কিছুদিন আগে (আসলে ১১ই সেপ্টেম্বর) একটা সাহায্য চাই পোস্ট দিয়েছিলাম জিপি এজ মডেমের আনলক কোডের জন্য। জিপির মডেমে একটেল সিম ইউজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আনলক কোড ছাড়া কাজ হচ্ছিল না। অনেকেই কমেন্টে বলেছিলেন তারা গ্রামীণফোন সেন্টারে গিয়ে কোডটি পেয়েছেন। আমি একটু বাইরে থাকায় তখন গ্রামীণফোন সেন্টারে যেতে পারি নি। গ্রামীণফোনের সাথে মেইলে এবং ওয়েবচ্যাটে যোগাযোগ করলে তারাও আমাকে গ্রামীণফোন সেন্টারে যেতে বলে। আমি আমার সমস্যা বুঝিয়ে বলার পর তারা কিছুদিন সময় চায় কোডটা দেয়ার জন্য। তারা নাকি পার্সোনালী আমার জন্য এটা করছে, আসলে আমার উচিত গ্রামীণফোন সেন্টারেই যাওয়া। সেখানে গেলে আমি সাথে সাথেই কোডটা পাব। যাইহোক, সেটা যেহেতু আমার পক্ষে করা সম্ভব ছিল না তাই আমি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্তই নিলাম এবং জিপির মহানুভবতায় মুগ্ধ হলাম

। ৭ দিন পরেও কোন সাড়া না পেয়ে আমি আরেকটা ইমেইল করলাম। উত্তর নেই। ৪ দিন পর চ্যাটে ধরলাম। বলে স্যার সময় লাগবে। আমি বললাম ১১ দিন সময় কি যথেষ্ট না একটা কোড পাওয়ার জন্য? আবার সেই পুরান কথা, স্যার এটা আপনার জন্য আমরা পার্সোনালী করছি। যে গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে আপনি কিনেছেন আমরা তাদের সাথে কোডের ব্যাপারে যোগাযোগ করেছি। তারা এখনও ফিডব্যাক দেয় নি (পুরা মিথ্যা কথা, কেন পরে বলছি)। আমি বললাম, আর কতদিন লাগবে? বলল, স্যার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করব। আমার একটেল নাম্বারও নিল। সাথে বলল, ইমার্জেন্সী হলে আপনি গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে এখনই কোডটা পেতে পারেন। আমিও ঠিক করলাম, গ্রামীণফোন সেন্টারেই ট্রাই করা যাক। এক বান্ধবীকে বললাম যেতে (জিপি তো জন্মগত ভাবে লুল, জাননেন তো!) সে আবার তার আরও দুই বান্ধবীকে নিয়ে গেল (কাজ না হয়ে যায় না!!!)। এত কঠিন প্রস্তুতির ফলাফল শুনে থ! গ্রামীণফোন সেন্টার বলে জিপি মডেমে কোন কোড লাগে না। ভাল করে ব্যাখ্যা করে বুঝানোর পরে তারা বলল, ওয়ারেন্টী কার্ড সহ মডেমটা ঈদের পরে নিয়ে আসতে। ঢাকা পাঠাতে হবে! তারা জানেই না জিপি মডেমে কোড লাগে! তাহলে ঢাকার ওরা যে বলল তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে সেটা কি? ঢাকা বলে জিপিসি আর জিপিসি বলে ঢাকা। ইনফিনিটি লুপ! মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আবার ধরলাম চ্যাটে। এইবার এক আপা। চ্যাটবটের সাথে চ্যাটিং করেছেন কখনও? এটা এক ধরণের প্রোগ্রাম। এর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট করতে পারবেন। সব উত্তর প্রোগ্রাম করা থাকে। জিপির কাস্টমার কেয়ারের আপারাও মনে হয় চ্যাটবট। বিসমিল্লাহ থেকে শুরু করল। কোড লাগে না। লাগলেও যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে যেতে হবে। আমি যে এই স্তর পার করে এসেছি সেটা বিশ্বাসই করে না। কয় আপনাকে জিপিসিতেই যেতে হবে। আমি বললাম, জিপিসি তো বলে ঢাকা পাঠাতে হবে। এক কথা আবার (প্রোগ্রাম করা তো!), স্যার আপনি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করেন! উনি আর কিছু শুনতে নারাজ। রেগে গিয়ে বললাম, জিপিসি কি কাস্টমার কেয়ার না??? ঐটা কি জোকার হাউস??? এইখানে গিয়া বাগ পাইলাম (সম্ভবত বাগ না, প্রোগ্রামই করা হয়েছে এভাবে)

প্রশ্নবোধক বা আশ্চার্যবোধক চিহ্ন তিনবার বা তার বেশী দিলে আপনার কোন লেখা তাদের কাছে পৌঁছাবে না, তবে আপনি তাদের লেখা দেখতে পাবেন। প্রথমে মনে করছিলাম আমারে মনে হয় ব্লক করেছে। পরে টেস্ট করে দেখেছি। তিনবার দিলেই এই ঘটনা ঘটে!
আপাদের নিয়ে এই ভোগান্তী জিপিতে সবসময়ই ছিল। ইন্টারনেট চালুর প্রথম দিকে আব্বুর মোবাইল দিয়ে ব্রাউজিং করতাম। পরে আমার নিজের সেট কেনার পরে এজের রেজিষ্ট্রেশন করার পরেও দেখি ব্রাউজিং করতে পারি না। একদিন দুইদিন করে একমাস হয়ে গেল একই অবস্থা। আমার পরে রেজিষ্ট্রেশন করে অন্যরা পারছে, শুধু আমার সিমে কাজ হয় না! আবার, কাস্টমার কেয়ার। ধরল আপা। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করল। বলে রেজিষ্ট্রেশন করা নাই। বললাম চেক করেন। তারপর কয় সেটিংস করা নাই। সেটিংস মুখস্ত বললাম। শেষে বলে আপনার সেট জিপিআরএস কম্পিটেবল না! মডেল বললাম। চেক করে বলল আপনার এলাকায় জিপিআরএস কাভারেজ নাই!!! আমি বললাম তাহলে অন্য মোবাইলে হয় কিভাবে? বলে অন্যগুলোতে হয়ত সবসময় পায় না, মাঝেমাঝে পায়। আমাদের নেটওয়ার্ক টেস্ট করার জন্য মাঝেমাঝে পরীক্ষামুলকভাবে জিপিআরএস চালু করা হয়। হয়ত তখন পায়! সবসময় না। আমি বললাম, আমি তো এখনই অন্য মোবাইল দিয়ে ব্রাউজিং করতে পারছি। আমারটায় হয় না কেন? এই পর্যায়ে গিয়ে উনি ফিক্সড মুডে চলে গেলেন। একই কথা বারবার। স্যার, জিপিআরএস নেটওয়ার্ক আপনার এলাকায় নেই। আমি বলি আছে। উনি বলেন হতেই পারে না! কি আর করা রেখে দিলাম। দুইমাস পরে আমার সিমে এজ চালু হয়েছিল।
আসল কথায় আসি। পরের দিন জিপি থেকে একটেলে কল। আমি তো ইন্টারনেটে ব্লুটুথ দিয়ে কানেক্ট করে মোবাইল কোথায় থাকে খবর রাখি না, ১০ মিটারের মধ্যে কোথাও থাকলেই হল! টেরই পাই নি কখন কল করেছে। দেখি তিনটা মিসড কল। একটেলে কল করেছে তাই ১২১ না নাম্বার দেখাচ্ছে ০১৭১১৫৬৭৮৯০। আমিতো তখন পুরোপুরি নিশ্চিত আমার কোড দেওয়ার জন্যই কল করেছে। আধাঘন্টা ওয়েট করলাম। আর কল করে না। শেষে ঐ নাম্বারে কল দিলাম। কল ঢুকে না! আবার চ্যাটে ঢুকে বললাম কলের কথা। যে কল করেছিল তার কাছে ট্রান্সফার করে দিল। সে আমাকে কল করে সুসংবাদ দেবার ভঙ্গিতে বলল, স্যার আরও কিছুদিন সময় লাগবে। অক্টোবরের ১০ তারিখের মধ্যে পাবেন

। আমি বললাম, জিপিসি কেন দিতে পারল না? এখন উল্টা কথা বলা শুরু করল। বলে জিপিসি কোড দিতে পারবে না। কোডটা তাইওয়ানে ভেন্ডরের কাছ থেকে আনতে হয়

। আমি বললাম অনেকে আমাকে বলেছে তারা জিপিসি থেকে কোড পেয়েছে। ওয়েব চ্যাটেও আপনারাই আমাকে জিপিসিতে যেতে বলেছেন। না স্যার এটা সম্ভব না। জিপিসি বা কাস্টমার কেয়ার কোড দিতে পারবে না। আমি সামুর কথা বললাম। ওখানে অনেকেই বলছে তারা জিপিসি থেকে কোড পেয়েছে সাথে সাথেই। উনি বললেন, তখন হয়ত ভেন্ডরের কোন কর্মকর্তা বাংলাদেশে ছিলেন। তাই সাথে সাথে পাওয়া গেছে। আমি মনে মনে বললাম, ও ভেন্ডরের কর্মকর্তারা কোড মুখস্ত করে রাখে। সিরিয়াল আর আইএমইআই দেয়া মাত্র কোড বলে দিতে পারে, সব মডেমের এক কোড হলে কথা ছিল। আর, জিপি ভেন্ডরের সাথে নির্ঘাত বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যেমে চিঠি পাঠিয়ে যোগাযোগ করবে।নইলে তো একমাস লাগার কথা না। আমি বললাম, আপনারা বলছেন জিপি এজ মডেম যেকোন অপারেটরে ব্যবহার করা যাবে। তাহলে আবার কোড দিয়ে লক করেছেন কেন? কয়, স্যার লক আমরা করি নি, করতে বলিও নি। হাউয়াই নিজে থেকেই কিছু মডেমে কোড দিয়েছে। সব মডেমে না। কি আর বলব, থ্যাংকস দিয়ে রেখে দিলাম। হাজার হলেও টাকা খরচ করে একটেলে কল দিয়েছে
এই হইল কথা। ভবিষ্যতে আর একটেলে ইন্টারনেট নিতে পারব কিনা সেটা নির্ভর করবে জিপির দয়ার উপর। মডেমে তারা কোন্ ভর্তুকিও দেয় নি, আমি কোন বান্ডল অফারেও কিনি নি, তারা এভাবে আমার উপর জিপি ইন্টারনেট চাপিয়ে দিতে পারে না। আমেরিকা হলে নির্ঘাত অ্যান্টিট্রাস্ট আইনে মামলা করা যেত। এক প্রোডাক্টের মাধ্যমে আরেক প্রোডাক্ট ব্যবহারে বাধ্য করার জন্য। কিন্তু, এখানে

রঙ্গে ভরা বঙ্গ দেশ, আমরা হলাম দর্শক!!!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০০