আমার প্রিয় পোস্ট
- নির্জন পুল পেরোলেই ঝিঝি পোকার গান। - কোলাহল
- আওয়ামী বর্বরতার শিকার এক শক্তিশালী কবি, আহমদ ছফার বর্ণনায় - সুধী
- এদেরকে প্রতিরোধ করুন। ব্লগের পরিবেশ সুন্দর করুন। - আবাবিল
- চিন্তে পাল্লে আওয়াজ দিয়েন
- ডিয়ার
- আমি এবং আমার বিবেক- বজলু মহাজন - বজলু মহাজন
- কানাডার আকসা পারভেজের মৃত্যুঃ একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ - শামসুজ্জামান সিদ্দিকী শাহীন
- বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন জগত এবং আমার কিছু নিজস্ব ভাবনা - আব্দুন নূর তুষার
- তুমি যে তোমারই তুলনা (উৎসর্গ - ইসলামের এক বীর সৈনিককে) - উম্মু আবদুল্লাহ
- হুহ.. আপনার বয়স ১৭ না ৭০, তা এই ভার্চুয়াল জগতে কারও বোঝার সাধ্যিটিও নেই - আরণ্যক যাযাবর
- ব্লগ ছাড়া/না ছাড়া বিষয়ক ব্যক্তিগত প্যাঁচাল... বিরক্ত হতে চাইলে পড়ুন - অমিত আহমেদ
- ভায়ের প্যান্ট পছন্দ হয় নাই!!! - মাথামোটা
আপনার সফলতা আপনাকেই আদায় করতে হবে।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৫১
ভিক্ষুকের কণ্ঠ শোনা গেল- তিক্ষ্ম কণ্ঠে বলছে, 'আমারে আটআনা পয়সা দেবেন, ভাত খামু?'- এই দুইটাকার যুগে মাত্র আটআনা চাইতে দেখে যে কেউ থমকে দাঁড়াবে। তাও আবার একমুঠো ভাতের জন্য? সবার মত আমিও সহানুভুতির সাথে ফিরে তাকিয়েছিলাম। পরমুহূর্তে ভাবলাম, সে যা বলতে চেয়েছে, যাদেরকে বলতে চেয়েছে- ঠিকভাবেই পেরেছে। . . এরই নাম মার্কেটিং। ব্যবসায় শিক্ষায় যারাই ডিগ্রি নিয়ে থাকেন, মার্কেটিং তাদের অন্যতম কোর্স। তবে সত্য কথা হচ্ছে, সকলেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে 'বাজারজাতকরণ' করে থাকেন, গোচরে কি অগোচরে।
সমাজে মানুষ একাকী চলতে পারেনা। পারস্পরিক আদান প্রদানের মাধ্যমেই মানুষ টিকে থাকে। অন্যের প্রয়োজনটিকে উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী তার হাতে পণ্য বা সেবা তুলে দিতে পারলে সে নেবেই। বিনিময়ে আপনি তার নিকট থেকে পূরণ করলেন আপনার প্রয়োজন- অর্থাত্ টাকা । যে অন্যের প্রয়োজনকে ঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারবে, সবার আগে উপলব্ধি করতে পারবে এবং সে অনুযায়ী তার হাতে পণ্য তুলে দিতে পারবে, সেই সফল। জীবনের প্রারম্ভে সে কোনদিন মার্কেটিং পড়ুক আর নাই পরুক।
এখন আপনি অন্যের প্রয়োজন ঠিক ঠিকভাবে উপলব্ধি করলেন, সে অনুযায়ী পন্য বা সেবা তৈরি করলেন, কিন্তু তাকে বুঝাতে সক্ষম হলেননা যে এটিই তার কাঙ্খিত বস্তু, তবে আপনার সব চেষ্টাই মাটি। ভিক্ষুকটি সে ক্ষেত্রে সফল। আর বিজ্ঞাপন শিল্পটির আবির্ভাব সে প্রযোজন পুরনেই।
ব্যবসায় শিক্ষার অন্যতম অনুসঙ্গ মার্কেটিং সম্পর্কে সামান্য কিছু বলার চেষ্টা করলাম। আপনি হয়তো আমার চেয়ে ভাল জানেন। শেয়ার করুন, ক্ষতি কি?
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
এই ব্যাপারে আমার একটা ইন্টেরেস্টিং অবজার্ভেশন আছে। এই ব্যাপারে আসলেই মার্কেটিং একটা বড় ব্যাপার। মানে উপস্থাপনা। বাসে কিছু ভিক্ষুক মাঝে মাঝে উঠেন। এদের অনেকেই মুখস্ত তোতাপাখির মতো বুলি চালিয়ে যায়। বাবার অসুখ, মায়ের অসুখ অপারেশনের টাকা। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে লোকজনকে তা ছোঁয় না। সেদিন শাহবাগ মোড়ে এমন দুটো ঘটনা দেখলাম। এক মহিলা তার বাবার জন্য সাহায্য চাইলেন, হড়বড়িয়ে বলে গেলেন সংলাপ। মাত্র ২ টাকা পেলেন। এরপর এক মহিলা আজিজ সুপার মার্কেট থেকে উঠলেন, বাচ্চার কথা বললেন। কিন্তু তার কথাগুলো নিজের। যে কেউ বুঝবে এই মহিলা সংকটাপন্ন। তাকে ১০ টাকার নিচে সেদিন দেয়নি কোনো বাসযাত্রী। এমন আরেকটি ঘটনা মাত্র পরশুদিনের। এক পঙ্গু ছেলে ভিক্ষা করতে উঠেছে। তার হাতে একটা প্লাস্টিকের সাপ। সে সেটা দেখিয়ে বলছে এই যে সাপের খেলা দেখেন, সাপ দেখেন, টাকা দ্যান। লোকজন মহা বিরক্ত। আমার মনে হলো সাপটা না থাকলে তার চেহারা, বয়স এবঙ অবস্থান যথেষ্ট ছিল সাহায্য পেতে।
আবাবিল বলেছেন:
আ. রহমান পিয়াল, চমত্কার বলেছেন। আসলে কোন কোন কোম্পানি মনে করে শুধূ মারদাঙ্গা বিজ্ঞাপন দিতে পারলেই ব্যবসা সফল। সম্পূর্ণ ভুল। আবার কেউ কেউ ভাবেন, ভাল পণ্য এমনিই চলবে। এটিও ঠিক নয়। এজন্যই এ সাবজেক্টে একটি নতুন বিষয়ে বেশ জোর দেয়া হয়- সমন্বিত বাজারজাতকরণ- ইনটিগ্রেটেড মার্কেটিং। লরেট বেবি পাউডারের বিজ্ঞাপনটা ছোটসময় আমার খুব ভাল লাগতো। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। পণ্যের দোষে বাজার ছাড়া। নিরমা ডিটারজেন্টের কথা তো সকলেই জানেন।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
আপনি তো খুব চমতকার লিখেন।
আবাবিল বলেছেন:
রক্ত-গোশতে মানুষতো, প্রশংসা শুনতে মন্দ লাগেনা। ধন্যবাদ।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
"প্রশংসা শুনতে মন্দ লাগেনা।"-- প্রশংসা আপনার পাওনা। এতটা কৃপন নই যে পাওনা দিতে অস্বীকার করব।
অথবা....
এতটাই দামে কম হতে হবে যে ঠিক এখনই প্রয়োজন না হলেও দামের জ্বালায় লোকজন কিনে ফেলে....বিলাতের পাউন্ড শপ গুলো ভাল উদাহরন হতে পারে.....(এলওএল!!!)
আবাবিল বলেছেন:
ভাইটামিন যথার্থ বলেছেন, এটিও একটি বাজারজাতকরণ কৌশল। একটি কোম্পানির লক্ষ্য বিভিন্ন হতে পারে। এজন্য সে প্রধানত দুটি কৌশলের যে কোনটি বেছে নিতে পারে। তাত্বিকভাবে বলা যায়: ১. মার্কেট পেনেট্রেশন
২. মার্কেট স্কিমিং
অনেক কোম্পানির লক্ষ্য মার্কেটে টিকে থাকা। বহু কাস্টমারের নিকটে যাওয়া। তারা দাম কম নির্ধারন করে। এটিই মার্কেট পেনেট্রেশন।
আবার অনেক কোম্পানির লক্ষ্য মার্কেট থেকে সর তুলে নেয়া। তারা সর্বোচ্চ মানের কিন্তু স্বল্প পণ্য তৈরি করে। কিন্তু ক্রেতা যেহেতু পয়সাওয়ালারা, তাই সহজেই মুনাফায় পুষ্ট হয়। বাংলাদেশে প্রথম আলোর টার্গেট কাস্টমার হচ্ছে সমাজের শিক্ষিত গ্রুপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে তাদের একচেটিয়া দাপট। মফস্বল কিংবা গ্রামে কিন্তু সে তুলনায় অতি স্বল্প। তথাপি বিজ্ঞাপনের সিংহভাগ তারা ভোগ করে। নয়া দিগন্ত হলগুলোতে অল্পই দেখা যায়, কিন্তু স্বল্প সময়েই সাধারণ পাঠকের মাঝে একটি জায়গা করে নিয়েছে। অবশ্য সে তুলনায় এদের বিজ্ঞাপণ প্রাপ্তির হার যথেষ্ট কম। আরো সুন্দর উদাহরণ হয়তো দেয়া যায়।
ভাইটামিন, বিলাতের পাউন্ড শপগুলো সম্পর্কে আরেকটু খোলাসা করে বললে কিছু জানা যেত।
মাইক্রোস্টেপ বলেছেন:
নব্বই দশকে, বিশেষ করে মুক্ত মনের দাবীদার সংবাদপত্রজিবীরা "গোলাম আজম" সংক্ষেপে লিখতেন গো.আ.। বিষয়টি আমার কখনই মুক্তমনের পরিচয় বলে মনে হয়নি। কারো প্রতি আমার তীব্র ঘৃনা বা মতের প্রচন্ড অমিল থাকেত পারে তবে তার নামের বিকৃতি কখনই কাম্য নয়। আপনার যুক্তি যথেষ্ট ধারাল, লেখার পরিধিও বেশ বড় বড়। তবে আপনিও সেই স্টাইলের কেন অনুসরন করতে লাগলেন বুঝতে পারলাম না। অমি রহমান পিয়াল যখন কোথাও আ. রহমান পিয়াল লেখেন না সেখানে আপনার আগবাড়িয়ে লেখাটুকু কতটুকু যুক্তিযুক্ত। তারপরেও উনি অমি = অ. নিশ্চয় আমি =আ. নন। আর সচেতন কারো এমন ভুল কখনই পত্যাশিত নয়।
লেখক বলেছেন: কারো কারো নাম সংক্ষেপকরণ নিদারুণ শ্রুতিকটু, যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন। পিয়ালের বিষয়টি তেমনটি না বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। অধিকন্তু কোন কোন ব্লগারকে 'অ.র.পি.' উল্লেখ করতে দেখা গিয়েছে। তথাপি পূর্বানুমতি ব্যাতিত কারো নাম সংক্ষেপকরণ নিসন্দেহে সৌজণ্য বর্জিত। আন্তরিক দুখ প্রকাশ করছি এ জন্য। ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য। ভুলটি মনে হচ্ছে বেশ গুরুত্বপূর্ন যা কুম্ভকর্ণের ঘুমও ভাঙিংয়ে দিয়েছে। আশা করছি পিয়াল বিষয়টি মার্জনাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন।
ত্রুটিমুক্ত আবাবিল সৃষ্টিতে আপনাকে ভবিষ্যতেও পাশে পাব- এ আশা নিশ্চই করতে পারি।
কুম্ভকর্ণ বলেছেন:
হুম্ম্......
শাহানা বলেছেন:
আমার ধারনা যারা মার্কেটিং ভালো জানেন তারা যে কোন প্রোডাক্ট সম্ভব যে কোন যায়গায় বিক্রি করতে পারেন। বিষয়টির সাথে চাপাবাজি জানার বেশ খানিকটা সম্পর্ক আছে। এটা সম্পুর্নই আমার ধারনা।
কোলাহল বলেছেন:
শাহানা বলেছেন:বিষয়টির সাথে চাপাবাজি জানার বেশ খানিকটা সম্পর্ক আছে।মার্কেটিং আসলেই চাপাবাজির ব্যাপার। যে কোন নতুন জিনিষ কিনতে গেলেই আমাদের কারো না কারো দ্বারস্থ হতে হয় প্রোডাক্টের ভালো মন্দ জানার জন্য। এখানে যে যত বিশ্বাসযোগ্য ভাবে চাপাবাজি করতে পারবে তার কথাই মানুষ বিশ্বাস করবে। হোক সে প্রডাক্ট যতই ভালো কি খারাপ। যেমন আবাবিল তার নিজের ব্লগের মার্কেটিং করছেন।
আবাবিল বলেছেন:
শাহানা,কোলাহল,আমার প্রেস্টিজ পাংচারের আয়োজন করছেন।
অসত্য নয় যে সফল মার্কেটার বলা হয় তাকেই যে বরফের দেশে ফ্রিজ বিক্রি করতে পারে আর গরমের দেশে করে কম্বল। তবে এটা কথার কথা। সত্য কথা হচ্ছে মানুষের বর্তমান প্রয়োজনকে কিংবা ভবিষ্যত প্রয়োজন উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী তাকে পণ্য সরবরাহ করাই হচ্ছে বাজারজাতকরণের কাজ। অতপর এইটিই যে তার কাংখিত পণ্য তা পাবলিককে না বোঝালে সকল চেষ্টাই তো বৃথা। তাই ক্রেতার মন মানসিকতা,অবস্থান ইত্যাদি বুঝে তার সামনে পণ্য উপস্থাপন করাও মার্কেটিং-এর অন্যতম কাজ। এটিকেই মানুষ ভাবে চাপাবাজি।
দেখুন আগে রাস্তাঘাটে পানির পিপাসা লাগলে আপনি রাস্তার পাশের হোটেলে ঢুকে পিয়াস মেটাতেন- সে পানি ভালো কি মন্দ তা পরের ব্যাপার। অথচ এখন পয়সা দিলেই পানের দোকানেও পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার। আপনিকি ভেবেছেন পানিও কোনদিন পয়সা দিয়ে খেতে হবে? যে আপনার আমার এই প্রয়োজন আচ করতে পেরে পানি বোতলজাত শুরু করলো,তাকে তো শুরুতে সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিয়েই আপনার নিকট হাজির হতে হয়েছিল।
তবে নৈতিকতায় যাদের ঘাটতি,তারা এই উত্তম কৌশলের অপব্যাবহার করে থাকে। কোক কি ভার্জিন আসলে মানুষের জন্য কতটুকু প্রয়োজন? কিন্তু এমনভাবে তা মানুষের নিকট উপস্থাপন করা হচ্ছে, মানুষ ধুমছে কিনছে। অথচ শিশু খাদ্যের দামের কারণে মানুষ হয়রাণ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সে সেক্টরে ইনভেস্ট করার কোম্পানির আকাল।
কোক-ভার্জিনদের আপনি চাপাবাজ বললে অবশ্য আমার খুব একটা আপত্তি নেই।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
সুন্দর লেখা...


















