নিথর আমি একা আমার বিছানায়, বাদামী একটা লেপ মুড়ি দিয়ে তাকিয়ে আছি সোজা দেওয়ালের দিকে।
ঘড়ির টিক টিক ছাড়া কোন শব্দ নেই, দূর থেকে ভেসে আসছে আমার বৌয়ের ল্যাপটপের টুক টাক শব্দ, আর মনের ভেতর ঝড়ের মত বয়ে চলেছে এক সমুদ্র সমান একটা সিনেমা, বিষন্ন।
আমার বেড়ে ওঠা আফ্রিকার এক দেশে। আব্বা, আম্মা আর আমি। হাসিমুখ, হাসিমুখ। একটু বড় হতে দেশে ফেরা, ২ বছর আমাদের বাপ-দাদার আদি শহরে, আমার ছোট ভাই।
এবার ঢাকার দিকে। আমরা চারজন। আব্বা, আম্মা, আমি, ছোট ভাই। দৌড়াদৌড়ি, হাসিমুখ, বড় হওয়া, পড়াশোনা। আবার আমার চলে আসা--সেই আদি শহরে, আমার প্রিয় ভার্সিটিটা।
ভার্সিটির বন্ধে ঢাকায় বাসায় ফিরলে প্রতিটা মুহূর্ত মনে হত অসীম আনন্দের, জানতাম যে খুব বেশীক্ষণ নেই, তাই মুহূর্তটাকে শুষে নিতে চাইতাম আরো বেশী করে।
পড়াশোনা শেষে আমার ঘরে ফেরা, ঢাকার সেই বাসায়। পুরোনো সেই দরজা, সেই পুরোন কলিং বেল, লাল টুকটুকে বোতামটা যেন আমার মনের কথা পড়ে নিল।
২ বছর, আমার চাকরী, আমাদের সেই বাসা, সেই কলিগরা। আমার বিয়ে। আব্বা, আম্মা, ছোটভাই, বৌ, হাসিমুখ। আমার একজনকে আবিষ্কার।
আবার উড়াল।আমাদের দুজনের বিদেশে পড়তে আসা। নতুন জীবন, চোখে-মনে-মগজে যেন উপচে পড়া প্লাবন। কিন্তু আমি তারপরও তৃষ্ঞার্ত।
আমি আর ছুটে চলতে চাইনা। সেই বাসাতে ফিরতে বড় ইচ্ছা করছে। আমার সেই রুমটা, তিনদিকে জানালা, কাঠের পাল্লায় ধূসর রং। ভর দুপুর, আম্মা অফিস থেকে ফিরে রান্নাঘরে ঢুকেছে, আব্বা রিডিং গ্লাস চোখে দিয়ে, ডায়নিং টেবিলে বসে, বারান্দার আলোয় খাতা কাটছেন। আমাকে দেখে ছোট্ট একটা হাসি দিলেন।
সেই ভার্সিটির দিনগুলোর মত, আমার আবার ট্রেনে করে ভোর রাতে বাসায় যেতে ইচ্ছা করছে। সেই কলিং বেলটা চেপে ধরতে চাই আরেকবার, আম্মা এসে ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে দেবে। আমি বলব, আম্মা আমি চলে এসেছি! আমি আর কোথাও যাচ্ছিনা। এখানেই থাকব! অনন্তকাল।
অনন্তকাল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

