somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাকা মামুনের নামে, খরচ করতেন তারেক

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Prothom alo
অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি পেছাল
টাকা মামুনের নামে, খরচ করতেন তারেক

সিঙ্গাপুরে সিটি ব্যাংকের ক্যাপিটাল স্কয়ার শাখায় গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২১ কোটি টাকার সমপরিমাণ মার্কিন ডলার থাকার বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অর্থ আবার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করতেন তারেক জিয়া।
২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের নথিপত্রে এসব অর্থের তথ্য পায় দুদক। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মামুন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে নিতেন তিনি এবং ওই অর্থ জমা দেওয়া হতো সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাবে। দুদক অনুসন্ধান করে জেনেছে, তারেক জিয়ার নাম ব্যবহার করেই ঘুষ নেওয়া হতো।
দুদক এ বিষয়ে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক ও মামুন উভয়ের বিরুদ্ধেই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করে। আর এ মামলায় দুদক অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় গত বছরের ৫ জুলাই এবং পরের দিনই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে তারেক রহমান জামিন নিয়ে লন্ডনে আর মামুন কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার এই মামলার অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি থাকলেও তা পিছানো হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০০৩ সালে টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যাদেশ পেতে চায়নার মেসার্স হারবিন পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কাছ থেকে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ঘুষ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় এজেন্ট নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির চেয়ারম্যান বেগম খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে সাত লাখ মার্কিন ডলার নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল স্কয়ার শাখায় মামুনের দুটি ব্যাংক হিসাবে (ম্যাক্সি সেভ ও সিটি এক্সেস হিসাব) এ অর্থ জমা হয়। সিঙ্গাপুরের ৬৫ চার্চ স্ট্রিটের ওভারসিজ চায়নিজ ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেডের (ওসিবিসি) খাদিজা ইসলামের হিসাব থেকে মামুনের সিটি ব্যাংকের হিসাবে এই সাড়ে সাত লাখ মার্কিন ডলার জমা করা হয়। লেনদেনটি টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের (টিটি) মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১ আগস্ট করা হয়েছিল।
জানা গেছে, আরও তিনটি সূত্র থেকে মামুনের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হয়। হংকংয়ের কাউলুন থেকে হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ১১ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার জমা দেন। ২০০৩ সালেই জনৈক মেয়ার সাইরি জমা দেন আরও চার লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া একই বছরে জনৈক মেরিনা জামান জমা দিয়েছিলেন ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
মামুনের এই ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে অর্থ জমা ও ওঠানোর পরও স্থিতি ছিল ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭০ মার্কিন ডলার ও ৮৪ সেন্ট, যা বাংলাদেশি অর্থে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৮ টাকা।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংক হিসাব বিবরণী অনুযায়ী মামুন সিটি ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ৭৯ হাজার ৫৪২ মার্কিন ডলার ৭৮ সেন্ট এবং তারেক রহমানের সিটি ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল সাপ্লিমেন্টারি গোল্ড ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ৫৪ হাজার ৯৮২ মার্কিন ডলার ৪২ সেন্ট ব্যয় করেন।
দুদক মনে করে, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ও তারেক জিয়া পরস্পরের যোগসাজশে ও সজ্ঞানে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে বিদেশি ব্যাংকে জমা ও খরচ করেছেন এবং সরকারের কাছে তা গোপন করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মামলার বিবরণীতে দুদক বলেছে, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ও তারেক রহমান পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী। দুজনেই ওই অবৈধ টাকার উৎস সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে ব্যবসা করতেন এবং বনানীর একই অফিসে বসতেন। মামুনের সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ তারেক রহমান সজ্ঞানে নিজের ভিসা কার্ডের মাধ্যমে খরচও করেছেন। অর্থাৎ ওই সব অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে মামুনের মতো তারেক রহমানও জড়িত ছিলেন।
সূত্র জানায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামুনের এই ব্যাংক হিসাব থেকে জমা থাকা অর্থ বিশেষ ব্যবস্থায় ফেরত আনা হয়েছিল। ২০০৭ সালের ১১ জুন ওই ব্যাংক হিসাব থেকে এক কোটি ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৮ টাকার সমপরিমাণ অর্থ ইউরোতে, ১৯ কোটি দুই লাখ ৪৬ হাজার ৩৮৭ টাকা ৮৫ পয়সার সমপরিমাণ অর্থ মার্কিন ডলারে এবং ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৭৭ টাকা ৪৩ পয়সার সমপরিমাণ অর্থ ব্রিটিশ পাউন্ডে ফেরত এনে সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট করপোরেট শাখায় মামুনের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা করা হয়। সব মিলিয়ে আনা হয় ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা। এই টাকা পরে ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি ২ ফেব্রুয়ারি: আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে করা অর্থের অবৈধ ব্যবহারের (মানি লন্ডারিং) মামলার অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি আবারও পিছিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক জহুরুল হক আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেনানিবাস থানায় এ মামলা করেছিলেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে হিসেবে তারেক রহমানের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর বন্ধু মামুন অবৈধভাবে অর্থ আদায় করেন।
Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৩:০১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×