বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী বেশ কয়েকটি সংগঠন আছে ভারতে, যেগুলো এ রকম সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে। এর মধ্যে অভিনব ভারত অন্যতম। মহাত্মা গান্ধীর খুনি গোপাল গডসের মেয়ে হিমানি সরকারের নেতৃত্বে একটি শিক্ষা ট্রাস্টের আদলে ২০০৬ সালে জন্ম হয় অভিনব ভারতের।
আদালতে মহারাষ্ট্রের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, শিক্ষা ট্রাস্ট গড়ার আড়ালে সংগঠনটি খুব দ্রুত অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের অন্যতম নেতা লে. কর্নেল প্রাসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত ২০০৭ সালে সংগঠনের কর্মীদের নির্দেশ দেন, সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে এখন মুসলমানদের আঘাত করার সময় এসে গেছে। তবে এতে অভিনব ভারতের অনেকেই তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
২০০৮ সালে মালেগাঁওয়ে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন মামলায় লড়ছেন লে. কর্নেল প্রাসাদ শ্রীকান্ত। অভিযোগ মতে, ওই বছর এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশভিত্তিক হিন্দুত্ববাদী ওই সংগঠনের কর্মীরা মালেগাঁওয়ে বোমা হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এরপর থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে অভিনব ভারত। তারা চায় ভারতের সব রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে সমগ্রতাবাদ কায়েম করতে। অর্থাত্ পৃথক কোনো রাজ্যের অস্তিত্ব থাকবে না, ভারত হবে এক দেশ।
অনেকে মনে করেন, অভিনব ভারত নামে এই সংগঠনটি ইতিমধ্যে বহু সন্ত্রাসী ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ২০০৭ সালের মে মাসে হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ ও আজমির শরিফে তারা একযোগে বোমা হামলা চালায়। কিন্তু তখন উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে ঘটনা দুটির সঙ্গে সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা যায়নি।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক কার্যক্রম বিচার করলে মোটেই বোঝার উপায় নেই যে, তারা বড় কোনো সন্ত্রাসী হামলা চালাতে সক্ষম। এ অবস্থায় অনেক তদন্তকারী বলছেন, পুনের ঘটনায় অভিনব ভারতের সংশ্লিষ্টতা নাও থাকতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্য কোনো হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এতে জড়িত নেই। দ্য হিন্দু অনলাইন।
-খবর প্রথম আলো
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে মাত্র দুই দিন আগে ২৪ পুলিশ সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই বিহারের একটি গ্রামে গত বুধবার শেষরাতে ১২ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে মাওবাদীরা। পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের জামুই জেলার কাসারি গ্রামে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শতাধিক মাওবাদী ওই হামলা চালায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যৌথ বাহিনী পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলপাহাড়ির তুলাখেড়া জঙ্গলে মাওবাদীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
বুধবার রাতের হামলার খবরে বলা হয়, ওই রাতে দেড় শতাধিক মাওবাদী বিদ্রোহী কাসারি গ্রামে হামলা চালিয়ে ২৫টির বেশি কাঁচা বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বহু মানুষ আহত হয়। পুলিশের মহাপরিচালক ইউ এস দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, শতাধিক মাওবাদী পুরো গ্রামটি ঘিরে ফেলে বাড়িঘরে নির্বিচারে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছে। ওই সময় মাওবাদীরা ছয়জনকে অপহরণ করে।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মাওবাদীদের সন্দেহ, চলতি মাসের গোড়ার দিকে তাদের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তারে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করেছিল এই গ্রামের লোকজন।
পুলিশ জানায়, তারা ধারণা করছে, অপহরণকারীদের পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড রাজ্যের গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই রাজ্যেই মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি।
গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বেলপাহাড়ির শিলদার যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে মাওবাদীদের অতর্কিত হামলায় ২৪ জন আধাসামরিক জওয়ানের মৃত্যুর পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যৌথ বাহিনী পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলপাহাড়ির তুলাখেড়া জঙ্গলে চিরুনি অভিযান শুরু করে। তারা ইতিমধ্যে ওই জঙ্গল ঘিরে ফেলেছে। জঙ্গলে পুঁতে রাখা চারটি মাইনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে মর্টারের শব্দও শোনা গেছে।
সোমবারের মাওবাদী হামলায় নিহত ২৪ জওয়ানের পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের সালুয়ায় সড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছে। তারা ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী এসে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে। আজ শুক্রবার তারা সালুয়ায় আমরণ অনশন শুরু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য গতকাল মাওবাদী হামলার নিন্দা এবং নিহত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে।
রাজ্য সরকার মাওবাদী হামলা তদন্তের ভার ইতিমধ্যে সিআইডির হাতে তুলে দিয়েছে। সিআইডির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
মাওবাদী নেতা কিষানজি গতকালও বলেছেন, সরকার অপারেশন গ্রিনহান্ট বন্ধ না করলে তাঁরাও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অপারেশন পিসহান্ট চালিয়ে যাবেন।
-প্রথম আলো
মসুলমান রা কিছু করলেই দোষ কিন্তু নাস্তিক আর অন্যরা করলে কোন দোষ নাই। মসুলমানরা কিছু করলেই প্রমান থাকুক আর না-থাকুক, নাস্তিকদের বিশ্লেষন পাবেন। কিন্তু অন্য কেউ হলে আচানক নিরব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


