স্বাধীনতার পর প্রবৃদ্ধি দেড় হাজার গুণ বেশি , আয়কর আদায়ে সর্বকালের রেকর্ড
সব ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে সার্বিক আয়কর আদায়ে রেকর্ড হয়েছে। আয়কর আদায়ে এত বড় সাফল্য বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। মোট আয়কর খাতের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫২৭ কোটি টাকার চেয়ে বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। আয়কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ ব্যাপারে এনবিআরের কর প্রশাসন ও পরিচালনা শাখার সদস্য বশির উদ্দিন আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, আয়কর খাতে এটা একটা অভিনব সাফল্য। কর কর্মকর্তাদের তদারকি, টিমওয়ার্কের পাশাপাশি করদাতাদের কর দেওয়ার প্রতি স্বপ্রণোদিত মনোভাব এ সাফল্যের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ১/১১-এর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মতো ভয়ভীতি না থাকা এবং কালো টাকা সাদা করায় সাড়া না থাকা সত্ত্বেও কর আদায়ের এ প্রবৃদ্ধি থেকে মনে হচ্ছে যে করবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা গেলে নিঃসন্দেহে দেশে একটি সুস্থ কর সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, ২০০৯-১০ বিদায়ী অর্থবছরে আয়কর খাতে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গতকাল ৩০ জুন পর্যন্ত সাময়িক হিসাবে আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আদায় হয়েছে ৫২৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে আয়কর খাতে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশ। স্বাধীনতার ঠিক পরের অর্থবছরে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছিল ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ অঙ্ক ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পরের চেয়ে গত অর্থবছরে আদায় হয়েছিল এক হাজার ৩৩৮ গুণ বেশি। আর বিদায়ী অর্থবছরে এ আদায়ের পরিমাণ এক হাজার ৬৪৯ গুণ বেশি। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে কালো টাকায় সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলেও বলতে গেলে এ খাতে কোনো সাড়াই পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার এ সাফল্যে কালো টাকা থেকে কর পাওয়ার কোনো অবদান নেই।
চলতি অর্থবছরের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর ছাড়াও শুল্ক খাতের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা এবং ভ্যাট খাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট খাতেও রাজস্ব আদায়ের হিসাব এখনো তৈরি না হলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন এ খাতেও রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। শিগগিরই এ হিসাব পাওয়া যাবে বলে জানা যায়।
২০০৯-১০ অর্থবছরে বিশাল লক্ষ্যমাত্রার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া নিয়ে বেশ সমালোচনা ছিল। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিল যে উচ্চাবিলাসী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বরাবরই রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে বেশ আত্দবিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর আত্দবিশ্বাসের কারণেই আজ থেকে যে নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে সেখানেও আরো বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে করজাল বিস্তারে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৯ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁর বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি কর আদায়ে সাফল্য পেলে জড়িত কর কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।
এ সময় তিনি বলেন, কর আদায়কারীদের এভাবে প্রণোদনা দেওয়া হলে সৎ করদাতারা উৎসাহী হবেন এবং দুর্নীতিও অনেকাংশে কমে আসবে। কর কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যকে রাজস্ব আদায়ের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
১ Click This Link
২. Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১০ রাত ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



