আমি নিঝুম দ্বীপের গাঘেঁষে অতি কষ্টে
অতি যত্নে ছুটে এসেছি এই উৎসবে।
বহু পুরানো পান্ডুলিপি থেকে ছেঁড়া মলিন
অস্বচ্ছ কবিতা অতি আদরে ভাঁজ করে নিলাম।
অসম্ভব ধূলি, কালো ধোঁয়ায় মাস্ক পরিয়ে
রিক্সা ও বাসের ঝোলা রেলিঙে চড়িয়ে
অবশেষে কবিতাকে উৎসব চত্বরে এনে ফেল্লাম।
চারদিকে কবি ও কবিতা প্রেমিক
শাড়ি ও জিন্সে প্রণয়ী কুসুম
কটি পাঞ্জাবী, এলেবেলে জুতা ও চটি
গুরু গম্ভীর কবিতার নিখুঁত আওয়াজ।
বহু অযত্নে অবহেলায় কবিতায় ময়লা ও
ঝুলো পড়ে থাকে।
মাঝে মাঝে বাসী গন্ধ বেরোয়, ত্বক ভেঙ্গে যায়,
ভেঙ্গে যায় কবিতার শরীর ও সুবাস।
উৎসব শেষে আমি ফিরে যাবো আমার গ্রামে-
তার আগে কবিতাকে জেট ডিটারজেন্ট দিয়ে
ধুয়ে মুছে স্বচ্ছ ঝকঝকে সুন্দর করে যাবো।
সুগন্ধি ডিটারজেন্ট পাউডার কবিতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে
ময়লা সাফ করে নেবে-
কবিতাকে করে দেবে সাদা ধবধবে।
আমি সে কবিতাকে নিয়ে যাবো আমার গ্রামে
সেখানে চাঁপা অমলকির সারি, হলুদ সরিষার ক্ষেত
মেহগনি দেবদারু বনের ধার-
উৎসুক সবাই আমার ফেরার অপেক্ষায় আছে।
অপেক্ষায় আছে এক ঝাঁক খয়েরী শালিক,
আর অপেক্ষায় আছে ধূলি মাখা রৌদ্রবৃষ্টি,
বিরহ কাতর দু’টি মেঠোরঙ চঞ্চল চড়–ই ।
(৯৭ এর কবিতা উৎসবে স্পন্সর হয়েছিলো জেট ডিটারজেন্ট পাউডার)
ফকির ইলিয়াসের লেনিনের মূর্তি পড়ে কবিতাটির কথা স্বরণ হলো। তখন সে উৎসবে কবিতাকে পন্য বাজারে তোলার হয়তো উদ্যোক্তাদের অজান্তেই চেষ্টা হয়েছিলো। কবিতাটি উৎসব চত্তরেই লেখা হয়েছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

