(আস্তিকতা- নাস্তিকতা, ধর্ম- অধর্ম এসব নিয়ে বিতর্কের কোন ইচ্ছে ছিলনা। এর আগে কখনো জড়াইনি। জনাব শাহরিয়ারের একটা লেখা "এক তালাক দিয়েছিলাম" পড়ে আমার কিছু লিখতে ইচ্ছে হল। এটা তারই ফসল। )
অনেক বিতর্ক আছে। মুল বিতর্কটা দার্শনিক পর্যায়ের। ধার্মিকরা মনে করে পৃথিবীর স্রষ্টা এবঙ নিয়ন্তা আছে। কেউ আছে যারা সংশয়ে থাকে। এরা জীবনের একটা মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পায়। এদের কথা বাদ। কেউ আছে যারা স্রষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাস করে। এখান থেকেই মুলত মানুষ ভাগ হয়ে পড়ে। যদি একজন স্রষ্টা থাকে এবং তিনি শেষ বিচারের মত একটা ব্যপারের মুখোমুখি করার আয়োজন রেখে থাকেন তাহলে যুক্তি আপাতত অবান্তর হয়ে পড়ে। আমি চাই বা না চাই ধার্মিক আমাকে হতেই হবে তার বিচারে উতরে গিয়ে শাস্তি হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য। আর যদি না থাকে তবে আমার পথ আমাকেই রচিয়া লইতে হইবে। অতএব, ব্যাপারটা মূলত নির্ভর করছে স্রষ্টা আছে কি নেই এ বিশ্বাসের ওপর। এইখানে ব্যাপারটা চলে যায় ধারণা এবঙ উপলব্ধির হাতে। স্রষ্টা অস্তিত্ব আছে বা নেই এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণই উপলব্ধির । আস্তিকদের কাছেও কোন প্রমান বা একশ ভাগ অকাট্য যুক্তি নেই, নাস্তিকদের কাছেও নেই। আপনি পুরা সামহোয়ার ইন ব্লগে কোটি কোটি যুক্তি পাবেন। আমার মনে হয়না যে তার একটা যুক্তিও অকাট্য। এ ক্ষেত্রে আমরা আমাদের বিশ্বাস বা অবিশ্বাস তৈরি করি মুলত চর্চার মাধ্যমে। আপনি দেখবেন কিছু কিছু আস্তিক এমনভাবে তার বিশ্বাসকে উপস্থাপন করেন যেন তিনি স্বয়ং আল্লাকে দেখেছেন। আবার কিছু কিছু নাস্তিক এতোটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলেন যেন স্রষ্টার অনস্তিত্বের সম্পূর্ণ শূণ্যতা তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে গেছে। এ রকম প্রান্তিক অবস্থান আসলে যুক্তি নয় বরং চর্চার মাধ্যমেই তৈরি হয়। আমরা স্বীকার করি আর না করি, এ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আমরা পরিবেশ দিয়ে প্রভাবিত। কিছু মানুষের সংস্পর্শ জীবনের কোন মুহুর্তে আমাকে আস্তিকতা অথবা নাস্তিকতার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। তারপর বিষয়টা বিভিন্নভাবে চর্চা করে আমরা ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। এ ব্যাপারটা হয়ে যায় ম্যাডোনার সে গানের মতো- “you see only what your eyes want to see”। যুক্তির পরিভাষায় বলতে গেলে আমাদের চিন্তাগুলো “confirmation bias” হয়ে পড়ে। আমরা শুধু আমাদের মতের পক্ষের যুক্তিগুলোই গুরুত্ব দিই। মানুষের যে কোন ধারণার ব্যপারেই এ নিয়মটা সত্য। আমি কোন কারণে একজনকে খারাপ ভাবলে তার স্বাভাবিক আচরণগুলোকেও বিভিন্ন যুক্তিতে বঁাকা করে দেখি। প্রথমে বলি যে- মনে হয় ছেলেটা ভালনা। বার বার এভাবে ভাবতে ভাবতে একটা পর্যায়ে বলি যে – অবশ্যই ছেলেটা ভালনা। অথচ একই সময়ে একই ছেলের চরিত্রকে অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে আরেকজন বলে- অবশ্যই ছেলেটা ভাল। আমরা এভাবে একটা ভাবনার চর্চা করে নিজের মধ্যে সেটা পোক্ত করি। আমাদের আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি করা, আমাদের আস্তিকতা অথবা নাস্তিকতা এ রকম আরো অনেক কিছুই এভাবে হয়। আমরা আমাদের ধারণাগুলোকে আত্মবিশ্বাসে পরিণত করি। মানুষের চরিত্রের এ দিকটা সরাসরি সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারলে যে কেউ মজা পাবেন।
অতএব, মুল ব্যাপারটা নির্ভর করছে স্রেফ ধারণার ওপর। আপনি একটা ধারণা গ্রহণ করলে আপনাকে ধার্মিক হতে হবে। অন্য ধারণা গ্রহণ করলে ধার্মিক হওয়াটা আপনার জন্য নি:সন্দেহে গাধামি হবে।
তারপরের প্রশ্নটা নৈতিক। জীবনের জন্য আমি কোন নৈতিকতা গ্রহণ করব? আমার পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে আমরা যুক্তির ভিত্তিতে আমাদের জন্য নৈতিক মানদন্ড তৈরি করি। মানুষ তার অস্তিত্বের শুরু থেকেই এর চর্চা করেছে বলে আমার ধারণা। প্রশ্ন হল কোনটি নৈতিকতা নির্ধারণের যুক্তি? এক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন যুক্তিকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করি। কিছু পরিচিত যুক্তি হল-
পূর্বপুরুষের চর্চা
জৈবিক প্রয়োজন
সামাজিক চর্চা
শাসকের ইচ্ছা
দেশপ্রেম
বাব-মায়ের ইচ্ছা ইত্যাদি
ভাল করে ভেবে দেখুন- আমরা এসব যুক্তির ভিত্তিতে আমাদের জন্য নৈতিকতা নির্ধারণ করি। এ রকম আরো অনেক যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু এর কিছুই পরম নয়। এ সবগুলো যুক্তি কোন কোন পর্যায়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এর মধ্যে এখনো পর্যন্ত আমাদের মধ্যে যে যুক্তিটি প্রায় প্রশ্নাতীত সেটি হচ্ছে দেশপ্রেম। আমাদের (আলাদা করে প্রত্যেকটি জাতির) ইতিহাসে বহু কিংবদন্তি চরিত্র রয়েছে যাদের আমরা দুর্নিবার শ্রদ্ধা করি। এসব অধিকাংশ চরিত্র যুদ্ধের বীর যারা প্রচুর মানুষ হত্যা করেছেন। কিছু কিছু বীর নির্যাতিত জাতির পক্ষে হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন বলে যুক্তি তার পক্ষে আর কিছু কিছু বীর বিজয়ী জাতির পক্ষের বলেই যুক্তি তার পক্ষে। ভারতের কাছে বীর হচ্ছেন রাম আর সিংহলের মানুষের কাছে বীর হচ্ছেন রাবন। অথচ এই রাম এবং রাবনকে বীর করে তোলার জন্য ইতিহাস এক রক্তাক্ত সময়ের জন্ম দিয়েছিল।
আজও দেশপ্রেম আমাদের একচোখা করে রাখে। শাসকদের বিভিন্ন সমীকরণের ফল হিসেবে দুটি দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের মাঠে মুখোমুখি দুজন সৈন্যের কথা কল্পনা করুন। তারা দুজনেই দেশপ্রেমে উজ্জীবিত। শুধুমাত্র ভিন্ন দেশের বলেই সে মুহুর্তে একজনকে হত্যা করাকে আরেকজন অনেক মহত কাজ বলেই মনে করছে এবং পরস্পরকে মারতে বদ্ধপরিকর হয়ে লড়ছে। আবার দু দেশের মানুষ তাদের জন্য মালা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। মরলেও ওরা মালা দেবে। বঁাচলেও মালা দেবে।
এক কথায় আমার উপলব্ধি হল – নৈতিকতা নির্ধারণের জন্য আমরা যে যুক্তিগুলো গ্রহণ করি এর কোনটাই পরম নয়। এমনকি দেশপ্রেমও (যা সংকীর্ণ জাতীয়তার অনেক নোংরা ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে) প্রশ্নাতীত নয়।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যুক্তি হতে পারে মানুষ। মানুষকে অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে গুরুত্ব দিয়ে যদি একটি নৈতিক মানদন্ড তৈরি করা যায় সেটিই হয়তো মানুষের তৈরি আদর্শগুলোর মধ্যে তুলনামুলক সবচেয়ে ভাল হবে। কিন্তু এর ভিত্তিতে একটা নৈতিকতা দঁাড় করানো খুবই কষ্টকর। মুল সমস্যা গিয়ে দঁাড়ায় ব্যক্তিমানুষের স্বার্থের সাথে সামষ্টিক মানুষের স্বার্থের দ্বন্দ্ব। এ জায়গায় গিয়ে আমাদের চিন্তা এবং চর্চাগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। ইতিহাসের দুটি খুব বড় নৈতিকতা এ দ্বন্দ্বের দু প্রান্তে অবস্থিত। একটির নাম সমাজতন্ত্র যেটি সামষ্টিক মানুষকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তৈরি, অন্যটির নাম লিবারালিজম (পুজিবাদ এবং গণতন্ত্র যার ঔরসজাত) যেটি ব্যক্তি মানুষকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তৈরি। প্রান্তিক অবস্থানের কারণে এ দুটি নৈতিকতাই মানুষের কান্নায় পর্যবসিত হয়েছে এবঙ হচ্ছে।
একজন নাস্তিকের দায়িত্ব হচ্ছে এ সূক্ষ্মতম জটিলতার ভেতর থেকে নিজের এবং সমাজের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ নৈতিক মানদন্ড তৈরি করা।
একজন আস্তিককে যদি তার ধর্মের সত্যতা প্রমান করতে হয় তবে সে ধর্মের নৈতিক মানদন্ড যে এ ভারসাম্য নিশ্চিত করেছে সেটা প্রমান করতে হবে। অন্যভাবে বলতে গেলে – একেকটি ধর্ম হচ্ছে বিদ্যমান একেকটি নৈতিক ব্যবস্থা। আমি যদি দেখি কোন ধর্ম এ রকম ভারসাম্যপূর্ণ একটি নৈতিকতা উপস্থাপন করে তবে সেটিকে জীবনের জন্য গ্রহণ করতে পারি। সে ক্ষেত্রে একটি সার্বজনীন এবঙ ভারসাম্যপূর্ণ নৈতিক মানদন্ড তৈরি করার কঠিন দায়িত্ব আমার থাকেনা।
এবার আমার ব্যক্তিগত মতের কথা বলব। আমি দ্বিতীয় পক্ষের মানুষ। আল্লার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেছি এবং ইসলামকে নৈতিকতার মানদন্ড হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমার এ বিশ্বাস এবং চর্চাও আমার পরিবেশ থেকে গ্রহণ করা । কিন্তু ব্যপারটা নিয়ে আমি পরবর্তীতে অনেক বার নিরপেক্ষ জায়গা থেকে চিন্তা করার চেষ্টা করেছি। কাজটা খুবই কঠিন। যেহেতু আমি একটা ব্যপার বিশ্বাস করি তাই আমার চিন্তা খুব সহজেই পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন ধর্মের ওপরে আমার গভির পান্ডিত্যও নেই। তারপরও আমার চিন্তাটা বলছি। আপনারাও ভাবতে পারেন।
আস্তিকরা অনেকেই বলেন- যে কোন একটা ধর্ম একজনের থাকা উচিত। একজন আস্তিক একজন নাস্তিকের চেয়ে অন্য ধর্মের একজন আস্তিককে বেশি ভালবাসে। কারণ সে অন্তত আস্তিক। কিন্তু এটা নিয়ে বিতর্কে না গিয়েই আমি বলতে চাই যেহেতু আমার ধর্মের নৈতিকতা গ্রহণ করা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসের ওপর দঁাড়ানো, অতএব আমাকে স্রষ্টার দেয়া ধর্মটাই অনুসরণ করতে হবে। কারণ একমাত্র স্রষ্টার দেয়া নৈতিকতাতেই ব্যক্তি ও সামষ্টিক মানুষের স্বার্থের সর্বোচ্চ ভারসাম্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। আর এটাও যৌক্তিক নয় যে স্রষ্টা ভিন্ন ভিন্ন নৈতিকতার সেট দিয়ে রাখবেন যাতে যার যেটা ইচ্ছে গ্রহণ করবে। এতটুকু যুক্তির ওপর আস্থা রাখলে তার অর্থ দঁাড়ায় এই যে, স্রষ্টার দেয়া বিধান থাকলে একটিই আছে। হয় সেটি অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় নতুন করে ভাবতে হবে।
অতএব প্রথমে আমাকে বিদ্যমান ধর্মগুলো যাচাই করে দেখতে হবে। শুণ্যে দঁাড়িয়ে একবার ভাবুনতো আপনি স্রষ্টার দেয়া বিধানটাকে কেমন আশা করেন?
০১. অরাজনৈতিক হবে, কিছু কল্পকাহিনী এবং পৌরাণিক বিশ্বাস থাকবে, কিছু আচার অনুষ্ঠান দেবে এবং মানুষকে ভাল হওয়ার উপদেশ দেবে।
অথবা
০২. ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক জীবনে মানুষের আচরণ, চরিত্র এবং রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কার্যপ্রক্রিয়ার জন্য সুস্পষ্ট, অসংগতিমুক্ত এবং ভারসাম্যপূর্ণ মানদন্ড প্রদান করবে।
প্রথমটি সত্যিকার অর্থে আমাদের অথবা স্রষ্টার জন্য কোন কাজের জিনিস নয়। কেউ যদি এ আশ্চর্যজনক দুনিয়াটা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সমীকরণের অপরিমেয় বিশালত্বের সৃষ্টিকর্তা হয়ে থাকেন তবে তাকে আমরা অনর্থক গল্পকার অথবা অপ্রয়োজনীয় আদেশদাতা হিসেবে কল্পনা করতে পারিনা। অতএব, বাস্তব জগত তৈরিতে তিনি যেমন পারফেক্ট, সামাজিক নৈতিক মানদন্ড তৈরিতেও তাকে আমি পারফেক্টই আশা করবো। আমি এ জীবনে যতবার একজন মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে গিয়েছি ততবার মুগ্ধ হয়েছি। মানুষের মত অস্তিত্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কখনোই অর্থহীন পুঁথিকার নন। অতএব, স্রষ্টার দেয়া ধর্ম হিসেবে আমি ২য় ধরণের বৈশিষ্টসম্পন্ন ধর্মকেই গ্রহণ করব।
প্রথমে আমি মোটা দাগে আব্রাহামিক রেলিজিয়ন এবং অন্য রেলিজিয়নগুলোর মধ্যে একটা পার্থক্য টানতে চাই।
মানুষ স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রশ্নে কখনো নিরুত্তর থাকতে চায়নি। তাই তার চেনা গন্ডির ভেতর থেকে (আমাদের আশপাশের জিনিসপত্রের পুজা যেমন- পাথর, সূর্য ইত্যাদি) বিশ্বাস তৈরি করেছে। সেটাকে চর্চা করার জন্য, জিইয়ে রাখার জন্য, জীবনসংশ্লিষ্ট করার জন্য সে অনেক আচার অনুষ্ঠান তৈরি করেছে। সেই আচার অনুষ্ঠানগুলোকে ঐতিহাসিক এবং দৈবিক করার জন্য অনেক রূপকথা আর কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। এগুলো মানুষের হাতে তৈরি ধর্মগুলোর বাস্তবতা।
আব্রাহামীক রেলিজিয়নের কিছু ব্যপার এ ক্ষেত্রে খুবই ইউনিক।
আপনি ভেবে দেখুনতো-
০১. নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বার্তাবাহক এসেছেন।
০২. তারা নিজেদের স্রেফ খোদার বার্তাবাহক মানুষ বলেছেন এবং আগের বার্তাবাহকদের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। ওল্ড টেস্টামেন্ট, নিউ টেস্টামেন্ট এবং কুরআনে অনেক সংখ্যক অতীতের একই বার্তাবাহকদের কথা বলা হয়েছে।
০৩. তারা স্রষ্টাকে স্রষ্টার সাথে প্রযোজ্য গুনসহ উপস্থাপন করেছেন; মানবিক দূর্বলতা থেকে সৃষ্ট কোন ধারণা দিয়ে স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে মিশিয়ে দেননি।
০৪. স্রষ্টা যদি পৃথিবীর মানুষের জন্য বিধান দিতে চান তাহলে এটাইতো যৌক্তিক যে তিনি কিছু বাছাই করা মানুষের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়ায় মানুষকে এটা শেখাবেন এবং এর মধ্যে কোন অপ্রয়োজনীয় গালগল্প থাকবেনা।
মানুষ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশ্বাসের এবং আচারসমষ্টির জন্ম দিয়েছে যার কোনটাই আব্রাহামীক রেলিজিয়ন গ্রুপের মতো ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় হয়নি।
ব্যপারটা আমি ভালভাবে উপস্থাপন করতে পারছিনা। আপনি খুব ভাল করে একজন স্রষ্টার কথা চিন্তা করুন। চিন্তা করুন আপনাকে একজন সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার কাছে থেকে একটি ভাল নৈতিক বিধান আশা করছেন। আমরা স্রষ্টাকে একটা ঘোরের মধ্যে খুব অবাস্তব টাইপের কিছু একটা হিসেবে কল্পনা করতে গিয়ে ঝামেলা পাকাই। সত্যিই যদি একজন স্রষ্টা থেকে থাকেন তবে স্রষ্টা একটি বাস্তব অস্তিত্ব। তার কাছ থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, বাস্তবসম্মত একটি যথার্থ বিধান পাওয়ার আশা করাটাও খুব স্বাভাবিক ব্যপার। এটা ঠিক আজ তৈরি হওয়া একটি নতুন যন্ত্রের আবিষ্কারকের কাছ থেকে ঐ যন্ত্র কাজে ব্যবহার করে লাগানোর জন্য একটা ম্যানুয়াল আশা করার মতো। স্রষ্টা –ধর্ম-মানুষ এ ত্রিভুজের ক্ষেত্রে উপরোক্ত স্বাভাবিকতা রাখে আব্রাহামীক রেলিজিয়ন গ্রুপ।
আমি একটি ধর্ম বাছাই করা অথবা ধর্মগুলোকে ফলসিফাই করার এ প্রক্রিয়ার এ পর্যায়ে প্রতিযোগি ধর্মগুলোর তালিকাকে অনেক ছোট করে আব্রাহামীক রেলিজিয়ন গ্রুপে সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছি। এ জন্য কিছু যুক্তি দিয়েছি। আপনি কনভিন্সড নাও হতে পারেন। তবে আমি আশা করবো আব্রাহামিক ধর্মগুলো এবং অন্য ধর্মগুলোর পার্থক্য নিয়ে আপনি ভাববেন। এটা একটা সেন্স তৈরি করলেও করতে পারে।
এ গ্রুপের ধর্মগুলোর মধ্যে এ যুগের মানুষের জন্য ইসলাম।
এখন বহুত প্রশ্ন চলে আসবে। যেমন- জে এম বি, আল কায়েদা, জামাত, ৭৩ ফেরকা, শিয়া বনাম সুন্নি, দাংগা ইত্যাদি ইত্যাদি। এইখানে ভাই আমি আপনারে মধুর উত্তর দিতে পারবনা। আপনি আনারসের পুষ্টিগুন বিচার করবেন কে আনারসের ভেতরে লুকায়ে ড্রাগ পাচার করল সে ঘটনা দিয়া- তাইলে আমি বলব আপনি জিনিস বিচার করতে শিখেননাই। যাচাই করার জন্য আপনি আনারসকে পাবেন ক্ষেতে; ফরমালিন প্রদানপূর্বক সুসজ্জিত ফেরিঅলার ঝুড়ি থেকে অথবা আনারস রপ্তানির আড়ালে ড্রাগ বিজনেসের গাড়ি থেকে আনারস নিয়ে যাচাই করে আনারসের ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে প্রথমত আপনি নিজে আনারস থেকে বঞ্চিত হবেন দ্বিতীয়ত আপনার অনুসারিরা আপনার অনুসরণ করে ভুল করবে।
ইসলামকে আপনি পাবেন কুরআনে এবঙ রাসুল ও সাহাবীদের সমাজে। এটা জ্ঞানের জগতে অনেক নিকটতম ইতিহাস। একবার খুজে দেখা শুরু করুন।
উদারতা দেখতে চান?
এক ইহুদিকে মসজিদে পেশাব করতে দেখেও রাসুল বাধা দেননি মানবিক কারণে। তাকে কাজটি করতে নিষেধ করেছেন তার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর।
মানবিকতা?
রাসুল বলেছেন-তোমরা খাবারের উচ্ছিষ্ট পানিতে রেখোনা কারণ পশুপাখি সেগুলো খেয়ে মজা পাবেনা। রাসুল (স) ঘাসকে কষ্ট দিয়ে হাটতে নিষেধ করেছেন। বাইরে থেকে এসে বউকে কাজ করতে দেখে তার কাজে সাহায্য করেছেন।
ইসলাম রাষ্ট্রের কাছে নি:শর্ত আত্মসমর্পন অথবা বল্গাহীন স্বাধীনতা কোনটার কথাই বলেনা। অনুপম ব্যক্তিগত আর সামাজিক চরিত্রের সৌধের ওপর মানুষের সভ্যতা রচনা করার আহ্বান জানায়। কথাগুলো ভক্তি থেকে নয়, ইতিহাসের বাস্তবতা থেকেই বললাম।
এ লেখায় ফিরিস্তি দেয়ার ইচ্ছে নেই। এ দায়িত্বটা আপনিই গ্রহণ করুন।
মানুষের অদ্ভুত স্বভাব। শ্রমিকের পক্ষে দঁাড়াতে গিয়ে মালিকদের মানুষ মনে করতে ইচ্ছে করেনা; মালিকদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে শ্রমিকদের কথা ভুলে যাই; নারীদের পক্ষে কথা বলতে বলতে তাদেরকে পুরুষদের চেয়ে শান্তিকামি, অধিক অধ্যবসায়ী, অধিক সহ্যক্ষমতাসম্পন্ন, অধিক নেতৃত্বের গুনাবলিসম্পন্ন এ রকম অনেক গুনে গুনান্বিত করে চিন্তা করি; শিল্পের কথা বলতে গেলে কৃষির কথা আর কৃষির জন্য লড়তে গেলে শিল্পের কথা ভুলে যাই। আমরা সব জানি শুধু আমাদের দূর্বলতার কথা জানিনা। দু তিনটা যুক্তি দিয়ে মনে করি ধর্ম এবং আরো অনেক কিছুকে দুই আঙুলের তুড়িতে বাতাসে মিলিয়ে দিয়েছি। জীবন কোন খেলা নয়। ভাবতে হবে। নিজের চিন্তাগুলোর উল্টো পিঠটা ভাল করে দেখতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

