তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই রক্ষক, তাকে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-উনাদের তো বটেই, ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম-উনাদের জীবনেও এই হাদীছ শরীফ-এর উপর সতর্ক আমলের অনেক অনেক কাহিনী রয়েছে। তাযকিরাতুল আউলিয়ায় বর্ণিত রয়েছে, একবার ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত্ব তরীকত হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্দমাক্ত রাস্তার উপর সাবধানে পা ফেলে হাঁটছিলেন। বিপরীত দিক থেকে এক ছেলে এলোমেলো ভাবে আসছিল। এটা দেখে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “হে ছেলে সাবধানে পথ চলো। অসতর্কতা করলে পা পিছলে যাবে।” জবাবে ছেলে অতি বিনয়ের সাথে বলল, “হুযূর আপনিও সাবধানে চলুন। কারণ আমার পা পিছলে গেলে শুধু আমিই বিচ্যুত হবো। পক্ষান্তরে আপনার পা পিছলে গেলে গোটা মুসলিম উম্মাহই পথচ্যুত হয়ে যাবে।” ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বুঝলেন যে, এটা আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে উনার প্রতি এক সাবধান বাণী।
উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর থেকে তিনি ফতওয়া প্রদানের ব্যাপারে আরো সতর্ক ও সাবধান হয়ে গেলেন।
পাঠক এ আলোচনায় দুটো জিনিস প্রতিভাত হয়। এক- কারো ফতওয়া দ্বারা যদি গোটা উম্মাহ বিপথগামী হয়, কষ্টে পতিত হয়; দুই- মানুষের জীবন জীবিকা সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্বহীনতা ব্যর্থতা ও ভ্রান্তির জন্য যদি তারা কষ্টে পতিত হয় তবে সংশ্লিষ্ট মহলকেই সবকিছুর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হক্কুল ইবাদের মধ্যে গণ্য।
পাঠক! আর সে ক্ষেত্রে যেসব তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকরাসহ অন্যরাও হরতালের নামে, মানুষের জীবন, জীবিকা, পদচারণা, ইজ্জত ইত্যাদি নির্মমভাবে লুণ্ঠন করছে, বিপর্যস্থ করছে, ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং হরতালের নামে তাদের মিত্ররা এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ যা করছে, বোবা শয়তানের মত তাই সমর্থন করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনই আওয়াজ করছেনা, একাজে তাদের অসমর্থন জ্ঞান করছেনা, প্রতিবাদ জানাচ্ছেনা অর্থাৎ হরতালের ন্যায় মহা জুলুমবাজি কাজকে কথিত ইসলামী রাজনীতিকরা ইসলামের নামে জায়িয করছে, সত্যিকার অর্থে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের কী ফায়সালা? সেটা ইসলামের আলোকে, হক্কুল ইবাদের প্রেক্ষিতে এক জ্বলন্ত প্রশ্ন।
হরতাল’ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম হওয়া সম্পর্কে অনেক আয়াত শরীফ প্রযোজ্য হয়। যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা অনুসরণ করো আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন।” (সূরা বাক্বারা/১৭০)
আরো ইরশাদ করেন, “তারা কি জাহিলী যুগের হুকুম-আহকাম তলব করে? অথচ আল্লাহ পাক থেকে উত্তম হুকুমদাতা ঈমানদারদের জন্য কে রয়েছে?” (সূরা মায়িদা/৫০)
অর্থাৎ আল্লাহ পাক তিনি যা আদেশ-নির্দেশ, হুকুম-আহকাম নাযিল করেছেন বা দিয়েছেন হুবহু সেটাই মানতে হবে, পালন করতে হবে। তার খিলাফ যদি কেউ করে তার সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, “আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা আদেশ-নির্দেশ করবেনা তারা কাফির।” (সূরা মায়িদা/৪৪)
আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন, “তারা যালিম এবং তারা ফাসিক।” (সূরা মায়িদা/৪৫, ৪৭)
আল্লাহ পাক তিনি উনার আদেশ-নির্দেশের বাইরে আমল করলে কুফরী হবে। আর আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নির্দেশ পালন করতে হলে আল্লাহ পাক, উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার অনুসরণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার অনুসরণ কর যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাক।” (সূরা আনফাল/১)
আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন, “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন! তোমরা একমাত্র আমাকে অনুসরণ কর।” (সূরা আলে ইমরান/৩১)
অর্থাৎ প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানকে প্রতি ক্ষেত্রে আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করতে হবে।
আর সেজন্যই আল্লাহ্ পাক অন্যত্র বলে দিয়েছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ্ পাক, উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার মধ্যেই উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব/২১)
অর্থাৎ তিনিই অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং উনার তর্জ-তরীক্বা, নিয়ম-পদ্ধতি, অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে। উনার খিলাফ কোন কাজই করা যাবে না।
তাই আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র আরো বলেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন (নিয়ম-নীতি, অন্য ধর্ম) তালাশ করে, তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান/৮)
এর ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফ-এ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনে খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার নিকট এসে বললেন, (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, ওটার কিছু আমরা লিখে রাখবো কি?
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছো? যে রকম ইহুদী নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে?
অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনদে আহমদ, বায়হাক্বী)
সুতরাং উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ হতে বুঝা গেল যে, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস ছাড়া অন্য কোন বিজাতীয় পন্থার অনুসরণ করা হারাম।
(সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



