আমার প্রিয় পোস্ট
- 'অশ্রুপাত শেষ হলে নষ্ট করো আঁখি' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- পাকমন পেয়ার: আস্তমেয়ের শেঁকড় সন্ধানের অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- কিছু প্রয়োজনীয় Google Seacrh টিপস n' টার্মস
- নাফিস ইফতেখার
- শিক্ষাব্যবস্থা, ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতি, যুদ্ধাপরাধী ইস্যু, জাফর ইকবাল ও আমাদের বুদ্ধিজীবি সমাজ- আপাত বিক্ষিপ্ত প্রাসঙ্গিক ভাবনা - সীমান্ত আহমেদ
- যে বইগুলো পড়া দরকার ......সংশোধিত ও পরিবর্ধিত - সপ্নীল
- খুনী আল-বদরের উত্তরসূরী ছাত্র শিবির : উত্থানের ভয়াবহ দলিলপত্র - অমি রহমান পিয়াল
- জামায়াতে ইসলামী এর ইতিহাস ফিরে দেখি - ইরতেজা
- প্যালেস্টাইনের রাজনৈতিক ধর্ষন আর বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার - রাগ ইমন
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- নেটজগত থেকে জামায়াতমনস্কতা বিতাড়ন কতটা জরুরি? - মনসুর হিল্লাজ
- ~~*~*~দৈনিক সংগ্রাম ১৯৭১ ও ২০০৮:জামাতের রঙ বদলের জ্বলন্ত প্রমান~~*~*~ - এ. এস. এম. রাহাত খান
রাজাকার কে জুতা নিক্ষেপ করুন
- এ. এস. এম. রাহাত খান
- আমার শিবির অভিজ্ঞতা - ব্লুজ
- বিজয় দিবসে ৭১ এর রাজাকারদের তালিকা। বাড়ি ঘর আর পিতার নাম সহ। - ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান
- তাহলে জিয়ার মুখেই শুনুন - অমি রহমান পিয়াল
- গল্পঃ বাথরুমে গণতন্ত্রের পতনে শ্যাওড়াপাড়ার মানুষেরা যা করে - মোস্তাফিজ রিপন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গনহত্যার একটি ভিডিও - আতিকুল হক
- ব্লগের নাস্তিকেরা কি কেবল ইসলাম বিদ্বেষী??? - নাস্তিকের ধর্মকথা
- রাশেদ খালীফা, ম্যাথমেটিকল মিরাকল অব কোরআন এবং কোরআন টেম্পারিং - নাস্তিকের ধর্মকথা
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে মুসলমান - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কোরবানীর গরু ও তার মালিক হাশিম - পাভেল করচাগিন
- আর্মেনিয় গনহত্যা: তুরস্কের অটোমান শাসনের কলঙ্কিত অধ্যায়। - ইমন জুবায়ের
- সামহোয়্যারের ব্লগার ও পোস্ট - কত প্রকার ও কি কি (সবিস্তারে বর্ননা - অবশ্যই দেখুন)
- নাফিস ইফতেখার
- মার্কসবাদের ইতিহাস পড়তে পড়তে অনিবার্যভাবেই আমার লালনের কথা মনে পড়ে গেল - ইমন জুবায়ের
- ধর্মে বিজ্ঞানঃ নিম গাছে আমের সন্ধান - নাস্তিকের ধর্মকথা
- পাগলের রাজণৈতিক প্রলাপ : ( বিশেষ পর্ব) [স্বঘোষিত রাজাকারদের অপপ্রচারের প্রতিবাদ] - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ১৯৭১-এ দৈনিক সংগ্রাম (পর্ব-১) - সবাক
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- এবং বাংলা সীমান্তে: বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ (শেষ পর্ব, পর্ব ৫০) - ফাহমিদুল হক
- আরিফুল হোসেন তুহিনের অসামান্য উদ্যোগে সামান্য ভূমিকা রাখতে চাচ্ছি - রিয়াজ শাহেদ
- দৃষ্টি আকর্ষন:৭১ এর সকল অনলাইন দলিল একত্রীকরনের প্রচেষ্টা - আরিফুল হোসেন তুহিন
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- পরীক্ষাগারে বিগ ব্যাং: উত্তর মিলবে অনেক প্রশ্নের - অনিশ্চিত
- একটা কবিতা লিখতে চাই - ফারহান দাউদ
- বিশ্বাস করো , আজ তোমাকেই চাইতাম - রাগ ইমন
ইদানিং খুব ঘাস খাই আর নির্বোধ গরু হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখি,বঙদেশে গরুদের জন্য সব লক্ষীই হাত পেতে আছে ।রাষ্ট্র ও সমাজযন্ত্র যখন সংকরিত গরুর গোয়াল ।

ঈশ্বরচিন্তা - ৪
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭
ঈশ্বরচিন্তা - ১
ঈশ্বরচিন্তা-২
ঈশ্বরচিন্তা-৩
মানুষের প্রাচীনতম ধর্মীয় অনুভুতি গুলো প্রথমত উৎপন্ন হয়েছিল একধরনের ভীতি থেকে। প্রথম যে মানব সমাজে অলৌকিকতার ধারনা এসেছিল তা সম্ভবত প্রকৃতিকে বুঝতে অক্ষমতার কারনেই। প্রাচীন সমাজে ধর্মমত গুলো প্রধানত ছিল যাদু নির্ভর। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিকে না বুঝতে পেরে সেগুলোকেই উপাসনা শুরু করে প্রস্তর যুগের মানুষ। এ উপাসনা কিন্তু সম্পূর্ন পার্থিব কারনেই হত। প্রাথমিক উপাসনা সম্ভবত ছিল ঝড় বন্যা বজ্রপাত হতে বাচার জন্যে। সেজন্যেই আমরা দেখতে পাই প্রতিটি প্রাকৃতিক শক্তিকে উপাসনা করার ব্যাপারটি। সমাজ যখন আরো জটিল এবং কাঠামোবদ্ধ হয়ে এল তখন মানুষের মৌলিক চাহিদার বাইরেও অন্যান্য চাহিদা তৈরী হল। যার ফলে উপাসনার অনুষঙ্গও বাড়লো। শিকারে যাবার আগে শিকারের দেবতার উপাসনা বা মাছ ধরেতে যাবার আগে পানির দেবতার প্রতি উপাসনা সেগুলোই নির্দেশ করে।
প্রকৃতির কাছে উপাসনার সময়ই মানুষ আবিষ্কার করে প্রাচীনতম ধর্মীয় বোধ। পুরস্কার এবং তিরস্কার বা শাস্তি। কয়েকটি ধর্ম ছাড়া বাকি সব ধর্মই দাড়িয়ে আছে পুরস্কার এবং তিরস্কারের এই কাঠামোর উপর। তবে প্রাচীন সমাজে এই পুরস্কার বা তিরস্কারের ব্যাপারগুলো ছিল হাতে হাতে ফল পাবার মত। অর্থাৎ যখন পুরস্কার বা তিরস্কার হিসেবে চলতি জীবনের কোন অনুষঙ্গই উঠে আসত। হয়ত বাচ্চা হওয়ার জন্যে অথবা বেশী ফলনের জন্যে। খরায় ফসল জ্বলে গেলে সেটাকে ইন্টারপ্রেট করা হত দেবতাদের রোষ হিসেবে।
প্রাথমিক ধর্মগুলো তাই প্রকৃতিবাদী ছিল। এবং পুরস্কার বা তিরস্কারও সীমাবদ্ধ ছিল পৃথিবীর জীবনের মাঝেই। এই ব্যাপারগুলো পরিচালনার জন্যে শ্রমবিভাগ ঠিক কখন তৈরী হয়েছিল জানা যায় না। তবে পুরুহিততন্ত্র যে অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান এটা নিশ্চিত হওয়া যায়। পুরোহিতরা তাদের নিয়ন্ত্রন বজায় রাখার জন্যেই ধর্মবোধে নতুন রহস্যের আমদানি করে। তাদের হাতে ধর্মবোধের নিয়ন্ত্রন চলে যাওয়ায় একই সাথে তারা হয়ে উঠে রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আমরা দেখতে পাই কৃষিভিত্তিক সমাজে গ্রামগুলোতে গ্রাম্যপ্রধান দের সাথেই গুরুত্বের সাথে অবস্থান করতে পুরুহিত দের। প্রাচীন সমাজ গুলোতে গ্রাম্য প্রধান সাধারনত ন্যাচারাল লিডার বা অধিকতর সক্ষম মানুষেরাই হত। কিন্তু ক্ষমতার ভাগাভাগিতে যখন পুরুহিতরা ফ্যাক্টর হয়ে উঠল তখনই বোধহয় মানুষের মাঝে প্রথম "আনডিফাইন্ড" কোয়ালিটির মানুষরা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাওয়া শুরু করেছিল। যে ঐতিহ্য আমরা এখনও বহন করে চলেছি।
সমাজের জটিলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের চাহিদা এবং সে অনুসারে না পাওয়ার ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। মানুষ পুজার ফলে প্রতিশ্রুত পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ যখন পুরুহিতদের সিংহাসন টালমাটাল করে দিল তখনই সম্ভবত জন্ম নেয় মানব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ন ধারনা। পুরুহিতরা বুঝতে পেরেছিল নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যে মানুষকে তৃপ্ত রাখাও জরুরী। যখন পার্থিব চাহিদা পুরনে দেবতারা ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছিল তখন বাধ্য হয়েই পুরুহিত দের খুজতে হয় জনসাধারনকে তৃপ্ত করার নতুন উপায়। মৃত্যুর পরের জীবনের ধারনা জন্মায়। পুরস্কারের সংজ্ঞা তাই পার্থিব থেকে সরে গিয়ে পরলৌকিক হয়ে উঠে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বর্গ নরকের আলাদা সংজ্ঞা তৈরী হয় নি বলেই মনে হয়। মৃত্যুর পরের জীবনটাকে পার্থিব জীবনের আদলেই ডিজাইন করে পুরুহিতরা। সেখানে পুরস্কার আর শাস্তির তালিকা তাই তৈরী হয় পার্থিব ইন্দ্রীয় সুখ এবং কষ্ট কে ঘিরেই। সেখানে আমরা দেখতে পাই ক্ষুধা, পান, নারী সঙ্গের বর্ননা। আর শাস্তি হিসেবেও আগুন কেই বেছে নেয়া হয় যা চিরকাল মানুষের ভয়ের কারন।
এই প্রকৃতিবাদী ধর্মবোধ থেকে একেশ্বরবাদীতায় উত্তরন হয়েছে কোন দার্শনিক উৎকর্ষের জন্যে নয়। বরং আমরা দেখতে পাই গ্রীক মেধাবীরা বহু ঈশ্বরেই বিশ্বাস করতে। অন্যদিকে একেশ্বর বাদী হিব্রু সভ্যতার(যদিও মোজেস বা ডেভিড ,সলোমনের সময় হিব্রু ধর্ম পুরোপুরি একেশ্বর বাদী ছিল না। জিহোভা ছাড়াও আরো কিছু মাইনর দেবতার পুজা হত) কিন্তু সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞানের অবদান শূন্যের কোঠায়। একেশ্বর বাদ প্রধানত বিবর্তিত হয়েছে রাজনৈতিক কারনেই। পুরোহিতরা সবসময়ই সম্রাটদের তোষামোদী করত, আবার সম্রাটরাও পুরোহিত দের রয়েসয়ে চলত। সম্রাটের শক্তির প্রমান হিসেবেই পুরোহিতরা ঘোষনা করত কোন দেবতার সুপিরিয়রিটি। একযুগের দেবতা তাই অন্যযুগে অপাংক্তেয় হয়ে পড়ত। এভাবেই ক্রমাগত রাজনৈতিক শক্তির চালিকা হিসেবে পুরুহিত তন্ত্রই একদেবতার ধারনা নিয়ে আসে।
মানুষের মৌলিক নীতিবোধের সাথে স্বর্গ নরক কতটা কম্পাটিবল তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে নরকের ধারনা আমি কোনভাবেই নৈতিক বলতে পারি না। অনন্ত শাস্তির ধারনা অসুস্থ ধারনা। বারট্রান্ড রাসেল জেসাসের নৈতিক চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কারন তিনি নরকে বিশ্বাস করতেন। আর নৈতিক বিষয়গুলোর বিকাশ এভাবে ভয় বা লোভ থেকে আসুক সেটাকে গ্রহনযোগ্য ভাবা যায় না। লোভ জিনিসটাই একটা কালো অনুভুতি। তাই সুস্থ নৈতিকতা লোভের মাধ্যমে মোটিভেটেড হওয়া উচিত নয়। আর ভয়ও একটি নৈতিকভাবে দুর্বল মোটিভেশন। পুরস্কার বা শাস্তি নয়, মানুষের মনে প্রয়োজন মানবতার মোটিভেশন। আমার সামনে বিপদগ্রস্ত মানুষ থাকলে তাকে আমি সাহায্য করব, এটার মোটিভেশন চিরায়ত মানবতাই হওয়া উচিত।
মানুষের ইতিহাসে অসংখ্য বর্বর অধ্যায় আমরা পার করে এসেছি। রোমান কলিসিয়াম থেকে শুরু করে ক্রুসেড, উইচ হান্ট, ভিন্ন মতালম্বীদের পুড়িয়ে মারা, জোসেফ স্ট্যালিন, এডলফ হিটলার, হেনরী ট্রুম্যান, বেন্জামিন নেতানিয়াহু,জুলফিকার আলী ভুট্টো, গোলাম আজম, জর্জ ডব্লিউ বুশ, সাদ্দাম, বলে শেষ করা যাবে না এত অমানবিকতার ইতিহাস। মানব সমাজের ইতিহাসে আমরা ক্রমাগত উদাহরন তৈরী করেছি নৃশংসতার, রক্তের আর মানবতার বিরোধী যুদ্ধের। কিন্তু তারপরও টিকে আছি আমরা। নতুন শিশুরা আসছে, তারা হাসছে কাদছে। এখনও পৃথিবীতে অবশিষ্ট আছে আনন্দাশ্রু। মানুষ টিকে থাকবে। তবে কোন প্রযুক্তি, মহান জ্ঞান, অসংখ্য ঈশ্বর, স্বর্গ নরকের হাইপোথিসিসের জন্যে নয়, মানুষ টিকে থাকবে মানুষের মনে থাকা নি:শর্ত মানবতার জন্যে। প্রতি যুগেই অন্তত কিছু মানুষ এই নি:শর্ত মানবতাকে রক্ষা করেছে, আগলে রেখেছে। এই যুগেও রাখবে। আর পৃথিবীতে টিকে থাকবে আনন্দাশ্রু।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ
হুনার মন্দ বলেছেন:
সত্যের কাছাকাছি।মানুষ টিকে থাকবে মানুষের মনে থাকা নি:শর্ত মানবতার জন্যে। এই লাইনটার জন্য প্লাস।
লেখক বলেছেন: এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী মোটিভেশন
আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন:
মনে হয়, হয়ত, বোধ হয় এসব দিয়ে কতদিন চলা যায়?
সারা পৃথিবীর লোক ছাগল আর আপনি এবং আপনার মত যারা সব বুঝে ফেল্লেন?
ধর্ম সমন্ধে জানতে হলেত ধর্ম কথা পড়তে হবে জানতে হবে?
অন্তত ইতিহাসটা ভাল করে পড়েন!
"যদিও মোজেস এর সময় বা তার পরবর্তী ডেভিড ,সলোমনের সময় হিব্রু ধর্ম পুরোপুরি একেশ্বর বাদী ছিল না। "
সুলাইমান (আঃ) প্রথম তার পর দাউদ (আঃ) তার পর মুসা (আঃ)
কে কার পর সেগুলি অন্তত ঠিক রাখেন।
গ্রীসে এক সময় সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করে নেশাখোর মাতাল পোষা হত, যাতে যুব সমাজ নেশার পরিনতি দেখে শেখে এবং নেশা না করে।
তেমনি সমাজে আপনাদের মত বিকারগ্রস্থদের দেখে শিখি কতটা মানষিক ভাবে সুস্থ আছি।
আপনার অবগতির জন্য "কোরান শুরু থেকে আজ পর্যন্ত অবিকল আছে সেটা ভোবেই হোক"। এজন্যই কোরান এর পক্ষে আছি। যতদিন অবিকল থাকবে ততদিন এর পক্ষে থাকব। আর যারা এর পক্ষে আমরা তাদের পক্ষে। আপনাদের কথা ক্ষনে ক্ষনে বদলায়।
লেখক বলেছেন: দু:খিত সময়কাল উল্টাপাল্টা করে ফেলার জন্যে। আমি ঠিক করে দিচ্ছি।
ধন্যবাদ ভুলটি ধরিয়ে দেবার জন্যে
আমি আমাকে কোন ধরনের বিকারগ্রস্থদের দলে ফেলবেন সেটা আপনার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু যতক্ষন আমার দ্বারা অন্য মানুষের ক্ষতি না হচ্ছে, যতক্ষন আরেকজন মানুষের কষ্ট দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি ততক্ষন আমি ঠিক আছি।
আপনার মন্তব্যে আমার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ পেল। এই ক্ষোভটাকেই ভয় পাই।
তবে আমার কিন্তু আপনার প্রতি কোন ক্ষোভ নেই। প্রত্যেকেই নিজস্ব পথে চারপাশ সম্পর্কে জানবে বুঝবে। এটাই স্বাভাবিক। আমি দাবী করছি না আমার অনুভুতি সঠিক। আমার অনুভুতি ভুলও হতে পারে। কিন্তু আমি মানুষকে ভালোবেসে যেতে চাই নিজস্ব পথে।
কষ্ট করে পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।
আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন:
আপনার লেখা সব সময় পড়ার চেষ্টা করি।কোন ক্ষোভ নেই দুখঃ।
কখন সামনা সামনি হলে অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করব।
আমি আল্লাহতে পক্ষে ছিলাম না।
আজ আল্লাহ ছাড়া বুঝিনা।
মুনসুর হাল্লাজ এর বিষয়টার প্রকৃত ব্যাখা আপনি জানেন না তাই ভুল করেছেন। আর ইসলামে যুক্তির বাইরে কিছুই নেই।
কোন মানুষই সম্পূর্ন না তাতে কিছুনা কিছু সমস্যা আছেই। আমারও আছে আপনারও আছে।
আমি আজ এক ধরনের বিকারগ্রস্থ আপনি ভিন্ন। তবে আপনার মত বিকার আজ আর নেই, আছে অন্য।
প্রকাশ ভিন্ন।
লেখক বলেছেন: আর যে প্রসঙ্গে মোজেস এর কথার অবতারনা করেছিলাম সেটি একটু ব্যাখ্যা করে নেই। হিব্রু ধর্মের বিবর্তনে প্রথম থেকেই কট্টর একেশ্বরবাদ ছিল না এটা ঐতিহাসিক সত্য। আমার পুরাতন একটি পোস্টে ব্লগার জ্বীনের বাদশার প্রশ্নের জবাবে করা মন্তব্যটি দিচ্ছি।
হিব্রুরা মিশর থেকে চলে গিয়েই হিব্রু সভ্যতার গোড়াপত্তন করে। সুতরাং হিব্রুরা দীর্ঘদিন মিশরীয়দের সাহচর্যে ছিল। যে কারনে মিশরীয়দের অনেক কিছু তাদের আ্যাডপ্ট করা অসম্ভব কিছু না।
হোরাসের যে কাহিনীটা বলেছি সেটা একুরেট। কারন সেটা এখনও আছে, সেটা নেয়া হয়েছে মিশরের লুক্সর মন্দিরের দেয়াল থেকে। সেই ছবিগুলোর কার্বন ডেটিং এর বয়স ৩৫০০ বছর। অন্যদিকে হিব্রুদের সভ্যতার সবচেয়ে পুরোনো নিদর্শনটির বয়স ২০২৫ বছর। রাজা সাউল হচ্ছেন সবচেয়ে পুরাতন হিব্রুদের রাজা। তার আগে হিব্রুরা ঐক্যবদ্ধ ছিল না। হিব্রু ধর্মের নিদর্শন গুলো আরো নতুন। এই প্রসঙ্গে আবার ফিরে আসছি।
মুসার আবির্ভাব খ্রী পূ ১২৫০ এর দিকে। ওল্ড টেস্টামেন্ট হতে এরকমই ধারনা পাওয়া যায়। এখানেও মুসার আবির্ভাবের ঐতিহাসিক কোনো প্রমান নেই। গবেষনা মূলত ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকেই করতে হয়। তবে মুসার প্রবর্তিত ধর্ম অর্থাত জেহোভার উপাসনালয় গুলোর বয়স থেকেই মুসার আবির্ভাবের সময়টি ধারনা করা হয়। এখানে আবারও ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং ইতিহাস মুখোমুখি দাড়ায়। কারন ওল্ড টেস্টামেন্টে মিশর থেকে চলে আসা ইহুদীদের দ্বারাই হিব্রু রাজ্য গড়ে উঠে এরকম ধারনা পাওয়া যায়। কিন্তু মুসার আনুমানিক আগমনকালের আগে থেকেই হিব্রু রাজ্য বিদ্যমান ছিল। যদি যুদ্ধ করে হিব্রুদের বন্দী করা হয়েছিল এই কন্সেপ্ট গ্রহন করি তাহলেও সমস্যা। কারন এই সময় মিশরীয় দের মধ্য রাজবংশের যুগ চলছিল এবং তাদের হিব্রুদের সাথে যুদ্ধের কোন রেকর্ড দেখলাম না।
টেন কমান্ডমেন্টস নিয়ে একটু সমস্যা আছে। দশটি আদেশ একেবারে এসেছিল কিনা তা নিয়ে গবেষকদের মাঝে মতদ্বৈততা আছে। মুসার সময় কিছু কিছু নির্দেশ জারি হলেও বাকি গুলো আরও পরে এসেছে। টেন কমান্ডমেন্টস(দশটি একসাথে) এর সবচেয়ে পুরাতন ম্যানুস্ক্রীপ্ট যেটা পাওয়া গেছে সেটার নাম ন্যাশ প্যাপিরাস। সেটি ১৫০-১০০ খ্রী পূ সময়কার। আরেকটি বিষয় হচ্ছে প্রাচীন হিব্রু উপাসনালয়গুলোতে টেন কমান্ডমেন্টস কখোনই দশটি একসাথে দেখা যায় নি। তাছাড়া মোজেস এর সময়কালের ঈশ্বরের ধারনা পরবর্তীকালে পরিবর্তন হয়ে যায় ফলে টেন কমান্ডমেন্টস এর চতুর্থ ধারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়,
বর্তমানে চতুর্থ ধারাটি হচ্ছে
You shall not make for yourself an idol, whether in the form of anything that is in heaven above, or that is on the earth beneath, or that is in the water under the earth.
এখন জিহোভার এই নিরাকার ধারনা কিন্তু মোজেস কতৃক প্রচারিত হয় নি, এমনকি মোজেস এর সময়কালীন জিহোভা ছাড়াও আরও কিছু দেব দেবীর উপাসনা করা হত। আমেরিকান ঐতিহাসিক জন ব্রাইট মন্তব্য করেন
"যদিও মোজেস প্রচলিত দেবতাদের অস্বীকার করেন নি, কিন্তু সুকৌশলে তাদের পদমর্যাদা অস্বীকার করেছেন"
নিরাকার ঈস্বরের ধারনা প্রথম নিয়ে আসেন ধর্ম সংস্কারক আমোস (এ প্রসঙ্গে ইয়াহিয়া , হোসিয়া এবং মিকাহ এর অবদানও উল্লেখযোগ্য) প্রথম নিরাকার ধারনার প্রবক্তা। মুসার জিহোভা অনেকটা জিউসের মত। তবে আরও শক্তিশালী এবং মানবীয় পার্সোনিফিকেশন হতে মুক্ত। আমোস এর আগে ইহুদীরা জিহোভাকে নিরাকার ভাবত না। তবে তার আমলেও ইহুদী ধর্মপুরোপুরি একেশ্বরবাদী হয় নি। কেনানাইটদের দেবতার পূজাও হত। ইহুদী ধর্মকে পুরোপুরি নিরাকার একেশ্বরবাদীতে পরিনত করেন যিরিমিয়াহ(৬২৫ - ৫৮৬ খ্রী পূ)।
আর বুক অফ ডেথ কিন্তু একটি ছিল না। মৃত ব্যাক্তিদের মমির সাথে পুরোহিতরা মন্ত্র লেখা প্যাপিরাস রাখতেন। সেগুলোর সংকলনই বুক অফ ডেথ। এগুলো মিশরের পিরামিড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নতুন রাজবংশের আগে বুক অফ ডেথ সংকলিত ও স্ট্যান্ডার্ডাইজড হয় নি । তবে বুক অফ ডেথের আরো পুরাতন বিক্ষিপ্ত প্যাপিরাস পিরামিড গুলোতে পাওয়া যায়।
এখন নতুন রাজবংশের সময়কাল দেখুন:
১৫৭৩-৩৩২ খ্রী .পূ. নতুন রাজবংশ কিন্তু মোজেসের আগমন থেকে তো অবশ্যই হিব্রু সভ্যতার চেয়েও পুরাতন। ফারাও চতুর্থ আমহোটেপ এর সময় এই সংকলন হয়। আমোন হোটেপের রাজত্বকাল ১৩৭৫ থেকে ১৩৫৮ খ্রী পু। তাহলে এটা দাড়াচ্ছে যে
মোজেস আসবার আগেই, এমনকি প্রথম ঐক্যবদ্ধ হিব্রু রাজার আগেই বুক অফ ডেথ সংকলিত হয়েছে
এখন পর্যন্ত সম্পূর্ন ভাবে সংকলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে এরকম সবচেয়ে পুরাতন বুক অফ ডেথের নাম প্যাপিরাস অফ আনি। ২৪০ খ্রী পূ।
তাহলে পাওয়া গেছে এবং সংকলিত অবস্থায় এরকম বুক অফ ডেথও ,সংকলিত টেন কমান্ডমেন্টস এর চেয়ে পুরোনো। যদি সংকলন কাল কে ধরি তাহলেও বুক অফ ডেথ মুসার চেয়ে পুরোনো।
তথ্যসুত্র:
সভ্যতার ইতিহাস-ড: দেলোয়ার হোসেন
উইকিপিডিয়া(ট্যাব গুলা ভুলে বন্ধ করে ফেলছি, একটু কষ্ট করে টেন কমান্ডমেন্টস সার্চ দিয়েন,অবশ্য তথ্য খুব বেশী ব্যাবহার করি নাই ঐখান থেকে,বই থেকেই বেশীর ভাগ আসছে।)
আর http://www.aldokkan.com এখানে বুক অফ ডেথ সম্পর্কে তথ্য পাবেন
লেখক বলেছেন: স্যরি যে মন্তব্যের অনেক কিছু অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে, আসলে মন্তব্যটা করা হয়েছিল ঐ পোস্টের আলোচনা সাপেক্ষে।
আহমাদ অব্দুল্লাহ বলেছেন:
আমার নিশ্চিত বিশ্বাস এসব নিয়ে যখন আপনি খুব গভীর ভাবে ভাবেন, তখন আরেকটু গভীরভাবে যদি ভেবে যেতেন... নৈর্বাক্তিকভাবে..... সামগ্রিক দৃষ্টিতে.... অন্যের চিন্তায় প্রভাবিত না হয়ে.... একসময় আপনি সেই মহাসত্যকে খুজে পাবেনই।
যে মহাসত্যের কারণে আপনার সম্মুখস্থ দৃশ্যমান এই পৃথিবী আপনার সামনে অস্তিত্ববান।
যে মহাসত্যের কারণে আপনার মত তুহিনের এত ভাবনা-চিন্তার শক্তি বিরাজমান.. একই সময়ে যখন পৃথিবীর আর কোন সৃষ্টির মাঝে এ শক্তির অভ্যুদয় ঘটে নি...
আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন:
আপনাকে আমার লিঙ্কসে রাখলাম সযতনে, যাতে মাঝে মাঝে আলোচনা সমালোচনা করা যায়।আমাকে আর দশ জনের সাথে মিলাবেন না। আমি হারলে লজ্জা পাই না। আরও জানার ইচ্ছা বাড়ে। আমি হয়ত আয়াত বলে ব্যাখ্যা দেইনা যুক্তি দেবার চেষ্টা করব।
লেখক বলেছেন: অবশ্যই। আমি স্ট্যাটিক দর্শনে বিশ্বাসী নই। আমি প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি। অনেক ধন্যবাদ।
মনির হাসান বলেছেন:
"মানুষ টিকে থাকবে মানুষের মনে থাকা নি:শর্ত মানবতার জন্যে।"অসাধারণ তুহিন ... সিম্পলি অসাধারণ ।
আপনার ব্যাপক ভক্ত হয়ে গেছি । লেখাগুলো আর কিস্তি'তে না দিয়ে ... একবারে করুন ... আমার শোকেসে জায়গা টানাটানি পরে যাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে।
আসলে কোন পরিকল্পনা করে লিখি না তো তাই সিরিজ হয়ে যাচ্ছে।
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
দুর্দান্ত
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
মনির হাসান বলেছেন:
অনেক দিন আগে একটা যা'তা' টাইপের পোস্ট লিখছিলাম ... কিছু না বুইজ্জা ... একটু পইড়া আইসেন ।Click This Link
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লিংকের জন্যে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














