কোকোর টাকা রাখার দায়ে সিঙ্গাপুরি ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ড
Prothom Alo
২০০৭ সালে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৩৬ দিনের মাথায় আরাফাত রহমান কোকো সিঙ্গাপুরে তাঁর দুটি কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোকো এ সময় তাঁর গোপন ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত অর্থ সিঙ্গাপুরের নাগরিক লিং সিউ চেঙ-এর নিজ নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। সিউ চেঙ তা পালন করেন।
সিঙ্গাপুরের একটি আদালত গতকাল সোমবার সে দেশের মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘনের দায়ে চেঙকে ১২ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা) জরিমানা করেন। চেঙ আদালতে তাঁর দোষ স্বীকার করেছেন।
গতকাল সিঙ্গাপুরের দি স্ট্রেইট টাইমস পত্রিকা আদালতের রায়ের খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে কোকোর ফেয়ারহিল কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে নয় লাখ ৬৭৭ মার্কিন ডলার (ছয় কোটি ৫৯ লাখ টাকা) এবং জেডএএসজেড কোম্পানির হিসাবে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৬৭ ডলার (১১ কোটি সাত লাখ টাকা) জমা ছিল। দুটি কোম্পানিতে কোকোর মোট অর্থ ছিল ৩ দশমিক ১৭ মিলিয়ন সিঙ্গাপুরি ডলার (১৭ কোটি টাকার বেশি)।
অর্থ গচ্ছিত রাখার তথ্য গোপন রাখার দায়ে সিঙ্গাপুরের আদালত গতকাল সে দেশের একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জরিমানা করেছেন। ৬৩ বছর বয়স্ক লিং সিউ চেঙ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আরাফাত রহমানের অর্থ তাঁর নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখেন। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়, চেঙ একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী। তাঁর সন্দেহ করা উচিত ছিল যে ওই অর্থ বেআইনি হতে পারে। আর সে কারণে বিষয়টি পুলিশ কিংবা দুর্নীতি অনুসন্ধান ব্যুরোকে অবহিত করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি এর কোনোটিই করেননি। অর্থ পাচার আইনে তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে ওই দুটি অভিযোগ আনা হয়। গতকাল সোমবার তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হওয়ার পর তিনি তাঁকে বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তিনি সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানি খুলতে চান। এরপর ২০০৪ সালের এপ্রিলে জেডএএসজেড ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিং প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে কোকো ও চেঙের যৌথ সইয়ে নবগঠিত কোম্পানির ব্যাংক হিসাবটি খোলা হয়। এক বছরের ব্যবধানে চেঙ আরাফাত রহমানের পক্ষে আরও একটি কোম্পানি খোলেন। এর নামকরণ করা হয় ফেয়ারহিল কনসালটিং। এবারও ওই একই ব্যাংকে হিসাব খোলা হলেও ফেয়ারহিলের পক্ষে শুধু চেঙ-এর সই দেওয়ার ক্ষমতা অনুমোদিত ছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কোকোর সিঙ্গাপুরের গোপন তহবিলে এই টাকা গচ্ছিত রাখার বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করে।
সিঙ্গাপুর সরকার বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুরোধেই ওই ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছিল। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান কোকোর প্রতিষ্ঠিত জেডএএসজেডের তহবিলে ১৮ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (নয় কোটি ৮৯ লাখ টাকা) প্রেরণ করে। সিঙ্গাপুর সরকার দুদককে জানিয়েছিল, জেডএএসজেডের তহবিল থেকে কোকো ২০০৫ সালের ২৯ জুলাই অন্য একটি স্থানে সাড়ে আট লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (চার কোটি ৬৭ লাখ টাকা) স্থানান্তর করেছিলেন। কোকোর এই তহবিলের বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থায় সিঙ্গাপুরের সঙ্গে একটি এমএলএ বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স নামে একটি চুক্তি সই হয়। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ঘটে। সিঙ্গাপুর সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে গতকাল আদালতের বিবরণীর মিল পাওয়া
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১২ সকাল ৭:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



