আত্মহত্যার পূর্বে শেষ চিঠি মৃণালিনীর। দৃশ্যটি অপর্ণা সেন পরিচালিত ইতি মৃণালিনী চলচ্চিত্রের।
মৃণালিনী মিত্র, চলচ্চিত্রের একসময়কার দাপুটে অভিনেত্রী। অনেক আগেই রুপালী পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন যেমন, তেমনি বহুবছর পর তরুন এক পরিচালকের ছবিতে কাজের মাধ্যমে আবারও ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু মৃণালিনী বুঝতে পারেন, সময়টা তার নয়।
আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বাসায় ফিরে গিয়ে লেখেন আত্মহত্যার পূর্বে শেষ চিঠি। আর মৃত্যুর আগে তার সকল স্মৃতি ধ্বংস করে দিয়ে যেতে চান মৃণালিনী, তাই জমিয়ে রাখা স্মৃতির ভান্ডার থেকে একে একে বেরিয়ে আসে সিনেমার পোস্টার, চিঠি, প্রিয় বই কিংবা ফটোগ্রাফ। যার অধিকাংশই ধুলোর আস্তরনে ঢাকা পড়ে গিয়েছিলো। প্রতিটা জিনিস থেকে ধুলো সরাতে গিয়ে মৃণালিনী পুরোনো দিনগুলোতে ফিরে যান।
কলেজে পড়ার সময় বন্ধু অভির সাথে প্রেম। নকশালপন্থী অভির পুলিশের হাতে নিহত হওয়া। পরিচালক সিদ্ধার্থ সরকারের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসা, অত:পর বিবাহিত পরিচালকের সাথে প্রেম, গোপন বিয়ে, সন্তান। মেয়ে সোহিনীর ১০ বছর হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃণালিনী সিদ্ধার্থের স্ত্রীর সম্মানটুকু পায়না। অপমানে সরে যায় সে মেয়ে সোহিনীকে নিয়ে। সেই সোহিনীও মারা যায় বিমান দূর্ঘটনায়।
নিজের আলোচিত, সমালোচিত জীবন নিয়ে যেন আর কোন মুখরোচক গল্প না হয়, সেটাও মৃণালিনী তার শেষ ইচ্ছায় ব্যক্ত করেন, আমার মৃত্যুর পর আমার সম্বন্ধে পত্রপত্রিকায় যেন কোন লেখা না বেরোয়। সারাজীবন সংবাদমাধ্যমের শিকার হয়েছে যে মানুষটা মৃত্যুতে অন্তত তাদের হাত থেকে সে রেহাই চায়।
জীবন সুন্দর, মৃত্যু অন্ধকার। তাই ভোরের আলো যখন ফোটে তখন মৃণালিনীর বাঁচতে ইচ্ছে করে। চিঠিটা ছিড়ে ফেলে দেয়, ঘুমের ওষুধগুলোকে কৌটোতে ফেলে রাখে। তবুও আমরা কি জানি, কখন কোথায়, কিভাবে আমাদের মৃত্যু হবে? মৃণালিনীর কি হয়েছিলো সেটা জানতে হলে ছবিটির শেষ দৃশ্য পর্যন্ত যেতে হবে।
অভিনেত্রী হিসেবে অপর্ণা সেন অনেক আগেই নিজের আলাদা উচ্চতা তৈরি করেছেন। পরিচালক হিসেবেও সেই উচ্চতার মান ধরে রেখেছেন। যুবতী মৃণালিনীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপর্ণা সেনের মেয়ে কঙ্কনা সেন শর্মা। পরিচালকের মেয়ে বলেই কিনা, কেন জানি মনে হয়েছে কঙ্কনা ঠিক মৃণালিনী হয়ে উঠতে পারেননি। ছবির দূর্বলতা বলতে এটুকুই আমার কাছে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



