somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিলিভ ইট অর নটঃযারা ফার্স্ট হয় তারাও মানুষ!!!!:-/:-/:-/

১৬ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি কখনই তূখোড় স্টুডেন্ট ছিলাম না।ফার্স্ট শব্দটার সাথে আমার পরিচয় নাই বললেই চলে।খুব কমই ভাল রেজাল্ট করেছি।বড় বড় পরীক্ষাগুলো শুরু হওয়ার কয়েকমাস আগে পড়া লেখা শুরু করতাম বলে কিছু ভাল ফলাফল ঝুলিতে ছিল।তবে ফার্স্ট গার্ল তো কখনই হতে পারিনি।এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নাই।
কিন্ডারগার্ডেনে যখন পড়তাম,তখন প্রথম দিকের ছাত্র ছাত্রী ছিল তূর্না,শান্ত,গালিব আর মিহিকা।এরাই ঘুরে ফিরে প্রথম দ্বিতীয় হত।আর বাকি স্থানগুলো দয়া করে আমাদের ছেড়ে দিত।বিশেষ ব্যাপার হল,এদের প্রত্যেকেই ছিল নাদুশ-নুদুশ ফুটফুট কিসিমের বাচ্চা।আর আমি ছিলাম ক্যাংঠা মারা শুটকী।তাই আমার যেটা ধারনা ছিল তা হল-যারা দেখতে সুন্দর আর মোটা সোটা টিচাররা মনে হয় তাদেরই প্রথম বানায়।আমার মাথায় তখনও এই ব্যাপারটা ক্যাচ করেনি যে প্রথম হতে হলে পড়া লেখা করতে হয়।ঐ নাদুশ-নুদুস ফুটফুটে-গুলো চেহারা দেখিয়ে প্রথম হওয়া যায় না।প্রথম হতে হয় মগজের ভেল্কি দেখিয়ে।
যাই হোক,সদর গার্লসে দেখা পেলাম হৃদিতা নামের আরেক ফার্স্ট গার্লের।তার আবার ভাবসাবই আলাদা।দেমাগে মাটিতে পা পরেনা।হৃদিতার আবার কিছু তোষামোদকারীও জুটে গেল।তাদেরও আবার ম্যালা ভাব।ফার্স্ট গার্লের চ্যালা চামিন্দা বলে কথা।তাদের ভাব না থাকলে কি ভাব থাকবে শুটকী মাছের?
আব্বুর ট্রান্সফার হল।আসলাম ঢাকায়।সেখানে এসে শুনলাম,ফার্স্ট গার্লের নাম মৌ।মেয়েটার কোনো আলগা পার্ট নাই।প্রথম দিন স্কুলে যেতেই সে নিজে সেধে আমার নাম জানতে চাইল।আমি সাথে সাথে তার ফ্যান হয়ে গেলাম।কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই মৌয়ের কষ্ট শুরু হয়ে গেল।আমাদের ক্লাসে এক মন্ত্রীর মেয়ে ভর্তি হল।ক্লাসটিচার সাথে সাথে মৌকে বাদ দিয়ে সেই মন্ত্রীকন্যাকে ক্লাসক্যাপ্টেন বানিয়ে দিলেন।সেদিন মৌ বেচারী খুব কেদেছিল।স্বান্তনা দেইনি।কারণ মৌ আমার বন্ধু ছিল না।এরপর তিন বছর ঐ স্কুলে ছিলাম।প্রতিবার মৌ ফার্স্ট হত,কিন্তু ক্যাপ্টেন হত মন্ত্রিকন্যা!
বাসা বদলের কারনে আবার স্কুল চেঞ্জ করলাম।এই খানে ফার্স্টগার্লের নাম পিয়া।চুপচাপ মানুষ।কারো সাথে সাতে পাচে যায় না।তবে অনেকেই এটাকে নেতিবাচক ভাবে নিত।সবার ধারনা ছিল,পিয়া ভাব নিয়ে চলে,মুডি ইত্যাদি ইত্যাদি।স্কুলের একদম শেষের দিকে পিয়ার সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়ে গেল।প্রথম দিকেই জিজ্ঞাসা করলাম, “আচ্ছা পিয়া,সবাই তোমাকে মুডি বলে কেন?” পিয়া খুব বোকার মত জবাব দিল, “কি জানি,ক্যান যে বলে সেইটাই বুঝিনা।”
এরপর থেকে পিয়ার সাথে আমার বন্ধুত্ব।এখনও সব টপ সিক্রেট তারে না বললে আমার ভাত হজম হয় না।

সিটি কলেজে পড়ার সময় যে আমাদের ফার্স্টগার্ল ছিল তার মত বদ ফার্স্টগার্ল আমি জিন্দেগীতে দেখিনাই।আর কখনও হয়তো দেখবও না।দুঃখজনকভাবে আমি এই মুহূর্তে তার নামটা ভুলে গিয়েছি।ধরে নিলাম তার নাম বদনী!আমাদের ক্লাসের সবাই বদনীর ফ্যান ছিল।পরীক্ষার হলে খাতা খুলে ফেলে রাখত।কেউ কখনও ওর কাছে পরীক্ষার হলে কিছু জিজ্ঞাসা করে বিফল হয়নি।ক্লাসে এক রোল থেকে পঞ্চাশ রোল পর্যন্ত খাতায় একই মার্কস আনার পুরো কৃতিত্বই ছিল সেই বদনীর।
আমাদের ডিপার্টমেন্টে বর্তমানে যে ফার্স্ট হয় তার নাম মুন্নি।ক্লাসের সব থেকে বিনয়ী মানুষের ট্যাগটা আমি তাকে দিতে চাই।বেচারীর চেহারা দেখলে মনে হয় একটু পরেই পুলসিরত পার হতে যাবে বলে ভীষন চিন্তিত।কোনো পড়া না বুঝলে এমন ভাবে পড়াটা অন্য কারো কাছে বুঝতে চায় যেন সেই ক্লাসের সব থেকে খারাপ স্টুডেন্ট।আমি এই ফার্স্টগার্লটাকেও মেলা পছন্দ করি।
মাঝে মাঝে যারা ফার্স্ট হয় তাদের প্রতি খুব মায়া হয়।কত পরিশ্রমই না বেচারারা করে!ওরাও তো মানুষ।ওদের কি আমাদের মত ধইনচাগিরি করতে মুঞ্চায় না?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ১:০৯
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×