সাল ১৯৭৪ খৃঃ, সিরাজগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে ফিরছি ঢাকায়। আমি সবে ম্যটৃক পাশ। সংগে গোটা দশেক কাজিনের দল। ২৪ ঘন্টার অধিক সময় লাগতো সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা আসতে। সদ্য বিবাহিত বোনকে ছেড়ে এসছি। ট্রেনে ফেরত আসছি। বগী লোকে লোকারন্য। বাহাদুরাবাদ ঘাটে ট্রেনে ওঠার পর সন্ধ্যায় টিটি সবার টিকেট চেক করল। একদল যুবক বিপরীত সাইডে বসেছিল। টিটি তাদের কাছে টিকিট চাইল। উত্তর এল "যুবলীগের সম্মেলনে যাচ্ছি"। টিটি আর কিছু জিজ্ঞেস না করে নিশ্চুপে অন্য বগীতে চলে গেল। আমার কাজিন দলও অবাক। পুরো চব্বিশ ঘন্টারও ওপর সময় লেগেছিল বলে মনে পরে।
ট্রেনে সময়সূচীর স্বমন্বয় ঘটানো সম্ভব হোত না অধিকাংশ সময়ে। ইত্তেফাকে প্রায়ই লেখা হোত "ন'টার গাড়ী ক'টায় আসবে?" একদিন তো পত্রিকাতে বলেই বসলো " ন'টার গাড়ী ক'টায় না কবে আসবে?" ঢাকা - চট্টগ্রামে চলত "গৃন এ্যরো" সাড়ে ছ' ঘন্টা সময় নিত। স্বাধীনতার পূর্বে ছিল "উল্কা" এটাও সাড়ে ছ' ঘন্টা সময় নিত। এবং তৎকালীন দ্রুততম বাহন।
রেলগাড়ী নানাহ কারনে অনির্দিষ্ট স্থানে থেমে যেত। যাত্রীরা বলতো "ড্রাইভার সাব নিজের (শ্বশুর)বাড়িত খাইত গেছে"
এছাড়াও দূর্ঘটনার কারনে রেল ইঞ্জিন ক্ষেতে পড়ে গেলে বলতো "ইঞ্জিনর পেটে বহুত ক্ষুদা, তয় ক্ষ্যত ঘাস(ধান) খাইত নামছে"
ঐ সময়ে আজকের মত সড়ক যোগাযোগ উন্নত ছিল না। ঢাকা - চট্টগ্রামে মূল ফেরী ছিল তিনটি। শীতলক্ষা, মেঘনা ও দাউদকান্দি (সবচেয়ে লম্বা সময়ের জন্য। দুর পাল্লা বাসের সংখ্যা ছিল কম। যতদুর মনে পরে সকাল আটটার মাঝেই ঢাকা - চট্টগ্রামের বাসগুলো (সর্বমোট চারটা) ছেড়ে যেত। গড় আট থেকে দশ ঘন্টা লাগত ২৫০ কিমি পথ পাড়ি দিতে। সকল বাস চেষ্টা করত সন্ধ্যা নামার পূর্বেই যেন যাত্রীদেরকে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কারন সন্ধ্যার পর পর এই দুটো বড় শহরে আইন - শৃংখলা পরিস্থিতি সাধারন জনগনের অনুকূলে ছিল না বিধায়। একই কারনে সূর্যাস্তের পর রিকসাও খুব একটা রাস্তায় পাওয়া যেত না।
রেশনের দোকান প্রচলিত ছিল। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের জন্য রেশন কার্ড করতে হোত। এবং লাইনে দাঁড়িয়ে চাল, ডাল, আটা, তেল ন্যায্য মূল্যে নেবার জন্য ভোর থেকে কসরত করতে হোত। শিশুদের জন্য গুড়ো দুধ ছিল এক অমূল্য সামগ্রী। সেটারও বিতরন আউটলেট রেশন দোকান। তাও সব সময় পাওয়া যেত না। আমার চার বছর বয়সের ছোট কাজিনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বড় হলে কি করবে।
তার উত্তরঃ
------------- "বিয়ে করবে"
------------- তারপর.........
------------- "বাচ্চা হবে"।
------------- বাচ্চা হলে কি করবি?
--------------" পাউডার(গুড়ো) দুধের জন্য রেশনের লাইনে দাঁড়াব!!!!"
অধিকাংশ রেশন ডিলারের লাইসেন্স পেয়েছিলেন সরকার দলীয় প্রতিভাবান লোকজন। কালো বাজার ও চলতো পাশাপাশি।
যতদুর মনে পড়ে ঢাকা শহরের তিরিশ কিমি পরিধিতে সাদা কালো টিভি সম্প্রচার হোত। তাও সন্ধ্যা ছ'টা থেকে রাত ১১:৩০ পর্যন্ত। চ্যনেল একটাই। অতএব লোকজনের অঢেল সময় ছিল ঘটনার পর্যবেক্ষন করে নানাহ মন্তব্য করা।
আরও ইতিহাস ১৯৭০ খৃঃ থেকে ১৯৯০খৃঃ পর্যন্ত দেয়ার ইচ্ছা রইল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



