসলিম অধ্যুষিত এই এলাকাকে মুসলিম অধ্যূষিত অঞ্চলে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে,সেই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ইউপিডিএফ এর জন্ম। ইউপিডিএফ এর সম্পর্কে সবকিচু জেলেও সরকার তাদের লালন পালন করছে। তাদের অত্যাচারে,তাদের বিরুদ্ধে কিছু মানুষ অস্ত্র ধরেছে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য,জীবন বাঁচানোর জন্য। সেটাকে আপনার ইউপিডিএফ এর সাথে জেএসএস এর সংঘাত বলতে পারেননা। আমি দেখি মিডিয়াতে তাই লেখা হয়,দেখানো হয়। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা আপনারা কেনো লেখেন আমি জানিনা। জেএসএস এখনো ওই পথে যায় নাই। তাই আমরা ইউপিডিএফ কে নিষিদ্ধ করার দাবী করছি। কিন্তু আমাদের দীপংকর বাবু হুমকী দিচ্ছেন যে,জেএসএস কে নিষিদ্ধ করবেন । বাপের বেটা হলে আপনি করে দেখান,জনসংহতিকে আপনি নিষিদ্ধ করতে পারেন। তখন দেখা যাবে,আপনি দীপংকর বাবু কোথায় থাকেন,কোথায় যান।

ভূমি কমিশন সংশোধনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে’পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ওনিতো দিন রাত মিথ্যা কথা বলেন। ওনি মিথ্যার বোঝা নিয়ে এখানে সেখানে নানা কথা বলেন। ওনি একেক জায়গায় একেক কথা বলেন। ওনি কাউখালিতে এককথা,বাঘাইছড়িতে আরেক কথা,ঢাকায় গিয়ে অন্যকথা বলেন। ওনি কোন কথাটা ঠিক বলেন ? তার কোন দায়দায়িত্ব নাই এখানে। আমাদের মাননীয় মন্ত্রী একজন ঠগবাজ ব্যক্তি,যাকে আমরা অনেক আগেই জাতীয় কুলাংগার হিসেবে ঘোষনা দিয়েছি,তাকে কেনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতো আদর যতœ করে মন্ত্রনালয়ে পাঠান এটা আমরা বুঝিনা। আমাদের চুক্তির কারণে সৃষ্ট আমাদের মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনি চুক্তিবিরোধী অবস্থান নিয়ে আছেন। এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব এবং কাজ দেখেই বোঝা যায় এই সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়। এই সরকার চায় চুক্তি নামে থাকুক,এটা যেনো কাজে পরিণত না হয়।

বাঙালীদের সংগঠন সমঅধিকার আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন-চুক্তি বাস্তবায়নে আমি সমঅধিকারকে বড় বাধা মনে করিনা। এটা সরকারের সৃষ্টি। এখানে স্মরণ করতে হয় আমাদের স্বনামধন্য দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচিত এমপি ওয়াদুদ ভূইয়াকে। ওনাকে শিখন্ডি হিসেবে দাঁড় করিয়ে এটা করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে যে ইসলাম অধ্যুষিত এলাকা করার প্রক্রিয়া এরই ধারাবাহিকতা হলো এই সংগঠন।



ইউপিডিএফ এর পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন-পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসান বলে কোন ব্যবস্থা সারা পৃথিবীতে নাই। এটা একটি অর্থহীন শব্দ। স্বায়ত্ত্বশাসনের মাত্রা ও পরিধি ভিন্ন হতে পারে। ভারত সহ বিভিন্ন দেশে স্বায়ত্বশাসনের বিভিন্ন রূপ আছে কিন্তু পূর্ণস্বায়ত্ত্বশাসন বলে কিছু নাই। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে এই স্বায়ত্ত্বশাসনের এই মাত্রা ও ভিন্ন ভিন্ন। পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন নামে কোন শব্দ কোথাও নাই,এটা ইউপিডিএফ এর আবিষ্কার,এটা মিনিংলেস(অর্থহীন)।

জনসংহতির সাথে ইউপিডিএফ এর সমঝোতা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন-তাদের সাথে আমাদের কখনই কোন চুক্তি হয় নাই,তাদের সাথে বৈঠক হয়েছে অনেকবার। তারা সন্ত্রাসী হলেও আমরা এই এলাকার শান্তির স্বার্থে ধৈর্য্য ধরে, দুরদর্শী হয়ে আমরা চেষ্টা করেছি সমঝোতার। আমরা তাদের একটা কথা বলেছি-তোমরা অস্ত্র ত্যাগ করো, তোমাদের অস্ত্র কাকে জমা দিবা তা আমরা জানিনা,সে অস্ত্র জমা দিয়ে তোমরা দশটা রাজনৈতিক দল করো,এতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। তবে আমাদের দলে সুযোগ নাই। আমাদের দলে আসতে গেলে তার একটা প্রক্রিয়া আছে,পদ্ধতি আছে। ইচ্ছে করলেই জনসংহতির সদস্য হওয়া যায়না। তিনি আরো বলেন- এরা সন্ত্রাসী,এদের সাথে কিসের চুক্তি হবে। এদের সাথে আমরা বৈঠক করেছি,আমরা বলেছি,এখনো বলছি,এই মুহূর্তে তারা যদি অস্ত্র ত্যাগ করে এসে বলে আমাদের কাছে আর অস্ত্র নাই,আমরা আর কাউকে খুন করবেনা,পঙ্গু করবনা,তাহলে ঐক্য হতে পারে। এটাও আমরা আহ্বান করেছিলাম,তারা সেটা মানে নাই।

সংবিধানে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির চলমান দাবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আদিবাসী কোন জাতিবাচক শব্দ নয়। যে ৫৪ টা জাতি এই দেশে বাস করি। আমরা সবাই মিলে চাই একটি সম্মিলিত পরিচিতি থাকবে,সেটাই আমাদের দাবী। আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটিকে বলেছি,আমাদের স্ব স্ব জাতিগত পরিচয় দিয়েই আমাদেরকে সংবিধানে স্বীকৃতি দিতে হবে। আমরা সেই জন্য পঞ্চোদশ সংশোধনীতে আমাদের যে বাঙালী করা হয়েছে আমরা এটার বিরোধীতা করি এবং এখনো বলি এটা বাতিল করতে হবে। আদিবাসী একটি সমষ্টিগত পরিচয় এটা জাতিগত পরিচয় নয়। এখানে ইউপিডিএফ কি বলল বা কি করল এটা আমাদের ব্যাপার না।

চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাথে দূরত্ব বাড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন-আওয়ামী লীগের সাথে দূরত্ব বাড়ছে কারণ চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের নেতিবাচক ভূমিকা। জুম্ম আওয়ামী লীগ নেতারা চুক্তিবিরোধী ভূমিকা রাখছেন। ফলে দুইদল যে যার রাজনীতি করলেও চুক্তি বাস্তবায়নে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা আর সরকারে যেহেতু তারা,তাই চুক্তি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক ভূমিকা রাখছেনা বলে দুরত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে এটা বলতেই পারেন। তবে,আওয়ামী লীগ আর জনসংহতির আদর্শ কখনোই কাছাকাছি ছিলোনা। চুক্তির বিষয় নিয়ে আমাদের সম্প্রীতি হয়েছিলো,এখন চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা হওয়ায়,দূরত্বতো একটু বাড়বেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ বিশেষ করে জুম্মদের মধ্যে যার আওয়ামী লীগ করে জুম্ম আওয়ামী লীগ তারাতো আরো বেশি খারাপ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন- বান্দরবানের নেতা প্রসন্ন বাবু,্রাঙামাটিতে দীপংকর বাবু নেতা,খাগড়াছড়িতে যতীন বাবু নেতা,আজকে তারা কি করছে । চোখের সামনে তারা চুক্তির বিরোধীতা করছে। তিন জেলা পরিষদও চুক্তি বিরোধীতায় আছে। আমাদের রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানতো আঞ্চলিক পরিষদের পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন,কিন্তু তিনি আঞ্চলিক পরিষদ কোথায়, ঠিকানা খুঁজে পাননা।

পাহাড়ে চাঁদাবজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন-পার্বত্য এলাকার চেয়েও ঢাকায় চাঁদাবাজি বেশি হয়। ঢাকায় একটি ওয়ার্ডে যে চাঁদাবাজি হয়,গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামেও তো তা হয়না। কিন্তু মিডিয়াতে এতো ফলাওভাবে প্রচার করা হয়,মনে হয় পার্বত্যাঞ্চলে হাজার হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। সন্ত্রাসের কথাও যদি বলা হয়,ঢাকার একটি ওয়ার্ডে সারাবছর যে সন্ত্রাস হয়,আমাদের তিন পার্বত্য জেলা মিলেও সেই পরিমাণ সন্ত্রাস হয়না। শাসকগোষ্ঠীর বিশেষ মহল এগুলো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করছে আসল কাজটাকে আড়াল করার জন্য।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন-দীপংকর তালুকদার বিগত তিন বছর ধরে যেসব কথা বলে আসছেন,তার আগাও নাই,গোড়াও নাই। তিনি কি বলেন তা তিনি নিজেও বোঝেন না বা বোঝার চেষ্টাও করেননা। তিনি যে মন্ত্রী পরিষদে আছেন,সেই মন্ত্রী পরিষদ এবং সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে কোন অবস্থাতেই আন্তরিক নয়।










]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496580 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496580 2011-12-05 01:23:18
পার্বত্য ‘শান্তি’চুক্তি একটা ‘আত্মসমর্পণের দলিল’--- ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা
‘আজ থেকে ১৪ বছর আগে জনসংহতি এবং সরকারের মধ্যে যে চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। আসলে আমরা তখনই বলেছিলাম,পাহাড়ী জনগণ তেমন উপকৃত হবেনা। এই চুক্তি একটি কাগুজে চুক্তি,এই চুক্তি একটা ‘আত্মসমর্পণের দলিল’। এই চুক্তির মাধ্যমে মানুষ প্রত্যাশা করেছিলো পাহাড়ে শান্তি আসবে,আমরা ভিটেমাটি ফিরে পাবো,সামরিক শাসন প্রত্যাহার হবে,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যে লক্ষাধিক মানুষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্মানজনক পূনর্বাসন করা হবে ,মানুষ যে প্রত্যাশা করেছিলো তার কিছুই হয়নি।’ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এইসব কথা বলেছেন রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ এর মুখপাত্র এবং গনতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মাইকেল চাকমা।
বুধবার রাঙামাটি শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের কুতুকছড়ি বাজারে পার্বত্য চুক্তি এবং পাহাড়ের রাজনীতি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এইসব কথা বলেন তিনি। এইসময় তিনি আরো বলেন- এই চুক্তির মাধ্যমে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা উপকৃত হয়েছে। তাদের সদস্যরা বিভিন্নভাবে পূনর্বাসিত হলেও,চাকুরীও ফিরে পাওয়া,আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করে তাদের চাকুরী,বেতনভাতা সরকারী সুবিধা দেয়া হয়,এমনকি পুলিশেও তাদের নেয়া হয়। কিন্তু সাধারন মানুষ কোনভাবেই উপকৃত হয়নি।
নিজেদেরে চুক্তিবিরোধী পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন-‘চুক্তিবিরোধী বলতে আমাদের অবস্থান খুবই পরিস্কার। এটিকে আমরা একটি অসম্পূর্ণ চুক্তি মনে করি। আমরা পাহাড়ীদের যে অধিকারের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন করেছিলাম,সেই অধিকারের কোনকিছুই এই চুক্তিতে প্রতিফলিত হয়নি। একটা আত্মসমর্পণের দলিল ছাড়া এটি আর কিছু না। সন্তু লারমার জনসংহতির সদস্যরা কিভাবে আতত্মসমপর্ণ করবে,কিভাবে তাদের পূনর্বাসন করা হবে, কি কি সুৃযোগ সুবিধা তারা পাবে তা স্পষ্টভাবে লেখা থাকলেও বিরাজমান ভূমি সমস্যা, সেনা শাসন কিভাবে প্রত্যাহার হবে সেই সম্পর্কে চুক্তিতে কিছুই লেখা হয়নি।
পার্বত্য সমস্যার সমাধান কোন পথে’-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ‘সরকারের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট দাবীনামা আছে। ২০০৬ সালে ঢাকায় আমাদের পার্টির কংগ্রেসে আমরা সরকারের কাছে এই দাবীনামা এবং ইশতেহার পেশ করেছি,সেই প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর চুক্তির বাইরে,সরকারের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে,হতে পারে সেটা আরেকটা চুক্তি,যেহেতু এই চুক্তি একটি অসম্পূর্ণ চুক্তি। আরেকটা চুক্তি অথবা সেইরকম আরেকটা কিছু এবং সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘এটি অনেক পুরনো ইস্যু। এ বিষয়ে আমরা অনেক বক্তব্য দিয়েছি। এটা শুরু হয় চুক্তির পর ১৯৯৮ সালে কুসুমপ্রিয়-প্রদীপলালকে হত্যার মধ্য দিয়ে। সেই সময় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লতিবান নামক এলাকায় সন্তু লারমার নির্দেশে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কুসুমপ্রিয় সেই সময় চেয়ারশ্যান ছিলেন। এবং তারা সন্তু লারমার সাথে সাক্ষাত শেষেই ফিরছিলেন।
সেই সময় আমরা সরকারকে এইসব খুন খারাবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। এরপর থেকে সন্তু লারমারা একের পর এক আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যার রাজনীতি শুরু করলো। আমরা তাদের কাছে বারবার এই সংঘাত বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আমরা এটা(সংঘাত) চাইনি। সরকার এবং সন্তু লারমা এই সংঘাতের জন্য দায়ী। সাধারন মানুষ সংঘাত চায়না,তারা গত ১১ ও ১৮ নভেম্বর গণবিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ,গনপ্রার্থণা করেছে। জনগণের যে ঐক্যর ডাক তার সাথে আমরা একাত্মতা ঘোষনা করেছি।
জনসংহতি এবং ইউপিডিএফ এর বিরোধে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি সাক্ষরের পর নিজেদের ২০৯ জন নেতাকর্মী নিহত এবং প্রায় ৫ শতাধিক অপহরণের শিকার হয়েছে বলে দাবী করে তিনি বলেন-এদের সবার নাম ঠিকানাসহ বিস্তারিত পরিচয় ও তথ্য আমাদের কাছে আছে।
পার্বত্য এলাকায় ব্যাপকহারে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে এই ইউপিডিএফ নেতা বলেন-‘পাহাড়ে যে চাঁদাবাজি হয়,এটা বিভিন্নভাবে বিভিন্নসময় অভিযোগ করা হয়। তবে এটা অপ্রমাণিত। চাঁদাবাজির বিষয়টি বলা হয়,কিন্তু প্রমাণ কেউ দিতে পারেনা।
তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘অবৈধ অস্ত্র তো বাংলাদেশের অনেক জায়গায় আছে। অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অনেকেই ঘুরাফেরা করে। এইসব ভিত্তিহীন অভিযোগ জনসংহতি করে বলে দাবী করে করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন-‘সন্তু লারমাদের বিরুদ্ধে যদি আমরা একই অভিযোগ করি,তারা কি বলবে?’
পার্বত্য চুক্তি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে তিনি বলেন-
‘সত্যিকার অর্থে আমাদের চুক্তিবিরোধী বলা ঠিক না। আসলে আমরা চুক্তির বিপক্ষে নই। মিডিয়া শুরু থেকেই আমাদের চুক্তি বিরোধী দল বলে প্রচার করছে। আমরা চুক্তিকে সমালোচনা করি এবং এই চুক্তিকে আমরা প্রত্যাখ্যাান করেছি এটা ঠিক,কারণ এই চুক্তিতে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে,যেটা আমরা মেনে নিতে পারিনি। এই চুক্তিকে আমরা প্রথ্যাখান করেছি কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা বাধা দেইনি। চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা কোনসময় কোনদিন চুক্তি বাস্তবায়ন করতে আমরা দেবোনা,এমন কথাও বলিনি। সরকার যদি বাস্তবায়ন করতে চায়,জনসংহতি সমিতি যদি চুক্তি বাস্তবায়নে কর্মসূচী ঘোষণা করে তবে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।
সংবিধানে ‘আদিবাসী’ না ‘জাতিসত্ত্বা’র স্বীকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘সংবিধানে আমাদের স্বীকৃতি না দিয়ে যে অবমাননা করা হয়েছে এর জন্য সন্তু লারমারা দায়ী। কারণ ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শুরুতেই নিজেকে ‘উপজাতি’ হিসেবে মেনে নিয়েই তিনি চুক্তিতে সাক্ষর করেছেন। এখন তিনি যে ‘আদিবাসী, দাবী করে সভা সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন,তা কেবলমাত্র লোক দেখানো। এই বিষয়ে জোরালো আন্দোলন করার নৈতিক ভিত্তি তার নেই। তথাপি আমাদের দাবী আমরা জাতিসত্তার স্বীকৃতি চাই। জাতিসত্বার স্বীকৃতি দিলেই একজন চাকমা,একজন মারমা তার নিজ নিজ জাতিগত পরিচয় এবং অস্তিত্বের স্বীকৃতি পাবে। ‘আদিবাসী’নয় জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে সন্তু লারমার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘নিজের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য সন্তু লারমা আমাদের দায়ী করেন। বিগত কয়েক বছরে চুক্তি বাস্তবায়নে তিনি কোন কর্মসূচী দেননি। ঢাকা এবং বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য,বিবৃতি দেয়া ছাড়া তিনি কিছুই করেননি। আর চুক্তির মধ্যে যদি ভালো কিছু থেকে থাকলে সন্তু লারমা এবং সরকারের উচিত চুক্তি বাস্তবায়ন করে দেখানো।
জনসংগতি সমিতি এবং ইউপিডিএফ এর ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘ঐক্য একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সন্তু লারমাদের সাথে ২০০০ সালে,২০০৬ সালে এবং এর মাঝে একবার ঐক্যের ব্যাপারে আমরা বৈঠক করেছি। এই ব্যাপারে একটি চুক্তিও হয়েছিলো। গনতান্ত্রিকভাবে যে যার মতো আন্দোলন করে যাবে,এমন সিদ্ধান্তই ছিলো চুক্তিতে। কিন্তু সন্তু লারমারাই সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তবুও আমরা এখনো ঐক্য চাই। জাতির বৃহত্তর সাথে মতপার্থক্যকে পেছনে ফেলে আামাদেরকে আলোচনার মাধ্যমে একটা চুক্তিতে উপনীত হওয়ার দরকার,আমরা ঐক্যের আহ্বান জানাই। এটা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি,মানবাধিকারকর্মী, সমাজের বিশিষ্টজনরা অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আলোচনার টেবিলে বসেই আমরা সমস্যাটির নিরসন চাই।

চাকমা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায় ঐক্য প্রক্রিয়া উদ্যোগ নিলে সাড়া দিবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন-‘ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। রাজা দেবাশীষ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নয়,তবে সামগ্রিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কেবল দেবাশীষ রায় নয়,যে কেউ এগিয়ে এসে উদ্যোগ নিতে পারে। সেটা দেবাশীষ রায় হোক,গৌতম দেওয়ান হোক আর মানিকলাল দেওয়ান হোক আমরা স্বাগত জানাই। একজন সাধারন মানুষও যদি আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেও আমরা তাকে এবং তার উদ্যোগকে স্বাগত জানাবো।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন-‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামাত-জাতীয় পার্টি। এরা সবাই পার্বত্য ইস্যূতে নীতি ও কৌশল একই দৃষ্টিভঙ্গীতেই নীতি নির্ধ্রান করে থাকে। পাহাড়ের প্রতিবাদ,প্রতিরোধ যারা করছে,যারা ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে সোচ্চার, যারা প্রতিবাদী হয়ে কথা বলে তাদের দুর্বল করে দিয়ে,কিছু লোক নিজেদের দলে ভিড়িয়ে নেয়া। কিছু সংখ্যক লোক ভাগিয়ে নিয়ে তাদের দিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলানো। সব সরকারের আমলে কিছু পাহাড়ী বিএনপিঅলা,আওয়ামী লীগ অলাকে দেখা যায়,যারা সরকারী নীতির পক্ষের কথা বলে।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক স্বায়ত্ত্বাশাসিত অঞ্চল হিসেবে নিজেদের দাবী প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন-পূর্ণূ স্বায়ত্তশাসন হচ্ছে অর্থ,পররাষ্ট্র,ভারিশিল্প ছাড়া বাকী সবগুলো বিষয় স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে থাকবে,যা চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত সরকার ব্যবস্থা এবং যেটি স্বায়ত্তশাসিত হবে। এর জন্য সংবিধানকে সংশোধন করে নিতে হবে। সরকার আন্তরিক হলে সরকার সংবিধান সংশোধন করে সমস্যার সমাধান করতে পারে কারণ বর্তমান সংবিধানে প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন পদ্ধতিটি নেই। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন নজির আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের ভেতরে থেকেই রাজনৈতিক স্বশাসনের অধিকার পেতে চান মন্তব্য করে তিনি বলেন- ‘আমাদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ বিচ্চিন্নভাবে কেউ কেউ বললেও কেউ এই অভিযোগ সামনে আনার সাহস পায়নি। আমরা গনতান্ত্রিকভাবেই আন্দোলন করছি। সরকার আমাদের বাধ্য করছে ভিন্ন কিছু চিন্তা করতে। আমাদের অফিস বা কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। শত বাধার মুখেও আমরা গনতান্ত্রিকভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

জনসংহতি সমিতির কোন নেতাকর্মী হত্যার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তিনি বলেন-তারা (জনসংহতি) কিসের ভিত্তিতে অভিযোগ করে জানিনা। তারা কল্পনা প্রসূত অভিযোগ করে । এইসব তাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ । তারা জনগণের উপর নানাভাবে নিপীড়ন করায়,জনগণের পাল্টা প্রতিরোধে তাদের ক্ষতি বা কেউ মারাও যেতে পারে। এর জন্য আমরা সাংগঠনিকভাবে দায়ী নই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496574 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496574 2011-12-05 01:16:49
পার্বত্যচুক্তির কিছু ধারার সংশোধন করতে হবে- -----জাহাঙ্গীর কামাল,পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন
‘আমরা শুরু থেকেই এই চুক্তির বিরোধীতা করেছিলাম। এখন যেহেতু একটা চুক্তি হয়ে গেছে এবং চুক্তিটা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহনযোগ্যতাও পেয়েছে,তাই আমরা চাইছি চুক্তি বাতিল নয়,চুক্তির বিতর্কিত এবং দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ধারা সমূহ সংশোধন করেই এটা বাস্তবায়িত হোক এটাই আমরা চাই এবং আমরা চাই এখানকার পাহাড়ী বাঙালী সবাই যেনো একসাথে মিলেমিশে বসবাস করুক।’ পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এইসব কথা বলেন পার্বত্য বাঙালীদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা ও সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কামাল।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি প্রশ্নে তিনি বলেন-‘পাহাড়ে যে অবৈধ অস্ত্র আছে তাতো পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার নিজেই বলেছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে জেএসএস-ইউপিডিএফ এটা করছে। অতি দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউএনডিপি সহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে তিনি বলেন-‘এই্সব উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কারণে পাহাড়ের সত্যিকারের কোন উন্নয়ন হয়নি,বাঙালী এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলোর কোন উপকারই হয়নি। কেবল মাত্র একটি জাতি ‘চাকমা’রাই এগিয়ে গেছে। পাহাড়ী এবং বাঙালী দূরত্ব আরো বেড়েছে। বিশ্বাসহীনতা এবং আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করব আমাদের চাকমা ভাইরাও যেনো বাঙালীসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপজাতিদের উন্নয়নেও সমানভাবে চিন্তা করে।
সমঅধিকার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর কামাল বলেন-‘আমাদের বিরুদ্ধে এগুলো মিথ্যা অপপ্রচার। এর জন্য আমরা ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচী পালন করে আসল সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা যারা এইসব অভিযোগ করে তাদের বলেছি,আপনারা পাহাড়ীদের পাশাপাশি সমঅধিকার তথা বাঙালীদের নিয়ে একসাথে বসেন,আলোচনা করেন,প্রমাণ দেন আসল অপরাধীকারা। কারা পাহাড়ে সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। এগুলো আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন-বিদেশী যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে,তারা সবসময় একপক্ষের কথা শুনে মন্তব্য করে। পিছিয়ে পড়া উপজাতীয় এবং বাঙালীরা যেহেতু তাদের সাথে কথা বলতে পারেনা,তাদের মনোরজ্ঞন করতে পারেনা,তাই তাদের কথা আর উঠে আসেনা। সুতরাং ওরা যে একপক্ষের সাথে কথা বলে,যাদের আতিথিয়তা পায় তাদের পক্ষেই কথা বলে এবং এদের পর্যবেক্ষন কখনই নিরপেক্ষ ও সত্য হয়না।
সমঅধিকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-সমঅধিকার সেনাবাহিনী সমর্থিত সংগঠন নয়। বরং সেনাবাহিনী উপজাতীয়দের বিভিন্ন দূভোর্গে পাশে থাকে,নানাভাবে তাদেরই উপকার করে। তারপরও বিদেশীদের চক্রান্তে উপজাতীয়রা যখন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালায়,তখন আমরা এর প্রতিবাদ করি। দেশ এবং সেনাবাহিনী বিরোধী অপপ্রচারের প্রতিবাদ করায় উপজাতীয়দের একটি অংশ আমাদের বিরুদ্ধেও এই অপপ্রচার চালায়।

পার্বত্য এলাকার ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন-ভূমি সমস্যার সমাধান আমরাও চাই। তবে আগে ভূমি জরিপ করতে হবে। জরিপ করে বের করতে হবে কোন জায়গাটা পাহাড়ীদের,কোনটা বাঙালীদের,কোনটা খাস,কোনটা বনবিভাগের আর কোনটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে। তারপর কমিশন সবার মতামত নিয়ে,তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করবে। এতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। ভূমি জরিপ না করে কখনই ভূমি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবেনা।
সমঅধিকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমাদের কার্যক্রম পাহাড়ীদের বিরুদ্ধে নয়। অনেক পাহাড়ীও সমঅধিকারের সাথে সম্পৃক্ত আছে। জুড়াছড়ির কিনামোহন চাকমা আমাদের সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখনো অনেকে আছে যারা সরাসরি মুখ খুলতে পারেনা জেএসএস ও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের ভয়ে ।
জাহাঙ্গীর কামাল বলেন-আমরা পাহাড়ীদের কোন ক্ষতি করার প্রশ্নই আসেনা। আমরা মনে করি,পাহাড়ী বাঙালী সবাই আমরা বাংলাদেশের নাগরিক । পাহাড়ীরাও এখানে থাকবে আমরাও থাকবো। এখানে পাহাড়ীদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নাই। তারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, আরো পাক, তাদের উন্নয়ন হলে দেশেরই উন্নয়ন। কিন্তু পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপজাতি এবং বাঙালী যারা আছে,তাদের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে,যেনো তারাও বঞ্জিত না হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের রাঙামাটি প্রবেশে বাধা দেয়া এবং বৈঠক বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আন্তর্জাতিক কমিশন এর আগেও এখানে এসেছে,আমরা প্রতিবারই আমাদের কথা তাদের কাছে বলেছি,কিন্তু তারা একবারও ফিরে গিয়ে আমাদের কোন কথাই বলে নাই। তথাপি এবারও আমরা তাদের সাথে বৈঠক করতে চেয়েছি। কিন্তু বৈঠকে একজন সরকারী কর্মকর্তা উপস্থিত থাকা নিয়ে তারা যে অনভিপ্রেত আচরণ করেছে,তার জন্য আমরা বৈঠক বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি। তারা যেনো ভবিষ্যতে আর পার্বত্য চট্টগ্রামে উস্কানী দেয়ার জন্য না আসে তার জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ করবো । দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা যেনো এখানে না আসা আমরা সেই দাবী জানাই সরকারের কাছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496568 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29496568 2011-12-05 01:06:19
পার্বত্য কমিশনের সফর নিয়ে পাহাড়ে উত্তেজনা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন এর পার্বত্য এলাকায় উস্কানীমূলক,সাম্প্রদায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা,পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ। একই সাথে সংস্থাটির পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবীও জানিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দেয়া এক স্মারকলিপিতে এই দাবী জানান তারা। এই সময় সংগঠনের সভাপতি মোঃ হান্নান,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ আফছাউদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল পাল সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ নেতৃবৃন্দ দাবী করেছেন, পূর্ব তিমুর, দক্ষিণ সুদানকে স্বাধীন রাষ্ট্র বানানোর মূলহোতা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের চেয়ারম্যান লর্ড এরিক এ্যভেব্যুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব নিয়েই প্রশ্নতোলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন।
তারা বলেন-দেশি বিদেশী কিছু এনজিও,দাতা সংস্থা আর কিছু ভূইফোঁড় বুদ্ধিজীবি পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ী বাঙালী দুরত্ব সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আরো বলেন-এই তথাকথিত কমিশন যতবারই পার্বত্য এলাকায় সফর করেছে তার আগে বা পড়ে ততবারই পাহাড়ে কোথাও না কোথাও সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই একটি গোষ্ঠী এই সংকট তৈরি করে পাহাড়ের নিরীহ পাহাড়ী-বাঙালীর চিরায়ত সম্পর্ককে নষ্ট করে দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে কলংকিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে তারা আরো বলেন- ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কমিশনের পার্বত্য এলাকায় সফর ২০ নভেম্বরের মধ্যে বাতিল না করা হলে দেশ ও জাতির স্বার্থে পার্বত্য অঞ্চলের সকল বাঙ্গালীদেরকে সঙ্গে নিয়ে আগামী- ২১ নভেম্বর কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হব এবং এর জের ধরে যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকতে হবে বলে হুঁশিয়ারী করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা,যারা নিয়মিতভাবে পার্বত্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে থাকে। কয়েকজন বিদেশী এবং দেশী বুদ্ধিজীবি এই সংস্থার সাথে জড়িত আছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে বিভিন্নসময় এই প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষন এবং প্রতিবেদন বিভিন্নমহল থেকে আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছে। পাহাড়ী অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো এই কমিশনের কার্যক্রমকে সহযোগিতা করলেও বিদেশী সহায়তায় পরিচালিত এই সংস্থাটির কার্যক্রম বরাবরেই সন্দেহের চোখে দেখে আসছে পাহাড়ের বাঙালীভিত্তিক সংগঠনগুলো।

এই কমিশনের কার্যক্রমে বিতর্কসৃষ্টির কারণে সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক কমিশনের পার্বত্য জেলা সমূহ সফরে শর্তারোপ করে, ভবিষ্যতে কমিশনের পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর অনিবার্য হলে কমিশনের সাথে সরকারি প্রতিনিধি রাখার পরামর্শ দেয়। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসন্ন সিএইচটি কমিশনের সফরে তাদের সাথে কোন সরকারী প্রতিনিধি থাকছেনা বলে জানিয়েছে কমিশনের একটি সূত্র। এবারের প্রতিনিধি দলে কমিশনের কো-চেয়ার এডভোকেট সুলতানা কামাল,এলনা স্টামাটুপুলো,সদস্য ব্যারিস্টার সারা হোসেন,ড.স্বপন আদনান,ড.মেঘনা গুহ ঠাকুরতা,উপদেষ্টা জেনেকি আরেন্স এবং সমন্বয়ক হানা শামস আহম্মেদ থাকবেন বলে কমিশনসূত্রে জানা গেছে। এই কমিশনের সাথে নতুনভাবে সম্পৃক্ত মিজ স্টামাটুপুলো জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক সেন্টার এর প্রধান,তিনি এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের অধীনেও সিনিয়র আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
এই মাসের ৯ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই কমিশন পার্বত্য এলাকায় সফর করার কথা থাকলেও পরে সূচী পরিবর্তন করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,আগামী ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান সফর করবে এবং ৩০ নভেম্বর ঢাকার একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নিজের পর্যবেক্ষন প্রকাশ করবে তারা। এই সফরে পাহাড়ী-বাঙালী,সিভিল এবং সামরিক প্রশাসনসহ আঞ্চলিক দল ও গোষ্ঠীর সাথে সভা করবে কমিশন সদস্যরা। সূত্রটি জানিয়েছে,এই বিষয়ে পরারাষ্ট্রমন্ত্রনালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতিও ইতিমধ্যে নিয়েছেন তারা। একই সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯০ সালে গঠিত এই কমিশন গঠিত হওয়ার পর এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে কমিশনের ষষ্ঠ মিশন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29487284 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29487284 2011-11-21 03:45:41
‘সাধারন জুম্ম জনগণ একতাবদ্ধ হলে জনসংহতি বা ইউপিডিএফ কেউ আর আমাদের বাপ-ভাইদের লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে পারবেনা,
‘জনসংহতি সমিতি এবং ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র সংঘাতের কারণে অনেক বাবা-মার বুক খালি হচ্ছে,বিনষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ,নিরাপত্তাহীনতার কারণে আভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু হচ্ছে স্বজাতির মানুষ। এক গ্রামের মানুষ জীবন বাঁচাতে আরেক গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে,নিজেরে চৌদ্দ পুরুষের ভিটেবাড়ী ছাড়তে হচ্ছে তাদের। শুধুমাত্র জেএসএস বা ইউপিডিএফ সদস্যের সাথে আত্মীয়তার কারণেও অনেককে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীদের দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি এবং ইউপিডিএফ এর মধ্যকার ভ্রাতৃঘাতি সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ এবং ঐক্যের দাবীতে শুক্রবার পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গনবিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশের অংশ হিসেবে রাঙামাটির কুতুকছড়ি,ঘিলাছড়ি এবং সাপছড়ির সমাবেশে এইসব কথাই বললেন বক্তারা। এইসব সমাবেশে সাধারন জনগণের পাশপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিশিষ্টজন,হেডম্যান,কার্বারীও অংশ নিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, ওদের কাছে (জেএসএস-ইউপিডিএফ) অস্ত্র আছে, আমাদের কাছে অস্ত্র নেই,কিন্তু যা আছে তা অস্ত্রের চেয়ে অনেক শক্তিশালী,সেটা হলে একতা। আমরা সাধারন জুম্ম জনগণ একতাবদ্ধ হলে জনসংহতি বা ইউপিডিএফ কেউ আর আমাদের বাপ-ভাইদের লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে পারবেনা,সশস্ত্র সংঘাত করতে পারবেনা,কোন মায়ের-বোনের বুক খালি করতে পারবেনা।’
তারা বলেন-অনেক হয়েছে,আর না। সেই ১৯৭৪ সালে সশস্ত্র লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের মায়েদের বুক খালি হওয়া শুরু হয়েছে। ১৯৯৭ সালে পার্বত্যচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষ আশা করেছিলো মায়েদের কান্না বন্ধ হবে। কিন্তু এই চুক্তির পর ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত,সহিংসতা আর পাখীর মতো গুলি মানুষ হত্যার যে উৎসব জনসংহতি এবং ইউপিডিএফ শুরু করেছে তা মেনে নেয়া যায়না।
বক্তার বলেন-যারা এই ঐক্য চায়না তারা জাতীয় শক্র। তাদের বর্জন এবং ধিক্কার দিতে হবে। তারা দুই দলের নেতাদের প্রতি ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পাহাড়ের সুশীল সমাজের কাছে এই বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ারও অনুরোধ জানান। একই সাথে খুব শীঘ্রই দলগুলো ঐক্যের ব্যাপারে আগ্রহী না হলে সাধারন জনতা তাদের প্রতিরোধ করবে বলেও হুঁশিয়ার করে দেন তারা।
সমাবেশ এবং গনবিক্ষোভ উপলক্ষে প্রকাশিত প্রচারপত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা সম্পর্কে বলা হয়,তিনি যদি ঐক্যের ব্যাপারে আগ্রহী না হয় তবে তাকে তার জামাতা-ভাগিনা-শ্যালকসহ অস্ত্রহাতে নামার আহ্বান জানিয়ে ক্ষুদে গাদ্দাফি সেজে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে করুণ পরিণতি ভোড় করতে হবে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়।
রাঙামাটির সাপছড়ি,কুতুকছড়ি,ঘিলাছড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় এই গনবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজন কমিটির অন্যতম নেতা এবং সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শিমুল বিকাশ চাকমা।
এইসব গনবিক্ষোভ এবং সমাবেশে সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান শিমুল বিকাশ চাকমা,লক্ষীচন্দ্র কার্বারী,কার্তিক দেওয়ান,কুতুকছড়ি ইউনিয়নের বড় মহাপুরুম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান সন্টু বিকাশ চাকমা,উদয় কিরন চাকমা,চন্দন কুমার চাকমা,ঘিলাছড়িতে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান অমরজীবন চাকমাসহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা।
সমাবেশ এবং গনবিক্ষোভসমূহে বিপুল সংখ্যক সাধারন মানুষ অংশ নেয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29484765 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29484765 2011-11-17 00:04:50
হিরণ নামের যৌতুক লোভীটার অপকর্ম চলছেই !!! বদমাশ হীরণ তো এখনো ফারজানাকে নিয়ে আজে বাজে কমেন্ট করতেছে !! আসে সবাই মিলে ওরে সাইজ করি...............কেউ কি Facebook-এ একটা গ্রুপ বানাবেন,যেটার নামে হবে -we hate Hiron ...( Facebook-এ Shawkat Ali Hiron এই নামে সার্চ দিলেই বদমাশটাকে পাওয়া যাবে....................................দেখা যাবে ফারজানাকে নিয়ে ওর কমেন্ট এবং ওর পক্ষে কিছু বন্ধুর ওকালতি আর সবচে জঘণ্য যেকাজ সে করেছে সেটা হলো ফারজানার মোবাইল নাম্বার সে ফেসবুকে দিয়ে দিয়েছে...আসুন এই অবার্চীন প্রধান শিক্ষককে কিছুটা জ্ঞান দেই...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29483540 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29483540 2011-11-15 03:12:00
পাহাড়ে প্রশ্নবিদ্ধ উন্নয়ন কর্মকান্ড ! ১৯৯৭সালে সাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এই জনপদে দৃশ্যতঃ শেষ হয় ২৪ বছরের সশস্ত্র লড়াই। এই চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের যে নবদিগন্তের সূচনা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তিন পার্বত্য জেলায় আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে আসা বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠনসমূহের (এনজিও) উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যাপক ব্যাপ্তি। জাতিসংঘ উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচী(ইউএনডিপি) পার্বত্য এলাকার মানুষের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য প্রথম পর্যায়ে পাঁচ বছর মেয়াদী হিসেবে কাজ শুরু করার পর একদফা মেয়াদ বাড়িয়ে বাড়ানোর পর দশবছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি নিয়ে আসে পার্বত্য এলাকায়,যেখানে বরাদ্ধ রাখা হয় প্রায় ১৬০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি টাকার অংকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে সবচে বড় উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পটি এখনো চলমান,যা ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরো অন্ততঃ ৪ বছরের জন্য সম্প্রসারিত হবে এমন সম্ভাবনা নিয়েও চলছে বিস্তর আলোচনা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন,সিডা,ডানিডা এবং অসএইড এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে এই কর্মসূচী। প্রকল্পটি প্রায় শেষ হতে চললেও এর সফলতা ঠিকই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পাহাড়ের বিশেষ কিছু পরিবার এবং নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হয়েছে এমন নজির বিরল। তার উপর ইউএনডিপি’র উন্নয়ন কার্যক্রমে একপেশেনীতি এর গনতান্ত্রিকতাকেও করেছে বিতর্কিত। উন্নয়ন সহযোগি এনজিও বাছাই,নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া,বিদেশ সফরের তালিকা প্রণয়ন,বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন সব ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানটি নজিরবিহীন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে গত আট বছরে। আবার বিশেষ কিছু অভিজান পরিবার ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফকে পকেটস্থ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজ করছে বলেও অভিযোগ আছে। ফলে খারাপ ফলাফল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বৃত্তির সুযোগ যেমন পেয়েছে এইসব পরিবারের সদস্যরা তেমনি ইউএনডিপির চাকুরীও যেনো তাদের হাতের মোয়া। যে আটটি লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে পার্বত্য এলাকায় ‘ প্রোমোশন অব ডেভেলপমেন্ট এন্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং ইন দি সিএইচটি’ প্রকল্পটি শুরু হয়েছিলো গত ৮ বছরে তার অর্জন খুব সামান্যই। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারসমূহরে সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও গত কয়েকবছরে এইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশ সফর আর বিলাসবহুল গাড়ী উপহার ছাড়া সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কোন পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা,নারী,যুবক এবং কৃষকদের উন্নয়ন ও অথনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলা হলেও ইউএনডিপির সহযোগিতায় অথনৈতিক মুক্তি মেলেছে এমন একজন পাওয়াও দুরুহ। নিজেদের কর্মসূচীর সফলতা প্রমাণে বছরে নিজ উদ্যোগে সফল হওয়া কয়েকজনকে বিশাল ও ব্যয়বহুল আয়োজন করে পুরষ্কৃত করেই নিজেদের কাজ সায়সাড়া ভাবে সাড়ে তারা। পাহাড়ে শিক্ষার হার বাড়াতে ইউএনডিপি কোন ভূমিকা রেখেছে এমন প্রলাপ স্থানীয় কোন মানুষই বিশ্বাস করেনা। পাহাড়ের স্বাস্থ্যখাতে ইউএনডিপি দ্ইুটি উপজেলায় কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার হিেেসব শতাধিক নারীকে প্রশিক্ষিত করা আর কথিত মোবাইল ক্লিনিক পরিচালনা ছাড়া আর কোন কাজ করেনি। নিজেদের কর্মকান্ডে জেন্ডার সমতা এবং নলেজ ম্যানেজমেন্ট এর কথা বললেও বাস্তবে তা তথৈচব। দশ বছরের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে এসে আটবছরেও প্রত্যাশিত সাফল্যের ধারে কাছে যেতে না পারা ইউএনডিপি সর্বশেষ দুইবছরে বিশেষ কোন জাদু দেখাবে এমন প্রত্যাশা করেনা পাহাড়ের মানুষ।
শুধু ইউএনডিপি’ই নয় পাহাড়ে কাজ করতে আসা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক,বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী,ইউনিসেফসহ প্রায় সকল উন্নয়নসংস্থার কাজ নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন আর অভিযোগ। কেবল এইসব উন্নয়ন সংস্থাই নয়,দেশী এনজিও গুলোর বিরুদ্ধেও আছে উন্নয়ন কর্মকান্ডে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এনজিওগুলোর কাজের তদারকি নিয়ে টানাহেচড়া করলেও এনজিওগুলোর কাজের মনিটরিং করতে পারছেনা ঠিকমতো,এমন অভিযোগ খোদ এইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরই।
সম্প্রতি রাঙামাটি জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া একটি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,৩৬ টি এনজিও ২০১০-১১ অর্থবছরের ৪৯ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেলেও খরচ করেছে ৩৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। আবার সবগুলোর এনজিও মিলে মোট উপকারভোগী দেখিয়েছে ৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৬০ জনকে। এই ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিক এনজিও’র একাধিক প্রকল্প থেকে সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকায় সংযুক্তি হলেও এমন অনেক এলাকা বা গ্রাম এখনো আছে যেখানে আজো এনজিওদের ক্ষুদ্র্ঋণ ছাড়া আর কোন কার্যক্রমই পৌঁছেনি। আবার এই হিসেবে সর্বোচ্চ আর্থিক বরাদ্দ ৮ কোটি ১২ লক্ষ টাকা দেখানো প্রতিষ্ঠানটি পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের পারিবারিক এনজিও গ্রীনহিল। পুরো জেলায় মোট উপভোগীর মধ্যে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৭৪৪ জনই এই এনজিওটির বলে দাবী করা হয়েছে তাদের রিপোর্টে।
আবার পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করতে আসা বিদেশী উন্নয়নসংস্থাসমূহ ছাড়াও দেশী এনজিওগুলো অনেকগুলো ক্ষেত্র থেকে তহবিল সংগ্রহ করে থাকে। তবে গত দেড় দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বেসরকারীখাতে কত টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে সেই সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন তথ্য নেই কারো কাছেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কাছে সকল হিসেব থাকলেও বিশেষতঃ পার্বত্য এলাকায় কত বরাদ্ধ এসেছে তা আলাদাভাবে জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের তথ্যমতে রাঙামাটি জেলায় ৪৩ টি স্থানীয় এনজিও,১৮ টি জাতীয় এবং ছয়টি আন্তর্জাতিক এনজিও রাঙামাটি জেলায় উন্নয়নের কাজ করছে।
তবে চট্টগ্রামে এনজিওগুলোর কার্যক্রম নিয়েও আছে নানা মুনির নানা মত। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তীও এনজিও ও দাতা সংস্থার কাজে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এনজিও সমন্বয় সভায় তিনি বলেন- ‘এনজিওগুলোর কাজে অস্বচ্ছতা,গরমিল,অস্পষ্টতা লক্ষ্যনীয়। আবার তারা সরকারের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার ব্যাপারেও অনাগ্রহী। কোন কোন এনজিও বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানী,জাতিগত বৈষম্য ও উন্নয়নে অসমতা তৈরি করা এবং ধর্মান্তকরনেরও অভিযোগ আছে। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসককে এনজিওগুলোর মনিটরিং করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করছি এনজিওগুলোও তাদের নিজেদের স্বার্থেই আমাদের সহযোগিতা করবে।’
এনজিও সমূহের কর্মকান্ডে সন্তুষ্ট নয় পাহাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষও। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনসহ বাঙালীভিত্তিক সংগঠনগুলো মনে করে পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা এবং এনজিওগুলো শুধুমাত্র বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সমঅধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কামাল বলেন-এইসব সংস্থা যদি সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্য সমানভাবে কাজ করতো তবে পাহাড়ের চেহারাই পাল্টে যেতো। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তারা সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেনা। তাদের কর্মকান্ডের কারণে পাহাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দুরত্ব আরো বাড়ছে। তিনি ইউএনডিপির উন্নয়ণ কর্মকান্ডের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত এনজিও সমূহের নেটওয়ার্ক ‘সিএইচটিওন’ এর সাধারন সম্পাদক বিপ্লব চাকমা বলেন-এনজিওরা কাজ করছে বলেই মানুষ কিছুটা হলেও সচেতন হচ্ছে,আলোচনা সমালোচনা করতে পারছে। এনজিও কার্যক্রমের কারণে পাহাড়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া উইকিলিকস এর নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,বিগত জোট সরকারের আমলে দাতাদেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের বাংলাদেশ সফরকালে ইউএনডিপির তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি ইয়র্গেন লিজনার তাদের অবহিত করেন যে,পাহাড়ে ইউএনডিপির কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিক এবং বাঙালীভিত্তিকসংগঠনগুলো ‘গোপনীয়তা’ ও ‘বাঙালীদের বঞ্চিত’ করা এবং পাহাড়ীদের সবক্ষেত্রে সুবিধা দেয়ার অভিযোগ করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম গবেষক এবং সাংবাদিক জাগরণ চাকমা বলেন-ইউএনডিপির কারণে পাহাড়ে বিশেষ কিছু পরিবার এবং তাদের স্বজনরা ছাড়া সাধারন মানুষ উপকৃত হয়নি। গত আট বছরেও তাদের সফলতার কোন চিত্র দৃশ্যমান নয় এবং তাদের কারণে পাহাড়ে শ্রেণী বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন-ইউএনডিপি যেভাবে কাজ করছে তাতে ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধের কারণে পাহাড়ে যে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিলো তারচেয়ে বড় এবং ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। আপাততঃ এর ক্ষতি দৃশ্যমান না হলেও এক যুগের মধ্যেই এর ভয়াবহ চিত্র এবং নেতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।
পাহাড়ের অন্যতম রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর রাঙামাটি জেলা সংগঠক অলকেষ চাকমা বলেন-গত ৮ বছরে পাহাড়ে ইউএনডিপির অর্জন শূণ্য। সরকার একসময় উন্নয়ন বোর্ড,জেলা পরিষদ,আঞ্চলিক পরিষদের মাধ্যমে যেভাবে পাহাড়ীদের মধ্যে একশ্রেণীর লুটেরা শ্রেণী তৈরি করেছিলো তেমনি পার্বত্য চুক্তির পর ইউএনডিপির মাধ্যমে আরেকটি লুটেরা সুবিধাভোগী শ্রেণী তৈরি করছে। ইউএনডিপি পাহাড়ী সমাজে বিভক্তি তৈরি করছে,শ্রেণী বৈষম্য বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন-এদের কার্যক্রম সম্পর্কে আমরা ইউপিডিএফ এর পক্ষ থেকে একটি জরিপ চালিয়ে যে ফলাফল পেয়েছি,তাও বেশ হতাশাজনক।
পাহাড়ে এনজিও কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন-কিছু এনজিও কিছু ভালো প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে কিন্তু সামগ্রিকভাবে আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা। এনজিওরা পাড়া বা গ্রামপ্রধানদের সাথে সমন্বয় করেনা,এমনকি এনজিওরা নিজেদের মধ্যেও সমন্বয় আছে বলে মনে হয়নি।
রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রমোদ চাকমা বলেন-ইএনডিপির কার্যক্রম আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে হচ্ছে বলে মনে হচ্ছেনা। সাধারন মানুষের ভাগ্যের খুব একটি পরিবর্তন আসেনি, প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় এবং পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
পাহাড়ে এতো এনজিও টাকা যায় কোথায়! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29473449 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29473449 2011-10-28 00:02:51
সন্তু লারমার অভিযোগ, `প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়'
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রী পরিষদ কেউই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় বলেই চুক্তিটি বাস্তবায়ন হচ্ছেনা এবং শুধু বর্তমান সরকারই নয় গত ১৪ বছর ধরে যে দল বা গোষ্ঠীই ক্ষমতায় ছিলো তারা কেউই চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু)।
সোমবার রাঙামাটি শহরের পৌর মিলনায়নে শুরু হওয়া জেলা যুবসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন তিনি। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নে যুব সমাজ ঐক্যবদ্ধ হোন’-এই শ্লোগানে সোমবার থেকে রাঙামাটিতে শুরু হওয়া জেলা যুব সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জনসংহতি সমিতির যুব বিষয়ক সম্পাদক পলাশ তংচঙ্গ্যা,পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের মহানগর সভাপতি জ্যোতিষমান চাকমা,পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি উদয়ন ত্রিপুরা প্রমূখ।
সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে পাহাড়ের যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন- সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ইসলামী সম্প্রসারনবাদ করছে আর এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পার্বত্য মন্ত্রনালয়সহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ,উন্নয়ন বোর্ড এবং জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো।
সন্তু লারমা বলেন-সরকারের পাশাপাশি পার্বত্য মন্ত্রনালয় এবং তিন জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা না করে চুক্তিবাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। তিনি অভিযোগ করেন,খাগড়াছড়ির মং সার্কেল,বান্দরবানের বোমাং সার্কেল,পাহাড়ের প্রথাগত নেতৃত্ব হেডম্যান-কার্বারী,তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান- সদস্যরা কেউই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে আন্তরিকভাবে অংশ নিচ্ছেনা। তাদের অসহযোগিতা,হীনমণ্যতা এবং আন্দোলনবিমূখতার কারণে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন বেগবান হচ্ছেনা।
সন্তু লারমা অভিযোগ করেন,তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ জনগণের পরিষদ নয়,ক্ষমতাসীন দলের পরিষদ। জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম,দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে তিনি বলেন-অনির্বাচিত এইসব পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের একসময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়া হতো,দেয়া হয় ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে। ফলে এইসব পরিষদের কর্মকান্ডে জনগণের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা থাকেনা। তার দল এবং নিজের স্বার্থেই সবকিছু করে। তিনি স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে জেলা পরিষদ নির্বাচনেরও দাবী জানান।
সন্তু লারমা বলেন-সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীকে প্রধান করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি করা হলেও এই কমিটিও অকার্যকর। এই কমিটি এখন পর্যন্ত এমন কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি,যাতে জুম্ম জনগণ চুক্তি বাস্তবায়নে আশাবাদী হতে পারে।
সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়। আগামীকাল এই যুব সম্মেলন শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুলোধুনো
জেলা যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং প্রথাগত নেতৃত্বকে তুলোধুনো করেছেন। সন্তু লারমা তৃণমূলে পার্বত্য এলাকার প্রথাগত নেতৃত্ব হেডম্যান এবং কার্বারীদের ভূমিকাকে বিতর্কিত উল্লেখ করে বলেন- তারা আন্দোলন বিমুখ এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে কোন ভূমিকা রাখছেননা। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি সার্কেলে মধ্যে রাঙামাটি বাদ দিয়ে খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের সার্কেল চীফ (রাজা)দের ভূমিকারও সমালোচনা করে বলেন-খাগড়াছড়ির মং সার্কেল এবং বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের চুক্তির পক্ষে কোন ভূমিকা রাখছেনা এবং তাদের ভূমিকা চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি একই সাথে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতাসীন দলের লেজুড় উল্লেখ করে পার্বত্য জনগণের আশা আকাংখা পূরণে কোন ভূমিকা রাখছেনা বলেও জানান। সন্তু লারমা তার বক্তব্যে তিন জেলা পরিষদের কঠোর সমারোচনার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রলনালয় ও এর প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও এর চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমপি’র সমালোচনা করেন। তিনি একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বলেন-পার্বত্য চট্টগ্রামের চুক্তিবিরোধী আমলাতন্ত্র তথা সিভিল ব্যুরোক্রেসিও নানাভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। একই বক্তব্যে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন উত্তরণের নামে সেনাবাহিনী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে জুম্ম জনগণের অধিকার খর্ব করছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করে বলেন-গত ১৪ বছরে কোন রাজনৈতিক দলই আন্তরিকভাবে পার্বত্য চুক্তি নিয়ে কাজ করেনি। সন্তু লারমা পাহাড়ের বাঙালীদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনকে ‘সেটেলারদের সংগঠন’বলে মন্তব্য করেন।
এই প্রথম সন্তু লারমা প্রথাগত নেতৃত্ব থেকে আমলাতন্ত্র,প্রধানমন্ত্রী থেকে জেলা পরিষদ সদস্য,আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল থেকে জাতীয় রাজনৈতিক দল পর্যন্ত একই সাথে সবার সমালোচনা করে বক্তব্য রাখলেন।
সন্তু লারমার এই বক্তব্যে পাহাড়ে নয়া মেরুকরণের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অনেকেই।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29472021 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29472021 2011-10-25 03:30:03
দেশের প্রধান (!) দৈনিকের প্রধান ভুল !! প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘বদলে দেয়া’ সংবাদটি---

ওনারা দাবী করেন,ওনারা নির্ভুল ! ওনারা মনে করেন,ওনারা ছাড়া এই দেশে আর কেউ সাংবাদিকতা জানেনা,বোঝেনা ! ওনারা দেশের সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যার ৩৫% নিয়ন্ত্রন করেন। ওনারা আমাকে আপনাকে বদলে দেয়ার ছবক দিতে দিতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও বদলে দিলেন ! যা কিছু ভালো (!) তার সঙ্গেই ওনারা থাকেন ! ওনারা প্রথম আলু---
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29470098 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29470098 2011-10-21 03:22:07
সাংবাদিকরা কি আসলেই জাতির বিবেক ????
অনেকেই বলেন,সাংবাদিকরা জাতির বিবেক ! এটা কি ঠিক ?? আমার মনে হয় এটা সর্বাংশে সত্য নয়,আংশিক সত্য। আমার যুক্তি হলো,একজন অপসাংবাদিক,হলুদ সাংবাদিক,দলবাজ সাংবাদিক আর পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিক কি জাতির বিবেক হতে পারে ?? কখনই নয়। আর সাংবাদিকরা যে, যা ইচ্ছে তাই লিখে,যার তার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মতামত দেয়,এটাও তো সব সময় সত্যি হয়না। সাংবাদিকদের অনেকেই রিপোর্ট লেখার সময় মনে করে তার চেয়ে বেশি কেউ বোঝেনা,পাঠকরা সব মূর্খ ! এর ব্যর্থতার দায় কার ?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবার দেশের অনেক ব্যবসায়ীগোষ্ঠী পত্রিকা,টিভিচ্যানেল,অনলাইন সংবাদপত্র খুলছে। এরা নিজেদের ব্যবসায়ীক স্বার্থ এবং বিরোধে নিজের মালিকানাধীন মিডিয়াকে ব্যবহার করছে। আবার এনজিওরাও নানাভাবে মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে,তারা দাতাদের ইচ্ছেমতো জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য গনমাধ্যমকে প্রভাবিত করছে। কোন কোন মিডিয়া আর বিশেষ বিশেষ দেশের বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় কাজ করছে (উইকিলিকিস এর ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মিডিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে কমেন্ট করা হয়েছে কোন মিডিয়া হাউজই কিন্তু এটা নিয়ে প্রতিবাদ করেনি)। উইকিলিকস এর ডকুমেন্টে রাজনীতিবিদ সম্পর্কে কমেন্টস নিয়ে পত্রিকাগুলো পাতার পর পাতা লিখে যাচ্ছে,কিন্তু নিজেদের বেলায় চুপচাপ !এটা কি জাতির বিবেক হওয়ার নমুনা ?
আর সাংবাদিকদের দলবাজির নমুনা তো প্রতিনিয়ই দেখছি। জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক,আওয়ামী সাংবাদিক,জামাতি সাংবাদিকের ভীড়ে আসল ‘সাংবাদিক’রাই নাই হয়ে গেছে। প্রতিটি মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকতেই পারে,তাই বলে সেই বিশ্বাসের চেতনায় উজ্জীবিত সংবাদ পাঠকের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিইবা হতে পারে !
একজন মোনাজাতউদ্দিন,একজন সন্তোষগুপ্ত,শামসুর রহমান কেবল দের অভাব দিনে দিনে বাড়ছে। চাকচিক্যের এই সময়ে নতুন প্রজন্মের যেইসব যুবারা লোভনীয় সব পেশা ছেড়ে সাংবাদিকতায় আসছে,তাদের সাধুবাদ জানাই। নিশ্চয়ই একদিন আপনাদের যোগ্য পথ চলায় উজ্জ্বল হবে এই দেশের সাংবাদিকতা। নবীন-প্রবীণের জয়গানে সত্যি সত্যিই একদিন সাংবাদিকরা সবাই সত্যিকার অর্থেই জাতির বিবেক হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা তো পাঠকমাত্রই করে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29463076 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29463076 2011-10-09 23:41:44
আশ্চর্য প্রথম আলো ! এর নাম সাংবাদিকতা ??
কালের কন্ঠে শুরু থেকেই কাজ করি। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে। অনেক ভালো ভালো সাংবাদিক শুরু থেকেই যোগ দেন এই পত্রিকায়,যাদের অনেকেই আবার প্রথম আলো থেকেও এসেছেন। এছাড়া অন্যান্য দৈনিকে কাজ করা স্বনামধণ্য অনেকেও এলেন। পত্রিকাটির মালিক কে,বা মালিকের ভাবমূর্তি আমাদের কাছে বিবেচ্য ছিলোনা। ভাল বেতন আর ভাল পত্রিকায় কাজ করার জন্যই এই পত্রিকায় আসা। যদিও প্রথম আলোর সাথে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরোধের বিষয়টি সংবাদকর্মী হিসেবে আমাদের অজানা ছিলোনা । কিন্তু আমরা ¯্রফে সংবাদকর্মী হিসেবে এই বিরোধের বাইরে থেকে কাজ করতেই এসেছি। অবাক করা ব্যাপার হলো,নিজের তৈরি করা প্রথা ভেঙ্গেই প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ ‘কালের কন্ঠ’বাজারে আসার আগেই একাধিকবার নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করলো। মতিউর রহমানের একসময়কার (এখন আবার) ঘনিষ্ঠজন আবেদ খান সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও প্রথম আলো একটি প্রকাশিতব্য পত্রিকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। শুধু তাই নয় পত্রিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম আলো শুরুতে বিনা উস্কানীতেই বসুন্ধরা গ্রুপ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ শুরু করলো। পাল্টা বসুন্ধরা গ্রুপও পেশাদারিত্ব বাদ দিয়ে নিজেদের সংবাদপত্রগুলোতে পাল্টা জবাব দেয়া শুরু করলো। কিন্তু পাঠক বিষয়টি ভালোভাবে নিলোনা। মানুষের আবেগের নরম জায়গায় আগে থেকেই প্রথম আলো অবস্থান নিয়ে রাখায় স্বাভাবিকভাবেই এইসব পাল্টাপাল্টি রিপোর্ট-এ পাঠক সহানুভূতি কালের কন্ঠের পক্ষে যায়নি। উপরন্তু এই ইস্যুতে পদত্যাগ করেন কালের কন্ঠের সম্পাদক আবেদ খান।
তারপরও প্রথম আলো বারবার ছোট ছোট ইস্যু নিয়েই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেই যাচ্ছে। কিন্তু ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদক হয়ে পাল্টা সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করেন। এর ফলে পাল্টে যেতে শুরু করে আবার কালের কন্ঠের প্রচারসংখ্যা ও ভাবমূর্তি। প্রথম আলো আবার একাধিক রিপোর্ট করলেও নিশ্চুপ াকে কালের কন্ঠ। কিন্তু কালের কন্ঠের এই নীরবতা যেনো প্রথম আলোর সহ্য হচ্ছেনা। তাই আবার তারা শুরু করলো নগ্ন সংবাদ প্রকাশ। একটি কাঁচ ভাঙ্গার ছবিও ‘দেশের প্রধান দৈনিক’ দাবীদার পত্রিকার প্রধান সংবাদ !! আহ্ মতি ভাই। আর কত কি দেখাবেন আপনি। উইকিলিকস যখন আপনাকে নগ্ন করে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে, আর পারসোনা ইস্যুতি চারদিন পর একেবারেই ইউটার্ন রিপোর্ট করায় আপনার পত্রিকার নিবন্ধিত অনলাইন পাঠকরা যখন আপনার ওয়েবসাইটেই ‘মুখোশ’খুলে দিয়েছে,তখন আবার আপনার সামনে ইস্যূ হয়ে এসেছে বসুন্ধরা ! আসলে কি বসুন্ধরা? নাকি কালের কন্ঠ ? (কারণ আপনি জানেন,বসুন্ধরার বিরুদ্ধে সংবাদ করলে কালের কন্ঠেও পাল্টা সংবাদ ছাপা হবে,এতে আখেরে আপনারাই লাভ,এটাই আপনি করছেন কালের কন্ঠের শুরু থেকে,এমনকি কালের কন্ঠে ভ্ঙ্গানের জন্যও আপনিই দায়ী বলে গুজ্ঞন আছে )। ভুমি দুস্য কি দেশে এক বসুন্ধরাই ?? সাহস থাকলে বাবুলরে (যমুনা গ্রুপ) নিয়ে লেখেন ?......আবেদ খানের পদত্যাগে তার সাক্ষাতকার ফলাও করে প্রচার করেন। কিন্তু এর আগে তিনি যে আরো দুইবার সমকাল এবং যুগান্তর থেকে পদত্যাগ করেছিলেন,তখন কোথায় ছিলো প্রথম আলো ??
কালের কন্ঠের সাথে সোজা প্রতিযোগিতায় না এসে নগ্ন ঘুরপথে প্রথম আলো যে পথে এগোচ্ছে এটাকে কি বলা যাবে ? বসুন্ধরা গ্রুপ প্রথম আলোর প্রতিপক্ষ হতে পারে,কালের কন্ঠ তো নয়। প্রতিদ্বন্ধী একটি পত্রিকাকে প্রতিপক্ষ বানানোর মিশন নিয়ে নামা কি সুষ্ঠ সাংবাদিকতা ??

প্রথম আলো নিজেকে ব্রাক্ষন ভাবার যে সাংবাদিকতা শুরু করেছে,তা ভালো নয়। ভুলে গেলে চলবেনা,১/১১ এর সময় ক্ষত্রিয় সাংবাদিকরাই কিন্তু প্রথম আলোকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলো ! নাহলে প্রথম আলো এবং মতিউর রহমান আজ শুধুই ইতিহাসই হতেন !! ঔদ্ধত্ব কখনই মঙ্গল বয়ে আনেনা,প্রিয় সম্পাদক মতিউর রহমান । আমরা যারা আপনাকে সাংবাদিকতার আইডল ভাবতাম,আপনি সেই ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছেন বহু আগেই। কিন্তু আগামী দিনের সাংবাদিকরা যেনো আপনাকে শ্রদ্ধা করতে পারে,সেই সুযোগটুকু অন্ততঃ রাখুন !

( পাদটিকা ঃ আজ আমার প্রথম আলোর এক সহকর্মী তার উর্ধ্বতনদের রেফারেন্স দিয়ে বললেন-দেশের সবপত্রিকা যা চলে,তার চেয়ে দ্বিগুন বেশি চলে প্রথম আলো,সুতরাং সবাই একরকম লিখলেও আমরা একা যেটা লিখব সেটাই পাঠক বেশি খাবে !) ......মতি ভাই,পাঠককে একই জিনিস বেশি খাওয়ালে বদহজম হতে পারে ! আর আপনারা মানেই বাংলাদেশ,এটা ভুলে যান। দেশের ১৫ কোটি মানুষকে সাময়িকভাবে বোকা বানাতে পারলেও সবসময়ের জন্য তা পারবেননা। কারণ,১/১১-এ আপনাদের ভুমিকা এবং পরে ভুল স্বীকার করাই তার প্রমাণ বহন করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29461420 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29461420 2011-10-07 04:35:26
পুলিশের মৃত্যুতেও অসহায় পুলিশ !
‘এক সেকেন্ডের নাই ভরসা বন্ধ হইবে রং তামাশা চক্ষু মুদিলে হায়রে দম ফুরাইলে.....’ ফিরোজ সাঁই এর জনপ্রিয় এই গানটি যেনো সত্যি হয়ে গেলো রাঙামাটির কোতয়ালী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল করিম সরকার এর জীবনে। মাত্র এক সপ্তাহ আগের রবিবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার একটি স্টুডিও থেকে ছবি তুলে থানায় ফেরার সময় মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ছবি তোলার সময় কি তিনি জানতেন,আজই তার জীবনের শেষ দিন ??
তার মৃত্যুর সংবাদটি শুনে শোকে পাথর হয়ে গেছে তার ছবির ফটোগ্রাফার স্বপনও। শোকে নির্বাক হয়ে তার মন্তব্য-‘কেনো জানি ছবি তুলতে আসা এই পুলিশ অফিসারটিকে অনেক ভালো লাগছিলো,তিনিও বেশ হাসিখুশি ছিলেন।’
আশ্চর্য ব্যাপার হলো এই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর সাতটা দিন পার হয়ে গেলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি হত্যার কারণে দায়ী মোটরসাইকেল চালক। রাঙামাটি জেলা পরিষদ ও ইউএনডিপি’র যৌথ পরিচালনার প্রকল্পের ওই কর্মকর্তা আদৌ গ্রেফতার বা বিচারের সম্মুখীন হবেননা বলেও ইংগিত দিয়েছেন একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু কারণ কি ? উপর মহলের চাপ ! কারণ বিষয়টি নাকি ‘নিছকই দূর্ঘটনা’ ! ও,তাই...তাহলে তো বলতেই হয়,দেশের সব সড়কে যত দূর্ঘটনা হয় সবই ‘নিছকই দূর্ঘটনা’ ! সেইসব দূর্ঘটনায় নিহতদের হত্যার জন্য তবে চালকদের বিচার চাওয়া কেনো ? নাকি ‘ওরা মানুষ বলেই ওদের জীবনের মূল্য আছে’ ? আর পুলিশ ? পুলিশ তো ‘মানুষ’ নয়,তাই পুলিশ হত্যার বিচার নাই। আব্দুল করিম নিহত হওয়ার পর মোটরসাইকেলটি যিনি চালাচ্ছিলেন সেই কনস্টেবল নাসির বাদী হয়ে ওই জেলা পরিষদ-ইউএনডিপির প্রকল্পের কর্মকর্তাকে আসামী করে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করলেও ‘ভাগ্যবান’ সেই আসামী এখনো ধরা পড়েনি।
দূর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হচ্ছে,একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার নিহত হওয়ার পরও আমাদের ক্ষয়ে যাওয়া রাজনীতির ব্যর্থ নেতারা দায়ী ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করার চাপ দিচ্ছেন। হায় সেলুকাস,কি বিচিত্র এই দেশ ! রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং ইউএনডিপি তো পাহাড়ে পান থেকে চুন খসলেই অনুদান দেয়,অর্থের ঢালি নিয়ে মাঠে নেমে আসে। তাদেরই একজন কর্মকর্তার ‘খামখেয়ালী’তে নিহত পুলিশ অফিসারের জন্য কি করেছেন ? আহত অবস্থায় এই পুলিশ অফিসারতে তাদের কেউ কি দেখতে গিয়েছেন ? সুচিকিৎসা জন্য কোন তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছেন ?? নিহত পুলিশ অফিসারের লাশ দেখাতো দূরের কথা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ?? ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন কর্মচারীদের গাড়ী বরাদ্দ দেয়ার দায়তো তিনিও এড়াতে পারবেন না।
আসুন,বিপরীতভাবে ভাবি। যদি নিহত পুলিশ অফিসার ‘ আব্দুল করিম সরকার’ এর জায়গায় ‘জয়জিৎ ত্রিপুরা’ হতো ?? তাহলে এতোক্ষণে পুলিশের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করা হয়ে যেতো। কেউ কেউ আবার ‘পুলিশের হাতে আদিবাসী হত্যা’ প্ল্যাকার্ড নিয়েও দাঁড়িয়ে যেতে । অতিউৎসাহী সংবাদকর্মীদের সংবাদের শিরোনাম হতো ‘-পুলিশের গাড়ী চাপায় আদিবাসী যুবক নিহত’। ওসি,এসপিকে ক্ষমা চাইতে হতো অনেকের কাছে,দৌড়াদৌড়ি শুরু করতে হতো চাকুরী বাঁচাতে। একটু নীচু সারির কোন কোন অফিসার হয়তো ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ও হয়ে যেতেন। এই আমাদের ‘অসাম্প্রদায়িক’পার্বত্য চট্টগ্রাম ।
কিন্তু একটি মৃত্যু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুই। বর্ণ,ধম,জাতিগত পরিচয় বা পেশা দিয়ে কোনদিনই তাকে চিহ্নিত করা উচিত নয়। যারা পুলিশ অফিসার আব্দুল করিম এর মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের আইনের মুখোমুখি করা উচিত। আদালতই নির্ধারণ করবে,কে কতটা দোষী,কার দায় কতটা ছিলো। কিন্তু তার আগে কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানী না করতে কথিত ‘ উপর মহলের’এতো ব্যতিব্যস্ততা কেনো ? সব সময় পুলিশের কাছেই দায়িত্বশীল আচরণ চাইবেন,আর পুলিশের বেলায় কেনো আপনাদের এই দ্বিচারিতা ?? সত্যিকারের আইনের শাসন চাইলে পুলিশের অন্যায় আচরণের নিন্দা যেমন করতে হবে,পুলিশের ব্যাথায় কাঁদতেও হবে। কারণ,পুলিশ যখন জেনে যাবে,তাদের মৃত্যুর কোন দাম নেই,তখন তাদের কাছে আমার-আপনার মৃত্যুরও দাম থাকবেনা ! সেই দায় নিশ্চয়ই সাধারন মানুষ হিসেবে আমরা নিতে চাইবো ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29461374 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29461374 2011-10-07 01:10:12
রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলনে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা ‘আমাকে গ্রেফতারের পেছনে সন্তু লারমার জেএসএস সদস্যরা জড়িত’
আট ৮ মাস পর কারামুক্ত ইউপিডিএফ সমর্থিত গনতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মাইকেল চাকমা দাবী করেছেন,বিনা কারণে কোন মামলা না থাকা সত্ত্বেও সন্তু লারমা এবং সরকারের একটি বিশেষ সংস্থার সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করে হাজতবাসে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি দাবী করেন,তার গ্রেফতারের পেছনে সন্তু লারমার জেএসএস সদস্যরা জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন,গ্রেফতারের প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এই সময় তার উপর শারীরিক কোন নির্যাতন চালানো না হলেও, তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য তার একটি আংগুল কেটে ফেলার হুমকী দেয়া হয়। একই সময় র‌্যাব কর্মকর্তারা সাজানো অস্ত্র এবং ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে তাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাইকেল চাকমা সোমবার দুপুরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপিডিএফ সমর্থিত গনতান্ত্রিক যুব ফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে ব্ক্তব্য রাখছিলেন। তার ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেফতারের বিবরণ তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গনতান্ত্রিক যুব ফোরাম এর কেন্দ্রীয় কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নতুন কুমার চাকমা,সহসাধারন সম্পাদক সুপ্রীম চাকমা,সোনামনি চাকমা প্রমূখ।
মাইকেল চাকমা র‌্যাব কর্মকর্তারা তার একটি আঙ্গুল কেটে নেয়ার হুমকীও দিলেও তাকে শারীরিকভাবে কোন আঘারতই করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেন । তিনি বলেন র‌্যাবের এক কর্মকর্তা তাকে বলেন-‘ আপনার বিরুদ্ধে এমন মামলা দিচ্ছি ১৫ বছরেও বেরোতে পারবেন না।’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন-১৯৯৮ সালে জন্ম নেয়া ইউপিডিএফ একটি গনতান্ত্রিক সংগঠন। কিন্তু সন্তু লারমা এবং একটি সরকারী বিশেষ সংস্থার ষড়যন্ত্রের কারণে শুরু থেকেই ইউপিডিএফ এর উপর নানা অত্যাচার-নিপিড়ন,মামলা-হামলা চলছে। তারা বলেন-কেবলমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামেই নয়,এই অঞ্চলের বাইরেও ইউপিডিএফ নেতাকর্মীদের উপর নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন-দমন পীড়ন ও চাপ দিয়ে কোন সংগঠনকে বন্ধ করা যায়না,ইউপিডিএফকেও যাবেনা।
তারা সন্তু লারমা এবং সরকারের বিশেষ সংস্থার বিরুদ্ধে পাহাড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ এনে অবিলম্বে মাইকেল চাকমাসহ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যে মামলা খারিজ,গ্রেফতার নাটক মঞ্চস্থকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইউপিডিএফ ও এর সহযোগি সংগঠনসমূহের উপর রাজনৈতিক নীপিড়ন বন্ধ করার দাবী জানান।
উল্লেখ্য, মাইকেল চাকমাকে এই বছরেরই ৮ ফেব্রয়ারী চট্টগ্রাম শহরের বণিকপাড়া এলাকা থেকে আটক করে র‌্যাব। সেই সময় তার বিরুদ্ধে দুইটি অবৈধ অস্ত্র এবং ১৯০ টি ইয়াবা রাখার অভিযোগ আনা হলেও ২৯ মে তিনি চট্টগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। কিন্তু কারাগার ফটকেই তাকে আবার আটক করে পাহাড়তলী থানায় নিয়ে যায় র‌্যাব। সেখানে রাঙামাটির জুড়াছড়ি উপজেলার একটি হত্যা মামলায় আসামী দেখিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২৮ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29459610 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29459610 2011-10-03 23:33:14
রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ !!!
রাঙামাটির লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও গুলশাখালি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছেন খোদ দলটির নেতাকর্মী এবং রাঙামাটির মুক্তিযোদ্ধারা। কেবল অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি,এই ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ৬২ টি জন নেতা নিজেদের সাক্ষর করা একটি আবেদনও জমা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের কাছে। ৩০ মার্চ মন্ত্রীর কাছে এই আবেদনটি জমা দিলেও গত ছয় মাসেও এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি প্রতিমন্ত্রী। একই অভিযোগের কপি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক,বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছেও পাঠিয়েছেন তারা। তার ফাঁসী দাবী করে পুরো উপজেলায় পোস্টারও লাগানো হয়েছে,হয়েছে মিছিল সমাবেশও। এতো সব অভিযোগের পর সম্প্রতি লংগদু উপজেলায় অনুষ্ঠিত দলটির মতবিনিময় সভায় এই ইস্যুতে বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আগামী সম্মেলন পর্যন্ত তার সাধারন সম্পাদক পদ স্থগিত করে সাময়িক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে।
লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দাবী করছে,আব্দুর রহিম একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী,৭১ এর খুনি,অগ্নিসংযোগকারী এবং রাজাকার কমান্ডার। তারা অভিযোগ করেছেন,আওয়ামী লীগ নেতা হওয়া সত্ত্বেও এই রহিম গত ১০ বছরে একবারও স্বাধীনতা,জাতীয় দিবস বা কোন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে শহীদ মিনারে যাননি।
কেবল উপজেলা আওয়ামী লীগই নয়,আব্দুর রহিমকে যুদ্ধাপরাধী দাবী করে ২৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে রাঙামাটির জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ । মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ড কাউন্সিল এর কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডারসহ ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের সাক্ষর করা এই স্মারকলিপিতে বলা হয়,৭১ এর যুদ্ধাপরাধী এবং হত্যা মামলার আসামী আব্দুর রহিম মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। স্মারকলিপিতে তাকে দল থেকে বহিঃষ্কার এবং গ্রেফতারের দাবী জানানো হয়। একই দাবীতে এই বছরের স্বাধীনতা দিবসের সকল কর্মসূচীও বর্জন করেছিলো রাঙামাটির মুক্তিযোদ্ধারা।
লংগদু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বারেক জানিয়েছেন,আব্দুর রহিম ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার একজন চিহ্নিত রাজাকার কামন্ডার। তার বিরুদ্ধে ৭১-এ নারী নির্যাতন সহ হত্যা,খুনের নানা অভিযোগ আছে। তার স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার বারালিয়াকোনা গ্রামে। সেখানে তার নাম শুনলে এখনো মানুষ আঁতকে উঠে।
রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু জানিয়েছেন,তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা রাঙামাটি জেলা ইউনিট কমান্ড কাউন্সিল এর পক্ষ থেকে হালুয়াঘাট উপজেলা কমান্ডকে চিঠি লিখে এই অভিযোগের সত্যতা জানতে চাই। তারা এর উত্তরে হালুয়াঘাট উপজেলা কমান্ডার গাজী মোঃ আমানউল্লাহ সাক্ষরিত চিঠিতে আমাদের নিশ্চিত করেন যে,আব্দুর রহিম ওই এলাকার একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার কমান্ডার এবং তার বিরুদ্ধে ৭১-এ অসংখ্য হত্যা,নারী ধর্ষন,লুটতরাজসহ মানবতাবিরোধীকাজে লিপ্ত ছিলো।
এই ব্যাপারে হালুয়াঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী মোঃ আমানউল্লাহ কালের কন্ঠকে জানিয়েছেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে তদন্ত চালিয়ে দেখেছি, আনীত অভিযোগ সমূহ সত্য। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যার অভিযোগে হালুয়াঘাট থানায় মামলাও করেছে নিহতের স্বজনরা। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে থানাকে অনুরোধ করেছি তার মামলা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য। আশা করছি,হালুয়াঘাট থানা সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে আব্দুর রহিম এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ তদন্ত সংস্থার কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন হালুয়াঘাট উপজেলার আমির খাঁকুড়া গ্রামের ফাতেমা খাতুন নামের এক নারী। তিনি অভিযোগ করেন,১৯৭১ সালের রমজান মাসের এক সোমবারের আব্দুর রহিমরে নেতৃত্বে একদল রাজাকার তার বাবা রুস্তম আলী,প্রতিবেশি আব্দুল মান্নানকে ধরে স্থানীয় রাজাকারদের তেলিখালি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেইখানে তাদের নিজেদের হাতে কবর খোড়ানোর পর সেই কবরে ফেলে তাদের গুলি করে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। এই হত্যাকান্ড ছাড়া অসংখ্য নারী ধর্ষন,খুন,লুটতরাজ এর নায়ক আব্দুর রহিম মুক্তিযুদ্ধের পর রোষানল থেকে বাঁচতে বিপুল পরিমাণ লুট কার স্বর্ণ,টাকা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পালিয়ে আসে এবং দুর্গম লংগদু উপজেলার গুলশাখালি ইউনিয়নের মোহাম্মদপুরগ্রামে গ্রামে বসবাস শুরু করে। ফাতেমা বেগম তার আবেদনে হালুয়াঘাটের বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ করেছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে কেবল যুদ্ধাপরাধের অভিযোগই নয়, এই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী লংগদুতে আদিবাসী গ্রামে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে পত্রিকায় নামও প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অজ্ঞাত জাদুবলে মাত্র আড়াই বছরে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি। তার বিরুদ্ধে দরিদ্রদের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে আলাদা আলাদভাবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে অসংখ্য আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস,৬নং বগাচত্ত্বর ইউপির মেম্বার শফিকুল ইসলাম,জালিয়াপাড়ার নজরুল ইসলাম সেন্টু,লংগদু উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি সেলিম জাবেদ অভিযোগ অন্যতম। রাঙামাটি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন এই রহিম তার পুত্রকে যেভাবে রাজকীয়ভাবে অনুষ্ঠান করে বিয়ে করিয়েছেন তা এই পাহাড়ী অঞ্চলে একেবারেই বিরল। সেই রাজকীয় বিয়েছে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ সব নেতা। আর এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই গোপন টেন্ডারে তিনি পেয়ে যান,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বগাচত্ত্বর-গুলশাখালি সড়ক নির্মাণের ৩ কোটি টাকার কাজ। পুরো জেলার এই সরকারের অতিবাহিত হতে যাওয়া প্রায় তিনবছরকালে তিনকোটি টাকার অধিক যে দু/তিনটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এর মধ্যে এই কাজটি একটি। আর এই ভাগ্যবানদের তালিকায় আছেন অভিযুক্ত এই রাজাকার কমান্ডার। লংগদু উপজেলায় তার নিজের ৬০ একর বাগান,তিন একর আয়তনের তিনটি বাড়ী,২৫ একর ধানী জমিসহ বিভিন্ন প্রকার ব্যবসার কথা নিজেই এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন আব্দুর রহিম।
যুদ্ধাপরাধ সহ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রহিম কালের কন্ঠকে বলেন-এইসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা,আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে এইসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন-আমাদের দলের কিছু নেতা বিএনপির সহযোগিতায় আমাকে বিপাকে ফেলার জন্য এইসব কাজ করছে। তিনি দাবী করেন ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে সিপাহী হিসেবে চাকুরি করেছেন। তবে তার নামে যুদ্ধাপরাধরে অভিযোগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানায় দুইটি মামলা থাকার স্বীকার করেছেন তিনি। একই সাথে উন্নয়ন বোর্ডের ৩ কোটি টাকার কাজটি অফিসিয়াল নিয়ম মেনেই পেয়েছেন বলে দাবী করেছেন তিনি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29459144 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29459144 2011-10-03 01:52:13
পাহাড়ের লোকাল পলিটিক্স, অস্ত্রবাজি বা অন্যান্য ... ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চব্বিশ বছরের সশস্ত্র জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে আসে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও এর প্রায় দুই হাজার সশস্ত্র সদস্য। কিন্তু সেই প্রকাশ্য চুক্তি সাক্ষরের দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিভক্ত হয় দলটি। দলটির সহযোগি সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে চুক্তির বিরোধীতা করেই পূর্ণস্বায়ত্ত্বশাসনের দাবীতে জন্ম নেয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সাময়িক সেই সংকট বেশ ভালোভাবেই কাটিয়ে উঠেছিলো জনসংহতি। নিয়মিত বিভিন্ন শাখা সম্মেলন,চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীতে আন্দোলন,আর নানা ইস্যূতে দেশে বিদেশে নানা মহলের সমর্থন আদায় করে দলটি সরকারের উপর বেশ চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। খাগড়াছড়ির প্রায় পুরো জেলায় এবং নানিয়ারচর উপজেলায় ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করলেও বাকী পার্র্বত্যাঞ্চলে বেশ দাপট নিয়েই কার্যক্রম চলছিলো জনসংহতির। কিন্তু ২০০৬ সালের জরুরী সরকার যেনো জনসংহতির জন্য বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসে। এই সময় সারাদেশে ব্এিনপি-আওয়ামী লীগের একদল নেতার মতো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির একদল নেতাও জনসংহতিতে সংষ্কারের দাবীতে সোচ্ছার হয়। তারা সন্তু লারমার একক নেতৃত্ব থেকে দল বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নেয় এবং শেষাবধি জনসংহতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন আরেনটি রাজনৈতিক দল গঠন করে,যার নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)। একসময়কার সন্তু লারমার ঘনিষ্ট সহকর্মী রূপায়ন দেওয়ান,তাতিন্দ্র লাল চাকমা পেলে,সুধাসিন্ধু খীসা,চন্দ্রশেখর চাকমা,শক্তিমান চাকমারা মিলে তৈরি করেন নতুন এই সংগঠনের রূপরেখা। প্রকাশ্যে এই কারণে জনসংহতির কোন ক্ষতি হয়নি বলে দাবী করা হলেও সাংগঠনিকভাবে বেশ বেকায়দায় পড়ে জেএসএস। আবার এই সময় গ্রেফতার হন জনসংহতির সেকেন্ড ইন কমান্ড সত্যবীর দেওয়ান। কিন্তুু জেএসএস এর কিছুটা বেকায়দায় থাকার সুযোগ নিয়ে পার্বত্য মানচিত্র দখলের লড়াইয়েও বেশ এগিয়ে যায় প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ। তারা রাঙামাটির নানিয়ারচর ছাড়াও বাঘাইছড়ি,জুড়াছড়ি,বিলাইছড়ি,রাজস্থলী,কাউখালী,লংগদু উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে। আবার জনসংহতি একেবারেই নিয়ন্ত্রনে থাকা বান্দরবান জেলায়ও নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেয় তারা,নানা কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে।
ফলে পাহাড়ের রাজনীতিতে শুরু হয় নয়া মেরুকরণ। এই মেরুকরণের সর্বশেষ হিসেবটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিছুটা স্পষ্ট হয়। অরাজনৈতিক এই নির্বাচনে এই জেলায় ৪৯ টি ইউনিয়নের অন্ততঃ ২০ টিতে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। যদিও ইউপিডিএফ এর বিরুদ্ধে জোর করে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাসহ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার নানা অভিযোগ উঠেছে। তারপরও ইউপিডিএফ এর এই নির্বাচন ফলাফল আরো ভালো হতে পারতো যদি এই নির্বাচনে প্রার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টির জের হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতা অনিমেষ চাকমা সহ চার নেতা মৃত্যু না হতো। ইউপিডিএফ এর পক্ষ থেকে তাই ইউপি নির্বাচনের ফলাফলকে ‘রক্ত¯œাত বিজয়’ হিসেবে দেখা হয়।
অন্যদিকে পাহাড়ের লড়াই সংগ্রামের পুরোনো দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিও বসে নেই। সম্প্রতি তারা আবারও পার্বত্য রাঙামাটি জেলার বেশিরভাগ জায়গায় নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ইতিমধ্যেই জুড়াছড়ি,বরকল,কাউখালি,বিলাইছড়ি উপজেলাগুলোর বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রন নিয়েছে তারা।
পাহাড়ীদের এই তিন রাজনৈতিক দলের মধ্যে জনগণের কাছে ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি,পাহাড়ের মানচিত্রের আধিপত্যের জায়গায় এগিয়ে ইউপিডিএফ,আর বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ড আর আন্তর্জাতিক যোগাযোগে এগিয়ে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)। ফলে আগামী দিনে কোন দলটি এই অঞ্চলের পাহাড়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই তিনটি দলেরই একটি জায়গায় মিল আছে।
নিজেরা কখনই স্বীকার না করলেও তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই নিজস্ব সশস্ত্র সংগঠন থাকার অভিযোগ আছে,জনগণ এবং নিরাপত্তাসংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও। আবার এই তিনটি দল দুটি ব্লকে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা চালায় প্রায়ই। এই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে গত ১ বছরেই প্রাণ হারিয়েছে অর্ধশত পাহাড়ী যুবক। এই সংঘাত বন্ধে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কাজে আসেনি। আদৌ এই সংঘাত বন্ধ হবে এমন লক্ষণ ও দেখা যাচ্ছেনা। জনসংহতি সমিতির দুটি গ্রুপই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বললেও ইউপিডিএফ এর দাবী পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন। ফলে সংকটে পাহাড়ের রাজনীতি আর তারচেয়ে বেশি সংকটে পাহাড়ের সাধারন মানুষ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29458572 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29458572 2011-10-02 02:17:00
রাঙামাটি বিএনপি এর হালচাল বিএনপি ঃ ভেতরে তুষের আগুন

দীর্ঘ ২৪ বছর দলের সভাপতির দায়িত্বে থাকা নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ এর রাজনীতি থেকে নিজেকে ক্রমশঃ গুটিয়ে নেয়া আর দীর্ঘ ২০ বছরের সাধারন সম্পাদক এম জহির আহম্মেদ তুচ্ছ অভিযোগে জরুরী অবস্থায় কারাবরণের কারণে বিএনপি যখন নেতৃত্ব শূণ্যতায় অনেকটাই অভিভাবকহীন তখনই দলের হাল ধরতে এগিয়ে আসেন সাবেক যুগ্ম জেলা জজ এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। শুরুতে দলের একটি অংশ তাকে মেনে না নিলেও পরে ধীরে ধীরে কর্মীদের আস্থা অর্জন করে পুরো জেলা বিএনপিকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে নিয়ে আসেন তিনি। প্রতিটি উপজেলায় সম্মেলনের পর জেলা সম্মেলনে সরাসরি দলের সভাপতি হন তিনি। কেবল তাই নয় নতুন আইনী প্রক্রিয়ায় যখন তার নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় তখন নিজের স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী মৈত্রী চাকমাকে দলীয় মনোনয়নে চারদলীয় জোটের প্রার্থী করে কারিশমা দেখাতেও সক্ষম হন তিনি। কেবল তাই নয়,এর আগে বিএনপিতে আসা বাকী পাহাড়ী নেতা পারিজাত কুসুম চাকমা,মনিস্বপন দেওয়ান,ড.মানিকলাল দেওয়ানদের পর মনে হচ্ছিলো চলে যেতে নয়,বিএনপির জাতীয়তবাদী রাজনীতিতেই থাকতেই এসেছেন ব্যতিক্রমী দীপেন। আর সাবির্ক চিত্রে মনে হচ্ছিলো বিএনপিতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব শূণ্যতা বোধ হয় এবার গেলো। কিন্তু বিধিবাম ! বিএনপির কর্মীদের প্রবল উচ্ছাস দেখে সৃষ্টিকর্তা বুঝি নীরবে হাসছিলেন।

সংকটের শুরুটা হয় বিএনপিতে যারা একসময় দীপেন দেওয়ানের প্রবেশে ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের সাথেই। দীপেন দেওয়ানের একসময়কার কাছের মানুষ হিসেবে খ্যাত বর্তমান পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির এর সাথে নানা কারণে দীপেন দেওয়ানের তিক্ততা সৃষ্টি হয়। এই সম্পর্কের অবনতির জন্য তারা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যও দেন। এইসব নেতাদের অভিযোগ- দীপেন দেওয়ান মনে প্রাণে বিএনপিকে ধারণ করেননা,তিনি সন্তু লারমার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্যই বিএনপিতে এসেছেন। দীপেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের ফর্দ তুলে ধরে তারা দাবী করেন-দীপেন দেওয়ান তার জুম্ম জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে ধারণ করতে পারেননি,তার উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব বিভিন্ন সময় আচার আচরন,কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে ঠিকই বেরিয়ে এসেছে। এর জের ধরে সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে নিজ দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে দীপেন দেওয়ান গোপনে নানাভাবে চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ আছে। আবার নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিএনপি যোগদান করিয়ে কেন্দ্রীয় পদ এবং বিভিন্ন উপজেলা কমিটি গঠনের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে তিনি দলেল পুরনো ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করেছেন।
তবে এইসব বক্তব্য মানতে নারাজ দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন,বিএনপিতে কোন বিরোধ নেই। দলে কোন গ্রুপিং এর অস্তিত্ব নেই দাবী করে তিনি বলেন-কই,আমিতো কিছু জানিনা। কারো আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ করছে সে সম্পর্কে আমার জানা নেই।
দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম এবং যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন বলেন-আমরা কোন ব্যক্তির ইচ্ছায় দল করিনা,আমরা খালেদা জিয়ার বিএনপি করি,নেত্রী যাকে নেতা বানাবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। তবে তারা দুইজনই বলেন,যারা কদিন পর পর নতুন নেতা আমদানি করেন তাদের এই ‘আমদানী’ বন্ধ করে নিজেদেরই আগামী দিনের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত।
অন্যদিকে পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধূরী ভূট্টো বলেন,দীপেন দেওয়ানের ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি,আত্মীয়করণ,পৌর নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে নানা ষড়যন্ত্র করার কারণে তিনি বিএনপিতে কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এসেছেন,সেটা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন আছে। তার কারণেই রাঙামাটি বিএনপি এখন সাংগঠনিকভাবে সংকটে পড়েছে। তার হাতে বিএনপির নেতৃত্ব নিরাপদ নয়।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির বলেন-দীপেন দেওয়ান পার্বত্য ইস্যূতে কেন্দ্রীয় বিএনপির বিপরীত ভূমিকা পালন করছেন। তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে পুনর্বাসিত বাঙালী যারা বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত তাদের মাঝে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে।
তিনি কারো মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছায় দল পরিচালনা করেন। একজনমাত্র ব্যক্তির কারণে বিএনপির সাংগঠনিক ক্ষতি আমরা মেনে নিতে পারিনা।
দীপেন দেওয়ানের সাথে শীর্ষ নেতাদের এই বিরোধ তৃনমূলেও পৌঁছে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেঃকর্ণেল মণীষ দেওয়ান। আপাততঃ দীপেন দেওয়ানের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিপক্ষ হিসেবে মনীষকেই সামনে নিয়ে এসেছে তার প্রতিপক্ষরা। মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখভাগে লড়াই করা এবং দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার ভাই সাইদ ইস্কান্দার এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনীষকে বিশাল শোডাউন এর মাধ্যমে বরণও করে নেয়া হয়েছে। সেই বরণ করে নেয়ার অনুষ্ঠানেও ছিলো নানা ঘটনা দুর্ঘটনা আর পাল্টাপাল্টি মিছিল-শোডাউন।
রাঙামাটি বিএনপি এখন ত্রিধারায় বিভক্ত। একদিকে দীপেন দেওয়ানসহ সদর থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মামুনুর রশীদ,জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক,সাংগঠনিক সম্পাদক,স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি,সাধারন সম্পাদক এবং শ্রমিক দলের সভাপতি আর অন্যদিকে পৌর মেয়র ভূট্টোসহ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক,পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শফিউল আজম,জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল,সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম,যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেনসহ আরো নেতারা। লেঃকর্ণেল মণীষ সম্পৃক্ত হওয়ায় এই অংশের প্রভাব বলয় আরো বেড়েছে বলে দাবী তাদের সমর্থকদের। এই দুই ধারার বাইরেও কিছু নেতাকর্মী আছেন যারা এখনো কোন পক্ষেই সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি। বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো সিরিয়র কেউ এই অংশে না থাকলেও উপজেলা বিএনপির বেশ কটি ইউনিট এখন এই অসস্থান নিয়েছে।

তবে বিএনপির এই বিরোধ নিয়ে বেশ অস্বস্তিত্বে দলটির নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি দলটির বেশ কয়েকটি কর্মসূচীতে বিপরীত অংশের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। পাল্টাপাল্টি বিরোধের কারণে কর্মীরাও এখন আর দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননা। আর সিনিয়র নেতাদের মধ্যে নিজ নিজ গ্রুপে কর্মী টানা নিয়ে চলছে নানা টানাপোড়েন। এক গ্রুপ থেকে সটকে আরেক গ্রুপে ভেড়ার প্রবণতা বেড়েছে কর্মীদের মধ্যেও। নেতারাও নানা প্রলোভনের মাধ্যমে কর্মীদের প্রলুদ্ধ করছেন। সব মিলিয়ে বেশ সংকটে রাঙামাটির জাতীয়তাবাদী রাজনীতি। বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিলেও এখনো সংঘাত বা সহিংসতা দেখা না দেয়ায় দলটির ভেতরে তুষের আগুণ জ্বলছে। যেকোন সময় এই আগুন প্রকাশ্য রূপ নিয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এমন আংশকা দলটির নীতিনির্ধারক,কর্মী সমর্থক সবার মাঝেই।
তবে তৃনমূলের প্রত্যাশা নিয়েও আছে ভিন্ন ভিন্ন মত। কেউ কেউ ঐক্যবদ্ধ বিএনপির কথা বললেও আবার অনেকেই ভাড়াটে নেতা আনার প্রবণতা এবং দলের ভেতর থেকেই বাঙালী নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথাও জানান। তাদের বক্তব্য-পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপি বরাবরই সেটেলার ভোটব্যাংক ভিত্তিক একটি দল,তাই পাহাড়ীরা অতীতেও কোনদিন বিএনপিতে ভোট দেয়নি,দিবেওনা। তাই ভাড়াটে পাহাড়ী নেতা আর না এনে দলের ভেতর থেকেই দীর্ঘদিন যারা বিএনপি করছে তাদেরকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া উচিত।
আশির দশকে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত বিএনপিতে পাহাড়ী নেতাদের মধ্যে সুকোমল দেওয়ান,পারিজাত কুসুম চাকমা,মনিস্বপন দেওয়ান,মানিক লাল দেওয়ান,দীপেন দেওয়ানের পর এখন সর্বশেষ সংযোজন মনীষ দেওয়ান। বিএনপির এই পাহাড়ী নেতাদের আসা যাওয়ার মিছিলে এখন দুই দেওয়ান একই সাথে বিএনপির দুই গ্রুপের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সর্বশেষ লড়াইয়ে কোন দেওয়ান নিজের শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করতে পারেন,তাই এখন দেখার বিষয়। তবে সর্বশেষ আসা লেঃকর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান জানালেন-কোন জাতি বা গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে নয়,শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে সামনে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির অবস্থান শক্ত করে বেগম জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করাই আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য। বহুজাতিক রাষ্ট্র বাংলাদেশে, ‘বাঙালী জাতীয়বাদ’ নয়, ‘ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ই পাহাড়ী-বাঙালীর ঐক্য ও সম্প্রীতির সূতিকাগার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29458568 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29458568 2011-10-02 02:13:16
যেমন চলছে রাঙামাটি আওয়ামীলীগ আওয়ামী লীগ ঃ ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ধরাশায়ী দল

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের বেহাল দশার সাংগঠনিক চিত্র এখন স্পষ্ট। জেলা সম্মেলন হয়েছে এক দশক আগে। দীর্ঘদিনেও সম্মেলন না হওয়ায় সৃষ্টি হয়নি নবীন নেতৃত্ব। অনেকেই তাই রাঙামাটি আওয়ামী লীগেকে বিদ্রুপ করে বলে থাকেন ‘বয়ষ্ক পূনর্বাসন কেন্দ্র’। কেবল জেলা আওয়ামী লীগই নয়,দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন নেই দশটি উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং পুরো জেলারই এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের। ফলে তৃনমূলেও নেতৃত্ব বিকশিত না হওয়ায় দলের আভ্যন্তরীন কাঠামোই ভেঙ্গে পড়েছে। সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে এর ফল ভোগ করতে হয়েছে দলটিকে। নড়বড়ে সংগঠন,আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দীর্ঘ এক যুগ দখলে থাকা রাঙামাটি পৌরসভাটিও হাতছাড়া হয়েছে তাদের। একই অবস্থা সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও। জুন মাসে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে স্পষ্টতই দলটির ভরাডুবি হয়েছে। দুইবছর আগে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনেও দলটির ফলাফল হতাশাব্যজ্ঞক। দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সকল নেতারাই ব্যস্ত ঠিকাদারীতে,কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তৃনমূলের অনেক নেতাও। চালচূলোহীন নেতারাও এখন গাড়ী হাঁকায়,করেছেন নতুন নতুন বাড়ী। তবে রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতারা মনে করেন-ব্যক্তিপূজার রাজনীতিই ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটিকে শেষ করে দিয়েছে। এখানকার রাজনীতি পুরোটাই ‘দাদা’ হিসেবে পরিচিত দীপংকর তালুকদার কেন্দ্রিক। যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে দাদা’ই ভরসা। দাদাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে দলটিতে নেতৃত্বের বিকাশ হয়নি। ফলে যারা চাটুকারিতায় দাদা’কে তুষ্ট করতে পেরেছে,তারা বরাবরই শীর্ষ পদ এবং সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। আর যারা স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে,তারাই আওয়ামী রাজনীতি থেকে নিঃশেষ হয়ে গেছে। দলের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনেরও কাউন্সিল বা কর্মসূচী নেই। কেবল মাত্র জাতীয় দিবসগুলো পালন করা ছাড়া কোন কর্মসূচীই পালন করেনা আওয়ামী লীগ। এমনকি সম্প্রতি বাঘাইছড়িতে সাংগঠনিক সফরে গিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে দলের সিনিয়র নেতারা লাঞ্চিত হলেও দলের পক্ষ থেকে কোন তাৎক্ষণিক কর্মসূচী পালণ না করায় বিস্মিত এবং ক্ষুদ্ধ দলের প্রান্তিক নেতারা।
গত কয়েক বছরে, দলের অনেক ত্যাগী এবং পুরোনো নেতা দল থেকে দূরে সরে গেছেন অভিমানে। অভিযোগ আছে,দীপংকর তালুকদারের বিরোধীতা করে দলে টিকতে পারেননি কেউই। আবার বয়সের কারণে অনেকেই যেমন এখন আর সক্রিয় নন,আবার অনেকে মারাও গেছেন। ফলে পুরো কমিটির বেশিরভাগ সদস্যকেই এখন আর কাজে কর্মে পাওয়া যায়না। অন্যদিকে কমিটি না হওয়ার কারণে কাজ কর্মে সক্রিয় থেকেও পদ পাচ্ছেননা অনেক নেতা। দলে ‘চট্টগ্রামের স্থানীয়-অস্থানীয়’ বিরোধও প্রবল,যার প্রমাণ সর্বশেষ পৌর নির্বাচন। আবার দলে নতুন আসা নেতারা,যাদেরকে অনেকেই ব্যঙ্গ করে ‘শুক্কুরবাইজ্যা আওয়ামী লীগ’ (শুক্রবারের আওয়ামী লীগ বা মৌসুমী আওয়ামী লীগ) বলেন,তাদের দাপট বেড়েছে অনেক,তাদের কারণে কোনঠাসা দলের ত্যাগী এবং পুরোনো নেতারা।
জেলা আওয়ামী লীগ দৃশ্যতঃ দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ মনে হলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষুদ্ধ একাধিক অংশের অস্তিত্ব ঠিকই টের পাওয়া যায়। সাবেক জেলা সম্পাদক আশুতোষ বড়–য়া, ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা মাহফুজুর রহমান,আকবর হোসেন চৌধুরী,পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী,জেলা যুবলীগের সভাপতি জমিরউদ্দিন সহ অসংখ্য নেতাকর্মী আছেন যারা দলে অধিকতর গনতন্ত্রায়নের পক্ষে চেষ্টা চালানো এবং দলীয় বিভিন্ন ফোরামে বিষয়গুলো উত্থাপনের কারণে বর্তমানে দলের শীর্ষনেতার নেতিবাচক নজরে আছেন। তবে রাঙামাটি আওয়ামী লীগে দীপংকর তালুকদারের প্রভাববলয় এতোটাই স্পষ্ট যে,তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলবে এমন নেতাকর্মীও বিরল। ফলে অনেকেই মনে করেন ,সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতায় দীপংকর তালুকদার নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে না পারায়,দলে আর এমন প্রভাবশালী কোন নেতা ছিলেননা,যিনি ব্যক্তিগত কারিশমায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামাতে পারেন,তাই ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে-‘ পরাজয়’। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাউ ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় ভাংচুর এবং দলীয় নেতাদের মারধরও করে।

কেবল জেলা কমিটিই নয় জেলার দশটি উপজেলার প্রায় সবগুলোতেই আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটিগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ। কিন্তু কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের কোন দিক নির্দেশনা না াকায় এই বিষয়ে কিছু করতে পারছেননা বলে জানালেন উপজেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা। সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন টীমে ভাগ হয়ে উপজেলাগুলো সফরে গিয়েও দলের এই হতশ্রী অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারেননি। বরং লংগদুতে বিব্রবতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় তাদের। সেখানকার উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদকের যুদ্ধাপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচী পালণ করেছে খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগ।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আশুতোষ বড়–য়া বলেন,তিন বছরের জেলা কমিটি এখন দশ বছর পার করছে,সম্মেলন না হওয়ায় নতুনরা সুযোগ পাচ্ছেনা। এখানে দলীয় আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রীক রাজনীতির চর্চাই বেশি হচ্ছে। দলীয় কর্মকান্ডে নিজের নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন-আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচী পালন করতে গেলেই দীপংকর লীগের পক্ষ থেকে হামলা-মামলা করে আমাদের হয়রানী করা হয়,তাই আপাততঃ কোন কর্মসূচী পালন করছিনা। তিনি আওয়ামী লীগের বর্তমান জেলা কমিটিকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান বলেন- বর্তমান জেলা কমিটির হাইব্রীড আওয়ামী লীগকে তৃনমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে অবশ্যই জেলা সম্মেলন জরুরী। নবীণ প্রবীণের সমন্বয়েই দল সংগঠিত করতে হবে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চর্চা চেয়ে দলীয় আদর্শ বা কর্মসূচী বাস্তবায়ণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন না হওয়াকেই দলের প্রধান সংকট মনে করছেন সংগঠনটির শুভাকাংখীরা। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হাজী কামালউদ্দিন বলেন- আমরা অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছি জেলা সম্মেলন করার,কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি না পাওয়ায় তা করতে পারছিনা। কয়েক মাস আগেও আমরা বর্র্ধিত সভা করে জেলা কমিটি করার চেষ্টা করেছি,কিন্তু একদিন আগে কেন্দ্রীয় কমিটি নিষেধ করায়,আমরা কর্মী সভা করেছি শেষ পর্যন্ত। দাদা (দীপংকর তালুকদার)ও কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদকের সাথে কথা বলেছেন,আমরা সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুত আছি,কেন্দ্র থেকে অনুমোদন পেলেই সম্মেলন করব। তিনি বলেন-আমরাও চাই নবীন নেতৃত্ব আসুক,দল গতিশীল হোক।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন-আমাদের উপজেলা কমিটিগুলোর সাথে মতবিনিয়ময় সভা চলছে,যা ২/১ দিনের মধ্যে শেষ হবে। এরপর ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলা ইউনিটের সম্মেলনের পর খুব শীঘ্রই জেলা আওয়ামী লীগেরও সম্মেলন হবে।
একসময় দলীয় সংহতির কারণে ব্যাপকভাবে আলোচিত দলটি এখন নানা কারণে বিপন্ন। জেলা আওয়ামী লীগের নিজস্ব একটি অফিস আছে বটে, তবে সেখানে বসার সময় নেই দলের নেতাদের। সবাই ব্যস্ত নিজের ধান্ধায়। কেউ কেউ তো যেনো আলাদীনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। তবু সন্ধ্যা বা সকালে দলের কিছু নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এসে ঠিকই বসে থাকেন দলীয় কার্যালয়ে। এইসব বঞ্চিত নেতাকর্মীরাই প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটির সবচে বড় শক্তি।
তবে দল ক্ষমতায় আসার পর কিছু সিনিয়র নেতার যাদুর টাকায় তৈরি হতে শুরু হওয়া বহুতল ভবন,জেলার সকল ঠিকাদারী কাজে ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন,জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতির নানা অভিযোগের দায়ভার পুরো আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হচ্ছে। আবার সংবিধানের পঞ্চোদশ সংশোধনী নিয়ে সরকারের সাথে পাহাড়ী জনগণেরও দূরত্ব বেড়েছে। আবার পুনর্বাসিত বাঙালীদের সাথে দুরত্ব কমেছে দলটির। ফলে পাহাড়ীদের সাথে দুরত্ব আর পুনবার্সিত বাঙালীদের সাথে নৈকট্য,শেষ পর্যন্ত আরো কতটা বাড়ে বা কমে তার উপর নির্ভর করছে পার্বত্যাঞ্চলে আওয়ামী রাজনীতির ভবিষ্যত।

ছবি ঃ জেলা কার্যালয়ের রংচটা ছবির মতো এখন জেলা আওয়ামী লীগও নিষ্প্রাণ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29458566 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29458566 2011-10-02 02:07:24
একটি প্রেম অথবা অপহরণ (!) এবং শহরজুড়ে তোলপাড় প্রথম দিন,শনিবার,২৪ সেপ্টেম্বর’২০১১
প্রেমের টানে ঘর ছাড়লো রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কিশোরী কন্যা
রাঙামাটি ঃ প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেলো রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার কন্যা শাইরি চাকমা (১৫)। সে রাঙামাটি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শাইরি চাকমা স্থানীয় একটি ব্যান্ডদলের সদস্য রনেল মারমার (২৩) সাথে প্রেম করে আসছিল। শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পর প্রেমিকের হাত ধরে উধাও হয় সে।
রাঙামাটি কোতয়ালি থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, চেয়ারম্যান পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে আসামবস্তি এলাকায় রনেল মারমার বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে,তবে তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। অপহরনের বিষয়টি সঠিক নয় উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে এটা প্রেমঘটিত বলে বলা হয়।
এদিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, শনিবার সকালে রাঙামাটির আসামবস্তিতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে কয়েকজন পাহাড়ী যুবক তাকে অপহরণ করে কাপ্তাইয়ের দিকে নিয়ে যায়।
রাঙামাটির কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন,আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি,তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটিকে অপহরণ নয়,প্রেমসংক্রান্ত বিষয় বলেই মনে হচ্ছে। ছেলেমেয়ে দুটিকে সকাল সাড়ে বারেটার সময় স্কুলের সামনে থেকে সিএনজিযোগে যেতে দেখেছে বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে।
রাঙামাটি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরিৎ চাকমা জানিয়েছেন,আমি ছাত্রীদের কাছ থেকে জেনেছি মেয়েটি গাড়ী থেকে নেমে স্কুলে না ঢুকে ছেলেটির সাথে চলে গেছে। সে স্বেচ্ছায় গিয়েছে বলেই জানিয়েছে তার সহপাঠীরা।


দ্বিতীয় দিন,রবিবার,২৫ সেপ্টেম্বর’২০১১

২৪ ঘন্টা পর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কন্যা উদ্ধার !
শনিবার স্কুলে যাওযার পর প্রেমিকের হাত ধরে উধাও হওয়া রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার কিশোরী কণ্যা শাইরি চাকমাকে রবিবার দুপুর একটায় মগবান ইউনিয়নের কামিলাছড়ি গ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারের পর শাইরি চাকমাকে তা খালা সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিনতি চাকমার হাতে তুলে দেয়া হলেও প্রেমিক রনেল মারমাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন,এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শাইরি চাকমাকে মগবান ইউনিয়নের কামিলাছড়ি এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।
এদিকে শাইরি চাকমার পিতা রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা শনিবার রাতেই রাঙামাটির কোতয়ালী থানায় প্রেমিক রনেল মারমা,তার পিতা,মাতা,বন্ধু সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা করেছেন। এর পর পরই পুলিশ রনেল মারমার বাবা-মা-ভাই-বোন, ১জন বন্ধু এবং সিএনজি চালককে গ্রেফতার করে ানায় নিয়ে আসে। এবং তার পিতা-মাতাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে রনেল চাকমা এবং শাইরি চাকমা কে নিয়ে আসার আল্টিমেটাম দিয়ে ছেড়ে দেয়। এরপরই উদ্ধার হলো প্রেমিক যুগল।
কোতয়ালী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানিয়েছেন,মেয়েটিকে তার পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ছেলেটিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সাড়ে বারোটায় রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় অবস্থিত রাঙামাটি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গাড়ী থেকে নেমে স্কুলে প্রবেশ না করে প্রেমিক রনেল চাকমার সাথে পালিয়ে যায় শাইরি। সে ওই স্কুলের নবম শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাড়ের ছাত্রী। তার সহপাঠী,স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেয়েটি স্বেচ্ছায় গেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। প্রাথমিক অবস্থায় মেয়েটির পরিবার ও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের নানাভাবে অনুরোধ এবং ‘ম্যানেজ’ করার পর শনিবার রাতে চেয়ারম্যান নিজেই বাদী হয়ে ‘অপহরণ’ মামলা করেন।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে,পুলিশ নয়,একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কর্মীরা নিখিল কুমার চাকমার কন্যাকে উদ্ধার করে দিয়েছে। তারাই উদ্ধার করে ছেলে এবং মেয়েকে পুলিশের হেফাজতে দেয়ার পর পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েটিকে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হয়নি।
সর্বশেষ
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর মেয়ে সংক্রান্ত সমস্যাটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানা হয়েছে ! ছেলেটিকে মারমা নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29455129 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29455129 2011-09-26 00:38:46
নির্বাচন নয়,যেখানে সবাই ফ্যাক্সে আসে ফ্যাক্সে যায় পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ‘চেয়ারম্যান’ পদটিকে অনেকে পরিহাস করে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ নামে অভিহিত করেন। এই চেয়ারে বর্তমানে সপ্তম চেয়ারম্যান হিসাবে অধিষ্ঠিত আছেন নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা। লোভনীয় এ পদটিতে অধিষ্ঠিত ছয়জনই এসেছেন চাকমা সম্প্রদায় থেকে, অপর একজন মারমা সম্প্রদায়ের। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সর্বাধিক ক্ষমতাবান এই সংস্থা জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে এ পর্যন্ত যে সাতজন ব্যক্তি এসেছেন, তাদের মধ্যে মাত্র একজন নির্বাচিত এবং অপর ছয়জনই এসেছেন ফ্যাক্সবার্তায়। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে ৯ জুলাই ১৯৮৯ সনে দায়িত্ব নেন গৌতম দেওয়ান। ১৯৯২ সালের ২০ মে রাঙামাটিতে সংগঠিত এক সাম্প্রদায়িক ঘটনার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ পদত্যাগের পর থেকেই পরিষদ চেয়ারম্যানের পদটি পরিণত হয় ‘মিউজিক্যাল চেয়ারে’। মূলতঃ তখন থেকে নির্বাচন না হয়ে ফ্যাক্সযোগে এই চেয়ারে ‘রাজনৈতিক নিয়োগে’র প্রবণতা শুরু হয়। গৌতম দেওয়ানের পদত্যাগের পর ১৯৯২ সনের ১৭ জুন এক ফ্যাক্সবার্তায় তৎকালীন জাতীয় পার্টির নেতা স্কুলশিক্ষক পারিজাত কুসুম চাকমা সদস্য থেকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান। বিএনপি সরকারের পুরোটা সময় এই পদে আসীন থাকার পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি ভোটারবিহীন সংসদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিতে হয় চেয়ারম্যান পদটি। ১৯৯৬ সালের ৪ মার্চ পারিজাত কুসুমের পদত্যাগের পর প্রায় ১৫ দিন শূন্য পড়ে থাকে পদটি। একই বছরের ২০ মার্চ এক ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান জেলা পরিষদ এর তৎকালীন সদস্য রবীন্দ্র লাল চাকমা। ২০ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন এই পদে। এ পর্যন্ত ছয় দফা চেয়ারম্যানের রদবদলের পালায় তিনিই ছিলেন স্বল্পতম সময়ের চেয়ারম্যান। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবারো যথারীতি ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ নেতা চিংকিউ রোয়াজাকে। ১৯৯৭ সালের ৫ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০০২ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পদে ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে উপজাতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন ড. মানিকলাল দেওয়ানকে। ২০০২ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তিনি। দেশে জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়ে ২০০৭ সালের ১২ জুলাই এক ফ্যাক্সবার্তায় পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয় সেনাবাহিনীর পছন্দের ব্যক্তি প্রকৌশলী জগৎজ্যোতি চাকমাকে। মানিকলাল দেওয়ান পরিষদের ইতিহাসে সর্বাধিক পাঁচ বছর পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৫ মে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা এবং পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের বিশ্বস্ত সহচর নিখিল কুমার চাকমা । তিনি এখন পর্যন্ত নানা অভিযোগ সত্ত্বেও বিশ্বস্ততার সাথেই দায়িত্ব পালন করছেন। ধারণা করা হচ্ছে,পরবর্তী ফ্যাক্স না আসা পর্যন্ত তিনিই এই পদে আসীন থাকবেন এবং নানা কাজের ব্যস্ততার মাঝেও কখন চলে আসে একটি ফ্যাক্স এমন অপেক্ষার প্রহর গুনবেন । তবে এই পরিষদের প্রথম এবং একমাত্র নির্বাচিত চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান বলেন- পরিষদগুলোতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব্শীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে অবশ্যই নিয়মিতভাবে নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে এবং তাহলেই এই পরিষদ সৃষ্টির যে মূল স্পিরিট তা পরিষ্কার হবে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন-এটা আশ্চয্যজনক যে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানে ১৮ বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছেনা ! কেবল রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদই নয়,বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদেরও একই অবস্থা।
পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ‘চেয়ারম্যান’ পদটিকে অনেকে পরিহাস করে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ নামে অভিহিত করেন। এই চেয়ারে বর্তমানে সপ্তম চেয়ারম্যান হিসাবে অধিষ্ঠিত আছেন নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা। লোভনীয় এ পদটিতে অধিষ্ঠিত ছয়জনই এসেছেন চাকমা সম্প্রদায় থেকে, অপর একজন মারমা সম্প্রদায়ের। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সর্বাধিক ক্ষমতাবান এই সংস্থা জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে এ পর্যন্ত যে সাতজন ব্যক্তি এসেছেন, তাদের মধ্যে মাত্র একজন নির্বাচিত এবং অপর ছয়জনই এসেছেন ফ্যাক্সবার্তায়। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে ৯ জুলাই ১৯৮৯ সনে দায়িত্ব নেন গৌতম দেওয়ান। ১৯৯২ সালের ২০ মে রাঙামাটিতে সংগঠিত এক সাম্প্রদায়িক ঘটনার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ পদত্যাগের পর থেকেই পরিষদ চেয়ারম্যানের পদটি পরিণত হয় ‘মিউজিক্যাল চেয়ারে’। মূলতঃ তখন থেকে নির্বাচন না হয়ে ফ্যাক্সযোগে এই চেয়ারে ‘রাজনৈতিক নিয়োগে’র প্রবণতা শুরু হয়। গৌতম দেওয়ানের পদত্যাগের পর ১৯৯২ সনের ১৭ জুন এক ফ্যাক্সবার্তায় তৎকালীন জাতীয় পার্টির নেতা স্কুলশিক্ষক পারিজাত কুসুম চাকমা সদস্য থেকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান। বিএনপি সরকারের পুরোটা সময় এই পদে আসীন থাকার পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি ভোটারবিহীন সংসদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিতে হয় চেয়ারম্যান পদটি। ১৯৯৬ সালের ৪ মার্চ পারিজাত কুসুমের পদত্যাগের পর প্রায় ১৫ দিন শূন্য পড়ে থাকে পদটি। একই বছরের ২০ মার্চ এক ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান জেলা পরিষদ এর তৎকালীন সদস্য রবীন্দ্র লাল চাকমা। ২০ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন এই পদে। এ পর্যন্ত ছয় দফা চেয়ারম্যানের রদবদলের পালায় তিনিই ছিলেন স্বল্পতম সময়ের চেয়ারম্যান। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবারো যথারীতি ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ নেতা চিংকিউ রোয়াজাকে। ১৯৯৭ সালের ৫ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০০২ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পদে ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে উপজাতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন ড. মানিকলাল দেওয়ানকে। ২০০২ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তিনি। দেশে জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়ে ২০০৭ সালের ১২ জুলাই এক ফ্যাক্সবার্তায় পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয় সেনাবাহিনীর পছন্দের ব্যক্তি প্রকৌশলী জগৎজ্যোতি চাকমাকে। মানিকলাল দেওয়ান পরিষদের ইতিহাসে সর্বাধিক পাঁচ বছর পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৫ মে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা এবং পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের বিশ্বস্ত সহচর নিখিল কুমার চাকমা । তিনি এখন পর্যন্ত নানা অভিযোগ সত্ত্বেও বিশ্বস্ততার সাথেই দায়িত্ব পালন করছেন। ধারণা করা হচ্ছে,পরবর্তী ফ্যাক্স না আসা পর্যন্ত তিনিই এই পদে আসীন থাকবেন এবং নানা কাজের ব্যস্ততার মাঝেও কখন চলে আসে একটি ফ্যাক্স এমন অপেক্ষার প্রহর গুনবেন । তবে এই পরিষদের প্রথম এবং একমাত্র নির্বাচিত চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান বলেন- পরিষদগুলোতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব্শীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে অবশ্যই নিয়মিতভাবে নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে এবং তাহলেই এই পরিষদ সৃষ্টির যে মূল স্পিরিট তা পরিষ্কার হবে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন-এটা আশ্চয্যজনক যে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানে ১৮ বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছেনা ! কেবল রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদই নয়,বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদেরও একই অবস্থা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29441954 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29441954 2011-09-02 02:33:54
‘সাংবাদিক সাহেবকে চা নাস্তা খাওয়ার জন্য কিছু পয়সা দিয়ে দাও।’ এই প্রসঙ্গে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ মনীষা চাকমা বলেন-আসলে ওরা অনেক কষ্ট করে চাকুরী পেয়েছে,তাই আমরা আর ওইভাবে টেস্ট করছিনা। টাকা নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন-এটা আমি ঠিক বলতে পারবোনা,আগে থেকেই নেয়া হয়,তাই এবারও নেয়া হচ্ছে। এটা সরকারী ফি কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। তবে তার সহকারী একজন কর্মচারী পাশ থেকে জানান-এটা আসলে আমাদের বড় বাবু (প্রধান কেরাণী বলতে পারবে ),ম্যাডাম জানবেননা। এই সময় সিভিল সার্জন মনীষা চাকমা ওই কর্মচারীকে বলেন- ‘সাংবাদিক সাহেবকে চা নাস্তা খাওয়ার জন্য কিছু পয়সা দিয়ে দাও।’ ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29441755 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29441755 2011-09-01 15:40:58 রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে ২৬৩ শিক্ষকের প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ ! রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ২৬৩ জন সহকারী এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নজিরবিহীন অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি আর নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী বা তাদের স্বজনরাই নয়,খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও একই অভিযোগ করছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,চার সদস্য,কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ২২ আগষ্ট নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জেলা পরিষদ কার্যালয় ভাংচুর,বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ,সাংবাদিক সম্মেলন,মানববন্ধনের মতো কর্মসূচীও পালিত হয়ে গেছে এরই মধ্যে।
অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ পরিষদ সদস্যরা জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের আত্মীয় স্বজনদেরই এই নিয়োগে চাকুরী দিয়েছে। মেধা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে কাউকে চাকুরী দেয়া হয়নি। কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক সোহেল দাবী করেছেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজুল হকের ভাতিজী (রোল-৫০৯), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অংসুচাইন চৌধুরীর বোন (রোল-৩৭২), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম খোকন এর মেয়েকে (রোল-১৩৭) অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এই তিনজন টাকা নিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই উপজেলায় মিছিল সমাবেশ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। একইভাবে রাঙামাটি শহরেও বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশের আয়োজন করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা মঙ্গলবার শহরের হ্যাপীর মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের হুমকীতে তাৎক্ষণিক কর্মসূচী বাতিল করতে বাধ্য হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিক্ষুদ্ধদের সাথে সভা করে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার রাঙামাটি না আসা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী দয়াময় চাকমা টুকু অভিযোগ করেছেন-লিখিত পরীক্ষায় পাশ না করেও চূড়ান্ত ফলাফলে নাম থাকার মতো সপ্তার্চাযের ঘটনাও এই নিয়োগে হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব ?? এদিকে এই ঘটনা জানাজানির পর পুরো শহরে তোলপাড় তৈরি হলে তড়িঘড়ি করে জেলা পরিষদ থেকে সংশোধনী প্রকাশ করে এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ২৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এবার সর্বোচ্চ ৬১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা শুধুমাত্র বাঙালী কোটার উপর আরোপ এবং একই পরিবারের চার ভাইবোন,তিনজন,দুইজনকেও চাকুরী দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রসঙ্গে রাঙামাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন-মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করায় আমরা জেলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই, তবে একই পরিবার থেকে ৩/৪ জনকে না দিয়ে যদি যেসব পরিবার বাদ পড়েছে তাদের থেকেও দেয়া হতো তাহলে বিষয়টি অনেক বেশি সুন্দর হতো। আর বাঙালী কোটার উপর মুক্তিযোদ্ধা কোটা আরোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘ এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে,তবে ঠিক হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা একটি স্বতন্ত্র কোটা,এখানে জাতি ধর্ম বর্ণের ভিত্তিতে বিভক্ত করা উচিত নয়।’ অনুসন্ধানে জানা গেছে,লংগদু উপজেলার মাইনী হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোজাম্মেল হকের ৪ সন্তান এবং একই উপজেলার গুলশাখালীর জাহাঙ্গীর মাস্টারের পরিবারের ৩ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকুরী পেয়েছেন।

নিয়োগে বাঙালীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিয়োগের আগেই জনসংখ্যানুপাতে নিয়োগ দেয়ার জন্য স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও ঘোষিত ফলাফলে এর কোন প্রতিফলণ ঘটেনি বলে দাবী করেছেন তারা। সমঅধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কামাল বলেন-নিয়োগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাঙালীদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং মাত্র তেত্রিশ শতাংশ বাঙালীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবার মুক্তিযোদ্ধা কোটাও বাঙালী কোটার উপর চাপিয়ে দিয়ে তারা কৈ এর তেলে কৈ ভাজার অপচেষ্টা করেছে। তিনি বলেন-আমরা এই ব্যাপারে শীঘ্রই উচ্চ আদালতে রীট করব। এই প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান মহসিন রানা বলেন-আমাদের সময় জেলা পরিষদ বাঙালী ৪০% এবং পাহাড়ী ৬০% নিয়োগ দিয়েছে। এটা কমানো উচিত তো নয়ই,বরং জনসংখ্যানুপাতেই নিয়োগ হওয়া উচিত।

নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ এনে মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। বুধবার জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সমনে তারা মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে অভিযোগ করেন, প্রতিটি সরকারী নিয়োগে ১০% প্রতিবন্ধী কোটা থাকলেও জেলা পরিষদের এই নিয়োগে ১ জন প্রতিবন্ধীরও চাকুরী হয়নি। নিয়োগবঞ্চিত প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান এবং রিপেল চাকমা জানান,১২ জন প্রতিবন্ধী লিখিত পরীক্ষায় এবং ৩ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারা এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো বিষয় নিয়েই আছে নানা প্রশ্ন। ভাইভা বোর্ড গঠনেও অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতীতে জেলা পরিষদের সকল নিয়োগে জেলা প্রশাসন এবং আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি রাখা হলেও এবার তা করা হয়নি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সংকটে পড়েছে বলে মনে করেন বঞ্চিতরা। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি না রাখার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ডাঃ নীলু কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন- এটা নজিরবিহীন ঘটনা। আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জেলা পরিষদের সকল নিয়োগ পরীক্ষায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব ছিলো,এমনকি বিএনপি সরকার ও তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময়ও এটি অব্যাহত ছিলো,কিন্তু বর্তমান পরিষদ আমাদের বাদ দিয়ে যেভাবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তাতে তাদের গ্রহনযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,জেলা,উপজেলা আওয়ামী লীগের অজ¯্র সিনিয়র নেতার স্ত্রী-পুত্র কন্যারা এই নিয়োগে চাকুরী পেয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক নীহার দেব বলেন-চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন,নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের চাকুরী দিয়েছেন কিন্তু দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত কর্মীদের কোন মূল্যায়ন করেন নাই।
অভিযোগ উঠেছে, ২০৬ টি সহকারী শিক্ষক পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে ২৪৯ জনকে নিয়োগ এবং ১০ জন প্রধান শিক্ষকের বিপরীতে ১৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কোটা কেটে এনে সদরে যোগ করায় ওইসব উপজেলার প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে।
জেলা পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজনদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দেয়ার পরও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার দাবী-‘ নিয়োগ শতভাগ পরিচ্ছন্ন হয়েছে। কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি,স্বজনপ্রীতির প্রশ্নই উঠেনা।’ তিনি আরো বলেন- ‘যারা যোগ্যতা না থাকায় নির্বাচিত হয়নি,তারাতো নানা অভিযোগ করবেই।’ প্রতিবন্ধী কোটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘তাদের যোগ্যতা নেই বলেই তারা টিকেনি।’ তিনি আরো বলেন-‘নিয়োগ নিয়ে কোন সুর্নির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সদস্যরা কেউ যদি দুর্নীতি করে থাকে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ২৬৩ জন সহকারী এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নজিরবিহীন অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি আর নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী বা তাদের স্বজনরাই নয়,খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও একই অভিযোগ করছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,চার সদস্য,কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ২২ আগষ্ট নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জেলা পরিষদ কার্যালয় ভাংচুর,বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ,সাংবাদিক সম্মেলন,মানববন্ধনের মতো কর্মসূচীও পালিত হয়ে গেছে এরই মধ্যে।
অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ পরিষদ সদস্যরা জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের আত্মীয় স্বজনদেরই এই নিয়োগে চাকুরী দিয়েছে। মেধা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে কাউকে চাকুরী দেয়া হয়নি। কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক সোহেল দাবী করেছেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজুল হকের ভাতিজী (রোল-৫০৯), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অংসুচাইন চৌধুরীর বোন (রোল-৩৭২), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম খোকন এর মেয়েকে (রোল-১৩৭) অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এই তিনজন টাকা নিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই উপজেলায় মিছিল সমাবেশ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। একইভাবে রাঙামাটি শহরেও বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশের আয়োজন করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা মঙ্গলবার শহরের হ্যাপীর মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের হুমকীতে তাৎক্ষণিক কর্মসূচী বাতিল করতে বাধ্য হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিক্ষুদ্ধদের সাথে সভা করে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার রাঙামাটি না আসা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী দয়াময় চাকমা টুকু অভিযোগ করেছেন-লিখিত পরীক্ষায় পাশ না করেও চূড়ান্ত ফলাফলে নাম থাকার মতো সপ্তার্চাযের ঘটনাও এই নিয়োগে হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব ?? এদিকে এই ঘটনা জানাজানির পর পুরো শহরে তোলপাড় তৈরি হলে তড়িঘড়ি করে জেলা পরিষদ থেকে সংশোধনী প্রকাশ করে এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ২৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এবার সর্বোচ্চ ৬১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা শুধুমাত্র বাঙালী কোটার উপর আরোপ এবং একই পরিবারের চার ভাইবোন,তিনজন,দুইজনকেও চাকুরী দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রসঙ্গে রাঙামাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন-মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করায় আমরা জেলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই, তবে একই পরিবার থেকে ৩/৪ জনকে না দিয়ে যদি যেসব পরিবার বাদ পড়েছে তাদের থেকেও দেয়া হতো তাহলে বিষয়টি অনেক বেশি সুন্দর হতো। আর বাঙালী কোটার উপর মুক্তিযোদ্ধা কোটা আরোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘ এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে,তবে ঠিক হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা একটি স্বতন্ত্র কোটা,এখানে জাতি ধর্ম বর্ণের ভিত্তিতে বিভক্ত করা উচিত নয়।’ অনুসন্ধানে জানা গেছে,লংগদু উপজেলার মাইনী হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোজাম্মেল হকের ৪ সন্তান এবং একই উপজেলার গুলশাখালীর জাহাঙ্গীর মাস্টারের পরিবারের ৩ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকুরী পেয়েছেন।

নিয়োগে বাঙালীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিয়োগের আগেই জনসংখ্যানুপাতে নিয়োগ দেয়ার জন্য স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও ঘোষিত ফলাফলে এর কোন প্রতিফলণ ঘটেনি বলে দাবী করেছেন তারা। সমঅধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কামাল বলেন-নিয়োগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাঙালীদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং মাত্র তেত্রিশ শতাংশ বাঙালীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবার মুক্তিযোদ্ধা কোটাও বাঙালী কোটার উপর চাপিয়ে দিয়ে তারা কৈ এর তেলে কৈ ভাজার অপচেষ্টা করেছে। তিনি বলেন-আমরা এই ব্যাপারে শীঘ্রই উচ্চ আদালতে রীট করব। এই প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান মহসিন রানা বলেন-আমাদের সময় জেলা পরিষদ বাঙালী ৪০% এবং পাহাড়ী ৬০% নিয়োগ দিয়েছে। এটা কমানো উচিত তো নয়ই,বরং জনসংখ্যানুপাতেই নিয়োগ হওয়া উচিত।

নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ এনে মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। বুধবার জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সমনে তারা মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে অভিযোগ করেন, প্রতিটি সরকারী নিয়োগে ১০% প্রতিবন্ধী কোটা থাকলেও জেলা পরিষদের এই নিয়োগে ১ জন প্রতিবন্ধীরও চাকুরী হয়নি। নিয়োগবঞ্চিত প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান এবং রিপেল চাকমা জানান,১২ জন প্রতিবন্ধী লিখিত পরীক্ষায় এবং ৩ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারা এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো বিষয় নিয়েই আছে নানা প্রশ্ন। ভাইভা বোর্ড গঠনেও অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতীতে জেলা পরিষদের সকল নিয়োগে জেলা প্রশাসন এবং আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি রাখা হলেও এবার তা করা হয়নি। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সংকটে পড়েছে বলে মনে করেন বঞ্চিতরা। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি না রাখার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ডাঃ নীলু কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন- এটা নজিরবিহীন ঘটনা। আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জেলা পরিষদের সকল নিয়োগ পরীক্ষায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব ছিলো,এমনকি বিএনপি সরকার ও তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময়ও এটি অব্যাহত ছিলো,কিন্তু বর্তমান পরিষদ আমাদের বাদ দিয়ে যেভাবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তাতে তাদের গ্রহনযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,জেলা,উপজেলা আওয়ামী লীগের অজ¯্র সিনিয়র নেতার স্ত্রী-পুত্র কন্যারা এই নিয়োগে চাকুরী পেয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক নীহার দেব বলেন-চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন,নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের চাকুরী দিয়েছেন কিন্তু দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত কর্মীদের কোন মূল্যায়ন করেন নাই।
অভিযোগ উঠেছে, ২০৬ টি সহকারী শিক্ষক পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে ২৪৯ জনকে নিয়োগ এবং ১০ জন প্রধান শিক্ষকের বিপরীতে ১৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কোটা কেটে এনে সদরে যোগ করায় ওইসব উপজেলার প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে।
জেলা পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজনদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দেয়ার পরও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার দাবী-‘ নিয়োগ শতভাগ পরিচ্ছন্ন হয়েছে। কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি,স্বজনপ্রীতির প্রশ্নই উঠেনা।’ তিনি আরো বলেন- ‘যারা যোগ্যতা না থাকায় নির্বাচিত হয়নি,তারাতো নানা অভিযোগ করবেই।’ প্রতিবন্ধী কোটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘তাদের যোগ্যতা নেই বলেই তারা টিকেনি।’ তিনি আরো বলেন-‘নিয়োগ নিয়ে কোন সুর্নির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সদস্যরা কেউ যদি দুর্নীতি করে থাকে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29438169 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29438169 2011-08-25 01:41:50
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত, সরকারি সব নথি থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ বিলোপ করা হবে গত ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সেনা সদর এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, আদিবাসী শব্দটি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী শব্দটি দিয়ে প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সব ধরনের কাগজপত্র থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বিলোপ করে ‘ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করবে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে ‘আদিবাসী উন্নয়ন’-এর নামে কোনো বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট বা এনজিও প্রকল্প থাকলে সেটি গ্রহণ না করে ‘ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন’ প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে ওই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমত প্রকাশ করে যে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব জনগণই আদিবাসী। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সতের শতকে এ অঞ্চলে আগমন করে বিধায় তারা অভিবাসনকারী জনগোষ্ঠী। ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বসতি স্থাপন না করায় কোনো জনগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে আদিবাসী বলার সুযোগ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতেও আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। চুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। বরং বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে ‘ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী’ বলা যেতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সভায় মত দেয়।
এদিকে গত ৪ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইআরডির কাছে এক পত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন’ শিরোনামে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে কি না তা জরুরি ভিত্তিতে জানাতে বলে। ইআরডি পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তবায়নাধীন বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট সব প্রকল্পের নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান সরকার, নরওয়ে এবং জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউএনডিপি ও ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় ওই এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন শিরোনামের কোনো প্রকল্প নেই বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে ৭ আগষ্ট।
একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের আদিবাসী সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। কারণ ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তারা নানা আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সুরক্ষা পাবে, যা বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতিকূলে যাবে। এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি আদিবাসী বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জানিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় শিগগির বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে সরকার। এর পর থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে কোনো প্রকাশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করতে পারবে না। তাদের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29432859 http://www.somewhereinblog.net/blog/fazlealahiblog/29432859 2011-08-16 00:32:23