somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিংগাপুর আদালতে বাকশালের প্রভাব :: কোকোর টাকা রাখার দায়ে সিঙ্গাপুরি ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ড

২৩ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোকোর টাকা রাখার দায়ে সিঙ্গাপুরি ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ড
Prothom Alo
২০০৭ সালে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৩৬ দিনের মাথায় আরাফাত রহমান কোকো সিঙ্গাপুরে তাঁর দুটি কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোকো এ সময় তাঁর গোপন ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত অর্থ সিঙ্গাপুরের নাগরিক লিং সিউ চেঙ-এর নিজ নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। সিউ চেঙ তা পালন করেন।
সিঙ্গাপুরের একটি আদালত গতকাল সোমবার সে দেশের মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘনের দায়ে চেঙকে ১২ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা) জরিমানা করেন। চেঙ আদালতে তাঁর দোষ স্বীকার করেছেন।
গতকাল সিঙ্গাপুরের দি স্ট্রেইট টাইমস পত্রিকা আদালতের রায়ের খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে কোকোর ফেয়ারহিল কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে নয় লাখ ৬৭৭ মার্কিন ডলার (ছয় কোটি ৫৯ লাখ টাকা) এবং জেডএএসজেড কোম্পানির হিসাবে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৬৭ ডলার (১১ কোটি সাত লাখ টাকা) জমা ছিল। দুটি কোম্পানিতে কোকোর মোট অর্থ ছিল ৩ দশমিক ১৭ মিলিয়ন সিঙ্গাপুরি ডলার (১৭ কোটি টাকার বেশি)।
অর্থ গচ্ছিত রাখার তথ্য গোপন রাখার দায়ে সিঙ্গাপুরের আদালত গতকাল সে দেশের একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জরিমানা করেছেন। ৬৩ বছর বয়স্ক লিং সিউ চেঙ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আরাফাত রহমানের অর্থ তাঁর নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখেন। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়, চেঙ একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী। তাঁর সন্দেহ করা উচিত ছিল যে ওই অর্থ বেআইনি হতে পারে। আর সে কারণে বিষয়টি পুলিশ কিংবা দুর্নীতি অনুসন্ধান ব্যুরোকে অবহিত করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি এর কোনোটিই করেননি। অর্থ পাচার আইনে তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে ওই দুটি অভিযোগ আনা হয়। গতকাল সোমবার তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হওয়ার পর তিনি তাঁকে বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তিনি সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানি খুলতে চান। এরপর ২০০৪ সালের এপ্রিলে জেডএএসজেড ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিং প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে কোকো ও চেঙের যৌথ সইয়ে নবগঠিত কোম্পানির ব্যাংক হিসাবটি খোলা হয়। এক বছরের ব্যবধানে চেঙ আরাফাত রহমানের পক্ষে আরও একটি কোম্পানি খোলেন। এর নামকরণ করা হয় ফেয়ারহিল কনসালটিং। এবারও ওই একই ব্যাংকে হিসাব খোলা হলেও ফেয়ারহিলের পক্ষে শুধু চেঙ-এর সই দেওয়ার ক্ষমতা অনুমোদিত ছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কোকোর সিঙ্গাপুরের গোপন তহবিলে এই টাকা গচ্ছিত রাখার বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করে।
সিঙ্গাপুর সরকার বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুরোধেই ওই ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছিল। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান কোকোর প্রতিষ্ঠিত জেডএএসজেডের তহবিলে ১৮ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (নয় কোটি ৮৯ লাখ টাকা) প্রেরণ করে। সিঙ্গাপুর সরকার দুদককে জানিয়েছিল, জেডএএসজেডের তহবিল থেকে কোকো ২০০৫ সালের ২৯ জুলাই অন্য একটি স্থানে সাড়ে আট লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (চার কোটি ৬৭ লাখ টাকা) স্থানান্তর করেছিলেন। কোকোর এই তহবিলের বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থায় সিঙ্গাপুরের সঙ্গে একটি এমএলএ বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স নামে একটি চুক্তি সই হয়। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ঘটে। সিঙ্গাপুর সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে গতকাল আদালতের বিবরণীর মিল পাওয়া

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১২ সকাল ৭:০৩
১১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×