(এটিও একটি মন্তব্য, আমি কি করবো, বিষয়গুলো এমন উত্থাপিত হয় যে, এককথায় জবাব দেয়া যায় না, বড় হয়ে পড়ে।)
রেজওয়ান-
আপনি বলেছেন- Click This Link
"বাংলাদেশ ইসলামি রাষ্ট্র নয়, সব ধর্ম বিশিষ্ট একটি গনতন্ত্রিক রাষ্ট্র। কাজেই এখানে জোর করে ইসলামী রীতিনীতি চাপানোর চেষ্টা অগনতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী।"
জোর করে কোথায়, কার উপর জোর করা হয়েছে এখানে? সরকার? যদি তাই হয় তবে শুনুন- হাদীসে বলা হয়েছে যে, শাসকের সামনে সত্যকথা বলাই সর্বোত্তম জিহাদ। আর আগেই বলেছি যে, মুসলমানদের জন্য দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত সর্বাত্মক সাধনা বা জিহাদ করা আল্লাহ্ ফরয করে দিয়েছেন। সুতরাং মুসলমানগণ তো তাদের উপর তাদের প্রভুপ্রদত্ত আদেশ পালনের প্রচেষ্টা চালাবেই। তাছাড়া বাংলাদেশে তো সেদিন অন্য ধর্মের পূজনীয় মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেনি; বরং আরেকজন মুসলিম সাধুর উপর চরম অবিচার করে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় যে মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে এবং তার দ্বারা মুসলিম সমাজে যে বিপর্যয় সাধনের ষড়যন্ত্র পরিচলিত হচ্ছিল, সেটাকে আন্দোলন করে রুখে দিয়েছে তৌহিদী জনতা।
এতে আপনি অগণতান্ত্রিক বা স্বৈরনীতি বলেন কিভাবে? নাকি আপনাদের স্টাইলে বুঝাতে চাচ্ছেন যে, এখন সেই কওমী মাদ্রাসার কয়েকটি বাচ্ছা ছেলেই দেশ চালাচ্ছে? এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে "স্বৈরাচারী" আখ্যা দিচ্ছেন? এখানে যদি কেউ আরেকটু বাড়িয়ে বলতে গিয়ে এটা বলে ফেলে যে, আপনি এখানে "স্বৈরাচার" বলে শাসকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তবে যুক্তি মোতাবেক খুব বেশী বলা হবে না বোধ হয়।
"আমি ইসলামের বিধানকে বলার কে? আমি দেখাতে চাচ্ছি ধর্ম আর সংস্কৃতি এক বিষয় না।"
অবশ্যই এক বিষয়! অবশ্যই এক বিষয়; অন্তত ইসলামের ক্ষেত্রে। আপনি আসলে ইসলামকেই বুঝতে পারেননি, এ সত্য কথাটা এখন আর না বলে পারলাম না। ইসলামকে আপনি অন্য সব ধর্মের মত একটি "স্রেফ ধর্ম" হিসেবেই ধরে নিয়েছেন।
না, ইসলাম শুধুমাত্র একটি তথাকথিত ধর্মই নয়; বরং ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আর একথা অনস্বীকার্য যে, মানুষের জীবনাচারেরই অপর নাম সংস্কৃতি। তাহলে দেখুন ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে এখানে জীবনের কোন দিকটি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি?
আপনি খুব ছোট কাজ 'নখকাটা' থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপরিচালনা পর্যন্ত যাবতীয় সমস্ত কিছু সম্পর্কে বিধান পাবেন ইসলামে। অন্য কথায়, মানুষের চিন্তায় আসতে পারে এমন কোন প্রশ্ন নেই যার উত্তর ইসলামে দেয়া নেই। তাহলে পৃথিবীর বুকে সেই ইসলামই যদি সংস্কৃতি না হয়, তবে "সংস্কৃতি" শব্দটিরই অস্তিত্ব থাকার কথা নয়।
আপনি যদি বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী সংস্কৃতির কথা বলে থাকেন, তবে বলবো যে, একজন মুসলমান সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আগে মুসলিম, তারপর তার আঞ্চলিক পরিচয়। আগে তার জীবন ব্যবস্থায় বর্ণিত সংস্কৃতির সন্ধান করবে, তারপর তার অধিবাসের সংস্কৃতির হিসেব কষবে।
যার উদাহরণ, ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলামের যে নতুন বিধানই নাযিল হতো, সেটা কোন এলাকায় বাস্তবায়িত করার সময় দেখা হত সেখানকার প্রচলিত বিধানের সাথে ইসলামের আকীদা বিশ্বাসের কোন সংঘর্ষ আছে কি না, থাকলে পরিবর্তন করা হতো আর তা না হলে প্রচলিত বিধানই থাকতো।
তাই মুসলিম মাত্রেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে ইসলামের সংস্কৃতিকে। তারপর বাঙ্গালী সংস্কৃতি অথবা অন্য কোন আঞ্চলিক সংস্কৃতি।
"যেমন আপনি মিলাদ পরেন। এইটা কিন্তু পুরোপুরি বাঙ্গালী (এবং পাকিস্তানী) সংস্কৃতি। সৌদি আরবে এইটার নাম নিশানা নাই। কারন ইসলাম ধর্মালম্বীরাই বিভিন্ন সংস্কৃতি পালন করে।"
আপনার আজো এ বিষয়টি জানা হলোনা দেখে বিস্মিত হলাম যে, মিলাদ শরীফ বা নবীর জন্মোৎসব পালন করা বিদ'আত বা নব আবিস্কৃত একটি বিভ্রান্তি, পথভ্রষ্টতা। মিলাদ আরবী শব্দ যার অর্থ জন্ম দিন বা তারিখ, আর শরীফ যোগ করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে। তাহলে নবীর জন্মদিন পালন কিভাবে পথভ্রষ্টতা এবং হাস্যকরও বটে; লক্ষ্য করুন-
আপনি কোন একটি নতুন দোকান দিলেন অথবা আপনার সন্তানের জ্বর হয়েছে অথবা আপনি বিদেশ যাত্রা করছেন অথবা আপনার প্রিয়জনের মৃত্যু হয়েছে, তাহলে এসবের সাথে নবীর জন্মদিন পালনের সম্পর্ক কি? লোকেরা এসব উপলক্ষ্যে নবীর জন্মদিন পালন বা মিলাত শরীফ পালন করে থাকে, তাতে আবার দাঁড়ানো-বসা নিয়ে মারামারি করে আহতও হয়ে পড়ে। কি অদ্ভুত আচরণ! কারো মৃত্যুশোক আর তাতে জন্মোৎসব! অদ্ভুত এই বিভ্রান্তি। আলহামদুলিল্লাহ্ এসব বিভ্রান্তির রুদ্ধদ্বার উন্মোচিত হচ্ছে দিনে দিনে। বাংলাদেশে এখন খুব কম লোকই মিলাদ শরীফ পড়ায়, তাও টাকা দিয়ে সওয়াব কেনার মত তামাশার মাধ্যমে।
পরন্তু ইসলামে জন্মোৎসব পালনেরই কোন বিধান নেই; এটি খৃষ্টানদের সংস্কৃতি, আমাদের দেশে আমদানী করা হয়েছে বা হচ্ছে এখনো। অতএব, ইসলামে মিলাদ শরীফ নামের কোন ইবাদাত, কোন সংস্কৃতি, কোন বিধিবিধানের কোনই অবকাশ নেই। এটা পালন করলে সওয়াব অর্জন করতে গিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া হবে মাত্র।
সুতরাং আপনার খোঁড়া যুক্তি ভঞ্জিত হলো বলে...।
“দেশ মুসলমানদের জন্য "মা" নয়; হিন্দুদের জন্য গোমাতার মত দেশমাতা হলেও হতে পারে।" এটা আপনার নিজস্ব মতামত হতে পারে। সবার উপরে চাপাবেন না।”
উদাহরণের মধ্যে অশ্রদ্ধা খুঁজে পেলেন কোথায়??? হিন্দুরা কি গরুকে মানে গাভীকে তাদের মাতা হিসেবে পূজা করে না? দেশকে কি তাদের মা হিসেবে মনে করে না? তাহলে এতে অশ্রদ্ধার কি দেখলেন? আপনাকে যদি কেউ বলে (আপনার নাম অনুযায়ী) আপনি এক অদৃশ্য আল্লাহর ইবাদাত করেন, তাতে কি আপনার প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানো হবে? অদ্ভুত!!
“আমার ধর্ম বলে অন্য ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধার সাথে কথা না বলার জন্যে। আপনার ধর্ম অন্যরকম বলছে কেন সেটাই এখন প্রশ্ন।”
হাঃহ্! আপনার ধর্ম যে কি সেটা নিয়েই আমি হিমশিম খাচ্ছি। এতগুলো প্রমাণ দিলাম ধর্মের প্রাথমিক ব্যাপারগুলো থেকেই....। আল্লাহ্ রক্ষা করুন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

