নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবার কাঁদলেন সেই নারী
Click This Link
বাগেরহাট, এপ্রিল ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের কর্মীদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবার কাঁদলেন বাগেরহাটের রামপালের নির্যাতিত এক নারী।
২০০২ সালের ২১ আগস্ট তখনকার ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোটের কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী (৩৫)।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী খুন, ধর্ষণ, হামলা, লুটপাটসহ সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনে শুক্রবার জবানবন্দি দেন ওই নারী।
বাগেরহাট সার্কিট হাউসে এই নারীসহ আরো কয়েকজনের জবানবন্দি নেন তদন্ত কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
গত বছরের ৬ মে একটি মানবাধিকার সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী খুন, ধর্ষণ, হামলা, লুটপাটসহ সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে দুই মাসের মধ্যে সরকারকে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
হাইর্কোটের এমন নির্দেশের পর গত বছরের শেষের দিকে ওই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে সরকার।
তদন্ত কমিশনের সদস্য, উপস্থিত নির্যাতিত অন্যান্য নারী-পুরুষ ও সাংবাদিকদের সামনে নিজের ওপর নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করেন ওই নারী।
তিনি বলেন, বিএনপি সাবেক রামপাল উপজেলা সভাপতি মল্লিক মিজানুর রহমান মজনু ও সদস্য বাশার কাজীর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা তাকে রামপাল বাসস্ট্যাণ্ড থেকে ধরে মারধরের পর বিবস্ত্র করে ফেলে। এরপর স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে বেদম মারধর করে তার চুল কেটে দেয়।
ওই সময় রামপাল থানা থেকে পুলিশ এলে ওই দুই নেতা পুলিশদের নিয়ে পাশের চায়ের দোকানে চলে যান।
এরপর সন্ত্রাসীরা বিএনপি কার্যালয়েই তাকে সন্ত্রাসীরা ধর্ষণ করে।
তিনি কমিশনকে জানান, বাগেরহাট আদালতে এই মামলা চলাকালে জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম ওরফে সিলভার সেলিম তার বাগেরহাটের বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোর করে মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে আদালতে মামলার সাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় তিনি মামলাটি প্রথমে ঢাকা এবং পরে খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।
ওখানে এখন মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এরপরই বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাগেরহাট-৪ আসনের সাংসদ মোজাম্মেল হোসেন সার্কিট হাউজে এসে তার ওপর হামলার বিবরণ দেন।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের ১১ নভেম্বর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান টুটুলের নেতৃত্বে কশাই আব্দুল হক, সোহেল, শাহনেওয়াজ, ডলারসহ অস্ত্রধারী তাদের একটি সংবাদ সম্মেলনে হামলা চালায়।
জোট সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে ওইদিন শহরের আমলা পাড়ায় তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির মনসুর আলীর বাসায় দলের জেলা কমিটি সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করেছিল।
এ সময় তিনিসহ দলের ছয়/সাত জন নেতাকর্মী রক্তাক্ত জখম হন। ছয়জন সাংবাদিকও আহত হন।
কমিশনের সামনে মোজাম্মেল হোসেন তার শরীরের ক্ষতস্থান দেখান
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বাগেরহাটের একটি আদালত মামলাটি খারিজ করে বলে তিনি জবানবন্দিতে জানান।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর রামপালের বর্ণি গ্রামে জোটকর্মীদের মারধরে নিহত গৌরম্ভা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নূর মোহম্মদ মল্লিকের স্ত্রী হেনা মল্লিকও ঘটনার বর্ণনা দেন।
কমিশনের সামনে তিনি বলেন, ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তার স্বামীকে ধরে তার সামনে পিটিয়ে খুন করে। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে তারা।
স্বামীর লাশ দাফনের জন্য খাটিয়া আনতে গেলে স্থানীয় মসজিদ থেকে তাকে খাটিয়া দেওয়া হয়নি বলেও জানান।
জবানবন্দি নেওয়ার সময় বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসনের সাংসদ সৈয়দা হাবিবুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
তিন সদস্যের কমিশনের অপর দু'জন হলেন- সদস্য সচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মনোয়ার হোসেন আখন্দ এবং সদস্য গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক মীর শহীদুল ইসলাম।
তদন্ত কমিশনের সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন আখন্দ বলেন, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাগেরহাটে নির্যাতনের চিত্র ছিল ভয়ঙ্কর।
তারা মোট ৭২টি পৃথক ঘটনার লিখিত জবানবন্দি গ্রহণ করেন তারা। এর মধ্যে ১২টি গণধর্ষণ এবং আটটি হত্যার ঘটনা রয়েছে।
এছাড়া ঢাকায় থেকেও তারা বাগেরহাটের বেশ কিছু ঘটনার কথা জেনেছেন এবং জবানবন্দি নিয়েছেন।
যারা কমিশনের সামনে আসতে পারেনি তাদের লিখিত বক্তব্য ডাকযোগে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
কমিশনের সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর থেকে বাগেরহাট সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছেন।
সকাল ১০টা থেকে তারা নির্যাতিতদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করে বিকাল ৪টায় শেষ করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/ডিডি/এমএসবি/২০১৯ ঘ.
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



