somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাকমারা নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে বাঙালির দোষ দিচ্ছে--- থাঙ্গা পাঙ্খো

০৮ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ দৈনিক ইনকিলাবে বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো'র স্বাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে। সংবাদটি ব্লগারদের জন্য তুলে দিলাম। তবে এর জন্য আবার আমাকে ব্লগ থেকে ব্যান করা হবে কিনা জানি না? কেননা একই বিষয়ে লেখাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে একবার জেনারেল করা হয়েছিল।
আজকের দৈনিক ইনকিলাবের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদ---

চাকমারা নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে বাঙালিদের দোষ দিচ্ছে
--থাঙ্গা পাঙ্খো
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বিক্ষুদ্ধ সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেছেন, চাকমারা নিজেরাই নিজেদের ঘর পুড়িয়ে বাঙালীদের দোষ দিচ্ছে। বাঘাইহাটের সা¤প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য চাকমাদের অতি বাড়াবাড়ি দায়ী। দৈনিক ইনকিলাবকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, চাকমারা বাঘাইহাট বাজার বর্জন অব্যাহত রেখে গঙ্গারাম মুখে নতুন বাজার বসাতে চেষ্টা করছে। সেখানে তারা ৪১টি বাঙালী পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এনজিওরা বর্তমানে যেসব ত্রাণ বিতরণ করছে তা বাঙালীরা পাচ্ছে না।
এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেন, গত ৪ মার্চ রাতে সাজেকের ভাইবোন ছড়ায় ছয়টি উপজাতির ঘর পুড়ে গেছে, সংবাদে এসেছে কে বা করার পুড়িয়েছে। কিন্তু যারা অত্র এলাকার জনগণ বা প্রত্যক্ষদর্শী তারা প্রত্যেকেই জানে এই ঘটনায় চাকমারা নিজেরাই নিজেদের ঘর পুড়িয়েছে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করার জন্য। কিন্তু মিডিয়ায় তো সত্য ঘটনা আসছে না। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ-এর ভয়ে কেউ সত্য কথা বলছেনা। চেয়ারম্যান হিসাবে আমাকে মাঝে মধ্যে পাহাড়ে যেতে হয় আর পাহাড় ইউপিডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সত্য কথা বলায় আমারো বিপদ হতে পারে।

এলাকায় ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যেহেতু মাঝে মধ্যে আমাকে পাহাড়ে যেতে হয় সেকারণেই এখানে সত্য কথা বলা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।
দৈনিক ইনকিলাবকে সাক্ষাৎকারে বাঘাইহাটের সা¤প্রতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাঙালীরা সাজেকে এসেছে ১৯৬০ সালের দিকে আর চাকমারা এসেছে ১৯৯৭-১৯৯৯ সালের দিকে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার থেকে। এখানকার জমির ১০ ভাগের ৮ ভাগই রিজার্ভ ফরেস্ট। হেডম্যানরা সবাই পাঙ্খো লুসাই স¤প্রদায়ের। সে হিসাবে এখানে বাঙালী চাকমা কারোরই কোনো বৈধ জমি নেই।
১৯-২০ ফেব্রুয়ারীর অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, গঙ্গারামমুখের বালুঘাট এলাকার বাসিন্দা পাথরমুনি চাকমার কাছে একই এলাকার বাঙালী শাহ আলম অনেক টাকা পেত। সে টাকার বিনিময়ে পাথরমুনি চাকমা তার অধিকৃত একটি জায়গা শাহ আলমকে স্টাম্পে লিখিতভাবে দিয়ে দেয়। ইউএনডিপি সমর্থিত হিলেহিলি নামক এনজিও সাজেক নারী উন্নয়ন সংস্থা নামক আরেকটি ছোট এনজিওকে একটি প্রজেক্ট দেয় সেখানে অফিস করার জন্য। সাজেক নারী উন্নয়ন সংস্থা বালুঘাটে শাহ আলমের ঐ জায়গায় তাদের প্রজেক্ট অফিস নির্মাণ করতে শুরু করলে শাহ আলম তাতে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে বাঙালী পাহাড়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শাহ আলম আইনের আশ্রয় নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে অর্ধেক সমাপ্ত অবস্থায় প্রজেক্ট অফিসের কাজ নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে চাকমারা বাঘাইহাট বাজার অবোরোধ করে আর বাঙালীরা সড়ক অবোরোধ করে। এরপর বাঘাইছড়িতে ঘটনার মিমাংসার জন্য ইউএনও একটি বৈঠক ডাকে। এলাকার চেয়ারম্যান হিসাবে আমিও সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। শাহ আলম যখন কাগজপত্র দেখিয়ে বলল, আমার জায়গায় কেন এনজিও অফিস নির্মাণ করা হলো। তখন আমি তাদের বললাম, এটাতো রিজার্ভ ফরেস্ট, শাহ আলমের জায়গা বাদ দিযে আরো অনেক জায়গা আছে সেখানে ঘর তোলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ইউএনডিপির চাকমা কর্মকর্তারা তাতে রাজি হলো না। ইউএনডিপি’র কর্মী অফিসাররা তো সবাই চাকমা। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারী আমার ইউনিয়ন পরিষদে ইউএনও এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করে আমাকে সে কমিটির আহবায়ক করে। আমি সেই মিটিংএ বললাম, বিষয়টাকে আর বাড়তে দেয়া হউচিত হবে না। বাঙালীরা রাস্তা অবরোধ তুলে নাও আর চাকমারা বাঘাইছড়ি বাজার বয়কট কর্মসূচী তুলে নিক। বাঙালীরা এ প্রস্তাবে রাজি হলেও মিটিংএ উপস্থিত চাকমারা তাতে রাজি হয়নি। পরে আমি রাতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির এক চাকমা সদস্যকে ফোন করলে তিনি আমাকে বলেন, এই চেয়ারম্যান আপনি মিটিংএ একথা বললেন কেন? বাঙালীরা রাস্তা অবোরোধ তুলে নিক কিন্তু আমরা বাঘাইহাট বাজার অবোরোধ কর্মসূচী তুলে নেবো না। ইউএনও ১৮ তারিখ ফাইনাল মিটিংএর দিন ধার্য করে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনতে রাজি না হওয়ায় সে মিটিং আর হয়নি।
এল থাঙ্গা বলেন, ওখানে কাচলং নামে একটা নদী আছে যার একপাশে বাঙালীদের বসবাস আর অন্যপাশে চাকমাদের গুচ্ছগ্রাম, মাঝখানে বাজার। ১৯ ফেব্রুয়ারী রাত ১২টায় চাকমারা বাজার দখলের ঘোষণা দিয়ে ‘উজাও উজাও’, ‘এডভান্স, এডভান্স’ বলে সংগঠিত হতে থাকে। এসময় তারা বাঙালীদের উচ্ছেদ করার জন্য তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তখন বাঙালীরাও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। গঙ্গারামমুখ এলাকায় চাকমারা নিজেরাই নিজেদের অনেক ঘরে আগুন লাগিয়েছে। পরদিন চাকমাদের গ্রাম থেকে বাঙালীদের দিকে গুলী ছোঁড়া হয়। সেসময় আর্মিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তাদেরকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে বলে। তারা পোষাকধারী ছিল বলে তাদের ‘কালা কুত্তা’ বলে গালাগালি করতে থাকে চাকমারা। এসময় সার্জেন্ট রেজাউল নামে এক সেনাসদস্যকে চাকমারা দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।
সাজেক চেয়ারম্যান বলেন, গত ৪ মার্চ রাতে যে ৬টি ঘর পুড়েছে। আমার বাসার পশ্চিম দিকে আলো দেখে আমি পুলিশ নিয়ে দৌড়ে আসি। আধা ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি বেশ কয়েকটি ঘরে এর মধ্যে তারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। সেখানে ইউনিসেফের একটি স্কুল আছে। এই স্কুলে আগুন লাগাতে যাওয়া একজন আমাদের আসা দেখতে পেয়ে আগুন রেখে পালিয়ে যায়। অন্ধকার থাকায় আমি তাকে সনাক্ত করতে পারিনি।
তিনি বলেন, বাঙালীরা যেখানে বসবাস করে সেখান থেকে ঘর পোড়া স্থানের দুরত্ব ১ কিলোমিটার। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তারা সেনা পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে বসবাস করছে। কাজেই বাঙালীদের পক্ষে সেখানে গিয়ে ঘর পোড়ানো অসম্ভব। ফলে বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা না কারা এই আগুন লাগিয়েছে।

সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেন, এনজিওরা যেসব ত্রাণ বিতরণ করছে তা বাঙালীরা পাচ্ছে না। এখানে যাদের ঘর নেই বাড়ি নেই তারাও ত্রাণ পাচ্ছে, ঘর তৈরীর টিন পাচ্ছে। কিন্তু ঘরবাড়ি পুড়েছে এমন অনেকে ত্রাণ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, চাকমারা বাঘাইহাট বাজার বর্জন অব্যাহত রেখে গঙ্গারাম মুখে নতুন বাজার বসাতে চেষ্টা করছে। সেখানে তারা ৪১টি বাঙালী পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যার ন্যায্য সমাধান করা।


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৩৫
১২টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×