আজ দৈনিক ইনকিলাবে বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো'র স্বাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে। সংবাদটি ব্লগারদের জন্য তুলে দিলাম। তবে এর জন্য আবার আমাকে ব্লগ থেকে ব্যান করা হবে কিনা জানি না? কেননা একই বিষয়ে লেখাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে একবার জেনারেল করা হয়েছিল।
আজকের দৈনিক ইনকিলাবের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদ---
চাকমারা নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে বাঙালিদের দোষ দিচ্ছে
--থাঙ্গা পাঙ্খো
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বিক্ষুদ্ধ সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেছেন, চাকমারা নিজেরাই নিজেদের ঘর পুড়িয়ে বাঙালীদের দোষ দিচ্ছে। বাঘাইহাটের সা¤প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য চাকমাদের অতি বাড়াবাড়ি দায়ী। দৈনিক ইনকিলাবকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, চাকমারা বাঘাইহাট বাজার বর্জন অব্যাহত রেখে গঙ্গারাম মুখে নতুন বাজার বসাতে চেষ্টা করছে। সেখানে তারা ৪১টি বাঙালী পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এনজিওরা বর্তমানে যেসব ত্রাণ বিতরণ করছে তা বাঙালীরা পাচ্ছে না।
এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেন, গত ৪ মার্চ রাতে সাজেকের ভাইবোন ছড়ায় ছয়টি উপজাতির ঘর পুড়ে গেছে, সংবাদে এসেছে কে বা করার পুড়িয়েছে। কিন্তু যারা অত্র এলাকার জনগণ বা প্রত্যক্ষদর্শী তারা প্রত্যেকেই জানে এই ঘটনায় চাকমারা নিজেরাই নিজেদের ঘর পুড়িয়েছে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করার জন্য। কিন্তু মিডিয়ায় তো সত্য ঘটনা আসছে না। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ-এর ভয়ে কেউ সত্য কথা বলছেনা। চেয়ারম্যান হিসাবে আমাকে মাঝে মধ্যে পাহাড়ে যেতে হয় আর পাহাড় ইউপিডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সত্য কথা বলায় আমারো বিপদ হতে পারে।
এলাকায় ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যেহেতু মাঝে মধ্যে আমাকে পাহাড়ে যেতে হয় সেকারণেই এখানে সত্য কথা বলা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।
দৈনিক ইনকিলাবকে সাক্ষাৎকারে বাঘাইহাটের সা¤প্রতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাঙালীরা সাজেকে এসেছে ১৯৬০ সালের দিকে আর চাকমারা এসেছে ১৯৯৭-১৯৯৯ সালের দিকে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার থেকে। এখানকার জমির ১০ ভাগের ৮ ভাগই রিজার্ভ ফরেস্ট। হেডম্যানরা সবাই পাঙ্খো লুসাই স¤প্রদায়ের। সে হিসাবে এখানে বাঙালী চাকমা কারোরই কোনো বৈধ জমি নেই।
১৯-২০ ফেব্রুয়ারীর অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, গঙ্গারামমুখের বালুঘাট এলাকার বাসিন্দা পাথরমুনি চাকমার কাছে একই এলাকার বাঙালী শাহ আলম অনেক টাকা পেত। সে টাকার বিনিময়ে পাথরমুনি চাকমা তার অধিকৃত একটি জায়গা শাহ আলমকে স্টাম্পে লিখিতভাবে দিয়ে দেয়। ইউএনডিপি সমর্থিত হিলেহিলি নামক এনজিও সাজেক নারী উন্নয়ন সংস্থা নামক আরেকটি ছোট এনজিওকে একটি প্রজেক্ট দেয় সেখানে অফিস করার জন্য। সাজেক নারী উন্নয়ন সংস্থা বালুঘাটে শাহ আলমের ঐ জায়গায় তাদের প্রজেক্ট অফিস নির্মাণ করতে শুরু করলে শাহ আলম তাতে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে বাঙালী পাহাড়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শাহ আলম আইনের আশ্রয় নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে অর্ধেক সমাপ্ত অবস্থায় প্রজেক্ট অফিসের কাজ নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে চাকমারা বাঘাইহাট বাজার অবোরোধ করে আর বাঙালীরা সড়ক অবোরোধ করে। এরপর বাঘাইছড়িতে ঘটনার মিমাংসার জন্য ইউএনও একটি বৈঠক ডাকে। এলাকার চেয়ারম্যান হিসাবে আমিও সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। শাহ আলম যখন কাগজপত্র দেখিয়ে বলল, আমার জায়গায় কেন এনজিও অফিস নির্মাণ করা হলো। তখন আমি তাদের বললাম, এটাতো রিজার্ভ ফরেস্ট, শাহ আলমের জায়গা বাদ দিযে আরো অনেক জায়গা আছে সেখানে ঘর তোলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ইউএনডিপির চাকমা কর্মকর্তারা তাতে রাজি হলো না। ইউএনডিপি’র কর্মী অফিসাররা তো সবাই চাকমা। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারী আমার ইউনিয়ন পরিষদে ইউএনও এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করে আমাকে সে কমিটির আহবায়ক করে। আমি সেই মিটিংএ বললাম, বিষয়টাকে আর বাড়তে দেয়া হউচিত হবে না। বাঙালীরা রাস্তা অবরোধ তুলে নাও আর চাকমারা বাঘাইছড়ি বাজার বয়কট কর্মসূচী তুলে নিক। বাঙালীরা এ প্রস্তাবে রাজি হলেও মিটিংএ উপস্থিত চাকমারা তাতে রাজি হয়নি। পরে আমি রাতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির এক চাকমা সদস্যকে ফোন করলে তিনি আমাকে বলেন, এই চেয়ারম্যান আপনি মিটিংএ একথা বললেন কেন? বাঙালীরা রাস্তা অবোরোধ তুলে নিক কিন্তু আমরা বাঘাইহাট বাজার অবোরোধ কর্মসূচী তুলে নেবো না। ইউএনও ১৮ তারিখ ফাইনাল মিটিংএর দিন ধার্য করে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনতে রাজি না হওয়ায় সে মিটিং আর হয়নি।
এল থাঙ্গা বলেন, ওখানে কাচলং নামে একটা নদী আছে যার একপাশে বাঙালীদের বসবাস আর অন্যপাশে চাকমাদের গুচ্ছগ্রাম, মাঝখানে বাজার। ১৯ ফেব্রুয়ারী রাত ১২টায় চাকমারা বাজার দখলের ঘোষণা দিয়ে ‘উজাও উজাও’, ‘এডভান্স, এডভান্স’ বলে সংগঠিত হতে থাকে। এসময় তারা বাঙালীদের উচ্ছেদ করার জন্য তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তখন বাঙালীরাও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। গঙ্গারামমুখ এলাকায় চাকমারা নিজেরাই নিজেদের অনেক ঘরে আগুন লাগিয়েছে। পরদিন চাকমাদের গ্রাম থেকে বাঙালীদের দিকে গুলী ছোঁড়া হয়। সেসময় আর্মিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তাদেরকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে বলে। তারা পোষাকধারী ছিল বলে তাদের ‘কালা কুত্তা’ বলে গালাগালি করতে থাকে চাকমারা। এসময় সার্জেন্ট রেজাউল নামে এক সেনাসদস্যকে চাকমারা দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।
সাজেক চেয়ারম্যান বলেন, গত ৪ মার্চ রাতে যে ৬টি ঘর পুড়েছে। আমার বাসার পশ্চিম দিকে আলো দেখে আমি পুলিশ নিয়ে দৌড়ে আসি। আধা ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি বেশ কয়েকটি ঘরে এর মধ্যে তারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। সেখানে ইউনিসেফের একটি স্কুল আছে। এই স্কুলে আগুন লাগাতে যাওয়া একজন আমাদের আসা দেখতে পেয়ে আগুন রেখে পালিয়ে যায়। অন্ধকার থাকায় আমি তাকে সনাক্ত করতে পারিনি।
তিনি বলেন, বাঙালীরা যেখানে বসবাস করে সেখান থেকে ঘর পোড়া স্থানের দুরত্ব ১ কিলোমিটার। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তারা সেনা পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে বসবাস করছে। কাজেই বাঙালীদের পক্ষে সেখানে গিয়ে ঘর পোড়ানো অসম্ভব। ফলে বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা না কারা এই আগুন লাগিয়েছে।
সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেন, এনজিওরা যেসব ত্রাণ বিতরণ করছে তা বাঙালীরা পাচ্ছে না। এখানে যাদের ঘর নেই বাড়ি নেই তারাও ত্রাণ পাচ্ছে, ঘর তৈরীর টিন পাচ্ছে। কিন্তু ঘরবাড়ি পুড়েছে এমন অনেকে ত্রাণ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, চাকমারা বাঘাইহাট বাজার বর্জন অব্যাহত রেখে গঙ্গারাম মুখে নতুন বাজার বসাতে চেষ্টা করছে। সেখানে তারা ৪১টি বাঙালী পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যার ন্যায্য সমাধান করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


