somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৯৭৪ খৃঃ সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাল ১৯৭৪ খৃঃ, সিরাজগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে ফিরছি ঢাকায়। আমি সবে ম্যটৃক পাশ। সংগে গোটা দশেক কাজিনের দল। ২৪ ঘন্টার অধিক সময় লাগতো সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা আসতে। সদ্য বিবাহিত বোনকে ছেড়ে এসছি। ট্রেনে ফেরত আসছি। বগী লোকে লোকারন্য। বাহাদুরাবাদ ঘাটে ট্রেনে ওঠার পর সন্ধ্যায় টিটি সবার টিকেট চেক করল। একদল যুবক বিপরীত সাইডে বসেছিল। টিটি তাদের কাছে টিকিট চাইল। উত্তর এল "যুবলীগের সম্মেলনে যাচ্ছি"। টিটি আর কিছু জিজ্ঞেস না করে নিশ্চুপে অন্য বগীতে চলে গেল। আমার কাজিন দলও অবাক। পুরো চব্বিশ ঘন্টারও ওপর সময় লেগেছিল বলে মনে পরে।

ট্রেনে সময়সূচীর স্বমন্বয় ঘটানো সম্ভব হোত না অধিকাংশ সময়ে। ইত্তেফাকে প্রায়ই লেখা হোত "ন'টার গাড়ী ক'টায় আসবে?" একদিন তো পত্রিকাতে বলেই বসলো " ন'টার গাড়ী ক'টায় না কবে আসবে?" ঢাকা - চট্টগ্রামে চলত "গৃন এ্যরো" সাড়ে ছ' ঘন্টা সময় নিত। স্বাধীনতার পূর্বে ছিল "উল্কা" এটাও সাড়ে ছ' ঘন্টা সময় নিত। এবং তৎকালীন দ্রুততম বাহন।
রেলগাড়ী নানাহ কারনে অনির্দিষ্ট স্থানে থেমে যেত। যাত্রীরা বলতো "ড্রাইভার সাব নিজের (শ্বশুর)বাড়িত খাইত গেছে"
এছাড়াও দূর্ঘটনার কারনে রেল ইঞ্জিন ক্ষেতে পড়ে গেলে বলতো "ইঞ্জিনর পেটে বহুত ক্ষুদা, তয় ক্ষ্যত ঘাস(ধান) খাইত নামছে"

ঐ সময়ে আজকের মত সড়ক যোগাযোগ উন্নত ছিল না। ঢাকা - চট্টগ্রামে মূল ফেরী ছিল তিনটি। শীতলক্ষা, মেঘনা ও দাউদকান্দি (সবচেয়ে লম্বা সময়ের জন্য। দুর পাল্লা বাসের সংখ্যা ছিল কম। যতদুর মনে পরে সকাল আটটার মাঝেই ঢাকা - চট্টগ্রামের বাসগুলো (সর্বমোট চারটা) ছেড়ে যেত। গড় আট থেকে দশ ঘন্টা লাগত ২৫০ কিমি পথ পাড়ি দিতে। সকল বাস চেষ্টা করত সন্ধ্যা নামার পূর্বেই যেন যাত্রীদেরকে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কারন সন্ধ্যার পর পর এই দুটো বড় শহরে আইন - শৃংখলা পরিস্থিতি সাধারন জনগনের অনুকূলে ছিল না বিধায়। একই কারনে সূর্যাস্তের পর রিকসাও খুব একটা রাস্তায় পাওয়া যেত না।

রেশনের দোকান প্রচলিত ছিল। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের জন্য রেশন কার্ড করতে হোত। এবং লাইনে দাঁড়িয়ে চাল, ডাল, আটা, তেল ন্যায্য মূল্যে নেবার জন্য ভোর থেকে কসরত করতে হোত। শিশুদের জন্য গুড়ো দুধ ছিল এক অমূল্য সামগ্রী। সেটারও বিতরন আউটলেট রেশন দোকান। তাও সব সময় পাওয়া যেত না। আমার চার বছর বয়সের ছোট কাজিনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বড় হলে কি করবে।
তার উত্তরঃ
------------- "বিয়ে করবে"
------------- তারপর.........
------------- "বাচ্চা হবে"।
------------- বাচ্চা হলে কি করবি?
--------------" পাউডার(গুড়ো) দুধের জন্য রেশনের লাইনে দাঁড়াব!!!!"

অধিকাংশ রেশন ডিলারের লাইসেন্স পেয়েছিলেন সরকার দলীয় প্রতিভাবান লোকজন। কালো বাজার ও চলতো পাশাপাশি।

যতদুর মনে পড়ে ঢাকা শহরের তিরিশ কিমি পরিধিতে সাদা কালো টিভি সম্প্রচার হোত। তাও সন্ধ্যা ছ'টা থেকে রাত ১১:৩০ পর্যন্ত। চ্যনেল একটাই। অতএব লোকজনের অঢেল সময় ছিল ঘটনার পর্যবেক্ষন করে নানাহ মন্তব্য করা।

আরও ইতিহাস ১৯৭০ খৃঃ থেকে ১৯৯০খৃঃ পর্যন্ত দেয়ার ইচ্ছা রইল।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×