কেউ চাকরি দেয়নি
তেত্রিশ বছর কাটল কেউ চাকরি দেয়নি
ছেলেবেলায় স্কুলশিক্ষক পড়া না পারায় বলেছিলেন-
ভালোভাবে পড়াশোনা কর গাধা,নইলে বড় হয়ে চাকরি পাবি না
তারপর স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ডিঙিয়ে
আজ আমি ধাড়ি যুবক
চাকরির অপেক্ষায় আছি।
কবিবন্ধু জাবেদ হোসেন বলেছিল,অপেক্ষা কর শফিকুল ইসলাম
সময় করে তোমাকে আমার বসের কাছে নিয়ে যাবো
সেখানে কায়দা করে বসকে একটু তেল মারতে পারলেই
চাকরি পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়বে!
জাবেদ ভাই,আমি আর কত অপেক্ষা করব
আমার অপেক্ষার বাধ ভেঙে গেলে
তবেই আপনি আপনার বসের কাছে নিয়ে যাবেন?
একটা সামান্য চাকরি জোটাতে পারিনি এখনো
অথচ মামা খালুর জোরে চাকরি বাগিয়েছে
কত অগাবগা ধরণের ছেলে!
বেহায়ার মতো বিভিন্ন অফিসের সামনে দাড়িয়ে থেকে দেখেছি
ভিতরে কাজ-উতসব।
হরতাল কিংবা ছুটির দিনে এই কর্মবীরেদর সাথে
সাজুগুজু করা সুন্দরী মেয়েরা বেড়াতে যায়
পার্কে চাইনিজে কিংবা বেইলি রোডের নাটকপাড়ায়
কিন্তু অভাগা আমার দিকে কেউ ফিরেও চায় না!
আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ভাইয়া বলেছিল-
দেখিস,একদিন আমাদেরও...
না আমাদের হয়নি কিছুই
ভাইয়া এখন উঠতি সন্ত্রাসী,নেতার চামচা!
সোনার হরিণ চাকরি,দু বেলা দু মুঠো অন্নের নিশ্চয়তা
কেউ কি আমাদের দেবে না?!
বুকে কাপন ধরানো হাসি দিয়ে লুবনা বলেছিল-
যেদিন তোমার ভালো একটা চাকরি হবে
সেদিন তোমাকে আমি বাবার কাছে নিয়ে যাব।
চাকরির জন্য আমি হাতের মুঠোয় সার্টিফিকেট নিয়েছি
দুচোখে একেছি ভালোবাসার রঙিন স্বপ্ন
সারাদেশ তন্ন তন্ন করে
তেত্রিশ হাজার অিফসে ধর্না দিয়েছি
তবু কেউ চাকরি দেয়নি।
চাকরির বাজার এখন মন্দা
চাকরি যেন অমাবশ্যার চাদ
ডুমুরের ফুল
কাঠালের আমসত্ব
আমেরিকার ভিসা!
কেউ চাকরি দাওনি
তেত্রিশ বছর কাটল
বাংলাদেশ সরকার আমাকে চাকরি দেয় না!
[কেউ কথা রাখেনিঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার প্যারোডি]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


