somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস– SINGLE

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নটরডেম কলেজে পড়ার সময় গাজী আজমল স্যার বলতেন মেয়েরা নাকি ছেলেদের চেয়ে মানসিক ভাবে ৫ বছরের বড় থাকে সব সময়। তাই প্রেম করতে গেলে আমাদের ছেলেদের নাকি আমাদের চাইতে ৫ বছরের ছোটো মেয়েদের সাথে প্রেম করা উচিৎ। প্রেম করার জন্যে একটা ছেলের সিক্সে পড়ার সময়টা কি খুব বেশি ছোট হয়ে যায় কি না তা অবশ্য বলেন নি, আর বল্লেও আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়তাম তখন তো আর আমার স্কুলের টিচার গাজী স্যার ছিলেন না। তাই আমি ক্লাস সিক্সে থাকতেই প্রেমে পড়ি, তা ও আবার আমার চাইতে ঢের বড় আমার ক্লাসের এক টিচারের। তো সেই প্রেম মিলাইতেও খুব বেশি সময় লাগে না। কারণ এখন কার মতন তখন ইভটিজিং এর কালচার না থাকলেও মর্নিং শিফটের ছুটির সময় রোমিওদের অভাব থাকতো না স্কুলের গেটে। আমি আসলে তাড়াতাড়ি ক্লাসে যাবো বলেই গেটে দাড়াইতাম। ( হে হে হে হে )। তো দাড়ায় থাকতে থাকতেই এক মেয়ের প্রেমে পড়লাম। এইটা এক বছর পরের কাহিনী। সেভেনে। বহুদিন মেয়েটার পিছে পিছে তার বাড়ীর গেত পর্যন্ত গেছি। কিন্তু সামনে গিয়া কিছু বলার সাহস কিছুতেই আর হয় না। কারণ মেয়েটা যে আমাদের স্কুলের ই এক মহিলা টিচারের মেয়ে ! তো আমার পিছে পিছে যাওয়ায় আমার সঙ্গী তখন রুমন আর ফয়সাল। একদিন তারা প্রস্তাব করলো আমার হয়া তারাই প্রস্তাব দিয়া আসবে। কত আর বয়স। আগ পিছ ভাবার সময় কই ?? রাজী হয়া গেলাম। আসলে বিপদ ডাকলাম। মেয়ে খুব ঠান্ডা মাথায় ই শুনলো। চুপচাপ বাসায় গেলো, পরের দিন দুইটা ষন্ডা মার্কা বড় ভাই ঐ দুই ছেলের কলার চাইপা ধড়লো, ভাগ্য প্রসন্ন, আমি সেই দিন স্কুলে যাই নাই। পর দিন থিকা প্রজেক্ট বাদ। স্কুল এর গন্ডি পার হইলাম প্রেম শিক্ষার মতন অতীবো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অপূর্ণ রাইখা।
যাই হউক, স্কুল পাশ দিয়া কলেজে উঠলাম। নিজেরে পুস্কুনির পানি থিকা এক লাফে মহাসমুদ্রে পরা কাচকি মাছের মতন মনে হইলো। আর পায় কে ?? প্রথম প্রথম এদজাস্টমেন্টে প্রবলেম হইলো কিছু। কারণ তখন আমার কাছে ঢাকা মানে খুব বেশি হইলে যাত্রাবাড়ী, আর না হইলে বাপ মার সাথে মিরপুর মামার বাড়ী। তো শহর ঢাকার ছেলেগুলার সাথে তাল মিলানো একটু কষ্টকর ই হইলো আমার জন্যে। কিন্তু মনের ভিতর তখন ঢাকা চিনার বাসনা। আর কেমনে কেমনে জানি ক্লাসের সবচেয়ে ত্যাদর পোলাপানের সাথেই আমার পরিচয়। নটরডেমের ইতিহাসে আমাগো ঐ গ্রুপের মতন এমন বাং দেওয়া পোলাপান আর কেউ ছিলো বইলা মনে হয় না। তো ক্লাস ফাকি দিয়া আমাদের যাওয়ার যায়গা প্রথমে ছিলো এ.জি.বি কলোনি, পরে আমাদের বন্ধু শাওনের প্রেমিকা দেখতে যাওয়ার সুবাদে বেইলি রোড বা কনকর্ডের ক্যাফে। আস্তে আস্তে ঢাকা চিয়ান শুরু করলাম। এই সময় আমাদের একটা মেয়ে কে ও দেখতাম ঐসব স্পটে, বান্ধবীদের সাথে। সাথে কোনো ছেলেহে কখনোই দেখি নাই। মেয়েটা আবার আমার সাথেই এলাকার এক বুয়েট পড়ুয়া বড় ভায়ের কাছে ফিজিক্স পড়তো। কখনো সেই ভাবে কথা হয় নাই। তো একদিন ক্লাসে ওরে জিজ্ঞেস করলাম ঐখানে কি করতে যায়। বল্লো এমনি, আড্ডা মারতে। ঐদিন কথা বলতে বলতেই মেয়ের প্রেমের পড়লাম। আর যায় কই। খোজ নিয়া জানলাম মেয়ের বাসায় ল্যান্ড লাইন ফোন আছে। পাশের বাসার ছেলে মেয়ে পটানিতে ওস্তাদ মেহেদি রে দিয়া ঐ মেয়ের এক বান্ধবী মারফত নাম্বার ও যোগাড় হইলো। কিন্তু ফোন করার আর সাহস হয় না। যাই হউক একদিন বহুত সাহসের দোয়া পইরা বুকে ফু দিয়া নাম্বার দায়াল করলাম। কে জানি ধরলো, আমি থতমত খায়া বল্লাম ভাবী কাকা কি আসছে? ভাবির সাথে কাকা কেমেনে কি কে জানে। আমার অত কিছু জানার দরকার কি, মহিলা বলে বাবা কারে খুজো, আমি চুপচাপ ফোন রাখলাম। দিন যায়, রাত যায়, আর কথা তো থাকেই। মেয়ের সামনা সামনি কিছুই বলতে পারি না, তাই ফোন ই ভরসা। একদিন মেয়েটা আমারে জিজ্ঞেস করে কি তুষার, তুমি না কি আমার বাসার ফোন নাম্বার নিছো, কেনো? আমি তো আইফেল টাওয়ার থিকা পড়লাম। কেমনে জানলো?? দেখি মেহেদি হাসে। বুঝলাম, ঘরের শত্রু মেহেদি। বল্লাম – তেমন কিছু না, ধরো ক্লাস মিস করলে যেনো পড়া জানতে পারি সেই জন্যে। ঐদিন রাতে ঘুম হয় না, পরের দিন একবুক সাহস নিয়া আবার ফোন দিলাম। মেয়েই ধরলো, গলা চিনলাম, কিন্তু কিছু বলতে পারলাম না। কেমনে কি, কিছুই তো জানি না। ফোন কাইটা দিলাম। কিছুক্ষন পরে বাসায় ফোন আসলো, মেয়েটার তো আর ফোন নাম্বার জানার কথা না কারণ তখন কলার আইডি নাই আমাগো এলাকায়। তাই নিশ্চিত মনে ফোন ধরলাম। ফোন ধইরাই আমার কলিজা শুকায় গেলো, ঐ মেয়ে ফোন দিছে – প্রথম কথা, “কিছু বলার সাহস না থাকলে ফোন দিয়ো না, বিরক্ত হই আমরা। “ মনে সাহস নিয়া বল্লাম – আসলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। মেয়েটা সাথে সাথে ফোন রাইখা দিলো। আমার ঘাম দিয়া জ্বর আইলো। মেয়েটা আর ফোন দিলো না, আর এর পর আমার কি করা উচিৎ না বুইঝা আমিও আর ফোন দিলাম না । যেইটা করলাম, সেইটা হইলো ডরের চোটে বড়ভায়ের কাছে পড়াই বাদ দিয়া দিলাম। অনেক দিন ঐ মেয়ের সাথে কোনো কথা নাই, দেখাও হয় নাই। আজকে এতোদিন পর এই ঘটনা বলতেছি, কারণ আর কিছুই না। একটা জব ইন্টারভিঊ দিতে গুলশান গেছি, ভাইভা শেষ কইরা রাস্তায় বাসের জন্যে দাঁড়ায় আছি, দেখি ডাক্তারের এপ্রোন পড়া একটা মেয়ে আমার দিকে তাকায় হাত নাড়তেছে। কেমন জানি চেনা চেনা লাগতেছে, কিন্তু ঠিক চিনতে পারতেছি না। হঠাৎ সাত আট বছর আগের কথা মনে পইরা গেলো। সামনে গেলাম, জানলাম বিয়া হইছে। মেয়েটাই সব বলতেছিলো। হঠাৎ বাস চইলা আসলে আমি বল্লাম বাস আসছে, পরে কথা হইবো নে। মেয়েটা বলে এখনো কি তুমি মেয়েদের ভয় পাও না কি ??? হা হা হা হা, ঐ দিন তো তুমি আর ফোন ই দিলা না। আমি ভাবছিলাম তুমি ফোন দিবা, অথবা ক্লাসে আইসা কথা বলবা, তোমার তো কোনো খবর ই নাই। আমার খুব রাগ হইছিলো জানো?? আমি ও আচ্ছা বইলা একটা হাসি দিয়া বাসে উইঠা পরি। বাসে উঠার পর বুঝতে পারি, প্রেমের পাঠ আসলে ঐ সময় ই নেয়া যাইতো, আফসোস, মাথা ডাল বইলা সুত্র টা ধরতে পারি নাই। আসলে কখনোই ধরতে পারি নাই। এই জন্যে এখনো ফেসবুকে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস টা – SINGLE।
২৩টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×