"আসুন, আমরা এমন ভাবে কাজ করি ভবিষ্যতে যখন ঐতিহাসিকেরা বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করবে তখন যেন আমাদের খুজে পেতে কষ্ট হয়"। - উক্তিটি ছিল এমন একজন ব্যাক্তির যার অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা রচনায় প্রকৃতভাবে কোনভাবেই এড়ানো যাবে না। তারপরেও অসাধারন ভিশনারী ক্ষমতা সম্পন্ন সেই মহান ব্যাক্তিটির অন্য অনেক কথার মতই দূঃখজনকভাবে এই কথাটিও প্রায় ফলে গেছে। যে দেশের জন্মের জন্য আপ্রান প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের ফলে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে হাজারো প্রতিকুলতার মাঝে দেশকে পৌছে দিয়েছেন স্বাধীনতার দূয়ারে সেই স্বাধীন বাংলাদেশে বলতে গেলে আজ তার নাম একরকম বিস্মৃত।
মুক্তিযুদ্ধ বলতে আমরা শুধু বুঝি অস্ত্র হাতে মাঠে ময়দানে লড়া মুক্তিযোদ্ধাদের। কিন্তু সেই মুক্তিযোদ্ধাদের লড়ার পেছনে প্রতিকুল পরিস্থিতির মাঝে যে কি সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও ব্যাবস্থাপনার প্রয়োযন ছিল তা হয়ত অনেকেই জানবার প্রয়োযন বোধ করেন না। সেই কাজটি করতে হয়েছিল প্রবাসী মুজিবনগর সরকারকে, যার মধ্যমনি ছিলেন আমাদের আলোচ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। তাকে নিয়েই এই সিরিজ লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস শুরু করেছি। এতে ওনার সংক্ষিপ্ত জীবনী, ৭১ সালের ভূমিকা, স্বাধীন বাংলাদেশে বংগবন্ধু সরকার থেকে পদত্যাগ, এবং জেল হত্যাকান্ড আলোচনা করব। এই ব্যাক্তিটি সম্পর্কে যত জেনেছি ততই কেবল মনে হয় এ কিভাবে সম্ভব? এমন মানুষও কেমন করে হয়? তারচেয়েও বড় বিস্ময় তাকে কিভাবে আমরা ভুলে যেতে পারলাম? একটি কারন মনে হয় এই বিনয়ী, নিরংকারী, ও চরম ভাবে আত্মপ্রচার বিমুখ মানুষটি নিজে কোনদিন কোন কিছুর কৃতিত্ব দাবী করেননি। দেশ বিদেশের কত ব্যাক্তিত্বের জীবনাদর্শ আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়, অথচ মাত্র এই সেদিনের এমন আদর্শবাদী চরিত্রের কথা কেন আমাদের ছেলেমেয়েদের শেখানো হয় না?
রাজনীতিবিদ বলতে এখন আমাদের চোখের সামনে প্রথমেই যা ভেসে ওঠে তা মোটেও প্রীতিকর কিছু না। মুশকিল হল রাজনীতিবিদদের বাদ দিয়ে দেশ চালাবার কথাও চিন্তা করা যায় না। আদর্শ রাজনীতিবিদের চেহারা কেমন হতে পারে বা হওয়া উচিত তাও আমরা আজ ভুলে গেছি। এই মানুষকে লেখা আমার উচিত কিনা বুঝতে পারি না। কারন এই লোকটি সম্পর্কে ভাবতে গেলে আমি অতি মাত্রায় আবেগ্লাপুত হয়ে যাই। নিরপেক্ষভাবে লিখতে পারব কিনা জানি না। শুধু কি তিনি একজন আদর্শ মানুষ এই জন্য? হয়ত বা আমার পরলোকগত বাবার সাথে তার কোথায় যেন তার চেহারা ও স্বভাবে মিল আছে সেই কারনেও।
তাজউদ্দিনের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৩শে জুলাই শীতলক্ষার পাড়ের গাজিপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী, অত্যন্ত মেধাবী ও অসাধারন ব্যাক্তিত্বশালী এবং বিস্ময়কারভাবে একই সাথে অসম্ভব বিনয়ী। সহজেই বোঝা যেত যে এ ছেলে আর দশজনের থেকে আলাদা। পড়াশুনায় ছিলেন তুখোড়। পড়ার নেশা ছিল প্রচন্ড, সেই সাথে ছিল অসম্ভব কোমল একটি হৃদয়; বাল্যকাল থেকেই ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে মানবতার ডাকে সাড়া দিতে ছুটে গেছেন বহুবার। শুধু মানুষের জন্যই না, আমাদের দেশে যা একটু বিরল, পশু পাখীদের জন্যও ছিল তার সীমাহীন মমতা। পাখির শাবক গাছ থেকে পড়ে অনেক সময় ব্যাথা পায়, আহত হয় তাই তিনি পাখির বাসার নীচে পরম যত্নে বিছিয়ে দিতেন তুলোর আস্তরন। তার এই স্বভাব এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রী হবার পরেও ছিল। রাস্তা থেকে আহত কুকুর নিয়ে এসে পরম যত্নে ছেলেমেয়েদের সহ চিকিতসা করে ভাল করে তুলতেন। ৭০ সালের প্রলয়ংকারী ঘুর্নিঝড়ের সময় তার ঢাকার বাসায় বহুজন আশ্রয় নেয়। তবে সেই কাল রাতে তার বাগানে বাসা বাধা বুলবুলি পাখিটি মারা যায়। কোন এক দূর্বল একান্ত নিভৃত মুহুর্তে তার বড় মেয়ে দেখে ফেলে ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেপথ্য নায়ক মৃত পাখীর শোকে অঝোর ধারায় কাঁদছেন। আর নিজে নিজে বলছেন, বাড়িতে এত লোকের আশ্রয় হল, অথচ এই পাখীটির হল না।
তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল সে কালের আর দশটা গোঁড়া মুসলমান পরিবারের মত তারই পিতার স্থাপিত মক্তবে। এরপর পড়াশুনায় তার গভীর আগ্রহ দেখে তার মায়ের আগ্রহে তাকে প্রথমে ভুলেশ্বর প্রাইমারী স্কুল ও তারপর ক্লাস ফোর এ কাপাসিয়া মাইনর ইংরেজী স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দুরের এ স্কুলে প্রতিদিন তিনি বিপুল উতসাহে হেঁটে হেঁটেই যাওয়া আসা করতেন। এ স্কুলে পড়াকালীন সময়েই মনে হয় তার জীবনের মোড় মনে হয় ঘুরিয়ে দেয় তাদের অঞ্চলে কলকাতা থেকে পাঠানো অসহযোগ আন্দোলনে ধৃত রাজবন্দীদের সাহচার্য। তখন ব্রিটিশ রাজ তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষিত রাজবন্দীদের দূর দূরান্তের কোন থানার জিম্মায় পাঠিয়ে দিত। এদের ঠিক বন্দী অবস্থায় রাখা হত না, অনেক স্বাধীনতা থাকত। স্কুলে পড়া তাজউদ্দিন এই তিনজনের কাছ থেকেই পেলেন তার রাজনীতি ও দেশপ্রেমের প্রথম পাঠ। রাজবন্দীরাও এই ক্ষুদে ছাত্রের প্রতিভায় মুগ্ধ। স্কুলে পড়াকালীন সময়েই তাদের এলাকায় একবার ভয়াবহ কলেরা রোগের মহামারী দেখা গেল। সে আমলে এমন মড়ক লাগলে বহু লোক মারা যেত। ছোঁয়াচে রোগ বলে এসব রোগীদের এক ঘরে করে রাখা হত। তাদের সেবা শুশ্রুষা করার মত লোকও পাওয়া যেত না। মাত্র সেভেনে পড়া বালক তাজউদ্দিন এগিয়ে এলেন এদের সেবায়। তার মাকে দিয়ে রান্না করিয়ে তিনি রোগীদের ঘরে খাবার পোঁছে দিতেন, পরম যত্নে সেবা করতেন তাদের। ৪৩ সালের ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ দেখে তিনি খুবই আপ্লুত হয়েছিলেন। তাই গরীব লোকদের সেবা করার জন্য কলেজে পড়া অবস্থাতেই গ্রামে নুতন ধরনের "ধর্মগোলা" নামের ব্যাবস্থা গড়ে তুললেন। এখানে ধনী লোকদের থেকে খাদ্যশস্য নিয়ে অভাবী লোকদের জন্য জমা রাখা হত।
এই তিন স্বদেশী রাজবন্দীই তাঁর স্কুলের শিক্ষকদের কাছে তাকে আরো ভাল বিদ্যালয়ে পাঠাবার সুপারিশ করে গেলেন। ভবিষ্যতবানী করে গেলেন যে এ ছেলে সাধারন কেউ নয়, একদিন এ বিরাট কিছু করবে। এবার তাকে পাঠানো হল কালীগঞ্জের সেন্ট নিকোলাস ইনষ্টিটিউটে। সেখানকার হেড মাষ্টারের সুপারিশে তাকে পাঠানো হল ঢাকার মুসলিম বয়েজ স্কুল ও তারপর বিখ্যাত সেন্ট গ্রেগরী স্কুলে।
তার শুভাকাংখীদের কাউকেই তিনি হতাশ করেননি। সেন্ট গ্রেগরী স্কুল থেকেই '৪৪ সালে তিনি কলকাতা বোর্ড থেকে (তখন সমগ্র দুই বাংগলা মিলিয়ে একটিই শিক্ষা বোর্ড ছিল) মেট্রিকে দ্বাদশ স্থান লাভ করলেন। এরপর ইন্টারমেডিয়েটে ঢাকা বোর্ড থেকে পেলেন চতূর্থ স্থান। ইংরেজী স্কুলে পড়ার কারনেই মনে হয় তার ইংরেজী ভাষার উপর চমতকার দখল এসেছিল। একই সাথে তিনি ছিলেন কোরানেও হাফেজ। স্বাভাবিকভাবেই সে আমলে তার রাজনীতির হাতে খড়ি হয়েছিল মুসলিম লীগের পথ ধরেই, এ দলের সাথে জড়িত হয়ে পরেন '৪৩ সাল থেকেই। সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে। তবে নিজে সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারন করতেন বলে এই দলের সাথে সেভাবে হয়ত আত্মস্থ হতে পারেননি। '৪৮ সালে গঠিত হওয়া ছাত্রলীগের একজন আহবায়ক ছিলেন তিনি, এরপর '৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনেও তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। ভাষা আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন সক্রিয়ভাবে, জীবনে প্রথমবারের মত জেলও খেটেছিলেন সেজন্য। স্বাভাবিকভাবেই তার উজ্জ্বল শিক্ষা জীবনের ছন্দপতন ঘটল। এর মাঝেই '৫৪ সালে অর্থনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করলেন। জেলে আটক থাকা অবস্থাতেই '৬৪ সালে আইনও পাশ করলেন।
'৫৪ সালের নির্বাচনে হক-ভাসানীর যুক্তফ্রন্ট থেকে সে সময়কার মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদককে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। অসাধারন সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়ে দ্রুত গতিতে উঠে আসতে থাকেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নের্তৃত্বে। বয়সের হিসেবে জুনিয়র হলেও আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শিক্ষিত ও মেধা সম্পন্ন যোগ্য নেতা হিসেবে তার এই উত্তরন ছিল খুবই স্বাভাবিক। '৫৯ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন জোহরা খাতুন (লিলি) এর সাথে। ব্যাক্তি জীবনে তিনি সর্বদাই অতি সাধাসিধে, অনাড়াম্বর। ভাগ্যক্রমেই মনে হয় জীবন সংগিনীও পেয়ে গেলেন নিজের মতই। তাদের বিয়ে হল সোনার গয়নার বদলে ফুলের গয়না দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। তাজউদ্দিন পরবর্তিকালে দেশের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সাথে সাথে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তার পরিবারকেও। এই মহিলা হাসি মুখেই সব মেনে নিয়েছেন, চিরকাল ছিলেন স্বামীর প্রেরনার উতস।
'৬৪ সালে নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ সময় থেকেই মূলত বংগবন্ধুর সাথে তাঁর ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে এক অনন্য জুটি। পাকিস্তানের রাজনীতিও এ সময় ফুসে উঠতে থাকে স্বৈরাচার আয়ুব খানের বিরুদ্ধে। '৬৬ সালে লাহোর সম্মেলনে বংগবন্ধু যখন তাঁর ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচী পেশ করেন তখন তাজউদ্দিনও সেখানে ছিলেন, ছয় দফা প্রনয়নেও তার ভূমিকা ছিল প্রখর। বস্তুত সে সময় আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক হিসেবে বংগবন্ধু সবচেয়ে বেশী নির্ভর করতেন তাঁর উপরেই। এ বছরই তার স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। ছয় দফাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলা উত্তাল হলে তিনি প্রায় ৩ বছরের জন্য কারাবরন করেন।
'৬৯ সালে সদ্য কারামুক্ত বংগবন্ধুকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাজউদ্দিন।
এরপর অবশেষে বাংলার ভাগ্যাকাশে সুদিনের আভাস দেখা দেয়। '৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মিলিটারি জান্তার সব হিসেব নিকেশ ভুল প্রমান করে ভূমিধ্বস বিজয় লাভ করে। এরপরের ইতিহাস সবারই জানা। ভূট্টোর প্ররোচনায় ইয়াহিয়া শুরু করল বিজয়ী বংগবন্ধুর দলকে ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা। '৭১ এর মার্চ মাসে বংগবন্ধুর ডাকে গড়ে উঠল এক অনন্য সাধারন কিন্তু শান্তিপূর্ন অসহযোগ আন্দোলন। সেই আন্দোলনেরও মূল পরিকল্পনা প্রনয়ন করতেন এই তাজউদ্দিন। প্রতিদিনের প্রেসনোট, দলীয় কর্মসূচী লিখতেন তিনিই। বংগবন্ধু ও তাজউদ্দিন হয়ে উঠলেন একে অপরের পরিপূরক। বংগবন্ধুর ছিল নেতা হবার সহজাত প্রবনতা, জনতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেলার বিরল ক্ষমতা। তাজুদ্দিনের তেমন ক্ষমতা ছিল না, তবে ছিল সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার অসাধারন পরিকল্পনা প্রনয়ন ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করার ক্ষমতা। যার প্রমান পাওয়া গেছে মুজিব নগর সরকার প্রধান হিসেবে।
অবশেষে এলো ২৫শে মার্চের কালরাত। বংগবন্ধু গুরুতর কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে টের পেয়ে দলের আর সবাইকে যার যার এলাকায় গিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে নিজে বাড়িতে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাজউদ্দিন এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাঁর প্রান প্রিয় নেতাকে ছেড়ে আসতে না চাইলেও নির্দেশ শুনতে বাধ্য হলেন। সন্ধ্যাবেলা অস্থির ভাবে তার ধানমন্ডির বাড়ির প্রাংগনে পায়চারী করছেন। বুঝতে পারছেন না কি করা উচিত। একবার ভাবলেন নেতার মত তিনিও গৃহত্যাগ করবেন না। তাকে পালাতে হবে কেন? তিনি কি ফেরার আসামী নাকি? হঠাত বাড়ির সামনে থামলো একটি জীপ। সেই জীপের আরোহী ছিলেন সেদিনের তরুন আওয়ামী লীগের এম।এন।এ ব্যারিষ্টার আমীরুল ইসলাম ও ডক্টর কামাল হোসেন। তাজউদ্দিন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। জাতির চরম সংকটময় ও অনিশ্চিত মূহুর্তে ভুলে গেলেন নিজের পরিবারের কথা, তাকে তো চিন্তা করতে হবে কয়েক লক্ষ পরিবারের কথা। স্ত্রীকে শুধু দূর থেকে বলে গেলেন, "তোমরা কি করবে কর, আমি চলে গেলাম"। হাতে একটি শার্ট ও নিরাপত্তার জন্য আগে থেকে জোগাড় করে রাখা রাইফেল হাতে লাফিয়ে উঠে গেলেন জীপে। মোক্ষম সময়েই তিনি প্রস্থান করতে পেরেছিলেন। এর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গুলি ও ম্যাগ্নেশিয়াম ফ্লেয়ার ছুড়তে ছুড়তে পাক আর্মির একটি বড় দল ঘিরে ফেলে তাজউদ্দিনের বাড়ি। (চলবে)
সূত্রঃ ১। http://www.tajuddinahmad.com/
২। আমার ছোটবেলা, ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দিন আহমদ - সিমিন হোসেন রিমি (তাজউদ্দিনের কন্যা)।
লিখেছেন : আদিল মাহমুদ ৩১ ডিসেম্বর (শুক্রবার), ২০১০
http://adilmahmood.amarblog.com//posts/123847/
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৭:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


